পোশাক পরিচ্ছদ । সাহাবীদের টুপি কেমন ছিল

পোশাক পরিচ্ছদ । সাহাবীদের টুপি কেমন ছিল

পোশাক পরিচ্ছদ । সাহাবীদের টুপি কেমন ছিল , এই অধ্যায়ে মোট ৬৮ টি হাদীস (১৭২০-১৭৮৭) >> সুনান তিরমিজি শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায়-২২ঃ পোশাক-পরিচ্ছদ, অনুচ্ছেদঃ (১-৪৫)=৪৫টি

১. অনুচ্ছেদঃ [পুরুষের] রেশমী পোশাক ও স্বর্ণালংকার ব্যবহার
২. অনুচ্ছেদঃ যুদ্ধের সময় রেশমী পোশাক পরার সম্মতি প্রসঙ্গে
৩. অনুচ্ছেদঃ [রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর জন্য স্বর্নখচিত জুব্বা উপহার]
৪. অনুচ্ছেদঃ লাল রং-এর কাপড় পুরুষ লোকদের জন্য অনুমোদিত
৫. অনুচ্ছেদঃ হলুদ রং-এর কাপড় পুরুষ লোকদের জন্য মাকরূহ্
৬. অনুচ্ছেদঃ পশমী কাপড় পরা জায়িয
৭. অনুচ্ছেদঃ মৃত প্রাণীর প্রক্রিয়াজাত চামড়ার ব্যবহার প্রসঙ্গে
৮. অনুচ্ছেদঃ পায়ের গোছার নিচ পর্যন্ত ঝুলিয়ে কাপড় পরা নিষেধ
৯. অনুচ্ছেদঃ মহিলাদের আঁচল লম্বা করে পরা প্রসঙ্গে
১০. অনুচ্ছেদঃ পশমী কাপড় পরা সম্পর্কে
১১. অনুচ্ছেদঃ কালো রং-এর পাগড়ী প্রসঙ্গে
১২. অনুচ্ছেদঃ দুই কাঁধের মাঝ বরাবর পাগড়ীর এক প্রান্ত ঝুলিয়ে রাখা
১৩. অনুচ্ছেদঃ স্বর্ণের আংটি পরা নিষেধ
১৪. অনুচ্ছেদঃ রুপার আংটি ব্যবহার করা
১৫. অনুচ্ছেদঃ আংটির জন্য উত্তম পাথর
১৬. অনুচ্ছেদঃ ডান হাতে আংটি পরা প্রসঙ্গে
১৭. অনুচ্ছেদঃ আংটিতে কারুকাজ করা
১৮. অনুচ্ছেদঃ ছবি বা প্রতিকৃতি প্রসঙ্গে
১৯. অনুচ্ছেদঃ ছবি নির্মাতা ও চিত্রকরদের প্রসঙ্গে
২০. অনুচ্ছেদঃ চুলে কলপ লাগানো প্রসঙ্গে
২১. অনুচ্ছেদঃ মাথার চুল রাখা এবং কাঁধ পর্যন্ত তা লম্বা করা প্রসঙ্গে
২২. অনুচ্ছেদঃ বার বার চুল আচড়ানো নিষেধ
২৩. অনুচ্ছেদঃ সুরমা লাগানো প্রসঙ্গে
২৪. অনুচ্ছেদঃ হাঁটু গেড়ে জড়োসড়ো হয়ে বসা এবং একটি চাদরে সর্বাঙ্গ পেচিয়ে বসা নিষেধ
২৫. অনুচ্ছেদঃ পরচুলা ব্যবহার প্রসঙ্গে
২৬. অনুচ্ছেদঃ রেশমের তৈরী আসনে বসা নিষেধ
২৭. অনুচ্ছেদঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর বিছানা
২৮. অনুচ্ছেদঃ জামা প্রসঙ্গে
২৯. অনুচ্ছেদঃ নতুন কাপড় পরার দুআ
৩০. অনুচ্ছেদঃ জুব্বা ও চামড়ার মোজা পরা প্রসঙ্গে
৩১. অনুচ্ছেদঃ স্বর্ণ দিয়ে দাঁত বাঁধানো
৩২. অনুচ্ছেদঃ হিংস্র প্রাণীর চামড়া কাজে লাগানো নিষেধ
৩৩. অনুচ্ছেদঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর পাদুকা
৩৪. অনুচ্ছেদঃ এক পায়ে জুতা পরে হাঁটা নিষেধ
৩৫. অনুচ্ছেদঃ দাঁড়ানো অবস্থায় জুতা পরা মাকরূহ্
৩৬. অনুচ্ছেদঃ এক পায়ে জুতা পরে হাঁটার সম্মতি প্রসঙ্গে
৩৭. অনুচ্ছেদঃ প্রথমে কোন্‌ পায়ে জুতা পরতে হইবে
৩৯. অনুচ্ছেদঃ নাবী [সাঃআঃ]-এর মক্কায় প্রবেশ প্রসঙ্গে
৪০. অনুচ্ছেদঃ সাহাবীদের টুপি কেমন ছিল?
৪২. অনুচ্ছেদঃ টুপির উপর পাগড়ী বাঁধা
৪৩. অনুচ্ছেদঃ লোহার আংটি
৪৪. অনুচ্ছেদঃ আংটি কোন্‌ আঙ্গুলে পরতে হইবে?
৪৫. অনুচ্ছেদঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর পছন্দনীয় পোশাক

১. অনুচ্ছেদঃ [পুরুষের] রেশমী পোশাক ও স্বর্ণালংকার ব্যবহার

১৭২০. আবু মূসা আল-আশআরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মধ্যে পুরুষদের জন্য রেশমী পোশাক এবং স্বর্ণালংকার ব্যবহার হারাম করা হয়েছে এবং মহিলাদের জন্য তা হালাল করা হয়েছে।

সহিহ, ইবনি মা-জাহ [৩৫৯৫] উমার, আলী, উকবা ইবনি আমির, আনাস, হুযাইফা, উম্মু হানী, আবদুল্লাহ ইবনি আমর, ইমরান ইবনি হুসাইন, আবদুল্লাহ ইবনিয যুবাইর, জাবির, আবু রাইহান, ইবনি উমার, বারাআ ও ওয়াসিলা ইবনিল আসকা [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭২১. উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি জাবিয়া নামক জায়গায় ভাষণ দানের সময় বলেন, দুই, তিন অথবা চার আঙ্গুলের বেশি পরিমাণ রেশমী পোশাক ব্যবহার করিতে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বারণ করিয়াছেন।

সহিহ, মুসলিম এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২. অনুচ্ছেদঃ যুদ্ধের সময় রেশমী পোশাক পরার সম্মতি প্রসঙ্গে

১৭২২. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক যুদ্ধে আবদুর রাহমান ইবনি আওফ ও যুবাইর ইবনিল আওয়াম [রাদি.] রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট নিজেদের শরীরে উকুন হওয়ার অভিযোগ করেন। তাহাদের দুজনকেই তিনি রেশমী পোশাকের জামা পরার সম্মতি দেন। আনাস [রাদি.] বলেন, আমি তাহাদের দুজনকেই তা পরে থাকতে দেখেছি।

সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ [৩৫৯২], নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩. অনুচ্ছেদঃ [রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর জন্য স্বর্নখচিত জুব্বা উপহার]

১৭২৩. ওয়াকিদ ইবনি আমর ইবনি সাঈদ ইবনি মুআয [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, [আমাদের এখানে] আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] আসলে আমি তার সামনে এলাম। তিনি [আমাকে] প্রশ্ন করেন, তুমি কে? আমি বললাম, আমি ওয়াকিদ ইবনি আমর ইবনি সাদ ইবনি মুআয। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি [আনাস] কেঁদে ফেললেন এবং বলিলেন, সাদের চেহারার সাথে তোমার চেহারার মিল আছে। সাদ [রাদি.] ছিলেন অত্যন্ত মর্যাদাবান, বলিষ্ঠ ও লম্বা শরীরের অধিকারী। তিনি একবার স্বর্ণের কারুকার্য খচিত দীবাজ [রেশম ও সূতা মিশ্রিত] কাপড়ের একটি জুব্বা রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর জন্য প্রেরণ করেন। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] তা পরে মিম্বারে উঠে দাঁড়ান অথবা বসেন। জনগণ তা ছুঁয়ে দেখিতে শুরু করলো এবং বলিতে লাগল, আমরা আজকের মতো এমন জামা আর কোন দিন দেখিনি। তিনি বললেনঃ তোমরা এর সৌন্দর্য দেখে আশ্চর্য হচ্ছ! তোমরা যা দেখছ, জান্নাতে সাদের রুমাল তার চেয়ে বেশি উত্তম।

সহীহ্‌, নাসা-ঈ, আবু ঈসা বলেন, আসমা বিনতু আবু বাক্‌র [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহিহ। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪. অনুচ্ছেদঃ লাল রং-এর কাপড় পুরুষ লোকদের জন্য অনুমোদিত

১৭২৪. বারাআ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি লাল রং-এর জামা পরে থাকাবস্থায় আর কোন বাবরি চুলবিশিষ্ট মানুষ দেখিনি যে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর চেয়ে বেশি সুন্দর। কাঁধের কাছাকাছি পর্যন্ত তাহাঁর বাবরি চুল ঝুলন্ত ছিল। তাহাঁর দুই কাঁধের মাঝামাঝি জায়গা প্রশস্ত ছিল। তিনি ছিলেন না বেঁটে আকৃতির আর না লম্বাকৃতির।

সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ [৩৫৯৯], নাসা-ঈ, আবু ঈসা বলেন, জাবির ইবনি সামুরা, আবু রিমসা ও আবু জুহাইফা [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহিহ। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৫. অনুচ্ছেদঃ হলুদ রং-এর কাপড় পুরুষ লোকদের জন্য মাকরূহ্

১৭২৫. আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে কাসী [সূতা ও রেশম মিশ্রিত কাপড়] ও হলুদ রং-এর জামা পরতে বারণ করিয়াছেন।

সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ [৩৬০২], মুসলিম, ৩৬৭৬ নং হাদীসে আরও পরিপূর্ণ বর্ণনা আসবে। আবু ঈসা বলেন, আনাস ও আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আলী [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহিহ। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৬. অনুচ্ছেদঃ পশমী কাপড় পরা জায়িয

১৭২৬. সালমান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, ঘি, পনির ও পশমী বা চামড়ার জামা প্রসঙ্গে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে প্রশ্ন করা হল। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তাআলা তাহাঁর গ্রন্থে যা বৈধ করিয়াছেন তা-ই বৈধ এবং আল্লাহ তাআলা তাহাঁর গ্রন্থে যা অবৈধ করিয়াছেন তা-ই অবৈধ। আর তিনি যে সকল বিষয়ে নীরব থেকেছেন [বৈধ বা অবৈধ বিষয়ে কিছুই বলেননি] তা তাহাঁর ক্ষমা ও উদারতার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।

হাসান, ইবনি মা-জাহ [৩৩৬৬] আবু ঈসা বলেন, মুগীরা [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি গারীব। আমরা এটাকে শুধু উল্লেখিত সনদ সূত্রেই মারফূভাবে জেনেছি। এটাকে সালমান ফারসী [রাদি.]-এর নিজের কথা হিসাবে সুফিয়ান সাওরী ও আরো কয়েকজন বর্ণনাকারী সুলাইমান আত-তাইমী হইতে আবু উসমানের সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন। মাওকূফ বর্ণনাটি অনেক বেশি সহীহ্‌ মনে হয়। আমি ঈমাম বুখারীর নিকট উক্ত হাদীস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি এটাকে মাহ্‌ফূয [সুরক্ষিত] বলে মনে করি না। সুফিয়ান-সুলাইমান আত-তাইমী হইতে, তিনি আবু উসমান হইতে, তিনি সালমান [রাদি.] হইতে মাওকূফভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। বুখারী আরো বলেন, হাদীস শাস্ত্রে সাইফ ইবনি হারুন গ্রহন যোগ্য এবং সাইফ ইবনি মুহাম্মাদ, যিনি আসিমের সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেন, নির্ভরযোগ্য নন। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

৭. অনুচ্ছেদঃ মৃত প্রাণীর প্রক্রিয়াজাত চামড়ার ব্যবহার প্রসঙ্গে

১৭২৭. আতা ইবনি আবু রাবাহ [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, ইবনি আব্বাস [রাদি.]-কে আমি বলিতে শুনিয়াছি, একটি ছাগল মারা গেল। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর মালিককে বললেনঃ তোমরা কেন তার চামড়া ছিলে নাওনি? তোমরা এটাকে প্রক্রিয়াজাতের পর কাজে ব্যবহার করিতে পারতে।

সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ [৩৬০৯, ৩৬১০], মুসলিম, পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭২৮. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ প্রক্রিয়াজাতের পর যে কোন চামড়া পবিত্র হয়ে যায়।

সহীহ্‌, প্রাগুক্ত, এ হাদীস মোতাবিক বেশিরভাগ অভিজ্ঞ আলিম আমল করিয়াছেন । তারা মৃত প্রাণীর চামড়ার বিষয়ে বলেছেন, প্রক্রিয়াজাতের পর তা পবিত্র বলে বিবেচিত । এই হাদীসের ভিত্তিতে ঈমাম শাফি বলেছেন, প্রক্রিয়াজাতের পর যে কোন চামড়া পবিত্র হয়ে যায়, কুকুর ও শূকরের চামড়া ব্যতীত [তা অপবিত্র ও হারাম] । তার মতের সপক্ষে তিনি অত্র হাদীসকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করিয়াছেন । হিংস্র প্রাণীর চামড়ার ব্যবহারকে একদল সাহাবী ও তৎপরবর্তীগণ মাকরূহ বলেছেন । এটা পরতে এবং এর উপর নামাজ আদায় করিতে তারা বারণ করিয়াছেন । এই মত আব্দুল্লাহ ইবনিল মুবারাক, আহমাদ ও ইসহাকের । ইসহাক ইবনি ইবরাহীম বলেন, “প্রক্রিয়াজাতের পর যে কোন চামড়া পবিত্র হয়ে যায়” রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর এই কথার তাৎপর্য হল, যেসব পশুর গোশত খাওয়া বৈধ, এখানে শুধু সেসব পশুর চামড়ার কথা বলা হয়েছে । নাযর ইবনি শুমাইলও একই ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং বলেছেন, যেসব পশুর গোশত খাওয়া বৈধ তাকেই [আরবী ভাষায়] ইহাব বলা হয় এবং সেই ক্ষেত্রে এই হাদীসের বিধান প্রযোজ্য । আবু ঈসা বলেন, সালামা ইবনি মুহাব্বিক, মাইমুনা ও আইশা [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত হয়েছে । ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ্‌ । রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে ইবনি আব্বাসের বরাতে বিভিন্ন সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে । রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে মাইমুনার বরাতেও ইবনি আব্বাসের সূত্রে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে । সাওদার বরাতেও ইবনি আব্বাসের সূত্রে এটি বর্ণিত আছে । আমি [আবু ঈসা] মুহাম্মাদ [বুখারী]-কে নাবী [সাঃআঃ] হইতে ইবনি আব্বাসের বর্ণনা এবং মাইমূনার বরাতে ইবনি আব্বাসের উভয় বর্ণনাকেই সহীহ্‌ বলিতে শুনিয়াছি । সম্ভবতঃ ইবনি আব্বাস মাইমূনার সূত্রে নাবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণনা করিয়াছেন । আবার কোন সময় মাইমূনার উল্লেখ না করে ইবনি আব্বাস  রাসূল [সাঃআঃ] হইতেও বর্ণনা করিয়াছেন । এ হাদীস মোতাবিক বেশিরভাগ অভিজ্ঞ আলিম আমল করিয়াছেন । একই কথা বলেছেন সুফিয়ান সাওরী, ইবনিল মুবারাক, শাফিঈ, আহ্‌মাদ ও ইসহাকও। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭২৯. আবদুল্লাহ ইবনি উকাইম [রঃ হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমাদের নিকট রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর পত্র আসে এই মর্মেঃ মৃত প্রাণীর চামড়া এবং তন্তু তোমরা কোন কাজে লাগাবে না।

সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ [৩৬১৩] এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন । এ হাদীসটি আবদুল্লাহ ইবনি উকাইম [রঃ] তার আরো কয়েকজন শাইখের সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন । এ হাদীস অনুসারে বেশিরভাগ অভিজ্ঞ আলিম আমল করেননি । উল্লেখিত হাদীসটি আবদুল্লাহ ইবনি উকাইম হইতে অপর একটি সূত্রে এভাবে বর্ণিত হয়েছেঃ “আমাদের নিকট রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর মারা যাবার দুই মাস আগে তাহাঁর একটি পত্র আসে” । আহ্‌মাদ ইবনি হাসানকে আমি [তিরমিযী] বলিতে শুনিয়াছি, এ হাদীস মোতাবিক আহ্‌মাদ ইবনি হাম্বল প্রথম দিকে আমল করিতেন । কেননা রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর মারা যাবার দুই মাস পূর্বেকার ছিল এ নির্দেশটি । তিনি বলিতেন, এটা ছিল মৃত প্রাণীর চামড়ার প্রসঙ্গে তাহাঁর সর্বশেষ নির্দেশ । কিন্তু তিনি এ হাদীসের সনদে গোলমাল থাকায় তার আগের মতামত বাতিল করেন । কারণ কোন কোন বর্ণনাকারী উক্ত হাদীসের সনদ এভাবেও বিকৃত করেছেনঃ আবদুল্লাহ ইবনি উকাইম-জুহাইনা গোত্রীয় তাহাদের কিছু শাইখ হইতে বর্ণিত। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৮. অনুচ্ছেদঃ পায়ের গোছার নিচ পর্যন্ত ঝুলিয়ে কাপড় পরা নিষেধ

১৭৩০. আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ গর্ব-অহংকারে মত্ত হয়ে যে লোক তার পরনের কাপড় পায়ের গোছার নিচ পর্যন্ত ঝুলিয়ে পরে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামাত দিবসে তার দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না।

সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ [৩৫৬৯], নাসা-ঈ, আবু ঈসা বলেন, হুযাইফা, আবু সাঈদ, আবু হুরাইরা, সামুরা, আবু যার, আইশা ও হুবাইব ইবনি মুগাফফাল [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে । ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ্‌ । পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৯. অনুচ্ছেদঃ মহিলাদের আঁচল লম্বা করে পরা প্রসঙ্গে

১৭৩১. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ গর্ব-অহংকারের বশীভূত হয়ে যে লোক তার পরনের কাপড় গোড়ালির নিচ পর্যন্ত ঝুলিয়ে পরে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামাত দিবসে তার দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না। উম্মু সালামা [রাদি.] বলিলেন, মহিলারা তাহাদের কাপড়ের প্রান্ত বা আঁচল কিভাবে সামলাবে? তিনি বলিলেন, তারা [গোড়ালি হইতে] এক বিঘত পরিমাণ উপরে রাখবে। তিনি [উম্মু সালামা] বলিলেন, এতে তো তাহাদের পা উদম হয়ে যাবে। তিনি বললেনঃ তবে তারা এক হাত পরিমাণ নিচ পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখবে, কিন্তু এর বেশি করিবে না।

সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ [৩৫৮০], [৩৫৮১] এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন । পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৩২. উম্মুল হাসান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তাহাদের নিকট উম্মু সালামা [রাদি.] বর্ণনা করিয়াছেন যে, ফাতিমা [রাদি.]-এর জন্য রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার কাপড়ের ঝুল এক বিঘত পরিমাণ নির্ধারিত করে দেন।

সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ [৩৫৮০], আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাম্মাদ ইবনি সালামা-আলী ইবনি যাইদ হইতে, তিনি আল-হাসান হইতে, তিনি তার মাতা হইতে, তিনি উম্মু সালামা [রাদি.]-এর সূত্রে কোন কোন বর্ণনাকারী বর্ণনা করিয়াছেন । মহিলাদেরকে তাহাদের পরনের কাপড় গোছার নিচে ঝুলিয়ে রাখার সম্মতি এ হাদীসে আছে । কেননা এতে তাহাদের পর্দা আরো সুরক্ষিত হইতে পারে। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১০. অনুচ্ছেদঃ পশমী কাপড় পরা সম্পর্কে

১৭৩৩. আবু বুরদা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমাদেরকে আইশা [রাদি.] তালিযুক্ত কম্বল [বা চাদর] এবং মোটা কাপড়ের একটি লুঙ্গি বের করে দেখান এবং বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এই দুটি কাপড় পরে থাকাবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ [৩৫৫১], নাসা-ঈ, আবু ঈসা বলেন, আলী ও ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে । আইশা [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ্‌ । পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৩৪. ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ মূসা [আঃ]-এর সাথে যেদিন তাহাঁর প্রতিপালক কথা বলেছিলেন সেদিন তাহাঁর পরনে ছিল পশমী চাদর, পশমী জুব্বা, পশমী টুপি ও পশমী পাজামা। তাহাঁর জুতা দুটি ছিল মৃত গাধার চামড়া দিয়ে তৈরী।

খুবই দুর্বল, যঈফ[৪০৮২]। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু হুমাইদ ইবনি আলী আল-আরাজের সূত্রে এ হাদীস জেনেছি। ঈমাম বুখারী বলেন, হুমাইদ ইবনি আলী আল-আরাজ একজন প্রত্যাখ্যাত রাবী। কিন্তু হুমাইদ ইবনি কাইস আল-আরাজ ছিলেন মুজাহিদের সহচর। তিনি ছিলেন মক্কার অধিবাসী এবং নির্ভরযেোগ্য রাবী। ছোট টুপিকে কুম্মা বলা হয়। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ খুবই দুর্বল

১১. অনুচ্ছেদঃ কালো রং-এর পাগড়ী প্রসঙ্গে

১৭৩৫. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] মক্কা বিজয়ের দিন কালো পাগড়ী পরে মক্কায় প্রবেশ করেন।

সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ [২৮২২], মুসলিম, আলী, উমার, ইবনি হুরাইস, ইবনি আব্বাস ও রুকানা [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে । জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন । পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১২. অনুচ্ছেদঃ দুই কাঁধের মাঝ বরাবর পাগড়ীর এক প্রান্ত ঝুলিয়ে রাখা

১৭৩৬. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] পাগড়ী বাঁধলে দুই কাঁধের মধ্য দিয়ে এর প্রান্ত ঝুলিয়ে দিতেন। নাফি [রঃ] বলেন, ইবনি উমার [রাদি.]-ও দুই কাঁধের মাঝ বরাবর তার পাগড়ীর এক প্রান্ত ছেড়ে দিতেন। উবাইদুল্লাহ [রঃ] বলেন, আমি কাসিম ও সালিমকেও এরূপ করিতে দেখেছি।

সহীহ্‌, সহীহা [৭১৬] এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গারীব বলেছেন । আলী [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে । কিন্তু সনদের বিচারে তার বর্ণিত হাদীসটি সহীহ্‌ নয় । পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৩. অনুচ্ছেদঃ স্বর্ণের আংটি পরা নিষেধ

১৭৩৭. আলী ইবনি আবু তালিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমাকে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] স্বর্ণের আংটি পরতে, রেশমী পোশাক পরতে, রুকূ-সিজদায় কুরআনের আয়াত পাঠ করিতে এবং হলুদ রং-এর পোশাক পরতে বারণ করিয়াছেন।

সহীহ্‌, মুসলিম, পূর্বে ১৭২৫ নং হাদীসেও সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে।এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৩৮. ইমরান ইবনি হুসাইন [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] স্বর্ণের আংটি পরতে নিষেধ করিয়াছেন।

সহিহ, ইবনি মা-জাহ [৩৬৪২], নাসা-ঈ বারা [রাদি.] এবং অন্যদের হইতেও বর্ণনা করিয়াছেন। আবু ঈসা বলেন, আলী, ইবনি উমার, আবু হুরাইরা ও মুআবিয়া [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমরান [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহিহ। আবুত্‌ তাইয়্যাহ্‌-এর নাম ইয়াযীদ ইবনি হুমাইদ। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৪. অনুচ্ছেদঃ রুপার আংটি ব্যবহার করা

১৭৩৯. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর আংটি ছিল রুপার। এতে লাল রং-এর মূল্যবান আবিসিনীয় পাথর বসানো ছিল।

সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ [৩৬৪৬], মুসলিম, ইবনি উমার ও বুরাইদা [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা এ হাদীসটিকে উল্লেখিত সনদ সূত্রে হাসান সহীহ্‌ গারীব বলেছেন। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৫. অনুচ্ছেদঃ আংটির জন্য উত্তম পাথর

১৭৪০. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর আংটি ছিল রুপার। তার পাথরও ছিল রুপার।

সহীহ্‌, মুখতাসার শামা-ইল [৭৩], বুখারী, আবু ঈসা এ হাদীসটিকে উল্লেখিত সনদ সূত্রে হাসান সহীহ্‌ গারীব বলেছেন। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৬. অনুচ্ছেদঃ ডান হাতে আংটি পরা প্রসঙ্গে

১৭৪১, ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] একটি স্বর্ণের আংটি তৈরী করান এবং সেটি ডান হাতে পরেন। তারপর তিনি মিম্বারের উপর বসে বললেনঃ আমি আমার ডান হাতে এই আংটিটি পরেছিলাম। তারপর তিনি তা খুলে ফেলে দিলেন এবং [তাহাঁর দেখাদেখি] লোকেরাও তাহাদের আংটি খুলে ফেলে দিল।

সহীহ্‌, মুখতাসার শামা-ইল [৮৪], নাসা-ঈ, আলী, জাবির, আবদুল্লাহ ইবনি জাফর, ইবনি আব্বাস আইশা ও আনাস [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। ইবনি উমার [রাদি.]-এর হাদীসটি অন্যান্য সূত্রেও তার নিকট হইতে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু তাতে “তিনি তা ডান হাতে পরেন” কথাটুকু উল্লেখ নেই। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৪২. সাল্ত ইবনি আবদুল্লাহ ইবনি নাওফাল [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি ইবনি আব্বাস [রাদি.]-কে ডান হাতে আংটি পরতে দেখেছি। আমার ধারণা তিনি এও বলেছেনঃ আমি রসুলুল্লাহ সাঃআঃ]-কে তাহাঁর ডান হাতে আংটি পরতে দেখেছি।

হাসান সহীহ্‌, ইরওয়া [৩/৩০৩-৩০৪], মুখতাসার শামা-ইল [৮০] আবু ঈসা বলেন, ঈমাম বুখারী বলেছেন, মুহাম্মাদ ইবনি ইসহাক্ হইতে, আস-সালত ইবনি আবদুল্লাহ ইবনি নাওফাল-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ্‌ । পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান সহীহ

১৭৪৩. জাফর ইবনি মুহাম্মাদ [রঃ] হইতে তার বাবা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি [মুহাম্মাদ] বলেন, হাসান ও হুসাইন [রাদি.] তাহাদের বাঁ হাতে আংটি পরতেন।

সহীহ্‌ মাওকূফ, মুখতাসার শামা-ইল [৮২] এ হাদীসটি হাসান সহিহ। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ মাওকুফ

১৭৪৪. হাম্মাদ ইবনি সালামা [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি ইবনি আবী রাফিকে তার ডান হাতে আংটি পরতে দেখেছি। আমি এ বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বলিলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনি জাফরকে তার ডান হাতে আংটি পরতে দেখেছি। আর আবদুল্লাহ ইবনি জাফর বলেছেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর ডান হাতে আংটি পরতেন।

সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ [৩৭৪৭] ঈমাম মুহাম্মাদ ইবনি ইস্‌মাঈল [বুখারী] [রঃ] বলেছেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর যে কতগুলো হাদীস এ অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে সেগুলোর মধ্যে এটাই বেশি সহীহ্‌ । পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৪৫. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] রুপা দিয়ে একটি আংটি তৈরী করান এবং এতে মুহাম্মাদুর্ রসুলুল্লাহ খোদাই করান, তারপর বলেন, তোমরা এর উপর খোদাই কর না।

সহীহ্‌, মুসলিমও অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। তোমরা এর উপর “খোদাই কর না”-এর অর্থঃ তাহাদের কেউ তার আংটিতে যেন মুহাম্মাদুর্ রসুলুল্লাহ খোদাই না করে। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৪৬. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] মলত্যাগ করিতে যাওয়ার সময় তাহাঁর আংটি খুলে রাখতেন।

যঈফ, ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[৩০৩]। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

১৭. অনুচ্ছেদঃ আংটিতে কারুকাজ করা

১৭৪৭ আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর আংটির নকশা ছিল নিম্নরূপঃ এক পংক্তিতে মুহাম্মাদ, এক পংক্তিতে রাসূল এবং এক পংক্তিতে আল্লাহ।

সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ [৩৬৩৯-৩৬৪০], বুখারী আনাস [রাদি.]-এর হাদীসটি হাসান সহীহ্‌ গারীব। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৪৮. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ]-এর আংটির নকশা তিন পংক্তির ছিলঃ এক পংক্তিতে মুহাম্মাদ, এক পংক্তিতে রাসূল এবং এক পংক্তিতে আল্লাহ।

সহীহ্‌, দেখুন পূর্বের হাদীস, মুহাম্মাদ ইবনি ইয়াহইয়া তার বর্ণিত হাদীসে তিন সারির কথা উল্লেখ করেননি। এ অনুচ্ছেদে উমার [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৮. অনুচ্ছেদঃ ছবি বা প্রতিকৃতি প্রসঙ্গে

১৭৪৯. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, ঘরের মধ্যে কোন ছবি রাখতে এবং তা বানাতে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] নিষেধ করিয়াছেন।

সহীহ্‌, সহীহা [৪২৪]

আলী, আবু তালহা, আইশা, আবু হুরাইরা ও আবু আইয়্যূব [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৫০. উবাইদুল্লাহ ইবনি আবদুল্লাহ ইবনি উতবা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি [অসুস্থ] আবু তালহা আনসারী [রাদি.]-কে দেখিতে যান। বর্ণনাকারী বলেন, আমি সেখানে সাহ্‌ল ইবনি হুনাইফ [রাদি.]-কেও উপস্থিত পেলাম। তিনি আরও বলেন, আবু তালহা [রাদি.] একজনকে ডাকেন নিচের চাদর সরানোর জন্য। সাহ্‌ল [রাদি.] তাকে বলিলেন, কেন চাদর সরাবেন? তিনি বলিলেন, তাতে ছবি আঁকা আছে। আর রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এ সম্পর্কে যা বলেছেন তা তো তুমি জান। সাহল [রাদি.] বলিলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] কি এ কথা বলেননি, “কিন্তু পোশাকে অল্প পরিমাণ অঙ্কিত কারুকার্য থাকলে কোন সমস্যা নেই?” আবু তালহা [রাদি.] বলিলেন, হ্যাঁ। কিন্তু উহাই [ছবি সরিয়ে ফেলা] আমার জন্য উত্তম।

সহীহ্‌, গাইয়াতুল মারাম [১৩৪] এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৯. অনুচ্ছেদঃ ছবি নির্মাতা ও চিত্রকরদের প্রসঙ্গে

১৭৫১. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে লোক কোন ছবি আঁকে, সে যে পর্যন্ত তাতে প্রাণ সঞ্চার করিতে না পারবে সে পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা তাকে আযাব দিতে থাকিবেন। অথচ সে কোন দিনও তাতে প্রাণ সঞ্চার করিতে পারবে না। যে লোক কোন দল বা সম্প্রদায়ের গোপন কথা অগোচরে কান পেতে শুনে, অথচ তারা বিষয়টি তার কাছ থেকে গোপন রাখতে চায় তার কানে কিয়ামাত দিবসে উত্তপ্ত সীসা ঢেলে দেওয়া হইবে।

সহীহ্‌, গাইয়াতুল মারাম [১২০, ৪২২], বুখারী, মুসলিম [১০] প্রথম অংশ, আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ, আবু হুরাইরা, আবু জুহাইফা, আইশা ও ইবনি উমার [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২০. অনুচ্ছেদঃ চুলে কলপ লাগানো প্রসঙ্গে

১৭৫২. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা বার্ধক্যের শুভ্রতা পরিবর্তন করে দাও এবং ইয়াহূদীদের মতো হয়ো না।

সহীহ্‌, জিল বাবুল মারআহ [১৮৯], সহীহা [৮৩৬] যুবাইর, ইবনি আব্বাস, জাবির [ইবনি আবদুল্লাহ], আবু যার, আনাস, আবু রিমসা, জাহদামা, আবুত তুফাইল, জাবির ইবনি সামুরা, আবু জুহাইফা ও ইবনি উমার [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। এটি একাধিক সূত্রে আবু হুরাইরা [রাদি.] এর সূত্রে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে বর্ণিত হয়েছে। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৫৩. আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ বার্ধক্যের শুভ্রতা পরিবর্তনের জন্য মেহেদি [হেনা] ও কাতাম [কালচে ঘাস] তৃণই উত্তম।

সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ [২৬২২] এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। আবুল আস্‌ওয়াদ আদ-দীলির নাম জালিম, পিতা আমর দাদা সুফিয়ান। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২১. অনুচ্ছেদঃ মাথার চুল রাখা এবং কাঁধ পর্যন্ত তা লম্বা করা প্রসঙ্গে

১৭৫৪. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] ছিলেন মধ্যম আকৃতির। তিনি অধিক লম্বাও ছিলেন না আবার খাটোও ছিলেন না। তিনি সুঠাম শরীরের অধিকারী ছিলেন এবং তাহাঁর গায়ের রং ছিল বাদামী। তাহাঁর মাথার চুল কোঁকড়ানোও ছিল না আবার একেবারে সোজাও ছিল না। তিনি রাস্তায় চলাচলের সময় সামনের দিকে ঝুঁকে হাঁটতেন।

সহীহ্‌, মুখতাসার শামা-ইল [১, ২], নাসা-ঈ, আইশা, বারাআ, আবু হুরাইরা, ইবনি আব্বাস, আবু সাঈদ, জাবির, ওয়াইল ইবনি হুজর ও উম্মু হানী [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। হুমাইদ কর্তৃক বর্ণিত আনাস [রাদি.]-এর এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ গারীব বলেছেন। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৫৫. আইশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি ও রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] একই পাত্র হইতে পানি নিয়ে গোসল করতাম। তাহাঁর বাবরি চুল কাঁধের উপরে কিন্তু কানের লতির নিচ পর্যন্ত প্রলম্বিত ছিল।

হাসান সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ [৬০৪, ৩৬৩৫] এ হাদীসটিকে আবু ঈসা উল্লেখিত সনদসূত্রে হাসান সহীহ্‌ গারীব বলেছেন। উল্লেখিত হাদীসটি আরো কয়েকটি সূত্রে আইশা [রাদি.] হইতে বর্ণিত হয়েছে। তবে তাতে “তাহাঁর বাবরি চুল কাঁধের উপরে কিন্তু কানের লতির নিচ পর্যন্ত লম্বা ছিল কথাটুকু উল্লেখ নেই। [এই শেষের অংশটুকু আবদুর রাহমান ইবনি আবুয যিনাদ তার বর্ণনায় উল্লেখ করিয়াছেন।] তিনি একজন সিকাহ [আস্থাভাজন] বর্ণনাকারী এবং হাদীসের হাফিয ছিলেন। মালিক ইবনি আনাস তাঁকে সিকাহ বলেছেন এবং তার নিকট হইতে হাদীস লিখার নির্দেশ দিতেন। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান সহীহ

২২. অনুচ্ছেদঃ বার বার চুল আচড়ানো নিষেধ

১৭৫৬. আবদুল্লাহ ইবনি মুগাফফাল [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বার বার চুল আচড়াতে বারণ করিয়াছেন।

সহীহ্‌, সহীহা [৫০১] মুহাম্মাদ ইবনি বাশশার-ইয়াহ্‌ইয়া ইবনি সাঈদ হইতে, তিনি হিশামের সূত্রে হাসান হইতে একইরকম হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। আনাস [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৩. অনুচ্ছেদঃ সুরমা লাগানো প্রসঙ্গে

১৭৫৭. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা ইসমিদ সুরমা লাগাও। এটা চোখের জ্যোতি বাড়ায় এবং চোখের পাতার লোম গজায়। তিনি মনে করেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর একটি সুরমাদানি ছিল। তা হইতে তিনি প্রতি রাতে তিনবার ডান চোখে এবং তিনবার বাঁ চোখে সুরমা লাগাতেন।

“তিনি মনে করেন” এই শব্দ ব্যতীত হাদীসটি সহীহ্‌, মুখতাসার শামা-ইল [৪২]

জাবির ও ইবনি উমার [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ গারীব বলেছেন। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র আব্বাদ ইবনি মানসূরের সূত্রে উক্ত শব্দে জেনেছি। এ হাদীসটি আলী ইবনি হুজর ও মুহাম্মাদ ইবনি ইয়াহ্ইয়া-ইয়াযীদ ইবনি হারুন হইতে, তিনি আব্বাদ ইবনি মানসূর [রঃ]-এর সূত্রেও একই রকম বর্ণিত হয়েছে।একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ “তোমরা অবশ্যই ইসমিদের সুরমা লাগাও, এটা চোখের জ্যোতি বাড়ায় এবং চোখের পাতার লোম গজায়”। সহীহ্‌, মিশকাতুল্ মাসা-বীহ [৪৪৭২] পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৪. অনুচ্ছেদঃ হাঁটু গেড়ে জড়োসড়ো হয়ে বসা এবং একটি চাদরে সর্বাঙ্গ পেচিয়ে বসা নিষেধ

১৭৫৮. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] কাপড় পরার দুইটি পদ্ধতি নিষিদ্ধ করিয়াছেন। একটি কাঁধ উদম রেখে একই চাদর পুরো গায়ে জড়িয়ে নেওয়া; একই পোশাকে পেট, ঊরু ও পায়ের গোছা ঢেকে নিতম্ব মাটিতে ঠেকিয়ে দুই হাঁটু উঁচু করে বসা এবং লজ্জাস্থানে এর কোন অংশ না থাকা।

সহীহ্‌, নাসা-ই, আবু ঈসা বলেন, আলী, ইবনি উমার, আইশা, আবু সাঈদ, জাবির ও আবু উমামা [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটি এই সূত্রে হাসান সহীহ্‌ গারীব। এ হাদীসটি আরো কয়েকটি সূত্রে আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিত হয়েছে। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৫. অনুচ্ছেদঃ পরচুলা ব্যবহার প্রসঙ্গে

১৭৫৯. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ পরচুলা [কৃত্রিম চুল] সংযোগকারিণী ও ব্যবহারকারিণী এবং উল্কি অঙ্কনকারিণী ও যে তা অঙ্কন করায়, এদেরকে আল্লাহ তাআলা অভিসম্পাত করিয়াছেন। নাফি [রঃ] বলেন, সাধারণতঃ নিচের মাড়িতেই আঁকা হয়।

সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ [১৯৮৭], নাসা-ই এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। আইশা, ইবনি মাসউদ, আসমা বিনতু আবী বাক্র, ইবনি আব্বাস, মাকিল ইবনি ইয়াসার ও মুআবিয়া [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৬. অনুচ্ছেদঃ রেশমের তৈরী আসনে বসা নিষেধ

১৭৬০. বারাআ ইবনি আযিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রেশম দ্বারা বানানো আসনে বসতে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বারণ করেছন।

সহীহ্‌, আদাবুয যিফাফ [১২৫], মিশকাত তাহকীক ছানী [৪৩৫৮], সহীহা [২৩৯৬], নাসা-ঈ ,হাদীসে আরও ঘটনা আছে। আলী ও মুআবিয়া [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। বারাআ [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহিহ। এ হাদীসটি আশআস ইবনি আবুশ শাসা হইতে শুবা একইরকম বর্ণনা করিয়াছেন।পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৭. অনুচ্ছেদঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর বিছানা

১৭৬১. আইশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর ঘুমানোর বিছানাটি ছিল চামড়া দিয়ে বানানো। এর ভিতরে খেজুর গাছের বাকল ভর্তি ছিল।

সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ [৪১৫১], নাসা-ঈ, এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। হাফসা ও জাবির [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৮. অনুচ্ছেদঃ জামা প্রসঙ্গে

১৭৬২. উম্মু সালামা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট সবচাইতে পছন্দের পোশাক ছিল জামা।

সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ [৩৫৭৫] এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। আব্দুল মুমিন ইবনি খালীদের হাদীস হিসেবেই এটি আমরা জানতে পেরেছি। তিনি এককভাবে এটি বর্ণনা করিয়াছেন। কিছু বর্ণনাকারী উম্মু সালামা [রাদি.]-এর এ হাদীসটি আবু তূমাইলা-আবদুল মুমিন ইবনি খালিদ হইতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনি বুরাইদা হইতে, তিনি তার মায়ের সূত্রেও বর্ণনা করিয়াছেন। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৬৩. উম্মু সালামা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, জামা-ই রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট সবচাইতে প্রিয় পোশাক ছিল।

সহীহ্‌, দেখুন পূর্বের হাদীস। আবু ঈসা বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইবনি ইসমাঈল [বুখারী]-কে বলিতে শুনিয়াছি, আব্দুল্লাহ ইবনি বুরাইদা কর্তৃক তার মায়ের বরাতে উম্মু সালামা হইতে বর্ণিত হাদীস অধিক সহিহ। এই বর্ণনা সূত্রে আবু তুমাইলাহ তার মা হইতে এভাবে উল্লেখ আছে। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৬৪. উম্মু সালামা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সবচাইতে পছন্দনীয় পোশাক ছিল জামা।

সহীহ্‌, দেখুন পূর্বের হাদীস, পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৬৫, আসমা বিনতু ইয়াযীদ ইবনি সাকান আল-আনসারিয়া [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]–এর জামার হাতা কব্জি পর্যন্ত ছিল।

যঈফ, মুখতাসার শামায়িল [৪৭] যঈফা [৩৪৫৭]। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

১৭৬৬. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন জামা পরতেন, তখন ডান দিক হইতে পরা আরম্ভ করিতেন।

সহীহ্‌, মিশকাত তাহকীক ছানী [৪৩৩০] আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি শুবার সূত্রে একাধিক বর্ণনাকারী বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু এটাকে তাহাদের কেউই মারফূভাবে বর্ণনা করেননি। এটাকে শুধু আবদুস্‌ সামাদ মারফূ হাদীস হিসেবে বর্ণনা করিয়াছেন। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৯. অনুচ্ছেদঃ নতুন কাপড় পরার দুআ

১৭৬৭. আবু সাঈদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] নতুন কাপড় পরার সময় প্রথমে সেটির নাম নিতেন। যেমন পাগড়ী, জামা অথবা চাদর। তারপর তিনি বলিতেনঃ “হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা তোমার জন্য। এটা তুমি আমাকে পরিয়েছো। আমি তোমার নিকট এর মধ্যে নিহিত কল্যাণ এবং যে উদ্দেশ্যে এটা বানানো হয়েছে তার কল্যাণ চাইছি। আর এর মধ্যে নিহিত ক্ষতি এবং যে উদ্দেশ্যে এটা বানানো হয়েছে তার অনিষ্ট হইতে তোমার আশ্রয় চাই”।

সহিহ, মিশকাত [৪৩৪২] উমার ও ইবনি উমার [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে । হিশাম ইবনি ইউনুস কূফী কাসিম ইবনি মালিক আল মুযানী হইতে জুরাইরীর সূত্রে একই রকম হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন । এ হাদীসটি হাসান গারীব সহিহ । পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩০. অনুচ্ছেদঃ জুব্বা ও চামড়ার মোজা পরা প্রসঙ্গে

১৭৬৮. উরওয়া ইবনিল মুগীরা ইবনি শুবা [রাদি.] হইতে তার বাবা হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] একটি রূমী জুব্বা পরেন। এর হাতাদুটি ছিল সংকীর্ণ।

সহিহ, মুখতাসার শামা-ইল [৫৭], সহিহ আবু দাঊদ [১৩৯-১৪০], নাসা-ঈ, এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৬৯. মুগীরা ইবনি শুবা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে দাহিয়া আল-কালবী [রাদি.] একজোড়া চামড়ার মোজা উপহার দিয়েছিলেন। তিনি তা পরিধান করেন।

সহিহ, মুখতাসার শামা-ইল [৫৯] পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩১. অনুচ্ছেদঃ স্বর্ণ দিয়ে দাঁত বাঁধানো

১৭৭০. আরফাজা ইবনি আসআদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, জাহিলী আমলে কুলাবের যুদ্ধে আমার নাক আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। আমি রুপার একটি নাক বাঁধিয়ে নিলাম। কিন্তু আমি তাতে দুর্গন্ধ অনুভব করি। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে একটি স্বর্ণের নাক বানিয়ে নিতে বলিলেন।

হাসান, মিশকাত তাহকীক ছানী [৪৪০০] আলী ইবনি হুজর রাবী ইবনি বাদর হইতে এবং মুহাম্মাদ ইবনি ইয়াযীদ আল-ওয়াসিতী আবুল আশহাব হইতে অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন । এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। আমরা এ হাদীস সম্বন্ধে শুধু আবদুর রাহমান ইবনি তারাফার সূত্রে জেনেছি । সালম ইবনি যারীর ও আবদুর রাহমান ইবনি তারাফার সূত্রে আবুল আশহাবের হাদীসের মতই বর্ণনা করিয়াছেন। অসংখ্য অভিজ্ঞ আলিম হইতে বর্ণিত আছে, তারা নিজেদের দাঁত স্বর্ণ দ্বারা বাঁধিয়ে নিয়েছেন । এ হাদীসটি তাহাদের দলীল । আবদুর রাহমান ইবনি মাহ্‌দী বলেন, সাল্‌ম ইবনি জারীর বলা অমূলক বরং ইবনি ওয়া জারীর সঠিক । আবু সাঈদ আস-সানআনীর নাম মুহাম্মাদ, পিতা মুইয়াসসীর। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

৩২. অনুচ্ছেদঃ হিংস্র প্রাণীর চামড়া কাজে লাগানো নিষেধ

১৭৭১. আবুল মালীহ [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

১৭৭১/১. আবুল মালীহ [রঃ] হইতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, হিংস্র প্রাণীর চামড়া ফরাশ হিসাবে ব্যবহার করিতে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বারণ করিয়াছেন।

সহিহ, সহীহা [১০১১], মিশকাত [৫০৬] আবুল মালীহ [রঃ] হইতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, হিংস্র প্রাণীর চামড়া কাজে লাগানোকে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] নিষিদ্ধ করিয়াছেন। সহীহ্‌, দেখুন পূর্বের হাদীস, মুআয ইবনি হিশাম-তার পিতা হইতে, তিনি কাতাদা হইতে, তিনি আবুল মালীহ হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি হিংস্র প্রাণীর চামড়া কাজে লাগানোকে অপছন্দ বলে মনে করেন। সহীহ্‌, দেখুন পূর্বের হাদীস, আবু ঈসা বলেন, এই হাদীসের সনদ “আবুল মালীহ-তার পিতা হইতে” এভাবে সাঈদ ইবনি আবু আরূবা ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করিয়াছেন বলে আমাদের জানা নেই১৭৭১/২. আবুল মালীহ [রঃ] হইতে বর্ণিত আছে, হিংস্র প্রাণীর চামড়া ব্যবহারকে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] নিষেধ করিয়াছেন।সহীহ্‌, দেখুন পূর্বের হাদীস, এই বর্ণনাটিই অনেক বেশি সহিহ [কারণ স্মরণ শক্তির দিক হইতে শুবা [রঃ] সাঈদ ইবনি আবু আরূবার চাইতে অগ্রগণ্য]। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

৩৩. অনুচ্ছেদঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর পাদুকা

১৭৭২. কাতাদা [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আনাস ইবনি মালিক [রাদি.]-কে আমি প্রশ্ন করলাম, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর জুতাজোড়া কেমন ছিল? তিনি বলিলেন, এর দুটি করে ফিতা ছিল।

সহীহ্‌, মুখতাসার শামা-ইল [৬০, ৬২] এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৭৩. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর জুতাজোড়ার দুটি করে ফিতা ছিল।

সহীহ্‌, মুখতাসার শামা-ইল [৬০, ৬২]এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। ইবনি আব্বাস ও আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। ইবনি আব্বাস ও আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৪. অনুচ্ছেদঃ এক পায়ে জুতা পরে হাঁটা নিষেধ

১৭৭৪. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, এক পায়ে জুতা পরে যেন তোমাদের কেউ না হাঁটে। হয় সে দুটো পায়ে জুতা পরবে অথবা দুটো পা-ই উদম রাখবে।

সহিহ ইবনি মা-জাহ [৩৬১৭], নাসা-ঈ, এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। জাবির [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫. অনুচ্ছেদঃ দাঁড়ানো অবস্থায় জুতা পরা মাকরূহ্

১৭৭৫. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, দাঁড়ানো অবস্থায় কাউকে জুতা পরতে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] নিষেধ করিয়াছেন।

সহিহ, ইবনি মা-জাহ [৩৬১৮] এ হাদীসটিকে আবু ঈসা গারীব বলেছেন । এ হাদীসটি আনাস [রাদি.] হইতেও অন্য সূত্রে [নিম্নে দ্র.] বর্ণিত আছে । কিন্তু হাদীস বিশারদগণের মতে এই দুইটি হাদীস সহীহ্‌ নয় । তারা মনে করেন হারিস ইবনি নাবহান হাদীসের হাফিয নন । তাছাড়া কাতাদা-আনাস [রাদি.]-এর সূত্রে এ হাদীসের কোন ভিত্তি আছে বলে আমাদের জানা নেই । পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৭৬. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

মামার হইতে কাতাদার বরাতে আনাস [রাদি.]-এর সূত্রে বর্ণিত আছে, কাউকে দাঁড়িয়ে জুতা পরতে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বারণ করিয়াছেন।

সহিহ, দেখুন পূর্বের হাদীস, এ হাদীসটিকে আবু ঈসা গারীব বলেছেন । ঈমাম বুখারী বলেন, এ হাদীস এবং মামার হইতে আম্মার ইবনি আবু আম্মারের বরাতে আবু হুরাইরা [রাদি.]-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি সহীহ্‌ নয় । পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৬. অনুচ্ছেদঃ এক পায়ে জুতা পরে হাঁটার সম্মতি প্রসঙ্গে

১৭৭৭. আইশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেন, খুব কমই রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এক পায়ে জুতা পরে হেঁটেছেন।

মুনকার, মিশকাত [৪৪১৬] পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ মুনকার

১৭৭৮. আইশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক পায়ে জুতা পরে তিনি চলাফিরা করিয়াছেন।

সহীহ্‌, প্রাগুক্ত, এই বর্ণনাটি অনেক বেশি সহিহ। আবু ঈসা বলেন, এটাকে আবদুর রাহমান ইবনিল কাসিমের সূত্রে সুফিয়ান সাওরী ও অপরাপর বর্ণনাকারীগণ মাওকূফভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৭. অনুচ্ছেদঃ প্রথমে কোন্‌ পায়ে জুতা পরতে হইবে

১৭৭৯. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের কেউ জুতা পরার সময় আগে ডান পায়ে জুতা পড়বে এবং তা খোলার সময় আগে বাম পায়ের জুতা খুলবে। অতএব জুতা পরার সময় ডান পা প্রথম হইবে এবং খোলার সময় ডান পা দ্বিতীয় হইবে।

সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ [৩৬১৬], মুসলিম এবং বুখারীও একই অর্থে হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৮০. আইশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে বলেছেনঃ তুমি যদি আমার সাথে মিলিত হইতে চাও তবে একজন সফরকারীর মত পাথেয় নিয়ে দুনিয়াতে খুশি থাক। আর তুমি ধনীদের সাথে উঠা-বসা ও মেলামেশার ব্যাপারে সতর্ক থাক। তোমার পরনের পোশাক পুরাতন হলেও তাতে তালি না লাগানো পর্যন্ত তা বাতিল করো না।

খুবই দুর্বল, যঈফা [১২৯৪], তালীকুর রাগীব [৪/৯৮], মিশকাত, তাহকীক ছানী [৪৩৪৪]। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। শুধু সালিহ ইবনি হাসসানের সূত্রেই আমরা এ হাদীসটি জেনেছি। ঈমাম বুখারী [রঃ] বলেছেন, সালিহ ইবনি হাসসান একজন প্রত্যাখ্যাত রাবী। কিন্তু সালিহ ইবনি আবু হাসসান সিকাহ রাবী, তার সূত্রে ইবনি আবু যিব হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। “ধনীদের সাথে উঠা-বসার ব্যাপারে সতর্ক থাক”, এই বাক্যের তাৎপর্য আবু হুরাইরা [রাদি.] বর্ণিত নিম্নোক্ত হাদীসের মতইঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, “কেউ যদি দেখে যে, অন্য কোন ব্যক্তিকে তার চেয়ে সুন্দর দৈহিক গঠন ও ধন-সম্পদের অধিকারী করা হয়েছে, তবে সে যেন এই ক্ষেত্রে তার নিজের তুলনায় যাকে কম দেয়া হয়েছে এবং যার উপর তাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে, তার দিকে দেখে। তাহলে সে [নিজের প্রতি] আল্লাহ তাআলা প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধাকে তুচ্ছজ্ঞান করিবে না।”

আওন ইবনি আবদুল্লাহ ইবনি উতবা [রাদি.] বলেন, আমি ধনীদের সাথে উঠা-বসা করি। আমি নিজের চাইতে বেশী বিষণ্ন অন্য কাউকে অনুভব করি না। [আমার ভারাক্রান্ত হৃদয় হওয়ার কারণ এই যে] তাহাদের যান-বাহন ও পোশাক-পরিচ্ছদ আমার চেয়েও অনেক ভাল দেখিতে পাই। আর আমি যখন গরীব লোকদের সাথে মেলামেশা করি তখন অনেক বেশী শান্তি অনুভব করি। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ খুবই দুর্বল

৩৯. অনুচ্ছেদঃ নাবী [সাঃআঃ]-এর মক্কায় প্রবেশ প্রসঙ্গে

১৭৮১. উম্মু হানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর মক্কায় পদার্পণের সময় তাহাঁর মাথার চুলে চারটি বেণী ছিল। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা গারীব বলেছেন। ঈমাম বুখারী [রঃ] বলেন, উম্মু হানী [রাদি.] হইতে মুজাহিদ [রঃ] কিছু শুনেছেন বলে আমার জানা নেই।

সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ [৩৬৩১] অন্য একটি সূত্রেও উম্মু হানী [রাদি.] হইতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর মক্কায় প্রবেশের সময় তাহাঁর মাথায় চারটি বেণী ছিল। সহীহ্‌, দেখুন পূর্বের হাদীস, এ হাদীসটিকে আবু ঈসা গারীব বলেছেন। আবদুল্লাহ ইবনি আবু নাজীহ মক্কার অধিবাসী এবং তার নাম ইয়াসার। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪০. অনুচ্ছেদঃ সাহাবীদের টুপি কেমন ছিল?

১৭৮২. আবু সাঈদ আবদুল্লাহ ইবনি বুসর [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেন, আমি আবু কাবশা আনসারী [রাদি.]-কে বলিতে শুনিয়াছি, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]–এর সাহাবীদের টুপি ছিল মাথা জুড়ে বিস্তৃত।

যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী [৪৩৩৩]। আবু ঈসা বলেছেন, এ হাদীসটি মুনকার। হাদীস বিশারদেদের মতে আবদুল্লাহ ইবনি বুসর হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল। প্রখ্যাত হাদীসবেত্তা ইয়াহইয়া ইবনি সাঈদ প্রমুখ তাকে দুর্বল বলেছেন। বুতহুন শব্দের অর্থ প্রশস্ত। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৪১. অনুচ্ছেদঃ লুঙ্গির সর্বনিম্ন সীমা

১৭৮৩. হুযাইফা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমার বা তাহাঁর জঙ্ঘা [হাঁটুর নিচের মাংসপেশী] ধরে বলেনঃ এটা হল লুঙ্গি বা পায়জামার জায়গা। তুমি না মানতে চাইলে আরও নিচে নামাতে পার। যদি তাও মানতে রাজী না হও তবে জেনে রাখ, লুঙ্গি-পায়জামার পায়ের গোছা স্পর্শ করার কোন অধিকার নেই।

সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ [৩৫৭২] এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। এ হাদীসটি আবু ইসহাকের সূত্রে শুবা এবং সুফিয়ান সাওরীও বর্ণনা করিয়াছেন। পোশাক পরিচ্ছদ – এ হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪২. অনুচ্ছেদঃ টুপির উপর পাগড়ী বাঁধা

১৭৮৪. আবু জাফর ইবনি মুহাম্মদ ইবনি রুকানা [রঃ] হইতে তার পিতা হইতে বর্ণীতঃ

রুকানা [রাদি.] রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]–এর সাথে কুস্তি লড়েন। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাকে ভূপাতিত করেন। রুকানা [রাদি.] বলেন, আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছিঃ আমাদের ও মুশরিকদের মধ্যে পার্থক্য হল টুপির উপর পাগড়ী পরা।

যঈফ, মিশকাত [৪৩৪০], ইরওয়া [১৫০৩]। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। এর সনদ সঠিক নয়। আমরা আবুল হাসান আসকালানীকেও চিনি না এবং ইবনি রুকানাকেও না। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৪৩. অনুচ্ছেদঃ লোহার আংটি

১৭৮৫. আবদুল্লাহ ইবনি বুরাইদা [রঃ] হইতে তার পিতা হইতে বর্ণীতঃ

বুরাইদা [রাদি.] বলেছেন, এক ব্যক্তি লোহার আংটি পরে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]–এর নিকটে এলে তিনি বলেনঃ তোমার কাছ থেকে জাহান্নামবাসীদের অলংকার ফেলে দাও। সে ফিরে গিয়ে আবার পিতলের আংটি পরে তাহাঁর নিকটে এলে তিনি বললেনঃ কি ব্যাপার! আমি তোমার হইতে মূর্তির গন্ধ পাচ্ছি? এবার সে ফিরে গিয়ে সোনার আংটি পরে তাহাঁর নিকটে এলে তিনি বললেনঃ কি ব্যাপার! আমি তোমাকে জান্নাতীদের অলংকার পরা দেখিতে পাচ্ছি? তখন সে বলিল, আমি কিসের আংটি বানাব? তিনি বললেনঃ এক মিসকালের [সাড়ে চার মাসা] কম রূপা দিয়ে আংটি বানাও।

আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি পারীব। এ অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনি আমর এবং আবদুল্লাহ ইবনি মুসলিম [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবদুল্লাহ ইবনি মুসলিমের ডাকনাম আবু তাইবা আল-মারওয়াযী। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৪৪. অনুচ্ছেদঃ আংটি কোন্‌ আঙ্গুলে পরতে হইবে?

১৭৮৬. আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আলী [রাদি.]-কে আমি বলিতে শুনেছিঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে রেশমী কাপড় পরতে, লাল জিনপোষের উপর বসতে এবং আমার আংটি এই এই আঙ্গুলে পরতে বারণ করিয়াছেন। এই বলে তিনি তাহাঁর তর্জনী ও মধ্যমার দিকে ইশারা করেন।

এই অথবা এই আঙ্গুলে শব্দে হাদীসটি সহীহ্‌, বর্ণনাকারী আসিম সন্দেহ করিয়াছেন। যঈফা [৫৪৯৯], মুসলিম, এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। আবু মূসা [রাদি.]-এর ছেলের নাম আমির এবং উপনাম আবু বুরদা। পিতা আব্দুল্লাহ ইবনি কাইস. পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

৪৫. অনুচ্ছেদঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর পছন্দনীয় পোশাক

১৭৮৭. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] যেসব পোশাক পরতেন তার মধ্যে আঁচলবিশিষ্ট [ইয়ামানী] চাদর তাহাঁর নিকট সবচাইতে বেশি পছন্দের ছিল।

সহীহ্‌, মুখতাসার শামা-ইল মুহাম্মাদীয়া [৫১], নাসা-ঈ, এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ গারীব বলেছেন। পোশাক পরিচ্ছদ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

Comments

One response to “পোশাক পরিচ্ছদ । সাহাবীদের টুপি কেমন ছিল”

Leave a Reply