হিবাত [দান]

হিবাত [দান]

হিবাত [দান] >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

পর্বঃ ২৫, হিবাত [দান], অধ্যায়ঃ (১-৪)=৪টি

১. অধ্যায়ঃ কাউকে কিছু দান করার পর সে বস্তুটি তার কাছ থেকে ক্রয় করা মাকরূহ
২. অধ্যায়ঃ দান দখলে চলে যাওয়ার পর ফিরিয়ে আনা হারাম, কিন্তু আপন সন্তান-সন্ততিকে দিলে তা ফিরিয়ে নেয়া হারাম নয়
৩. অধ্যায়ঃ দানে সন্তানদের মধ্যে কাউকে প্রাধান্য দেয়া মাকরুহ
৪. অধ্যায়ঃ উমরার {২১} বর্ণনা

১. অধ্যায়ঃ কাউকে কিছু দান করা র পর সে বস্তুটি তার কাছ থেকে ক্রয় করা মাকরূহ

৪০৫৫

উমর ইবনি খাত্তাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি একটি উত্তম ঘোড়া আল্লাহর পথে দান করি। কিন্তু সে ব্যক্তি [যাকে দেয়া হয়েছিল] ঘোড়াটির সঠিক দেখাশুনা না করে ঘোড়াটিকে দুর্বল করে ফেলে। আমার ধারণা হলো, সে তা সস্তা দামে বিক্রি করে দিবে। আমি এ ব্যাপারে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলিলেন, তুমি তা খরিদ করিবে না এবং তোমার দানকে ফিরিয়ে আনবে না। কেননা যে ব্যক্তি আপন দান ফিরিয়ে নেয়, সে সেই কুকুরের মতো, যেটি বমি করে আবার তা খায়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০১৮, ইসলামিক সেন্টার- ৪০১৭]

৪০৫৬

মালিক ইবনি আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

উক্ত সানাদে বর্ণনা করেন। তবে এতে তিনি অতিরিক্ত বলেছেন যে, তুমি তা ক্রয় করিতে যাবে না, যদিও এক দিরহামের বিনিময়ে সে তোমাকে তা দিয়ে দেয়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০১৯, ইসলামিক সেন্টার- ৪০১৮]

৪০৫৭

উমর ইবনিল খাত্তাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি একটি ঘোড়া আল্লাহর রাস্তায় দান করেন। পরে তিনি তার মালিকের নিকট ঘোড়াটি দেখিতে পান যে, সে তাকে নষ্ট করে ফেলেছে। সে লোকটি ছিল গরীব। তাই তিনি তা কিনে নেয়ার ইচ্ছা করেন। তখন তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- এর নিকট গিয়ে এ বিষয়টি তাঁকে বলিলেন। তিনি বলিলেন, এক দিরহামের বিনিময়ে দিলেও তুমি তা খরিদ করিবে না। কেননা, যে ব্যক্তি আপন দান ফিরিয়ে নেয়, সে সেই কুকুরের ন্যায়, যে নিজে বমি করে আবার তা খায়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০২০, ইসলামিক সেন্টার- ৪০১৯]

৪০৫৮

যায়দ ইবনি আসলাম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]- এর সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

যায়দ ইবনি আসলাম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]- এর সূত্রে উক্ত হাদীস বর্ণনা করেন। তবে মালিক ও রাওহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]- এর হাদীস পরিপূর্ণ ও বেশী নির্ভরযোগ্য। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০২১, ইসলামিক সেন্টার- ৪০২০]

৪০৫৯

ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

উমর ইবনি খাত্তাব [রাদি.] আল্লাহর রাস্তায় একটি ঘোড়া দান করেন। পরে তিনি দেখলেন তা বিক্রি করা হচ্ছে। তখন তিনি তা ক্রয় করিতে চাইলেন এবং রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- এর নিকট এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তুমি তা ক্রয় করো না এবং তোমার সদাকাহ্‌ করা জিনিসকে ফিরিয়ে নিও না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০২২, ইসলামিক সেন্টার- ৪০২১]

৪০৬০

কুতাইবাহ্ ও ইবনি রুম্হ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] লায়স ইবনি সাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে এবং মুকাদ্দামী, মুহাম্মাদ ইবনি মুসান্না, ইবনি নুমায়র, আবু বাক্র ইবনি আবু শাইবাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] উবাইদুল্লাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে, উভয়ে বর্ণনা করেন নাফি সূত্রে ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি নবী [সাঃআঃ] থেকে উক্ত হাদীসটি মালিক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]- এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০২৩, ইসলামিক সেন্টার- ৪০২২]

৪০৬১

ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

উমর [রাদি.] একটি ঘোড়া আল্লাহর রাস্তায় দান করেন। এরপর তিনি দেখলেন যে, তা বিক্রি করা হচ্ছে। তখন তিনি তা ক্রয় করার ইচ্ছা করেন এবং নবী [সাঃআঃ]- এর নিকটে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করিলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, হে উমর! তোমার সদাকাহ্‌ করা বস্তুকে ফিরিয়ে নিও না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০২৪, ইসলামিক সেন্টার- ৪০২৩]

২. অধ্যায়ঃ দান দখলে চলে যাওয়ার পর ফিরিয়ে আনা হারাম , কিন্তু আপন সন্তান-সন্ততিকে দিলে তা ফিরিয়ে নেয়া হারাম নয়

৪০৬২

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেছেন, যে ব্যক্তি দান করে তা আবার ফিরিয়ে নেয়, তার উদাহরণ ঐ কুকুরের ন্যায়, যে বমি করে এবং পুনরায় তার বমি সে খেয়ে ফেলে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০২৫, ইসলামিক সেন্টার- ৪০২৪]

৪০৬৩

আওযাঈ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]- এর সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইবনি আলী ইবনি হুসায়ন [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]- কে উক্ত সানাদে এরূপ বলিতে শুনেছি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০২৬, ইসলামিক সেন্টার- ৪০২৫]

৪০৬৪

আবদুর রহমান ইবনি আমর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]- এর সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

মুহাম্মাদ ইবনি ফাতিমাহ্ বিনতু রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] উক্ত সানাদে হাদীসটি তাঁদের অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০২৭, ইসলামিক সেন্টার- ৪০২৬]

৪০৬৫

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- কে বলিতে শুনেছি যে, নিশ্চয় এটাই ঐ ব্যক্তির উদাহরণ, যে দান করে তা ফিরিয়ে আনে, তাহলো সেই কুকুরের মতো, যে বমি করে পরে তার বমি খেয়ে ফেলে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০২৮, ইসলামিক সেন্টার- ৪০২৭]

৪০৬৬

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ স্বীয় দান প্রত্যর্পণকারী নিজ বমি পুনরায় ভক্ষণকারীর ন্যায়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০২৯, ইসলামিক সেন্টার- ৪০২৮]

৪০৬৭

কাতাদাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]- এর সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

কাতাদাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]- এর সূত্রে এ সানাদে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৩০, ইসলামিক সেন্টার- ৪০২৯]

৪০৬৮

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ নিজের দান প্রত্যর্পণকারী ব্যক্তি কুকুরের ন্যায়, যে বমি করে ও পরে সে তার বমি পুনরায় খায়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৩১, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৩০]

৩. অধ্যায়ঃ দানে সন্তানদের মধ্যে কাউকে প্রাধান্য দেয়া মাকরুহ

৪০৬৯

নুমান ইবনি বাশীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, তাহাঁর পিতা তাঁকে সঙ্গে করে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- এর নিকট আসেন। তারপর বলেন যে, আমি আমার এ পুত্রকে আমার একটি গোলাম দান করেছি। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তোমার সকল সন্তানকে কি এভাবে দান করেছো? তিনি বলিলেন, না। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তা হলে তুমি তা ফিরিয়ে নাও। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৩২, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৩১]

৪০৭০

নুমান ইবনি বাশীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে নিয়ে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- এর নিকট আসেন এবং বলেন যে, আমি আমার এ পুত্রকে একটি গোলাম প্রদান করেছি। তিনি বলিলেন, তোমার সকল পুত্রকে দান করেছ কি? তিনি বলিলেন, না। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তাহলে তা ফিরিয়ে নাও। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৩৩, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৩২]

৪০৭১

আবু বাকর ইবনি আবু শাইবাহ্, ইসহাক্ ইবনি ইবরাহীম ও ইবনি আবু উমর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ইবনি উইয়াইনাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে এবং কুতাইবাহ্ ও ইবনি রুমহ্, [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] লায়স ইবনি সাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে, হারমালাহ্ ইবনি ইয়াহ্ইয়া [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ইউনুস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে, ইসহাক্ ইবনি ইবরাহীম ও আব্দ ইবনি হুমায়দ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] মামার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে, তাঁরা সকলেই যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]- এর সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

উক্ত সানাদে হাদীস বর্ণনা করেন। তবে ইউনুস ও মামার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]- এর বর্ণনায় [[আরবী]] এবং লায়স ও ইবনি উয়াইনাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]- এর বর্ণনায় [[আরবী]] এবং মুহাম্মাদ ইবনি নুমান ও হুমায়দ ইবনি আবদুর রহমান থেকে লায়স এর বর্ণনায় “বাশীর নুমানকে সাথে নিয়ে আসে” বলা হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৩৪, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৩৩]

৪০৭২

নুমান ইবনি বাশীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, তাঁকে তাহাঁর পিতা একটি গোলাম দান করেন। নবী [সাঃআঃ] তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, এ গোলামটি কিসের? তিনি বলিলেন, একে আমার পিতা আমাকে দান করিয়াছেন। নবী [সাঃআঃ] বলিলেন, তাহাঁর সকল ভাইদেরকে তুমি দিয়েছো কি, যেভাবে একে দিয়েছো? তিনি বলিলেন, না। নবী [সাঃআঃ] বলিলেন, তাহলে তা ফিরিয়ে নাও। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৩৫, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৩৪]

৪০৭৩

নুমান ইবনি বাশীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমাকে আমার পিতা তার সম্পদ থেকে কিছু প্রদান করেন। আমার মা আম্‌রাহ্‌ বিনতু রাওয়াহা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলিলেন, আমি সন্তুষ্ট হইতে পারছি না, যতক্ষণ না আপনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- কে সাক্ষী রাখেন। এরপর আমার পিতা আমাকে নিয়ে নবী [সাঃআঃ]- এর নিকট আসেন, আমার দানের উপর তাঁকে সাক্ষী রাখার জন্যে। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাঁকে বলিলেন, এরূপ কাজ কি তুমি তোমার আর সব পুত্রদের সঙ্গে করেছ? তিনি বলিলেন, না। নবী [সাঃআঃ] বলিলেন, আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমার সন্তানদের মধ্যে ন্যায় বিচার কর। তখন আমার পিতা চলে আসেন এবং সে দান ফিরিয়ে নেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৩৬, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৩৫]

৪০৭৪

নুমান ইবনি বাশীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তাহাঁর মা বিনতু রাওয়াহা [রাদি.] তাহাঁর পিতার নিকট স্বীয় পুত্রের জন্যে তাহাঁর সম্পদ থেকে কিছু দান করার অনুরোধ করিলেন। এক বছর যাবৎ তিনি এ ব্যাপারে গড়িমসি করেন। পরে তা দেয়ার ইচ্ছা জাগল। বিনতু রাওয়াহা [রাদি.] বলিলেন, আমার পুত্রকে যা দিবেন তার উপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- কে সাক্ষী না রাখা পর্যন্ত আমি খুশি হবো না। তখন আমার পিতা আমার হাত ধরে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- এর নিকট আসলেন। সে সময় আমি বালক ছিলাম। তিনি বলিলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! এর মা বিনতু রাওয়াহা চায় যে, আমি তাহাঁর পুত্রকে যা দান করেছি আপনাকে তার সাক্ষী রাখি। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, হে বাশীর! এ ছাড়া তোমার কি আর কোন পুত্র আছে? বলিলেন, হ্যাঁ। তিনি বলিলেন, তুমি কি তাদের সকলকে এরূপ দান করেছ? তিনি বলিলেন, না। তখন তিনি বলিলেন, তাহলে আমাকে সাক্ষী রেখো না। কারণ, আমি যুল্‌মের ব্যাপারে সাক্ষী হই না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৩৭, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৩৬]

৪০৭৫

নুমান ইবনি বাশীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, এ ছাড়া কি তোমার আরও পুত্র আছে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তাদের সবাইকে কি এভাবে দান করেছ? বলিলেন, না। তিনি বললেনঃ তা হলে আমি যুলুমের ব্যাপারে সাক্ষী হবো না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৩৮, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৩৭]

৪০৭৬

নুমান ইবনি বাশীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর পিতাকে বলিলেন, আমাকে অন্যায় কাজের ব্যাপারে সাক্ষী রেখো না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৩৯, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৩৮]

৪০৭৭

নুমান ইবনি বাশীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে নিয়ে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- এর উদ্দেশে রওয়ানা করিলেন। তারপর বলিলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল [সাঃআঃ]! আপনি সাক্ষী থাকুন, আমি নুমানকে আমার সম্পদ থেকে অমুক অমুক বস্তু দান করেছি। তিনি বলিলেন, তোমার সকল পুত্রদেরও কি তুমি তা দান করেছ, যেরূপ নুমানকে দান করেছ? তিনি বলিলেন, না। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তাহলে আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে এর সাক্ষী রাখো। তারপর বলিলেন, তুমি কি এটা চাও যে, তারা সবাই তোমার প্রতি সদ্ব্যবহার করুক? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তাহলে এরূপ করো না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৪০, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৩৯]

৪০৭৮

নুমান ইবনি বাশীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে কোন এক জিনিস দান করেন। পরে তিনি আমাকে সাথে নিয়ে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- এর নিকট গমন করেন তাঁকে সাক্ষী রাখার জন্যে। তিনি বলিলেন, তোমার সকল পুত্রকে কি এভাবে দান করেছ? তিনি [আমার পিতা] বলিলেন, না। তিনি [সাঃআঃ] বলিলেন, তুমি কি তাদের থেকে উত্তম ব্যবহার আশা করো না? যেমন আশা করো এর থেকে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তাহলে আমি সাক্ষী হবো না।

ইবনি আওন বলেন, আমি এ হাদীসটি মুহাম্মাদের নিকট বর্ণনা করলে তিনি বলেন, আমার নিকট হাদীস বর্ণনা হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের সন্তানদের মধ্যে ন্যায় বিচার করো। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৪১, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৪০]

৪০৭৯

জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, বাশীরের স্ত্রী তাকে বলেন, আমার পুত্রকে আপনার গোলামটি দান করে দিন এবং রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- কে আমার পক্ষে সাক্ষী রাখুন। তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- এর নিকট এসে বলিলেন, অমুকের কন্যা [আমার স্ত্রী] আমার কাছে আবেদন করেছে, যেন আমি তার পুত্রকে আমার গোলামটি দান করে দেই। আর সে বলেছে, রসূল্লুল্লাহ [সাঃআঃ]- কে আমার পক্ষে সাক্ষী করুন। তখন তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, তার কি আরও ভাই আছে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। এরপর তিনি [সাঃআঃ] বলিলেন, তাদের সকলকে কি প্রদান করেছ, যেরূপ ওকে দিচ্ছ? তিনি বলিলেন, না। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তাহলে এটি সঠিক কাজ হইবে না। আর অন্যায় কাজে আমি সাক্ষী হব না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৪২, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৪১]

৪. অধ্যায়ঃ উমরার {২১} বর্ণনা

{২১} ঈমাম নাবাবী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, উমরাহ্‌ বলা হয় কোন ঘর কাউকে তার জীবনভর ব্যবহার করার জন্যে প্রদান করা । [মুখতাসার শারহে মুসলিম-/আল্লামা ওয়াহীদুয্‌যামান, ৪র্থ খণ্ড, ২৪৮ পৃঃ]

৪০৮০

জাবির ইবনি আব্দুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, যে কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তিকে এবং তাহাঁর ওয়ারিসদেরকে আজীবন ভোগ করার জন্য কিছু দান করে, তবে যাকে তা দান করেছে তা তারই হয়ে যাবে। এরপরে যে দান করেছে তা তাহাঁর কাছে ফিরে আসবে না। কেননা, সে এমনভাবে দান করেছে, যাতে ওয়ারিসগণ তা পেয়ে গেছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৪৩, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৪২]

৪০৮১

জাবির ইবনি আব্দুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- কে বলিতে শুনেছি, যদি কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তি এবং তাহাঁর উত্তরসূরীদেরকে আজীবন ভোগ করার জন্য কিছু দান করে, তাহলে সে যেন তার কথা দ্বারা তার মধ্যে স্বীয় অধিকার তুলে নিল এবং সে বস্তু তারই হইবে যার জন্যে দান করা হয়েছে এবং তা হইবে তার উত্তরসূরীদের জন্যেও।

অবশ্য ইয়াহ্‌ইয়া তাহাঁর হাদীসের প্রথম অংশে বলেছেন, যদি কোন ব্যক্তিকে আজীবনের জন্যে দান করা হয়, তবে তার ও পরবর্তী উত্তরসূরীদের জন্যে হয়ে যাবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৪৪, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৪৩]

৪০৮২

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ আনসারী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, যে কোন ব্যক্তি কাউকে তার সারা জীবনের জন্যে এবং তার সন্তানাদির জন্য দান করে, এরূপ বলে যে, “আমি তোমাকে তা দিলাম এবং তোমার সন্তানদেরকে যতদিন পর্যন্ত তোমাদের মধ্যে কেউ জীবিত থাকে, তবে তা তারই হয়ে যাবে যাকে দান করা হল। তা তার মালিকের নিকট আর ফিরে আসবে না। কারণ, সে এমনভাবেই দান করেছে যার মধ্যে উত্তরাধিকার প্রবর্তন হয়ে গেছে।” [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৪৫, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৪৪]

৪০৮৩

ইসহাক্ ইবনি ইবরাহীম ও আব্দ ইবনি হুমায়দ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন যে আজীবন কালের জন্যে দান রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কার্যকরী বলে গন্য করিয়াছেন, তা হল এই যে, সে বলে, “এ তোমার ও তোমার উত্তরাধিকারীদের জন্যে।” কিন্তু সে যদি বলে যে, এ তোমার জন্যে যতদিন তুমি বেঁচে থাকিবে, তবে তা তার মালিকের নিকট ফিরে আসবে [প্রদত্ত ব্যক্তির মৃত্যুর পর]।

মামার বলেন, যুহরী এ ফাতাওয়াই দিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৪৬, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৪৫]

৪০৮৪

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

কোন ব্যক্তি এবং তার উত্তরাধিকারীদের উদ্দেশে সারা জীবনের জন্য যা দান করা হয়, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ফায়সালা দিয়েছেন যে, সেটি আর জন্যে চিরস্থায়ী হইবে। তাতে কোন শর্ত বা ব্যতিক্রম কিছু করা দাতার জন্যে বৈধ নয়।

রাবী আবু সালামাহ্‌ [রাদি.] বলেন, এর কারণ, সে এমনভাবে দান করিয়াছেন যার মধ্যে উত্তরাধিকার প্রযোজ্য হয়েছে। তাই মীরাস তার শর্ত কেটে দিয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৪৭, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৪৬]

৪০৮৫

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, আজীবনের জন্যে দানটি তারই প্রাপ্য, যাকে তা দান করা হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৪৮, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৪৭]

৪০৮৬

ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ পরবর্তী বর্ণনাটি অনুরূপ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৪৯, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৪৮]

৪০৮৭

আহমাদ ইবনি ইউনুস, যুহায়র, আবু যুবায়র, জাবির [রাদি.] নবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীতঃ

আহমাদ ইবনি ইউনুস, যুহায়র, আবু যুবায়র, জাবির [রাদি.] নবী [সাঃআঃ] থেকে বর্ণনা করেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৫০,ইসলামিক সেন্টার- ৪০৪৯ ]

৪০৮৮

জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ ] বলেছেন, তোমরা তোমাদের সম্পত্তি ধরে রেখো, তা বিনষ্ট করো না। নিশ্চয় যে ব্যক্তি সারা জীবনের জন্যে দান করে, তবে তা তারই হয়ে যাবে, যাকে দান করা হলো, জীবিত অবস্থায় ও মৃত অবস্থায় এবং তার পরবর্তী উত্তরাধিকারীদের জন্যে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৫০, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৪৯ ]

৪০৮৯

জাবির [রাদি.] সুত্রে নবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীতঃ

উপরে উল্লিখিত আবু খাইসামার হাদীসের অর্থানুযায়ী। তবে আইয়ূবের বর্ণনায় কিছু বাড়তি রয়েছে। তিনি বলেছেন, আনসারগণ মুহাজিরদেরকে আজীবনের জন্যে দান করিতেন। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃ ] বলিলেন, তোমরা তোমাদের সম্পদ নিজেদের জন্যে সংরক্ষিত রাখো। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৫১, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৫০ ]

৪০৯০

জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মাদীনার জনৈকা মহিলা তার একটা বাগান তার এক পুত্রকে আজীবনের জন্যে দান করেন। পরে পুত্রটি মারা যায় এবং তারপরে মহিলাটিও মারা যায়। পুত্র নিজে একটি সন্তান রেখে যায়। আর তার ছিল কয়েকজন ভাই, যারা দানকারিণীর পুত্র। তারপর দানকারিণীর পুত্র বললো , বাগানটি আমাদের কাছে ফিরে এসেছে। আর যাকে দান করা হয়েছিল তার পুত্ররা বললো বরং এ ছিল আমার পিতার, তার জীবদ্দশায় ও মৃত অবস্থায়। এরপর তারা উসমান [রাদি.]- এর আযাদকৃত গোলাম তারিক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]- এর নিকট ফায়সালা চাইলো। তিনি জাবির [রাদি.]- কে ডেকে পাঠালেন। জাবির [রাদি.] সাক্ষ্য দেন, জীবিতকালীন দান তারই প্রাপ্য, যাকে দান করা হয়েছে। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এ নির্দেশ দিয়েছেন। তারিক তদনুযায়ী ফায়সালা দেন। তারপর তিনি খালীফা আবদুল মালিককে এ ঘটনা লিখে জানান এবং জাবিরের সাক্ষ্য দান সম্পর্কেও তাঁকে অবগত করেন। আবদুল মালিক বলেন, জাবির [রাদি.] সত্যই বলেছেন। পরে তারিক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এ হুকুম জারি করেন। কাজেই বাগানটি আজ পর্যন্ত দানকৃত ব্যক্তির বংশধরদের অধিকারে রয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৫২, ইসলামিক সেন্টার-৪০৫১]

৪০৯১

সুলাইমান ইবনি ইয়াসার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বর্ণিত জাবির [রাদি.]- এর হাদীসের প্রেক্ষিতে তারিক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] “সারা জীবনের জন্যে দান” তার ওয়ারিসরা পাবে বলে ফায়সালা দেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৫৩, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৫২]

৪০৯২

জাবির ইবনি আব্দুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেছেন, আজীবনের জন্যে দান বৈধ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৫৪, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৫৩]

৪০৯৩

জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেছেন, সারা জীবনের জন্যে দান দানকৃত ব্যক্তির পরিজনের মীরাসে পরিগণিত হইবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৫৫, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৫৪]

৪০৯৪

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেছেন, সারা জীবনের জন্যে দান বৈধ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৫৬,ইসলামিক সেন্টার- ৪০৫৫]

৪০৯৫

সাঈদ সূত্রে কাতাদাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে উক্ত সানাদে হইতে বর্ণীতঃ

তবে সাঈদ বলেছেন, তার পরিজনদের জন্যে মীরাস হয়ে যায় অথবা বলেছেন [আজীবনের জন্যে] জায়িয। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪০৫৭, ইসলামিক সেন্টার- ৪০৫৬]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply