নূরুল ঈযাহ ফিকাহ – উযু নামায জুমুআ ও ফিতরা

নূরুল ঈযাহ

শাইখ আবুল বারাকাত হাছান ইবনে আম্মার বিন আবুল ইখলাস মিসরী কর্তৃক রচিত হানাফী ফিকহের প্রসিদ্ধ কিতাব

  1. নূরুল ঈযাহ – উযুর ফযিলত
  2. নূরুল ঈযাহ – মুসাফিরের নামায প্রসঙ্গ
  3. নূরুল ঈযাহ – বিতরের নামায
  4. নূরুল ঈযাহ – ইমামতের উপযুক্ততা ও কাতার বিন্যাস প্রসঙ্গ
  5. নূরুল ঈযাহ – জুমুআর নামায
  6. নূরুল ঈযাহ – ফিতরের সদকা প্রসঙ্গে

নূরুল ঈযাহ – উযু প্রসঙ্গ

উযুর রুকন চারটি এবং এগুলো উযুর ফরয। এক, মুখমন্ডল ধৌত করা। দৈর্ঘ্যে (মুখমন্ডল) এর সীমা হলো কপালের সমতল অংশের শুরু (অর্থাৎ, চুলের গোড়া) হইতে থুতনির নিচ পর্যন্ত এবং প্রস্থে উভয় কানের লতির (১৫) মধ্যবর্তী অংশ। দুই, কনুইসহ উভয় হাত ধৌত করা। তিন, গোড়ালীদ্বয়সহ উভয় পা ধৌত করা। চার, মাথার চার ভাগের এক ভাগ মাসাহ করা। উযু করার কারণ ঐ সকল বস্তুকে বৈধ করা, যেগুলো কেবল উযুর মাধ্যমেই হালাল হয় (১৬) আর এটিই হলো উযুর পার্থিব লক্ষ্য। পক্ষান্তরে উযুর পারলৌকিক লক্ষ্য হলো মৃত্যুর পর পূণ্য হাসিল করা। উযু ওয়াজিব হওয়ার শর্ত হলো উযুকারী ব্যক্তি বুদ্ধিসম্পন্ন হওয়া, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া, মুসলিম হওয়া, উযু করা যায় এ পরিমান পানি ব্যবহারের উপযুক্ত হওয়া ও হাদাছ (অর্থাৎ যে নাপাকীর কারণে উযু করা ওয়াজিব হয়, এরূপ নাপাকী) পাওয়া যায় এবং হায়য ও নিফাস না থাকা এবং সময় সংকীর্ণ না হওয়া। উযু সঠিক হওয়ার শর্ত তিনটি। সমস্ত ত্বকে পবিত্র পানি পৌছে যাওয়া, ঐ সকল বস্তু বন্ধ হইয়া যাওয়া যা উযুর বিপরীত, অর্থাৎ, হায়য, নিফাস ও হাদাস এবং এমন জিনিস অপসারিত হইয়া যাওয়া যা শরীর পর্যন্ত পানি পৌছাতে বাধা হয়, যেমন মোম ও চর্বি।

পাদটীকা

১৫. সুতরাং দাড়ি ও কানের মাঝখানে পশমহীন অংশ ধৌত করা ফরয
১৬. যেমন উযুবিহীন অবস্থায় সালাত হারাম ছিল। উযু করার মাধ্যমে তা নিজের জন্য হালাল করে নেয়া হইয়াছে।

নূরুল ঈযাহ – মুসাফিরের নামায প্রসঙ্গ

সল্পতম সফর (১২৫), যা দ্বারা আহকাম বদলে (১২৬) যায়, তা হলো বৎসরের ক্ষুদ্রতম দিনসমূহের মধ্যে মধ্যম ধরনের গতির সাথে বিশ্রামসহ তিনদিনের পথ অতিক্রম করা। মধ্যম গতি হলো সমতল ভুমিতে উটের গমন ও পায়ে হাঁটা এবং পাহাড়ে ঐ বস্তুর গতি যা তার উপযোগী এবং সমুদ্রে বাতাসের অবস্থা স্বাভাবিক হওয়া। সুতরাং যে লোক (এরূপ) সফরের নিয়ত করিবে তার জন্য চার রাকআত বিশিষ্ট ফরয নামায হ্রাসপ্রাপ্ত হইবে, যদিও তার সফরের কারণে সে গুনাহগার হইয়া থাকে- যখন সে তার নিজ এলাকার গৃহসমূহ পার হইয়া যাবে এবং ঐ এলাকার সাথে মিলিত (প্রয়োজনীয়) ফিনা বা চত্বরও অতিক্রম করিবে। ফিনা যদি এক শস্য ক্ষেত অথবা এক গালওয়াহ (তিনশ থেকে চারশ কদমের ভেতরকে গালওয়া বলে) ব্যবধানে হয়, তবে তা অতিক্রম করা শর্ত নয়। শহরের প্রয়োজনে প্রস্তুতকৃত স্থানকে ফিনা বলে। যেমন অশ্ব চালনা ও মৃতকে দাফন করার স্থান। সফরের নিয়ত সঠিক হওয়ার জন্য তিনটি জিনিস শর্ত, (১) হুকুমের ব্যাপারে স্বাধীন ব্যক্তি কসর করিবে না, যে তার নিজ এলাকার আবাদী অতিক্রম করে নাই, অথবা অতিক্রম করিয়াছে কিন্তু সে ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক অথবা সে এমন কারো অধীন ছিল যে, তার মনিব সফরের নিয়ত করে নাই- যেম স্ত্রীলোক তার স্বামীর সাথে, কৃতদাস তার মালিকের সাথে এবং সৈনিক তার অধিনায়কের সাথে, অথবা সে তিনদিনের কম নিয়ত করেছিল (১২৭)। বিশুদ্ধতম মতে ইকামত ও সফরের বেলায় মূল ব্যক্তির নিয়তই (১২৮) গ্রহণযোগ্য- অধীনস্থের নয়, যদি অনসরণীয় (মূল) ব্যক্তির নিয়ত সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়া যায়। (সফরের অবস্থায়) আমাদের (হানাফীদের) মতে কসর করা হলো আযীমত (১২৯)। সুতরাং (মুসাফির) যদি চার রাকআত বিশিষ্ট নামায পূর্ণ করে এবং প্রথম বৈঠকে বসে তবে তার নামায কারাহাতসহ হইয়া যাবে, নচেৎ (প্রথম বৈঠকে না বসলে) সঠিক হইবে না। কিন্তু সে যখন তৃতীয় রাকআতের জন্য দাঁড়ানোর ইচ্ছা করল তখন যদি ইকামতের নিয়ত করে থাকে, (তবে চার রাকআত পড়া সঠিক হইবে )। মুসাফির ব্যক্তি কসর করতে থাকবে যতক্ষন না সে নিজ শহরে প্রবেশ করে অথবা কোনো শহরে কিংবা কোনো জনপদে অর্ধ মাস অবস্থানের নিয়ত করে। যদি এর কম নিয়ত করে থাকে অথবা কোনো নিয়তই না করে এবং এভাবে বছরের পর বছর সেখানে থেকে যায় তবে কসর করতে থাকবে। এমন দুটি শহরে ইকামত করার নিয়ত সঠিক হইবে না (১৩০) যে দুটির কোনো একটিকে রাত্রি যাপনের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়নি। বেদুঈন ব্যতিত অন্য কারো মরুভুমিতে ইকামতের নিয়্যত করা এবং দারুল হারবে ইসলামী বাহিনীর ও দারুল ইসলামে বিদ্রোহী অবরোধের সময় ইসলামী বাহিনীর ইকামতের নিয়ত করা গ্রহণযোগ্য নয় (১৩১)। যদি কোনো মুসাফির ওয়াক্তদিয়া নামাযে মুকীম ব্যক্তির ইকতিদা করে তবে তার ইকতিদা সঠিক হইবে (১৩২) এবং সে চার রাকআত পূর্ণ করিবে এবং ওয়াক্তের পরে সঠিক হইবে না। এর বিপরীতে (অর্থাৎ ইমাম মুসাফির হলে) উভয়ের মধ্যে ইকতিদা করা সঠিক। (মুসাফির) ইমামের জন্য (সালাম ফেরানোর পর) এ কথা বলা মুস্তাহাব যে, তোমরা তোমাদের নামায পূর্ণ করো। কেননা আমি মুসাফির। এটাও সঙ্গত যে, নামায আরম্ভ হবার পূর্বে সে এ কথা বলে দেবে। বিশুদ্ধতম মতে মুকীম তার মুসাফির ইমাম ফারিগ হওয়ার পর যা আদায় করিবে তাতে কিরাআত করিবে না। সফর ও হযরের কাযা নামায (যথাক্রমে) দুই রাকআত ও চার রাকআত করে পড়বে। দুই (রাকআত কি চার রাকআত ফরয হলো) সে ব্যাপারে নামাযের শেষ সময়টি গ্রহণযোগ্য হইবে। (অর্থাৎ শেষ সময়ে মুসাফির হলে দুই রাকআত, নচেৎ চার রাকআত কাযা করতে হইবে)। ওয়াতানে আসলী কেবল ওয়াতানে আসলী দ্বারা বাতিল হয় এবং ওয়াতানে ইকামাত ওয়াতানে ইকামাত এবং সফর ও ওয়াতানে আসলী দ্বারা বাতিল হইয়া যায়। ওয়াতানে আসলী ঐ জায়গা যেখানে জন্মগ্রহণ করিয়াছে, অথবা বিবাহ করিয়াছে অথবা বিবাহ করে নাই, কিন্ত তাতে এমনভাবে বসবাস করার সংকল্প করিয়াছে যে, সেখান হইতে স্থানান্তরিত হইবে না। ওয়াতানে ইকামত ঐ স্থানকে বলে যাতে অর্ধমাস বা তারও অধিক সময় অবস্থান করার নিয়ত করা হইয়াছে। মুহাক্কিকগণ ওয়াতানে সুকনা-কে গ্রহণযোগ্য মনে করেননি। ওয়াতানে সুকনা ঐ স্থানকে বলা হয়, যেখানে অর্ধমাসের কম সময় অবস্থান করার নিয়ত করা হইয়াছে।

পাদটীকা
 
১২৫. সফর শব্দের আভিধানিক অর্থ দুরত্ব অতিক্রম করা। শরীআতের পরিভাষায় একটি নির্দিষ্ট পরিমান দুরত্ব অতিক্রম করাকে সফর বলে।
১২৬. যেমন চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামায চার রাকাতের পরিবর্তে দু রাকাত পড়া, উক্ত সময়ে রমযানের রোযা না রাখা জায়িয হওয়া এবং মোজার উপর মাসাহর মেয়াদ তিনদিন পর্যন্ত প্রলম্বিত হওয়া।
১২৭. এরূপ স্ত্রীলোক এবং দাস ও সিপাহী সফরের নিয়ত করলেও তারা কসর করিবে না, যদি তাদের স্বামী, মনিব অথবা হুকুমকর্তা সফরের নিয়ত না করে থাকে। যদি তারা সফরের নিয়ত করে তবে তারা মুসাফির হইবে নচেৎ হইবে না।
১২৮. সুতরাং মূল ব্যক্তি যদি কিয়ামের নিয়ত করে এবং অধীনস্থ ব্যক্তি তা জানতে পারে সে কসরই করতে থাকবে। মোদ্দাকথা, মূল ব্যক্তির ইচ্ছার খোঁজ খবর রাখা অধীনস্থ ব্যক্তির কর্তব্য। এতদসত্ত্বেও সে যদি তার কর্তার ইচ্ছার সন্ধান না পায় এবং অজ্ঞতার দরুন তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কসর করতে থাকে তা হলে তার নামায সঠিক হইবে।
১২৯. অর্থাৎ, এটাই শরীআতের মূল বিধান। বিশেষ প্রয়োজনে সুবিধা বা ছাড় প্রদানের জন্য চার রাকআত বিশিষ্ট নামাযকে দু রাকআত করা হইয়াছে এমন নয়। তাই মুসাফিরের জন্য দুই রাকআত পরবর্তী বৈঠকটি আখেরী বৈঠক হিসেবে ফরয। এটি বাদ গেলে নামায বিশুদ্ধ হইবে না।
১৩০. এরূপ স্থানে পনের দিন বা তার অধিককাল পর্যন্ত অবস্থান করার নিয়ত দ্বারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মুকীম বলে গণ্য হইবে না। ফলে এরূপ নিয়ত করা সত্ত্বেও উক্ত ব্যক্তিকে কসর করতে হইবে। অনুরূপ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে নিয়োজিত ব্যক্তি যারা সর্বদা দুর দুরান্তে ভ্রমণ করে এবং হেডকোয়ার্টারেও পনর দিন অবস্থান করার সুযোগ পায় না তারা সব সময় কসর করিবে।
১৩১. সুতরাং এ অবস্থায় তারা কসর করিবে।
১৩২. যদি শেষ বৈঠকেও শরীক হয় তবু মুসাফির ব্যক্তির উপর চার রাকআত পূর্ণ করা আবশ্যক হইবে।

নূরুল ঈযাহ – বিতরের নামায

বিতরের নামায ওয়াজিব এবং একই সালামের সাথে বিতর তিন রাকাআত। বিতরের প্রত্যেক রাকাআতে ফাতিহা ও সূরা পাঠ করিবে। বিতরের প্রথম দু রাকাআত শেষে বসবে এবং উক্ত বৈঠকটি আত্তাহিয়্যাতুর উপর সীমাবদ্ধ রাখবে। তৃতীয় রাকআতের জন্য দাড়ানোর সময় সুবহানাকাল্লাহুম্মা পাঠ করিবে না। এই (তৃতীয়) রাকআতের সূরা হইতে ফারিগ হইয়া হস্তদ্বয় কান বরাবর পর্যন্ত উত্তোলন করিবে। অতঃপর তাকবীর বলিবে এবং দন্ডায়মান অবস্থায় রুকুর পূর্বে দুআ কুনূত পড়বে-সারা বৎসর। বিতর ভিন্ন অন্য কোনো নামাযে দুআ কুনূত পড়বে না। কুনূতের অর্থ হলো দুআ, একটি কুনূত এরকম:

অর্থ: “হে আল্লাহ! আমরা আপনার নিকট সাহায্য, হিদায়াত ও ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমরা আপনার নিকট তওবা করছি, আপনার উপর ঈমান আনছি এবং আপনার উপর ভরসা করছি ও প্রতিটি কল্যাণের জন্য আপনার স্তুতিগান করছি। আমরা আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি ও তাকে বর্জন করছি। হে আল্লাহ! আমরা তো আপনারই ইবাদত করি এবং আপনাকেই সাজদা করি এবং আপনার কাছেই দৌড়ে আসি ও আপনার দিকেই ধাবিত হই। (মাবূদ!) আমরা আপনার রহমতের আশাবাদী ও আপনার শাস্তিকে ভয় করি। বস্তুত আপনার শাস্তি তো কাফেরদেরই সাথে প্রযুক্ত হইবে”।

দুআ কুনূতের পর রাসূল ( সা ) ও তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি দরূদ ও সালাম পেশ করিবে। মুক্তাদি১১১ ইমামের মত দুআ কুনূত পাঠ করিবে, এবং উপরোক্ত দুআ কুনূতের পর ইমাম যদি অন্য কোনো দুআ আরম্ভ করেন, তবে ইমাম আবু ইউসূফ (রহ) বলেন, মুক্তাদিগণ তার অনুসরণ করিবে না, তারা শুধু আমীন বলিবে। সেই দুআটি এই (তরজমা):

হে আল্লাহ! তুমি যাদের হিদায়াত করেছ তোমার অনুগ্রহ দ্বারা তাদের দলভুক্ত করে আমাদের হিদায়াত কর এবং যাদেরকে ক্ষমা করেছ তাদের দলভুক্ত করে আমাদের ক্ষমা কর এবং যাদেরকে তুমি বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছ তাদের দলে শামিল করে আমাদের বন্ধুরূপে গ্রহণ কর। তুমি যা দিয়েছ তাতে আমাদের জন্য বরকত দান করো আর তুমি যা ফয়সালা করেছ তার অনিষ্ট হইতে আমাদের রক্ষা কর। তুমি-ই তো ফয়সালা করো, তোমার উপর কারো ফয়সালা চলে না। সেতো লাঞ্চিত হয় না যাকে তুমি বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছ। পক্ষান্তরে সে কখনো সম্মান পায় না যার সাথে তুমি শত্রুতা পোষন কর। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি বরকতময় ও তুমি অতি সমুন্নত।

অতঃপর রাসূল (সা) এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের উপর দরূদ ও সালাম (আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা..) পেশ করিবে। যে ব্যক্তি দুআ কুনূত পড়তে পারে না সে তিনবার “আল্লাহুম্মাগফিরলী” পড়বে, অথবা “রাব্বানা আতিনা…..আন-নার” অথবা “ইয়া রাব্বি” তিনবার পাঠ করিবে। প্রসিদ্ধতম উক্তিমতে যখন এমন ইমামের ইক্তিদা করা হইবে, যে ইমাম ফজরের১১২ নামাযে কুনূত করে. তখন তার কুনূতের সময় নিশ্চুপ অবস্থায় তার সাথে দাঁড়িয়ে থেকে হাত দুটি দুপাশে সোজা ছেড়ে দেবে। যখন বিতরে কুনূতের কথা ভুলে যায় এবং রুকূ অথবা রুকূ হইতে মাথা উত্তোলন করার পর তা স্মরণ হয় তখন কুনূত পড়বে না। আর যদি রুকূ হইতে মাথা উঠানোর পর কুনূত পড়ে তবে পুনরায় রুকূ করিবে না। কিন্তু কুনূত তার নিজ স্থান হইতে সরে যাওয়ার কারণে সাজদা সাহু করতে হইবে। যদি মুক্তাদি কুনূত পড়া হইতে ফারিগ হওয়ার পূর্বে অথবা তা আরম্ভ করার পূর্বেই ইমাম রুকূ করে এবং মুক্তাদি রুকূ ছুটে যাওয়ার আশংকা করে. তবে সে ইমামের অনুসরণ করিবে। পক্ষান্তরে যদি ইমাম (নিজেই) রুকূ ত্যাগ করে, তবে মুক্তাদি তা আদায় করিবে যদি ইমামের সাথে রুকূতে শরীক হওয়া সম্ভব হয়। নচেৎ সে ইমামের অনুসরণ করিবে। যদি মুক্তাদি ইমামকে বিতরের তৃতীয় (রাকআতে) রুকূতে পায় তবে সে কুনূত পেয়েছে বলে সাব্যস্ত হইবে। ফলে যে সমস্ত রাকাআত পূর্বে অতিবাহিত হইয়াছে (অর্থাৎ অবশিষ্ট রাকাআতসমূহ) সেগুলোতে সে কুনূত পড়বে না (বরং কুনূত না পড়েই নামায সমাপ্ত করে দেবে)। কেবল রমযান মাসেই বিতরের নামায জামাআতের সাথে আদায় করিবে। কাযীখানের মতে রমজান মাসে মুসল্লীদের জন্য বিতরের নামায শেষরাতে একা একা পড়া হইতে জামাতের সাথে পড়া উত্তম এবং কাযীখান এমতটিকে বিশুদ্ধ বলিয়াছেন। অন্যান্যরা এর বিপরীত করাকে সঠিক বলিয়াছেন -(অর্থাৎ তাদের মতে জামাআত পড়ার চেয়ে শেষ রাতে একা একা পড়া উত্তম)।

পাদটীকা:

১১১) শুধু ইমামের পড়া যথেষ্ট নয়। অবশ্য তা মনে মনে পড়তে হইবে। কিন্তু মুক্তাদিদের দুআ কুনূত জানা না থাকলে শব্দ করে পড়া উত্তম, যাতে তারা শিখতে পারে। (মারাকিউল ফালাহ্)

১১২) শাফেঈ মাযহাবের লোকেরা ফজরের নামাযে দুআ কুনূত পড়ে থাকে।

নূরুল ঈযাহ – ইমামতের উপযুক্ততা ও কাতার বিন্যাস প্রসঙ্গ

যদি উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে ঘরের মালিক ও বেতনভুক্ত লোক এবং (ইসলামি খিলাফতের) কোনো ক্ষমতাসীন লোক উপস্থিত না থাকে তবে (উপস্থিতগণের মধ্যে) সবচেয়ে বড় আলিম ব্যক্তি (ইমামতের জন্য অধিকতর যোগ্য বলে গণ্য হইবেন)। অতঃপর ঐ ব্যক্তি যিনি সবচেয়ে ভালো ক্বারী। অতঃপর ঐ ব্যক্তি যিনি সবচেয়ে তাকওয়াবান। অতঃপর ঐ ব্যক্তি যিনি সবচেয়ে প্রবীন। অতঃপর ঐ ব্যক্তি যিনি চরিত্রগত দিক দিয়ে সর্বোত্তম। অতঃপর ঐ ব্যক্তি যার চেহারা সুন্দর। অতঃপর ঐ ব্যক্তি যার বংশ সর্বাধিক অভিজাতপূর্ন। অতঃপর ঐ ব্যক্তি যার কণ্ঠ সুললিত। অতঃপর ঐ ব্যক্তি যার পোষাক সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন। যদি তারা সকলে উক্ত গুনাবলীতে সমপর্যায়ের হন, তবে লটারি করিবে অথবা কওম তাদের পছন্দমতো কাউকে ইমাম নিয়োগ করিবে। কিন্তু তারা যদি মতবিরোধে জড়িয়ে পড়েন (৮৮) তবে যাকে তাদের অধিকাংশ লোক পছন্দ করেন তিনিই গ্রহণযোগ্য হইবেন। যদি কওম এমন ব্যক্তিকে অগ্রগামী করেন যিনি সর্বোত্তম নন তবে তা সমীচিন হইবে না। ক্রীতদাস, অন্ধ, জারজ সন্তান, মুর্খ-গ্রাম্য ব্যক্তি ও প্রকাশ্য পাপাচারী ও বিদআতকারী কোনো ব্যক্তির ইমামতি করা মাকরূহ। জামাত দীর্ঘ করা, নগ্নদের জামাত করা ও পৃথকভাবে নারীদের জামাত করাও মাকরূহ। কিন্তু স্ত্রীলোক যদি জামাত করেন, তবে তাদের ইমাম কাতারের মধ্যখানে দাড়াবেন (নগ্নদের মতো)। মুক্তাদী একজন হলে ইমামের ডান দিকে দাড়াবেন এবং একের অধিক হলে তারা পেছনে দাড়াবেন। প্রথমে পুরুষগণ সারিবদ্ধ হইবেন, অতঃপর শিশুরা, অতঃপর নপুংসক, অতঃপর নারীগণ।

পাদটীকা: 

৮৮. তিন কারণে মুসল্লিদের মাঝে ইমাম সম্পর্কে মতপার্থক্য দেখা দিতে পারে। ১) ইমামের কোনো দোষ আছে, ফলে মুসল্লিগণ তাকে পছন্দ করেন না। যেমন, ইমামের ফাসেক কিংবা বিদআতী হওয়া।

নূরুল ঈযাহ – জুমুআর নামায

(নূরুল ঈযাহ, শাইখ আবুল বারাকাত হাছান ইবনে আম্মার বিন আবুল ইখলাস মিসরী কর্তৃক রচিত হানাফী ফিকহের প্রসিদ্ধ কিতাব)

যে ব্যাক্তির মধ্যে (নিম্নোক্ত) সাতটি শর্ত একত্রে পাওয়া যায় তার উপর জুমুআর নামায পড়া ফরযে আইন১৫৮। শর্তগুলো হলো:

১) পূরুষ হওয়া

২) স্বাধীন হওয়া

৩) শহরে অথবা সঠিকতম মতে এমন কোনো স্থানে অবস্থান করা যা শহরের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত,

৪) সুস্থ থাকা,

৫) অত্যাচারীর কবল হইতে নিরাপদ থাকা

৬) চোখ সুস্থ থাকা

৭) এবং পা সুস্থ হওয়া।

জুমুআর নামায সঠিক হওয়ার জন্য ছয়টি শর্ত

১) শহর বা শহরতলী১৫৯ হওয়া,

২) সুলতান অথবা তার প্রতিনিধি থাকা,

৩) যুহরের সময় হওয়া। সুতরাং তা যুহরের পূর্বে সঠিক হইবে না এবং (জুমুআর নামায আদায় করতে) যুহরের সময় অতিবাহিত হইয়া গেলে জুমুআ বাতিল হইয়া যাবে।

৪) জুমুআর নামাযের পূর্বে জুমুআর উদ্দেশ্যে জুমুআর সময়ে খুতবা পাঠ করা এবং যাদেরসহ জুমুআ অনুষ্ঠিত হইবে তাদের কেউ খুতবা শোনার জন্য উপিস্থিত থাকা, যদি সে একজনও হয়

৫) সর্ব সাধারণের গমনাধিকার থাকা

৬) এবং জামাত। আর তারা হলো (জামাতের সদস্য) ইমাম ব্যতিত তিনজন পুরুষ। তারা কৃতদাস অথবা মুসাফির কিংবা রুগ্ন হলেও চলবে। তবে সাজদা করা পর্যন্ত ইমামের সাথে তাদের অবস্থান করা আবশ্যক। সুতরাং তারা যদি ইমামের সাথে সাজদা করার পর বেরিয়ে যায়, তবে ইমাম একাকীভাবে জুমুআর নামায হিসাবে তা পূর্ণ করিবে। পক্ষান্তরে তারা যদি সাজদার পূর্বে চলে যায়, তবে জুমুআ বাতিল হইয়া যাবে। জুমুআর নামায একজন মহিলা অথবা শিশুর সাথে দুইজন পুরুষসহ সঠিক হয় না। কৃতদাস ও রুগ্ন ব্যক্তির জুমুআতে ইমামতি করা জায়িয। শহর এমন স্থানের নাম, যার জন্য মুফতি, আমীর ও এমন কোন কাযী১৬০ নিয়োজিত আছেন যিনি বিধান বাস্তবায়ন করেন ও দন্ড প্রতিষ্ঠা করেন এবং যাহির বর্ণনা মতে উক্ত এলাকার ঘরবাড়িগুলো মিনার ঘরবাড়ির সমসংখ্যক হইতে হইবে। আর কাযী বা আমীর যদি নিজেই মুফতি হন, তবে এ সংখ্যক অপ্রয়োজনীয় করে দেবে। হজ্জ মৌসুমে সে দেশের শাসনকর্তা অথবা হিজাজের শাসনকর্তার জন্য মিনাতে জুমুআর নামায পড়া জায়িয। খুতবাকে একবার সুবহানাল্লাহ অথবা একবার আলহামদুলিল্লাহ বলার উপর সংক্ষিপ্ত করা যায়। তবে তা করা মাকরূহ।

খুতবার সুন্নত আঠারটি:

১) পবিত্রতা

২) সতর ঢাকা

৩) খুতবা আরম্ভ করার পূর্বে মিম্বরের উপর বসা।

৪) ইমামের সম্মুখে ইকামতের মত আযান দেওয়া

৫) অতঃপর যে শহর শক্তি বলে বিজিত হইয়াছে সে শহরে, ইমামের বাম হাতে তরবারী নিয়ে তার উপর ঠেস দিয়ে দাড়ানো

৬) ঐ সকল শহরে তরবারী ব্যতিত (দাড়ানো) যেগুলো সন্ধির মাধ্যমে বিজিত হইয়াছে

৭) উপস্থিত মুসল্লিগণকে সম্মুখে রাখা

৮) আল্লাহর এমন প্রশংসা ও গুনগান দ্বারা খুতবা আরম্ভ করা, যা তার জন্য যথাযোগ্য

৯) শাহাদাতের কালিমাদ্বয় (খুতবাভুক্ত করা)

১০) রাসূল (সা) এর উপর দরূদ১৬১ শরীফ পড়া

১১) উপদেশ প্রদান ও পরকালের স্মরণ জাগ্রত করা

১২) কুরআনের কোন আয়াত পাঠ করা,

১৩) দুই খুতবা পাঠ করা

১৪) দুই খুতবার মাঝখানে বসা

১৫) দ্বিতীয় খুতবার শুরুতে পুনরায় আল্লাহর প্রশংসা, গুনগান ও রাসূল (সা)-এর উপর দরূদ পাঠ করা

১৬) দ্বিতীয় খুতবায় মুসলিম নর-নারীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা সাথে দুআ করা

১৭) কওম (মুসল্লিগণের) খুতবা শ্রবণ করা১৬২

১৮) উভয় খুতবাকে তিওয়ালে মুফাস্সাল এর কোন সূরার সমপরিমান সংক্ষিপ্ত করা। – খুতবা দীর্ঘ করা এবং খুতবার কোন সুন্নত ত্যাগ করা মাকরূহ। বিশুদ্ধতম মতে প্রথম আযানের সাথে সাথে জুমুআর উদ্দেশ্যে দ্রুত গমণ করা ও ক্রয়-বিক্রয় পরিত্যাগ করা ওয়াজিব। যখন ইমাম মিম্বরে আরোহন করে তখন না কোন নামায বৈধ আছে, না কথাবার্তা। নামায শেষ না হওয়া পর্যন্ত সালামের উত্তর দেবে না এবং হাঁচির উত্তর দেবে না। খুতবার সময় উপস্থিত ব্যক্তির জন্য খাওয়া, পান করা, অনর্থক কাজ করা ও এদিক সেদিক তাকানো মাকরূহ১৬৩। মিম্বরে স্থির হওয়ার সময় খতীব মুসল্লিহণকে সালাম করিবে না।

আযানের পর নামায না পড়া পর্যন্ত শহর হইতে বের হওয়া মাকরূহ। যে ব্যক্তির উপর জুমুআ ওয়াজিব নয় সে যদি তা আদায় করে, তবে উক্ত নামায তার সে সময়ের ফরয (যুহর)-এর জন্য যথেষ্ঠ হইয়া যাবে। যে ব্যক্তির কোন ওযর নেই সে যদি জুমুআর পূর্বে যুহরের নামায পড়ে, তবে তা একটি হারাম১৬৪ কাজ বলে গণ্য হইবে। অতঃপর সে যদি ইমাম জুমুআর নামাযে রত থাকা অবস্থায় জুমুআর পূর্বে যুহরের নামায পড়ে, তবে তা হারাম হইবে। অতঃপর সে যদি জুমুআর দিকে ঐ সময় গমন করে, তবে সে জুমুআর নামায না পেলেও তার যোহর বাতিল হইয়া যাবে। মাযূর ও বন্দীদের জুমুআর তিন যুহরের নামায জামাতের সাথে পড়া মাকরূহ। যে ব্যক্তি আত্তাহিয়্যাতু অথবা সাজদা সাহুর মধ্যে জুমুআর নাগাল পেল সে তা জুমুআ রূপেই পূর্ণ করিবে। আল্লাহই সর্বোত্তম জ্ঞানী।

পাদটীকা: 

১৫৮. যে কাজ সম্পাদন করা প্রত্যেক বয়প্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য বাধ্যতামূলক এবং কাজটি কতিপয় লোকের সম্পন্ন করা দ্বারা সকলের পক্ষ হইতে আদায় হইয়া যায় না, ফিকহের পরিভাষায় এরূপ কাজকে ফরয আইন বলে।

১৫৯. ফানা বা শহরতলী বলতে এমন স্থান বোঝানো হইয়াছে যা শহরের নানাবিধ প্রয়োজন পূরণের জন্য প্রস্তুত করা হইয়া থাকে। যেমন, মৃতদের দাফন ও ফৌজি ট্রেনিং।

১৬০. যদি কোন স্থানে হাকিম অথবা ইসলামের কাযী উপস্থিত থাকে কিন্ত উদাসীনতার কারণে তারা ইসলামী আইন প্রয়োগ করে না সে ক্ষেত্রে আলিমগণের অভিমত হলো উক্ত স্থানে জুমুআর নামায জায়িয হইবে। তাই বলা যায় যে, এখানে বিশেষভাবে কাযী বা হাকিম উদ্দেশ্য নয়; বরং তৎশ্রেণীর কেউ থাকলেও চলবে যারা মোকাদ্দমার ক্ষেত্রে ফয়সালা দিতে পারেন।

১৬১. উক্ত খুতবায় খুলাফায়ে রাশিদুন, হযরত ইবনে আব্বাস (রা) ও হযরত হামযা (রা) এর জন্য দুআ করাও সুন্নত।

১৬২. কিন্তু মুসল্লীগণ যদি খুতবা নাও শুনতে পায় তবু খুতবা আদায় হইয়া যায়। (মারাকিউল ফালাহ)

১৬৩. অনুরূপ যেকোন বিষয় যা নামাযের ব্যঘাত সৃষ্টি করতে পারে।

নূরুল ঈযাহ – ফিতরের সদকা প্রসঙ্গে

সাদাকায়ে ফিতর ইদল ফিতরের দিন ফজরের উদয়ের সময় এমন স্বাধীন মুসলিম ব্যক্তির উপর ওয়াজিব হয়, যে বর্ষপূর্ণ না হলেও এমন নেসাব পরিমান মাল অথবা নিসাব পরিমান মালের মূল্যের মালিক হয় যা ব্যবসায়ের জন্য নয়, এবং তা তার নিজের ও তার পরিবারবর্গের মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত হয়। মৌলিক প্রয়োজন হলো যতটুকু হলে চলে ততটুকু, (অনুমানের উপর) ধরে নেওয়া না। কাজেই তার গৃহ, গৃহসামগ্রী, বস্ত্র, ঘোড়া, অস্ত্র ও খিদমতের গোলাম প্রয়োজনীয় বস্তু-এর তালিকাভুক্ত হইবে। অতএব উক্ত ব্যক্তি নিজের পক্ষ হইতে এবং নিজের দরিদ্র শিশু সন্তানের পক্ষ হইতে সাদাকায়ে ফিতর আদায় করিবে । আর যদি শিশুরা ধনী হয় তবে তাদের মাল হইতে সাদাকায়ে ফিতর আদায় করিবে এবং যাহির বর্ণনা অনুযায়ী দাদার উপর প্রপুত্রদের পক্ষ হইতে সাদাকা দেয়া ওয়াজিব নয়। পছন্দনীয় উক্তি মতে বাবা না থাকা অবস্থায় অথবা বাবা ফকীর হওয়া অবস্থায় দাদার হুকুম বাবার মতো। নিজের খেদমতের জন্য রাখা গোলাম, মুদাব্বির গোলাম ও উম্মুল ওয়ালাদের পক্ষ হইতে সাদাকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব, যদিও তারা কাফির হয়। কিন্তু নিজের মাকতুব গোলাম, নিজের বালিগ সন্তান, নিজের স্ত্রী, শরীকী গোলাম এবং পলাতক গোলামের পক্ষ থেকে সাদাকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব না, তবে পলাতক গোলাম ফিরে আসার পর (আদায় করিবে)। অনুরূপ ছিনতাইকৃত গোলাম এবং বন্দী গোলামের হুকুম। (তারা ফিরে না আসা পর্যন্ত তাদের পক্ষ হইতে সাদাকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব হইবে না)। সাদাকায়ে ফিতরের পরিমান হলো গম অথবা আটা অথবা ছাতু অর্ধ সা (এক সের বার ছটাক)। অথবা খেজুর, কিসমিস ও যব এক সা (তিন সের নয় ছটাক)। ইরাকী আট রিতলে এক সা হয়। (উল্লিখিত বস্তুসমূহের পরিবর্তে তার) মূল্য প্রদান করা জায়িজ। আর মূল্য পরিশোধ করা উত্তম তার প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি পাওয়া যাওয়ার সময়। কেননা, ফকীরের প্রয়োজন পূরণে এ মূল্যটি অতিশয় কার্যকরী। যদি সময়টি দুর্ভিক্ষের কাল হয় তবে দিরহামের পরিবর্তে গম, যব ও আহার্য বস্তু দান করাই উত্তম। সদাকায়ে ফিতর ওয়াজিব হওয়ার সময় হলো ঈদের দিন প্রভাতের উদয়লগ্ন। সুতরাং প্রভাতের উদয়ের পূর্বে যে মারা যায় অথবা ফকীর হইয়া যায়, কিংবা প্রভাতের উদয়ের পরে ইসলামের দীক্ষিত হয়, অথবা ধনবান হয়, অথবা ভূমিষ্ট হয় তার উপর সাদাকায়ে ফিতর আবশ্যক হইবে না। । ঈদগাহে গমনের পূর্বে সাদাকায়ে ফিতর দান করা মুস্তাহাব এবং তার পূর্বে ও পরে দান করাও জায়িজ, কিন্ত বিলম্ব করা মাকরূহ। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ নিজ সাদাকায়ে ফিতর একজন ফকীরকে দান করিবে। একজন ফকীরের অধিকের মধ্যে একটি ফিতরাকে বন্টন করা জায়িজ হওয়া সম্পর্কে মতভেদ আছে। বিশুদ্ধ মতে এক জামাতের উপর আবশ্যক এমন সাদাকায়ে ফিতর একই ব্যক্তিকে দিয়ে দেয়া জায়িজ।

আল্লাহই সঠিক পথের সৌভাগ্যদাতা

By রিয়াদুস সালেহিন

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply