নবী [সাঃ] এর বংশধরকে সাদকাহ উসূলকারী নিযুক্ত না করা প্রসঙ্গে

নবী [সাঃ] এর বংশধরকে সাদকাহ উসূলকারী নিযুক্ত না করা প্রসঙ্গে

নবী [সাঃ] এর বংশধরকে সাদকাহ উসূলকারী নিযুক্ত না করা প্রসঙ্গে  >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৫১. অধ্যায়ঃ নবী [সাঃআঃ]-এর বংশধরকে সাদকাহ উসূলকারী নিযুক্ত না করা প্রসঙ্গে

২৩৭১

আবদুল মুত্ত্বালিব ইবনি রবীআহ্‌ ইবনি হারিস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা রবীআহ্‌ ইবনি হারিস ও আব্বাস ইবনি আবদুল মুত্তালিব [রাদি.] সম্মিলিতভাবে বলিলেন, আল্লাহর শপথ! আমরা এ ছেলে দুটিকে অর্থাৎ আমি ও ফায্‌ল ইবনি আব্বাস [রাদি.]-কে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে যদি পাঠিয়ে দিতাম এবং তারা উভয়ে তার কাছে গিয়ে তাদেরকে যাকাত আদায়কারী হিসেবে নিয়োগের জন্য আবেদন করত। অতঃপর তারা অন্যান্য আদায়কারীদের ন্যায় যাকাত আদায় করে এনে দিতে এবং অন্যান্যরা যেভাবে পারিশ্রামিক পায় তারাও সেভাবে পারিশ্রামিক পেত। রাবী বলেন, তাঁরা এ ব্যাপার নিয়ে আলাপ করছিলেন, এমন সময় আলী ইবনি আবু ত্বলিব [রাদি.] এসে তাঁদের মাঝে দাঁড়ালেন। তাঁরা এ প্রস্তাবটি তাহাঁর কাছে উত্থাপন করিলেন। আলী [রাদি.] বলিলেন, তোমরা এ কাজ করো না। আল্লাহর শপথ! তিনি এটা করবেন না [কারণ আমাদের জন্য যাকাত হারাম]। তখন রাবীআহ্‌ ইবনি হারিস [রাদি.] তাহাঁর প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে বলিলেন, আল্লাহর শপথ! “তুমি শুধু বিদ্বেষের বশীভূত হয়েই আমাদের সাথে এরূপ করছো। অথচ তুমি যে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর জামাতা হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেছো এজন্যে তো তোমার প্রতি আমরা কোন প্রকার বিদ্বেষ পোষণ করছি না!” তখন আলী [রাদি.] বলিলেন, এদের দুজনকে পাঠিয়ে দাও। অতঃপর তারা উভয়ে চলে গেল এবং আলী [রাদি.] বিছানায় শুয়ে থাকলেন। আবদুল মুত্ত্বালিব ইবনি রাবীআহ্‌ বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যুহরের নামাজ আদায় করিলেন। আমরা তাড়াতাড়ি করে তাহাঁর প্রত্যাবর্তন করার পূর্বেই তাহাঁর কামরার কাছে গিয়ে তাহাঁর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকলাম। তিনি এসে আমাদের দুজনের কান ধরে [স্নেহসিক্ত কন্ঠে] বলিলেন, “কোন মতলবে এসেছো, আসল কথাটা সাহস করে বলে ফেলো।” তারপর তিনি ও আমরা হুজরার মধ্যে প্রবেশ করলাম। এ সময় তিনি যায়নাব বিনতু জাহ্‌শ [রাদি.]-এর ঘরে অবস্থান করছিলেন। রাবী বলেন, এবার আমরা পরস্পরকে কথাটি তোলার জন্য বলছিলাম। অবশেষে আমাদের একজনে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! “আপনি সর্বশ্রেষ্ট অনুগ্রহকারী এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী। আমাদের এখন বিয়ের বয়স হয়েছে, অথচ আমরা বেকার। তাই আপনার শরনাপন্ন হয়েছি, অন্যান্য যাকাত আদায়কারীদের মত আপনি আমাদেরকেও যাকাত আদায়কারী হিসেবে নিয়োগ করুন; অন্যান্যরা যেভাবে যাকাত আদায় করে এনে দেয় আমরা তাই করব এবং তাতে আমরাও কিছু পারিশ্রামিক পাব।” এ কথার পর তিনি দীর্ঘ সময় ধরে চুপ করে থাকলেন। এমনকি আমরা পুনর্বার কথা বলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। পর্দার আড়াল থেকে যায়নাব [রাদি.] কথা না বলার জন্য আমাদেরকে ইঙ্গিত করিলেন। অতঃপর তিনি বলিলেন, মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]-এর পরিবার-পরিজন তথা বংশধরদের জন্য যাকাত গ্রহণ করা সমীচীন নয়। কেননা যাকাত হলো মানুষের [সম্পদের] ময়লা। বরং তোমরা গিয়ে খুমুসের কোষাধ্যক্ষ মাহ্‌মিয়্যাহ্‌ এবং নাওফাল ইবনি হারিস ইবনি আবদুল মুত্ত্বালিবকে আমার কাছে ডেকে আনো। রাবী বলেন, তারা দুজনে উপস্থিত হলে প্রথমে তিনি [সাঃআঃ] মাহ্‌মিয়্যাহ্‌ বললেনঃ “তুমি তোমার কন্যাকে এ ছেলে অর্থাৎ ফায্‌ল ইবনি আব্বাসের সাথে বিয়ে দাও। তিনি তাই করিলেন। অতঃপর তিনি নাওফাল ইবনি হারিসকে বললেনঃ তুমি এ ছেলের [অর্থাৎ আমার] সাথে তোমার কন্যার বিয়ে দাও। তিনি আমাকে বিয়ে করিয়ে দিলেন। অতঃপর তিনি মাহ্‌মিয়্যাকে বলিলেন, এ দুজনের পক্ষ থেকে এত এত পরিমাণ মুহরানা খুমুসের তহবিল থেকে আদায় করে দাও।

যুহরী বলেন, আমার শায়খ আবদুল্লাহ ইবনি আবদুল্লাহ আমার কাছে মুহরের নির্দিষ্ট কোন পরিমাণ উল্লেখ করেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩৪৯, ইসলামিক সেন্টার-২৩৪৯]

২৩৭২

আবদুল মুত্ত্বালিব ইবনি রবীআহ্‌ ইবনি হারিস ইবনি আবদুল মুত্ত্বালিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবদুল মুত্ত্বালিব ইবনি রাবীআহ্‌ ইবনি হারিস ও আব্বাস ইবনি আবদুল মুত্ত্বালিব উভয়ে নিজ নিজ পুত্র আবদুল মুত্ত্বালিব ইবনি রাবীআহ্‌ ও ফায্‌ল ইবনি আব্বাসকে বলিলেন, তোমরা দুজন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে যাও। হাদীসের বাকী অংশ মালিক কর্তৃক বর্ণিত উপরের হাদীসের অনুরূপ। এ বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে- তারপর আলী [রাদি.] নিজের চাদর বিছিয়ে শুয়ে পড়লেনে এবং বলিলেন, “আমি হাসানের পিতা এবং সাইয়্যিদ। আল্লাহর শপথ! তোমরা যে কথা বলে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে তোমার ছেলেদের পাঠিয়েছো তারা তার জবাব নিয়ে না আসা পর্যন্ত আমি এখান থেকে নড়ব না।

এ হাদীসে আরো আছে, তিনি আমাদের উদ্দেশে বললেনঃ “যাকাতের এ অর্থ হলো মানুষের [সম্পদের] আবর্জনা। তাই এ অর্থ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ও তাহাঁর বংশধরদের জন্য হালাল নয়।” অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ মাহ্‌মিয়্যাহ্‌ ইবনি জায-কে আমার কাছে ডেকে আনো। তিনি বানী আসাদ গোত্রের লোক ছিলেন। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাকে খুমুসের [গনীমাতের মালের] কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ করেছিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩৫০, ইসলামিক সেন্টার-২৩৫০]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply