যাকাতের নিয়ম কানুন । Abu Dawud Bangla Pdf

যাকাতের নিয়ম কানুন । Abu Dawud Bangla Pdf

যাকাতের নিয়ম কানুন । Abu Dawud Bangla Pdf , এই অধ্যায়ে মোট হাদীস ১৪৫ টি (১৫৫৬ – ১৭০০) >>আবুদ দাউদ শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

অধ্যায়ঃ ৯, অনুচ্ছেদঃ ১-১৭=১৭টি

অনুচ্ছেদ-১ঃ যাকাত দেয়া ওয়াজিব
অনুচ্ছেদ-২ঃ যে পরিমাণ সম্পদে যাকাত ওয়াজিব
অনুচ্ছেদ-৩ঃ বাণিজ্যিক পণ্যের যাকাত দিতে হইবে কি?
অনুচ্ছেদ-৪ঃ গচ্ছিত মাল কি এবং অলংকারের যাকাত প্রসঙ্গে
অনুচ্ছেদ-৫ঃ মাঠে স্বাধীনভাবে বিচরণশীল পশুর যাকাত
অনুচ্ছেদ-৬ঃ যাকাত আদায়কারীর সন্তুষ্টি অর্জন সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-৭ঃ যাকাত প্রদানকারীর জন্য যাকাত আদায়কারীর দুয়া করা
অনুচ্ছেদ-৮ঃ উটের বয়স সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-৯ ঃ যে স্থানে সম্পদ সমূহের যাকাত গ্রহণ করিবে
অনুচ্ছেদ-১০ঃ যাকাত দিয়ে ঐ মাল পুনরায় ক্রয় করা
অনুচ্ছেদ-১১ঃ দাস-দাসীর যাকাত সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-১২ঃ ফসলের যাকাত সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-১৩ঃ মধুর যাকাত
অনুচ্ছেদ-১৪ঃ অনুমানে আঙ্গুরের পরিমাণ নির্ধারণ করা
অনুচ্ছেদ-১৫ঃ গাছের ফলের পরিমাণ অনুমানে নির্ধারণ করা
অনুচ্ছেদ-১৬: খেজুরের পরিমাণ কখন অনুমান করিবে?
অনুচ্ছেদ-১৭ঃ কোন ধরনের ফল যাকাত হিসেবে গ্রহন জায়েয নয়

অনুচ্ছেদ-১ঃ যাকাত দেয়া ওয়াজিব

১৫৫৬. আবু হুরাইরাহ [রাঃ] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর ইন্তিকালের পর আবু বকর [রাদি.] খলীফা হিসেবে নিযুক্ত হন। তখন আবনের কিছু গোত্র কুফরী করলো। উমার [রাদি.] আবু বকর [রাদি.] কে বলিলেন, আপনি এ লোকদের বিরুদ্ধে কিভাবে যুদ্ধ করবেন? অথচ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ “আমি লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিতে আদিষ্ট হয়েছি, যতক্ষণ না তারা বলে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। যে ব্যক্তি

اَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু

বলবে, তার জান-মাল আমার থেকে নিরাপদ। তবে আইনের বিষয়টি ভিন্ন এবং তার প্রকৃত বিচার মহান আল্লাহর উপর ন্যস্ত।” তখন আবু বকর [রাদি.] বলিলেন, আল্লাহ শপথ! যে ব্যক্তি সলাত ও যাকাত র মধ্যে পার্থক্য করিবে আমি অবশ্যই তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। অর্থ সম্পদের প্রদেয় অংশ হলো যাকাত। আল্লাহর শপথ! যদি তারা আমাকে একটি রশি দিতেও অস্বীকৃতি জানায় যা তারা রসূল [সাঃআঃ]-কে দিতো, তবে আমি তাহাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। উমার [রাদি.] বলিলেন, আল্লাহর শপথ ! আমি বুঝতে পারলাম যে মহান আল্লাহ আবু বকরের হৃদয়কে যুদ্ধের জন্য উম্মুখ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি বুঝতে পারলাম যে, এটাই হাক্ব ও সঠিক।

সহীহঃ সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিম। কিন্তু তার উক্তি শায। মাহফূয হচ্ছে [আরবি]। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, রাবাহ ইবনি যায়িদ মামার হইতে, তিনি যুহরী হইতে উল্লেখিত সানাদে এ হাদিস বর্ণনা করেছেন। কেউ কেউ বলিয়াছেন উটের রশি। বর্ণনাকারী ইবনি ওয়াহাব ইউনুস সূত্রে বলিয়াছেন, ছাগল ছানা। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, শুআইব ইবনি আবু হামযাহ এবং মামার ও যুবাইদী যুহরী হইতে এ হাদিস বলিয়াছেন, যদি তারা একটি বকরীর বাচ্চা দিতেও অস্বীকার করে। আর আনবাসাহ ইউনুস হইতে যুহরী সূত্রে এ হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ বকরীর বাচ্চা।সহীহঃ বুখারী,এবং তিনি বলিয়াছেন,এটি [আরবী] এর বর্ণনার চাইতে অধিক বিশুদ্ধ। যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

১৫৫৭. যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবু বাকর [রাদি.] বলিয়াছেন, মালের হাক্ব হচ্ছে যাকাত এবং তিনি রশির কথা উল্লেখ করেছেন।

সহীহঃ কিন্তু হাদিসটি এ শব্দে শায। যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২ঃ যে পরিমাণ সম্পদে যাকাত ওয়াজিব

১৫৫৮. আমর ইবনি ইয়াহইয়া আল-মাযিনী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতার হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাদি.]-কে বলিতে শুনিয়াছি, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেন, পাঁচটি উটের কমে যাকাত নেই, পাঁচ উকিয়ার কমে যাকাত নেই এবং পাঁচ ওয়াসাকের কমে যাকাত নেই।

সহীহঃ সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিম। যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৫৯. আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেন, পাঁচ ওয়াসাকের কমে যাকাত নেই। এক ওয়াসাক হচ্ছে ষাট সা।

দুর্বল।ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আবুল বাখতারী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আবু সাঈদ [রাদি.] হইতে হাদিস শুনেননি। {১৫৫৯} নাসায়ী [অধ্যায়ঃ যাকাত, যে পরিমান সম্পদ সদাক্বাহ ওয়াজিব, হাঃ ২৪৮৫], ইবনি মাজাহ [অধ্যায়ঃ যাকাত, অনুঃ ষাট সাতে এ ওয়াসাক, হাঃ ১৮৩২] ইবনি খুযাইমাহ [হাঃ ২৩১০] যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১৫৬০. ইবরাহীম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিন বলেন, এক ওয়াসাক হচ্ছে ষাট সা। এটি আল-হাজ্জাজ কর্তৃক নির্ধারিত।

যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ মাকতু

১৫৬১. সুরাদ ইবনি আবু মানাযিল [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আমি হাবীব আল-মালিকী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-কে বলিতে শুনিয়াছি, এক ব্যক্তি ইমরান ইবনি হুসাইন [রাদি.]-কে বললো, হে আবু নুজাইদ! আপনারা আমাদের কাছে এমন হাদিসও বর্ণনা করেন, যার কোনো বুনিয়াদ কুরআনে পাই না। এ কথা শুনে ইমরান [রাদি.] অসন্তুষ্ট হয়ে লোকটিকে বলিলেন, তোমরা কি কুরআনের মধ্যে কোথাও পেয়েছো যে, প্রত্যেক চল্লিশ দিরহামে [যাকাত] দিতে হইবে? সে বললো, না। তিনি বলিলেন, তাহলে এটা তোমরা কোথায় পেয়েছ? মূলতঃ তোমরা এটা সাহাবীদের কাছ থেকে জেনেছো এবং আমরা পেয়েছি আল্লাহর নাবী [সাঃআঃ] থেকে। তিনি অনুরূপ আরো কিছু বিষয়ের কথাও উল্লেখ করেন।{১৫৬১}

{১৫৬১}এর সনদ দুর্বল। সনদের সুরাদ ইবনি আবুল মানাযিল সম্পর্কে হাফিয বলেনঃ মাক্ববূল। অনুরূপ হাবীবুল মালিকীর অবস্থাও। এছাড়া আরেকটি দোষ রয়েছে। তা হচ্ছে হাবীব ও ইমরানের মধ্যবদী লোকটি অজ্ঞাত। যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩ঃ বাণিজ্যিক পণ্যের যাকাত দিতে হইবে কি?

১৫৬২. সামুরাহ ইবনি জুনদুব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে বাণিজ্যিক পণ্যের যাকাত দিতে নির্দেশ করেছেন।

{১৫৬২} আবু দাউদ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। এর সানাদে জাফার ইবনি সাদ সামুরাহ সম্পর্কে হাফিয বলেনঃ তিনি শক্তিশালী নন। আর হাবীব ইবনি সুলায়মান অজ্ঞাত। যেমন আত-তাক্বরীব গ্রন্থে রয়েছে। যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-৪ঃ গচ্ছিত মাল কি এবং অলংকারের যাকাত প্রসঙ্গে

১৫৬৩. আমর ইবনি শুআইব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার হইতে বর্ণীতঃ

একদা এক মহিলা তার কন্যাকে নিয়ে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কাছে আসলো। তার কন্যার হাতে দুটি মোট স্বর্ণের কঙ্কন ছিলো। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, তুমি কি এর যাকাত দাও? সে বললো, না। তিনি বলিলেনঃ তুমি কি এতে সন্তুষ্ট যে, মহান আল্লাহ এর বিনিময়ে ক্বিয়ামাতের দিন তোমাকে আগুনের দুটি কঙ্কন পরিয়ে দিবেন? বর্ণনাকারী বলেন, সে তৎক্ষণাত তা খুলে নাবী [সাঃআঃ] সামনে রেখে দিলে বললো, এ দুটি আল্লাহ ও তাহাঁর রসূলের জন্য।১৫৬৩

যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

১৫৬৪. উম্মু সালামাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি স্বর্ণের অলংকার পরতাম। আমি বলিলাম, হে আল্লাহর রসূল! এটা কি কান্‌য [সঞ্চিত সম্পদ] হিসেবে গণ্য হইবে? তিনি বলিলেনঃ যে সম্পদ নিসাব পরিমাণ হয় এবং তার যাকাত দেয়া হয়, তা কান্‌য নয়।

হাসানঃ এর কেবল মারফু অংশটুকু। যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

১৫৬৫. আবদুল্লাহ ইবনি শাদ্দাদ ইবনিল হাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা নাবী [সাঃআঃ] এর স্ত্রী আয়িশাহর [রাদি.] নিকট গেলে তিনি বলিলেন, একদা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমার কাছে এসে আমার হাতে রূপার বড় আংটি দেখিতে পেয়ে জিজ্ঞেস করিলনঃ হে আয়িশাহ! এটা কি? আমি বলিলাম, হে আল্লাহ রসূল! আপনার উদ্দেশে সাজসজ্জার জন্য আমি এটা বানিয়েছি। তিনি বলিলেন, তুমি কি এগুলোর যাকাত দাও? আমি বলিলাম, না, অথবা আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন। তিনি বলিলেন, তোমাকে [জাহান্নামের] আগুনে নিয়ে যেতে এটাই যথেষ্ট।

যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৬৬. উমার ইবনি ইয়ালা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

এ সূত্রেও আংটি সম্পর্কিত পূর্বানুরূপ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। সুফায়ানকে জিজ্ঞাসা করা হলো, এর যাকাত কিভাবে দিবে? তিনি বলেন, যাকাতের অন্যান্য মালের সাথে যোগ করে।{১৫৬৬}

{১৫৬৬}এর সনদ দুর্বল। আবু দাউদ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। সনদের আমর ইবনি আবদুল্লাহ ইবনি ইয়ালাকে হাফিয দুর্বল বলিয়াছেন। যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-৫ঃ মাঠে স্বাধীনভাবে বিচরণশীল পশুর যাকাত

১৫৬৭. হাম্মাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আমি সুমামাহ ইবনি আবদুল্লাহ ইবনি আনাস [রাদি.] হইতে একখান কিতাব গ্রহণ করি। সুমামাহর ধারণা, আবু বাকর [রাদি.] এটি আনাস [রাদি.]-কে যাকাত আদায়ের জন্য প্রেরণকালে লিখেছিলেন এবং তাতে রসূলুল্লাহর মোহরাঙ্কিত ছিলো। তাতে লিখা ছিলোঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ফারয যাকাতের বিষয়ে মুসলিমদের উপর যা নির্ধারিত হয়েছে এবং এ বিষয়ে মহান আল্লাহ তাহাঁর রসূলকে যা আদেশ করেছেন। কাজেই যে কোন মুসলিমের নিকট বিধি অনুসারে যাকাত চাওয়া হইবে সে যেন তা দিয়ে দেয়। কিন্তু কোরো কাছে অতিরিক্ত দাবি করা হলে সে যেন অতিরিক্ত না দেয়। পঁচিশটি উটের কম হলে প্রতি পাঁচটি উটের জন্য একটি বকরী দিতে হইবে। উটের সংখ্যা পঁচিশ থকে পঁয়ত্রিশ হলে তাতে একটি বিনতু মাখাদ [দুই বছরে[রহমাতুল্লাহি আলাইহি] উষ্ট্রী দিতে হইবে। তার কাছে এরূপ উট না থাকলে একটি ইবনি লাবূন [তিন বছরের] উট দিতে হইবে। উটের সংখ্যা ছত্রিশ থেকে পঁয়তাল্লিশের মধ্যে হলে তাতে একটি বিনতু লাবূন [তিন বয়সের উষ্ট্রী] দিতে হইবে। উটের সংখ্যা ছেচল্লিশ থেকে ষাট পর্যন্ত হলে তাতে একটি হিককাহ [চার বছরের] উষ্ট্রী দিতে হইবে। উটের সংখ্যা একষট্রি থেকে পঁচাত্তর হলে তাতে একটি জাযাআহ [পাঁচ বছরের] উষ্ট্রী দিতে হইবে। উটের সংখ্যা ছিয়াত্তর থেকে নব্বই হলে তাতে দুটি বিনতু লাবূন দিতে হইবে। উটের সংখ্যা একানব্বই থেকে এক শত বিশ-এর উর্ধে হলে প্রতি চল্লিশটির জন্য একটি করে বিনতু লাবূন এবং প্রতি পঞ্চাশটির জন্য একটি করে হিককাহ দিবে।

যদি যাকাতযোগ্য বয়সের উট না থাকে, যেমন, কারো জাযাআহ্ ওয়াজিব, কিন্তু তার কাছে সেটার পরিবর্তে হিককাহ আছে, তখন হিককাহ গ্রহণ করিতে হইবে এবং এর সাথে সহজলভ্য হলে দুটি বকরী কিংবা বিশ দিরহামও দিতে হইবে। একইভাবে কারো উপর হিককাহ দেয়া ওয়াজিব, কিন্তু তার কাছে সেটা নেই বরং জাযাআহ আছে। তখন তার থেকে জাযাআহ গ্রহণ করিতে হইবে এবং যাকাত উসুলকারী বিশ দিরহাম কিংবা দুটি বকরী যাকাত প্রদানকারীকে দিবে। এমনিভাবে কারো উপর হিককাহ ওয়াজিব, কিন্তু তার কাছে তা নেই, বরং জাযাআহ আছে। তার থেকে সেটাই নিতে হইবে।

ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, এখানে আমি আমার উস্তাদ মূসা ইবনি ইসমাঈল হইতে আশানূরূপ আয়ত্ব করিতে পারিনি। এখানেও যাকাতদাতা সহজলভ্য দুটি বকরী অথবা বিশ দিরহাম প্রদান করিবে। যার উপর বিনতু লাবূন ওয়াজিব কিন্তু সেটা তার কাছে নেই, বরং তার কাছে হিককাহ আছে। সেটাই তার কাছ থেকে নিতে হইবে।

ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, এ পর্যন্ত আমি সন্দিহান ছিলাম, পরবর্তীতে আমি পূর্ণ আস্থাশীল হই। অর্থাৎ তহশীলদার বিশ দিরহাম অথবা দুটি বকরী যাকাত প্রদানকারীকে ফেরত দিবে। যদি কারো উপর বিনতু লাবূন ওয়াজিব হয় এবং সেটা তার কাছে না থাকে, বরং বিনতু মাখাদ থাকে, তখন তার থেকে সেটাই গ্রহন করিবে এবং এর দুটি বকরী অথবা বিশ দিরহাম প্রদান করিবে। যদি কারো উপর বিনতু মাখাদ ওয়াজিত হয়, অথচ তা তার কাছে নেই, বরং তার নিকট আছে ইবনি লাবূন, তখন সেটাই গ্রহণ করিবে এবং সাথে কিছুই দিতে হইবে না। আর কারো কাছে চারটি উট থাকলে তাহাকে কিছুই দিতে হইবে না। অবশ্য উটের মালিক স্বেচ্ছায় কিছু দিলে তা ভিন্ন কথা।

স্বাধীনভাবে চরে বেড়ানো মেষ-বকরীর সংখ্যা চল্লিশ থেকে একশো বিশ পর্যন্ত পৌছলে একটি বকরী দিতে হইবে। একশত বিশ অতিক্রম করে দুইশো পর্যন্ত পৌঁছলে দুটি বকরী। বকরীর সংখ্যা দুইশো অতিক্রম করে তিনশো পর্যন্ত হলে তিনটি বরকী এবং তিনশো থেকে অধিক হলে প্রতি একশোটির জন্য একটি বকরী যাকাত দিতে হইবে। যাকাত হিসেবে অতিবৃদ্ধ অথবা অন্ধ বকরী-ছাগল নেয়া হইবে না। তবে আদায়কারী তা নিতে চাইলে ভিন্ন কথা। যাকাতের ভয়ে বিচ্ছিন্নকে যেন একত্র না করা হয় এবং একত্রকে বিচ্ছিন্ন না করা হয়। দুই শরীকের কাছ থেকে যে যাকাত আদায় করা হইবে সেটা তারা নিজ নিজ অংশ হিসাবে বহন করিবে। চরে বেড়ানো বকরীর সংখ্যা চল্লিশ না হলে কিছুই দিতে হইবে না। তবে মালিক স্বেচ্ছায় কিছু দিতে চাইলে ভিন্ন কথা। রূপার যাকাতের পরিমাণ হলো চল্লিশ ভাগের এক ভাগ। রৌপ্য মুদ্রা একশো নব্বই হলে কিছুই দিতে হইবে না। হাঁ, মালিক স্বেচ্ছায় কিছু দিলে তাতে আপত্তি নেই।

সহীহঃ বুখারী সংক্ষেপে। যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৬৮. সালিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতার হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যাকাত হিসেবে যে পত্র লিখেছেন তা কর্মকর্তাদের নিকট পৌঁছার পূর্বেই তিনি ইনতিকাল করেন। ফলে তা তাহাঁর তরবারির খাপের মধ্যেই থেকে যায়। অতঃপর আবু বকর [রাদি.] তাহাঁর মৃত্যু পর্যন্ত সে বিধান অনুযায়ী কাজ করেন। তাহাঁর পরে উমার [রাদি.] তাহাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তদানুযায়ী কাজ করেন। তাতে লিখা ছিলঃ প্রত্যেক পাঁচটি উটের জন্য একটি বকরী, দশটির জন্য দুটি বকরী, পনেরটির জন্য তিনটি বরকী এবং বিশটির জন্য চারটি বকরী প্রদান করিতে হইবে। পঁচিশটির জন্য দিতে হইবে একটি বিনতু মাখাদ এবং তা পঁয়ত্রিশ পর্যন্ত। এর থেকে একটিও বৃদ্ধি পেলে পঁয়তাল্লিশ পর্যন্ত একটি বিনতু লাবূন দিতে হইবে। এর থেকে একটিও বৃদ্ধি পেলে ষাট পর্যন্ত দিতে হইবে একটি হিককাহ। যখন এর থেকে একটিও বর্ধিত হইবে, তখন পঁচাত্তর পর্যন্ত দিতে হইবে একটি জাযাআহ। যখন এর থেকে একটিও বর্ধিত হইবে, তখন দুটি বিনতু লাবূন দিতে হইবে। যখন এর থেকেও একটি বৃদ্ধি পাবে, তখন দুটি হিককাহ দিতে হইবে, তা একশো বিশ পর্যন্ত। উটের সংখ্যা এর অধিক হলে প্রত্যেক পঞ্চাশে একটি হিককাহ এবং প্রত্যেক চল্লিশে একটি বিনতু লাবূন দিতে হইবে।

ছাগলের ক্ষেত্রে প্রত্যেক চল্লিশটি ছাগলের জন্য একটি বকরী একশো বিশ পর্যন্ত। এর থেকে একটিও বর্ধিত হলে দুইশো পর্যন্ত দুটি বকরী। দুই শতের অথিক হলে তিনশো পর্যন্ত তিনটি বকরী। ছাগলের সংখ্যা এর চাইতে অধিক হলে প্রত্যেক একশোতে একটি বকরী দিতে হইবে। ছাগলের সংখ্যা একশো না হলে কিছুই দিতে হইবে না। যাকাত দেয়ার ভয়ে বিচ্ছিন্নকে একত্র এবং একত্রকে ভিন্ন ভিন্ন করা যাবে না। দুই শরীকের উপর যে যাকাত ধার্য হইবে, তা উভয়ে সমান হারে বহন করিবে। যাকাত হিসেবে অতিবৃদ্ধ অথবা দোষযুক্ত [পশু] গ্রহণ করা যাবে না। বর্ণনাকারী বলেন, যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলিয়াছেন, যাকাত আদায়কারীর উচিত হলো, যাকাত আদায়ের সময় সমস্ত বকরীগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করিবে। এক ভাগ নিকৃষ্ট, এক ভাগ উৎকৃষ্ট এবং এক ভাগ মধ্যম। সুতরাং আদায়কারী মধ্যম মানের পশুই নিবে। যুহরীর বর্ণনায় গরুর যাকাত সম্বন্ধে কিছুই উল্লেখ নেই। যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৬৯. সুফয়ান ইবনি হুসাইন [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

উপরোক্ত সানাদে এ হাদিসের ভাবার্থ বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, বিনতু মাখাদ না থাকলে ইবনি লাবূন দিতে হইবে। এ বর্ণনায় যুহরীর কথাটি উল্লেখ নেই।

যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৭০. ইবনি শিহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যাকাত সম্পর্কে যে ফরমান লিখিয়েছেন এটা সেই পান্ডুলিপি যা উমার ইবনিল খাত্তাবের [রাদি.] পরিবারে সংরক্ষিত আছে। ইবনি শিহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, সালিম ইবনি আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] তা আমাকে পড়িয়েছেন এবং আমি তা হুবহু মুখস্ত করি। পরবর্তীতে তা উমার ইবনি আবদুল আযীয় [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] এবং সালিম ইবনি আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে কপি করেন। তিনি বলেন, উটের সংখ্যা একশো একুশ থেকে একশো উনত্রিশ হলে তিনটি বিনতু লাবূন দিতে হইবে। একশো ত্রিশ থেকে একশো উনচল্লিশ হলে দুটি বিনতু লাবূন ও একটি হিককাহ দিতে হইবে। আর একশো চল্লিশ থেকে উনপঞ্চাশ হলে দুটি হিককাহ ও একটি বিনতু লাবূন দিতে হইবে। একশো পঞ্চাশ থেকে একশো উনষাট হলে দিতে হইবে তিনটি হিক্কাহ। একশো ষাট থেকে একশো উনসত্তর পর্যন্ত তিনটি বিনতু লাবূন ও একটি হিক্কাহ দিতে হইবে। একশো আশি থেকে একশো উননব্বই পর্যন্ত দুটি হিক্কাহ ও দুটি বিনতু লাবূন দিতে হইবে। একশো নব্বই হলে তা থেকে একশো নিরানব্বই পর্যন্ত তিনটি হিক্কাহ ও একটি বিনতু লাবূন। দুইশো হলে চারটি হিককাহ অথবা পাঁচটি বিনতু লাবূন দিতে হইবে। এ উভয় বয়সের মধ্যে যেটাই পাওয়া যাবে সেটাই নেয়া হইবে। আর চরে বেড়ানো ছাগল [এর যাকাত সম্বন্ধে] ইবনি শিহাব ইতিপূর্বে সূফয়ান ইবনি হুসাইনের হাদিসে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তাতে রয়েছে, যাকাত বাবদ অতিবৃদ্ধ ও দোষযুক্ত বকরী নেয়া হইবে না, এবং পুরুষ জাতীয় [পাঠা]- ও না। অবশ্য যাকাত আদায়কারী প্রয়োজনে নিতে চাইলে নিতে পারে।

যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৭১. ঈমাম মালিক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

উমার ইবনিল খাত্তাবের [রাদি.] উক্তিঃ “একত্রকে বিচ্ছিন্ন এবং বিচ্ছিন্নকেও একত্র করা যাবে না”। এর ব্যাখ্য হলো, দুই মালিকের পৃথক পৃথকভাবে চল্লিশটি ছাগল আছে। অতঃপর তাহাদের কাছে যাকাত আদায়কারী উপস্থিত হলে তারা উভয়ের পৃথক পৃথক ছাগলগুলোকে একত্র করে [তা যৌথ বলে দাবী করলো]। যাতে তাহাদের একটির অধিক বকরী দিতে না হয়। আর একত্রকে বিচ্ছিন্ন না করার ব্যাখ্যা হলো, যেমন দুজন সমান অংশীদারের প্রত্যেকের একশো একটি ছাগল আছে। [হিসেব মতে, দুইশো দুটিতে] যাকাত দিতে হয় তিনটি বকরী। কিন্তু যখন তাহাদের কাছে যাকাত আদায়কারী উপস্থিত হয় তখন তারা [একশো একটি করে] পৃথক করে ফেললো। ফলে উভয়কে একটি করে বকরী দিতে হলো। ঈমাম মালিক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, এর ব্যাখ্যা আমি এরূপই শুনিয়াছি।

সহিহ মাক্বতূ। যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ মাকতু

১৫৭২. আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

যুহাইর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমার ধারনা, এ হাদিস নাবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণিত। তিনি [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ তোমরা প্রতি চল্লিশ দিরহামে এক দিরহাম [যাকাত] দিবে এবং দুইশো দিরহাম পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোন যাকাত নেই। আর দুইশো দিরহাম পূর্ণ হলে তাতে পাঁচ দিরহাম দিতে হইবে। এর অতিরিক্ত হলে, উপরোক্ত হিসাব অনুযায়ী দিতে হইবে। ছাগলের যাকাত হলো, প্রতি চল্লিশটির জন্য একটি বকরী। বকরীর সংখ্যা উনচল্লিশ হলে যাকাত হিসেবে তোমার উপর কিছুই ওয়াজিব নয়। অতঃপর বকরীর হিসাব ও যাকাত যুহরীর বর্ণনানুযায়ী বর্ণনা করেন। বর্ণনাকারী বলেন, গরুর যাকাত হচ্ছে, প্রতি ত্রিশটি গরুর জন্য পূর্ণ এক বছর বয়সী একটি বাছুর এবং চল্লিশটির জন্য পূর্ণ দুই বছরের একটি বাছুর। তবে কৃষিকাজে নিয়োজিত পশুর যাকাত নেই। উটের যাকাতও যুহরীর বর্ণনানুরূপ দিতে হইবে। তিনি [সাঃআঃ] বলেনঃ পঁচিশটি উটের জন্য পাঁচটি বকরী এবং একটিও বর্ধিত হলে পঁয়ত্রিশ পর্যন্ত একটি বিনতু মাখাদ দিতে হইবে। বিনতু মাখাদ না থাকলে একটি ইবনি লাবূন দিবে। এর থেকে একটিও বৃদ্ধি পেলে ষাট পর্যন্ত গর্ভধারণ করার উপযোগী একটি হিককাহ দিতে হইবে। অতঃপর যুহরীর হাদিসের বর্ণনানুরূপ। তিনি বলেনঃ যদি একটিও বর্ধিত হয় অর্থাৎ একানব্বই হয়, তা থেকে একশো বিশ পর্যন্ত গর্ভধারণ করার উপযোগী দুটি হিককাহ দিবে। আর যাকাত দেয়ার ভয়ে একত্রকে বিচ্ছিন্ন এবং বিচ্ছিন্নকে একত্র করা যাবে না। যাকাত হিসেবে অতিবৃদ্ধ এবং দোষযুক্ত পশু গ্রহণ করা যাবে না। এবং কোন পাঠাও নেয়া যাবে না। তবে আদায়কারী নিতে চাইলে নিতে পারবে। শস্যের যাকাত হচ্ছে, ভুমি নদ-নদী অথবা বৃষ্টির পানি দ্বারা সিঞ্চিত হলে উশর দিতে হইবে [এক-দশমাংশ]। আর যেসব ভূমিতে পানিসেচ করিতে হয় তাতে দিতে হইবে বিশ ভাগের এক ভাগ। আসিম ও হারিসের হাদিসে এটাও রয়েছে, যাকাত প্রতি বছরই দিতে হইবে। যুহাইর বলেন, আমার ধারণা, প্রতি বছর একবার বলিয়াছেন। আসিমের হাদিসে রয়েছে, বিনতু মাখাদ ও ইবনি লাবূন না থাকলে দশ দিরহাম অথবা দুটি বকরী প্রদান করিতে হইবে।

যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৭৩. আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি নাবী [সাঃআঃ] হইতে এ হাদিসের প্রথম দিকের কিছু অংশ বর্ণনার পর বলেন, তিনি বলিয়াছেন, তোমার কাছে দুইশো দিরহাম থাকলে এবং তা পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হলে পাঁচ দিরহাম [যাকাত] দিবে। স্বর্ণের ক্ষেত্র বিশ দীনারের কমে যাকাত নেই। বিশ দীনারের পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হলে অর্ধ দীনার দিতে হইবে। এরপর যা বাড়বে তাতে উপরোক্ত হিসেবে যাকাত দিতে হইবে। বর্ণনাকারী বলেন, “উপরোক্ত হিসেবে যাকাত দিতে হইবে” এটা আলীর [রাদি.] কথা নাকি রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] তা আমার জানা নেই। আর পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কোন সম্পদেই যাকাত দিতে হয় না। ইবনি ওয়াহব বলেন, জারীর তার বর্ণনায় বলেন, নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেন, এক বছর অতিবাহিত না হলে কোন সম্পদেই যাকাত নেই।

যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৭৪. আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেন, আমি ঘোড়া ও গোলামের যাকাত মাফ করেছি। কিন্তু রৌপ্যের যাকাত প্রতি চল্লিশ দিরহামে এক দিরহাম দিতে হইবে এবং একশো নব্বই তোলা পর্যন্ত যাকাত নেই, যখন দুইশো পূর্ণ হইবে তখন পাঁচ দিরহাম দিতে হইবে।

যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৭৫. বাহ্য ইবনি হাকীম [রাদি.] হইতে তার পিতা ও তার দাদার হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেন, চারণভূমিতে বিচরণশীল উটের চল্লিশটির জন্য একটি বিনতু লাবূন যাকাত দিতে হইবে এবং একটি উটকেও বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। যে ব্যক্তি সওয়াবের উদ্দেশে দিবে, ইবনিল আলা বলেন, “যে সওয়াবের জন্য দিবে, সে তাই পাবে। আর যে ব্যক্তি তা দিতে অস্বীকৃতি জানাবে, আমি তা আদায় করবোই এবং [শাস্তিস্বরূপ] তার সম্পদের অর্ধেক নিবো। কেননা এটাই আমাদের মহান রব্বের হাক্ব। মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] এর পরিবার-পরিজনের জন্য এর থেকে সামান্য পরিমাণও নেই।

যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

১৫৭৬. মুআয ইবনি জাবাল [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] তাহাকে ইয়ামান দেশে পাঠানোর সময় এ নির্দেশ দেন যে, গরুর [যাকাত] প্রতি ত্রিশটির জন্য পূর্ণ এক বছর বয়সী একটি এড়ে বাছুর বা বকনা বাছুর এবং প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক যিম্মী থেকে এক দীনার বা এর সম-মূল্যের কাপড়- যা ইয়ামেনে তৈরি হয় আদায় করিতে হইবে।

যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৭৭. মুআয [রাদি.] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি নাবী [সাঃআঃ] হইতে পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।

যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১৫৭৮. মুআয ইবনি জাবাল [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] তাহাকে ইয়ামান দেশে প্রেরণ করেন….. অতঃপর পূর্বোক্ত হাদিসর অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে ইয়ামান দেশের তৈরি কাপড়ের কথা উল্লেখ করেননি এবং প্রাপ্তবয়স্কদের সম্পর্কে কিছুই বলেননি।

যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৭৯. সুওয়াইদ ইবনি গাফালার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি সফর করেছি অথবা যে ব্যক্তি নাবী [সাঃআঃ] এর যাকাত আদায়কারীর সঙ্গে সফর করেছেন তিনি আমাকে বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] যুগে [নিয়ম ছিলো] দুগ্ধ প্রদানকারী পশু নেয়া যাবে না। বিচ্ছিন্নকে একত্র করা এবং একত্রকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। এরপর লোকেরা তাহাদের পশুপালকে পানি পান করানোর জন্য কূপের কাছে নিয়ে এলে আদায়কারী পানির কূপের নিকট এসে বলিতেন, তোমরা তোমাদের সম্পদের যাকাত আদায় করো। বর্ণনাকারী বলেন, তাহাদের এক ব্যক্তি একটি কূমাআ উষ্ট্রী নিয়ে এলো। আমি বলিলাম, হে আবু সলিহ! কূমাআ কি? তিনি বলিলেন, উঁচু কুঁজবিশিষ্ট। বর্ণনাকারী বলেন, [আদায়কারী সেটা গ্রহণে অস্বকৃতি জানালে] যাকাতদাতা বললো, আমি আকাঙ্খা করেছি যে, আপনি আমার সর্বোৎকৃষ্ট উটটি গ্রহন করুন। বর্ণনাকরী বলেন, আদায়কারী তা গ্রহণ না করায় সে ওটার চেয়ে নিকৃষ্ট মানের একটি উটে লাগাম ধরে নিয়ে এলা কিন্তু তিনি এটাও গ্রহণ করিতে অস্বীকৃতি জানালে পরে ওটার চাইতে আরো নিকৃষ্ট মানের একটি উট লাগাম ধরে নিয়ে আসেন এবং তিনি তা গ্রহণ করিলেন। অতঃপর বলিলেন, আমি তা গ্রহণে এজন্য ভয় করছি যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমার উপর ক্ষুদ্ধ হয়ে একথা না বলেন যে, এ ব্যক্তির তার উটের উপর তোমাকে স্বাধীনতা দেয়ার তুমি তার উত্তম সম্পদটিই নিয়ে এসেছো।

যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

১৫৮০. সুয়াইদ ইবনি গাফালাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] এর যাকাত আদায়কারী আমাদের নিকট আসলে আমি তার হাত ধরে মুসাফাহা করি। অতঃপর আমি তার কাছে যাকাত সম্পর্কিত যে নির্দেশনামা ছিলো তাতে এ বিষয়টি পাঠ করেছিঃ যাকাত আদায়ের ভয়ে বিচ্ছিন্নকে একত্র এবং একত্রকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। তবে তিনি এ কথা বর্ণনা করেননি যে, দুদ্ধ দানকারী পশু [নেয়া যাবে না]।

যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

১৫৮১. মুসলিম ইবনি শুবাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

নাফি ইবনি আলক্বামাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আমার পিতাহাকে নিজ গ্রোত্রপ্রধান নিযুক্ত করে তাহাদের কাছ থেকে যাকাত আদায়ের নির্দেশ দেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার পিতা আমাকে তাহাদের এক গোষ্ঠীর কাছে প্রেরণ করেন। অতঃপর আমি সির ইবনি দায়সাম নামক এক বৃদ্ধের কাছে এসে বলিলাম, আমার পিতা আমাকে আপনার কাছে যাকাত উসূল করিতে পাঠিয়েছেন। তিনি বলিলেন, হে ভাতিজা! তুমি কিভাবে নিবে? আমি বলিলাম, আমার বাছাই করবো, আমরা বকরীর বাঁট দেখে যাচাই করবো। তিনি বলিলেন, হে ভাতিজা! আমি তোমাকে একটি হাদিস বলছি। রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] যুগে একদা আমি কোন এক উপত্যকায় আমার মেষপাল চরাচ্ছিলাম। এমন সময় দুইজন লোক একটি উটে চড়ে আমার নিকট এসে বললো, আমরা রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] প্রতিনিধি হিসাবে আপনার মেষপালের যাকাত উসূল করিতে আপনার কাছে প্রেরিত হয়েছি। আমি বলিলাম, আমি কি প্রদান করবো? তারা বলেন, বকরী। সুতরাং আমি এমন একটি বিশেষ বকরী দেয়ার মনস্থ করলাম, সেটির বাট দুদ্ধে ভরতি, খুব মোটতাজা চর্বিওয়ালা। আমি তাহাদেরকে সেটা বের করে দিলে তারা বলিলেন এটা তো জোড়াওয়ালা [বাচ্চাওয়ালা] বকরী। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে জোড়াওয়ালা বকরী নিতে বারণ করেছেন। আমি বলিলাম, তাহলে আপনারা কেমন বকরী নিবেন? তারা বলিলেন, এক বছর কিংবা দুই বছর বয়সী বকরী। তিনি বলেন, তখন আমি একটি সুতাত্ বকরীর দেয়ার মনস্থ করলাম। সুতাত্ ঐ বকরীকে বলে যা কোনো বাচ্চা দেয়নি, কিন্তু গর্ভধারণের উপযুক্ত হয়েছে। সেটি এনে তাহাদেরকে দিলে তারা বলিলেন, হাঁ, আমরা এটি নিতে পারি। অতঃপর তারা বকরীটিকে তাহাদের উটের পিঠে তুলে নিয়ে চলে যায়।{১৫৮১}

{১৫৮১}নাসায়ী [অধ্যায়ঃ যাকাত, হাঃ ২৪৬১], আহমাদ [৩/৪১৪]। এর সনদ দুর্বল। সনদের মুসলিম ইবনি শুবাহ সম্পর্কে হাফিয বলেনঃ মাক্ববূল। ইরওয়াউল গালীল [৭৯৬]। যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১৫৮২. যাকারিয়্যাহ ইবনি ইসহাক্ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তার সানাদে উপরোক্ত হাদিস বর্ণিত। বর্ণনাকরীর মুসলিম ইবনি শুবাহ তার বর্ণনায় বলেন, শাফি বলা হয় গর্ভবতী বকরীকে।

দুর্বল। গাদিরাহ ক্বায়িসের আবদুল্লাহ ইবনি মুআবিয়াহ আল-গাদিরী সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি তিনটি কাজ করেছে সে ঈমানের স্বাদ পেয়েছে। [এক] যে এক আল্লাহ ইবাদাত করে। [দুই] এ বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। [তিন] যে স্বতঃস্ফূর্ত মনে নিঃসঙ্কোচে প্রতি বছর তার মালের যাকাত দেয়। বৃদ্ধ বয়সের রোগগ্রস্থ, ত্রুটিপূর্ণ ও নিকৃষ্টি মাল যাকাত দেয় না, বরং মধ্যম মানের যাকাত দিয়ে থাকে। কেননা আল্লাহ তোমাদের উৎকৃষ্ট সম্পদ চান না এবং তোমাদের নিকৃষ্ট দেয়ারও নিদের্শ করেন না। সহিহ। যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

১৫৮৩. উবাই ইবনি কাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে যাকাত আদায়কারী হিসেবে পাঠালেন। অতঃপর আমি এক ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হলে সে তার মাল [উট] একত্র করলো। আমি দেখলাম যে, তার উপর একটি বিনতু মাখাদ ফার্য হয়েছে। সুতরাং আমি তাহাকে বলিলাম, একটি বিনতু মাখাদ দিন। কেননা তোমার যাকাত সেটাই। সে বললো, এর এতে দুগ্ধও নেই এবং এটি বাহনের উপযোগীও নয়, বরং এর পরিবর্তে আমার এই বড় মোটতাজা যুবতী উটনী নিন। আমি বলিলাম, আমি এটা নিতে পারবো না, এরূপ নিতে আমাকে আদেশ করা হয়নি। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তো তোমার নিকটেই আছেন। তুমি আমাকে যা বলেছো, তা ইচ্ছে হলে তাঁকে বলে দেখিতে পারো। তিনি এটা গ্রহণ করলে আমি নিবো, আর প্রতাখ্যান করলে আমিও প্রত্যাখ্যান করবো। সে বললো, আমি তাই করবো। অতঃপর সে আমাকে নিয়ে উক্ত উষ্ট্রী সহ রওয়ানা হলো। অবশেষে আমার রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সম্মুখে উপস্থিত হই। লোকটি বললো, হে আল্লাহর রসূল! আপনার প্রতিনিধি আমার কাছে আমার সম্পদের যাকাত নিতে এসেছে। আল্লাহর শপথ! এর পূর্বে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] স্বয়ং কিংবা তাহাঁর প্রতিনিধি কখনো আমার সম্পদের যাকাত নিতে আসেননি। কাজেই আমি আমার সমস্ত মাল তাহাঁর সম্মুখে একত্র করেছি। কিন্তু তিনি বলেন, আমার মালের উপর নাকি একটি মাখাদ ফার্য। অথচ তাতে দুগ্ধও নেই বা আরোহণেরও অনুপযোগী। তাই আমি একটি বড় ও মোটতাজা যুবতী উষ্ট্রী পেশ করেছি। কিন্তু তিনি এটা গ্রহণ করিতে অস্বীকৃতি জানান। আর সেটি এটাই, আমি আপনার কাছে নিয়ে এসেছি। হে আল্লাহর রসূল! এটা গ্রহণ করুন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাকে বলিলেন, আদায়কারী যা বলেছে তাই তোমার উপর ফার্য। তবে তুমি স্বেচ্ছায় অতিরিক্তি দিলে আল্লাহ তোমাকে এর প্রতিদান দিবেন এবং আমরাও সেটা তোমার থেকে গ্রহন করলাম। সে বললো, এটাই সেই উষ্ট্রী হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনার নিকট নিয়ে এসেছি, গ্রহণ করুন। উবাই ইবনি কাব [রাদি.] বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তা গ্রহণ করিতে আদেশ দিলেন এবং তার ও তার সম্পদের বরকতের জন্য দুআ করিলেন।

যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

১৫৮৪. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মূআয [রাদি.] -কে ইয়ামানে প্রেরণকালে বলিলেন, তিমি এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছো যারা আহলি কিতাব। তুমি [সর্বপ্রথম] তাহাদেরকে এ সাক্ষ্য দিতে আহবান করিবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। এবং আমি [মুহাম্মাদ] আল্লাহ রসূল। তারা তোমার এ কথা মেনে নিলে তাহাদেরকে অবহিত করিবে, আল্লাহ তাহাদের উপর তাহাদের মালের যাকাত প্রদান ফার্য করেছেন, যা তাহাদের ধনীদের কাছ থেকে নেয়া হইবে এবং তাহাদের গরীবদের মাঝে বিতরণ করা হইবে। যদি তারা তোমার এ কথা মেনে নেয়, তাহলে তাহাদের উত্তম সম্পদগুলো গ্রহণ করা হইতে বিরত থাকিবে। আর মযলুমের বদদুআকে ভয় করিবে। কেননা তার দুআ ও আল্লাহর মাঝে কোনো প্রতিবন্ধক নেই।

সহীহঃ সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিম। যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৮৫. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেন, যাকাত সংগ্রহে সীমালংঘনকারী ঐ ব্যক্তির মতই যে যাকাত দিতে অস্বীকার করে।

যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

অনুচ্ছেদ-৬ঃ যাকাত আদায়কারীর সন্তুষ্টি অর্জন সম্পর্কে

১৫৮৬.বাশীর ইবনিল খাসাসিয়্যাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

বর্ণনাকারী ইবনি উবাইদ তার বর্ণনায় বলেন, আসলে তার নাম বাশীর ছিলো না, বরং রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার নাম বাশীর রাখেন। তিনি বলেন, আমরা বলিলাম, যাকাত আদায়কারীরা আমাদের উপর সীমালঙ্ঘন করেন [ফারযের অধিক নিয়ে যান]। কাজেই তারা যে পরিমাণ মাল আমাদের উপর সীমালঙ্ঘন করেন ঐ পরিমাণ মাল কি আমরা গোপন করবো? তিনি বলেন, না।

{১৫৮৬} সনদ দুর্বল। মিশকাত [হাঃ ১৭৮৪]। সনদের দায়সাম সম্পর্কে হাফিয বলেনঃ মাক্ববূল। যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১৫৮৭. আইয়ূব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

উপরোক্ত হাদিসের ভাবার্থ একই সানাদে বর্ণিত হয়েছে। তবে তাতে রয়েছেঃ আমরা বলিলাম, হে আল্লাহর রসূল! যাকাত আদায়কারীগণ সীমালঙ্ঘন করে। {১৫৮৭}

দুর্বল। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, এটি আবদুর রাযযাক্ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] মামার হইতে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হাদিসরূপে বর্ণনা করেছেন। {১৫৮৭} সনদ দুর্বল। এর পূর্বের হাদিস দেখুন। যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১৫৮৮. আবদুর রহমান ইবনি জাবির ইবুন আতীক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতার হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেন, অচিরেই তোমাদের কাছে এমন যাকাত আদায়কারী দল আসবে, যাদের আচরণে তোমরা অসন্তুষ্ট হইবে। তারা এলে তোমরা তাহাদেরকে অভ্যর্থনা জানাবে এবং যা গ্রহণ করিতে চায়, তাহাদের মাঝে তা উন্মুক্ত করে দিবে। তারা ন্যায়নীতি অনুসরণ করলে তাহাদের নিজেদের জন্যই কল্যাণকর হইবে। আর যদি যুলুম করে তাহলে এর পাপ তাহাদেরই উপর বর্তাবে। তোমরা তাহাদের সন্তুষ্ট করিবে, কেননা তোমাদের যাকাতের পরিপূর্ণতা তাহাদের সন্তুষিটর মধ্যেই নিহিত। তাহাদের উচিত হলো, তারা যেন তোমাদের জন্য দুআ করে। {১৫৮৮}

{১৫৮৮} বায়হাক্বী [৪/১১৪], মিশকাত [হাঃ ১৭৮২], কানযুল উম্মাল [হাঃ ১৫৯১০]। এর নাসাদে আবদুর রহমান ইবনি জাবির ইবনি আতীক অজ্ঞাত। এবং সাখর ইবনি ইসহাক্ব শিথিল। যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১৫৮৯. জারীর ইবনি আবদুল্লাহ [রা.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা কতিপয় বেদুঈন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট এসে বললো, যাকাত আদায়কারীগণ আমাদের কাছে এসে আমাদের উপর যুলুম করেন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন তিনি [সাঃআঃ] বলিলেন, তোমাদের যাকাত আদায়কারীদেরকে তোমরা সন্তুষ্ট রাখবে। তারা বললো, হে আল্লাহর রসূল! তারা আমাদের উপর যুলুম করলেও? তিনি বলিলেন, তোমাদের যাকাত আদায়কারীদেরকে সন্তুষ্ট রাখবে। বর্ণনাকারী উসমানের বর্ণনায় এটাও আছেঃ যদিও তারা তোমাদের উপর যুলুম করে।

বর্ণনাকারী আবু কামিল তার হাদিসে বলেন, জারীর [রাদি.] বলিয়াছেন, আমি যখন থেকে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] একথা শুনিয়াছি, তখন থেকে প্রত্যেক যাকাত আদায়কারী আমার উপর সন্তুষ্ট হয়েই ফিরেছেন।

যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৭ঃ যাকাত প্রদানকারীর জন্য যাকাত আদায়কারীর দুয়া করা

১৫৯০. আবদুল্লাহ ইবনি আবু আওফা [রা.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার পিতা ছিলেন গাছের নিচে বাইয়াতে রিদওয়ান গ্রহণকারীদের একজন। কোন সম্প্রদায় নাবী [সাঃআঃ] এর নিকট তাহাদের যাকাত নিয়ে এলে তিনি বলিতেন, হে আল্লাহ! অমুক পরিবারের উপর রহমাত বর্ষণ করুন। আবদুল্লাহ [রাদি.] বলেন, আমার পিতা তাহাঁর কাছে তার সদাক্বাহ নিয়ে এলে তিনি বলেন, হে আল্লাহ! আবু আওফার পরিবারের উপর রহমাত বর্ষণ করুন।

সহীহঃ সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিম। যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৮ঃ উটের বয়স সম্পর্কে

ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমি আর-রিয়াশী, আবু হাতিম ও অন্যান্যদের কাছে শুনিয়াছি এবং নাদর ইবনি শুমাইল ও আবু উবাইদের কিতাবে দেখেছি। তাহাদের দুজনের একজন কর্তৃক আলোচ্য বিষয়টি উল্লেখ হয়েছে। তারা বলিয়াছেন, গর্ভস্থ ভ্রুণের নাম আল-হুয়ার। নবজাত বাচ্চার নাম আল-ফাসিল। এক বছর হইতে দুবছরে পদার্পণকারী হচ্ছে বিনতু মাখাদ। তৃতীয় বছরে পদার্পণকারী ইবনাতু লাবূন। তিন বছর হইতে চতুর্থ বছর পূর্ণ হলে হিককাহ। কারণ তখন তা আরোহণ এবং প্রজননের উপযোগী হয়। আর ছয় বছর পূর্ণ হওয়ার আগে পুরুষ উট বালেগ হয় না। হিককহকে ত্বরুক্বাতুল ফাহল বলার কারণ হলো পুরুষ উট তাহাকে পাল দেয়। চতুর্থ বছর শেষে পঞ্চম বছরে পদার্পণকারীকে জাযাআহ আবে। যষ্ঠ বছরে পদার্পণ করলে এবং সামনে দুটি দাঁত পড়ে গেলে তা হয় সানি। এ নাম ষষ্ঠ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকে। অতঃপর সপ্তম বছর হলে উটের মান হয় রুবাঈ এবং উষ্ট্রীর নাম হয় রুবাঈয়াহ, সপ্তম বছর শেষ হওয়া পর্যন্ত এ নাম বহাল থাকে। অতঃপর নবম বছরে প্রবেশ করলে এবং পাশের ধারালো দাঁত প্রকাশ হলে এ দাঁত প্রকাশ হওয়ার কারণে তাহাকে বলা হয় বাযিল। সবশেষে দশম বছরে পদার্পণ করলে তার নাম মাখলাফ। এরপর তার আর কোন নাম নেই। অবশ্য [এরপর] এক বর্ষীয়া বাযিল, দুই বর্ষীয়া বাযিল এবং এক এক বর্ষীয়া মাখলাফ, দুই বর্ষীয়া মাখলাফ এবং তিন বর্ষীয়া মাখলাফ এভাবে পাঁচ বছর পর্যন্ত। খুলফাহ হচ্ছে গর্ভধারী উষ্ট্রী। আবু হাতিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আল-জাযুআহ শব্দটি কালের একটি সময়কে বুঝায়, এর অর্থ দাঁত নয়। উটের বয়সের ব্যবধান ঘটে সাহাইল তারকার উদয়ের সাথে। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, কবি আর-রিয়াশী আমাদের নিকট তা কয়েক লাইন কবিতার মাধ্যমে ব্যক্ত করেছেনঃ “রাতের প্রথম প্রহরে যখন সুহাইল তারকা উদিত হয় তখন ইবনি লাবূন হয় হিককাহ আর হিককাহ হয় জাযাআহ। তারপর হুবা ছাড়া উটের বয়স আর গণনা করা হয় না। সুহাইল তারকার উদয়ের সাথে জন্মগ্রহণকারী উটকে হুবা বলা হয়।

অনুচ্ছেদ-৯ ঃ যে স্থানে সম্পদ সমূহের যাকাত গ্রহণ করিবে

১৫৯১. আমর ইবনি শুআইব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেন, দূরে অবস্থান করে যাকাত আদায় করিবে না এবং যাকাতের মালও দুরে সরিয়ে নিবে না। যাকাত দাতাহাদের বসতি থেকেই যাকাত আদায় করিতে হইবে।

যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

১৫৯২. মুহাম্মাদ ইবনি ইসহাক্ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

লা জালাবা ওয়া লা জানাবা-এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, চতুষ্পদ জন্তুর যাকাত তার অবস্থানস্থল থেকেই নিতে হইবে। কোন অবস্থাতেই তা আদায়কারীর নিকট টেনে নিতে বাধ্য করা যাবে না এবং ওয়া লা জানাবা-ও একই রূপ। মালের অধিকারী তা আদায়কারীর কাছে হাঁকিয়ে নিবে না। বর্ণনাকারী বলেন, যাকাত আদায়কারী যাকাত দাতার নিকট থেকে দূরে অবস্থান করিবে না, বরং মালের স্থানে থেকেই যাকাত নেয়া হইবে।

যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ মাকতু

অনুচ্ছেদ-১০ঃ যাকাত দিয়ে ঐ মাল পুনরায় ক্রয় করা

১৫৯৩. আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রা.] হইতে বর্ণীতঃ

একদা উমার ইবনিল খাত্তাব [রাদি.] এক ব্যক্তিকে জিহাদের উদ্দেশে একটি ঘোড়া দান করেন। পরে তিনি ঐ ঘোড়াটি বিক্রি হইতে দেখে তা কেনার ইচ্ছা করিলেন এবং রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করিলেন। তিনি [সাঃআঃ] বলেন, তুমি তা কিনবে না এবং তোমার সদাক্বাহ তুমি ফিরিয়ে নিবে না।

সহীহঃ সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিম। যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১১ঃ দাস-দাসীর যাকাত সম্পর্কে

১৫৯৪. আবু হুরাইরাহ [রা.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেন, ঘোড়া ও দাস-দাসীতে কোন যাকাত নেই। কিন্তু দাস-দাসীর পক্ষ হইতে সদাক্বাতুল ফিতর [ফিতরাহ] দিতে হইবে।

যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৯৫. আবু হুরাইরাহ্‌ [রা.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেন, মুসলিমদের উপর তার দাস-দাসী ও তার ঘোড়ার কোন যাকাত নেই।

সহীহঃ সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিম। যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১২ঃ ফসলের যাকাত সম্পর্কে

১৫৯৬. সালিম ইবনি আবদুল্লাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতার হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যে ভূমি বৃষ্টি, নদ-নদী ও ঝর্ণার পানি দ্বারা সিঞ্চিত হয় অথবা যে ভূমিতে তলদেশে থেকে আপনা আপনিই পানি সিঞ্চত হয়, তাতে উশর দেয়া ওয়াজিব [অর্থাৎ উৎপাদিত ফসলের এক-দশমাংশ যাকাত দিবে]। আর যে ভূমি উষ্ট্রী, বালতি কিংবা সেচ যন্ত্র দিয়ে সিঞ্চন করা হয়, তার যাকাত হলো, উশরের অর্ধেক [অর্থাৎ বিশ ভাগে এক ভাগ]।

সহীহঃ সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিম। যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৯৭. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রা.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেন, যে ভূমি নদ-নদী ও ঝর্ণার পানি দ্বারা সিঞ্চিত হয়, তার যাকাত হলো, এক-দশমাংশ। আর যে ভূমি উষ্ট্রী দ্বারা [অন্য উপায়ে] সিঞ্চিত হয়, তার যাকাত বিশ ভাগের এক ভাগ।

সহীহঃ মুসলিম। যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৯৮. ওয়াকী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

কাবূস-কেই বাল ভূমি বলা হয়। যে ভূমিতে বৃষ্টির পানির সাহায্যে ফসল জন্মায়, তাই কাবূস। ইবনিল আসওয়াদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, ইয়াহইয়া ইবনি আদাম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলিয়াছেন, আমি আবু ইয়াস আল-আসাদীকে বাল [ভূমি] সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, বৃষ্টির পানি দ্বারা সিঞ্চিত ভূমি।

যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ মাকতু

১৫৯৯. মুআয ইবনি জাবাল [রা.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাঁকে ইয়ামানে প্রেরণের সময় বলিলেন, ফসল থেকে ফসল, বকরীপাল থেকে বকরী, উটপাল থেকে উষ্ট্রী, গরুর পাল থেকে গাভী যাকাত বাবদ গ্রহণ করিবে। {১৫৯৯}

দুর্বল। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমি মিসরের একটি শসা মেপেছি তের বিঘত লম্বা এবং একটি তরমুজ বা লেবু দেখেছি, যা দুই টুকরা করে একটি উষ্ট্রীর উপ্ দুটি বোঝার মত সমান ভারী অবস্থায় ছিল। {১৫৯৯} ইবনি মাজাহ [অধ্যায়ঃ যাকাত হাঃ ১৮১৫], হাকিম [অধ্যায়ঃ যাকাত] ঈমাম হাকিম বলেন, এ হাদিস বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহিহ যদি মুআয হইতে ইবনি ইয়াসারের শ্রবণ প্রমাণিত হয়। ঈমাম যাহাবী বরেন, মুআযের সাথে ইবনি ইয়াসারের সাক্ষাৎ হয়নি। কাজেই বর্ণনাটি মুনকাতি। যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৩ঃ মধুর যাকাত

১৬০০. আমর ইবনি শুআইব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদা হইতে বর্ণীতঃ

মুত্‌য়ান গোত্রের হিলাল নামক এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নিকট তার মুধর উশর নিয়ে এলেন এবং তাহাঁর নিকট সালাবাহ্‌ নামক একটি সমতলভূমি বন্দোবস্ত চাইলে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাকে উক্ত ভূমিটি বন্দোবস্ত দিলেন। পরবর্তীতে যখন উমার [রাদি.] খলীফা হন, তখন [এ এলাকার আমীর] সুফয়ান ইবনি ওয়াহাব উমার ইবনিল খাত্তাবকে [রাদি.] ঐ ভূমির বিষয়ে চিঠি লিখে জানতে চাইলেন। উত্তরে উমার [রাদি.] তাহাকে লিখেনঃ তিনি [হিলাল] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট তার মধুর যে উশর দিতেন তিনি যদি তা তোমাকেও দেন তাহলে সালাবা ওয়াদীতে তার বন্দোবস্ত বহাল রাখবে। অন্যথায় তা বনের মৌমাছি হিসেবে গণ্য হইবে এবং যে কেউ তার মধু খেতে পারবে।

যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

১৬০১. আমর ইবনি শুআইব [রা.] হইতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার হইতে বর্ণীতঃ

শাবাবাহ হচ্ছে ফাহ্‌ম গোত্রের উপগোত্র। অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্বের হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। বর্ণনাকারী বলেন, [মধুর যাকাত হচ্ছে] প্রত্যেক দশ মশকের জন্য এক মশক। সুফয়ান ইবনি আবদুল্লাহ আস-সাকাফী তাহাদেরকে দুটি সমতলভূমি বন্দোবস্ত দিয়েছিলেন। তারা তাহাকে [মধুর] যাকাত সেভাবেই দিতেন যেমনটি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে দিতেন। তিনি তাহাদের দুটি সমভূমির বন্দোবস্ত বহাল রেখেছিলেন। {১৬০১}

যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

১৬০২. আমার ইবনি শুআইব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার হইতে বর্ণীতঃ

ফাহ্‌ম গোত্রের উপগোত্র… অতঃপর মুগীরাহ্‌র হাদিসের অনুরূপ। তিনি বলেন, [মধুর যাকাত] দশ মশকে এক মশক দেয়া ওয়াজিব। তিনি আরো বলেন, সমভূমি দুটি তাহাদের মালিকানায় ছিল। {১৬০২}

যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৪ঃ অনুমানে আঙ্গুরের পরিমাণ নির্ধারণ করা

১৬০৩. আত্তাব ইবনি আসীদ [রা.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আঙ্গুরের পরিমাণ নির্ধারণ করিতে নির্দেশ দিয়েছেন, যেমন খেজুরের পরিমাণ নির্ধারণ হয় এবং আঙ্গুরের যাকাত গ্রহণ করিবে কিশমিশ দ্বারা, যেমন খেজুরের যাকাত খুরমা দ্বারা নেয়া হয়। {১৬০৩}

{১৬০৩} তিরমিজি [অধ্যায়ঃ যাকাত, হাঃ ৬৪৪, ঈমাম তিরমিজি বলেন, এ সনদটি হাসান গরীব, নাসায়ী [অধ্যায়ঃ যাকাত, হাঃ ২৬১৭], ইবনি মাজাহ [অধ্যায়ঃ যাকাত, হাঃ ১৮১৯], দারাকুতনী [হাঃ১৭]। এর সনদ দুর্বল। সনদের সাঈদ ইবনিল মুসায়্যিব আত্তাব ইবনি আসীদের যুগ পাননি। যেমনটি হাফিয ইবনি হাজার আত-তাহযীব গ্রন্থে বলিয়াছেন। যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১৬০৪. ইবনি শিহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

পূর্বোক্ত সানাদে এ হাদিসের ভাবার্থ বর্ণিত হয়েছে। {১৬০৪}

{১৬০৪} তিরমিজি [অধ্যায়ঃ যাকাত, হাঃ ৬৪৪] ঈমাম তিরমিজি বলেন, এ সনদটি হাসান গরীব, দারাকুতনী [হাঃ ২২]। এর সনদ দুর্বল। যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৫ঃ গাছের ফলের পরিমাণ অনুমানে নির্ধারণ করা

১৬০৫. আবদুর রহমান ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা সাহল ইবনি আবু হাসমাহ [রাদি.] আমাদের মাজলিসে এসে বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেনঃ যখন অনুমানে পরিমাণ নির্ধারণ করিবে, তখন তা হইতে এক-তৃতীয়াংশ বাদ দিবে। এক-তৃতীয়াংশ বাদ দিতে অসম্মত হলে এক-চতুর্থাংশ ছেড়ে দিবে। {১৬০৫}

{১৬০৫} তিরমিজি [অধ্যায়ঃ যাকাত, হাঃ ৬৪৩], নাসায়ী [অধ্যায়ঃ যাকাত, হাঃ ২৪৯০], আহমাদ, ইবনি খুযাইমাহ [২৩১৯]। সকলে শুবাহ হইতে। এর সানাদে আবদুর রহমান ইবনি মাসউদ সম্পর্কে হাফিয বলেন, মাক্ববুল। যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৬: খেজুরের পরিমাণ কখন অনুমান করিবে?

১৬০৬. আয়িশাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি খায়বারের আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন, নাবী [সাঃআঃ] আবদুল্লাহ ইবনি রাওয়াহা [রাদি.]-কে খায়বারের ইহুদীদের কাছে প্রেরণ করিলেন। তিনি গাছের খেজুর অনুমানে নির্ধারণ করিতেন- যখন তা পুষ্ট হতো, তবে খাওয়ার উপযোগী হওয়ার পূর্বে। {১৬০৬}

{১৬০৬} আহমাদ, ইবনি খুযাইমাহ [হাঃ ২৩১৫, আবদুর রাযযাক্ব মুসান্নাফ [হাঃ ৭২১৯] ইবনি জুরাইজ হইতে। এর সানাদে নাম উল্লেখহীন জনৈক ব্যক্তি রয়েছে। যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৭ঃ কোন ধরনের ফল যাকাত হিসেবে গ্রহন জায়েয নয়

১৬০৭. আবু উমামাহ ইবনি সাহল [রহমাতুল্লাহি আলাই. ] হইতে তার পিতার হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যাকাত হিসেবে জুরূর ও হুবাইক বর্ণের খেজুর গ্রহণ করিতে নিষেধ করেছেন। ঈমাম যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, এগুলো মাদীনাহ্‌র দুটি বিশেষ বর্ণের খেজুর।

যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৬০৮. আওফ ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মাসজিদে আমাদের নিকট প্রবেশ করিলেন, তাহাঁর হাতে একটি লাঠি ছিলো। মাসজিদে আমাদের এক ব্যক্তি নিকৃষ্ট মানের এক গুচ্ছ খেজুর ঝুলিয়ে রেখেছিল। তিনি ঐ খেজুর গুচ্ছে লাঠি দিয়ে আঘাত করে বলেনঃ এর সদাক্বাহ্‌কারী ইচ্ছে করলে এর চাইতে উত্তমটি সদাক্বাহ করিতে পারতো। তিনি আরো বলেনঃ এর সদাক্বাহকারীকে ক্বিয়ামাতের দিন নিকৃষ্ট ফল খেতে হইবে।{১৬০৮}

যাকাতের নিয়ম কানুন হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

By ইমাম আবু দাউদ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply