কোরআনের আয়াত । বিশেষ বিশেষ সূরা পাঠের নিয়ম

কোরআনের আয়াত । বিশেষ বিশেষ সূরা পাঠের নিয়ম

কোরআনের আয়াত । বিশেষ বিশেষ সূরা পাঠের নিয়ম , এই অধ্যায়ে মোট ২৩ টি হাদীস (২৯২৭-২৯৪৯) >> সুনান তিরমিজি শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায়-৪৩ঃ ক্বিরাআত, অনুচ্ছেদঃ (১-১৩)=১৩টি

১. অনুচ্ছেদঃ সূরা ফাতিহা পাঠের নিয়ম
২. অনুচ্ছেদঃ সূরা হূদ পাঠের নিয়ম
৩. অনুচ্ছেদঃ সূরা কাহ্‌ফ
৪. অনুচ্ছেদঃ সূরা আর-রূম
৫. অনুচ্ছেদঃ সূরা আল ক্বামার
৬. অনুচ্ছেদঃ সূরা আল ওয়াক্বিয়াহ্
৭. অনুচ্ছেদঃ সূরা আল-লাইল
৮. অনুচ্ছেদঃ সূরা আয-যারিয়াত
৯. অনুচ্ছেদঃ সূরা আল-হজ্জ
১০. অনুচ্ছেদঃ [কুরআন উটের চেয়েও দ্রুত পলায়নপর]
১১. অনুচ্ছেদঃ সাত রীতিতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে
১৩. অনুচ্ছেদঃ [কুরআন খতমের সময়সীমা]

১. অনুচ্ছেদঃ সূরা ফাতিহা পাঠের নিয়ম

২৯২৭. উম্মু সালামাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] প্রতিটি শব্দ আলাদা আলাদাভাবে উচ্চারণ করে ক্বিরাআত পাঠ করিতেন। তিনি পাঠ করিতেন

الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন”, তারপর বিরতি দিতেন; তারপর পাঠ করিতেনঃ

لرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ‏

“আর-রাহমানির রাহীম”, তারপর বিরতি দিয়ে আবার পাঠ করিতেনঃ

‏مَلِكِ يَوْمِ الدِّينِ

“মালিকি ইয়াওমিদ্দীন”

সহীহঃ ইরওয়াহ্‌ [৩৪৩], মিশকাত [২২০৫], সিফাতুস নামাজ, মুখতাসার শামা-য়িল [২৭০]। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব । আবু উবাইদও “মালিকি ইয়াওমিদ্দীন” [মালিকি-এর মীমে আলিফবিহীন] পাঠ করিতেন এবং তিনি এ কিরাআতই গ্রহণ করিয়াছেন । ইয়াহ্‌ইয়া ইবনি সাঈদ আল-উমাবী প্রমুখ ইবনি জুরাইজ হইতে, তিনি ইবনি আবী মুলাইকাহ্‌ হইতে, তিনি উম্মু সালামাহ্‌ [রাদি.] হইতে এই সূত্রে এরূপই বর্ণনা করিয়াছেন । কিন্তু সনদসূত্র পরস্পর সংযুক্ত [মুত্তাসিল] নয় । কেননা লাইস ইবনি সাদ [রঃ] এ হাদীসটি ইবনি আবী মুলাইকাহ্‌ হইতে, তিনি ইয়ালা ইবনি মামলাক হইতে, তিনি উম্মু সালামাহ্‌ [রাদি.] সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন । তিনি বলেছেন যে, নাবী [সাঃআঃ] কিরাআতের প্রতিটি অক্ষর আলাদা আলাদাভাবে উচ্চারণ করিতেন । লাইসের রিওয়ায়াত অনেক বেশী সহীহ । তার রিওয়ায়াতে এ কথার উল্লেখ নেই যে, নাবী [সাঃআঃ] “মালিকি ইয়াওমিদ্দীন” [আলিফ বিহীন] পাঠ করিয়াছেন । কোরআনের আয়াত – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৯২৮. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ], আবু বকর, উমার এবং উসমান [রাদি.] তাঁরা প্রত্যেকেই পাঠ করিতেনঃ

‏مَلِكِ يَوْمِ الدِّينِ

“মালিকি ইয়াওমিদ্দীন” অর্থাৎ মীমের সাথে আলিফসহ মদ্দের সাথে পাঠ করিতেন।

আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। কোরআনের আয়াত – এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

২. অনুচ্ছেদঃ সূরা হূদ পাঠের নিয়ম

২৯৩০. মুআয ইবনি জাবাল [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]

‏هَلْ تَسْتَطِيعُ رَبَّكَ

“হাল তাসতাতীউ রব্বাকা” পড়েছেন।

আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র রিশদীন ইবনি সাদের সূত্রে এ হাদীস জেনেছি। এ হাদীসের সনদ তেমন মজবুত নয়। রিশদীন ইবনি সাদ ও আবদুর রহমান ইবনি যিয়াদ ইবনি আনউম আল-আফরীকী উভয়ে হাদীসশাস্ত্রে দুর্বল।কোরআনের আয়াত – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

২৯৩১. উম্মু সালামা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ]

‏إِنَّهُ عَمِلَ غَيْرَ صَالِحٍ

“ইন্নাহু আমিলা গাইরা সালিহীন” [আমিলা শব্দের মীমে যের] পাঠ করিয়াছেন।

সহীহঃ সহীহাহ [২৮০৯] আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সাবিত আল-বুনানীর সূত্রে একাধিক বর্ণনাকারী অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন । এটি সাবিত আল-বুনানীর রিওয়ায়াত । এ হাদীসটি শাহর ইবনি হাওশাব হইতে আসমা বিনতু ইয়াযীদ সূত্রেও বর্ণিত আছে । আবু ঈসা বলেন, আমি আব্‌দ ইবনি হুমাইদকে বলিতে শুনেছিঃ আসমা বিনতু ইয়াযীদ হলেন উম্মু সালামা আল-আনসারিয়্যা । আমার মতে উভয় হাদীস একই । শাহর ইবনি হাওশাব [রঃ] উক্ত উম্মু সালামা আল-আনসারিয়্যা হইতে এ হাদীস ব্যতীত আরো হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন । আয়িশাহ্‌ [রাদি.] সূত্রেও নাবী [সাঃআঃ] হইতে একই রকম হাদীস বর্ণিত আছে । কোরআনের আয়াত – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৯৩২. উম্মু সালামাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] নিম্নোক্ত আয়াত এভাবে পাঠ করেছেনঃ

‏إِنَّهُ عَمِلَ غَيْرَ صَالِحٍ

“ইন্নাহু আমিলা গাইরা সালিহীন”

সহীহঃ সহীহাহ্‌ [২৮০৯]। কোরআনের আয়াত – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩. অনুচ্ছেদঃ সূরা কাহ্‌ফ

২৯৩৩. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

উবাই ইবনি কাব [রাদি.] বলেছেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাশদীদ সহযোগে

‏بلغت مِنْ لَدُنِّي عُذْرًا‏

“কাব বাল্লাগতা মিল্লাদুন্নী উয্রা” পাঠ করিয়াছেন, বা এর মধ্যে তাশদীদ সহযোগে।

আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীস জেনেছি। উমাইয়্যা ইবনি খালিদ সিকাহ রাবী। আবুল জারিয়া আল-আবদী একজন অজ্ঞাত শাইখ। আমরা তার নাম জানি না। কোরআনের আয়াত – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

২৯৩৪. উবাই ইবনি কাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ]

‏في عين حمئة

“ফী আইনিন হামিআতিন” পাঠ করিয়াছেন।

আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব । আমরা এ হাদীসটি শুধু উপরোক্ত সূত্রেই জেনেছি । ইবনি আব্বাস [রাদি.] সূত্রে বর্ণিত ক্বিরাআতই সহীহ । বর্ণিত আছে যে, ইবনি আব্বাস ও আম্‌র ইবনিল আস [রাদি.] এ আয়াত পাঠে মতভেদ করিয়াছেন এবং বিষয়টি কাব আল-আহ্‌বার [রাদি.]-এর সামনে পেশ করিয়াছেন । তার নিকট নাবী [সাঃআঃ]-এর রিওয়ায়াত থাকলে তিনি সেটিকেই যথেষ্ট মনে করিতেন এবং কাব [রাদি.]-এর সামনে মীমাংসার জন্য পেশ করিতেন না । কোরআনের আয়াত – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪. অনুচ্ছেদঃ সূরা আর-রূম

২৯৩৫. আবু সাঈদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, বদরের যুদ্ধের সময় রোমবাসীর পারস্যবাসীদের উপর বিজয়ী হয়। এ সংবাদে মুসলিমগণ আনন্দিত হন। কারণ এই প্রসঙ্গে [ইতিপূর্বে] “আলিফ লাম মীম গুলাবাতির রূম….. ইয়াফরাহুল মুমিনূন” [সূরা আর-রূম ১-৪] আয়াত অবতীর্ণ হয়। তিনি বলেন, পারস্যবাসীদের উপর রোমীয়দের বিজয়ের কারণে মুসলিমগণ খুবই আনন্দিত হন।

সহীহঃ [৩১৯২] নং হাদীসে এর পুনরুল্লেখ আসবে। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং উপরোক্ত সূত্রে গারীব । “গালাবাত” ও গুলিবাত” উভয়রূপে পাঠ করা যায় । কথিত আছে যে, রোমীয়রা প্রথমে পরাজিত হয়েছিল এবং পরে বিজয়লাভ করে । নাস্‌র ইবনি আলী “গালাবাত” পাঠ করিতেন [কিন্তু প্রচলিত কিরাআত “গুলিবাত”] । কোরআনের আয়াত – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৯৩৬. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি নাবী [সাঃআঃ] এর সামনে পাঠ করিলেন

خَلَقَكُمْ مِنْ ضعْفٍ

খালাকাকুম মিন যাফিন”। নাবী [সাঃআঃ] বললেনঃ “যুফিন” হইবে।

হাসানঃ রাওযুন নাযীর [৫৩০]। আব্‌দ ইবনি হুমাইদ-ইয়াযীদ ইবনি হারূন হইতে, তিনি ফুযাইল ইবনি মারযূক [রঃ] হইতে তিনি আতিয়্যাহ্‌ হইতে, তিনি ইবনি উমর হইতে তিনি নাবী [সাঃআঃ] হইতে এই সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের মত বর্ণনা করিয়াছেন । আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব । আমরা এ হাদীসটি শুধু ফুযাইল ইবনি মারযূক সূত্রে জেনেছি । কোরআনের আয়াত – এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

৫. অনুচ্ছেদঃ সূরা আল ক্বামার

২৯৩৭. আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]

‏فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ

“ফাহাল মিন মুদ্দাকির” পাঠ করিতেন।

সহীহঃ বুখারী [৪৮৬৯, ৪৮৭৪], মুসলিম [২/২০৫, ২০৬]।আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ । কোরআনের আয়াত – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৬. অনুচ্ছেদঃ সূরা আল ওয়াক্বিয়াহ্

২৯৩৮. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ]

‏فَروح وريحان وَجنة نَعيمٍ 

“ফারূহুন ওয়া রাইহানুন ওয়া জান্নাতু নাঈম” পাঠ করিতেন।

আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব । আমরা এ হাদীসটি শুধু হারূন আল-আওয়ারের রিওয়ায়াত হিসাবেই জেনেছি । কোরআনের আয়াত – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৭. অনুচ্ছেদঃ সূরা আল-লাইল

২৯৩৯. আলক্বামাহ্ [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা সিরিয়ায় পৌঁছে আবুদ দারদা [রাদি.]-এর নিকট হাযির হলাম। তিনি প্রশ্ন করিলেন, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি যে আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদের কিরাআত পাঠ করিতে পারে? আলক্বামাহ্ বলেন, লোকেরা আমার দিকে ইশারা করে দেখালে আমি বললাম, হ্যাঁ আমি পারি। তিনি প্রশ্ন করিলেন, তুমি

والليل إِذا يغشى

“ওয়াল-লাইলি ইযা ইয়াগশা” আয়াতটি আবদুল্লাহকে কিভাবে তিলাওয়াত করিতে শুনেছ? আমি বললাম, আমি তাকে “ওয়াল-লাইলি ইযা ইয়াগশা ওয়ায-যাকারি ওয়াল-উনসা” এভাবে তিলাওয়াত করিতে শুনিয়াছি। আবুদ্ দারদা [রাদি.] বলিলেন, আল্লাহ তাআলার কসম! আমিও রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে এভাবেই তিলাওয়াত করিতে শুনিয়াছি। কিন্তু এসব লোক তো আমাকে “ওয়ামা খালাকায্-যাকারা ওয়াল-উন্‌সা” এভাবে পাঠ করাতে চাচ্ছে। আমি তাহাদের অনুসরণ করি না।

সহীহঃ বুখারী [৪৯৪৩, ৪৯৪৪], মুসলিম [২/২০৬] আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ । আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদ [রাদি.]-এর কিরাআত এরূপইঃ ওয়াল লাইলি ইযা- ইয়াগ্‌শা-, ওয়ান নাহারি ইযা- তাজাল্লা-, ওয়ায্‌যাকারি ওয়াল উন্‌সা । কোরআনের আয়াত – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৮. অনুচ্ছেদঃ সূরা আয-যারিয়াত

২৯৪০. আবদুল্লাহ্‌ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নিম্নোক্ত আয়াতটি রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে এভাবে পড়িয়েছেনঃ

‏ إِنِّي أَنَا الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ

“ইনী আনার-রায্‌যাকু যুল কুওয়্যাতিল মাতীন”।

মতন সহীহ। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ । কোরআনের আয়াত – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৯. অনুচ্ছেদঃ সূরা আল-হজ্জ

২৯৪১. ইমরান ইবনি হুসাইন [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] পাঠ করিয়াছেন

‏وَتَرَى النَّاسَ سُكَارَى وَمَا هُمْ بِسُكَارَى 

“ওয়া তারান-নাসা সুকারা, ওয়ামাহুম বিসুকারা”।

সহীহঃ বুখারী [৪৭৪১], মুসলিম [১/১৩৯-১৪০]। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান । আনাস [রাদি.] ও আবুত তুফাইল [রাদি.] ব্যতীত নাবী [সাঃআঃ] এর অন্য কোন সাহাবী হইতে ক্বাতাদাহ্‌ কিছু শুনেছেন বলে আমাদের জানা নেই । এটা আমার মতে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা । ক্বাতাদাহ্‌ হাসান হইতে তিনি ইমরান ইবনি হুসাইন হইতে এই সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা এক সফরে নাবী [সাঃআঃ] এর সাথে ছিলাম । তিনি “ইয়া আইয়্যুহান-নাসুত্তাকূ রব্বাকুম” পাঠ করেন । হাদীসটি অনেক লম্বা । এখানে সংক্ষেপে পেশ করা হয়েছে । কোরআনের আয়াত – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১০. অনুচ্ছেদঃ [কুরআন উটের চেয়েও দ্রুত পলায়নপর]

২৯৪২. আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তাহাদের বা তোমাদের কারো এরূপ কথা বলা কতই না আপত্তিকরঃ “আমি কুরআনের অমুক অমুক আয়াত ভুলে গেছি। [বরং তার বলা উচিত যে,] তাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। তোমরা স্মরণ রাখার জন্য অনবরত কুরআন পাঠ করিবে। সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! উট যেভাবে রশি হইতে ছাড়া পেয়ে পালায়, এটা [কুরআন] মানুষের হৃদয় হইতে তার চাইতেও বেশি পলায়নপর।

সহীহঃ আয্‌যিলা-ল [৪২২], বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ । কোরআনের আয়াত – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১১. অনুচ্ছেদঃ সাত রীতিতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে

২৯৪৩. উমার ইবনিল খাত্তাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি একবার রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর জীবদ্দশায় হিশাম ইবনি হাকীম ইবনি হিযামের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন তিনি [নামাযে মধ্যে] সূরা আল-ফুরকান তিলাওয়াত করছিলেন। আমি মনোযোগ সহকারে তার তিলাওয়াত শুনলাম এবং লক্ষ্য করলাম যে, তিনি অনেকগুলো অক্ষর এমন নিয়মে তিলাওয়াত করিয়াছেন যে নিয়মে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে পড়ান নি। আমি তাকে নামাযের মধ্যেই জব্দ করিতে উদ্যত হলাম কিন্তু সালাম ফিরানো পর্যন্ত অবকাশ দিলাম। তিনি সালাম ফিরাতেই আমি তার চাদর তার গলায় পেচিয়ে ধরে প্রশ্ন করলাম, আমি আপনাকে যে [রীতিতে এ] সূরাটি পাঠ করিতে শুনলাম তা আপনাকে কে শিখিয়েছে? তিনি বললেনঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে [এরূপই] শিখিয়েছেন। আমি তাকে বললাম, আপনি মিথ্যা বলছেন। আল্লাহ্‌র কসম! আপনি যে সূরাটি পাঠ করিলেন, রসুলুল্লাহ[সাঃআঃ] নিজে আমাকে তা শিখিয়েছেন। তারপর আমি তাকে টেনে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট নিয়ে গেলাম এবং বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসুল! আপনি আমাকে সূরা আল-ফুরক্বান যেভাবে পাঠ করা শিখিয়েছেন, সেই সূরা তা হইতে ভিন্নভাবে আমি একে পাঠ করিতে শুনিয়াছি। নাবী [সাঃআঃ] বললেনঃ হে উমার! তাকে ছেড়ে দাও। হে হিশাম! তুমি সূরাটি পাঠ করে শুনাও। আমি যেভাবে তাকে তিলাওয়াত করিতে শুনিয়াছিলাম সেরূপেই তিনি তা তিলাওয়াত করিলেন। নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ এটা এইভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। তারপর নাবী [সাঃআঃ] আমাকে বললেনঃ হে উমার! তুমি তিলাওয়াত করে শুনাও। যেভাবে নাবী [সাঃআঃ] আমাকে পাঠ করিয়েছেন আমি সেভাবেই তা পাঠ করলাম। নাবী [সাঃআঃ] বললেনঃ এভাবেও এটা অবতীর্ণ হয়েছে। অতঃপর নাবী [সাঃআঃ] বলিলেন বস্তুত এ কুরআন সাত রীতিতে অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং যেভাবেই তোমাদের সহজ হয় সেভাবেই তা পাঠ করিবে।

সহীহঃ সহীহ আবু দাঊদ [১৩২৫], বুখারী [৪৯৯২], মুসলিম।আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ । এ হাদীস মালিক ইবনি আনাস [রঃ] যুহ্‌রী হইতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করিয়াছেন, কিন্তু তিনি তাতে মিসওয়ার ইবনি মাখারামার উল্লেখ করেননি । কোরআনের আয়াত – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৯৪৪. উবাই ইবনি কাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] জিবরীল [আঃ] এর সাক্ষাৎ পেয়ে বললেনঃ হে জিবরীল! আমি একটি নিরক্ষর উম্মাতের নিকট প্রেরিত হয়েছি। এদের মধ্যে প্রবীণ, বৃদ্ধ, কিশোর ও কিশোরী আছে এবং এমন লোকও আছে যে কখনো কোন লেখাপড়াই করেনি। তিনি বললেনঃ হে মুহাম্মাদ! কুরআন তো সাত রীতিতে অবতীর্ণ হয়েছে।

হাসান সহীহঃ আবু দাঊদ [১৩২৮]। উমার, হুযাইফা ইবনিল ইয়ামান, আবু হুরাইরাহ্‌, আবু আইয়ূব আনসারী [রাদি.]-এর এর স্ত্রী উম্মু আইয়ূব, সামুরাহ্‌, ইবনি আব্বাস ও আবু জুহাইম ইবনিল হারিস ইবনিস সিম্মা আম্‌র ইবনিল আস ও আবু বাক্‌রাহ্‌ [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে । আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ । এটি উবাই ইবনি কাব [রাদি.] হইতে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত আছে । কোরআনের আয়াত – এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান সহীহ ১২. অনুচেছদঃ [মুমিনের দোষ গোপন রাখা ও তাকে সাহায্য করা]

২৯৪৫. আবু হুরাইরাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেনঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ দুনিয়াতে যে লোক তার কোন ভাইয়ের একটি বিপদ দূর করিবে, ক্বিয়ামাতের দিবসে আল্লাহ তাআলা তার একটি বিপদ দূর করবেন। আর কোন মুসলিমের দোষ-ক্রুটি যে লোক গোপন রাখবে, আল্লাহ তাআলা ইহকালে ও পরকালে তার দোষ গোপন রাখবেন। কোন আভাবীর কষ্ট যে ব্যক্তি দূর করিবে, ইহকালে ও পরকালে তার কষ্ট আল্লাহ তাআলা দূর করবেন। ততক্ষন পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা বান্দার সহায়তা করিতে থাকেন যতক্ষন পর্যন্ত সে তার কোন ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে। যে লোক জ্ঞান অর্জনের পথে বের হয় আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। যখন কোন দল মসজিদে আল্লাহ তাআলার কিতাব তিলাওয়াত এবং তা নিয়ে পরস্পর আলোচনা করার উদ্দেশে একত্রিত হয়, তাহাদের উপর প্রশান্তি নাযিল হয়, [আল্লাহ তাআলার] রাহমাত তাহাদের ঢেকে ফেলে এবং ফেরেশতারা তাহাদের ঘিরে রাখে। কৃতকর্ম যাকে পিছিয়ে দেয় বংশ মর্যাদা তাকে অগ্রসর করিতে পারে না।

সহীহ ঃ ইবনি মা-জাহ [২২৫], মুসলিম। আবু ঈসা বলেন, একাধিক বর্ণনাকারী এভাবেই আমাশের সূত্রে–আবু সালিহ হইতে, তিনি আবু হুরাইরাহ্‌ [রাদি.] হইতে, তিনি নাবী [সাঃআঃ] হইতে অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন । আসবাত্ব ইবনি মুহাম্মাদ [রঃ] আমাশের সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি বলেন, আমার নিকট আবু সালিহ–আবু হুরাইরাহ্‌ [রাদি.] হইতে তিনি নাবী [সাঃআঃ] হইতে….তারপর এ হাদীসের কোন কোন অংশ বর্ণনা করেন । কোরআনের আয়াত – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৩. অনুচ্ছেদঃ [কুরআন খতমের সময়সীমা]

২৯৪৬. আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেনঃ আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমি কত দিনে কুরআন শেষ করব? তিনি বলেনঃ এক মাসে তা শেষ করিবে। আমি বললাম, আমি এর চাইতে বেশি পাঠ করিতে পারি [আরো কম দিনে শেষ করিতে পারি]। তিনি বললেনঃ তাহলে বিশ দিনে শেষ করিবে। আমি বললাম, আমি এর চাইতেও বেশি পাঠ করিতে পারি। তিনি বললেনঃ তাহলে পনের দিনে তা শেষ করিবে। আমি আবার বললাম, আমি এর চাইতেও কম সময়ে শেষ করিতে পারি। তিনি বললেনঃ তাহলে দশ দিনে তা শেষ করিবে। আমি আবার বললাম, আমি এর চাইতেও বেশি পাঠ করিতে পারি। তিনি বললেনঃ তাহলে পাঁচ দিনে তা শেষ করিবে। আমি আবার বললাম, আমি আরো বেশি পাঠ করিতে পারি। তিনি [রাবী] বলেন, এর চাইতে কম দিনে পাঠ করিতে তিনি আমাকে সম্মতি দেননি।

সনদ দুর্বল। নাসাঈতে ৫ দিনের উল্লেখ ব্যতীত অনুরূপ বর্ণনা আছে। সহীহ আবু দাউদ [১২৫৫], সহীহ বর্ণনা আছে তিনি তাকে বলেছেনঃ প্রতি তিন দিনে কুরআন পাঠ [শেষ] কর। সহীহ আবু দাউদ [১২৬০] আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। আবু বুরদা হইতে আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] সূত্রে বর্ণিত হাদীস হিসাবে একে গারীব বিবেচনা করা হয়। অন্য বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি তিনদিনের কমে কুরআন শেষ করে সে কুরআন বুঝেনি”। অধিকন্ত আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাঁকে বলেছেনঃ “তুমি চল্লিশ দিনে কুরআন শেষ করিবে”। ইসহাক ইবনি ইবরাহীম [রঃ] বলেনঃ এ হাদীসের কারণে আমরা কারো জন্য কুরআন শেষ করিতে ৪০ দিনের অধিক সময় লাগানো পছন্দ করি না। কিছু আলিমের মতে তিন দিনের কম সময়ে কুরআন শেষ করা সঙ্গত নয়। কারণ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর হাদীসে সর্বনিম্ন তিন দিনের কথা উল্লেখ আছে। কিছু সংখ্যক আলিম তিন দিনের কম সময়ে কুরআন শেষ করার সম্মতি দিয়েছেন। বর্ণিত আছে যে, উসমান ইবনি আফফান [রাদি.] বিতরের শেষ রাকআতে সম্পূর্ণ কুরআন শেষ করিতেন। আরো বর্ণিত আছে যে, সাঈদ ইবনি জুবাইর [রঃ] কাবা শরীফে এক রাকআতে সম্পূর্ণ কুরআন শেষ করিয়াছেন। তবে ধীরেসুস্থে সহীহশুদ্ধ করে কুরআন তিলাওয়াত করা সকল আলিমদের মতে বেশি পছন্দনীয়। কোরআনের আয়াত – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

২৯৪৭. আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] তাঁকে বলেনঃ তুমি চল্লিশ দিনে কুরআন পাঠ [শেষ] করিবে।

সহীহঃ সহীহ আবু দাঊদ [১২৬১], সহীহাহ্‌ [১৫১২]। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব । কিছু রাবী মামারের সূত্রে-সিমাক ইবনিল ফাযল হইতে, তিনি ওয়াহ্‌ব ইবনি মুনাব্বিহ [রঃ] হইতে বর্ণনা করেন যে, নাবী [সাঃআঃ] আবদুল্লাহ ইবনি আম্‌র [রাদি.]-কে চল্লিশ দিনে কুরআন পাঠ [শেষ] করার নির্দেশ দিয়েছেন । কোরআনের আয়াত – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৯৪৮. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি প্রশ্ন করিল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! কোন কাজ আল্লাহ্‌র কাছে বেশি পছন্দনীয়? তিনি বলেনঃ সাওয়ারী হইতে নেমেই পুনরায় সে সাওয়ার হয়। লোকটি প্রশ্ন করিল আল-হাল আল মুরতা হাল কি? তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি কুরআন শেষ করেই আবার প্রথম হইতে পাঠ করা শুরু করে দেয়।

আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই ইবনি আব্বাস [রাদি.]-এর রিওয়ায়াত হিসেবে এ হাদীস জেনেছি। মুহাম্মাদ ইবনি বাশশার-মুসলিম ইবনি ইবরাহীম হইতে তিনি সালিহ আল-মুররী হইতে তিনি কাতাদা হইতে তিনি যুরারা ইবনি আওফা [রাদি.] হইতে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] সূত্রে উক্ত মর্মে একই রকম হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। এই সূত্রে ইবনি আব্বাস [রাদি.]-এর উল্লেখ নেই। আবু ঈসা বলেনঃ আমার মতে নাসর ইবনি আলী-আল-হাইসাম ইবনির রাবী [রঃ] সূত্রে বর্ণিত হাদীস অপেক্ষায় উপরোক্ত সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াতটি অনেক বেশি সহীহ। কোরআনের আয়াত – এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

২৯৪৯. আবদুল্লাহ ইবনি আম্‌র [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তিন দিনের কম সময়ে যে লোক কুরআন পাঠ করিল সে কুরআনের কিছুই বুঝেনি।

সহীহঃ সহীহ আবু দাঊদ [১২৬০], মিশকাত [২২০১], সহীহাহ্‌ [১৫১৩]| আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ । মুহাম্মাদ ইবনি বাশশার-মুহাম্মাদ ইবনি জাফার হইতে, তিনি শুবাহ্‌ [রঃ] সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করিয়াছেন । কোরআনের আয়াত – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস


Posted

in

by

Comments

One response to “কোরআনের আয়াত । বিশেষ বিশেষ সূরা পাঠের নিয়ম”

Leave a Reply