সালাতে আশ্রয় প্রার্থনা ও নামাজের পর যিকির

সালাতে আশ্রয় প্রার্থনা ও নামাজের পর যিকির

নামাজের পর যিকির দোয়া ও আশ্রয় প্রার্থনা >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

২৩. অধ্যায়ঃ নামাজের পর যিক্‌র
২৪. অধ্যায়ঃ ক্ববরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা মুস্তাহাব
২৫. অধ্যায়ঃ নামাজের মধ্যে যে সকল বিষয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়
২৬. অধ্যায়ঃ নামাজের পর যিকির মুস্তাহাব এবং এর বিবরণ
২৭. অধ্যায়ঃ তাকবীরে তাহ্‌রীমা ও ক্বিরাআতের মধ্যে কি পাঠ করিবে

২৩. অধ্যায়ঃ নামাজের পর জিকর

১২০৩. আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা তাকবীর [আল্ল-হ আকবার] পাঠ দ্বারা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নামাজ শেষ হওয়া জানতে পারতাম। অর্থাৎ – নামাজ শেষ হলেই রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] উচ্চৈঃস্বরে আল্ল-হ আকবর বলিতেন। তখন আমরা বুঝতে পারতাম।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১১৯২, ইসলামিক সেন্টার- ১২০৩]

১২০৪. আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নামাজ শেষ হওয়া তাকবীর পাঠ ছাড়া আর কিছু দ্বারা জানতে পারতাম না। আমর ইবনি দীনার বলেছেনঃ আমি পরবর্তী সময়ে [আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস-এর নিকট থেকে হাদীসটির বর্ণনাকারী] আবু মাবাদ-এর হাদীসটির প্রসঙ্গ উল্লেখ করলে তিনি অস্বীকৃতি জানিয়ে বললেনঃ আমি তোমার কাছে এ হাদীস বর্ণনা করিনি। অথচ ইতোপূর্বে তিনি আমার নিকট হাদীসটি বর্ণনা করেছিলেন। {১}

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১১৯৩, ইসলামিক সেন্টার- ১২০৪]

{১} ঈমাম নাবাবী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, উর্ধস্তন রাবীর হাদীস বর্ণনায় বিষয়টি সন্দেহ পতিত হওয়া বা ভুলে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে নিম্নস্তর রাবী সিকাহ বা নির্ভরযোগ্য হলে হাদীস সহীহ হিসেবেই পরিগণিত হইবে – এটা জমহুর উলামাগনের অভিমত। [শারহে মুসলিম- ১ম ২১৭ পৃষ্ঠা]

১২০৫. আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] এর যুগে ফরয নামাজ শেষে লোকেরা উচ্চৈঃস্বরে তাকবীর বা অন্য কোন জিকর পাঠ করত। {১৩}

আবু মাবাদ বলেন, আবদূল্লাহ ইবনি আব্বাস আরো বলেছেনঃ ঐ উচ্চৈঃস্বরে শুনেই আমি নামাজ শেষ হওয়ার কথা বুঝতে পারতাম।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১১৯৪, ইসলামিক সেন্টার- ১২০৫]

{১৩} ঈমাম নাবাবী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, কোন কোন সালাফ বা ইবনি হায্‌ম জাহিরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] -এর মতে সালাম শেষে উচ্চৈঃস্বরে মাসনূন জিকর পাঠ মুস্তাহাব। আর ইবনি বাত্ত্বল-এর মতে, অনুসরণীয় ঈমামগনের নিকট জিকরসমূহ ও তাকবীর নীরবে পঠনীয়। ঈমাম শাফিঈ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এর বক্তব্য হলোঃ উচৈস্বরে জিকর পাঠ সর্বদা ছিল না; তাই ঈমাম সাহেব জিকরসমূহ শিক্ষাদানের জন্য কিছুদিন সালাম ফিরানোর পর জোরে জোরে শোনাতে পারেন। [শারহে মুসলিম- ১ম ২১৭ পৃষ্ঠা]

উল্লেখ্য যে, প্রচলিত সমবেত মুনাজাতটা পদ্ধতিগত ও এক্ষেত্রে মাসনূন জিকর নয় এমন ভিন্ন দুআ পঠিত হওয়া এসব মিলিয়ে এটা পরিত্যাজ্য বিদআত।

২৪. অধ্যায়ঃ কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা মুস্তাহাব

১২০৬. আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বাইরে থেকে আমার কাছে আসলেন। তখন আমার কাছে একজন ইয়াহূদ মহিলা উপস্থিত ছিল। সে আমাকে বলছিলঃ তুমি কি জানো ক্ববরে তোমাদেরকে পরীক্ষা করা হইবে? আয়িশা [রাদি.] বলেনঃ ইয়াহূদ মহিলার এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আতঙ্কিত হয়ে পড়লেন। তিনি অবশ্য বললেনঃ পরীক্ষা বা আযাব তো হইবে ইয়াহূদদের। আয়িশা [রাদি.] বলেনঃ আমরা এভাবে কয়েক রাত কাটালাম। পরে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তুমি কি জানো আমার কাছে এ মর্মে ওয়াহী পাঠানো হয়েছে যে, তোমাদেরকে ক্ববরে পরীক্ষা করা হইবে। আয়িশা [রাদি.] বলেনঃ এর পরবর্তীকালে আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] – কে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করিতে শুনেছি।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১১৯৫, ইসলামিক সেন্টার- ১২০৬]

১২০৭. আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, তারপর থেকে আমি রসূলুল্লাহ [সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] -কে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করিতে শুনেছি।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১১৯৬, ই সে. ১২০৭]

১২০৮. আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মাদীনার দুজন বৃদ্ধা ইয়াহুদিনী আমার কাছে আসলো। তারা বললঃ ক্ববরে মানুষকে আযাব দেয়া হয়ে থাকে। আয়িশা [রাদি.] বলেনঃ আমি তাদের কথা মিথ্যা প্রতিপন্ন করলাম। তাদের কথা সত্য বলে বিশ্বাস করা আমার ভাল লাগলো না। পরে তারা চলে গেল। অতঃপর রাসুলুল্লাহ [সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] আমার কাছে আসলে আমি তাঁকে বললামঃ হে আল্লাহর রসূল [সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] ! মাদীনার দুজন বৃদ্ধা ইয়াহুদিনী আমার কাছে এসেছিলেন। তারা বলিল, ক্ববরে মানুষকে আযাব দেয়া হয় | এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তারা সত্য কথাই বলেছে | কেননা ক্ববরে মানুষকে এমন আযাব দেয়া হয় যা চতুষ্পদ জীব-জন্তু পর্যন্ত শুনতে পায়। এ কথা বলে আয়েশাহ বললেনঃ এরপর আমি সব সময় রসূলুল্লাহ [সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] -কে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করিতে দেখেছি।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১১৯৭, ইসলামিক সেন্টার-১২০৮]

১২০৯. আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। তবে এতে আছে, আয়েশাহ [রাদি.] বলেন, “এরপর রসূলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখনই নামাজ আদায় করিয়াছেন, তখনই তাকে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করিতে শুনেছি”।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১১৯৮ ইসলামিক সেন্টার- ১২০৯০]

২৫. অধ্যায়ঃ নামাজের মধ্যে যে সকল বিষয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়

১২১০. আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নামাজে দাজ্জালের ফিতনাহ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করিতে শুনেছি।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১১৯৯, ইসলামিক সেন্টার- ১২১০]

১২১১. আবু হুরায়রাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা কেউ যখন [নামাজে] তাশাহহুদ পড় তখন চারটি জিনিস থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রার্থনা করিবে। এ বলে দুআ করবেঃ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ

“আল্লহুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিন আযা-বি জাহান্নাম ওয়ামিন আযা-বিল কবরি ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহইয়া- ওয়াল মামা-তি ওয়ামিন শাররি ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জা-ল”- [অর্থাৎ, হে আল্লাহ্‌! আমি তোমার কাছে জাহান্নাম ও কবরের আযাব থেকে, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনাহ থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের ফিতনার ক্ষতি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১২০০, ইসলামিক সেন্টার- ১২১১]

১২১২. নবী [সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] -এর স্ত্রী আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] নামাজের মধ্যে এ বলে দুআ করিতেনঃ

 اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ

“আল্ল-হুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন আযা-বিল ক্বব্‌রি ওয়া আঊযুবিকা মিন ফিত্‌নাতিল মাসীহিদ্‌ দাজ্জা-ল ওয়া আঊযুবিকা মিন ফিত্‌নাতিল মাহ্‌ইয়া-ওয়াল মামা-তি, আল্ল-হুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিনাল মাসামি ওয়াল মাগ্‌রম” – [অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাই। আমি তোমার কাছে মাসীহ দাজ্জালের ফিত্‌নাহ থেকে আশ্রয় চাই। আমি তোমার কাছে জীবন ও মৃত্যুর ফিত্‌না থেকে আশ্রয় চাই। আর আমি তোমার কাছে গুনাহ ও ঋণ থেকে আশ্রয় চাই।]।

আয়িশা [রাদি.] বলেনঃ জনৈক ব্যক্তি বলিল – হে আল্লাহর রসূল [সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] ! আপনি ঋণগ্রস্ত হওয়া থেকে এত আশ্রয় প্রার্থনা করেন কেন? [এ কথা শুনে] তিনি [সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বললেনঃ কেউ যখন ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে তখন কথা বললে মিথ্যা বলে এবং প্রতিশ্রুতি দিলে তা ভঙ্গ করে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১২০১, ইসলামিক সেন্টার- ১২১২]

১২১৩. আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন শেষ তাশাহ্‌হুদ পাঠ করিবে তখন যেন সে চারটি জিনিস থেকে [আল্লাহ্‌র কাছে] আশ্রয় চায়। জাহান্নামের আযাব থেকে, কবরের আযাব থেকে, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনাহ্‌ থেকে এবং মাসীহ্‌ দাজ্জালের অপকারিতা থেকে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১২০২, ইসলামিক সেন্টার- ১২১৩]

১২১৪. আওযাঈ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

এভাবে বর্ণনা করিয়াছেন যে, “তোমাদের কেউ যখন তাশাহ্‌হুদ পাঠ করিবে”। তারা আ-খির বা শেষ তাশাহ্‌হুদ শব্দটি উল্লেখ করেননি।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১২০৩, ইসলামিক সেন্টার- ১২১৪]

১২১৫. আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেনঃ

 اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَعَذَابِ النَّارِ وَفِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَشَرِّ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ

“আল্ল-হুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিন আযা-বিল ক্ববরি ওয়া আযা-বিন্‌ না-রি ওয়া ফিত্‌নাতিল মাহ্‌ইয়া- ওয়াল মামা-তি ওয়া শার্‌রিল মাসীহিদ্‌ দাজ্জা-ল” [অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে কবরের ও জাহান্নামের আযাব থেকে জীবন ও মৃত্যুর ফিত্‌নাহ্ থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাই ।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১২০৪, ইসলামিক সেন্টার- ১২১৫]

১২১৬. আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেনঃ আল্লাহর কাছে তার আযাব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আশ্রয় চাও। কবরের আযাব থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। আর জীবন ও মৃত্যুর ফিত্‌নাহ্‌ থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১২০৫, ইসলামিক সেন্টার- ১২১৬]

১২১৭. আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১২০৬, ইসলামিক সেন্টার- ১২১৭]

১২১৮. আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১২০৭, ইসলামিক সেন্টার- ১২১৮]

১২১৯. আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] কবর ও জাহান্নামের আযাব ও দাজ্জালের ফিত্‌নাহ্‌ থেকে আশ্রয় চাইতেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১২০৮, ইসলামিক সেন্টার- ১২১৯]

১২২০. আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তাদেরকে যেভাবে কুরআন মাজীদের সুরা শিখাতেন ঠিক তেমনিভাবে এ দুআটিও শিখাতেন, দুআটি হলোঃ

اللَّهُمَّ إِنَّا نَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ

“আল্ল-হুম্মা ইন্না- নাঊযুবিকা মিন আযা-বি জাহান্নাম ওয়া আঊযুবিকা মিন আযা-বিল ক্বব্‌রি ওয়া আঊযুবিকা মিন ফিত্‌নাতিল মাসীহিদ্‌ দাজ্জা-ল, ওয়া আঊযুবিকা মিন ফিত্‌নাতিল মাহ্‌ইয়া-ওয়াল মামা-ত” [অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমরা তোমার কাছে জাহান্নামের আযাব থেকে আশ্রয় চাই। আমি তোমার কাছে মাসীহ দাজ্জালের ফিত্‌নাহ্‌ থেকে আশ্রয় চাই। আর আমি তোমার কাছে জীবন ও মৃত্যুর ফিত্‌নাহ্‌ থেকে আশ্রয় চাই।]।

মুসলিম ইবনি হাজ্জাজা বলেনঃ ত্বাউস [একদিন] তার ছেলেকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি নামাজ আদায় করার সময় কি এ দুআটি পড়েছ? সে বলিল, না। এ কথা শুনে ত্বাউস বলিলেন, তুমি পুনরায় নামাজ আদায় কর। কারণ ত্বাউস [তোমার পিতা] তিন, চার বা তার বক্তব্য অনুসারে কম বা বেশী লোকের নিকট থেকে হাদীসটি বর্ণনা করিয়াছেন অথবা তিনি এরূপ বলেছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১২০৯, ইসলামিক সেন্টার- ১২২০-১২২১]

২৬. অধ্যায়ঃ নামাজের পর যিকির মুস্তাহাব এবং এর বিবরণ

১২২১. সাওবান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] নামাজ শেষ করে তিনবার ইসতিগ্‌ফার করিতেন এবং বলিতেন-

اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ تَبَارَكْتَ ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ 

“আল্লা-হুম্মা আন্‌তাস্‌ সালা-মু ওয়া মিনকাস্‌ সালা-মু তাবা-রক্‌তা যাল জালা-লি ওয়াল ইকর-ম” [অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমিই শান্তিময় এবং তোমার থেকে শান্তি আসে। তুমি কল্যাণময় এবং সন্মান ও প্রতিপত্তির অধিকারী |]।

হাদীস বর্ণনাকারী ওয়ালীদ বলেন- আমি আওযাঈকে জিজ্ঞেস করলাম | তিনি [সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] কিভাবে ইস্‌তিগফার করিতেন। তিনি বলিলেন, তিনি [সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলিতেন-

 أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ

আস্‌তাগ্‌ফিরুল্ল-হ, আস্‌তাগ্‌ফিরুল্ল-হ |

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১২১০, ইসলামিক সেন্টার- ১২২২]

১২২২. আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নামাজে সালাম ফিরানোর পরে নবী [সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] ততটুকু সময় বসতেন-

اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ تَبَارَكْتَ ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ

“আল্লা-হুম্মা আন্‌তাস সালাম-মু ওয়া মিনকাস্‌ সালা-মু তাবা-রক্‌তা যাল জালা-লি ওয়াল ইকর-ম” [অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমিই শান্তিময় এবং তোমার থেকে শান্তি আসে। তুমি কল্যাণময় এবং সন্মান ও প্রতিপত্তির অধিকারী।] এ দুআটা পড়তে যতটুকু সময় লাগে।

ইবনি নুমায়র-এর একটি বর্ণনায় [আরবী] -এর স্থলে [আরবী] উল্লেখ আছে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১২১১, ই.সেস. ১২২৩]

১২২৩. আসিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করিয়াছেন। তবে এতে তিনি

يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ

উল্লেখ করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১২১২, ইসলামিক সেন্টার- ১২২৪]

১২২৪. আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। তবে এ বর্ণনাতে এ কথাটুকু নেই যে, তিনি

يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ

[হে শান-শওকাতময়, দয়াবান] বলিতেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১২১৩, ইসলামিক সেন্টার- ১২২৫]

১২২৫. মুগীরাহ্‌ ইবনি শুবাহ [রাদি.] কর্তৃক আযাদকৃত ক্রীতদাস ওয়ার্‌রাদ হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেন, মুগীরাহ্‌ বিন শুবাহ্‌ মুআবিয়াহ্‌ [রাদি.] -কে লিখে পাঠান যে, রসূলুল্লাহ [সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] নামাজ শেষে সালাম ফিরিয়ে বলিতেন-

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ اللَّهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ

“লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহ্‌দাহ্‌ লা শারীকা লাহু লাহুল মুল্‌কু ওয়ালাহুল হাম্‌দু ওয়াহুওয়া আলা- কুল্লি শাইয়িন্‌ ক্বদীর, আল্ল-হুম্মা লা-মা-নিআ লিমা- আত্বয়তা ওয়ালা- মুত্বিয়া লিমা- মানাতা ওয়ালা- ইয়ান্‌ফাউ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দ” [অর্থাৎ – আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তিনি এক ও শারীক বিহীন। সার্ভৌম ক্ষমতা তাহাঁর জন্য নির্দিষ্ট। সব প্রশংসা তাহাঁরই প্রাপ্য। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! তুমি যা দিতে চাও তাতে বাধা দেয়ার শক্তি কারো নেই। আর যা দিতে না চাও তার দেবার শক্তিও কারো নেই। আর কোন সম্পদশালীর সম্পদ তোমার নিকট থেকে রক্ষা করিতে পারে না।]

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১২১৪, ইসলামিক সেন্টার- ১২২৬]

১২২৬. মুগীরাহ্‌ ইবনি শায়বাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] – এর একই হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। আবু বকর ও আবু কুরায়ব তাদের বর্ণনায় উল্লেখ করিয়াছেন যে, ওয়ার্‌রাদ বলেছেনঃ মুগীরাহ্‌ দুআটি আমাকে শিখিয়েছেন। অতঃপর তা আমি মুআবিয়াকে লিখে পাঠিয়েছি।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১২১৫, ইসলামিক সেন্টার- ১২২৭]

১২২৭. মুগীরাহ্‌ ইবনি শুবাহ্‌ [রাদি.] কর্তৃক আযাদকৃত ক্রীতদাস ওয়ার্‌রাদ হইতে বর্ণীতঃ

মুগীরাহ্‌ ইবনি শুবাহ্‌ [আমীর] মুআবিয়ার কাছে ওয়ার্‌রাদকে দিয়ে লিখিয়েছিলেন যে, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] – কে নামাজ শেষে সালাম ফিরিয়ে বলিতে শুনেছি…। তবে এ বর্ণনায় [আরবি] বাক্যটির উল্লেখ নেই, কেননা তিনি তা উল্লেখ করেননি।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১২১৬, ইসলামিক সেন্টার- ১২২৮]

১২২৮. মুগীরাহ্‌ ইবনি শুবাহ্‌ [রাদি.] – এর কাতিব [সেক্রেটারী] ওয়ার্‌রাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেন, [আমীর] মুআবিয়াহ্‌ মুগীরাহ্‌ – এর কাছে লিখেছিলেন। … এরপর তিনি মানসূর ও আমাশ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিলেন।

[ই.ফা.১২১৭, ইসলামিক সেন্টার-১২২৯]

১২২৯. আব্‌দাহ্‌ ইবনি আবু লুবাবাহ্‌ ও আবদুল মালিক ইবনি উমায়র [উভয়ে] মুগীরাহ্‌ ইবনি শুবাহ্‌ [রাদি.] – এর কাতিব [সেক্রেটারী] ওয়ার্‌রাদ হইতে বর্ণীতঃ

[আমীর] মুআবিয়াহ্‌ মুগীরাহ্‌ ইবনি শুবাহ্‌-এর কাছে পত্র লিখলেনঃ তুমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর কাছে শুনেছ এমন কিছু লিখে পাঠাও। ওয়ার্‌রাদ বর্ণনা করেনঃ এ পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে মুগীরাহ্‌ ইবনি শুবাহ্‌ তাকে লিখে জানালেন যে, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে বলিতে শুনেছি, তিনি নামাজ শেষে [এ দুআটি] বলিতেন,

 لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ اللَّهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ 

“লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহ্‌দাহূ লা- শারীকা লাহূ লাহুল মুল্‌ক ওয়ালাহুল হাম্‌দু ওয়াহুওয়া আলা- কুল্লি শাইয়িন্‌ ক্বদীর, আল্ল-হুম্মা লা- মা-নিআ লিমা- আত্বয়তা ওয়ালা- মুত্বিয়া লিমা- মানাতা ওয়ালা- ইয়ান্‌ফাউ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দ” [অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তিনি এক ও শারীকবিহীন। সার্বভৌম ক্ষমতা তাহাঁর জন্য নির্দিষ্ট। সব প্রশংসা তাহাঁরই প্রাপ্য। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! তুমি যা দিতে চাও তাতে বাধা দেয়ার শক্তি কারো নেই। আর যা দিতে না চাও তার দেবার শক্তিও কারো নেই। আর কোন সম্পদশালীর সম্পদ তোমার নিকট থেকে রক্ষা করিতে পারে না।]

[ই.ফা.১২১৮, ইসলামিক সেন্টার-১২৩০]

১২৩০. আবুয্‌ যুবায়র [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেনঃ আবদুল্লাহ ইবনি যুবায়র প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজে সালাম ফিরানোর পর বলিতেনঃ

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَلاَ نَعْبُدُ إِلاَّ إِيَّاهُ لَهُ النِّعْمَةُ وَلَهُ الْفَضْلُ وَلَهُ الثَّنَاءُ الْحَسَنُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ

“লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহ্‌দাহূ লা-শারীকা লাহূ লাহুল মুল্‌কু ওয়ালাহুল হাম্‌দু ওয়াহুওয়া আলা-কুল্লি শাইয়িন্‌ ক্বদীর, লা- হাওলা ওয়ালা- কূওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হি লা- ইলা- হা ইল্লাল্ল-হু ওয়ালা- নাবুদু ইল্লা- ঈয়্যা-হু লাহুন্‌ নিমাতু ওয়ালাহুল ফায্‌লু ওয়ালাহুস্‌ সানা-উল হাসানু লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু মুখলিসীনা লাহুদ্‌দীনা ওয়ালাও কারিহাল কা-ফিরূন” [অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তিনি একক ও শারীকবিহীন। তিনিই সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সব প্রশংসা তাহাঁরই প্রাপ্য। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন আশ্রয় এবং শক্তি নেই। আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তাঁকে ছাড়া আর কারো ইবাদাত করি না যদিও কাফিরদের তা পছন্দ নয়।]

আর তিনি [ইবনিয্‌ যুবায়র] বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজের পরে কথাগুলো বলে আল্লাহর প্রশংসা করিতেন।

[ই.ফা.১২১৯, ইসলামিক সেন্টার-১২৩১]

১২৩১. উরওয়াহ্‌ তাদের আযাদকৃত দাস আবুয্‌ যুবায়র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনিয্‌ যুবায়র প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজের শেষে ইবনি নুমায়র – এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ তাহলীল [অর্থাৎ- “লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ” আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই] বলে আল্লাহর প্রশংসা করিতেন। হাদীসটির শেষে তিনি এভাবে বলেছেন, অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনিয্‌ যুবায়র বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এ কথাগুলো বলে প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজের পর তাহলীল বা আল্লাহর প্রশংসা করিতেন।

[ই.ফা.১২২০, ইসলামিক সেন্টার-১২৩২]

১২৩২. আবুয্‌ যুবায়র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনিয্‌ যুবায়রকে এ মিম্বারে দাঁড়িয়ে এই বলে খুত্‌বাহ্‌ দিতে শুনেছি যে, নামাজের শেষে সালাম ফিরিয়ে রসূলুল্ললাহ [সাঃআঃ] বলিতেন…। অতঃপর তিনি হিশাম ইবনি উরওয়াহ্‌ বর্ণিত হাদীসটির অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিলেন।

[ই.ফা.১২২১, ইসলামিক সেন্টার-১২৩৩]

১২৩৩. আবুয্‌ যুবায়র আল মাক্কী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি আবদুল্লাহ ইবনি যুবায়র [রাদি.] – কে প্রতি ওয়াক্ত সলামে ফিরানোর পর বলিতে শুনেছেন – হিশাম ও হাজ্জাজ বর্ণিত পূর্বের হাদীসে উল্লেখিত দুআর অনুরূপ দুআ করিতেন। অবশ্য এ হাদীসের শেষে তিনি এ কথা বলেছেনঃ বিষয়টি আবদুল্লাহ ইবনি যুবায়র রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] থেকে বর্ণনা করিতেন।

[ই.ফা.১২২২, ইসলামিক সেন্টার-১২৩৪]

১২৩৪. আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেনঃ কুতায়বাহ্‌ও হাদীসটি বর্ণনা করিয়াছেন। আবু হুরায়রা [রাদি.] বলেছেনঃ একদিন গরীব মুহাজিরগণ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] – এর কাছে গিয়ে বলিলেন, সম্পদশালী লোকেরা উচ্চমর্যাদা ও স্থায়ী নিআমাতসমূহ লুটে নিচ্ছে। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ কিভাবে? তারা বললেনঃ আমরা নামাজ আদায় করি তারাও নামাজ আদায় করে। আমরা সিয়াম পালন করি তারাও সিয়াম পালন করে। কিন্তু তারা দান করে আমরা দান করিতে পারি না। আর তারা দাস মুক্ত করে আমরা দাস মুক্ত করিতে পারি না। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ আমি কি তোমাদেরকে এমন কিছু শিখিয়ে দিব যা করলে তোমরা তোমাদের চেয়ে অগ্রসর লোকদের সমকক্ষ হইতে পারবে? আর যারা তোমাদের পিছনে পড়ে আছে তাদের পিছনে রেখে এগিয়ে যেতে পারবে? আর তোমাদের মতো কাজ না করে কেউ তোমাদের মতো উত্তম হইতে পারবে না। তারা বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! তা অবশ্যই বলবেন। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ প্রত্যেক নামাজের পর তোমরা তেত্রিশবার করে তাসবীহ [সুবহানা-ল্ল-হ] , তাকবীর [আল্ল-হু আকবার] ও তাহমীদ [আলহাম্‌দু লিল্লা-হ] বলবে। আবু সালিহ বর্ণনা করিয়াছেন এরপর গরীব মুহাজিরগণ পুনরায় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] – এর কাছে এসে বললেনঃ আমরা যা করেছি আমাদের সম্পদশালী ভাইয়েরা তা জেনে ফেলেছে। সুতরাং এখন তারাও এ কাজ করিতে শুরু করেছে। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ এ তো আল্লাহর মেহেরবানী। যাকে ইচ্ছা তিনি তা দান করেন। কুতায়বাহ্‌ ছাড়া এ হাদীসটি লায়স ও ইবনি আজলান – এর মাধ্যমে সুমাই থেকে বর্ণনা করিয়াছেন তারা এতে এতটুকু কথা অধিক বলেছেন যে, সুমাই [হাদীসটির এক পর্যায়ের বর্ণনাকারী] বলেছনঃ আমি ভুলে গিয়েছি হাদীসটি বরং এভাবে বলা হয়েছেঃ তেত্রিশবার তাসবীহ বর্ণনা করিবে, তেত্রিশবার হাম্‌দ করিবে আর তেত্রিশবার তাকবীর বলবে। সুতরাং [এ কথা শুনে] আমি আবু সালিহ্‌-এর কাছে গিয়ে এ বিষয়টি বললে, তিনি আমার হাত ধরে বললেনঃ বরং তুমি বলবে- “আল্ল-হু আকবার ওয়া সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াল হাম্‌দুলিল্লা-হি আল্ল-হু আকবার ওয়া সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াল হামদুলিল্লা-হ” [অর্থাৎ- আল্লাহ মহান। তিনি পবিত্র, সব প্রশংসা তাহাঁর। আল্লাহ মহান। তিনি পবিত্র, সব প্রশংসা তাহাঁর।] এভাবে সবগুলো মোট তেত্রিশবার বলবে। ইবনি আজলান বলেছেনঃ আমি রাজা ইবনি হাওাহ্‌-এর কাছে হাদীসটি বর্ণনা করলে তিনিও আমাকে আবু সালিহ ও আবু হুরায়রা [রাদি.] – এর মাধ্যমে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করে শোনালেন।

[ই.ফা.১২২৩, ইসলামিক সেন্টার-১২৩৫]

১২৩৫. আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদিন গরীব মুহাজিররা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে এসে বলিল, হে আল্লাহর রসূল! সম্পদশালী লোকেরা উচ্চমর্যাদা ও স্থায়ী নিআমাতসমূহ লুটে নিচ্ছে। অর্থাৎ – এভাবে তিনি লায়স থেকে কুতায়বাহ্‌ বর্ণিত হাদীসটির অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিলেন। তবে তিনি আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদীসে আবু সালিহ বর্ণিত হাদীসের “অতঃপর গরীব মুহাজিররা ফিরে আসলো” কথাটা শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করিয়াছেন? আর হাদীসটির মধ্যে তিনি এতটুকু কথা অতিরিক্ত বর্ণনা করিয়াছেন যে, সুহায়ল বলেন, এগারবার করে সবগুলো মিলিয়ে মোট তেত্রিশবার পড়তে হইবে।

[ই.ফা.১২২৪, ইসলামিক সেন্টার-১২৩৬]

১২৩৬. কাব ইবনি উজ্‌রাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ প্রত্যেক ফরয নামাজের পরে কিছু দুআ আছে, যে ব্যক্তি ঐগুলো পড়ে বা কাজে লাগায় কখনো নিরাশ বা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। তা হলোঃ তেত্রিশবার তাসবীহ [আলহাম্‌দু লিল্লা-হ] পড়া, তেত্রিশবার তাহমীদ [সুবহা-নাল্ল-হ] পাঠ করা এবং চৌত্রিশবার তাকবীর [আল্ল-হু আকবার] পাঠ করা।

[ই.ফা.১২২৫, ইসলামিক সেন্টার-১২৩৭]

১২৩৭. কাব ইবনি উজ্‌রাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] থেকে বর্ণনা করিয়াছেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কিছু দুআ আছে প্রত্যেক ফরযনামাজের পরে যে ব্যক্তি ঐগুলো পড়ে বা আমাল করে সে কখনও নিরাশ বা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। দুআগুলো হলোঃ তেত্রিশবার তাসবীহ [সুবহা-নাল্ল-হ, অর্থাৎ- আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করা] পড়া, তেত্রিশবার তাহমীদ [আলহাম্‌দুলিল্লা-হ, অর্থাৎ- আল্লহর প্রশংসা করা] পড়া এবং চৌত্রিশবার তাকবীর [আল্ল-হু আকবার, অর্থাৎ- আল্লহর মহত্ব বর্ণনা করা] পড়া।

[ই.ফা.১২২৬, ইসলামিক সেন্টার-১২৩৮]

১২৩৮. হাকাম হইতে বর্ণীতঃ

একই সানাদে অনুরুপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।

[ই.ফা.১২২৭, ইসলামিক সেন্টার-১২৩৯]

১২৩৯. আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজের শেষে তেত্রিশবার আল্লহর তাসবীহ বা পবিত্রতা বর্ণনা করিবে, তেত্রিশবার আল্লাহর তামহীদ বা আল্লাহর প্রশংসা করিবে এবং তেত্রিশবার তাকবীর বা আল্লহর মহত্ব বর্ণনা করিবে আর এভাবে নিরানব্বই বার হওয়ার পর শততম পূর্ণ করিতে বলবে-“লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহ্‌দাহূ লা- শারীকা লাহূ লাহুল মুল্‌কু ওয়ালাহুল হাম্‌দু ওয়াহুওয়া আলা-কুল্লি শাইয়িন্‌ ক্বদীর” [অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তিনি একক ও তাহাঁর কোন অংশীদার নেই। সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী একমাত্র তিনিই। সম প্রশংসা তাহাঁরই প্রাপ্য। তিনি সবকিছু করিতে সক্ষম-তার গুনাহসমূহ সমুদ্রের ফেনারাশির মতো অসংখ্য হলেও ক্ষমা করে সেয়া হয়।]

[ই.ফা.১২২৮, ইসলামিক সেন্টার-১২৪০]

১২৪০. আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ এরপর উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।

[ই.ফা.১২২৯, ইসলামিক সেন্টার-১২৪০]

২৭. অধ্যায়ঃ তাকবীরে তাহ্‌রীমা ও ক্বিরাআতের মধ্যে কি পাঠ করিবে

১২৪১. আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নামাজ শুরু করলে তাকবীরে তাহরীমা বলে ক্বিরাআত শুরু করার আগে কিছুক্ষণ চুপ থাকতেন। এ দেখে আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! আপনি নামাজের তাকবীরে তাহরীমা ও ক্বিরাআতের মাঝে যখন চুপ থাকেন তখন কি পড়েন? রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, আমি তখন বলিঃ

 اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَاىَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ اللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنْ خَطَايَاىَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ اللَّهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَاىَ بِالثَّلْجِ وَالْمَاءِ وَالْبَرَدِ

“আল্ল-হুম্মা বা-ইদ বায়নী ওয়াবায়না খত্বা-ইয়া-ইয়া কামা- বা-আদতা বায়নাল মাশরিক্বি ওয়াল মাগরিব, আল্লা-হুম্মা নাক্কিনী মিন খত্বা-ইয়া-ইয়া কামা-ইউনাক্কাস্‌ সাওবুল আব্‌ইয়াযু মিনাদ্‌ দানাস, আল্ল-হুম্মাগ সিল্‌নী মিন খত্বা-ইয়া-ইয়া বিস্‌সাল্‌জি ওয়াল মা-য়ি ওয়াল মা-য়ি ওয়াল বারাদ” [অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমার ও আমার পাপের মাঝে এতটা দূরত্ব সৃষ্টি করে দাও পশ্চিম ও পূর্বের মধ্যে তুমি যে পরিমাণ দূরত্ব রেখেছ। হে আল্লাহ! আমাকে আমার পাপ থেকে এমনভাবে পরিষ্কার করে দাও যেমনভাবে সাদা কাপড় থেকে ময়লা পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ! তুমি আমার পাপসমূহ বরফ, পানি ও তুষারের শুভ্রতা দ্বারা ধুয়ে পরিষ্কার করে দাও।

[ই.ফা.১২৩০, ইসলামিক সেন্টার-১২৪২]

১২৪২. উমরাহ্‌ ইবনি ক্বাক্বা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

একই সানাদে জারীর কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।

[ই.ফা.১২৩১, ইসলামিক সেন্টার-১২৪৩]

১২৪৩. ঈমাম মুসলিম হইতে বর্ণীতঃ

ইয়াহ্‌ইয়া ইবনি হাস্‌সান এবং ইউনুস আল মুআদ্‌দিব ও অন্যান্য আবদুল ওয়াহিদ ইবনি যিয়াদ ও উমারাহ্‌ ইবনি ক্বাক্বা – এর মাধ্যমে আবু যুরআহ্‌ থেকে আমার কাছে বর্ণনা করা হয়েছে। আবু যুরআহ্‌ বলেছেন, আমি আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] – কে বলিতে শুনেছিঃ নামাজে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] দ্বিতীয় রাকআত শেষে উঠে দাঁড়িয়ে

 الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ‏

“আল হাম্‌দুলিল্লা-হি রাব্বিল আ-লামীন” বলে শুরু করিতেন। চুপ থাকতেন না [অর্থাৎ- দ্বিতীয় রাআত থেকে উঠা এবং সুরা ফা-তিহাহ্‌ পাঠের মাঝখানে কোন বিরতি থাকত না]।

[ই.ফা.১২৩১, ইসলামিক সেন্টার-১২৪৪]

১২৪৪. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি এসে নামাজের ক্বাতারে ঢুকে পড়ল। তখন সে হাঁপাতে ছিল। এ অবস্থায় সে বলে উঠল-

الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ

“আল হাম্‌দুলিল্লা-হি হামদান্‌ কাসীরান ত্বইয়্যিবাম্‌ মুবা-রকান ফীহ” [অর্থাৎ- সব প্রশংসাই মহান আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট। তাহাঁর অনেক অনেক প্রশংসা যা পবিত্র কল্যাণময়।] নামাজ শেষ করে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] জিজ্ঞেস করলেনঃ কথাগুলো কে বলেছ? তখন সবাই চুপ করে রইল। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেনঃ ঐ কথাগুলো যে বলেছে সে তো কোন খারাপ কথা বলেনি। তখন জনৈক ব্যক্তি বলে উঠলঃ আমি এসে যখন নামাজে শরীক হই তখন আমি হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। তাই আমি এ কথাগুলো বলেছি। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ আমি দেখলাম, বারোজন মালায়িকাহ্‌ ঐ কথাগুলোকে আগে উঠিয়ে নেয়ার জন্য পরস্পর প্রতিযোগিতা করছে।

[ই.ফা.১২৩২, ইসলামিক সেন্টার-১২৪৫]

১২৪৫. আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদিন আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] – এর নামাজ আদায় করেছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি বলে উঠলঃ

اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا وَسُبْحَانَ اللَّهِ بُكْرَةً وَأَصِيلاً 

“আল্ল-হু আকবার কাবীরা-ওয়াল হাম্‌দুলিল্লা-হ কাসীরা-ওয়া সুবহা-নাল্ল-হি বুকরাতান্‌ ওয়া আসীলা-” [অর্থাৎ- আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, বড়। সব প্রশংসা আল্লাহর। আর সকাল ও সন্ধ্যায় তারই পবিত্রতা বর্ণনা করিতে হইবে।] [নামাজ শেষে] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] জিজ্ঞেস করিলেন, এ কথাগুলো কে বলিল? সবার মধ্যে থেকে জনৈক ব্যক্তি বল্লঃ হে আল্লাহর রসূল আমি ঐ কথাগুলো বলেছি। তখন রসূল্লুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, কথাগুলো আমার কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছে। কারণ কথাগুলোর জন্য আসমানের দরজা খুলে দেয়া হয়েছিল। আবদুল্লাহ ইবনি উমর বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে এ কথাগুলো বলিতে শোনার পর থেকে তাহাঁর ওপর আমাল করা কখনো ছাড়িনি।

[ই.ফা.১২৩৩, ইসলামিক সেন্টার-১২৪৫]


Posted

in

by

Comments

Leave a Reply