উত্তম সদকা কি ও এর বর্ণনা

উত্তম সদকা কি ও এর বর্ণনা

উত্তম সদকা কি ও এর বর্ণনা >> মিশকাতুল মাসাবীহ এর মুল সুচিপত্র দেখুন

পর্বঃ ৬, অধ্যায়ঃ ৭

  • অধ্যায়ঃ ৭. প্রথম অনুচ্ছেদ
  • অধ্যায়ঃ ৭. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
  • অধ্যায়ঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ

অধ্যায়ঃ ৭. প্রথম অনুচ্ছেদ

১৯২৯. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] ও হাকীম ইবনি হিযাম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

উভয়ে বলেন, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ উত্তম হলো ঐ সদাক্বাহ‌্ যা স্বচ্ছল অবস্থায় দেয়া হয়। আর সদাক্বাহ‌্/দান শুরু করিতে হবে ঐ ব্যক্তি হইতে যার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব তোমার উপর বাধ্যতামূলক।

[বোখারী; ঈমাম মুসলিম এ হাদিসটিকে শুধু হাকীম ইবনি হিযাম থেকে বর্ণনা করিয়াছেন] {১}, {১} সহীহ : বোখারী ১৪২৬, ৫৩৫৬, মুসলিম ১০৩৪, নাসায়ী ২৫৪৪, মুসান্নাফ আবদুর রায্যাক্ব ১৬৪০৪, আহমাদ ৯২২৩, ইবনি খুযায়মাহ্ ২৪৩৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭৭৬৯, সহীহ আল জামে আস্ সগীর ৩২৮১। উত্তম সদকা কি -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৯৩০. আবু মাস্ঊদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কোন মুসলিম যখন সাওয়াবের প্রত্যাশায় তার পরিবার-পরিজনের জন্য খরচ করে, এ খরচ তার জন্য সদাক্বাহ্ হিসেবে গণ্য হয়।

[বোখারী, মুসলিম] {১}, {১} সহীহ : বোখারী ৫৩৫১, মুসলিম ১০০২, নাসায়ী ২৫৪৫, আহমাদ ১৭০৮২, ইবনি হিব্বান ৪২৩৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭৭৫৬, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৬৭৭, সহীহ আত তারগীব ১৯৫৪।উত্তম সদকা কি -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৯৩১. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ এক রকম দীনার তাই যা তোমরা আল্লাহর পথে খরচ করো। এক রকম দীনার সেটাই যা তুমি গোলাম আযাদ করার জন্য খরচ করো। এসব দীনারের মধ্যে সাওয়াবের দিক দিয়ে সবচেয়ে মর্যাদাবান হলো যা তুমি তোমার পরিবার-পরিজনের জন্য খরচ করো।

[মুসলিম] {১}, {১} সহীহ : মুসলিম ৯৯৫, আহমাদ ১০১৭৪, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৫৬৯৭, সহীহ আত তারগীব ১৯৫১, সহীহ আল জামি আস্ সগীর ৮৭৮। উত্তম সদকা কি -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৯৩২. সাওবান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ উত্তম হলো ঐ দীনার যা কোন ব্যক্তি পরিবার পরিজন লালন-পালনের জন্য খরচ করে। উত্তম দীনার হলো তাই যা কোন মানুষ এমন সব পশু পালনে খরচ করে যেগুলো আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করার জন্য লালিত-পালিত হয়েছে। উত্তম দীনার হলো ঐ দীনার যা কোন মানুষ আল্লাহর পথে জিহাদকারী বন্ধুদের জন্য খরচ করে।

[মুসলিম] {১}, {১} সহীহ : মুসলিম ৯৯৪, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৯১৩৮, সহীহ আত তারগীব ১৯৫২, ইবনি মাজাহ ২৭৬০। উত্তম সদকা কি -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৯৩৩. উম্মু সালামাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, [একদিন] আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আবু সালামার ছেলেদের জন্য খরচ করাতে আমার কোন সাওয়াব হবে কি? কারণ তারা তো আমারই ছেলে। রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বললেনঃ তাদের জন্য খরচ করো। তাদের জন্য তুমি যা খরচ করিবে তার সাওয়াব পাবে।

[বোখারী, মুসলিম] {১},{১} সহীহ : বোখারী ১৪৬৭, মুসলিম ১০০১, আহমাদ ২৬৫০০৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৫৭৩৬। উত্তম সদকা কি -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৯৩৪. আবদুল্লাহ ইবনি মাস্ঊদ [রাদি.]-এর স্ত্রী যায়নাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বললেন, হে রমণীগণ! তোমরা দান খায়রাত করো। তা তোমাদের অলংকারাদি হইতে। যায়নাব বলেন, [এ কথা শুনে] আমি আবদুল্লাহ ইবনি মাস্ঊদ এর কাছে এলাম। তাঁকে বললাম, আপনি রিক্তহস্ত মানুষ। রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] আমাদেরকে দান সদাক্বাহ্ করিতে বলেছেন। তাই আপনি তাহাঁর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করে জেনে আসুন [আমি যদি আপনাকে ও আপনার সন্তানদের জন্য সদাক্বাহ‌্ হিসেবে খরচ করি তাহলে তা আদায় হবে কিনা?] যদি হয়, তাহলে আমি আপনাকেই সদাক্বাহ‌্ দিয়ে দেব। আর না হলে আপনি ছাড়া অন্য কাউকে দেব। যায়নাব বলেন, আবদুল্লাহ ইবনি মাস্ঊদ [রাদি.] [এ কথা শুনে] আমাকে বললেন, “তুমিই যাও”। তাই আমি নিজেই তাহাঁর কাছে গেলাম। আমি গিয়ে দেখলাম, তাহাঁর ঘরের দরজায় আনসারের এক মহিলাও দাঁড়িয়ে আছে। আমার ও তার প্রয়োজন একই। যায়নাব বলেন, যেহেতু রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] এর ব্যক্তিত্বের কারণে [তাহাঁর নিকট যাবার সাহস আমাদের হলো না], তাই বিলাল [রাদি.] আমাদের কাছে এলে আমরা তাঁকে বললাম, আপনি রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] এর নিকট গিয়ে খবর দিন যে, দুজন মহিলা দরজায় আপনার কাছ থেকে জানতে চায়, তারা যদি তাদের [গরীব] স্বামী, অথবা তাদের পোষ্য ইয়াতীম সন্তানদেরকে দান-খায়রাত করে তাতে সদাক্বাহ্ আদায় হবে কিনা? রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] কে আমাদের পরিচয় দেবেন না। সে মতে বিলাল [রাদি.] রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-এর কাছে গেলেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করিলেন। [এ কথা শুনে] রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বললেন, তারা কারা? বিলাল [রাদি.] বললেন, একজন আনসার মহিলা, অপরজন যায়নাব। রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] তাঁকে জিজ্ঞেস করিলেন, কোন যায়নাব? বিলাল বললেন, আবদুল্লাহ ইবনি মাস্ঊদের স্ত্রী। রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বললেনঃ তাদের জন্য দ্বিগুণ সাওয়াব। এক গুণ ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তার হাক্ব আদায়ের জন্য, আর এক গুণ দান-খায়রাতের জন্য।

[বোখারী, মুসলিম] {১}, {১} সহীহ : বোখারী ১৪৬৬, মুসলিম ১০০০, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৩১৫২, সহীহ আত তারগীব ৮৯১, ইবনি খুযায়মাহ্ ২৪৬৩। উত্তম সদকা কি -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৯৩৫. উম্মুল মুমিনীন মায়মূনাহ্ বিনতু হারিস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি [একবার] রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-এর একটি দাসী আযাদ করে রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-এর কাছে উল্লেখ করিলেন। তিনি বললেন, তুমি যদি এ দাসীটি তোমার মামাকে দিয়ে দিতে, তাহলে বেশী সাওয়াব হত।

[বোখারী, মুসলিম] {১}, {১} সহীহ : বোখারী ২৫৯২, মুসলিম ৯৯৯, ইবনি হিব্বান ৩৩৪৩, শুআবুল ঈমান ৩১৫১। উত্তম সদকা কি -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৯৩৬. আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার দুজন প্রতিবেশী আছে। এ দুজনের মধ্যে কাকে আমি হাদিয়্যাহ্ [উপহার] দেব? রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বলেন, এ দুজনের যার ঘরের দরজা তোমার বেশী নিকটবর্তী

। [বোখারী] {১}, {১} সহীহ : বোখারী ২২৫৯, আবু দাউদ ৫১৫৫, আহমাদ ২৫৪২৩, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১২৬১০। উত্তম সদকা কি -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৯৩৭. আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা যখন তরকারী রান্না করো, পানি একটু বেশী করে দিও এবং প্রতিবেশীর প্রতি লক্ষ্য রেখ।

[মুসলিম] {১}, {১} সহীহ : মুসলিম ২৬২৫, দারিমী ২১২৪, শুআবুল ঈমান ৯০৯২। উত্তম সদকা কি -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

অধ্যায়ঃ ৭. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

১৯৩৮. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কোন সদাক্বাহ্ বেশী উত্তম? তিনি বললেন, কম সম্পদশালীর বেশী [কষ্টশ্লিষ্ট করে] সদাক্বাহ্। সদাক্বাহ্ দেয়া শুরু করিবে তাদেরকে দিয়ে যাদের দেখাশুনা তোমার দায়িত্ব।

[আবু দাউদ] {১}, {১} সহীহ : আবু দাউদ ১৬৭৭, আহমাদ ৮৭০২, ইবনি খুযায়মাহ্ ২৪৪৪, ইবনি হিব্বান ৩৩৪৬, মুসতাদরাক লিল হাকিম ১৫০৯, সিলসিলাহ্ আস্ সহীহাহ্ ৫৬৬, সহীহ আত তারগীব ৮৮২, সহীহ আল জামি আস্ সগীর ১১১২। উত্তম সদকা কি -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৯৩৯. সালমান ইবনি আমির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ মিসকীনকে সদাক্বাহ্ করা এক প্রকার, আর নিকটাত্মীয়ের কাউকে সদাক্বাহ্ দেয়া দু প্রকার সাওয়াবের কারণ। এক রকম সাওয়ার নিকটাত্মীয়ের হাক্ব আদায় এবং অন্য রকম সাওয়াব সদাক্বাহ‌্ করার জন্য।

[আহমাদ, তিরমিজি, নাসায়ী, ইবনি মাজাহ ও দারিমী] {১}, {১} সহীহ : আত তিরমিজি ৬৫৮, নাসায়ী ২৫৮২, ইবনি মাজাহ ১৮৪৪, আহমাদ ১৬২৩, দারিমী ১৭২২, ইবনি খুযায়মাহ্ ২৩৮৫, মুসতাদরাক লিল হাকিম ১৪৭৬, ইরওয়া ৮৮৩, সহীহ আত তারগীব ৮৯২, সহীহ আল জামে আস্ সগীর ৩৮৫৮। উত্তম সদকা কি -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৯৪০. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, [একদিন] নবী [সাঃআঃ]-এর খিদমাতে এক ব্যক্তি এসে বললো, [হে আল্লাহর রাসূল!] আমার কাছে একটি দীনার আছে। [এ কথা শুনে] তিনি [সাঃআঃ] বললেনঃ এ দীনারটি তুমি তোমার সন্তানের জন্য খরচ করো। সে বলিল, আমার আরো একটি দীনার আছে। তিনি [সাঃআঃ] বললেনঃ এটি তুমি তোমার পরিবারের জন্য খরচ করো। লোকটি বলিল, আমার আরো একটি দীনার আছে। তিনি [সাঃআঃ] বললেনঃ এটা তোমার খাদিমের জন্য খরচ করো। সে বলিল, আমার আরো একটি দীনার আছে। তিনি [সাঃআঃ] বললেনঃ [এবার] তুমি এ ব্যাপারে বেশী জান [কাকে দেবে]।

[আবু দাউদ, নাসায়ী] {১}, {১} হাসান : আবু দাউদ ১৬৯১, নাসায়ী ২৫৩৫, আহমাদ ৭৪১৯, ইবনি হিব্বান ৩৩৩৭, মুসতাদরাক লিল হাকিম ১৫১৪, সহীহ আদাবুল মুফরাদ ১৯৭/১৪৫, ইরওয়া ৮৯৫, সহীহ আত তারগীব ১৯৬৮। এই হাদিসটির তাহকীকঃ হাসান হাদিস

১৯৪১. আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আমি কি তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম মানুষ কে তা বলব না? সে হলো ঐ ব্যক্তি, যে আল্লাহর পথে ঘোড়ার লাগাম ধরে দাঁড়িয়ে আছে। আমি কি তোমাদেরকে ঐ ব্যক্তির মর্যাদার কাছাকাছি লোকের কথা জানাব? ঐ ব্যক্তি সেই যে তার কিছু বকরী নিয়ে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন থেকে আল্লাহর হাক্ব আদায় করিতে থাকে। আমি কী তোমাদেরকে খারাপ লোক সম্পর্কে জানাব? সে ঐ ব্যক্তি যার কাছে আল্লাহর কসম দিয়ে দিয়ে চাওয়া হয়। কিন্তু সে তাকে কিছুই দেয় না।

[তিরমিজি, নাসায়ী, দারিমী] {১}, {১} সহীহ : আত তিরমিজি ১৬৫২, নাসায়ী ২৫৬৯, সহীহ আত তারগীব ২৭৩৭। উত্তম সদকা কি -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৯৪২.উম্মু বুজায়দ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ সাহায্যপ্রার্থীকে কিছু দিয়ে বিদায় করিবে। যদি তা আগুনে ঝলসানো একটি খুরও হয়।

[মালিক, নাসায়ী, তিরমিজি এবং আবু দাউদ এ হাদিসের সমার্থবোধক বর্ণনা করিয়াছেন] {১}, {১} সহীহ : নাসায়ী ২৫৬৫, আহমাদ ২৭৪৫০, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭৭৪৯, সহীহ আল জামি আস্ সগীর ৩৫০২।উত্তম সদকা কি -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৯৪৩। আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর কসম দিয়ে তোমার কাছে আশ্রয় চায়, তাকে আশ্রয় দেবে। যে তোমার কাছে আল্লাহর কসম দিয়ে চায়, তাকে কিছু দিবে। আর যে ব্যক্তি তোমাকে দাওয়াত দেয় তার দাওয়াত কবূল করিবে। যে তোমার উপর ইহসান করে, তাকে বিনিময় দিবে। যদি বিনিময় আদায়ের মতো কিছু না থাকে, তার জন্য দুআ করো যতদিন পর্যন্ত তুমি না বুঝো যে, তার ইহসানের বিনিময় আদায় হয়েছে।

[আহমাদ, আবু দাউদ, নাসায়ী] {১},{১} সহীহ : আবু দাউদ ১৬৭২, ইবনি হিব্বান ৩৪০৮, সহীহ আত তারগীব ৮৫২, সহীহ আল জামি আস্ সগীর ৬০২১, নাসায়ী ২৫৬৭, আহমাদ ৫৩৬৫, সিলসিলাহ্ আস্ সহীহাহ্ ২৫৪। উত্তম সদকা কি -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৯৪৪. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আল্লাহর জাতের দোহাই দিয়ে জান্নাত ছাড়া অন্য কিছু চেয়ো না।

[আবু দাউদ] {১}, {১} জইফ : আবু দাউদ ১৬৭১, রিয়াযুস সালিহীন ১৭৩১, জইফ আত তারগীব ৫০৬, জইফ আল জামি আস্ সগীর ৬৩৫১। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

অধ্যায়ঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ

১৯৪৫.আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবু ত্বলহাহ্ মাদীনার আনসারদের মধ্যে খেজুর বাগানের মালিক হিসেবে সর্বাধিক সম্পদশালী ছিলেন। আর তার কাছে সবচেয়ে বেশী প্রিয় ছিল মাসজিদে নাব্বী সামনের বায়রাহা-[নামাক বাগানটি]। রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] এ বাগানটিতে প্রায়ই প্রবেশ করিতেন ও এর পবিত্র পানি পান করিতেন। আনাস [রাদি.] বলেন, যখন অর্থাৎ

لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتّى تُنْفِقُوْا مِمَّا تُحِبُّوْنَ

“তোমরা ততক্ষণ জান্নাতে অবশ্যই পৌছতে পারবে না, যে পর্যন্ত তোমাদের প্রিয়তর জিনিস আল্লাহর পথে খরচ না করিবে”– [সূরাহ‌্ আ-লি ইমরান ৩:৯২] এ আয়াত নাযিল হলো; তখন ত্বলহাহ্ রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যেহেতু আল্লাহ তাআলা বলেন, অর্থাৎ আমার সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ বায়রাহা- আল্লাহর নামে সদাক্বাহ্ করলাম। আমি আশা করব আমি এর জন্য আল্লাহর কাছে সাওয়াব পাব। হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তা কবূল করুন। যে কাজে আল্লাহ চান তাতে আপনি তা লাগান। [এ ঘোষণা শুনে] রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] সাবাশ! সাবাশ!! বলে উঠলেন। [তিনি বললেন] এ সম্পদ খুবই কল্যাণকর হবে। তোমার ঘোষণা আমি শুনিয়াছি। এ বাগানটি তুমি তোমার গরীব নিকটাত্মীয়দের মধ্যে বন্টন করে দাও। আবু ত্বলহাহ‌্ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তাই করব। অতঃপর আবু ত্বলহাহ্ খেজুর বাগানটিকে তাহাঁর নিকটাত্মীয় ও চাচাতো ভাইদের মধ্যে বন্টন করে দিলেন।

[বোখারী, মুসলিম] {১}, {১} সহীহ : বোখারী ১৪৬১, মুসলিম ৯৯৮, মুয়াত্ত্বা মালিক ৩৬৫২, আহমাদ ১২৪৩৮, সহীহ আত তারগীব ৮৭৫। উত্তম সদকা কি -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১৯৪৬. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কোন ক্ষুধার্ত জীবকে পেট পুরে খাওয়ানো উত্তম সদাক্বার অন্তর্ভূক্ত।


[বায়হাক্বীর শুআবুল ঈমান] {১},{১} জইফ : শুআবুল ঈমান ৩০৯৫, সিলসিলাহ্ আয্ যঈফাহ্ ৭০৩৩, জইফ আত তারগীব ৫৫৪, জইফ আল জামি আস্ সগীর ১০১৫। কারণ এর সানাদে যারবী একজন দুর্বল রাবী, ঈমাম বোখারী তার সম্পর্কে বলেছেন, فِىْ حَدِيْثَه نظر তার হাদীসে সন্দেহ রয়েছে।এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply