নতুন লেখা

হুদাইবিয়ার সন্ধি সম্পর্কে

হুদাইবিয়ার সন্ধি সম্পর্কে

হুদাইবিয়ার সন্ধি সম্পর্কে >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৩৪. অধ্যায়ঃ হুদাইবিয়ার সন্ধি সম্পর্কে

৪৫২১

বারা ইবনি আযিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

হুদাইবিয়াহ দিবসে আলী ইবনি আবু তালিব [রাদি.] নবী [সাঃআঃ] এবং মুশরিকদের মধ্যে সন্ধিপত্র লিপিবদ্ধ করিলেন, “এ সন্ধিটি লিখিয়েছেন মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]। তখন তারা বলিল, রসূলুল্লাহ কথাটি লেখবেন না। যদি আমরা বিশ্বাস করতাম যে, আপনি আল্লাহর রসূল, তবে তো আপনার সাথে আমরা যুদ্ধ করতাম না। তখন নবী [সাঃআঃ] আলী [রাদি.]–কে বলিলেন, এ অংশটি কেটে দাও। তখন আলী বলিলেন, আমি তা কেটে দেয়ার লোক নই। এরপর নবী [সাঃআঃ]–ই নিজ হাতে তা কেটে দেন। বর্ণনাকারী বলেন, সন্ধির একটি শর্ত এই ছিল যে, তারা মাক্কায় প্রবেশ করে তিন দিন অবস্থান করিতে পারবে এবং তখন তারা কোন অস্ত্র নিয়ে ঢুকতে পারবে না। কিন্তু কোষবদ্ধ তলোয়ার নিয়ে প্রবেশ করিতে পারবে।

আমি আবু ইসহাককে জিজ্ঞেস করলাম, [আরবি] এর অর্থ কী? তখন তিনি বলেন, এর অর্থ খাপ এবং এর মধ্যে যা থাকে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৪৭৮, ইসলামিক সেন্টার- ৪৪৮০]

৪৫২২

বারা ইবনি আযিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হুদাইবিয়াবাসীদের মধ্যে সন্ধি করিলেন, আলী [রাদি.] উভয়ের মধ্যে একটি সন্ধিপত্র লিখলেন। তিনি বলেন, আলী [রাদি.] লিখলেন, মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ, তারপর মুআয বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি তার হাদীসে [আরবি] কথাটি উল্লেখ করেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৪৭৯, ইসলামিক সেন্টার- ৪৪৮১]

৪৫২৩

বারা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] যখন বাইতুল্লাহ শারীফের নিকট বাধাগ্রস্ত হলেন, তখন মাক্কাবাসীরা এ মর্মে তাহাঁর সঙ্গে সন্ধি করলো যে, [পরবর্তী বছর] তিনি মাক্কায় প্রবেশ করবেন এবং সেখানে তিনদিন অবস্থান করবেন এবং কোষবদ্ধ তরবারি ছাড়া আর কিছু নিয়ে সেখানে প্রবেশ করবেন না এবং কোন মাক্কাবাসী কাউকে নিয়ে মক্কা থেকে বেরিয়ে যেতে পারবেন না। পক্ষান্তরে তাহাঁর সাথীদের কেউ যদি সেখানে থেকে যেতে চায়, তবে তাকে বারণ করবেন না। তখন তিনি আলী [রাদি.]–কে বললেনঃ আমাদের মধ্যকার শর্তগুলো এভাবে লিখে নাওঃ বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম ….. এ হচ্ছে সেই সন্ধি যা মুহাম্মাদ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] চূড়ান্ত করিয়াছেন। তখন মুশরিকরা তাঁকে বলিল, আমরা যদি আপনাকে আল্লাহর রসূলই জানতাম তবে আপনার অনুসরণই করতাম, বরং লিখুন, মুহাম্মাদ ইবনি আবদুল্লাহ। তখন তিনি আলী [রাদি.] –কে তা মুছে ফেলতে নির্দেশ দিলেন। আলী [রাদি.] বলিলেন, আল্লাহর কসম! আমি তা মুছতে পারব না। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তাহলে আমাকেই সে স্থান দেখিয়ে দাও। তিনি সে স্থান দেখিয়ে দিলেন আর তিনি তা [স্বহস্তে] মুছে ফেললেন এবং লিখালেন মুহাম্মাদ ইবনি আবদুল্লাহ। তারপর [পরের বছর তিনি সাহাবাদের নিয়ে তাশরীফ আনলেন] সেখানে তিনি তিনদিন অবস্থান করিলেন। যখন তৃতীয়দিন সমাগত হলো, তখন তারা আলী [রাদি.] –কে বলিলেন এটা হচ্ছে তোমার সাথীর শর্তের স্থিরীকৃত শেষ দিবস। তাঁকে বেরিয়ে যেতে বলে দাও। তখন তিনি তাঁকে এ সম্পর্কে অবহিত করিলেন। তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। এরপর তিনি বেরিয়ে গেলেন।

ইবনি জানাব [আরবি] স্থলে [আরবি] বলে বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৪৮০, ইসলামিক সেন্টার- ৪৪৮২]

৪৫২৪

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

কুরায়শরা নবী [সাঃআঃ]–এর সাথে সন্ধি করিল। তাদের মধ্যে সুহায়ল ইবনি আমরও ছিল। তখন নবী [সাঃআঃ] আলী [রাদি.] –কে বললেনঃ লিখ বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম। সুহায়ল বলিল, কি বিসমিল্লা-হ্‌? আমরা তো জানি না বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম কী? তবে আমরা জানি বি ইসমিকা আল্লাহুমা, তাই লিখ। তারপর নবী [সাঃআঃ] বললেনঃ লিখ, মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]–এর পক্ষ থেকে। তখন তারা বলে উঠলো, আমরা যদি আপনাকে আল্লাহর রসূলই জানতাম, তাহলে তো আমরা আপনার অনুসরণই করতাম। বরং আপনি আপনার নাম এবং আপনার পিতার নাম লিখুন।” তখন নবী [সাঃআঃ] বললেনঃ লিখ, মুহাম্মাদ ইবনি আবদুল্লাহর পক্ষ থেকে। তারা নবী [সাঃআঃ]–এর উপর এ মর্মে শর্ত আরোপ করলো যে, যারা আপনাদের নিকট থেকে চলে আসবে, আমরা তাকে ফেরত পাঠাবো না, কিন্তু আমাদের কেউ যদি আপনাদের নিকট চলে যায়, তবে আপনারা তাকে অবশ্যই ফিরিয়ে দেবেন। তখন সাহাবাগণ বলিলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা কি এরূপ লিখবো? জবাবে তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। আমাদের মধ্য থেকে কেউ যদি তাদের কাছে যায় তবে আল্লাহ্‌ই তাকে [রহমাত থেকে] সরিয়ে দিয়েছেন এবং তাদের মধ্য থেকে যে আমাদের কাছে আসবে [তাকে ফেরত দিলেও] আল্লাহ্‌ অচিরেই তার কোন ব্যবস্থা ও পথ বের করে দেবেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৪৮১, ইসলামিক সেন্টার- ৪৪৮৩]

৪৫২৫

আবুল ওয়ায়িল [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, সাহল ইবনি হুনায়ফ [রাদি.] সিফফীন দিবসে উঠে দাঁড়ালেন এবং বলিলেন, “হে লোক সকল! তোমরা নিজেদের অভিযুক্ত মনে করিবে। আমরা হুদাইবিয়ার দিন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] –এর সাথে ছিলাম। আমরা এটিকে যুদ্ধ মনে করলে সেদিন অবশ্যই আমরা যুদ্ধ করতাম। এটি হচ্ছে সেই সন্ধির কথা যা রসূল [সাঃআঃ] এবং মুশরিকদের মধ্যে হয়েছিল। তখন উমর ইবনিল খাত্তাব [রাদি.] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] –এর নিকট এসে বলিলেন, “হে আল্লাহর রসূল! আমরা কি সত্যের উপর নই, আর তারা বাতিলের উপর নয়”? তিনি বললেনঃ “হ্যাঁ, তাই।” তিনি আবার জিজ্ঞেস করিলেন, আমাদের নিহতরা কি জান্নাতী এবং তাদের নিহতরা কি জাহান্নামী নয়?” তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তখন তিনি বলিলেন, তাহলে কী কারণে আমরা দ্বীনের ব্যাপারে লাঞ্ছনা মেনে নিয়ে ফিরে যাবো, অথচ এখনো এ ব্যাপারে তাদের ও আমাদের মধ্যে আল্লাহর কোন ফায়সালা আসেনি? তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ হে খাত্তাব পুত্র! নিঃসন্দেহে আমি আল্লাহর রসূল। আর তিনি অবশ্যই কখনো আমাকে ধ্বংস করবেন না। রাবী বলেন, তখন উমর [রাদি.] চলে গেলেন। তিনি ক্রোধে ধৈর্যধারণ করিতে পারছিলেন না। তাই তিনি আবু বাকরের কাছে এলেন এবং তাঁকে বলিলেন, হে আবু বাকর! আমরা কি হকের উপর এবং তারা কি বাতিলের উপর নয়? তিনি বলিলেন, অবশ্যই। আবার তিনি বলিলেন, “আমাদের নিহতরা কি জান্নাতী এবং তাদের নিহতরা কি জাহান্নামী নয়? তিনি বলিলেন, নিশ্চয়ই। তখন তিনি বলিলেন, “তাহলে কী কারণে আমরা দ্বীনের ব্যাপারে লাঞ্ছনা মেনে নিয়ে ফিরে যাবো, অথচ এখনো এ ব্যাপারে আমাদের এবং তাদের মধ্যে আল্লাহ কোন ফায়সালা দেননি? তখন তিনি বলিলেন, হে খাত্তাব তনয়! নিশ্চয়ই তিনি আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ]। আল্লাহ্‌ কখনও তাহাঁর বিনাশ করবেন না। রাবী বলেন, এরপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]–এর প্রতি বিজয়ের সুসংবাদ নিয়ে কুরআন অবতীর্ণ হলো। তখন তিনি উমরকে ডেকে পাঠালেন এবং তাহাঁর সম্মুখে তা পাঠ করলে তখন তিনি বলিলেন, “হে আল্লাহর রসূল! এ কি বিজয়?” তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। তখন তাহাঁর অন্তর শান্ত হলো এবং তিনি ফিরে গেলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৪৮২, ইসলামিক সেন্টার- ৪৪৮৪]

৪৫২৬

শাকীক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, সিফফীন দিবসে সাহল ইবনি হুনায়ফ [রাদি.] –কে আমি বলিতে শুনেছি, হে লোক সকল! তোমাদের নিজেদের অভিমতকে অভিযুক্ত মনে করিবে। আল্লাহর কসম! আমি আবু জান্দালের সে দিনটি দেখেছি। যদি আমার রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]–এর আদেশ প্রত্যাখ্যান করার সাধ্য থাকতো, তবে অবশ্যই তা প্রত্যাখ্যান করতাম। আল্লাহর কসম! আমরা আমাদের তরবারি স্বীয় গর্দানে উঠাতাম না যতক্ষণ না আমাদের কোন বিষয় বোধগম্য ছিল। কিন্তু তোমাদের এ ব্যাপারটির কথা তার বিপরীত।

ইবনি নুমায়র তাহাঁর বর্ণনায় [আরবি] [কোন ব্যাপারে] কথাটি উল্লেখ করেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৪৮৩, ইসলামিক সেন্টার- ৪৪৮৫]

৪৫২৭

আমাশ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে উক্ত সানাদ হইতে বর্ণীতঃ

তবে তাদের হাদীসে [আরবী] [আমাদের ঘাবড়িয়ে দেয়] উল্লেখ রয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৪৮৪, ইসলামিক সেন্টার- ৪৪৮৬]

৪৫২৮

আবু ওয়ায়িল [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি সাহল ইবনি হুনায়ফ [রাদি.]-কে সিফ্‌ফীনে বলিতে শুনেছি, “তোমরা তোমাদের নিজেদের মতকে তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে অভিযুক্ত মনে করিবে। কারণ আমি আবু জান্দালের দিনটি প্রত্যক্ষ করেছি। যদি আমার সেদিন রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করার সামর্থ্য থাকত [তবে তাই করতাম, এখন ব্যপার এত সঙ্গীন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে,] আমরা এক দিকের ছিদ্র বন্ধ করলে ওপর দিকের ছিদ্র খুলে যায়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৪৮৫, ইসলামিক সেন্টার- ৪৪৮৭]

৪৫২৯

কাতাদাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] তাঁদের বলেছেন, হুদাইবিয়াহ্‌ থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় যখন এ আয়াত নাযিল হলোঃ “নিশ্চয় আমি তোমাকে দিয়েছি সুস্পষ্ট বিজয়, যেন আল্লাহ্‌ তোমার ত্রুটিসমূহ মার্জনা করেন ….. মহা সাফল্য” পর্যন্ত [সূরা ফাতহ্‌ ৪৮ : ১-৪], তখন তাঁদের সব দুঃখ বেদনা ক্ষোভে পূর্ণ ছিল। আর হুদাইবিয়াতেই [কুরবানীর] পশুগুলো কুরবানী করা হয়েছিল। তখন রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, আমার প্রতি এমন আয়াত নাযিল হয়েছে, যা সমগ্র দুনিয়া থেকে আমার কাছে অধিক প্রিয়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৪৮৬, ইসলামিক সেন্টার- ৪৪৮৮]

৪৫৩০

ইবনি মুসান্না, আব্দ ইবনি হুমায়দ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

ইবনি আরূবাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৪৮৭, ইসলামিক সেন্টার- ৪৪৮৯]

About Muslim

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে”

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে” মহান আল্লাহর …

Leave a Reply

%d bloggers like this: