হালাল উপার্জন করার উপায় ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে

হালাল উপার্জন করার উপায় ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে

হালাল উপার্জন করার উপায় ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে >> বুখারী শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

পর্বঃ ৩৪, ক্রয় ও বিক্রয়, অধ্যায়ঃ (১-১৩)=১৪টি

৩৪/১. অধ্যায়ঃ আল্লাহ তাআলার এ বাণী সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে (ইরশাদ করিয়াছেন): ‎
৩৪/২. অধ্যায়ঃ হালাল সুস্পষ্ট, হারামও সুস্পষ্ট এবং এ দুয়ের মধ্যখানে রয়েছে সন্দেহজনক বিষয়।
৩৪/৩. অধ্যায়ঃ মুতাশাবিহাত বা সন্দেহজনক বিষয়সমূহের বিশ্লেষণ।
৩৪/৪. অধ্যায়ঃ সন্দেহজনক বিষয় থেকে বিরত থাকা।
৩৪/৫. অধ্যায়ঃ যারা ওয়াসওয়াসা সৃষ্টিকারী ও তদনুরূপ বিষয়কে সন্দেহজনক মনে করেন না।
৩৪/৬. অধ্যায়ঃ মহান আল্লাহর বাণীঃ তারা যখন কোন ব্যবসায়ের সুযোগ বা ক্রীড়া কৌতুক দেখে তখন আপনাকে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে তারা সে দিকে ছুটে যায়। (জুমুআহঃ ১১)
৩৪/৭. অধ্যায়ঃ যে ব্যক্তি কোত্থেকে সম্পদ কামাই করিল, তার পরোয়া করে না।
৩৪/৮. অধ্যায়ঃ কাপড় ও অন্যান্য জিনিসের ব্যবসা
৩৪/৯. অধ্যায়ঃ ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে বহির্গত হওয়া।
৩৪/১০. অধ্যায়ঃ নৌপথে বাণিজ্য
৩৪/১১. অধ্যায়ঃ নাই
৩৪/১২. অধ্যায়ঃ মহান আল্লাহর বাণী- তোমরা যা উপার্জন কর তার উৎকৃষ্ট হইতে ব্যয় কর। (আল বাকারাঃ ২৬৭)
৩৪/১৩. অধ্যায়ঃ যে ব্যক্তি উপার্জনে প্রশস্ততা চায়

৩৪/১. অধ্যায়ঃ আল্লাহ তাআলার এ বাণী সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে (ইরশাদ করিয়াছেন): ‎

“সলাত শেষ হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করিবে ও আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করিবে যাতে তোমরা সফলতা লাভ করিতে পার। যখন তারা দেখল ব্যবসায় কৌতুক তখন তারা আপনাকে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে সেদিকে ছুটে গেল। বলুন, আল্লাহর নিকট যা আছে, তা ক্রীড়া-কৌতুক ও ব্যবসা অপেক্ষা উৎকৃষ্ট। আল্লাহ সর্বশেষ্ঠ রিযিকদাতা।” (জুমুআহঃ ১০)

আর আল্লাহ তাআলার বাণীঃ “তোমরা পরস্পর পরস্পরের অর্থ-সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। কিন্তু তোমাদের পরস্পর সন্তুষ্টচিত্তে ব্যবসা করা বৈধ।” (আন-নিসাঃ ২৯)

২০৪৭. আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, তোমরা বলে থাক, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) হইতে আবু হুরাইরা (রাদি.) বেশি বেশি হাদীস বর্ণনা করে থাকে এবং আরো বলেন, মুহাজির ও আনসারদের কী হলো যে, তারা তো আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-এর হাদীস বর্ণনা করে না? আমার মুহাজির ভাইয়েরা বাজারে ক্রয়-বিক্রয়ে ব্যস্ত থাকত আর আমি কোন প্রকারে আমার পেটের চাহিদা মিটিয়ে আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)– এর দরবারে পড়ে থাকতাম। তাঁরা যখন অনুপস্থিত থাকত তখন আমি উপস্থিত থাকতাম। তাঁরা যা ভুলে যেত আমি তা মুখস্থ করতাম। আর আমার আনসার ভাইয়েরা নিজেদের ক্ষেত-খামারের কাজে ব্যস্ত থাকতেন। আমি ছিলাম সুফ্‌ফার মিসকীনদের একজন মিসকীন। তাঁরা যা ভুলে যেতো, আমি তা মুখস্থ রাখতাম। আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) তাহাঁর এক বর্ণনায় বলিলেন, আমার এ কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যে কেউ তার কাপড় বিছিয়ে দিবে এবং পরে নিজের শরীরের সাথে তার কাপড় জড়িয়ে নেবে, আমি যা বলছি সে তা স্মরণ রাখতে পারবে। [আবু হুরাইরা (রাদি.) বলেন] আমি আমার গায়ের চাদরখানা বিছিয়ে দিলাম যতক্ষণ না আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) তাহাঁর কথা শেষ করিলেন, পরে আমি তা আমার বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলাম। ফলে আমি আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-এর সে কথার কিছুই ভুলে যাইনি।

২০৪৮. আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা যখন মদীনায় আসি, তখন আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) আমার এবং সাদ ইবনু রাবী (রাদি.) এর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন সৃষ্টি করে দেন। পরে সাদ ইবনু রাবী বলিলেন, আমি আনসারদের মধ্যে অধিক ধনাঢ্য ছিলাম। আমার অর্ধেক সম্পত্তি তোমাকে বন্টন করে দিচ্ছি এবং আমার উভয় স্ত্রীকে দেখে যাকে তোমার পছন্দ হয়, বল আমি তাকে তোমার জন্য পরিত্যাগ করব। যখন সে (ইদ্দত পূর্ণ করিবে) তখন তুমি বিবাহ করিবে। আবদুর রহমান (রাদি.) বলিলেন, এ সবে আমার কোন প্রয়োজন নেই। বরং (আপনি বলুন) ব্যবসা-বানিজ্য করার মতো কোন বাজার আছে কি? তিনি বলিলেন, কায়নুকার বাজার আছে। পরদিন আবদুর রহমান (রাদি.) সে বাজারে গিয়ে পনীর ও ঘি (খরিদ করে) নিয়ে আসলেন। এরপর ক্রমাগত যাওয়া-আসা করিতে থাকেন। কিছুকাল পরে আবদুর রহমান (রাদি.) এর কাপড়ে বিয়ের হলুদ রঙের চিহ্ন দেখা গেল। এরপর আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) তাকে জিজ্ঞেস করিলেন, তুমি কি বিবাহ করেছ? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, সে কে? তিনি বলিলেন, জনৈকা আনসারী মহিলা। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, কী পরিমাণ মোহর দিয়েছ? আবদুর রহমান (রাদি.) বলিলেন, খেজুরের এক আঁটি পরিমাণ স্বর্ণ। নাবী (সাঃআঃ) তাঁকে বলিলেন, একটি বকরী দিয়ে হলেও ওয়ালীমা কর।

২০৪৯. আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাদি.) মদীনায় আগমন করলে নাবী (সাঃআঃ) তাহাঁর ও সাদ ইবনু রাবী আনসারীর মাঝে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন করে দেন। সাদ (রাদি.) ধনী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি আবদুর রহমান (রাদি.)-কে বলিলেন, আমি তোমার উদ্দেশ্যে আমার সম্পত্তি অর্ধেক অর্ধেক ভাগ করে নিতে চাই এবং তোমাকে বিবাহ করিয়ে দিতে চাই। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা তোমার পরিবার ও সম্পদে বরকত দান করুন। আমাকে বাজার দেখিয়ে দাও। তিনি বাজার হইতে মুনাফা করে নিয়ে আসলেন পনীর ও ঘি। এভাবে কিছুকাল কাটালেন। একদিন তিনি এভাবে আসলেন যে, তাহাঁর গায়ে বিয়ের হলুদ রঙের চিহ্ন লেগে আছে। নাবী (সাঃআঃ) তাকে জিজ্ঞেস করিলেন, কী ব্যাপার? তিনি বলিলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি জনৈকা আনসারী মহিলাকে বিবাহ করেছি। তিনি [নাবী (সাঃআঃ)] জিজ্ঞেস করিলেন, তুমি তাকে কী দিয়েছ? তিনি বলিলেন, খেজুরের এক আঁটি পরিমাণ স্বর্ণ। তিনি [নাবী (সাঃআঃ)] বলিলেন, একটি বকরী দিয়ে হলেও ওয়ালীমা কর।

২০৫০. ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, উকায, মাজিন্না ও যুল-মাজায জাহিলীয়্যাতের যুগে বাজার ছিল। ইসলামের আগমনের পরে লোকেরা ঐ সমস্ত বাজারে যেতে গুনাহ মনে করিতে লাগল। ফলে অবতীর্ণ হলঃ

‏لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَبْتَغُوا فَضْلاً مِنْ رَبِّكُمْ

“তোমাদের প্রভুর অনুগ্রহ তালাশে তোমাদের কোন গুনাহ নেই”- (আল-বাকারা ১৯৮)। ইবনু আব্বাস (রাদি.) (আয়াতের সঙ্গে) হাজ্জের মওসুমে কথাটুকুও পড়লেন।

৩৪/২. অধ্যায়ঃ হালাল সুস্পষ্ট, হারামও সুস্পষ্ট এবং এ দুয়ের মধ্যখানে রয়েছে সন্দেহজনক বিষয়।

২০৫১. নুমান ইবনু বাশীর (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) বলেছেন, হালাল সুস্পষ্ট এবং হারামও সুস্পষ্ট, উভয়ের মাঝে বহু অস্পষ্ট বিষয় রয়েছে। যে ব্যক্তি গুনাহের সন্দেহযুক্ত কাজ পরিত্যাগ করে, সে ব্যক্তি যে বিষয়ে গুনাহ হওয়া সুস্পষ্ট, সে বিষয়ে অধিকতর পরিত্যাগকারী হইবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি গুনাহের সন্দেহযুক্ত কাজ করিতে দুঃসাহস করে, সে ব্যক্তির সুস্পষ্ট গুনাহের কাজে পতিত হবার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। গুনাহসমূহ আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা, যে জানোয়ার সংরক্ষিত এলাকার চারপাশে চরতে থাকে, তার ঐ সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করার সম্ভাবনা রয়েছে।

৩৪/৩. অধ্যায়ঃ মুতাশাবিহাত বা সন্দেহজনক বিষয়সমূহের বিশ্লেষণ।

হাস্‌সান ইবনু আবু সিনান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আমি পরহেযগারী হইতে বেশী সহজ কাজ দেখিতে পাইনি। (তা হলো) যা তোমার কাছে সন্দেহযুক্ত মনে হয়, তা পরিত্যাগ করে সন্দেহমুক্ত কাজ কর।

২০৫২. উকবা ইবনু হারিস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

একজন কালো মেয়েলোক এসে দাবী করলো যে, সে তাদের উভয় (উকবা ও তার স্ত্রী)-কে দুধপান করিয়েছে। তিনি এ কথা নাবী (সাঃআঃ)-এর নিকট বর্ণনা করলে নাবী (সাঃআঃ) তাহাঁর হইতে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং মুচকি হেসে বলিলেন, কিভাবে? অথচ এমনটি বলা হয়ে গেছে। তাহাঁর স্ত্রী ছিলেন আবু ইহাব তামীমীর মেয়ে।

২০৫৩. আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, উতবা ইবনু আবু ওয়াক্কাস তার ভাই সাদ ইবনু আবু ওয়াক্কাস (রাদি.) কে ওয়াসীয়াত করে যান যে, যামআর বাঁদীর গর্ভস্থিত পুত্র আমার ঔরসজাত; তুমি তাকে (ভ্রাতুষ্পুত্র রূপে) তোমার অধীনে নিয়ে আসবে। আয়েশা (রাদি.) বলেন, মক্কা বিজয়ের কালে ঐ ছেলেটিকে সাদ ইবনু আবু ওয়াক্কাস (রাদি.) নিয়ে নিলেন এবং বলিলেন, এ আমার ভাইয়ের পুত্র। তিনি আমাকে এর সম্পর্কে ওয়াসীয়াত করে গেছেন। এদিকে যামআর পুত্র আবদ দাবী করে যে, এ আমার ভাই, আমার পিতার বাঁদীর পুত্র। তার শয্যা সঙ্গিনীর গর্ভে জন্মগ্রহন করেছে। তারপর উভয়ে নাবী (সাঃআঃ)-এর কাছে গেলেন। সাদ বলিলেন, হে আল্লাহর রাসুল! এ আমার ভাইয়ের পুত্র, সে এর ব্যাপারে আমাকে ওয়াসীয়াত করে গেছে এবং আবদ ইবনু যামআ বলিলেন, আমার ভাই। আমার পিতার দাসীর পুত্র, তাহাঁর সঙ্গে শায়িনীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছে। তখন নাবী (সাঃআঃ) বলিলেন, হে আবদ ইবনু যামআ! এ ছেলেটি তোমার প্রাপ্য। তারপর নাবী (সাঃআঃ) বলিলেন, শয্যা যার, সন্তান তার। ব্যভিচারী যে, বঞ্চিত সে। এরপর তিনি নাবী সহধর্মিনী সাওদা বিনতে যামআ (রাদি.)-কে বলিলেন, তুমি ঐ ছেলেটি হইতে পর্দা করিবে। কারণ তিনি ঐ ছেলেটির মধ্যে উতবার সাদৃশ্য দেখিতে পান। ফলে মৃত্যু পর্যন্ত ঐ ছেলেটি আর সাওদাহ (রাদি.)-কে দেখেনি।

২০৫৪. আদী ইবনু হাতিম (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নাবী (সাঃআঃ)-কে পার্শ্বফলাবিহীন তীর (দ্বারা শিকার) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলিলেন, যদি তীরের ধারালো পার্শ্ব আঘাত করে, তবে সে (শিকারকৃত জানোয়ারের গোশত) খাবে, আর যদি এর ধারহীন পার্শ্বের আঘাতে মারা যায়, তবে তা খাবে না। কেননা তা প্রহারের মৃত যবেহকৃত নয়। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি বিসমিল্লাহ পড়ে আমার (শিকারী) কুকুর ছেড়ে দিয়ে থাকি। পরে তার সাথে শিকারের কাছে (অনেক সময়) অন্য কুকুর দেখিতে পাই যার উপর আমি বিসমিল্লাহ পড়িনি এবং আমি জানি না, উভয়ের মধ্যে কে শিকার ধরেছে। তিনি বলিলেন, তুমি তা খাবে না। তুমি তো তোমার কুকুরের উপর বিসমিল্লাহ পড়েছ, অন্যটির উপর পড়নি।

৩৪/৪. অধ্যায়ঃ সন্দেহজনক বিষয় থেকে বিরত থাকা।

২০৫৫. আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, (একদা) পথ অতিক্রমকালে নাবী (সাঃআঃ) পড়ে থাকা একটি খেজুর দেখে বলিলেন, এটা যদি সদাকার খেজুর বলে সংশয় না থাকতো, তবে আমি তা খেতাম। আবু হুরাইরা (রাদি.) সূত্রে হাম্মাম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) নাবী (সাঃআঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন আমার বিছানায় পড়ে থাকা খেজুর আমি পাই।

৩৪/৫. অধ্যায়ঃ যারা ওয়াসওয়াসা সৃষ্টিকারী ও তদনুরূপ বিষয়কে সন্দেহজনক মনে করেন না।

২০৫৬. আব্বাদ ইবনু তামীমের চাচা (আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ ইবনু আসিম) (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ)-এর নিকট এক ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হল যে, সালাত আদায়কালে তার অযু ভঙ্গের কিছু হয়েছে বলে মনে হয়, এতে কি সে সালাত ছেড়ে দেবে? তিনি বলেন, না, যতক্ষণ না সে আওয়াজ শোনে বা দুর্গন্ধ টের পায় অর্থাৎ নিশ্চিত না হয়।

ইবনু আবু হাফসা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) যুহরী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণনা করেন, তুমি গন্ধ না পেলে অথবা আওয়াজ না শুনলে অযু করিবে না।

২০৫৭. আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

কিছু সংখ্যক লোক বলিল, হে আল্লাহর রাসুল! বহু লোক আমাদের কাছে গোশত নিয়ে আসে আমরা জানি না, তারা বিসমিল্লাহ পড়ে যবহ করেছিল কিনা? নাবী (সাঃআঃ) বলিলেন, তোমরা এর উপর আল্লাহর নাম লও এবং তা খাও (ওয়াসওয়াসার শিকার হয়ো না)।

৩৪/৬. অধ্যায়ঃ মহান আল্লাহর বাণীঃ তারা যখন কোন ব্যবসায়ের সুযোগ বা ক্রীড়া কৌতুক দেখে তখন আপনাকে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে তারা সে দিকে ছুটে যায়। (জুমুআহঃ ১১)

২০৫৮. জাবির (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একবার আমরা নাবী (সাঃআঃ)-এর সঙ্গে সলাত আদায় করছিলাম। তখন সিরিয়া হইতে একটি ব্যবসায়ী কাফেলা খাদ্য নিয়ে আগমন করিল। লোকজন সকলেই সে দিকে চলে গেলেন, নাবী (সাঃআঃ)-এর সঙ্গে মাত্র বারোজন থেকে গেলেন। এ প্রসঙ্গে নাযিল হলঃ

‏وَإِذَا رَأَوْا تِجَارَةً أَوْ لَهْوًا انْفَضُّوا إِلَيْهَا‏

“যখন তারা দেখল ব্যবসা ও কৌতুক তখন তারা সে দিকে ছুটে গেল”।

৩৪/৭. অধ্যায়ঃ যে ব্যক্তি কোত্থেকে সম্পদ কামাই করিল, তার পরোয়া করে না।

২০৫৯. আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এমন এক যুগ আসবে, যখন মানুষ পরোয়া করিবে না যে, সে কোথা হইতে সম্পদ উপার্জন করিল, হালাল হইতে না হারাম হইতে।

৩৪/৮. অধ্যায়ঃ কাপড় ও অন্যান্য জিনিসের ব্যবসা

আল্লাহ তাআলার বাণীঃ “সে সব লোক যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর যিক্‌র হইতে বিরত রাখে না”। (আন-নূর ৩৭)

কাতাদাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, লোকেরা ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবসা-বাণিজ্য করিতেন এবং যখন তাদের সামনে আল্লাহর কোন হক এসে উপস্থিত হতো, তখন তাদেরকে ব্যবসা-বানিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ হইতে বিরত রাখত না, যতক্ষণ না তারা আল্লাহর সমীপে তা আদায় করে দিতেন।

২০৬০. আবুল মিনহাল (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি সোনা-রূপার ব্যবসা করতাম। এ সম্পর্কে আমি যায়দ ইবনু আরকাম (রাদি.) এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলিলেন, নাবী (সাঃআঃ) বলেছেন, ফাযল ইবনু ইয়াকূব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) অন্য সনদে …….. আবুল মিনহাল (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বারা ইবনু আযিব ও যায়দ ইবনু আরকাম (রাদি.)-কে সোনা-রূপার ব্যবসা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তাঁরা উভয়ে বলিলেন, আমরা আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-এর যুগে ব্যবসায়ী ছিলাম। আমরা তাঁকে সোনা-রূপার ব্যবসা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলিলেন, যদি হাতে হাতে (নগদ) হয়, তবে কোন ক্ষতি নেই; আর যদি বাকী হয় তবে জায়িয নয়।

২০৬১. আবুল মিনহাল (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি সোনা-রূপার ব্যবসা করতাম। এ সম্পর্কে আমি যায়দ ইবনু আরকাম (রাদি.) এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলিলেন, নাবী (সাঃআঃ) বলেছেন, ফাযল ইবনু ইয়াকূব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) অন্য সনদে …….. আবুল মিনহাল (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বারা ইবনু আযিব ও যায়দ ইবনু আরকাম (রাদি.)-কে সোনা-রূপার ব্যবসা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তাঁরা উভয়ে বলিলেন, আমরা আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-এর যুগে ব্যবসায়ী ছিলাম। আমরা তাঁকে সোনা-রূপার ব্যবসা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলিলেন, যদি হাতে হাতে (নগদ) হয়, তবে কোন ক্ষতি নেই; আর যদি বাকী হয় তবে জায়িয নয়।

৩৪/৯. অধ্যায়ঃ ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে বহির্গত হওয়া।

মহান আল্লাহর বাণীঃ “তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান কর।” (জুমুআহঃ ১০)

২০৬২. উবায়দুল্লাহ ইবনু উমাইর (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

আবু মূসা আল-আশআরী (রাদি.) উমর ইবনু খাত্তাব (রাদি.)- এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলে তাকে অনুমতি দেয়া হয়নি; সম্ভবতঃ তিনি কোন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তাই আবু মূসা (রাদি.) ফিরে আসেন। পরে উমর (রাদি.) পেরেশান হয়ে বলিলেন, আমি কি আবদুল্লাহ ইবনু কায়স (আবু মূসার নাম)-এর আওয়াজ শুনতে পাইনি? তাঁকে আসতে বল। কেউ বলিল, তিনি তো ফিরে চলে গেছেন। উমর (রাদি.) তাঁকে ডেকে পাঠালেন। তিনি (উপস্থিত হয়ে) বলিলেন, আমাদের এরূপই নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উমর (রাদি.) বলিলেন, তোমাকে এর উপর সাক্ষী পেশ করিতে হইবে। আবু মূসা (রাদি.) ফিরে গিয়ে আনসারদের এক মজলিসে পৌঁছে তাদের এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করিলেন। তাঁরা বলিলেন, এ ব্যাপারে আমাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ আবু সাঈদ খুদরী (রাদি.)- ই সাক্ষ্য দেবে। তিনি আবু সাঈদ খুদরী (রাদি.)-কে নিয়ে গেলেন। উমর (রাদি.) (তার কাছ হইতে সে হাদীসটি শুনে) বলিলেন, (কি আশ্চর্য) আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)- এর নির্দেশ কি আমার কাছ হইতে গোপন রয়ে গেল? (আসল ব্যাপার হল) বাজারের ক্রয়-বিক্রয় অর্থাৎ ব্যবসায়ের জন্য বের হওয়া আমাকে বেখবর রেখেছে।

৩৪/১০. অধ্যায়ঃ নৌপথে বাণিজ্য

মাত্বার (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, এতে কোন দোষ নেই এবং তা যথাযথ বলেই আল্লাহ কুরআনে এর উল্লেখ করিয়াছেন। তারপর তিনি তিলাওয়াত করলেনঃ “এবং তোমরা এতে নৌযানকে দেখিতে পাও তার বুক চিরে চলাচল করে, যা এজন্য যে, তাহাঁর অনুগ্রহের অনুসন্ধান করিতে পার”- (ফাতিরঃ ১২)। আয়াতে উল্লেখিত ……… আল-ফুলক শব্দের অর্থ নৌযান। একবচন ও বহুবচনে সমভাবে ব্যবহৃত হয়। মুজাহিদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, নৌযান, বায়ু বিদীর্ণ করে চলে এবং নৌযানের মধ্যে বৃহৎ নৌযানই বায়ুতে বিদীর্ণ করে চলে।

২০৬৩. আবু হুরাইরা (রাদি.) সূত্রে আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বনী ইসরাঈলের এক ব্যক্তির আলোচনায় বলেন, সে নদীপথে বের হল এবং নিজের প্রয়োজন সেরে নিল। এরপর রাবী পুরা হাদীসটি বর্ণনা করেন।

৩৪/১১. অধ্যায়ঃ নাই

আল্লাহর বাণী- “যখন তারা দেখল ব্যবসা ও কৌতুক তখন তারা আপনাকে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে সেদিকে ছুটে গেল”- (জুমুআহ ১১)। এবং তাহাঁর বাণীঃ “সে সব লোক, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর যিক্‌র হইতে গাফিল রাখে না।” (আন্-নূরঃ ৩৭)

কাতাদাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, সাহাবীগণ (রাদি.) ব্যবসা-বাণিজ্য করিতেন বটে, কিন্তু যখন তাঁদের সামনে আল্লাহর কোন হক এসে উপস্থিত হতো, যতক্ষণ না তাঁরা এ হক আল্লাহর সমীপে আদায় করে দিতেন, ততক্ষণ ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর যিকির হইতে গাফিল করিতে পারত না।

২০৬৪. জাবির (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা নাবী (সাঃআঃ)-এর সঙ্গে জুমুআর দিন সালাত আদায় করছিলাম। এমন সময় এক বাণিজ্যিক কাফেলা এসে হাযির হয়, তখন বারোজন লোক ছাড়া সকলেই সে কাফেলার দিকে ছুটে যান। তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ

‏وَإِذَا رَأَوْا تِجَارَةً أَوْ لَهْوًا انْفَضُّوا إِلَيْهَا وَتَرَكُوكَ قَائِمًا

“যখন তারা দেখল ব্যবসা ও কৌতুক তখন তারা আপনাকে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে সেদিকে ছুটে গেল।”- (সুরা জুমুআ ১১)।

৩৪/১২. অধ্যায়ঃ মহান আল্লাহর বাণী- তোমরা যা উপার্জন কর তার উৎকৃষ্ট হইতে ব্যয় কর। (আল বাকারাঃ ২৬৭)

২০৬৫. আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) বলেছেন, যখন কোন মহিলা তার ঘরের খাদ্যসামগ্রী হইতে ফাসাদের উদ্দেশ্য ব্যতীত খরচ করে তখন তার জন্য সাওয়াব রয়েছে তার খরচ করায়, তার স্বামীর জন্য সাওয়াব রয়েছে তার উপার্জনের এবং সংরক্ষণকারীর জন্যও অনুরূপ রয়েছে। তাদের কারো কারণে কারোর সাওয়াব কিছুই কমতি হইবে না।

২০৬৬. আবু হুরাইরা (রাদি.) সূত্রে নাবী (সাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যখন কোন মহিলা তার স্বামীর উপার্জন হইতে তার অনুমতি ছাড়াই ব্যয় করিবে, তখন তার জন্য অর্ধেক সওয়াব রয়েছে।

৩৪/১৩. অধ্যায়ঃ যে ব্যক্তি উপার্জনে প্রশস্ততা চায়

২০৬৭. আনাস ইবনু মালিক (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি শুনিয়াছি, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, তার জীবিকা বৃদ্ধি হোক অথবা তাহাঁর মৃত্যুর পরে সুনাম থাকুক, তবে সে যেন আত্মীয়ের সঙ্গে সদাচরণ করে।

By ইমাম বুখারী

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply