বিতর নামাজ ১ ৩ ৫ ৭ রাকাত। সালাতুত তাসবীহ নামাজ

বিতর নামাজ ১ ৩ ৫ ৭ রাকাত। সালাতুত তাসবীহ নামাজ

বিতর নামাজ ১ ৩ ৫ ৭ রাকাত। সালাতুত তাসবীহ নামাজ , এই অধ্যায়ে মোট ৩৬ টি হাদীস (৪৫২-৪৮৭) >> সুনান তিরমিজি শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন

এ বিষয়ে আরও পড়ুন >> মুয়াত্তা মালিক >> সহীহ বুখারী >> সহীহ মুসলিম >> আবু দাউদ >> ইবনে মাজাহ >> নাসাঈ >> মিশকাত >> বুলুগুল মারাম হাদীস শরীফ হতে

অধ্যায়-৩ঃ কিতাবুল বিতর অনুচ্ছেদঃ (১-২১)=২১টি

১. অনুচ্ছেদঃ বিতর নামাযের ফযিলত
২. অনুচ্ছেদঃ বিতরের নামাজ ফরয নয়
৩. অনুচ্ছেদঃ বিতরের পূর্বে ঘুমানো মাকরূহ
৪. অনুচ্ছেদঃ বিতর নামাজ রাতের প্রথম অথবা শেষাংশে আদায় করা
৫. অনুচ্ছেদঃ বিতর নামাজ সাত রাকআত আদায় করা
৬. অনুচ্ছেদঃ বিতর নামাজ পাঁচ রাকআত
৭. অনুচ্ছেদঃ বিতরের নামাজ তিন রাকআত
৮. অনুচ্ছেদঃ বিতর নামাজ এক রাকআত
৯. অনুচ্ছেদঃ বিতর নামাযের কিরাআত
১০. অনুচ্ছেদঃ বিতর নামাযে দুআ কুনূত পাঠ করা
১১. অনুচ্ছেদঃ ঘুমের কারণে অথবা ভুলে বিতরের নামাজ ছুটে গেলে
১২. অনুচ্ছেদঃ ভোর হওয়ার পূর্বেই বিতর আদায় করে নেয়া
১৩. অনুচ্ছেদঃ এক রাতে দুই বার বিতরের নামাজ নেই
১৪. অনুচ্ছেদঃ সাওয়ারীর উপর বিতরের নামাজ আদায় করা
১৫. অনুচ্ছেদঃ পূর্বাহ্নের [চাশতের] নামাজ
১৬. অনুচ্ছদঃসূর্য ঢলে যাওয়ার সময় নামাজ আদায় করা
১৭. অনুচ্ছদঃ প্রয়োজন পূরণের নামাজ [সালাতুল হাজাত]
১৮. অনুচ্ছদঃ ইস্তিখারার নামাজ
১৯. অনুচ্ছদঃ সালাতুত তাসবীহ
২০. অনুচ্ছদঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর উপর দুরূদ পাঠের পদ্ধতি
২১. অনুচ্ছদঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর প্রতি দুরূদ পাঠের ফযিলত

১. অনুচ্ছেদঃ বিতর নামাযের ফযিলত

৪৫২. খারিজা ইবনি হুযাফা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমদের নিকটে বের হয়ে আসলেন। তিনি বললেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা একটি নামাজ দিয়ে তোমাদের সাহায্য করিয়াছেন। এটা তোমাদের জন্য লাল উটের চেয়েও উত্তম তা হল বিতরের নামাজ। আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য এটা ইশা ও ফজরের মধ্যবর্তী সময়ে আদায়ের জন্য নির্ধারণ করিয়াছেন।

-সহীহ। “এটা তোমাদের জন্য অনেক লাল উটের চেয়েও উত্তম” এই অংশ বাদে। ইবনি মাজাহ- [১১৬৮]। এ অনুচ্ছেদে আবু হুরাইরা, আবদুল্লাহ ইবনি আমর, বুরাইদা ও আবু বাসরা [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ খারিজা ইবনি হুযাফার হাদীসটি গারীব। কেননা এটা আমরা শুধুমাত্র ইয়াযীদ ইবনি আবু হাবীবের সূত্রেই জেনেছি। কিছু মুহাদ্দিস এ হাদীস সম্পর্কে সন্দেহে পড়েছেন এবং আবদুল্লাহ ইবনি রাশিদ আয-যাওফীকে আয-যুরাকী বলে উল্লেখ করিয়াছেন, তা ঠিক নয়। আবু বাসরাহ আল গিফারীর নাম হুমাইল ইবনি বাসরাহ। কোন কোন ব্যক্তি তার নাম জামীল বলেও উল্লেখ করিয়াছেন। তা সঠিক নয়। আরেক আবু বাসরাহ গিফারী রয়েছেন যিনি আবু যার গিফারী থেকে হাদীস বর্ণনা করেও তিনি আবু যারের ভাইপো।বিতর নামাজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২. অনুচ্ছেদঃ বিতরের নামাজ ফরয নয়

৪৫৩. আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, বিতরের নামাজ তোমাদের ফরয নামাজ সমূহের মত অত্যাবশ্যকীয় [ফরয] নামাজ নয়। বরং রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] [এ নামাজ] তোমাদের জন্য সুন্নতরূপে প্রবর্তন করিয়াছেন। তিনি [রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]] বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা বিতর [বেজোড়], তিনি বিতরকে ভালবাসেন। হে কুরআনের বাহকগণ [মুমিনগণ]! তোমরা বিতর আদায় কর।

-সহীহ। ইবনি মাজাহ- [১১৬৯]। এ অনুচ্ছেদে ইবনি উমার, ইবনি মাসউদ ও ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আলী [রাদি.] -এর হাদীসটি হাসান। বিতর নামাজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৫৪. সুফিয়ান সাওরী ও অন্যান্যরা আবু ইসহাক হইতে বর্ণীতঃ

তিনি আসিম ইবনি যামরাহ হইতে, তিনি আলী [রাদি.] হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি {আলী [রাদি.]} বলেছেন, বিতরের নামাজ ফরয নামাযের মত জরুরী নামাজ নয়। বরং এটা রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর প্রতিষ্ঠিত সুন্নাত নামাজ।

-সহীহ, সহিহুত তারগীব [৫৯০] এ হাদীসটি পূর্ববর্তী আবু বকর ইবনি আয়্যাশের হাদীসের চেয়ে বেশি সহীহ। মানসূর ইবনি মুতামিরও এ হাদীসটি আবু ইসহাক হইতে আবু বকর ইবনি আয়্যাশের অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। বিতর নামাজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩. অনুচ্ছেদঃ বিতরের পূর্বে ঘুমানো মাকরূহ

৪৫৫. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে ঘুমানোর পূর্বে বিতর আদায়ের আদেশ করিয়াছেন।

-সহীহ। সহীহ আবু দাঊদ- [১১৮৭]। ঈমাম শাবী রাতের প্রথম দিকেই বিতর আদায় করিতেন অতঃপর ঘুমাতেন। এ অনুচ্ছেদে আবু যার [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবু হুরাইরার হাদীসটি হাসান গারীব। আবু সাওর আল আযদীর নাম হাবীব ইবনি আবী মুলাইকাহ। নাবী [সাঃআঃ]-এর একদল সাহাবী ও তাহাদের পরবর্তীরা কোন ব্যক্তির বিতর আদায়ের পূর্বে না ঘুমানোই পছন্দ করিয়াছেন। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি শেষ রাতে উঠতে পারবে না বলে আশংকা করে সে যেন রাতের প্রথম দিকেই বিতর আদায় করে নেয়। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি শেষ রাতে দাঁড়ানোর [নামাজ আদায়ের] আগ্রহ পোষণ করে সে যেন শেষ রাতেই বিতর আদায় করে। কেননা শেষ রাতের কুরআন পাঠ করায় ফেরেশতাগণ হাযির হন। আর এটাই উত্তম।” এ হাদীসটি জাবির [রাদি.] বর্ণনা করিয়াছেন। -সহীহ। ইবনি মাজাহ- [১১৮৭], মুসলিম। বিতর নামাজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪. অনুচ্ছেদঃ বিতর নামাজ রাতের প্রথম অথবা শেষাংশে আদায় করা

৪৫৬. মাসরূক [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি আয়িশাহ [রাদি.] -কে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর বিতর প্রসঙ্গে প্রশ্ন করিলেন। তিনি বলিলেন, তিনি রাতের সকল ভাগেই বিতর আদায় করিয়াছেন, হয় রাতের প্রথম ভাগে অথবা মধ্যভাগে অথবা শেষ ভাগে। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি বিতর ভোর রাত পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন।

-সহীহ। ইবনি মাজাহ- [১১৫৮], বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ। আবু ঈসা বলেনঃ আবু হুসাইনের নাম উসমান ইবনি আসিম আল-আসাদী এ অনুচ্ছেদ আলী, জাবির,আবু মাসউদ আনসারী ও আবু কাতাদা [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আয়িশাহর হাদীসটি হাসান সহীহ। একদল আলিম শেষ রাতেই বিতর আদায় করা পছন্দ করিয়াছেন। বিতর নামাজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৫. অনুচ্ছেদঃ বিতর নামাজ সাত রাকআত আদায় করা

৪৫৭. উম্মু সালামাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] তের রাকআত বিতর আদায় করিতেন। যখন তিনি বার্ধক্যে পৌঁছলেন এবং দুর্বল হয়ে পড়লেন তখন সাত রাকআত বিতর আদায় করিয়াছেন।

-সনদ সহিহ। এ অনুচ্ছেদে আয়িশাহ্‌ [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ উম্মু সালামার হাদীসটি হাসান। নাবী [সাঃআঃ] হইতে বিতরের নামাজ তের, এগার, নয়, সাত, পাঁচ, তিন, এক রাকআত বর্ণিত আছে। ইসহাক ইবনি ইবরাহীম বলেন, নাবী [সাঃআঃ] হইতে তের রাকআত বিতর আদায়ের যে বর্ণনা রয়েছে তার তাৎপর্য হল, রাতের বেলা তিনি [তাহাজ্জুদসহ] তের রাকআত বিতর আদায় করিতেন। এজন্যই রাতের নামাজকে বিতর বলা হয়েছে [বিতরের নামাজ বলা হয়নি]। এ প্রসংগে আয়িশাহ্‌ [রাদি.] -এর একটি হাদীস বর্ণিত আছে। ইসহাক বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ হে কুরআনের ধারকগণ! বিতর আদায় কর। এই বলে তিনি রাতের নামাজ বুঝিয়েছেন। অর্থাৎ তিনি [ইসহাক] এর অর্থ করিয়াছেন, হে কুরআনের ধারকগণ! রাতে দাঁড়ানো [নামাজ আদায় করা] জরুরী। বিতর নামাজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৬. অনুচ্ছেদঃ বিতর নামাজ পাঁচ রাকআত

৪৫৯. আয়িশাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ]-এর রাতের নামাযের সংখ্যা ছিল তের রাকআত। এর মধ্যে পাঁচ রাকআত তিনি বিতর আদায় করিতেন। এ পাঁচ রাকআত আদায় করা শেষ করেই তিনি বসতেন। মুয়ায্‌যিন আযান দিলে তিনি উঠে হালকা দুই রাকআত নামাজ আদায় করিতেন।

সহিহ। সহীহ্‌ আবু দাঊদ- [১২০৯, ১২১০], সালাতুত তারাবীহ, মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আবু আইউব [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আয়েশা হাদীসটি হাসান সহিহ। নাবী [সাঃআঃ]-এর কিছু বিশেষজ্ঞ সাহাবা ও অন্যরা বিতর নামাজ পাঁচ রাকআত হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, এর কোন রাকআতেই বসবে না, সর্বশেষ রাকআতে বসবে।

আবু ঈসা বলেনঃ “নাবী [সাঃআঃ] নয় বা সাত রাকআত বিত্‌র পড়তেন” এই হাদীস সম্পর্কে আমি মুসআব আল-মাদীনীকে জিজ্ঞেস করলাম। আমি বললাম, তিনি কিভাবে নয় বা সাত রাকআত বিত্‌র পড়তেন? তিনি বলিলেন, দুই দুই রাকআত করে পড়ার পর সালাম ফিরাতেন এবং শেষে এক রাকআত বিত্‌র পড়তেন। বিতর নামাজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৭. অনুচ্ছেদঃ বিতরের নামাজ তিন রাকআত

৪৬০. আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেনঃ নাবী [সাঃআঃ] তিন রাকআত বিতরের নামাজ আদায় করিতেন। তিনি এতে মুফাস্‌সাল সূরা সমূহের নয়টি সূরা পাঠ করিতেন, প্রতি রাকআতে তিনটি করে সূরা পাঠ করিতেন, এর মধ্যে সর্বশেষ সূরা ছিল “কুল হুয়াল্লাহু আহাদ”।

অত্যন্ত দুর্বল, মিশকাত [১২৮১] এ অনুচ্ছেদে ইমরান ইবনি হুসাইন, আইশা, ইবনি আব্বাস, আবু আইউব, আবদুর রহমান ইবনি আবযা উবাই ইবনি কাব প্রমুখ সাহাবী হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবা ও অন্যরা তিন রাকআত বিতর আদায়ের পক্ষে মত দিয়েছেন। সুফিয়ান সাওরী বলেছেন, তুমি চাইলে বিতরের নামাজ পাঁচ, তিন বা এক রাকআতও আদায় করিতে পার। তিনি আরো বলেছেন, আমি তিন রাকআত বিতর পড়া পছন্দ করি। ইবনিল মুবারাক ও কুফাবাসীগণের অভিমতও ইহাই। মুহাম্মাদ ইবনি সীরীন বলেছেন, তাঁরা [নিজেরা] পাঁচ রাকআতও আদায় করিতেন, তিন রাকআতও আদায় করিতেন এবং এক রাকআতও আদায় করিতেন। তাঁরা এর প্রতিটিকেই উত্তম মনে করিয়াছেন। বিতর নামাজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ খুবই দুর্বল

৮. অনুচ্ছেদঃ বিতর নামাজ এক রাকআত

৪৬১. আনাস ইবনি সীরীন [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি ইবনি উমার [রাদি.] -কে প্রশ্ন করলাম, আমি কি সকালের দুই রাকআত [সুন্নাত] দীর্ঘ করিতে পারি? তিনি বলিলেন, নাবী [সাঃআঃ] রাতের নামাজ দুই দুই রাকআত করে আদায় করিতেন এবং এক রাকআত বিতর আদায় করিতেন। অতঃপর দুই রাকআত [সুন্নাত] আদায় করিতেন এমনভাবে যে, তখনও তাহাঁর কানে আযানের শব্দ আসত অর্থাৎ তিনি সংক্ষিপ্ত করিতেন।

সহিহ। ইবনি মাজাহ- [১১৪৪, ১৩১৮], বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ। এ অনুচ্ছেদে আয়িশাহ্‌, জাবির, ফযল ইবনি আব্বাস, আবু আইয়ূব ও ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ ইবনি উমারের হাদীসটি হাসান সহিহ। নাবী [সাঃআঃ]-এর কিছু সাহাবী ও তাবীঈ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করিয়াছেন। তারা বলেন, দুই রাকআত আদায় করে সালাম ফিরাবে, পরে এক রাকআত বিতর আদায় করিবে। ঈমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক এ কথা বলেছেন।বিতর নামাজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৯. অনুচ্ছেদঃ বিতর নামাযের কিরাআত

৪৬২. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] বিতরের প্রথম রাকআতে “সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আলা”, দ্বিতীয় রাকআতে “কুল ইয়া আয়্যুহাল কাফিরূন” ও তৃতীয় রাকআতে “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” সূরা পাঠ করিতেন।

-সহিহ। ইবনি মাজাহ- [১১৭২]। এ অনুচ্ছেদে আলী, আয়িশাহ্‌, আবদুর রহমান ইবনি আবযা এবং উবাই ইবনি কাব [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। অপর এক বর্ণনায় আছে, নাবী [সাঃআঃ]-এর বিতরের তৃতীয় রাকআতে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করিতেন। কিছু সাহাবা ও তাবিঈ ইবনি আব্বাসের হাদীস অনুযায়ী আমল করিয়াছেন।বিতর নামাজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৬৩. আবদুল আযীয ইবনি জুরাইজ [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আয়িশা [রাদি.] -কে প্রশ্ন করলাম, রাসূলুল্লাহু [সাঃআঃ] বিতরের নামাযে কোন্‌ কোন্‌ সূরা পাঠ করিতেন। তিনি বলেন, তিনি প্রথম রাকআতে সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আলা, দ্বিতীয় রাকআতে কুল ইয়া আয়্যুহাল কাফিরূন এবং তৃতীয় রাকআতে “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ, কুল আঊযু বিরব্বিল ফালাক ও কুল আঊযু বিরব্বিন-নাস” সূরা পাঠ করিতেন।

-সহিহ। ইবনি মাজাহ- [১১৭৩]। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। রাবী আব্দুল আযীজ তিনি ইবনি জুরাইজের পিতা আতার শাগরিদ। ইবনি জুরাইজের নাম আব্দুল মালিক ইবনি আব্দুল আযীজ ইবনি জুরাইজ। ইয়াহ্‌ইয়া ইবনি সাঈদও আমরার সূত্রে, তিনি আয়িশাহ্‌ [রাদি.] -এর সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণনা করিয়াছেন। বিতর নামাজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১০. অনুচ্ছেদঃ বিতর নামাযে দুআ কুনূত পাঠ করা

৪৬৪. আবুল হাওরা [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, হাসান ইবনি আলী [রাদি.] বলিলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে কয়েকটি বাক্য শিখিয়ে দিয়েছেন। এগুলো আমি বিতরের নামাযে পাঠ করে থাকিঃ

اللَّهُمَّ اهْدِنِي فِيمَنْ هَدَيْتَ وَعَافِنِي فِيمَنْ عَافَيْتَ وَتَوَلَّنِي فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَ وَقِنِي شَرَّ مَا قَضَيْتَ فَإِنَّكَ تَقْضِي وَلاَ يُقْضَى عَلَيْكَ وَإِنَّهُ لاَ يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ

আল্লাহুম্মা ইহদিনী ফীমান হাদাইতা ওয়া আফিনী ফীমান ‘আফাইতা ওয়া তাওয়াল্লানী ফীমান তাওয়াল্লাইতা ওয়া বারিক লী ফীমা আতাইতা ওয়াক্বিনী শাররা মা ক্বাদাইতা, ফাইন্নাকা তাক্বদী ওয়ালা ইউক্‌দা ‘আলাইকা ওয়া ইন্নাহু লা ইয়াযিল্লু মান ওয়ালাইতা তাবারাকতা রব্বানা ওয়া তাআলাইতা

“হে আল্লাহ! যাদেরকে তুমি হিদায়াত করেছো আমাকেও তাহাদের সাথে হিদায়াত কর, যাদের প্রতি উদারতা দেখিয়েছ তুমি তাহাদের সাথে আমার প্রতিও উদারতা দেখাও। তুমি যাদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছ তাহাদের সাথে আমার অভিভাবকত্বও গ্রহণ কর। তুমি আমাকে যা দান করেছ তার মধ্যে বারকাত দাও। তোমার নির্ধারিত খারাবি হইতে আমাকে রক্ষা কর। কেননা তুমিই নির্দেশ দিতে পার, তোমার উপর কারো নির্দেশ চলে না। যাকে তুমি বন্ধু ভেবেছ সে কখনও অপমানিত হয় না। তুমি কল্যাণময়, তুমি সুউচ্চ”।

সহিহ। ইরওয়া- [৪২৯], মিশকাত- [১২৭৩], তালীক আলা-ইবনি খুজাইমাহ- [১০৯৫], সহীহ্‌ আবু দাঊদ- [১২৮১]। এ অনুচ্ছেদে আলী [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ এটি হাসান হাদীস। আবুল হাওরার সূত্র ব্যতীত অপর কোন সূত্রে আমরা এ হাদীসটি জানতে পারিনি। আবুল হাওরার নাম বারীআহ্‌ ইবনি শাইবান।

বিতরে দুআ কুনূতের ব্যাপারে উল্লেখিত হাদীসের চেয়ে বেশি ভাল হাদীস আমাদের জানা নেই। বিতরের কুনূতের ব্যাপারে আলিমদের মধ্যে মতের অমিল রয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] বলেছেন, সারা বছর [প্রতি রাতে] বিতরের নামাযে কুনূত পাঠ করিতে হইবে। তিনি রুকূ করার পূর্বে কুনূত পাঠ করা পছন্দ করিয়াছেন। কিছু বিশেষজ্ঞের এটাই মত। সুফিয়ান সাওরী, ইবনিল মুবারক, ইসহাক এবং কুফাবাসীগণও একইরকম মত দিয়েছেন। আলী [রাদি.] হইতে বর্ণিত আছে, তিনি কেবল রামাযান মাসের দ্বিতীয়ার্ধেই রুকূ করার পর কুনূত পাঠ করিতেন, অন্য সময়ে কুনূত পাঠ করিতেন না। কিছু বিশেষজ্ঞ এ মত দিয়েছেন। ঈমাম শাফি এবং আহমাদও এ কথাই বলেছেন।বিতর নামাজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১১. অনুচ্ছেদঃ ঘুমের কারণে অথবা ভুলে বিতরের নামাজ ছুটে গেলে

৪৬৫. আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বিতরের নামাজ না আদায় করে ঘুমিয়ে পড়ল অথবা তা আদায় করিতে ভুলে গেল সে যেন মনে হওয়ার সাথে সাথে অথবা ঘুম হইতে উঠার সাথে সাথে তা আদায় করে নেয়।

-সহিহ। ইবনি মাজাহ- [১১৮৮]. বিতর নামাজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৬৬. যাইদ ইবনি আসলাম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ যে ব্যক্তি বিতরের নামাজ না আদায় করে ঘুমিয়ে গেল সে যেন সকাল বেলা তা আদায় করে নেয়।

-সহিহ। ইরওয়া- [৪২২] আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি পূর্ববর্তী হাদীসের তুলনায় বেশি সহিহ। ঈমাম বুখারী [রঃ] বলেন, আবদুর রহমান ইবনি যাইদকে আলী ইবনি আবদুল্লাহ দুর্বল বলেছেন। বুখারী [রঃ] আব্দুল্লাহ ইবনি যাইদকে সিকাহ বারী বলেছেন। একদল কুফাবাসী এ হাদীসের পরিপ্রেক্ষিতে বলেছেন, যখন বিতরের কথা মনে হইবে তখনই তা আদায় করে নিবে, এমনকি সূর্য উঠার পর মনে হলেও। সুফিয়ান সাওরী এই মত পোষণ করিয়াছেন। বিতর নামাজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১২. অনুচ্ছেদঃ ভোর হওয়ার পূর্বেই বিতর আদায় করে নেয়া

৪৬৭. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ ভোর হওয়ার পূর্বেই বিতর আদায় করে নিবে।

সহিহ। ইরওয়া- [২/১৫৪], সহীহ্‌ আবু দাঊদ- [১২৯০] আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহিহ। বিতর নামাজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৬৮. আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ ভোর হওয়ার পূর্বেই বিতর আদায় করে নাও।

সহিহ। ইবনি মাজাহ- [১১৮৯], মুসলিম। বিতর নামাজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৬৯. ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ যখন ভোর হয় তখন রাতের সব নামাজ এবং বিতরের সময় চলে যায়। অতএব তোমরা সকাল হওয়ার পূর্বেই বিতর আদায় করে নাও।

-সহিহ। ইরওয়া- [২/১৫৪], সহীহ্‌ আবু দাঊদ- [১২৯০]। আবু ঈসা বলেনঃ সুলাইমান ইবনি মূসাই কেবল উপরোক্ত শব্দে হাদীসটি রিওয়াত করিয়াছেন। নাবী [সাঃআঃ] হইতে আরো বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেনঃ “সকালের নামাযের পর কোন বিতর নেই।” অনেক বিদ্বানগণের এটাই অভিমত। ঈমাম শাফি, আহমাদ এবং ইসহাক বলেছেন, ফজরের নামাযের পর বিতরের ওয়াক্ত থাকে না। বিতর নামাজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৩. অনুচ্ছেদঃ এক রাতে দুই বার বিতরের নামাজ নেই

৪৭০. তলক ইবনি আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]কে বলিতে শুনেছিঃ এক রাতে দুইবার বিতর নেই।

-সহিহ। সহীহ্‌ আবু দাঊদ- [১২৯৩]। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। যে ব্যক্তি রাতের প্রথম অংশে বিতর আদায় করেছে সে আবার শেষ রাতে নামাজ আদায় করিতে উঠলে তাকে আবার বিতর আদায় করিতে হইবে কিনা এ ব্যাপারে মনীষীদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। একদল সাহাবী ও তাবিঈর মত হল, সে তার বিতর নষ্ট করে দিবে। তাঁরা বলেন, সে আরো এক রাকআত অতিরিক্ত আদায় করিবে, অতঃপর যত রাকআত ইচ্ছা নামাজ আদায় করিবে। সব নামাযের শেষে বিতর আদায় করিবে। এ পদ্ধতি মানার কারণ হল, রাতে একবারের বেশি বিতর নেই। ঈমাম ইসহাক এই পদ্ধতি অবলম্বন করিয়াছেন। অপর একদল সাহাবা ও তাবিঈর মত হল, যে ব্যক্তি প্রথম রাতে বিতর আদায় করেছে সে শেষ রাতে তাহাজ্জুদ আদায় করিতে উঠলে যত রাকআত ইচ্ছা আদায় করে নিবে। বিতর নষ্ট করার বা আবার আদায় করার প্রয়োজন নেই। সুফিয়ান সাওরী, ইবনিল মুবারাক, মালিক, শাফিঈ, কুফাবাসী এবং আহমাদ এ মত দিয়েছেন এবং এই মতই বেশি সহিহ। কেননা একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে যে, নাবী [সাঃআঃ] বিতর আদায় করার পর নফল আদায় করিয়াছেন। বিতর নামাজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৭১. উম্মু সালামা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বিতরের নামাযের পর দুই রাকআত নামাজ আদায় করিতেন।

-সহিহ। ইবনি মাজাহ- [১১৯৫]। আবু উমামা, আয়িশাহ্‌ [রাদি.] ও অন্যান্যরা রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট হইতে এরকম হাদীস বণর্না করিয়াছেন। বিতর নামাজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৪. অনুচ্ছেদঃ সাওয়ারীর উপর বিতরের নামাজ আদায় করা

৪৭২. সাঈদ ইবনি ইয়াসার [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি কোন এক সফরে ইবনি উমার [রাদি.] -এর সাথী ছিলাম। আমি [বিতর আদায়ের উদ্দেশ্যে] তাহাঁর পিছনে থেকে গেলাম। তিনি আমাকে প্রশ্ন করিলেন, তুমি কোথায় ছিলে? আমি বললাম, বিতর আদায় করছিলাম। তিনি বলিলেন, তোমার জন্য কি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর মধ্যে অনুসরণীয় আদর্শ নেই? আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]কে সাওয়ারীর উপর বিতরের নামাজ আদায় করিতে দেখেছি।

-সহিহ। বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ। এ অনুচ্ছেদে ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ ইবনি উমারের হাদীসটি হাসান সহিহ। নাবী [সাঃআঃ]-এর একদল সাহাবী ও অন্যান্যরা এ হাদীসের ভিত্তিতে বলেছেন, কোন লোকের জন্য তার বাহনের পিঠে বিতরের নামাজ আদায় করা জায়িয। ঈমাম শাফি, আহমাদ ও ইসহাক একই রকম কথা বলেছেন। অপর একদল বিশেষজ্ঞ বলেছেন, কোন ব্যক্তি তার সাওয়ারীর উপর বিতর আদায় করিবে না। যখন সে বিতর আদায় করার ইচ্ছা করিবে তখন নীচে নেমে এসে মাটির বুকে বিতর আদায় করিবে। কুফাবাসীদের একদল এ মত দিয়েছেন। বিতর নামাজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৫. অনুচ্ছেদঃ পূর্বাহ্নের [চাশতের] নামাজ

৪৭৩. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পূর্বাহ্নের বার রাকআত নামাজ আদায় করে আল্লাহ্‌ তাআলা তার জন্য জান্নাতে একটি সোনার প্রাসাদ তৈরী করেন।

যঈফ, ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[১৩৮০] এ অনুচ্ছেদ উম্মু হানী, আবু হুরাইরা, নুআইম ইবনি হাম্মার, আবু যার, আইশা, আবু উমামা, উতবা ইবনি আবদ সুলামী, ইবনি আবী আওফা, আবু সাঈদ, যাইদ ইবনি আরকাম ও ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আনাসের হাদীসটি গারীব। শুধুমাত্র উল্লেখিত সূত্রেই এ হাদীসটি আমরা জানতে পেরেছি। বিতর নামাজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৪৭৪. আবদুর রহমান ইবনি আবু লাইলা [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমাকে এমন কোন লোকই জানায়নি যে, সে নাবী [সাঃআঃ]কে পূর্বাহ্নের নামাজ আদায় করিতে দেখেছে। কিন্তু উম্মু হানী [রাদি.] বলেছেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] মক্কা বিজয়ের দিন তাহাঁর ঘরে গেলেন, অতঃপর গোসল করে আট রাকআত নামাজ আদায় করিলেন। আমি তাঁকে এতো সংক্ষিপ্তভাবে আর কখনও নামাজ আদায় করিতে দেখিনি। হ্যাঁ তিনি রুকু-সাজদাহ্‌ ঠিকমত আদায় করেছিলেন।

-সহিহ। ইবনি মাজাহ- [১৩৭৯]। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহিহ। ঈমাম আহমাদের মতে, এ অনুচ্ছেদে উম্মু হানী [রাদি.] -এর হাদীসটি সবচাইতে সহিহ। নুআইম [রাদি.] -এর পিতার নাম নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতের অমিল আছে। মতান্তরে তার নাম খাম্মার, আম্মার, হাব্বার, হাম্মাম ও হাম্মার। সঠিক নাম হাম্মার। ঐতিহাসিক আবু নুআইম ভুলবশত হিমায বলে সন্দীহান হয়েছেন এবং পরে পিতার নাম উল্লেখ বাদ দিয়েছেন। আবু ঈসা বলেনঃ এ ব্যাপারে আবদ ইবনি হুমাইদ আবু নুআইম হইতে আমাকে অবহিত করিয়াছেন। বিতর নামাজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৭৫. আবু দারদা ও আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেনঃ হে আদম সন্তান! দিনের প্রথম ভাগে আমার জন্য চার রাকআত নামাজ আদায় কর, আমি তোমার দিনের শেষ পর্যন্ত প্রয়োজন পূরণ করে দিব।

-সহিহ। তালীকুর রাগীব- [১/২৩৬]। আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান গারীব। বিতর নামাজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৭৬. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পূর্বাহ্নের জোড়া নামাযের নিয়মিত হিফাযাত করে, তাহাঁর গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হইবে, তা সমুদ্রের ফেনার সমান হলেও।

যঈফ, মিশকাত [১৩১৮] আবু ঈসা বলেনঃ ওয়াকী, নাযার ইবনি শুমাইল এবং আরও অনেকে এই হাদীসটি নাহ্‌হাস ইবনি ক্বাহম হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু আমরা তাকে এই হাদীস ছাড়া চিনতে পারিনি।বিতর নামাজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৪৭৭. আবু সাইদ আল-খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর নাবী [সাঃআঃ] নিয়মিত পূর্বাহ্নের নামাজ আদায় করিতেন, এমনকি আমরা বলাবলি করতাম, তিনি কখনও এ নামাজ ছাড়বেন না। তিনি আবার কখনও এমনভাবে এ নামাজ ছেড়ে দিতেন, আমরা বলাবলি করতাম, তিনি হয়ত আর কখনও তা আদায় করবেন না।

যঈফ, ইরওয়া [৪৬০] আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। বিতর নামাজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

১৬. অনুচ্ছদঃসূর্য ঢলে যাওয়ার সময় নামাজ আদায় করা

৪৭৮. আবদুল্লাহ ইবনিস সায়িব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে যাওয়ার পর যুহরের পূর্বে চার রাকআত নামাজ আদায় করিতেন। তিনি বলেছেনঃ এটা এমন একটা সময় যখন আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। আমি এ সময় আমার কোন ভাল কাজ উপরে উঠে যাক এ আকাংখা করি।

-সহিহ। ইবনি মাজাহ- [১১৫৭]। এ অনুচ্ছেদে আলী ও আবু আইয়ুব [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনি সায়িবের হাদীসটি হাসান গারীব। “বর্ণিত আছে যে, নাবী [সাঃআঃ] সূর্য ঢলে যাওয়ার পর এক সালামে চার রাকআত নামাজ আদায় করিতেন”। বিতর নামাজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭. অনুচ্ছদঃ প্রয়োজন পূরণের নামাজ [সালাতুল হাজাত]

৪৭৯. আবদুল্লাহ ইবনি আবী আওফা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তির আল্লাহ্‌ তাআলার কাছে অথবা কোন আদম সন্তানের কাছে কোন প্রয়োজন রয়েছে সে যেন প্রথমে উত্তমরূপে ওযূ করে, তারপর দুই রাকআত নামাজ আদায় করে, তারপর আল্লাহ্‌ তাআলার প্রশংসা করে এবং রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর প্রতি দরূদ ও সালাম পাঠ করে, তারপর এ দুআ পাঠ করেঃ

 لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ أَسْأَلُكَ مُوجِبَاتِ رَحْمَتِكَ وَعَزَائِمَ مَغْفِرَتِكَ وَالْغَنِيمَةَ مِنْ كُلِّ بِرٍّ وَالسَّلاَمَةَ مِنْ كُلِّ إِثْمٍ لاَ تَدَعْ لِي ذَنْبًا إِلاَّ غَفَرْتَهُ وَلاَ هَمًّا إِلاَّ فَرَّجْتَهُ وَلاَ حَاجَةً هِيَ لَكَ رِضًا إِلاَّ قَضَيْتَهَا يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল হালিমুল কারিমু সুবহানাল্লাহি রব্বিল আরসিল আজিম ওয়াল হামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন। আসালুকা মুজিবাতি রহমাতিকা ওয়া আজাইমা মাগফিরাতিকা ওয়াল গনিমাতা মিন কুল্লি বির রিওয়াসসালামাতা মিন কুল্লি ইস্মি লা তাদা,লি জানবান ইল্লা গাফেরতাহু ওয়া লা হাম্মা ইল্লা ফাদ্দাজতাহু ওয়া লা হাজাতান হিয়া লাকা রিদান ইল্লা ফাজায়তাহা ইয়া আরহামার রাহিমিন

অর্থাৎ “আল্লাহ্‌ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি ধৈর্যশীল ও মহামহিম। মহান আরশের মালিক আল্লাহ্‌ তাআলা খুবই পবিত্র। সকল প্রশংসা সারা বিশ্বের প্রতিপালক আল্লাহ্‌ তাআলার জন্য। [হে আল্লাহ্‌!] আমি তোমার নিকট তোমরা রাহমাত লাভের উপায়সমূহ, তোমার ক্ষমা লাভের কঠিন ওয়াদা, প্রত্যেক ভাল কাজের ঐশ্বর্য এবং সকল খারাপ কাজ হইতে নিরাপত্তা চাইছি। হে মহা অনুগ্রহকারী ! আমার প্রতিটি অপরাধ ক্ষমা কর, আমার প্রতি দুশ্চিন্তা দূর করে দাও এবং যে প্রয়োজন ও চাহিদা তোমার সন্তোষ লাভের কারণ হয় তা পরিপূর্ণ করে দাও।”

অত্যন্ত দুর্বল, ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[১৩৮৪] আবু ঈসা বলেনঃ হাদীসটি গারীব। এ হাদীসের সনদ সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য রয়েছে। কেননা এ হাদীসের এক রাবী ফাইদ ইবনি আবদুর রহমান হাদীসশাস্ত্রে দুর্বল। ফাইদের উপনাম আবুল ওয়ারকা।বিতর নামাজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ খুবই দুর্বল

১৮. অনুচ্ছদঃ ইস্তিখারার নামাজ

৪৮০. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে যেভাবে কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন, ঠিক সেভাবে প্রতিটি কাজে আমাদেরকে ইস্তিখারা [কল্যাণ প্রার্থনা] শিক্ষা দিতেন। তিনি বলিতেনঃ যখন তোমাদের কেউ কোন কাজের ইচ্ছা করে তখন সে যেন ফরয ছাড়া দুই রাকআত নামাজ আদায় করে নেয়, অতঃপর বলেঃ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلاَ أَقْدِرُ وَتَعْلَمُ وَلاَ أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلاَّمُ الْغُيُوبِ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعِيشَتِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي أَوْ قَالَ فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ فَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعِيشَتِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي أَوْ قَالَ فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ وَاقْدُرْ لِيَ الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ أَرْضِنِي بِهِ

আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসতাখীরুকা বি‘ইলমিকা ওয়া আস্তাক্বদিরুকা বিক্বুদরাতিকা ওয়া আস্আলুকা মিন ফাদলিকাল আযীম। ফাইন্নাকা তাক্বদিরু ওয়ালা আক্বদিরু, ওয়া তা‘লামু ওয়ালা আ‘লামু, ওয়া আনতা ‘আল্লামূল গুয়ূব। আল্লা-হুম্মা ইন কুনতা তা‘লামু আন্না হা-যাল আম্‌রা (মনে মনে প্রয়োজন উল্লেখ করুন) খাইরুন লী ফী দীনি ওয়া মা‘আ-শী ওয়া ‘আ-ক্বিবাতি আমরী, (অথবা বলেছেন) ‘আজিলিহী ও আজিলিহী, ফাকদুরহু লী, ওয়া ইয়াসসিরহু লী, ছুম্মা বা-রিক লী ফীহি। ওয়াইন কুনতা তা‘লামু আন্না হা-যাল আমরা (মনে মনে প্রয়োজন উল্লেখ করুন) শাররুন লী ফী দীনী ওয়া মা‘আ-শী ওয়া ‘আ-ক্বিবাতি আমরী, (অথবা বলেছেন) ‘আজিলিহী ও আজিলিহী, ফাসরিফহু ‘আন্নী ওয়াসরিফনী ‘আনহু, ওয়াকদুর লিয়াল-খাইরা হাইসু কা-না, সুম্মা আরদ্বিনী বিহ্

“হে আল্লাহ! আমি তোমার জ্ঞানের সাহায্য চাইছি, তোমার শক্তির সাহায্য চাইছি এবং তোমার মহান অনুগ্রহ চাইছি। তুমিই শক্তি ও ক্ষমতার অধিকারী, আমার কোন ক্ষমতা নেই। তুমি অফুরন্ত জ্ঞানের অধিকারী, আমার কোন জ্ঞান নেই। তুমি অদৃশ্যবিষয়ে সম্পূর্ণরূপে ও সম্যকভাবে জানো। হে আল্লাহ! তুমি যদি এ কাজটি আমার জন্য, আমার দ্বীনের দৃষ্টিকোণ হইতে, আমার জীবন যাপনের ব্যাপারে এবং আমার কাজের পরিণামের দিক হইতে অথবা [রাবীর সন্দেহ] তিনি বলেছেনঃ আমার দুনিয়া ও আখিরাতের ব্যাপারে ভাল মনে কর তবে তা আমার জন্য নির্দিষ্ট করে দাও এবং আমার জন্য সহজ করে দাও। পক্ষান্তরে তুমি যদি এ কাজটি আমার জন্য আমার দ্বীনের দৃষ্টিকোণ হইতে, আমার জীবন যাপনের ব্যাপারে এবং আমার কাজকর্মের পরিণামের দিক হইতে অথবা [রাবীর সন্দেহ] তিনি বলেছেনঃ আমার ইহকাল-পরকালের ব্যাপারে ক্ষতিকর মনে কর, তবে তুমি সে কাজটি আমার থেকে দূরে সরিয়ে দাও। এবং আমাকে তা থেকে বিরত রাখ। যেখান হইতে হোক তুমি আমার জন্য কল্যাণ নির্ধারণ করে দাও”। অতঃপর তিনি [রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]] অথবা রাবী বলেন, [এ কাজটির স্থলে] প্রার্থনাকারী যেন নিজের উদ্দিস্ট কাজের নাম করে।

-সহিহ। ইবনি মাজাহ- [১৩৮০]। এ অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ ও আবু আইয়ূব [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ জাবিরের হাদীসটি হাসান সহীহ্‌ গারীব। উল্লেখিত হাদীসটি আমরা শুধুমাত্র আবদুর রহমান ইবনি আবুল মাওয়ালীর সূত্রেই জেনেছি। তিনি মাদীনার একজন শাইখ এবং সিকাহ [নির্ভরযোগ্য] রাবী। তাহাঁর নিকট হইতে সুফিয়ান একটি হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। আব্দুর রহমানের নিকট হইতে অনেক ঈমামই হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। আর তিনি হলেন, আব্দুর রহমান ইবনি যাইদ ইবনি আবীল মাওয়ালী। বিতর নামাজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৯. অনুচ্ছদঃ সালাতুত তাসবীহ

৪৮১. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

উম্মু সুলাইম [রাদি.] একদিন সকাল বেলা নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট আসলেন। তিনি বলিলেন, আমাকে এমন কিছু বাক্য শিখিয়ে দিন যা আমি নামাযে পাঠ করব। তিনি বললেনঃ দশবার আল্লাহু আকবার দশবার সুবহানাল্লাহ এবং দশবার আলহামদু লিল্লাহ পাঠ কর। অতঃপর তোমার যা খুশি তাই চাও। তিনি [আল্লাহ তাআলা] বলবেনঃ হ্যাঁ, হ্যাঁ [ক্ববূল করলাম]।

-সনদ সহিহ। এ অনুচ্ছেদে ইবনি আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবনি আমর, ফযল ইবনি আব্বাস ও আবু রাফি [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আনাসের হাদীসটি হাসান গারীব। সালাতুত তাসবীহ প্রসঙ্গে রাসূল হইতে আরো কয়েকটি হাদীস বর্ণিত আছে। কিন্তু এগুলো খুব একটা সহীহ্‌ নয়। ইবনিল মুবারক ও অন্য কয়েকজন বিশেষজ্ঞ সালাতুত তাসবীহ ও তার ফাযীলাত প্রসঙ্গে বর্ণনা করিয়াছেন।

আবু ওয়াহ্‌ব বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনিল মুবারককে সালাতুত তাসবীহ প্রসঙ্গে আমি প্রশ্ন করলাম। তিনি বলিলেন, আল্লাহু আকবার বলবে, অতঃপর “সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাস্‌মুকা ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহ গাইরুকা” পাঠ করিবে। অতঃপর পনের বার “সুবহানাল্লাহি ওয়াল-হামদু লিল্লহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার” পাঠ করিবে। অতঃপর আউযু বিল্লাহ, বিসমিল্লাহ এবং সূরা ফাতিহা ও তার সাথে অন্য সূরা পাঠ করিবে। অতঃপর দশবার সুবহানাল্লহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার” পাঠ করিবে। অতঃপর রুকূতে গিয়ে দশবার, রুকূ হইতে মাথা তুলে দশবার, সাজদাহ্‌য় গিয়ে দশবার, সাজদাহ্‌ হইতে মাথা তুলে দশবার এবং দ্বিতীয় সাজদাহ্‌য় দশবার উক্ত দুআ পাঠ করিবে। এভাবে চার রাকআত নামাজ আদায় করিবে। এতে প্রতি রাকআতে পঁচাত্তর বার পাঠ করা হইবে। প্রতি রাকআতের প্রথমে এ দুআ পনের বার পাঠ করিবে, অতঃপর দশবার করে উক্ত দুআ পাঠ করিবে। যদি এ নামাজ রাতের বেলা আদায় করা হয় তবে আমি প্রতি দুই রাকআত পর পর সালাম ফিরানো ভাল মনে করি। আর যদি দিনের বেলা আদায় করে তবে চাইলে দুই রাকআত পর পর বা চার রাকআত পরও সালাম ফিরাতে পারে।

আবু ওয়াহ্‌ব বলেন, আবদুল আযীয আমাকে জানিয়েছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনিল মুবারক বলেছেন, রুকূ-সাজদাহ্‌য় পর্যায়ক্রমে তিনবার করে সুবহানা রব্বিয়াল আযীম ও সুবহানা রব্বিয়াল আলা পাঠ করার পর উল্লেখিত দুআ পাঠ করিবে। আবদুল আযীয বলেন, আমি ইবনিল মুবারককে প্রশ্ন করলাম, যদি এ নামাযে ভুল হয়ে যায় তবে ভুলের সাজদাহ্‌তে উক্ত দুআ পাঠ করিতে হইবে? তিনি বলিলেন, না, এ দুআ তো মোট তিনশো বার পাঠ করিতে হইবে। -সহিহ। তালীকুর রাগীব- [১/২৩৯]বিতর নামাজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৮২. আবু রাফি [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আব্বাস [রাদি.] -কে বললেনঃ হে চাচা! আমি কি আপনার সাথে সদ্ব্যবহার করব না, আমি কি আপনাকে ভালবাসব না, আমি কি আপনার উপকার করব না? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ ইয়া রসুলুল্লাহ। তিনি বললেনঃ হে চাচা! চার রাকআত নামাজ আদায় করুন, প্রতি রাকআতে সূরা আল-ফাতিহা ও এর সাথে একটি করে সূরা পাঠ করুন। কিরাআত পাঠ শেষ করে রুকূ করার পূর্বে পনের বার বলুন, “আল্লাহু আকবার ওয়ালু হামদু লিল্লাহি ওয়া সুবহানাল্লহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু”। অতঃপর রুকূতে গিয়ে দশবার, রুকূ হইতে মাথা তুলে দশবার, সাজদাহ্‌তে গিয়ে দশবার, সাজদাহ্‌ হইতে মাথা তুলে দশবার আবার সাজদাহ্‌য় গিয়ে দশবার এবং সাজদাহ্‌ হইতে মাথা তুলে দাঁড়ানোর পূর্বে দশবার এটা পাঠ করুন। এভাবে প্রতি রাকআতে পঁচাত্তর বার পাঠ করা হইবে, চার রাকআতে সর্বমোট তিনশ বার হইবে। আপনার টিলা পরিমাণ গুনাহ হলেও আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দিবেন। তিনি বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! প্রতিদিন এ রকম নামাজ আদায় করিতে কে পারবে? তিনি বললেনঃ প্রতিদিন আদায় করিতে না পারলে প্রতি শুক্রবারে [সপ্তাহে একবার] আদায় করুন। যদি প্রতি জুমুআয় আদায় করিতে না পারেন তবে প্রতি মাসে আদায় করুন। [রাবী বলেন,] তিনি এভাবে বলিতে বলিতে শেষে বললেনঃ বছরে একবার আদায় করে নিন।

-সহিহ। ইবনি মাজাহ- [১৩৮৬]। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। বিতর নামাজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

২০. অনুচ্ছদঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর উপর দুরূদ পাঠের পদ্ধতি

৪৮৩. কাব ইবনি উজরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকে কিভাবে সালাম করিতে হইবে তা আমরা জেনেছি, কিন্তু আপনার প্রতি কিভাবে দুরূদ পাঠ করব? তিনি বললেনঃ তোমরা বলো,

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيِدٌ مَجِيدٌ 

“হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের পরিবার-পরিজনের উপর রাহমাত বর্ষণ কর যেভাবে ইবরাহীমের উপর রাহমাত বর্ষণ করেছ। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত মর্যাদাবান। [হে আল্লাহ!] তুমি মুহাম্মাদ ও তাহাঁর পরিবার-পরিজনদের বারকাত দান কর, যেভাবে তুমি ইবরাহীম ও তাহাঁর পরিবার-পরিজনদের বারকাত দান করেছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও সম্মানিত”। আবদুর রহমান ইবনি আবু লাইলা বলেন, আমরা “তাহাদের সাথে আমাদের প্রতিও” শব্দটুকুও বলতাম।

-সহিহ। ইবনি মাজাহ- [৯০৪], বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ। এ অনুচ্ছেদে আলী, আবু হুমাইদ, আবু মাসউদ, তালহা, আবু সাঈদ, বুরাইদা, যাইদ ইবনি খারিজা ও আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ কাব ইবনি উজরার হাদীসটি হাসান সহিহ। আব্দুর রহমান ইবনি আবী লাইলার উপনাম আবু ঈসা। আর আবু লাইলার নাম ইয়াসার। বিতর নামাজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২১. অনুচ্ছদঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর প্রতি দুরূদ পাঠের ফযিলত

৪৮৪. আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ কিয়ামতের দিন আমার নিকটতম ব্যক্তি হইবে যে আমার প্রতি বেশি পরিমাণে দরূদ পাঠ করেছে।

যঈফ, তালীকুর রাগীব [২/২৮০]। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে আরও বর্ণিত আছে, তিনি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরূদ পাঠ করে আল্লাহ্‌ তাআলা তার প্রতি দশটি রাহমাত বর্ষণ করেন এবং তার জন্য দশটি সাওয়াব লিখে দেন। বিতর নামাজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৪৮৫. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দুরূদ পাঠ করে, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি দশটি রাহমাত বর্ষণ করেন।

-সহিহ। সহীহ্‌ আবু দাঊদ- [১৩৬৯], মুসলিম। এ অনুচ্ছেদে আবদুর রহমান ইবনি আওফ, আমির ইবনি রবীআ, আম্মার, আবু তালহা, আনাস ও উবাই ইবনি কাব [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবু হুরাইরার হাদীসটি হাসান সহিহ। সুফিয়ান সাওরী ও অপরাপর মনীষী বলেছেন, প্রতিপালক প্রভুর পক্ষ হইতে নামাজ শব্দের অর্থ রাহমাত এবং ফেরেশতাহাদের পক্ষ হইতে সালাতের অর্থ ক্ষমা প্রার্থনা। বিতর নামাজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৮৬. উমার ইবনিল খাত্তাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, দুআ আকাশ যমিনের মধ্যবর্তী স্থানে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে, তোমার রাসূল [সাঃআঃ]-এর প্রতি যতক্ষণ তুমি দুরূদ পাঠ না কর ততক্ষণ তার কিছুই উপরে উঠে না।

-হাসান। সহীহাহ্‌- [২০৫৩]। বিতর নামাজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

৪৮৭. আলা ইবনি আবদুর রহমান ইবনি ইয়াকূব [রঃ] হইতে পর্যায়ক্রমে তাহাঁর পিতা ও দাদার হইতে বর্ণীতঃ

তিনি [ইয়াকূব] বলেন, উমার ইবনিল খাত্তাব [রাদি.] বলেছেনঃ যার দ্বীন প্রসঙ্গে সঠিক জ্ঞান আছে কেবল সেই যেন আমাদের বাজারে ব্যবসা করে।

-সনদ হাসান। আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আবু ঈসা বলেনঃ আলা ইবনি আবদুর রহমান তাবিঈদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] ও অন্যান্যদের নিকট হাদীস শুনেছেন। আলার পিতা আবদুর রহমানও তাবিঈদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আবু হুরাইরা, আবু সাঈদ আল-খুদরী ও ইবনি উমার [রাদি.] -এর নিকট হাদীস শুনেছেন। আবদুর রহমানের পিতা ইয়াকূব একজন বয়বৃদ্ধ তাবিঈ। তিনি উমার [রাদি.] -এর সাক্ষাত লাভ করিয়াছেন এবং তাহাঁর নিকট হইতেও হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।বিতর নামাজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

By ইমাম তিরমিজি

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply