হারানো বস্তু প্রাপ্তি

হারানো বস্তু প্রাপ্তি

হারানো বস্তু প্রাপ্তি >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

পর্বঃ ৩২, হারানো বস্তু প্রাপ্তি, অধ্যায়ঃ (১-৫)=৫টি

১. অধ্যায়ঃ হাজীগনের হারানো বস্তু প্রাপ্তি
২. অধ্যায়ঃ মালিকের বিনানুমতিতে কোন পশুর দুধ দোহন হারাম
৩. অধ্যায়ঃ মেহমানদের আপ্যায়ন এবং অনুরূপ বিষয়
৪. অধ্যায়ঃ নিজের প্রয়োজনাতিরিক্ত সম্পদের দ্বারা অন্যের সহায়তা করা মুসতাহাব
৫. অধ্যায়ঃ যখন খাদ্যদ্রব্য পরিমাণে কম হয় তখন সমস্ত খাদ্যদ্রব্য একত্রে মিলিয়ে ফেলা এবং তদদ্বারা একে অন্যকে সাহায্য করা মুস্তাহাব

১. অধ্যায়ঃ হাজীগনের হারানো বস্তু প্রাপ্তি

৪৩৯০. যায়দ ইবনি খালিদ জুহানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী [সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] –এর কাছে এসে তাঁকে হারিয়ে যাওয়া জিনিস পাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিল। তখন তিনি বললেনঃ তুমি তার থলে এবং তার বাঁধন ভাল করে চিনে রাখবে। তারপর এক বছর পর্যন্ত এর ঘোষণা দেবে। এ সময়ের মধ্যে যদি এর মালিক আসে তবে তাকে তা দিয়ে দিবে। অন্যথায় তা তোমার ইচ্ছাধীন। {৩০} তারপর সে হারানো ছাগল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। তিনি বললেনঃ তা তোমার জন্য অথবা তোমার অন্য কোন ভাইয়ের জন্য অথবা নেকড়ের [খাবারের] জন্য। তারপর সে হারানো উট সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। তিনি বললেনঃ এ নিয়ে তোমার ভাবনা কি? তার সাথে আছে পানির মশ্‌ক [পেটের মধ্যে কয়েকদিনের পানি ধারণের থলে] জুতোর মত পায়ের পাতা [মরুভূমিতে চলার উপযোগী]। সে নিজেই পানি পান করিবে এবং গাছের পাতা খাবে যতক্ষন না মালিক তাকে পেয়ে যায়।

ইয়াহ্‌ইয়া [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমার মনে হয় আমি [মালিকের নিকট] [আরবী] পড়েছি।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৩৪৯, ইসলামিক সেন্টার-৪৩৪৯]

{৩০} এটা তার সঠিক মালিক না আসা পর্যন্ত। এসে গেলে তা তাকে দিতে হইবে। কেননা এটা তার আমানত হিসেবে ছিল।

৪৩৯১. যায়দ ইবনি খালিদ জুহানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] –কে হারিয়ে যাওয়া জিনিস পাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিল। তিনি বললেনঃ তুমি এক বছর পর্যন্ত সেটার প্রচার করিবে এবং [এরপর] তুমি থলি ও বাঁধন চিনে রাখবে। তারপরে তুমি তা খরচ করিতে পার। আর যদি তার প্রকৃত মালিক আসে, তবে তাকে তা আদায় করে দিবে। তারপর সে বলিল, হে আল্লাহ্‌র রসূল! হারানো বকরির বিধান কী? তিনি বললেনঃ তা তুমি ধরে নিয়ে রাখ। কেননা, এটি তুমি নিবে কিংবা তোমার ভাই নিবে কিংবা নেকড়ে নিয়ে যাবে। {৩১} তারপর সে বলিল, হে আল্লাহ্‌র রসূল! তবে যদি হারানো উট হয়? বর্ণনাকারী বলেনঃ তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] রাগান্বিত হলেন, এমনকি তাহাঁর গাল দুটি লাল হয়ে গেল। অথবা তিনি বলেছেনঃ তাহাঁর চেহারা লাল হয়ে গেল। তারপর তিনি বলিলেন, তাকে নিয়ে তোমার ভাবনা কী? তার সাথে আছে তার জুতো আর পানির মশক; সেটির মালিক সেটিকে পেয়ে যাবে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৩৫০, ইসলামিক সেন্টার-৪৩৫০]

{৩১} এর তাৎপর্য এই যে, এ তিনজনের কোন একজনের হাতে সে পড়বে। তাথেকে ক্ষয়-ক্ষতি হইতে পারে। এক্ষেত্রেও ঘোষণার প্রয়োজন আছে। মালিক না আসা পর্যন্ত সে নিজের ব্যবহারে রাখবে। এসে গেলে তাকে দিয়ে দিতে হইবে। কেননা এটা তার নিকট আমানাত হিসেবে ছিল।

৪৩৯২. রাবিআহ্ ইবনি আবু আবদুর রহমান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

একই সূত্রে মালিক [রাদি.] –এর হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু তিনি বাড়তি বর্ণনা করিয়াছেন যে, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] –এর নিকট এল তখন আমি তার সঙ্গে ছিলাম। সে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] –কে হারিয়ে যাওয়া জিনিস পাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। বর্ণনাকারী বলেন, আম্‌র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তাহাঁর বর্ণিত হাদীসে বলেছেন যে, যখন এর কোন দাবীদার না আসে ততক্ষণ তা খরচ করে যাবে, মালিক এসে গেলে তা দিয়ে দিবে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৩৫১, ইসলামিক সেন্টার-৪৩৫১]

৪৩৯৩. যায়দ ইবনি খালেদ জুহানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] –এর নিকট এল … অতঃপর তিনি ইসমাঈল ইবনি জাফর [রাদি.] –এর অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। কিন্তু তিনি এও বলেছেন, “তখন তাহাঁর পবিত্র মুখমন্ডল ও ললাট লাল হয়ে গেল এবং তিনি রাগান্বিত হলেন”। এবং আরও বাড়তি বলেছেন, আর তা এক বছর ঘোষণা করিবে যদি এর মালিক না আসে, তবে তা তোমার নিকট আমানাত হিসেবে থাকিবে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৩৫২, ইসলামিক সেন্টার-৪৩৫২]

৪৩৯৪. রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] –এর সাহাবা যায়দ ইবনি খালিদ জুহানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] –কে সোনার অথবা রূপার হারানো বস্তু প্রাপ্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বললেনঃ তুমি এর বন্ধন ও থলে চিনে রাখবে; তারপর একবছর পর্যন্ত এর ঘোষণা দিবে। এরপরও যদি তুমি মালিকের সন্ধান না পাও, তবে তা তুমি ব্যয় করে ফেলতে পার। কিন্তু তা তোমার নিকট আমানাত হিসেবে থাকিবে। যদি কোন সময় এর দাবীদার আসে তবে তা তুমি তাকে দিয়ে দিবে। তারপর সে হারানো উট সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করিল। তিনি বললেনঃ এতে তোমার কী? তুমি এ প্রসঙ্গ বাদ দাও। কেননা এর সাথে এর জুতা আছে এবং পানি সংরক্ষণের থলে আছে। সে নিজেই পানির ঘাটে যেতে পারে এবং বৃক্ষ থেকে খেতে পারে। অবশেষে একদিন তার মনিব তাকে পেয়ে যাবে। তারপর সে বকরি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। তিনি বললেনঃ তুমি সেটি নিয়ে যাও। কেননা, তা তুমি নিবে অথবা তোমার ভাই নিবে অথবা নেকড়ে খেয়ে ফেলবে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৩৫৩, ইসলামিক সেন্টার-৪৩৫৩]

৪৩৯৫. যায়দ ইবনি খালিদ জুহানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক ব্যক্তি নবী [সাঃআঃ] –কে হারানো উট সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিল। রাবীআহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] অতিরিক্ত বর্ণনা করিয়াছেন, “তিনি এতে এত রাগান্বিত হলেন যে, তাহাঁর গাল দুটো রক্তিম বর্ণ হয়ে গেল” তারপর … অবশিষ্ট হাদীস উল্লিখিত বর্ণনাকারীদের অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি আরো অতিরিক্ত বর্ণনা করেন যে, তারপর যদি এর মালিক আসে এবং তার থলে এবং [মুদ্রার] সংখ্যা ও বন্ধন সঠিকভাবে চিনতে পারে, তবে তাকে তা দিয়ে দিবে। নচেৎ তা তোমারই থাকিবে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৩৫৪, ইসলামিক সেন্টার-৪৩৫৪]

৪৩৯৬. যায়দ ইবনি খালিদ জুহানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] –কে হারানো বস্তু প্রাপ্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বলিলেন, তা তুমি এক বছর পর্যন্ত প্রচার করিবে। এর মধ্যে যদি জানা না যায় তবে এর থলে ও বন্ধন চিনে রাখবে। তারপর তুমি তা খেতে পারবে। তারপর যদি তার মালিক আসে, তাবে তা তাকে দিয়ে দিবে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৩৫৫, ইসলামিক সেন্টার- ৪৩৫৫]

৪৩৯৭. যাহ্হাক ইবন উসমান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

এ একই সূত্রে বর্ণনা করেন। আর তিনি তাহাঁর হাদীসে বলেছেন যে, যদি জানা যায়, তবে তাকে তা দিয়ে দেবে। অন্যথায় তুমি তার থলে, তার বন্ধন, তার আবরণ ও [মুদ্রার] সংখ্যা চিনে রাখবে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৩৫৬, ইসলামিক সেন্টার-৪৩৫৬]

৪৩৯৮. সুওয়াইদ ইবনি গাফালাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি এবং যায়দ ইবনি সূহান ও সালমান ইবনি রাবীআহ্‌ যুদ্ধে গিয়েছিলাম। আমি একটি চাবুক পেয়ে তা উঠিয়ে নিলাম। তখন আমার সাথী দুজন আমাকে বলিলেন, তুমি তা রেখে দাও। আমি বললাম, না বরং আমি এটির ঘোষণা করব। যদি এটির মালিক আসে তো ভাল, অন্যথায় আমি এটি নিয়ে ব্যবহার করব। তিনি বলেন, আমি উভয়ের কথা প্রত্যাখ্যান করলাম। তারপর যখন আমরা যুদ্ধ থেকে ফিরে এলাম, তখন এক সময় আমার হাজ্জে যাওয়ার সুযোগ এলো। তখন আমি মদীনায় গেলাম এবং উবাই ইবনি কাব [রাদি.]-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম। আমি চাবুকের ঘটনা এবং সঙ্গীদ্বয়ের কথা তাঁকে বললাম। তিনি বলিলেন, আমি রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] –এর যামানায় একটি থলে পেয়েছিলাম। তাতে একশ দীনার [স্বর্ণমুদ্রা] ছিল। আমি সেটি নিয়ে রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] –এর নিকট এলাম। তিনি বললেনঃ তুমি তা এক বছর পর্যন্ত ঘোষণা দেবে। বর্ণনাকারী বলিলেন, আমি সেটির ঘোষণা দিলাম, কিন্তু তা চিনে নিতে পারে এমন কাউকে পেলাম না। পরে আমি তাহাঁর কাছে এলাম, তখন তিনি বললেনঃ আরো এক বছর পর্যন্ত প্রচার কর। তারপরও আমি তার কোন দাবীদার পেলাম না। তারপর আবার আমি তাহাঁর কাছে এলাম। তখন তিনি বললেনঃ আরো এক বছর তার ঘোষণা দাও। তারপরও আমি কাউকে সেটির দাবীদার পেলাম না। তিনি বললেনঃ তুমি এটির সংখ্যা, থলে ও তার বন্ধন সংরক্ষন করে রাখবে। যদি এর মালিক আসে, তবে ভাল। অন্যথায় তুমি তা ভোগ করিবে। তারপর তা আমি ভোগ করলাম। তারপর যখন মক্কায় এলাম তখন সেটির মালিকের সাক্ষাৎ পেলাম।

বর্ণনাকারী সন্দেহ করে বলেন, আমার খেয়াল নেই যে, তিনি কি তিন বছরের কথা বলেছিলেন, না এক বছরের।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৩৫৭, ইসলামিক সেন্টার- ৪৩৫৭]

৪৩৯৯. সুওয়াইদ ইবনি গাফালাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি যায়দ ইবনি সূহান এবং সালমান ইবনি রাবীআহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর সাথে বের হলাম এবং আমি একটি চাবুক পেলাম। তারপর তিনি উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ…..[তা আমি ব্যবহার করলাম] পর্যন্ত বর্ণনা করেন। শুবাহ্‌ [রাদি.] বলেন, পরে আমি তাঁকে দশ বছর পর বলিতে শুনেছি যে, তিনি সেটা এক বছর পর্যন্ত প্রচার করেছিলেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৩৫৮, ইসলামিক সেন্টার- ৪৩৫৮]

৪৪০০. কুতাইবাহ্ ইবনি সাঈদ, আবু বাকর ইবনি আবু শাইবাহ্, ইবনি নুমায়র মুহাম্মাদ ইবনি হাতিম ও আবদুর রহমান ইবনি বাশর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সকলেই সালামাহ্ ইবনি কুহায়ল [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে একই সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

শুবাহ্ [রাদি.] –এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। উল্লিখিত সকলের বর্ণিত হাদীসেই তিন বছর কথাটি উল্লেখ আছে। আর সুফ্ইয়ান, যায়দ ইবনি আবু উনাইসাহ্ ও হাম্মাদ ইনু সালামাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] –এর হাদীসে রয়েছে, “যদি কোন ব্যক্তি এরপর আসে এবং তার গণনা, থলে ও তার বন্ধনের বর্ণনা দিতে পারে, তবে তাকে তা দিয়ে দিবে।” আর সুফ্ইয়ান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]….. ওয়াকী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে একটু অতিরিক্ত বর্ণনা করিয়াছেন, অন্যথায় তা তোমার মালের মতই। আর ইবনি নুমায়র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] –এর বর্ণনায় “অন্যথায় তুমি তা ব্যবহার করিতে পারবে” বর্ণিত হয়েছে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৩৫৯, ইসলামিক সেন্টার- ৪৩৫৯]

৪৪০১. আবদুর রহমান ইবনি উসমান তাইমী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] হাজীদের হারানো বস্তু তুলে নিতে নিষেধ করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৩৬০, ইসলামিক সেন্টার- ৪৩৬০]

৪৪০২. যায়দ ইবনি খালিদ জুহানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি হারানো বস্তু উঠিয়ে রাখল সে যদি তা প্রচার না করে তবে সে পথভ্রষ্ট।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৩৬১, ইসলামিক সেন্টার- ৪৩৬১]

২. অধ্যায়ঃ মালিকের বিনানুমতিতে কোন পশুর দুধ দোহন হারাম

৪৪০৩. ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেনঃ কেউ যেন কোন ব্যক্তির পশুর দুধ তার অনুমতি ব্যতীত দোহন না করে। তোমাদের কেউ কি এটা পছন্দ করিবে যে, তার কুটিরে কিছু সঞ্চিত হোক, তারপর অন্য কেউ তার ভান্ডার ভেঙ্গে খাদ্য সামগ্রী বের করে নিয়ে যাক? এমনিভাবে পশুদের স্তন তাদের ধনাগার স্বরূপ, তাতে তারা তাদের খাদ্য সামগ্রী সঞ্চয় করে। অতঃপর কেউ যেন কারো পশুর দুগ্ধ মালিকের বিনানুমতিতে দোহন না করে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৩৬২, ইসলামিক সেন্টার- ৪৩৬২]

৪৪০৪. কুতাইবাহ্ ইবনি সাঈদ মুহাম্মাদ ইবনি রুম্হ আবু বাকর ইবনি আবু শাইবাহ্, ইবনি নুমায়র, আবু রাবি, আবু কামিল, যুহায়র ইবনি হারব, ইবনি আবু উমর ও মুহাম্মাদ ইবনি রাফি [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সকলেই ইবনি উমর [রাদি.]-এর সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] থেকে মালিক [রাদি.] –এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তাদের হাদীসে [আরবী] রয়েছে। কিন্তু লায়স ইবনি সাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তাহাঁর বর্ণিত হাদীসে “তাহাঁর খাদ্য সামগ্রী স্থানান্তর করে নিয়ে যায়” অংশটি মালিক [রাদি.] –এর বর্ণনার অনুরূপ বর্ণিত রয়েছে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৩৬৩, ইসলামিক সেন্টার- ৪৩৬৩]

৩. অধ্যায়ঃ মেহমানদের আপ্যায়ন এবং অনুরূপ বিষয়

৪৪০৫. আবু শুরাইহ্‌ আদাবী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার দুকান শুনেছে এবং দুচক্ষু দেখেছে, যখন রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে সে যেন ভালভাবে নিজ মেহমানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে। তখন সাহাবীগন বলিলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]! ভালভাবে মানে কি? তখন তিনি বলিলেন, তাকে একদিন ও এক রাত্রি আপ্যায়ন করিবে। আর [সাধারনভাবে] মেহমানদারীর সময়কাল তিন দিন। এর চাইতে বেশি দিন মেহমানদারী করা তার জন্য সাদকাহ্‌ স্বরূপ। তিনি আরো বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনে বিশ্বাস রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে অথবা চুপ থাকে। {দ্রষ্টব্য হাদীস ১৭৬}

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৩৬৪, ইসলামিক সেন্টার- ৪৩৬৪]

৪৪০৬. আবু শুরাইহ্‌ খুযাঈ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেনঃ মেহমানদারী তিন দিন এবং উত্তমরূপে মেহমানদারী একদিন ও একরাত্রি। কোন মুসলিম ব্যক্তির জন্য বৈধ নয় যে সে তার ভাই-এর নিকট অবস্থান করে তাকে পাপে নিপতিত করিবে। তখন সাহাবাগন বলিলেন, হে আল্লাহর রসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]! কিভাবে সে তাকে পাপে নিপতিত করিবে? তিনি বলিলেন, সে [মেহমান] তার নিকট [এমন বেশী দিন] থাকিবে, অথচ তার [মেযবানের] এমন সম্বল নেই যা দ্বারা সে তার মেহমেনদারী করিবে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৩৬৫, ইসলামিক সেন্টার- ৪৩৬৫]

৪৪০৭. আবু শুরায়হ্ খুযাঈ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার দুকান শুনেছে, আমার দুচক্ষু দেখেছে এবং আমার অন্তর স্মরণ রেখেছে যখন রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] এ কথা বলেছিলেন। তারপর তিনি লায়স-এর হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। তাতে তিনি উল্লেখ করিয়াছেন, কারো জন্য বৈধ নয় তার ভাই-এর নিকট এত সময় অবস্থান করা, যাতে সে তাকে পাপে ফেলে দেয়। বাকী অংশ ওয়াকী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৩৬৬, ইসলামিক সেন্টার- ৪৩৬৬]

৪৪০৮. উকবাহ্ ইবনি আমির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা বললাম হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমাদের [বিভিন্ন স্থানে] পাঠিয়ে থাকেন। আমরা এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে অবতরণ করি, যারা আমাদের মেহমানদারী করে না। এ সম্পর্কে আপনি কী মনে করেন? রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] আমাদের বললেনঃযদি তোমরা কোন সম্প্রদায়ের কাছে অবতরণ কর, আর তারা তোমাদের জন্য এমন সব আসবাব পত্র প্রদান করার হুকুম করে যা মেহমানদারীর জন্য প্রয়োজন, তবে তোমরা তা গ্রহণ করিবে। আর যদি তারা তা না করে তবে তোমরা তাদের থেকে মেহমানদারীর হক আদায় করে নেবে, যা তাদের করণীয়।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৩৬৭, ইসলামিক সেন্টার-৪৩৬৭]

৪. অধ্যায়ঃ নিজের প্রয়োজনাতিরিক্ত সম্পদের দ্বারা অন্যের সহায়তা করা মুসতাহাব

৪৪০৯. আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আমরা নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]- এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। এ সময় এক ব্যক্তি সওয়ারীতে আরোহণ করে তাহাঁর কাছে এলো এবং ডানদিকে ও বামদিকে তাকাতে লাগলো। তখন রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বললেনঃযার কাছে আরোহণের কোন অতিরিক্ত বাহন থাকে, সে যেন তা দিয়ে তাকে সাহায্য করে যার কোন বাহন নেই। আর যার কাছে অতিরিক্ত খাদ্যদ্রব্য থাকে সে যেন তা দিয়ে তাকে সাহায্য করে যার খাদ্যদ্রব্য নেই।

তারপর তিনি বিভিন্ন প্রকার সম্পদ সম্পর্কে এমনিভানে বলিলেন। এমনকি আমাদের মনে হল যে, অতিরিক্ত সম্পদের মধ্যে আমাদের কারো কোন অধিকার নেই।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৩৬৮, ইসলামিক সেন্টার- ৪৩৬৮]

৫. অধ্যায়ঃ যখন খাদ্যদ্রব্য পরিমাণে কম হয় তখন সমস্ত খাদ্যদ্রব্য একত্রে মিলিয়ে ফেলা এবং তদদ্বারা একে অন্যকে সাহায্য করা মুস্তাহাব

৪৪১০. সালামাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তাহাঁর পিতা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর সঙ্গে এক যুদ্ধে গিয়েছিলাম। তখন আমাদের মধ্যে খাদ্যের অভাব দেখা দিল। অবশেষে আমাদের কিছু সওয়ারীর বাহন যাবাহ করার কথা ইচ্ছা করেছিলাম। তখন নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর নির্দেশে আমরা আমাদের খাদ্যদ্রব্য একত্রিত করলাম। আমরা একটি চামড়া বিছালাম এবং তাতে লোকদের খাদ্যদ্রব্য জমা করা হল। বর্ণনাকারী বলেন, আমি সেটির প্রশস্ততা অনুমান করার জন্য দাঁড়ালাম এবং আমি আন্দাজ করলাম সেটি একটি ছাগল বসার স্থানের সমান। আর আমরা সংখ্যায় ছিলাম চৌদ্দশ। রাবী বলেন, আমরা সকলেই তৃপ্তির সাথে খেলাম। তারপর আমাদের নিজ নিজ খাদ্য রাখার থলে পূর্ণ করে নিলাম। এরপর নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বললেনঃওযূর জন্য কি পানি আছে? বর্ণনাকারী বলেন, এক ব্যক্তি তার পাত্রে সামান্য পানি নিয়ে এগিয়ে এল। তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তা একটি বড় পাত্রে ঢেলে দিলেন। এরপর আমরা চৌদ্দশ লোক সকলেই তার থেকে পানি ঢেলে ঢেলে ওযূ করলাম। তারপর আরো আটজন লোক এসে বলিল, ওযূর জন্য কি পানি আছে? তখন রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বললেনঃওযূর পানি সমাপ্ত হয়ে গেছে।

[ই. ফা ৪৩৬৯, ইসলামিক সেন্টার-৪৩৬৯]

By ইমাম মুসলিম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply