Draft1

Lu Lu Iman 2n part draft

১/৪৩. চোগলখোরী কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হওয়ার বর্ণনা।

৬৭

হুযাইফাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

হুযাইফাহ [রাদি.] বলেন, আমি নাবী [সাঃআঃ] এর নিকট বলিতে শুনিয়াছি তিনি [সাঃআঃ] বলেন, চোগলখোর ব্যক্তি [যে একে অন্যের পরনিন্দা করে] জান্নাতে প্রবেশ করিবে না। [বুখারী পর্ব ৭৮ : /৫০ হাঃ ৬০৫৬,]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৪৪. কাপড় ঝুলিয়ে পরা, দান করে খোঁটা দেয়া, ব্যবসায়ে মিথ্যা কসম খাওয়া এবং ঐ তিন ব্যক্তি যাদের সাথে আল্লাহ তাআলা ক্বিয়ামাত দিবসে কথা বলবেন না তাদেরকে পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি- এ সব বিষয়ে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হওয়ার বর্ণনা।

৬৮.আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] থেকে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, কিয়ামতের দিন তিন শ্রেণীর লোকের প্রতি আল্লাহ তাআলা দৃষ্টিপাত করবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। এক ব্যক্তি- যার নিকট প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি আছে, অথচ সে মুসাফিরকে তা দিতে অস্বীকার করে। অন্য একজন সে ব্যক্তি, যে ইমামের হাতে একমাত্র দুনিয়ার স্বার্থে বায়আত হয়। যদি ঈমাম তাকে কিছু দুনিয়াবী সুযোগ দেন, তাহলে সে খুশী হয়, আর যদি না দেন তবে সে অসন্তুষ্ট হয়। অন্য একজন সে ব্যক্তি, যে আসরের সলাত আদায়ের পর তার জিনিসপত্র [বিক্রয়ের উদ্দেশে] তুলে ধরে আর বলে যে, আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া অন্য কোন মাবূদ নেই, আমার এই দ্রব্যের মূল্য এত এত দিতে আগ্রহ করা হয়েছে। [কিন্তু আমি বিক্রি করিনি] এতে এক ব্যক্তি তাকে বিশ্বাস করে [তা ক্রয় করে নেয়]। এরপর নাবী [সাঃআঃ] এই আয়াতটি তিলাওয়াত করেনঃ “যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে” [আলু ইমরান ৭৭]। [বুখারী পর্ব ৪২ : ৫ / হাঃ ২৩৫৮, মুসলিম ১/৪৪, হাঃ ১0৮]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৪৫. আত্মহত্যা কঠোরভাবে হারাম হওয়ার বর্ণনা, আর যে ব্যক্তি যা দ্বারা আত্মহত্যা করিবে তার দ্বারা জাহান্নামে তাকে শাস্তি দেয়া হইবে, মুসলিম ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করিতে পারবে না।

৬৯

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পাহাড়ের উপর থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামের আগুনে পুড়বে, চিরদিন সে জাহান্নামের মধ্যে অনুরূপভাবে লাফিয়ে পড়তে থাকিবে। যে ব্যক্তি বিষপান করে আত্মহত্যা করিবে, তার বিষ জাহান্নামের আগুনের মধ্যে তার হাতে থাকিবে, চিরকাল সে জাহান্নামের মধ্যে তা পান করিতে থাকিবে। যে ব্যক্তি লোহার আঘাতে আত্মহত্যা করিবে, জাহান্নামের আগুনের মধ্যে সে লোহা তার হাতে থাকিবে, চিরকাল সে তা দ্বারা নিজের পেটে আঘাত করিতে থাকিবে। [বুখারী পর্ব ৭৬ : /৫৬ হাঃ ৫৭৭৮]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৭০

সাবিত ইবনি যাহ্হাক [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

সাবিত ইবনি যাহ্হাক [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি গাছের নীচে বাইআত গ্রহণকারীদের অন্যতম সাহাবী ছিলেন। আল্লাহ্‌র রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মের উপর কসম খাবে, সে ঐ ধর্মেরই শামিল হয়ে যাবে, আর মানুষ যে জিনিসের মালিক নয়, এমন জিনিসের নযর আদায় করা তার উপর ওয়াজিব নয়। আর কোন ব্যক্তি দুনিয়াতে যে জিনিস দ্বারা আত্মহত্যা করিবে, ক্বিয়ামাতের দিন সে জিনিস দিয়েই তাকে আযাব দেয়া হইবে। কোন ব্যক্তি কোন মুমিনের উপর অভিশাপ দিলে, তা তাকে হত্যা করারই শামিল হইবে। আর কোন মুমিনকে কাফির বলে অপবাদ দিলে, তাও তাকে হত্যা করারই মত হইবে। [বুখারী পর্ব ৭৮ : /৪৪ হাঃ ৬০৪৭]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৭১

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে এক যুদ্ধে উপস্থিত ছিলাম। তখন তিনি ইসলামের দাবীদার এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে বলিলেন, এ ব্যক্তি জাহান্নামী অতঃপর যখন যুদ্ধ শুরু হল, তখন সে লোকটি ভীষণ যুদ্ধ করিল এবং আহত হল। তখন বলা হল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! যে লোকটি সম্পর্কে আপনি বলেছিলেন সে লোকটি জাহান্নামী, আজ সে ভীষণ যুদ্ধ করেছে এবং মারা গেছে। নাবী [সাঃআঃ] বলিলেন, সে জাহান্নামে গেছে। রাবী বলেন, একথার উপর কারো কারো অন্তরে এ বিষয়ে সন্দেহ সৃষ্টির উপক্রম হয় এবং তাঁরা এ সম্পর্কিত কথাবার্তায় রয়েছেন, এ সময় খবর এল যে, লোকটি মরে যায়নি বরং মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। যখন রাত্রি হল, সে আঘাতের কষ্টে ধৈর্যধারণ করিতে পারল না এবং আত্মহত্যা করিল। তখন নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট এ সংবাদ পৌঁছানো হল, তিনি বলে উঠলেন, আল্লাহ্ আকবার! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি অবশ্যই আল্লাহ তাআলার বান্দা এবং তাহাঁর রাসুল। অতঃপর নাবী [সাঃআঃ] বিলাল [রাদি.]-কে আদেশ করিলেন, তখন তিনি লোকদের মধ্যে ঘোষণা দিলেন যে, মুসলিম ব্যতীত কেউ বেহেশতে প্রবেশ করিবে না। আর আল্লাহ তাআলা এই দীনকে মন্দ লোকের দ্বারা সাহায্য করেন। [বুখারী পর্ব ৫৬ : /১৮২ হাঃ ৩০৬২, মুসলিম ১/৪৭ হাঃ ১১১]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৭২

সাহল ইবনি সাদ আস্-সাঈদী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

সাহল ইবনি সাদ আস্-সাঈদী [রাদি.] হইতে বর্ণিত, একবার আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] ও মুশরিকদের মধ্যে মুকাবিলা হয় এবং উভয়পক্ষ ভীষণ যুদ্ধে লিপ্ত হয়। অতঃপর আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] নিজ সৈন্যদলের নিকট ফিরে এলেন, মুশরিকরাও নিজ সৈন্যদলে ফিরে গেল। সেই যুদ্ধে আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ]-এর সঙ্গীদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তি ছিল যে কোন মুশরিককে একাকী দেখলেই তার পশ্চাতে ছুটত এবং তাকে তলোয়ার দিয়ে আক্রমণ করত। বর্ণনাকারী [সাহল ইবনি সাদ [রাদি.] বলেন, আজ আমাদের কেউ অমুকের মত যুদ্ধ করিতে পারেনি। তা শুনে আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বলিলেন, সে তো জাহান্নামের অধিবাসী হইবে। একজন সাহাবী বলে উঠলেন, আমি তার সঙ্গী হব। অতঃপর তিনি তার সঙ্গে বেরিয়ে পড়লেন, সে দাঁড়ালে তিনিও দাঁড়াতেন এবং সে শীঘ্র চললে তিনিও দ্রুত চলতেন। তিনি বলিলেন, এক সময় সে মারাত্মকভাবে আহত হলো এবং সে দ্রুত মৃত্যু কামনা করিতে লাগল। এক সময় তলোয়ারের বাঁট মাটিতে রাখল এবং এর তীক্ষ্ণ দিক বুকে চেপে ধরে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করিল। অনুসরণকারী ব্যক্তিটি আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ]-এর নিকট আসলেন এবং বলিলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি আল্লাহ্‌র রাসূল। আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বলিলেন, কী ব্যাপার? তিনি বলিলেন, যে ব্যক্তিটি সম্পর্কে আপনি কিছুক্ষণ আগেই বলেছিলেন যে, সে জাহান্নামী হইবে, তা শুনে সাহাবীগণ বিষয়টিকে অস্বাভাবিক মনে করিলেন। আমি তাদের বললাম যে, আমি ব্যক্তিটির সম্পর্কে খবর তোমাদের জানাব। অতঃপর আমি তার পিছু পিছু বের হলাম। এক সময় লোকটি মারাত্মকভাবে আহত হয় এবং সে শীঘ্র মৃত্যু কামনা করিতে থাকে। অতঃপর তার তলোয়ারের বাঁট মাটিতে রেখে এর তীক্ষ্ণ ধার বুকে চেপে ধরল এবং তার উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করিল। আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] তখন বলিলেন, মানুষের বাহ্যিক বিচারে অনেক সময় কোন ব্যক্তি জান্নাতবাসীর মত আমাল করিতে থাকে, আসলে সে জাহান্নামী হয় এবং তেমনি মানুষের বাহ্যিক বিচারে কোন ব্যক্তি জাহান্নামীর মত আমাল করলেও প্রকৃতপক্ষে সে জান্নাতী হয়। [বুখারী পর্ব ৫৬ : /৭৭ হাঃ ২৮৯৮, মুসলিম ১/৪৭ হাঃ ১১২]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৭৩

জুনদুব ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

জুনদুব ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.]বলেন। আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, তোমাদের পূর্ব যুগে এক ব্যক্তি আঘাত পেয়েছিল, তাতে কাতর হয়ে পড়েছিল। অতঃপর সে একটি ছুরি হাতে নিল এবং তা দিয়ে সে তার হাতটি কেটে ফেলল। ফলে রক্ত আর বন্ধ হল না। শেষ পর্যন্ত সে মারা গেল। মহান আল্লাহ্ বলিলেন, আমার বান্দাটি নিজেই প্রাণ দেয়ার ব্যাপারে আমার হইতে অগ্রগামী হল। কাজেই, আমি তার উপর জান্নাত হারাম করে দিলাম। [বুখারী পর্ব ৬০ : /৫০ হাঃ ৩৪৬৩]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৪৬. গনীমতের মাল আত্মসাৎ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হওয়ার বর্ণনা আর মুমিন ছাড়া কেউ জান্নাতে প্রবেশ করিতে পারবে না।

৭৪

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খাইবার যুদ্ধে আমরা জয়ী হয়েছি কিন্তু গনীমত হিসেবে আমরা সোনা, রূপা কিছুই পাইনি। আমরা গানীমাত হিসেবে পেয়েছিলাম গরু, উট, বিভিন্ন দ্রব্য-সামগ্রী এবং ফলের বাগান। [যুদ্ধ শেষে] আমরা আল্লাহ্‌র রাসূল [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে ওয়াদিউল কুরা পর্যন্ত ফিরে এলাম। তাহাঁর {নাবী [সাঃআঃ]} সঙ্গে ছিল মিদআম নামে তাহাঁর একটি গোলাম। বনী যিবাব [রাদি.]-এর এক ব্যক্তি আল্লাহ্‌র রাসূল [সাঃআঃ]-কে এটি হাদিয়া দিয়েছিল। এক সময়ে সে আল্লাহ্‌র রাসূল [সাঃআঃ]-এর হাওদা নামানোর কাজে ব্যস্ত ছিল ঠিক সেই মুহূর্তে অজ্ঞাত একটি তীর ছুটে এসে তার গায়ে পড়ল। তাতে গোলামটি মারা গেল। তখন লোকেরা বলিতে লাগল, কী আনন্দদায়ক তার এ শাহাদাত! তখন আল্লাহ্‌র রাসূল [সাঃআঃ] বলিলেন, আচ্ছা? সেই মহান সত্তার কসম! যাঁর হাতে আমার প্রাণ, বণ্টনের আগে খাইবারের গানীমাত থেকে যে চাদরখানা তুলে নিয়েছিল সেটা আগুন হয়ে অবশ্যই তাকে দগ্ধ করিবে। নাবী [সাঃআঃ]-এর এ কথা শুনে আরেক লোক একটি অথবা দুটি জুতার ফিতা নিয়ে এসে বলল, এ জিনিসটি আমি বণ্টনের আগেই নিয়েছিলাম। আল্লাহ্‌র রাসূল [সাঃআঃ] বলিলেন, এ একটি অথবা দুটি ফিতাও হয়ে যেত আগুনের [ফিতা]। [বুখারী পর্ব ৬৪ : /৩৮ হাঃ ৪২৩৪, মুসলিম ১/৪৯, হাঃ ১১৫}

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৫১. জাহিলী যুগের কর্মকাণ্ডের কারণে কি মানুষকে পাকড়াও করা হইবে।

৭৫

ইবনি মাস্উদ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

ইবনি মাস্উদ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমরা কি জাহিলী যুগের কৃতকর্মের জন্য পাকড়াও হবো? তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি ইসলামী যুগে সৎ কাজ করিবে সে জাহিলী যুগের কৃতকর্মের জন্য পাকড়াও হইবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণের পর অসৎ কাজ করিবে, সে প্রথম ও পরবর্তী [ইসলাম গ্রহণের আগের ও পরের উভয় সময়ের কৃতকর্মের জন্য] পাকড়াও হইবে। [বুখারী পর্ব ৮৮ : /১ হাঃ ৬৯২১]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৫২. ইসলাম তার পূর্বের মন্দ কর্মকাণ্ডকে বিনষ্ট করে, অনুরূপভাবে হিজরাত এবং হাজ্জও।

৭৬

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুশরিকদের কিছু লোক অত্যধিক হত্যা করে এবং অত্যধিক ব্যভিচারে লিপ্ত হয়। অতঃপর তারা মুহাম্মদ [সাঃআঃ]-এর কাছে এল এবং বলল, আপনি যা বলেন এবং আপনি যেদিকে আহ্বান করেন, তা অতি উত্তম। আমাদের যদি জানিয়ে দিতেন যে, আমরা যা করেছি, তার কাফফারা কী? এর প্রেক্ষিতে নাযিল হয় এবং যারা আল্লাহ্‌র সঙ্গে অন্য কোন ইলাহকে ডাকে না, আল্লাহ্ যাকে হত্যা করা নিষেধ করিয়াছেন, তাকে না-হক হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না [সুরা আল-ফুরকান]। আরো নাযিল হলঃ “হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অন্যায় করে ফেলেছ, আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ো না।” [বুখারী পর্ব ৬৫ : /৩৯ হাঃ ৪৮১০, মুসলিম ১/৫৪, হাঃ ১২২}

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৫৩. কাফিরের ভাল আমালের বিধান যখন সে পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করে।

৭৭

হাকীম ইবনি হিযাম [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

হাকীম ইবনি হিযাম [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! ঈমান আনয়নের পূর্বে [সওয়াব লাভের উদ্দেশে] আমি সদাকাহ প্রদান, দাসমুক্ত করা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করার ন্যায় যত কাজ করেছি সেগুলোতে সওয়াব হইবে কি? তখন নাবী [সাঃআঃ] বললেনঃ তুমি যে সব ভালো কাজ করেছ তা নিয়েই ইসলাম গ্রহণ করেছ [তুমি সেসব কাজের সওয়াব পাবে]। [বুখারী পর্ব ২৪ : /২৪ হাঃ ১৪৩৬, মুসলিম ১/৫৫, হাঃ ১২৩, আহমাদ ১৫৩১৯]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৫৪. ঈমানের সত্যতা ও বিশুদ্ধতা।

৭৮

আবদুল্লাহ [ইবনি মাসুদ] [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ [ইবনি মাসুদ] [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াতে কারীমা নাযিল হলঃ যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুলমের দ্বারা কলুষিত করেনি- তখন তা মুসলিমদের পক্ষে কঠিন হয়ে গেল। তারা আরয করিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে কোন্ ব্যক্তি আছে যে নিজের উপর যুলম করেনি? তখন নাবী [সাঃআঃ] বলিলেন, এখানে অর্থ তা নয় বরং এখানে যুলমের অর্থ হলো শিরক। তোমরা কি কুরআনে শুননি লুকমান তাহাঁর ছেলেকে নাসীহাত দেয়ার সময় কী বলেছিলেন? তিনি বলেছিলেন, “হে আমার বৎস! তুমি আল্লাহ্‌র সঙ্গে শিরক করো না। কেননা, নিশ্চয়ই শিরক এক মহা যুলম [সূরা লুকমানঃ১৩]। [বুখারী পর্ব ৬ : /১ হাঃ ৩৪২৯]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৫৬. আল্লাহ তাআলা কারো অন্তরের ঐ কথা ও মনষ্কামনাকে এড়িয়ে যান যা কার্যে পরিণত বা উচ্চারণ করা না হয়।

৭৯

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] সূত্রে নাবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ আমার উম্মতের অন্তরে জাগ্রত ধারণাসমূহ ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না সে তা কার্যে পরিণত করে বা ব্যক্ত করে। [বুখারী পর্ব ৬৮ : /১১ হাঃ ৫২৬৯]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৫৭. বান্দা যখন কোন ভাল চিন্তা করে তার জন্য সওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয় আর যখন কোন মন্দ চিন্তা করে তা লিপিবদ্ধ করা হয় না।

৮০

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] ইরশাদ করেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন উত্তমরূপে ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে তখন সে যে আমালে সালেহ করে তার প্রত্যেকটির বিনিময়ে সাতশ গুণ পর্যন্ত [সওয়াব] লেখা হয়। আর সে যে পাপ কাজ করে তার প্রত্যেকটির বিনিময়ে তার জন্য ঠিক ততটুকুই পাপ লেখা হয়। [বুখারী পর্ব ২ : /৩১ হাঃ ৪২, মুসলিম ১/৫৯ হাঃ ১২৯]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৮১

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিত। নাবী [সাঃআঃ] [হাদীসে কুদসী স্বরূপ] তাহাঁর রব থেকে বর্ণনা করে বলেন যে, আল্লাহ্ তাআলা নেকী ও বদীসমূহ চিহ্নিত করিয়াছেন। এরপর সেগুলোর বর্ণনা দিয়েছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি কোন সৎ কাজের ইচ্ছে করিল, কিন্তু তা বাস্তবে পরিণত করিল না, আল্লাহ্ তাআলা তাহাঁর কাছে এর জন্য পূর্ণ নেকী লিপিবদ্ধ করবেন। আর সে ইচ্ছে করিল ভাল কাজের এবং তা বাস্তবেও পরিণত করিল তবে আল্লাহ্ তাআলা তাহাঁর কাছে তার জন্য দশ গুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত এমন কি এর চেয়েও অনেক গুণ অধিক সাওয়াব লিখে দেন। আর যে ব্যক্তি কোন অসৎ কাজের ইচ্ছে করিল, কিন্তু তা বাস্তবে পরিণত করিল না, আল্লাহ্ তাআলা তাহাঁর কাছে তার জন্য পূর্ণ নেকী লিপিবদ্ধ করবেন। আর যদি সে ওই অসৎ কাজের ইচ্ছে করার পর বাস্তবেও তা করে ফেলে, তবে তার জন্য আল্লাহ্ তাআলা মাত্র একটা পাপ লিখে দেন। [বুখারী পর্ব ৮১ : /৩১ হাঃ ৬৪৯১, মুসলিম ১/৫৯ হাঃ ১৩১ ]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৫৮. ঈমানের ব্যাপারে সংশয় এবং কেউ যখন এরূপ অবস্থার সম্মুখীন হইবে তখন সে কী বলবে।

৮২

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, তোমাদের কারো নিকট শয়তান আসতে পারে এবং সে বলিতে পারে, এ বস্তু কে সৃষ্টি করেছে? ঐ বস্তু কে সৃষ্টি করেছে? এরূপ প্রশ্ন করিতে করিতে শেষ পর্যন্ত বলে বসবে, তোমার প্রতিপালককে কে সৃষ্টি করেছে? যখন ব্যাপারটি এ স্তরে পৌঁছে যাবে তখন সে যেন অবশ্যই আল্লাহর নিকট আশ্রয় চায় এবং বিরত হয়ে যায়। [বুখারী পর্ব ৫৯ : /১১ হাঃ ৩২৭৬, মুসলিম ১/৬০ হাঃ ১৩৪]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৮৩

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ লোকেরা পরস্পরে প্রশ্ন করিতে থাকিবে যে, ইনি [আল্লাহ্] সবকিছুরই স্রষ্টা, তবে আল্লাহ্‌কে কে সৃষ্টি করিলেন? [বুখারী পর্ব ৯৬ : /৩ হাঃ ৭২৯৬, মুসলিম ১/৬0 হাঃ ১৩৬]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৫৯. যে ব্যক্তি শপথের মাধ্যমে কোন মুসলিম ব্যক্তির অধিকার ছিনিয়ে নিবে তার ব্যাপারে [শাস্তির] হুমকি প্রদান।

৮৪

আবদুল্লাহ ইবনি মাসুদ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ ইবনি মাসুদ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, কোন মুসলিম ব্যক্তির সম্পত্তি আত্মসাৎ করার উদ্দেশে যে ঠাণ্ডা মাথায় মিথ্যা শপথ করে, সে আল্লাহ্‌র সঙ্গে সাক্ষাৎ করিবে এমন অবস্থায় যে, আল্লাহ তার উপর ক্রুদ্ধ থাকিবেন। এর সত্যতা প্রমাণে আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেনঃ [আরবী] বর্ণনাকারী বলিলেন, এরপর আশআস ইবনি কাইস [রহ.] সেখানে প্রবেশ করিলেন এবং বলিলেন, আবু আবদুর রহমান [রাদি.] তোমাদের নিকট কোন হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন? আমরা বললাম, এ রকম এ রকম বলেছেন। তখন তিনি বলিলেন, এ আয়াত তো আমাকে উপলক্ষ করেই অবতীর্ণ হয়েছে। আমার চাচাত ভাইয়ের এলাকায় আমার একটি কূপ ছিল। [এ ঘটনা জ্ঞাত হয়ে] নাবী [সাঃআঃ] বলিলেন, হয়তো তুমি প্রমাণ হাজির করিবে নতুবা সে শপথ করিবে। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! সে তো শপথ করে বসবে। অনন্তর আল্লাহ্‌র রাসূল [সাঃআঃ] বলিলেন, যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশে ঠাণ্ডা মাথায় অবরোধ করে মিথ্যা শপথ করে, সে আল্লাহ্‌র সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এমন অবস্থায় যে, আল্লাহই তার উপর রাগান্বিত থাকিবেন।[বুখারী পর্ব ৬৫ : /৩ হাঃ ৪৫৪৯-৪৫৫০, মুসলিম ১/৬১ হাঃ ১৩৮]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৬০. যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ ছিনিয়ে নেয়ার ইচ্ছে করে তার রক্ত বিপদে পতিত তার প্রমাণ, এতে যদি সে নিহত হয় তবে সে জাহান্নামে যাবে। আর যে তার সম্পদ বাঁচাতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করে সে শহীদ।

৮৫

আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি, যে ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষা করিতে গিয়ে নিহত হয়, সে শহীদ। [বুখারী পর্ব ৪৬ : /৩৩ হাঃ ২৪৮০, মুসলিম ১/৬২ হাঃ ১৪১]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৬১. প্রজাবৃন্দকে বঞ্চনাকারী শাসকের জন্য জাহান্নামের আগুন নির্ধারিত।

৮৬

উবাইদুল্লাহ্ ইবনি যিয়াদ [রহ.] হইতে বর্ণিতঃ

উবাইদুল্লাহ্ ইবনি যিয়াদ [রহ.] মাকিল ইবনি ইয়াসারের মৃত্যুশয্যায় তাকে দেখিতে গেলেন। তখন মাকিল [রাদি.] তাকে বলিলেন, আমি তোমাকে এমন একটি হাদীস বর্ণনা করছি যা আমি নাবী [সাঃআঃ] থেকে শুনিয়াছি। আমি নাবী [সাঃআঃ] থেকে শুনিয়াছি যে, কোন বান্দাকে যদি আল্লাহ্ তাআলা জনগণের নেতৃত্ব প্রদান করে, আর সে কল্যাণকামিতার সাথে তাদের তত্ত্বাবধান না করে, তাহলে সে বেহেশতের ঘ্রাণও পাবে না। [বুখারী পর্ব ৯৩ : /৮ হাঃ ৭১৫০, মুসলিম ১/৬১ হাঃ ১8২]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৬২. কতিপয় ব্যক্তির অন্তর থেকে আমানাত ও ঈমান উঠিয়ে নেয়া আর অন্তরে ফিতনা গেড়ে যাওয়া।

৮৭

হুযাইফাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

হুযাইফাহ [রাদি.] বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের কাছে দুটি হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। একটি তো আমি প্রত্যক্ষ করেছি এবং দ্বিতীয়টির জন্য অপেক্ষা করছি। নাবী [সাঃআঃ] আমাদের কাছে বর্ণনা করিয়াছেন যে, আমানত মানুষের অন্তর্মূলে অধোগামী হয়। তারপর তারা কুরআন থেকে জ্ঞান অর্জন করে। এরপর তারা নাবীর সুন্নাহ থেকে জ্ঞান অর্জন করে। আবার বর্ণনা করিয়াছেন আমানত তুলে নেয়া সম্পর্কে, যে ব্যক্তিটি [ঈমানদার] এক পর্যায়ে ঘুমালে পর, তার অন্তর থেকে আমানত তুলে নেয়া হইবে, তখন একটি বিন্দুর মত চিহ্ন অবশিষ্ট থাকিবে। পুনরায় ঘুমাবে। তখন আবার উঠিয়ে নেয়া হইবে। অতঃপর তার চিহ্ন ফোস্কার মত অবশিষ্ট থাকিবে। তোমার পায়ের উপর গড়িয়ে পড়া অঙ্গার সৃষ্ট চিহ্ন, যেটিকে তুমি ফোলা মনে করিবে, অথচ তার মধ্যে আদৌ কিছু নেই। মানুষ কারবার করিবে বটে, কেউ আমানত আদায় করিবে না। তারপর লোকেরা বলাবলি করিবে যে, অমুক বংশে একজন আমানতদার লোক রয়েছে। সে ব্যক্তি সম্পর্কে মন্তব্য করা হইবে যে, সে কতই না বুদ্ধিমান, কতই না বিচক্ষণ, কতই না বাহাদুর? অথচ তার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমানও থাকিবে না।

[বর্ণনাকারী বলেন] আমার উপর এমন এক যমানা অতিবাহিত হয়েছে যে, আমি তোমাদের কারো সাথে বেচাকেনা করলাম, সেদিকে ভ্রক্ষেপ করতাম না। কারণ সে মুসলিম হলে ইসলামই আমার হক ফিরিয়ে দেবে। আর সে নাস্রানী হলে তার শাসকই আমার হক ফিরিয়ে দেবে। অথচ বর্তমানে আমি অমুক অমুককে ব্যতীত বেচাকেনা করি না। [বুখারী পর্ব ৮১ : /৩৫ হাঃ ৬৪৯৭, মুসলিম ১/৬৪ হাঃ ১৪৩]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৬৩. ইসলামের সূচনা হয়েছিল অপরিচিত অবস্থায় এবং তা অপরিচিত অবস্থায় ফিয়ে যাবে আর তা দু মাসজিদের মাঝে ফিরে যাবে।

৮৮

হুযাইফাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

হুযাইফাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা উমার [রাদি.]-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। তখন তিনি বলিলেন, ফিতনাহ-ফাসাদ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-এর বক্তব্য তোমাদের মধ্যে কে মনে রেখেছো? হুযাইফাহ [রাদি.] বলিলেন, যেমনভাবে তিনি বলেছিলেন হুবহু তেমনিই আমি মনে রেখেছি। উমার [রাদি.] বলিলেন, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ]-এর বাণী মনে রাখার ব্যাপারে তুমি খুব দুঢ়তার পরিচয় দিচ্ছো। আমি বললাম, [রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছিলেন] মানুষ নিজের পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, পাড়া-প্রতিবেশীদের ব্যাপারে যে ফিতনাহয় পতিত হয়, সলাত, সিয়াম, সাদকাহ, [ন্যায়ের] আদেশ ও [অন্যায়ের] নিষেধ তা দূরীভূত করে দেয়। হযরত উমার [রাদি.] বলিলেন, তা আমার উদ্দেশ্য নয়। বরং আমি সেই ফিতনাহর কথা বলছি, যা সমুদ্র তরঙ্গের ন্যায় ভয়াল হইবে। হুযাইফাহ [রাদি.] বলিলেন, হে আমীরুল মুমিনীন! সে ব্যাপারে আপনার ভয়ের কোনো কারণ নেই। কেননা, আপনার ও সে ফিতনাহর মাঝখানে একটি বন্ধ দরজা রয়েছে। উমার [রাদি.] জিজ্ঞেস করিলেন, সে দরজাটি ভেঙ্গে ফেলা হইবে, না খুলে দেয়া হইবে? হুযাইফাহ [রহ.] বলিলেন, ভেঙ্গে ফেলা হইবে। উমার [রাদি.] বলিলেন, তাহলে তো আর কোনো দিন তা বন্ধ করা যাবে না।

{হুযাইফাহ [রাদি.]-এর ছাত্র শাকীক [রহ.] বলেন}, আমরা জিজ্ঞেস করলাম, উমার [রাদি.] কি সে দরজাটি সম্বন্ধে জানতেন? হুযাইফাহ [রাদি.] বলিলেন, হাঁ, দিনের পূর্বে রাতের আগমন যেমন সুনিশ্চিত, তেমনি নিশ্চিতভাবে তিনি জানতেন। কেননা, আমি তাহাঁর কাছে এমন একটি হাদীস বর্ণনা করেছি, যা মোটেও ক্রুটিযুক্ত নয়। [দরজাটি কী] এ বিষয়ে হুযাইফাহ [রাদি.]-এর নিকট জানতে আমরা ভয় পাচ্ছিলাম।

তাই আমরা মাসরূক [রাদি.] কে বললাম এবং তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করিলেন। তিনি বলিলেন, দরজাটি উমার [রাদি.] নিজেই। [বুখারী পর্ব ৯ : /৪ হাঃ ৫২৫, মুসলিম ১/৬৫ হাঃ ১৪৪]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৮৯

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেনঃ ঈমান মদিনাহ্ তে ফিরে আসবে যেমন সাপ তার গর্তে ফিরে আসে। [বুখারী পর্ব ২৯ : /৬ হাঃ ১৮৭৬, মুসলিম ১/৬৫, হাঃ ১৪৭]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৬৫. ভীত-সন্ত্রস্ত ব্যক্তি ঈমান লুকাতে পারবে।

৯০

হুযাইফাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

হুযাইফাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] বলেছেন, মানুষের মধ্যে যারা ইসলামের কালিমাহ উচ্চারণ করেছে, তাদের নাম লিখে আমাকে দাও। হুযাইফাহ [রাদি.] বলেন, তখন আমরা এক হাজার পাঁচশ লোকের নাম লিখে তাহাঁর নিকট পেশ করি।১ তখন আমরা বলিতে লাগলাম, আমরা এক হাজার পাঁচশত লোক, এক্ষণে আমাদের ভয় কিসের? [রাবী] হুযাইফাহ [রাদি.] বলেন, পরবর্তীকালে আমরা দেখেছি যে, আমরা এমনভাবে ফিতনায় পড়েছি যাতে লোকেরা ভীত-শংকিত অবস্থায় একা একা সলাত আদায় করছে। [বুখারী পর্ব ৫৬ : /১৮১ হাঃ ৩০৬০, মুসলিম ১/৬৭ হাঃ ১৪৯]

১ ঘটনাটি উহুদ যুদ্ধে যাওয়ার পূর্বে অথবা খন্দক খননের সময়ের।

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৬৬. দুর্বল ঈমানের অধিকারী ব্যক্তিকে আকৃষ্ট করা এবং নির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কাউকে ঈমানদার বলা নিষিদ্ধ।

৯১

সাদ [রাদি.] হইতে বর্ণিত হইতে বর্ণিতঃ

সাদ [রাদি.] হইতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] একদল লোককে কিছু দান করিলেন। সাদ [রাদি.] সেখানে বসেছিলেন। সাদ [রাদি.] বলেন, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] তাদের এক ব্যক্তিকে কিছু দিলেন না। সে ব্যক্তি আমার নিকট তাদের চেয়ে অধিক পছন্দের ছিল। তাই আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! অমুক ব্যক্তিকে আপনি বাদ দিলেন কেন? আল্লাহ্‌র শপথ! আমি তো তাকে মুমিন বলেই জানি। তিনি বললেনঃ না মুসলিম? তখন আমি কিছুক্ষণ নীরব থাকলাম। অতঃপর আমি তার সম্পর্কে যা জানি, তা [ব্যক্ত করার] প্রবল ইচ্ছে হলো। তাই আমি আমার বক্তব্য আবার বললাম, আপনি অমুককে দান থেকে বিরত রাখলেন? আল্লাহ্‌র শপথ! আমি তো তাকে মুমিন বলেই জানি। তিনি বললেনঃ না মুসলিম? তখন আমি কিছুক্ষণ নীরব থাকলাম। তারপর আমি তার সম্পর্কে যা জানি তা [ব্যক্ত করার] প্রবল ইচ্ছে হলো। তাই আমি আবার বললাম, আপনি অমুককে দান হইতে বিরত রাখলেন? আল্লাহ্‌র শপথ! আমি তো তাকে মুমিন বলেই জানি। তিনি বললেনঃ না মুসলিম? তখন আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকলাম। তারপর আমি তার সম্পর্কে যা জানি তা [ব্যক্ত করার] প্রবল ইচ্ছে হলো। তাই আমি আমার বক্তব্য আবার বললাম। আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] পুনরায় সেই একই জবাব দিলেন। তারপর বললেনঃ সাদ! আমি কখনো ব্যক্তি বিশেষকে দান করি, অথচ অন্যলোক আমার নিকট তার চেয়ে অধিক প্রিয়। তা এ আশঙ্কায় যে [সে ঈমান থেকে ফিরে যেতে পারে পরিণামে], আল্লাহ্ তাআলা তাকে অধোমুখে জাহান্নামে ফেলে দেবেন। [বুখারী পর্ব ২ : /১৯ হাঃ ২৭, মুসলিম ১/৬৮ হাঃ ১৫০]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৬৭. দলীল প্রমাণাদি দেখলে ঈমানী শক্তি বৃদ্ধি পায়।

৯২

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, ইবরাহীম [আ.] তাহাঁর অন্তরের প্রশান্তির জন্য মৃতকে কিভাবে জীবিত করা হইবে, এ সম্পর্কে আল্লাহর নিকট জিজ্ঞেস করেছিলেন, [সন্দেহবশত নয়] যদি “সন্দেহ” বলে অভিহিত করা হয় তবে এরূপ “সন্দেহ” এর ব্যাপারে আমরা ইবরাহীম [আ.]-এর চেয়ে অধিক উপযোগী। যখন ইবরাহীম [আ.] বলেছিলেন, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে দেখিয়ে দিন, আপনি কিভাবে মৃতকে জীবিত করেন। আল্লাহ বলিলেন, তুমি কি বিশ্বাস কর না? তিনি বলিলেন, হাঁ। তা সত্ত্বেও যাতে আমার অন্তর প্রশান্তি লাভ করে [আল-বাকারাহঃ ২৬০]। অতঃপর {নাবী [সাঃআঃ] লূত [আ.]-এর ঘটনা উল্লেখ করে বলিলেন।] আল্লাহ লূত [আ.]-এর প্রতি রহম করুন। তিনি একটি সুদৃঢ় খুঁটির আশ্রয় চেয়েছিলেন। আর আমি যদি কারাগারে এত দীর্ঘ সময় থাকতাম যত দীর্ঘ সময় ইউসুফ [আ.] কারাগারে ছিলেন তবে তার [বাদশাহর] ডাকে সাড়া দিতাম। {১} [বুখারী পর্ব ৬০ : /১১ হাঃ ৩৩৭২, মুসলিম ১/৬৯ হাঃ ১৫১]

১ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর এ কথার দ্বারা ইউসুফ [আঃ] এর অসীম ধৈর্যের প্রশংসা করিয়াছেন।

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৬৮. সকল লোকদের জন্য আমাদের নাবী মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]-এর রিসালাতের প্রতি ঈমান আনার আবশ্যকতা এবং ইসলামের মাধ্যমে অন্য সব ধর্ম রহিতকরণ।

৯৩

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] বলেছেন, প্রত্যেক নাবীকে তাহাঁর যুগের চাহিদা মুতাবিক কিছু মুজিযা দান করা হয়েছে, যা দেখে লোকেরা তাহাঁর প্রতি ঈমান এনেছে। আমাকে যে মুজিযা দেয়া হয়েছে তা হচ্ছে, ওয়াহী- যা আল্লাহ্ তাআলা আমার প্রতি অবতীর্ণ করিয়াছেন। সুতরাং আমি আশা করি, ক্বিয়ামাতের দিন তাদের অনুসারীদের তুলনায় আমার অনুসারীদের সংখ্যা অনেক অধিক হইবে। [বুখারী পর্ব ৬৬ : /১ হাঃ ৪৯৮১, মুসলিম হাঃ ১/৭০, হাঃ ১৫২]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৯৪

আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তিন ধরনের লোকের জন্য দুটি পুণ্য রয়েছেঃ [১] আহলে কিতাব- যে ব্যক্তি তার নাবীর ওপর ঈমান এনেছে এবং মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]-এর উপরও ঈমান এনেছে। [২] যে ক্রীতদাস আল্লাহ্‌র হক আদায় করে এবং তার মালিকের হকও [আদায় করে]। [৩] যার বাঁদী ছিল, যার সাথে সে মিলিত হত। তারপর তাকে সে সুন্দরভাবে আদব-কায়দা শিক্ষা দিয়েছে এবং ভালভাবে দীনী ইলম শিক্ষা দিয়েছে, অতঃপর তাকে আযাদ করে বিয়ে করেছে; তার জন্য দুটি পুণ্য রয়েছে। [বুখারী পর্ব ৩ : /৩১ হাঃ ৯৭, মুসলিম ১/৭০ হাঃ ১৫৪]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৬৯. আমাদের নাবী [সাঃআঃ]-এর শারীআত অনুযায়ী মানুষদের ফয়সালা দেয়ার জন্য ঈসা ইবনি মারইয়াম [আ.]-এর অবতরণ।

৯৫

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, শপথ সেই সত্তার, যাঁর হাতে আমার প্রাণ। অচিরেই তোমাদের মাঝে ন্যায় বিচারকরূপে মারইয়ামের পুত্র {ঈসা [আ.]} অবতরণ করবেন। তারপর তিনি ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন, শূকর হত্যা করবেন, জিযিয়াহ রহিত করবেন এবং ধন-সম্পদের এরূপ প্রাচুর্য হইবে যে, কেউ তা গ্রহণ করিবে না। [বুখারী পর্ব ৩৪ : /১০২ হাঃ ২২২২, মুসলিম ১/৭১, হাঃ ১৫৫]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৯৬

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, তোমাদের অবস্থা কেমন হইবে যখন তোমাদের মধ্যে মারইয়াম পুত্র ঈসা [আ.] অবতরণ করবেন আর তোমাদের ঈমাম তোমাদের মধ্য থেকেই হইবে। [বুখারী পর্ব ৬০ : /৪৯ হাঃ ৩৪৪৯, মুসলিম ১/১৭ হাঃ ১৫৫]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৭০. ঐ সময়ের বর্ণনা যখন ঈমান গ্রহণযোগ্য হইবে না।

৯৭

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আল্লাহ্‌র রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, যতক্ষণ না পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় ঘটবে ততক্ষণ ক্বিয়ামাত হইবে না, যখন সেদিক থেকে সূর্য উদিত হইবে এবং লোকেরা তা দেখবে তখন সবাই ঈমান গ্রহণ করিবে, এটাই সময় যখন কোন ব্যক্তিকে তার ঈমান কল্যাণ দিবে না। অতঃপর তিনি আয়াতটি তিলাওয়াত করিলেন। [বুখারী পর্ব ৬৫ : /৬ হাঃ ৪৬৩৬, মুসলিম ১/৭২ হাঃ ১৫৭]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৯৮

আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মাসজিদে নাবাবীতে প্রবেশ করলাম। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তখন সেখানে বসা ছিলেন। যখন সূর্য অস্ত গেল, তিনি বললেনঃ হে আবু যার! তোমার কি জানা আছে, এই সূর্য কোথায় যাচ্ছে? আবু যার [রাদি.] বলেন, আমি বললাম, আল্লাহ্ ও তাহাঁর রাসূলই সর্বাপেক্ষা অধিক জানেন। রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বললেনঃ এ সূর্য যাচ্ছে এবং অনুমতি চাচ্ছে সিজদাহর জন্য। অতঃপর সাজ্দাহর জন্য তাকে অনুমতি দেয়া হয়। একদিন তাকে হুকুম দেয়া হইবে, যেখান থেকে এসেছ সেখানে ফিরে যাও। তখন সে তার অস্তের স্থল থেকে উদিত হইবে। এরপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তিলাওয়াত করিলেন, “এটিই তার অবস্থান স্থল”।

[বুখারী পর্ব ৯৭ : /২২ হাঃ ৭৪২৪, মুসলিম ১/৭২ হাঃ ১৫৯]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৭১. রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর প্রতি ওয়াহী অবতরণের সূচনা।

৯৯

উম্মুল মুমিনীন আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

উম্মুল মুমিনীন আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ]-এর নিকট সর্বপ্রথম যে ওয়াহী আসে, তা ছিল নিদ্রাবস্থায় বাস্তব স্বপ্নরূপে। যে স্বপ্নই তিনি দেখিতেন তা একেবারে প্রভাতের আলোর ন্যায় প্রকাশিত হতো। অতঃপর তাহাঁর নিকট নির্জনতা প্রিয় হয়ে পড়ে এবং তিনি হেরার গুহায় নির্জনে অবস্থান করিতেন। আপন পরিবারের নিকট ফিরে এসে কিছু খাদ্যসামগ্রী সঙ্গে নিয়ে যাওয়া এভাবে সেখানে তিনি একাদিক্রমে বেশ কয়েক দিন ইবাদাতে মগ্ন থাকতেন। অতঃপর খাদীজাহ [রাদি.]-এর নিকট ফিরে এসে আবার একই সময়ের জন্য কিছু খাদ্যখাবার নিয়ে যেতেন। এভাবে একদিন হেরা গুহায় অবস্থানকালে তাহাঁর নিকট ওয়াহী আসলো। তাহাঁর নিকট ফেরেশতা এসে বললো, পাঠ করুন। আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বলেনঃ {“আমি বললাম, আমি পড়তে জানি না।} তিনি [সাঃআঃ] বলেনঃ {অতঃপর সে আমাকে জড়িয়ে ধরে এমনভাবে চাপ দিলো যে, আমার খুব কষ্ট হলো। অতঃপর সে আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললো, পাঠ করুন। আমি বললামঃ আমি তো পড়তে জানি না। সে দ্বিতীয়বার আমাকে জড়িয়ে ধরে এমনভাবে চাপ দিলো যে, আমার খুব কষ্ট হলো। অতঃপর সে আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললোঃ পাঠ করুন। আমি উত্তর দিলাম, আমি তো পড়তে জানি না। আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বলেন, অতঃপর তৃতীয়বারে তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে চাপ দিলেন। তারপর ছেড়ে দিয়ে বলিলেন, “পাঠ করুন আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করিয়াছেন। যিনি সৃষ্টি করিয়াছেন মানুষকে জমাট রক্ত পিণ্ড থেকে, পাঠ করুন, আর আপনার রব অতিশয় দয়ালু।” [সূরা আলাক্বঃ ১-৩]

অতঃপর এ আয়াত নিয়ে আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] প্রত্যাবর্তন করিলেন। তাহাঁর হৃদয় তখন কাঁপছিল। তিনি খাদীজাহ বিনতু খুওয়ায়লিদের নিকট এসে বলিলেন, আমাকে চাদর দ্বারা আবৃত কর, আমাকে চাদর দ্বারা আবৃত কর। তাঁরা তাঁকে চাদর দ্বারা আবৃত করিলেন। এমনকি তাহাঁর শংকা দূর হলো। তখন তিনি খাদীজাহ [রাদি.]-এর নিকট ঘটনাবৃত্তান্ত জানিয়ে তাঁকে বলিলেন, আমি আমার নিজেকে নিয়ে শংকা বোধ করছি। খাদীজাহ [রাদি.] বলিলেন, আল্লাহ্‌র কসম, কখনই নয়। আল্লাহ্ আপনাকে কখনও লাঞ্ছিত করবেন না। আপনি তো আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সদাচরণ করেন, অসহায় দুঃস্থদের দায়িত্ব বহন করেন, নিঃস্বকে সহযোগিতা করেন, মেহমানের আপ্যায়ন করেন এবং হক পথের দুর্দশাগ্রস্তকে সাহায্য করেন। অতঃপর তাঁকে নিয়ে খাদীজাহ [রাদি.] তাহাঁর চাচাতো ভাই ওয়ারাকাহ ইবনি নাওফাল ইবনি আবদুল আসাদ ইবনি আবদুল উযযার নিকট গেলেন, যিনি অন্ধকার যুগে ঈসায়ী ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ইবরানী ভাষায় লিখতে পারতেন এবং আল্লাহ্‌র তাওফীক অনুযায়ী ইবরানী ভাষায় ইনজীল হইতে ভাষান্তর করিতেন। তিনি ছিলেন অতিবৃদ্ধ এবং অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। খাদীজাহ [রাদি.] তাঁকে বলিলেন, হে চাচাতো ভাই! আপনার ভাতিজার কথা শুনুন। ওয়ারাকা তাঁকে জিজ্ঞেস করিলেন, ভাতিজা! তুমি কী দেখ? আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] যা দেখেছিলেন, সবই বর্ণনা করিলেন।

তখন ওয়ারাকাহ তাঁকে বলিলেন, এটা সেই বার্তাবাহক যাঁকে আল্লাহ মূসা [আঃ]-র নিকট পাঠিয়েছিলেন। আফসোস! আমি যদি সেদিন থাকতাম। আফসোস! আমি যদি সেদিন জীবিত থাকতাম, যেদিন তোমার কওম তোমাকে বহিস্কার করিবে। আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বলিলেন, {তারা কি আমাকে বের করে দেবে?} তিনি বলিলেন, হ্যাঁ, তুমি যা নিয়ে এসেছো অনুরূপ [ওয়াহী] যিনিই নিয়ে এসেছেন তাহাঁর সঙ্গে বৈরিতাপূর্ণ আচরণ করা হয়েছে। সেদিন যদি আমি থাকি, তবে তোমাকে প্রবলভাবে সাহায্য করব। [বুখারী পর্ব ১ : /৩ হাঃ ৩, মুসলিম ১/৭৩ হাঃ ১৬০]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১০০

জাবির ইবনি আব্দুল্লাহ্ আনসারী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

জাবির ইবনি আব্দুল্লাহ্ আনসারী [রাদি.] ওয়াহী স্থগিত হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেনঃ একদা আমি হাঁটছি, হঠাৎ আসমান হইতে একটি শব্দ শুনতে পেয়ে আমার দৃষ্টিকে উপরে তুললাম। দেখলাম, সেই ফেরেশতা, যিনি হেরা গুহায় আমার নিকট এসেছিলেন, আসমান ও যমীনের মাঝে একটি আসনে উপবিষ্ট। এতে আমি শংকিত হলাম। তৎক্ষণাৎ আমি ফিরে এসে বললাম, আমাকে চাদর দ্বারা আবৃত কর, আমাকে চাদর দ্বারা আবৃত কর। অতঃপর আল্লাহ্ তাআলা অবতীর্ণ করিলেন, “হে বস্ত্রাবৃত রাসূল! [১] উঠুন, সতর্ক করুন; আর আপনার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন; এবং স্বীয় পরিধেয় বস্ত্র পবিত্র রাখুন; [৫] এবং অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকুন।” [সূরাদি. মুদ্দাস্সিরঃ ১-৫] অতঃপর ওয়াহী পুরোদমে ধারাবাহিক অবতীর্ণ হইতে লাগল। [বুখারী পর্ব ১ : /৩ হাঃ ৪, মুসলিম ১/৩৮ হাঃ ১৬১]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১০১

ইয়াহ্ইয়াহ ইবনি কাসীর [রহ.] হইতে বর্ণিতঃ

ইয়াহ্ইয়াহ ইবনি কাসীর [রহ.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু সালামাহ ইবনি আবদুর রহমান [রহ.]-কে কুরআন মাজীদের কোন্ আয়াতটি সর্বপ্রথম নাযিল হয়েছে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলিলেন, يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ প্রথম নাযিল হয়েছে। আমি বললাম, লোকেরা তো বলে اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ প্রথম নাযিল হয়েছে। তখন আবু সালামাহ বলিলেন, আমি এ বিষয়ে জাবির ইবনি আবদুল্লাহ্ [রাদি.]-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম এবং তুমি যা বললে আমিও তাকে হুবহু তাই বলেছিলাম। জবাবে জাবির [রাদি.] বলেছিলেন, রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] আমাদেরকে যা বলেছিলেন, আমিও অবিকল তাই বলব। তিনি বলেছেন, আমি হেরা গুহায় ইতিকাফ করিতে আরম্ভ করলাম। আমার ইতিকাফ শেষ হলে আমি সেখান থেকে অবতরণ করলাম। তখন আমাকে আওয়াজ দেয়া হল। আমি ডানে তাকালাম; কিন্তু কিছু দেখিতে পেলাম না, বামে তাকালাম, কিন্তু এদিকেও কিছু দেখলাম না। এরপর আমার সামনে তাকালাম, এদিকেও কিছু দেখলাম না। এরপর পেছনে তাকালাম, কিন্তু এদিকেও আমি কিছু দেখলাম না। অবশেষে আমি উপরের দিকে তাকালাম, এবার একটা বস্তু দেখিতে পেলাম। এরপর আমি খাদীজাহ [রাদি.]-এর কাছে এলাম এবং তাকে বললাম, আমাকে বস্ত্রাচ্ছাদিত কর এবং আমার শরীরে ঠাণ্ডা পানি ঢাল। তিনি বলেন, অতঃপর তারা আমাকে বস্ত্রাচ্ছাদিত করে এবং ঠাণ্ডা পানি ঢালে। নাবী [সাঃআঃ] বলেন, এরপর নাযিল হলঃ হে বস্ত্রাচ্ছাদিত! উঠ, সতর্কবাণী প্রচার কর এবং তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর। [বুখারী পর্ব ৬৫ : /৭৪ হাঃ ৪৯২২, মুসলিম ১/৭৩ হাঃ ১৬০]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৭২. আসমানের দিকে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর উর্ধ্বাগমন এবং সলাত ফারজ হওয়া সম্পর্কে।

১০২

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আবু যার [রাদি.] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ আমি মাক্কায় থাকা অবস্থায় আমার গৃহের ছাদ উন্মুক্ত করা হল। অতঃপর জিবরীল [আ.] অবতীর্ণ হয়ে আমার বক্ষ বিদীর্ণ করিলেন। আর তা যমযমের পানি দ্বারা ধৌত করিলেন। অতঃপর হিকমাত ও ঈমানে ভর্তি একটি সোনার পাত্র নিয়ে আসলেন এবং তা আমার বুকের মধ্যে ঢেলে দিয়ে বন্ধ করে দিলেন। অতঃপর হাত ধরে আমাকে দুনিয়ার আকাশের দিকে নিয়ে চললেন। পরে যখন দুনিয়ার আকাশে আসলাম জিবরীল [আ.] আসমানের রক্ষককে বললেনঃ দরজা খোল। আসমানের রক্ষক বললেনঃ কে আপনি? জিবরীল [আ.] বললেনঃ আমি জিবরীল [আ.]। [আকাশের রক্ষক] বললেনঃ আপনার সঙ্গে কেউ রয়েছেন কি? জিবরীল বললেনঃ হাঁ মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] রয়েছেন। অতঃপর রক্ষক বললেনঃ তাকে কি ডাকা হয়েছে? জিবরীল বললেনঃ হাঁ। অতঃপর যখন আমাদের জন্য দুনিয়ার আসমানকে খুলে দেয়া হল আর আমরা দুনিয়ার আসমানে প্রবেশ করলাম তখন দেখি সেখানে এমন এক ব্যক্তি উপবিষ্ট রয়েছেন যার ডান পাশে অনেকগুলো মানুষের আকৃতি রয়েছে আর বাম পাশে রয়েছে অনেকগুলো মানুষের আকৃতি। যখন তিনি ডান দিকে তাকাচ্ছেন হেসে উঠছেন আর যখন বাম দিকে তাকাচ্ছেন কাঁদছেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ স্বাগতম ওহে সৎ নাবী ও সৎ সন্তান। আমি [রসূলুল্লাহ] জিবরীলকে বললামঃ কে এই ব্যক্তি? তিনি জবাব দিলেনঃ ইনি হচ্ছেন আদম [আ.] । আর তার ডানে বামে রয়েছে তাহাঁর সন্তানদের রূহ। তাদের মধ্যে ডান দিকের লোকেরা জান্নাতী আর বাম দিকের লোকেরা জাহান্নামী। ফলে তিনি যখন ডান দিকে তাকান তখন হাসেন আর যখন বাম দিকে তাকান তখন কাঁদেন। অতঃপর জিবরীল [আ.] আমাকে নিয়ে দ্বিতীয় আসমানে উঠলেন। অতঃপর তার রক্ষককে বললেনঃ দরজা খোল। তখন এর রক্ষক প্রথম রক্ষকের মতই প্রশ্ন করিলেন। পরে দরজা খুলে দেয়া হল। আনাস [রাদি.] বলেনঃ আবু যার [রাদি.] উল্লেখ করেন যে, তিনি {রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]} আসমানসমূহে আদাম, ইদরীস, মূসা, ঈসা এবং ইব্রাহীম [আলাইহিমুস সালাম] কে পান। কিন্তু আবু যার [রাদি.] তাদের স্থানসমূহ নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। তবে এতটুকু উল্লেখ করিয়াছেন যে, তিনি আদম [আ.]-কে দুনিয়ার আকাশে এবং ইব্রাহীম [আ.]-কে ষষ্ঠ আসমানে পান।

আনাস [রাদি.] বলেনঃ জিবরীল [আ.] যখন নাবী [সাঃআঃ] কে নিয়ে ইদরীস [আ.] এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করেন তখন ইদ্রীস [আ.] বলেনঃ মারহাবা ওহে সৎ ভাই ও পুণ্যবান নাবী। আমি [রসূলুল্লাহ] বললামঃ ইনি কে? জিবরীল বললেনঃ ইনি হচ্ছেন ইদ্রীস [আ.]। অতঃপর আমি মূসা [আ.]-এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করা কালে তিনি বলেনঃ মারহাবা হে সৎ নাবী ও পুণ্যবান ভাই। আমি বললামঃ ইনি কে? জিবরীল বললেনঃ ইনি মূসা [আ.]। অতঃপর আমি ঈসা [আ.]-এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করাকালে তিনি বলেনঃ মারহাবা হে সৎ নাবী ও পুণ্যবান ভাই। আমি বললামঃ ইনি কে? জিবরীল [আ.] বললেনঃ ইনি হচ্ছেন ঈসা [আ.]। অতঃপর আমি ইবরাহীম [আ.]-এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করলে তিনি বলেনঃ মারহাবা হে পুণ্যবান নাবী ও নেক সন্তান। আমি বললামঃ ইনি কে? জিবরীল [আ.] বললেনঃ ইনি হচ্ছেন ইব্রাহীম [আ.]।

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ অতঃপর আমাকে আরো উপরে উঠানো হল অতঃপর এমন এক সমতল স্থানে এসে আমি উপনীত হই যেখানে আমি লেখার শব্দ শুনতে পাই। ইবনি হাযম ও আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ অতঃপর আল্লাহ আমার উম্মাতের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সলাত ফারয করে দেন। অতঃপর তা নিয়ে আমি ফিরে আসি। অবশেষে যখন মূসা [আ.]-এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করি তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহ তাআলা আপনার উম্মাতের উপর কি ফারয করিয়াছেন? আমি বললামঃ পঞ্চাশ ওয়াক্ত সলাত ফারয করিয়াছেন। তিনি বললেনঃ আপনি আপনার পালনকর্তার নিকট ফিরে যান, কেননা আপনার উম্মাত তা আদায় করিতে পারবে না। আমি ফিরে গেলাম। আল্লাহ তাআলা কিছু অংশ কমিয়ে দিলেন। আমি মূসা [আ]-এর নিকট পুনরায় গেলাম আর বললামঃ কিছু অংশ কমিয়ে দিয়েছেন। তিনি বললেনঃ আপনি পুনরায় আপনার রবের নিকট ফিরে যান। কারণ আপনার উম্মাত এটিও আদায় করিতে পারবে না। আমি ফিরে গেলাম। তখন আরো কিছু অংশ কমিয়ে দেয়া হলো। আবারও মূসা [আ]-এর নিকট গেলাম, এবারও তিনি বললেনঃ আপনি পুনরায় আপনার প্রতিপালকের নিকট যান। কারণ আপনার উম্মত এটিও আদায় করিতে সক্ষম হইবে না। তখন আমি পুনরায় গেলাম, তখন আল্লাহ বললেনঃ এই পাঁচই [নেকির দিক দিয়ে] পঞ্চাশ [বলে গণ্য হইবে]। আমার কথার কোন রদবদল হয় না। আমি পুনরায় মূসা [আ]-এর নিকট আসলে তিনি আমাকে আবারও বললেনঃ আপনার প্রতিপালকের নিকট পুনরায় যান। আমি বললামঃ পুনরায় আমার প্রতিপালকের নিকট যেতে আমি লজ্জাবোধ করছি। অতঃপর জিবরীল [আ] আমাকে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত নিয়ে গেলেন। আর তখন তা বিভিন্ন রঙে আবৃত ছিল, যার তাৎপর্য আমি অবগত ছিলাম না।

অতঃপর আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হলে আমি দেখিতে পেলাম যে, তাতে রয়েছে মুক্তোমালা আর তার মাটি হচ্ছে কস্তুরী। [বুখারী পর্ব ৮ : /১ হাঃ ৩৪৯, মুসলিম ১/৭৪, হাঃ ১৬৩]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১০৩

মালিক ইবনি সাসাআ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

মালিক ইবনি সাসাআ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] বলেছেন, আমি কাবা ঘরের নিকট নিদ্রা ও জাগরণ- এ দুঅবস্থার মাঝামাঝি অবস্থায় ছিলাম। অতঃপর তিনি দুব্যক্তির মাঝে অপর এক ব্যক্তি অর্থাৎ নিজের অবস্থা উল্লেখ করে বলিলেন, আমার নিকট সোনার একটি পেয়ালা নিয়ে আসা হল- যা হিকমত ও ঈমানে ভরা ছিল। অতঃপর আমার বুক হইতে পেটের নীচ পর্যন্ত চিরে ফেলা হল। অতঃপর আমার পেট যমযমের পানি দিয়ে ধোয়া হল। অতঃপর তা হিকমত ও ঈমানে পূর্ণ করা হল এবং আমার নিকট সাদা রঙের চতুষ্পদ জন্তু আনা হল, যা খচ্চর হইতে ছোট আর গাধা হইতে বড় অর্থাৎ বোরাক। অতঃপর তাতে চড়ে আমি জিব্রাঈল [আ.] সহ চলতে চলতে পৃথিবীর নিকটতম আসমানে গিয়ে পৌঁছলাম। জিজ্ঞেস করা হল, এ কে? উত্তরে বলা হল, জিব্রাঈল। জিজ্ঞেস করা হল, আপনার সঙ্গে আর কে? উত্তর দেয়া হল, মুহাম্মদ [সাঃআঃ]। প্রশ্ন করা হল তাঁকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। বলা হল, তাঁকে মারহাবা, তাহাঁর আগমন কতই না উত্তম! অতঃপর আমি আদাম [আ.]-এর নিকট গেলাম। তাঁকে সালাম করলাম। তিনি বলিলেন, পুত্র ও নাবী! তোমার প্রতি মারহাবা। অতঃপর আমরা দ্বিতীয় আসমানে গেলাম। জিজ্ঞেস করা হল, এ কে? তিনি বলিলেন, আমি জিব্রাঈল। জিজ্ঞেস করা হল, আপনার সঙ্গে আর কে? তিনি বলিলেন, মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]। প্রশ্ন করা হল, তাঁকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। বলা হল, তাঁকে মারহাবা আর তাহাঁর আগমন কতই না উত্তম! অতঃপর আমি ঈসা ও ইয়াহইয়া [আ.]-এর নিকট আসলাম। তাঁরা উভয়ে বলিলেন, ভাই ও নাবী! আপনার প্রতি মারহাবা। অতঃপর আমরা তৃতীয় আসমানে পৌঁছলাম। জিজ্ঞেস করা হল, এ কে? উত্তরে বলা হল, আমি জিব্রাঈল। প্রশ্ন করা হল, আপনার সঙ্গে কে? বলা হল, মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]। জিজ্ঞেস করা হল, তাঁকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। বলা হল, তাঁকে মারহাবা আর তাহাঁর আগমন কতই না উত্তম! অতঃপর আমি ইউসুফ [আ.]-এর নিকট গেলাম। তাঁকে আমি সালাম করলাম। তিনি বলিলেন, ভাই ও নাবী! আপনাকে মারহাবা। অতঃপর আমরা চতুর্থ আসমানে পৌঁছলাম। প্রশ্ন করা হল, এ কে? তিনি বলিলেন, আমি জিবরাঈল। জিজ্ঞেস করা হল, আপনার সঙ্গে কে? বলা হল, মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]। প্রশ্ন করা হল, তাঁকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? জবাবে বলা হল, হ্যাঁ। বলা হল, তাঁকে মারহাবা আর তাহাঁর আগমন কতই না উত্তম! অতঃপর আমি ইদ্রীস [আ.]-এর নিকট গেলাম। আমি তাঁকে সালাম করলাম। তিনি বলিলেন, ভাই ও নাবী! আপনাকে মারহাবা। এরপর আমরা পঞ্চম আসমানে পৌঁছলাম। জিজ্ঞেস করা হল, এ কে? বলা হল আমি জিব্রাঈল। প্রশ্ন হল আপনার সঙ্গে আর কে? বলা হল, মুহাম্মদ [সাঃআঃ]। প্রশ্ন করা হল, তাঁকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? বলা হল, হ্যাঁ। বলিলেন, তাঁকে মারহাবা আর তাহাঁর আগমন কতই না উত্তম! অতঃপর আমরা হারুন [আ.]-এর নিকট গেলাম। আমি তাকে সালাম করলাম। তিনি বলিলেন, ভাই ও নাবী! আপনাকে মারহাবা। অতঃপর আমরা ষষ্ঠ আসমানে পৌঁছলাম। জিজ্ঞেস করা হল, এ কে? বলা হল, আমি জিব্রাঈল। প্রশ্ন করা হল, আপনার সঙ্গে কে? বলা হল, মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]। বলা হল, তাঁকে আনার জন্য পাঠানো হয়েছে? তাঁকে মারহাবা আর তাহাঁর আগমন কতই না উত্তম। অতঃপর আমি মূসা [আ.]-এর নিকট গেলাম। আমি তাঁকে সালাম করলাম। তিনি বলিলেন, ভাই ও নাবী আপনাকে মারহাবা। অতঃপর আমি যখন তাহাঁর কাছ দিয়ে গেলাম, তখন তিনি কেঁদে ফেললেন। তাঁকে বলা হল, আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি বলিলেন, হে রব! এ ব্যক্তি যে আমার পরে প্রেরিত, তাহাঁর উম্মাত আমার উম্মাতের চেয়ে অধিক পরিমাণে বেহেশতে যাবে। অতঃপর আমরা সপ্তম আকাশে পৌঁছলাম। প্রশ্ন করা হল, এ কে? বলা হল, আমি জিব্রাঈল। জিজ্ঞেস করা হল, আপনার সঙ্গে কে? বলা হল, মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]। বলা হল, তাঁকে আনার জন্য পাঠানো হয়েছে? তাঁকে মারহাবা। তাহাঁর আগমন কতই না উত্তম! অতঃপর আমি ইব্রাহীম [আ.]-এর নিকট গেলাম। তাঁকে সালাম করলাম। তিনি বলিলেন, হে পুত্র ও নাবী! আপনাকে মারহাবা। অতঃপর বায়তুল মামূরকে আমার সামনে প্রকাশ করা হল। আমি জিব্রাঈল [আ.]-কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলিলেন, এটি বায়তুল মামূর। প্রতিদিন এখানে সত্তর হাজার ফেরেশতা সলাত আদায় করেন। এরা এখান হইতে একবার বাহির হলে দ্বিতীয় বার ফিরে আসেন না। এটাই তাদের শেষ প্রবেশ। অতঃপর আমাকে সিদ্রাতুল মুনতাহা দেখানো হল। দেখলাম, এর ফল যেন হাজারা নামক জায়গার মটকার মত। আর তার পাতা যেন হাতীর কান। তার উৎসমূলে চারটি ঝরণা প্রবাহিত। দুটি ভিতরে আর দুটি বাইরে। এ সম্পর্কে আমি জিব্রাঈলকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলিলেন, ভিতরের দুটি জান্নাতে অবস্থিত। আর বাইরের দুটির একটি হল ফুরাত আর অপরটি হল [মিশরের] নীল নদ। অতঃপর আমার প্রতি পঞ্চাশ ওয়াক্ত সলাত ফারয করা হয়। আমি তা গ্রহণ করে মূসা [আ.]-এর নিকট ফিরে এলাম। তিনি বলিলেন, কী করে এলেন? আমি বললাম, আমার প্রতি পঞ্চাশ ওয়াক্ত সলাত ফারয করা হয়েছে। তিনি বলিলেন, আমি আপনার চেয়ে মানুষ সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত আছি। আমি বানী ইসরাঈলের রোগ সারানোর যথেষ্ট চেষ্টা করেছি। আপনার উম্মাত এত আদায়ে সমর্থ হইবে না। অতএব আপনার রবের নিকট ফিরে যান এবং তা কমানোর আবেদন করুন। আমি ফিরে গেলাম এবং তাহাঁর নিকট আবেদন করলাম। তিনি সলাত চল্লিশ ওয়াক্ত করে দিলেন। আবার তেমন ঘটল। সলাত ত্রিশ ওয়াক্ত করে দেয়া হল। আবার তেমন ঘটলে তিনি সলাত বিশ ওয়াক্ত করে দিলেন। আবার তেমন ঘটল। তিনি সলাতকে দশ ওয়াক্ত করে দিলেন। অতঃপর আমি মূসা [আ.]-এর নিকট আসলাম। তিনি আগের মত বলিলেন, এবার আল্লাহ সলাতকে পাঁচ ওয়াক্ত ফারয করে দিলেন। আমি মূসার নিকট আসলাম। তিনি বলিলেন, কী করে আসলেন? আমি বললাম, আল্লাহ পাঁচ ওয়াক্ত ফারয করে দিয়েছেন। এবারও তিনি আগের মত বলিলেন, আমি বললাম, আমি তা মেনে নিয়েছি। তখন আওয়াজ এল, আমি আমার ফারয জারি করে দিয়েছি। আর আমার বান্দাদের হইতে হালকা করেও দিয়েছি। আমি প্রতিটি নেকির বদলে দশগুণ সওয়াব দিব। [বুখারী পর্ব ৫৯ : /৬ হাঃ ৩২০৭, মুসলিম ১/৭৪ হাঃ ১৬৪]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১০৪

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিত। নাবী [সাঃআঃ] বলেন, মিরাজের রাত্রে আমি মূসা [আ.]-কে দেখেছি। তিনি গোধুম বর্ণের পুরুষ ছিলেন, দেহের গঠন ছিল লম্বা। মাথার চুল ছিল কোঁকড়ানো। যেন তিনি শানূআ গোত্রের এক ব্যক্তি । আমি ঈসা [আ.]-কে দেখিতে পাই। তিনি ছিলেন মধ্যম গঠনের লোক। তাহাঁর দেহবর্ণ ছিল সাদা লালে মিশ্রিত। মাথার চুল ছিল অকুঞ্চিত। জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক মালিক এবং দজ্জালকেও আমি দেখেছি। আল্লাহ তাআলা নাবী[সাঃআঃ]-কে বিশেষ করে যে সকল নিদর্শনসমূহ দেখিয়েছেন তার মধ্যে এগুলোও ছিল। সুতরাং তাহাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে তুমি সন্দেহ পোষণ করিবে না। [বুখারী পর্ব ৫৯ : /৭ হাঃ ৩২৩৯, মুসলিম ১/৭৪ হাঃ ১৬৫]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১০৫

মুজাহিদ [রহ.] হইতে বর্ণিতঃ

মুজাহিদ [রহ.] হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা ইবনি আব্বাস [রাদি.]-এর নিকটে ছিলাম, লোকেরা দাজ্জালের আলোচনা করে বলল যে, রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, তাহাঁর দু চোখের মাঝে [কপালে] কা-ফির লেখা থাকিবে। রাবী বলেন, ইবনি আব্বাস [রাদি.] বলিলেন, এ সম্পর্কে নাবী [সাঃআঃ] হইতে কিছু শুনিনি। অবশ্য তিনি বলেছেনঃ আমি যেন দেখছি মূসা [আ.] নীচু ভূমিতে অবতরণকালে তালবিয়া পাঠ করছিলেন। [বুখারী পর্ব ২৫ : /৩০ হাঃ ১৫৫৫, মুসলিম ১/৭৩, হাঃ ১৬৬]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১০৬

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] বলেছেন, যে রাতে আমার মিরাজ হয়েছিল, সে রাতে আমি মূসা [আ.]-কে দেখিতে পেয়েছি। তিনি হলেন, হালকা পাতলা দেহের অধিকারী ব্যক্তি, তাহাঁর চুল কোঁকড়ানো ছিল না। মনে হচ্ছিল তিনি যেন ইয়ামান দেশীয় শানূআ গোত্রের এক ব্যক্তি, আর আমি ঈসা [আ.]-কে দেখিতে পেয়েছি। তিনি হলেন মধ্যম দেহবিশিষ্ট, গায়ের রং ছিল লাল। যেন তিনি এক্ষুণি গোসলখানা হইতে বের হলেন। আর ইব্রাহীম [আ.]-এর বংশধরদের মধ্যে তাহাঁর সঙ্গে আমার চেহারার মিল সবচেয়ে বেশি। অতঃপর আমার সম্মুখে দুটি পেয়ালা আনা হল। তার একটিতে ছিল দুধ আর অপরটিতে ছিল শরাব। তখন জিব্রাঈল [আ.] বলিলেন, এ দুটির মধ্যে যেটি চান আপনি পান করিতে পারেন। আমি দুধের পেয়ালাটি নিলাম এবং তা পান করলাম। তখন বলা হল, আপনি স্বভাব প্রকৃতিকে বেছে নিয়েছেন। দেখুন, আপনি যদি শরাব নিয়ে নিতেন, তাহলে আপনার উম্মাতগণ পথভ্রষ্ট হয়ে যেত। [বুখারী পর্ব ৬০ : /২৪ হাঃ ৩৩৯৪, মুসলিম ১/৭৪ হাঃ ১৬৮]

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

Leave a Reply