নতুন লেখা

Muslim Sharif pdf – লিআন সম্পর্কে অধ্যায়

Muslim Sharif pdf – লিআন সম্পর্কে অধ্যায়

Muslim Sharif pdf – লিআন সম্পর্কে অধ্যা

পর্বঃ ২০, লিআন, অধ্যায়ঃ১টি

১. অধ্যায়ঃ লিআন সম্পর্কে

৩৬৩৫ঃ সাহ্‌ল ইবনি সাদ ইবনি সাদ সাইদী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

উওয়াইমির আল-আজলানী [রাযীঃ] আসিম ইবনি আদী আনসারী [রাযীঃ]-এর কাছে এসে তাকে বলিলেন, হে আসিম! যদি কেউ তার স্ত্রীর সাথে অন্য কোন পুরুষকে [ব্যভিচারে লিপ্ত]পায়; তবে তোমার অভিমত কী? সে কি তাকে হত্যা করিবে? আর তখন তো তোমরা তাকে [কিসাস হিসেবে] হত্যা করিবে। যদি তা না হয় তবে সে কী করিবে? হে আসিম! তুমি আমার জন্য এ বিষয়ে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- কে জিজ্ঞেস কর।

তখন আসিম রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- কে জিজ্ঞেস করিলেন। কিন্তু রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এ রকম প্রশ্ন করা অপছন্দ করিলেন এবং এটি দূষণীয় মনে করিলেন {২}। আসিম রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]। এর নিকট যা শুনলেন এতে বড়ই দুঃখিত হলেন। যখন আসিম ফিরে এলেন, তখন উওয়াইমির তার কাছে এসে বললেনঃ হে আসিম! রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তোমাকে কী বলেছেন? আসিম উওয়াইমিরকে বললেনঃ তুমি আমার কাছে ভাল কাজ নিয়ে আসনি। তুমি যে বিষয়ে জিজ্ঞেস করিতে বলেছ তা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] খুবই অপছন্দ করিয়াছেন। উওয়াইমির [রাদি.] বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস না করে ক্ষান্ত হব না। তখন উওয়াইমির গেলেন এবং লোক সমাবেশে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- এর কাছে গিয়ে তাঁকে বলিলেন, হে আল্লাহর রসূল! যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সঙ্গে অন্য কোন পুরুষকে [ব্যভিচারে লিপ্ত] দেখিতে পায় তাহলে সে–কি তাকে হত্যা করে ফেলবে? এরপর তো [কিসাস হিসেবে] আপনারা তাকে হত্যা করে ফেলবেন। অথবা সে কী করিবে? তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তোমার স্ত্রীর ব্যাপারে আল্লাহর হুকুম নাযিল হয়েছে। তুমি যাও, তোমার স্ত্রীকে নিয়ে এসো। সাহল বললেনঃ এরপর তারা উভয়ে [স্বামী-স্ত্রী] লিআন করলো। আর আমিও তখন লোকজনদের সাথে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর নিকট হাযির ছিলাম। যখন লিআন সমাধা করিলেন তখন উওয়াইমির বললেনঃ হে আল্লাহ্‌র রসূল! যদি আমি তাকে আমার স্ত্রী হিসেবে রেখে দেই তাহলে তো আমি তার উপর মিথ্যারোপকারী হয়ে গেলাম। রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] তাকে নির্দেশ দেয়ার আগেই তিনি তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিলেন। ইবনি শিহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, তখন থেকে লিআনকারীদের জন্য এটাই নিয়ম-বিধান হিসেবে পরিণত হল। [ই.ফা.৩৬০১, ৪র্থ খন্ড; ইসলামিক সেন্টার-৩৬০১, ৫ম খন্ড]

{২} লিআন বিষয়ক প্রশ্নটি রসূলুল্লাহ [সাঃ] অপছন্দনীয় ও দূষণীয় মনে করিয়াছেন এ কারণে যে, এমনতর অশ্লীল ঘটনা ইতোপূর্বে ঘটেনি- [সহীহ মুসলিম, শারহে নাবাবী ১/৪৮৮ পৃঃ]। এটি মুসলিমদের জন্য বদনাম এবং কাফিরদের জন্য খুশীর সংবাদ।

৩৬৩৬ঃ সাহ্‌ল ইবনি সাদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আজলান গোত্রের উওয়াইমির আনসারী আসিম ইবনি আদীর কাছে এলেন … পরবর্তী অংশ মালিক বর্ণিত হাদীসের মত বর্ণনা করেন। তিনি তার হাদীসে এ কথাও বলেছেন, “উওয়াইমির তার স্ত্রীকে আলাদা করে দেয়াতে পরবর্তীতে লিআনকারীদ্বয়ের জন্য তা বিধানরূপে পরিগণিত হল। তিনি তার বর্ণনায় আরও উল্লেখ করিয়াছেন, “সাহল বলেছেন- সে মহিলাটি ছিল গর্ভবতী। সে গর্ভজাত সন্তানটিকে পরবর্তীতে তার মায়ের দিকে সম্বন্ধ করে ডাকা হয়। এরপর এ বিধান প্রবর্তিত হলো যে, সে তার মায়ের ওয়ারিস পাবে এবং তার মা আল্লাহর নির্ধারিত অংশ হিসেবে তার [সন্তান] থেকে মিরাসের অধিকারী হইবে। [ই.ফা.৩৬০২, ইসলামিক সেন্টার-৩৬০২]

৩৬৩৭ঃ ইবনি জুরায়জ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেনঃ আমাকে ইবনি শিহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বানু সাইদাহ্‌ গোত্রের ইবনি সাদ বর্ণিত দুজন লিআনকারী ও তার বিধান সম্পর্কে অবহিত করিয়াছেন। তিনি [সাহল] বলেনঃ জনৈক আনসারী নবী [সাঃআঃ]-এর কাছে এলেন এবং বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! যদি কোন লোক তার স্ত্রীর সঙ্গে [ব্যভিচাররত] অন্য কোন পুরুষকে দেখিতে পায় তাহলে সে সম্পর্কে আপনার মতামত কী? এরপর পুরো ঘটনাসহ হাদীস বর্ণনা করেন। এতে বাড়তি বর্ণনা করেন যে, [স্বামী-স্ত্রী] উভয়ে মাসজিদের ভেতর লিআন করিল আর আমি উপস্থিত ছিলাম। আর তিনি এ হাদীসে বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]তাকে কোন নির্দেশ দেয়ার তিনি তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়ে নবী [সাঃআঃ]-এর সম্মুখেই তাকে আলাদা করে দেন।তখন নবী [সাঃআঃ] বললেনঃ এ উভয় লিআনকারীর মাঝখানে বিচ্ছেদ। {৩} [ই.ফা.৩৬০৩, ইসলামিক সেন্টার-৩৬০৩]

{৩} জমহুর উলামার মতে রসূলুল্লাহ [সাঃ]-এর এ কথার অর্থ হলো লিআনকারী স্বামী হইতে স্থায়ী বিচ্ছেদ লিআনের মাধ্যমেই হয়ে যায়।[সহীহ মুসলিম শারহে নাবাবী ১/৪৮৯ পৃঃ]

৩৬৩৮ঃ সাঈদ ইবনি জুবায়র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মুসআবের স্ত্রীর ব্যাপারে আমাকে লিআনকারী দুজনের মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, তাদের আলাদা করা হইবে কি না। তিনি বলেনঃ তখন আমি কী বলব তা আমি বুঝতে পারছিলাম না। এরপর আমি মাক্কায় ইবনি উমর [রাদি.]-এর বাসায় গেলাম। আমি তাহাঁর গোলামকে বললাম, আমার জন্য অনুমতি নিয়ে এসো। সে বললঃ তিনি এখন বিশ্রাম নিচ্ছেন। কিন্তু তিনি আমার কন্ঠস্বর শুনতে পেলেন। তিনি বললেনঃ ইবনি জুবায়র? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ ভিতরে এসো। আল্লাহ্‌র কসম! বিশেষ প্রয়োজনই এ সময় তোমাকে নিয়ে এসেছে। আমি ভিতরে গিয়ে দেখিতে পেলাম তিনি একটি বিছিয়ে একটি বালিশের উপর হেলান দিয়ে আছেন। বালিশটি খেজুর ছোবড়ায় ভরা ছিল। আমি বললামঃ হে আবু আবদুর রহমান! দুজন লিআনকারী- এদেরকে কি পৃথক করা হইবে? তিনি বললেনঃ সুবহানাল্লাহ্‌! হ্যাঁ। সর্বপ্রথম এ বিষয়ে অমুকের পুত্র অমুক জিজ্ঞেস করেছিল। সে বলেছিলঃ হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি কী বলেন, যদি আমাদের মধ্যে কেউ তার স্ত্রীকে অপকর্মে লিপ্ত দেখিতে পায় তাহলে সে কী করিবে? যদি সে বলাবলি করে তাহলে তো গুরুতর আকার ধারণ করিবে। যদি সে নীরব থাকে, তাহলে এমন সাংঘাতিক বিষয়ে কি করে নীরব থাকিবে। তিনি বলেনঃ তখন নবী [সাঃআঃ] চুপ রইলেন; কোন উত্তর দিলেন না। সে ব্যক্তি আবার তাহাঁর কাছে এসে বললঃ হে আল্লাহ্‌র রসূল!যে বিষয়টি সম্পর্কে ইতোপুর্বে আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম আমার নিজের উপরই তা ঘটছে। তখন আল্লাহ তাআলা সূরা আন-নূর-এর এ আয়াতগুলো নাযিল করেন- “আর যারা তাদের স্ত্রীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে অথচ তারা নিজেরা ছাড়া তাদের কোন সাক্ষী নেই- তাদের প্রত্যেকের সাক্ষ্যের পদ্ধতি হইবে এই যে, সে চারবার আল্লাহর নামে শপথ করে বলবে, সে অবশ্যি সত্যবাদী এবং পঞ্চমবারে বলবে, সে মিথ্যাবাদী হলে তার উপর আল্লাহর লানাত বর্ষিত হইবে। আর স্ত্রীর শাস্তি বাতিল করা হইবে যদি সে চারবার আল্লাহর নামে কসম করে সাক্ষ্য দেয় যে, তার স্বামীই মিথ্যাবাদী এবং পঞ্চমবারে বলবে , তার স্বামী যদি সত্যবাদী হয় তবে নিজের উপর নেমে আসবে আল্লাহর গযব” – [সূরা আন্‌-নূর ২৪ ; ৬-৯]। আর-বী.

তিনি তাকে এ আয়াতগুলো তিলাওয়াত করে শোনালেন। এরপর তাকে নসীহত করিলেন এবং স্মরণ করিয়ে দিলেন যে, দুনিয়ার শাস্তি আখিরাতের শাস্তির তুলনায় সহজ। সে বলিল, না। সে মহান সত্তার কসম- যিনি আপনাকে নবী হিসেবে সত্যসহ প্রেরণ করিয়াছেন, আমি তার [আমার স্ত্রীর] উপর কোন মিথ্যা আরোপ করিনি। এরপর তিনি মহিলাকে ডেকে পাঠালেন এবং তাকে উপদেশ দিলেন, তাকে আখিরাতের ভয় দেখালেন, সর্বোপরি তাকে জানিয়ে দিলেন যে, দুনিয়ার শাস্তি আখিরাতের শাস্তির তুলনাত সহজতর। সে বলিল, না, সে মহান সত্তার কসম- যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করিয়াছেন, নিশ্চয়ই সে মিথ্যাবাদী। এরপর তিনি পুরুষ লোকটির দ্বারা লিআন বাক্য পাঠ করাতে শুরু করিলেন। তখন সে চারবার আল্লাহর নামে কসম করে সাক্ষ্য দিল যে, সে তার কথা সত্যবাদী। পঞ্চমবারে সে বলিল, যদি সে মিথ্যাবাদী হয় তাহলে তার উপর আল্লাহর লানাত নেমে আসুক। এরপর তিনি [নবী সাঃ] স্ত্রীলোকটিকে ডেকে পাঠালেন। সেও আল্লাহর নামে শপথ করে চারবার সাক্ষ্য দিল যে, সে [স্বামী] মিথ্যাবাদী। পঞ্চমবারে সে বলিল, যদি সে [তার স্বামী] সত্যবাদী হয় তাহলে তার [মহিলার] উপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক। তখন নবী [সাঃআঃ] তাদের উভয়কে বিচ্ছিন্ন করে দিলেন। [ই.ফা.৩৬০৪, ইসলামিক সেন্টার-৩৬০৪]

৩৬৩৯ঃ সাঈদ ইবনূ জুবায়র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

মুসআব ইবনি যুবায়র [রাদি.]-এর শাসনামলে দুজন লিআনকারী সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞেস করা হলে আমি ভেবে পাচ্ছিলাম না কী উত্তর দেব। তখন আবদুল্লাহ্ ইবনি উমর [রাদি.]-এর কাছে এলাম এবং সে দুজন লিআনকারী সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাইলামঃ তাদের বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে আপনার মত কী? এরপর তিনি ইবনি নুমায়র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]- এর হাদীসের মতই বর্ণনা করেন। [ই.ফা.৩৬০৫, ইসলামিক সেন্টার-৩৬০৫]

৩৬৪০

ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ দুজন লিআনকারীর [লিআন বাক্য পাঠের ব্যাপারে] তোমাদের দুজনের হিসাব আল্লাহর দায়িত্বে। তোমাদের দুজনের একজন অবশ্যই মিথ্যাবাদী। আর তোমার [স্ত্রীর] উপর তোমার কোন করণীয় নেই। লোকটি বলিল, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমার অর্থের [প্রদত্ত মাহর] কী হইবে। তিনি বললেনঃ তুমি তোমার অর্থ পাবে না। যদি তুমি তার ব্যাপারে সত্যবাদী হও তাহলে তোমার দেয়া সম্পদ ঐ বস্তুর বদলা বলে গণ্য হইবে যা দ্বারা তুমি তার লজ্জাস্থান হালাল করেছ। আর যদি তুমি তার উপর মিথ্যা অপবাদ দিয়ে থাক তাহলে তার থেকে মাল ফেরত পাওয়া দুরহ ব্যাপার।

যুহায়র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তার বর্ণনায় বলেছেন যে, সুফ্‌ইয়ান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সাঈদ ইবনি জুবায়র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর সূত্রে ইবনি উমর [রাদি.]-কে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] থেকে বলিতে শুনেছি। [ই.ফা.৩৬০৬, ইসলামিক সেন্টার-৩৬০৬]

৩৬৪১ঃ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেনঃ বানী আজলান গোত্রের দুজনকে [স্বামী-স্ত্রী] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বিচ্ছিন্ন করে দিলেন। এরপর তিনি বললেনঃ আল্লাহ ভালভাবেই জানেন যে, নিশ্চয়ই তোমাদের দুজনের মধ্যে একজন মিথ্যাবাদী। অতএব তোমাদের কেউ কি তাওবাহ্‌ করিতে আগ্রহী? [ই.ফা.৩৬০৭, ইসলামিক সেন্টার-৩৬০৭]

৩৬৪২ঃ সাঈদ ইবনি জুবায়র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আমি লিআন সম্পর্কে ইবনি উমর [রাদি.]-কে প্রশ্ন করলাম। তিনি নবী [সাঃআঃ] থেকে অনুরূপ বর্ণনা করিলেন। [ই.ফা.৩৬০৮, ইসলামিক সেন্টার-৩৬০৮]

৩৬৪৩ঃ সাঈদ ইবনি জুবায়র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মুসআব [ইবনি যুবায়র] [রাদি.] তার শাসনামলে লিআনকারীদের আলাদা করেননি। সাঈদ বলেনঃ এরপর বিষয়টি আমি আবদুল্লাহ্‌ ইবনি উমর [রাদি.]-এর কাছে উঠালাম। তখন তিনি বললেনঃ নবী [সাঃআঃ] বানূ আজলান গোত্রের দুজনকে [স্বামী-স্ত্রীকে] আলাদা করে দিয়েছিলেন। [ই.ফা.৩৬০৯, ইসলামিক সেন্টার-৩৬০৯]

৩৬৪৪ঃ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

কোন এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর জীবদ্দশায় তার স্ত্রীর উপর লিআন করেছিল। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাদের দুজনকে বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং সন্তানের বংশ পরিচিতি তার মায়ের সাথে জুড়ে দেন। রাবী ইয়াহ্‌ইয়া [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] মালিককে জিজ্ঞেস করিলেন, আপনাকে কি নাফি [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন? তিনি [মালিক] বলেন, হ্যাঁ। [ই.ফা.৩৬১০, ইসলামিক সেন্টার-৩৬১০]

৩৬৪৫ঃ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] একজন আনসারী পুরুষ ও তার স্ত্রীর মধ্যে লিআন করালেন এবং তাদের আলাদা করে দিলেন। [ই.ফা.৩৬১১, ইসলামিক সেন্টার-৩৬১১]

৩৬৪৬ঃ উবাইদুল্লাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

উক্ত সানাদে বর্ণনা করিয়াছেন। [ই.ফা.৩৬১২, ইসলামিক সেন্টার-৩৬১২]

৩৬৪৭ঃ আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন যে, আমি একবার জুমুআর রাতে মাসজিদে ছিলাম। তখন একজন আনসারী সেখানে উপস্থিত হলেন। তিনি বললেনঃ যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সঙ্গে অন্য কোন পুরুষকে দেখিতে পায়, সে যদি এ নিয়ে কথা বলে, তাহলে আপনারা তো তাকে [অপবাদদাতা হিসেবে] চাবুক লাগাবেন? অথবা সে যদি তাকে হত্যা করে ফেলে তাহলে তো আপনারা তাকে হত্যা করবেন [কিসাস হিসেবে]। যদি সে নীরব থাকে তাহলে তো তাকে সাংঘাতিক ক্রোধ [হযম] করে নীরব থাকতে হইবে। আল্লাহর কসম! আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করবই। পরদিন সে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে এসে প্রশ্ন করিল। সে বলিল, যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সঙ্গে কোন পুরুষকে [ব্যভিচারে লিপ্ত] দেখিতে পায় এবং সে এ নিয়ে কথা বলে তাহলে আপনারা তাকে হত্যা করে ফেলবেন। আর যদি নীরব থাকে তবে তো তাকে রাগ চেপে নীরব থাকতে হইবে। [সুতরাং তার উপায় কী?] তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] দুআ করলেনঃ ইয়া আল্লাহ! তুমি এর ফয়সালা দাও এবং তিনি দুআ করিতে লাগলেন। তখন লিআনের আয়াত অবতীর্ণ হলো-

‏ وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ شُهَدَاءُ إِلاَّ أَنْفُسُهُمْ

“ আর যারা তাদের স্ত্রীদের উপর অপবাদ দেয় অথচ তারা নিজেরা ছাড়া তাদের কোন সাক্ষী নেই”- এ আয়াতগুলো। [সূরা আন্‌-নূর ২৮ : ৬-৯] এরপর সে ব্যক্তি লোকজনের সামনে লিআনের পরীক্ষার মুখোমুখি হলো। তারপর সে তার স্ত্রীসহ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে এল এবং তারা উভয়ে লিআন করিল। লোকটি আল্লাহ্‌র নামে শপথ করে চারবার সাক্ষ্য দিল যে, সে সত্যবাদী। এরপর পঞ্চমবারে বলিল, সে যদি মিথ্যাবাদী হয় তাহলে তার উপরে আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক। এরপর মহিলাটি লিআনের জন্য এগিয়ে এলো। নবী [সাঃআঃ] তাকে বললেনঃ থাম [যদি তোমার স্বামীর উক্তি সত্য হয়ে থাকে তাহলে তুমি তা স্বীকার করে নাও]। কিন্তু সে অস্বীকার করিল এবং লিআন করে ফেলল। যখন তারা দুজন ফিরে যাচ্ছিল তখন [নবী সাঃ] বললেনঃ সম্ভবত এ মহিলা কালো কোঁকড়া চুলবিশিষ্ট সন্তান প্রসব করিবে। অবশেষে তার গর্ভে কালো কোঁকড়া চুলবিশিষ্ট সন্তানই জন্ম নিয়েছিল। [ই.ফা.৩৬১৩, ইসলামিক সেন্টার-৩৬১৩]

৩৬৪৮

আমাশ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

এ একই সানাদে অনুরূপ বর্ণিত আছে। [ই.ফা.৩৬১২, ইসলামিক সেন্টার-৩৬১]

৩৬৪৯

মুহাম্মাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন যে, আমি একটি বিষয়ে আনাস ইবনি মালিক [রাদি.]-কে জিজ্ঞেস করলাম। আমার ধারণা ছিল যে, আমি যা জানতে চাই সে বিষয়ের জ্ঞান তার কাছে আছে। আনাস [রাদি.] বলেনঃ হিলাল ইবনি উমাইয়্যাহ্‌ [রাদি.] শারীক ইবনি সাহমার সাথে তার স্ত্রীর সম্পর্কে যিনার অভিযোগ আনলেন। তিনি ছিলেন বারা ইবনি মালিকের বৈপিত্রেয় ভাই। ইসলামে ইনিই সর্বপ্রথম লিআন করেন। রাবী বলেনঃ তিনি তার স্ত্রীর সঙ্গে লিআন সমাধা করিলেন। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তোমার ঐ মহিলার প্রতি নযর রাখবে। যদি সে সোজা চুলধারী উজ্জ্বল বর্ণের লাল চোখ বিশিষ্ট সন্তান প্রসব করে তাহলে সে হিলাল ইবনি উমায়্যার ঔরষজাত সন্তান। আর যদি সে [মহিলা] সুরমা চোখ বিশিষ্ট কোঁকড়ানো চুল, পায়ের চিকন নলা বিশিষ্ট সন্তান প্রসব করে তাহলে সে শারীক ইবনি সাহমার সন্তান। রাবী আনাস [রাদি.] বলেনঃ আমি জানতে পারলাম যে, ঐ মহিলাটি সুরমা চোখ বিশিষ্ট কুঞ্চিত কেশধারী সরু নলা বিশিষ্ট সন্তান প্রসব করেছে। [ই.ফা.৩৬১৫, ইসলামিক সেন্টার-৩৬১৫]

৩৬৫০

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট লিআনের বিষয়টি আলোচিত হল। তখন আসিম ইবনি আদী [রাদি.] ঐ বিষয়ে কিছু কথা বলে ফিরে গেলেন। তখন তার গোত্রের একজন লোক তার কাছে এসে অভিযোগ করিল যে, সে তার স্ত্রীর সঙ্গে এক [অপরিচিত] লোককে দেখিতে পেয়েছে। তখন আসিম [রাদি.] বলিলেন, আমি আমার উক্তির [বক্তব্যের] কারণে এ বিপদে পড়লাম। তিনি তাঁকে নিয়ে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে এলেন। এরপর সে তাঁকে [রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে ] সে ব্যক্তি সম্পর্কে অবহিত করিল যাকে সে তার স্ত্রীর সঙ্গে দেখিতে পেয়েছিল। এ লোকটি [বর্ণনাদাতা] ছিল হলদে বর্ণ বিশিষ্ট হালকা-পাতলা ও সোজা চুলবিশিষ্ট। আর সে যাকে তার স্ত্রীর সঙ্গে দেখিতে পেয়েছিল সে ছিল সুঠাম দেহী, মোটা নলা ও বাদামী রং বিশিষ্ট। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ ইয়া আল্লাহ্‌! তুমি বিষয়টি ফায়সালা করে দাও। সে মহিলা এমন একটি সন্তান প্রসব করিল, যে ছিল ঐ লোকটির মত যাকে স্বামী তার সঙ্গে দেখিতে পেয়েছে বলে উল্লেখ করেছিল। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাদের দুজনের মধ্যে লিআন করালেন। তখন এক ব্যক্তি সে মজলিসেই ইবনি আব্বাস [রাদি.]-কে বললঃ এ কি সে মহিলা যার ব্যাপারে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছিলেন, “যদি আমি বিনা দলীলে কাউকে রজম [পাথর নিক্ষেপ] করতাম তবে একেই রজম করতাম।” তখন ইবনি আব্বাস [রাদি.] বললেনঃ না-সে ছিল অপর এক মহিলা যার অপকর্ম মুসলিমদের মাঝে প্রকাশিত ছিল। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৬১৬,ইসলামিক সেন্টার- ৩৬১৬]

৩৬৫১

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে দুজন লিআনকারীর প্রসঙ্গে আলোচনা করা হলো। পরবর্তী অংশ লায়সের হাদীসের মতই। অবশ্য এতে মাংসল উল্লেখ করার পর তিনি অতিরিক্ত বলেছেন, “সে ছিল কোঁকড়া চুলধারী।” [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৬১৭,ইসলামিক সেন্টার- ৩৬১৭]

৩৬৫২

আবদুল্লাহ্‌ ইবনি শাদ্দাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

ইবনি আব্বাস [রাদি.]-এর নিকটে দু লিআনকারীর বিষয় আলোচনা করা হলো। তখন ইবনি শাদ্দাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বললেনঃ এরা কি ঐ দুই ব্যক্তি যাদের সম্পর্কে নবী [সাঃআঃ] বলেছিলেনঃ আমি যদি কাউকে বিনা দলীলে রজম করতাম তবে ঐ মহিলাকে রজম করতাম। তখন ইবনি আব্বাস [রাদি.] বললেনঃ না , এ মহিলা সে নয়। সে ছিল অপর এক মহিলা যার ব্যাপার প্রকাশ্য ছিল। ইবনি আবী উমর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তার বর্ণনায় কাসিম ইবনি মুহাম্মদের সূত্রে বলেন, আমি ইবনি আব্বাসের কাছে শুনেছি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৬১৮, ইসলামিক সেন্টার- ৩৬১৮]

৩৬৫৩

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

সাদ ইবনি উবাদাহ্‌ আনসারী [রাদি.] বলেনঃ হে আল্লাহর রসূল! সে লোকটি সম্পর্কে আপনার মতামত কী যে তার স্ত্রীর সাথে অপর পুরুষকে পায়? সে কি তাকে হত্যা করে ফেলবে? রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ না। সাদ [রাদি.] বললেনঃ নিশ্চয় [সে তাকে হত্যা করিবে], সে সত্তার কসম! যিনি আপনাকে সত্য দ্বারা সম্মানিত করিয়াছেন। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তোমরা শোন; তোমাদের নেতা [সাদ] কী বলেছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৬১৯,ইসলামিক সেন্টার- ৩৬১৯]

৩৬৫৪

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

সাদ ইবনি উবাদাহ্‌ [রাদি.] বলেছেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি যদি আমার স্ত্রীর সঙ্গে কাউকে দেখিতে পাই তাহলে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করা পর্যন্ত আমি কি তাকে সুযোগ দেব? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৬২০, ইসলামিক সেন্টার- ৩৬২০]

৩৬৫৫

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেনঃ সাদ ইবনি উবাদাহ [রাদি.] বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! যদি আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে কোন পুরুষকে দেখিতে পাই তবে চারজন সাক্ষী উপস্থিত না করা পর্যন্ত আমি কি তাকে ধরব না? রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ হ্যাঁ, পারবে না। তিনি [সাদ] বললেনঃ এমনটি কিছুতেই হইতে পারে না, সে মহান সত্তার কসম! যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করিয়াছেন, অবশ্যি আমি তার [চারজন সাক্ষী উপস্থিত করার] আগেই কাল বিলম্ব না করে তার প্রতি তলোয়ার হানব। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তোমরা শোন, তোমাদের নেতা কী বলছেন। নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় আত্মমর্যাদার অধিকারী। আর আমি তার চাইতেও অধিকতর আত্মমর্যাদাশীল এবং আল্লাহ আমার চাইতেও অধিক মর্যাদাবান। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৬২১, ইসলামিক সেন্টার- ৩৬২১]

৩৬৫৬

মুগরীহ্‌ শুবাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেনঃ সাদ ইবনি উবাদাহ্‌ [রাদি.]বললেনঃ আমি যদি আমার স্ত্রীর সাথে অন্য কোন পুরুষকে দেখিতে পাই তবে নিশ্চয়ই আমি তাকে আমার তরবারীর ধারালো দিক দিয়ে তার উপর আঘাত হানব- পার্শ্ব দিয়ে নয়। এ কথা নবী [সাঃআঃ]-এর কাছে পৌছল। তিনি বললেনঃ তোমরা কি সাদের আত্মমর্যাদাবোধ সম্পর্কে আশ্চর্‍্য হয়েছ? আল্লাহ্‌র কসম! আমি তার চাইতে অধিকতর আত্মমর্যাদাবান। আর আল্লাহ আমার তুলনায় অধিকতর মর্যাদাবান। আল্লাহ তাহাঁর আত্মমর্যাদার কারণে প্রকাশ্য ও গোপন যাবতীয় অশ্লীল কর্ম হারাম করে দিয়েছেন। আর আল্লাহ্‌র তুলনায় অধিক আত্মমর্যাদাসপম্পন্ন কেউ নেই এবং আল্লাহর চাইতে অধিকতর ওযর [স্থাপন] পছন্দকারী কেউ নেই। {৪} এ কারণেই আল্লাহ তাহাঁর নবী-রসূলদের সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শনকারীরূপে পাঠিয়েছেন। আল্লাহ্‌র চাইতে অধিকতর প্রশংসা পছন্দকারী কেউ নেই। এ কারণে তিনি জান্নাতের ওয়াদা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৬২২, ইসলামিক সেন্টার- ৩৬২২]

{৪} আল্লাহ্‌র চেয়ে ওযর পছন্দকারী কেউ নেই। এখানে ওযর ক্ষমা করা ও সতর্ক করা অর্থে এসেছে। শাস্তির জন্য পাকড়াও করার পূর্বে আল্লাহ তাআলা রসূলদের সতর্ক করার জন্য প্রেরণ করিয়াছেন। [তাহকীকঃ সহীহ মুসলিম, ফুআদ আবদুল বাকী, ২য় খন্ড, ৫৭৪ পৃঃ]

৩৬৫৭

আবদুল মালিক ইবনি উমায়র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

এ সানাদে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে তিনি তার বর্ণনায় অনুরূপ তলোয়ারের পাস দিয়ে নয় শব্দটির উল্লেখ করিয়াছেন এবং তিনি তাত্থেকে শব্দটি বলেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৬২৩, ইসলামিক সেন্টার-৩৬২৩]

৩৬৫৮

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেনঃ বানূ ফাযারাহ্ গোত্রের এক ব্যক্তি নবী [সাঃআঃ] এর কাছে এলো। এরপর সে বলিল, আমার স্ত্রী একটি কালো সন্তান প্রসব করেছে [আমি তো কালো নই]। তখন নবী [সাঃআঃ] বললেনঃ তোমার নিকট কি কোন উট আছে? সেও বলিল হ্যাঁ, আমার উট আছে। তিনি বললেনঃ সেগুলোর রঙ কি রকম? সে বললঃ লাল রং এর। তিনি বললেনঃ তাতে মেটে রং এরও কি আছে? সে বললঃ হ্যাঁ, মেটে রং এর আছে। তিনি বললেনঃ এই মেটে রং কোত্থেকে এলো? সে বললঃ সম্ভবত তা পূর্ববর্তী বংশধারা থেকে নিয়ে এসেছে। তখন তিনি বললেনঃ তোমার এ কালো সন্তানটিও সম্ভবত পূর্ববর্তী বংশধারা থেকে এসেছে। [ই.ফা.৩৬২৪, ইসলামিক সেন্টার-৩৬২৪]

৩৬৫৯

যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

ইবনি উয়াইনাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] –এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। তবে মামার রহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণিত হাদিসে এতটুকু ব্যতিক্রম রয়েছে যে, “সে বলিল, হে আল্লাহর রসুল ! আমার স্ত্রী একটি কালো সন্তান প্রসব করেছে। এ উক্তি দ্বারা ঐ সময় সে তার পিতৃত্ব প্রত্যাখ্যানের দিকে ইঙ্গিত করেছিল। আর হাদিসের শেষ ভাগে এতোটুকু বাড়িয়ে বলেছেন, তারপর তিনি তাকে ঐ সন্তানের পিতৃত্ব প্রত্যাখ্যানের সুযোগ দেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৬২৫, ইসলামিক সেন্টার-৩৬২৫]

৩৬৬০

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

জনৈক বেদুঈন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর কাছে এসে বলিল হে আল্লাহর রাসুল! আমার স্ত্রী একটি কালো সন্তান প্রসব করেছে এবং তাকে আমি মেনে নিতে পারছিনা। তখন নবী [সাঃআঃ] তাকে বললেনঃ তোমার উট আছে কি? সে বলিল, আছে। তিনি বললেনঃ সেগুলো কোন রঙের? সে বললঃ লাল। তিনি বললেনঃ সেগুলোর মধ্যে কি মেটে [কালো] রং এর ও আছে? সে বলিল, হ্যাঁ। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ এ রং কিভাবে এলো? সে বললঃ সম্ভবত তার বংশধারার কোন শিকড় নিয়ে এসেছে। এরপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তোমার এই কালো সন্তানের ক্ষেত্রেও হয়ত সে তার পূর্ব পুরুষের কোন শিকড় নিয়ে এসেছে। {৫} [ই.ফা.৩৬২৬, ইসলামিক সেন্টার-৩৬২৬]

{৫} তার পূর্ব পুরুষদের কালো রঙ পেয়েছে।

৩৬৬১

ইবনি শিহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন আমাদের নিকট এ খবর পৌঁছেছে যে , আবু হুরাইয়াহ্ [রাদি.]রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] থেকে তাদের হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। [ই.ফা.৩৬২৭, ইসলামিক সেন্টার-৩৬২৭]

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে”

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে” মহান আল্লাহর …

Leave a Reply

%d bloggers like this: