হালাল ও হারাম – উপদেশ বিষয়ক হাদিস

হালাল ও হারাম – উপদেশ বিষয়ক হাদিস

হালাল ও হারাম – উপদেশ বিষয়ক হাদিস , এই অধ্যায়ে মোট (৩৫-৪৭) =১৩টি হাদীস >> উপদেশ হাদিস এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায়-৪ঃ হালাল ও হারাম

পরিচ্ছেদঃ হালাল ও হারাম

৩৫. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র ছাড়া গ্রহণ করেন না। [এবং সর্বক্ষেত্রে পাক-পবিত্রতার আদেশই তিনি করিয়াছেন। সেই সম্পর্কে] আল্লাহ রাসূলগণকে যে আদেশ করছেন, মুমিনগণকেও সেই আদেশই করিয়াছেন। অতঃপর রাসূল [সাঃআঃ] উল্লেখ করিলেন, এক ব্যক্তি দূর-দূরান্তের সফর করছে। তার মাথার চুল এলোমেলো, শরীরে ধূলা-বালি। এমতাবস্থায় ঐ ব্যক্তি উভয় হস্ত আসমানের দিকে উঠিয়ে কাতর স্বরে হে প্রভু! হে প্রভু! বলে ডাকছে। কিন্তু তার খাদ্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পোষাক হারাম, তার জীবিকা নির্বাহ হারাম, কিভাবে তার দোআ কবুল হইবে

[মুসলিম, মেশকাত হাদিস/২৭৬০]। হালাল ও হারাম -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৩৬. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, মানুষের সম্মুখে এমন এক যুগ আসবে যে, কেউ পরওয়া করিবে না কি উপায়ে মাল লাভ করিল; হারাম না হালাল উপায়ে

[বুখারী, মেশকাত হাদিস/২৭৬১]। হালাল ও হারাম -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৩৭. নুমান ইবনি বাশীর [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, হালাল এবং হারাম সুস্পষ্ট, আর ঊভয়ের মধ্যে অনেক সন্দেহজনক বিষয় বা বস্তু আছে।[যেগুলি হালালের অন্তর্ভুক্ত না হারামের অন্তর্ভুক্ত,] সে সম্পর্কে অনেকেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এরূপ ক্ষেত্রে যেই ব্যক্তি সন্দেহের বস্তুকে পরিহার করে চলবে, তার দ্বীন এবং আবরু-ইজ্জত, মান-সম্মান পাক-পবিত্র থাকিবে। পক্ষান্তরে যেই ব্যক্তি সন্দেহের কাজে লিপ্ত হইবে, সে অচিরেই হারামেও লিপ্ত হয়ে পড়বে। [ফলে তার দ্বীন এবং মান-সম্মান কলুষিত হইবে।] যেমন যেই রাখাল তার পশুপালকে নিষিদ্ধ এলাকার সীমার ধারে চরাবে, খুব সম্ভব তার পশু নিষিদ্ধ এলাকার ভিতরেও মুখ ঢুকিয়ে দিবে। তোমরা ম্মরণ রেখো প্রত্যেক বাদশাই নিজ পশুপালের চারণভুমি [নিষিদ্ধ এলাকা] বানিয়ে রাখেন। তদ্রূপ [সকল বাদশাহর বাদশাহ] আল্লাহ তাআলার চারণভূমি তাহাঁর হারাম বস্তুসমূহকে নির্ধারিত করে রেখেছেন। মনে রেখো মানুষের দেহের ভিতরে একটি গোশতের টুকরা রয়েছে, যা সঠিক থাকলে সমস্ত দেহই সঠিক থাকে। আর সেই অংশের বিকৃতি ঘটলে সম্পূর্ণ দেহেরই বিকৃতি ঘটে। সেই গোশতের টুকরাটি হল অন্তর

[বুখারী, মুসলিম, মেশকাত হাদিস/২৭৬২]। হালাল ও হারাম -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৩৮. রাফে ইবনি খাদীজ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, কুকুর বিক্রয়ের মুল্য ঘৃণিত বস্তু, ব্যভিচারের বিনিময়ও অতি জঘন্য, সিঙ্গা লাগানোর মূল্যও ঘৃণিত

[মুসলিম, মেশকাত হাদিস/২৭৬৩]। হালাল ও হারাম -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৩৯. আবু মাসুদ আনছারী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] কুকুরের মূল্য, যিনাকারীনীর উপার্জন ও গণকের উপার্জন খেতে নিষেধ করিয়াছেন

[বুখারী, মুসলিম, মেশকাত হাদিস/২৭৬৪]। হালাল -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৪০. আবু হুজায়ফা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] নিষেধ করিয়াছেন, রক্ত বিক্রয় মূল্য হইতে, কুকুর বিক্রয়ের মূল্য হইতে, ব্যভিচার বা যেনার বিনিময় হইতে এবং তিনি লানত করিয়াছেন সুদ গ্রহীতার প্রতি ও সুদদাতার প্রতি। তিনি আরও লানত করিয়াছেন ঐ ব্যক্তির প্রতি যে দেহের কোন অংশ [নাম বা চিত্র ইত্যাদি] উলকী করে এবং যে উলকী করায়। এতদ্ভিন্ন ছবি অংকনকারীর প্রতিও লানত করিয়াছেন

[বুখারী, মেশকাত হাদিস/২৭৬৫]। হালাল -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৪১. জাবের [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, যে দেহের গোশত হারাম মালে গঠিত, তা জান্নাতে প্রবেশ করিতে পারবে না। হারাম মালে গঠিত দেহের জন্য জাহান্নামই সমীচীন

[আহমাদ, দারেমী, বায়হাক্বী, শুআবুল ঈমান, মেশকাত হাদিস/২৭৭২]। হালাল ও হারাম -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৪২. হাসান ইবনি আলী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ]-এর এই বাণীটি আমি ভালভাবে স্মরণ রেখেছি যে, যে কাজে মনে খটকা লাগে, সে কাজ পরিহার করে খটকাহীন কাজ অবলম্বন কর। সত্য ও শুদ্ধের ক্ষেত্রে দ্বিধার সৃষ্টি হয় না, মিথ্যা ও অশুদ্ধের ক্ষেত্রেই দ্বিধার সৃষ্টি হয়

[আহমাদ, তিরমিজি, নাসাঈ, মেশকাত হাদিস/২৭৭৩]। হালাল -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৪৩. আবু উমামা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, তোমরা গায়িকা ক্রয়-বিক্রয় করিও না, তার মূল্য হারাম। তাদেরকে গান শিক্ষা দিও না। এই শ্রেণীর কার্য যারা করে তাদের সম্পর্কেই পবিত্র কুরআনের এ আয়াত অবর্তীণ হয়েছে, এক শ্রেণীর লোক আছে যারা রং-তামাশার গাথা [তথা গান] ক্রয় করে [তাদের জন্য লাঞ্ছনাময় শাস্তি রয়েছে]

[আহমাদ, তিরমিজি, ইবনি মাজাহ, মেশকাত হাদিস/২৭৮০]। হালাল ও হারাম -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৪৪. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবুবকর ছিদ্দীক্ব [রাদি.]-এর একজন গোলাম ছিল। তিনি তার জন্য রাজস্ব নির্ধারণ করেছিলেন। তিনি তার রাজস্ব হইতে খেতেন। একদিন সে কিছু সম্পদ নিয়ে আসে এবং তিনি সেখান হইতে কিছু খান। তখন গোলাম তাঁকে বলল, আপনি এ খাদ্য সম্পর্কে কি জানেন? তিনি বলিলেন এ কেমন খাদ্য? গোলাম বলল, আমি জাহেলী যুগে গণকী করতাম। আমি মানুষকে ধোঁকা দিতাম। ঐ সময়ের এক লোকের সাথে দেখা হলে সে আমাকে এ খাদ্য প্রদান করে। আয়েশা [রাদি.] বলেন, তখন আবুবকর ছিদ্দীক্ব [রাদি.] মুখের ভিতর হাত ঢুকিয়ে সব বমন করে দিলেন

[বুখারী, মেশকাত হাদিস/২৭৮৬]। হালাল ও হারাম -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৪৫. আবুবকর [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, যে দেহ হারাম দ্বারা প্রতিপালিত, তা জান্নাতে প্রবেশ করিবে

না [বায়হাক্বী শুআবুল ঈমান, মেশকাত হাদিস/২৭৮৭]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৪৬. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] রাস্তায় পড়া একটি খেজুরের নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় বলিলেন, ছাদাক্বার খেজুর বলে যদি আমার সন্দেহ না হত, নিশ্চয়ই আমি তা খেতাম

[বুখারী, মুসলিম, মেশকাত হাদিস/১৮২১]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৪৭. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

একদা [রাসূলের দৌহিত্র] হাসান ইবনি আলী [রাদি.] যাকাতের একটি খেজুর নিয়ে মুখে দিলেন [এটা দেখে] নবী করীম [সাঃআঃ] বলিলেন, ক্ষ, ক্ষ, যাতে তা সে ফেলে দেয়। অতঃপর বলিলেন, নানু তুমি জান না! আমরা যে যাকাত খাই না

[বুখারী, মুসলিম, মেশকাত হাদিস/১৮২২]। হালাল ও হারাম -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

Leave a Reply