ইসরাক, চাশতের সালাত নামাজ কিভাবে

এ বিষয়ে আরও পড়ুন >> মুয়াত্তা মালিক >> সহীহ বুখারী >> সহীহ মুসলিম >> আবু দাউদ >> ইবনে মাজাহ >> তিরমিজি >> নাসাঈ >> মিশকাত >> রিয়াদুস সালেহীন >> বুলুগুল মারাম হাদীস শরীফ হতে

হাদিস: সহীহ বুখারী – ৪৩০ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন )

খাল্লাদ ইবনু ইয়াহইয়া (রহমতুল্লাহ আলাইহে) ……… জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলাম। তখন তিনি মসজিদে ছিলেন। তখন মিসআর (রহমতুল্লাহ আলাইহে) বলেনঃ আমার মনে পড়ে রাবী মুহারিব (রহমতুল্লাহ আলাইহে) চাশতের সময়ের কথা বলেছেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি দু রাকাত সালাত আদায় কর। জাবির (রাদিয়াল্লাহু ) বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আমার কিছু পাওনা ছিল। তিনি তা দিয়ে দিলেন এবং কিছু বেশীও দিলেন।

হাদিস:সহীহ বুখারী -৬৩৭ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন )

আদম (রহমতুল্লাহ আলাইহে) … আনাস (রাদিয়াল্লাহু ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস (রাদিয়াল্লাহু )-কে বলতে শুনেছি, এক আনসারী (সাহাবী) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলিলেন আমি আপনার সাথে মসজিদে এসে সালাত আদায় করিতে অক্ষম। তিনি ছিলেন মোটা। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য কিছু খাবার তৈরি করিলেন  এবং তাঁকে বাড়িতে দাওয়াত করে নিয়ে গেলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এর জন্য একটি চাটাই পেতে দিলেন এবং চাটাইয়ের একপ্রান্তে কিছু পানি ছিটিয়ে দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে চাটাইয়ের উপর দু রাকাআত সালাত আদায় করিলেন । জারুদ গোত্রীয় এক ব্যাক্তি আনাস (রাদিয়াল্লাহু )-কে জিজ্ঞাসা করল, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি চাশতের সালাত আদায় করিতেন নাকি? তিনি বলিলেন, সে দিন ব্যতীত আর কোন দিন তাঁকে তা আদায় করিতে দেখিনি।

হাদিস:সহীহ বুখারী২২৩৬ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন )

খাল্লাদ ইবনু ইয়াহ্‌ইয়া (রহমতুল্লাহ আলাইহে) …… জাবির ইবনু আবদুল্লাহ‌ (রাদিয়াল্লাহু ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলাম। তখন তিনি মসজিদে ছিলেন। মিসআর (রহমতুল্লাহ আলাইহে) বলেন, আমার মনে হয়, তিনি বলেছেন, তা ছিল চাশতের ওয়াক্‌ত। তিনি বলিলেন, দুরাকাআত সালাত আদায় কর। তাঁর কাছে আমার কিছু ঋণ প্রাপ্য ছিল। তিনি আমার ঋণ আদায় করিলেন  এবং পাওনার চাইতেও বেশী দিলেন।

হাদিস:সহীহ বুখারী -৩৯৬২ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন )

আবূল ওয়ালীদ (রহমতুল্লাহ আলাইহে) … ইবনু আবী লায়লা (রাদিয়াল্লাহু ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে চাশতের সালাত আদায় করিতে দেখেছে এ কথাটি একমাত্র উম্মে হানী (রাদিয়াল্লাহু ) ছাড়া অন্য কেউ আমাদের কাছে বর্ণনা করেননি। তিনি বলেছেন যে, মক্কা বিজয়ের দিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাড়িতে গোসল করেছিলেন, এরপর তিনি আট রাকাত সালাত আদায় করিয়াছেন। উম্মে হানী (রাদিয়াল্লাহু ) বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ সালাত অপেক্ষা হালকাভাবে অন্য কোন সালাত আদায় করিতে দেখিনি। তবে তিনি রুকূ, সিজ্‌দা পুরোপুরই আদায় করেছিলেন।

হাদিস:সহীহ বুখারী ৭০০২ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন )

সুলায়মান ইবনু হারব (রহমতুল্লাহ আলাইহে) …… মাবাদ ইবনু হিলাল আল আনাযী (রহমতুল্লাহ আলাইহে) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বসরার অধিবাসী কিছু লোক একত্রিত হয়ে আনাস ইবনু মালিক (রাদিয়াল্লাহু ) এর কাছে গেলাম। আমাদের সাথে সাবিত (রাদিয়াল্লাহু ) কে নিলাম, যাতে তিনি আমাদের কাছে আনাস (রাদিয়াল্লাহু ) থেকে বর্ণিত শাফাআত সম্পর্কে হাদীস জিজ্ঞাসা করেন। আমরা তাকে তার মহলেই চাশতের সালাত আদায়রত পেলাম। তার কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলে তিনি আমাদেরকে অনুমতি দিলেন। তখন তিনি তার বিছানায় বসা অবস্থায় আছেন। অতঃপর আমরা সাবিত (রাদিয়াল্লাহু ) কে অনুরোধ করলাম, তিনি যেন শাফাআতের হাদীসটি জিজ্ঞাসার পূর্বে অন্য কিছু জিজ্ঞাসা না করেন। তখন সাবিত (রাদিয়াল্লাহু ) বলিলেন, হে আবূ হামযা! এরা বসরাবাসী আপনার ভাই, তারা শাফাআতের হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিতে এসেছে।

তারপর আনাস (রাদিয়াল্লাহু ) বলিলেন, আমাদের কাছে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন যে, কিয়ামতের দিন মানুষ সমুদ্রের ঢেউয়ের মত ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে। তাই তারা আদম (আলাইহিস সালাম) এর কাছে এসে বলবে, আমাদের জন্য আপনার প্রতিপালকের কাছে সুপারিশ করুন। তিনি বলবেনঃ এ কাজের জন্য আমি নই। বরং তোমরা ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) এর কাছে যাও। কেননা, তিনি হলেন আল্লাহর খলীল।

তখন তারা ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) এর কাছে আসবে। তিনি বলবেনঃ আমি এ কাজের জন্য নই। তবে তোমরা মূসা (আলাইহিস সালাম) এর কাছে যাও। কারণ তিনি আল্লাহর সাথে বাক্যালাপ করিয়াছেন। তখন তারা মূসা (আলাইহিস সালাম) এর কাছে আসবে তিনি বলবেনঃ আমি তো এ কাজের জন্য নই। তোমরা বরং ঈসা (আলাইহিস সালাম) এর কাছে যাও। যেহেতু তিনি আল্লাহর রুহ ও বাণী।

তারা তখন ঈসা (আলাইহিস সালাম) এর কাছে আসবে। তিনি বলবেন আমি তো এ কাজের জন্য নই। তোমরা বরং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যাও। এরপর তারা আমার কাছে আসবে। আমি বলব, আমিই এ কাজের জন্য। আমি তখন আমার প্রতিপালকের কাছে অনুমতি চাইব। আমাকে অনুমতি দেওয়া হবে। আমাকে প্রশংসা সম্বলিত বাক্য ইলহাম করা হবে। যা দিয়ে আমি আল্লাহর প্রশংসা করব, যেগুলো এখন আমার জানা নেই। আমি সেসব প্রশংসা বাক্য দিয়ে প্রশংসা করব এবং সিজদায় পড়ে যাব। তখন আমাকে বলা হবে, ইয়া মুহাম্মাদ! মাথা ওঠাও। তুমি বল, তোমার কথা শোনা হবে। চাও, তা দেওয়া হবে। সুপারিশ কর, গ্রহণ করা হবে।

তখন আমি বলবো, হে আমার প্রতিপালক! আমার উম্মাত! আমার উম্মাত! বলা হবে, যাও, যাদের হৃদয়ে যবের দানা পরিমান ঈমান আছে, তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে দাও, আমি যেয়ে এমনই করব। তারপর আমি ফিরে আসব এবং পুনরায় সেসব প্রশংসা বাক্য দ্বারা আল্লাহর প্রশংসা করবো এবং সিজদায় পড়ে যাবো। তখন বলা হবে, ইয়া মুহাম্মাদ! মাথা ওঠাও। তোমার কথা শোনা হবে। চাও, দেয়া হবে। সুপারিশ কর, গ্রহন করা হবে। তখনো আমি বলব, হে আমার প্রতিপালক! আমার উম্মাত! আমার উম্মাত! অতঃপর বলা হবে, যাও, যাদের এক অনু কিংবা সরিষা পরিমাণ ইমান আছে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের কর। আমি গিয়ে তাই করব।

আমি পুনরায় প্রত্যাবর্তন করবো এবং সেসব প্রশংসা বাক্য দিয়ে আল্লাহর প্রশংসা করবো। আর সিজদায় পড়ে যাবো। আমাকে বলা হবে, ইয়া মুহাম্মাদ! মাথা উঠাও। বল, তোমার বক্তব্য শোনা হবে। চাও, দেওয়া হবে। সুপারিশ কর, গ্রহণ করা হবে। আমি তখন বলবো, হে আমার প্রতিপালক, আমার উম্মাত, আমার উম্মাত। এরপর আল্লাহ বলবেন, যাও, যাদের অন্তরে সরিষার দানা অপেক্ষা ক্ষুদ্র পরিমাণও ঈমান থাকে, তাদেরকেও জাহান্নাম থেকে বের করে আন। আমি যাবো এবং তাই করবো। আমরা যখন আনাস (রাদিয়াল্লাহু ) এর নিকট থেকে বের হয়ে আসছিলাম, তখন আমি আমার সাথীদের কোন একজনকে বলিলাম, আমরা যদি আবূ খলীফার বাড়িতে আত্নগোপনরত হাসান বসরীর কাছে গিয়ে আনাস ইবনু মালিক (রাদিয়াল্লাহু ) এর বর্ণিত হাদীসটি তাঁর কাছে বর্ণনা করতাম।

এরপর আমরা হাসান বসরীর কাছে এসে তাকে অনুমতির সালাম দিলাম। তিনি আমাদেরকে প্রবেশ করিতে অনুমতি দিলেন। আমরা তাকে বলিলাম, হে আবূ সাঈদ! আমরা আপনারই ভাই আনাস ইবনু মালিক (রাদিয়াল্লাহু ) এর কাছ থেকে আপনার কাছে আসলাম। শাফাআত সম্পর্কে তিনি যেরূপ বর্ণনা দিয়েছেন, অনুরূপ বর্ণনা করিতে আর আর কাউকে দেখিনি। তিনি বললেনঃ আমার কাছে সেটি বর্ণনা কর। আমরা তাঁকে হাদীসটি বর্ণনা করে শোনালাম। এরপর আমরা শেষস্থলে এসে বর্ণনা শেষ করলাম। তিনি বলিলেন, আরো বর্ণনা কর। আমরা বলিলাম, তিনি তো এর বেশি আমাদের কাছে বর্ণনা দেননি। তিনি বলিলেন, জানিনা, তিনি কি ভুলেই গেলেন, না তোমরা নির্ভরশীল হয়ে পড়বে বলে অবশিষ্টটুকু বর্ণনা করিতে অপছন্দ করিলেন ।

বিশ বছর পুর্বে যখন তিনি শক্তি সামর্থ্যে ও শক্তিতে মজবুত ছিলেন, তখন আমার কাছেও হাদীসটি বর্ণনা করেছিলেন। আমরা বলিলাম, হে আবূ সাঈদ! আমাদের কাছে হাদীসটি বর্ণনা করুন। তিনি হাসলেন এবং বলিলেন, সৃষ্টি করা হয়েছে, মানুষ তো অতিমাত্রায় ত্বরা প্রিয়। আমি তো বর্ণনার উদ্দেশ্যেই তোমাদের কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলাম। তিনি তোমাদের কাছে যা বর্ণনা করিয়াছেন, আমার কাছেও তা বর্ণনা করিয়াছেন, তবে পরে এটুকুও বলেছিলেন, আমি চতূর্থবার ফিরে আসবো এবং সেসব প্রশংসা বাক্য দিয়ে আল্লাহর গ্রশংসা করব এবং সিজদায় পড়ে যাবো।

তখন বলা হবে, ইয়া মুহাম্মাদ! মাথা উঠাও। বল, তোমার কথা শোনা হবে। চাও! দেওয়া হবে। শাফাআত কর, গ্রহণ করা হবে। আমি বলব, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে তাদের সম্পর্কে শাফাআত করার অনুমতি দান কর, যারা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেছে। তখন আল্লাহব লবেন, আমার ইজ্জত, আমার পরাক্রমশীলতা, আমার বড়ত্ব ও আমার মহত্তের কসম! যারা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেছে, আমি অবশ্যই তাদের সবাইকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনব।

হাদিস:সহীহ মুসলিম ৬৫৮ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন )

মুহাম্মাদ ইবনু রুমহ ইবনু মুহাজির (রহমতুল্লাহ আলাইহে) …… উম্মু হানী বিনতে আবূ তালিব (রাদিয়াল্লাহু ) থেকে বর্নিত। মক্কা বিজয়ের বছর তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলেন। তিনি তখন মক্কার উচু এলাকায় অবস্থান করছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসল করিতে গেলে ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু ) তাঁকে আড়াল করে দিল। এরপর তিনি নিজের কাপড় নিয়ে পরিধান করিলেন । তারপর আট রাকআত চাশতের সালাত আদায় করিলেন ।

হাদিস:সহীহ মুসলিম -১৫৩৪ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন )

উবায়দুল্লাহ ইবনু মুআয (রহমতুল্লাহ আলাইহে) …… আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক (রহমতুল্লাহ আলাইহে) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি দুহার (চাশতের) সালাত আদায় করিতেন? তিনি বলিলেন, না। কিন্তু সফর থেকে ফিরে এলে (আদায় করিতেন)।


Posted

in

by

Comments

Leave a Reply