১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – সব ধরনের সুন্নাত বিসয়ক হাদিস

১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – সব ধরনের সুন্নাত বিসয়ক হাদিস

১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – সব ধরনের সুন্নাত বিসয়ক হাদিস >>অধ্যায়-১ঃ ঘুমের সুন্নত >> অধ্যায়-২ঃ ওযূ ও নামাযের সুন্নাত >> অধ্যায়-৩ঃ রোযার সুন্নত >> অধ্যায়-৪ঃ সফরের সুন্নত >> অধ্যায়-৫ঃ পোশাক ও পানাহারের সুন্নত >> অধ্যায়-৬ঃ যিক্‌র ও দুআ >> অধ্যায়-৭ঃ বিভিন্ন প্রকার সুন্নতসমূহ

বইটির PDF/ মুল কপি পেতে হলে নিচে Comment/ কমেন্ট এর মাধ্যমে আমাদেরকে জানান, তাহলে আমরা আপনাদেরকে পাঠিয়ে দিতে পারব। ইনশাআল্লাহ।

অধ্যায়-১ঃ ঘুমের সুন্নত

পরিচ্ছেদ ১: ওজু অবস্থায় শোয়া

১ : বারা ইবনি আযেব [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নবী করীম [সাঃআঃ] বারা ইবনি আযেব [রাদি.]-কে বলেন, “যখন তুমি তোমার শয্যা গ্রহনের ইচ্ছা করিবে, তখন নামাযের ন্যায় ওজু করে ডান কাত হয়ে শয়ন করিবে।

[বুখারী ৬৩১১, মুসলিম ৬৮৮২] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ২: ঘুমের পূর্বে সূরা ইখলাস নাস ও ফালাক পড়া

২: আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নবী করীম [সাঃআঃ] প্রতি রাত্রে শয্যা গ্রহনের সময় তালুদ্বয় একত্রিত করে তাতে সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে ফুঁ দিতেন। অতঃপর হাতদ্বয় দ্বারা শরীরের যতদূর পর্যন্ত বুলানো সম্ভব হতো, ততদূর পর্যন্ত বুলিয়ে নিতেন। স্বীয় মাথা, চেহারা এবং শরীরের সামনের দিক থেকে আরম্ভ করিতেন। এইভাবে তিনি তিনবার করিতেন।

[বুখারী ৫০১৭] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৩: শোয়ার সময় তাকবীর ও তাসবীহ পাঠ করা

৩ : আলী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ফাতিমা [রাদি.] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর কাছে একটি চাকর চাইলে, তিনি বলিলেন, “আমি কি তোমাদের দুজনকে এমন জিনিস বলে দেবো না, যা তোমাদের চাকরের চেয়ে উত্তম? তোমরা যখন বিছানায় শুতে যাবে, তখন ৩৪ বার আল্লাহু আকবর, ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ এবং ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ পড়বে। এটা তোমাদের চাকরের চেয়েও উত্তম।”

[বুখারী ৬৩১৮, মুসলিম ৬৯১৫] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৪: রাত্রে ঘুম ভেঙ্গে গেলে তার দুআ

৪ : উবাদা ইবনি সামিত [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

উবাদা ইবনি সামিত [রাদি.] নবী করীম [সাঃআঃ] থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি রাত্রে নিদ্রা ভঙ্গ হলে বলে, [লা-ইলাহা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা-শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া সুবহানাল্লা-হ আল্লাহু আকবার ওয়ালা হাউলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ।] অর্থাৎ, আল্লাহ্ ছাড়া সত্যিকার কোন উপাস্য নেই। তিনি এক ও একক। তাহাঁর কোন শরীক নেই। রাজত্ব ও সমস্ত প্রশংসা তাহাঁরই। তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাশীল। আল্লাহ্‌রই সমস্ত প্রশংসা। তিনি পূত-পবিত্র ও মহান। তাহাঁর সাহায্য ব্যতীত কারো ভাল কাজ করার ও মন্দ কাজ থেকে বেঁচে থাকার শক্তি নেই। তারপর সে যদি আল্লাহ্‌র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে, “হে আল্লাহ্! আমাকে ক্ষমা করে দাও, অথবা অন্য দুয়া করে, তাহলে তার দুআ কবুল হয়।”

[বুখারী ১১৫৪] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৫: নিদ্রা থেকে জাগ্রত হলে এ ব্যাপারে প্রমানিত দুআটি পড়াঃ

৫ : বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ

“আলহামদুলিল্লা হিল্লাযী আহইয়ানা বাদামা-আমাতানা ওয়া ইলাই-হিন্নুশূর” অর্থাৎ, সেই আল্লাহ্‌র সমস্ত প্রশংসা যিনি আমাকে মৃত্যুর পর আবার জীবিত করিলেন। আর তাহাঁরই নিকটে প্রত্যাবর্তন করিতে হইবে।

[হাদীসটি ঈমাম বুখারী হুযায়ফা ইবনি ইয়ামান [রাদি.] থেকে বর্ণনা করিয়াছেন। ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

অধ্যায়-২ঃ ওযূ ও নামাযের সুন্নাত

পরিচ্ছেদ ৬: এক অঞ্জলি পানি দিয়ে কুলি করা ও নাকে দেওয়া

৬ : আব্দুল্লাহ ইবনি যায়েদ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এক অঞ্জলি পানি দিয়ে কুলি করিয়াছেন ও নাকে দিয়েছেন।

[মুসলিম ৫৫৫] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৭: গোসলের পূর্বে ওযূ করা

৭ : আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন ফরয গোসল করিতেন, তখন প্রথমে স্বীয় হস্তদ্বয় ধৌত করিতেন। অতঃপর নামাযের ওযূর ন্যায় ওযূ করিতেন। তারপর তাহাঁর দুহাত দিয়ে তিন অঞ্জলি পানি নিজের মাথায় ঢালতেন। পরিশেষে সমপ্ত শরীরে পানি ঢেলে দিতেন।”

[বুখারী ২৩৪] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৮: অযূর শেষে দুআ

৮ : উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে যে কেউ সুন্দর করে অযূ করে বলে, আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আবদুহূ ওয়া রসূলুহ তাহাঁর জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়া হইবে। সে যেটা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করিবে।”

[মুসলিম ২৩৪] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৯: ওযু-গোসলে পানি পরিমিত খরচ করা

৯ : আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী করীম [সাঃআঃ] একসা হইতে পাঁচ মুদ [কম-বেশী ২৫০০ থেকে ৩১২৫ গ্রাম] পর্যন্ত পানি দিয়ে গোসল এবং এক মুদ [কম-বেশী ৬২৫গ্রাম] পানি দিয়ে ওযু করিতেন।”

[বুখারী ২০১, মুসলিম ৩২৫] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ১০: ওযুর পর দুরাকআত নামায পড়া

১০ : বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ

নবী করীম [সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমার ন্যায় এরূপ অযু করে একাগ্র চিত্তে দুরাকআত নামায পড়বে, তার পূর্বের সকল গোনাহ মাফ করে দেওয়া হইবে।

[বুখারী ১৫৯, মুসলিম ৫৩৯] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ১১: মুআযযিনের সাথে সাথে আযানের শব্দগুলি বলা এবং আযানের শেষে নবীর উপর দরূদ পাঠ করা

১১ : আব্দুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি নবী করীম [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছেন, তিনি বলেছেন, “যখন তোমরা মুআযযিনের আযান শুনবে, তখন তোমরাও তার সাথে অনুরূপ বলবে। তারপর আমার উপর দরূদ পাঠ করিবে। কেননা যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করে, তার উপর আল্লাহ্‌ দশটি রহমত বর্ষণ করেন।”

[মুসলিম ৩৮৪] নবীর উপর দরূদ পাঠ করে এই দুআটি পড়বে,

। اَللّهُمَّ رَبَّ هذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ، وَالصَّلاَةِ الْقَائِمَةِ، آتِ مُحَمَّداً الْوَسِيْلَةَ وَالْفَضِيْلَةَ وَابْعَثْهُ مَقَاماً مَّحْمُوْداً الَّذِيْ وَعَدْتَّهُ

উচ্চারণ:- “আল্লাহুম্মা রাব্বাহা-যিহিদ দাওয়াতিত তা-ম্মাতি অসসালা-তিল ক্বা-ইমাহ্‌, আ-তি মুহাম্মাদানিল অসীলাতা অলফাযীলাহ্‌, অবআসহু মাক্বা-মাম মাহ্‌মূদানিল্লাযী অআত্তাহ্‌।” (অর্থাৎ, হে আল্লাহ্! এই পূর্ণ আহবান এবং প্রতিষ্ঠিত নামাযের প্রভু, মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]-কে সম্মান ও উচ্চতম মর্যাদা দান করো। তাঁকে মাক্কামি মাহমুদে [প্রশংসিত স্থানে] পৌঁছিয়ে দাও, যার প্রতিশ্রুতি তুমি তাঁকে দিয়েছো।”)

[বুখারী] যে ব্যক্তি এই দুআটি পড়বে, তার জন্য নবীর সুপারিশ ওয়াজিব হয়ে যাবে। ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ১২: বেশী বেশী মিসওয়াক করা

১২ : আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, “আমার উম্মতের উপর যদি কষ্টকর মনে না করতাম, তাহলে তাদেরকে প্রত্যেক নামাযের সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ করতাম।”

[বুখারী ৮৮৭, মুসলিম ২৫২] ** নিদ্রা থেকে জাগ্রত হয়ে, অযু করার সময়, মুখের গন্ধ পরিবর্তন হলে, কুরআন তেলাওয়াতের সময় এবং বাড়িতে প্রবেশ করে মিসওয়াক করাও সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত। ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ১৩: অগ্রিম মসজিদে যাওয়া

১৩ :আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, “আর তারা যদি জানতো অগ্রীম নামাযে আসার ফযীলত কত বেশী, তাহলে অবশ্যই তারা আগেই [নামাযের জন্য] আসতো।”

[বুখারী ৬১৫, মুসলিম ৪৩৭] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ১৪: পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া

১৪ : আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম] “আমি কি তোমাদের এমন জিনিসের খবর দেবো না যার দ্বারা আল্লাহ্ গোনাহ মাফ করেন এবং তোমাদের মর্যাদা উন্নত হয়? সাহাবাগণ বলিলেন, অবশ্যই বলুন হে আল্লাহ্‌র রাসুল! তিনি বলিলেন, তা হচ্ছে, কষ্টের সময় সুন্দরভাবে অযু করা, মসজিদের দিকে বেশী বেশী পদচারণা করা এবং এক নামাযের পর অন্য নামাযের জন্য অপেক্ষা করা। আর ইহা হলো জিহাদে প্রতিরক্ষার কাজের ন্যায়।”

[মুসলিম ২৫১] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ১৫: শান্ত ও ধীরস্থিরভাবে নামাযের জন্য আসাঃ

১৫ : আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনিয়াছি, তিনি বলেছেন, “যখন নামায আরম্ভ হয়ে যায়, তখন দৌড়ে তাতে শামিল হয়ো না। বরং ধীরস্থির ভাবে হেঁটে এসে তাতে শামিল হও। যতটুকু পাও পড়ে নাও এবং যতটুকু ছুটে যায় পরে পূরণ করে নাও।”

[বুখারী ৯০৮, মুসলিম ৬০২] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ১৬: মসজিদে প্রবেশ করার সময় ও বের হওয়ার সময় দুআ পড়া

১৬ : আবু হুমাইদ আস সায়েদী অথবা আবু উসাইদ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, “তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে, তখন যেন বলে,

আল্লাহুম্মাফ তাহলী আবওয়াবা রাহমাতিক। [হে আল্লাহ্! আমার জন্য তোমার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দাও।] আর যখন বের হয়, তখন যেন বলে,

আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন ফায-লীকা। [হে আল্লাহ্! আমি তোমার অনুগ্রহ কামনা করছি।]”

[মুসলিম ৭১৩] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ১৭: সুতরা সামনে রেখে নামায পড়া

১৭ : মুসা ইবনি তালহা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

মুসা ইবনি তালহা [রাদি.] তার পিতা থেকে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ নিজের সামনে বাহনের জিনের পিছনের কাঠের ন্যায় কিছু রেখে নিয়ে নামায পড়লে সামনে দিকে কেউ অতিক্রম করলে তার কোন পরোয়া করার দরকার নেই।”

[মুসলিম ৪৯৯] *সুতরা হলো, যাকে সামনে করে বা সামনে রেখে মুসাল্লী নামায পড়ে। যেমন, দেওয়াল অথবা কোন কাঠ কিংবা অন্য কোন জিনিস। এর উচ্চতা হইবে প্রায় ১২ ইঞ্চি [এক ফিট] পরিমাণ। ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ১৮: দুই সাজদার মাঝখানে ইক্কআর নিয়মে বসা

১৮ : আবু যুবায়ের হইতে বর্ণিতঃ

তিনি ত্বাউসকে বলিতে শুনেছেন, তিনি বলেছেন, আমরা ইবনি আব্বাস [রাদি.] কে দুপায়ের উপর ইক্কআর নিয়মে বসা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলিলেন, এটা সুন্নত। আমরা তাঁকে বললাম, এতে তো পায়ের প্রতি যুলুম করা হয়। তখন ইবনি আব্বাস [রাদি.] বলিলেন, বরং এটা তোমার নবীর সুন্নত।

[মুসলিম ৫৩৬] *ইক্কআ হল, দুপাকে খাড়া রেখে গোড়ালির উপর বসা। আর এটা হয় দুই সাজদার মধ্যের বৈঠকে। ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ১৯: শেষ বৈঠক নিতম্ব জমিনে লাগিয়ে বসাঃ

১৯ : আবু হুমায়েদ আসসায়েদী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, “রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন শেষ রাকাআতে বসতেন, তখন বাম পা এগিয়ে দিয়ে ডান পা খাড়া করে দিয়ে নিতম্বের উপর বসতেন।”

[বুখারী ৮২৮] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ২০: সালামের পূর্বে বেশী বেশী দুআ করা

২০ : আব্দুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা যখন নবী করীম [সাঃআঃ]-এর পিছনে নামায পড়তাম—শেষে বলিলেন, অতঃপর [তাশাহহুদ ও দরূদের পর] প্রত্যেকে নিজের পছন্দমত দুআ বেছে নিয়ে দুআ করিবে।”

[বুখারী ৮৩৫] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ২১: সুন্নত নামাযগুলি আদায় করা

২১ : উম্মে হাবীবা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছেন যে, “কোন মুসলিম যখন আল্লাহ্‌র জন্য প্রতিদিন ফরয নামাযগুলো ছাড়াও আরো বার রাকআত সুন্নত নামায পড়ে, আল্লাহ্ তার জন্য জান্নাতের একটি ঘর তৈরী করেন।”

[মুসলিম ১৬৯৬] *সুন্নত নামায হলো বার রাকআত যোহরের পূর্বে চার রাকআত ও পরে দুরাকআত, মাগরিবের পরে দুরাকআত, ঈশার পর দুরাকআত এবং ফজরের পূর্বে দুরাকআত। ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ২২: চাশতের নামায পড়া

২২ : আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু যার [রাদি.] নবী করীম [সাঃআঃ] থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, “তোমাদের প্রত্যেকেই এমন অবস্থায় প্রভাব করে যে, তাকে তার প্রত্যেক জোড়াগুলোর পরিবর্তে সাদকাহ দেয়া লাগে। কাজেই প্রত্যেক বার লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলা সাদকাহ হিসেবে বিবেচিত হয়, প্রত্যেক বার আল্লাহু আকবর বলা সাদকা হিসেবে গণ্য হয় এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করাও সাদকাহ হিসেবে বিবেচিত হয়। আর এসবের মুকাবিলায় চাশতের দুরাকআত নামাযই হইবে যথেষ্ট”।

[মুসলিম ৭২০] *এই নামাযের উত্তম সময় হলো, সূর্য পূর্ণ উদিত হওয়া থেকে ঠিক সূর্য মাথার উপরে আসা পর্যন্ত। এই নামাযের সংখ্যা হলো কমপক্ষে দুরাকআত আর বেশীর কোন নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ২৩: রাতে উঠে নামায পড়া

২৩ : আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, ফরয নামাযের পর কোন নামায সর্বোত্তম? তিনি বলিলেন, ফরয নামাযের পর সর্বোত্তম নামায হলো, রাতে উঠে নামায পড়া।

[মুসলিম ১১৬৩] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ২৪: বিতর নামায পড়া

২৪ : ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নবী করীম [সাঃআঃ] বলেছেন, “তোমরা তোমাদের রাতের শেষ নামাযকে বিতর করে নাও।”

[বুখারী ৯৯৮, মুসলিম ৭৫১] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ২৫: জুতো পরে নামায পড়া

২৫ : বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ

আনাস [রাদি.]-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কি জুতো পরে নামায পড়েছেন? তিনিবলিলেন, হ্যাঁ।

[বুখারী ৩৮৬] ** তবে জুতোদ্বয়ের পবিত্র থাকার ব্যাপারে নিশ্চিত হইতে হইবে। ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ২৬: ক্বুবার মসজিদে নামায পড়া

২৬ : ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী করীম [সাঃআঃ] বাহনে চড়ে ও পায়ে হেঁটে ক্বুবার মসজিদে এসে দুরাকআত নামায পড়েছেন।

[বুখারী ১১৯৪, মুসলিম ১৩৯৯] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ২৭: ঘরে নফল নামায পড়া

২৭ : জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ মসজিদে নামায সমাপ্তি করে সে যেন তার নামাযের কিছু অংশ তার বাড়িতে পড়ার জন্য ছেড়ে রাখে। কারন, আল্লাহ্ বাড়িতে নামায পড়ার মধ্যে অনেক কল্যাণ রেখেছেন।”

[মুসলিম ৭৭৮] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ২৮: ইস্তিখারা [কল্যাণ কামনার] নামায পড়া

২৮ : জাবির ইবনি আব্দুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে ঐভাবেই ইস্তিখারার নামায শিখাতেন, যেভাবে তিনি আমাদেরকে কুরআনের সূরা শিখাতেন।”

[বুখারী ১১৬৬] এই নামাযের নিয়ম হলো, প্রথম দুরাকআত নামায আদায় করিবে তারপর এই দুআটি পড়বে,

[আল্লাহুম্মা ইন্নী আস্তাখীরুকা বিইলমিকা, ওয়া আস্তাক্বদিরুকা বি ক্বুদরাতিকা, ওয়া আসআলুকা মিন ফাযলিকাল আযীম, ফা ইন্নাকা তাক্বদিরু ওয়ালা আক্বদিরু, ওয়া তালামু ওয়ালা আলামু, ওয়া আন্তা আল্লা-মুল গুয়ূব, আল্লাহুম্মা ইন কুন্তা তালামু আন্না হা-যাল আমরা খায়রুল লী ফী দ্বীনী ওয়া মাআ-শী ওয়া আক্বিবাতি আমরী ফাক্বদিরহু লী ওয়া ইয়াসসিরহু লী ছুম্মা বারিকলী ফী-হ, ওয়া ইন কুন্তা তালামু আন্না হা-যাল আমরা শাররুল লী ফী দ্বীনী ওয়া মাআ-শী ওয়া আক্বিবাতি আমরী ফাসরিফহু আন্নী ওয়াছরিফনী আনহু ওয়াক্বদির লিইয়াল খায়রা হাইছু কা-না ছুম্মা আরযিনী বিহী] (অথাৎ, হে আলাহ! আমি তোমার ইলমের মাধ্যমে তোমার নিকট কল্যাণ কামনা করছি। তোমার ক্বুদরতের মাধ্যমে তোমার নিকট শক্তি কামনা করছি এবং তোমার মহান অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। তুমি শক্তিধর আমি শক্তিহীন। তুমি জ্ঞানবান, আমি জ্ঞানহীন এবং তুমি অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞানী, হে আল্লাহ্! এই কাজটি [এখানে উদ্দিষ্ট কাজটি উল্লেখ করিবে] তোমার জ্ঞান মুতাবিক যদি আমার দ্বীন, আমার জীবিকা এবং আমার কাজের পরিণতির দিক কল্যাণকর হয়, তবে উহা আমার জন্য নির্ধারিত করে দাও এবং উহাকে আমার জন্য সহজলভ্য করে দাও, অতঃপর উহাতে আমার জন্য বরকত দাও। আর যদি এই কাজটি তোমার জ্ঞানের আলোকে আমার দ্বীন, আমার জীবিকা এবং আমার কাজের পরিণতির দিক দিয়ে অনিষ্টকর হয়, তবে উহাকে আমার নিকট থেকে দূরে সরিয়ে দাও এবং আমাকেও উহা হইতে দূরে সরিয়ে রাখো। তারপর কল্যাণ যেখানেই থাকুক, আমার জন্য সে কল্যাণ নির্ধারিত করে দাও। অতঃপর তাতেই আমাকে পরিতুষ্ট রাখো। ) ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ২৯: ফজরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত জায়নামাযেই বসে থাকা

২৯ : জাবির ইবনি সামুরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ফজর নামায পড়ে নিয়ে সূর্য ভালভাবে উঠা পর্যন্ত স্বীয় জায়নামাযেই বসে থাকতেন।

[মুসলিম ৬৭০] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৩০: জুমআর দিনে গোসল করা

৩০ : ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, “তোমাদের কেউ যখন জুমআর জন্য আসে, তখন সে যেন গোসল করে আসে।”

[বুখারী ৮৭৭, মুসলিম ৮৪৬] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৩১: জুমআর জন্য সকাল সকাল আসা

৩১ : আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, “জুমআর দিনে মসজিদের দরজায় ফেরেশতারা অবস্থান করে আগে আসার ক্রমানুসারে আগমনকারীদের নাম লিখতে থাকেন। আর যে সবার আগে আসে ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যে একটি গাভী কুরবানী করে। এরপর আগমনকারী তার মত, যে একটি দুম্বা কুরবানী করে। তারপর যে আসে সে হলো, [আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যে] মুরগী জবাইকারীর ন্যায়। এরপর যে আসে সে হলো, একটি ডিম দানকারীর ন্যায়। অতঃপর ঈমাম যখন উপস্থিত হয়, তখন তাঁরা [ফেরেশতারা] তাঁদের দফতর গুটিয়ে নিয়ে মনোযোগ সহকারে খুৎবা শুনতে লাগেন।”

[বুখারী ৯২৯, মুসলিম ৮৫০] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৩২: জুমআর দিনে দুআ কবুল হওয়ার মুহূর্তটি খোঁজ করা

৩২ : আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] জুমআর দিনের উল্লেখ করে বলিলেন, এই দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যে, কোন মুসলিম বান্দা যদি এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে নামায পড়া অবস্থায় আল্লাহ্ নিকট কোন কিছু চায়, তাহলে তিনি তাকে অবশ্যই তা দান করেন। আর তিনি হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে বুঝিয়ে দিলেন যে, সে মুহূর্তটি খুবই সংক্ষিপ্ত।

[বুখারী ৯৩৫, মুসলিম ৮৫২] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৩৩: ঈদের মাঠে এক রাস্তায় যাওয়া ও অন্য পথে ফিরে আসা

৩৩ : জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী করীম [সাঃআঃ] ঈদের দিন [ফেরার সময়] ভিন্ন পথে আসতেন।

[বুখারী ৯৮৬] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৩৪: জানাযার নামাযে শরীক হওয়া

৩৪ : আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, “যে ব্যক্তি জানাযায় শরীক হয়ে নামায পড়া পর্যন্ত থাকে, সে এক ক্বীরাত নেকী পায়। আর যে তাতে শরীক হয়ে কবরস্থ করা পর্যন্ত থাকে, সে দুক্বীরাত নেকী পায়। জিজ্ঞাসা করা হলো, দুই ক্বীরাত কি? বলিলেন, দুটি বড় বড় পাহাড়ের মত।”

[মুসলিম ৯৪৫] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৩৫: কবর যিয়ারত করা

৩৫ : বুরায়দা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, “আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত করিতে নিষেধ করেছিলাম এখন তোমরা উহার যিয়ারত করো।”

[মুসলিম ৯৭৭] *বিঃ দ্রঃ মহিলাদের জন্য কবর যিয়ারত করা হারাম। শায়্‌খ ইবনি বায [রাহঃ] এবং আরো অনেক আলেমগন এ ব্যাপারে ফাতওয়া দিয়েছেন। ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

অধ্যায়-৩ঃ রোযার সুন্নত

পরিচ্ছেদ ৩৬: সাহরী খাওয়া

৩৬ : আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, “তোমরা সাহরী খাও। কেননা, সাহারীর মধ্যে বরকত রয়েছে।”

[বুখারী ১৯২৩, মুসলিম ১০৯৫] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৩৭: সূর্যাস্তের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে দ্রুত ইফতারী করা

৩৭ : সাহ্‌ল ইবনি সাআদ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, “লোকেরা যতদিন দ্রুত ইফতার করিবে, ততদিন কল্যাণের মধ্যে অবস্থান করিবে।”

[বুখারী ১৯৫৭, মুসলিম ১০৯৮] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৩৮: রমযান মাসে তারাবীর নামায পড়া

৩৮ : আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও নেকীর আশায় রমযানের কিয়াম করে [তারাবীর নামায পড়ে], তার পূর্বেকার সমস্ত গোনাহ মাফ করে দেওয়া হইবে।”

[বুখারী ৩৭, মুসলিম ৭৫৬] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৩৯: রমযান মাসে ইতিক্বাফ করা, বিশেষ করে এই মাসের শেষ দশকে

৩৯ : ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] “রমযানের শেষ দশ দিন ইতিক্বাফ করিতেন।”

[বুখারী ২০২৫] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৪০: শাওয়াল মাসে ছয়টি রোযা রাখা

৪০ : আবু আইয়ূব [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, “যে ব্যক্তি রমযানের রোযা রাখলো, তারপর এর পরপরই শাওয়ালের ছয়টি রোযা রাখলো, সে যেন পূর্ণ এক বছরের রোযা রাখলো।”

[মুসলিম ১১৬৪] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৪১: প্রত্যেক মাসে তিনদিন রোযা রাখা

৪১ : আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমার বন্ধু [সাঃআঃ] আমাকে তিনটি বিষয়ের অসিয়ত করিয়াছেন। যতদিন জীবিত থাকবো আমি সেগুলো কখনোও ত্যাগ করব না। সেগুলো হচ্ছে, প্রতিমাসে তিন দিন রোযা রাখা, চাশ্‌তের নামায পড়া এবং বিতর পড়ে ঘুমানো।

[বুখারী ১১৭৮, মুসলিম ৭২১] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৪২: আরাফার দিন রোযা রাখা

৪২ : আবু ক্বাতাদাহহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, “আরাফার দিনের রোযা রাখলে আল্লাহ্‌র নিকট আশা রাখি যে তিনি বিগত এক বছরের ও আগামী এক বছরের গোনাহ মাফ করে দেবেন।”

[মুসলিম ১১৬২] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৪৩: মুহার্‌রাম মাসের রোযা রাখা

৪৩ : আবু ক্বাতাদাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, “মুহার্‌রাম মাসের রোযা রাখলে আল্লাহ্‌র নিকট আশা করি যে তিনি বিগত এক বছরের গোনাহ মাফ করে দেবেন।”

[মুসলিম ১১৬২] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

অধ্যায়-৪ঃ সফরের সুন্নত

পরিচ্ছেদ ৪৪: একজনকে আমীর নিযুক্ত করা

৪৪ : আবু সাঈদ এবং আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তাঁরা বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, “যখন তিনজন কোন সফরে বের হয়, তখন তারা যেন একজনকে আমীর বানিয়ে নেয়।”

[আবু দাউদ ২৬০৮] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৪৫: কোন উচ্চস্থানে উঠার সময় তকবীর [আল্লাহু আকবার] এবং নিচু স্থানে অবতরনের সময় তাসবীহ [সুবহানাল্লাহ] পাঠ করা

৪৫ : জাবীর [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা যখন উঁচু রাস্তায় আরোহণ করতাম, তখন তাকবীর পাঠ করতাম এবং যখন নিচু রাস্তায় অবতরণ করতাম, তখন তাসবীহ পাঠ করতাম।

[বুখারী ২৯৯৩] *কোন উচ্চ স্থানে আরোহণ করার সময় তাকবীর পাঠ করিবে এবং উপর থেকে নীচে অবতরণ করার সময় তাসবীহ পাঠ করিবে। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৪৬: কোন স্থানে অবতরণ করলে দুআ পড়া

৪৬ : খাওলা ইবনি হাকীম [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি, তিনি বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোন স্থানে অবতরণ করে বলে,

আউযুবি কালিমা-তিল্লা-হিত তা-ম্মা-তি মিন শার্‌রি মা খালাক্ব [অর্থাৎ, আমি আল্লাহ্‌র পরিপূর্ণ বাক্য দ্বারা তাহাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট হইতে আশ্রয় কামনা করছি]।

কোন কিছুই তাহাঁর ক্ষতি করিতে পারবে না, এ স্থান ত্যাগ না করা পর্যন্ত।”

[মুসলিম ২৭০৮] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৪৭: সফর থেকে ফিরে এলে আগে মসজিদে যাওয়া

৪৭ : কাআব ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন সফর থেকে ফিরতেন, তখন আগে মসজিদে গিয়ে নামায পরতেন।

[বুখারী ৩০৮৮, মুসলিম ৭১৬] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

অধ্যায়-৫ঃ পোশাক ও পানাহারের সুন্নত

পরিচ্ছেদ ৪৮: নতুন কাপড় পরার সময় দুআ করা

৪৮ : আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন কোন নতুন কাপড় পেতেন, তখন সেটা জামা অথবা পাগড়ি যা হতো সেই নাম উচ্চারন করে বলিতেন, আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু, আন্তা কাসাউতানী-হ, আস-আলুকা মিন খায়রিহি ওয়া খায়রি মা সুনিয়া লাহু, ওয়া আউযু বিকা মিন শার্‌রিহি ওয়া শার্‌বি মা সুনিয়া লাহ। অর্থাৎ, হে আল্লাহ্ তোমারই জন্য সকল প্রশংসা। তুমিই আমাকে এ কাপড় পরিয়েছো। আমি তোমার কাছে এর মধ্যে নিহিত কল্যাণ ও এটা যে জন্য তৈরি করা হয়েছে সেসব কল্যাণ প্রার্থনা করছি। আর আমি এ অনিষ্ট এবং এটি যার জন্য তৈরী করা হয়েছে তার অনিষ্ট থেকে তোমার আশ্রয় কামনা করছি।

এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৪৯: জুতো পরিধানে ডান পা দিয়ে শুরু করা

৪৯ : আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, “তোমাদের কেউ যখন জুতো পরবে, তখন সে যেন ডান পা দিয়ে শুরু করে এবং যখন জুতো খুলবে, তখন যেন বাঁ পা থেকে আরম্ভ করে। আর জুতো পরলে দুটোই পড়বে, খুলে রাখলে দুটোই খুলে রাখবে।”

[বুখারী ৫৮৫৫, মুসলিম ২০৯৭] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৫০: খাওয়ার আগে বিসমিল্লাহ বলা

৫০ : উমার ইবনি আবী সালামা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি একটি বালক হিসেবে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর তত্ত্বাবধানে ছিলাম। খাবার পাত্রে আমার হাত এক জায়গায় স্থির থাকতো না। তাই রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে বলিলেন, “হে বালক, আল্লাহ্‌র নাম দিয়ে [বিসমিল্লাহ বলে] ডান হাত দিয়ে নিজের সামনে থেকে খাও।”

[বুখারী ৫৩৭৬, মুসলিম ২০২২] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৫১: পানাহারের পর আল্লাহ্‌র প্রশংসা করা

৫১ : আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, “অবশ্যই আল্লাহ্‌ এমন বান্দার প্রতি সন্তুষ্ট হন যে খাবার খেয়ে এর [খাবারের] জন্য তাহাঁর প্রশংসা করে অথবা পান করে এর [পানীয় বস্তুর] জন্য তাহাঁর প্রশংসা করে।”

[মুসলিম ২৭৩৪] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৫২: বসে পান করা

৫২ : আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আনাস (রাঃ) নবী করীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, “তিনি দাঁড়িয়ে পান করতে নিষেধ করেছেন।”

(মুসলিম ২০২৪) হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ৫৩: দুধ পান করে কুলি করা

৫৩ : ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুধ পান করে কুলি করেছেন এবং বলেছেন, ‘ দুধে তৈলাক্ততা রয়েছে’।

(বুখারী ২১১, মুসলিম ৩৫৮) হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ৫৪: খাদ্যের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা না করা

৫৪ : আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনও কোন খাদ্যের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করেননি। ইচ্ছা হলে আহার করেছেন, অন্যথায় বর্জন করেছেন।”

(বুখারী ৫৪০৯, মুসলিম ২০৬৪) হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ৫৫: তিন আঙ্গুলের সাহায্যে আহার করা

৫৫ : কাআ’ব ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিনটি আঙ্গুলের সাহায্যে আহার করতেন এবং মুছে নেওয়ার পূর্বে স্বীয় হাত চেটে নিতেন।”

(মুসলিম ২০৩২) হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ৫৬: রোগ মুক্তির উদ্দেশ্যে যমযমের পানি পান করা

৫৬ : আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যমযমের পানি সম্পর্কে বলেন, “উহা বরকতময় পানি। উহা খাদ্যের কাজ করে।”

(মুসলিম ২৪৭৩) তায়ালাসী আরো একটু বৃদ্ধি করে বলেন, “এবং তাতে রয়েছে রোগের নিরাময়।” হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ৫৭: ঈদুল ফিতরের দিন ঈদের মাঠে যাওয়ার পূর্বে কিছু খাওয়া

৫৭ : আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদুল ফিতরের দিন কয়েকটি খেজুর না খেয়ে বের হতেন না। অপর এক বর্ণনায় এসেছে, “তিনি বিজোড় সংখ্যক খেজুর খেতেন।”

(বুখারী ৯৩৫) হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

অধ্যায়-৬ঃ যিক্‌র ও দুআ

পরিচ্ছেদ ৫৮: বেশী বেশী কুরআন তেলাওয়াত করা

৫৮ : আবু উমামা বাহেলী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনিয়াছি, তিনি বলেছেন, “তোমরা কুরআন পড়ো, কারণ তা কিয়ামতের দিন তার পাঠকের জন্য সুপারিশকারী হয়ে আগমন করিবে।”

[মুসলিম ৮০৪] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৫৯: সুন্দর সুরে কুরআন পড়া

৫৯ : আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছেন, তিনি বলেছেন, “আল্লাহ্‌ নবী করীম [সাঃআঃ] যেরূপ মধুর সুরে কুরআন তেলাওয়াত করার অনুমতি দিয়েছেন অন্য কোন জিনিসকে ঐরূপ পড়ার অনুমতি দেন নাই। তিনি উচ্চঃস্বরে সুন্দর সুরে তেলাওয়াত করিতেন।”

[বুখারী ৭৫৪৪, মুসলিম ৭৯২] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৬০: সর্বাবস্থায় আল্লাহ্‌র যিক্‌র করা

৬০ : আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, “রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সর্বাবস্থায় আল্লাহ্‌র যিক্‌র করিতেন।”

[মুসলিম ৩৭৩] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৬১: তাসবীহ পাঠ করা

৬১ : জুয়াইরিয়া [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] একদা সকালের নামায পড়ে তাহাঁর কাছ থেকে উঠে বাইরে গেলেন। তিনি তখন তাহাঁর মসজিদ [নামাযের স্থানে] বসে ছিলেন। তারপর নবী [সাঃআঃ] চাশ্‌তের সময় ফিরে এলেন । তখনও তিনি [জুয়াইরিয়া] বসে ছিলেন। তাই রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] জিজ্ঞেস করিলেন, “আমি তোমাকে যে অবস্থায় রেখে গিয়েছিলাম সেই অবস্থাতেই তুমি তখন থেকে বসে রয়েছ? তিনি জবাবে বলিলেন, হ্যাঁ। নবী করীম [সাঃআঃ] বলিলেন, আমি তোমার নিকট থেকে যাওয়ার পর চারটি কালেমা তিনবার পাঠ করেছি। আজ এ পর্যন্ত যা তুমি পাঠ করেছো তার সাথে ওজন করলে এই কালেমা চারটির ওজনই বেশী। কালেমা গুলো হলো,

সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, আদাদা খালক্বিহি, ওয়া রিযা নাফসিহি, ওয়া যিনাতা আরশিহি, ওয়া মিদাদা কালিমাতিহি। (অর্থাৎ, আমি আল্লাহ্‌র প্রশংসা সহ পবিত্রতা বর্ণনা করছি তাহাঁর অগণিত সৃষ্টির সমান, তাহাঁর সন্তুষ্টি সমান, তাহাঁর আরশের ওজনের পরিমাণ ও তাহাঁর কালেমা লিখতে যত কালির প্রয়োজন হয় সেই পরিমাণ।}

[মুসলিম ২৭২৬] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৬২: হাচির উত্তর দেওয়া

৬২ : আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরা [রাদি.] নবী করীম [সাঃআঃ] থেকে বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি বলেছেন, “তোমাদের কেউ যখন হাঁচি দেয়, তখন সে যেন বলে, আলহামদুলিল্লাহ এবং তার ভাই অথবা সাথী যেন [উত্তরে] বলে, ইয়ারহামু কাল্লাহ অতঃপর সে যেন বলে, ইয়াহদীকুমুল্লাহু ওয়া ইউস্‌লিহ বালাকুম।”

[বুখারী ৬২২৪] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৬৩: রোগীর জন্য দুআ করা

৬৩ : ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কোন অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখিতে গিয়ে বলিতেন,

লা বাসা ত্বহুর ইনশাআল্লাহ্” [চিন্তার কোন কারণ নেই আল্লাহ্ চাহেতো পাপ মোচন হইবে]।

[বুখারী ৫৬৬২] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৬৪: ব্যথার স্থানে হাত রেখে দুআ পড়া

৬৪ : উসমান ইবনি আবিল আস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে সেই ব্যথার অভিযোগ করিলেন, যা তিনি ইসলাম গ্রহণের পর থেকে তাহাঁর শরীরে অনুভব করে আসছেন। তা শুনে রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম] বলিলেন, “শরীরে যেখানে ব্যথা অনুভব করছো সেখানে হাত রেখে তিনবার বিসমিল্লাহ বলো এবং সাতবার আউযু বিল্লাহি ওয়া ক্বুদরতিহি মিন শার্‌রি মা আজিদু ওয়া উহাযির [আমি আল্লাহ্‌র মর্যাদা এবং তাহাঁর ক্বুদরতের মাধ্যমে সেই ব্যাথা থেকে আশ্রয় কামনা করছি, যা আমি অনুভব করছি এবং যার আমি আশঙ্কা করছি] পড়ো।”

[মুসলিম ২২০২] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৬৫: মোরগের ডাক শুনে দুআ এবং গাধার আওয়ায শুনে শয়তান থেকে আশ্রয় কামনা করা

৬৫ : আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নবী করীম [সাঃআঃ] বলেছেন, “যখন তোমরা মোরগের ডাক শুনবে, তখন আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ চাইবে। কারণ, সে ফেরেশতা দেখেছে। আর যখন গাধার আওয়ায শুনবে, তখন আল্লাহ্‌র নিকট শয়তান থেকে আশ্রয় কামনা করিবে। কারণ, সে শয়তান দেখেছে।

[বুখারী ৩৩০৩, মুসলিম ২৭২৯] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৬৬: বৃষ্টি হওয়ার সময় দুআ করা

৬৬ : আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন বৃষ্টি হইতে দেখিতেন, তখন বলিতেন,

আল্লাহুম্মা সাইয়েবান নাফিআ” [হে আল্লাহ্‌ মুষলধারে উপকারী বৃষ্টি বর্ষাও]।

[বুখারী ১০৩২] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৬৭: বাড়িতে প্রবেশ করার সময় আল্লাহ্‌র যিক্‌র করা

৬৭ : জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছেন, তিনি বলেছেন, “যখন মানুষ স্বীয় বাড়িতে প্রবেশ করার সময় মহান আল্লাহ্‌র যিক্‌র করে নেয়, তখন শয়তান [তার সহচরদের] বলে, না তোমরা রাত্রিবাস করিতে পারবে, আর না রাতের খাবার পাবে। কিন্তু প্রবেশ করার সময় যদি আল্লাহ্‌র যিক্‌র না করে, তবে বলে, রাত্রিবাসও করিতে পারবে এবং রাতের খাবারও পাবে।”

[মুসলিম ২০১৮] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৬৮: মজলিসে আল্লাহ্‌র যিক্‌র করা

৬৮ : আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নবী করীম [সাঃআঃ] থেকে বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি বলেছেন, “লোকেরা যখন এমন কোন মজলিসে বসে যেখানে তারা না আল্লাহ্‌র যিক্‌র করে, আর না তাদের নবীর প্রতি দরূদ পাঠ করে, তখন এই মজলিস তাদের অনুতাপের কারণ হয়। এখন আল্লাহ্‌ চাইলে তাদেরকে শাস্তিও দিতে পারেন আবার ক্ষমা করেও দিতে পারেন।”

[তিরমিজি ৩৩৮০] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৬৯: পায়খানায় প্রবেশ কালে দুআ করা

৬৯ : আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুল [সাঃআঃ] যখন পায়খানায় প্রবেশ করার ইচ্ছা করিতেন, তখন বলিতেন, আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিনাল খুবুসী ওয়াল খাবাইস [হে আল্লাহ্‌! আমি তোমার নিকট খবিস জ্বিন নরনারীর অনিষ্ট হইতে আশ্রয় কামনা করছি]।

[বুখারী ৬৩২২, মুসলিম ৩৫৭] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৭০: ঝড়-তুফানের সময় দুআ পড়া

৭০ : আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুল [সাঃআঃ] ঝড়-তুফানের সময় বলিতেন, আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা খায়রাহা ওয়া খায়রা মা-ফীহা ওয়া খায়রা মা-উরসিলাত বিহি, ওয়া আউযু বিকা মিন শার্‌রিহা ওয়া শার্‌রি মা-ফিহা ওয়া শার্‌রি মা-উরসিলাত বিহি [হে আল্লাহ্‌! আমি তোমার নিকট উহার [ঝড়-তুফানের] কল্যাণ কামনা করছি এবং আমি উহার ভিতরে নিহিত কল্যাণ চাচ্ছি, আর সেই কল্যাণ যা উহার সাথে প্রেরিত হয়েছে। আর আমি উহার অনিষ্ট হইতে, উহার ভিতরে নিহিত অনিষ্ট থেকে এবং যে ক্ষতি উহার সাথে প্রেরিত হয়েছে তার অনিষ্ট হইতে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।]

[মুসলিম ৮৯৯] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৭১: অনুপস্থিত মুসলিমদের জন্য দুআ করা

৭১ : আবু দারদা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছেন, তিনি বলেছেন, “যে ব্যক্তি তার অনুপস্থিত ভাইয়ের জন্য দুআ করে, তার সাথে নিযুক্ত ফেরেশতা বলেন, আমীন, তোমার জন্যও অনুরুপ।”

[মুসলিম ২৭৩২] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৭২: মুসীবতের সময় দুআ করা

৭২ : উম্মে সালামা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি যে, যে মুসলিমই বিপদে পতিত হলে আল্লাহ্‌র নির্দেশ অনুযায়ী বলে, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাযিউন, আল্লাহুম্মা জুরনী ফী মুসীবাতী ওয়া আখলিফলী খায়রাম মিনহা [আমরা আল্লাহ্‌র জন্য এবং আমাদেরকে তাহাঁরই দিকে ফিরে যেতে হইবে। হে আল্লাহ্‌! আমার বিপদে আমাকে নেকী দান করো এবং যা হারিয়ে গেছে তার বদলে তার চাইতে ভাল জিনিস দান করো।] তাহলে আল্লাহ্ তাকে তার চাইতে উত্তম জিনিস দান করেন।

[মুসলিম ৯১৮] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৭৩: বেশী বেশী সালাম প্রচার করা

৭৩ : বারা ইবনি আযিব [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী করীম [সাঃআঃ] আমাদেরকে সাতটি জিনিস করিতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং সাতটি জিনিস থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন রোগীদের দেখিতে যাওয়ার— এবং সালামের ব্যাপক প্রচলন করার।

[বুখারী ৫১৭৫, মুসলিম ২০৬৬] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

অধ্যায়-৭ঃ বিভিন্ন প্রকার সুন্নতসমূহ

পরিচ্ছেদ ৭৪: জ্ঞানার্জন করা

৭৪ : আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, “যে ব্যাক্তি জ্ঞানার্জনের জন্য কোন পথে চলে, আল্লাহ্‌ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।”

[মুসলিম ২৬৯৯] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৭৫: প্রবেশ করার পূর্বে তিনবার অনুমতি চাওয়া

৭৫ : আবু মুসা আশাআরী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, “তিনবার অনুমতি চাইবে। অনুমতি দিলে প্রবেশ করিবে, অন্যথায় ফিরে যাবে।”

[বুখারী ৬২৪৫, মুসলিম ২১৫৩] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৭৬: খেজুর ইত্যাদি চিবিয়ে নবজাত শিশুর মুখে দেওয়া

৭৬ : আবু মুসা আশাআরী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমার এক পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহন করলো। আমি তাকে নিয়ে নবী করীম [সাঃআঃ]-এর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি তার নাম রাখলেন, ইবরাহীম এবং খেজুর চিবিয়ে তার মুখে দিয়ে তার জন্য বরকতের দুআ করিলেন।

[বুখারী ৫৪৬৭, মুসলিম ২১৪৫] *কোন মিষ্টি জিনিস চিবিয়ে নবজাত শিশুর মুখে দেওয়াকে তাহনীক বলা হয়। এটা খেজুর হওয়াই উত্তম। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৭৭: আক্বীক্বা করা

৭৭ : আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন মেয়ের পক্ষ থেকে একটি এবং ছেলের পক্ষ থেকে দুটি ছাগল আক্বীক্বা করার।

[আহমদ ২৫৭৬৪] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৭৮: বৃষ্টির পানি লাগার জন্য শরীরের কোন অংশ খোলা

৭৮ : আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে থাকাকালীন আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ শুরু হলে তিনি [সাঃআঃ] তাহাঁর শরীরের কিছু অংশ খুলে ফেললেন যাতে সেখানে বৃষ্টির পানি লাগে। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহ্‌র রসূলুল্লাহ! এ রকম কেন করিলেন? তিনি বলিলেন, কারণ ইহা [এই বৃষ্টির পানি] স্বীয় প্রতিপালকের নিকট থেকে সদ্য আগত।”

[মুসলিম ৮৯৮] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৭৯: রোগীকে দেখিতে যাওয়া

৭৯ : রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর আযাদকৃত গোলাম সাওবান [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর আযাদকৃত গোলাম সাওবান [রাদি.] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] থেকে বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোন রোগীকে দেখিতে যায়, সে জান্নাতের ফলমূলে অবস্থান করিতে থাকে।” জিজ্ঞেস করা হলো, জান্নাতের ফলমূলে অবস্থান করা কি? তিনি বলিলেন, “এর ফলমূল সংগ্রহ করা।”

[মুসলিম ২৫৬৮] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৮০: স্নিগ্ধ হাসা

৮০ : আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী করীম [সাঃআঃ] আমাকে বলিলেন, “কোন ভাল কাজকে তুচ্ছ ভেবো না, যদিও তা তোমার ভাইয়ের সাথে হাসি মুখে সাক্ষাৎ করার কাজ হয়।”

[মুসলিম ২৬২৬] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৮১: আল্লাহ্‌র নিমিত্ত কারো যিয়ারত করা

৮১ :আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরা [রাদি.] নবী করীম [সাঃআঃ] থেকে বর্ণনা করিয়াছেন যে, এক ব্যক্তি তার ভাইকে দেখার জন্য অন্য এক গ্রামে গেলো। আল্লাহ্‌ তায়ালা তার জন্য রাস্তায় একজন ফেরেশতা মোতায়েন করিলেন। সে ব্যক্তি যখন ফেরেশতার কাছে পৌঁছলো, তখন ফেরেশতা জিজ্ঞাসা করিলেন, তুমি কোথায় যাচ্ছ? সে বললো, আমি এই গ্রামে আমার এক ভাইকে দেখার জন্য যাচ্ছি। ফেরেশতা বলিলেন, তার উপর তোমার কি কোন অনুগ্রহ আছে, যা তুমি আরো বৃদ্ধি করিতে চাও? সে বললো, না। আমি তো শুধু আল্লাহ্‌র জন্য তাকে ভালবাসি। ফেরেশতা বলিলেন, আমি আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে তোমার কাছে এ পয়গাম নিয়ে এসেছি যে, আল্লাহ্ তোমাকেও ভালবাসেন, যেমন তুমি তোমার ভাইকে তাহাঁরই জন্য ভালবাসো।”

[মুসলিম ২৫৬৭] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৮২: মানুষ তার ভাইকে জানিয়ে দেবে যে, সে তাকে ভালবাসে

৮২ : মিক্বদাদ ইবনি মাদী কারিবা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম] বলেছেন, “যদি তোমাদের কেউ তার কোন ভাইকে ভালবাসে, তাহলে সে যেন তাকে তার ভালবাসার কথা জানিয়ে দেয়।”

[আহমদ ১৬৩০৩] হাদিসের মান নির্ণীত নয়। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ নির্ণীত নয়

পরিচ্ছেদ ৮৩: হাই তুলা রোধ করা

৮৩ : আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, “হাই শয়তান কর্তৃক আসে। অতএব যখন তোমাদের কারো হাই আসে, তখন সে যেন সাধ্যানুসারে তা রোধ করে। কেননা, যখন তোমাদের কেউ হাই তুলে তখন শয়তান হাসে।”

[বুখারী ৩২৮৯, মুসলিম ২৯৯৮] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৮৪: মানুষের ব্যাপারে ভাল ধারণা পোষণ করা

৮৪ : আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, তোমরা [মন্দ] ধারণা করা থেকে বিরত থাকো। কারণ, [মন্দ] ধারণাই হচ্ছে সব থেকে বড় মিথ্যা।”

[বুখারী ৬০৬৬, মুসলিম ০২৬৩] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৮৫: ঘরের কাজে পরিবারকে সাহায্য করা

৮৫ : আসওয়াদ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আয়েশা [রাদি.]-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী করীম [সাঃআঃ] তাহাঁর বাড়িতে কি করেন? উত্তরে তিনি বলিলেন, তিনি বাড়িতে তাহাঁর পরিবারের কাজে সহযোগিতা করেন। যখন নামাযের সময় এসে উপস্থিত হয়, তখন নামাযের জন্য বেরিয়ে যান।

[বুখারী ৬৭৬] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৮৬: স্বভাবগত অভ্যাস

৮৬ : আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, “স্বভাবগত অভ্যাস হলো পাঁচটি অথবা পাঁচটি হলো স্বভাবগত অভ্যাসের অন্তর্ভুক্ত। খাতনা করা, নাভীর নীচের লোম পরিস্কার করা, বগলের চুল ছিঁড়ে ফেলা, নখ কাটা এবং মোচ খাটো করা।”

[বুখারী ৫৮৮৯, মুসলিম ২৫৭] এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৮৭: এতিমদের দেখাশুনা করা

৮৭ : সাহল ইবনি সাআদ হইতে বর্ণিতঃ

সাহল ইবনি সাআদ নবী করীম [সাঃআঃ] থেকে বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি বলেছেন, “আমি ও এতীমদের দেখাশুনার দায়িত্ব গ্রহণকারী জান্নাতে এত দূর ব্যবধানে থাকবো। তারপর তিনি নিজের তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুলী দিয়ে ইঙ্গিত করে দেখালেন।”

[বুখারী ৬০০৫] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৮৮: ক্রোধ থেকে বিরত থাকা

৮৮ : আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি নবী করীম [সাঃআঃ]-কে বললো, আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বলিলেন, “রাগ করো না।” সে কয়েকবার একই কথার পুনরাবৃত্তি করলো। আর তিনি বলিলেন, “রাগ করো না।”

[বুখারী ৬১১৬] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৮৯: আল্লাহ্‌র ভয়ে কাঁদা

৮৯ : আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরা [রাদি.] নবী করীম [সাঃআঃ] থেকে বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি বলেছেন, “সাত প্রকারের লোককে আল্লাহ্‌ তাহাঁর ছায়ায় আশ্রয় দেবেন, যেদিন তাহাঁর ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া থাকিবে না, তাদের মধ্যে একজন হলো এমন ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহ্‌কে স্মরণ করে চোখের পানি প্রবাহিত করে।”

[বুখারী ৬৬০ মুসলিম ১০৩১] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৯০: সাদক্বায়ে জারীয়া

৯০ : আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, “মানুষ যখন মারা যায়, তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি আমলের নেকী জারী থাকে। সাদক্বায়ে জারীয়া, ফলপ্রসূ ইল্‌ম এবং সুসন্তান যে তার জন্য দুআ করে।”

[মুসলিম ১৬৩১] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৯১: মসজিদ তৈরী করা

৯১ : উসমান ইবনি আফ্‌ফান [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

যখন তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর মসজিদ পুনঃ নির্মাণ করেন, তখন লোকেরা তাহাঁর সমালোচনা করে। তিনি তাদের জবাবে বলিলেন, তোমরা অনেক কিছু বললে, কিন্তু আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি, “যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য একটি মসজিদ তৈরী করিবে, আল্লাহ্‌ তাহাঁর জন্য জান্নাতে অনুরূপ একটি ঘর তৈরী করবেন।”

[বুখারী ৪৫০, মুসলিম ৫৩৩] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৯২: কেনাবেচায় নরম ও সহজ পন্থা অবলম্বন করা

৯২ : জাবির ইবনি আব্দুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, “সেই ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ্ রহম করুন! যে বিক্রি করার সময়, কিনার সময় এবং স্বীয় অধিকার চাওয়ার সময় সহজ ও নরম পন্থা অবলম্বন করে।”

[বুখারী ২০৭৬] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৯৩: রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস সরিয়ে দেওয়া

৯৩ : আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, “এক ব্যক্তি পথ চলার সময় পথে একটি কাঁটার ডাল দেখিতে পেলে তা রাস্তা থেকে সরিয়ে দিলো। ফলে আল্লাহ্‌ তার প্রতি অনুগ্রহ করিলেন এবং তাকে ক্ষমা করে দিলেন।”

[বুখারী ৬৫৪, মুসলিম ১৯১৪] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৯৪: সাদক্বাহ করা

৯৪ : আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, “যে ব্যক্তি তার হালাল উপার্জন থেকে একটি খেজুরের মুল্য পরিমাণ দান করে– আল্লাহ্‌ তো হালাল বস্তু ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহন করেন না- তবে আল্লাহ্ তা তাহাঁর ডান হাতে গ্রহণ করেন। অতঃপর তাকে তার দানকারীর জন্য বৃদ্ধি করিতে থাকেন যেরূপ তোমাদের কেউ তার অশ্বশাবককে লালন-পালন করিতে থাকে। অবশেষে একদিন তা পাহাড় সমতুল্য হয়ে যায়।”

[বুখারী ১০৮০, মুসলিম ১০১৮] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৯৫: জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশকে নেক আমল বেশী বেশী করা

৯৫ : ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

ইবনি আব্বাস [রাদি.] নবী করীম [সাঃআঃ] থেকে বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি বলেছেন, “এই [অর্থাৎ, যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশকের] দিনগুলোতে যে আমল করা হয় তার চেয়ে উত্তম আর কোন আমল নেই। সাহাবাগন জিজ্ঞেস করিলেন, জিহাদও কি উত্তম নয়? তিনি বলিলেন, “জিহাদও উত্তম নয়।” তবে সেই ব্যক্তির কথা স্বতন্ত্র, যে নিজের জান ও মাল ধ্বংসের মুখে জেনেও জিহাদের দিকে এগিয়ে যায় এবং কিছুই নিয়ে ফিরে আসে না।”

[বুখারী ৯৬৯] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৯৬: টিকটিকি হত্যা করা

৯৬ : আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, “যে ব্যক্তি প্রথম আঘাতেই টিকটিকি মারতে সক্ষম হইবে, তার নেকীর খাতায় একশত নেকী লিখে দেওয়া হইবে। আর দ্বিতীয় আঘাতে মারলে, প্রথমের থেকে কম পাবে এবং তৃতীয় আঘাতে মারলে, তার চেয়েও কম পাবে।”

[মুসলিম ২২৪০] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৯৭: প্রত্যেক শোনা কথা বলে না বেড়ানো

৯৭ : হাফ্‌স ইবনি আসেম [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, “কোন মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে সব শোনা কথা বলে বেড়াবে।”

[মুসলিম ৫] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৯৮: নেকীর আশায় পরিবারবর্গের জন্য ব্যয় করা

৯৮ : আবু মাসউদ বাদরী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু মাসউদ বাদরী [রাদি.] নবী করীম [সাঃআঃ] থেকে বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি বলেছেন, “মুসলিম নেকীর আশায় যা কিছু তার পরিবারবর্গের জন্য ব্যয় করে তা সবই তার জন্য সাদক্বায় পরিণত হয়।”

[মুসলিম ২৩২২] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ৯৯: তাওয়াফে রামাল করা

৯৯ : ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, “রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] প্রথম তিন তাওয়াফে রামাল করিতেন এবং অবশিষ্ট চার তাওয়াফে স্বাভাবিকভাবে চলতেন।”

[বুখারী ১৬৪৪, মুসলিম ১২৬১] রামাল হলো, ছোট ছোট পদক্ষেপে দ্রুত চলা। আর এটা হজ্জ বা উমরা আদায়কারী মক্কায় পৌঁছে প্রথম যে তাওয়াফ করিবে, সেই তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে হইবে। ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ১০০: অব্যাহতভাবে কোন নেক আমল করিতে থাকা, যদিও তা স্বল্প হয়

১০০ : আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে জিজ্ঞেস করা হলো যে, আমলের, মধ্যে কোন আমলটি আল্লাহ্‌র নিকট অতীব প্রিয়? তিনি বলিলেন, “এমন আমল যা অব্যাহত করা হয়, যদিও তা স্বল্প হয়।”

[বুখারী ৬৪৬৫, মুসলিম ৭৮৩] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১০১ : আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] বলেন, “আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন, যে ব্যক্তি আমার অলীর সাথে শত্রুতা করে, আমি তার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করছি। আমার বান্দার প্রতি যা ফরয করেছি তা দ্বারাই আমার অধিক নৈকট্য লাভ করে। আমার বান্দা নফল কাজের মাধ্যমেও আমার নৈকট্য লাভ করিতে থাকে, অবশেষে আমি তাকে ভালবেসে ফেলি। যখন আমি তাকে ভালবাসি, তখন আমি তার কান হয়ে যাই যা দিয়ে সে শোনে, তার চোখ হয়ে যাই যা দিয়ে সে দেখে, তার হাত হয়ে যাই যা দিয়ে সে ধরে এবং তার পা হয়ে যাই যা দিয়ে সে চলাফেরা করে। সে আমার কাছে কিছু চাইলে, আমি তাকে তা দেই। সে যদি আমার নিকট আশ্রয় কামনা করে, তাহলে আমি তাকে আশ্রয় দেই। আমি যা করার ইচ্ছা করি, সে ব্যাপারে কোন দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগি না কেবল মুমিনের আত্নার ব্যাপার ছাড়া। সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে, আর আমি তার মন্দকে অপছন্দ করি।

[বুখারী ৬৫০২] ১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস – এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

By najmulislam

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply