মুনাফিক, কাফির, কুফর ও গালি দেয়া
যে ব্যক্তি মুসলিম ভাইকে হে কাফির বলে করে তার ঈমানের অবস্থা >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন
২৫. অধ্যায়ঃ মুনাফিকের স্বভাব
২৬. অধ্যায়ঃ যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইকে হে কাফির বলে সম্বোধন করে তার ঈমানের অবস্থা
২৭. অধ্যায়ঃ জেনে শুনে নিজের পিতাকে অস্বীকার কারীর ঈমানের অবস্থা
২৮. অধায়ঃ নবি [সাঃআ:]-এর বাণীঃ মুসলিমদের গালি গালাজ করা গুনাহের কাজ এবং তাহাদের সাথে মারামারি করা কুফরী
২৯. অধ্যায়ঃ নবি [সাঃআ:] এর বাণীঃ তোমরা আমার পরে পরস্পর হত্যাকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে কাফিরে পরিণত হয়ো না
৩০.অধ্যায়ঃ বংশের প্রতি কটাক্ষের এবং উচ্চৈঃস্বরে বিলাপ এর উপর কুফ্রী শব্দের প্রয়োগ
৩১.অধ্যায়ঃ পলাতক দাসকে কাফির আখ্যায়িত করা
৩২.অধ্যায়ঃ যে ব্যক্তি বলে আমরা বৃষ্টিলাভ করেছি নক্ষত্রের গুনে তার কুফরীর বর্ণনা
৩৩. অধ্যায়ঃ আনসার দের এবং আলী (রাঃ)-কে ভালোবাসা ঈমানের অংশ ও চিহ্ন এবং তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা নিফাকের চিহ্ন
৩৪. অধ্যায়ঃ আনুগত্যের ত্রুটিতে ঈমান হ্রাস পাওয়া এবং আল্লাহর সাথে কুফরী করা ছাড়াও অকৃতজ্ঞতা ও অন্যের অনুগ্রহকে অস্বীকার করার মতো অর্থেও কুফর শব্দটি প্রযোজ্য হয়
৩৫. অধ্যায়ঃ সলাত পরিত্যাগকারী এর উপর কুফর শব্দের প্রয়োগ
২৫. অধ্যায়ঃ মুনাফিকের স্বভাব
১১৩. আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ
রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেছেনঃ চারটি [দোষ] যার মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে সে খাঁটি মুনাফিক; আর যার মধ্যে এ দোষগুলির একটি বর্তমান রয়েছে তার ত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকীর একটি স্বভাব থেকে যায়। [১] যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে, [২] সে সন্ধি চুক্তি করলে তা ভঙ্গ করে, [৩] সে ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে এবং [৪] সে ঝগড়া করলে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে।
সুফইয়ান-এর হাদীসের মধ্যে রয়েছেঃ “আর যদি কারোর মধ্যে এ দোষগুলোর একটি বিদ্যমান থাকে, তা হলে তার মধ্যে মুনাফিকীর একটি স্বভাব রয়েছে।” {৩৭}
[ই.ফা. ১১৪; ই.সে. ১১৮]
{৩৭} হাদীসে উল্লেখিত চারটি স্বভাব যার মধ্যে পাওয়া যাবে বরাবরের জন্য সে খাঁটি মুনাফিক। আর যদি মাঝে মধ্যে হয়ে যায় তাহলে সে খাঁটি মুনাফিক নয়। অন্য বর্ণনায় [আরবী] শব্দের স্থলে অত্র হাদীসে [আরবী] ব্যবহার হয়েছে, শব্দগুলো হলোঃ [আরবী]
আলিমগণের একটি দল বলেন, মুনাফিক রসুলুল্লাহ [সাঃআ:]-এর যামানায় ছিল, কারন তারা মিথ্যা বলে ঈমান প্রকাশ করতো; প্রকৃতপক্ষে তার উল্টো কাজ করতো।
আরো উল্লেখ করা যেতে পারে, কার্যতভাবে উল্লেখিত স্বভাবগুলো মাঝে মধ্যে পাওয়া গেলে মুনাফিক হইবে না। বরং তা বিশ্বাস রেখে বললে মুনাফিক হইবে। অধিকাংশ হাদীসে তিনটি দোষের কথা উল্লেখ আছে তবে চারটি দোষ থাকলে সে হাদীসের বিরোধীতা হইবে না।
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
১১৪. আবু হুরাইরাহ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ
রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেছেনঃ মুনাফিকের আলামত তিনটি-[১] যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে; [২] ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে; [৩] এবং তার কাছে আমানাত রাখা হলে সে তা খেয়ানাত করে।
[ই.ফা. ১১৫; ই.সে. ১১৯]
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
১১৫. আবু হুরাইরাহ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ
রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেছেনঃ মুনাফিকের আলামত তিনটি [১] সে কথা বললে মিথ্যা বলে; [২] ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে; [৩] এবং তার কাছে আমানাত রাখা হলে খিয়ানাত করে।
[ই.ফা. ১১৬; ই.সে. ১২০]
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
১১৬. ইয়াহইয়া ইবনি মুহাম্মাদ হইতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি উপরোক্ত সানাদে ইবনি আবদুর রহমান থেকে শুনিয়াছি। তিনি বলেন, মুনাফিকের চিহ্ন তিনটি- যদিও সে সওম পালন করে এবং সলাত আদায় করে এবং মনে করে যে, সে মুসলিম।
[ই.ফা. ১১৭; ই.সে. ১২১]
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
১১৭. আবু হুরাইরাহ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ
ইয়াহইয়া ইবনি মুহাম্মদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর সূত্রে বর্ণিত আলা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। এতে উল্লেখ আছে ….. যদিও সে সওম পালন করে, সলাত আদায় করে এবং মনে করে যে, সে মুসলিম।
[ই.ফা. ১১৮, ই.সে ১২২]
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
২৬. অধ্যায়ঃ যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইকে হে কাফির বলে সম্বোধন করে তার ঈমানের অবস্থা
১১৮. ইবনি উমার [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ
নবি [সাঃআ:] বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি তার ভাইকে কাফির বলে আখ্যায়িত করলে সে কুফরী তাহাদের উভয়ের কোন একজনের উপর অবশ্যই ফিরে আসবে।
[ই.ফা. ১১৯; ই.সে. ১২৩]
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
১১৯. ইবনি উমার [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ্ [সাঃআ:] বলেছেন, কেউ তার ভাইকে কাফির বলে সম্বোধন করলে উভয়ের একজনের উপর তা ফিরে আসবে। যাকে কাফির বলা হয়েছে সে কাফির হলো তো হলোই, নতুবা কথাটি বক্তার উপরই ফিরে আসবে।
[ই.ফা. ১২০; ই.সে. ১২৪]
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
২৭. অধ্যায়ঃ জেনে শুনে নিজের পিতাকে অস্বীকার কারীর ঈমানের অবস্থা
১২০. আবু যার [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ
তিনি রসূলুল্লাহ্ [সাঃআ:]-কে বলিতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি জেনে শুনে নিজ পিতার পরিবর্তে অন্য কাউকে পিতা বলে, সে কুফরী করিল। আর যে ব্যক্তি এমন কিছু দাবী করে যা তার নয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয় এবং সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল বানিয়ে নেয়। আর কেউ কাউকে কাফির বলে ডাকলে বা আল্লাহর দুশমন বলে ডাকল, যদি সে তা না হয় তাহলে এ কুফরী সম্বোধনকারীর প্রতি ফিরে আসবে।
[ই.ফা. ১২১; ই.সে. ১২৫]
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
১২১. ইরাক ইবনি মালিক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর সূত্রে আবু হুরাইরাহ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ
তিনি আবু হুরাইরাহ কে বলিতে শুনেছেন। রসূলুল্লাহ্ [সাঃআ:] বলেছেনঃ তোমরা নিজেদের পিতৃপরিচয় থেকে বিমুখ হয়ো না। কেননা যে ব্যক্তি নিজের পিতৃপরিচয় দিতে ঘৃণাবোধ করলো, সে কুফরী করলো।
[ই.ফা. ১২২; ই.সে. ১২৬]
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
১২২. আবু ওয়াক্কাস [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ
আমার উভয় কর্ণ রসূলুল্লাহ্ [সাঃআ:]-কে বলিতে শুনেছে যে, ইসলাম গ্রহণের পর যে ব্যক্তি জেনে শুনে নিজের পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে মেনে নেয় তার জন্য জান্নাত হারাম। আবু বাকরাহ বলেন, আমিও রসূলুল্লাহ্ [সাঃআ:] থেকে এ কথা শুনিয়াছি।
[ই.ফা. ১২৩; ই.সে. ১২৭]
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
১২৩. সাদ ও আবু বাক্র [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ
মুহাম্মদ [সাঃআ:] থেকে আমার দুই কান শুনেছে এবং আমার অন্তর স্মরণ রেখেছে যে, তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি আপন পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে মেনে নেয় অথচ সে জানে যে, সে তার পিতা নয়, তার জন্য জান্নাত হারাম।
[ই.ফা. ১২৪; ই.সে. ১২৮]
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
২৮. অধায়ঃ নবি [সাঃআ:]-এর বাণীঃ মুসলিমদের গালি গালাজ করা গুনাহের কাজ এবং তাহাদের সাথে মারামারি করা কুফরী
১২৪. আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ্ [সাঃআ:] বলেছেন, মুসলিমকে গালি দেয়া গুনাহের কাজ এবং তার সাথে মারামারি করা কুফরী। রাবী যুবায়দ বলেন, আমি [আমার উসতায] আবু ওয়ায়িলকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদকে রসূলুল্লাহ্ [সাঃআ:] থেকে এ রিওয়ায়াত করিতে শুনেছেনে? তিনি [আবু ওয়ায়িল] বলিলেন, হ্যাঁ।
তবে রাবী শুবার হাদীসে আবু ওয়ায়িলের সাথে যুবায়রের উক্ত কথার উল্লেখ নেই।
[ই.ফা. ১২৫; ই.সে. ১২৯]
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
১২৫. আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ-এর সূত্রে হইতে বর্ণিতঃ
নবি [সাঃআ:] থেকে অবিকল হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।
[ই.ফা. ১২৬; ই.সে. ১৩০]
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
২৯. অধ্যায়ঃ নবি [সাঃআ:] এর বাণীঃ তোমরা আমার পরে পরস্পর হত্যাকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে কাফিরে পরিণত হয়ো না
১২৬. জারীর [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ্ [সাঃআ:] বিদায় হাজ্জের দিনে আমাকে বলিলেন, লোকেদের চুপ করাও। তারপর তিনি [সাঃআ:] বলিলেন, তোমরা পরস্পর হত্যাকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে কাফিরে পরিণত হয়ো না।
[ই.ফা. ১২৭; ই.সে. ১৩১]
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
১২৭. ইবনি উমার [রাঃআ:]-এর সুত্রে হইতে বর্ণিতঃ
নবি [সাঃআ:] থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।
[ই.ফা. ১২৮; ই.সে. ১৩২]
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
১২৮. আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাঃআ:]-এর সূত্রে হইতে বর্ণিতঃ
নবি [সাঃআ:] থেকে বর্ণনা করেন যে, বিদায় হাজ্জের দিন তিনি বলেছেন, তোমাদের জন্য আফসোস অথবা [বলিলেন] দুর্ভোগ তোমাদের! আমার পরে তোমরা পরস্পর হত্যাকান্ডে লিপ্ত হয়ে কাফিরে পরিণত হয়ো না।
[ই.ফা. ১২৯; ই.সে. ১৩৩]
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
১২৯. ইবনি উমার [রাঃআ:]-এর সুত্রে হইতে বর্ণিতঃ
নবি [সাঃআ:] থেকে ওয়াকিদ-এর সুত্রে শুবার বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন।
[ই.ফা. ১৩০; ই.সে. ১৩৪]
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
৩০.অধ্যায়ঃ বংশের প্রতি কটাক্ষের এবং উচ্চৈঃস্বরে বিলাপ এর উপর কুফ্রী শব্দের প্রয়োগ
১৩০. আবু হুরাইরাহ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ্ [সাঃআ:] বলেছেন, দুটো স্বভাব মানুষের মাঝে রয়েছে, যা কুফ্র বলে গণ্য বংশের প্রতি কটাক্ষ করা {৩৮} এবং মৃত ব্যক্তির জন্য উচ্চৈঃস্বরে বিলাপ করা। {৩৯} [ই.ফা. ১৩১; ই.সে. ১৩৫]
{৩৮} বংশের প্রতি কটাক্ষ করা, যেমন কাউকে বলা তুমি নিচু বংশের অভদ্র, কিংবা তোমার বংশই খারাপ বলা কিংবা দাসীর পেটের আর কত ভাল হইবে। এগুলো বলা কাফিরদের অনুকরণ করা। কারন, জাহিলী সমাজ চরিত্রে বংশ গৌরব খুব প্রচলন ছিল। অথচ আমরা সকলে আদাম সন্তান, আদাম সন্তানের মর্যাদা তার আল্লাহভীরু হওয়ার উপর নির্ভর করে।
{৩৯} মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করে অর্থাৎ তার গুন উল্লেখ করে উচ্চৈঃস্বরে কাঁদা, উভয়টাই কাফিরদের আচরণ।
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
৩১.অধ্যায়ঃ পলাতক দাসকে কাফির আখ্যায়িত করা
১৩১. শাবী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ
তিনি জারীর [রাঃআ:]-কে বলিতে শুনেছেন, যে দাস তার মনিবের কাছে থেকে পালিয়ে গেল, সে কুফ্রী করিল। যতক্ষন না সে তার প্রভুর কাছে ফিরে আসে।
মানসূর বলেন, আল্লাহর কসম! এ হাদীস নবি [সাঃআ:] হইতে বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু এখানে বাসরায় আমা থেকে এ হাদীস বর্ণিত হোক তা আমি অপছন্দ করি।
[ই.ফা. ১৩২; ই.সে. ১৩৬]
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
১৩২. জারীর [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ্ [সাঃআ:] বলেছেন, যে দাস পালিয়ে যায় তার থেকে [আল্লাহর রসূলের] যিম্মাদারী শেষ হয়ে যায়।
[ই.ফা. ১৩৩; ই.সে. ১৩৭]
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
১৩৩. জারীর ইবনি আবদুল্লাহ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ
নবি [সাঃআ:] বলেছেন, যখন দাস পালিয়ে যায়, তখন তার সলাত কবূল হয় না।
[ই.ফা. ১৩৪; ই.সে. ১৩৮]
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
৩২.অধ্যায়ঃ যে ব্যক্তি বলে আমরা বৃষ্টিলাভ করেছি নক্ষত্রের গুনে তার কুফরীর বর্ণনা
১৩৪. যায়দ ইবনি খালিদ আল জুহানী [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ্ [সাঃআ:] আমাদের নিয়ে হুদাইবিয়াহ্ প্রান্তরে [বৃষ্টিপাতের পরে] ফাজ্রের সলাত আদায় করিলেন। সলাত সম্পন্ন করে তিনি উপস্থিত লোকদের লক্ষ্য করে বলিলেন, তোমরা কি জান তোমাদের রব কি বলেছেন? তারা উত্তরে বলিলেন, আল্লাহ ও তাহাঁর রসূল [সাঃআ:]-ই ভাল জানেন। তিনি বলিলেন, আল্লাহ ইরশাদ করেছেনঃ কতিপয় আমার বান্দা সকালে উঠেছে মুমিনরূপে এবং কতিপয় বান্দা উঠেছে কাফিররূপে। যারা বলেছেন, আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়ার বৃষ্টিপাত হয়েছে, তারা আমার প্রতি বিশ্বাসী এবং নক্ষত্রের প্রতি অবিশ্বাসী, আর যারা বলেছে যে, অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে বৃষ্টি হয়েছে, তারা আমার প্রতি অবিশ্বাসী এবং নক্ষত্রের প্রতি বিশ্বাসী।
[ই.ফা. ১৩৫; ই.সে. ১৩৯]
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
১৩৫. আবু হুরাইরাহ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ্ [সাঃআ:] বলেছেনঃ তোমরা কি জান, তোমাদের রব কি বলেছেন? তিনি বলেছেন, আমি যখন আমার বান্দার উপর অনুগ্রহ করি, তখনই তাহাদের একদল তা অস্বীকার করে এবং তারা বলে নক্ষত্র, নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের কাজ হয়।
[ই.ফা. ১৩৬; ই.সে. ১৪০]
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
১৩৬. আবু হুরাইরাহ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ্ [সাঃআ:] বলেছেন, আল্লাহ তাআলা আকাশ থেকে কোন বারাকাত [বৃষ্টি] অবতীর্ণ করলে একদল লোক সকালে তা অস্বীকার করে, বৃষ্টিপাত করান আল্লাহ তাআলা আর তারা বলিতে থাকেন যে, অমুক অমুক নক্ষত্র। মুরাদীর হাদীসে অমুক অমুক নক্ষত্রের কারণে কথার উল্লেখ রয়েছে।
[ই.ফা. ১৩৭; ই.সে. ১৪১]
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
১৩৭. ইবনি আব্বাস [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ
রসুলুল্লাহ [সাঃআ:]-এর সময় লোকদের উপর বৃষ্টি হলে তিনি বলিলেন, ভোরবেলা কতক লোক [আল্লাহর] শোকরগুজার ও কৃতজ্ঞ হয় এবং তাহাদের কতক আবার অকৃতজ্ঞ হয়ে যায়। তাহাদের কিছু সংখ্যক বলে এটা [বৃষ্টি] আল্লাহর একান্ত অনুগ্রহ ও রহমতে বর্ষিত হয়েছে। আর তাহাদের কতক লোক বলে, অমুক অমুক নক্ষত্র সত্যে প্রমাণিত হলো। বর্ণনাকারী বলেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়াত নাযিল হলোঃ না, আমি শপথ করছি তারকাসমূহের অবস্থিতি [স্থানের] ….. এখান থেকে ….. তোমরা তোমাদের রিযককে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছ”-[সূরাহ ওয়াকইআহ, ৫৬ : ৭৫-৮২] এ পর্যন্ত নাযিল হয়।
[ই.ফা. ১৩৮; ই.সে. ১৪২]
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
৩৩. অধ্যায়ঃ আনসার দের এবং আলী (রাঃ)-কে ভালোবাসা ঈমানের অংশ ও চিহ্ন এবং তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা নিফাকের চিহ্ন
১৩৮. আনাস [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ
রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেছেন, আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা হচ্ছে মুনাফিকের নিদর্শন, আর আনসারদের প্রতি ভালোবাসা হচ্ছে মুমিনের নিদর্শন।
[ই.ফা. ১৩৯; ই.সে. ১৪৩]
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
১৩৯. আনাস [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ
নবি [সাঃআ:] বলেন, ঈমানের নিদর্শন হচ্ছে আনসারদের ভালোবাসা এবং মুনাফিকীর নিদর্শন হচ্ছে তাহাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা।
[ই.ফা. ১৪০; ই.সে. ১৪৪]
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
১৪০. বারা [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ
নবি [সাঃআ:] আনসারদের সম্পর্কে বলেছেন, মুমিনরাই তাহাদের ভালোবাসে এবং মুনাফিকরাই তাহাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে। যারা তাহাদের ভালোবাসে আল্লাহ তাহাদের ভালোবাসেন, যারা তাহাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে আল্লাহ তাহাদের ঘৃণা করেন। শুবাহ বলেন, আমি রাবী আদী জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি বারা [রাঃআ:] থেকে এটি শুনেছেন?
তিনি বলিলেন, বারা [রাঃআ:] স্বয়ং আমার কাছে এ হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন।
[ই.ফা. ১৪১; ই.সে. ১৪৫]
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
১৪১. আবু হুরাইরাহ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ
রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস করে সে আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করিতে পারে না।
[ই.ফা. ১৪২; ই.সে. ১৪৬]
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
১৪২. আবু সাঈদ হইতে বর্ণিতঃ
রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে সে আনসারদের প্রতি শত্রুতা রাখতে পারেনা।
[ই.ফা. ১৪৩; ই.সে. ১৪৭]
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
১৪৩. আলী [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, সে মহান সত্তার কসম! যিনি বীজ থেকে অঙ্কুরোদগম করেন এবং জীবকুল সৃষ্টি করেন, নবি [সাঃআ:] আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, মুমিন ব্যক্তিই আমাকে ভালোবাসবে, আর মুনাফিক ব্যক্তি আমার সঙ্গে শ্ত্রুতা পোষণ করিবে।
[ই.ফা. ১৪৪; ই.সে. ১৪৮]
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
৩৪. অধ্যায়ঃ আনুগত্যের ত্রুটিতে ঈমান হ্রাস পাওয়া এবং আল্লাহর সাথে কুফরী করা ছাড়াও অকৃতজ্ঞতা ও অন্যের অনুগ্রহকে অস্বীকার করার মতো অর্থেও কুফর শব্দটি প্রযোজ্য হয়
১৪৪. আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ
রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেছেন, হে রমণীগণ! তোমরা দান করিতে থাকো এবং বেশী করে ইসতিগফার কর। কেননা, আমি দেখেছি যে, জাহান্নামের অধিবাসীদের বেশীর ভাগই নারী। জনৈকা বুদ্ধিমতী মহিলা প্রশ্ন করলো, হে আল্লাহর রসূল! জাহান্নামে আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণ কি? তিনি বললেনঃ তোমরা বেশি বেশি অভিশাপ দিয়ে থাক এবং স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকো। আর দ্বীন ও জ্ঞান-বুদ্ধিতে ত্রুটিপূর্ণ কোন সম্প্রদায়, জ্ঞানীদের উপর তোমাদের চাইতে প্রভাব বিস্তারকারী আর কাউকে আমি দেখিনি। প্রশ্নকারিণী জিজ্ঞেস করিল, ইয়া রসূলাল্লাহ! জ্ঞান-বুদ্ধিতে ও দীনে আমাদের কমতি কিসে? তিনি বলিলেন, তোমাদের বুদ্ধির ত্রুটির প্রমাণ হলো দুজন স্ত্রী লোকের সাক্ষ্য একজন পুরুষের সাক্ষ্যের সমান। আর স্ত্রীলোক [প্রতি মাসে] কয়েক দিন সলাত থেকে বিরত থাকে আর রামাযান মাসে সিয়াম ভঙ্গ করে; [ঋতুবতী হওয়ার কারণে] এটাই দ্বীনের ত্রুটি। আবু তাহির ইবনি হাদ-এর সূত্রে এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।
[ই.ফা. ১৪৫; ই.সে. ১৪৯-১৫০]
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
১৪৫. আবু হুরাইরাহ [রাঃআ:]-এর সূত্রে হইতে বর্ণিতঃ
নবি [সাঃআ:] থেকে ইবনি উমার [রাঃআ:] বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।
[ই.ফা. ১৪৬; ই.সে. ১৫১]
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
৩৫. অধ্যায়ঃ সলাত পরিত্যাগকারী এর উপর কুফর শব্দের প্রয়োগ
১৪৬. আবু হুরাইরাহ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ
রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেছেনঃ মানুষ যখন সাজদার আয়াত তিলাওয়াত করে সাজদায় যায়, তখন শয়তান কাঁদতে কাঁদতে দূরে সরে পড়ে এবং বলিতে থাকে হায়! আমার দুর্ভাগ্য! ইবনি কুরায়বের বর্ণনায় রয়েছে, হায়রে, আমার দুর্ভাগ্য! নবি আদাম সাজদার জন্য আদিষ্ট হলো। তারপর সে সাজদাহ করলো এবং এর বিনিময়ে তার জন্য জান্নাত নির্ধারিত হলো। আর আমাকে সাজদার জন্য আদেশ করা হলো, কিন্তু আমি তা অস্বীকার করলাম, ফলে আমার জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত হলো।
[ই.ফা. ১৪৭; ই.সে. ১৫২]
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
১৪৭. আমাশ [রাঃআ:]-এর সূত্রে হইতে বর্ণিতঃ
অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। তবে এতে রয়েছে, আমি অমান্য করলাম ফলে আমার জন্য নির্ধারিত হলো জাহান্নাম।
[ই.ফা. ১৪৮; ই.সে. ১৫৩]
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
১৪৮. জাবির [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ
আমি নবি [সাঃআ:]-কে বলিতে শুনিয়াছি, বান্দা এবং শিরক ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে সলাত ছেড়ে দেয়া।
[ই.ফা. ১৪৯; ই.সে. ১৫৪]
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
১৪৯. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ
আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] কে বলিতে শুনিয়াছি, বান্দা এবং শিরক-কুফরের পার্থক্য সলাত পরিত্যাগ করা।
[ই.ফা. ১৫০; ই.সে. ১৫৫]
হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস
Leave a Reply