বিবাহ পড়ানোর নিয়ম । খুতবা দুয়া নাবালিকা মোহরানা ইত্যাদি

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম । খুতবা দুয়া নাবালিকা মোহরানা

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম । খুতবা দুয়া নাবালিকা মোহরানা , এই অধ্যায়ে মোট হাদীস ১২৯ টি (২০৪৬ – ২১৭৪) >>আবুদ দাউদ শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

অধ্যায়ঃ ১২-বিবাহ , অনুচ্ছেদঃ ১-৫০=৫০টি, হাদীসঃ (২০৪৬-২১৭৪)=১২৯টি

অনুচ্ছেদ-১: বিয়ের ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান
অনুচ্ছেদ-২: ধার্মিক মহিলা বিয়ে করার নির্দেশ
অনুচ্ছেদ-৩: কুমারী মহিলা বিয়ে করা
অনুচ্ছেদ-৪: যে মহিলা সন্তান জন্ম দিতে অক্ষম তাহাকে বিয়ে করা নিষেধ সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ–৫: মহান আল্লাহর বাণীঃ “ব্যভিচারী কেবল ব্যভিচারিণীকে বিয়ে করিবে”
অনুচ্ছেদ-৬: যে ব্যক্তি তার দাসীকে মুক্ত করার পর বিয়ে করে
অনুচ্ছেদ-৭: রক্তের কারণে যাদেরকে বিয়ে করা হারাম তারা দুধপানের কারণেও হারাম
অনুচ্ছেদ-৮: দুধপিতা সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-৯: বয়স্ক লোকের দুধপান সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-১০: বয়স্ক লোক দুধপান করলে যা নিষিদ্ধ হয়
অনুচ্ছেদ-১১: পাঁচ ঢোকের কম দুধপানে নিষিদ্ধ সম্পর্ক স্থাপিত হয় কিনা?
অনুচ্ছেদ-১২: দুধপান ছাড়ার সময় প্রতিদান দেয়া
অনুচ্ছেদ-১৩: যেসব মহিলাকে একত্রে বিয়ে করা জায়িয নয়
অনুচ্ছেদ-১৪: মুতআহ বিবাহ
অনুচ্ছেদ-১৫: আশ-শিগার পদ্ধতির বিয়ে
অনুচ্ছেদ-১৬: তাহলীল প্রসঙ্গে
অনুচ্ছেদ-১৭: মনিবের বিনা অনুমতি ক্রীতদাসের বিয়ে করা
অনুচ্ছেদ-১৮: কেউ তার অপর ভাইয়ের বিয়ের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব দেয়া অপছন্দনীয়
অনুচ্ছেদ-১৯: বিয়ের উদ্দেশে পাত্রী দেখা প্রসঙ্গ
অনুচ্ছেদ-২০: ওয়ালী সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-২১: নারীদেরকে বিয়েতে বাধা দেয়া নিষেধ
অনুচ্ছেদ-২২: কোন নারীকে দুজন ওয়ালী বিয়ে দিলে
অনুচ্ছেদ-২৩: মহান আল্লাহর বাণীঃ “জোরপূর্বক কোন মহিলার মালিক হওয়া তোমাদের জন্য বৈধ নয়। আর তোমরা তাহাদের অবরুদ্ধ করিবে না” [সূরাহ আন-নিসাঃ ১৯]
অনুচ্ছেদ-২৪: মেয়েদের কাছে বিয়ের অনুমতি চাওয়া
অনুচ্ছেদ-২৫: যদি পিতা তার কুমারী কন্যাকে তার অমতে বিয়ে দেন
অনুচ্ছেদ-২৬: স্বামীহীনা [তালাক্ব প্রাপ্তা বা বিধবা] নারী প্রসঙ্গে
অনুচ্ছেদ-২৭: সমতা
অনুচ্ছেদ-২৮: জন্মগ্রহণের আগেই বিয়ে দেয়া
অনুচ্ছেদ-২৯: মোহরানা সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-৩০: মোহরের সর্বনিম্ন পরিমাণ
অনুচ্ছেদ-৩১: কাজের বিনিময়ে বিয়ে
অনুচ্ছেদ-৩২: কেউ মোহর নির্ধারণ ছাড়া বিয়ে করার পর মারা গেলে
অনুচ্ছেদ-৩৩ঃ বিবাহের খুত্ববাহ
অনুচ্ছেদ-৩৪ঃ অপ্রাপ্তা বয়স্কা মেয়ে বিয়ে দেয়া
অনুচ্ছেদ-৩৫ঃ কুমারী স্ত্রীর নিকট অবস্থান
অনুচ্ছেদ-৩৬ঃ যে ব্যক্তি স্বীয় স্ত্রীকে কিছু দেয়ার পূর্বে তার সাথে বসবাস করিতে চায়
অনুচ্ছেদ-৩৭ঃ নব দম্পত্তির জন্য দুআ করা
অনুচ্ছেদ-৩৮ঃ যে ব্যক্তি কোনো মহিলাকে বিয়ে করার পর তাহাকে গর্ভবতী পায়
অনুচ্ছেদ-৩৯ঃ স্ত্রীদের সাথে ইনসাফপূর্ণ আচরণ করা
অনুচ্ছেদ-৪০ঃ স্ত্রীর বাড়িতে সহাবস্থানের শর্তে বিয়ে করা
অনুচ্ছেদ-৪১ঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার
অনুচ্ছেদ-৪২ঃ স্বামীর উপর স্ত্রীর অধিকার
অনুচ্ছেদ-৪৩ঃ স্ত্রীদেরকে প্রহার করা
অনুচ্ছেদ-৪৪ঃ যে বিষয়ে দৃষ্টি সংযত রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে
অনুচ্ছেদ-৪৫ঃ বন্দী দাসীদের সাথে সঙ্গম করা
অনুচ্ছেদ-৪৬ঃ বিবাহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিধান
অনুচ্ছেদ-৪৭ঃ ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সঙ্গম ও একত্রে বসবাস
অনুচ্ছেদ-৪৮ঃ ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সহবাসের কাফ্‌ফারাহ
অনুচ্ছেদ-৪৯ঃ আযল [স্ত্রী যৌনাঙ্গের বাইরে বীর্যপাত]
অনুচ্ছেদ-৫০ঃ কোন ব্যক্তি স্বীয় স্ত্রীর সাথে সঙ্গমের পর তা অন্যকে বর্ণনা দেয়া নিষেধ

অনুচ্ছেদ-১: বিয়ের ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান

২০৪৬. আলক্বামাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদের [রাদি.] সাথে মিনায় হাঁটছিলাম। এ সময় উসমান [রাদি.]–এর সাথে দেখা হলে তিনি আবদুল্লাহর [রাদি.] সাথে নির্জনে আলাপ করেন। অতঃপর আবদুল্লাহ [রাদি.] যখন দেখলেন, এ বিষয়ে তার কোন প্রয়োজন নেই, তখন তিনি আমাকে বলিলেন, হে আলক্বামাহ! এদিকে এসো। আমি এলে উসমান [রাদি.] তাহাকে বলিলেন, হে আবু আবদুর রহমান! আমরা কি আপনার সাথে একটি কুমারী মেয়ে বিয়ে দিব, যাতে আপনি অতীতের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পান? আবদুল্লাহ [রাদি.] বলিলেন, আমি এরূপ এজন্যই বলেছি যে, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]–কে বলিতে শুনেছিঃ তোমাদের কেউ বিয়ের সামর্থ্য রাখলে সে যেন অবশ্যই বিয়ে করে। কেননা বিয়ে দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং যৌন জীবনকে সংযমী করে। আর যে ব্যক্তির বিয়ে করার সামর্থ্য নেই সে যেন অবশ্যই সওম পালন করে। কারন সওম তার যৌনস্পৃহা দমনকারী।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২: ধার্মিক মহিলা বিয়ে করার নির্দেশ

২০৪৭. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ নারীদেরকে [সাধারণত] চারটি বিষয় দেখে বিয়ে করা হয়। তার ধন-সম্পদ, বংশমর্যাদা, তার রূপসৌন্দর্য এবং তার দীনদারী। তবে তুমি দীনদার নারী বিয়ে করো। অন্যথায় তুমি লাঞ্ছিত হইবে।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩: কুমারী মহিলা বিয়ে করা

২০৪৮. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে বলিলেনঃ তুমি কি বিয়ে করেছো? আমি বলি, হ্যাঁ। তিনি আবার বলিলেনঃ কুমারী না অকুমারী? আমি বলিলাম, অকুমারী। তিনি বলিলেনঃ তুমি কোন কুমারী মেয়েকে বিয়ে করলে না কেন? তার সাথে তুমি খেলতে পারতে সেও তোমার সাথে খেলাধুলা করিতে পারতো।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৪: যে মহিলা সন্তান জন্ম দিতে অক্ষম তাহাকে বিয়ে করা নিষেধ সম্পর্কে

২০৪৯. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নাবী [সাঃআঃ]-এর কাছে এসে অভিযোগ করলো, আমার স্ত্রী কোন স্পর্শকারীর হাতকে নিষেধ করে না। তিনি বলিলেনঃ তুমি তাহাকে ত্যাগ করো। সে বললো, আমার আশংকা আমার মন তার পিছনে ছুটবে। তিনি বলিলেনঃ [যেহেতু ব্যভিচারের প্রমাণ নেই] তাহলে তুমি তার থেকে ফায়দা হাসিল করো।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২০৫০. মাক্বিল ইবনি ইয়াসার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নাবী [সাঃআঃ]-এর খিদমাতে উপস্থিত হয়ে বললো, আমি এক সুন্দরী ও মর্যাদাসম্পন্ন নারীর সন্ধান পেয়েছি, কিন্তু সে বন্ধা। আমি কি তাহাকে বিয়ে করবো? তিনি বলিলেনঃ না। অতঃপর লোকটি দ্বিতীয়বার এসেও তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি তাহাকে নিষেধ করিলেন। লোকটি তৃতীয়বার তাহাঁর নিকট এলে তিনি তাহাকে বলিলেনঃ এমন নারীকে বিয়ে করো যে প্রেমময়ী এবং অধিক সন্তান প্রসবকারী। কেননা আমি অন্যান্য উম্মাতের কাছে তোমাদের সংখ্যাধিক্যের কারণে গর্ব করবো।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

অনুচ্ছেদ–৫: মহান আল্লাহর বাণীঃ “ব্যভিচারী কেবল ব্যভিচারিণীকে বিয়ে করিবে”

২০৫১. আমর ইবনি শুআইব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদা হইতে বর্ণীতঃ

মারসাদ ইবনি আবু মারাসাদ আল-গানাবী [রাদি.] মাক্কাহ থেকে বন্দীদেরকে বহন করিতেন। সে সময় মাক্কাহইতে আনাক নাস্মী নামক এক ব্যভিচারিণী ছিলো। সে ছিল মারসাদের বান্ধবী। তিনি বলেন, আমি নাবী [সাঃআঃ]-এর খিদমাতে উপস্থিত হয়ে বলিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আনাক-কে বিয়ে করবো? মারসাদ [রাদি.] বলেন, তিনি চুপ থাকলেন। অতঃপর আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ ব্যভিচারিণীকে ব্যভিচারী অথবা মুশরিক ছাড়া অন্য কেউ বিয়ে করিবে না। [সূরাহ আন-নূরঃ ৩] তিনি আমাকে ডেকে এনে আয়াতটি শুনান এবং বলেনঃ তুমি তাহাকে বিয়ে করো না।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

২০৫২. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ সাজাপ্রাপ্ত ব্যভিচারী তার অনুরূপ কাউকে বিয়ে করিবে।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৬: যে ব্যক্তি তার দাসীকে মুক্ত করার পর বিয়ে করে

২০৫৩. আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি তার দাসীকে দাসত্বমুক্ত করার পর বিয়ে করে সে দুটি পুরস্কারের অধিকারী।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২০৫৪. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] সাফিয়্যাহ [রাদি.]-কে মুক্ত করেন এবং এ মুক্তিকে তার মোহর হিসেবে গণ্য করেন।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৭: রক্তের কারণে যাদেরকে বিয়ে করা হারাম তারা দুধপানের কারণেও হারাম

২০৫৫. নাবী [সাঃআঃ] এর স্ত্রী আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ রক্তের সম্পর্কের কারণে যাদেরকে বিয়ে করা হারাম, অনুরূপভাবে দুধপান জনিত সম্পর্কের কারণেও তারা হারাম।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২০৫৬. উম্মু সালামাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

উম্মু হাবীবাহ [রাদি.] বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার বোনের প্রতি কোন প্রয়োজন আছে কি? তিনি [সাঃআঃ] বলিলেনঃ তাহাকে দিয়ে আমার কি দরকার? তিনি বলিলেন, তাহাকে বিয়ে করবেন। তিনি বলিলেনঃ তোমার বোন? উম্মু হাবীবাহ [রাদি.] বলিলেন, হ্যাঁ। তিনি বলিলেনঃ তুমি এরূপ পছন্দ করো? তিনি বলিলেন, “আমি তো আপনার একমাত্র স্ত্রী না। কাজেই আমার ইচ্ছা, আমার বোনও আমার সাথে কল্যাণে শরীক হোক।” তিনি বলিলেনঃ আমার জন্য এরূপ হালাল নয়। উম্মু হাবীবাহ [রাদি.] বলিলেন, আল্লাহর কসম! আমি জেনেছি, আপনি আবু সালামাহর কন্যা দোররাহ-কে বিয়ে করিতে আগ্রহী? তিনি বলিলেনঃ তুমি বলিতে চাইছো আমি উম্মু সালামাহর কন্যাকে বিয়ে করিতে চাই। উম্মু হাবীবাহ [রাদি.] বলিলেন, হ্যাঁ। তিনি বলিলেনঃ সে আমার সপত্নী কন্যাও না হলেও তাহাকে বিয়ে করা আমার জন্য বৈধ হতো না। যেহেতু সে দুধ সম্পর্কের কারণে আমার ভ্রাতুস্পুত্রী। আমি এবং তার পিতা আবু সালামাহ উভয়কে সুয়াইবিয়্যাহ দুধ পান করিয়েছেন। সুতরাং তোমরা তোমাদের কন্যা ও ভগ্নিকে আমার জন্য পেশ করো না।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৮: দুধপিতা সম্পর্কে

২০৫৭. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবুল কুয়াইসের পুত্র আফলাহ [রাদি.] আমার কাছে এলে আমি তার থেকে পর্দা করলাম। তিনি বলিলেন, তুমি আমার থেকে পর্দা করছো? অথচ আমি তোমার চাচা। আমি বলিলাম, তা কেমন করে? তিনি বলিলেন, আমার ভাইয়ের স্ত্রী তোমাকে দুধ পান করিয়েছে। আয়িশাহ [রাদি.] বলিলেন, আমাকে তো একজন মহিলা দুধ পান করিয়েছেন, কোন পুরুষ তো নয়। এমন সময় আমার নিকট রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আসলেন। আমি তাঁকে ঘটনাটি জানালে তিনি বলিলেনঃ সে তোমার চাচা। সূতরাং সে তোমার নিকট আসতে পারে।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৯: বয়স্ক লোকের দুধপান সম্পর্কে

২০৫৮. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার কাছে এমন সময় আসলেন যখন তার নিকট একটি লোক উপস্থিত ছিলো। হাফস-এর বর্ণনায় রয়েছে, এ দৃশ্য দেখে নাবী [সাঃআঃ] অসন্তুষ্ট হলেন এবং তাহাঁর চেহারা বিবর্ণ হলো। অতঃপর উভয় বর্ণনাকারী একমত হয়ে বর্ণনা করেন যে, আয়িশাহ [রাদি.] বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! ইনি তো আমার দুধভাই। তিনি [সাঃআঃ] বলিলেনঃ যাচাই করে দেখো, কারা তোমার দুধ ভাই। কেননা দুধের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হইবে শুধুমাত্র ঐ সময় যখন শিশুর একমাত্র খাদ্য হইবে দুধ।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২০৫৯. ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, [দুধের দ্বারা] হাড় মজবুত করা এবং গোশত বৃদ্ধি করা ছাড়া দুধের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় না। তখন আবু মূসা আল-আশআরী [রাদি.] বলিলেন, এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করো না, এ বিষয়ে তোমরা জ্ঞাত।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২০৬০. ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি উপরোক্ত হাদিসের অনুরূপ অর্থবোধক হাদিস নাবী [সাঃআঃ] সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এই বর্ণনায় রয়েছেঃ যখন হাড় বিস্তৃত হয়। {২০৬০}

দুর্বলঃ মাওকুফ হওয়াটা সঠিক। যা এর পূর্বেরটিতে রয়েছে। ইরওয়া [২১৫৩], যয়ীফ আল-জামিউস সাগীর [৬২৯০]। {২০৬০} আহমাদ। আহমাদ শাকির বলেনঃ এর সনদ দুর্বল। সানাদে আবু মূসা হিলালী ও তার পিতা উভয়ে মাজহুল [অজ্ঞাত]। বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল মাওকুফ

অনুচ্ছেদ-১০: বয়স্ক লোক দুধপান করলে যা নিষিদ্ধ হয়

২০৬১. নাবী [সাঃআঃ] এর স্ত্রী আয়িশাহ ও উম্মু সালামাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আবু হুযাইফাহ ইবনি উতবাহ ইবনি রাবীআহ ইবনি আবদি শাম্‌স সালিমকে পালক পুত্র হিসেবে গ্রহণ করে তার সাথে স্বীয় ভাতিজী ওয়ালীদ ইবনি উতবাহ ইবনি রাবীআহ্‌র মেয়ে হিন্দাকে বিয়ে দেন। সালিম এক আনসারী মহিলার ক্রীতদাস ছিলো। যেমন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যায়িদকে পালক পুত্র হিসাবে লালন করেছিলেন। জাহিলী যুগের নিয়ম ছিলো, কেউ কাউকে পালক পুত্র হিসেবে গ্রহণ করলে লোকেরা তাহাকে ঐ ব্যক্তির পুত্র হিসেবে সম্বোধন করতো এবং ঐ লোক মারা গেলে পরিত্যক্ত সম্পদের উত্তরাধিকারীও তাহাকে করা হতো। কিন্তু যখন মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ এ আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ “তাহাদেরকে [পালক পুত্রদেরকে] তাহাদের [প্রকৃত] পিতার নামে ডাকবে। তারা তোমাদের দীনি ভাই ও বন্ধু” [সূরাহ আহ্‌যাবঃ ৫]। অতঃপর তাহাদের প্রকৃত পিতার নাম ধরেই ডাকা আরম্ভ হয়। আর পিতার সন্ধান না পাওয়া গেলে তাহাকে বন্ধু ও দীনি ভাই বলে ডাকা হতো। পরবর্তীতে আবু হুযাইফাহ ইবনি উত্ববাহর স্ত্রী সাহলা বিনতু সুহাইল ইবনি আমর আল-কুরাইশী আল-আমিরী [রাদি.] এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সালিমকে আমরা আমাদের পুত্র গণ্য করি। সে আমার ও আবু হুযাইফাহ্‌র সাথে একই ঘরে থাকে। আর সে আমাকে একই বস্ত্রের মধ্যে দেখেছে। আল্লাহ যা কিছু অবতীর্ণ করেছেন আপনি তা ভালভাবে অবহিত। এখন তার ব্যাপারে আপনি কি নির্দেশ দেন? নাবী [সাঃআঃ] বলিলেনঃ তাহাকে তোমার দুধ পান করাও। সুতরাং তিনি তাহাকে পাঁচ ঢোক দুধ পান করান। তখন থেকে সে তার দুধ পানকারী সন্তান গন্য হয়। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে আয়িশাহ [রাদি.] তার ভাগ্নী ও ভাতিজীদেরকে নির্দেশ দিতেন যে, আয়িশাহ [রাদি.] নিজে যাদেরকে সাক্ষাত দান ও যাদের আগমন পছন্দ করিতেন, তাহাদেরকে যেন পাঁচ ঢোক নিজেদের দুধ পান করানো হয়, তাহাদের বয়স দুধ পানের বয়সের [দুবছরের] বেশী হয়েও। অতঃপর তারা আয়িশাহর কাছে  আসতো। কিন্তু উম্মু সালামাহ [রাদি.] এবং নাবী [সাঃআঃ] এর অন্যান্য স্ত্রীগণ যে কোন ব্যক্তিকে এরূপ দুধসন্তান বানিয়ে তাহাদের কাছে উপস্থিত হওয়ার বিষয়টি বর্জন করিলেন, যতক্ষণ না শিশু বয়সে দুধ পান করা হয়। তারা আয়িশাহ [রাদি.]-কে বলিলেন, আল্লাহর শপথ! আমাদের জানা নেই, সম্ভবত সালিমের বিষয়ে এটা নাবী [সাঃআঃ] এর একটি বিশেষ অনুমোদন ছিলো যা অন্য কারোর জন্য প্রযোজ্য নয়।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১১: পাঁচ ঢোকের কম দুধপানে নিষিদ্ধ সম্পর্ক স্থাপিত হয় কিনা?

২০৬২. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মহান আল্লাহ কুরআনে প্রথম অবতীর্ণ করেছিলেন যে, দশ ঢোক দুধ পান করলেই বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন হারাম। অতঃপর এ বিধান মান্‌সূখ করে পাঁচ ঢোক পানে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন হারামের বিধান বহাল করা হয়। কুরআনের এই বিধান পাঠ বহাল রেখেই নাবী [সাঃআঃ] ইনতিকাল করেছেন।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২০৬৩. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ একবার অথবা দুইবার চোষার কারণে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন হারাম হয় না।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১২: দুধপান ছাড়ার সময় প্রতিদান দেয়া

২০৬৪. হাজ্জাজ ইবনি হাজ্জাজ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি বলি, হে আল্লাহর রাসূল! আমার দুধের হক কিভাবে পূর্ণরূপে আদায় হইতে পারে? তিনি বলিলেনঃ একটি দাস বা দাসী প্রদানের দ্বারা। {২০৬৪}

দুর্বলঃ মিশকাত [৩১৭৪], যয়ীফ সুনান আত-তিরমিজি [১৯৬/১১৬৯], যয়ীফ সুনান নাসায়ী [২১৩/৩৩২৯]। {২০৬৪} নাসায়ী, তিরমিজি। ঈমাম তিরমিজি বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান সহিহ। হাদিসের সানাদে হাজ্জাজ রয়েছে। হাফিয বলেনঃ তিনি মাক্ববূল। অর্থাৎ মুতাবাআতের ক্ষেত্রে। ইবনি হিব্বান ছাড়া কেউ তাহাকে সিক্বাহ বলেননি। যয়ীফ আবু দাউদ উম্ম হা/৩৫১। বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৩: যেসব মহিলাকে একত্রে বিয়ে করা জায়িয নয়

২০৬৫. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ কোন নারীকে তার ফুফুর সাথে এবং কোন ফুফুকে তার ভাতিজীর সাথে একত্রে বিয়ে করা যাবে না। অনুরূপভাবে কোন নারী ও তার খালা এবং কোন খালা ও তার ভাগ্নীকে একত্রে বিয়ে করা যাবে না। অনুরূপ বড় [বোন]-কে ছোট [বোনের] সাথে এবং ছোটকে বড় [বোনের] সাথেও একত্রে বিয়ে করা যাবে না।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২০৬৬. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কোন মহিলাকে তার খালার সাথে এবং কোন মহিলাকে তার ফুফুর সাথে একত্রে বিয়ে করিতে নিষেধ করেছেন।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২০৬৭. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] এমন দুই মহিলাকে একত্রে বিয়ে করিতে নিষেধ করেছেন যাদের পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক হচ্ছে ফুফু ও ভাতিজী এবং খালা ও ভাগ্নী। অনুরূপভাবে তিনি এমন দুজন মহিলাকেও একত্রে বিয়ে করিতে নিষেধ করেছেন যারা পরস্পর খালা বা ফুফু। {২০৬৭}

{২০৬৭} তিরমিজি, আহমাদ। বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২০৬৮. ইবনি শিহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, উরওয়াহ ইবনিয যুবাইর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আমাকে বলেন যে, তিনি নাবী [সাঃআঃ] এর স্ত্রী আয়িশা [রাদি.]-কে এ আয়াতের অর্থ জিজ্ঞেস করেছিলেনঃ “তোমরা যদি ভয় করো, ইয়াতীমদের প্রতি ইনসাফ করিতে পারবে না, তাহলে তোমরা তোমাদের পছন্দ অনুযায়ী অন্য মহিলা বিয়ে করো” [সূরাহ আন-নিসাঃ৩]। তিনি বলিলেন, হে আমার ভাগ্নে! এ আয়াত ঐসব ইয়াতীম বালিকা সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, যারা কারো তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং সে তার সম্পদের অংশীদার। সে তার সৌন্দর্য ও সম্পদকেও পছন্দ করে। এমতাবস্থায় সে তাহাকে বিয়ে করিতে আগ্রহী, কিন্তু অন্য মহিলাকে তার অনুরূপ মোহর আদায় করিতে অনিচ্ছুক। এরূপ অভিভাবকদেরকে ঐ ইয়াতীম বালিকাদের বিয়ে করিতে নিষেধ করা হয়েছে যতক্ষণ না তারা তাহাদের পূর্ণ মোহর দেয় এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করে। আর তাহাদেরকে নিজেদের পছন্দমতো অন্য মহিলা বিয়ে করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উরওয়ার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আয়িশাহ [রাদি.] বলিয়াছেন, পরবর্তীতে লোকেরা এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইয়াতীম বালিকাদের বিষয়ে ফাতাওয়াহ চাইলে মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ ও আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “লোকেরা আপনার কাছে নারীদের বিষয়ে ফাতাওয়াহ জিজ্ঞেস করে। আপনি বলুন, আল্লাহ তাহাদের সম্পর্কে তোমাদেরকে সমাধান দিয়েছেন। এ কিতাবের মাধ্যমে শুনানো হচ্ছে হুকুমগুলো এই যে, তাহাদের জন্য যে মোহার নির্ধারিত তোমরা তা আদায় করো না অথচ তোমরা তাহাদেরকে বিবাহ করিতে আগ্রহী।” [নিসাঃ ১২৭]। আয়িশাহ [রাদি.] বলেন, এ বিষয়ে মহান আল্লাহর কিতাবের মধ্যে তাহাদের উপর যা অবতীর্ণ করেছেন তা হচ্ছে, প্রথমের সে আয়াতটি যেখানে আল্লাহ বলিয়াছেন, “তোমরা যদি ভয় করো যে, ইয়াতীমদের প্রতি ইনসাফ করিতে পারবে না। তাহলে তোমরা নিজেদের পছন্দ মোতাবেক অন্য নারী বিয়ে করো।” আয়িশাহ [রাদি.] বলেন, মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ অন্য আয়াতে বলিয়াছেন, ইয়াতীম বালিকা সুন্দরী এবং সম্পদশালী না হলে অভিভাবকরা এর কমতি দেখিয়ে তাহাদেরকে বাদ দিয়ে অন্য নারী বিয়ে করতো। সুতরাং তাহাদেরকে বলা হয়েছে, স্বার্থের বেলায় পূর্ণ ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করো এবং পুরো মোহর আদায় করা ছাড়া এসব ইয়াতীমকে বিয়ে করিতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ তারা এসব ইয়াতীমের হক আদায় করিতে চাইতো না। ইউনুস বলেন, রাবীআ, আল্লাহর বাণী- {…………………………..}

-এর অর্থ বলিয়াছেন, তোমরা যদি ভয় করো যে, ইয়াতীমদের প্রতি ইনসাফ করিতে পারবে না, তবে তাহাদেরকে পরিত্যাগ করো। কেননা আমি তোমাদের জন্য চারজন মহিলা পর্যন্ত বিয়ে করা হালাল করেছি।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২০৬৯. ইবনি শিহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আলী ইবনিল হুসাইন [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তাহাকে বর্ণনা করেন যে, হুসাইন ইবনি আলী [রাদি.]-এর শাহাদাতের পর যখন তারা ইয়াযীদ ইবনি মুআবিয়াহ্র নিকট থেকে মদিনায় আসলেন, তখন আল-মিসওয়ার ইবনি মাখরামাহ [রাদি.] তার সাথে সাক্ষাত করে বলিলেন, আপনি আমার উপর কোন কাজের দায়িত্ব অর্পণ করবেন কি? তিনি বলিলেন, না। এরপর মিসওয়ার বলিলেন, আপনি কি আমাকে রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] তলোয়ার খানি দিবেন? কেননা আমার আশংকা হচ্ছে, লোকেরা আপনার উপর প্রভাব বিস্তার করিবে। আল্লাহর শপথ! আপনি আমাকে তা দান করলে কেউ আমার দেহকে নিঃশেষ না করা পর্যন্ত তা ছিনিয়ে নিতে পারবে না। আলী ইবনি আবু ত্বালিব [রাদি.] ফাত্বিমাহ [রাদি.] বর্তমান থাকতে আবু জাহলের কন্যাকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠালেন। আমি নাবী [সাঃআঃ]-কে এই মিম্বারের উপর লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে শুনিয়াছি। তখন আমি যুবক ছিলাম। তিনি বলিয়াছেনঃ ফাত্বিমাহ আমার দেহের একটি অংশ। আর আমার ভয় হচ্ছে, সে দীনী ফ্যাসাদে পতিত হইবে। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি [সাঃআঃ] বনি আবদি শাম্সের সাথে শ্বশুর-জামাতার সম্পর্কের আলাপ করিলেন। আর উক্ত শ্বশুর সম্পর্কীয় আত্মীয়তার ভূয়সী প্রশংসাই করিলেন। তিনি বলেনঃ সে [জামাতা] আমার সাথে যে কথা দিয়েছিল তা সত্যে পরিণত করেছে এবং যে ওয়াদা করেছিল তাও পূরণ করেছে। কোন হালাল জিনিসকে হারাম এবং হারাম জিনিসকে হালাল করার অধিকার আমার নেই। তবে আল্লাহর শপথ! আল্লাহর রাসূলের কন্যা এবং আল্লাহর দুশমনের কন্যা কখনো এক জায়গায় একত্রে হইতে পারে না।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২০৭০. ইবনি আবু মূলাইকাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

ইবনি আবু মূলাইকাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এ হাদিস প্রসঙ্গে বলেন, অতঃপর আলী [রাদি.] সে বিবাহের সংকল্প ত্যাগ করেন।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২০৭১. আল-মিসওয়ার ইবনি মাখরামাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে মাসজিদের মিম্বারের উপর বলিতে শুনেছিঃ হিশাম ইবনিল মুগীরাহ্র বংশের লোকেরা তাহাদের বংশের এক কন্যাকে আলী ইবনি আবু ত্বালিবের কাছে বিয়ে দিতে অনুমতি চাইছে। কিন্তু আমি অনুমতি দিবো না, তারপরও আমি অনুমতি দিবে না, অনুমতি দিবো না। অবশ্য আবু ত্বালিবের পুত্র আমার কন্যাকে তালাক দিলে সে তাহাদের কন্যা বিয়ে করিতে পারবে। কারণ আমার কন্যা আমার দেহেরই একটি অংশ। যেটা তার অপছন্দ, সেটা আমারও অপছন্দ এবং তাহাকে যা দুঃখ দেয়, তা আমাকেও দুঃখ দেয়। আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, হাদিসের এই অংশটি ঈমাম আহমদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সূত্রে বর্ণিত।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৪: মুতআহ বিবাহ

২০৭২. আয-যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আমরা উমার ইবনি আবদুল আযীযের [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] নিকট ছিলাম। তখন আমরা নারীদের মুতআহ [সাময়িক] বিয়ে নিয়ে আলাপ করলাম। রাবী ইবনি সাবুরাহ নামক জনৈক ব্যক্তি বলিলেন, আমি আমার পিতা সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি বর্ণনা করেছেন, বিদায় হাজ্জের সময় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মুতআহ নিষিদ্ধ করে দেন। {২০৭২}

শায। মাহফূয হচ্ছেঃ মাক্কাহ বিজয়ের সময়। ইরওয়া [১৯০১]। {২০৭২} আহমাদ, বায়হাক্বী। বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ শায

২০৭৩. রাবী ইবনি সাবুরাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতা হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নারীদের সাথে মুতআহ বিয়ে হারাম করেছেন।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৫: আশ-শিগার পদ্ধতির বিয়ে

২০৭৪.ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] শিগার নিষিদ্ধ করেছন। মুসাদ্দাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তার বর্ণনায় বলেন, আমি নাফি [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-কে জিজ্ঞেস করি, শিগার কি? তিনি বলিলেন, “কোন ব্যক্তি নিজের কন্যাকে অন্য ব্যক্তির সাথে বিয়ে দিবে এ শর্তে যে, ঐ ব্যক্তিও তার কাছে তার কন্যা বিয়ে দিবে মোহর ছাড়া। অথবা কোন ব্যক্তি নিজের বোনকে অন্য এক ব্যক্তির নিকট বিয়ে দিবে এ শর্তে যে, তার বোনকে এ ব্যক্তি বিয়ে করিবে মোহর ছাড়া”।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২০৭৫. আবদুর রহমান ইবনি হুরমুয আল-আরাজ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আল-আব্বাস ইবনি আবদুল্লাহ ইবনিল আব্বাস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তার কন্যাকে আবদুর রহমান ইবনিল হাকামের সাথে বিয়ে দেন, আবার আবদুর রহমান তার কন্যাকে আল-আব্বাসের কাছে বিয়ে দেন। তারা উভয়ে এই পারস্পরিক বিয়েকে মোহর গণ্য করেন। এ খবর শুনে মুআবিয়াহ [রাদি.] তাহাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে মাওয়ানের কাছে নির্দেশনামা লিখে পাঠান। তিনি তার ফরমানে বলেন, এটা শিগার, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এরূপ করিতে নিষিদ্ধ করেছেন।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৬: তাহলীল প্রসঙ্গে

২০৭৬. আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

ইসমাঈল বলে ন, আমার ধারণা তিনি হাদিসটি নাবী [সাঃআঃ] সূত্রে মারফুভাবে বর্ণনা করেছেন। নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি তালাক দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিবাহ করে, সে এবং যে স্বামী তালাক দেয়ার পর পুনরায় গ্রহণের ইচ্ছায় তাহাকে অন্যের নিকট বিবাহ দিয়ে তার জন্য হালাল করে নেয়, তারা উভয়ে অভিশপ্ত।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২০৭৭. হারিস আল-আওয়ার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে নাবী [সাঃআঃ] এর জনৈক সাহাবী হইতে বর্ণীতঃ

[বর্ণনাকারী বলেন] আমাদের ধারণা, তিনি আলী [রাদি.], যিনি নাবী [সাঃআঃ] সূত্রে উক্ত হাদিসের সমার্থক বর্ণনা করেছেন।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৭: মনিবের বিনা অনুমতি ক্রীতদাসের বিয়ে করা

২০৭৮. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যে কোন ক্রীতদাস তার মনিবের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করিবে সে ব্যভিচারী।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

২০৭৯, ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ কোন ক্রীতদাস তার মনিবের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে তার বিয়ে বাতিল গণ্য হইবে। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, এ হাদিসটি যয়ীফ ও মাওকূফ। এটা ইবনি উমারের [রাদি.] উক্তি। {২০৭৯}

{২০৭৯} বায়হাক্বী। সানাদে আবদুল্লাহ বিন উমার আল-উমরী সম্পর্কে হাফিয বলেনঃ যয়ীফ। আলবানী বলেনঃ তার স্মরণশক্তি ভাল নয়। বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৮: কেউ তার অপর ভাইয়ের বিয়ের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব দেয়া অপছন্দনীয়

২০৮০. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ কেউ যেন তার ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর নিজের প্রস্তাব না দেয়।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২০৮১. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ তোমাদের কেউ যেন তার [মুসলিম] ভাইয়ের বিয়ের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়। আর কেউ যেন তার ভাইয়ের ক্রয়ের উপর দর-দাম না করে, অবশ্য সে অনুমতি দিলে ভিন্ন কথা।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৯: বিয়ের উদ্দেশে পাত্রী দেখা প্রসঙ্গ

২০৮২. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ তোমাদের কেউ যখন কোন নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দিবে তখন সম্ভব হলে তার এমন কিছু যেন দেখে নেয় যা তাহাকে বিবাহে উৎসাহিত করে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি একটি মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেবার পর তাহাকে দেখার আকাঙ্ক্ষা-অন্তরে গোপন রেখেছিলাম। অতঃপর আমি তার মাঝে এমন কিছু দেখি যা আমাকে তাহাকে বিয়ে করিতে আকৃষ্ট করলো। অতঃপর আমি তাহাকে বিয়ে করি।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

অনুচ্ছেদ-২০: ওয়ালী সম্পর্কে

২০৮৩. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ কোন নারী তার অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে তার সে বিয়ে বাতিল। তিনি একথাটি তিনবার বলিয়াছেন। আর সে যদি তার সাথে সহবাস করে, তাহলে এজন্য তাহাকে মোহর দিবে। যদি উভয় পক্ষের [অভিভাবকদের] মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়, তাহলে শাসক হইবেন তার অভিভাবক। কারণ যাদের অভিভাবক নাই তার অভিভাবক শাসক।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২০৮৪. আয়িশাহ [রাদি.] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি নাবী [সাঃআঃ] হইতে উপরোক্ত হাদিসের অর্থানুরূপ বর্ণনা করেন। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বরেন, জাফার  যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে শুনেননি, বরং যুহরী তাহাকে লিখে পাঠিয়েছেন। {২০৮৪}

আমি এটি সহিহ এবং যঈফেও পাইনি। {২০৮৪} সানাদে ইবনি লাহিয়্যাহ একজন মুদাল্লিস এবং তিনি এটি আন্ আন্ শব্দে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া সনদের জাফার বিন রবীআহ হাদিসটি যুহরী থেকে শুনেননি। সুতরাং তা মুনকাতি। বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

২০৮৫. আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ অভিভাবক ছাড়া কোন বিয়েই হইতে পারে না। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, হাদিসটির সনদ হলোঃ ইউনুস আবু বুরদাহ হইতে, আর ইসরাঈল আবু ইসহাক্ব হইতে আবু বুরদাহ সূত্রে।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২০৮৬. উম্মু হাবীবাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি [উবাইদুল্লাহ] ইবনি জাহ্শের স্ত্রী ছিলেন। স্বামী মারা গেলে তিনি হিজরাতকারীদের সাথে হাবশায় হিজরাত করেন। অতঃপর হাবশার বাদশা নাজ্জাশী রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] সাথে তাহাকে বিয়ে দেন। তিনি [অভিভাবক ছাড়া] তাহাদের কাছেই অবস্থান করেন।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২১: নারীদেরকে বিয়েতে বাধা দেয়া নিষেধ

২০৮৭. হাসান বাসরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মাক্বিল ইবনি ইয়াসার [রাদি.] আমাকে বর্ণনা করেন যে, আমার এক বোন ছিলো। আমার নিকট তার বিয়ের ব্যাপারে পয়গাম আসতো। একদা আমার এক চাচাত ভাই আমার কাছে এলে আমি তার সাথে আমার বোনকে বিয়ে দিলাম। পরে সে তাহাকে এক তালাক রাজঈ দিয়ে ফেলে রাখলো এমনকি তার ইদ্দাতকাল শেষ হলো। অতঃপর যখন তার বিয়ের পয়গাম আসতে থাকলো। আমার চাচাত ভাইও পুনরায় আমার কাছে পয়গাম পাঠালে আমি বলিলাম, আল্লাহর শপথ! আমি তাহাকে তার কাছে কখনোই বিয়ে দিবো না। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আমাকে কেন্দ্র করেই এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ “যখন তোমারা নারীদের তালাক দিবে, ইদ্দাতকাল শেষ হওয়ার পর যদি তারা তাহাদের পূর্ব-স্বামীকে বিয়ে করিতে চায়, তাহলে তোমারা তাহাদেরকে বাধা দিও না” … [সূরাহ আল-বাক্বারাহঃ ২৩২]। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমি আমার শপথের কাফ্ফারাহ দিয়ে বোনকে তার সাথে বিয়ে দেই।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২২: কোন নারীকে দুজন ওয়ালী বিয়ে দিলে

২০৮৮. সামুরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ কোন নারীকে যদি দুই অভিভাবক বিয়ে দেয়, তবে প্রথম ওয়ালীর বিয়ে কার্যকরী হইবে। কোন ব্যক্তি যদি দুই লোকের কাছে কোন জিনিস বিক্রি করে তাহলে দুজনের মধ্যে প্রথম ক্রেতাই তার প্রাপক। {২০৮৮}

দুর্বলঃ যয়ীফ আল-জামিউস সাগীর [২২২৪], যয়ীফ সুনান আত-তিরমিজি [১৮৯/১১২২], যয়ীফ সুনান নাসায়ী [৩১৬/৪৬৮২], মিশকাত [৩১৫৬], ইরওয়া [১৮৫৩]।

{২০৮৮} তিরমিজি, নাসায়ী। ঈমাম তিরমিজি বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান। সানাদে হাসান বাসরী একজন মুদাল্লিস এবং তিনি এটি আন্ আন্ শব্দে বর্ণনা করেছেন। বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-২৩: মহান আল্লাহর বাণীঃ “জোরপূর্বক কোন মহিলার মালিক হওয়া তোমাদের জন্য বৈধ নয়। আর তোমরা তাহাদের অবরুদ্ধ করিবে না” [সূরাহ আন-নিসাঃ ১৯]

২০৮৯,. আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

“জোরপূর্বক কোন মহিলার মালিক হওয়া তোমাদের জন্য বৈধ নয়। আর তোমরা তাহাদের অবরুদ্ধ করিবে না [সূরাহ আন-নিসাঃ ১৯] এ আয়াতের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, [জাহেলী যুগে] কোন ব্যক্তি মারা গেলে মৃতের ওয়ারিসরা মৃতের স্ত্রীর অভিভাবকের পরিবর্তে নিজেরাই মালিক হতো। ইচ্ছে হলে তাহাদের কেউ তাহাকে বিয়ে করতো বা তাহাকে অন্যত্র বিয়ে দিতো, অথবা বিয়ে দিতো না। এ প্রসঙ্গে উক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২০৯০. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, “জোরপূর্বক কোন মহিলার মালিক হওয়া তোমাদের জন্য বৈধ নয়। তোমরা তাহাদের যা দিয়েছ তা থেকে কিছু আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে তাহাদেরকে অবরুদ্ধ করে রেখো না, যদি না তারা স্পষ্ট ব্যভিচার করে”[সূরাহ আন-নিসাঃ ১৯]। এ আয়াত অবতীর্ণের কারণ হলো, [জাহিলী যুগে] পুরুষরা তাহাদের নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুর পর তাহাদের স্ত্রীদেরও মালিক হয়ে যেতো এবং তাহাকে এমনভাবে অতিষ্ট করে তুলতো যে, হয়তো সে মারা যেতো অথবা তার মোহরানা তাহাদেরকে দিত্যে বাধ্য হতো। ফলে আল্লাহ এরূপ কাজ নিষিদ্ধ করেন।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

২০৯১. উমার [রাদি.] এর মুক্তদাস উবাইদুল্লাহ হইতে দহহাক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, মহান আল্লাহ [এ আয়াতে] মানুষকে নসীহত করেছেন।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২৪: মেয়েদের কাছে বিয়ের অনুমতি চাওয়া

২০৯২. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ কোন বিধবা মহিলাকে তার অনুমতি ছাড়া এবং কোনা কুমারীকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেয়া যাবে না। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তার অনুমতি কি? তিনি বলিলেনঃ চুপ থাকা।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২০৯৩. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ ইয়াতীম কুমারী মেয়ে থেকে  সম্মতি নিতে হইবে। তার চুপ থাকাই তার সম্মতি। সে অসম্মতি প্রকাশ করলে তার উপর কোন জবরদস্তি করা চলবে না।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

২০৯৪. মুহাম্মাদ ইবনি আমর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

পূর্বোক্ত হাদিস উক্ত সানাদে বর্ণিত। তবে তাতে আরো রয়েছেঃ “তিনি [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যদি সে কাঁদে অথবা নীরব থাকে। এখানে বাকাত্ শব্দটি অতিরিক্ত। আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, বাকাত্ শব্দটি নির্ভরযোগ্য নয়। এটি হাদিসের মধ্যে সংশয়। যা ইবনি ইদরীস থেকে হয়েছে। আর আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন, আমি বলিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! কুমারী [বিয়ের] কথাবার্তা বলিতে লজ্জাবোধ করে। তিনি বলিলেনঃ তার চুপ থাকা তার সম্মতি।

আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিসটি শায। আয়িশাহ বর্ণিত হাদিসটি সহিহ। ইরওয়া [১৮৩৪, ১৮৩৮] বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

২০৯৫, ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ নারীদের থেকে তাহাদের কন্যাদের ব্যাপারে পরামর্শ নাও। {২০৯৫}

দুর্বলঃ যয়ীফ আল-জামিউস সাগীর [১৪]। {২০৯৪} আহমাদ, বায়হাক্বী। সানাদে একজন অস্পষ্ট [মুবহাম] লোক রয়েছে যার থেকে ইসমাঈল বর্ণনা করেছেন। আল্লামা মুনযিরী বলেনঃ সানাদে একজন [মাজহুল] অজ্ঞাত লোক রয়েছে। বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-২৫: যদি পিতা তার কুমারী কন্যাকে তার অমতে বিয়ে দেন

২০৯৬, ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদা নাবী [সাঃআঃ] এর নিকট এক যুবতী এসে বললো, তার অসম্মতিতে তার পিতা তাহাকে বিয়ে দিয়েছে। নাবী [সাঃআঃ] তাহাকে এখতিয়ার প্রদান করিলেন [সে বিয়ে রাখতেও পারে অথবা বিচ্ছেদ ঘটাতেও পারে]।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২০৯৭. ইকরিমাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি উক্ত হাদিস নাবী [সাঃআঃ] সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, বর্ণনাকারী হাম্মাদ ইবনি যায়িদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ইবনি আব্বাসের [রাদি.] নাম উল্লেখ করেননি। অনুরূপভাবে অন্যরাও হাদিসটি মুরসালভাবে বর্ণনা করেছেন। আর এটাই প্রসিদ্ধ। {২০৯৭}

আমি এটি সহিহ এবং যঈফেও পাইনি। {২০৯৭} হাদিসটি মুরসাল। বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

অনুচ্ছেদ-২৬: স্বামীহীনা [তালাক্ব প্রাপ্তা বা বিধবা] নারী প্রসঙ্গে

২০৯৮. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ বিধবা মহিলা [বিয়ের ব্যাপারে] তার অভিভাবকের চেয়ে নিজেই অধিক হকদার এবং কুমারীর বিয়ের ব্যাপারে তার সম্মতি নিতে হইবে, তার নীরব থাকা সম্মতি গণ্য হইবে। হাদিসের মূল পাঠ আল-কানাবীর।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২০৯৯.আবদুল্লাহ ইবনিল ফাদল [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

উক্ত সানাদে অনুরূপ অর্থে বর্ণিত। বিধবা নারী [নিজের বিয়ের ব্যাপারে] তার অভিভাবকের চাইতে নিজেই অধিক কর্তৃত্বসম্পন্ন। আর কুমারী মেয়ে থেকে তার পিতা সম্মতি নিবে। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, হাদিসের আবুহা [তার পিতা] শব্দটি সংরক্ষিত নয়।

সহীহঃ পিতার কথা উল্লেখ বাদে [আরবী] শব্দে। ইরওয়া [১৮৩৩]। বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২১০০. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ বিধবা নারীর উপর তার অভিভাবকের কোন কর্তৃত্ব নাই, আর ইয়াতীম কুমারী মেয়ে থেকে অনুমতি নিতে হইবে এবং তার চুপ থাকাই তার সম্মতি।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২১০১.খানসাআ বিনতু খিযাম আল-আনসারিয়্যাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তার পিতা তাহাকে বিয়ে দেন তখন তিনি বয়স্কা [সাবালিকা]। তিনি এ বিয়ে অপছন্দ করিলেন। অতঃপর তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর কাছে এসে অভিযোগ করলে তিনি তার এ বিয়ে বাতিল করে দেন।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২৭: সমতা

২১০২. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদা আবু হিন্দ নাবী [সাঃআঃ] এর মাথার তালুতে শিংগা লাগান। নাবী [সাঃআঃ] বলিলেনঃ হে বায়াদাহ গোত্রের লোকেরা! তোমাদের গোত্রের একটি মেয়ে আবু হিন্দের কাছে বিয়ে দাও। ফলে তারা তাহাদের একটি কন্যা তার কাছে বিয়ে দিলো। তিনি বলিলেনঃ তোমরা যেসব চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করো সেসবের কোনটিতে উপকার থাকলে তা শিংগা লাগানোতেই রয়েছে।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

অনুচ্ছেদ-২৮: জন্মগ্রহণের আগেই বিয়ে দেয়া

২১০৩. সারাহ বিনতু মিক্বসাম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি মায়মূনা বিনতু কারদাম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-কে বলিতে শুনেছেন, রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] হাজ্জের বছরে আমি আমার পিতার সাথে বের হলাম। অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে দেখে আমার পিতা তাহাঁর নিকট উপস্থিত হলেন। এ সময় তিনি তাহাঁর উষ্ট্রীর উপর ছিলেন এবং তাহাঁর সাথে ছিলো শিক্ষকদের হাতে যেরূপ দোররা থাকে সেরূপ দোররা। এ সময় আমি আরব ও অন্যান্যদের বলিতে শুনলাম, দোররা থেকে দূরে থাকো, দোররা থেকে দূরে থাকো, দোররা থেকে দূরে থাকো। অতঃপর আমার পিতা তাহাঁর কাছে গিয়েই তাহাঁর পা দুখানা জড়িয়ে ধরে তাহাঁর রিসালাতের স্বীকৃতি দেন, তার কাছে অবস্থান করেন এবং তার কথা শুনেন। আমার পিতা বলেন, আমি [জাহেলী যুগে] আসরান যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। ইবনিল মুসান্নার বর্ণনায় রয়েছে গাস্রান। তখন তারিক ইবনিল মুরাক্কা বললো, আামাকে এর বিনিময়ে কে একটি তীর দিবে? আমি বলিলাম, এর বিনিময় কি? সে বললো, আমার সর্বপ্রথম যে কন্যাটি জন্মগ্রহণ করিবে তাহাকে তার সাথে বিয়ে দিবো। আমি আমার তীরটি তাহাকে দিলাম। এরপর আমি তাহাদের কাছ থেকে চলে গেলাম। পরে আমি জানতে পারলাম, তার কন্যা সন্তান জন্ম হয়েছে এবং সে সাবালিকাও হয়েছে। অতঃপর আমি তার নিকট গিয়ে বলিলাম, আমার স্ত্রী আমাকে দিন। সুতরাং তারা তাহাকে আমার নিকট সোপর্দ করিতে প্রস্তুতি নিলো। কিন্তু সে [পিতা] শপথ করে বললো, অতিরিক্ত কিছু মোহর না দিলে কন্যাকে দিবো না। অপরদিকে আমিও শপথ করি, তাহাকে পূর্বে যা দিয়েছি, তা ছাড়া অতিরিক্ত কিছু দিবো না। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ বর্তমানে সে একজন মহিলা। হয়তো সে তোমাকে [বৃদ্ধ] দেখেছে। তিনি আরো বলিলেনঃ আমার ইচ্ছা, তুমি তাহাকে ত্যাগ করো। তিনি [কারদাম] বলেন, আমি আমার শপথের জন্য ভীত হলাম এবং রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] দিকে তাকালাম। তিনি আমার অবস্থা অনুধাবন করে বলিলেনঃ [শপথের কারণে] তোমার কোন গুনাহ হইবে না এবং তোমার প্রতিপক্ষেরও কোন গুনাহ হইবে না। {২১০৩}

{২১০৩} আহমাদ, আবু নুআইম হিলয়্যা। সানাদে সারা বিনতু মিকসাম রয়েছে। হাফিয বলেনঃ তাহাকে চেনা যায়নি। আল্লামা মুনযিরী বলেনঃ এই হাদিসের সানাদে গরমিল আছে, এবং সানাদে একজন অপরিচিত লোক রয়েছে। বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২১০৪. ইবরাহীম ইবনি মাইসারার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] খালা হইতে জনৈক মহিলা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, জাহিলী যুগে আমার পিতা এক যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন এবং তাতে বালির গরমে চলাফেরা অসহনীয় হয়ে পড়ে। তখন এক ব্যক্তি বললো, কে আমাকে তার জুতাজোড়া দিবে? এর বিনিময়ে আমার সর্বপ্রথম যে কন্যাটি জন্মলাভ করিবে, তাহাকে তার সাথে বিয়ে দিবো। এ কথা শুনে আমার পিতা তার জুতাজোড়া তাহাকে দিলেন। অতঃপর তার একটি কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করলো এবং সে সাবালিকাও হলো। অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্ব বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেন তবে এতে আল-কাতীর শব্দটি উল্লেখ নেই। {২১০৪}

{২১০৪} ডক্টর সাইয়্যিদ মুহাম্মাদ সাইয়্যিদ বলেনঃ এই হাদিসের সানাদে একাধিক অজ্ঞাত লোক রয়েছে। আলবানী বলেনঃ এর সনদ দুর্বল। সানাদে ইবরাহীম ইবনি মাইসারার খালা মাজহুল। বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-২৯: মোহরানা সম্পর্কে

২১০৫. আবু সালামাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ [রাদি.]-কে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর [স্ত্রীদের] মোহরানা সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, বারো উকিয়া ও এক নাস্স। আমি বলিলাম, নাস্স্ কি? তিনি বলিলেন, এক উকিয়ার অর্ধেক।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২১০৬. আবুল আজফা আস্‌-সুলামী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা উমার [রাদি.] আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণে বলেন, সাবধান! তোমরা নারীদের মোহর নির্ধারণে সীমালঙ্ঘন করো না। কারণ যদি তা দুনিয়ার মর্যাদার বস্তু হতো এবং আল্লাহর নিকট পরহেজগারীর বস্তু হতো, তবে তোমাদের চেয়ে নাবী [সাঃআঃ] হইতে এর যোগ্যতম ব্যক্তি। অথচ তিনি তাহাঁর স্ত্রীদের কারো মোহর এবং তাহাঁর কন্যাদের কারো মোহর বারো উকিয়ার অধিক ধার্য করেননি।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

২১০৭. উম্মুল মুমিনীন উম্মু হাবীবাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি ছিলেন উবাইদুল্লাহ ইবনি জাহশের স্ত্রী। অতঃপর উবাইদুল্লাহ হাবশায় মারা গেলে হাবশার বাদশা নাজ্জাশী নাবী [সাঃআঃ]-এর সাথে তাহাঁর বিয়ে দেন এবং তাহাঁর পক্ষ হইতে মোহর আদায় করেন। অতঃপর তিনি তাহাকে শুরাহবীল ইবনি হাসানাহ্র মাধ্যমে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট পাঠিয়ে দেন। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, হাসানাহ হলেন শুরাহবীলের মা।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২১০৮. আয-যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আন-নাজ্জাশী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আবু সুফিয়ানের-কন্যা উম্মু হাবীবাহ [রাদি.]-কে রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] সাথে বিয়ে দেন এবং এতে মোহর ধার্য করেন চার হাজার দিরহাম। তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করলে তিনি তা কবুল করেন। {২১০৮}

{২১০৮} হাদিসটি মুরসাল। বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩০: মোহরের সর্বনিম্ন পরিমাণ

২১০৯. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদা রাসূলাল্লাহ [সাঃআঃ] আবদুর রহমান ইবনি আওফের [রাদি.] শরীরে জাফরানের চিহ্ন দেখিতে পেয়ে বলিলেন, এটা কি? তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি এক মহিলাকে বিয়ে করেছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তাহাকে কি পরিমাণ মোহর প্রদান করেছো? তিনি বলেন, খেজুরের আঁটির সমপরিমাণ ওজনের স্বর্ণ। নাবী [সাঃআঃ] বলিলেনঃ বিবাহভোজের আয়োজন করো, যদিও তা একটি বকরী দ্বারাও হয়।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২১১০. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ কোন ব্যক্তি মোহর হিসেবে এক মুষ্টি ছাতু অথবা খোরমা দিলে তার বিয়ে বৈধ। {২১১০}

দুর্বলঃ যয়ীফ আল-জামিউস সাগীর [৫৪৫৩], মিশকাত [৩২০৫]। জাবির [রাদি.] অপর একটি হাদিসে বর্ণনা করেন, আমরা রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] সময় এক মুষ্টি খাদ্যের বিনিময়ে ফায়দা ভোগ করতাম। এরূপ হতো মুতআহ বিবাহের ক্ষেত্রে। আবু দাউদ বলেন, ইবনি জুরাইজ আবুয-যুবাইরের উদ্ধৃতি দিয়ে জাবির [রাদি.] সূত্রে আবু আসিমের অনুরূপ অর্থে হাদিস বর্ণনা করেছেন। সহিহ। বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩১: কাজের বিনিময়ে বিয়ে

২১১১. সাহল ইবনি সাদ আস সাঈদী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট জনৈক মহিলা এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমাকে বিয়ে করার জন্য আপনার সমীপে সমর্পণ করলাম। এরপর সে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলো। তখন এক [আনসারী] ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! তাহাকে আমার সাথে বিয়ে দিন, যদি তাহাকে আপনার প্রয়োজন না থাকে। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] জিজ্ঞেস করিলেন, তাহাকে মোহরানা দেওয়ার জন্য তোমার নিকট কিছু আছে কি? সে বললো, আমার এই পরিধেয় বস্ত্র ছাড়া আমার কাছে আর কিছুই নেই। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ তোমার পরিধেয় বস্ত্র দিলে তো তোমাকে [ঘরেই] বসে থাকতে হইবে। যেহেতু তোমার কাছে অন্য কোনো বস্ত্র নেই। কাজেই খুঁজে দেখ, কিছু পাও কিনা? সে বললো, আমি কিছুই পাচ্ছি না। তিনি আবার বলিলেনঃ খুঁজে দেখো, যদিও একটি লোহার আংটিও হয়। সে খোঁজ করলো, কিন্তু কিছুই পেলো না। অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ তুমি কি কুরআনের কিছু মুখস্ত জানো? সে বললো, হ্যাঁ আমার অমুক অমুক সূরাহ, কয়েকটি সূরার নাম উল্লেখ করে বললো, এগুলো মুখস্ত আছে। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ তুমি কুরআনের যেটুকু মুখস্ত জানো, তার বিনিময়ে আমি তোমার সাথে তাহাকে বিয়ে দিলাম।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২১১২. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত। তবে এতে পরিধেয় বস্ত্র ও আংটির কথা নেই। নাবী [সাঃআঃ] তাহাকে বলেনঃ তুমি কুরআনের কতটুকু মুখস্ত জানো? সে বললো, সূরা আল-বাকারাহ অথবা পরবর্তী সূরাহ। তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাকে বলিলেনঃ তুমি তাহাকে বিশটি আয়াত শিক্ষা দাও এবং সে তোমার স্ত্রী। {২১১২}

{২১১২} [নাসায়ী সনদের ইস্ল হলো আবু কুররা আত তামীমী। তার সম্পর্কে হাফিয আত-তাক্বরীব গ্রন্থে বলেনঃ যইফ। আল্লামা মুনযিরীও তাহাকে যয়ীফ বলিয়াছেন। বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২১১৩. মাকহুল [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

সাহল [রাদি.] বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। মাকহুল [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলিতেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর পরে কারোর জন্য মোহর ছাড়া বিয়ে জায়েয নয়। {২১১৩}

{২১১৩} এই সনদটি মাকহুলের মাক্বতূ মাওকুফ। আর মাকহুল থেকে বর্ণণাকারীর মাঝে দুর্বলতা আছে। বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩২: কেউ মোহর নির্ধারণ ছাড়া বিয়ে করার পর মারা গেলে

২১১৪. আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

এমন এক ব্যক্তি সম্বন্ধে বর্ণিত, যে কোনো নারীকে বিয়ে করার পর মারা গেছে কিন্তু তার সাথে সঙ্গম করেনি এবং মোহরও ধার্য করেনি।

তিনি বলিলেন, সে পূর্ণ মোহরের হকদার, সে ইদ্দত পালন করিবে এবং স্বামীর সম্পদের মীরাসও পাবে। এ সময় মাক্বিল ইবনি সীনান [রাদি.] বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বিরওয়াআ বিনতু ওয়াশিকের সম্পর্কে অনুরূপ ফয়সালা দিতে শুনিয়াছি।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২১১৫. আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত। {২১১৫}

{২১১৫} এর পূর্বেরটি দেখুন, বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

২১১৬. আবদুল্লাহ ইবনি উতবাহ ইবনি মাসউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদের [রাদি.] নিকট এক ব্যক্তি পূর্বোক্ত হাদিসের ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলো। বর্ণণাকারী বলেন, লোকেরা এ বিষয়ে এক মাস বা অনেকবার মতভেদ করেন। অতঃপর ইবনি মাসউদ বলিলেন, ঐ নারীর ব্যাপারে আমার বক্তব্য হচ্ছে, সে তার বংশের নারীর সমপরিমাণ মোহর পাবে, এতে কমবেশি করিবে না, সে মীরাসের অংশও পাবে এবং তাহাকে ইদ্দাত পালন করিতে হইবে। এ হলো আমার অভিমত, এটা নির্ভুল হলে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর ভুল হলে, তা আমার ও শয়তানের পক্ষ হইতে। তবে এ ব্যপারে আল্লাহ ও তাহাঁর রাসূল সম্পূর্ণ নির্দোষ। অতঃপর আশজা গোত্রের আল-জাররাহ ও আবু সিনান [রাদি.]-সহ কতিপয় লোক দাঁড়িয়ে বলিলেন, হে ইবনি মাসউদ! আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, উত্ববাহ [রাদি.] আমাদের মাঝে হেলাল ইবনি মুররার স্ত্রীর বিরওয়াআ বিনতু ওয়াশিকের ব্যাপারে অনুরূপ ফাতাওয়াহ দিয়েছিলেন, যেরূপ আপনি দিলেন। বর্ণণাকারী বলিলেন, অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ যখন দেখলেন যে, তার ফাতাওয়াহ রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] ফাতাওয়াহর অনুরূপ, তখন তিনি খুবই খুশি হলেন।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২১১৭. উক্ববাহ ইবনি আমীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদা নাবী [সাঃআঃ] এক ব্যক্তিকে বলিলেনঃ আমি তোমার সাথে অমুক মহিলার বিয়ে দিতে চাই, তুমি কি এতে খুশি আছো? সে বললো, হ্যাঁ। এরপর তিনি উক্ত মহিলাকে বলিলেন, আমি তোমাকে অমুক পুরুষের সাথে বিয়ে দিলে তুমি কি রাজি হইবে? সে বললো, হ্যাঁ। সুতরাং তারা একে অপরকে বিয়ে করলো। তারপর লোকটি তার সাথে সঙ্গম করলো, কিন্তু তার জন্য কোন মোহরানা নির্ধারণ করেনি এবং তাহাকে নগদ কিছু প্রদান করেনি। লোকটি হুদায়বিয়াতে উপস্থিত ছিলো। হুদায়বিয়ায় উপস্থিত সকলকে খায়বারের এক এক অংশ দেয়া হয়েছিল। অতঃপর লোকটির মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে সে বললো, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমার সাথে অমুক মহিলার বিয়ে দিয়েছিলেন, অথচ আমি তার জন্য কোন মোহর নির্ধারণ করিনি এবং তাহাকে নগদ কিছুই দেইনি। সুতরাং আমি আপনাদের সাক্ষী করছি যে, আমি খায়বারের অংশটুকু তাহাকে মোহরানা বাবদ প্রদান করলাম। অতঃপর মহিলাটি [স্ত্রী] তা গ্রহণ করে এবং তা এক লক্ষ দিরহামের বিনিময়ে বিক্রয় করে দেয়। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, হাদিসের শুরুতে উমার ইবনিল খাত্তাব [রাদি.] অতিরিক্ত বর্ণণা করেন যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যে বিবাহ সহজে সম্পন্ন হয় তাই উত্তম বিবাহ। এরপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ঐ লোককে বলিলেন,…। অতঃপর বাকী অংশটুকু একইরূপ বর্ণণা করেন। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমি আশংকা, এ হাদিসে সংযোজন হয়েছে। কেননা বিষয়টি ব্যতিক্রম।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৩ঃ বিবাহের খুত্ববাহ

২১১৮. আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে বিবাহের খুত্ববাহ শিক্ষা দিয়েছেনঃ “সমস্ত প্রশংসা এক আল্লাহর জন্যই। আমরা তাহাঁর কাছে সাহায্য চাই, তাহাঁর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাহাঁর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি আমাদের দেহ ও আত্মার সবল অনিষ্ট হইতে। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন, কেউ তাহাকে পথভ্রষ্ট করিতে পারে না। আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, কেউ তাহাকে হিদায়াত করিতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহম্মাদ তাহাঁর বান্দা ও রাসূল। হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তোমাদের পরস্পরের মধ্যে চাওয়া-নেওয়া ও আত্মীয়দের ব্যাপারে। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ্ম দৃষ্টি রাখেন”। “হে ঈমানদারগণ, তোমরা যথাযথভাবে আল্লাহকে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মরো না [সূরা আলে ইমরানঃ ১০১]। “হে ঈমানদারগণ! সঠিক কথা বলো। তাহলে তিনি তোমাদের কাজকর্ম সংশোধন করে দিবেন এবং তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাহাঁর রাসূলের আনুগত্য করিবে, সে মহাসাফল্য লাভ করিবে” [সূরা আহযাবঃ ৭০-৭১]

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২১১৯. ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন খুত্ববাহ দিতেন। অতঃপর পূর্ব বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ। তিনি অতিরিক্ত বর্ণণা করেনঃ “তিনি তাহাকে সত্য সহ ক্বিয়ামাতের পূর্বে পাঠিয়েছেন সুসংবাদ প্রদানকারী ও ভীতি প্রদর্শনকারীরূপে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাহাঁর রাসূলের আনুগত্য করিবে সে সঠিক পথের সন্ধান পাবে। আর যে ব্যক্তি তাঁদের উভয়ের অবাধ্য হইবে, সে শুধু নিজেই অমঙ্গল ডেকে আনবে, কিন্তু আল্লাহর কোনো ক্ষতি করিতে পারবে না।

{২১১৯} বায়হাক্বী। সানাদে আবদে রব্বীহি রয়েছে। তার সম্পর্কে হাফিয আত-তাহযীব গ্রন্থে বলেনঃ আলী ইবনিল মাদীনী বলিয়াছেন, তিনি মাজহুল, ক্বাতাদাহ ছাড়া কেউ তার থেকে বর্ণনা করেননি। এছাড়া সনদের আবু ইয়ায সম্পর্কে হাফিয বলেনঃ মাজহুল। আলবানী বলেনঃ ঈমাম নববী এর সনদকে সহিহ বলে ভুল করেছেন। বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২১২০. বনু সুলাইমের এক ব্যক্তি হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি নাবী [সাঃআঃ] এর খেদমতে উমামাহ বিনতু আবদুল মুত্তালিবকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠালে তিনি খুত্ববাহ ছাড়াই আমাকে বিয়ে করান। {২১২০}

{২১২০} বুখারীর আত-তারিখুল কাবীর, বায়হাক্বী। সানাদে বনু সুলাইমের জনৈক অজ্ঞাত ব্যক্তি আছে। সনদের ঈসমাঈল ও আলার জাহালাত রয়েছে। তাছাড়া তাতে ইযতিরাব হয়েছে। যা ঈমাম বুখারী বলিয়াছেন। ঈমাম বুখারী বলেনঃ এর সনদ অজ্ঞাত [মাজহুল]। বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৪ঃ অপ্রাপ্তা বয়স্কা মেয়ে বিয়ে দেয়া

২১২১. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার সাত বছর বয়সে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে বিয়ে করেন। সুলাইমানের বর্ণণায় রয়েছে ছয় বছর। আর তিনি আমার সাথে বাসর যাপন করেন আমাদের নয় বছর বয়সে।

সহিহ। এর দীর্ঘ মাতান সামনে আসছে [হা/৪৯৩৩]। বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৫ঃ কুমারী স্ত্রীর নিকট অবস্থান

২১২২. উম্মু সালমাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] উম্মু সালামাকে বিয়ে করে তার কাছে তিনরাত অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি বলিলেনঃ তুমি তোমার পরিজনের কাছে অবহেলিত নও। তুমি চাইলে আমি তোমার কাছে সাতরাত অবস্থান করবো। তবে তোমাকে সাত রাত দিলে আমার অন্যান্য স্ত্রীদের সাথেও সাত রাত অবস্থান করিতে হইবে।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২১২৩. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন সাফিয়্যাহ [রাদি.]-কে বিয়ে করিলেন তখন তিনি তার সাথে তিন দিন অবস্থান করেন। বর্ণণাকারী উসমান বলেন, তিনি বিধবা ছিলেন।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২১২৪. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যদি স্ত্রী থাকা অবস্থায় কেউ কুমারী মেয়ে বিয়ে করলে সে যেন কুমারী স্ত্রীর নিকট সাত রাত অতিবাহিত করে। আর যদি কেউ বিধবাকে বিয়ে করে তাহলে সে বিধবার কাছে যেন তিন রাত অতিবাহিত করে। বর্ণণাকারী আবু ক্বিলাবাহ বলেন, আমি যদি বলি, আনাস [রাদি.] হাদিসটি মারফুভাবে বর্ণনা করেছেন, তা সঠিক হইবে। তবে তিনি বলিয়াছেন, এরূপ করাই সুন্নাত।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৬ঃ যে ব্যক্তি স্বীয় স্ত্রীকে কিছু দেয়ার পূর্বে তার সাথে বসবাস করিতে চায়

২১২৫. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যখন আলী [রাদি.], ফাতিমা [রাদি.]-কে বিয়ে করেন, তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাকে বলিলেনঃ তাহাকে কিছু প্রদান করো। তিনি বলিলেন, আমার নিকট কিছুই নেই। তিনি [সাঃআঃ] বলিলেনঃ তোমার হুতামীয়া বর্মটি কোথায়? [সেটাই দাও]।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২১২৬. মুহম্মাদ ইবনি আবদুর রহমান ইবনি সাওবান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে নাবী [সাঃআঃ] এর জনৈক সাহাবী হইতে বর্ণীতঃ

আলী [রাদি.] যখন রাসূলুল্লাল্লাহর [সাঃআঃ] কন্যা ফাত্বিমাহ [রাদি.]-কে বিয়ে করেন এবং তার সাথে বাসর যাপনের ইচ্ছা করেন, তখন তাহাকে কিছু না দিয়ে তার কাছে যেতে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাকে নিষেধ করেলেন। তিনি বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার কাছে কিছুই নেই। নাবী [সাঃআঃ] বলিলেনঃ তাহাকে তোমার বর্মটি দাও। সুতরাং তিনি তাহাকে তার বর্মটি দিয়ে বাসর যাপন করিলেন। {২১২৬}

{২১২৬} বায়হাক্বী। সানাদে আবু হাইওয়াকে ইবনি হিব্বান ছাড়া কেউ সিক্বাহ বলেননি। আর সনদের গাইলান বিন আনাস সম্পর্কে হাফিয আত-তাক্বরীব গ্রন্থে বলেনঃ মাক্ববুল। শায়খ আলবানী বলেনঃ গাইলানকে কেউ সিক্বাহ বলেননি, এবং তিনি সানাদে ইযতিরাব [উলটপালট] করেছেন। সুতরাং সানাদে দুইটি দোষ রয়েছেঃ জাহালাত এবং ইযতিরাব। বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২১২৭. ইবনি আব্বাস [রাদি.] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত। {২১২৭}

{২১২৭} সনদ দুর্বল। এর পূর্বেরটি দেখুন । বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২১২৮. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে আদেশ দিলেন, আমি যেন জনৈকা মহিলাকে [স্বামীর পক্ষ থেকে] কিছু প্রদানের আগেই সহবাসের অনুমতি দেই। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, খায়সামাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আয়িশাহ [রাদি.] থেকে হাদিসটি শুনেননি। {২১২৮}

দুর্বলঃ যইফ ইবনি মাজাহ [৪৩৩] {২১২৮} ইবনি মাজাহ। সনদ দুর্বল। সানাদে বর্ণণাকারী বাদ পড়েছে [ইনকিতা হয়েছে]। এছাড়া সানাদে শারীক এর স্মরণশক্তি মন্দ। বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২১২৯. আমর ইবনি শুআইব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ কোনো নারীকে বিয়ের পূর্বে মোহরানা বা দান হিসেবে কিংবা অন্য কোনো প্রকারে পাত্রের পক্ষ হইতে কিছু দেয়া হলে তা ওই স্ত্রীলোকটির জন্যই। আর বিয়ের পরে যা কিছু দেয়া হইবে সেটা তার যাকে তা দেয়া হয়েছে। আর বিয়ে উপলক্ষে কেউ নিজ কন্যা বা বোনকে কিছু দিলে সেটা অধিক সম্মানজনক। {২১২৯}

দুর্বলঃ যইফ আল-জামিউস সাগীর [২২২৯], যয়ীফ সুনান ইবনি মাজাহ [৪২৪/১৯৫৫], যয়ীফ সুনান নাসায়ী [২১৪/৩৩৫৩]। {২১২৯} নাসায়ী, ইবনি মাজাহ, আহমাদ, বায়হাক্বী। সানাদে ইবনি জুরাইজ একজন মুদাল্লিস এবং তিনি এটি আন্‌ আন্‌ শব্দে বর্ণনা করেছেন। ঈমাম বুখারী বলেনঃ ইবনি জুরাইজ হাদিসটি আমর থেকে শুনেননি। বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৭ঃ নব দম্পত্তির জন্য দুআ করা

২১৩০. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ. কাউকে বিয়ের পর শুভেচ্ছা জানালে বলিতেনঃ আল্লাহ তোমার কল্যাণ করুন, তোমাকে বরকত দান করুন এবং তোমাদের দাম্পত্য জীবন কল্যাণময় হোক।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৮ঃ যে ব্যক্তি কোনো মহিলাকে বিয়ে করার পর তাহাকে গর্ভবতী পায়

২১৩১. সাঈদ ইবনিল মুসাইয়্যাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে জনৈক আনসারী হইতে বর্ণীতঃ

বর্ণণাকারী আবুস-সারী বলেন, তিনি নাবী [সাঃআঃ] এর জনৈক সাহাবী হইতে বর্ণনা করেছেন এবং আনসার শব্দটি বলেননি। অতঃপর সমস্ত বর্ণনাকারী একমত হয়ে বর্ণনা করেছেন। বাসরা নামক এক ব্যক্তি বলেন, আমি জনৈকা কুমারী মেয়েকে না দেখে বিয়ে করি। অতঃপর বাসর যাপনের সময় আমি দেখি সে গর্ভবতী। নাবী [সাঃআঃ] বলিলেনঃ তুমি যেহেতু তার বিশেষ অঙ্গ উপভোগ করেছো, সেজন্য তোমাকে মোহরানা দিতে হইবে। আর যে সন্তানটি জন্ম নিবে সে তোমার গোলাম হইবে। সন্তান প্রসবের পর তুমি বা তোমরা তাহাকে চাবুক মারবে অথবা বলিয়াছেনঃ তার উপর হদ্দ কার্যকর করিবে। আবু দাউদ বলেন, হাদিসটি কাত্বাদাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সাঈদ ইবনি ইয়াযীদ হইতে ইবনিল মুসাইয়্যাব সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং ইয়াহইয়া ইবনি আবু কাসীর ইয়াযীদ ইবনি নুয়াইমের মাধ্যমে সাঈদ ইবনিল মুসাইয়্যাব হইতে, এবং আত্বা আল-খোরাসারনী  সাঈদ ইবনিল মুসাইয়্যাব সূত্রে বর্ণণা করেছেন। কিন্তু এদের সকলের হাদিস মুরসাল। ইয়াহইয়া ইবনি আবু কাসীরের হাদিসে রয়েছেঃ বাসরা ইবনি আকসাম জনৈকা মহিলাকে বিয়ে করেন। আর সমস্ত বর্ণনাকারী বলিয়াছেন, তিনি সন্তানটিকে তার গোলাম বানিয়েছেন। {২১৩১}

{২১৩১} বায়হাক্বী, হাকিম। ঈমাম হাকিম বলেনঃ সনদ সহিহ। ঈমাম যাহাবী এতে নীরব থেকেছেন। কিন্তু হাদিসটি মুরসাল। বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২১৩২. সাঈদ ইবনিল মুসাইয়্যাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

বাসরা ইবনি আকসাম নামক এক ব্যক্তি জনৈক মহিলাকে বিয়ে করলো। অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্বোক্ত হাদিসের অর্থে বর্ণনা করেন। এতে আরো রয়েছেঃ এবং তিনি তাহাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেন। তবে ইবনি জুরাইজের বর্ণিত হাদিসটি পরিপূর্ণ। {২১৩২}

{২১৩২} বায়হাক্বী, হাকিম। ঈমাম হাকিম বলেনঃ মুসলিমের শর্তে সহিহ। ঈমাম যাহাবী এতে নীরব থেকেছেন। সনদের ইয়াযীদ ইবনি নুআইম সম্পর্কে হাফিয বলেনঃ মাক্ববুল। হাদিসটি মুরসাল। বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৯ঃ স্ত্রীদের সাথে ইনসাফপূর্ণ আচরণ করা

২১৩৩. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি দুইজন স্ত্রী থাকা অবস্থায় তাহাদের একজনের প্রতি ঝুঁকে পড়ল, ক্বিয়ামাতের দিন সে পঙ্গু অবস্থায় উপস্থিত হইবে।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২১৩৪. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] স্ত্রীদের মধ্যে ইনসাফভিত্তিক বন্টন করে বলিতেনঃ হে আল্লাহ! এটা আমার পক্ষ থেকে ইনসাফ, যেটুকু আমার সম্ভব হয়েছে। আর যা আপনার নিয়ন্ত্রণে এবং আমার সাধ্যের বাইরে, সেজন্য আমাকে অভিযুক্ত করবেন না। {২১৩৪}

দুর্বলঃ মিশকাত [৩২৩৫], যয়ীফ সুনান ইবনি মাজাহ [৪২৭], ইরওয়া [২০১৮], যয়ীফ সুনান আত-তিরমিজি [১৯৩/১১৫৫], যয়ীফ সুনান নাসায়ী [২৬১/৩৯৪৩]। {২১৩৪} তিরমিজি, আহমাদ, ইবনি হিব্বান, বায়হাক্বী। হাদিসটি কেউ কেউ সহিহ বলিয়াছেন এবং কেউ কেউ মুরসাল বলিয়াছেন। বিস্তারিত দেখুন, ইরওয়াউল গালীল হা/২০১৮। বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২১৩৫. হিশাম ইবনি উরওয়াহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আয়িশাহ [রাদি.] বলিয়াছেন, হে ভাগ্নে! রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের সাথে অবস্থানের ব্যাপারে কাউকে কারো উপর প্রাধান্য দিতেন না। এমন দিন খুব কমই হয়েছে; যেদিন তিনি আমাদের কাছে আসতেন এবং সহবাস না করে সবার সাথে আলাপ করিতেন। অতঃপর যার নিকট রাত যাপনের পালা হতো, তিনি সেখানে রাত যাপন করিতেন। যখন সাওদা বিনতু যামআহ [রাদি.] বার্ধক্যে পোঁছলেন তখন আশংকা করেন যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হয়তো তাহাকে ত্যাগ করবেন, তখন তিনি বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার পালার দিনটি আয়িশাকে দিলাম। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার এ প্রস্তাব গ্রহণ করিলেন। আয়িশাহ [রাদি.] বলেন, আমরা বলতাম, এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেনঃ “যদি কোন নারী তার স্বামীর পক্ষ হইতে উপেক্ষিত হওয়ার আশংকা করে………” [সূরাহ আন-নিসাঃ ১২৮]

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

২১৩৬. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, [মহান আল্লাহর বাণীঃ] “তুমি তাহাদের মধ্যে যার সাথে ইচ্ছা [থাকতে] পারো এবং যাকে ইচ্ছা তোমার কাছ থেকে দূরে রাখতে পারো” [সূরাহ আল-আহ্‌যাবঃ ৫১] এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের কাছে অবস্থানের দিনের বিষয়ে অনুমতি চাইতেন। মুআযা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমি আয়িশাহ [রাদি.]-কে জিজ্ঞেস করলাম, তখন আপনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে কি বলিতেন, তিনি বলেন, আমি বলতাম, পালার দিনটি আমার হলে আমি কাউকে আমার উপর অগ্রাধিকার দিব না।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২১৩৭. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যে রোগে মৃত্যু বরণ করেন তখন সকল স্ত্রীকে ডাকলেন। তারা সকলে একত্র হলে তিনি বলিলেনঃ আমি পালাক্রমে তোমাদের সকলের মাঝে ঘুরে ঘুরে অবস্থানের শক্তি পাচ্ছিনা। যদি তোমরা ভালো মনে করো, তাহলে আমাকে আয়িশাহর কাছে অবস্থানের অনুমতি দাও। তখন তারা সকলেই তাঁকে অনুমতি দিলেন।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২১৩৮. নাবী [সাঃআঃ] এর স্ত্রী আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন সফরে যাওয়ার ইচ্ছা করিতেন, তখন স্ত্রীদের মধ্যে লটারী করিতেন। লটারীতে যার নাম উঠতো তিনি তাহাকেই সঙ্গে নিয়ে যেতেন। আর তিনি প্রত্যেক স্ত্রীর জন্যে পালাক্রমে রাত ও দিন ভাগ করে নিতেন। তবে যামআহ্‌র এর কন্যা সাওদাহ্‌ [রাদি.] তার পালার দিনটি আয়িশা [রাদি.] কে দিয়ে দেন।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৪০ঃ স্ত্রীর বাড়িতে সহাবস্থানের শর্তে বিয়ে করা

২১৩৯. উক্ববাহ্‌ ইবনি আমির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ শর্তসমূহের মধ্যে যে শর্ত দ্বারা তোমরা স্ত্রীদের গুপ্তাঙ্গ ব্যবহার হালাল করে থাকো তা পূরণ করা অধিক অগ্রগণ্য।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৪১ঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার

২১৪০. ক্বায়িস ইবনি সাদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি [কুফার] আল-হীরা শহরে এসে দেখি, সেখানকার লোকেরা তাহাদের নেতাহাকে সিজদা করছে। আমি ভাবলাম, [তাহলে তো] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-ই সিজদার অধিক হকদার। অতঃপর আমি নাবী [সাঃআঃ] এর খেদমতে এসে বলি যে, আমি আল-হীরা শহরে গিয়ে দেখে এসেছি, সেখানকার লোকেরা তাহাদের নেতাহাকে সিজদা করে। সুতরাং হে আল্লাহ্‌র রাসূল! [সাঃআঃ] আপনিই তো এর অধিক হকদার যে, আমরা আপনাকে সিজদা করি? তিনি বলিলেনঃ যদি [মৃত্যুর পর] তুমি আমার ক্ববরের পাশ দিয়ে যাও তখন কি তুমি সেটাকে সিজদা করিবে? আমি বলিলাম, না। তিনি বলিলেনঃ সাবধান! তোমরা এরূপ করিবে না। আমি যদি কোন মানুষকে সিজদা করার অনুমতি দিতাম, তবে স্ত্রীদেরকে নির্দেশ দিতাম তাহাদের স্বামীদেরকে সিজদা করিতে। কেননা আল্লাহ্‌ স্ত্রীদের উপর স্বামীদের অধিকার দিয়েছেন। {২১৪০}

সহিহ, তবে ক্ববর সম্পর্কিত বাক্যটি বাদে। যইফ আল-জামিউস সাগীর [৪৮৪২], ইরওয়া [১৯৯৮], মিশকাত [৩২৬৬] বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২১৪১. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ কোন স্বামী তার স্ত্রীকে তার সাথে বিছানায় শোয়ার জন্য আহবান করার পর যদি স্ত্রী না আসে এবং স্বামী তার উপর অসন্তুষ্ট অবস্থায় রাত কাটায়, তাহলে সকাল পর্যন্ত ফেরেশতাগণ ঐ স্ত্রীকে অভিসম্পাত করিতে থাকেন।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৪২ঃ স্বামীর উপর স্ত্রীর অধিকার

২১৪২. হাকীম ইবনি মুআবিয়াহ আল-কুশাইরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি বলি, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমাদের কারো উপর তার স্ত্রীর কি হক রয়েছে? তিনি বলিলেনঃ “তুমি যখন আহার করিবে তাহাকেও আহার করাবে। তুমি পোশাক পরিধান করলে তাহাকেও পোশাক দিবে। তার মুখমণ্ডলে মারবে না, তাহাকে গালমন্দ করিবে না এবং পৃথক রাখতে হলে ঘরের মধ্যেই রাখবে।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

২১৪৩. বাহয ইবনি হাকীম [রাদি.] তার পিতার হইতে তার দাদা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেনঃ একদা আমি বলি, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমরা আমাদের স্ত্রীদের কোন স্থানে সঙ্গম করবো, আর কোন স্থান বর্জন করবো? তিনি বলিলেনঃ তুমি যেভাবে ইচ্ছে করো তোমার ফসল উৎপাদন স্থানে [সম্মুখের লজ্জাস্থানে] সঙ্গম করো। আর তুমি যখন খাবে তাহাকেও খাওয়াবে এবং তুমি পরিধান করলে তাহাকেও পরিধান করাবে। তাহাকে গালমন্দ করিবে না এবং মারবে না। ইমামা আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বর্ণনা করেছেন, শুবাহ বর্ণনা করেছেন, যখন তুমি খাবে তাহাকেও খাওয়াবে, আর যখন তুমি পরিধান করিবে, তখন তাহাকেও পরাবে।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

২১৪৪. মুআবিয়াহ্‌ আল-কুশাইরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট এসে বলিলাম, আমাদের স্ত্রীদের [হক] সম্পর্কে আপনি কি বলেন? তিনি বলিলেনঃ তোমরা যা খাবে তাহাদেরকেও তাই খাওয়াবে এবং তোমরা যা পরবে, তাহাদেরকেও তা পরিধান করাবে। তাহাদেরকে প্রহার করিবে না এবং গালিগালাজ করিবে না।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৪৩ঃ স্ত্রীদেরকে প্রহার করা

২১৪৫. আবু হুরাইরাহ আর-রাক্বাশী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার চাচা হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যদি তোমরা স্ত্রীদের অবাধ্য হওয়ার আশংকা করো, তাহলে তাহাদেরকে তোমাদের বিছানা থেকে পৃথক করে দাও। হাম্মাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, অর্থাৎ তাহাদের সাথে সহবাস বর্জন করো।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

২১৪৬. ইয়াস ইবনি আবদুল্লাহ্‌ ইবনি আবু যুবাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ তোমরা আল্লাহ্‌-র দাসীদেরকে মারবে না। অতঃপর উমার [রাদি.] এসে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নিকট এসে বলিলেন, মহিলারা তাহাদের স্বামীদের অবাধ্য হচ্ছে। এরপর তিনি [সাঃআঃ] তাহাদেরকে মৃদু আঘাত করার অনুমতি দিলেন। অতঃপর অনেক মহিলা এসে নাবী [সাঃআঃ] এর স্ত্রীদের কাছে তাহাদের স্বামীদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করলো। তখন নাবী [সাঃআঃ] বলিলেনঃ মুহাম্মাদের পরিবারের কাছে অনেক মহিলা তাহাদের স্বামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এসেছে। সুতরাং যারা স্ত্রীদেরকে প্রহার করে তারা তোমাদের মধ্যে উত্তম নয়।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২১৪৭. উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে [শালীন শিক্ষার উদ্দেশে] আঘাত করলে এজন্য সে দোষী হইবে না। {২১৪৭}

দুর্বলঃ যয়ীফ আল-জামিউস সাগীর [৬২১৮], যয়ীফ সুনান ইবনি মাজাহ [৪৩১], মিশকাত [৩২৬৮]।

{২১৪৭} ইবনি মাজাহ্‌, আহমাদ, বায়হাক্বী। সনদের দাউদ বিন আব্দুল্লাহ্‌কে হাফিয আত্‌-তাক্বরীব গ্রন্থে বলেন, মাক্ববূল। এছাড়া সনদের মুসলী সম্পর্কে ইমামা যাহাবী বলেন, তাহাকে চেনা যায়নি। বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-৪৪ঃ যে বিষয়ে দৃষ্টি সংযত রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে

২১৪৮. জারীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে হঠাৎ কোন নারীর প্রতি দৃষ্টি পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ তোমরা চোখ ফিরিয়ে নিবে।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২১৪৯. ইবনি বুরাইদাহ [রাদি.] হইতে তার পিতা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আলী [রাদি.]-কে বলিলেন, “হে আলী! কোন নারীকে একবার দেখার পর দ্বিতীয়বার দেখবে না। কেননা তোমার জন্যে প্রথমবার দেখার অনুমতি আছে, কিন্তু দ্বিতীয়বার দেখা যায়িয নয়।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

২১৫০. ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ কোন মহিলা যেন অপর মহিলার দেহ স্পর্শ করে এমনভাবে তার বর্ণনা নিজের স্বামীর কাছে না দেয়, যেন সে তাহাকে চাক্ষুস দেখছে।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২১৫১. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদা নাবী [সাঃআঃ] একজন অপরিচিতা নারীকে দেখে ফেললে তিনি তৎক্ষণাত যাইনাব বিনতু জাহ্শ [রাদি.]-র নিকট গিয়ে নিজের প্রয়োজন পূর্ণ করেন। অতঃপর সাহাবীদের কাছে গিয়ে বলেনঃ নারী শয়তানের বেশে এসে যায়। সুতরাং তোমাদের কারো মনে এরূপ কিছু জাগ্রত হলে সে যেন তার স্ত্রীর কাছে গমন করে। কেননা এতে তার অন্তরের সুপ্ত জাগ্রত হয় সে যেন অবশ্যই তার স্ত্রীর কাছে আসে। কেননা এতে মনের বাসনা দুর্বল হইবে।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২১৫২. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আবু হুরায়রা [রাদি.] হইতে নাবী [সাঃআঃ] সূত্রে বর্ণিত হাদিসের চাইতে সগীরাহ গুণাহ সম্পর্কিত কোন হাদিস দেখিনি। তিনি বলিয়াছেনঃ মহান আল্লাহ প্রতিটি আদম সন্তানের মধ্যে যেনার একটি অংশ নির্ধারণ করে রেখেছেন, যা সে অবশ্যই করিবে। সুতরাং দৃষ্টি হচ্ছে চোখের যেনা, প্রেমালাপ হচ্ছে জিহবার যেনা এবং অন্তরের যেনা হচ্ছে তা ভোগ করার আকাঙ্খা, আর গুপ্তস্থান তা সত্য কিংবা মিথ্যায় পরিণত করে।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২১৫৩,আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ প্রতিটি আদম সন্তানের মধ্যে যেনার একটি অংশ আছে। অতঃপর পূর্ববর্তী হাদিসের অনুরূপ। তিনি বলিয়াছেন, দুই হাত যেনা করে, হাতের যিনা হচ্ছে স্পর্শ করা। দুই পা যেনা করে, অগ্রসর হওয়াই হচ্ছে পায়ের যেনা, মুখও যেনা করে, মুখের যেনা হচ্ছে চুমু খাওয়া।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

২১৫৪. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি নাবী [সাঃআঃ] থেকে উক্ত হাদিসের ঘটনায় উল্লেখ করেন যে, তিনি বলিয়াছেনঃ কানের যিনা হচ্ছে আলাপ শোনা।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

অনুচ্ছেদ-৪৫ঃ বন্দী দাসীদের সাথে সঙ্গম করা

২১৫৫. আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

হুনাইনের দিন রাসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআঃ] আওতাসের দিকে একদল সৈন্য পাঠালেন। তারা শত্রুর মুকাবিলায় অবতীর্ণ হয়ে তাহাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন এবং তাহাদের উপর বিজয়ী হয়ে তাহাদের নারীদেরকে বন্দি করে আনেন। কিন্তু সেই বন্দী নারীদের মুশরিক স্বামীরা বর্তমান থাকায় কতিপয় সাহাবী তাহাদের সাথে সঙ্গম করাকে গুণাহ মনে করেন। এই প্রসঙ্গে আল্লাহ্‌ এ আয়াতটি অবতীর্ণ করলেনঃ “যে মহিলাদের স্বামী আছে, তারা তোমাদের জন্যে হারাম। তবে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত” [সূরা আন-নিসাঃ ২৪]।

অর্থাৎ যুদ্ধবন্দী দাসী যখন তাহাদের ইদ্দতকাল সমাপ্ত করিবে তখন তারা তোমাদের জন্যে বৈধ।বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২১৫৬. আবু দারদা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআঃ] কোন এক যুদ্ধে আসন্ন প্রসবা এক নারীকে দেখিতে পেয়ে বলেনঃ সম্ভবত এর মালিক এর সাথে সহবাস করেছে। লোকেরা বললো, হ্যাঁ। তিনি বলিলেনঃ আমি ইচ্ছা করেছিলাম সহবাসকারীকে এমন অভিসম্পাত করি যেন সে অভিশপ্ত অবস্থায় কবরে প্রবেশ করে। সে কিভাবে ঐ সন্তানটিকে তার উত্তরাধিকারী বানাবে যা তার জন্যে হালাল নয়? আর সে কিভাবে এই সন্তানকে গোলাম বানাবে? অথচ তা তার জন্যে বৈধ নয়।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২১৫৭. আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আওতাস যুদ্ধের বন্দী দাসীদের সম্বন্ধে বলিয়াছেনঃ সন্তান প্রসবের আগে গর্ভবতীর সাথে সঙ্গম করা যাবে না। আর গর্ভবতী নয় এমন নারীর মাসিক ঋতু শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার সাথেও সঙ্গম করা যাবে না।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২১৫৮. রুয়াইফি ইবনি সাবিত আল-আনসারী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

হানাশ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, একদা রুয়াইফি আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে ভাষণ প্রদানের সময় বলিলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআঃ] থেকে যা কিছু শুনিয়াছি তোমাদেরকে শুধু তাই বলব। তিনি হুনাইনের দিন বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, তার জন্যে বৈধ নয় অন্যের ফসলে নিজের পানি সেচন করেন। অর্থাৎ গর্ভবতী মহিলার সাথে সঙ্গম করা। যে ব্যক্তি আল্লহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে তার জন্যে বৈধ নয় কোন বন্দী নারীর সাথে সঙ্গম করা যতক্ষণ না সে সন্তান প্রসব করে পবিত্র হয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, তার জন্যেও বৈধ নয় বন্টনের পূর্বেই গণীমাত বিক্রয় করা।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

২১৫৯. ইবনি ইসহাক্ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

এতে যতক্ষণ না হায়িয থেকে মুক্ত হয় কথাটি রয়েছে। এতে আরো রয়েছেঃ “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর ইমান রাখে সে যেন মুসলিমদের যুদ্ধলব্ধ পশুর পিঠে না চড়ে [বন্টনের পূর্বে], অবশেষে সে তা দুর্বল অবস্থায় ফেরত দেয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর ইমান রাখে সে যেন মুসলিমদের গণিমতের কাপড় না পরে, অবশেষে তা পুরাতন করে ফেরত দেয়। আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, হাদিসের মধ্যে “ঋতুবতী নারী” শব্দটি সংরক্ষিত নয়।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

অনুচ্ছেদ-৪৬ঃ বিবাহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিধান

২১৬০. আমর ইবনি শুআইব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদা হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যখন তোমাদের কেউ কোন নারীকে বিয়ে করে অথবা কোন দাসী ক্রয় করে তখন সে যেন বলেঃ “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে এর মধ্যকার কল্যাণ এবং এর মাধ্যমে কল্যাণ চাই এবং তার মধ্যে নিহিত অকল্যাণ ও তার মাধ্যমে অকল্যাণ থেকে আপনার নিকট আশ্রয় চাই”। আর যখন কোন উট কিনবে তখন যেন সেটির কুঁজের উপরিভাগ ধরে অনুরূপ দুআ করে। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আবু সাঈদের বর্ণনায় রয়েছেঃ অতঃপর তার কপালের চুল ধরে বলবে। স্ত্রী এবং দাসীর ব্যাপারেও বরকতের দুআ করিবে।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

২১৬১, ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ নিজ স্ত্রীর সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হওয়ার সময় যেন বলেঃ “বিসমিল্লাহ! হে আল্লাহ! আমাদের শয়তান থেকে দূরে রাখো এবং যে সন্তান আমাদেরকে দান করিবে তাহাদেরকেও শয়তান থেকে দূরে রাখো।” অতঃপর এ সঙ্গমের মাধ্যমে যে সন্তান আসবে, শয়তান তার কোন ক্ষতি করিতে পারবে না।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২১৬২. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে গুহ্যদ্বারে সঙ্গম করে সে অভিশপ্ত।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

২১৬৩. মুহাম্মাদ ইবনিল মুনকাদির [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি জাবির [রাদি.]-কে বলিতে শুনিয়াছি, ইয়াহুদীরা বলতো, যদি কোন ব্যক্তি স্ত্রীর গুহ্যদ্বারে সঙ্গম করে, তাহলে সন্তান টেরা হয়ে জন্মাবে। তখন এর প্রতিবাদে মহান আল্লাহ এ আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ “তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের জন্যে ক্ষেতস্বরূপ। সুতরাং যেভাবে ইচ্ছা তোমরা তোমাদের ক্ষেতে গমন করো” [সূরা আল-বাক্বারাহ্‌ ২২৩]।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২১৬৪. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.]-কে ক্ষমা করুন, তিনি ভুল করেছেন। আসল কথা হচ্ছে, আনসারদের এই জনপদের লোকেরা মূর্তিপুজারী ছিলো। তারা আহলে কিতাব ইয়াহুদীদের সাথে বসবাস করতো এবং ইয়াহুদীরা জ্ঞানের দিক দিয়ে মূর্তিপুজারীদের উপর নিজেদের মর্যাদা দিতো। সুতরাং তারা নিজেদের কাজকর্মে ইয়াহুদীদের অনুসারী ছিলো। আহলে কিতাবদের নিয়ম ছিলো, তারা স্ত্রীদেরকে কেবল চিৎ করে শুইয়ে তারপর সঙ্গম করতো এবং বলতো, মহিলাদের সতর এ নিয়মে অধিক সংরক্ষিত। আনসার সম্প্রদায়ও তাহাদের এ কাজে আহলে কিতাবদের অনুসরণ করতো। কিন্তু কুরাইশরা নারীদেরকে সম্পূর্ণ উলঙ্গ করে সঙ্গম করতো এবং তাহাদেরকে সামনাসামনি, পেছনের দিকে এবং চিৎ হয়ে শুইয়ে বিভিন্নিভাবে সঙ্গম করতো। অতঃপর যখন মুহাজিরগণ মদিনায় আসলেন তখন তাহাদের এক ব্যক্তি জনৈক আনসারী নারীকে বিয়ে করে তার সাথে ঐভাবে সঙ্গম করিতে চাইলো যেভাবে তারা মক্কার নারীদের সাথে করতো। কিন্তু মহিলাটি তাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বললো, আমরা শুধু এক অবস্থায়ই সঙ্গম করি। সুতরাং তোমাকেও সেভাবেই সঙ্গম করিতে হইবে অন্যথায় আমার থেকে দূরে থাকো। এক পর্যায়ে তাহাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়ে গেলো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআঃ] এর নিকট এ খবর পৌঁছালে মহান আল্লাহ্‌ এ আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ “তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের ক্ষেতস্বরূপ, সুতরাং তোমরা যেভাবে ইচ্ছা করো তোমাদের ক্ষেতে গমন করো”। অর্থাৎ সামনের দিক থেকে, পিছনের দিক থেকে বা চিৎ করে শুইয়ে তার লজ্জাস্থানেই সঙ্গম করো।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

অনুচ্ছেদ-৪৭ঃ ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সঙ্গম ও একত্রে বসবাস

২১৬৫. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

ইয়াহুদীদের মধ্যে কোন নারী ঋতুবতী হলে তারা তাহাদের ঘর থেকে বের করে দিতো এবং তাহাদের সাথে খানাপিনায়ও শরীক করতো না এবং তাহাদের সাথে একই ঘরে অবস্থান করিতে দিতো না। এ বিষয়ে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে জিজ্ঞেস করা হলে, মহান আল্লাহ এ আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ “লোকজন আপনাকে হায়িয সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে। আপনি বলুন, তা অপবিত্রতা। সুতরাং তোমরা হায়িয চলাকালে সঙ্গম বর্জন করো …। “অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ তোমরা তাহাদেরকে নিয়ে একই ঘরে থাকো এবং সঙ্গম ছাড়া সবই একত্রে করো। এ কথা শুনে ইয়াহুদীরা বললো, এ ব্যক্তি তো আমাদের কাজগুলোকে শুধুমাত্র বর্জনই করে না, বরং স্বেচ্ছায় এর বিরোধিতাও করে। তখন উসাইদ ইবনি হুদাইর ও আব্বাদ ইবনি বিশর [রাদি.] রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] এর কাছে এসে বলিলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! [ইয়াহুদীরা] এরূপ বলেছে। সুতরাং আমরা কি হায়িয অবস্থায় সঙ্গম করবো? একথা শুনে রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেলো। আমরা মনে করলাম, তিনি এদের উপর রাগান্বিত হয়েছেন। এমন সময় তারা সেখান থেকে বেরিয়ে গেলেন। ঠিক তখন তাহাদের সামনে দিয়ে কিছু দুধ উপঢৌকন হিসাবে রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] কাছে আসলে তিনি তাহাদের খোঁজে লোক পাঠালেন। তখন আমরা বুঝতে পারলাম, তিনি তাহাদের উপর রাগান্বিত হননি।

সহিহ। এটি গত হয়েছে হা/২৫৮। বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২১৬৬. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, হায়িয অবস্থায় আমি এবং রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] একই কম্বলে রাত কাটাতাম। আমার দেহের রক্ত তাহাঁর দেহে লাগলে তিনি শুধু ঐ স্থানটি ধুয়ে নিতেন। আর যদি রক্তের কিছু তাহাঁর কাপড়ে লাগতো তখনও তিনি শুধু তাই ধুয়ে নিতেন এবং সেই কাপড় পরেই সালাত আদায় করিতেন।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২১৬৭, মায়মূনাহ বিনতুল হারিস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর কোন ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে একত্রে থাকতে চাইলে, তাহাকে ইযার শক্তভাবে বেঁধে পরিধান করার নির্দেশ দিতেন, অতঃপর তার সাথে ঘুমাতেন।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৪৮ঃ ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সহবাসের কাফ্‌ফারাহ

২১৬৮. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] এর সূত্রে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণিত, যে হায়িয অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করেছে। তিনি বলেনঃ সে এক অথবা অর্ধ দীনার সদাক্বাহ করিবে। {২১৬৮}

সহিহ। এটি গত হয়েছে হা/২৬৪। বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২১৬৯. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যদি কেউ হায়িয অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করে তবে তাহাকে এক দীনার এবং যদি রক্তস্রাব না থাকাকালীন সময়ে সহবাস করে তবে অর্ধ দীনার সদাক্বাহ করিবে। {২১৬৯}

সহিহ মাওকুফ। এটি গত হয়েছে হা/২৬৫। বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ মাওকুফ

অনুচ্ছেদ-৪৯ঃ আযল [স্ত্রী যৌনাঙ্গের বাইরে বীর্যপাত]

২১৭০. আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদা নাবী [সাঃআঃ] নিকট আযল সম্পর্কে আলোচনা করা হলে তিনি বলেনঃ তোমাদের কেউ এরূপ কেন করে থাকে? কিন্তু তিনি এ কথা বলেননি যে, তোমাদের কেউ এরূপ করিবে না”। কেননা যে প্রাণ দুনিয়াতে সৃষ্টি হওয়ার জন্য নির্ধারিত, আল্লাহ তা সৃষ্টি করবেনই।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২১৭১. আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক ব্যক্তি এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমার একটি দাসী আছে, আমি তার সাথে আযল করে থাকি। আমি তার গর্ভবতী হওয়া পছন্দ করি না। আর আমি তাই [সঙ্গম] ইচ্ছা রাখি যা অন্যান্য পুরুষেরা [দাসীর সাথে] ইচ্ছা রাখে। ইয়াহুদীরা বলে থাকে, আযল নাকি গোপন হত্যা। তার কথা শুনে তিনি বলিলেনঃ ইয়াহুদীরা মিথ্যা বলেছে। যদি মহান আল্লাহ কোন প্রাণীকে সৃষ্টি করা নির্ধারিত করেন তবে তা রোধ করার ক্ষমতা তোমার নেই।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২১৭২. ইবনি মুহায়রিয [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি মাসজিদে প্রবেশ করে সেখানে আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাদি.]-কে দেখিতে পেয়ে তাহাঁর কাছে গিয়ে বসি এবং তাহাকে আযল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি। আবু সাঈদ [রাদি.] বলেন, আমরা রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] সাথে বনু মুসতালিকের যুদ্ধাভিযানে বের হই। তখন আমাদের হাতে কিছু মহিলা বন্দী হয়। ঐ সময় আমরা স্ত্রীদের থেকে দূরে অবস্থান করায় নারী বন্দীদের প্রতি আমাদের আকাঙ্খা বৃদ্ধি পায়। অতঃপর আমরা তাহাদেরকে অধিক মূল্যে বিক্রি করার ইচ্ছায় তাহাদের সাথে আযল করার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমরা ভাবলাম, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের সাথেই আছেন। কাজেই তাহাকে কিছু জিজ্ঞেস না করে আযল করা উচিৎ হইবে না। সুতরাং আমরা এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ তোমরা এরূপ না করলে কি ক্ষতি? কেননা ক্বিয়ামাত পর্যন্ত যারা সৃষ্টি হইবে বলে নির্ধারিত তারা তো জন্মাবেই।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২১৭৩. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা এক আনসারী লোক রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর কাছে এসে বললো, আমার একটি দাসী আছে, আমি তার সাথে সঙ্গম করে থাকি, কিন্তু সে গর্ভবতী হোক তা আমি পছন্দ করি না। তিনি বলিলেনঃ তুমি ইচ্ছা করলে তার সাথে আযল করো। কিন্তু তার ভাগ্যে যা নির্ধারিত, তা নিশ্চিত আসবেই। বর্ণনাকারী বলেন, কিছু দিন পর ঐ ব্যক্তি পুনরায় তাহাঁর কাছে এসে বললো, দাসীটি গর্ভবতী হয়েছে। তখন তিনি বলিলেনঃ আমি তো তোমাকে আগেই বলেছিলাম, তার ভাগ্যে যা নির্ধারিত তা অবশ্যই আসবে।

বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৫০ঃ কোন ব্যক্তি স্বীয় স্ত্রীর সাথে সঙ্গমের পর তা অন্যকে বর্ণনা দেয়া নিষেধ

২১৭৪. আবু নাদরাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, ত্বোফাওয়াত স্থানের এক বৃদ্ধ আমাকে বলিয়াছেন, একদা আমি মদিনায় মেহমান হিসেবে আবু হুরায়রা [রাদি.]-এর নিকট অবস্থান করি। এ সময় আমি নাবী [সাঃআঃ] এর সাহাবীদের মধ্যে কাউকে তার চেয়ে অধিক ইবাদতকারী ও নিষ্ঠাবান অতিথি পরায়ণ দেখিনি। একবার আমি তার কাছে ছিলাম, তখন তিনি খাটের উপর বসা ছিলেন। তার সাথে পাথর বা খেজুরের আঁটির একটি থলি। এ সময় খাটের নিচে মেঝের উপর তার একটি কৃষ্ণবর্ণ দাসী বসা ছিল। তিনি ঐ গুটিগুলো দিয়ে তাসবীহ পাঠ করিতে থাকেন। থলির গুটি শেষ হলে তিনি থলিটি দাসীর কাছে নিক্ষেপ করেন, আর সে তা ভর্তি করে পুনরায় তাহাকে প্রদান করে। তখন তিনি বলিলেন, আমি কি তোমাকে আমার পক্ষ হইতে এবং রাসূলুল্লাহ্‌র [সাঃআঃ] পক্ষ হইতে হাদিস বর্ণনা করবো না? লোকটি বলেন, আমি বলিলাম, হ্যাঁ। অতঃপর তিনি বলিলেন, একদা আমি জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মাসজিদে পড়ে থাকি। এমন সময় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মাসজিদে প্রবেশ করে জিজ্ঞেস করিলেন, দাওসী যুবকটির সংবাদ কে দিতে পারে? কথাটি তিনি তিনবার বলিলেন। জনৈক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি তো জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মাসজিদের এক পাশে পড়ে আছেন। তিনি হেঁটে আমার কাছে আসলেন এবং তাহাঁর হাত আমার গায়ের উপর রেখে আমাকে কিছু উত্তম কথা বলিলেন। আমি উঠে বসলাম। এরপর তিনি এখান থেকে হেঁটে সলাত আদায়ের স্থানে গিয়ে লোকদের দিকে মুখ করে দাঁড়ালেন। এ সময় তাহাঁর সাথে দুই কাতার পুরুষ ও এক কাতার মহিলা অথবা দুই কাতার মহিলা ও এক কাতার পুরুষ ছিলো। অতঃপর তিনি বলিলেনঃ যদি শয়তান আমাকে সলাতে কিছু ভুলিয়ে দেয় তবে পুরুষেরা সুবহানাল্লাহ বলবে, আর মহিলারা হাতের উপর হাত মেরে আমাকে সতর্ক করিবে। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি সলাত পড়ালেন, কিন্তু সলাতে কোথাও ভুল করেননি। তারপর তিনি বলিলেনঃ তোমরা নিজ অবস্থানে থাকো। তিনি আল্লাহর প্রশংসা করে পুরুষদের দিকে মুখ ফিরে বলিলেনঃ তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি যে নিজ স্ত্রী সঙ্গমের সময় দরজা বন্ধ করে, নিজেকে পর্দায় আড়াল করে এবং আল্লাহর নির্দেশমত তা গোপন রাখে? তারা বলিলেন, হ্যাঁ। তিনি বললেলঃ পরে [মিলন শেষে] এ কথা বলে যে, আমার স্ত্রীর সাথে আমি এরূপ এরূপ করেছি। বর্ণনাকারী বলেন, এ কথা শুনে সবাই চুপ হয়ে গেল। অতঃপর তিনি মহিলাদেরকে লক্ষ্য করে বলিলেনঃ তোমাদের মধ্যে এমন নারী আছে কি যে তার সঙ্গমের কথা নারীদেরকে বলে বেড়ায়? নারীরাও সবাই চুপ হয়ে গেল। এ সময় এক যুবতী নারী তার দুই পায়ে ভর দিয়ে ঘাড় উঁচু করে বসলো, যাতে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাকে দেখিতে পান এবং তার কথা শুনতে পান। যুবতী বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যা বলিয়াছেন, আসলেই তা ঘটে। পুরুষেরা পুরুষদের মধ্যে, আর নারীরা নারীদের মধ্যে এরূপ কথা বলে থাকে। এরপর তিনি বলিলেনঃ তোমরা কি জানো, এদের উদাহরণ কি? তিনি বলিলেনঃ এদের উদাহরণ হচ্ছে, এমন এক শয়তানের যে স্ত্রী শয়তানের কাছে গিয়ে প্রকাশ্যে নিজেদের যৌনক্ষুধা মিটালো, এই দৃশ্য লোকেরা স্বচক্ষে দেখলো। সাবধান! জেনে রাখো, পুরুষের জন্য এমন সুগদ্ধি ব্যবহার করা উচিৎ, যার ঘ্রাণ আছে কিন্তু রং নেই। সাবধান! নারীদের জন্য এমন সুগদ্ধি ব্যবহার করা উচিত যেটার রং আছে, কিন্তু ঘ্রাণ নেই।

ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, হাদিসের এখান থেকে পরবর্তী অংশটুকু আমি আমার শায়খ মুআম্মাল ও মূসা উভয় থেকে সংরক্ষণ করেছি। [এতে রয়েছেঃ] সাবধান! কোন পুরুষ যেন অন্য পুরুষের সাথে এবং কোন নারী যেন অন্য নারীর সাথে একই বিছানায় না ঘুমায়। অবশ্য পিতা পুত্রের সাথে এবং পুত্র পিতার সাথে একই বিছানায় ঘুমাতে পারে। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, তাহাদের তৃতীয় উক্তিটি আমার মনে নেই। অবশ্য তা মুসাদ্দাদের হাদিসে আছে, কিন্তু আমি তার থেকে কথাটি দৃড়ভাবে আয়ত্ত করিতে পারিনি। {২১৭৪}

দুর্বলঃ ইরওয়া [২০১১, তালীকুর রাগীব ৯৩/৯৬]। {২১৭৪} তিরমিজি, আহমাদ, বায়হাক্বী। ঈমাম তিরমিজি বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান। সনদের তাফাওয়াকে এই হাদিস ছাড়া আমরা চিনতে পারিনি। সানাদে তাফাওয়ার শায়খ অজ্ঞাত। বিবাহ পড়ানোর নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

By ইমাম আবু দাউদ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply