নতুন লেখা

হেবা বা দান করার ফযীলত এবং এর প্রতি উৎসাহ প্রদান

হেবা বা দান করার ফযীলত এবং এর প্রতি উৎসাহ প্রদান

হেবা বা দান করার ফযীলত এবং এর প্রতি উৎসাহ প্রদান >> বুখারী শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

পর্বঃ ৫১, হিবা ও তার ফযীলত এবং এর প্রতি উৎসাহ প্রদান, অধ্যায়ঃ (১-৩৭)=৩৭টি

৫১/১. অধ্যায়ঃ হিবা ও এর ফযীলত
৫১/২. অধ্যায়ঃ অল্প পরিমাণে হিবা করা সম্পর্কে ।
৫১/৩. অধ্যায়ঃ যদি কেউ তার সঙ্গী সাথীদের নিকট কিছু চায় ।
৫১/৪. অধ্যায়ঃ কোন ব্যক্তির পানি চাওয়া সম্পর্কে।
৫১/৫. অধ্যায়ঃ শিকারের গোশত হাদিয়া হিসেবে গ্রহণ করা সম্পর্কে।
৫১/৬. অধ্যায়ঃ হাদিয়া কবুল করা সম্পর্কে
৫১/৭. অধ্যায়ঃ হাদিয়া গ্রহণ করা
৫১/৮. অধ্যায়ঃ সঙ্গীকে কোন হাদিয়া দেয়ার ক্ষেত্রে তার অন্য স্ত্রী ছেড়ে কোন স্ত্রীর জন্য নির্ধারিত দিনের অপেক্ষা করা।
৫১/৯. অধ্যায়ঃ যে হাদিয়া ফিরিয়ে দেয়া হয় না।
৫১/১০. অধ্যায়ঃ কাছে নেই এমন বস্তু হিবা করা যিনি জায়িয মনে করেন।
৫১/১১. অধ্যায়ঃ হিবার প্রতিদান প্রদান করা।
৫১/১২. অধ্যায়ঃ সন্তানের জন্য হিবা। কোন এক সন্তানকে কিছু দান করা বৈধ হইবে না, যতক্ষণ না ইনসাফের সঙ্গে অন্য সন্তানদের সমভাবে দান করা হয়। অবশ্য এ ক্ষেত্রে উক্ত পিতার বিপক্ষে কারো সাক্ষী দেয়া চলবে না।
৫১/১৩. অধ্যায়ঃ হিবার ব্যাপারে সাক্ষী রাখা।
৫১/১৪. অধ্যায়ঃ পুরুষের স্ত্রীর জন্য এবং স্ত্রীর পুরুষের জন্য হিবা করা।
৫১/১৫. অধ্যায়ঃ স্বামী আছে এমন নারীর স্বামী ব্যতীত অন্যের জন্য হিবা করা বা দাস মুক্ত করা। নির্বোধ না হলে বৈধ, নির্বোধ হলে অবৈধ।
৫১/১৬. অধ্যায়ঃ প্রথমে হাদিয়া দিয়ে শুরু করিবে।
৫১/১৭. অধ্যায়ঃ কারণবশতঃ হাদিয়া কবুল না করা।
৫১/১৮. অধ্যায়ঃ হাদিয়া পাঠিয়ে দিয়ে বা হাদিয়া পাঠিয়ে দেয়ার ওয়াদা করে তা পৌঁছানোর পূর্বেই মৃত্যু হলে।
৫১/১৯. অধ্যায়ঃ দাস ও বিবিধ সামগ্রী কিভাবে অধিকারভুক্ত করা যায়?
৫১/২০. অধ্যায়ঃ হাদিয়া পাঠানো হলে গ্রহণ করলাম এ কথা না বলে কেউ স্বীয় অধিকারভুক্ত করে নিলে।
৫১/২১. অধ্যায়ঃ এক ব্যক্তির নিকট প্রাপ্য ঋণ অন্যকে দান করে দেয়া।
৫১/২২ . অধ্যায়ঃ জামাআতের জন্য এক ব্যক্তির দান।
৫১/২৩. অধ্যায়ঃ দখলভুক্ত বা দখলভুক্ত নয় এবং বন্টিত বা বন্টিত নয় এমন সম্পদ দান করা।
৫১/২৪. অধ্যায়ঃ একদল অন্য গোত্রকে বা এক ব্যক্তি কোন দলকে দান করলে তা বৈধ।
৫১/২৫. অধ্যায়ঃ সঙ্গীদের মাঝে কাউকে হাদিয়া করা হলে সেই তার হকদার।
৫১/২৬. অধ্যায়ঃ উষ্ট্রারোহীকে সেই উষ্ট্রটি দান করা হলে তা বৈধ।
৫১/২৭. অধ্যায়ঃ পরিধেয় হিসেবে অপছন্দনীয় কিছু হাদিয়া দেয়া।
৫১/২৮. অধ্যায়ঃ মুশরিকদের দেয়া হাদিয়া গ্রহণ করা
৫১/২৯. অধ্যায়ঃ মুশরিকদেরকে হাদিয়া প্রদান করা
৫১/৩০. অধ্যায়ঃ দান বা সদকা করা হলে তা ফিরিয়ে নেয়া কারো জন্য হালাল নয়।
৫১/৩১. অধ্যায়ঃ নাই
৫১/৩২. অধ্যায়ঃ উমরা ও রুকবা [১] —- সম্পর্কে যা বলা হয়েছে।
৫১/৩৩. অধ্যায়ঃ মানুষের কাছ থেকে যে ব্যক্তি ঘোড়া, চতুষ্পদ জন্তু বা অন্য কোন কিছু ধার নেয়।
৫১/৩৪. অধ্যায়ঃ বাসর সজ্জার উদ্দেশে নব দম্পতির কিছু ধার নেয়া।
৫১/৩৫. অধ্যায়ঃ দুগ্ধ পান করানোর জন্য সাময়িকভাবে উট-বকরি প্রদানের ফযীলত।
৫১/৩৬. অধ্যায়ঃ প্রচলিত অর্থে যদি কেউ বলে এই দাসীটি তোমার খিদমাতের জন্য দিলাম, এটা বৈধ।
৫১/৩৭. অধ্যায়ঃ আরোহনের নিমিত্তে অশ্ব দান উমরাও (—) সদকা বলেই গণ্য হইবে।

৫১/১. অধ্যায়ঃ হেবা বা দান ও এর ফযীলত

২৫৬৬

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেছেন, হে মুসলিম নারীগণ! কোন মহিলা প্রতিবেশিনী যেন অপর মহিলা প্রতিবেশিনীর হাদিয়া তুচ্ছ মনে না করে, এমনকি তা ছাগলের সামান্য গোশতযুক্ত হাড় হলেও।

২৫৬৭

আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি একবার উরওয়াহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) –র উদ্দেশ্যে বলিলেন, ভাগ্নে! আমরা নতুন চাঁদ দেখতাম, আবার নতুন চাঁদ দেখতাম। এভাবে দুমাসে তিনটি নতুন চাঁদ দেখতাম। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর কোন ঘরেই আগুন জ্বালানো হত না। [উরওয়াহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন] আমি জিজ্ঞেস করলাম, খালা! আপনারা তাহলে বেঁচে থাকতেন কিভাবে? তিনি বলিলেন, দুটি কালো জিনিস অর্থাৎ খেজুর আর পানিই শুধু আমাদের বাঁচিয়ে রাখত। কয়েক ঘর আনসার রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর প্রতিবেশি ছিল। তাঁদের কিছু দুগ্ধবতী উটনী ও বকরি ছিল। তাঁরা রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর জন্য দুধ হাদিয়া পাঠাত। তিনি আমাদের তা পান করিতে দিতেন।

৫১/২. অধ্যায়ঃ অল্প পরিমাণে হেবা বা দান করা সম্পর্কে ।

২৫৬৮

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেছেন, যদি আমাকে হালাল পশুর পায়া বা হাতা খেতে ডাকা হয়, তবু তা আমি গ্রহণ করব আর যদি আমাকে পায়া বা হাতা হাদিয়া দেয়া হয়, আমি তা গ্রহণ করব।

৫১/৩. অধ্যায়ঃ যদি কেউ তার সঙ্গী সাথীদের নিকট কিছু চায় ।

আবু সাঈদ (রাদি.) বলেন, নাবী (সাঃআঃ) বলিলেন, তোমাদের সঙ্গে আমার জন্য এক অংশ রেখ।

২৫৬৯

সাহল (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

এক মুহাজির [১] মহিলার নিকট নাবী (সাঃআঃ) লোক পাঠালেন। তাহাঁর এক গোলাম ছিল কাঠ মিস্ত্রি। তিনি তাকে বলিলেন, তুমি তোমার গোলামকে বল, সে যেন আমাদের জন্য একটা কাঠের মিম্বার তৈরি করে। তিনি তার গোলামকে নির্দেশ দিলেন। সে গিয়ে এক রকম গাছ কেটে এনে মিম্বার তৈরী করিল। কাজ শেষ হলে তিনি নাবী (সাঃআঃ)-এর নিকট লোক পাঠিয়ে জানালেন যে, গোলাম তার কাজ শেষ করেছে। তিনি বলিলেন, সেটা আমার নিকট পাঠিয়ে দাও। তখন লোকেরা তা নিয়ে এল। নাবী (সাঃআঃ) সেটা বহন করে সেখানে রাখলেন, যেখানে তোমরা দেখিতে পাচ্ছ।

[১] এটা আসলে রাবী আবু গাস্‌সানের ভুল। মুলতঃ তিনি ছিলেন আনসারী মহিলা। তবে এও হইতে পারে যে, কোন মুহাজির তাকে বিয়ে করেছিলেন। (ফাতহুল বারী)।

২৫৭০

আবু ক্বাতাদাহ সালামী (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি মক্কার পথে কোন এক মনযিলে নাবী (সাঃআঃ)-এর কয়েকজন সাহাবীর সঙ্গে উপবিষ্ট ছিলাম। রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) আমাদের অগ্রবর্তী কোন স্থানে অবস্থান করছিলেন। সকলেই ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। আমি শুধু ইহরাম ব্যতিত ছিলাম। তাঁরা একটি বন্য গাধা দেখিতে পেলেন। আমি তখন আমার জুতা মেরামত করছিলাম। তাঁরা আমাকে সে সম্পর্কে জানাননি। অথচ সেটি আমি যেন দেখিতে পাই তাঁরা তা চাচ্ছিলেন। আমি হঠাৎ সেদিকে তাকালাম, সেটা আমার নযরে পড়ল। তখন আমি উঠে ঘোড়ার দিকে এগিয়ে গেলাম এবং জীন লাগিয়ে তাতে সওয়ার হলাম। কিন্তু চাবুক ও বর্শা নিতে ভুলে গেলাম। তখন তাঁদের বললাম, চাবুক আর বর্শাটা আমাকে তুলে দাও। কিন্তু তারা বলিলেন, আল্লাহর কসম! গাধা শিকার করার ব্যাপারে আমরা তোমাকে কোন সাহায্য করব না। আমি তখন রাগ করে নেমে এলাম এবং সে দুটি তুলে নিয়ে সওয়ার হলাম। আর গাধাটা আক্রমণ করে আহত করলাম। তাতে সেটি মারা গেল। অতঃপর সেটাকে নিয়ে আসলাম। তারা সেই গাধার গোশত খেতে লাগলেন। পরে তাদের মনে ইহরাম অবস্থায় তা খাওয়া নিয়ে সন্দেহ দেখা দিল। আমরা যাত্রা শুরু করলাম। এক ফাঁকে আমি আমার নিকট গাধার একটি হাতা লুকিয়ে রেখেছিলাম। আমরা রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর সাক্ষাৎ পেয়ে সেই গোশত সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলিলেন, তোমাদের সঙ্গে সেটার গোশতের কিছু আছে কি? আমি বললাম, হ্যাঁ আছে। অতঃপর হাতাখানা তাঁকে দিলে তিনি ইহরাম অবস্থায় তার সবটুকু খেলেন। এ হাদীসটি যায়দ ইবনু আসলাম (রাদি.) আতা ইবনু ইয়াসার (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর মাধ্যমে আবু ক্বাতাদাহ (রাদি.) হইতে আমার নিকট বর্ণনা করিয়াছেন।

৫১/৪. অধ্যায়ঃ কোন ব্যক্তির পানি চাওয়া সম্পর্কে।

সাহল (রাদি.) বর্ণনা করেন, নাবী (সাঃআঃ) আমাকে বলিলেন, আমাকে পান করাও।

২৫৭১

আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) আমাদের এই ঘরে আগমন করেন এবং কিছু পান করিতে চাইলেন। আমরা আমাদের একটা বকরীর দুধ দহন করে তাতে আমাদের এই কুয়ার পানি মিশালাম। অতঃপর তা সম্মুখে পেশ করলাম। এ সময় আবু বকর (রাদি.) ছিলেন তাহাঁর বামে, উমার (রাদি.) ছিলেন তাহাঁর সম্মুখে, আর এক বেদুঈন ছিলেন তাহাঁর ডানে। তিনি যখন পান শেষ করিলেন, তখন উমার (রাদি.) বলিলেন, ইনি আবু বক্‌র, কিন্তু রাসুল (সাঃআঃ) বেদুঈনকে তার অবশিষ্ট পান দান করিলেন। অতঃপর বলিলেন, ডান দিকের ব্যক্তিদেরকেই (অগ্রাধিকার), ডান দিকের ব্যক্তিদের (অগ্রাধিকার) শোন! ডান দিক থেকেই শুরু করিবে। আনাস (রাদি.) বলেন, এটাই সুন্নাত, এটাই সুন্নাত, এটাই সুন্নাত।

৫১/৫. অধ্যায়ঃ শিকারের গোশত হাদিয়া হিসেবে গ্রহণ করা সম্পর্কে।

আবু ক্বাতাদাহ (রাদি.) হইতে নাবী (সাঃআঃ) শিকারকৃত পশুর একটি বাহু গ্রহণ করেছিলেন।

২৫৭২

আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, (মক্কার অদূরে) মার্‌রায্‌ যাহারান নামক স্থানে আমরা একটি খরগোশ তারা করলাম। লোকেরা সেটার পিছনে ধাওয়া করে ক্লান্ত হয়ে পড়ল। অবশেষে আমি সেটাকে পেয়ে গেলাম এবং ধরে আবু ত্বলহা (রাদি.)-এর নিকটে নিয়ে গেলাম। তিনি সেটাকে যবহ করে তার পাছা অথবা রাবী বলেন, দুউরু রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর খিদমতে পাঠালেন। শুবা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, দুটি উরুই এতে কোন সন্দেহ নেই। তখন নাবী (সাঃআঃ) তা গ্রহণ করেছিলেন। রাবী বলেন, আমি শুবা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) -কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কি খেয়েছিলেন? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ, খেয়েছিলেন। অতঃপর তিনি বলিলেন, নাবী (সাঃআঃ) তা গ্রহণ করেছিলেন।

৫১/৬. অধ্যায়ঃ হাদিয়া কবুল করা সম্পর্কে

২৫৭৩

সাআব ইবনু জাস্‌সামাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি (সাআব ইবনু জাস্‌সামাহ) রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর জন্য একটি বন্য গাধা হাদিয়া পাঠালেন। রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) তখন আবওয়া কিংবা ওয়াদ্দান নামক স্থানে ছিলেন। তিনি হাদিয়া ফেরত পাঠালেন। পরে তার বিষণ্ণ মুখ দেখে বলিলেন, শুন! আমরা ইহরাম অবস্থায় না থাকলে তোমার হাদিয়া ফেরত দিতাম না।

৫১/৭. অধ্যায়ঃ হাদিয়া গ্রহণ করা

২৫৭৪

আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

লোকেরা তাদের হাদিয়া পাঠাবার ব্যাপারে আয়েশা (রাদি.)-এর জন্য নির্ধারিত দিনের অপেক্ষা করত। এতে তারা রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করত।

২৫৭৫

ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ইবনু আব্বাসের খালা উম্মু হুফায়দ (রাদি.) একদা নাবী (সাঃআঃ)-এর খিদমতে পনির, ঘি ও দব [১] হাদিয়া পাঠালেন। কিন্তু নাবী (সাঃআঃ) শুধু পনির ও ঘি খেলেন আর দব অরুচিকর হওয়ায় বাদ দিলেন। ইবনু আব্বাস (রাদি.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর দস্তরখানে (দব) খাওয়া হয়েছে। তা হারাম হলে রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর দস্তরখানে খাওয়া হত না।

[১] দব হল মরুভূমিতে বিচরণশীল গিরগিটির ন্যায় এক প্রকার প্রাণী যা হালাল।

২৫৭৬

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর খিদমতে কোন খাবার আনা হলে তিনি জানতে চাইতেন, এটা হাদিয়া, না সদকা? যদি বলা হত সদকা, তাহলে সাহাবীদের তিনি বলিতেন, তোমরা খাও। কিন্তু তিনি খেতেন না। আর যদি বলা হত হাদিয়া, তাহলে তিনিও হাত বাড়াতেন এবং তাদের সঙ্গে খাওয়ায় শরীক হইতেন।

২৫৭৭

আনাস ইবনু মালিক (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ)-এর খিদমতে কিছু গোশত আনা হল। তখন বলা হল যে, এটা আসলে বারীরার নিকট সদকারূপে এসেছিল। তখন তিনি বলিলেন, এটা তার জন্য সদকা আর আমাদের জন্য হাদিয়া।

২৫৭৮

আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বারীরাহ (রাদি.) -কে খরিদ করার ইচ্ছা করলে তার মালিক পক্ষ ওয়ালার শর্তারোপ করিল। তখন বিষয়টি নাবী (সাঃআঃ)-এর সামনে আলোচিত হল। নাবী (সাঃআঃ) বলিলেন, তুমি তাকে খরিদ করে আযাদ করে দাও। কেননা যে আযাদ করিল, সেই ওয়ালা লাভ করিবে। আয়েশা (রাদি.)-এর জন্য কিছু গোশত হাদিয়া পাঠানো হল। নাবী (সাঃআঃ) -কে বলা হল যে, এ গোশত বারীরাকে সদকা করা হয়েছিল। তখন নাবী (সাঃআঃ) বলিলেন, এটা তার জন্য সদকা আর আমাদের জন্য হাদিয়া। তাকে (স্বামী বহাল রাখা বা পরিত্যাগ করার ব্যাপারে) স্বীয় ইচ্ছামাফিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার দেওয়া হল। (রাবী) আবদুর রহমান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, তার স্বামী তখন আযাদ কিংবা গোলাম ছিল। শুবা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, পরে আমি আবদুর রহমান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) -কে তার স্বামী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলিলেন, আমি জানি না, সে আযাদ ছিল না গোলাম ছিল।

২৫৭৯

উম্মু আতিয়্যাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) আয়েশা (রাদি.)-এর ঘরে এসে জিজ্ঞেস করিলেন, তোমাদের নিকট খাবার কিছু আছে কি? তিনি বলিলেন, না; উম্মু আতিয়্যাহ (রাদি.) প্রেরিত বকরির কিছু গোশত ছাড়া, যা আপনি তাকে সদকা হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। তিনি বলিলেন, সদকা তো যথাস্থানে পৌঁছে গেছে।

৫১/৮. অধ্যায়ঃ সঙ্গীকে কোন হাদিয়া দেয়ার ক্ষেত্রে তার অন্য স্ত্রী ছেড়ে কোন স্ত্রীর জন্য নির্ধারিত দিনের অপেক্ষা করা।

২৫৮০

আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, লোকেরা তাদের হাদিয়া পাঠাবার ব্যাপারে আমার জন্য নির্ধারিত দিনের অপেক্ষা করত। উম্মু সালামা (রাদি.) বলেন, আমার সতীনগণ একত্রিত হলেন। ফলে উম্মু সালামা (রাদি.) বিষয়টি তাহাঁর নিকট উত্থাপন করিলেন, কিন্তু তিনি ব্যাপারটি এড়িয়ে গেলেন।

২৫৮১

আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ)-এর স্ত্রীগণ দুদলে বিভক্ত ছিলেন। একদলে ছিলেন আয়েশা, হাফসাহ, সাফিয়্যাহ ও সাওদা (রাযিয়াল্লাহু আনহুন্না), অপর দলে ছিলেন উম্মু সালামা (রাদি.) সহ রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর অন্যান্য স্ত্রীগণ। আয়েশা (রাদি.)-এর প্রতি রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর বিশেষ ভালবাসার কথা সাহাবীগণ জানতেন। তাই তাঁদের মধ্যে কেউ রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর নিকট হাদিয়া পাঠাতে চাইলে তা বিলম্বিত করিতেন। যে দিন রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) আয়েশা (রাদি.)-এর ঘরে অবস্থান করিতেন, সেদিন হাদিয়া দাতা রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর নিকট আয়েশা (রাদি.) -কে তাঁরা পাঠিয়ে দিতেন। উম্মু সালামা (রাদি.)-এর দল তা নিয়ে আলোচনা করিলেন। উম্মু সালামা (রাদি.) -কে তাঁরা বলিলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর সঙ্গে আপনি আলাপ করুন। তিনি যেন লোকদের বলে দেন যে, যারা রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর নিকট হাদিয়া পাঠাতে চান, তাঁরা যেন তাহাঁর নিকট পাঠিয়ে দেন, যে স্ত্রীর ঘরেই তিনি থাকুন না কেন। উম্মু সালামা (রাদি.) তাঁদের প্রস্তাব নিয়ে তাহাঁর সঙ্গে আলাপ করিলেন। কিন্তু তিনি তাঁকে কোন জবাব দিলেন না। পরে সবাই তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলিলেন, তিনি আমাকে কোন জবাব দিলেন না। তখন তাঁরা তাঁকে বলিলেন, আপনি তাহাঁর সঙ্গে আবার কথা বলুন। (আয়েশা) বলেন, যেদিন তিনি [রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)] -তাহাঁর (উম্মু সালামারর) ঘরে গেলেন, সেদিন তিনি আবার তাহাঁর নিকট কথা তুললেন। সেদিনও তিনি তাঁকে কিছু বলিলেন না। অতঃপর তাঁরা তাঁকে জিজ্ঞেস করিলেন, তখন তিনি বলিলেন, আমাকে তিনি কিছুই বলেননি। তখন তাঁরা তাঁকে বলিলেন, তিনি কোন জবাব না দেয়া পর্যন্ত আপনি বলিতে থাকুন। তিনি [নাবী (সাঃআঃ)] তাহাঁর ঘরে গেলে আবার তিনি তাহাঁর নিকট সে প্রসঙ্গ তুললেন। এবার তিনি তাঁকে বলিলেন, আয়েশা (রাদি.)-এর ব্যাপার নিয়ে আমাকে কষ্ট দিও না। মনে রেখ, আয়েশা (রাদি.) ব্যতীত আর কোন স্ত্রীর বস্ত্র তুলে থাকা অবস্থায় আমার উপর ওয়াহী নাযিল হয়নি। [আয়েশা (রাদি.)] বলিলেন, এ কথা শুনে তিনি [উম্মু সালামা (রাদি.)] বলিলেন, সে আল্লাহর রাসুল! আপনাকে কষ্ট দেয়া হইতে আমি আল্লাহর নিকট তওবা করছি। অতঃপর সকলে রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর কন্যা ফাতিমা (রাদি.) -কে এনে রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর নিকট এ কথা বলার জন্য পাঠালেন যে, আপনার স্ত্রীগণ আল্লাহর দোহাই দিয়ে আবু বকর (রাদি.)-এর কন্যা সম্পর্কে ইনসাফের আবেদন জানালেন। [ফাতিমা (রাদি.)] তাহাঁর নিকট বিষয়টি তুলে ধরলেন। তখন তিনি বলিলেন, প্রিয় কন্যা! আমি যা ভালবাসি তুমি কি তাই ভালবাস না? তিনি বলিলেন অবশ্যই করি। অতঃপর তাদের নিকট গিয়ে তাদেরকে (আদ্যোপান্ত) অবহিত করিলেন। তাঁরা তাঁকে বলিলেন, তুমি আবার যাও। কিন্তু এবার তিনি যেতে অস্বীকার করিলেন। তখন তাঁরা যায়নাব বিন্তু জাহশ (রাদি.) -কে পাঠালেন। তিনি তাহাঁর নিকট গিয়ে কঠোর ভাষা ব্যবহার করিলেন এবং বলিলেন, আপনার স্ত্রীগণ আল্লাহর দোহাই দিয়ে ইবনু আবু কুহাফার [আবু বকর (রাদি.)] কন্যা সম্পর্কে ইনসাফের আবেদন জানাচ্ছেন। অতঃপর তিনি গলার স্বর উঁচু করিলেন। এমনকি আয়েশা (রাদি.) -কে জড়িয়েও কিছু বলিলেন। আয়েশা (রাদি.) সেখানে বসা ছিলেন। শেষ পর্যন্ত রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) আয়েশা (রাদি.)-এর দিকে তাকিয়ে দেখছিলেন। তিনি কিছু বলেন কিনা।

রাবী উরওয়াহ (রাদি.) বলেন, আয়েশা (রাদি.) যায়নাব (রাদি.)-এর কথার প্রস্তুতি বাদে কথা বলিতে শুরু করিলেন এবং তাঁকে চুপ করে দিলেন। আয়েশা (রাদি.) বলেন, নাবী (সাঃআঃ) তখন আয়েশা (রাদি.)-এর দিকে তাকিয়ে বলিলেন, এ হচ্ছে আবু বক্‌রের (রাদি.) কন্যা। আবু মারওয়ান গাস্‌সানী (রাদি.) হিশাম এর সূত্রে উরওয়াহ (রাদি.) হইতে বলেন, লোকেরা তাদের হাদিয়াসমূহ নিয়ে আয়েশা (রাদি.)-এর জন্য নির্ধারিত দিনের অপেক্ষা করত। অন্য সনদে হিশাম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) মুহাম্মাদ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু হারিস ইবনু হিশাম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিত। আয়েশা (রাদি.), বলেছেন, আমি নাবী (সাঃআঃ)-এর নিকট ছিলাম, এমন সময় ফাতিমাহ (রাদি.) অনুমতি চাইলেন।

৫১/৯. অধ্যায়ঃ যে হাদিয়া ফিরিয়ে দেয়া হয় না।

২৫৮২

আয্‌রাহ ইবনু সাবিত আনসারী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি একদা সুমামাহ ইবনু আবদুল্লাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর নিকট গেলাম, তিনি আমাকে সুগন্ধি দিলেন এবং বলিলেন, আনাস (রাদি.) কখনো সুগন্ধি দ্রব্য ফিরিয়ে দিতেন না। তিনি আরো বলেন, আর আনাস (রাদি.) বলেছেন, নাবী (সাঃআঃ) সুগন্ধি ফিরিয়ে দিতেন না।

৫১/১০. অধ্যায়ঃ কাছে নেই এমন বস্তু হেবা বা দান করা যিনি জায়িয মনে করেন।

২৫৮৩

মিসওয়ার ইবনু মাখরামা ও মারওয়ান (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তারা বলেন, হাওয়াযিন গোত্রের প্রতিনিধি দল যখন নাবী (সাঃআঃ)-এর নিকট আগমন করিলেন। তখন তিনি লোকদের সামনে ভাষণ দিতে দাঁড়িয়ে আল্লাহ তাআলার যথাযোগ্য প্রশংসা করিলেন। অতঃপর বলিলেন, তোমার ভাইয়েরা আমাদের নিকট তওবাহ করে এসেছে। আমি তাদেরকে তাদের যুদ্ধবন্দীদের ফেরত দেওয়া সঙ্গত মনে করছি। কাজেই তোমাদের মধ্যে যারা সন্তুষ্টচিত্তে করিতে চায় তারা যেন তা করে। আর যে নিজের অংশ রেখে দিতে চায়, এভাবে প্রথম যে ফায় [১] আল্লাহ আমাদের দান করবেন সেখান হইতে তার হিস্‌সা আদায় করে দিব। তখন সকলেই বলিলেন, আমরা আপনার সন্তুষ্টির জন্য তা করলাম।

[১] বিনা যুদ্ধে লব্ধ পরিত্যক্ত শত্রু সম্পত্তি।

২৫৮৪

মিসওয়ার ইবনু মাখরামা ও মারওয়ান (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তারা বলেন, হাওয়াযিন গোত্রের প্রতিনিধি দল যখন নাবী (সাঃআঃ)-এর নিকট আগমন করিলেন। তখন তিনি লোকদের সামনে ভাষণ দিতে দাঁড়িয়ে আল্লাহ তাআলার যথাযোগ্য প্রশংসা করিলেন। অতঃপর বলিলেন, তোমার ভাইয়েরা আমাদের নিকট তওবাহ করে এসেছে। আমি তাদেরকে তাদের যুদ্ধবন্দীদের ফেরত দেওয়া সঙ্গত মনে করছি। কাজেই তোমাদের মধ্যে যারা সন্তুষ্টচিত্তে করিতে চায় তারা যেন তা করে। আর যে নিজের অংশ রেখে দিতে চায়, এভাবে প্রথম যে ফায় [১] আল্লাহ আমাদের দান করবেন সেখান হইতে তার হিস্‌সা আদায় করে দিব। তখন সকলেই বলিলেন, আমরা আপনার সন্তুষ্টির জন্য তা করলাম।

[১] বিনা যুদ্ধে লব্ধ পরিত্যক্ত শত্রু সম্পত্তি।

৫১/১১. অধ্যায়ঃ হেবা বা দানর প্রতিদান প্রদান করা।

২৫৮৫

আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) হাদিয়া গ্রহণ করিতেন এবং তার প্রতিদানও দিতেন। আবু আবদুল্লাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, ওয়াকী ও মুহাযির (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হিশাম তার পিতা সূত্রে আয়েশা (রাদি.) হইতে উল্লেখ করেননি।

৫১/১২. অধ্যায়ঃ সন্তানের জন্য হেবা বা দান। কোন এক সন্তানকে কিছু দান করা বৈধ হইবে না, যতক্ষণ না ইনসাফের সঙ্গে অন্য সন্তানদের সমভাবে দান করা হয়। অবশ্য এ ক্ষেত্রে উক্ত পিতার বিপক্ষে কারো সাক্ষী দেয়া চলবে না।

নাবী (সাঃআঃ) ইরশাদ করিয়াছেন, সন্তানদেরকে কিছু দেয়ার ক্ষেত্রে তোমরা ইনসাফপূর্ণ আচরণ কর। কিছু দান করে পিতার পক্ষে ফেরত নেয়া বৈধ কি? পুত্রের সম্পদ হইতে ন্যায়সঙ্গতভাবে পিতা খেতে পারবে, তবে সীমালঙ্ঘন করিবে না। নাবী (সাঃআঃ) একবার উমর (রাদি.)-এর নিকট হইতে একটি উট ক্রয় করিলেন, পরে ইবনু উমরকে তা দান করে বলিলেন, এটা যে কোন কাজে লাগাতে পার।

২৫৮৬

নুমান ইবনু বাশীর (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তার পিতা তাকে নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর নিকট এলেন এবং বলিলেন, আমি আমার এই পুত্রকে একটি গোলাম দান করেছি। তখন তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, তোমার সব পুত্রকেই কি তুমি এরূপ দান করেছ। তিনি বলিলেন, না; তিনি বলিলেন, তবে তুমি তা ফিরিয়ে নাও।

৫১/১৩. অধ্যায়ঃ হেবা বা দানর ব্যাপারে সাক্ষী রাখা।

২৫৮৭

আমির (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নুমান ইবনু বাশীর (রাদি.) -কে মিম্বরের উপর বলিতে শুনিয়াছি যে, আমার পিতা আমাকে কিছু দান করেছিলেন। তখন (আমার মাতা) আমরা বিনতে রাওয়াহা (রাদি.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) -কে সাক্ষী রাখা ব্যতীত সম্মত নই। তখন তিনি রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর নিকট আসলেন এবং বলিলেন, আমরা বিনতে রাওয়াহার গর্ভজাত আমার পুত্রকে কিছু দান করেছি। হে আল্লাহর রাসুল! আপনাকে সাক্ষী রাখার জন্য সে আমাকে বলেছে। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করিলেন, তোমার সব ছেলেকেই কি এ রকম করেছ? তিনি বলিলেন, না। রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলিলেন, তবে আল্লাহকে ভয় কর এবং আপন সন্তানদের মাঝে সমতা রক্ষা কর। [নুমান (রাদি.)] বলেন, অতঃপর তিনি ফিরে গেলেন এবং তার দান ফিরিয়ে নিলেন।

৫১/১৪. অধ্যায়ঃ পুরুষের স্ত্রীর জন্য এবং স্ত্রীর পুরুষের জন্য হেবা বা দান করা।

ইবরাহীম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন, এরূপ দান বৈধ। আর উমার ইবনু আবদুল আযীয (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন, এ ধরনের দান করে তারা ফিরিয়ে নিতে পারবে না। নাবী (সাঃআঃ) তাহাঁর স্ত্রীগণের নিকট আয়েশা (রাদি.)-এর ঘরে সেবা-শুশ্রুষা গ্রহণের অনুমতি চেয়েছিলেন। নাবী (সাঃআঃ) বলেছেন, যে আপন দান ফেরত নেয়, সে ঐ কুকুরের মত, যে বমি করে পুনরায় খায়।

ইমাম যুহরী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, কোন লোক যদি তার স্ত্রীকে বলে, আমাকে তোমার মাহরের কিছু অংশ বা সবটুকু দান করে দাও। অথচ সে দান করার কিছু পরেই তালাক দিয়ে বসে, আর স্ত্রীও তার দান ফেরত দাবী করে তাহলে তাকে তা ফেরত দিতে হইবে; যদি প্রতারণার নিয়তে এ রকম করে থাকে। আর যদি সে খুশী মনে দান করে থাকে, আর স্বামীর আচরণেও প্রতারণা না থাকে তাহলে বৈধ।

আল্লাহ তাআলা বলেন, “পরে যদি তারা তার কিছু অংশ দান করে দেয় তবে আনন্দ ও তৃপ্তি সহকারে তা ভোগ কর। ” (সুরা আল ইমরান ৪)

২৫৮৮

আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) ভারী হয়ে পড়লেন এবং তাহাঁর কষ্ট বেড়ে গেল। তখন তিনি তাহাঁর স্ত্রীগণের নিকট আমার ঘরে শুশ্রুষা পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করিলেন। তাঁরা তাঁকে সম্মতি দিলেন। অতঃপর একদা দুব্যক্তির উপর ভর করে বের হলেন, তখন তাহাঁর উভয় পা মাটি স্পর্শ করছিল। তিনি আব্বাস (রাদি.) ও আরেক ব্যক্তির মাঝে ভর দিয়ে চলছিলেন। উবায়দুল্লাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আয়েশা (রাদি.) যা বলিলেন, তা আমি ইবনু আব্বাস (রাদি.)-এর নিকট আরয করলাম, তিনি তখন আমাকে বলিলেন, আয়েশা (রাদি.) যার নাম উল্লেখ করিলেন না, তিনি কে, তা জান কি? আমি বললাম, না। তিনি বলিলেন, তিনি হলেন আলী ইবনু আবু তালিব (রাদি.)।

২৫৮৯

ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) বলেছেন, দান করে তা ফেরত গ্রহণকারী ঐ কুকুরের মত, যে বমি করে এরপর তার বমি খায়।

৫১/১৫. অধ্যায়ঃ স্বামী আছে এমন নারীর স্বামী ব্যতীত অন্যের জন্য হেবা বা দান করা বা দাস মুক্ত করা। নির্বোধ না হলে বৈধ, নির্বোধ হলে অবৈধ।

আল্লাহ তাআলা বলেন : নির্বোধদের হাতে তোমরা নিজেদের সম্পদ তুলে দিও না। (আল ইমরান : ৫)

২৫৯০

আসমা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! যুবায়ের (রাদি.) আমার নিকট যে সম্পদ রাখেন, সেগুলো ছাড়া আমার নিজের কোন সম্পদ নেই। এমতাবস্থায় আমি কি সদকা করব? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ সদকা করিতে পার। লুকিয়ে রাখবে না। তাহলে তোমার ব্যাপারে লুকিয়ে রাখা হইবে।

২৫৯১

আসমা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ খরচ কর, আর হিসাব করিতে যেওনা, তাহলে আল্লাহ তোমার বেলায় হিসাব করে দিবেন। লুকিয়ে রেখ না, নইলে আল্লাহও তোমার ব্যাপারে লুকিয়ে রাখবেন।

২৫৯২

মায়মূনাহ বিনতে হারিস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ)-এর অনুমতি ব্যতীত তিনি আপন বাঁদীকে মুক্ত করে দিলেন। অতঃপর তার ঘরে নাবী (সাঃআঃ) -র অবস্থানের দিন তিনি বলিলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কি জানেন না আমি আমার বাঁদী মুক্ত করে দিয়েছি? তিনি বলিলেন, তুমি কি তা করেছ? মায়মূনাহ (রাদি.) বলিলেন, হ্যাঁ। তিনি বলিলেন, শুন! তুমি যদি তোমার মামাদেরকে এটা দান করিতে তাহলে তোমার জন্য বেশি নেকির কাজ হত। (২৫৯৪)

অন্য সনদে বাকর ইবনু মুযার (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) —-কুরায়ব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিত যে, মায়মূনাহ (রাদি.) গোলাম মুক্ত করিয়াছেন।

২৫৯৩

আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) সফরের মনস্থ করলে স্ত্রীগণের মধ্যে কুরআর ব্যবস্থা করিতেন। যার নাম আসত তিনি তাঁকে নিয়েই সফরে বের হইতেন। এছাড়া প্রত্যেক স্ত্রীর জন্য একদিন একরাত নির্দিষ্ট করে দিতেন। তবে সাওদা বিনতে যামআহ (রাদি.) নিজের দিন ও রাত নাবী (সাঃআঃ)-এর স্ত্রী আয়েশা (রাদি.) -কে দান করেছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর সন্তুষ্টি কামনা করিতেন।

৫১/১৬. অধ্যায়ঃ প্রথমে হাদিয়া দিয়ে শুরু করিবে।

২৫৯৪

ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আযাদকৃত গোলাম কুরায়ব হইতে বর্ণিত যে, নাবী (সাঃআঃ)-এর স্ত্রী মায়মূনাহ (রাদি.) তাহাঁর এক বাঁদীকে মুক্ত করে দিলেন। রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) তখন তাঁকে বলিলেন, তুমি যদি একে তোমার মামাদের কাউকে দিয়ে দিতে তবে তোমার অধিক পুণ্য হত।

২৫৯৫

আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমার দুজন প্রতিবেশী আছে। এ দুজনের কাকে আমি হাদিয়া দিব? তিনি ইরশাদ করিলেন, এ দুজনের মাঝে যার দরজা তোমার বেশি নিকটে।

৫১/১৭. অধ্যায়ঃ কারণবশতঃ হাদিয়া কবুল না করা।

উমার ইবনু আবদুল আযীয (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর যুগে হাদিয়া ছিল, কিন্তু আজকাল তা ঘুষে পরিণত হয়েছে।

২৫৯৬

আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি নাবী (সাঃআঃ)-এর জনৈক সহাবী সাআব ইবনু জাস্‌সামা লাইসী (রাদি.) -কে বলিতে শুনেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) -কে তিনি একটি বন্য গাধা হাদিয়া দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি ইহরাম অবস্থায় আবওয়াহ কিংবা ওয়াদ্দান নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন। কাজেই তিনি সেটা ফিরিয়ে দিলেন। সাআব (রাদি.) বলেন, যখন তিনি আমার চেহারায় হাদিয়া ফিরিয়ে দেয়ার ছাপ দেখলেন, তখন তিনি বলিলেন, আমরা ইহরাম অবস্থায় না থাকলে তোমার হাদিয়া ফিরিয়ে দিতাম না।

২৫৯৭

আবু হুমায়দ সাইদ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) আযদ গোত্রের ইবনু উতবিয়া নামের এক লোককে সদকা সংগ্রহের কাজে নিযুক্ত করেছিলেন। তিনি ফিরে এসে বলিলেন, এগুলো আপনাদের আর এগুলো আমাকে হাদিয়া দেয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলিলেন, সে তার বাবার ঘরে কিংবা তার মায়ের ঘরে কেন বসে থাকল না। তখন সে দেখিতে পেত, তাকে কেউ হাদিয়া দেয় কি দেয়না? যাঁর হাতে আমার প্রাণ, সেই সত্তার কসম, সদকার মাল হইতে স্বল্প পরিমাণও যে আত্মসাৎ করিবে, সে তা কাঁধে করে কিয়ামাত দিবসে উপস্থিত হইবে। সেটা উট হলে তার আওয়াজ করিবে, আর গাভী হলে হাম্বা হাম্বা রব করিবে আর বকরী হলে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করিতে থাকবে। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) তাহাঁর দুহাত এই পরিমাণ উঠালেন যে, আমরা তার দুই বগলের শুভ্রতা দেখিতে পেলাম। তিনি তিনবার বলিলেন, হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি। হে আল্লাহ আমি কি পৌঁছে দিয়েছি?

৫১/১৮. অধ্যায়ঃ হাদিয়া পাঠিয়ে দিয়ে বা হাদিয়া পাঠিয়ে দেয়ার ওয়াদা করে তা পৌঁছানোর পূর্বেই মৃত্যু হলে।

আবীদাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, দানকারী ব্যক্তি হাদিয়া সামগ্রী পৃথক করে হাদিয়া প্রাপকের জীবদ্দশায় মারা গেলে তা হাদিয়া প্রাপকের ওয়ারিশদের হক হইবে। (যদি প্রাপক ইতিমধ্যে মারা গিয়ে থাকে) আর আলাদা না করা হলে হাদিয়া দাতার ওয়ারিশদের হক হইবে। আর হাসান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন, উভয়ের যে কোন একজন মারা গেলে এবং প্রাপকের নিযুক্ত লোক উক্ত হাদিয়া সামগ্রী নিজ অধিকারে নিয়ে নিলে তা প্রাপকদের ওয়ারিশদের হক হইবে।

২৫৯৮

জাবির (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) আমাকে বলিলেন, বাহরাইন হইতে মাল এসে পৌঁছলে তোমাকে আমি এভাবে তিনবার দিব, কিন্তু মাল আসার পূর্বেই নাবী (সাঃআঃ)-এর মৃত্যু হল। পরে আবু বক্‌র (রাদি.) ঘোষককে ঘোষণা করিতে নির্দেশ দিলেন, নাবী (সাঃআঃ)-এর পক্ষ হইতে কারো জন্য কোন প্রতিশ্রুতি থাকলে কিংবা কারো কোন ঋণ থাকলে সে যেন আমার নিকট আসে। এ ঘোষণা শুনে আমি তাহাঁর নিকট গিয়ে বললাম, আমাকে নাবী (সাঃআঃ) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তখন তিনি আমাকে আঁজলা ভরে তিনবার দিলেন।

৫১/১৯. অধ্যায়ঃ দাস ও বিবিধ সামগ্রী কিভাবে অধিকারভুক্ত করা যায়?

ইবনু উমার (রাদি.) বলেন, আমি এক বেয়াড়া উটে সাওয়ার ছিলাম। নাবী (সাঃআঃ) সেটি ক্রয় করে বলিলেন, হে আবদুল্লাহ! এটা তোমার।

২৫৯৯

মিসওয়ার ইবনু মাখরামা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) একবার কিছু কবা (পোশাক বিশেষ) বণ্টন করিলেন। কিন্তু মাখরামাকে তা হইতে একটিও দিলেন না। মাখরামা (রাদি.) তখন (ছেলেকে) বলিলেন, প্রিয় বৎস! আমাকে রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর খিদমতে নিয়ে চল। [মিসওয়ার (রাদি.) বলেন] আমি তার সঙ্গে গেলাম, তখন তিনি আমাকে বলিলেন, যাও, ভিতরে গিয়ে তাঁকে আমার জন্য আহ্বান জানাও। [মিসওয়ার (রাদি.)] বলেন, অতঃপর আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) -কে আহ্বান জানালাম। তিনি বেরিয়ে এলেন। তখন তাহাঁর নিকট একটি কবা ছিল। তিনি বলিলেন, এটা আমি তোমার জন্য হিফাযত করে রেখে দিয়েছিলাম। মাখরামা (রাদি.) সেটি তাকিয়ে দেখলেন। নাবী (সাঃআঃ) বলিলেন মাখরামা খুশী হয়ে গেছে।

৫১/২০. অধ্যায়ঃ হাদিয়া পাঠানো হলে গ্রহণ করলাম এ কথা না বলে কেউ স্বীয় অধিকারভুক্ত করে নিলে।

২৬০০

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর নিকট এল এবং বলিল, আমি ধ্বংস হয়ে গিয়েছি। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, তা কী? সে বলিল, আমি রমাযানে দিনের বেলা স্ত্রী সম্ভোগ করেছি। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, তুমি কি কোন গোলাম আযাদ করিতে পারবে? সে বলিল, না। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, তুমি কি এক নাগাড়ে দুমাস সিয়াম পালন করিতে পারবে? সে বলিল, না। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, তাহলে তুমি কি ষাটজন মিসকীনকে খাওয়াতে পারবে? সে বলিল, না। বর্ণনাকারী বলেন, ইতোমধ্যে এক আনসারী এক আরক খেজুর নিয়ে আসল। আরক হল নির্দিষ্ট মাপের খেজুর মাপার পাত্র। তিনি বলিলেন, যাও, এটা নিয়ে গিয়ে সদকা করে দাও। সে বলিল, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের চেয়ে বেশী অভাবী এমন কাউকে সদকা করে দিব? যিনি আপনাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করিয়াছেন, তাহাঁর কসম! কঙ্করময় মরুভূমির মাঝে (অর্থাৎ মদীনায়) আমাদের চেয়ে অভাবী কোন ঘর নেই। শেষে তিনি বলিলেন, যাও তা তোমার পরিবার-পরিজনদের খাওয়াও।

৫১/২১. অধ্যায়ঃ এক ব্যক্তির নিকট প্রাপ্য ঋণ অন্যকে দান করে দেয়া।

শুবা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হাকাম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) থেকে বর্ণনা করে বলেন যে, তা বৈধ। হাসান ইবনু আলী (রাদি.) তাহাঁর পাওনা টাকা এক ব্যক্তিকে দান করেছিলেন। নাবী (সাঃআঃ) বলেছেন, কারো যিম্মায় কোন হক থাকলে তার দায়িত্ব সেটা পরিশোধ করে দেয়া, কিংবা হকদারের নিকট হইতে মাফ করিয়ে নেয়া। জাবির (রাদি.) বলেন, আমার পিতা ঋণগ্রস্ত অবস্থায় শহীদ হলেন। তখন নাবী (সাঃআঃ) আমার বাগানের খেজুরের বিনিময়ে আমার পিতাকে ঋণ হইতে মুক্ত করিতে পাওনাদারদেরকে বলিলেন।

২৬০১

জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধে তাহাঁর পিতা শহীদ হলেন। পাওনাদাররা তাদের পাওনা আদায়ের ব্যাপারে শক্ত মনোভাব অবলম্বন করিল। তখন আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর নিকট হাজির হয়ে তাঁকে এ বিষয়ে বললাম। তখন তিনি তাদেরকে আমার বাগানের খেজুর নিয়ে আমার পিতাকে ঋণমুক্ত করিতে বলিলেন। কিন্তু তারা অস্বীকার করিল। রাসুললুল্লাহ (সাঃআঃ) আমার বাগান তাদের দিলেন না এবং তাদের ফল কাটতেও দিলেন না। বরং তিনি বলিলেন, আগামীকাল ভোরে আমি তোমাদের নিকট যাব। জাবির (রাদি.) বলেন, পরদিন সকালে তিনি আমাদের নিকট আগমন করিলেন এবং খেজুর বাগানে ঘুরে ঘুরে ফলের বরকতের জন্য দুআ করিলেন। অতঃপর ফল কেটে এনে আমি তাদের ঋণ পরিশোধ করলাম। অতঃপরও সেই ফলের কিছু অংশ রয়ে গেল। পরে আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর নিকট হাযির হয়ে তাঁকে সে সম্পর্কে জানালাম। তখন তিনি উপবিষ্ঠ ছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) উমরকে বলিলেন, শোন হে উমর! তখন তিনিও সেখানে উপবিষ্ঠ ছিলেন। উমার (রাদি.) বলিলেন, আমরা কি আগে থেকেই জানিনা যে, আপনি আল্লাহর রাসুল! আল্লাহর কসম! নিঃসন্দেহে আপনি আল্লাহর রাসুল।

৫১/২২ . অধ্যায়ঃ জামাআতের জন্য এক ব্যক্তির দান।

আসমা (রাদি.) কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ এবং ইবনু আবু আতীক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) -কে বলেছেন, আমি আমার বোন আয়েশা (রাদি.)-এর নিকট হইতে উত্তরাধিকারসূত্রে গানাহ নামক স্থানে কিছু সম্পত্তি পেয়েছি। আর মুআবিয়াহ (রাদি.) আমাকে এর পরিবর্তে আমাকে এক লাখ দিরহাম দিয়েছিলেন। এগুলো তোমাদের দুজনের।

২৬০২

সাহল ইবনু সাদ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ)-এর নিকট কিছু পানীয় উপস্থিত করা হল। সেখান হইতে কিছু তিনি নিজে পান করিলেন। তাহাঁর ডান পার্শ্বে ছিল এক যুবক আর বাম পার্শ্বে ছিলেন বৃদ্ধগণ। তখন তিনি যুবককে বলিলেন, তুমি আমাকে অনুমতি দিলে এদেরকে আমি দিতে পারি। সে বলিল, হে আল্লাহর রাসুল! আপনার (বারকাত) হইতে আমার প্রাপ্য অংশের ব্যাপারে আমি অন্য কাউকে অগ্রগণ্য করিতে পারি না। তখন তিনি তার হাতে পাত্রটি সজোরে রেখে দিলেন।

৫১/২৩. অধ্যায়ঃ দখলভুক্ত বা দখলভুক্ত নয় এবং বন্টিত বা বন্টিত নয় এমন সম্পদ দান করা।

নাবী (সাঃআঃ) ও তাহাঁর সহাবীগণ হাওয়াযিন গোত্রের নিকট হইতে যে গনীমত লাভ করেছিলেন, তা বন্টিত না হওয়া সত্বেও তাদেরকে তা দান করে দিয়েছিলেন।

২৬০৩

জাবির (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নাবী (সাঃআঃ)-এর নিকট মাসজিদে উপস্থিত হলাম, তিনি আমাকে মূল্য পরিশোধ করিলেন এবং আরো বেশি দিলেন।

২৬০৪

জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক সফরে আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর নিকট একটা উট বিক্রয় করলাম। মদীনায় ফিরে এসে তিনি আমাকে বলিলেন, মাসজিদে এস, দুরাকআত সলাত আদায় কর। অতঃপর তিনি উটের দাম ওজন করে দিলেন। রাবী শুবা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছিলেন, অতঃপর তিনি আমাকে ওজন করে উটের দাম দিলেন এবং বলেন, তিনি ওজনে প্রাপ্যের অধিক দিলেন। হার্‌রা যুদ্ধের সময় সিরিয়াবাসীর ছিনিয়ে নেয়ার আগে পর্যন্ত আমার নিকট ঐ মালের কিছু অবশিষ্ট ছিল।

২৬০৫

সাহল ইবনু সাদ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর নিকট কিছু পানীয় উপস্থিত করা হল। তখন তাহাঁর ডানপাশে ছিল এক যুবক আর বামপাশে ছিল কয়েকজন বৃদ্ধ। তিনি যুবককে বলিলেন, তুমি কি আমাকে এই পানীয় এদের দেয়ার অনুমতি দিবে? যুবক বলিল, না, আল্লাহর কসম! আপনার বরকত হইতে আমার প্রাপ্য অংশের ক্ষেত্রে আমি কাউকে অগ্রাধিকার দিব না। তখন তিনি পান পাত্র তার হাতে সজোরে রেখে দিলেন।

২৬০৬

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর নিকট এক ব্যক্তির কিছু ঋণ ছিল। (তাগাদা করিতে এসে সে অশোভনীয় কিছু শুরু করলে) সাহাবীগণ তাকে কিছু করিতে চাইলেন। তিনি তাদের বলিলেন, তাকে ছেড়ে দাও, পাওনাদারের কিছু বলার হক আছে। তিনি তাদের আরও বলিলেন, তাকে এক বছর বয়সী একটি উট খরিদ করে দাও। সাহাবীগণ বলিলেন, আমরা তো তার দেয়া এক বছর বয়সের উটের মতো পাচ্ছিনা; বরং তার চেয়ে ভালো উট পাচ্ছি। তিনি বলিলেন, তবে তাই কিনে তাকে দিয়ে দাও। কেননা যে উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ করে, সে তোমাদের সর্বোত্তম ব্যক্তিদের মধ্যে। কিংবা তিনি বলেছেন, সে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।

৫১/২৪. অধ্যায়ঃ একদল অন্য গোত্রকে বা এক ব্যক্তি কোন দলকে দান করলে তা বৈধ।

২৬০৭

মারওয়ান ইবনু হাকাম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ও মিসওয়ার ইবনু মাখরামা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, হাওয়াযিন গোত্রের লোকেরা ইসলাম গ্রহণের পর প্রতিনিধি হিসাবে নাবী (সাঃআঃ)-এর নিকট এল এবং তাদের সম্পদ ও যুদ্ধবন্দী ফিরিয়ে দেয়ার আবেদন জানাল। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) তাদেরকে বলিলেন, তোমরা দেখছ আমার সঙ্গে আরো লোক আছে। আমার নিকট সত্য কথা হল অধিক প্রিয়। তোমরা যুদ্ধবন্দী অথবা সম্পদ এ দুয়ের একটি বেছে নাও। আমি তো তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। (রাবী বলেন) নাবী (সাঃআঃ) তায়েফ হইতে ফিরে প্রায় দশ রাত তাদের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন। যখন তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, নাবী (সাঃআঃ) দুটির যে কোন একটিই শুধু তাদের ফিরিয়ে দিবেন, তখন তারা বলিল, তবে তো আমরা আমাদের বন্দীদেরই পছন্দ করব। অতঃপর তিনি মুসলিমদের সামনে দাঁড়ালেন এবং আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা করে বলিলেন, আম্মাবাদ। তোমাদের এই ভাইয়েরা তাওবা করে আমাদের নিকট এসেছে, আর আমি তাদেরকে তাদের বন্দী ফিরিয়ে দেয়া সঠিক মনে করছি, কাজেই তোমাদের মধ্যে যারা সন্তুষ্টচিত্তে এ সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া পছন্দ করে, তারা যেন তা করে। আর যারা নিজেদের অংশ পেতে পছন্দ করে এরূপভাবে যে, আল্লাহ আমাকে প্রথমে যে ফায় সম্পদ দান করবেন, তা হইতে তাদের প্রাপ্য অংশ আদায় করে দিব, তারা যেন তা করে। সকলেই তখন বলিল, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা প্রসন্নচিত্তে তা মেনে নিলাম। তিনি তাদের বলিলেন, তোমাদের মধ্যে কারা অনুমতি দিলে আর কারা দিলে না, তা-তো আমি বুঝতে পারলাম না। কাজেই তোমরা ফিরে যাও। তোমাদের নেতারা তোমাদের মতামত আমার নিকট পেশ করিবে। অতঃপর লোকেরা ফিরে গেল এবং তাদের নেতারা তাদের সঙ্গে আলোচনা করিল। পরে তারা নাবী (সাঃআঃ)-এর নিকট ফিরে এসে তাঁকে জানাল যে, প্রসন্নচিত্তে অনুমতি দিয়েছে। হাওয়াযিনের বন্দী সম্পর্কে আমাদের নিকট এতটুকুই পৌঁছেছে। আবু আবদুল্লাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, এই শেষ অংশটুকুই ইমাম যুহরী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর বক্তব্য।

২৬০৮

মারওয়ান ইবনু হাকাম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ও মিসওয়ার ইবনু মাখরামা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, হাওয়াযিন গোত্রের লোকেরা ইসলাম গ্রহণের পর প্রতিনিধি হিসাবে নাবী (সাঃআঃ)-এর নিকট এল এবং তাদের সম্পদ ও যুদ্ধবন্দী ফিরিয়ে দেয়ার আবেদন জানাল। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) তাদেরকে বলিলেন, তোমরা দেখছ আমার সঙ্গে আরো লোক আছে। আমার নিকট সত্য কথা হল অধিক প্রিয়। তোমরা যুদ্ধবন্দী অথবা সম্পদ এ দুয়ের একটি বেছে নাও। আমি তো তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। (রাবী বলেন) নাবী (সাঃআঃ) তায়েফ হইতে ফিরে প্রায় দশ রাত তাদের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন। যখন তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, নাবী (সাঃআঃ) দুটির যে কোন একটিই শুধু তাদের ফিরিয়ে দিবেন, তখন তারা বলিল, তবে তো আমরা আমাদের বন্দীদেরই পছন্দ করব। অতঃপর তিনি মুসলিমদের সামনে দাঁড়ালেন এবং আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা করে বলিলেন, আম্মাবাদ। তোমাদের এই ভাইয়েরা তাওবা করে আমাদের নিকট এসেছে, আর আমি তাদেরকে তাদের বন্দী ফিরিয়ে দেয়া সঠিক মনে করছি, কাজেই তোমাদের মধ্যে যারা সন্তুষ্টচিত্তে এ সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া পছন্দ করে, তারা যেন তা করে। আর যারা নিজেদের অংশ পেতে পছন্দ করে এরূপভাবে যে, আল্লাহ আমাকে প্রথমে যে ফায় সম্পদ দান করবেন, তা হইতে তাদের প্রাপ্য অংশ আদায় করে দিব, তারা যেন তা করে। সকলেই তখন বলিল, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা প্রসন্নচিত্তে তা মেনে নিলাম। তিনি তাদের বলিলেন, তোমাদের মধ্যে কারা অনুমতি দিলে আর কারা দিলে না, তা-তো আমি বুঝতে পারলাম না। কাজেই তোমরা ফিরে যাও। তোমাদের নেতারা তোমাদের মতামত আমার নিকট পেশ করিবে। অতঃপর লোকেরা ফিরে গেল এবং তাদের নেতারা তাদের সঙ্গে আলোচনা করিল। পরে তারা নাবী (সাঃআঃ)-এর নিকট ফিরে এসে তাঁকে জানাল যে, প্রসন্নচিত্তে অনুমতি দিয়েছে। হাওয়াযিনের বন্দী সম্পর্কে আমাদের নিকট এতটুকুই পৌঁছেছে। আবু আবদুল্লাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, এই শেষ অংশটুকুই ইমাম যুহরী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর বক্তব্য।

৫১/২৫. অধ্যায়ঃ সঙ্গীদের মাঝে কাউকে হাদিয়া করা হলে সেই তার হকদার।

ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে উল্লেখ করা হয়েছে, সঙ্গীরাও শরীক থাকবে, কিন্তু তা সহিহ নয়।

২৬০৯

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) নির্দিষ্ট বয়সের একটি উট ধার নিয়েছিলেন। কিছুদিন পর উটের মালিক এসে তাগাদা দিল। সাহাবীগণও তাকে কিছু বলিলেন। তখন নাবী (সাঃআঃ) বলিলেন, পাওনাদারদের কিছু বলার হক আছে। অতঃপর তিনি তাকে তার উটের চেয়ে উত্তম উট পরিশোধ করিলেন এবং বলিলেন, ভালভাবে ঋণ পরিশোধকারী ব্যক্তিই তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।

২৬১০

ইবনু উমার (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক সফরে তিনি নাবী (সাঃআঃ)-এর সঙ্গে ছিলেন এবং ইবনু উমার (রাদি.) একটি বেয়াড়া উটে সাওয়ার ছিলেন। উটটি বারবার নাবী (সাঃআঃ)-এর আগে যাচ্ছিল। আর তার পিতা উমার (রাদি.) তাকে বলছিলেন, হে আবদুল্লাহ! নাবী (সাঃআঃ)-এর আগে চলা কারো জন্য উচিত নয়। তখন নাবী (সাঃআঃ) উমার (রাদি.)-কে বলিলেন এটা আমার নিকট বিক্রয় কর। উমার (রাদি.) বলিলেন, এটাতো আপনার। তখন তিনি সেটা ক্রয় করে বলিলেন, হে আবদুল্লাহ! এটা তোমার। কাজেই এটা দিয়ে তুমি যা ইচ্ছা তাই করিতে পার।

৫১/২৬. অধ্যায়ঃ উষ্ট্রারোহীকে সেই উষ্ট্রটি দান করা হলে তা বৈধ।

২৬১১

ইবনু উমার (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা নাবী (সাঃআঃ)-এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম আর আমি (আমার পিতার) একটি বেয়াড়া উটের উপর সাওয়ার ছিলাম। তখন নাবী (সাঃআঃ) উমরকে বলিলেন, এটা আমার নিকট বেচে দাও। তিনি তা বেচে দিলেন। অতঃপর নাবী (সাঃআঃ) তাকে বলিলেন, হে আবদুল্লাহ, এটা তোমার।

৫১/২৭. অধ্যায়ঃ পরিধেয় হিসেবে অপছন্দনীয় কিছু হাদিয়া দেয়া।

২৬১২

আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, উমার (রাদি.) মাসজিদের দ্বার প্রান্তে একজোড়া রেশমী বস্ত্র দেখে বলিলেন, হে আল্লাহর রাসুল! এটা যদি আপনি ক্রয় করে নেন এবং তা জুমুআর দিনে ও প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় পরিধান করিতেন। তখন তিনি বলিলেন, এতো সে-ই পরিধান করে, আখিরাতে যার কোন অংশ নেই। পরে কিছু রেশমী জোড়া আসলে রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) সেখান থেকে উমার (রাদি.) -কে এক জোড়া দান করিলেন। তখন উমার (রাদি.) বলিলেন, আপনি এটা আমাকে পরিধান করিতে দিলেন অথচ (আগে) রেশমী কাপড় সম্পর্কে আপনি যা বলার বলেছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলিলেন, আমিতো এটা তোমাকে পরিধানের জন্য দেইনি। তখন উমার (রাদি.) তা মক্কার তার এক মুশরিক ভাইকে দিয়ে দিলেন।

২৬১৩

ইবনু উমার (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) একদা ফাতিমাহর ঘরে গেলেন। কিন্তু ভিতরে প্রবেশ করিলেন না। আলী (রাদি.) ঘরে এলে ফাতিমাহ (রাদি.) তাকে ঘটনা জানালেন। তিনি আবার নাবী (সাঃআঃ)-এর নিকট বিষয়টি নিবেদন করিলেন। তখন তিনি বলিলেন, আমি তার দরজায় নকশা করা পর্দা ঝুলতে দেখেছি। দুনিয়ার চাকচিক্যের সঙ্গে আমার কী সম্পর্ক? আলী (রাদি.) ফাতিমাহর নিকট এসে ঘটনা খুলে বলিলেন। ফাতিমাহ (রাদি.) বলিলেন, তিনি আমাকে এ সম্পর্কে যা ইচ্ছা নির্দেশ দিন। তখন নাবী (সাঃআঃ) বলিলেন, অমুক পরিবারের অমুকের নিকট এটা পাঠিয়ে দাও; তাদের প্রয়োজন আছে।

২৬১৪

আলী (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) আমাকে একজোড়া রেশমী কাপড় দিলেন। আমি তা পরিধান করলাম। তাহাঁর মুখমণ্ডলে গোস্বার ভাব দেখিতে পেয়ে আমি আমার মহিলাদের মাঝে তা ভাগ করে দিয়ে দিলাম।

৫১/২৮. অধ্যায়ঃ মুশরিকদের দেয়া হাদিয়া গ্রহণ করা

আবু হুরাইরা (রাদি.) নাবী (সাঃআঃ) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, ইবরাহীম (আঃ) (স্ত্রী) সারাকে নিয়ে হিজরাতকালে এমন এক জনপদে উপস্থিত হলেন, যেখানে ছিল এক বাদশাহ অথবা রাবী বলেন, প্রতাপশালী শাসক। সে বলিল, সারার কাছে উপহার স্বরূপ হাজিরাকে দিয়ে দাও। নাবী (সাঃআঃ) -কে বিষ মিশানো বকরীর গোশত হাদিয়া দেয়া হয়েছিল। আবু হুমাইদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আয়িলার শাসক নাবী (সাঃআঃ) -কে একটি সাদা খচ্চর উপহার দিয়েছিলেন, প্রতিদানে তিনি তাকে একটি চাদর দিয়েছিলেন আর সেখানকার শাসক হিসাবে তাকে নিয়োগ পত্র লিখে দিয়েছিলেন।

২৬১৫

আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) -কে একটি রেশমী জুব্বা হাদিয়া দেয়া হল। অথচ তিনি রেশমী কাপড় ব্যবহার করিতে নিষেধ করিতেন। এতে সহাবীগন খুশী হলেন। তখন তিনি বলিলেন, সেই সত্তার কসম! যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, জান্নাতে সাদ ইবনু মুআযের রুমালগুলো এর চেয়ে উৎকৃষ্ট।

২৬১৬

Read previous Hadith

আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

দুমার উকাইদির নাবী (সাঃআঃ) -কে হাদিয়া দিয়েছিলেন।

২৬১৭

আনাস ইবনু মালিক (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক ইয়াহূদী মহিলা নাবী (সাঃআঃ)-এর খিদমতে বিষ মিশানো বকরী নিয়ে এল। সেখান হইতে কিছু অংশ তিনি খেলেন, অতঃপর মহিলাকে হাযির করা হল। তখন বলা হল, আপনি কি একে হত্যা করবেন না? তিনি বলিলেন, না। আনাস (রাদি.) বলেন, নাবী (সাঃআঃ)-এর তালুতে আমি বরাবরই বিষক্রিয়ার আলামত দেখিতে পেতাম।

২৬১৮

আবদুর রহমান ইবনু আবু বক্‌র (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, সফরে নাবী (সাঃআঃ)-এর সঙ্গে আমরা একশ ত্রিশজন ব্যক্তি ছিলাম। সে সময় নাবী (সাঃআঃ) জিজ্ঞেস করিলেন, তোমাদের কারো সঙ্গে কি খাবার আছে? দেখা গেল, এক ব্যক্তির সঙ্গে এক সা কিংবা তার কমবেশী পরিমাণ খাদ্য আছে। সে আটা গোলানো হল। অতঃপর দীর্ঘ দেহী এলোমেলো চুলওয়ালা এক মুশরিক এক পাল বকরী হাঁকিয়ে নিয়ে এল। নাবী (সাঃআঃ) জিজ্ঞেস করিলেন- বিক্রি করিবে, না উপহার দিবে? সে বলিল : না, বরং বিক্রি করব। নাবী (সাঃআঃ) তার নিকট হইতে একটা বকরী কিনে নিলেন। সেটাকে যবহ করা হল। নাবী (সাঃআঃ) বকরীর কলিজা ভুনা করার আদেশ দিলেন। আল্লাহর কসম! একশ ত্রিশজনের প্রত্যেককে নাবী (সাঃআঃ) সেই কলিজার কিছু কিছু করে দিলেন। উপস্থিতদের হাতে দিলেন; আর অনুপস্থিত ছিল তার জন্য তুলে রাখলেন। অতঃপর দুটি পাত্রে তিনি গোশত ভাগ করে রাখলেন। সবাই পরিতৃপ্ত হয়ে খেল। আর উভয় পাত্রে কিছু উদ্বৃত্ত রয়ে গেল। সেগুলো আমরা উটের পিঠে উঠিয়ে নিলাম। অথবা রাবী যা বলিলেন।

৫১/২৯. অধ্যায়ঃ মুশরিকদেরকে হাদিয়া প্রদান করা

আল্লাহ তাআলার ইরশাদ : (মুশরিকদের মধ্যে) দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে নিজ দেশ থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি মহানুভবতা প্রদর্শন ও ন্যায়বিচার করিতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। আল্লাহ তো ন্যায়পরায়ণদেরকে ভালোবাসেন। (সুরা আল-মুমতাহিনা : ৮)

২৬১৯

ইবনু উমার (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, উমার (রাদি.) এক ব্যক্তিকে রেশমী বস্ত্র বিক্রি করিতে দেখে নাবী (সাঃআঃ) -কে বলিলেন, এ জোড়াটি খরিদ করে নিন। জুমুআর দিনে এবং যখন আপনার নিকট কোন প্রতিনিধি দল আসে, তখন তা পরিধান করবেন। তিনি (নাবী সাঃআঃ) বলিলেন, এসব তো তারাই পরিধান করে, যাদের আখিরাতে কোন হিস্‌সা নেই। পরে রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর নিকট কয়েক জোড়া রেশমী কাপড় এল। সেগুলো হইতে একটি জোড়া তিনি উমার (রাদি.)-এর নিকট পাঠালেন। তখন উমার (রাদি.) বলেন, এটা আমি কিভাবে পরিধান করব। অথচ এ সম্পর্কে আপনি যা বলার বলেছেন। এতে তিনি বলিলেন, এটা তোমাকে আমি পরিধান করার জন্য দেইনি। হয় এটা বিক্রয় করে দিবে, নতুবা কাউকে দিয়ে দিবে। তখন উমার (রাদি.) সেটা মক্কার বাসিন্দা তাহাঁর এক ভাইকে ইসলাম গ্রহণের আগে হাদিয়া পাঠালেন।

২৬২০

আসমা বিনতে আবু বক্‌র (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর যুগে আমার আম্মা মুশরিক অবস্থায় আমার নিকট এলেন। আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর নিকট ফাতওয়া চেয়ে বললাম, তিনি আমার প্রতি খুবই আকৃষ্ট, এমতাবস্থায় আমি কি তার সঙ্গে সদাচরণ করব? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ, তুমি তোমার মায়ের সঙ্গে সদাচরণ কর।

৫১/৩০. অধ্যায়ঃ দান বা সদকা করা হলে তা ফিরিয়ে নেয়া কারো জন্য হালাল নয়।

২৬২১

ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) বলেছেন, দান করার পর যে তা ফিরিয়ে নেয়, সে ঐ লোকের মত, যে বমি করে তা আবার খায়।

২৬২২

ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) বলেছেন, খারাপ উপমা দেয়া আমাদের জন্য শোভনীয় নয় তবু যে দান করে তা ফিরিয়ে নেয়, সে ঐ কুকুরের মতো, যে বমি করে তা আবার খায়।

২৬২৩

উমার ইবনু খাত্তাব (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক লোককে আমি আমার একটি ঘোড়া আল্লাহর রাস্তায় আরোহণের জন্য দান করলাম। ঘোড়াটি যার নিকট ছিল, সে তার চরম অযত্ন করিল। তাই সেটা আমি তার নিকট হইতে কিনে নিতে চাইলাম। আমার ধারণা ছিল যে, সে তা কম দামে বিক্রি করিবে। এ সম্পর্কে নাবী (সাঃআঃ) -কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলিলেন, এক দিরহামের বিনিময়েও যদি সে তোমাকে তা দিতে রাজী হয় তবু তুমি তা ক্রয় কর না। কেননা, সদকা করার পর যে তা ফিরিয়ে নেয়, সে ঐ কুকুরের মত, যে বমি করে আবার তা খায়।

৫১/৩১. অধ্যায়ঃ নাই

২৬২৪

আবদুল্লাহ ইবনু উবায়দুল্লাহ ইবনু আবু মুলায়কা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ইবনু জুদআনের আযাদকৃত গোলাম সুহাইবের সন্তান, দুটি ঘর ও একটি কামরা রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) সুহায়ব (রাদি.) -কে দান করেছিলেন বলে দাবী জানান। (মদীনার গভর্নর) মারওয়ান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তখন বলিলেন, এ ব্যাপারে তোমাদের পক্ষে কে সাক্ষী দিবে? তারা বলিল, ইবনু উমার (রাদি.)। মারওয়ান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তখন ইবনু উমার (রাদি.) -কে ডেকে পাঠালেন। তিনি এ মর্মে সাক্ষ্য দিলেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) সুহায়ব (রাদি.) -কে দুটি ঘর ও একটি কামরা দান করেছিলেন। তাদের স্বপক্ষে ইবনু উমারের সাক্ষ্য অনুযায়ী মারওয়ান ফায়সালা করিলেন।

৫১/৩২. অধ্যায়ঃ উমরা ও রুকবা [১] —- সম্পর্কে যা বলা হয়েছে।

— অর্থাৎ বাড়িটি তাকে (তার জীবনকাল পর্যন্ত) দান করে দিলাম। আল্লাহর বাণী : তোমাদেরকে তিনি তাতে বসবাস করিয়েছেন। (সুরা হূদ : ৬১)

[১] উমরা : কাউকে কোন জিনিস দান করার সময় বলা যে, তোমার জীবন পর্যন্ত এটি তোমাকে দিলাম। রুকবা : অর্থ এই শর্তে কাউকে বাড়ীতে বসবাস করিতে দেয়া যে দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে দীর্ঘায়ু হইবে, সে-ই এই বাড়ীর মালিক হইবে।

২৬২৫

জাবির (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) উমরাহ (বস্তু) সম্পর্কে ফায়সালা দিয়েছেন যে, যাকে দান করা হয়েছে, সে-ই সেটার মালিক হইবে।

২৬২৬

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) বলেছেন, উমরাহ বৈধ। আতা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, জাবির (রাদি.) আমাকে নাবী (সাঃআঃ) হইতে একই রকম হাদীস শুনিয়েছেন।

৫১/৩৩. অধ্যায়ঃ মানুষের কাছ থেকে যে ব্যক্তি ঘোড়া, চতুষ্পদ জন্তু বা অন্য কোন কিছু ধার নেয়।

২৬২৭

ক্বাতাদাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আনাস (রাদি.) -কে বলিতে শুনিয়াছি, মদীনায় একবার শত্রুর আক্রমণের ভয় ছড়িয়ে পড়ল। নাবী (সাঃআঃ) তখন আবু ত্বলহা (রাদি.)-এর নিকট হইতে একটি ঘোড়া ধার নিলেন এবং তাতে সাওয়ার হলেন। ঘোড়াটির নাম ছিল মানদূব। অতঃপর তিনি ঘোড়াটিতে টহল দিয়ে ফিরে এসে বলিলেন, কিছুই তো দেখিতে পেলাম না, তবে এই ঘোড়াটিকে আমি সমুদ্রের তরঙ্গের মতো পেয়েছি।

৫১/৩৪. অধ্যায়ঃ বাসর সজ্জার উদ্দেশে নব দম্পতির কিছু ধার নেয়া।

২৬২৮

আয়মান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আয়েশা (রাদি.)-এর নিকট আমি হাযির হলাম। তাহাঁর গায়ে তখন পাঁচ দিরহাম মূল্যের মোটা কাপড়ের কামিজ ছিল। তিনি আমাকে বলিলেন, আমার এ বাঁদীটার দিকে তাকাও, ঘরের ভিতরে এটা পরতে সে অপছন্দ করে। অথচ রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর যামানায় মদীনার মেয়েদের মধ্যে আমারই শুধু একটি কামিজ ছিল। মদীনায় কোন মেয়েকে বিয়ের সাজে সাজাতে গেলেই আমার নিকট কাউকে পাঠিয়ে ঐ কামিজটি চেয়ে নিত।

৫১/৩৫. অধ্যায়ঃ দুগ্ধ পান করানোর জন্য সাময়িকভাবে উট-বকরি প্রদানের ফযীলত।

২৬২৯

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন, মানীহা হিসাবে অধিক দুগ্ধবতী উটনী ও অধিক দুগ্ধবতী বকরী কতই না উত্তম, যা সকাল বিকাল পাত্র ভর্তি দুধ দেয়।

(ইমাম বুখারী বলেন) আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ ও ইসমাঈল (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হাদীসটি মালিক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, এতে তিনি বলেন, সদকা হিসাবে কতই না উত্তম (দুগ্ধবতী উটনী, যা মানীহা হিসাবে দেয়া হয়)।

২৬৩০

আনাস ইবনু মালিক (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, মক্কা হইতে মদীনায় হিজরাতের সময় মুহাজিরদের হাকে কোন কিছু ছিল না। অন্যদিকে আনসারগণ ছিলেন জমি ও ভূসম্পত্তির অধিকারী। তাই আনসারগণ এই শর্তে মুহাজিরদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিলেন যে, প্রতি বছর তারা (আনসারগণ)-এর উৎপন্ন ফল ও ফসলের একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ তাদের (মুহাজিরগণের) দিবেন আর তারা এ কাজে শ্রম দিবে ও দায়-দায়িত্ব নিবে। আনাসের মা উম্মু সুলাইম (রাদি.) ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনু আবু ত্বলহার মা। আনাসের মা রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) -কে (ফল ভোগ করার জন্য) কয়েকটি খেজুর গাছ দিয়েছিলেন। আর নাবী (সাঃআঃ) সেগুলো তাহাঁর আযাদকৃত বাঁদী উসমান ইবনু যায়দের মা উম্মু আয়মানকে দান করে দিয়েছিলেন। ইবনু শিহাব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আনাস (রাদি.) আমাকে বলেছেন যে, নাবী (সাঃআঃ) খায়বারে ইয়াহূদীদের বিরুদ্ধে লড়াই শেষে মদীনায় ফিরে এলে মুহাজিরগণ আনসারদেরকে তাদের দানের সম্পত্তি ফিরিয়ে দিলেন; যেগুলো ফল ও ফসল ভোগ করার জন্য তারা মুহাজিরদের দান করেছিলেন। নাবী (সাঃআঃ) -ও তাহাঁর (আনাসের) মাকে তার খেজুর গাছগুলো ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) উম্মু আয়মানকে ঐ গাছগুলোর পরিবর্তে নিজ বাগানের কিছু অংশ দান করিলেন। আহমাদ ইবনু শাবীব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আমার পিতা আমাদেরকে ইউনুসের সূত্রে এ হাদীসটি উল্লেখ করিয়াছেন এবং — এর স্থলে — বলেছেন, যার অর্থ নিজ ভূমি থেকে।

২৬৩১

আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলেছেন, চল্লিশটি স্বভাবের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট হল দুধ পান করার জন্য কাউকে বকরী দেয়া। কোন বান্দা যদি সওয়াবের আশায় এবং পুরস্কার দানের প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস রেখে উক্ত চল্লিশ স্বভাবের যে কোন একটির উপরে আমল করে তবে আল্লাহ অবশ্যই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। হাস্‌সান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, দুধেল বকরী মানহি দেয়া ব্যতীত আর যে কয়টি স্বভাব আমরা গণনা করলাম, সেগুলো হল সালামের উত্তর দেয়া, হাঁচি দাতার হাঁচির উত্তরে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা, পথ হইতে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো ইত্যাদি। কিন্তু আমরা পনেরটি স্বভাবের অধিক গণনা করিতে পারলাম না।

২৬৩২

জাবির (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে কিছু লোকের অতিরিক্ত ভূসম্পত্তি ছিল।। তারা পরস্পর পরামর্শ করে ঠিক করিল যে, এগুলো তারা তিন ভাগের এক ভাগ, চার ভাগের এক ভাগ বা অর্ধেক হিসাবে ইজারা দিবে। এ কথা শুনে আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলিলেন, কারো অতিরিক্ত জমি থাকলে হয় সে নিজেই চাষ করিবে, কিংবা তার ভাইকে তা (চাষ করিতে) দিবে। আর তা না করিতে চাইলে তা নিজের কাছেই রেখে দিবে।

২৬৩৩

আবু সাঈদ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক বেদুঈন নাবী (সাঃআঃ)-এর নিকট এসে হিজরাত সম্পর্কে জানতে চাইল। তিনি তাকে বলিলেন, থাম! হিজরাতের ব্যাপার বড় কঠিন। বরং তোমার কি উট আছে? সে বলিল, হ্যাঁ আছে। তিনি বলিলেন, তুমি কি এর সদকা আদায় করে থাক? সে বলিল, হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, তুমি দুধ পানের জন্য এগুলো মানীহা হিসাবে দিয়ে থাক? সে বলিল, হ্যাঁ। আবার তিনি প্রশ্ন করিলেন, আচ্ছা! পানি পান করানোর উটগুলো দোহন কর কি? সে বলিল, হ্যাঁ। তখন তিনি ইরশাদ করিলেন, এ যদি হয় তাহলে সাগরের ওপারে হলেও অর্থাৎ তুমি যেখানে থাক আমাল করিতে থাক। আল্লাহ তোমার আমালের প্রতিদানে কম করবেন না।

২৬৩৪

ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) একবার এক ‎জমিতে গেলেন, যার ফসলগুলো আন্দোলিত হচ্ছিল। তিনি জানতে চাইলেন, কার জমি? লোকেরা বলিল, অমুক ‎ব্যক্তি এটি ইজারা নিয়েছে। তিনি বলিলেন, জমিটার নির্দিষ্ট ভাড়া গ্রহণ না করে সে যদি তাকে সাময়িকভাবে তা ‎দিয়ে দিত তবে সেটাই হত তার জন্য উত্তম।

৫১/৩৬. অধ্যায়ঃ প্রচলিত অর্থে যদি কেউ বলে এই দাসীটি তোমার খিদমাতের জন্য দিলাম, এটা বৈধ।

কোন কোন ফিকাহ বিশারদ বলেন, এটা আরিয়ত হইবে। তবে কেউ যদি বলে, এ কাপড়টি তোমাকে পরিধান করিতে দিলাম, তবে তা হিবা হইবে।

২৬৩৫

আবু হুরাইরাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-এর বর্নিত গ্রন্থ হইতে বলেছেন, ইবরাহীম (আঃ) (স্ত্রী) সারাকে সঙ্গে নিয়ে হিজরাত করিলেন। লোকেরা সারার উদ্দেশে হাজিরাকে হাদিয়া দিলেন। তিনি ফিরে এসে (ইবরাহীমকে) বলিলেন, আপনি কি জেনেছেন, কাফিরদের আল্লাহ পরাস্ত করিয়াছেন এবং সেবার জন্য একটি বালিকা দান করিয়াছেন।

ইবনু সীরীন (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আবু হুরায়রা্ (রাদি.)-এর সূত্রে নাবী (সাঃআঃ) থেকে বর্ণনা করেন, অতঃপর (সেই কাফির) সারার উদ্দেশে হাজিরাকে দান করিল।

৫১/৩৭. অধ্যায়ঃ আরোহনের নিমিত্তে অশ্ব দান উমরাও (—) সদকা বলেই গণ্য হইবে।

আর কোন কোন ফিকাহ বিশারদ বলেন, দাতা তা ফিরিয়ে নিতে পারে।

২৬৩৬

উমার (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি জনৈক ব্যক্তিকে আল্লাহর পথে বাহন হিসাবে একটি ঘোড়া দিলাম। পরে তা বিক্রি হইতে দেখে আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) -কে সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, এটা ক্রয় করো না এবং সদকা করা মাল ফিরিয়ে নিও না।

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

চিকিৎসা বিষয়ক হাদিস, মধু, কালজিরা, চন্দন, শিঙং ও ঝাড়ফুঁক

চিকিৎসা বিষয়ক হাদিস, মধু, কালজিরা, চন্দন, শিঙং ও ঝাড়ফুঁক চিকিৎসা বিষয়ক হাদিস, মধু, কালজিরা, চন্দন, …

Leave a Reply

%d bloggers like this: