সালাম দেওয়া ও নেওয়া । সালাম বিনিময়ের ফযীলাত।

সালাম দেওয়া ও নেওয়া

সালাম দেওয়া ও নেওয়া , এই অধ্যায়ে হাদীস = ৭৪ টি হাদীস (৯৮৭ – ১০৬০) << আদাবুল মুফরাদ হাদীস কিতাবের মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায় – ১৫ পরস্পর সালাম বিনিময় = ৭৪ টি হাদীস (৯৮৭ – ১০৬০)

৪৪৮. অনুচ্ছেদঃ সালামের সূচনা।

৯৮৭. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ আল্লাহ তাআলা আদম [আবু দাউদ]-কে সৃষ্টি করিলেন। তাহাঁর উচ্চতা ছিল ষাট হাত। আল্লাহ তাআলা তাহাঁকে বলেন, যাও, উপবিষ্ট ঐ ফেরেশতার দলকে সালাম দাও এবং তারা তোমার সালামের কি জবাব দেয় তা মনোযোগ সহকারে শোনো। কেননা এটাই হইবে তোমার ও তোমার সন্তানদের সালাম [সম্ভাষণ]। আদম [আঃ] গিয়ে বলেন,

السَّلَامُ عَلَيْكُمْ

আসসালামু আলাইকুম [আপনাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক]।

ফেরেশতাগণ জবাব দিলেন,

السَّلَامُ عَلَيْكَ وَرَحْمَةُ اللَّهِ

আসসালামু আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহ [আপনার উপরও শান্তি ও আল্লাহর রহমাত বর্ষিত হোক]।

ফেরেশতাগণ

وَرَحْمَةُ اللَّهِ

“ওয়া রহমাতুল্লাহি”

বাড়িয়ে বলেন। যে ব্যক্তি বেহেশতে যাবে সেই হইবে আদম [আবু দাউদ]-এর আকৃতি বিশিষ্ট। তখন থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত মানুষের দেহাবয়ব [উচ্চতাবারানি] ক্রমাগত হ্রাস পেয়ে আসছে।

[বোখারী, মুসলিম] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৪৪৯. অনুচ্ছেদঃ সালামের প্রসার।

৯৮৮. বারাআ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ তোমরা সালামের বহুল প্রসার করো, তাহলে শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করিবে

[মুসনাদ আহমাদ, ইবনি হিব্বান]। সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৯৮৯. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ তোমরা ঈমানদার না হওয়া পর্যন্ত বেহেশতে প্রবেশ করিতে পারবে না। তোমরা পরস্পরকে মহব্বত না করা পর্যন্ত ঈমানদার হইতে পারবে না। আমি কি তোমাদের এমন জিনিস জ্ঞাত করবো নাসায়ী, যাতে তোমাদের পরস্পরের মধ্যে মহব্বত সৃষ্টি হয়? সাহাবাগণ বলেন, নিশ্চয় ইয়া রসূলাল্লাহ! তিনি বলেনঃ তোমাদের মধ্যে সালামের বহুল প্রসার ঘটাও।

[মুসলিম] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৯৯০. আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা দয়াময় রহমানের ইবাদত করো, মানুষকে আহার করাও এবং সালামের বহুল প্রচলন করো, তাহলে জান্নাতসমূহে প্রবেশ করিতে পারবে।

-[তিরমিজী, ইবনি মাজাহ, দারিমি, আহমাদ, ইবনি হিব্বান] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৪৫০. অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি আগে সালাম দেয়।

৯৯১. বশীর ইবনি ইয়াসার [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

ইবনি উমার [রাঃআঃ]-কে তার আগে কেউ সালাম দিতে পারতো না।

[আবু আওয়ানাসায়ী, ইবনি হিব্বান] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৯৯২. জাবের [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

আরোহী ব্যক্তি পদব্রজে গমনকারীকে সালাম দিবে এবং পদব্রজে গমনকারী বসা ব্যক্তিকে সালাম দিবে। আর দুই পথচারীর মধ্যে যে প্রথম সালাম দিবে সে অধিক উত্তম।

সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ অন্যান্য

৯৯৩. নাফে [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

ইবনি উমার [রাহিমাহুল্লাহ] তাকে অবহিত করেন যে, মুযায়না গোত্রের আল-আগারর [রাঃআঃ] নাবী [সাঃআঃ]-এর সাহাবী ছিলেন। আমর ইবনি আওফ গোত্রের এক ব্যক্তির নিকট তার কয়েক ওয়াসাক খেজুর পাওনা ছিল। তিনি এজন্য বেশ কয়েক বার তাকে তাগাদাও দেন। তিনি বলেন, আমি নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট গেলে তিনি আমার সাথে আবু বাকর সিদ্দীক [রাঃআঃ]-কে পাঠান। তিনি বলেন, [পথিমধ্যে যার সাথেই] আমাদের সাক্ষাত হয়েছে তারাই আগে আমাদের সালাম দিয়েছে। আবু বাকর [রাঃআঃ] বলেন, তুমি কি লক্ষ্য করছে না যে, লোকজন তোমাকে আগে সালাম দিচ্ছে এবং তাহাদের সওয়াব হচ্ছে? তুমি আগে তাহাদেরকে সালাম দাও, তোমার সওয়াব হইবে। ইবনি উমার [রাঃআঃ] এটাকে নিজের ঘটনা বলেছেন।

[তাবারানি] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৯৯৪. আবু আইউব [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ কোন মুসলমানের জন্য তার অপর মুসলমান ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশী সম্পর্ক ছিন্ন করে থাকা হালাল নয়। অবস্থা এই দাঁড়ায় যে, তাহাদের দু’জনের সাক্ষাত হলে একজন এদিকে এবং অপরজন ঐদিকে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। তাহাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি যে আগে সালাম দেয়।

[বোখারী, মুসলিম, দারিমি, তিরমিজী] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৪৫১. অনুচ্ছেদঃ সালাম বিনিময়ের ফযীলাত।

৯৯৫. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

এক ব্যক্তি নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিল। তিনি তখন এক মজলিসে ছিলেন। সে বললো,

السَّلَامُ عَلَيْكُمْ

আসসালামু আলাইকুম।

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ দশটি নেকী। অতঃপর অপর এক ব্যক্তি ঐ পথে যেতে বললো,

 السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ বিশ নেকী। আরেক ব্যক্তি সেখান দিয়ে যেতে বললো,

السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহ।

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ তিরিশ নেকী। অতঃপর এক ব্যক্তি মজলিস থেকে উঠে চলে গেলো, কিন্তু সালাম দিলো না। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ হয়তো তোমাদের সাথী [সালামের মর্যাদা] বিস্তৃত হয়েছে। তোমাদের কেউ মজলিসে এসে পৌছলে যেন সালাম দেয়। তারপর মজলিসে বসার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলে সে বসবে। আবার সে যখন চলে যাবে তখনও যেন সালাম দেয়। কেননা পরের সালাম পূর্বের সালামের চেয়ে কম মর্যাদাপূর্ণ নয়।

-[তিরমিজী, নাসায়ী, ইবনি হিব্বান, আহমাদ, আবু দাউদ] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৯৯৬. উমার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত.

আমি বাহনের পেছন দিকে আবু বাকর [রাঃআঃ]-এর সফরসংগী ছিলাম। তিনি যে কোন জনসমষ্টিকে অতিক্রম করেন তাহাদেরকে

السَّلَامُ عَلَيْكُمْ

আসসালামু আলাইকুম

বলেন। তারা বললো,

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

আর তিনি

السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ

বললে তারা বলে,

 السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

আবু বাকর [রাঃআঃ] বলেন, লোকজন আজ আমাদের চেয়ে অনেক বেশী সওয়াবের অধিকারী হলো।

সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৯৯৭. আয়েশা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ ইহুদীরা তোমাদের কোন ব্যাপারে এতো বেশী ঈর্ষান্বিত নয় যতোটা তারা তোমাদের সালাম ও আমীনের ব্যাপারে ঈর্ষান্বিত।

[ইবনি মাজাহ হা/৮৫৬] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৪৫২. অনুচ্ছেদঃ সালাম হলো মহামহিম আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি নাম।

৯৯৮. আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ সালাম হলো আল্লাহ তাআলার নামসমূহের একটি। তিনি দুনিয়াবাসীদের জন্য তা দান করিয়াছেন। অতএব তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের বহুল প্রচলন করো।

[তাবারানি, বাযযার] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৯৯৯. ইবনি মাসউদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

লোকজন নাবী [সাঃআঃ]-এর পেছনে নামায পড়ছিলো। এক ব্যক্তি বললো,

 السَّلَامُ عَلَى اللَّهِ

আসসালামু আলাল্লাহ [আল্লাহর প্রতি সালাম]।

নাবী [সাঃআঃ] নামায শেষে জিজ্ঞেস করেনঃ আসসালামু আলাল্লাহ কে বলেছে? নিশ্চয় আল্লাহ হলেন সালাম [শান্তিদাতাবারানি]। বরং তোমরা বলো,

التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ 

‘আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি……. আবদুহু ওয়া রাসূলুল্লাহু’। “সমস্ত সম্মান, ইবাদত, উপাসনা এবং পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নাবী! আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক, আল্লাহর রহমাত এবং প্রাচুর্যও। আমাদের উপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ তার বান্দাহ ও রাসূল”। রাবী বলেন, সাহাবীগণ তা এতো গুরুত্ব সহকারে শিক্ষা করিতেন, যেমন তোমাদের কেউ কুরআনের সূরা শিক্ষা করে।

-[বোখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজী, নাসায়ী, ইবনি মাজাহ] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৪৫৩. অনুচ্ছেদঃ দুই মুসলমানের সাক্ষাতকালে সালাম প্রদানকারী মুসলমানের অধিকার।

১০০০. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ এক মুসলমানের উপর অপর মুসলমানের পাঁচটি কর্তব্য রহিয়াছে। জিজ্ঞেস করা হলো, ইয়া রসূলাল্লাহ! তা কি কি? তিনি বলেনঃ [১] তুমি তার সাথে সাক্ষাত করলে তাকে সালাম দিবে। [২] সে তোমাকে দাওয়াত দিলে তুমি তার দাওয়াত কবুল করিবে। [৩] সে তোমার কাছে পরামর্শ বা উপদেশ চাইলে তুমি তাকে সৎ পরামর্শ বা সদুপদেশ দিবে। [৪] সে হাঁচি দিয়ে আলহামদু লিল্লাহ বললে তুমি তার হাঁচির জবাব দিবে। [৫] সে মারা গেলে তুমি তার সংগী হইবে [জানাযা পড়বে ও দাফন করিবে]।

-[বোখারী, মুসলিম] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৪৫৪. অনুচ্ছেদঃ পথচারী উপবিষ্ট ব্যক্তিকে সালাম দিবে।

১০০১। আবদুর রহমান ইবনি শিবল [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

আমি নাবী [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছিঃ আরোহী যেন পদচারীকে সালাম দেয়। পদচারী যেন উপবিষ্ট ব্যক্তিকে সালাম দেয়, অল্প সংখ্যক যেন বেশি সংখ্যককে সালাম দেয়। যে ব্যক্তি সালামের জবাব দিলো তার সওয়াব তাহাদের জন্য আর যে ব্যক্তি সালামের জবাব দিলো না তার জন্য কিছুই নাই।

[আহমাদ] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০০২। আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ আরোহী পদচারীকে সালাম দিবে, পদচারী উপবিষ্ট ব্যক্তিকে সালাম দিবে এবং কম সংখ্যক বেশী সংখ্যককে সালাম দিবে।

[বোখারী, মুসলিম] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০০৩। জাবের [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

দুইজন পদচারী একত্র হলে তাহাদের মধ্যে যে আগে সালাম দেয় সে অধিক উত্তম ।

সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৪৫৫. অনুচ্ছেদঃ আরোহী উপবিষ্ট ব্যক্তিকে সালাম দিবে।

১০০৪। আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ আরোহী পদচারীকে সালাম দিবে, পদচারী উপবিষ্ট ব্যক্তিকে সালাম দিবে এবং কম সংখ্যক বেশী সংখ্যককে সালাম দিবে।

[বোখারী, মুসলিম] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০০৫। ফাদালা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ অশ্বারোহী উপবিষ্ট ব্যক্তিকে সালাম দিবে এবং কম সংখ্যক বেশী সংখ্যককে সালাম দিবে।

-[তিরমিজী, নাসায়ী, দারিমি, ইবনি হিব্বান] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৪৫৬. অনুচ্ছেদঃ পদচারী কি আরোহীকে সালাম দিবে?

১০০৬। হুসাইন [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

এক অশ্বারোহীর সাথে শাবী [রাহিমাহুল্লাহ]-এর সাক্ষাত হলে তিনি তাকে প্রথমে সালাম দেন। আমি বললাম, আপনি তাকে প্রথমে সালাম দিলেন? তিনি বলেন, আমি শুরায়হ [রাঃআঃ]-কে পদব্ৰজে যেতে প্রথমে সালাম দিতে দেখেছি।

সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৪৫৭. অনুচ্ছেদঃ ক্ষুদ্র দল বড়ো দলকে সালাম দিবে।

১০০৭। ফাদালা ইবনি উবায়েদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ আরোহী পদচারীকে পদচারী উপবিষ্টকে এবং কম সংখ্যক বেশী সংখ্যককে সালাম দিবে।

-[তিরমিজী, নাসায়ী, আহমাদ, দারিমি, ইবনি হিব্বান] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০০৮। ফাদালা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ অশ্বরোহী পদচারীকে, পদচারী দণ্ডায়মান ব্যক্তিকে এবং কম সংখ্যক বেশী সংখ্যককে সালাম দিবে।

[ইবনি হিব্বান] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৪৫৮. অনুচ্ছেদঃ ছোটরা বড়োদের সালাম দিবে।

১০০৯। আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আরোহী পদচারীকে, পদচারী উপবিষ্ট ব্যক্তিকে এবং কম সংখ্যক বেশী সংখ্যককে সালাম দিবে।

-[বোখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজী, আহমাদ, আবু আওয়া নাসায়ী] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০১০। আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ ছোট বড়োকে, পদচারী উপবিষ্টকে এবং কম সংখ্যক বেশী সংখ্যককে সালাম দিবে

। [তিরমিজী] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৪৫৯. অনুচ্ছেদঃ সালামের সমাপ্তি।

১০১১। আবু যিনাদ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

যায়েদ ইবনি সাবিত [রাঃআঃ]-এর পুত্র খারিজা [রাহিমাহুল্লাহ] যায়েদ [রাঃআঃ]-এর পত্রে সালাম লিখতেনঃ “আপনার প্রতি সালাম, হে আমীরুল মুমিনীন এবং আল্লাহর রহমাত, বরকত, তাহাঁর ক্ষমা ও সর্বোৎকৃষ্ট করুণারাশি বর্ষিত হোক”।

সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৪৬০. অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি ইশারায় সালাম দিলো।

১০১২। হাইয়্যায ইবনি বিসাম আবু কুররা আল-খুরাসানী [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

আমি দেখেছি যে, আনাস [রাঃআঃ] আমাদের নিকট দিয়ে অতিক্রমকালে তার হাত দ্বারা ইঙ্গিত করে আমাদের সালাম দিতেন। তাতে শ্বেতরোগের দাগ ছিল। আমি হাসান [রাহিমাহুল্লাহ]-কে দেখেছি যে, তিনি হলুদ রঙ্গের খেজাব ব্যবহার করিতেন এবং তার মাথায় থাকতো কালো পাগড়ী। আসমা [রাঃআঃ] বলেন, নাবী [সাঃআঃ] তার হাতের ইশারায় নারীদের সালাম দেন।

-[দারিমি, আহমাদ, আবু আওয়া নাসায়ী] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ অন্যান্য

১০১৩। সাদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাঃআঃ] ও কাসিম ইবনি মুহাম্মাদ [রাহিমাহুল্লাহ]-এর সাথে সফরে রওয়ানা হন। তারা সারিফ নামক স্থানে উপনীত হলে আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর [রাঃআঃ] সেই পথে যাচ্ছিলেন। তিনি তাহাদেরকে ইঙ্গিতে সালাম দেন এবং তারা দু’জনে তার জবাবও দেন।

সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল মাওকুফ

১০১৪। আতা ইবনি আবু রাবাহ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

সাহাবীগণ হাতের ইশারায় সালামের আদান-প্রদান অপছন্দ করিতেন।

সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৪৬১. অনুচ্ছেদঃ প্রতিপক্ষকে শুনিয়ে সালাম দিবে।

১০১৫। সাবিত ইবনি উবাইদ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

আমি এক মজলিসে আসলাম। সেখানে আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাঃআঃ]-ও ছিলেন। তিনি বলেন, তুমি সালাম দিলে তা [প্রতিপক্ষের] কর্ণগোচর করো। কেননা তা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বরকতপূর্ণ ও পবিত্র বাক্য।

সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৪৬২. অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি সালাম আদান-প্রদানের উদ্দেশ্যে বের হয়।

১০১৬। তুফাইল ইবনি উবাই ইবনি কাব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

তিনি আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাঃআঃ]-এর নিকট যাতায়াত করিতেন এবং তার সাথে বাজারে যেতেন। রাবী বলেন, আমরা বাজারে যাওয়ার পথে আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাঃআঃ]-র সাথে সর্বসাধারণ, দোকানদার, ফকীর-মিসকীন বা অন্য যে কোন লোকের সাক্ষাত হতো তিনি তাকে সালাম দিতেন। তুফাইল [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, একদিন আমি আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাঃআঃ]-র নিকট আসলাম। তিনি আমাকে নিয়ে বাজারে যেতে চাইলেন। আমি বললাম, আপনি বাজারে গিয়ে কি করবেন? না আপনি কেনাকাটা করেন, না কোন পণ্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন, না দরদাম করেন, আর না বাজারের কোন মজলিসে বসেন। বরং আমাদের নিয়ে এখানেই বসুন, কিছু আলাপ-আলোচনা করি। আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] আমাকে বলেন, হে ভুরিওয়ালা [তার পেট মোটা ছিল]। আমরা তো বাজারে যাই যাকে সামনে পাই তাকে সালাম দেয়ার জন্য।

-[মুয়াত্তা মালিক, তাবাকাত ইবনি সাদ] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৪৬৩. অনুচ্ছেদঃ মজলিসে পৌছে কারো সালাম দেয়া।

১০১৭। আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের কোন ব্যক্তি মজলিসে গিয়ে পৌঁছলে সে যেন সালাম দেয়। সে ফিরে যেতেও সালাম দিবে। কেননাসায়ী, পরের সালাম আগের সালাম থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

-[তিরমিজী, নাসায়ী, তাবারানি, তাহাবী, আহমাদ, হাকিম, ইবনি হিব্বান] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৪৬৪. অনুচ্ছেদঃ মজলিস থেকে বিদায়কালে সালাম দেয়া।

১০১৮। আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ কোন ব্যক্তি মজলিসে এসে পৌছে যেন সালাম দেয়। সে মজলিসে বসার পর মজলিস শেষ হওয়ার পূর্বে উঠে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করলে যেন পুনরায় সালাম দেয়। কেননা আগের সালাম কোন অংশেই শেষের সালামের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ নয়।

-[আবু দাউদ, নাসায়ী, তাহাবী] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৪৬৫. অনুচ্ছেদঃ মজলিস থেকে বিদায়কালে সালাম প্রদানকারীর অধিকার।

১০১৯। মুয়াবিয়া ইবনি কুররা [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

আমার পিতা আমাকে বলিলেন, হে বৎস! তুমি যদি কোন মজলিসে তার কল্যাণ লাভের আশায় অংশগ্রহণ করো, অতঃপর কোন প্রয়োজনে তোমাকে সেখান থেকে তাড়াতাড়ি উঠে যেতে হয় তবে তুমি বলবে, সালামুন আলাইকুম! তাহলে সেই মজলিসে অংশগ্রহণকারীগণ তাতে যে কল্যাণ লাভ করিবে, তুমিও তাতে শরীক থাকিবে। আর যারা কোন মজলিসে অংশগ্রহণের পর আল্লাহকে স্মরণ না করে মজলিস ভঙ্গ করে উঠে যায়, তারা যেন একটি মৃত গাধা [খেতে একত্র হওয়ার পর] উঠে গেলো।

[তাবারানি] সালাম দেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ মাওকুফ

১০২০. আবু মরিয়ম [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] বলেন, কোন ব্যক্তি তার অপর ভাইয়ের সাথে সাক্ষাত করলে সে যেন তাকে সালাম দেয়। যদি তাহাদের মধ্যে কোন গাছ বা প্রাচীর অন্তরায় হয়, অতঃপর পুনরায় তাহাদের সাক্ষাত হয়, তখনও যেন তাকে সালাম দেয়।

[আবু দাউদ] সালাম দেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ অন্যান্য

১০২১. আনাস ইবনি মালেক [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ]-এর সাহাবাগণ একত্র থাকা অবস্থায় তাহাদের সামনে কোন গাছ প্রতিবন্ধক হওয়ায় তাহাদের কতক তার ডান পাশ দিয়ে এবং কতক বাম পাশ দিয়ে যেতে তাহাদের পুনরায় সাক্ষাত হইতেই পরস্পর সালাম করিতেন।

[তাবারানি] সালাম দেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৪৬৬. অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি মুসাফাহা করার উদ্দেশে হাতে তৈল মালিশ করে।

১০২২. সাবিত আল-বুনানী [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

আনাস [রাঃআঃ] সকালবেলা বন্ধু-বান্ধবের সাথে মোসাফাহা [করমর্দন] করার জন্য তার হাতে সুগন্ধি তৈল মাখতেন।

সালাম দেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৪৬৭. অনুচ্ছেদঃ পরিচিত-অপরিচিত সকলকে সালাম দেয়া।

১০২৩. আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

এক ব্যক্তি বললো, ইয়া রসূলাল্লাহ! কোন ইসলাম সর্বোত্তম? তিনি বলেনঃ তুমি আহার করাবে এবং সালাম দিবে পরিচিত-অপরিচিত সকলকে।

-[বোখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, ইবনি মাজাহ, আবু আওয়ানাসায়ী, ইবনি হিব্বান] সালাম দেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৪৬৮. অনুচ্ছেদঃ [রাস্তার অধিকার]।

১০২৪. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বাড়ির আঙ্গিনায় এবং উঁচু স্থানসমূহের ঢালে বসতে নিষেধ করিলেন। মুসলমানগণ বলেন, তা তো আমাদের সাধ্যাতীত। তিনি বলেনঃ যদি তাই হয় তবে তোমরা তার দাবি পূরণ করো। তারা বলেন, রাস্তার দাবি কি? তিনি বলেনঃ দৃষ্টিশক্তি সংযত রাখা, পথিককে পথ বলে দেয়া, হাঁচিদাতা আলহামদু লিল্লাহ বললে তার জবাব দেয়া এবং সালামের উত্তর দেয়া

[আবু দাউদ] সালাম দেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০২৫. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

যে ব্যক্তি সালাম দিতে কার্পণ্য করে সে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট কৃপণ এবং যে ব্যক্তি সালামের উত্তর দেয় না সে প্রতারক। যদি তোমার ও তোমার অপর ভাইয়ের মাঝখানে কোন গাছ প্রতিবন্ধক হয় তবে যথাসাধ্য তুমিই তাকে আগে সালাম দিতে তৎপর হইবে। সে যেন তোমার আগে তোমাকে সালাম দিতে না পারে।

সালাম দেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল মাওকুফ

১০২৬. আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাঃআঃ]-র মুক্তদাস সালেম [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

কেউ ইবনি উমার [রাঃআঃ]-কে সালাম দিলে তিনি বর্ধিত শব্দযোগে তার উত্তর দিতেন। আমি তার নিকট আসলাম এবং তিনি তখন বসা ছিলেন। আমি বললাম,

السَّلَامُ عَلَيْكُمْ

আসসালামু আলাইকুম।

তিনি উত্তর দেন,

السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

আমি পুনরায় তার নিকট এসে বললাম,

السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

তিনি উত্তর দেন,

السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

আমি পুনরায় তার নিকট এসে বললাম,

السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

তিনি এবার জবাব দিলেন,

السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، وَطَيِّبُ صَلَوَاتِهِ

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু ওয়া তাইয়্যিবু সালাওয়াতিহি।

সালাম দেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল মাওকুফ

৪৬৯. অনুচ্ছেদঃ পাপাচারীকে সালাম দিবে না।

১০২৭. আবদুল্লাহ ইবনি আমর ইবনুল আস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তোমরা মদ্যপায়ীকে সালাম দিও না।

[বোখারী] সালাম দেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১০২৮. হাসান [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

তোমার ও পাপাসক্ত ব্যক্তির মধ্যে সম্মানের কোন সম্পর্ক থাকিবে না।

সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০২৯. আবু জুরাইক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

তিনি আলী ইবনি আবদুল্লাহ [রাহিমাহুল্লাহ] সম্পর্কে শুনেছেন যে, তিনি দাবা খেলা অপছন্দ করিতেন এবং বলিতেন, যারা এই খেলায় অভ্যস্ত তোমরা তাহাদেরকে সালাম দিও না। কেননা তা জুয়ার অন্তর্ভুক্ত।

সালাম দেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল মাকতু

৪৭০. অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি খালূক [যাফরান মিশ্রিত খোশবু] ব্যবহারকারী ও পাপাচারীকে সালাম দেয় না।

১০৩০. আলী ইবনি আবু তালিব [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] এক সম্প্রদায়ের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাহাদের মধ্যে খালূক প্রসাধনী মাখা এক ব্যক্তিও ছিল। তিনি তাহাদের দিকে তাকিয়ে তাহাদের সালাম দিলেন, কিন্তু ঐ ব্যক্তিকে উপেক্ষা করিলেন। সে বললো, আপনি যে আমাকে উপেক্ষা করিলেন? তিনি বলেনঃ তার দুই চোখের মাঝখানে জ্বলন্ত কয়লা রহিয়াছে।

সালাম দেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান হাদিস

১০৩১. আমর ইবনি শুআইব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

এক ব্যক্তি সোনার আংটি পরে নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট আসলো। নাবী [সাঃআঃ] তাকে অবজ্ঞা করিলেন। সে তাহাঁর অবজ্ঞা অনুভব করিতে পেরে চলে গিয়ে ঐ আংটি ফেলে দিলো এবং একটি লোহার আংটি পরিধান করলো, অতঃপর নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট এলো। তিনি বলেনঃ এটা মন্দ, এটা দোযখবাসীদের অলংকার। সে ফিরে গেলো এবং তাও ফেলে দিয়ে একটি রূপার আংটি পরিধান করলো। নাবী [সাঃআঃ] এবার তার সম্পর্কে কোন মন্তব্য করেননি।

-[তাহাবী] সালাম দেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান হাদিস

১০৩২. আবু সাঈদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

বাহরাইন থেকে এক ব্যক্তি নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট এলো। সে তাকে সালাম দিলো কিন্তু জবাব তিনি দেননি। তার হাতে ছিল সোনার আংটি এবং তার পরনে ছিল একটি রেশমী জুব্বা। লোকটি বিষন্ন মনে ফিরে গিয়ে ঘটনাটি তার স্ত্রীকে জানালো। তার স্ত্রী বললো, হয়তো তোমার এই জুব্বা ও সোনার আংটির কারণে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এরূপ করে থাকিবেন। সে এই দু’টি ফেলে দিয়ে পুনরায় ফিরে এসে তাহাঁকে সালাম দিলো। তিনি তার সালামের জবাব দিলেন। সে বললো, কিছুক্ষণ আগে আমি আপনার নিকট এসেছিলাম। তখন আপনি আমাকে উপেক্ষা করিয়াছেন। তিনি বললেঃ তখন তোমার হাতে দোযখের জ্বলন্ত অঙ্গার ছিল। সে বললো, তাহলে তো আমি অনেক অঙ্গারই সঞ্চয় করেছি। তিনি বলেনঃ তুমি তো তাই নিয়ে এসেছিলে। কারো কাছে হাররা প্রান্তরের পাথরের চেয়ে অধিক পরিমাণ সম্পদ থাকলেও তা তো পার্থিব জীবনের সম্পদই। সে বললো, তাহলে আমি কিসের আংটি বানাবো? তিনি বলেনঃ রূপা, পিতল বা লোহা দ্বারা।

[নাসায়ী, আহমাদ] সালাম দেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪৭১. অনুচ্ছেদঃ আমীরকে সালাম দেয়া।

১০৩৩. ইবনি শিহাব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

উমার ইবনি আবদুল আযীয [রাহিমাহুল্লাহ] আবু বাকর ইবনি সুলায়মান ইবনি আবু হাসমাকে জিজ্ঞেস করেন, কেনো আবু বাকর [রাঃআঃ] পত্রের শিরোনামে লিখতেনঃ আবু বাকর, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর খলীফার পক্ষ থেকে। অতঃপর উমার [রাঃআঃ] লিখতেন, উমার ইবনুল খাত্তাব, আবু বাকরের খলীফার [প্রতিনিধির] পক্ষ থেকে। সর্বপ্রথম কে “আমীরুল মুমিনীন” শব্দটি লেখার প্রচলন করেন? তিনি বলেন, আমার পিতামহী শিফা [রাঃআঃ] আমাকে বলেছেন, তিনি প্রথম যুগের মুহাজির মহিলাদের একজন এবং উমার ইবনুল খাত্তাব [রাঃআঃ] বাজারে গেলে তার সাথে অবশ্যই সাক্ষাত করিতেন। উমার ইবনুল খাত্তাব [রাঃআঃ] ইরাকের শাসনকর্তাকে লিখে পাঠান, আমার নিকট দুইজন বিজ্ঞ ও সম্ভ্রান্ত লোক পাঠাও যাদেরকে আমি ইরাক ও তার অধিবাসীদের সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা করবো। ইরাকের শাসনকর্তা লবীদ ইবনি রবীয়া এবং আদী ইবনি হাতেম [রাঃআঃ]-কে তার নিকট পাঠান। তারা মদীনায় পৌছে তাহাদের বাহনদ্বয় মসজিদের চত্বরে বাঁধেন। অতঃপর তারা মসজিদে প্রবেশ করে আমর ইবনুল আস [রাঃআঃ]-এর সাক্ষাত পান। তারা তাকে বলেন, হে আমর! “আমীরুল মুমিনীন” উমার [রাঃআঃ]-এর সাথে আমাদের সাক্ষাতের অনুমতি নিয়ে দিন। আমর [রাঃআঃ] উমার [রাঃআঃ]-এর কাছে দ্রুত ছুটে গেলেন এবং বলেন, আসসালামু আলাইকুম ইয়া আমীরুল মুমিনীন। উমার [রাঃআঃ] তাকে বলেন, হে আসের পুত্র! এই পদবী তুমি কোথায় পেলে? তুমি যা বলেছে তা প্রত্যাহার করো। তিনি বলেন, হাঁ, লবীদ ইবনি রবীয়া এবং আদী ইবনি হাতেম [রাঃআঃ] এসেছেন। তারা আমাকে বলেছেন, আমীরুল মুমিনীনের নিকট থেকে আমাদের জন্য সাক্ষাতের অনুমতি এনে দিন। আমি বললাম, আল্লাহর শপথ! তোমরা দু’জনে তার যথার্থ নামকরণ করেছো। নিশ্চয় তিনি আমীর এবং আমরা মুমিন। সেদিন থেকে তা লেখার প্রচলন হয়।

[ইসতীআব] সালাম দেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০৩৪. উবায়দুল্লাহ ইবনি আবদুল্লাহ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

মুআবিয়া [রাঃআঃ] যখন খলীফারূপে প্রথমবার হজ্জ করিতে আসেন তখন উসমান ইবনি হুনাইফ আনসারী [রাঃআঃ] তার নিকট আসেন এবং বলেন,

السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا الْأَمِيرُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ

আসসালামুআলাইকুম আয়্যুহাল আমীর ওয়া রহমাতুল্লাহ [হে আমীর! আপনাকে সালাম ও আল্লাহর রহমাত বর্ষিত হোক]।

সিরিয়াবাসীদের তা অপছন্দ হলো। তারা বললো, কে এই মোনাফিক যে আমীরুল মুমিনীনের প্রতি অভিবাদনটাকে খাটো করেছে? তখন উসমান [রাঃআঃ] তার হাঁটুতে ভর দিয়ে বসে বলেন, হে আমীরুল মুমিনীন। এরা এমন একটি ব্যাপারকে অপছন্দ করছে যা তাহাদের চাইতে আপনি অধিক জ্ঞাত। আল্লাহর শপথ! আমি আবু বাকর, উমার ও উসমান [রাঃআঃ]-কে এভাবে অভিবাদন করেছি। তাহাদের কেউই তা অপছন্দ করেননি। মুআবিয়া [রাঃআঃ] সিরিয়াবাসীদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ কথা বলেছে তাকে বলেন, ওহে! চুপ করো। তিনি যা বলেছেন ব্যাপার অনেকটা তাই। কিন্তু সিরিয়াবাসীরা গোলযোগ ঘটে যাবার পর বলে, আমাদের খলীফার প্রতি অভিবাদনকে সংক্ষিপ্ত করবো না। হে মদীনাবাসীগণ! আমি তোমাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, তোমরা যাকাত আদায়কারীদেরকেও “আমীর” বলে সম্বোধন করে থাকো।

[মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক] সালাম দেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০৩৫. জাবের [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

আমি হাজ্জাজের নিকট গিয়েছি কিন্তু তাকে সালাম দেইনি।

[হাকিম] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০৩৬. তামীম ইবনি হাযলাম [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

কুফাতে সর্বপ্রথম কাকে আমীর সম্বোধন করে সালাম দেয়া হয়েছিল তা আমার অবশ্যই স্মরণ আছে। মুগীরা ইবনি শোবা [রাঃআঃ] কুফার রাহবা ফটক দিয়ে বের হলে কিনদার এক ব্যক্তি তার নিকট আসেন। লোকের ধারণা যে, তিনি ছিলেন আবু কুররা আল-কিন্দী। তিনি তাকে সালাম দিয়ে বলেন,

السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا الْأَمِيرُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ، السَّلَامُ عَلَيْكُمْ

আসসালামু আলাইকা আয়্যুহাল আমীর ওয়ারহমাতুল্লাহ আসসালামু আলাইকুম।

মুগীরা [রাঃআঃ] তা অপছন্দ করেন এবং বলেন,

السَّلَامُ عَلَيْكُمْ أَيُّهَا الْأَمِيرُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ، السَّلَامُ عَلَيْكُمْ

আসসালামু আলাইকুম আয়্যুহাল আমীরু ওয়া রহমাতুল্লাহ আসসালামু আলাইকুম,

এটা কি? আমি তাহাদেরই একজন কিনা? সিমাক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, অতঃপর মুগীরা [রাঃআঃ] এই আমীর উপাধি গ্রহণ করেন।

সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০৩৭. হিময়ারের এক শাখার সদস্য যিয়াদ ইবনি উবায়েদ আর-রুয়াইনী [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

আমরা রুয়াইফে [রাঃআঃ]-এর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি তখন আনতাবুলসের আমীর [শাসক]। এক ব্যক্তি এসে তাকে সালাম দিয়ে বললো, আসসালামু আলাল আমীর।

আবদা [রাহিমাহুল্লাহ]-এর বর্ণনায় আছে, সে বললো,

السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا الْأَمِيرُ

আসসালামু আলাইকা আয়্যুহাল আমীর।

রুয়াইফে [রাঃআঃ] তাকে বলেন, তুমি যদি আমাকেই সালাম দিতে তবে অবশ্যই আমি তোমার সালামের জবাব দিতাম। তুমি তো মিসরের শাসক মাসলামা ইবনি মুখাল্লিদকে সালাম দিয়েছো। তুমি তার নিকট যাও, তিনিই তোমার সালামের জবাব দিবেন। রাবী যিয়াদ [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, আমরা তার ওখানে গেলে এবং তিনি মজলিসে উপস্থিত থাকলে আসসালামুআলাইকুম বলতাম।

সালাম দেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল মাওকুফ

৪৭২. অনুচ্ছেদঃ নিদ্রিত ব্যক্তিকে সালাম দেয়া।

১০৩৮. মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] রাতের বেলা এসে এমনভাবে সালাম দিতেন যে, ঘুমন্ত লোক জাগ্রত হতো নাসায়ী, অথচ জাগ্রত লোক তা শুনতে পেতো।

[মুসলিম, তিরমিজী, আবু দাউদ] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৪৭৩. অনুচ্ছেদঃ আল্লাহ তোমায় দীর্ঘজীবি করুন।

১০৩৯. শাবী [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

উমার [রাঃআঃ] আদী ইবনি হাতেম তাঈ [রাঃআঃ]-কে বলেন, সুনাম সহকারে আল্লাহ তোমায় দীর্ঘজীবি করুন।

সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪৭৪. অনুচ্ছেদঃ মারহাবা [স্বাগতম]।

১০৪০. আয়েশা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

ফাতেমা [রাঃআঃ] পদব্রজে আসলেন। আর তার হাঁটার ভংগি ছিল নাবী [সাঃআঃ]-এর হাঁটার অনুরূপ। নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ মারহাবা [স্বাগতম], কন্যা আমার, অতঃপর তাকে নিজের ডান অথবা বামপাশে বসান।

[বোখারী, মুসলিম] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০৪১. আলী [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

আম্মার [রাঃআঃ] নাবী [সাঃআঃ]-এর সাক্ষাতের অনুমতি প্রার্থনা করেন। তিনি তার কণ্ঠস্বর চিনতে পেরে বলেনঃ এই পাক-পবিত্র ব্যক্তিকে স্বাগতম।

[তিরমিজী, ইবনি মাজাহ, বোখারীর তারীখ] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৪৭৫. অনুচ্ছেদঃ কিভাবে সালামের উত্তর দিবে?

১০৪২. আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

একদা আমরা মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী এক স্থানে একটি গাছের ছায়ায় নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট বসা ছিলাম। তখন এক কর্কশ ও কঠোর প্রকৃতির বেদুইন এসে বললো,

 السَّلَامُ عَلَيْكُمْ

আসসালামু আলাইকুম।

লোকজন বললো,

وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ

ওয়া আলাইকুম সালাম ।

সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০৪৩. আবু হামযা [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ]-কে সালাম দেয়া হলে তার জবাবে আমি তাকে

 وَعَلَيْكَ، وَرَحْمَةُ اللَّهِ

“ওয়া আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহ”

বলিতে শুনিয়াছি।

সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০৪৪. কাইলা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

এক ব্যক্তি বললো,

السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ

আসসালামু আলাইকা ইয়া রসূলাল্লাহ।

তিনি বলেনঃ

وَعَلَيْكَ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ

ওয়া আলাইকাস সালামু ওয়া রহমাতুল্লাহ।

[ইবনি মানদা] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান সহীহ

১০৪৫. আবু যার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

আমি নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট আসলাম। তখন তিনি সবেমাত্র নামায পড়ে অবসর হয়েছেন। আমিই প্রথম ব্যক্তি যে তাকে ইসলামী রীতিতে সালাম দিয়েছে। তিনি বলেনঃ

وَعَلَيْكَ، وَرَحْمَةُ اللَّهِ

ওয়া আলাইকা ওয়া রহমাতুল্লাহ।

তুমি কোন গোত্রের লোক? আমি বললাম, গিফার গোত্রের।

[মুসলিম] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০৪৬. আয়েশা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ হে আয়েশা! ইনি জিবরাঈল [আঃ] তোমাকে সালাম দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি বললাম,

 وَعَلَيْهِ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ

ওয়া আলাইহিস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

আমি যা দেখিতে পাই না আপনি তা দেখিতে পান। আয়েশা [রাঃআঃ] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে একথা বলেন।

[বোখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজী, নাসায়ী, ইবনি মাজাহ] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০৪৭. মুয়াবিয়া ইবনি কুররা [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

আমার পিতা আমাকে বলিলেন, হে বৎস! কোন ব্যক্তি তোমাকে অতিক্রমকালে তোমাকে

السَّلَامُ عَلَيْكُمْ

আসসালামু আলাইকুম

বললে তুমি শুধু

وَعَلَيْكَ

‘ওয়া আলাইকা’ [এবং তোমার উপরও]

বলো না। কেননা তাতে কেবল তাকেই সালাম দিচ্ছে, অথচ সে একা নয়। বরং তুমি বলবে, আসসালামু আলাইকুম।

সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৪৭৬. অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি সালামের জবাব দেয়নি।

১০৪৮. আবদুল্লাহ ইবনুস সামিত [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

আমি আবু যার [রাঃআঃ]-কে বললাম, আমি উম্মুল হাকামের পুত্র আবদুর রহমানের নিকট দিয়ে যেতে তাকে সালাম দিলাম, কিন্তু তিনি আমাকে কোন উত্তরই দেননি। তিনি বলেন, হে ভাইপো! তাতে তোমার কিছু যায় আসে না। তার চেয়েও উত্তম ব্যক্তি অর্থাৎ ডান পাশের ফেরেশতা তোমার সালামের উত্তর দিয়েছেন।

সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ অন্যান্য

১০৪৯. আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

সালাম হলো আল্লাহর নামসমূহের মধ্যকার একটি নাম। তিনি তা পৃথিবীতে রেখেছেন। অতএব তোমরা পরস্পরের মধ্যে তার ব্যাপক প্রসার করো। কোন ব্যক্তি কোন লোকসমষ্টিকে সালাম দিলে এবং তারা তার জবাব দিলে তাহাদের চেয়ে তার একটি মর্যাদা বেশী হয়। কেননা সে তাহাদের আস-সালামকে [শান্তিদাতাকে] স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। যদি তারা তার সালামের উত্তর নাও দেয় তবে এমন একজন তার উত্তর দেন যিনি তার বা তাহাদের চেয়ে অধিক উত্তম ও পবিত্র।

-[বাযযার, তাবারানি, ইবনি আবু শায়বাহ] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ অন্যান্য

১০৫০. হাসান [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

সালাম দেয়া হলো নফল [ঐচ্ছিক]। কিন্তু তার উত্তর দেয়া ফরয [বাধ্যতামূলক]।

সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৪৭৭. অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি সালাম দিতে কার্পণ্য করে।

১০৫১. আবদুল্লাহ ইবনি আমর ইবনুল আস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

যে ব্যক্তি শপথ করে মিথ্যা বলে সে সবচেয়ে বড়ো মিথ্যাবাদী। যে ব্যক্তি সালাম দিতে কার্পণ্য করে সে মারাত্মক কৃপণ। যে ব্যক্তি নামায চুরি করে সে বড়ো চোর।

সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল মাওকুফ

১০৫২. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

যে ব্যক্তি সালাম দিতে কার্পণ্য করে, সে সবচাইতে বড়ো কৃপণ। যে ব্যক্তি দোয়া করার ব্যাপারে অক্ষম, সে সবচেয়ে বড়ো অক্ষম।

সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৪৭৮. অনুচ্ছেদঃ শিশুদের সালাম দেয়া।

১০৫৩. আনাস ইবনি মালেক [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বালকদের নিকট দিয়ে যেতে তাহাদেরকে সালাম দেন এবং বলেন, নাবী [সাঃআঃ] তাহাদের সাথে তাই করিতেন।

-[বোখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, ইবনি মাজাহ, তিরমিজী] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০৫৪. আনবাসা [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

আমি ইবনি উমার [রাঃআঃ]-কে মক্তবের বালকদের সালাম দিতে দেখেছি।

সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৪৭৯. অনুচ্ছেদঃ স্ত্রীলোকদের পুরুষ লোককে সালাম দেয়া।

১০৫৫. উম্মু হানী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

আমি নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট গেলাম। তিনি তখন গোসল করছিলেন। আমি তাহাঁকে সালাম দিলে তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ কে এই মহিলা ? আমি বললাম, উম্মু হানী। তিনি বলেনঃ মারহাবা-স্বাগতম।

[বোখারী, মুসলিম] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০৫৬. মুবারক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

আমি হাসান বসরী [রাহিমাহুল্লাহ]-কে বলিতে শুনেছিঃ নারীরা পুরুষদেরকে সালাম দিতেন ।

সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৪৮০. অনুচ্ছেদঃ মহিলাদের সালাম দেয়া।

১০৫৭. আসমা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] মসজিদের ভিতর দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন একদল মহিলা তথায় বসা ছিলেন। তিনি হাতের ইশারায় তাহাদেরকে সালাম দেয়ার পর বলেনঃ তোমরা নিয়ামতপ্রাপ্তদের অকৃতজ্ঞতা থেকে সাবধান হও, তোমরা নিয়ামতপ্রাপ্তদের অকৃতজ্ঞতা থেকে সাবধান হও। তাহাদের একজন বলেন, হে আল্লাহর নাবী। আমরা আল্লাহর কাছে তার দেয়া নিয়ামতরাজির প্রতি অকৃতজ্ঞ হওয়া থেকে আশ্রয় চাই। তিনি বলেনঃ হাঁ, তোমাদের কোন নারীর স্বামীর বিরহ-যন্ত্রনা দীর্ঘায়িত হলে সে অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হয়ে বলে, আল্লাহর শপথ! আমি কখনো সামান্য সময়ের জন্যও তার থেকে কোন ভালো ব্যবহার পাইনি। এটাই হলো আল্লাহর দেয়া নিয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞতা এবং এটাই হলো নিয়ামতপ্রাপ্তদের অকৃতজ্ঞতা।

[আবু দাউদ, তিরমিজী, আহমাদ হা/২৮১৪১] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০৫৮. আসমা বিনতে ইয়াযীদ আল-আনসারী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] আমাকে অতিক্রম করিলেন। আমি তখন আমাদের মহিলাদের সাথে বসা ছিলাম। তিনি আমাদেরকে সালাম দেয়ার পর বলেনঃ নিয়ামতপ্রাপ্তদের অকৃতজ্ঞতা থেকে সাবধান হও। নারীদের মধ্যে আমি তার নিকট প্রশ্ন করিতে খুবই নির্ভীক ছিলাম। অতএব আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ! নিআমতপ্রাপ্তদের অকৃজ্ঞতা কি? তিনি বলেনঃ হয়তো তোমাদের কারো পিতা-মাতার ঘরে অবিবাহিত অবস্থায় দীর্ঘকাল অতিবাহিত হয়। অতঃপর আল্লাহ তাকে স্বামী দান করেন এবং তার ঔরসে তাকে সন্তানাদি দান করেন। তারপরও সে খুব অসন্তুষ্ট হয়ে অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং বলে, আমি তোমার নিকট কখনো ভালো ব্যবহার পেলাম না

[আহমাদ হা/২৮১১৩] । সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৪৮১. অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি [অনেকের মধ্যে] কাউকে নির্দিষ্ট করে সালাম দেয়া অপছন্দ করে।

১০৫৯. তারিক ইবনি শিহাব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীত

আমরা আবদুল্লাহ [রাঃআঃ]-র নিকট বসা ছিলাম। এমতাবস্থায় তার সংবাদ বাহক এসে বললো যে, নামাযের জামাআত শুরু হয়ে গেছে। অতএব তিনিও উঠলেন এবং আমরাও তার সাথে উঠে মসজিদে প্রবেশ করলাম। তিনি লোকদেরকে মসজিদে সম্মুখভাগে রুকু অবস্থায় দেখলেন। তিনি তাকবীর [তাহরীমা] বলে রুকূ করিলেন। আমরাও সামনে অগ্রসর হয়ে তার অনুরূপ করলাম। এক ব্যক্তি দ্রুতবেগে যেতে যেতে বললো, হে আবদুর রহমানের পিতা!

আসসালামু আলাইকুম।

তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা সত্য বলেছেন এবং তার রাসূল [সাঃআঃ] পূর্ণরূপে পৌছে দিয়েছেন। আমরা নামায শেষ করলে তিনি ফিরে গিয়ে তার অন্দরমহলে চলে গেলেন এবং আমরা তার [ফিরে আসার] অপেক্ষায় স্বস্থানে বসে থাকলাম। শেষে তিনি বের হয়ে এলেন। আমাদের কতক কতককে বললো, তোমাদের কে তাহাঁকে জিজ্ঞেস করিবে? তারিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, আমি তাহাঁকে জিজ্ঞেস করবো। অতএব তিনি জিজ্ঞেস করলে আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] বলেন, মহানাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কিয়ামতের নিকটবর্তী কালে লোক বিশেষকে নির্দিষ্ট করে সালাম দেয়ার প্রচলন হইবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে, ফলে স্বামীর ব্যবসায়ে স্ত্রীও সহযোগিতা করিবে। রক্ত সম্পৰ্কীয় আত্মীয়তা ছিন্ন করা হইবে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসার ঘটবে, মিথ্যা সাক্ষ্যদানের প্রচলন হইবে এবং সত্য সাক্ষ্য গোপন করা হইবে।

[আহমদ ৩৮৭০] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০৬০. আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে জিজ্ঞেস করলো, কোন ইসলাম উত্তম? তিনি বলেনঃ তোমার পরিচিত ও অপরিচিতজনকে তোমার আহার করানো এবং সালাম দেয়া।

[বোখারী, মুসলিম, নাসায়ী] সালাম দেওয়া ও নেওয়া হাদিস এর তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

By najmulislam

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply