নতুন লেখা

Draft3

৪/৩০. ফিতনার ভয় না থাকলে মহিলাদের মাসজিদে গমন এবং মহিলারা সুগন্ধি মেখে বাইরে যাবে না।

আল লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৫৩ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [সহিহ  বুখারী : পর্ব ৬৭ : /১১৬ হাদিছ ৫২৩৮, মুসলিম ৪/৩০ হাদিছ ৪৪২]

ইব্‌নু `উমার [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

ইব্‌নু `উমার [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন, যদি তোমাদের কারো স্ত্রী মাসজিদে যাবার অনুমতি চায়, তাহলে তাকে নিষেধ করো না।

আল লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৫৪ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ১১ : /১৩ হাদিছ ৯০০, মুসলিম ৪/৩০, হাদিছ ৪৪২]

ইব্‌নু `উমার [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

ইব্‌নু `উমার [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, `উমার [রাঃআঃ]-এর স্ত্রী [আতিকাহ্ বিনত যাযিদ] ফাজর ও `ইশার নামাজের জামা`আতে মাসজিদে হাযির হতেন। তাঁকে বলা হল, আপনি কেন [সালাতের জন্য] বের হন? অথচ আপনি জানেন যে, `উমার [রাঃআঃ] তা অপসন্দ করেন এবং মর্যাদা হানিকর মনে করেন। তিনি জবাব দিলেন, তা হলে এমন কি বাধা রয়েছে যে, `উমার [রাঃআঃ] স্বয়ং আমাকে নিষেধ করছেন না? বলা হয়, তাঁকে বাধা দেয় আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর বাণীঃ আল্লাহ্‌র বান্দিদের আল্লাহ্‌র মাসজিদে যেতে বারণ করো না।

আল লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৫৫ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ[বুখারী পর্ব ১০ : /১৬৩ হাদিছ ৮৬৯, মুসলিম ৪/৩০, হাদিছ ৪৪৫]

আয়িশাহ্ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

`আয়িশাহ্ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যদি আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম] জানতেন যে, নারীরা কি অবস্থা সৃষ্টি করেছে, তাহলে বনী ইসরাঈলের নারীদের যেমন বারণ করা হয়েছিল, তেমনি এদেরও মাসজিদে আসা নিষেধ করে দিতেন। [রাবী] ইয়াহ্ইয়া ইব্‌নু সা`ঈদ [রহ.] বলেন, আমি আমরাহ্ [রাঃআঃ]-কে জিজ্ঞেস করলাম, তাহাদের কি বারণ করা হয়েছিল? তিনি বলিলেন, হাঁ।

৪/৩১. উচ্চঃস্বরে কিরাআত বিশিষ্ট সলাতে উঁচু ও নিচুর মধ্যম অবস্থা অবলম্বন করা যদি উচ্চ আওয়াজে পড়লে ফাসাদের ভয় থাকে।

আল লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৫৬ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ৯৭ : /৩৪ হাদিছ ৭৪৯০, মুসলিম ৪/৩১ হাদিছ ৪৪৬]

ইব্‌নু `আব্বাস [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

ইব্‌নু `আব্বাস [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। তিনি কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতঃ

وَلاَ تَجْهَرْ بِصَلاتِكَ وَلاَ تُخَافِتْ بِهَا

“তুমি সলাতে স্বর উঁচু করিবে না এবং অতিশয় ক্ষীণও করিবে না….” [সূরাহহ ইসরা ১৭/১১০]। এর তাফসীরে তিনি বলেন, এ আয়াতটি তখন অবতীর্ণ হয়, যখন রাসূলুল্লাহ্‌ [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম] মাক্কায় লুক্কায়িত ছিলেন। সুতরাং যখন তিনি তাহাঁর স্বর উঁচু করিতেন তাতে মুশরিক্‌রা শুনে গালমন্দ করতো কুরআনকে, কুরআন অবতীর্ণকারীকে এবং যাঁর প্রতি কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে তাঁকে। এ প্রেক্ষিতে আল্লাহ্ বললেনঃ [হে নবী] তুমি সলাতে তোমার স্বর উঁচু করিবে না, যাতে মুশরিক্‌রা শুনতে পায়। আর তা অতিশয় ক্ষীণও করিবে না যাতে তোমার সঙ্গীরাও শুনতে না পায়। এই দু`য়ের মধ্যপথ অবলম্বন কর। তুমি স্বর উঁচু করিবে না, তারা শুনে মত পাঠ করিবে যেন তারা তোমার কাছ থেকে কুরআন শিখতে পারে।

৪/৩২. মনোযোগ সহকারে কিরাআত শ্রবণ।

আল লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৫৭ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ৬৫ : /৭৫ হাদিছ ৪৯২৯, মুসলিম ৪/৩২ হাদিছ ৪৪৮]

ইব্‌নু `আব্বাস [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

ইব্‌নু `আব্বাস [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। তিনি আল্লাহ্‌র বাণীঃ

لاَ تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ

এর ব্যাখ্যায় বলেন যে, জিব্‌রীল [`আলাইহি ওয়া সাল্লাম] যখন ওয়াহী নিয়ে আসতেন তখন রাসূল তাহাঁর জিহ্বা ও ঠোঁট দু`টো দ্রুত নাড়তেন। এটা তাহাঁর জন্য কষ্টকর হত এবং তাহাঁর চেহারা দেখেই বোঝা যেত। তাই আল্লাহ্ তা`আলা [আরবি] “তাড়াতাড়ি ওয়াহী আয়ত্ত করার জন্য তোমার জিহ্বা সঞ্চালন করিবে না; এ কুরআন সংরক্ষণ ও পাঠ করিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমারই” নাযিল করিলেন। এতে আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেনঃ এ কুরআনকে আপনার বক্ষে সংরক্ষণ করা ও পড়িয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমারই। সুতরাং আমি যখন তা পাঠ করি, তুমি সে পাঠের অনুসরণ কর, অর্থাৎ আমি যখন ওয়াহী নাযিল করি তখন তুমি মনোযোগ সহকারে শ্রবণ কর। অতঃপর এর বিশদ ব্যাখ্যার দায়িত্ব আমারই। অর্থাৎ তোমার মুখে তা বর্ণনা করার দায়িত্ব আমারই। রাবী বলেন, এরপর জিব্‌রীল [`আলাইহি ওয়া সাল্লাম] চলে গেলে আল্লাহ্‌র ও`য়াদা [আরবি] মুতাবিক তিনি তা পাঠ করিতেন।

আল লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৫৮ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ১ : /৪ হাদিছ ৫, মুসলিম ৪/৩২ হাদিছ ৪৪৮]

ইব্‌নু `আব্বাস [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

ইব্‌নু `আব্বাস [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। মহান আল্লাহর বাণীঃ “ওয়াহী দ্রুত আয়ত্ত করার জন্য আপনি ওয়াহী নাযিল হওয়ার সময় আপনার জিহ্বা নাড়বেন না।” [সূরাহ কিয়ামাহঃ ১৬]-এর ব্যাখ্যায় ইবনু `আব্বাস বলেন, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম] ওয়াহী অবতরণের সময় তা আয়ত্ত করিতে বেশ চেষ্টা করিতেন এবং প্রায়ই তিনি তাহাঁর উভয় ঠোঁট নড়াতেন।` ইব্‌নু `আব্বাস [রাঃআঃ] বলেন, `আমি তোমাকে দেখানোর জন্য ঠোঁট দুটি নাড়ছি যেভাবে আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তা নড়াতেন।` সা`ঈদ [রহ.] [তাহাঁর শিষ্যদের] বলেন, `আমি ইব্‌নু `আব্বাস [রাঃআঃ]-কে যেরূপে তাহাঁর ঠোঁট দুটি নড়াতে দেখেছি, সেভাবেই আমার ঠোঁট দুটি নড়াচ্ছি।` এই বলে তিনি তাহাঁর ঠোঁট দুটি নড়ালেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ্ তা`আলা অবতীর্ণ করলেনঃ “ওয়াহী দ্রুত আয়ত্ত করার জন্য আপনি ওয়াহী নাযিল হওয়ার সময় আপনার জিহ্বা নড়াবেন না” [সূরাহ ক্বিয়ামাহঃ ১৬]। ইব্‌নু `আব্বাস [রাঃআঃ] বলেন, “এর অর্থ হলোঃ তোমার কলবে তা হেফাযত করা এবং তোমার দ্বারা তা পাঠ করানো। “সুতরাং আমি যখন তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন” [সূ-রাহ কিয়ামাহঃ ১৮]। ইব্‌নু `আব্বাস [রাঃআঃ] বলেন, অর্থাৎ মনোযোগ সহকারে শুন এবং চুপ থাক। “তারপর এর বিশদ বর্ণনার দায়িত্ব তো আমারই” [সূরাহ কিয়ামাহঃ ১৯]।` অর্থাৎ তুমি তা পাঠ করিবে, এটাও আমার দায়িত্ব। তারপর যখন আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর নিকট জিবরাঈল [`আলাইহি ওয়া সাল্লাম] আসতেন, তখন তিনি মনোযোগ সহকারে কেবল শুনতেন। জিবরাঈল [`আলাইহি ওয়া সাল্লাম] চলে গেলে তিনি যেমন পাঠ করেছিলেন, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-ও তদ্রুপ পাঠ করিতেন।

৪/৩৩. ফাজ্‌রের সলাতে উচ্চৈঃস্বরে কিরাআত করা এবং জ্বিনদের উপর কিরাআত পাঠ করা।

আল লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৫৯ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ১০ : /১০৫ হাদিছ ৭৭৩, মুসলিম ৪/৩৩ হাদিছ ৪৪৯]

ইব্‌নু `আব্বাস [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

ইব্‌নু `আব্বাস [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম] কয়েকজন সাহাবীকে সঙ্গে নিয়ে উকায বাজারের উদ্দেশে রওয়ানা করেন। আর দুষ্ট জিন্নদের উর্ধ্বলোকের সংবাদ সংগ্রহের পথে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয় এবং তাহাদের দিকে অগ্নিপিণ্ড নিক্ষিপ্ত হয়। কাজেই শয়তানরা তাহাদের সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে আসে। তারা জিজ্ঞেস করলো, তোমাদের কী হয়েছে? তারা বলিল, আমাদের এবং আকাশের সংবাদ সংগ্রহের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে এবং আমাদের দিকে অগ্নিপিণ্ড ছুঁড়ে মারা হয়েছে। তখন তারা বলিল, নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ একটা কিছু ঘটেছে বলেই তোমাদের এবং আকাশের সংবাদ সংগ্রহের মধ্যে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। কাজেই, পৃথিবীর পূর্ব এবং পশ্চিম অঞ্চল পর্যন্ত বিচরণ করে দেখ, কী কারণে তোমাদের ও আকাশের সংবাদ সংগ্রহের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে? তাই তাহাদের যে দলটি তিহামার দিকে গিয়েছিলো, তারা নবী [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর দিকে অগ্রসর হল। তিনি তখন `উকায বাজারের পথে নাখ্‌লা নামক স্থানে সাহাবীগণকে নিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করছিলেন। তারা যখন কুরআন শুনতে পেল, তখন সেদিকে মনোনিবেশ করলো। অতঃপর তারা বলে উঠলো, আল্লাহ্‌র শপথ! এটিই তোমাদের ও আকাশের সংবাদ সংগ্রহের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। এমন সময় যখন তারা সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে আসল এবং বলিল হে আমাদের সম্প্রদায়! আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনিয়াছি, যা সঠিক পথ নির্দেশ করে, ফলে আমরা এতে ঈমান এনেছি এবং কখনো আমরা আমাদের প্রতিপালকের সঙ্গে কাউকে শরীক স্থির করব না। এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ্ তা`আলা তাহাঁর নবী [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর প্রতি [আরবি] সূরাহ নাযিল করেন। মূলতঃ তাহাঁর নিকট জিনদের বক্তব্যই ওহীরূপে অবতীর্ণ করা হয়েছে।

৪/৩৪. যুহরের ও `আসরের সলাতে কিরাআত।

আল লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৬০ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ১৯ : /৯৬ হাদিছ ৭৫৯, মুসলিম ৪/৩৪, হাদিছ ৪৫১]

আবূ কাতাদাহ্ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

আবূ কাতাদাহ্ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম] যুহ্‌রের প্রথম দু` রাক`আতে সূরাহ ফাতিহার সাথে আরও দু`টি সূরাহ পাঠ করিতেন। প্রথম রাক`আতে দীর্ঘ করিতেন এবং দ্বিতীয় রাক`আতে সংক্ষেপ করিতেন। কখনো কোন আয়াত শুনিয়ে পড়তেন। আসরের সলাতেও তিনি সূরাহহ ফাতিহার সাথে অন্য দু`টি সূরা পড়তেন। প্রথম রাক`আতে দীর্ঘ করিতেন। ফাজরের প্রথম রাক`আতেও তিনি দীর্ঘ করিতেন এবং দ্বিতীয় রাক`আতে সংক্ষেপ করিতেন।

আল লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৬১ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ১০ : /৯৫ হাদিছ ৭৫৫, মুসলিম ৪/৩৪, হাদিছ ৪০৫]

জাবির ইব্‌নু সামুরাহ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

জাবির ইব্‌নু সামুরাহ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কূফাবাসীরা সা`দ [রাঃআঃ]-এর বিরুদ্ধে `উমার [রাঃআঃ]-এর নিকট অভিযোগ করলে তিনি তাঁকে দায়িত্ব হতে অব্যাহতি দেন এবং আম্মার [রাঃআঃ]-কে তাহাদের শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন। কূফার লোকেরা সা`দ [রাঃআঃ]-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করিতে গিয়ে এ-ও বলে যে, তিনি ভালরূপে নামাজ আদায় করিতে পারেন না। `উমার [রাঃআঃ] তাঁকে ডেকে পাঠালেন এবং বলিলেন, হে আবূ ইসহাক! তারা আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে যে, আপনি নাকি ভালরূপে নামাজ আদায় করিতে পারেন না। সা`দ [রাঃআঃ] বলিলেন, আল্লাহ্‌র শপথ! আমি আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর নামাজের অনুরূপই নামাজ আদায় করে থাকি। তাতে কোন ত্রুটি করি না। আমি `ইশার নামাজ আদায় করিতে প্রথম দু`রাক`আতে একটু দীর্ঘ ও শেষের দু`রাক`আতে সংক্ষেপ করতাম। `উমার [রাঃআঃ] বলিলেন, হে আবূ ইসহাক! আপনার সম্পর্কে আমার এ-ই ধারণা। অতঃপর `উমার [রাঃআঃ] কূফার অধিবাসীদের এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক বা একাধিক ব্যক্তিকে সা`দ [রাঃআঃ]-এর সঙ্গে কূফায় পাঠান। সে ব্যক্তি প্রতিটি মাসজিদে গিয়ে সা`দ [রাঃআঃ] সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো এবং তাঁরা সকলেই তাহাঁর ভূয়সী প্রশংসা করিলেন। অবশেষে সে ব্যক্তি বনূ আব্‌স গোত্রের মাসজিদে উপস্থিত হয়। এখানে উসামা ইব্‌নু কাতাদাহ্ নামে এক ব্যক্তি যাকে আবূ সা`দাহ্ বলে ডাকা হত দাঁড়িয়ে বলিল, যেহেতু তুমি আল্লাহ্‌র নামের শপথ দিয়ে জিজ্ঞেস করেছ, সা`দ [রাঃআঃ] কখনো সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে যান না, গনীমতের মাল সমভাবে বণ্টন করেন না এবং বিচারে ইনসাফ করেন না। তখন সা`দ [রাঃআঃ] বলিলেন, মনে রেখো, আল্লাহ্‌র কসম! আমি তিনটি দু`আ করছিঃ ইয়া আল্লাহ্! যদি তোমার এ বান্দা মিথ্যাবাদী হয়, লোক দেখানো এবং আত্মপ্রচারের জন্য দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে- ১. তার হায়াত বাড়িয়ে দিন, ২. তার অভাব বাড়িয়ে দিন এবং ৩. তাকে ফিত্‌নাহর সম্মুখীন করুন। পরবর্তীকালে লোকটিকে [তার অবস্থা সম্পর্কে] জিজ্ঞেস করা হলে সে বলতো, আমি বয়সে বৃদ্ধ, ফিত্‌নায় লিপ্ত। সা`দ [রাঃআঃ]-এর দু`আ আমার উপর লেগে আছে। বর্ণনাকারী আবদুল মালিক [রহ.] বলেন, পরে আমি সে লোকটিকে দেখেছি, অতি বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তার ভ্রু চোখের উপর ঝুলে পড়েছে এবং সে পথে মেয়েদের উত্যক্ত করত এবং তাহাদের চিমটি কাটতো।

৪/৩৫. ফাজ্‌রের ও মাগরিবের সলাতে কিরাআত।

আল লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৬২ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ৯ : /১১ হাদিছ ৫৪১, মুসলিম ৪/৩৫, হাদিছ ৪৬১]

আবূ বারযাহ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

আবূ বারযাহ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম] এমন সময় ফাজরের নামাজ আদায় করিতেন, যখন আমাদের একজন তার পার্শ্ববর্তী অপরজনকে চিনতে পারতো। আর এ সলাতে তিনি ষাট হতে একশ` আয়াত তিলাওয়াত করিতেন এবং যুহরের নামাজ আদায় করিতেন যখন সূর্য পশ্চিম দিকে ঢলে পড়তো। তিনি `আসরের নামাজ আদায় করিতেন এমন সময় যে, আমাদের কেউ মাদীনার শেষ প্রান্তে পৌঁছে আবার ফিরে আসতে পারতো, তখনও সূর্য সতেজ থাকতো। রাবী বলেন, মাগরিব সম্পর্কে তিনি [আবূ বারযা [রাঃআঃ]] কী বলেছিলেন, আমি তা ভুলে গেছি। আর `ইশার নামাজ রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত পিছিয়ে নিতে তিনি কোনোরূপ দ্বিধাবোধ করিতেন না।

আল লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৬৩ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ১০ : /৯৮ হাদিছ ৭৬৩, মুসলিম ৪/৩৫, হাদিছ ৪৬২]

ইব্‌নু `আব্বাস [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

ইব্‌নু `আব্বাস [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মুল ফায্‌ল [রাঃআঃ] তাঁকে وَالْمُرْسَلَاتِ عُرْفًا সুরাটি তিলাওয়াত করিতে শুনে বলিলেন, বেটা! তুমি এ সূরাহ তিলাওয়াত করে আমাকে স্মরণ করিয়ে দিলে আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-কে মাগরিবের সলাতে এ সূরাহটি পড়তে শেষবারের মত শুনিয়াছিলাম।

আল লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৬৪ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ১০ : /৯৯ হাদিছ ৭৬৫, মুসলিম ৪/৩৫, হাদিছ ৪৬৩৪]

জুবাইর ইব্‌নু মুত`ইম [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

জুবাইর ইব্‌নু মুত`ইম [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-কে মাগরিবের সলাতে সূরাহ আত-তূর পড়তে শুনিয়াছি।

৪/৩৬. `ইশার সলাতে উচ্চৈঃস্বরে কিরাআত।

আল লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৬৫ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ১০ : /১০০ হাদিছ ৭৬৭, মুসলিম ৪/৩৫ হাদিছ ৪৬৪]

আদী [ইব্‌ন সাবিত] [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

`আদী [ইব্‌ন সাবিত] [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বারাআ [রাঃআঃ] হতে শুনিয়াছি যে, নবী [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম] এক সফরে `ইশার নামাজের প্রথম দু` রাক`আতের এক রাক`আতে সূরাহ وَالزَّيْتُونِ وَالتِّين পাঠ করেন।

আল লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৬৬ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ৭৮ : /৭৪ হাদিছ ৬১০৬, মুসলিম ৪/৩৬ হাদিছ ৪৬৫]

জাবির ইবনু `আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

জাবির ইবনু `আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। মু`আয ইবনু জাবাল [রাঃআঃ] নবী [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর সাথে নামাজ আদায় করিতেন। পুনরায় তিনি নিজ কাওমের নিকট এসে তাহাদের নিয়ে নামাজ আদায় করিতেন। একবার তিনি তাহাদের নিয়ে সলাতে সূরাহ আল-বাক্বারাহ পড়লেন। তখন এক ব্যক্তি নামাজ সংক্ষেপ করিতে চাইল। সুতরাং সে [আলাদা হয়ে] সংক্ষেপে নামাজ আদায় করলো। এ খবর মু`আয [রাঃআঃ]-এর কাছ পৌঁছলে তিনি বললেনঃ সে মুনাফিক। লোকটার কাছে এ খবর পৌঁছলে সে নবী [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর খিদমতে এসে বললঃ হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমরা এমন এক কাওমের লোক, যারা নিজের হাতে কাজ করি, আর নিজের উট দিয়ে সেচের কাজ করি। মু`আয [রাঃআঃ] গত রাতে সূরাহ আল-বাকারাহ দিয়ে নামাজ আদায় করিতে আরম্ভ করিলেন, তখন আমি সংক্ষেপে নামাজ আদায় করে নিলাম। এতে মু`আয [রাঃআঃ] বলিলেন যে, আমি মুনাফিক। তখন নবী [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বললেনঃ হে মু`আয! তুমি কি [লোকেদের] দ্বীনের প্রতি বিতৃষ্ণ করিতে চাও? এ কথাটি তিনি তিনবার বলিলেন। পরে তিনি তাকে বললেনঃ তুমিوَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا আর سَبِّحْ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى এবং এর অনুরূপ ছোট সূরাহ পড়বে।

৪/৩৭. ইমামদের প্রতি নামাজ সংক্ষিপ্ত করতঃ পূর্ণ করার নির্দেশ দেয়া।

আল লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৬৭ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ৯৩ : /১৩ হাদিছ ৭১৫৯, মুসলিম ৪/৩৭ হাদিছ ৪৬৬]

আবূ মাস`ঊদ আনসারী [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

আবূ মাস`ঊদ আনসারী [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্‌ [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর কাছে এসে বলিল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আল্লাহ্‌র শপথ! আমি অমুক ব্যক্তির কারণে ফজরের জামা`আতে উপস্থিত হই না। কেননা, তিনি আমাদেরকে নিয়ে দীর্ঘ নামাজ আদায় করেন। আবূ মাস`ঊদ [রাঃআঃ] বলেন, আমি নবী [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-কে কোন ওয়াযে সে দিনের মত অধিক রাগান্বিত হতে আর দেখিনি। এরপর তিনি বললেনঃ হে লোক সকল! তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ বিতৃষ্ণার উদ্রেককারী রয়েছে। অতএব তোমাদের মধ্যে যে কেউ লোকদেরকে নিয়ে নামাজ আদায় করিবে, সে যেন সংক্ষিপ্ত করে। কেননা, তাহাদের মধ্যে রয়েছে বয়স্ক, দুর্বল ও কর্মব্যস্ত লোকেরা।

আল লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৬৮ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ১০ : /৬২ হাদিছ ৭০৩, মুসলিম ৪/৩৭, হাদিছ ৪৬৭]

আবূ হুরাইরাহ্ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

আবূ হুরাইরাহ্ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন লোকদের নিয়ে নামাজ আদায় করে, তখন যেন সে সংক্ষেপ করে। কেননা, তাহাদের মাঝে দুর্বল, অসুস্থ ও বৃদ্ধ রয়েছে। আর যদি কেউ একাকী নামাজ আদায় করে, তখন ইচ্ছেমত দীর্ঘ করিতে পারে।

আল লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৬৯ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ১০ : /৬৪ হাদিছ , মুসলিম ৪/৩৭ হাদিছ ৪৬৯]

আনাস ইব্‌নু মালিক [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

আনাস ইব্‌নু মালিক [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম] নামাজ সংক্ষেপে এবং পূর্ণভাবে আদায় করিতেন।

আল লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৭০ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ১০ : /৬৫ হাদিছ ৭০৬, মুসলিম ৪/৩৭, হাদিছ ৪৭]

আনাস ইব্‌নু মালিক [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

আনাস ইব্‌নু মালিক [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। আমি নবী [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর চেয়ে সংক্ষিপ্ত এবং পূর্ণাঙ্গ নামাজ আর কোন ইমামের পিছনে কখনো পড়িনি। আর তা এজন্য যে, তিনি শিশুর কান্না শুনতে পেতেন এবং তার মায়ের ফিত্‌নাহ্‌য় পড়ার আশংকায় সংক্ষেপ করিতেন।

আল লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৭১ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ১০ : /৬৫ হাদিছ ৭০৯, মুসলিম ৪/৩৭ হাদিছ ৪৬৯]

আনাস ইব্‌নু মালিক [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

আনাস ইব্‌নু মালিক [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেনঃ আমি দীর্ঘ করার ইচ্ছে নিয়ে নামাজ শুরু করি। কিন্তু পরে শিশুর কান্না শুনে আমার নামাজ সংক্ষেপ করে ফেলি। কেননা, শিশু কাঁদলে মায়ের মন যে অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়ে তা আমি জানি।

৪/৩৮. নামাজের রূকনগুলো মধ্যম পন্থায় আদায় করা এবং তা সংক্ষিপ্ত করা ও পূর্ণ করা।

আল লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৭২ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ১০ : /১২১ হাদিছ ৭৯২, মুসলিম ৪/৩৮ হাদিছ ৪৩১]

বারাআ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

বারাআ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সলাতে দাঁড়ানো ও বসা অবস্থা ব্যতীত নবী [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর রুকূ` সাজদাহ্ এবং দু` সাজদাহ্‌র মধ্যবর্তী সময় এবং রুকূ` হতে উঠে দাঁড়ানো, এগুলো প্রায় সমপরিমাণ ছিল।

লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৭৩ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ১০ : /১৪০ হাদিছ ৮২১, মুসলিম ৪/৩৮, হাদিছ ৪৭২]

আনাস ইব্‌নু মালিক [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

আনাস ইব্‌নু মালিক [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-কে যেভাবে আমাদের নিয়ে নামাজ আদায় করিতে দেখেছি, কমবেশি না করে আমি তোমাদের সেভাবেই নামাজ আদায় করে দেখাব।

সাবিত [রহ.] বলেন, আনাস ইব্‌নু মালিক [রাঃআঃ] এমন কিছু করিতেন যা তোমাদের করিতে দেখিনা। তিনি রুকূ` হতে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে এত বিলম্ব করিতেন যে, কেউ বলত, তিনি [সিজ্‌দাহর কথা] ভুলে গেছেন।

৪/৩৯. ইমামের অনুসরণ করা এবং প্রতিটি কাজ ইমামের পরে পরে করা।

আল লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৭৪ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ১০ : /১৩৩ হাদিছ ৮১১, মুসলিম ৪/৩৯ হাদিছ ৪৭৪]

বারাআ ইব্‌নু `আযিব [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

বারাআ ইব্‌নু `আযিব [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর পিছনে নামাজ আদায় করতাম। তিনিঃ سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলার পর যতক্ষণ না কপাল মাটিতে স্থাপন করিতেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কেউ সাজদাহ্‌র জন্য পিঠ ঝুঁকাত না।

৪/৪২. রুকূ` ও সাজদাহ্‌য় কী বলবে?

আল লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৭৫ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ১০ : /১৩৯ হাদিছ ৮১৭, মুসলিম ৪/৪২, হাদিছ ৪৮৪]

`আয়িশাহ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

`আয়িশাহ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তাহাঁর রুকূ` ও সাজদাহ্‌য় অধিক পরিমাণেঃ

اللهُمَّ اغْفِرْ لِي يَتَأَوَلُ الْقُرْآنَ

“হে আল্লাহ্! হে আমাদের রব! আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আপনি আমাকে ক্ষমা করুন” পাঠ করিতেন। এতে তিনি পবিত্র কুরআনের নির্দেশ পালন করিতেন।*

৪/৪৪. সাজদাহ্‌র অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং চুল ও কাপড় গুটিয়ে না রাখা ও সলাতে চুল বেনি করা।

লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৭৬ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ১০ : /১৩৩ হাদিছ ৮০৯, মুসলিম ৪৩/৪৪, হাদিছ ৪৯০]

ইব্‌নু `আব্বাস [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

ইব্‌নু `আব্বাস [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম] সাতটি অঙ্গের দ্বারা সাজদাহ্ করিতে এবং চুল ও কাপড় না গুটাতে আদিষ্ট হয়েছিলেন। [অঙ্গ সাতটি হল] কপাল, দু` হাত, দু` হাঁটু ও দু` পা।

৪/৪৬. নামাজের বৈশিষ্ট্য এবং যা দ্বারা নামাজ আরম্ভ ও শেষ করা হয় তা একত্রিত করা হয়েছে।

লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৭৭ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ৮ : /২৭ হাদিছ ৩৯০, মুসলিম ৪/৪৫, হাদিছ ৪৯৫]

`আবদুল্লাহ ইব্‌নু মালিক [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

`আবদুল্লাহ ইব্‌নু মালিক [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। নবী [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম] নামাজের সময় উভয় বাহু পৃথক রাখতেন। এমনকি তাহাঁর বগলের শুভ্রতা দেখা যেতো।

৪/৪৭. নামাজ আদায়কারীর সুতরা বা [বেড়া দণ্ড] প্রসঙ্গে।

লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৭৮ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ৮ : /৯০ হাদিছ ৪৯৪, মুসলিম ৪/৪৭, হাদিছ ৫০১]

ইব্‌নু `উমার [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

ইব্‌নু `উমার [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম] ঈদের দিন যখন বের হতেন তখন তাহাঁর সম্মুখে ছোট নেযা [বল্লম] পুঁতে রাখতে নির্দেশ দিতেন। সেদিকে মুখ করে তিনি নামাজ আদায় করিতেন। আর লোকজন তাহাঁর পেছনে দাঁড়াতো। সফরেও তিনি তাই করিতেন। এ হতে শাসকগণও এ পন্থা অবলম্বন করিয়াছেন।

লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৭৯ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ৮ : /৯৮ হাদিছ ৫০৭, মুসলিম ৪/৪৭, হাদিছ ৫০২]

ইব্‌নু `উমার [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

ইব্‌নু `উমার [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। নবী [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তাহাঁর উটনীকে সামনে রেখে নামাজ আদায় করিতেন।

লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৮০ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ[বুখারী পর্ব ১০ : /১৯ হাদিছ ৬৩৪, মুসলিম ৪/৪৭ হাদিছ ৫০৩]

আবূ জুহায়ফাহ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

আবূ জুহায়ফাহ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। তিনি বিলাল [রাঃআঃ]-কে আযান দিতে দেখেছেন। [এরপর তিনি বলেন] তাই আমি তাহাঁর [বিলালের] ন্যায় আযানের মাঝে মুখ এদিক সেদিক [ডানে-বামে] ফিরাই।

ওয়াল মারজানঃ ২৮১ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ৮ : /১৭ হাদিছ ৩৭৬, মুসলিম ৪/৪৭ হাদিছ]

আবূ জুহায়ফাহ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

আবূ জুহায়ফাহ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-কে চামড়ার একটি লাল তাঁবুতে দেখলাম এবং তাহাঁর জন্য উযূর পানি নিয়ে বিলাল [রাঃআঃ]-কে উপস্থিত দেখলাম। আর লোকেরা তাহাঁর উযূর পানির জন্যে প্রতিযোগিতা করছে। কেউ সামান্য পানি পাওয়া মাত্র তা দিয়ে শরীর মুছে নিচ্ছে। আর যে পায়নি সে তার সাথীর ভিজা হাত হতে নিয়ে নিচ্ছে। অতঃপর বিলাল [রাঃআঃ] রাসূলূল্লাহ [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর একটি লৌহফলকযুক্ত ছড়ি নিয়ে এসে তা মাটিতে পুঁতে দিলেন। নবী [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম] একটা লাল ডোরাযুক্ত পোশাক পরে বের হলেন, তাহাঁর তহবন্দ কিঞ্চিৎ উঁচু করে পরা ছিল। সে ছড়িটি সামনে রেখে লোকদের নিয়ে দু`রাক`আত নামাজ আদায় করিলেন। আর মানুষ ও জন্তু-জানোয়ার ঐ ছড়িটির বাইরে চলাফেলা করছিলো।

লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৮২ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ৩ : /১৮ হাদিছ ৭৬, মুসলিম ৪/৪৭ হাদিছ ৫০৪]

“আবদুল্লাহ্ ইব্‌নু `আব্বাস [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

“আবদুল্লাহ্ ইব্‌নু `আব্বাস [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি সাবালক হবার নিকটবর্তী বয়সে একদা একটি গাধির উপর আরোহিত অবস্থায় এলাম। আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তখন মিনায় নামাজ আদায় করছিলেন তার সামনে কোন দেয়াল না রেখেই। তখন আমি কোন এক কাতারের সামনে দিয়ে অতিক্রম করলাম এবং গাধিটিকে বিচরণের জন্য ছেড়ে দিলাম। আমি কাতারের ভেতর ঢুকে পড়লাম কিন্তু এতে কেউ আমাকে নিষেধ করেননি।

৪/৪৮. নামাজ আদায়কারীর সামনে দিয়ে অতিক্রম নিষিদ্ধ।

লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৮৩ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ৮ : /১০০ হাদিছ ৫০৯, মুসলিম ৪/৪৮, হাদিছ ৫০৫]

আবূ সালেহ আস্-সাম্মান [রহ.] হতে বর্ণিতঃ

আবূ সালেহ আস্-সাম্মান [রহ.] হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আবূ সা`ঈদ খুদরী [রাঃআঃ]-কে দেখেছি। তিনি জুমু`আর দিন লোকদের জন্য সুতরা হিসেবে কোন কিছু সামনে রেখে নামাজ আদায় করছিলেন। আবূ মু`আইত গোত্রের এক যুবক তাহাঁর সামনে দিয়ে যেতে চাইল। আবূ সা`ঈদ খুদরী [রাঃআঃ] তার বুকে ধাক্কা মারলেন। যুবকটি লক্ষ্য করে দেখলো যে, তাহাঁর সামনে দিয়ে যাওয়া ছাড়া অন্য কোন পথ নেই। এজন্যে সে পুনরায় তাহাঁর সামনে দিয়ে যেতে চাইল। এবারে আবূ সা`ঈদ খুদরী [রাঃআঃ] প্রথমবারের চেয়ে জোরে ধাক্কা দিলেন। ফলে আবূ সা`ঈদ [রাঃআঃ]-কে তিরস্কার করে সে মারওয়ানের নিকট গিয়ে আবূ সা`ঈদ [রাঃআঃ]-এর ব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করিল। এদিকে তার পরপরই আবূ সা`ঈদ [রাঃআঃ]-ও মারওয়ানের নিকট গেলেন। মারওয়ান তাঁকে বললেনঃ হে আবূ সা`ঈদ! তোমার এই ভাতিজার কী ঘটেছে? তিনি জবাব দিলেনঃ আমি নবী [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-কে বলিতে  শুনিয়াছি যে, তোমাদের কেউ যদি লোকদের জন্য সামনে সুতরাহ রেখে নামাজ আদায় করে, আর কেউ যদি তার সামনে দিয়ে যেতে চায়, তাহলে যেন সে তাকে বাধা দেয়। সে যদি না মানে, তবে সে ব্যক্তি [মুসল্লী] যেন তার সাথে লড়াই করে, কেননা সে শয়তান।

লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৮৪ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ৮ : /১০১ হাদিছ ৫১০, মুসলিম ৪/৪৮, হাদিছ ৭৫০৭]

বুসর ইব্‌নু সা`ঈদ [রহ.] হতে বর্ণিতঃ

বুসর ইব্‌নু সা`ঈদ [রহ.] হতে বর্ণিত। যায়দ ইব্‌নু খালিদ [রাঃআঃ] তাঁকে আবূ জুহায়ম [রাঃআঃ]-এর নিকট পাঠালেন, যেন তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করেন যে, মুসল্লীর সামনে দিয়ে অতিক্রমকারীর সম্পর্কে তিনি আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম] হতে কি শুনেছেন। তখন আবূ জুহায়ম [রাঃআঃ] বললেনঃ আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেনঃ যদি মুসল্লীর সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী জানতো এটা তার কত বড় অপরাধ, তাহলে সে মুসল্লীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করার চেয়ে চল্লিশ [দিন/মাস/বছর] দাঁড়িয়ে থাকা উত্তম মনে করতো।

আবূন-নাযর [রহ.] বলেনঃ আমার জানা নেই তিনি কি চল্লিশ দিন বা মাস কিংবা চল্লিশ বছর বলেছেন।

৪/৪৯. নামাজ আদায়কারীর সুতরার কাছাকাছি দাঁড়ানো।

লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৮৫ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ৮ : /৯১ হাদিছ ৪৯৬, মুসলিম ৪/৪৯, হাদিছ ৫০৮]

সাহল ইব্‌নু সা`দ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

সাহল ইব্‌নু সা`দ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর নামাজের স্থান ও দেয়ালের মাঝখানে একটা বকরী চলার মত ব্যবধান ছিল।

লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৮৬ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ৮ : /৯১ হাদিছ ৪৯৭, মুসলিম ৪/৪৯, হাদিছ ৫০৯]

সালামা [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

সালামা [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মাসজিদের দেয়াল ছিল মিম্বারের এত নিকট যে, মাঝখান দিয়ে একটা বকরীরও চলাচল কঠিন ছিল।

লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৮৭ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ

[বুখারী পর্ব ৮ : /৯৫ হাদিছ ৫০২, মুসলিম ৪/৪৯ হাদিছ] ইয়াযীদ ইব্‌নু আবূ `উবায়দ [রহ.] হতে বর্ণিতঃ

ইয়াযীদ ইব্‌নু আবূ `উবায়দ [রহ.] হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি সালামা ইব্‌নুল আকওয়া` [রাঃআঃ]-এর নিকট আসতাম। তিনি সর্বদা মাসজিদে নববীর সেই স্তম্ভের নিকট নামাজ আদায় করিতেন যা ছিল মাসহাফের নিকটবর্তী। আমি তাঁকে বললামঃ হে আবূ মুসলিম! আমি আপনাকে সর্বদা এই স্তম্ভ খুঁজে বের করে সামনে রেখে নামাজ আদায় করিতে দেখি [এর কারণ কী?] তিনি বললেনঃ আমি নবী [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-কে এটি খুঁজে বের করে এর নিকট নামাজ আদায় করিতে দেখেছি।

৪/৫১. নামাজ আদায়কারীর সামনে আড়াআড়িভাবে শোয়া।

লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৮৮ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ৮ : /২২ হাদিছ ৩৮৩, মুসলিম ৪/৫১ হাদিছ ৫১২]

`আয়িশাহ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

`আয়িশাহ [রাঃআঃ] `উরওয়াহ [রাঃআঃ]-কে বলেন যে, আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম] নামাজ আদায় করিতেন আর তিনি [`আয়িশাহ [রাঃআঃ]] আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম] ও তাহাঁর কিবলাহর মধ্যে নিজেদের বিছানার উপর জানাযার মত আড়াআড়িভাবে শুয়ে থাকতেন।

লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৮৯ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ৮ : /১০৩ হাদিছ ৫১২, মুসলিম ৪/৫১, হাদিছ ৫১২]

`আয়িশাহ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

`আয়িশাহ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম] নামাজ আদায় করিতেন আর আমি তখন তাহাঁর বিছানায় আড়াআড়িভাবে শুয়ে থাকতাম। বিত্‌র পড়ার সময় তিনি আমাকেও জাগাতেন, তখন আমিও বিত্‌র পড়তাম।

লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৯০ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ৮ : /১০৫ হাদিছ ৫১৮, মুসলিম ৪/৫১, হাদিছ ৫১২]

`আয়িশাহ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

`আয়িশাহ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। তাহাঁর সামনে নামাজ নষ্টকারী কুকুর, গাধা ও নারী সম্বন্ধে আলোচনা চলছিল। `আয়িশাহ [রাঃআঃ] বলেনঃ তোমরা আমাদেরকে গাধা ও কুকুরের সাথে তুলনা করছ? আল্লাহর কসম! আমি নবী [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-কে নামাজ আদায় করিতে দেখেছি। তখন আমি চৌকির উপরে তাহাঁর ও কিবলাহর মাঝখানে শুয়ে ছিলাম। আমার প্রয়োজন হলে আমি তার সামনে বসা খারাপ মনে করতাম। তাতে নবী [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম] এর কষ্ট হতে পারে। আমি তাহাঁর পায়ের পাশ দিয়ে চুপিসারে বের হয়ে যেতাম।

লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৯১ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ[বুখারী পর্ব ৮ : /৯৯ হাদিছ ৫০৮, মুসলিম ৪/৫১, হাদিছ ৫১২]

`আয়িশাহ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

`আয়িশাহ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমরা আমাদেরকে কুকুর, গাধার সমান করে ফেলেছ! আমি নিজে এ অবস্থায় ছিলাম যে, আমি চৌকির উপর শুয়ে থাকতাম আর নবী [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম] এসে চৌকির মাঝ বরাবর দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করিতেন। এভাবে আমি সামনে থাকা পছন্দ করতাম না। তাই আমি চৌকির পায়ের দিকে সরে গিয়ে চুপি চুপি নিজের লেপ হতে বেরিয়ে পড়তাম।

ওয়াল মারজানঃ ২৯২ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ[বুখারী পর্ব ৮ : /১০৪ হাদিছ ৩৮২, মুসলিম ৪/৫১, হাদিছ ৫১২]

নবী [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর স্ত্রী `আয়িশাহ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

নবী [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর স্ত্রী `আয়িশাহ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর সামনে ঘুমাতাম, আমার পা দু`খানা তাহাঁর কিবলাহর দিকে ছিল। তিনি সাজদাহয় গেলে আমার পায়ে মৃদু চাপ দিতেন, তখন আমি পা দু`খানা গুটিয়ে নিতাম। আর তিনি দাঁড়িয়ে গেলে আমি পা দু`খানা প্রসারিত করতাম। তিনি বলেনঃ সে সময় ঘরগুলোতে বাতি ছিল না।

লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৯৩ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ[বুখারী পর্ব ৮ : /১৯ হাদিছ ৩৭৯, মুসলিম ৪/৫১, হাদিছ ৫১৩]

মায়মূনাহ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

মায়মূনাহ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম] যখন নামাজ আদায় করিতেন তখন হায়েয অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও আমি তাহাঁর বরাবর বসে থাকতাম। কখনো কখনো তিনি সাজদাহ করার সময় তাহাঁর কাপড় আমার গায়ে লাগতো। আর তিনি ছোট চাটাইয়ের উপর নামাজ আদায় করিতেন।

৪/৫২. একটি মাত্র কাপড়ে নামাজ আদায় করা এবং তা পরিধানের নিয়ম।

লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৯৪ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ৮ : /৪ হাদিছ ৩৫৮, মুসলিম ৪/৫২, হাদিছ ৫১৫]

আবূ হুরাইরাহ্ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

আবূ হুরাইরাহ্ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-কে একটি কাপড়ে নামাজ আদায়ের মাসআলাহ জিজ্ঞেস করিল। আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম] উত্তরে বললেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের কি দু`টি করে কাপড় রয়েছে?

লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৯৫ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ [বুখারী পর্ব ৮ : /৫ হাদিছ ৩৫৯, মুসলিম ৪/৫২, হাদিছ ৫১৬]

আবূ হুরাইরাহ্ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

আবূ হুরাইরাহ্ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন, তোমাদের কেউ এক কাপড় পরে এমনভাবে যেন নামাজ আদায় না করে যে, তার উভয় কাঁধে এর কোন অংশ নেই।

লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৯৬ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ ([বুখারী পর্ব ৮ : /৪ হাদিছ ৩৫৬, মুসলিম ৪/৫২, হাদিছ ৫১৭])

`উমার ইব্‌নু আবূ সালামাহ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

`উমার ইব্‌নু আবূ সালামাহ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর রাসূল [সাল্লাল্লাহু `আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-কে একটি মাত্র পোষাক জড়িয়ে উম্মু সালামাহ [রাঃআঃ]-এর ঘরে নামাজ আদায় করিতে দেখেছি, যার প্রান্তদ্বয় তাহাঁর দুই কাঁধের উপর রেখেছিলেন।

আল লুলু ওয়াল মারজানঃ ২৯৭ – হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদিছ – [বুখারীপর্ব৮:/৩হাদিছ৩৫৩,মুসলিম৪/৫২,হাদিছ৫১৮]

মুহাম্মদইব্‌নুলমুনকাদির[রহ.]থেকেবর্ণিতঃ

মুহাম্মদইব্‌নুলমুনকাদির[রহ.]হতেবর্ণিত।তিনিবলেনঃআমিজাবিরইবনু`আবদুল্লাহ[রাঃআঃ]-কেএককাপড়েনামাজআদায়করিতেদেখেছি।আরতিনিবলেছেনঃআমিনবী[সাল্লাল্লাহু`আলাইহিওয়াসাল্লাম]-কেএককাপড়েনামাজআদায়করিতেদেখেছি।

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

Draft4

Leave a Reply

%d bloggers like this: