হাদীসে কুদসী pdf । ১৬৩ টি হাদীসে কুদসি বাংলায় দেয়া হল।

হাদীসে কুদসী

হাদীসে কুদসী
আবু আব্দুল্লাহ মুস্তফা আল-আদাভী
অনুবাদ: সানাউল্লাহ নজির আহমদ
সম্পাদনা: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
islamhouse.com

বইটির PDF/ মুল কপি পেতে হলে নিচে Comment/ কমেন্ট এর মাধ্যমে আমাদেরকে জানান, তাহলে আমরা আপনাদেরকে পাঠিয়ে দিতে পারব। ইনশাআল্লাহ।

হাদীসে কুদসী সুচিপত্র

হাদিসে কুদসি ভূমিকা

পাপ-পুণ্য লিখার নিয়ম ও আল্লাহর অনুগ্রহ
আল্লাহ তা‘আলার বাণী: ﴿وَإِن تُبۡدُواْ مَا فِيٓ أَنفُسِكُمۡ أَوۡ تُخۡفُوهُ يُحَاسِبۡكُم بِهِ ٱللَّهُۖ ﴾ “আর তোমরা যদি প্রকাশ কর যা তোমাদের ‎অন্তরে রয়েছে অথবা গোপন কর, আল্লাহ সে ‎বিষয়ে তোমাদের হিসাব নেবেন”
যার নিয়ত নষ্ট তার জন্য জাহান্নাম
শির্কের ভয়াবহতা
দুনিয়া ভর স্বর্ণ দ্বারা কাফিরের মুক্তি কামনা
অমুক নক্ষত্রের কারণে বৃষ্টি পেয়েছি বলা কুফরি

তাওহীদের ফযীলত
আহলে তাওহীদকে জাহান্নাম থেকে বের করা
বেতাকার হাদীস ও লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর ফযীলত
আল্লাহর রহমতের প্রশস্ততা
আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশকারীদের প্রতি হুশিয়ারি
মানুষ ধ্বংস হয়ে গেছে বলা নিষেধ
আল্লাহর ভয়ের ফযীলত

যিকিরের ফযীলত ও নেক আমল দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা
যিকির ও নেককারদের সঙ্গের ফযীলত
তওবা ও ইস্তেগফারের প্রতি উৎসাহ প্রদান করা

আল্লাহর সাক্ষাত যে পছন্দ করে আল্লাহ তার সাক্ষাত পছন্দ করেন
বান্দার জন্য আল্লাহর মহব্বতের নিদর্শন
মুসলিমদেরকে মহব্বত ও ভ্রাতৃত্বের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা
প্রতিবেশীদের সাক্ষী ও তাদের প্রশংসার ফযীলত
দুনিয়া-আখিরাতে মুমিনের দোষ আল্লাহর গোপন করা
মুমিনের ফযীলত
গরিবকে সুযোগ দেওয়া ও ক্ষমা করার ফযীলত
আল্লাহর অলিদের সাথে শত্রুতা করার পাপ
আল্লাহর জন্য মহব্বতের ফযীলত

জান্নাত কষ্ট ও জাহান্নাম প্রবৃত্তি দ্বারা আবৃত
নেক বান্দাদের জন্য তৈরি কিছু নি‘আমতের বর্ণনা
জান্নাতবাসীদের ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টি
জান্নাতিদের তাদের প্রার্থিত বস্তু প্রদান করা
জান্নাতের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী
জান্নাতে প্রবেশকারী সর্বশেষ জান্নাতী
শহীদদের ফযীলত
وَلَا تَحۡسَبَنَّ ٱلَّذِينَ قُتِلُواْ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ أَمۡوَٰتَۢاۚ بَلۡ أَحۡيَآءٌ عِندَ رَبِّهِمۡ يُرۡزَقُونَ আয়াতের শানে নুযূল
وَلَا تَحۡسَبَنَّ ٱلَّذِينَ قُتِلُواْ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ أَمۡوَٰتَۢاۚ আয়াতের আরেকটি শানে নুযূল
মুমূর্ষু হালত, রুহ বের হওয়া ও জীবন সায়ান্নে মুসলিম-কাফিরের অবস্থার বর্ণনাসহ মহান হাদীস
জান্নাত ও জাহান্নামীদের বর্ণনা
দুনিয়ার সুখ ও দুঃখ আখিরাতে মূল্যহীন
কিয়ামতের দৃশ্য
মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কিয়ামতের দিন তার বিপক্ষে সাক্ষ্য দিবে
আল্লাহ তা‘আলার বাণী: (والأرْضُ جَميعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ القيامةِ والسَّماواتُ مَطوِيَّاتٌ بِيَمِينِه)
কতক জাহান্নামীর জাহান্নাম থেকে বের হওয়া
কিয়ামতের দিন নি‘আমত সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ
পরকালের আমলে অলসতাকারীর জন্য হুশিয়ারি
আখিরাতে মুমিনগণ রবের দর্শন লাভ করবে

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর আল্লাহর নি‘আমত
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাউজ
হাউজে কাউসার
সুপারিশের হাদীস
উম্মতে মুহাম্মাদির ফযীলত
বদরি সাহাবীদের ফযীলত

সালাত ফরয হওয়া ও মি‘রাজের হাদীস
‘আরাফার দিনের ফযীলত ও হাজীদের নিয়ে আল্লাহর গর্ব করা
সিয়ামের ফযীলত
সন্তান মারা যাওয়ার পর সাওয়াবের আশায় ধৈর্যধারণ করার ফযীলত
আল্লাহর রাস্তায় খরচ করা ও উৎসাহ প্রদানের ফযীলত
রাতে ওযু করার ফযীলত
শেষ রাতে দো‘আ ও সালাত আদায়ের ফযীলত
দুই ব্যক্তিকে দেখে আমাদের রব আশ্চর্য হন
নফল সালাতের ফযীলত
মুয়াজ্জিনের ফযীলত
আসর ও ফজর সালাতের ফযীলত
মাগরিব থেকে এশা পর্যন্ত মসজিদে থাকার ফযীলত

দিনের শুরুতে সুরক্ষা গ্রহণ করা
জান্নাতের খাজানা
সন্তানের পিতা-মাতার জন্য ইস্তেগফার করার ফযীলত
বিসমিল্লাহ না বললে শয়তান খানায় অংশ গ্রহণ করে
আল্লাহর সর্বপ্রথম মখলুক
লেখা ও সাক্ষী রাখার সূচনা
নবী আদমকে আল্লাহ বললেন: يرحمُكَ الله
মুসলিমদের সালাম
আল্লাহর নবী ইউনুস আলাইহিস সালামের ঘটনা
মুসা ও খিদির আলাইহিমাস সালামের ঘটনা
মালাকুল মউতের সাথে মূসা আলাইহিস সালামের ঘটনা
আইয়ূব আলাইহিস সালামের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ
জাহেলী যুগের প্রথার অনিষ্ট
শয়তানের ওয়াসওয়াসা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরূদের ফযীলত
ভালোর নির্দেশ দেওয়া ও খারাপ থেকে বিরত রাখা
ফাতিহার ফযীলত
ঊর্ধ্বজগতে ফিরিশতাদের তর্ক

আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা হারাম
হাদীসে কুদসীতে আল্লাহর বাণী: كَذَّبني ابنُ آدَمَ وشَتَمَني ابنُ آدمَ
যুগকে গালি দেওয়া হারাম
অহংকার হারাম
যুলুম হারাম
জীবের ছবি অঙ্কন করা হারাম ও চিত্রকরোদের প্রতি কঠোর হুশিয়ারি
ঝগড়াকারীদের শাস্তি

জ্বর ও রোগ-ব্যাধি কাফ্‌ফারা
বান্দা অসুস্থ হলে তার জন্য সেরূপ আমল লেখা হয় যেরূপ সে সুস্থ অবস্থায় করত
চোখের দৃষ্টি হারানোর পর ধৈর্যধারণকারী ও সাওয়াবের আশা পোষণকারীর জন্য জান্নাত
অভাবের ফযীলত
আত্মহত্যা থেকে হুশিয়ারি
অন্যায়ভাবে হত্যাকারীর পাপ
পিপড়া হত্যার নিষেধাজ্ঞা

তাকদির অধ্যায়
মান্নত অধ্যায়

কিয়ামতের বড় আলামত
দজ্জালের ফিতনা
আল্লাহর প্রশংসামূলক কতক বাক্যের ফযীলত

হাদীসে কুদসী ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার জন্য এবং দুরূদ ও সালাম আল্লাহর রাসূল, তার পরিবারবর্গ, তার সাথী ও তার সকল অনুসারীদের ওপর। অতঃপর,

“সহীহ হাদীসে কুদসী” গ্রন্থটি আমার নিকট বিশুদ্ধ প্রমাণিত হাদীসে কুদসীর বিশেষ সংকলন। এখানে আমি সনদ ও ব্যাখ্যা ছাড়া হাদীসে কুদসীগুলো উপস্থাপন করেছি। হাদীসগুলো সূত্রসহ উল্লেখ করে হুকুম ও শব্দের জরুরী অর্থ বর্ণনা করে ক্ষান্ত হয়েছি। আল্লাহ আমার এ আমল কবুল করুন এবং এর দ্বারা সকল মুসলিমকে উপকৃত করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব হাদীস আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করে বর্ণনা করেছেন আলিমগণ সেগুলোকে “হাদীসে কুদসী” নামে অভিহিত করেছেন। আল্লাহর নাম “কুদ্দুস” এর সাথে সম্পর্কযুক্ত করে এসব হাদীসকে ‘কুদসী’ বলা হয়। (‘কুদ্দুস’ অর্থ পবিত্র ও পুণ্যবান।)

“ হাদীসে কুদসী ” ও কুরআনুল কারীমের মধ্যে পার্থক্য:

১. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট জিবরীল আলাইহিস সালাম কুরআনুল কারীম নিয়ে অবতরণ করেছেন, কিন্তু হাদীসে কুদসী তিনি লাভ করেছেন কখনো জিবরীল, কখনো এলহাম, কখনো অন্য মাধ্যমে।

২. সম্পূর্ণ কুরআন মুতাওয়াতির সনদে বর্ণিত, কিন্তু হাদীসে কুদসী অনুরূপ নয়।

৩. কুরআনুল কারীমে ভুল অনুপ্রবেশ করতে পারে না, কিন্তু হাদীসে কুদসীতে কখনো কোনো বর্ণনাকারী ধারণার বশবর্তী হয়ে বর্ণনা করার সময় ভুল করতে পারে।

৪. সালাতে কুরআনুল কারীম তিলাওয়াত করতে হয়, কিন্তু হাদীস কুদসী তিলাওয়াত করা বৈধ নয়।

৫. কুরআনুল কারীম সূরা, আয়াত, পারা ও অংশ ইত্যাদিতে বিভক্ত, কিন্তু হাদীসে কুদসী অনুরূপ নয়।

৬. কুরআনুল কারীম তিলাওয়াত করলে সাওয়াব রয়েছে, কিন্তু হাদীসে কুদসীতে অনুরূপ ফযীলত নেই।

৭. কুরআনুল কারীম কিয়ামত পর্যন্ত সর্বকালের জন্য মু‘জিযা।

৮. কুরাআনুল কারীম অস্বীকারকারী কাফির, কিন্তু হাদীসে কুদসী অস্বীকারকারী অনুরূপ নয়। (কারণ, তার মনে হতে পারে যে, এটি দুর্বল)।

৯. হাদীসে কুদসী র শুধু ভাব বর্ণনা করা বৈধ, কিন্তু কুরআনুল কারীমের ভাবকে কুরআন হিসেবে বর্ণনা করা বৈধ নয়; অনুরূপভাবে কুরআনের অর্থের তিলাওয়াতও বৈধ নয়।

এ হচ্ছে কুরআন ও হাদীসে কুদসী র মধ্যে মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ কতক পার্থক্য, এ ছাড়া উভয়ের আরো কিছু পার্থক্য রয়েছে।

আর সালাত ও সালাম আমাদের নবী, তার পরিবার ও তার সকল সাথীদের ওপর।

আবু আব্দুল্লাহ মুস্তফা ইবন আল-আদাভি

মিসর, দিকহিলিয়াহ, মুনিয়া সামনুদ

১. অনুচ্ছেদঃ পাপ-পুণ্য লিখার নিয়ম ও আল্লাহর অনুগ্রহ

হাদীস কুদসিঃ ১ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ বলেনঃ আমার বান্দা যখন কোন পাপ করার ইচ্ছা করে, তখন তোমরা তা লিখ না যতক্ষণ না সে তা করে। যদি সে তা করে সমান পাপ লিখ। আর যদি সে তা আমার কারণে ত্যাগ করে, তাহলে তার জন্য তা নেকি হিসেবে লিখ । আর যদি সে নেকি করার ইচ্ছা করে কিন্তু সে তা করেনি, তার জন্য তা নেকি হিসেবে লিখ। অতঃপর যদি সে তা করে তাহলে তার জন্য তা দশগুণ থেকে সাতশো গুণ পর্যন্ত লিখ”।

(সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম) হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ বলেনঃ আমার বান্দা যখন নেকি করার ইচ্ছা করে আমি তার জন্য একটি নেকি লিখি যতক্ষণ সে না করে, যখন সে করে আমি তার দশগুণ লিখি। আর যখন সে পাপ করার ইচ্ছা করে আমি তার জন্য তা ক্ষমা করি যতক্ষণ সে না করে, অতঃপর যখন সে তা করে তখন আমি তার সমান লিখি”। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেনঃ “ফেরেশতারা বলেঃ হে আমার রব আপনার এ বান্দা পাপ করার ইচ্ছা করে, -যদিও আল্লাহ তাকে বেশী জানেন- তিনি বলেনঃ তাকে পর্যবেক্ষণ কর যদি সে করে তার জন্য সমান পাপ লিখ, যদি সে ত্যাগ করে তার জন্য তা নেকি লিখ, কারণ আমার জন্যই সে তা ত্যাগ করেছে ।

(সহিহ মুসলিম) হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

২. অনুচ্ছেদঃ

আল্লাহ তাআলার বাণী: “আর তোমরা যদি প্রকাশ কর যা তোমাদের ‎অন্তরে রহিয়াছে অথবা গোপন কর, আল্লাহ সে ‎বিষয়ে তোমাদের হিসাব নেবেন”

হাদীসে কুদসী – ইব্‌ন আব্বাস (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ

যখন

وَإِن تُبۡدُواْ مَا فِيٓ أَنفُسِكُمۡ أَوۡ تُخۡفُوهُ يُحَاسِبۡكُم بِهِ ٱللَّهُۖ

“আর তোমরা যদি প্রকাশ কর যা তোমাদের ‎অন্তরে রহিয়াছে অথবা গোপন কর, আল্লাহ সে ‎বিষয়ে তোমাদের হিসাব নেবেন” (সূরা বাকারাদিআল্লাহু আঃ ২৮৬)‎- এ আয়াত নাযিল হলো, ইব্‌ন আব্বাস বলেন, তখন তাহাদের (সাহাবিদের) অন্তরে কিছু প্রবেশ করিল যা পূর্বে তাহাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেনঃ “তোমরা বলঃ শুনিয়াছি, আনুগত্য করেছি ও মেনে নিয়েছি”। তিনি বলেনঃ ফলে আল্লাহ তাহাদের অন্তরে ঈমান ঢেলে দিলেন এবং তিনি নাযিল করলেনঃ

لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفۡسًا إِلَّا وُسۡعَهَاۚ لَهَا مَا كَسَبَتۡ وَعَلَيۡهَا مَا ٱكۡتَسَبَتۡۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذۡنَآ إِن نَّسِينَآ أَوۡ أَخۡطَأۡنَاۚ

“আল্লাহ কোন ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে ‎‎দায়িত্ব দেন না। সে যা অর্জন করে তা তার ‎জন্যই এবং সে যা কামাই করে তা তার ‎উপরই বর্তাবে। হে আমাদের রব! আমরা ‎যদি ভুলে যাই, অথবা ভুল করি তাহলে ‎আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না”। নবী (সাঃআঃ) বলেনঃ “আল্লাহ বলেছেনঃ আমি কবুল করেছি”।

وَلَا تَحۡمِلۡ عَلَيۡنَآ إِصۡرٗا كَمَا حَمَلۡتَهُۥ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِنَاۚ

“হে ‎আমাদের রব, আমাদের উপর বোঝা চাপিয়ে ‎‎দেবেন না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ‎চাপিয়ে দিয়েছেন”। নবী (সাঃআঃ) বলেনঃ “আল্লাহ বলেছেনঃ আমি কবুল করেছি”।

وَٱغۡفِرۡ لَنَا وَٱرۡحَمۡنَآۚ أَنتَ مَوۡلَىٰنَا

“আর আপনি আমাদেরকে ‎‎ক্ষমা করুন, আর আমাদের উপর দয়া করুন। ‎আপনি আমাদের অভিভাবক”। নবী (সাঃআঃ) বলেনঃ “আল্লাহ বলেছেনঃ আমি কবুল করেছি”। (সূরা বাকারাদিআল্লাহু আঃ (২৮৬))

(সহিহ মুসলিম) হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী: ৪ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ

যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর নাযিল হলঃ

لِّلَّهِ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۗ وَإِن تُبۡدُواْ مَا فِيٓ أَنفُسِكُمۡ أَوۡ تُخۡفُوهُ يُحَاسِبۡكُم بِهِ ٱللَّهُۖ فَيَغۡفِرُ لِمَن يَشَآءُ وَيُعَذِّبُ مَن يَشَآءُۗ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٌ ٢٨٤ ﴾ (البقرة: ٢٨٤)

“আল্লাহর জন্যই যা রহিয়াছে আসমানসমূহে এবং ‎যা রহিয়াছে যমীনে। আর তোমরা যদি প্রকাশ ‎কর যা তোমাদের অন্তরে রহিয়াছে অথবা ‎‎গোপন কর, আল্লাহ সে বিষয়ে তোমাদের ‎হিসাব নেবেন। অতঃপর তিনি যাকে চান ক্ষমা ‎করবেন, আর যাকে চান আযাব দেবেন। আর ‎আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান” (সূরা বাকারাদিআল্লাহু আঃ ২৮৪)‎ তিনি বলেনঃ এ আয়াত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথীদের ওপর কঠিন ঠেকল, তারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসল, অতঃপর হাঁটু গেড়ে বসল। তারা বলিলঃ হে আল্লাহর রাসূল? আমাদেরকে কতক আমলের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে যা আমরা সাধ্য রাখিঃ সালাত, সিয়াম, জিহাদ ও সদকা; কিন্তু আপনার ওপর এ আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে অথচ আমরা তার সাধ্য রাখি না! রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেনঃ “তোমরা কি সেরূপ বলিতে চাও তোমাদের পূর্বে কিতাবওয়ালা দুটি দল (ইয়াহূদী ও নাসারারা) যেরূপ বলেছেঃ শুনলাম ও প্রত্যাখ্যান করলাম? বরং তোমরা বলঃ “আমরা শুনলাম এবং মানলাম। হে আমাদের ‎রব! আমরা আপনারই ক্ষমা প্রার্থনা করি, আর ‎আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল”। ‎তারা বলিলঃ আমরা শুনলাম, মেনে নিলাম, হে আমাদের রব আপনার ক্ষমা চাই, আপনার নিকটই আমাদের প্রত্যাবর্তনস্থল। যখন সকলে তা পড়ল, তাহাদের জবান দ্বিধাহীন তা উচ্চারণ করিল। আল্লাহ তাআলা তার পশ্চাতে নাযিল করলেনঃ

ءَامَنَ ٱلرَّسُولُ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيۡهِ مِن رَّبِّهِۦ وَٱلۡمُؤۡمِنُونَۚ كُلٌّ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَمَلَٰٓئِكَتِهِۦ وَكُتُبِهِۦ وَرُسُلِهِۦ لَا نُفَرِّقُ بَيۡنَ أَحَدٖ مِّن رُّسُلِهِۦۚ وَقَالُواْ سَمِعۡنَا وَأَطَعۡنَاۖ غُفۡرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيۡكَ ٱلۡمَصِيرُ ٢٨٥﴾ (البقرة: ٢٨٥)

“রাসূল তার নিকট তার রবের পক্ষ থেকে ‎নাযিলকৃত বিষয়ের প্রতি ঈমান এনেছে, আর ‎মুমিনগণও। প্রত্যেকে ঈমান এনেছে আল্লাহর ‎উপর, তাহাঁর ফেরেশতাকুল, কিতাবসমূহ ও তাহাঁর ‎রাসূলগণের উপর, আমরা তাহাঁর রাসূলগণের ‎কারও মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা ‎বলে, আমরা শুনলাম এবং মানলাম। হে ‎আমাদের রব! আমরা আপনারই ক্ষমা প্রার্থনা ‎করি, আর আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল” (সূরা বাকারাদিআল্লাহু আঃ ১৮৫) যখন তারা এর ওপর আমল করিল, আল্লাহ তা রহিত করিলেন, অতঃপর নাযিল করলেনঃ

لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفۡسًا إِلَّا وُسۡعَهَاۚ لَهَا مَا كَسَبَتۡ وَعَلَيۡهَا مَا ٱكۡتَسَبَتۡۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذۡنَآ إِن نَّسِينَآ أَوۡ أَخۡطَأۡنَاۚ

“আল্লাহ কোন ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যরে বাইরে ‎‎দায়িত্ব দেন না। সে যা অর্জন করে তা তার ‎জন্যই এবং সে যা কামাই করে তা তার ‎উপরই বর্তাবে। হে আমাদের রব! আমরা ‎যদি ভুলে যাই, অথবা ভুল করি তাহলে ‎আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না”। তিনি বলেনঃ হ্যাঁ।

رَبَّنَا وَلَا تَحۡمِلۡ عَلَيۡنَآ إِصۡرٗا كَمَا حَمَلۡتَهُۥ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِنَاۚ

“হে ‎আমাদের রব, আমাদের উপর বোঝা চাপিয়ে ‎‎দেবেন না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ‎চাপিয়ে দিয়েছেন”। তিনি বলেনঃ হ্যাঁ।

رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلۡنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِۦۖ

“হে আমাদের রব, আপনি ‎আমাদেরকে এমন কিছু বহন করাবেন না, যার ‎সামর্থ্য আমাদের নেই”। তিনি বলেনঃ হ্যাঁ।

وَٱعۡفُ عَنَّا وَٱغۡفِرۡ لَنَا وَٱرۡحَمۡنَآۚ أَنتَ مَوۡلَىٰنَا فَٱنصُرۡنَا عَلَى ٱلۡقَوۡمِ ٱلۡكَٰفِرِينَ

“আর আপনি ‎আমাদেরকে মার্জনা করুন এবং আমাদেরকে ‎‎ক্ষমা করুন, আর আমাদের উপর দয়া করুন। ‎আপনি আমাদের অভিভাবক। অতএব আপনি ‎কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে ‎সাহায্য করুন”।‎ তিনি বলেনঃ হ্যাঁ।

(সহিহ মুসলিম) হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৩. অনুচ্ছেদঃ যার নিয়ত নষ্ট তার জন্য জাহান্নাম

হাদীসঃ ৫ -আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)কে বলিতে শুনেছিঃ “নিশ্চয় সর্বপ্রথম ব্যক্তি কিয়ামতের দিন যার ওপর ফয়সালা করা হইবে, সে ব্যক্তি যে শহীদ হয়েছিল। তাকে আনা হইবে, অতঃপর তাকে তার (আল্লাহর) নিয়ামতরাজি জানানো হইবে, সে তা স্বীকার করিবে। তিনি বলবেনঃ তুমি এতে কি আমল করেছ? সে বলবেঃ আপনার জন্য জিহাদ করে এমনকি শহীদ হয়েছি। তিনি বলবেনঃ মিথ্যা বলেছ, তবে তুমি এ জন্য জিহাদ করেছ যেন বলা হয়ঃ বীর, অতএব বলা হয়েছে। অতঃপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হইবে, তাকে তার চেহারার ওপর ভর করে টেনে-হিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হইবে। আরও এক ব্যক্তি যে ইলম শিখেছে, শিক্ষা দিয়েছে ও কুরআন তিলাওয়াত করেছে, তাকে আনা হইবে। অতঃপর তাকে তার নিয়ামতরাজি জানানো হইবে, সে তা স্বীকার করিবে। তিনি বলবেনঃ তুমি এতে কি আমল করেছ? সে বলবেঃ আমি ইলম শিখেছি, শিক্ষা দিয়েছি ও আপনার জন্য কুরআন তিলাওয়াত করেছি। তিনি বলবেনঃ মিথ্যা বলেছ, তবে তুমি ইলম শিক্ষা করেছ যেন বলা হয়ঃ আলেম, কুরআন তিলাওয়াত করেছ যেন বলা হয়ঃ সে কারী, অতএব বলা হয়েছে। অতঃপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হইবে, তাকে চেহারার ওপর ভর করে টেনে-হিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হইবে। আরও এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সচ্ছলতা দিয়েছেন ও সকল প্রকার সম্পদ দান করিয়াছেন, তাকে আনা হইবে। তাকে তার নিয়ামতরাজি জানানো হইবে, সে তা স্বীকার করিবে। তিনি বলবেনঃ তুমি এতে কি আমল করেছ? সে বলবেঃ এমন খাত নেই যেখানে খরচ করা আপনি পছন্দ করেন আমি তাতে আপনার জন্য খরচ করি নাই। তিনি বলবেনঃ মিথ্যা বলেছ, তবে তুমি করেছ যেন বলা হয়ঃ সে দানশীল, অতএব বলা হয়েছে, অতঃপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হইবে, তাকে তার চেহারার ওপর ভর করে টেনে-হিঁচড়ে অতঃপর জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হইবে”।

(সহিহ মুসলিম ও নাসায়ি) হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৪. অনুচ্ছেদঃ শির্কের ভয়াবহতা

হাদীসঃ ৬ -আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ “রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআলা বলেনঃ শরীকদের মধ্যে অংশীদারির অংশ (শির্ক) থেকে আমিই অধিক অমুখাপেক্ষী, যে কেউ এমন আমল করিল যাতে আমার সাথে অপরকে শরিক করেছে, আমি তাকে ও তার শির্ককে প্রত্যাখ্যান করি”। 

(সহিহ মুসলিম) হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান হাদিস

হাদীসে কুদসী: – মাহমুদ ইব্‌ন লাবিদ (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আমি তোমাদের ওপর যা ভয় করি তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর হচ্ছে শির্কে আসগর (ছোট শির্ক)। তারা বলিলঃ হে আল্লাহর রাসূল শির্কে আসগর কি? তিনি বললেনঃ “রিয়া (লোক দেখানো আমল), আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তাহাদেরকে (রিয়াকারীদের) বলবেন, যখন মানুষকে তাহাদের আমলের বিনিময় দেয়া হবেঃ তোমরা তাহাদের কাছে যাও যাদেরকে তোমরা দুনিয়াতে দেখাতে, দেখ তাহাদের কাছে কোন প্রতিদান পাও কিনা”।

(মুসনাদে আহমদ) হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসঃ ৮ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “কিয়ামতের দিন ইবরাহিম তার পিতা আযরের সাথে দেখা করিবে, তার চেহারার ওপর থাকিবে বিষণ্ণতা ও ধুলো-বালি (অবসাদ)। ইবরাহিম তাকে বলবেঃ আমি কি তোমাকে বলিনি আমার অবাধ্য হয়ো না? অতঃপর তার পিতা তাকে বলবেঃ আজ তোমার অবাধ্য হব না। অতঃপর ইবরাহিম বলবেঃ হে আমার রব, আপনি আমাকে ওয়াদা দিয়েছেন যেদিন উঠানো হইবে আমাকে অসম্মান করবেন না, আমার পতিত পিতার অপমানের চেয়ে বড় অপমান কি! অতঃপর আল্লাহ বলবেনঃ নিশ্চয় আমি কাফেরদের ওপর জান্নাত হারাম করে দিয়েছি। অতঃপর বলা হবেঃ হে ইবরাহিম তোমার পায়ের নিচে কি? সে দেখবে তার পিতা আচমকা রক্ত-ময়লায় নিমজ্জিত হায়েনায় পরিণত হয়েছে, তখন তার পা পাকড়াও করে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হইবে”।

(সহিহ বুখারি) হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৫. অনুচ্ছেদঃ দুনিয়া ভর স্বর্ণ দ্বারা কাফেরের মুক্তি কামনা

হাদীসে কুদসী -আনাস ইব্‌ন মালেক (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআলা জাহান্নামীদের সবচেয়ে হালকা আযাবের ব্যক্তিকে কিয়ামতের দিন বলবেনঃ তোমার জন্য যদি দুনিয়াতে যা রহিয়াছে সব হয় তুমি কি তা মুক্তিপণ হিসেবে দিবে? সে বলবেঃ হ্যাঁ, তিনি বলবেনঃ আমি তোমার কাছে এরচেয়ে কম চেয়েছিলাম যখন তুমি আদমের ঔরসে ছিলেঃ আমার সাথে কোন বস্তুকে অংশীদার করিবে না, কিন্তু তুমি আমার সাথে অংশীদার না করে ক্ষান্ত হওনি”।

(সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম) হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৬. অনুচ্ছেদঃ অমুক নক্ষত্রের কারণে বৃষ্টি পেয়েছি বলা কুফরি

হাদীসঃ ১০ -যায়েদ ইব্‌ন খালেদ আল-জুহানি (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ 

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) আমাদের নিয়ে হুদায়বিয়ায় ফজর সালাত আদায় করিলেন রাতের বৃষ্টি শেষে, যখন সালাত শেষ করিলেন লোকদের দিকে ফিরলেন এবং বললেনঃ “তোমরা কি জান তোমাদের রব কি বলেছেন?” তারা বলিলঃ আল্লাহ ও তার রাসূল ভালো জানেন। তিনি বলেছেনঃ “আমার কতক বান্দা ভোর করেছে আমার ওপর ঈমান অবস্থায়, আর কতক বান্দা ভোর করেছে আমার সাথে কুফরি অবস্থায়। অতএব যে বলেছেঃ আমরা আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়ায় বৃষ্টি লাভ করেছি, সে আমার ওপর বিশ্বাসী ও নক্ষত্রের (প্রভাব) অস্বীকারকারী। আর যে বলেছেঃ অমুক অমুক নক্ষত্রের কারণে, সে আমাকে অস্বীকারকারী ও নক্ষত্রে বিশ্বাসী”।

(সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, সুনান আবু দাউদও নাসায়ি) অর্থাৎ সে রাতে বৃষ্টি হয়েছিল। হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী১১ -আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেনঃ “তোমরা কি লক্ষ্য কর না তোমাদের রব কি বলেছেন? তিনি বলেছেনঃ আমি আমার বান্দাদের যখনই কোন নিয়ামত দেই, তখনই এ ব্যাপারে তাহাদের একটি দল অকৃতজ্ঞ (কাফের) হয়েছে। তারা বলেঃ নক্ষত্রই এবং নক্ষত্রের কারণে (তারা তা প্রাপ্ত হয়েছে)”।

(সহিহ মুসলিম ও নাসায়ি) হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৭. অনুচ্ছেদঃ তাওহীদের ফযিলত

হাদীসঃ ১২ -আবু যর (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ বলেনঃ যে একটি নেকি নিয়ে আসবে তার জন্য তার দশগুণ এবং আমি আরও বেশি বৃদ্ধি করব। যে একটি পাপ নিয়ে আসবে তার বিনিময় সমান একটি পাপ অথবা আমি ক্ষমা করব। যে এক বিঘত আমার নিকটবর্তী হইবে আমি একহাত তার নিকটবর্তী হব। যে এক হাত আমার নিকটবর্তী হইবে আমি তার এক বাহু নিকটবর্তী হব। যে আমার নিকট হেঁটে আসবে আমি তার নিকট দ্রুত যাব। যে দুনিয়া ভর্তি পাপসহ আমার সাথে সাক্ষাত করে, আমার সাথে কাউকে শরিক না করে, আমি তার সাথে অনুরূপ ক্ষমাসহ সাক্ষাত করব”।

(সহিহ মুসলিম, মুসনাদে আহমদ ওইবনু মাজাহ) হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসঃ ১৩ -আবু সায়িদ খুদরি (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “দাবি নিয়ে দুনিয়াতে তোমাদের যেমন ঝগড়া হয়, তা মুমিনগণ কর্তৃক তাহাদের ভাইদের সম্পর্কে যাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করানো হয়েছে, তাহাদের রবের সাথে ঝগড়ার চেয়ে অধিক কঠিন নয়। তিনি বলেনঃ তারা বলবেঃ হে আমাদের রব, আমাদের ভাইয়েরা আমাদের সাথে সালাত আদায় করত, আমাদের সাথে সিয়াম পালন করত ও আমাদের সাথে হজ করত, কিন্তু আপনি তাহাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করিয়েছেন। তিনি বলেনঃ আল্লাহ বলবেনঃ যাও তাহাদের থেকে যাকে তোমরা চিনো তাকে বের কর। তিনি বলেনঃ তাহাদের নিকট তারা আসবে, তাহাদের চেহারা দেখে তাহাদেরকে তারা চিনবে, তাহাদের কাউকে আগুন পায়ের গোছার অর্ধেক খেয়ে ফেলেছে। কাউকে পায়ের টাকনু পর্যন্ত খেয়ে ফেলেছে, তাহাদেরকে তারা বের করিবে অতঃপর বলবেঃ হে আমাদের রব, যাদের সম্পর্কে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন আমরা বের করেছি। তিনি বলেনঃ আল্লাহ বলবেনঃ বের কর যার অন্তরে এক দিনার পরিমাণ ঈমান রহিয়াছে। অতঃপর বলবেনঃ যার অন্তরে অর্ধেক দিনার পরিমাণ ঈমান রহিয়াছে। এক সময় বলবেনঃ যার অন্তরে বিন্দু পরিমাণ ঈমান রহিয়াছে”।

(নাসায়ি ওইবনু মাজাহ) হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৮. অনুচ্ছেদঃ আহলে তাওহীদকে জাহান্নাম থেকে বের করা

হাদীসঃ ১৪ -আবু সায়িদ খুদরি (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “জান্নাতিরা জান্নাতে ও জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করিবে, অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলবেনঃ বের কর যার অন্তরে সর্ষে পরিমাণ ঈমান রহিয়াছে, ফলে তারা সেখান থেকে বের হইবে এমতাবস্থায় যে কালো হয়ে গেছে, অতঃপর তাহাদেরকে বৃষ্টির নহর অথবা সঞ্জীবনী নহরে নিক্ষেপ করা হইবে, ফলে তারা নতুন জীবন লাভ করিবে যেমন নালার কিনারায় ঘাস জন্মায়। তুমি দেখনি তা হলুদ আঁকাবাঁকা গজায়?”।

(সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম) হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৯. অনুচ্ছেদঃ বেতাকার হাদিস ও লাইলাহা ইল্লাল্লাহুর ফযিলত

হাদীসঃ ১৫ -আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আমর ইব্‌ন আস (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা আমার উম্মতের এক ব্যক্তিকে সবার সামনে নাজাত দিবেন, তার সামনে নিরানব্বইটি দফতর খোলা হইবে, প্রত্যেক দফতর চোখের দৃষ্টি পরিমাণ লম্বা। অতঃপর তিনি বলবেনঃ তুমি এর কিছু অস্বীকার কর? আমার সংরক্ষণকারী লেখকরা তোমার ওপর যুলম করেছে? সে বলবেঃ না, হে আমার রব। তিনি বলবেনঃ তোমার কোন অজুহাত আছে? সে বলবেঃ না, হে আমার রব। তিনি বলবেনঃ নিশ্চয় আমার নিকট তোমার একটি নেকি রহিয়াছে, আজ তোমার ওপর কোন যুলম নেই, অতঃপর একটি বেতাকা/কার্ড বের হইবে, যাতে রয়েছেঃ

أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.

তিনি বলবেনঃ তোমার (কাজের) ওজন প্রত্যক্ষ কর। সে বলবেঃ হে আমার রব এতগুলো দফতরের সাথে একটি কার্ড কি (কাজে আসবে)? তিনি বলবেনঃ নিশ্চয় তোমার ওপর যুলম করা হইবে না। তিনি বলেনঃ অতঃপর সবগুলো দফতর এক পাল্লায় ও কার্ডটি অপর পাল্লায় রাখা হইবে, ফলে দফতরগুলো ওপরে উঠে যাবে ও কার্ডটি ভারী হইবে। আল্লাহর নামের বিপরীতে কোন জিনিস ভারী হইবে না”।

(সুনান তিরমিযি, মুসনাদে আহমদ ওইবনু মাজাহ) হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

১০. অনুচ্ছেদঃ আল্লাহর রহমতের প্রশস্ততা

হাদীসঃ ১৬ -আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “আমার রহমত আমার গোস্বাকে অতিক্রম করেছে”।

(সহিহ মুসলিম) হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

১১. অনুচ্ছেদঃ আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশকারীদের প্রতি হুশিয়ারি

হাদীসঃ ১৭ -আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)কে বলিতে শুনেছিঃ “বনি ইসরাইলে দুই বন্ধু ছিল। তাহাদের একজন পাপ করত, দ্বিতীয়জন খুব ইবাদত গুজার ছিল। ইবাদত গুজার তার বন্ধুকে সর্বদা পাপে লিপ্ত দেখত, তাই সে বলত বিরত হও, একদিন সে তাকে কোন পাপে লিপ্ত দেখে বলেঃ বিরত হও। সে বলিলঃ আমাকে ও আমার রবকে থাকতে দাও, তোমাকে কি আমার ওপর পর্যবেক্ষক করে পাঠানো হয়েছে? ফলে সে বলিলঃ আল্লাহর কসম আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করবেন না, অথবা তোমাকে আল্লাহ জান্নাতে প্রবেশ করাবেন না। অতঃপর তাহাদের উভয়ের রূহ কবজ করা হল এবং তারা উভয়ে আল্লাহর দরবারে একত্র হল। তিনি ইবাদত গুজারকে বলেনঃ তুমি কি আমার ব্যাপারে অবগত ছিলে? অথবা আমার হাতে যা রহিয়াছে তার ওপর তুমি ক্ষমতাবান ছিলে? আর পাপীকে তিনি বলেনঃ যাও আমার রহমতে তুমি জান্নাতে প্রবেশ কর। আর অপর ব্যক্তির জন্য বলেনঃ তাকে নিয়ে জাহান্নামে যাও

(আবু দাউদ) হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান হাদিস

হাদীসঃ ১৮ -জুনদুব (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “জনৈক ব্যক্তি বলেছে আল্লাহর কসম আল্লাহ অমুককে ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ তাআলা বললেনঃ কে সে আমার ওপর কর্তৃত্ব করে যে, আমি অমুককে ক্ষমা করব না? আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম আর তোমার আমল বিনষ্ট করলাম ”। অথবা যেরূপ তিনি বলেছেন।

(সহিহ মুসলিম) হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী১৯ -আবু সায়িদ খুদরি (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “বনি ইসরাইলে এক লোক ছিল যে নিরানব্বই জন ব্যক্তিকে হত্যা করেছে, অতঃপর জানার জন্য বের হল, এক সংসারবিরাগীর নিকট আসল, তাকে জিজ্ঞাসা করিল ও তাকে বলিলঃ কোন তওবা আছে কি? সে বলিলঃ না, ফলে তাকেও হত্যা করিল। অতঃপর সে লোকদের জিজ্ঞেস করতে থাকল, তখন এক ব্যক্তি তাকে বলিলঃ তুমি অমুক অমুক গ্রামে আস, (রাস্তায়) তাকে মৃত্যু পেয়ে বসল, সে বক্ষ দ্বারা ঐ গ্রামের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করিল। তার ব্যাপারে রহমত ও আযাবের ফেরেশতাগণ তর্কে লিপ্ত হল। আল্লাহ তাআলা এ জনপদকে নির্দেশ করিলেন যে, নিকটবর্তী হও, আর এ জনপদকে নির্দেশ করিলেন যে, দূরবর্তী হও। অতঃপর আল্লাহ বললেনঃ উভয় জনপদের দূরত্ব পরিমাপ কর। দেখা গেল এ জনপদের দিকে সে এক বিঘত বেশী অগ্রসর, তাই তাকে ক্ষমা করে দেয়া হল”।

(সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম) হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

১২. অনুচ্ছেদঃ মানুষ ধ্বংস হয়ে গেছে বলা নিষেধ

হাদীসঃ ২০ -আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “যখন তোমরা কোন ব্যক্তিকে বলিতে শোনঃ মানুষ ধ্বংস হয়ে গেছে, তাহলে সেই অধিক ধ্বংসপ্রাপ্ত। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ নিশ্চয় সে ধ্বংসপ্রাপ্ত”।

(মুসনাদে আহমদ) হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান হাদিস

১৩. অনুচ্ছেদঃ আল্লাহর ভয়ের ফযিলত

হাদীসঃ ২১ -হুযায়ফা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “তোমাদের পূর্বে এক ব্যক্তি ছিল, সে তার নিজের (যে সকল খারাপ কাজ করেছে সে সকল) আমলের ব্যাপারে খারাপ ধারণা পোষণ করত (যে তাকে কঠোর শাস্তি পেতে হইবে), তাই সে তার পরিবারকে বলিলঃ আমি যখন মারা যাব আমাকে গ্রহণ করিবে, (এবং আমাকে পুড়িয়ে ছাই করে নিবে) অতঃপর প্রবল ঝড়ের দিন আমাকে সমুদ্রে ছিটিয়ে দিবে, তারা তার সাথে অনুরূপ করিল। আল্লাহ তাকে (মৃত্যুর পর) একত্র করিলেন, অতঃপর বললেনঃ কিসে তোমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে যা তুমি করেছে? সে বলিলঃ তোমার ভয় ব্যতীত কোন বস্তু আমাকে উদ্বুদ্ধ করে নি, ফলে তিনি তাকে ক্ষমা করে দেন”।

(সহিহ বুখারি ও নাসায়ি) হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসঃ ২২ -আবু সায়িদ (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি নবী (সাঃআঃ) থেকে বর্ণনা করেনঃ “তিনি পূর্বের জনৈক ব্যক্তির উল্লেখ করিলেন- অথবা তোমাদের পূর্বের- তিনি একটি বাক্য বলিলেন অর্থাৎ আল্লাহ তাকে সম্পদ ও সন্তান দান করিয়াছেন, যখন তার মৃত্যু উপস্থিত হল সে তার সন্তানদের বলিলঃ আমি তোমাদের কেমন পিতা ছিলাম? তারা বলিলঃ উত্তম পিতা। সে বলিলঃ সে তো আল্লাহর নিকট কোন কল্যাণ জমা করেনি, আল্লাহ যদি তাকে পান  অবশ্যই শাস্তি দিবেন। তোমরা এক কাজ কর, আমি যখন মারা যাব আমাকে জ্বালাও, যখন আমি কয়লায় পরিণত হব আমাকে পিষ অথবা বলেছেন চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেল, অতঃপর যখন প্রচণ্ড ঝড়ের দিন হইবে আমাকে তাতে ছিটিয়ে দাও”। নবী (সাঃআঃ) বলেনঃ সে এ জন্য তাহাদের থেকে ওয়াদা নিলো, আমার রবের কসম, তারা তাই করিল, অতঃপর প্রচণ্ড ঝড়ের দিন ছিটিয়ে দিল। অতঃপর আল্লাহ তাআলা বললেনঃ কুন’ (হও), ফলে সে দণ্ডায়মান ব্যক্তিতে পরিণত হল। আল্লাহ বললেনঃ হে আমার বান্দা কিসে তোমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে, যে তুমি করেছ যা করার? সে বলিলঃ তোমার ভয়- অথবা তোমার থেকে পলায়নের জন্য- তিনি বললেনঃ আল্লাহর দয়া ব্যতীত তার অন্য কিছু তাকে উদ্ধার করে নি। আরেকবার বলেনঃ রহম ব্যতীত অন্য কিছু তার নসিব হয়নি”।

(সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম) হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসঃ ২৩ -আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “জনৈক ব্যক্তি যে কখনো ভাল কাজ করেনি বলেছেঃ যখন সে মারা যায়, তাকে জ্বালাও, অতঃপর তার অর্ধেক স্থলে ও অর্ধেক সমুদ্রে ছিটিয়ে দাও, আল্লাহর কসম, যদি আল্লাহ তার নাগাল পান তাহলে তিনি এমন শাস্তি দিবেন, যা জগতের কাউকে দিবেন না। অতঃপর আল্লাহ সমুদ্রকে নির্দেশ করিলেন, ফলে সে তার মধ্যে যা ছিল জমা করিল, এবং স্থলকে নির্দেশ করিলেন ফলে সে তার মধ্যে যা ছিল জমা করিল। অতঃপর বললেনঃ তুমি কেন করেছ? সে বলিলঃ তোমার ভয়ে, তুমিই ভাল জান। ফলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন”।

(সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম ও নাসায়ি) হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

১৪. অনুচ্ছেদঃ যিকিরের ফযিলত ও নেক আমল দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা

হাদীসঃ ২৪ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআলা বলেনঃ আমার সম্পর্কে আমার বান্দার ধারণা মোতাবেক আমি। আমি তার সাথে থাকি  যখন সে আমাকে স্মরণ করে। যদি সে আমাকে তার অন্তরে স্মরণ করে আমি তাকে আমার অন্তরে স্মরণ করি। যদি সে আমাকে মজলিসে স্মরণ করে আমি তাকে তাহাদের চেয়ে উত্তম মজলিসে স্মরণ করি। যদি সে আমার নিকট এক বিঘত অগ্রসর হয় আমি তার নিকট একহাত অগ্রসর হই, যদি সে আমার নিকট একহাত অগ্রসর হয় আমি তার নিকট একবাহু অগ্রসর হই। যদি সে আমার নিকট আসে হেঁটে আমি তার নিকট যাই দ্রুত”।

(সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, সুনান তিরমিযি ওইবনু মাজাহ) হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসঃ ২৫ -আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেনঃ “আল্লাহ বলেছেনঃ আমার বান্দা যখন এক বিঘত এগিয়ে আমার সাথে সাক্ষাত করে আমি তার সাথে সাক্ষাত করি একহাত এগিয়ে। যখন সে একহাত এগিয়ে আমার সাথে সাক্ষাত করে আমি একবাহু এগিয়ে তার সাথে সাক্ষাত করি। যখন সে আমার সাথে সাক্ষাত করে একবাহু এগিয়ে আমি তার নিকট আসি আরও দ্রুত পদক্ষেপে”।

(সহিহ মুসলিম) হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসঃ ২৬ -শুরাইহ্‌ রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবিদের এক ব্যক্তিকে বলিতে শুনেছিঃ নবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআলা বলেনঃ হে বনি আদম, তুমি আমার দিকে দাঁড়াও আমি তোমার দিকে চলব, তুমি আমার দিকে চল আমি তোমার দিকে দ্রুত পদক্ষেপে যাব”।

(মুসনাদে আহমদ) হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসঃ ২৭ – মাকাল ইব্‌ন ইয়াসার থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “তোমাদের রব বলেনঃ হে বনি আদম, তুমি আমার ইবাদতের জন্য মনোনিবেশ করো, আমি তোমার অন্তরকে সচ্ছলতায় ভরে দেব, তোমার হাত রিজিক দ্বারা পূর্ণ করে দেব। হে বনি আদম, তুমি আমার থেকে দূরে যেয়ো না, ফলে আমি তোমার অন্তর অভাবে পূর্ণ করে দেব এবং তোমার দু’ হাতকে কর্মব্যস্ত করে দেব”।

(হাকেম) হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ লিগাইরিহি

১৫. অনুচ্ছেদঃ যিকির ও নেককারদের সঙ্গের ফযিলত

হাদীসঃ ২৮ -আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহর কতক ফেরেশতা রহিয়াছে তারা যিকিরকারীদের তালাশে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে। যখন কোন কওমকে আল্লাহর যিকিরে মশগুল দেখে তারা একে অপরকে আহ্বান করেঃ তোমাদের লক্ষ্যের দিকে আস”। তিনি বলেনঃ “অতঃপর তাহাদেরকে তারা নিজেদের ডানা দ্বারা দুনিয়ার আসমান পর্যন্ত ঢেকে নেয়। তিনি বলেনঃ অতঃপর তাহাদের রব তাহাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, -অথচ তিনি তাহাদের চেয়ে অধিক জানেন- আমার বান্দাগণ কি বলে? ফেরেশতারা বলেঃ তারা আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছে, আপনার বড়ত্ব ঘোষণা করছে, আপনার প্রশংসা করছে ও আপনার মর্যাদা ঘোষণা করছে। তিনি বলেনঃ অতঃপর আল্লাহ বলেনঃ তারা কি আমাকে দেখেছে? তিনি বলেনঃ ফেরেশতারা বলেঃ না, আল্লাহর কসম, তারা আপনাকে দেখেনি। তিনি বলেনঃ অতঃপর আল্লাহ বলেনঃ যদি তারা আমাকে দেখত কেমন হত? তিনি বলেনঃ ফেরেশতারা বলেঃ যদি তারা আপনাকে দেখত তাহলে আরও কঠিন ইবাদত করত, অধিক মর্যাদা ও প্রশংসার ঘোষণা করত, অধিক তসবিহ পাঠ করত। তিনি বলেনঃ আল্লাহ বলেনঃ তারা আমার নিকট কি চায়? তিনি বলেনঃ ফেরেশতারা বলেঃ তারা আপনার নিকট জান্নাত চায়? তিনি বলেনঃ আল্লাহ বলেনঃ তারা কি জান্নাত দেখেছে? তিনি বলেনঃ ফেরেশতারা বলেঃ না, হে রব, তারা জান্নাত দেখে নি। তিনি বলেনঃ আল্লাহ বলেনঃ যদি তারা জান্নাত দেখত কেমন হত? তিনি বলেনঃ ফেরেশতারা বলেঃ যদি তারা জান্নাত দেখত তাহলে তার জন্য তারা আরো অধিক আগ্রহী হত, অধিক তলবকারী হত ও তার অধিক আশা পোষণ করত। তিনি বলেনঃ তারা কার থেকে পানাহ চায়? তিনি বলেনঃ ফেরেশতারা বলেঃ জাহান্নাম থেকে। তিনি বলেনঃ আল্লাহ বলেনঃ তারা কি জাহান্নাম দেখেছে? তিনি বলেনঃ ফেরেশতারা বলেঃ না, আল্লাহর কসম, হে রব তারা জাহান্নাম দেখেনি। তিনি বলেনঃ আল্লাহ বলেনঃ যদি তারা জাহান্নাম দেখত কেমন হত? তিনি বলেনঃ ফেরেশতারা বলেঃ যদি তারা জাহান্নাম দেখত তাহলে তার থেকে অধিক পলায়ন করত, তাকে অধিক ভয় করত। তিনি বলেনঃ আল্লাহ বলেনঃ তোমাদের সাক্ষী রাখছি আমি তাহাদেরকে ক্ষমা করে দিলাম। তিনি বলেনঃ তাহাদের এক ফেরেশতা বলেঃ তাহাদের মধ্যে অমুক রহিয়াছে যে তাহাদের দলের নয়, সে অন্য কাজে এসেছে। তিনি বলেনঃ তারা এমন জমাত যাদের কারণে তাহাদের সাথীরা মাহরুম হয় না”।

(সহিহ বুখারি) হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসঃ ২৯ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআলা বলেনঃ আমি আমার বান্দার সাথেই আছি যখন সে আমাকে স্মরণ করে ও তার দুই ঠোট নড়ে”। (মুসনাদে আহমদ,ইবনু মাজাহ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসঃ ৩০ – আবু হুরাইরা ও আবু সায়িদ (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তারা উভয়ে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)কে দেখেছেন, তিনি বলেছেনঃ “বান্দা যখন বলেঃ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ তিনি বলেনঃ আল্লাহ বলেনঃ আমার বান্দা ঠিক বলেছে, আমি ছাড়া কোন হক ইলাহ নেই, আমিই মহান। বান্দা যখন বলেঃ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ তিনি বলেনঃ আমার বান্দা ঠিক বলেছে, একলা আমি ছাড়া কোন হক ইলাহ নেই। বান্দা যখন বলেঃ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ لَا شَرِيكَ لَهُ তিনি বলেনঃ আমার বান্দা ঠিক বলেছে, আমি ছাড়া কোন হক ইলাহ নেই, আমার কোন শরীক নেই। বান্দা যখন বলেঃ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ তিনি বলেনঃ আমার বান্দা ঠিক বলেছে, আমি ছাড়া কোন হক ইলাহ নেই, রাজত্ব আমার, আমার জন্যই প্রশংসা। বান্দা যখন বলেঃ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ، তিনি বলেনঃ আমার বান্দা ঠিক বলেছে, আমি ছাড়া কোন হক ইলাহ নেই, আমার তৌফিক ব্যতীত পাপ থেকে বিরত থাকা ও ইবাদত করার ক্ষমতা নেই”। (ইব্‌ন মাজাহ, সুনান তিরমিযি, ইব্‌ন হুমাইদ ও ইব্‌ন হিব্বান)

শায়খ আলবানি হাদিসটি সহিহ বলেছেন। হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

১৬. অনুচ্ছেদঃ তওবা ও ইস্তেগফারের প্রতি উৎসাহ প্রদান করা

হাদীসঃ ৩১ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-কে শুনিয়াছি, তিনি বলেছেনঃ “কোন বান্দা পাপে লিপ্ত হল, অথবা বলেছেনঃ কোন পাপ করিল। অতঃপর বলেঃ হে আমার রব আমি পাপ করেছি, অথবা বলেঃ পাপে লিপ্ত হয়েছি আমাকে ক্ষমা করুন। তার রব বলেনঃ আমার বান্দা কি জানে তার রব রহিয়াছে, যিনি পাপ ক্ষমা করেন ও তার জন্য পাকড়াও করেন? আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম। অতঃপর আল্লাহ যে পরিমাণ চান সে বিরত থাকে। অতঃপর পাপে লিপ্ত হয় অথবা পাপ সংগঠিত করে, অতঃপর বলেঃ হে আমার রব, আমি দ্বিতীয় পাপ করেছি অথবা দ্বিতীয় পাপে লিপ্ত হয়েছি, আপনি তা ক্ষমা করুন। আল্লাহ বলেনঃ আমার বান্দা কি জানে তার রব রহিয়াছে, যিনি পাপ ক্ষমা করেন ও তার জন্য পাকড়াও করেন? আমার বান্দাকে আমি ক্ষমা করে দিলাম। অতঃপর আল্লাহ যে পরিমাণ চান সে বিরত থাকে। অতঃপর কোন পাপ করে অথবা বলেছেনঃ পাপে লিপ্ত হয়। তিনি বলেনঃ সে বলেঃ হে আমার রব আমি পাপ করেছি অথবা পাপে লিপ্ত হয়েছি আবারও, আপনি আমার জন্য তা ক্ষমা করুন। আল্লাহ বলেনঃ আমার বান্দা কি জানে তার রব রহিয়াছে, যিনি পাপ ক্ষমা করেন ও তার জন্য পাকড়াও করেন? আমি আমার বান্দাকে তিনবারই ক্ষমা করে দিলাম, সে যা চায় আমল করুক”। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস 

হাদীসঃ ৩২ – আবু সায়িদ খুদরি (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)কে বলিতে শুনেছিঃ “ইবলিস তার রবকে বলেছেঃ আপনার ইজ্জত ও বড়ত্বের কসম, আমি বনি আদমকে ভ্রষ্ট করতেই থাকব যতক্ষণ তাহাদের মধ্যে রূহ থাকে। আল্লাহ বলেনঃ আমার ইজ্জত ও বড়ত্বের কসম, আমি তাহাদের ক্ষমা করতে থাকব যতক্ষণ তারা আমার নিকট ইস্তেগফার করে”। (মুসনাদে আহমদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসঃ ৩৩ – আলি ইব্‌ন রাবিয়াহ থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি আলিকে দেখেছিঃ “একটি চতুষ্পদ জন্তু আনা হল যেন সে তাতে আরোহণ করে, তিনি যখন তার ওপর নিজ পা রাখলেন বললেনঃ بِسْمِ اللَّهِ যখন তার পিঠে স্থির বসলেন বললেনঃ الْحَمْدُ لِلَّهِ، অতঃপর বললেনঃ﴿سُبۡحَٰنَ ٱلَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَٰذَا وَمَا كُنَّا لَهُۥ مُقۡرِنِينَ ١٣﴾
“পবিত্র-মহান সেই সত্তা যিনি এগুলোকে ‎আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন। আর ‎আমরা এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম ‎ছিলাম না”‎ (সূরা যুখরুফঃ১৩) অতঃপরঃ الْحَمْدُ لِلَّهِ তিনবার, اللَّهُ أَكْبَرُ তিনবার বলিলেন, অতঃপর বললেনঃ
سُبْحَانَكَ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
(“আপনি কতই-না পবিত্র, নিশ্চয় আমি আমার নিজের নফসের উপর যুলুম করেছি, সুতরাং আমাকে ক্ষমা করুন, নিশ্চয় আপনি ব্যতীত কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না”)
অতঃপর হাসলেন, বলা হলঃ হে আমিরুল মুমেনিন কি জন্য হাসলেন? তিনি বললেনঃ আমি নবী (সাঃআঃ)কে দেখেছি, তিনি করিয়াছেন যেরূপ আমি করেছি, অতঃপর তিনি হেসেছেন। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল কি জন্য হাসলেন? তিনি বললেনঃ “তোমার রব তার বান্দাকে দেখে আশ্চর্য হন, যখন সে বলে আমার পাপ ক্ষমা করুন, সে জানে আমি ব্যতীত কেউ পাপ ক্ষমা করিবে না”। (আবু দাউদ, সুনান তিরমিযি ও মুসনাদে আহমদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

১৭. অনুচ্ছেদঃ আল্লাহর সাক্ষাত যে পছন্দ করে আল্লাহ তার সাক্ষাত পছন্দ করেন

হাদীসঃ ৩৪ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “আমার বান্দা যখন আমার সাক্ষাত পছন্দ করে আমি তার সাক্ষাত পছন্দ করি। যখন সে আমার সাক্ষাত অপছন্দ করে আমি তার সাক্ষাত অপছন্দ করি”। (সহিহ বুখারি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

১৮. অনুচ্ছেদঃ বান্দার জন্য আল্লাহর মহব্বতের নিদর্শন

হাদীসঃ ৩৫ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাঃআঃ) বলেনঃ “আল্লাহ যখন কোন বান্দাকে মহব্বত করেন জিবরিলকে ডেকে বলেনঃ আল্লাহ অমুককে মহব্বত করেন অতএব তুমি তাকে মহব্বত কর ফলে জিবরিল তাকে মহব্বত করেন। অতঃপর জিবরিল আসমানবাসীদের মধ্যে ঘোষণা করেনঃ আল্লাহ অমুককে মহব্বত করেন অতএব তোমরা তাকে মহব্বত কর ফলে আসমানবাসীরা তাকে মহব্বত করে, অতঃপর জমিনে তার জনপ্রিয়তা রাখা হয়”। (সহিহ বুখারি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসঃ ৩৬ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ যখন কোন বান্দাকে মহব্বত করেন জিবরিলকে ডাকেন, অতঃপর বলেনঃ আমি অমুককে মহব্বত করি অতএব তুমি তাকে মহব্বত কর। তিনি বলেনঃ “ফলে জিবরিল তাকে মহব্বত করে, অতঃপর সে আসমানে ঘোষণা করেঃ আল্লাহ অমুককে মহব্বত করেন অতএব তোমরা তাকে মহব্বত কর, ফলে আসমানবাসী তাকে মহব্বত করে”। তিনি বলেনঃ “অতঃপর জমিনে তার জন্য গ্রহণযোগ্যতা রাখা হয়। পক্ষান্তরে যখন তিনি কোন বান্দাকে অপছন্দ করেন জিবরিলকে ডাকেন অতঃপর বলেনঃ আমি অমুককে অপছন্দ করি অতএব তুমি তাকে অপছন্দ কর”। তিনি বলেনঃ “ফলে জিবরিল তাকে অপছন্দ করে, অতঃপর সে আসমানবাসীদের মধ্যে ঘোষণা দেয়, আল্লাহ অমুককে অপছন্দ করে অতএব তোমরা তাকে অপছন্দ কর”। তিনি বলেনঃ ফলে তারা তাকে অপছন্দ করে, অতঃপর জমিনে তার জন্য নিন্দা রাখা হয়”। (সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

১৯. অনুচ্ছেদঃ সহিহ মুসলিমদেরকে মহব্বত ও ভ্রাতৃত্বের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা

হাদীসঃ ৩৭ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা বলবেনঃ হে বনি আদম আমি অসুস্থ হয়েছিলাম, তুমি আমাকে দেখনি, সে বলবেঃ হে আল্লাহ আপনাকে কিভাবে দেখব, অথচ আপনি দু’জাহানের রব? তিনি বলবেনঃ তুমি জান না আমার অমুক বান্দা অসুস্থ হয়েছিল তুমি তাকে দেখনি, তুমি জান না যদি তাকে দেখিতে আমাকে তার নিকট পেতে? হে বনি আদম আমি তোমার নিকট খাদ্য চেয়েছিলাম তুমি আমাকে খাদ্য দাওনি, সে বলবেঃ হে আমার রব, আমি কিভাবে আপনাকে খাদ্য দিব অথচ আপনি দু’জাহানের রব? তিনি বলবেনঃ তুমি জান না আমার অমুক বান্দা তোমার নিকট খাদ্য চেয়েছিল তুমি তাকে খাদ্য দাওনি, তুমি জান না যদি তাকে খাদ্য দিতে তা আমার নিকট অবশ্যই পেতে। হে বনি আদম, আমি তোমার কাছে পানি চেয়েছিলাম তুমি আমাকে পানি দাওনি, সে বলবেঃ হে আমার রব কিভাবে আমি আপনাকে পানি দেব অথচ আপনি দু’জাহানের রব? তিনি বলবেনঃ আমার অমুক বান্দা তোমার নিকট পানি চেয়েছিল তুমি তাকে পানি দাওনি, মনে রেখ যদি তাকে পানি দিতে তা আমার নিকট অবশ্যই পেতে”। (সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

২০. অনুচ্ছেদঃ প্রতিবেশীদের সাক্ষী ও তাহাদের প্রশংসার ফযিলত

হাদীসে কুদসী৩৮ – আনাস (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “যখনই কোন সহিহ মুসলিম মারা যায় অতঃপর তার প্রতিবেশীর নিকটতম চার ঘর তার জন্য সাক্ষ্য দেয়, তার সম্পর্কেই আল্লাহ বলেনঃ তার সম্পর্কে তোমাদের জানা আমি কবুল করলাম, আর যা তোমরা জান না আমি ক্ষমা করে দিলাম”। (মুসনাদে আহমদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান লিগাইরিহি

২১. অনুচ্ছেদঃ দুনিয়া-আখিরাতে মুমিনের দোষ আল্লাহর গোপন করা

হাদীসঃ ৩৯ -সাফওয়ান ইব্‌ন মুহরিয আল-মাযেনি (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ একদা আমি ইব্‌ন ওমরের সাথে তার হাত ধরে হাঁটছিলাম, হঠাৎ এক ব্যক্তি সামনে এলো। অতঃপর সে বলিলঃ নাজওয়া’ (গোপন কথা) সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)কে কি বলিতে শুনেছেন? তিনি বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)কে বলিতে শুনেছিঃ “আল্লাহ তাআলা মুমিনের নিকটবর্তী হইবেন অতঃপর তার ওপর পর্দা ফেলে তাকে ঢেকে নিবেন এবং বলবেনঃ মনে পড়ে অমুক পাপ, মনে পড়ে অমুক পাপ? সে বলবেঃ হ্যাঁ, হে আমার রব, অবশেষে সে যখন তার সকল পাপ স্বীকার করিবে এবং নিজেকে মনে করিবে যে, সে ধ্বংস হয়ে গেছে, আল্লাহ বলবেনঃ তোমার ওপর দুনিয়াতে এসব গোপন রেখেছি আজ আমি তা তোমার জন্য ক্ষমা করে দিচ্ছি। অতঃপর তাকে তার নেক আমলের দফতর দেয়া হইবে, পক্ষান্তরে কাফের ও মুনাফিক সম্পর্কে সাক্ষীরা বলবেঃ এরা তাহাদের রবের ওপর মিথ্যারোপ করেছিল, জেনে রেখ জালেমদের ওপর আল্লাহর লানত”। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

২২. অনুচ্ছেদঃ মুমিনের ফযিলত

হাদীসঃ ৪০ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)কে বলিতে শুনেছিঃ “আল্লাহ তাআলা বলেনঃ আমার মুমিন বান্দা আমার নিকট এমন মর্যাদায় অধিষ্ঠিত, যেখানে সে সকল কল্যাণের হকদার, সে আমার প্রশংসা করে এমতাবস্থায় আমি তার দু’পাশ থেকে তার রূহ কব্জা করি”। (মুসনাদে আহমদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান হাদিস

২৩. অনুচ্ছেদঃ গরিবকে সুযোগ দেয়া ও ক্ষমা করার ফযিলত

হাদীসঃ ৪১ – হুযায়ফা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “তোমাদের পূর্বেকার জনৈক ব্যক্তির রূহের সাথে ফেরেশতারা সাক্ষাত করে বলেঃ তুমি কি কোন কল্যাণ করেছ? সে বলেঃ না, তারা বলেনঃ স্মরণ কর। সে বলেঃ আমি মানুষদের ঋণ দিতাম, অতঃপর আমার যুবকদের বলতাম তারা যেন গরিবকে সুযোগ দেয় ও ধনীর বিলম্বিতা ক্ষমা করে”। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসঃ ৪২ – আবু মাসউদ (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “তোমাদের পূর্বের জনৈক ব্যক্তিকে জেরা করা হয়েছে, কিন্তু তার কোন কল্যাণ পাওয়া যায়নি, সে ছিল ধনী, মানুষের সাথে লেনদেন করত, আর তার লোকদের বলত, যেন গরিবকে ক্ষমা করে”। তিনি বলেনঃ “আল্লাহ তাআলা বললেনঃ তার চেয়ে আমি ক্ষমা করার অধিক হকদার, তাকে ক্ষমা কর”। (সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসঃ ৪৩ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “জনৈক ব্যক্তি কোনো কল্যাণ করেনি, সে মানুষকে ঋণ দিত, অতঃপর তার দূতকে বলতঃ যা সহজ গ্রহণ কর, যা কষ্টের তা ত্যাগ কর ও ছাড় দাও। হয়তো আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ক্ষমা করবেন। যখন সে মারা গেল, আল্লাহ তাকে বললেনঃ তুমি কোন কল্যাণ করেছ? সে বলেঃ না, তবে আমার এক কর্মচারী ছিল, আমি মানুষকে ঋণ দিতাম, যখন আমি তাকে উসুল করার জন্য প্রেরণ করেছি তাকে বলেছিঃ যা সহজ হয় গ্রহণ কর, যা কষ্টকর ত্যাগ কর ও ক্ষমা কর, হয়তো আল্লাহ তাআলা আমাদের ক্ষমা করবেন। আল্লাহ বলবেনঃ আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম”। (নাসায়ি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান হাদিস

২৪. অনুচ্ছেদঃ আল্লাহর অলিদের সাথে দুশমনি করার পাপ

হাদীসঃ ৪৪ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআলা বলেনঃ যে আমার অলির সাথে দুশমনি করিবে আমি তার সাথে যুদ্ধের ঘোষণা করেছি। আমার বান্দার ওপর আমি যা ফরয করেছি আমার নিকট তার চেয়ে অধিক প্রিয় কোন বস্তু দ্বারা সে আমার নৈকট্য অর্জন করেনি। আমার বান্দা নফল দ্বারা আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে অবশেষে আমি তাকে মহব্বত করি। আমি যখন তাকে মহব্বত করি আমি তার কানে পরিণত যা দ্বারা সে শ্রবণ করে। তার চোখে পরিণত হই যা দ্বারা সে দেখে, তার হাতে পরিণত হই যা দ্বারা সে ধরে, তার পায়ে পরিণত হই যা দ্বারা সে হাঁটে । যদি সে আমার নিকট চায় আমি তাকে অবশ্যই দিব, যদি সে আমার নিকট পানাহ চায় আমি তাকে অবশ্যই পানাহ দিব। আমার করণীয় কোন কাজে আমি দ্বিধা করি না যেমন দ্বিধা করি মুমিনের নফসের সময়, সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে আমি তার কষ্টকে অপছন্দ করি”। (সহিহ বুখারি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

২৫. অনুচ্ছেদঃ আল্লাহর জন্য মহব্বতের ফযিলত

হাদীসঃ ৪৫ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “কিয়ামতের দিন আল্লাহ বলবেনঃ আমার বড়ত্বের জন্য মহব্বতকারীরা কোথায়, আজ আমি তাহাদেরকে আমার ছায়ায় ছায়া দান করব, যখন আমার ছায়া ব্যতীত কোন ছায়া নেই”। (সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসঃ ৪৬ – আবু সহিহ মুসলিম খাওলানি রাহিমাহুল্লাহ, মুআয ইব্‌ন জাবাল (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)কে তার রবের পক্ষ থেকে বর্ণনা করতে শুনেছিঃ “আল্লাহর নিমিত্তে মহব্বতকারীগণ আরশের ছায়ায় নুরের মিম্বারে অবস্থান করবেন, যে দিন তার ছায়া ব্যতীত কোন ছায়া থাকিবে না”। তিনি বলেনঃ (মুআযের কাছ থেকে) বের হয়ে উবাদাহ ইব্‌ন সামেতের সাথে দেখা করি, আমি তাকে মুআয ইব্‌ন জাবালের হাদিস বলিঃ তিনি বললেনঃ আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)কে তার রবের পক্ষ থেকে বর্ণনা করতে শুনেছিঃ “আমার নিমিত্তে মহব্বতকারীদের জন্য আমার মহব্বত ওয়াজিব। আমার নিমিত্তে খরচকারীদের জন্য আমার মহব্বত ওয়াজিব। আমার নিমিত্তে সাক্ষাতকারীদের জন্য আমার মহব্বত ওয়াজিব। আল্লাহর জন্য পরস্পর মহব্বতকারীগণ আরশের ছায়ার নিচে নূরের মিম্বারে অবস্থান করিবে, যে দিন তার ছায়া ব্যতীত কোন ছায়া থাকিবে না”। (মুসনাদে আহমদ) এ হাদিসটি সব ক’টি সনদের বিবেচনায় সহিহ।

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসঃ ৪৭ – মুয়ায ইব্‌ন জাবাল (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)কে বলিতে শুনেছিঃ “আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “আমার নিমিত্তে মহব্বতকারীদের জন্য নূরের মিম্বার রহিয়াছে, যাদের সাথে ঈর্ষা করিবে নবী ও শহীদগণ”। (সুনান তিরমিযি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান হাদিস

২৬. অনুচ্ছেদঃ জান্নাত কষ্ট ও জাহান্নাম প্রবৃত্তি দ্বারা আবৃত

হাদীসঃ ৪৮ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ যখন জান্নাত সৃষ্টি করিয়াছেন জিবরিলকে বলেছেনঃ যাও তা দেখ। সে গেল ও তা দেখল অতঃপর এসে বলিলঃ হে আমার রব, আপনার ইজ্জতের কসম তার ব্যাপারে কেউ শুনে তাতে প্রবেশ ব্যতীত থাকিবে না। অতঃপর তা কষ্ট দ্বারা ঢেকে দিলেন। অতঃপর বললেনঃ হে জিবরিল যাও তা দেখ, সে গেল ও তা দেখল অতঃপর এসে বলিলঃ হে আমার রব, আপনার ইজ্জতের কসম আমি আশঙ্কা করছি তাতে কেউ প্রবেশ করিবে না। তিনি বলেনঃ আল্লাহ যখন জাহান্নাম সৃষ্টি করিয়াছেন বলেছেন, হে জিবরিল যাও তা দেখ, সে গেল ও তা দেখল অতঃপর এসে বলিলঃ হে আমার রব, আপনার ইজ্জতের কসম, তার ব্যাপারে কেউ শুনে তাতে কখনো প্রবেশ করিবে না। অতঃপর তিনি তা প্রবৃত্তি দ্বারা ঢেকে দিলেন অতঃপর বললেনঃ হে জিবরিল যাও তা দেখ, সে গেল ও তা দেখল অতঃপর এসে বলিলঃ হে আমার রব, আপনার ইজ্জতের কসম আমি আশঙ্কা করছি তাতে প্রবেশ ব্যতীত কেউ বাকি থাকিবে না”। (আবু দাউদ, সুনান তিরমিযি, নাসায়ি ও মুসনাদে আহমদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান হাদিস

২৭. অনুচ্ছেদঃ নেক বান্দাদের জন্য তৈরি কিছু নিয়ামতের বর্ণনা

হাদীসঃ ৪৯ -আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেনঃ “আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য তৈরি করেছি যা কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শ্রবণ করেনি এবং কোন মানুষের অন্তরে তার কল্পনা হয়নি”। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

২৮. অনুচ্ছেদঃ  জান্নাতবাসীদের ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টি

হাদীসঃ ৫০ – আবু সায়িদ খুদরি (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআলা জান্নাতিদের বলবেনঃ হে জান্নাতিগণ, তারা বলবেঃ সদা উপস্থিত হে আমাদের রব, আপনার সন্তুষ্টিবিধানে আমি সদা সচেষ্ট, সকল কল্যাণ আপনার হাতে। তিনি বলবেনঃ তোমরা সন্তুষ্ট হয়েছ? তারা বলবেঃ হে আমাদের রব আমরা কেন সন্তুষ্ট হব না, অথচ আপনি আমাদেরকে দিয়েছেন যা আপনার মখলুকের কাউকে দেননি! তিনি বলবেনঃ আমি কি তোমাদেরকে এর চেয়ে উত্তম দিব না? তারা বলবেঃ হে রব এর চেয়ে উত্তম কোন বস্তু? তিনি বলবেনঃ আমি তোমাদের ওপর আমার সন্তুষ্টি অবধারিত করছি এরপর কখনো তোমাদের ওপর অসন্তুষ্ট হব না”। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসঃ ৫১ -জাবের (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “যখন জান্নাতিরা জান্নাতে প্রবেশ করিবে আল্লাহ তাআলা বলবেনঃ তোমরা কিছু চাও? তারা বলবেঃ হে আমাদের রব, আপনি আমাদের যা দিয়েছেন তার চেয়ে উত্তম কি? তিনি বলবেনঃ বরং আমার সন্তুষ্টিই সবচেয়ে বড়”। (ইব্‌ন হিব্বান)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

২৯. অনুচ্ছেদঃ জান্নাতিদের তাহাদের প্রার্থিত বস্তু প্রদান করা

হাদীসে কুদসী ৫২ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাঃআঃ) একদা কথা বলছিলেন, -তার নিকট গ্রামের এক ব্যক্তি ছিলঃ “জান্নাতিদের জনৈক ব্যক্তি তার রবের নিকট কৃষির জন্য অনুমতি চেয়েছে। আল্লাহ তাকে বললেনঃ তুমি কি তাতে নেই যা চেয়েছ? সে বলিলঃ অবশ্যই, তবে আমি কৃষি করতে চাই। সে দ্রুত চাষ করিল, বীজ বপন করিল, চোখের পলকে তার চারা গজাল, কাণ্ড সোজা হল, ফসল কাঁটার সময় হল এবং তার স্তূপ হল পাহাড়ের ন্যায়। আল্লাহ তাআলা বলবেনঃ হে বনি আদম তুমি এসব গ্রহণ কর, কারণ কোন জিনিস তোমাকে তৃপ্ত করিবে না। গ্রামের লোকটি বলিলঃ হে আল্লাহর রাসূল এ ব্যক্তি কুরাইশি বা আনসারি ব্যতীত কেউ নয়, কারণ তারা কৃষি করে, কিন্তু আমরা কৃষক নয়। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) হেসে দিলেন”। (সহিহ বুখারি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৩০. অনুচ্ছেদঃ জান্নাতের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী

হাদীসঃ ৫৩ – মুগিরা ইব্‌ন শুবা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ মুগিরা ইব্‌ন শুবা (রাদিআল্লাহু আঃ) রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) থেকে মরফূ  হিসেবে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেনঃ “মুসা আলাইহিস সালাম তার রবকে জিজ্ঞাসা করেন জান্নাতিদের নিম্ন স্তর কি? তিনি বলেনঃ সে ব্যক্তি যে জান্নাতিদের জান্নাতে প্রবেশ করানোর পর আসবে, তাকে বলা হবেঃ জান্নাতে প্রবেশ কর। সে বলবেঃ হে আমার রব কিভাবে, অথচ লোকেরা তাহাদের স্থানে পৌঁছে গেছে, তাহাদের হক তারা গ্রহণ করেছে? তাকে বলা হবেঃ তুমি কি সন্তুষ্ট যে তোমার জন্য দুনিয়ার বাদশাহদের রাজত্বের ন্যায় রাজত্ব হোক? সে বলবেঃ হে আমার রব, আমি সন্তুষ্ট। তিনি বলবেনঃ তোমার জন্য তা, এবং তার সমান, তার সমান ও তার সমান, পঞ্চম বারে বলিলঃ হে আমার রব আমি সন্তুষ্ট হয়েছি। মুসা আলাইহিস সালাম জিজ্ঞাসা করেনঃ হে আমার রব, তাহাদের মধ্যে সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী? তিনি বললেনঃ তাহাদেরকে আমি চেয়েছি, আমি নিজ হাতে তাহাদের সম্মান রোপণ করেছি ও তার ওপর মোহর এঁটে দিয়েছি, যা কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শুনেনি এবং মানুষের অন্তরে কল্পনা হয়নি। তিনি বলেনঃ কুরআনে তার নমুনা হচ্ছেঃ
﴿ فَلَا تَعۡلَمُ نَفۡسٞ مَّآ أُخۡفِيَ لَهُم مِّن قُرَّةِ أَعۡيُنٖ ١٧ ﴾ (السجدة ঃ ١٧)
“অতঃপর কোন ব্যক্তি জানে না তাহাদের জন্য ‎‎চোখ জুড়ানো কী জিনিস লুকিয়ে রাখা হয়েছে”। (সূরা আলিফ লাম মিম সাজদাহঃ ১৭) (সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৩১. অনুচ্ছেদঃ জান্নাতে প্রবেশকারী সর্বশেষ জান্নাতি

হাদীসঃ ৫৪ – আব্দুল্লাহ ইব্‌ন মাসউদ (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আমি অবশ্যই চিনি জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভকারী সর্বশেষ জাহান্নামী ও জান্নাতে প্রবেশকারী সর্বশেষ জান্নাতিকেঃ জনৈক ব্যক্তি হামাগুড়ি দিয়ে জাহান্নাম থেকে বের হইবে, আল্লাহ তাআলা তাকে বলবেনঃ যাও জান্নাতে প্রবেশ কর, সে জান্নাতে আসবে, তাকে ধারণা দেয়া হইবে জান্নাত পূর্ণ। সে ফিরে এসে বলবেঃ হে আমার রব আমি তা পূর্ণ পেয়েছি, অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাকে বলবেনঃ যাও জান্নাতে প্রবেশ কর। তিনি বলেনঃ সে জান্নাতে আসবে তাকে ধারণা দেয়া হইবে জান্নাত পূর্ণ। সে ফিরে এসে বলবেঃ হে আমার রব, আমি তা পূর্ণ পেয়েছি। অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলবেনঃ যাও জান্নাতে প্রবেশ কর, তোমার জন্য দুনিয়ার সমান ও তার দশগুণ জান্নাত রহিয়াছে, -অথবা তোমার জন্য দুনিয়ার দশগুণ জান্নাত রহিয়াছে,- তিনি বলেনঃ সে বলবেঃ হে আমার রব আপনি আমার সাথে মশকরা করছেন অথবা আমাকে নিয়ে হাসছেন অথচ আপনি বাদশাহ?” তিনি বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)কে দেখেছি হাসতে, তার মাড়ির দাঁত পর্যন্ত বের হয়েছিল। তিনি বলেনঃ তখন বলা হতঃ এ হচ্ছে মর্যাদার বিবেচনায় সবচেয়ে নিম্ন জান্নাত”। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসঃ ৫৫ – ইব্‌ন মাসউদ (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “সর্বশেষ জান্নাতে প্রবেশ করিবে এমন ব্যক্তি, যে একবার চলবে একবার হোঁচট খাবে, একবার আগুন তাকে ঝলসে দিবে, যখন সে তা অতিক্রম করিবে তার দিকে ফিরে তাকাবে, অতঃপর বলবেঃ বরকতময় সে সত্তা যিনি আমাকে তোমার থেকে নাজাত দিয়েছেন। নিশ্চয় আল্লাহ আমাকে এমন বস্তু দান করিয়াছেন যা পূর্বাপর কাউকে দান করেন নি। অতঃপর তার জন্য একটি গাছ জাহির করা হইবে, সে বলবেঃ হে আমার রব আমাকে এ গাছের নিকটবর্তী করুন, যেন তার ছায়া গ্রহণ করতে পারি ও তার পানি পান করতে পারি। আল্লাহ তাআলা বলবেনঃ হে আদম সন্তান যদি আমি তোমাকে এটা দান করি হয়তো (আবারও) অন্য কিছু তলব করিবে। সে বলবেঃ না, হে আমার রব, তাকে ওয়াদা দিবে যে এ ছাড়া কিছু তলব করিবে না, তার রব তাকে ছাড় দিবেন, কারণ সে দেখবে যার ওপর তার ধৈর্য সম্ভব হইবে না। তাকে তার নিকটবর্তী করবেন, ফলে সে তার ছায়া গ্রহণ করিবে ও তার পানি পান করিবে। অতঃপর তার জন্য অপর গাছ জাহির করা হইবে, যা পূর্বের তুলনায় অধিক সুন্দর। সে বলবেঃ হে আমার রব, আমাকে এর নিকটবর্তী করুন, যেন তার পানি পান করতে পারি ও তার ছায়া গ্রহণ করতে পারি, এ ছাড়া কিছু চাইব না। তিনি বলবেনঃ হে বনি আদম তুমি কি আমাকে ওয়াদা দাওনি অন্য কিছু চাইবে না? তিনি বলবেনঃ আমি যদি তোমাকে এর নিকটবর্তী করি হয়তো (আবারও) অন্য কিছু চাইবে, ফলে সে তাকে ওয়াদা দিবে যে, অন্য কিছু চাইবে না, তার রব তাকে ছাড় দিবেন, কারণ সে দেখবে যার ওপর তার ধৈর্য নেই। অতঃপর তাকে তার নিকটবর্তী করবেন, সে তার ছায়া গ্রহণ করিবে ও তার পানি পান করিবে। অতঃপর তার সামনে জাহির করা হইবে একটি গাছ জান্নাতের দরজার মুখে, যা পূর্বের দু’টি গাছ থেকে অধিক সুন্দর। সে বলবেঃ হে আমার রব, আমাকে এ গাছের নিকটবর্তী করুন আমি তার ছায়া গ্রহণ করব ও তার পানি পান করব, এ ছাড়া কিছু চাইব না। তিনি বলবেনঃ হে বনি আদম তুমি কি আমাকে ওয়াদা দাওনি অন্য কিছু চাইবে না? সে বলবেঃ অবশ্যই হে আমার রব, এটাই আর কিছু চাইব না, তার রব তাকে ছাড় দিবেন, কারণ সে দেখবে যার ওপর তার ধৈর্য নেই। অতঃপর তিনি তাকে তার নিকটবর্তী করবেন, যখন তার নিকটবর্তী করা হইবে সে জান্নাতিদের আওয়াজ শুনবে, সে বলবেঃ হে আমার রব, আমাকে তাতে প্রবেশ করান, তিনি বলবেনঃ হে বনি আদম, কিসে তোমার থেকে আমাকে নিষ্কৃতি দিবে? তুমি কি সন্তুষ্ট যে আমি তোমাকে দুনিয়া ও তার সাথে তার সমান দান করি? সে বলবেঃ হে আমার রব আপনি কি আমার সাথে ঠাট্টা করছেন অথচ আপনি দু’জাহানের রব? ইব্‌ন মাসউদ হেসে দিলেন, তিনি বললেনঃ তোমরা আমাকে কেন জিজ্ঞাসা করছ না আমি কেন হাসছি? তারা বলিলঃ কেন হাসছেন? তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এরূপ হেসেছেন। তারা (সাহাবিরা) বলিলঃ হে আল্লাহর রাসূল কেন হাসছেন? তিনি বললেনঃ আল্লাহর হাসি থেকে যখন সে বলিলঃ আপনি আমার সাথে ঠাট্টা করছেন অথচ আপনি দু’ জাহানের রব? তিনি বললেনঃ আমি তোমার সাথে ঠাট্টা করছি না, তবে আমি যা চাই করতে পারি”। (সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসঃ ৫৬ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ লোকেরা বলিলঃ হে আল্লাহর রাসূল কিয়ামতের দিন আমরা কি আমাদের রবকে দেখব? রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেনঃ “চৌদ্দ তারিখের রাতে চাঁদ দেখায় তোমরা কি সন্দেহ (বা মতবিরোধ) কর?” তারা বলিলঃ না, হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেনঃ “তোমরা আল্লাহকে সেভাবে (স্পষ্ট) দেখবে। কিয়ামতের দিন আল্লাহ সকল মানুষকে জমা করে বলবেনঃ যে যে বস্তুর ইবাদত করত সে যেন তার পিছু নেয়, ফলে যে সূর্যের ইবাদত করত সে সূর্যের অনুগামী হইবে। যে চাঁদের ইবাদত করত সে চাঁদের অনুগামী হইবে। যে তাগুতের ইবাদত করত সে তাগুতের অনুগামী হইবে। শুধু এ উম্মত অবশিষ্ট থাকিবে, তাতে থাকিবে তার সুপারিশকারীগণ –অথবা তার মুনাফিকরা, বর্ণনাকারী ইবরাহিম সন্দেহ পোষণ করিয়াছেন , অতঃপর তাহাদের নিকট আল্লাহ এসে বলবেনঃ আমি তোমাদের রব, তারা বলবেঃ আমরা এখানে অবস্থান করছি যতক্ষণ না আমাদের রব আমাদের নিকট আসেন, যখন আমাদের রব আসবেন আমরা তাকে চিনব, ফলে আল্লাহ সে রূপে তাহাদের নিকট আসবেন যে রূপে তারা তাকে চিনে। অতঃপর তিনি বলবেনঃ আমি তোমাদের রব, তারা বলবেঃ আপনি আমাদের রব, অতঃপর তারা তার অনুগামী হইবে। আর জাহান্নামের পৃষ্ঠদেশে পুলসিরাত কায়েম করা হইবে, আমি এবং আমার উম্মত সর্বপ্রথম তা অতিক্রম করব। সে দিন রাসূলগণ ব্যতীত কেউ কথা বলবে না। সে দিন রাসূলগণের বাণী হবেঃ আল্লাহুম্মা সাল্লিম, সাল্লিম। জাহান্নামে রহিয়াছে সাদানের  কাঁটার ন্যায় হুক, তোমরা সাদান দেখেছ?” তারা বলিলঃ হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেনঃ “তা সাদানের কাঁটার ন্যায়, তবে তার বিশালত্বের পরিমাণ আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। সে মানুষদেরকে তাহাদের আমল অনুযায়ী ছো মেরে নিয়ে নিবে। তাহাদের কেউ ধ্বংস প্রাপ্ত নিজ আমলের কারণে (জাহান্নামের শুরুতে) রয়ে গেছে, তাহাদের কেউ টুকরো হয়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত অথবা সাজা প্রাপ্ত অথবা তার অনুরূপ। অতঃপর তিনি জাহির হইবেন, অবশেষে যখন বান্দাদের ফয়সালা থেকে ফারেগ হইবেন ও জাহান্নামীদের থেকে নিজ রহমতে যাকে ইচ্ছা বের করার ইচ্ছা করবেন ফেরেশতাহাদের নির্দেশ দিবেন যে, জাহান্নাম থেকে বের কর আল্লাহর সাথে যে কোন বস্তু শরীক করত না, যাদের ওপর আল্লাহ রহম করার ইচ্ছা করিয়াছেন এবং যারা সাক্ষী দেয় যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন হক ইলাহ নেই। তারা জাহান্নামে তাহাদেরকে সেজদার আলামত দ্বারা চিনবে। আগুন বনি আদমকে সেজদার জায়গা ব্যতীত খেয়ে ফেলবে। সেজদার জায়গা ভক্ষণ করা জাহান্নামের ওপর আল্লাহ হারাম করে দিয়েছেন। তারা জাহান্নাম থেকে বের হইবে এমতাবস্থায় যে পুড়ে গেছে, তাহাদের ওপর সঞ্জীবনী পানি ঢালা হইবে, ফলে তারা গজিয়ে উঠবে যেমন গজিয়ে উঠে প্রবাহিত পানির সাথে আসা উর্বর মাটিতে শস্যের চারা। অতঃপর আল্লাহ তাআলা বান্দাদের ফয়সালা থেকে ফারেগ হইবেন। অবশেষে শুধু এক ব্যক্তি জাহান্নামের ওপর তার চেহারা দিয়ে অগ্রসর হয়ে থাকিবে, সেই জান্নাতে প্রবেশকারী সর্বশেষ জাহান্নামী। সে বলবেঃ হে আমার রব, আমার চেহারা জাহান্নাম থেকে ঘুরিয়ে দিন, কারণ সে আমার চেহারা বিষাক্ত করে দিয়েছে, তার লেলিহান আমাকে জ্বালিয়ে দিয়েছে। অতঃপর সে আল্লাহর নিকট দোআ করিবে, আল্লাহ যেভাবে তার দোআ করা পছন্দ করেন। অতঃপর আল্লাহ বলবেনঃ এমন হইবে না তো যদি তোমাকে তা দান করি তুমি আমার নিকট অন্য কিছু চাইবে? সে বলবেঃ না, তোমার ইজ্জতের কসম, এ ছাড়া আপনার নিকট কিছু চাইব না। সে তার রবকে যা ইচ্ছা ওয়াদা ও অঙ্গিকার দিবে, ফলে আল্লাহ তার চেহারা জাহান্নাম থেকে ঘুরিয়ে দিবেন। অতঃপর সে যখন জান্নাতের দিকে মুখ করিবে ও তা দেখবে, চুপ থাকিবে আল্লাহ যতক্ষণ তার চুপ থাকা চান। অতঃপর বলবেঃ হে আমার রব আমাকে জান্নাতের দরজার পর্যন্ত অগ্রসর করুন। আল্লাহ তাকে বলবেনঃ তুমি কি আমাকে তোমার ওয়াদা ও অঙ্গিকার দাওনি যে, আমি তোমাকে যা দিয়েছি তা ছাড়া অন্য কিছু আমার নিকট কখনো চাইবে না? হে বনি আদম সর্বনাশ তোমার, তুমি খুব ওয়াদা ভঙ্গকারী। সে বলবেঃ হে আমার রব, এবং আল্লাহকে ডাকবে, অবশেষে আল্লাহ বলবেনঃ এমন হইবে না তো যদি তা দেই অপর বস্তু তুমি চাইবে? সে বলবেঃ না, তোমার ইজ্জতের কসম তা ছাড়া কিছু চাইব না, এবং যত ইচ্ছা ওয়াদা ও অঙ্গিকার প্রদান করিবে, ফলে আল্লাহ তাকে জান্নাতের দরজার নিকটবর্তী করবেন। যখন সে জান্নাতের দরজার নিকট দাঁড়াবে তার জন্য জান্নাত উন্মুক্ত হইবে, সে তার নিয়ামত ও আনন্দ দেখবে, অতঃপর চুপ থাকিবে আল্লাহ যতক্ষণ তার চুপ থাকা চান, অতঃপর বলবেঃ হে আমার রব আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান, আল্লাহ বলবেনঃ তুমি কি ওয়াদা ও অঙ্গিকার দাওনি আমি যা দিয়েছি তা ছাড়া কিছু চাইবে না? তিনি বলবেনঃ হে বনি আদম সর্বনাশ তোমার, তুমি খুব ওয়াদা ভঙ্গকারী। সে বলবেঃ হে আমার রব আমি তোমার হতভাগা মখলুক হইতে চাই না, সে ডাকতে থাকিবে অবশেষে তার কারণে আল্লাহ হাসবেন। যখন হাসবেন তাকে বলবেনঃ জান্নাতে প্রবেশ কর, যখন সে তাতে প্রবেশ করিবে আল্লাহ তাকে বলবেনঃ চাও, সে তার নিকট চাইবে ও প্রার্থনা করিবে, এমনকি আল্লাহও তাকে স্মরণ করিয়ে দিবেনঃ এটা, ওটা অবশেষে যখন তার আশা শেষ হয়ে যাবে আল্লাহ বলবেনঃ এগুলো তোমার জন্য এবং এর অনুরূপও তার সাথে”। আতা ইব্‌ন ইয়াযিদ বলেনঃ আবু সায়িদ খুদরি আবু হুরাইরার সাথেই ছিল, আবু হুরাইরার হাদিসের কোন অংশ তিনি প্রত্যাখ্যান করেননি, অবশেষে যখন আবু হুরাইরা বলিলেন আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ “এগুলো তোমার জন্য এবং এর সমান এর সাথে”। আবু সায়িদ খুদরি বললেনঃ “এবং তার সাথে তার দশগুণ হে আবু হুরাইরা। আবু হুরাইরা বললেনঃ আমার শুধু মনে আছেঃ “এগুলো এবং এর সাথে তার অনুরূপ”। আবু সায়িদ বললেনঃ আমি সাক্ষী দিচ্ছে আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) থেকে তার বাণীঃ “এগুলো তোমার জন্য এবং তার সমান দশগুণ” খুব ভাল করে স্মরণ রেখেছি। আবু হুরাইরা বললেনঃ এ ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশকারী সর্বশেষ জান্নাতি”। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী ৫৭ – আবু যার (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আমি অবশ্যই চিনি জাহান্নাম থেকে নাজাত প্রাপ্ত সর্বশেষ জাহান্নামী ও জান্নাতে প্রবেশকারী সর্বশেষ জান্নাতিকে। এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হইবে, অতঃপর আল্লাহ বলবেনঃ তার ছোট পাপ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা কর, বড় পাপগুলো গোপন রাখ, অতঃপর তাকে বলা হবেঃ তুমি অমুক অমুক পাপ, অমুক অমুক দিন করেছ, অমুক অমুক পাপ, অমুক অমুক দিন করেছ। তিনি বলেনঃ অতঃপর তাকে বলা হবেঃ তোমার জন্য প্রত্যেক পাপের পরিবর্তে একটি করে নেকি। তিনি বলেনঃ অতঃপর সে বলবেঃ হে আমার রব আমি অনেক কিছু করেছি এখানে তা দেখছি না”। তিনি বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)কে দেখেছি হাসতে, এমনকি তার মাড়ির দাঁত পর্যন্ত বের হয়েছিল। (সহিহ মুসলিম ও সুনান তিরমিযি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৩২. অনুচ্ছেদঃ শহীদদের ফযিলত

হাদীসঃ ৫৮ – মাসরুক (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন আমরা আব্দুল্লাহ ইব্‌ন মাসউদকে এ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিঃ
﴿وَلَاتَحۡسَبَنَّ ٱلَّذِينَ قُتِلُواْ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ أَمۡوَٰتَۢاۚ بَلۡ أَحۡيَآءٌ عِندَ رَبِّهِمۡ يُرۡزَقُونَ﴾
“আর যারা আল্লাহর পথে জীবন দিয়েছে, ‎তাহাদেরকে তুমি মৃত মনে করো না, বরং তারা ‎তাহাদের রবের নিকট জীবিত। তাহাদেরকে রিযক ‎‎দেয়া হয়”।  তিনি বলেনঃ জেনে রেখ, আমরাও এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “তাহাদের রূহসমূহ সবুজ পাখির পেটে, যার জন্য রহিয়াছে আরশের সাথে ঝুলন্ত প্রদীপ, সে জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা ভ্রমণ করে, অতঃপর উক্ত প্রদীপে এসে আশ্রয় গ্রহণ করে। একদা তাহাদের দিকে তাহাদের রব দৃষ্টি দেন অতঃপর বলেনঃ তোমরা কিছু চাও? তারা বলবেঃ আমরা কি চাইব, অথচ আমরা জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা বিচরণ করি? এভাবে তাহাদেরকে তিনবার জিজ্ঞাসা করবেন, যখন তারা দেখবে যে কোন কিছু চাওয়া ব্যতীত তাহাদেরকে নিস্তার দেয়া হইবে না, তারা বলবেঃ হে রব আমরা চাই আমাদের রুহগুলো আমাদের শরীরে ফিরিয়ে দিন, যেন দ্বিতীয়বার আপনার রাস্তায় শহীদ হইতে পারি। যখন তিনি দেখবেন যে তাহাদের কোন চাহিদা নেই তাহাদের অব্যাহতি দেয়া হইবে”। (সহিহ মুসলিম, নাসায়ি ওইবনু মাজাহ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী ৫৯ – শাকিক (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ ইব্‌ন মাসউদ তাকে বলেছেনঃ “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আঠারো জন সাহাবি যারা বদরের দিন শহীদ হয়েছিল, আল্লাহ তাহাদের রুহগুলো জান্নাতে সবুজ পাখির পেটে রেখেছেন যে জান্নাতে বিচরণ করে। তিনি বলেনঃ তারা এভাবেই ছিল, এক সময় তোমার রব তাহাদের দিকে দৃষ্টি দেন, অতঃপর বলেনঃ “হে আমার বান্দাগণ তোমরা কি চাও?” তারা বলিলঃ হে আমাদের রব এর ওপরে কি আছে? তিনি বলেনঃ অতঃপর তিনি বলবেনঃ “হে আমার বান্দাগণ তোমরা কি চাও?” তারা চতুর্থবার বলবেঃ আপনি আমাদের রুহগুলো আমাদের শরীরে ফিরিয়ে দিন, যেন আমরা শহীদ হইতে পারি যেমন শহীদ হয়েছি”। (ইব্‌ন হিব্বান) হাদিসটি মওকুফ ও সহিহ।

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ মাওকুফ

হাদীসঃ ৬০ – আনাস (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “জান্নাতি এক ব্যক্তিকে আনা হইবে, অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলবেনঃ হে বনি আদম তোমার স্থান কি রকম পেয়েছ? সে বলবেঃ হে আমার রব সবচেয়ে উত্তম। তিনি বলবেনঃ চাও, আশা কর। সে বলবেঃ তোমার নিকট প্রার্থনা করছি তুমি আমাকে দুনিয়াতে ফিরিয়ে দাও, যেন তোমার রাস্তায় আমি দশবার শহীদ হইতে পারি, যেহেতু সে শাহাদাতের মর্যাদা প্রত্যক্ষ করিবে”। (নাসায়ি, মুসনাদে আহমদ ও হাকেম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী ৬১ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তার দায়িত্ব স্বয়ং গ্রহণ করেন, যে তার রাস্তায় বের হয়, -যাকে আমার প্রতি ঈমান ও আমার রাসূলের প্রতি বিশ্বাস ব্যতীত কোন জিনিস বের করেনি-, আমি তাকে অতিসত্বর তার পাওনা সওয়াব অথবা গনিমত দেব অথবা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাব। যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্ট না হত, তাহলে আমি কোন যুদ্ধ থেকে পিছপা হতাম না। আমি চাই আমি আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হব, অতঃপর আমাকে জীবিত করা হইবে অতঃপর আমি শহীদ হব, অতঃপর আমাকে জীবিত করা হইবে অতঃপর আমি শহীদ হব”। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, নাসায়ি ওইবনু মাজাহ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসঃ ৬২ – আনাস (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “কিয়ামতের দিন জান্নাতি এক ব্যক্তিকে হাজির করা হইবে, অতঃপর আল্লাহ বলবেনঃ হে বনি আদম তোমার স্থান কেমন পেয়েছ? সে বলবেঃ সবচেয়ে উত্তম, অতঃপর তিনি বলবেনঃ চাও, আশা কর। সে বলবেঃ এ ছাড়া আমি কি চাইব ও কি আশা করব যে, আপনি আমাকে দুনিয়াতে ফিরিয়ে দিন, অতঃপর আপনার রাস্তায় আমি দশবার শহীদ হই, যেহেতু সে শাহাদাতের ফজিলত প্রত্যক্ষ করিবে”। (মুসনাদে আহমদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী ৬৩ – ইব্‌ন ওমর (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ , রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) তার রব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেনঃ “আমার যে কোন বান্দা আমার সন্তুষ্টির নিমিত্তে আমার রাস্তায় জিহাদের জন্য বের হয়, আমি তার জন্য জিম্মাদার যে আমি তাকে তার পাওয়া সওয়াব ও গনিমত পৌঁছে দেব, যদি তাকে মৃত্যু দেই তাহলে তাকে ক্ষমা করব, তাকে রহম করব ও তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাব”। (মুসনাদে আহমদ ও নাসায়ি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ লিগাইরিহি

৩৩. অনুচ্ছেদঃ আয়াতের শানে নুযূল

হাদীসে কুদসী ৬৪ – আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “যখন তোমাদের ভাইয়েরা উহুদের যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন, আল্লাহ তাহাদের রুহগুলো সবুজ পাখির পেটে রাখেন, তারা জান্নাতের নহরসমূহ বিচরণ করে, তার ফল ভক্ষণ করে এবং আরশের ছায়ার নিচে ঝুলন্ত স্বর্ণের প্রদীপে এসে আশ্রয় গ্রহণ করে। যখন তারা নিজেদের সুস্বাদু খাদ্য-পানীয় এবং সুন্দর বিছানা গ্রহণ করিল, বলিলঃ আমাদের হয়ে আমাদের ভাইদেরকে কে পৌঁছাবে যে, আমরা জান্নাতে জীবিত, আমাদেরকে রিযক দেয়া হয়, যেন তারা জিহাদ থেকে পিছপা না হয় এবং যুদ্ধের সময় ভীরুতা প্রদর্শন না করে? আল্লাহ তাআলা বললেনঃ আমি তোমাদের হয়ে তাহাদেরকে পৌঁছে দেব”। তিনি বলেনঃ অতঃপর আল্লাহ তাআলা নাযিল করেনঃ
﴿وَلَا تَحۡسَبَنَّ ٱلَّذِينَ قُتِلُواْ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ أَمۡوَٰتَۢاۚ﴾ إِلَى آخِرِ الْآيَةِ.
“আর যারা আল্লাহর পথে জীবন দিয়েছে, ‎তাহাদেরকে তুমি মৃত মনে করো না সূরা (আলে ইমরানঃ১৬৯)। আয়াতের শেষ পর্যন্ত। (সুনান আবু দাউদও মুসনাদে আহমদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান হাদিস

৩৪. অনুচ্ছেদঃ  আয়াতের আরেকটি শানে নুযূল

হাদীসে কুদসী ৬৫ – জাবের ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) আমার সাথে দেখা করে আমাকে বলেনঃ “হে জাবের কেন তোমাকে বিষণ্ণ দেখছি? আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল আমার পিতা উহুদের দিন শাহাদাত বরণ করেন, তিনি অনেক সন্তান ও ঋণ রেখে গেছেন। তিনি বললেনঃ “আমি কি তোমাকে সুসংবাদ দিব না তোমার পিতার সাথে আল্লাহ কি নিয়ে সাক্ষাত করিয়াছেন?” জাবের বলেন, আমি বললামঃ অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেনঃ আল্লাহ পর্দার আড়াল ব্যতীত কারো সাথে কখনো কথা বলেননি, কিন্তু তোমার পিতাকে জীবিত করে তার সাথে   কথা বলেছেন। তিনি বলেনঃ হে আমার বান্দা আমার নিকট চাও আমি তোমাকে দিব। জবাবে তিনি (আব্দুল্লাহ) বলেনঃ হে আমার রব আমাকে জীবিত করুন, আমি দ্বিতীয়বার আপনার রাস্তায় শহীদ হব। আল্লাহ তাআলা বললেনঃ আমার সিদ্ধান্ত পূর্বে চূড়ান্ত হয়ে গেছে যে, মৃতদের দুনিয়াতে প্রত্যাবর্তন করা হইবে না। তিনি বলেনঃ এবং এ আয়াত নাযিল করা হলঃ

﴿وَلَا تَحۡسَبَنَّ ٱلَّذِينَ قُتِلُواْ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ أَمۡوَٰتَۢاۚ ١٦٩﴾ (ال عمرانঃ ١٦٩)

“আর যারা আল্লাহর পথে জীবন দিয়েছে, ‎তাহাদেরকে তুমি মৃত মনে করো না”। (সূরা আলে ইমরানঃ ১৬৯) (সুনান তিরমিযি ওইবনু মাজাহ) হাদিসটি অন্যান্য শাহেদ তথা সমার্থের বর্ণনার কারণে সহিহ।

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৩৫. অনুচ্ছেদঃ মুমূর্ষু হালত, রুহ বের হওয়া ও জীবন সায়ান্নে সহিহ মুসলিম-কাফিরের অবস্থার বর্ণনাসহ মহান হাদিস

হাদীসে কুদসী ৬৬ – বারা ইব্‌ন আযেব (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ “আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে জনৈক আনসারির জানাজায় বের হলাম, আমরা তার কবরে পৌঁছলাম, তখনো কবর খোঁড়া হয়নি, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বসলেন আমরা তার চারপাশে বসলাম, যেন আমাদের মাথার ওপর পাখি বসে আছে, তার হাতে একটি লাকড়ি ছিল তিনি মাটি খুড়তে ছিলেন, অতঃপর মাথা উঠিয়ে বললেনঃ “তোমরা আল্লাহর নিকট কবরের আযাব থেকে পানাহ চাও, দুইবার অথবা তিনবার (বলিলেন)”। অতঃপর বললেনঃ “নিশ্চয় মুমিন বান্দা যখন দুনিয়া প্রস্থান ও আখেরাতে পা রাখার সন্ধিক্ষণে উপস্থিত হয় তার নিকট আসমান থেকে সাদা চেহারার ফেরেশতাগণ অবতরণ করেন, যেন তাহাদের চেহারা সূর্য। তাহাদের সাথে জান্নাতের কাফন ও জান্নাতের সুগন্ধি থাকে, অবশেষে তারা তার দৃষ্টির সীমা পর্যন্ত বসে যায়। অতঃপর মালাকুল মউত আলাইহিস সালাম এসে তার মাথার নিকট বসেন, তিনি বলেনঃ হে পবিত্র রুহ তুমি আল্লাহর মাগফেরাত ও সন্তুষ্টির প্রতি বের হও”। তিনি বললেনঃ “ফলে রুহ বের হয় যেমন মটকা/কলসি থেকে পানি গড়িয়ে পড়ে। তিনি তা গ্রহণ করেন, যখন গ্রহণ করেন চোখের পলক পরিমাণ তিনি নিজ হাতে না রেখে তৎক্ষণাৎ তা সঙ্গে নিয়ে আসা কাফন ও সুগন্ধির মধ্যে রাখেন, তার থেকে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ঘ্রাণ বের হয় যা দুনিয়াতে পাওয়া যায়”। তিনি বললেনঃ “অতঃপর তাকে নিয়ে তারা ওপরে ওঠে, তারা যখনই অতিক্রম করে তাকে সহ ফেরেশতাহাদের কোন দলের কাছ দিয়ে তখনই তারা বলে, এ পবিত্র রুহ কে? তারা বলেঃ অমুকের সন্তান অমুক, সবচেয়ে সুন্দর নামে ডাকে যে নামে দুনিয়াতে তাকে ডাকা হত, তাকে নিয়ে তারা দুনিয়ার আসমানে পৌঁছে, তার জন্য তারা আসমানের দরজা খোলার অনুরোধ করেন, তাহাদের জন্য দরজা খুলে দেয়া হয়, তাকে প্রত্যেক আসমানের নিকটবর্তীরা পরবর্তী আসমানে অভ্যর্থনা জানিয়ে পৌঁছে দেয়, এভাবে তাকে সপ্তম আসমানে নিয়ে যাওয়া হয়, অতঃপর আল্লাহ বলেনঃ আমার বান্দার দফতর ইল্লিয়্যিনে লিখ এবং তাকে জমিনে ফিরিয়ে দাও, কারণ আমি তা (মাটি) থেকে তাহাদেরকে সৃষ্টি করেছি, সেখানে তাহাদেরকে ফেরৎ দেব এবং সেখান থেকেই তাহাদেরকে পুনরায় উঠাব”। তিনি বলেনঃ “অতঃপর তার রুহ তার শরীরে ফিরিয়ে দেয়া হয়, এরপর তার নিকট দু’জন ফেরেশতা আসবে, তারা তাকে বসাবে অতঃপর বলবেঃ তোমার রব কে? সে বলবেঃ আল্লাহ। অতঃপর তারা বলবেঃ তোমার দ্বীন কি? সে বলবেঃ আমার দ্বীন ইসলাম। অতঃপর বলবেঃ এ ব্যক্তি কে যাকে তোমাদের মাঝে প্রেরণ করা হয়েছিল? সে বলবেঃ তিনি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)। অতঃপর তারা বলবেঃ কিভাবে জানলে? সে বলবেঃ আমি আল্লাহর কিতাব পড়েছি, তাতে ঈমান এনেছি ও তা সত্য জ্ঞান করেছি। অতঃপর এক ঘোষণাকারী আসমানে ঘোষণা দিবেঃ আমার বান্দা সত্য বলেছে, অতএব তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও, তাকে জান্নাতের পোশাক পরিধান করাও এবং তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দাও। তিনি বলেনঃ ফলে তার কাছে জান্নাতের সুঘ্রাণ ও সুগন্ধি আসবে, তার জন্য তার দৃষ্টির সীমা পর্যন্ত তার কবর প্রশস্ত করে দেয়া হইবে। তিনি বলেনঃ তার নিকট সুদর্শন চেহারা, সুন্দর পোশাক ও সুঘ্রাণসহ এক ব্যক্তি আসবে, অতঃপর বলবেঃ সুসংবাদ গ্রহণ কর যা তোমাকে সন্তুষ্ট করিবে তার, এটা তোমার সেদিন যার ওয়াদা করা হত। সে তাকে বলবেঃ তুমি কে, তোমার এমন চেহারা যে শুধু কল্যাণই নিয়ে আসে? সে বলবেঃ আমি তোমার নেক আমল। সে বলবেঃ হে আমার রব, কিয়ামত কায়েম করুন, যেন আমি আমার পরিবার ও সম্পদের কাছে ফিরে যেতে পারি”। তিনি বলেনঃ “আর কাফের বান্দা যখন দুনিয়া থেকে প্রস্থান ও আখেরাতে যাত্রার সন্ধিক্ষণে উপনীত হয়, তার নিকট আসমান থেকে কালো চেহারার ফেরেশতারা অবতরণ করে, তাহাদের সাথে থাকে মুসুহ’ (মোটা-পুরু কাপড়), অতঃপর তারা তার নিকট বসে তার দৃষ্টির সীমা পর্যন্ত, অতঃপর মালাকুল মউত আসেন ও তার মাথার কাছে বসেন। অতঃপর বলেনঃ হে খবিস নফস, আল্লাহর গোস্বা ও গজবের জন্য বের হও। তিনি বলেনঃ ফলে সে তার শরীরে ছড়িয়ে যায়, অতঃপর সে তাকে টেনে বের করে যেমন ভেজা উল থেকে (লোহার) সিক বের করা হয় , অতঃপর সে তা গ্রহণ করে, আর যখন সে তা গ্রহণ করে চোখের পলকের মুহূর্ত হাতে না রেখে ফেরেশতারা তা ঐ মোটা-পুরু কাপড়ে রাখে, তার থেকে মৃত দেহের যত কঠিন দুর্গন্ধ দুনিয়াতে হইতে পারে সে রকমের দুর্গন্ধ বের হয়। অতঃপর তাকে নিয়ে তারা ওপরে উঠে, তাকেসহ তারা যখনই ফেরেশতাহাদের কোন দলের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে তখনই তারা বলে, এ খবিস রুহ কে? তারা বলেঃ অমুকের সন্তান অমুক, সবচেয়ে নিকৃষ্ট নাম ধরে যার মাধ্যমে তাকে দুনিয়াতে ডাকা হত, এভাবে তাকে নিয়ে দুনিয়ার আসমানে যাওয়া হয়, তার জন্য দরজা খুলতে বলা হয়, কিন্তু তার জন্য দরজা খোলা হইবে না”। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) তিলাওয়াত করেনঃ

﴿لَا تُفَتَّحُ لَهُمۡ أَبۡوَٰبُ ٱلسَّمَآءِ وَلَا يَدۡخُلُونَ ٱلۡجَنَّةَ حَتَّىٰ يَلِجَ ٱلۡجَمَلُ فِي سَمِّ ٱلۡخِيَاطِۚ ٤٠﴾ (الاعرافঃ ٤٠)

“তাহাদের জন্য আসমানের দরজাসমূহ খোলা হইবে না ‎এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করিবে না, যতক্ষণ না ‎উট সূঁচের ছিদ্রতে প্রবেশ করে” (সূরা আরাফঃ ৪০) ‎অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলবেনঃ তার আমলনামা জমিনে সর্বনিম্নে সিজ্জিনে লিখ, অতঃপর তার রুহ সজোরে নিক্ষেপ করা হয়। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করেনঃ

﴿وَمَن يُشۡرِكۡ بِٱللَّهِ فَكَأَنَّمَا خَرَّ مِنَ ٱلسَّمَآءِ فَتَخۡطَفُهُ ٱلطَّيۡرُ أَوۡ تَهۡوِي بِهِ ٱلرِّيحُ فِي مَكَانٖ سَحِيقٖ ٣١﴾ (الحج ঃ ٣١)

“আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করে, সে যেন ‎আকাশ থেকে পড়ল। অতঃপর পাখি তাকে ছোঁ ‎‎মেরে নিয়ে গেল কিম্বা বাতাস তাকে দূরের কোন ‎জায়গায় নিক্ষেপ করিল” (সূরা হজঃ ৩১) ‎তার রুহ তার শরীরে ফিরিয়ে দেয়া হয়, অতঃপর তার নিকট দু’জন ফেরেশতা আসে ও তাকে বসায়, তারা তাকে জিজ্ঞাসা করেঃ তোমার রব কে? সে বলেঃ হা হা আমি জানি না। অতঃপর তারা বলেঃ তোমার দ্বীন কি? সে বলেঃ হা হা আমি জানি না। অতঃপর তারা বলেঃ এ ব্যক্তি কে যাকে তোমাদের মাঝে প্রেরণ করা হয়েছিল? সে বলেঃ হা হা আমি জানি না, অতঃপর আসমান থেকে এক ঘোষণাকারী ঘোষণা করিবে যে, সে মিথ্যা বলেছে, তার জন্য জাহান্নামের বিছানা বিছিয়ে দাও, তার দরজা জাহান্নামের দিকে খুলে দাও, ফলে তার নিকট তার তাপ ও বিষ আসবে এবং তার ওপর তার কবর সংকীর্ণ করা হইবে যে, তার পাঁজরের হাড় একটির মধ্যে অপরটি ঢুকে যাবে। অতঃপর তার নিকট বীভৎস চেহারা, খারাপ পোশাক ও দুর্গন্ধসহ এক ব্যক্তি আসবে, সে তাকে বলবেঃ তুমি সুসংবাদ গ্রহণ কর, যা তোমাকে দুঃখ দিবে, এ হচ্ছে তোমার সে দিন যার ওয়াদা করা হত। সে বলবেঃ তুমি কে, তোমার এমন চেহারা যে কেবল অনিষ্টই নিয়ে আসে? সে বলবেঃ আমি তোমার খবিস আমল। সে বলবেঃ হে রব কিয়ামত কায়েম কর না”। (মুসনাদে আহমদ ও আবু দাউদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৩৬. অনুচ্ছেদঃ জান্নাত ও জাহান্নামীদের বর্ণনা

হাদীসে কুদসী ৬৭ – ইয়াদ ইব্‌ন হিমার আল-মুজাশি থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) একদা তার খুতবায় বলেছেনঃ “জেন রেখ আমার রব আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমি তোমাদেরকে শিক্ষা দেই যা তোমরা জান না, যা তিনি আজকের এ দিনে আমাকে শিক্ষা দিয়েছেনঃ আমি আমার বান্দাকে যে সম্পদ দিয়েছি তা হালাল। নিশ্চয় আমি আমার সকল বান্দাকে সৃষ্টি করেছি শির্ক মুক্ত-একনিষ্ঠ, অতঃপর তাহাদের নিকট শয়তান এসে তাহাদেরকে তাহাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করেছে। তাহাদের ওপর সে হারাম করেছে যা আমি তাহাদের জন্য হালাল করেছি। সে তাহাদেরকে নির্দেশ করেছে যেন আমার সাথে শরীক করে, যার সপক্ষে কোন দলিল নাযিল করা হয়নি। নিশ্চয় আল্লাহ জমিনে বাসকারীদের প্রতি দৃষ্টি দিয়েছেন অতঃপর তাহাদের আরব অনারব সবাইর প্রতি তাহাঁর ক্রোধ আসে, অবশিষ্ট কতক কিতাবি  ব্যতীত। তিনি আরও বলেনঃ তোমাকে প্রেরণ করেছি তোমাকে পরীক্ষা করব ও তোমার দ্বারা তাহাদের পরীক্ষা করব এ জন্য। আমি তোমার ওপর এক কিতাব নাযিল করেছি, যা পানি ধুয়ে ফেলবে না, ঘুমন্ত ও জাগ্রত সর্বাবস্থায় তুমি তা তিলাওয়াত করিবে। আর নিশ্চয় আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি কুরাইশদের জ্বালিয়ে দেই। আমি বললামঃ হে আমার রব তাহলে তো তারা আমার মাথা থেঁতলে দিবে, অতঃপর রুটি বানিয়ে ছাড়বে। তিনি বললেনঃ তাহাদেরকে বের কর যেমন তারা তোমাকে বের করেছে, তাহাদের সাথে যুদ্ধ কর আমি তোমার সাথে যুদ্ধ করব, খরচ কর নিশ্চয় আমরা তোমার ওপর খরচ করব। তুমি বাহিনী প্রেরণ কর, আমি তার সমান পাঁচগুণ প্রেরণ করব। যারা তোমার আনুগত্য করেছে তাহাদের নিয়ে যুদ্ধ কর তাহাদের সাথে যারা তোমার অবাধ্য হয়েছে। তিনি বলেনঃ জান্নাতিরা তিন প্রকারঃ (ক). ন্যায়পরায়ণ, সদকাকারী ও তাওফিকপ্রাপ্ত বাদশাহ। (খ). সকল আত্মীয় ও মুসলিমের জন্য দয়াশীল ও নরম হৃদয়ের অধিকারী ব্যক্তি। (গ). অধিক সন্তান-সন্তুতিসম্পন্ন সৎ ও পবিত্র ব্যক্তি। তিনি বলেনঃ জাহান্নামীরা পাঁচ প্রকারঃ (ক). দুর্বল, যার বিচারিক বিবেক নেই, যারা তোমাদের মধ্যে অনুসারী, যারা সন্তান ও সম্পদ আশা করে না। (খ). খিয়ানতকারী, যার খিয়ানত গোপন থাকে না, সামান্য বস্তু হলে তাতেও সে খিয়ানত করে। (গ). এমন ব্যক্তি যে সকাল-সন্ধ্যা তোমার পরিবার ও সম্পদে ধোকা প্রদানে লিপ্ত। (ঘ). তিনি কৃপণতা অথবা মিথ্যার উল্লেখ করিয়াছেন। (ঙ). দুরাচারী অশ্লীল ব্যক্তি”। (সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী ৬৮ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “জান্নাত ও জাহান্নাম তর্ক করেছে, অতঃপর জাহান্নাম বলিলঃ আমাকে অহংকারী ও দাম্ভিক দ্বারা প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। জান্নাত বলিলঃ আমার কি দোষ, আমার এখানে দুর্বল ও পতিত ব্যতীত কেউ প্রবেশ করিবে না! আল্লাহ তাআলা জান্নাতকে বলেনঃ তুমি আমার রহমত, তোমার দ্বারা আমার বান্দাদের থেকে যাকে ইচ্ছা আমি রহম করব। জাহান্নামকে বলেনঃ তুমি আমার শাস্তি, তোমার দ্বারা যাকে ইচ্ছা আমার বান্দাদের থেকে আমি শাস্তি দিব। তোমাদের দু’টির প্রতিটিই পূর্ণ হইতে হইবে (অর্থাৎ উভয়কে পূর্ণ করা হইবে)। জাহান্নাম পূর্ণ হইবে না যতক্ষণ না তাতে আল্লাহর পা রাখা হয়, তখন সে বলবেঃ কত্ কত্ কত্, তখনি জাহান্নাম পূর্ণ হইবে এবং তার এক অংশ অপর অংশে ঢুকে যাবে, আল্লাহ তার কোন মখলুককে যুলম করবেন না। আর জান্নাতের জন্য আল্লাহ নতুন মখলুক সৃষ্টি করবেন”। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৩৭. অনুচ্ছেদঃ দুনিয়ার সুখ ও দুঃখ আখেরাতে মূল্যহীন

হাদীসে কুদসী ৬৯ – আনাস (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “দুনিয়াতে সবচেয়ে বেশী কষ্টভোগকারী জান্নাতিকে হাজির করা হইবে, অতঃপর তিনি বলবেনঃ জান্নাতে তাকে ভালভাবে ঢোকাও, ফলে তাকে তারা ভালভাবে জান্নাতে ঢুকাবে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলবেনঃ হে বনি আদম, তুমি কখনো কষ্ট অথবা তোমার অপছন্দ কিছু দেখেছ? সে বলবেঃ না, তোমার ইজ্জতের কসম আমি কখনো আমার অপছন্দ বস্তু দেখিনি। অতঃপর দুনিয়াতে সবচেয়ে বেশী সুখভোগকারী জাহান্নামীকে হাজির করা হইবে, অতঃপর তিনি বলবেনঃ তাকে ভালভাবে জাহান্নামে ডুবাও, অতঃপর তিনি বলবেনঃ হে বনি আদম, তুমি কখনো কল্যাণ ও আরামদায়ক বস্তু দেখেছ? সে বলবেঃ না, তোমার ইজ্জতের কসম আমি কখনো কল্যাণ ও আরামদায়ক বস্তু দেখেনি”। (সহিহ মুসলিম, মুসনাদে আহমদ ওইবনু মাজাহ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৩৮. অনুচ্ছেদঃ কিয়ামতের দৃশ্য

হাদীসে কুদসী ৭০ আবু সায়িদ খুদরি (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআলা বলবেনঃ হে আদম, সে বলবেঃ সদা উপস্থিত এবং তোমার সন্তুষ্টির জন্য প্রচেষ্টার পর প্রচেষ্টা, কল্যাণ কেবল তোমার হাতেই। তিনি বলবেনঃ জাহান্নামী দল বের কর। তিনি বলবেনঃ জাহান্নামী দল কোনটি? তিনি বলবেনঃ প্রত্যেক হাজার থেকে নয়শত নিরানব্বই জন, তখনি ছোটরা বার্ধক্যে উপনীত হইবে। সকল গর্ভবতী তার গর্ভ পাত করিবে, তুমি দেখবে মানুষরা মাতাল, অথচ তাহাদের সাথে মাতলামি নেই, কিন্তু আল্লাহর শাস্তি খুব কঠিন। তারা বলিলঃ হে আল্লাহর রাসূল আমাদের থেকে সে একজন কে? তিনি বললেনঃ “সুসংবাদ গ্রহণ কর, তোমাদের থেকে একজন ও ইয়াজুজ-মাজুজ থেকে এক হাজার। অতঃপর তিনি বলেনঃ যার হাতে আমার নফস তার কসম করে বলছিঃ আমি আশা করি তোমরা জান্নাতিদের এক চতুর্থাংশ হইবে”। আমরা তাকবীর বলে উঠলাম। তিনি বললেনঃ “আমি আশা করছি তোমরা জান্নাতের এক তৃতীয়াংশ হইবে”। আমরা তাকবীর বললাম। তিনি বললেনঃ “আমি আশা করছি তোমরা জান্নাতের অর্ধেক হইবে”। আমরা তাকবীর বললাম। তিনি বললেনঃ “মানুষের ভিতরে তোমরা সাদা ষাঁড়ের গায়ে একটি কালো চুলের ন্যায়, অথবা কালো ষাঁড়ের গায়ের একটি সাদা চুলের ন্যায়”। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম ও নাসায়ি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৩৯. অনুচ্ছেদঃ মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কিয়ামতের দিন তার বিপক্ষে সাক্ষ্য দিবে

হাদীসে কুদসী ৭১ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ “তারা বলিলঃ হে আল্লাহর রাসূল কিয়ামতের দিন আমরা কি আমাদের রবকে দেখব? তিনি বললেনঃ “তোমরা কি ভর দুপুরে মেঘ মুক্ত আকাশে সূর্য দেখায় সন্দেহ কর? তারা বলিলঃ না। তিনি বললেনঃ তোমরা কি চৌদ্দ তারিখের রাতে মেঘহীন আকাশে চাঁদ দেখায় সন্দেহ কর? তারা বলিলঃ না। তিনি বললেনঃ তার সত্ত্বার কসম যার হাতে আমার নফস, তোমরা তোমাদের রবকে দেখায় সন্দেহ করিবে না, যেমন তোমরা সন্দেহ কর না সূর্য-চাঁদ কোনো একটি দেখার ক্ষেত্রে। তিনি বলেনঃ আল্লাহ বান্দার সাথে সাক্ষাত করবেন অতঃপর বলবেনঃ হে অমুক আমি কি তোমাকে সম্মানিত করি নি, তোমাকে নেতৃত্ব দেই নি, তোমাকে বিয়ে করাই নি এবং তোমার জন্য ঘোড়া ও উট অনুগত করে দেইনি, আমি কি তোমাকে সুযোগ দেই নি তুমি নেতৃত্ব দিয়েছ ও ভোগ করেছ? সে বলবেঃ অবশ্যই। তিনি বলেনঃ অতঃপর তিনি বলবেনঃ তুমি কি ভেবেছ আমার সাথে তুমি সাক্ষাতকারী? সে বলবেঃ না। অতঃপর তিনি বলবেনঃ নিশ্চয় আমি তোমাকে ছেড়ে দেব যেমন তুমি আমাকে ছেড়ে গিয়েছিলে। অতঃপর দ্বিতীয় ব্যক্তির সাথে সাক্ষাত করবেন এবং বলবেনঃ হে অমুক আমি কি তোমাকে সম্মানিত করি নি, তোমাকে নেতৃত্ব দেই নি, তোমাকে বিয়ে করাই নি এবং তোমার জন্য ঘোড়া ও উট অনুগত করে দেইনি, আমি কি তোমাকে সুযোগ দেই নি তুমি নেতৃত্ব দিয়েছ ও ভোগ করেছ? সে বলবেঃ অবশ্যই হে আমার রব। তিনি বলেনঃ অতঃপর তিনি বলবেনঃ তুমি কি ভেবেছ আমার সাথে তুমি সাক্ষাতকারী? সে বলবেঃ না। অতঃপর তিনি বলবেনঃ নিশ্চয় আমি তোমাকে ছেড়ে দেব যেমন তুমি আমাকে ছেড়ে গিয়েছিলে। অতঃপর তৃতীয় ব্যক্তির সাথে সাক্ষাত করবেন, তাকেও অনুরূপ বলবেন, সে বলবেঃ হে আমার রব আমি তোমার ওপর, তোমার কিতাব ও রাসূলদের ওপর ঈমান এনেছি, সালাত আদায় করেছি, সিয়াম পালন করেছি, সদকা করেছি, সে ইচ্ছামত গুণাগুণ বর্ণনা করিবে। তিনি বলবেনঃ তাহলে অপেক্ষা কর, তিনি বলেনঃ অতঃপর তাকে বলা হবেঃ এখন আমি তোমার বিপক্ষে আমার সাক্ষী উপস্থিত করছি। সে অন্তরে চিন্তা করিবে আমার বিপক্ষে কে সাক্ষী দিবে, তখন তার মুখে কুলুপ এঁটে দেয়া হইবে, এবং তার রান, গোস্ত ও হাড্ডিকে বলা হবেঃ কথা বল, ফলে তার রান, গোস্ত ও হাড্ডি তার আমলের বর্ণনা দিবে। আর এটা এ জন্যে যে, যেন সে লোক আল্লাহর কাছে ওজর পেশ করতে না পারে, সে হচ্ছে মুনাফিক, তার ওপরই আল্লাহর অসন্তুষ্টি আরোপ হইবে”। (সহিহ মুসলিম ও আবু দাউদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী ৭২ – আনাস ইব্‌ন মালিক (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ “আমরা একদা নবী (সাঃআঃ)ের নিকট ছিলাম, তিনি হঠাৎ হাসলেন। তিনি বললেনঃ “তোমরা জান কেন হেসেছি?”, তিনি বলেনঃ আমরা বললামঃ আল্লাহ এবং তার রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ “(আমি হেসেছি) বান্দার তার রবকে পাল্টা প্রশ্ন করা থেকে। সে বলবেঃ হে আমার রব, আপনি কি আমাকে যুলম থেকে নাজাত দেননি?” তিনি বলেনঃ “আল্লাহ বলবেনঃ অবশ্যই”। তিনি বলেনঃ “অতঃপর সে বলবেঃ আমার বিপক্ষে আমার অংশ ব্যতীত অন্য কোন সাক্ষী মানি না”। তিনি বলেনঃ “আল্লাহ্ বলবেনঃ সাক্ষী হিসেবে আজ তোমার জন্য তুমিই যথেষ্ট, আর দর্শক হিসেবে কিরামুন কাতেবিন যথেষ্ট”। তিনি বলেনঃ “অতঃপর তার মুখে মোহর এঁটে দেয়া হইবে, তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে বলা হইবে, বল”। তিনি বলেনঃ “ফলে অঙ্গসমূহ তার আমলের বর্ণনা দিবে”। তিনি বলেনঃ “অতঃপর সে বলবেঃ তোমরা দূর হও, নিপাত যাও তোমরা, তোমাদের পক্ষেই তো আমি সংগ্রাম করতাম”। (সহিহ মুসলিম ও নাসায়ি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৪০. অনুচ্ছেদঃ আল্লাহ তাআলার বাণীঃ

হাদীসঃ ৭৩ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ “আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)কে বলিতে শুনেছিঃ আল্লাহ তাআলা জমিন তাহাঁর হাতের মুঠোয় গ্রহণ করবেন, আর আসমান তার ডান হাতে মুড়িয়ে নিবেন, অতঃপর বলবেনঃ আমিই বাদশাহ, দুনিয়ার বাদশাহরা কোথায়?”। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম ওইবনু মাজাহ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী ৭৪ – ইব্‌ন ওমর (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “কিয়ামতের দিন আল্লাহ জমিন হাতের মুঠোয় গ্রহণ করবেন, আর আসমান তার ডান হাতে থাকিবে, অতঃপর তিনি বলবেনঃ আমিই বাদশাহ”। (সহিহ বুখারি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী ৭৫ – উবাইদুল্লাহ ইব্‌ন মিকসাম থেকে বর্ণিতঃ সে আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ওমরকে লক্ষ্য করেছে কিভাবে তিনি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-কে বর্ণনা দেন, তিনি (নবী-সা.) বলেনঃ “আল্লাহ তাআলা আসমান ও জমিন তার দু’হাতে পাকড়াও করবেন, অতঃপর বলবেনঃ আমি আল্লাহ, (তিনি হাতের আঙুলগুলো মুষ্টিবদ্ধ ও প্রসারিত করছিলেন), আমিই বাদশাহ”। আমি মিম্বারের দিকে দেখলাম একেবারে নিচ থেকে নড়ছে, এমনকি মনে হচ্ছিল মিম্বার কি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-কে নিয়ে পড়ে যাবে”। সহিহ মুসলিম,ইবনু মাজাহ ও নাসায়ি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৪১. অনুচ্ছেদঃ কতক জাহান্নামীর জাহান্নাম থেকে বের হওয়া

হাদীসঃ ৭৬ – আনাস ইব্‌ন মালিক (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “জাহান্নাম থেকে চারজন বের হইবে, তাহাদেরকে আল্লাহর সামনে হাজির করা হইবে, অতঃপর তিনি তাহাদেরকে জাহান্নামের নির্দেশ দিবেন, ফলে তাহাদের একজন পিছন ফিরে তাকাবে এবং বলবেঃ হে আমার রব, আমি আশা করেছিলাম যদি সেখান থেকে আমাকে বের করেন, সেখানে আমাকে ফিরিয়ে দিবেন না, ফলে তিনি বলবেনঃ আমি তোমাকে সেখানে ফিরিয়ে দিব না”। (মুসনাদে আহমদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৪২. অনুচ্ছেদঃ কিয়ামতের দিন নিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ

হাদীসে কুদসী ৭৭ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হইবে, -অর্থাৎ বান্দাকে- তা হচ্ছে নিয়ামত, তাকে বলা হইবে যেঃ আমি কি তোমার শরীর সুস্থ করিনি, আমি কি তোমাকে ঠাণ্ডা পানি পান করাই নি”। (সুনান তিরমিযি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৪৩. অনুচ্ছেদঃ পরকালের আমলে অলসতাকারীর জন্য হুশিয়ারি

হাদীসঃ ৭৮ – আবু হুরাইরা ও আবু সায়িদ খুদরি (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তারা বলেনঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “কিয়ামতের দিন বান্দাকে উপস্থিত করা হইবে, অতঃপর আল্লাহ তাকে বলবেনঃ আমি কি তোমাকে কান, চোখ, সম্পদ ও সন্তান দেই নি? এবং তোমার জন্য চতুষ্পদ জন্তু ও কৃষি অনুগত করে দিয়েছি। আর তোমাকে দিয়েছি নেতৃত্ব দেয়া ও ভোগ করার সুযোগ, (এত কিছুর পর) তুমি কি চিন্তা করেছ তোমার এ দিনে আমার সাথে সাক্ষাত করিবে?” রাসূল বলেনঃ “সে বলবেঃ না, অতঃপর তিনি তাকে বলবেনঃ আজ আমি তোমাকে ছেড়ে যাব, যেমন তুমি আমাকে ভুলে গিয়েছিলে”। (সুনান তিরমিযি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান হাদিস

৪৪. অনুচ্ছেদঃ আখেরাতে মুমিনগণ রবের দর্শন লাভ করিবে

হাদীসে কুদসী ৭৯ – আবু সায়িদ খুদরি (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ “আমরা বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল কিয়ামতের দিন আমরা কি আমাদের রবকে দেখব? তিনি বলেনঃ “তোমরা কি সূর্য ও চাঁদ দেখায় সন্দেহ কর যখন আসমান পরিষ্কার থাকে?”, আমরা বললামঃ না, তিনি বললেনঃ “নিশ্চয় সেদিন তোমরা তোমাদের রবকে দেখায় সন্দেহ করিবে না, যেমন চাঁদ-সূর্য উভয়কে দেখায় সন্দেহ কর না”। অতঃপর বললেনঃ “একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেঃ প্রত্যেক সম্প্রদায় যেন তার নিকট যায়, যার তারা ইবাদত করত, ক্রুসের অনুসারীরা তাহাদের ক্রুসের সাথে যাবে; মূর্তিপূজকরা তাহাদের মূর্তির সাথে যাবে; এবং প্রত্যেক মাবুদের ইবাদতকারীরা তাহাদের মাবুদের সাথে যাবে। অবশেষে আল্লাহকে ইবাদতকারী নেককার অথবা বদকার লোকেরা অবশিষ্ট থাকিবে এবং কতক কিতাবি, অতঃপর জাহান্নাম হাজির করা হইবে যেন তা মরীচিকা। অতঃপর ইহুদিদের বলা হবেঃ তোমরা কার ইবাদত করতে? তারা বলবেঃ আমরা আল্লাহর ছেলে উযাইর এর ইবাদত করতাম, অতঃপর তাহাদেরকে বলা হবেঃ তোমরা মিথ্যা বলেছ, আল্লাহর কোন স্ত্রী ও সন্তান নেই, তোমরা কি চাও? তারা বলবেঃ আমরা চাই আমাদেরকে পানি পান করান, বলা হবেঃ তোমরা পান কর, ফলে তারা জাহান্নামে ছিটকে পড়বে। অতঃপর খৃস্টানদের বলা হবেঃ তোমরা কার ইবাদত করতে? তারা বলবেঃ আমরা আল্লাহর ছেলে ঈসার ইবাদত করতাম, বলা হবেঃ তোমরা মিথ্যা বলেছ, আল্লাহর কোন স্ত্রী ও সন্তান নেই, তোমরা কি চাও? তারা বলবেঃ আমরা চাই আমাদের পানি পান করান। বলা হবেঃ পান কর, ফলে তারা জাহান্নামে ছিটকে পড়বে, অবশেষে আল্লাহকে ইবাদতকারী নেককার ও বদকার অবশিষ্ট থাকিবে, তাহাদেরকে বলা হবেঃ কে তোমাদেরকে আটকে রেখেছে অথচ লোকেরা চলে গেছে? তারা বলবেঃ আমরা তাহাদেরকে (দুনিয়াতে) ত্যাগ করেছি, আজ আমরা তার (আমাদের রবের) বেশী মুখাপেক্ষী, আমরা এক ঘোষণাকারীকে ঘোষণা করতে শুনেছিঃ প্রত্যেক কওম যেন তার সাথেই মিলিত হয়, যার তারা ইবাদত করত, তাই আমরা আমাদের রবের অপেক্ষা করছি। তিনি বলেনঃ অতঃপর আল্লাহ তাহাদের নিকট আসবেন ভিন্ন সুরুতে, যে সুরুতে প্রথমবার তারা তাকে দেখেনি। তিনি বলবেনঃ আমি তোমাদের রব। তারা বলবেঃ আপনি আমাদের রব, নবীগণ ব্যতীত তার সাথে কেউ কথা বলবে না। তিনি বলবেনঃ তোমাদের ও তার মাঝে কোন নিদর্শন আছে যা তোমরা চিন? তারা বলবেঃ পায়ের গোছা, ফলে তিনি তার গোছা উন্মুক্ত করবেন, প্রত্যেক মুমিন তাকে সেজদা করিবে, তবে যে লোকদেখানো কিংবা লোকদের শোনানোর জন্য সেজদা করত সে অবশিষ্ট থাকিবে। সে সেজদা করতে চাইবে কিন্তু তার পিঠ উল্টো সোজা খাড়া হয়ে যাবে। অতঃপর পুল আনা হইবে এবং তা জাহান্নামের ওপর রাখা হইবে। আমরা বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল পুল কি? তিনি বললেনঃ পদস্খলনের স্থান, তার ওপর রহিয়াছে ছো মারা হুক, পেরেক, বিশাল বড়শি যার রহিয়াছে বড় কাঁটা যেরূপ নজদ এলাকায় হয়, যা সাদান বলা হয়। তার ওপর দিয়ে মুমিনগণ চোখের পলক, বিদ্যুৎ, বাতাস, শক্তিশালী ঘোড়া ও পায়দল চলার ন্যায় পার হইবে, কেউ নিরাপদে নাজাত পাবে, কেউ ক্ষতবিক্ষত হয়ে নাজাত পাবে এবং কেউ জাহান্নামে নিক্ষেপ হইবে, অবশেষে যখন তাহাদের সর্বশেষ ব্যক্তি অতিক্রম করিবে তখন তাকে টেনে হিছড়ে পার করা হইবে। আর কোন সত্য বিষয়ে তোমরা আমার নিকট এতটা পীড়াপীড়ি কর না, -তোমাদের নিকট যা স্পষ্ট হয়েছে- মুমিনগণ সেদিন আল্লাহর নিকট যতটা পীড়াপীড়ি করিবে, যখন দেখবে যে তাহাদের ভাইদের মধ্যে শুধু তারাই নাজাত পেয়েছে, তারা বলবেঃ হে আমাদের রব, আমাদের ভাইয়েরা আমাদের সাথে সালাত আদায় করত, আমাদের সাথে সিয়াম পালন করত এবং আমাদের সাথে আমল করত। আল্লাহ তাআলা বলবেনঃ যাও যার অন্তরে তোমরা দিনার পরিমাণ ঈমান দেখ তাকে বের কর। আল্লাহ তাহাদের আকৃতিকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দিবেন। তারা তাহাদের নিকট আসবে, তাহাদের কেউ পা পর্যন্ত অদৃশ্য হয়ে গেছে, কেউ গোছার অর্ধেক পর্যন্ত, তারা যাদেরকে চিনবে বের করে আনবে। অতঃপর ফিরে আসবে, আল্লাহ বলবেনঃ যাও, যার অন্তরে তোমরা অর্ধেক দিনার পরিমাণ ঈমান দেখ তাকে বের কর, তারা যাকে চিনবে বের করে আনবে। অতঃপর ফিরে আসবে, আল্লাহ বলবেনঃ যাও যার অন্তরে তোমরা অণু পরিমাণ ঈমান দেখ তাকে বের কর, ফলে তারা যাকে চিনবে বের করিবে”। আবু সায়িদ বলেনঃ যদি তোমরা আমাকে সত্য জ্ঞান না কর, তাহলে পড়ঃ
﴿ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَظۡلِمُ مِثۡقَالَ ذَرَّةٖۖ وَإِن تَكُ حَسَنَةٗ يُضَٰعِفۡهَا ٤٠ ﴾ (النساء ঃ ٤٠)
“নিশ্চয় আল্লাহ অণু পরিমাণও যুলম করেন না। ‎আর যদি সেটি ভাল কাজ হয়, তিনি তাকে দ্বিগুণ ‎করে দেন এবং তাহাঁর পক্ষ থেকে মহা প্রতিদান ‎প্রদান করেন” (সূরা নিসাঃ ৪০) অতঃপর নবী, ফেরেশতা ও মুমিনগণ সুপারিশ করবেন। আল্লাহ বলবেনঃ আমার সুপারিশ বাকি রহিয়াছে, অতঃপর জাহান্নাম থেকে এক মুষ্টি গ্রহণ করবেন, ফলে এমন লোক বের করবেন যারা জ্বলে গিয়েছে, তাহাদেরকে জান্নাতের দরজার নিকট অবস্থিত নহরে নিক্ষেপ করা হইবে, যাকে বলা হয় সঞ্জীবনী পানি, ফলে তার দু’পাশে গজিয়ে উঠবে যেমন প্রবাহিত পানির উর্বর মাটিতে শস্য গজিয়ে উঠে, যা তোমরা দেখেছ পাথর ও গাছের পাশে, তার থেকে যা সূর্যের দিকে তা সবুজ এবং যা ছায়ার আড়ালে তা সাদা, অতঃপর তারা মুক্তোর ন্যায় বের হইবে। অতঃপর তাহাদের গর্দানে সীলমোহর দয়া হইবে, অতঃপর তারা জান্নাতে প্রবেশ করিবে, জান্নাতিরা বলবেঃ তারা হচ্ছে রহমানের নাজাতপ্রাপ্ত, তাহাদেরকে তিনি জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছেন কোন আমলের বিনিময়ে নয়, যা তারা করেছে, বা কোন কল্যাণের বিনিময়ে নয় যা তারা অগ্রে প্রেরণ করেছে। অতঃপর তাহাদেরকে বলা হবেঃ তোমাদের জন্য তোমরা যা দেখেছ তা এবং তার সাথে তার অনুরূপ”। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী ৮০ – আবু যুবায়ের থেকে বর্ণিতঃ তিনি জাবের ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (রাদিআল্লাহু আঃ)কে শুনেছেন, তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল ওরুদ’ (বা জাহান্নামে নামা) সম্পর্কে, তিনি বলেনঃ আমরা কিয়ামতের দিন অমুক অমুক স্থান থেকে হাজির হব, দেখ অর্থাৎ মানুষের ওপরে, তিনি বলেনঃ লোকদেরকে তাহাদের মূর্তিসহ ডাকা হইবে এবং তারা যার ইবাদত করত। প্রথম অতঃপর প্রথম ধারাবাহিকভাবে, অতঃপর আমাদের রব আসবেন এবং বলবেনঃ তোমরা কার অপেক্ষা করছ? তারা বলবেনঃ আমরা আমাদের রবের অপেক্ষা করছি, তিনি বলবেনঃ আমি তোমাদের রব, তারা বলবেঃ যতক্ষণ না আমরা আপনাকে দেখব, ফলে তিনি তাহাদের সামনে জাহির হইবেন সহাস্যে”। রাসূল বলেনঃ “অতঃপর তিনি তাহাদের নিয়ে চলবেন, তারাও তার অনুসরণ করিবে। তাহাদের প্রত্যেক ব্যক্তিকে নূর দেয়া হইবে, কি মুনাফিক কি মুমিন, অতঃপর তারা তার অনুসরণ করিবে, জাহান্নামের পুলে থাকিবে হুক ও বড়শিসমূহ, সেগুলো পাকড়াও করিবে আল্লাহ যাকে চাইবেন তাকে, অতঃপর আল্লাহ তাআলা মুনাফিকদের নূর নিভিয়ে দিবেন, মুমিনগণ নাজাত পাবে, প্রথম দলটি নাজাত পাবে তাহাদের চেহারা হইবে চৌদ্দ তারিখের চাঁদের ন্যায়, শত্তুর হাজার এমন হইবে যাদের কোন হিসাব নেয়া হইবে না। অতঃপর তাহাদের পরবর্তীরা হইবে আসমানের সবচেয়ে উজ্জল তারকার ন্যায়, অতঃপর অনুরূপ, অতঃপর সুপারিশ আরম্ভ হইবে এবং তারা সুপারিশ করিবে, অবশেষে যে لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ বলেছে এবং যার অন্তরে গমের ওজন পরিমাণ কল্যাণ ছিল সেও জাহান্নাম থেকে বের হইবে। তাহাদেরকে জান্নাতের বারান্দায় রাখা হইবে, জান্নাতিরা তাহাদের ওপর পানি ঢালতে থাকিবে, অবশেষে তারা পানি প্রবাহের স্থানে শস্য গজানোর ন্যায় বেড়ে উঠবে, তাহাদের পোড়াদাগ চলে যাবে, অতঃপর প্রার্থনা করা হইবে, এমনকি তাকে দুনিয়া ও দুনিয়ার সমান দশগুণ দেয়া হইবে”। (সহিহ মুসলিম ও মুসনাদে আহমদ) হাদিসটি মওকুফ ও সহিহ।

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ মাওকুফ

৪৫. অনুচ্ছেদঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর আল্লাহর নিয়ামত

হাদীসে কুদসী ৮১ – ইব্‌ন আব্বাস (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আমি আমার রবকে একটি বিষয় জিজ্ঞাসা করেছি, আফসোস আমি যদি তা জিজ্ঞাসা না করতাম। আমি বলেছিঃ হে আমার রব আমার পূর্বে অনেক রাসূল ছিল, তাহাদের কারো জন্য বাতাস অনুগত করে দেয়া হয়েছে, তাহাদের কেউ মৃতদের জীবিত করত। আল্লাহ্‌ বলেনঃ আমি কি তোমাকে ইয়াতিম পাই নি অতঃপর আশ্রয় দিয়েছি? আমি কি তোমাকে পথভোলা পাই নি অতঃপর পথ দেখিয়েছি? আমি কি তোমাকে অভাবী পাই নি অতঃপর তোমাকে সচ্ছল করেছি? আমি কি তোমার বক্ষ উন্মুক্ত করি নি? আমি কি তোমার থেকে বোঝা দূর করি নি? রাসূল বলেনঃ আমি বলেছিঃ অবশ্যই হে আমার রব”। (তাবরানি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান হাদিস

৪৬. অনুচ্ছেদঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাউজ

হাদীসঃ ৮২ – আনাস (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “অবশ্যই আমার কতক লোক হাউজে আমার নিকট হাজির হইবে, অবশেষে যখন আমি তাহাদেরকে চিনব আমার পিছন থেকে তাহাদেরকে ছো মেরে নেয়া হইবে, আমি বলবঃ আমার লোক। আমাকে (আল্লাহ্) বলবেনঃ আপনি জানেন না আপনার পর তারা কি আবিষ্কার করেছে”। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী ৮৩ – আয়েশা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)কে বলিতে শুনিয়াছি, যখন তিনি তার সাথীদের মাঝে ছিলেনঃ “আমি হাউজের ওপর থাকব, অপেক্ষা করব তার জন্য যে তোমাদের থেকে আমার কাছে আসবে। আল্লাহর শপথ আমার থেকে কতক লোক বিচ্ছিন্ন করা হইবে, আমি বলবঃ হে আমার রব (তারা) আমার ও আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত, তিনি বলবেনঃ তুমি জান না তোমার পর তারা কি করেছে, তারা তাহাদের পশ্চাতেই ধাবিত ছিল”। (সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৪৭. অনুচ্ছেদঃ হাউজে কাউসার

হাদীসঃ ৮৪ – আনাস ইব্‌ন মালিক (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ “একদা রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) আমাদের মাঝে ছিলেন, হঠাৎ তিনি তন্দ্রা গেলেন, অতঃপর হাসতে হাসতে মাথা তুললেন। আমরা বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল কিসে আপনাকে হাসাচ্ছে?! তিনি বললেনঃ “এ মুহূর্তে আমার ওপর একটি সূরা নাযিল করা হয়েছে, অতঃপর তিনি পড়লেনঃ
﴿إِنَّآ أَعۡطَيۡنَٰكَ ٱلۡكَوۡثَرَ ١ فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَٱنۡحَرۡ ٢ إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ ٱلۡأَبۡتَرُ ٣﴾ (الكوثرঃ ١، ٤)
“নিশ্চয় আমি তোমাকে আল-কাউসার দান ‎করেছি। অতএব তোমার রবের উদ্দেশ্যেই সালাত ‎পড় এবং নহর কর। নিশ্চয় তোমার প্রতি শত্রুতা পোষণকারীই ‎নির্বংশ” (সূরা কাউসারঃ ১-৩) অতঃপর তিনি বললেনঃ “তোমরা জান কাউসার কি?” আমরা বললামঃ আল্লাহ ও তার রাসূল ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ “এটা একটা নহর, এর ওয়াদা আল্লাহ আমার নিকট করিয়াছেন, তাতে রহিয়াছে প্রচুর কল্যাণ। এটা এক হাউজ তাতে আমার উম্মত গমন করিবে, তার পাত্রগুলো নক্ষত্রের সংখ্যার ন্যায়, তাহাদের থেকে এক বান্দাকে ছো মেরে নেয়া হইবে, আমি বলবঃ হে আমার রব, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত, তিনি বলবেনঃ তুমি জান না তোমার পর তারা কি আবিষ্কার করেছে”। (সহিহ মুসলিম ও আবু দাউদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৪৮. অনুচ্ছেদঃ সুপারিশের হাদিস

হাদীসে কুদসী ৮৫ – মাবাদ ইব্‌ন হিলাল আনাজি থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমরা বসরার কতক লোক একসাথে আনাস ইব্‌ন মালেকের নিকট গেলাম। আমরা আমাদের সাথে সাবেত আল-বুনানিকে নিয়ে গেলাম, যেন সে আমাদের পক্ষে তাকে সুপারিশের হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তিনি বাড়িতেই ছিলেন, আমরা তাকে দোহা (চাশতে)র সালাত আদায় করতে পেলাম। আমরা অনুমতি চাইলাম, তিনি আমাদেরকে অনুমতি দিলেন, তিনি বিছানায় উপবিষ্ট ছিলেন। আমরা সাবেতকে বললামঃ সুপারিশের হাদিসের পূর্বে কোন বিষয় সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করবেন না, তিনি বললেনঃ হে আবু হামযাহ, তারা আপনার ভাই বসরার অধিবাসী, তারা আপনার নিকট এসেছে সুপারিশের হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য। অতঃপর তিনি বললেনঃ মুহাম্মদ (সাঃআঃ) আমাদেরকে বলেছেনঃ “যখন কিয়ামতের দিন হইবে মানুষ ভীড়ে ঠাসাঠাসি করিবে, অতঃপর তারা আদম আলাইহিস সালামের নিকট আসবে ও বলবেঃ আমাদের জন্য আপনার রবের নিকট সুপারিশ করুন, তিনি বলবেনঃ আমি এর উপযুক্ত নই, তবে তোমরা ইবরাহিমের নিকট যাও, কারণ তিনি রহমানের খলিল। তারা ইবরাহিমের নিকট আসবে, তিনি বলবেনঃ আমি এ জন্য নই, তবে তোমরা মুসার নিকট যাও, কারণ তিনি আল্লাহর সাথে কথোপকথনকারী। তারা মুসার নিকট আসবে, তিনি বলবেনঃ আমি এ জন্য নই, তবে তোমরা ঈসার নিকট যাও, কারণ তিনি আল্লাহর (পক্ষ থেকে বিশেষ) রূহ ও তার বাণী। তারা ঈসার নিকট আসবে, অতঃপর তিনি বলবেনঃ আমি এ জন্য নই, তবে তোমরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যাও, অতঃপর তারা আমার নিকট আসবে, আমি বলবঃ আমি এ জন্য, আমি আমার রবের নিকট অনুমতি প্রার্থনা করব, আমাকে অনুমতি দেয়া হইবে, তিনি আমাকে প্রশংসার বাক্য শিক্ষা দিবেন যা দ্বারা আমি তার প্রশংসা করব, যা এখন আমার স্মরণ নেই। আমি তার প্রশংসা করব ও সেজদায় লুটিয়ে পড়ব, তিনি বলবেনঃ হে মুহাম্মদ মাথা উঠাও, তুমি বল তোমার কথা শোনা হইবে, তুমি চাও তোমাকে দেয়া হইবে, তুমি সুপারিশ কর তোমার সুপারিশ গ্রহণ করা হইবে। আমি বলবঃ হে আমার রব, আমার উম্মত, আমার উম্মত। তিনি বলবেনঃ যাও, সেখান থেকে বের কর যার অন্তরে গমের ওজন বরাবর ঈমান রহিয়াছে, আমি যাব ও অনুরূপ করব। অতঃপর ফিরে আসব ও সে প্রশংসার বাক্য দ্বারা তার প্রশংসা করব, অতঃপর তার সেজদায় লুটিয়ে পড়ব, অতঃপর বলা হবেঃ হে মুহাম্মদ মাথা উঠাও, বল তোমার কথা শোনা হইবে, চাও তোমাকে দেয়া হইবে, সুপারিশ কর তোমার সুপারিশ গ্রহণ করা হইবে। আমি বলবঃ হে আমার রব, আমার উম্মত, আমার উম্মত। তিনি বলবেনঃ যাও, সেখান থেকে বের কর যার অন্তরে অণু অথবা সরিষা পরিমান ঈমান রহিয়াছে, আমি যাব ও অনুরূপ করব। অতঃপর ফিরে এসে সে বাক্য দ্বারা তার প্রশংসা করব অতঃপর সেজদায় লুটিয়ে পড়ব, বলা হবেঃ হে মুহাম্মদ মাথা উঠাও, বল তোমার কথা শোনা হইবে, চাও তোমাকে দেয়া হইবে, সুপারিশ কর কবুল করা হইবে, অতঃপর আমি বলবঃ হে আমার রব, আমার উম্মত, আমার উম্মত। তিনি বলবেনঃ যাও, বের কর যার অন্তরে সরিষার অণু অণু অণু পরিমাণ ঈমান রহিয়াছে, অতএব আমি তাকে জাহান্নাম থেকে বের করব, আমি যাব ও অনুরূপ করব”। আমরা যখন আনাসের কাছ থেকে প্রস্থান করলাম, আমি আমাদের কতক সাথীকে বললামঃ আমরা যদি হাসান বসরি হয়ে যাই, তার নিকট আনাসের হাদিস বর্ণনা করি! তখন তিনি আবু খলিফার ঘরে আত্মগোপন করে ছিলেন, আমরা তার নিকট আসলাম, তাকে সালাম করলাম, তিনি আমাদেরকে অনুমতি দিলেন, আমরা তাকে বললামঃ হে আবু সায়িদ, আমরা আপনার নিকট আপনার ভাই আনাস ইব্‌ন মালেকের কাছ থেকে এসেছি, তিনি আমাদেরকে সুপারিশ সম্পর্কে যা শুনিয়েছেন তা কখনো শুনেনি। তিনি বললেনঃ বল, আমরা তাকে হাদিস বললাম, এখানে এসে শেষ করলাম। তিনি বললেনঃ বল, আমরা বললাম এরচেয়ে বেশী বলেন নি। তিনি বললেনঃ তিনি আমাকে বলেছেন পূর্ণ বিশ বছর পূর্বে, জানি না তিনি ভুলে গেছেন বা তোমাদের (পক্ষ থেকে কম আমলের উপর) নির্ভর করে থাকাকে অপছন্দ করিয়াছেন। আমরা বললামঃ হে আবু সায়িদ আপনি আমাদেরকে বলুন, তিনি হাসলেন ও বললেনঃ মানুষকে তড়িৎ প্রবণ করে সৃষ্টি করা হয়েছে, আমি তো তোমাদেরকে বলার জন্যই বলেছি। তিনি আমাকে বলেছেন যেমন তোমাদেরকে তা বলেছেন। তিনি বলেনঃ “অতঃপর আমি চতুর্থবার ফিরব এবং সে বাক্য দ্বারা তার প্রশংসা করব, অতঃপর তার সেজদায় লুটিয়ে পড়ব, বলা হবেঃ হে মুহাম্মদ, মাথা উঠাও, বল শোনা হইবে, চাও দেয়া হইবে, সুপারিশ কর কবুল করা হইবে। আমি বলবঃ হে আমার রব, যারা বলেছে لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ তাহাদের ব্যাপারে আমাকে অনুমতি দিন। তিনি বলবেনঃ আমার ইজ্জত, বড়ত্ব, মহত্ত্ব ও সম্মানের কসম, অবশ্যই আমি তাকে বের করব, لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ যে বলেছে”। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৪৯. অনুচ্ছেদঃ উম্মতে মুহাম্মাদির ফযিলত

হাদীসে কুদসী ৮৬ – আবু সায়িদ খুদরি (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “কিয়ামতের দিন নুহ আলাইহিস সালামকে ডাকা হইবে, তিনি বলবেনঃ সদা উপস্থিত, আপনার সন্তুষ্টি বিধানে আমি সদা তৎপর হে আমার রব, তিনি বলবেনঃ তুমি পৌঁছিয়েছ? তিনি বলবেনঃ হ্যাঁ, তার উম্মতকে বলা হবেঃ সে তোমাদের পৌঁছিয়েছে? তারা বলবেঃ আমাদের নিকট কোন সতর্ককারী আসে নি। তিনি বলবেনঃ তোমার জন্য কে সাক্ষী দিবে? তিনি বলবেনঃ মুহাম্মদ ও তার উম্মত, অতঃপর তারা সাক্ষ্য দিবে যে, নিশ্চয় তিনি পৌঁছিয়েছেন, আর রাসূল হইবেন তোমাদের সাক্ষী। এ হচ্ছে আল্লাহ তাআলার বাণীঃ
﴿ وَكَذَٰلِكَ جَعَلۡنَٰكُمۡ أُمَّةٗ وَسَطٗا لِّتَكُونُواْ شُهَدَآءَ عَلَى ٱلنَّاسِ وَيَكُونَ ٱلرَّسُولُ عَلَيۡكُمۡ شَهِيدٗاۗ ١٤٣ ﴾ (البقرةঃ ١٤٣) ( وَالْوَسَطُ الْعَدْلُ ».
“আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী ‎উম্মত বানিয়েছি, যাতে তোমরা মানুষের উপর ‎সাক্ষী হও এবং রাসূল সাক্ষী হন তোমাদের ‎উপর” (সূরা বাকারাদিআল্লাহু আঃ ১৪৩) ওয়াসাত অর্থ ইনসাফপূর্ণ পথ বা মধ্যমপন্থার অনুসারী”। (সহিহ বুখারি, সুনান তিরমিযি ওইবনু মাজাহ) হাদিসটি সহিহ।

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসঃ ৮৭ – আবু মুসা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “যখন কিয়ামতের দিন হইবে আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক মুসলিমের নিকট একজন ইহুদি অথবা খৃস্টান দিবেন, অতঃপর বলবেনঃ এ হচ্ছে তোমার জাহান্নাম থেকে মুক্তির বিনিময়” । (সহিহ মুসলিম ও মুসনাদে আহমদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী ৮৮ – আবু মুসা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “এ উম্মতকে তিন ভাগে উপস্থিত করা হবেঃ প্রথম ভাগ বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করিবে। দ্বিতীয় ভাগ থেকে সামান্য হিসেব নেয়া হইবে, অতঃপর তারা জান্নাতে প্রবেশ করিবে। তৃতীয় ভাগ নিজেদের পিঠের ওপর বড় পাহাড়ের ন্যায় পাপসহ উপস্থিত হইবে, অতঃপর আল্লাহ তাহাদেরকে জিজ্ঞাসা করবেন, অথচ তিনি তাহাদের সম্পর্কে অধিক জানেনঃ এরা কারা? তারা বলবেঃ এরা আপনার কতক বান্দা। তিনি বলবেনঃ এসব তাহাদের থেকে হটাও, এগুলো ইহুদি ও খৃস্টানদের ওপর রাখ এবং তাহাদেরকে আমার রহমতে জান্নাতে প্রবেশ করাও”।

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান হাদিস

হাদীসঃ ৮৯ – আবু উমামা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “যখন কিয়ামতের দিন হইবে একদল মানুষ দাঁড়াবে, তাহাদের নূর সূর্যের ন্যায় দিগন্ত ঢেকে ফেলবে, অতঃপর বলা হবেঃ উম্মী নবী, প্রত্যেক নবী এ জন্য প্রস্তুত হইবেন। অতঃপর বলা হবেঃ মুহাম্মদ ও তার উম্মত। অতঃপর একদল দাঁড়াবে তাহাদের নূর চৌদ্দ তারিখের চাঁদের ন্যায় দিগন্তের মধ্যবর্তী সব ঢেকে ফেলবে, বলা হবেঃ উম্মী নবী, প্রত্যেকেই এ জন্য প্রস্তুত হইবেন, অতঃপর বলা হবেঃ মুহাম্মদ ও তার উম্মত। অতঃপর একদল দাঁড়াবে তাহাদের নূর আসমানের তারকার ন্যায় দিগন্তের মধ্যবর্তী সব ঢেকে ফেলবে, বলা হবেঃ উম্মী নবী, প্রত্যেকেই এ জন্য প্রস্তুত হইবেন, অতঃপর বলা হবেঃ মুহাম্মদ ও তার উম্মত। অতঃপর দু’ মুষ্টি উঠাবেন ও বলবেনঃ এটা তোমার জন্য হে মুহাম্মদ ও এটা আমার পক্ষ থেকে তোমার জন্য হে মুহাম্মদ। অতঃপর মীযান কায়েম করা হইবে এবং হিসাব আরম্ভ হইবে”। (তাবরানি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান হাদিস

হাদীসে কুদসী ৯০ – আনাস ইব্‌ন মালিক (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “সাদা এ আয়নার ন্যায় অনুরূপ আয়না নিয়ে জিবরিল আমার নিকট এসেছে তাতে কালো একটি ফোঁটা। আমি বললামঃ হে জিবরিল এটা কি? তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে জুমা, আল্লাহ যা তোমার ও তোমার উম্মতের জন্য ঈদ বানিয়েছেন, তোমরাই ইহুদি ও খৃস্টানদের পূর্বে, (অর্থাৎ তাহাদের সাপ্তাহিক ঈদের পূর্বদিন তোমাদের ঈদের দিন) তাতে একটি মুহূর্ত রহিয়াছে, সে সময় বান্দা আল্লাহর নিকট কোন কল্যাণ প্রার্থনা করিবে না, যা তিনি তাকে দিবেন না। তিনি বলেনঃ আমি বললামঃ এ কালো ফোঁটা কি? তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে কিয়ামত জুমার দিন কায়েম হইবে, আমরা একে মাযিদ বলি। তিনি বলেনঃ আমি বললামঃ ইয়াওমুল মাযিদ কি? তিনি বললেনঃ আল্লাহ জান্নাতে প্রশস্ত ময়দান তৈরি করিয়াছেন, সেখানে তিনি সাদা মিশকের স্তূপ রেখেছেন, যখন জুমার দিন হয় আল্লাহ সেখানে অবতরণ করবেন, সেখানে নবীদের জন্য স্বর্ণের মিম্বার রাখা হয়, আর শহীদদের জন্য মুক্তোর চেয়ার এবং (জান্নাতের) প্রাসাদসমূহ থেকে হূরুল ঈন’ বা ডাগর নয়না হূর অবতরণ করে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণ-গান করিবে। তিনি বলেনঃ অতঃপর আল্লাহ বলবেনঃ আমার বান্দাদের কাপড় পরিধান করাও, তাহাদের কাপড় পরিধান করানো হইবে। তিনি বলবেনঃ আমার বান্দাদের খাদ্য দাও, তাহাদের খাদ্য দেয়া হইবে। তিনি বলবেনঃ আমার বান্দাদের পান করাও, তাহাদের পান করানো হইবে। তিনি বলবেনঃ আমার বান্দাদের সুগন্ধি দাও, তাহাদের সুগন্ধি দেয়া হইবে। অতঃপর বলবেনঃ তোমরা কি চাও? তারা বলবেঃ হে আমাদের রব তোমার সন্তুষ্টি। তিনি বলেনঃ তিনি বলবেনঃ আমি তোমাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছি, অতঃপর তাহাদেরকে নির্দেশ দিবেন, তারা যাবে ও হূরল ঈন’ প্রাসাদসমূহে প্রবেশ করিবে যা সবুজ মণি-মুক্তা ও লাল ইয়াকুত পাথরের তৈরি”। (আবু ইয়ালা)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসঃ ৯১ – ইব্‌ন ওমর (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “তোমাদের পূর্বের উম্মতের তুলনায় তোমাদের স্থায়িত্ব হচ্ছে আসর সালাত থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। আহলে তাওরাতকে তাওরাত প্রদান করা হয়েছে, তারা তার ওপর দিনের অর্ধেক আমল করে অতঃপর অক্ষমতা প্রকাশ করেছে, তাই তাহাদেরকে এক কিরাত  এক কিরাত দেয়া হয়েছে। অতঃপর আহলে ইঞ্জিলকে ইঞ্জিল দেয়া হয়েছে, তারা তার ওপর আমল করেছে আসর সালাত পর্যন্ত, অতঃপর তারা অক্ষমতা প্রকাশ করেছে, তাই তাহাদেরকে এক কিরাত এক কিরাত দেয়া হয়েছে। অতঃপর তোমাদেরকে কুরআন দেয়া হয়েছে, তোমরা তার ওপর আমল করেছ সূর্যাস্ত পর্যন্ত, তাতেই তোমাদেরকে দুই কিরাত দুই কিরাত প্রদান করা হয়েছে। কিতাবিরা বলিলঃ তারা আমাদের তুলনায় আমলে কম, কিন্তু সওয়াবে অধিক। আল্লাহ বললেনঃ আমি কি তোমাদের হক থেকে সামান্য বঞ্চিত করেছি? তারা বলিলঃ না, তিনি বললেনঃ এটা আমার অনুগ্রহ, আমি যাকে চাই দান করি”। (সহিহ বুখারি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী ৯২ – সাওবান (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআলা আমার জন্য জমিন ঘুচিয়ে দিলেন ফলে আমি তার পূর্ব-পশ্চিম দেখেছি, নিশ্চয় আমার উম্মতের রাজত্ব পৌঁছবে যতটুকু আমার সামনে পেশ করা হয়েছে। আমাকে লাল ও সাদা দু’টি ভাণ্ডার  প্রদান করা হয়েছে, আমি আমার রবের নিকট আমার উম্মতের জন্য প্রার্থনা করেছি যেন, তাহাদেরকে ব্যাপক দুর্ভিক্ষের মাধ্যমে ধ্বংস করা না হয়, যেন তাহাদের ওপর তাহাদের ব্যতীত কোন দুশমন চাপিয়ে দেয়া না হয়, যে তাহাদের সমূলে ধ্বংস করিবে। আমার রব আমাকে বলেছেনঃ হে মুহাম্মদ আমি যখন কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি, তা প্রত্যাখ্যান করা হয় না, আমি তোমার উম্মতের জন্য তোমাকে প্রদান করলাম যে, তাহাদেরকে ব্যাপক দুর্ভিক্ষ দ্বারা ধ্বংস করব না। তাহাদের ওপর তাহাদের ব্যতীত কোন দুশমন চাপিয়ে দেব না যারা তাহাদের সমূলে ধ্বংস করিবে, যদিও দুনিয়ার প্রান্ত থেকে এসে একত্র হয়, অথবা বলেছেনঃ দিগন্তের মধ্য থেকে এসে, তবে তারা একে অপরকে ধ্বংস করিবে, একে অপরকে বন্দি করিবে”। (সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী ৯৩ – আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আমর ইব্‌ন আস (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাঃআঃ) ইবরাহিম আলাইহিস সালাম সম্পর্কে আল্লাহর এ বাণী তিলাওয়াত করেনঃ
﴿رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضۡلَلۡنَ كَثِيرٗا مِّنَ ٱلنَّاسِۖ فَمَن تَبِعَنِي فَإِنَّهُۥ مِنِّيۖ ٣٦﴾ (ابراهيمঃ ٣٦)
“হে আমার রব, নিশ্চয় এসব মূর্তি অনেক মানুষকে ‎পথভ্রষ্ট করেছে, সুতরাং যে আমার অনুসরণ ‎করেছে, নিশ্চয় সে আমার দলভুক্ত” (সূরা ইবরাহিমঃ৩৬) ‎ঈসা আলাইহিস সালাম বলেছেনঃ
﴿ إِن تُعَذِّبۡهُمۡ فَإِنَّهُمۡ عِبَادُكَۖ وَإِن تَغۡفِرۡ لَهُمۡ فَإِنَّكَ أَنتَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡحَكِيمُ ١١٨ ﴾ (المائ‍دةঃ ١١٨)
“যদি আপনি তাহাদেরকে শাস্তি প্রদান করেন ‎তবে তারা আপনারই বান্দা, আর তাহাদেরকে ‎যদি ক্ষমা করেন, তবে নিশ্চয় আপনি ‎পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়” (সূরা মায়েদাঃ১১৮) অতঃপর তিনি হাত উঠিয়ে বলেনঃ “হে আল্লাহ আমর উম্মত, আমার উম্মত” এবং ক্রন্দন করেন। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “হে জিবরিল মুহাম্মদের নিকট যাও, -নিশ্চয় তোমার রব অধিক জ্ঞাত,- তাকে জিজ্ঞাসা কর কি জন্য কাঁদ? জিবরিল আলাইহিস সালাম এসে তাকে জিজ্ঞাসা করেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) তাকে বললেনঃ তিনিই ভাল জানেন। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ হে জিবরিল মুহাম্মদের নিকট যাও, তাকে বলঃ নিশ্চয় আমি তোমার উম্মতের ব্যাপারে তোমাকে সন্তুষ্ট করব, তোমাকে অসন্তুষ্ট করব না”। (সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী ৯৪ – মালিক ইব্‌ন সাসা থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ … এখানে তিনি মেরাজের হাদিস বর্ণনা করেন, তাতে রহিয়াছে, “অতঃপর আমার ওপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয়, অতঃপর আমি এগিয়ে মুসা পর্যন্ত আসি, তিনি বলেনঃ কি করেছ? আমি বললামঃ আমার ওপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয়েছে। তিনি বলেনঃ মানুষ সম্পর্কে তোমার চেয়ে আমি বেশী জানি, আমি বনি ইসরাইলকে কঠিনভাবে পরীক্ষা করেছি, তোমার উম্মত পারবে না, ফিরে যাও তোমার রবকে বল। আমি ফিরে যাই, অতঃপর তাকে বলি, তিনি তা চল্লিশ ওয়াক্ত করে দেন, অতঃপর অনুরূপ ঘটে, ফলে ত্রিশ করে দেন, অতঃপর অনুরূপ ঘটে, ফলে বিশ করে দেন, অতঃপর অনুরূপ ঘটে, ফলে দশ করে দেন, অতঃপর মুসার নিকট আসি, তিনি অনুরূপ বলেন, ফলে তা পাঁচ করে দেয়া হয়। অতঃপর মুসার নিকট আসি, তিনি বলেনঃ কি করেছ? আমি বললামঃ পাঁচ ওয়াক্ত করে দিয়েছেন, তিনি অনুরূপ বলেন। আমি বললামঃ আমি সন্তুষ্ট চিত্তে গ্রহণ করেছি। অতঃপর ঘোষণা দেয়া হয়ঃ নিশ্চয় আমি আমার ফরয বাস্তবায়ন করেছি, আমার বান্দাদের থেকে হালকা করেছি, আমি এক নেকির প্রতিদান দিব দশ”। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসঃ ৯৫– ইব্‌ন মাসউদ (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “(হজের ) মৌসুমে সকল উম্মত আমার সামনে পেশ করা হয়েছে, ফলে আমি আমার উম্মত দেখেছি, তাহাদের আধিক্য ও হালত আমাকে খুশি করেছে, তারা সমতল ও পাহাড় সর্বত্র পূর্ণ ছিল। তিনি বললেনঃ হে মুহাম্মদ তুমি কি সন্তুষ্ট হয়েছ? আমি বললামঃ হ্যাঁ, হে রব। তিনি বললেনঃ তাহাদের সাথে শত্তুর হাজার বিনা হিসেবে জান্নাতে যাবে, যারা ঝাঁড়-ফুঁক চায় না, জ্বলন্ত লোহার সেক দেয়ার চিকিৎসা গ্রহণ করে না এবং অশুভ লক্ষণ নেয় না, বরং তারা তাহাদের রবের ওপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা করে। উক্কাশা বলেনঃ দোআ করেন যেন আল্লাহ আমাকে তাহাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি বলেনঃ “হে আল্লাহ তাকে তাহাদের অন্তর্ভুক্ত করুন”। অতঃপর অপর ব্যক্তি বলেঃ আমার জন্য দোআ করুন যেন আল্লাহ আমাকে তাহাদের অন্তর্ভুক্ত করেন, তিনি বলেনঃ “উক্কাশা তোমাকে অতিক্রম করে গেছে”। (মুসনাদে আহমদ, ইব্‌ন হিব্বান)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসঃ ৯৬ – ইব্‌ন আব্বাস (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ “কুরাইশরা নবী (সাঃআঃ)কে বলিলঃ তুমি তোমার রবের নিকট দোআ কর যেন সাফা’কে আমাদের জন্য স্বর্ণ বানিয়ে দেন, তাহলে আমরা তোমার ওপর ঈমান আনব। তিনি বললেনঃ তোমরা তাই করিবে? তারা বলিলঃ হ্যাঁ। ইব্‌ন আব্বাস বলেনঃ অতঃপর তিনি দোআ করেন, ফলে তার নিকট জিবরিল আগমন করেন ও বলেনঃ তোমার রব তোমাকে সালাম করিয়াছেন, তিনি বলছেনঃ যদি তুমি চাও তাহলে সাফা’কে তাহাদের জন্য স্বর্ণ বানিয়ে দিব, অতঃপর যে কুফরি করিবে, তাকে আমি এমন আযাব দিব যা দুনিয়ার কাউকে দিব না। যদি চাও আমি তাহাদের জন্য তওবা ও রহমতের দরজা খুলে দিব। তিনি বলেনঃ বরং তওবা ও রহমতের দরজা”। (মুসনাদে আহমদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী ৯৭ – উবাদাহ ইব্‌ন সামেত থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ “কোন এক রাতে নবী (সাঃআঃ)ের সাথীগণ তাকে হারিয়ে ফেলেন, সাধারণত তারা কোথাও অবতরণ করলে তাকে তাহাদের মাঝে রাখতেন, তাই তারা চিন্তিত হল, তারা ধারণা করিল আল্লাহ তার জন্য না তাহাদের ব্যতীত অন্য সম্প্রদায় মনোনীত করিলেন! এভাবেই নবী (সাঃআঃ)কে নিয়ে চিন্তা করতে লাগল, হঠাৎ তাকে দেখে তাকবীর বলে উঠল, তারা বলিলঃ হে আল্লাহর রাসূল, আমরা আশঙ্কা করছিলাম যে, আল্লাহ না আপনার জন্য আমাদের ব্যতীত অন্যদের মনোনীত করেন! রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেনঃ না, বরং তোমরা আমার দুনিয়া ও আখেরাতের সাথী। আল্লাহ তাআলা আমাকে জাগ্রত করে বলেনঃ হে মুহাম্মদ, আমি এমন কোন নবী ও রাসূল প্রেরণ করি নি যে আমার নিকট একটি বস্তু প্রার্থনা করেছে আমি তাকে দেই নি। হে মুহাম্মদ, তুমি চাও, দেয়া হইবে। আমি বললামঃ আমার চাওয়া হচ্ছে কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের জন্য সুপারিশ করা”। আবু বকর বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল সুপারিশ কি? তিনি বললেনঃ “আমি বলবঃ হে আমার রব, আমার সুপারিশ চাই যা আপনার নিকট আমি গোপনে জমা রেখেছি। আল্লাহ বলবেনঃ হ্যাঁ। অতঃপর আমার রব জাহান্নাম থেকে আমার অবশিষ্ট উম্মত বের করবেন, অতঃপর তাহাদেরকে জান্নাতে নিক্ষেপ করবেন”। (মুসনাদে আহমদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান হাদিস

৫০. অনুচ্ছেদঃ বদরি সাহাবিদের ফযিলত

হাদীসে কুদসী ৯৮ – আলি (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) আবু মুরসিদ গনভি, যুবায়ের ও আমাকে প্রেরণ করেন, আমরা সবাই ছিলাম ঘোড় সওয়ার, তিনি বলেনঃ “তোমরা যাও, রওদাতা খাখ’ এ পৌঁছ, সেখানে এক মুশরিক নারী রহিয়াছে, তার সাথে হাতেব ইব্‌ন আবি বালতাআর পক্ষ থেকে মুশরিকদের প্রতি লেখা চিঠি আছে”। আমরা তাকে সেখানেই পেলাম যার কথা রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) আমাদেরকে বলেছেন, সে উঠে চড়ে যাচ্ছিল, আমরা বললামঃ চিঠি, সে বলিলঃ আমার সাথে চিঠি নেই। আমরা তাকে নামিয়ে তালাশ করলাম কিন্তু কোন চিঠি পেলাম না। আমরা বললামঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) মিথ্যা বলেন নি, তুমি অবশ্যই চিঠি বের করিবে অথবা আমরা তোমাকে উলঙ্গ করব, যখন সে পীড়াপীড়ি দেখল, তার কোমরের ফিতার দিকে নজর দিল, -চিঠিটি কাপড়ে মোড়ানো ছিল,- অতঃপর সে তা বের করিল, আমরা চিঠি নিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য ছুটলাম। অতঃপর ওমর (রাদিআল্লাহু আঃ) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল সে আল্লাহ, রাসূল ও মুমিনদের সাথে খিয়ানত করেছে, আমাকে ছাড়ুন আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। নবী (সাঃআঃ) (হাতেবকে) বললেনঃ “যা করেছ কেন করেছ?” হাতেব বলিলঃ আল্লাহর কসম, আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি বেঈমান হওয়ার কোন কারণ নেই, আমি চেয়েছি তাহাদের নিকট আমার একটা হাত থাক, যার বিনিময়ে আল্লাহ আমার পরিবার ও সম্পদের সুরক্ষা দিবেন, আপনার সাথীদের এমন কেউ নেই যার বংশের কোন লোক সেখানে নেই, যার দ্বারা আল্লাহ তার পরিবার ও সম্পদ রক্ষা করেন। অতঃপর নবী (সাঃআঃ) বললেনঃ “সে সত্য বলেছে, তার ব্যাপারে ভালো ব্যতীত মন্দ বল না”। ওমর বললেনঃ সে আল্লাহ, রাসূল ও মুমিনদের খিয়ানত করেছে, আমাকে অনুমতি দিন আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেনঃ “সে কি বদরি নয়? অতঃপর বললেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ বদরিদের ব্যাপারে অবগত হয়েছেন, অতঃপর বলেছেনঃ তোমরা যা ইচ্ছা কর, তোমাদের জন্য জান্নাত ওয়াজিব, অথবা তোমাদের আমি ক্ষমা করে দিয়েছি”। অতঃপর ওমরের দু’চোখ অশ্রু সিক্ত হয়ে গেল, তিনি বলেনঃ আল্লাহ ও তার রাসূলই অধিক জানেন। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম ও আবু দাউদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৫১. অনুচ্ছেদঃ সালাত ফরজ হওয়া ও মেরাজের হাদিস

হাদীসে কুদসী ৯৯ – আনাস ইব্‌ন মালিক (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আমার নিকট বোরাক নিয়ে আসা হল, বোরাক হচ্ছে চতুষ্পদ জন্তু সাদা, লম্বা, গাধার চেয়ে বড় ও খচ্চর থেকে ছোট, তার দৃষ্টির শেষ প্রান্তে সে তার পা রাখে, তিনি বলেনঃ আমি তাতে সওয়ার হলাম, অবশেষে আমাকে বায়তুল মাকদিস নিয়ে আসা হল, তিনি বলেনঃ আমি তাকে সে খুঁটির সাথে বাঁধলাম যার সাথে নবীগণ বাঁধেন। তিনি বলেনঃ অতঃপর আমি মসজিদে প্রবেশ করি, তাতে দু’রাকাত সালাত আদায় করি, অতঃপর বের হই। অতঃপর জিবরিল আমার নিকট মদের ও দুধের পাত্র নিয়ে আসেন, আমি দুধের পাত্র গ্রহণ করি, জিবরিল আমাকে বলেনঃ তুমি ফিতরাত (স্বভাব) গ্রহণ করেছ, অতঃপর আমাদের নিয়ে আসমানে চড়েন …”। তিনি হাদিস উল্লেখ করেন, তাতে রয়েছেঃ “আমি আমার রব ও মুসা আলাইহিস সালামের মাঝে যাওয়া-আসা করতে ছিলাম, অবশেষে তিনি বলেনঃ হে মুহাম্মদ, প্রতি রাত-দিনে এ হচ্ছে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, প্রত্যেক সালাতের জন্য দশ, এভাবে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত। যে নেক কাজ করার ইচ্ছা করিল কিন্তু তা করেনি, আমি তার জন্য একটি নেকি লেখি, যদি সে তা করে তার জন্য দশটি লেখা হয়। যে পাপ করার ইচ্ছা করে কিন্তু সে তা করে নি, তার জন্য কিছু লেখা হয় না, যদি সে তা করে তবে তার জন্য একটি পাপ লেখা হয়। তিনি বলেনঃ অতঃপর আমি অবতরণ করে মুসা আলাইহিস সালামের নিকট পৌঁছলাম এবং তাকে সংবাদ দিলাম, তিনি আমাকে বললেনঃ তোমার রবের নিকট ফিরে যাও, তার নিকট হ্রাসের দরখাস্ত কর, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেনঃ আমি বললাম আমি আমার রবের নিকট বারবার গিয়েছি এখন লজ্জা করছি”। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম) হাদিসটি সহিহ।

আবু যর (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিত হাদিসে রহিয়াছে, নবী (সাঃআঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ “এ হচ্ছে পাঁচ, অথচ তা পঞ্চাশ , আমার নিকট কথার (সিদ্ধান্তের) কোন পরিবর্তন নেই”। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম) হাদিসটি সহিহ। অর্থাৎ কর্মে পাঁচ কিন্তু সাওয়াবে পঞ্চাশ।

 কার্যত পাঁচ ওয়াক্ত, কিন্তু সওয়াব পঞ্চাশ ওয়াক্তের।

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৫২. অনুচ্ছেদঃ আরাফার দিনের ফযিলত ও হাজিদের নিয়ে আল্লাহর গর্ব করা

হাদীসে কুদসী ১০০  – আয়েশা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আরাফার দিন ব্যতীত কোন দিন নেই যেখানে আল্লাহ তাআলা অধিক বান্দাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত করেন। তাতে তিনি নিকটবর্তী হন অতঃপর ফেরেশতাহাদের সাথে গর্ব করেন ও বলেনঃ তারা কি চায়?” (সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী ১০১ – জাবের (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “যিলহজ মাসের দশ দিন থেকে উত্তম আল্লাহর নিকট কোন দিন নেই”। তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি বলেঃ হে আল্লাহর রাসূল, এ দিনগুলোই উত্তম, না এ দিনগুলো আল্লাহর রাস্তায় জিহাদসহ উত্তম? তিনি বললেনঃ “জিহাদ ছাড়াই এগুলো উত্তম। আল্লাহর নিকট আরাফার দিন থেকে উত্তম কোন দিন নেই, আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন অতঃপর জমিনে বাসকারীদের নিয়ে আসমানে বাসকারীদের সাথে গর্ব করেন। তিনি বলেনঃ আমার বান্দাদের দেখ, তারা হজ্জের জন্য এলোমেলো চুল ও ধূলিময় অবস্থায় দূর-দিগন্ত থেকে এসেছে। তারা আমার রহমত আশা করে, অথচ তারা আমার আযাব দেখে নি। সুতরাং এমন কোনো দিন দেখা যায় না যাতে আরাফার দিনের তুলনায় জাহান্নাম থেকে অধিক মুক্তি পায়”। (ইব্‌ন হিব্বান)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান লিগাইরিহি

হাদীসে কুদসী ১০২ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআলা আরাফার লোকদের নিয়ে আসমানের ফেরেশতাহাদের সাথে গর্ব করেন, তিনি বলেনঃ আমার বান্দাদের দেখ তারা এলোমেলো চুল ও ধূলিময় অবস্থায় আমার কাছে এসেছে”। (ইব্‌ন হিব্বান)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ লিগাইরিহি

৫৩. অনুচ্ছেদঃ সিয়ামের ফযিলত

হাদীসে কুদসী ১০৩ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআলা বলেনঃ সিয়াম ব্যতীত বনি আদমের প্রত্যেক আমলই তার জন্য, কারণ তা আমার জন্য, আমিই তার প্রতিদান দেব”। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৫৪. অনুচ্ছেদঃ সন্তান মারা যাওয়ার পর সওয়াবের আশায় ধৈর্যধারণ করার ফজিলত

হাদীসঃ ১০৪ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআলা বলেনঃ আমার মুমিন বান্দার জন্য আমার নিকট জান্নাত ব্যতীত কোন প্রতিদান নেই যখন আমি দুনিয়া থেকে তার কলিজার টুকরা  গ্রহণ করি, আর সে তার জন্য সওয়াবের আশা করে ধৈর্য ধারণ করে”। (সহিহ বুখারি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী ১০৫ – শুরাহবিল ইব্‌ন শুফআহ থেকে বর্ণিতঃ তিনি নবী (সাঃআঃ)ের এক সাহাবি সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি নবী (সাঃআঃ)কে বলিতে শুনেছেনঃ “কিয়ামতের দিন বাচ্চাদের বলা হইবে জান্নাতে প্রবেশ কর”। তিনি বলেনঃ “তারা বলবেঃ যতক্ষণ না আমাদের পিতা-মাতা প্রবেশ না করেন”। তিনি বলেনঃ “অতঃপর তারা আসবে”। তিনি বলেনঃ আল্লাহ বলবেনঃ “কি ব্যাপার তাহাদেরকে কেন নারাজ দেখছি, জান্নাতে প্রবেশ কর”। তিনি বলেনঃ “অতঃপর তারা বলবেঃ হে আমার রব, আমাদের পিতা-মাতা”! তিনি বলেনঃ “অতঃপর তিনি বলবেনঃ “তোমরা ও তোমাদের পিতা-মাতা জান্নাতে প্রবেশ কর”। (মুসনাদে আহমদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান হাদিস

হাদীসে কুদসী ১০৬ – আবু উমামা থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআলা বলবেনঃ হে বনি আদম, যদি তুমি ধৈর্যধারণ কর ও প্রথম দুঃখের সময় অধৈর্য না হয়ে তাতে সওয়াবের আশা কর, তাহলে আমি তোমার জন্য জান্নাত ব্যতীত কোন প্রতিদানে সন্তুষ্ট হব না”। (ইব্‌ন মাজাহ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান হাদিস

হাদীসে কুদসী ১০৭ – আবু মুসা আশআরি (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “বান্দার যখন সন্তান মারা যায় আল্লাহ তার ফেরেশতাহাদের বলেনঃ তোমরা আমার বান্দার সন্তান কব্জা করেছ? তারা বলেঃ হ্যাঁ। তিনি বলেনঃ তোমরা আমার বান্দার অন্তরের নির্যাস গ্রহণ করেছ? তারা বলেঃ হ্যাঁ। তিনি বলেনঃ আমার বান্দা কি বলেছে? তারা বলেঃ আপনার প্রশংসা করেছে ও ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজেউন পড়েছে। (অর্থাৎ আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং আমরা তার কাছেই ফেরৎ যাব এটা বলেছে।) অতঃপর আল্লাহ বলেনঃ তোমরা আমার বান্দার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ কর, তার নাম রাখ বায়তুল হামদ”। (সুনান তিরমিযি ও ইব্‌ন হিব্বান) হাদিসটি শায়খ আলবানি হাসান বলেছেন।

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান হাদিস

৫৫. অনুচ্ছেদঃ আল্লাহর রাস্তায় খরচ করা ও উৎসাহ প্রদানের ফযিলত

হাদীসে কুদসী ১০৮ -আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআলা বলেনঃ হে বনি আদম, তুমি খরচ কর, আমি তোমার ওপর খরচ করব”। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী ১০৯ -আদি ইব্‌ন হাতেম (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ছিলাম, তিনি বলেনঃ “… অতঃপর তোমাদের প্রত্যেকে আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হইবে, তার ও আল্লাহর মাঝে কোন পর্দা থাকিবে না, দুভাষীও না যে তার জন্য অনুবাদ করিবে। অতঃপর তিনি বলবেনঃ আমি কি তোমাকে সম্পদ দেই নাই? সে বলবেঃ অবশ্যই, অতঃপর বলবেনঃ আমি কি তোমার নিকট রাসূল প্রেরণ করিনি? সে বলবেঃ অবশ্যই, সে তার ডানে তাকাবে আগুন ব্যতীত কিছুই দেখবে না, অতঃপর তার বামে তাকাবে আগুন ব্যতীত কিছুই দেখবে না, অতএব তোমাদের প্রত্যেকের উচিত জাহান্নামের আগুন থেকে সুরক্ষা গ্রহণ করা, যদিও সেটা একটি খেজুরের অংশের বিনিময়ে হয়, যদি তার সামর্থ্য না থাকে তাহলে সুন্দর বাক্য দ্বারা”। (সহিহ বুখারি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী ১১০ – আবু ওয়াকেদ লাইসি (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমরা নবী (সাঃআঃ)ের নিকট আসতাম, যখন তার ওপর কিছু নাযিল হত তিনি আমাদের বলিতেন, একদা তিনি আমাদের বলেনঃ “আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ আমি সম্পদ নাযিল করেছি সালাত কায়েম করা ও যাকাত প্রদান করার জন্য, যদি বনি আদম একটি উপত্যকার মালিক হয়, সে পছন্দ করিবে তার জন্য দ্বিতীয়টি হোক। যদি তার দু’টি উপত্যকা হয়, সে চাইবে তার জন্য তৃতীয়টি হোক। মাটি ব্যতীত কোন বস্তু বনি আদমের উদর পূর্ণ করিবে না, অতঃপর যে তওবা করে আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন”। (মুসনাদে আহমদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান হাদিস

হাদীসঃ ১১১ – বুসর ইব্‌ন জাহাশ আল-কুরাশি থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ “নবী (সাঃআঃ) তার হাতের তালুতে থু থু ফেললেন, অতঃপর তাতে শাহাদাত আঙ্গুল রাখলেন ও বললেনঃ আল্লাহ তাআলা বলেনঃ হে বনি আদম তুমি আমাকে কিভাবে অক্ষম করিবে, অথচ আমি তোমাকে এরূপ বস্তু থেকে সৃষ্টি করেছি, যখন তোমার রূহ এখানে পৌঁছে, (গলার দিকে ইশারা করিলেন), বলঃ আমি সদকা করবঃ আর কখন সদকা করার সময়”! (ইব্‌ন মাজাহ ও মুসনাদে আহমদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান হাদিস

৫৬. অনুচ্ছেদঃ রাতে ওযু করার ফযিলত

হাদীসে কুদসী ১১২ – উকবা ইব্‌ন আমের (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি আজ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) সম্পর্কে বলব না যা তিনি বলেননি, আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)কে বলিতে শুনেছিঃ “যে আমার ওপর স্বেচ্ছায় মিথ্যা বলে, সে যেন জাহান্নামে ঘর বানিয়ে নেয়”। তাকে আরো বলিতে শুনেছিঃ “আমার উম্মতের কোন ব্যক্তি রাতে উঠে, অতঃপর নিজেকে পবিত্রতার জন্য প্রস্তুত করে, তার ওপর থাকে অনেক গিরা, যখন সে দু’হাত ধৌত করে একটি গিরা খুলে যায়, যখন সে চেহারা ধৌত করে একটি গিরা খুলে যায়, যখন সে তার মাথা মাসেহ করে একটি গিরা খুলে যায়, যখন সে তার পা ধৌত করে একটি গিরা খুলে যায়। আল্লাহ তাআলা পর্দার আড়ালে অবস্থানকারীদের বলেনঃ আমার বান্দাকে দেখ, সে আমার নিকট প্রার্থনারত হয়ে নিজ নফসকে কষ্ট দিচ্ছে, আমার এ বান্দা যা চাইবে তা তার জন্যই”। (ইব্‌ন হিব্বান ও মুসনাদে আহমদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৫৭. অনুচ্ছেদঃ শেষ রাতে দোআ ও সালাত আদায়ের ফযিলত

হাদীসে কুদসী ১১৩ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আমাদের রব প্রত্যেক রাতে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন যখন রাতের এক তৃতীয়াংশ বাকি থাকে, তিনি বলেনঃ কে আমাকে আহ্বান করিবে আমি তার ডাকে সাড়া দিব, কে আমার নিকট প্রার্থনা করিবে আমি তাকে প্রদান করব, কে আমার নিকট ক্ষমা চাইবে আমি তাকে ক্ষমা করব”। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, সুনান তিরমিযি,ইবনু মাজাহ ও নাসায়ি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৫৮. অনুচ্ছেদঃ দুই ব্যক্তিকে দেখে আমাদের রব আশ্চর্য হন

হাদীসে কুদসী ১১৪ – ইব্‌ন মাসউদ (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আমাদের রব দুই ব্যক্তিকে দেখে আশ্চর্য হনঃ এক ব্যক্তি যে তার বিছানা ও লেপ ছেড়ে পরিবার ও প্রিয়জনদের থেকে ওঠে সালাতে দাঁড়াল, আমাদের রব বলেনঃ হে আমাদের ফেরেশতারা, আমার বান্দাকে দেখ বিছানা ও লেপ ছেড়ে পরিবার ও প্রিয়জনদের থেকে তার সালাতের জন্য ওঠেছে, আমার নিকট যা রহিয়াছে তার আশা ও আমার শাস্তির ভয়ে। অপর ব্যক্তি যে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করিল, তবে তারা পরাস্ত হল, সে মনে করিল পলায়নে কি শাস্তি ও ফিরে যাওয়ায় কি পুরষ্কার, অতঃপর সে ফিরে গেল অবশেষে তার রক্ত ঝরানো হল, আমার নিকট যা রহিয়াছে তার আশা ও আমার শাস্তির ভয়ে, আল্লাহ তার ফেরেশতাহাদের বলেনঃ আমার বান্দাকে দেখ, আমার নিকট যা রহিয়াছে তার আশা ও আমার শাস্তির ভয়ে ফিরে এসেছে, অবশেষে তার রক্ত প্রবাহিত করা হল”। (মুসনাদে আহমদ ও আবু দাউদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান হাদিস

৫৯. অনুচ্ছেদঃ নফল সালাতের ফযিলত

হাদীসে কুদসী ১১৫ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “বান্দাকে যে বিষয়ে সর্বপ্রথম জবাবদিহি করা হইবে তার সালাত, যদি সে তা পূর্ণ করে থাকে, অন্যথায় আল্লাহ বলবেনঃ আমার বান্দার নফল দেখ, যদি তার নফল পাওয়া যায়, বলবেনঃ এর দ্বারা ফরয পূর্ণ কর”। (নাসায়ি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৬০. অনুচ্ছেদঃ মুয়াজ্জিনের ফযিলত

হাদীসে কুদসী ১১৬ – উকবা ইব্‌ন আমের (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)কে বলিতে শুনেছিঃ “তোমাদের রব পাহাড়ের চুড়ায় বকরির রাখালকে দেখে আশ্চর্য হন, যে সালাতের আযান দেয় ও সালাত আদায় করে, আল্লাহ তাআলা বলেনঃ আমার এ বান্দাকে দেখ আযান দেয় ও সালাত কায়েম করে, আমাকে ভয় করে, আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালাম”। (সুনান আবু দাউদও নাসায়ি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৬১. অনুচ্ছেদঃ  আসর ও ফজর সালাতের ফযিলত

হাদীসে কুদসী ১১৭ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “পালাবদল করে রাত ও দিনের ফেরেশতাগণ তোমাদের নিকট আগমন করে এবং তারা ফজর ও আসর সালাতে একত্র হয়। অতঃপর তোমাদের মাঝে রাত যাপনকারীগণ ওপরে ওঠে, আল্লাহ তাহাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, অথচ তিনি তাহাদের চেয়ে বেশী জানেন, আমার বান্দাদের কিভাবে রেখে এসেছে? তারা বলেঃ আমরা তাহাদেরকে সালাত পড়া অবস্থায় রেখে এসেছি, যখন গিয়েছি তারা সালাত আদায় করছিল”। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৬২. অনুচ্ছেদঃ মাগরিব থেকে এশা পর্যন্ত মসজিদে থাকার ফযিলত

হাদীসঃ ১১৮ – আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আমর (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মাগরিব আদায় করলাম, অতঃপর যারা ফিরে যাবার ফিরে গেল এবং যারা থাকার থাকল, পরক্ষণেই রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) দ্রুত ফিরে আসলেন, তার নিশ্বাস জোরে পড়ছিল, তার হাঁটুর কাপড় উঠে যাচ্ছিল, তিনি বললেনঃ “তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর, তোমাদের রব আসমানের একটি দরজা খুলে তোমাদের নিয়ে ফেরেশতাহাদের সাথে গর্ব করছেন, তিনি বলছেনঃ আমার বান্দাদের দেখ, তারা এক ফরয শেষ করে অপর ফরযের অপেক্ষা করছে”। (ইব্‌ন মাজাহ ও মুসনাদে আহমদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৬৩. অনুচ্ছেদঃ দিনের শুরুতে সুরক্ষা গ্রহণ করা

হাদীসে কুদসী ১১৯ – নুআইম ইব্‌ন হাম্মার আল-গাতফানি (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)কে বলিতে শুনেছেনঃ “আল্লাহ তাআলা বলেনঃ হে বনি আদম দিনের শুরুতে চার রাকাত সালাত আদায়ে অপারগ হয়ো না, আমি দিন শেষে তোমার জন্য যথেষ্ট হব”। (মুসনাদে আহমদ, সুনান আবু দাউদও ইব্‌ন হিব্বান)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৬৪. অনুচ্ছেদঃ জান্নাতের খাজানা

হাদীসে কুদসী ১২০ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আমি কি তোমাকে শিক্ষা দিব না, অথবা বলেছেনঃ আমি কি তোমাকে আরশের নিচে জান্নাতের গুপ্তধন একটি কালিমার কথা বলব না? তুমি বলঃ لاَ حَوْلَ ولَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ (অর্থাৎ আল্লাহর সাহায্য ছাড়া সৎকাজ করার শক্তি ও অসৎ কাজ থেকে বাঁচার কোন উপায় নেই) আল্লাহ বলবেনঃ আমার বান্দা মেনে নিলো ও আনুগত্য করিল”। (হাকেম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান হাদিস

৬৫. অনুচ্ছেদঃ সন্তানের পিতা-মাতার জন্য ইস্তেগফার করার ফযিলত

হাদীসে কুদসী ১২১ -আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা নেক বান্দার মর্তবা জান্নাতে বুলন্দ করবেন, সে বলবেঃ হে আমার রব এটা আমার জন্য কিভাবে হল? তিনি বলবেনঃ তোমার জন্য তোমার সন্তানের ইস্তেগফারের কারণে”। (মুসনাদে আহমদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান হাদিস

৬৬. অনুচ্ছেদঃ বিসমিল্লাহ না বললে শয়তান খানায় অংশ গ্রহণ করে

হাদীসঃ ১২২ – ইব্‌ন আব্বাস (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “ইবলিস বলেছেঃ হে আমার রব, আপনার কোন মখলুক নেই যার রিযক ও জীবিকা নির্বাহ আপনি নির্ধারিত করেন নি, কিন্তু আমার রিযক কি? তিনি বললেনঃ যেসব খাদ্যে আল্লাহর নাম নেয়া হয় না”। (আবু নুআইম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৬৭. অনুচ্ছেদঃ আল্লাহর সর্বপ্রথম মখলুক

হাদীসে কুদসী ১২৩ – উবাদাহ ইব্‌ন সামেত (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ “আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)কে বলিতে শুনেছিঃ “আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করিয়াছেন কলম , তিনি বলেনঃ লেখ। সে বলিলঃ হে আমার রব, কি লিখব? তিনি বলেনঃ কিয়ামত পর্যন্ত প্রত্যেক জিনিসের তাকদির লিখ”। (সুনান আবু দাউদও মুসনাদে আহমদ) হাদিসটি সহিহ লি গায়রিহি।

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ লিগাইরিহি

৬৮. অনুচ্ছেদঃ লেখা ও সাক্ষী রাখার সূচনা

হাদীসে কুদসী ১২৪ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ যখন আদমকে সৃষ্টি করেন ও তার মধ্যে রূহ সঞ্চার করেন তখন সে হাঁচি দেয়। অতঃপর বলেঃ আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর নির্দেশে সে আল্লাহর প্রশংসা করিল, তার রব তাকে বললেনঃ হে আদম তোমার রব তোমাকে রহম করুন, ঐ ফেরেশতাহাদের বসে থাকা দলটির কাছে যাও, তাহাদেরকে সালাম কর। তিনি বললেনঃ السَّلَامُ عَلَيْكُمْ তারা বলিলঃ وَعَلَيْكَ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ অতঃপর তিনি তার রবের নিকট ফিরে আসেন, তিনি বলেনঃ এ হচ্ছে তোমার ও তোমার সন্তানের পরস্পর অভিবাদন। আল্লাহ তাআলা বলেন, তখন তার দু’হাত মুষ্টিবদ্ধ ছিলঃ দু’টো থেকে যেটা ইচ্ছা গ্রহণ কর, তিনি বললেনঃ আমি আমার রবের ডান গ্রহণ করলাম, আমার রবের উভয় হাতই ডান ও বরকতপূর্ণ, অতঃপর তিনি তা প্রসারিত করিলেন, তাতে ছিল আদম ও তার সন্তান। তিনি বললেনঃ হে আমার রব, এরা কারা? তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে তোমার সন্তান, সেখানে প্রত্যেক মানুষের বয়স তার চোখের সামনে লিখা ছিল, তাহাদের মধ্যে একজন ছিল সবচেয়ে উজ্জ্বল, অথবা তাহাদের থেকে একজন অতি উজ্জ্বল ছিল, যার জন্য শুধু চল্লিশ বছর লিখা ছিল, তিনি বললেনঃ হে আমার রব এ কে? তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে তোমার সন্তান দাউদ, তার জন্য আমি চল্লিশ বছর লিখেছি। তিনি বললেনঃ হে আমার রব তার বয়স বৃদ্ধি করুন, তিনি বললেনঃ এটাই আমি তার জন্য লিখেছি। তিনি বললেনঃ হে আমার রব, আমি তার জন্য আমার বয়স থেকে ষাট বছর দান করলাম, তিনি বললেনঃ এটা তোমার ও তার বিষয়। আল্লাহর যতদিন ইচ্ছা ছিল তিনি জান্নাতে অবস্থান করেন, অতঃপর সেখান থেকে অবতরণ করানো হয়, এরপর থেকে তিনি নিজের বয়স হিসেব করতেন। রাসূল বলেনঃ তার নিকট মালাকুল মউত আসল, আদম তাকে বলেনঃ দ্রুত চলে এসেছ, আমার জন্য এক হাজার বছর লিখা হয়েছে। তিনি বলিলেন, অবশ্যই; কিন্তু তোমার ছেলে দাউদের জন্য তার থেকে ষাট বছর দান করেছ। আদম তা অস্বীকার করিল। সে অস্বীকার করেছে তাই তার সন্তানও অস্বীকার করে, তিনি ভুলে গেছেন তাই তার সন্তানও ভুলে যায়। তিনি বলেনঃ সে দিন থেকে লিখা ও সাক্ষী রাখার নির্দেশ দেয়া হয়”। ইব্‌ন হিব্বান, হাকেম ও আবু আসেম) হাদিসটি সহিহ লি গায়রিহি।

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ লিগাইরিহি

৬৯. অনুচ্ছেদঃ নবী আদমকে আল্লাহ যা বললেনঃ

হাদীসে কুদসী ১২৫ -আনাস ইব্‌ন মালিক (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ যখন আদমের মধ্যে রূহ সঞ্চার করেন, অতঃপর রূহ যখন তার মাথায় পৌঁছে তিনি হাঁচি দেন, তারপর বলেনঃ الحمدُ لله رَبِّ العَالَمِيْن আল্লাহ তাকে বলেনঃ يَرْحَمُكَ الله (ইব্‌ন হিব্বান) হাদিসটি সহিহ।

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৭০. অনুচ্ছেদঃ সহিহ মুসলিমদের সালাম

হাদীসে কুদসী ১২৬ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআলা আদমকে তার আকৃতিতে সৃষ্টি করিয়াছেন, তার দৈর্ঘ্য ছিল ষাট হাত, তিনি তাকে সৃষ্টি করে বলেনঃ যাও সেখানে বসে থাকা ফেরেশতাহাদের দলকে সালাম কর, খেয়াল করে শোন তারা তোমাকে কি অভিবাদন জানায়, কারণ তা-ই হচ্ছে তোমার ও তোমার সন্তানের অভিবাদন। তিনি বললেনঃ السَّلَامُ عَلَيْكُمْ তারা বলিলঃ السَّلَامُ عَلَيْكَ وَرَحْمَةُ اللَّهِ তারা অতিরিক্ত বলিল। সুতরাং যে কেউ জান্নাতে যাবে সে আদমের আকৃতিতে যাবে, আর তারপর থেকে মানুষ ছোট হওয়া আরম্ভ করছে, এখন পর্যন্ত তা হচ্ছে”। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম) হাদিসটি সহিহ।

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৭১. অনুচ্ছেদঃ আল্লাহর নবী ইউনুস আলাইহিস সালামের ঘটনা

হাদীসে কুদসী ১২৭ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ আমার কোন বান্দার জন্য (বর্ণনাকারী ইব্‌ন মুসান্না বলেছেনঃ আমার বান্দার জন্য) এমন বলা সমীচীন নয়ঃ আমি ইউনুস ইব্‌ন মাত্তা আলাইহিস সালাম থেকে উত্তম  ”। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৭২. অনুচ্ছেদঃ মুসা ও খিযির আলাইহিমাস সালামের ঘটনা

হাদীসঃ ১২৮ – সায়িদ ইব্‌ন জুবায়ের থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি ইব্‌ন আব্বাস (রাদিআল্লাহু আঃ)কে বললাম নাউফ আল-বাকালি’র ধারণা খিদির’ এর সাথী মুসা’ বনি ইসরাইলের মুসা’ নয়, তিনি অন্য মুসা’। তিনি বললেনঃ আল্লাহর দুশমন মিথ্যা বলেছে। উবাই ইব্‌ন কাব নবী (সাঃআঃ) থেকে আমাদেরকে বর্ণনা করেনঃ “একদা মুসা আলাইহিস সালাম বনি ইসরাইলে খুতবা দেয়ার জন্য দাঁড়ালে তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, কে সবচেয়ে বেশী জানে? তিনি বললেনঃ আমি”। এ জন্য আল্লাহ তাকে তিরস্কার করিলেন, কারণ তিনি বেশী জানার জ্ঞান আল্লাহর নিকট সোপর্দ করেন নি। তাকে তিনি বললেনঃ “দুই সমুদ্রের মিলনস্থলে আমার এক বান্দা রহিয়াছে, সে তোমার চেয়ে অধিক জানে। তিনি বললেনঃ হে আমার রব, তার নিকট পৌঁছার জন্য আমার কে আছে? অথবা সুফিয়ান বলেছেনঃ হে আমার রব, আমি কিভাবে তার কাছে পৌঁছব? তিনি বললেনঃ একটি মাছ নাও, অতঃপর তা পাত্রে রাখ, যেখানে মাছটি হারাবে সেখানেই সে…” অতঃপর পূর্ণ হাদিস উল্লেখ করেন। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৭৩. অনুচ্ছেদঃ মালাকুল মউতের সাথে মুসা আলাইহিস সালামের ঘটনা

হাদীসে কুদসী ১২৯ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “মালাকুল মউত মুসা আলাইহিস সালামের নিকট এসে তাকে বলেনঃ আপনার রবের ডাকে সাড়া দিন। তিনি বলেনঃ অতঃপর মুসা আলাইহিস সালাম মালাকুল মউতকে থাপ্পড় মেরে তার চোখ উপড়ে ফেলেন। তিনি বলেনঃ অতঃপর মালাকুল মউত আল্লাহর নিকট ফিরে গেল এবং বলিলঃ আপনি আমাকে আপনার এমন বান্দার নিকট প্রেরণ করিয়াছেন যে মরতে চায় না, সে আমার চোখ উপড়ে ফেলেছে, তিনি বলেনঃ আল্লাহ তার চোখ তাকে ফিরিয়ে দেন, আর বলেনঃ আমার বান্দার নিকট ফিরে যাও এবং বলঃ আপনি হায়াত চান? যদি আপনি হায়াত চান তাহলে ষাঁড়ের পিঠে হাত রাখুন, আপনার হাত যে পরিমাণ চুল ঢেকে নিবে তার সমান বছর আপনি জীবিত থাকিবেন। তিনি বলেনঃ অতঃপর? মালাকুল মউত বলিলঃ অতঃপর মৃত্যু বরণ করবেন। তিনি বলেনঃ তাহলে এখনি দ্রুত কর। হে আমার রব, পবিত্র ভূমির সন্নিকটে পাথর নিক্ষেপের দূরত্বে আমাকে মৃত্যু দান কর”। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেনঃ “আল্লাহর শপথ আমি যদি তার নিকট হতাম, তাহলে রাস্তার পাশে লাল বালুর স্তূপের নিকট তার কবর দেখিয়ে দিতাম”। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৭৪. অনুচ্ছেদঃ আইয়ূব আলাইহিস সালামের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ

সহিহ হাদিসে কুদসি ১৩০ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “একদা আইয়ূব উলঙ্গ গোসল করছিল, তার ওপর এক পাল স্বর্ণের টিড্ডি পড়ল, তিনি তা মুষ্টি মুষ্টি করে কাপড়ে তুলছিলেন। এমতাবস্থায় তার রব তাকে ডাক দিলেনঃ হে আইয়ূব, আমি কি তোমাকে অমুখাপেক্ষী করে দেই-নি যা দেখছ তা থেকে? তিনি বললেনঃ অবশ্যই হে আমার রব, তবে আপনার বরকত থেকে আমার অমুখাপেক্ষীতা নেই”। (সহিহ বুখারি ও নাসায়ি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৭৫. অনুচ্ছেদঃ জাহেলী যুগের প্রথার অনিষ্ট

হাদীসে কুদসী ১৩১ -উবাই ইব্‌ন কাব (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে দু’জন ব্যক্তি বংশের উল্লেখ করিল, একজন বলিলঃ আমি অমুকের সন্তান অমুক তুমি কে, তুমি মা হারা হও। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেনঃ মুসা আলাইহিস সালামের যুগে দু’ ব্যক্তি বংশ পরিচয় উল্লেখ করেছিল, তাহাদের একজন বলেঃ আমি অমুকের সন্তান অমুক এভাবে সে নয়জন গণনা করে, অতএব তুমি কে, তুমি মা হারা হও। সে বলিলঃ আমি অমুকের সন্তান অমুক ইব্‌ন ইসলাম। তিনি বলেনঃ আল্লাহ তাআলা মুসা আলাইহিস সালামের নিকট ওহি প্রেরণ করিলেন, এ দু’জন বংশ পরিচয় উল্লেখকারীঃ হে নয়জন উল্লেখকারী তুমি জাহান্নামে, তুমি তাহাদের দশম ব্যক্তি। হে দু’জন উল্লেখকারী তুমি জান্নাতে, তুমি তাহাদের তৃতীয়জন”। (মুসনাদে আহমদ ও নাসায়ি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৭৬. অনুচ্ছেদঃ শয়তানের ওয়াসওয়াসা

হাদীসে কুদসী ১৩২ – আনাস ইব্‌ন মালিক (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআলা বলেনঃ তোমার উম্মত বলিতে থাকবেঃ এটা কিভাবে? এটা কিভাবে? অবশেষে বলবেঃ আল্লাহ মখলুক সৃষ্টি করিয়াছেন, কিন্তু আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে?” (সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৭৭. অনুচ্ছেদঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরূদের ফযিলত

হাদীসঃ ১৩৩ – আব্দুর রহমান ইব্‌ন আউফ (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বের হলেন, আমি তার অনুগামী হলাম, তিনি একটি খেজুর বাগানে ঢুকে সেজদা করিলেন, সেজদা এত দীর্ঘ করিলেন যে আমি আশঙ্কা করলাম আল্লাহ তাকে তো মৃত্যু দেন নি! তিনি বলেনঃ আমি দেখার জন্য আসলাম, অতঃপর তিনি মাথা তুললেন, তিনি বললেনঃ “হে আব্দুর রহমান কি হয়েছে তোমার?” তিনি বলেনঃ আমি তাকে তা শোনালাম, অতঃপর তিনি বললেনঃ “জিবরিল (আলাইহিস সালাম) আমাকে বলেছেনঃ আমি কি তোমাকে সুসংবাদ দেব না, আল্লাহ তাআলা তোমাকে বলেনঃ যে ব্যক্তি তোমার ওপর দরূদ পাঠ করিবে আমি তার ওপর দরূদ পাঠ করব, যে তোমার ওপর সালাম পাঠ করিবে আমি তার ওপর সালাম প্রেরণ করব”। (মুসনাদে আহমদ, বায়হাকি ও আবু ইয়ালা)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান লিগাইরিহি

৭৮. অনুচ্ছেদঃ ভালোর নির্দেশ দেয়া ও খারাপ থেকে বিরত রাখা

হাদীসঃ ১৩৪ – আবু সায়িদ খুদরি (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)কে বলিতে শুনেছিঃ “আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন বান্দাকে জিজ্ঞেস করবেন, এক পর্যায়ে বলবেনঃ তুমি যখন খারাপ কর্ম দেখেছ কেন বাঁধা দাওনি? আল্লাহ যখন বান্দাকে তার উত্তর শিক্ষা দিবেন, সে বলবেঃ হে আমার রব, তোমার মাগফেরাত আশা করেছি ও মানুষকে ভয় করেছি”। (ইব্‌ন মাজাহ ও ইব্‌ন হিব্বান)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান হাদিস

৭৯. অনুচ্ছেদঃ ফাতেহার ফযিলত

হাদীসঃ ১৩৫ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআলা বলেনঃ আমি সালাতকে আমার ও আমার বান্দার মাঝে দু’ভাগে ভাগ করেছি, আমার বান্দার জন্য সে যা চাইবে। বান্দা যখন বলেঃ ﴿ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ﴾ “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টিকুলের রব”।‎ আল্লাহ বলেনঃ আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে। বান্দা যখন বলেঃ ﴿ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ﴾ “দয়াময়, পরম দয়ালু”। আল্লাহ বলেনঃ আমার বান্দা আমার গুণগান করেছে। বান্দা যখন বলেঃ ﴿مَٰلِكِ يَوۡمِ ٱلدِّينِ﴾ “বিচার দিবসের মালিক”। আল্লাহ বলেনঃ ‎আমার বান্দা আমার শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করেছে। (একবার বলেছেনঃ আমার বান্দা তাকে আমার ওপর ন্যাস্ত করেছে), বান্দা যখন বলেঃ ﴿إِيَّاكَ نَعۡبُدُ وَإِيَّاكَ نَسۡتَعِينُ﴾ “আপনারই আমরা ইবাদাত করি এবং আপনারই ‎নিকট আমরা সাহায্য চাই”। ‎আল্লাহ বলেনঃ এটা আমার ও আমার বান্দার মাঝে, আর আমার বান্দার জন্য যা সে চাইবে। যখন বান্দা বলেঃ
﴿ٱهۡدِنَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلۡمُسۡتَقِيمَ ٦ صِرَٰطَ ٱلَّذِينَ أَنۡعَمۡتَ عَلَيۡهِمۡ غَيۡرِ ٱلۡمَغۡضُوبِ عَلَيۡهِمۡ وَلَا ٱلضَّآلِّينَ ٧ ﴾ (الفاتحةঃ 1، 7)
“আমাদেরকে সরল পথের হিদায়াত ‎দিন তাহাদের পথ, যাদের উপর আপনি অনুগ্রহ করিয়াছেন। ‎যাদেরকে নিয়ামত দিয়েছেন। যাদের উপর ‎‎(আপনার) ক্রোধ আপতিত হয়নি এবং যারা ‎পথভ্রষ্টও নয়”।‎ আল্লাহ বলেনঃ এটা আমার বান্দার জন্য, আমার বান্দার জন্য যা সে চাইবে”। (সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৮০. অনুচ্ছেদঃ ঊর্ধ্বজগতে ফেরেশতাহাদের তর্ক

হাদীসঃ ১৩৬ – মুয়ায ইব্‌ন জাবাল (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ একদা ফজর সালাতে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বিলম্ব করিলেন, আমরা প্রায় সূর্যের অগ্রভাগ দেখার কাছাকাছি ছিলাম, অতঃপর তিনি দ্রুত বের হলেন, সালাতের ঘোষণা দেয়া হল, তিনি দ্রুত সালাত আদায় করিলেন, যখন সালাম ফিরালেন উচ্চ স্বরে আমাদেরকে বললেনঃ “তোমরা তোমাদের কাতারে থাক যেরূপ আছ”। অতঃপর আমাদের দিকে ফিরে বললেনঃ “আমি অবশ্যই তোমাদের বলব কি কারণে আজ আমার বিলম্ব হয়েছে। আমি রাতে উঠে ওযু করেছি অতঃপর যা তাওফিক হয়েছে সালাত আদায় করেছি, সালাতে আমার তন্দ্রা এসে যায় তাই আমার কষ্ট হচ্ছিল, হঠাৎ দেখি আমার রব আমার সামনে সর্বোত্তম আকৃতিতে। তিনি আমাকে বললেনঃ হে মুহাম্মদ, আমি বললামঃ লাব্বাইক আমার রব। তিনি বললেনঃ ঊর্ধ্বজগতের ফেরেশতারা কি নিয়ে তর্ক করছে? আমি বললামঃ হে আমার রব আমি জানি না, -তিনি তা তিনবার বলিলেন- রাসূল বলেনঃ আমি দেখলাম তিনি (আল্লাহ) নিজ হাতের তালু আমার ঘাড়ের ওপর রাখলেন, এমনকি আমি তার আঙ্গুলের শীতলতা আমার বুকের মধ্যে অনুভব করেছি, ফলে আমার সামনে প্রত্যেক বস্তু জাহির হল ও আমি চিনলাম। অতঃপর বললেনঃ হে মুহাম্মদ, আমি বললামঃ লাব্বাইক হে আমার রব। তিনি বললেনঃ ঊর্ধ্ব জগতের ফেরেশতারা কি নিয়ে তর্ক করছে? আমি বললামঃ কাফফারা সম্পর্কে। তিনি বললেনঃ তা কি? আমি বললামঃ জামাতের জন্য হাঁটা, সালাতের পর মসজিদে বসে থাকা, কষ্টের সময় পূর্ণরূপে ওযু করা। তিনি বলেনঃ অতঃপর কোন বিষয়ে? আমি বললামঃ পানাহার করানো, সুন্দর কথা বলা, মানুষের ঘুমিয়ে থাকাবস্থায় রাতে সালাত আদায় করা। তিনি (আল্লাহ) বললেনঃ তুমি চাও, আমি বললামঃ
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ فِعْلَ الْخَيْرَاتِ وَتَرْكَ الْمُنْكَرَاتِ وَحُبَّ الْمَسَاكِينِ وَأَنْ تَغْفِرَ لِي وَتَرْحَمَنِي وَإِذَا أَرَدْتَ فِتْنَةَ قَوْمٍ فَتَوَفَّنِي غَيْرَ مَفْتُونٍ، أَسْأَلُكَ حُبَّكَ وَحُبَّ مَنْ يُحِبُّكَ، وَحُبَّ عَمَلٍ يُقَرِّبُ إِلَى حُبِّكَ
“হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে কল্যাণের কাজ করার তৌফিক চাই, খারাপ কাজ ছেড়ে দেয়ার তৌফিক চাই, অভাবীদের জন্য ভালোবাসা, আর আপনি যেন আমাকে ক্ষমা করেন ও আমার প্রতি রহম করেন। আর যখন আপনি কোন কাওমকে ফিতনা তথা পরীক্ষায় নিপতিত করতে চান, তখন আমাকে পরীক্ষায় নিপতিত না করে মৃত্যু দিন। আমি আপনার কাছে আপনার ভালোবাসা, আপনাকে যে ভালোবাসে তার ভালবাসা এবং এমন আমলের ভালোবাসা চাই যা আমাকে আপনার ভালোবাসার নিকটে নিয়ে যাবে।” রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেনঃ নিশ্চয় এ বাক্যগুলো সত্য, তোমরা এগুলো শিখ ও শিক্ষা দাও”। (সুনান তিরমিযি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৮১. অনুচ্ছেদঃ আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা হারাম

হাদীসঃ ১৩৭ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআলা মখলুক সৃষ্টি করিয়াছেন, অতঃপর যখন তিনি তার সৃষ্টি সম্পন্ন করেন তখন রাহেম’  বলেঃ এ হচ্ছে তোমার নিকট বিচ্ছিন্নতা থেকে আশ্রয় চাওয়ার স্থান, তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। তুমি কি সন্তুষ্ট নও যে, তোমাকে যে রক্ষা করিবে আমি তাকে রক্ষা করব, তোমাকে যে ছিন্ন করিবে আমি তাকে ছিন্ন করব? রাহেম’ বলিলঃ অবশ্যই হে রব, তিনি বলেনঃ এটাই তোমার জন্য”। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেনঃ “যদি তোমরা চাও তাহলে তিলাওয়াত করঃ

﴿فَهَلۡ عَسَيۡتُمۡ إِن تَوَلَّيۡتُمۡ أَن تُفۡسِدُواْ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَتُقَطِّعُوٓاْ أَرۡحَامَكُمۡ ٢٢ ﴾ (محمد ঃ ٢٢)

“সুতরাং অবাধ্য হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিলে সম্ভবত তোমরা যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টি করিবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করিবে।”?। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৮২. অনুচ্ছেদঃ হাদিসে কুদসিতে আল্লাহর বাণীঃ

হাদীসঃ ১৩৮ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআলা বলেনঃ বনি আদম আমার উপর মিথ্যারোপ করেছে, অথচ এটা তার অধিকার ছিল না। সে আমাকে গালি দিয়েছে অথচ এটা তার অধিকার ছিল না। আমাকে তার মিথ্যারোপ করার অর্থ তার বলাঃ তিনি আমাকে পুনরায় সৃষ্টি করবেন না যেরূপ প্রথম সৃষ্টি করিয়াছেন, অথচ প্রথমবার সৃষ্টি করা পুনরায় সৃষ্টি করা থেকে সহজ নয়। আমাকে তার গালি হচ্ছে তার কথাঃ আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করিয়াছেন, অথচ আমি এক ও অমুখাপেক্ষী, আমি জন্ম দেই-নি আমাকে জন্ম দেয়া হয় নি, আর আমার সমকক্ষ কেউ নয়”। (সহিহ বুখারি ও নাসায়ি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৮৩. অনুচ্ছেদঃ যুগকে গালি দেয়া হারাম

হাদীসঃ ১৩৯ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআলা বলেনঃ বনি আদম আমাকে কষ্ট দেয়, সে যুগকে গালি দেয় অথচ আমিই যুগ , আমিই রাত ও দিন পরিবর্তন করি”। (সহিহ মুসলিম, সুনান আবু দাউদও নাসায়ি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৮৪. অনুচ্ছেদঃ অহংকার হারাম

হাদীসঃ ১৪০ – আবু সায়িদ খুদরি ও আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তারা বলেনঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “ইজ্জত তার লুঙ্গি ও অহংকার তার চাদর, অতএব যে আমার সাথে টানাহেঁচড়া করিবে আমি তাকে শাস্তি দিব”। (সহিহ মুসলিম,ইবনু মাজাহ ও আবু দাউদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৮৫. অনুচ্ছেদঃ যুলম হারাম

হাদীসঃ ১৪১ – আবু যর (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাঃআঃ) আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেনঃ “হে আমার বান্দাগণ! নিশ্চয় আমি আমার ওপর যুলম হারাম করেছি, আমি তোমাদের মাঝেও তা হারাম করেছি অতএব তোমরা যুলম কর না। হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের প্রত্যেকেই গোমরাহ তবে আমি যাকে হিদায়েত দেই, অতএব আমার কাছে হিদায়েত তলব কর আমি তোমাদেরকে হিদায়েত দিব। হে আমার বান্দাগণ! তোমরা সকলে ক্ষুধার্ত তবে আমি যাকে খাদ্য দেই, অতএব আমার নিকট খাদ্য তলব কর আমি তোমাদেরকে খাদ্য দিব। হে আমার বান্দাগণ! তোমরা সকলে বিবস্ত্র তবে আমি যাকে বস্ত্র দান করি, অতএব আমার নিকট বস্ত্র তালাশ কর আমি তোমাদেরকে বস্ত্র দিব। হে আমার বান্দাগণ! তোমরা রাত ও দিনে ভুল কর, আমি তোমাদের সকল পাপ মোচন করি, অতএব আমার নিকট ক্ষমা চাও আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করব। হে আমার বান্দাগণ! তোমরা আমার ক্ষতি পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না যে আমার ক্ষতি করিবে। আর না তোমরা আমার উপকার পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে যে আমার উপকার করিবে। যদি তোমাদের পূর্বপুরুষ ও পরবর্তী পুরুষ এবং মানুষ ও জিন সকলে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে নেককার ব্যক্তির মত হয়ে যাও, তাও আমার রাজত্ব সামান্য বৃদ্ধি করিবে না। হে আমার বান্দাগণ! যদি তোমাদের পূর্বপুরুষ ও পরবর্তী পুরুষ এবং মানুষ ও জিন সকলে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ লোকের মত হয়ে যাও, তাও আমার রাজত্ব সামান্য হ্রাস করিবে না। হে আমার বান্দাগণ! যদি তোমাদের পূর্বপুরুষ ও পরবর্তী পুরুষ এবং মানুষ ও জিন এক ময়দানে দাঁড়িয়ে আমার নিকট প্রার্থনা করে, অতঃপর আমি প্রত্যেককে তার প্রার্থিত বস্তু প্রদান করি, তাও আমার নিকট যা রহিয়াছে তা হ্রাস করতে পারবে না, তবে সুই যে পরিমাণ পানি হ্রাস করে যখন তা সমুদ্রে প্রবেশ করানো হয়। হে আমার বান্দাগণ! এ তো তোমাদের আমল যা আমি তোমাদের জন্য সংরক্ষণ করি, অতঃপর তোমাদের তা পূর্ণ করে দেব। অতএব যে ভাল কিছু পেল সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে, যে অন্য কিছু পেল সে যেন নিজেকে ভিন্ন কাউকে দোষারোপ না করে”। (সহিহ মুসলিম, সুনান তিরমিযি ওইবনু মাজাহ) হাদিসটি সহিহ।

আবু সায়িদ বলেনঃ আবু ইদরিস খাউলানি যখন এ হাদিস বলিতেনঃ হাঁটু গেড়ে বসতেন।

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসঃ ১৪২ – জাবের ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমার নিকট একটি হাদিসের সংবাদ পৌঁছেছে, যা কোন এক ব্যক্তির নিকট রহিয়াছে যে তা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে শুনেছে। অতঃপর আমি একটি উট খরিদ করি ও তাতে সফর করি, অতঃপর একমাস সফর করে শামে গিয়ে তার সাক্ষাত লাভ করি, দেখলাম তিনি আব্দুল্লাহ ইব্‌ন উনাইস।

আমি দারোয়ানকে বললামঃ তাকে বলঃ জাবের দরজায় অপেক্ষা করছে। তিনি বললেনঃ (জাবের) ইব্‌ন আব্দুল্লাহ? আমি বললামঃ হ্যাঁ, তিনি নিজ কাপড় হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে বের হলেন, অতঃপর আমার সাথে আলিঙ্গন করিলেন, আমিও তার সাথে আলিঙ্গন করলাম। আমি বললামঃ আপনার কাছ থেকে আমার নিকট কিসাস সম্পর্কে একটি হাদিস পৌঁছেছে যে, আপনি তা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট শ্রবণ করিয়াছেন, আমি আশঙ্কা করছিলাম, হয় আপনি মারা যাবেন, অথবা আমিই মারা যাব তা শ্রবণ করার আগে। তিনি বললেনঃ আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)কে বলিতে শুনেছিঃ “কিয়ামতের দিন মানুষদের অথবা বলেছেনঃ বান্দাদের, হাজির করা হইবে, (উরাত) উলঙ্গ, (গুরলান) খৎনা বিহীন, (বুহমান) খালি হাত অবস্থায়”। তিনি বলেনঃ আমরা বললামঃ বুহমান কি? তিনি বললেনঃ “তাহাদের সাথে কিছু থাকিবে না। অতঃপর তিনি তাহাদেরকে নির্দিষ্ট আওয়াজ দ্বারা ডাক দিবেন যা নিকট থেকে শুনা যাবেঃ আমিই বাদশাহ, আমি প্রতিদান দানকারী, কোন জাহান্নামী যার কোন জান্নাতির নিকট হক রহিয়াছে জাহান্নামে প্রবেশ করিবে না, যতক্ষণ না আমি তার থেকে তাকে কিসাস পাইয়ে দিব। কোন জান্নাতি যার নিকট কোন জাহান্নামীর হক রহিয়াছে জান্নাতে প্রবেশ করিবে না যতক্ষণ না আমি তার থেকে তাকে কিসাস পাইয়ে দিব, এমনকি চড় পর্যন্ত”। তিনি বলেনঃ আমরা বললামঃ কিভাবে তা সম্ভব হইবে, আমরা তো তখন আল্লাহর নিকট উলঙ্গ, গুরলান বুহমান হাজির হব? তিনি বললেনঃ নেকি ও পাপের মাধ্যমে”। (মুসনাদে আহমদ, সহিহ বুখারি ফিল আদাবুল মুফরাদ, আবু আসেম, হাকেম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান লিগাইরিহি

৮৬. অনুচ্ছেদঃ  জীবের ছবি অঙ্কন করা হারাম ও চিত্রকরদের প্রতি কঠোর হুশিয়ারি

হাদীসঃ ১৪৩ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআলা বলেনঃ তার চেয়ে বড় জালেম কে যে আমার সৃষ্টির ন্যায় সৃষ্টি করে, সে যেন একটি অণু অথবা শস্য দানা অথবা গমের দানা সৃষ্টি করে”। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৮৭. অনুচ্ছেদঃ ঝগড়াকারীদের শাস্তি

হাদীসঃ ১৪৪ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “প্রত্যেক সোম ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজা খোলা হয়”। মামার বলেনঃ সুহাইল ব্যতীত অন্যরা বলেছেনঃ “প্রত্যেক সোম ও বৃহস্পতিবার আমল পেশ করা হয়, অতঃপর আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক বান্দাকে ক্ষমা করে দেন যারা আল্লাহর সাথে শরীক করে না, তবে ঝগড়াকারী দুই ব্যক্তি ব্যতীত, আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাহাদের বলেনঃ এদেরকে অবকাশ দাও, যতক্ষণ না তারা মীমাংসা করে নেয়”। (মুসনাদে আহমদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান হাদিস

৮৮. অনুচ্ছেদঃ জ্বর ও রোগ-ব্যাধি কাফফারা

হাদীসঃ ১৪৫ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) সম্পর্কে বলেনঃ তিনি এক রোগীকে দেখিতে যান, যে জ্বরের কারণে অসুস্থ ছিল, -আবু হুরাইরা ছিলেন তার সাথে- রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) তাকে বলেনঃ “সুসংবাদ গ্রহণ কর, আল্লাহ বলেনঃ আমার আগুন  দুনিয়াতে আমি আমার মুমিন বান্দার ওপর প্রবল করি, যেন তা আখেরাতের আগুনের বিনিময় হয়ে যায়”। (মুসনাদে আহমদ,ইবনু মাজাহ ও সুনান তিরমিযি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান হাদিস

৮৯. অনুচ্ছেদঃ বান্দা অসুস্থ হলে তার জন্য সেরূপ আমল লেখা হয় যেরূপ সে সুস্থ অবস্থায় করত

হাদীসঃ ১৪৬ – উকবা ইব্‌ন আমের (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ দিনের এমন আমল নেই যার ওপর মোহর এঁটে দেয়া হয় না, বান্দা যখন অসুস্থ হয় ফেরেশতারা বলেঃ হে আমাদের রব, আপনার অমুক বান্দাকে আপনি অসুস্থ করে দিয়েছেন, আল্লাহ তাআলা বলেনঃ তার জন্য তার অনুরূপ আমল লিখতে থাক, যতক্ষণ না সে ভাল হয় অথবা মারা যায়”। (মুসনাদে আহমদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসঃ ১৪৭ – আবুল আশআস সানআনি থেকে বর্ণিতঃ তিনি দামেস্কের মসজিদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে রাওয়াহ’ নামক স্থানে দুপুরে অবস্থান করেন, সেখানে তিনি সাদ্দাদ ইব্‌ন আউসের সাথে সাক্ষাত করেন, (তার সাথী) সুনাবিহি’ তার সাথেই ছিল। আমি বললামঃ কোথায় যাচ্ছেন, আল্লাহ আপনাদের ওপর রহম করুন, তারা বলিলঃ এখানে আমাদের এক অসুস্থ ভাইয়ের সাথে সাক্ষাতের ইচ্ছা করছি, আমরা তাকে দেখিতে যাব। আমি তাহাদের সাথে চললাম, অবশেষে তারা ঐ ব্যক্তির নিকট গেল। তারা তাকে বলিলঃ কিরূপ সকাল করিলেন? সে বলিলঃ আল্লাহর নিয়ামতসহ। সাদ্দাদ তাকে বলিলঃ গুনাহের কাফফারা ও পাপ মোচনের সুসংবাদ গ্রহণ করুন, কারণ আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)কে বলিতে শুনেছিঃ “আমি যখন আমার কোন মুমিন বান্দাকে পরীক্ষা করি, অতঃপর সে আমার মুসিবতের ওপর আমার প্রশংসা করে, নিশ্চয় সে ঐ বিছানা থেকে উঠে সে দিনের মত যে দিন তার মা তাকে বেগুনা জন্ম দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ আমি আমার বান্দাকে আটকে রেখেছি, আমি তাকে মুসিবত দিয়েছি, অতএব তোমরা তার জন্য সওয়াব লিখতে থাক, যেমন তার সওয়াব লিখতে তার সুস্থ অবস্থায়”। (মুসনাদে আহমদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান লিগাইরিহি

৯০. অনুচ্ছেদঃ চোখের দৃষ্টি হারানোর পর ধৈর্যধারণকারী ও সওয়াবের আশা পোষণকারীর জন্য জান্নাত

হাদীসঃ ১৪৮ – আনাস ইব্‌ন মালিক (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)কে বলিতে শুনেছিঃ “আল্লাহ বলেনঃ আমি আমার বান্দাকে যখন তার দু’টি প্রিয় বস্তু  দ্বারা পরীক্ষা করি, অতঃপর সে ধৈর্যধারণ করে, আমি তার বিনিময়ে তাকে জান্নাত দান করি”। (সহিহ বুখারি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী ১৪৯ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) থেকে মারফু সনদে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআলা বলেনঃ আমি যার দু’টি প্রিয় বস্তু নিয়ে নেই, অতঃপর সে ধৈর্যধারণ করে ও সওয়াবের আশা করে, আমি তার জন্য জান্নাত ব্যতীত কোন প্রতিদানে সন্তুষ্ট হই না”। (সুনান তিরমিযি)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসঃ ১৫০ – ইব্‌ন আব্বাস (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআলা বলেনঃ আমি যখন আমার বান্দার প্রিয় দু’টি বস্তু গ্রহণ করি, অতঃপর সে সবর করে ও ধৈর্যধারণ করে, আমি তার জন্য জান্নাত ব্যতীত কোন সওয়াবে সন্তুষ্ট হব না”। (ইব্‌ন হিব্বান)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৯১. অনুচ্ছেদঃ অভাবের ফযিলত

হাদীসঃ ১৫১ – আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আমর ইব্‌ন আস (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “তোমরা কি জান আল্লাহর মখলুকের মধ্যে কে সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করিবে? তারা বলিলঃ আল্লাহ এবং তার রাসূল ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ আল্লাহর মখলুকের মধ্যে সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করিবে অভাবী ও মুহাজির, যাদের দ্বারা সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান পূর্ণ করা হয় ও যাদেরকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তাহাদের কেউ মারা যায় কিন্তু তার ইচ্ছা তার অন্তরেই থাকে পূর্ণ করতে পারে না। আল্লাহ তাআলা তার ফেরেশতাহাদের থেকে যাকে ইচ্ছা বলবেনঃ তাহাদের কাছে যাও, তাহাদেরকে সালাম কর, অতঃপর ফেরেশতারা বলেঃ আমরা আপনার আসমানের অধিবাসী, আপনার সর্বোত্তম মখলুক, আপনি আমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন তাহাদের কাছ যাব এবং তাহাদেরকে সালাম করব?! তিনি বলেনঃ তারা এমন বান্দা যারা আমার ইবাদত করত আমার সাথে কাউকে শরীক করত না। তাহাদেরকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে রাখা হত, তাহাদেরকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হত, তাহাদের কেউ মারা যেত কিন্তু তার প্রয়োজন তার অন্তরেই থাকত সে তা পূর্ণ করতে পারত না। তিনি বলেনঃ অতঃপর তখন তাহাদের নিকট ফেরেশতাগণ আসেন, প্রত্যেক দরজা দিয়ে তাহাদের নিকট প্রবেশ করেনঃ তোমাদের ওপর সালাম, কারণ তোমরা ধৈর্যধারণ করেছে, আখেরাতের প্রতিদান খুবই সুন্দর!”। (মুসনাদে আহমদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান লিগাইরিহি

৯২. অনুচ্ছেদঃ আত্মহত্যা থেকে হুশিয়ারি

হাদীসে কুদসী ১৫২ – জুনদুব ইব্‌ন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “তোমাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে এক ব্যক্তি ছিল, যার হাতে ছিল জখম, সে অস্থির হয়ে ছুরি নেয় ও তা দ্বারা হাত কেটে ফেলে, অতঃপর রক্ত বন্ধ হয়নি ফলে সে মারা যায়”। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ আমার বান্দা তার নিজের ব্যাপারে জলদি করেছে, আমি তার ওপর জান্নাত হারাম করে দিলাম”। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৯৩. অনুচ্ছেদঃ অন্যায়ভাবে হত্যাকারীর পাপ

হাদীসে কুদসী ১৫৩ – আব্দুল্লাহ ইব্‌ন মাসউদ থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির হাত ধরে উপস্থিত হইবে এবং বলবেঃ হে আমার রবঃ এ ব্যক্তি আমাকে হত্যা করেছে। আল্লাহ বললেনঃ কেন তাকে হত্যা করেছ? সে বলবেঃ আমি তাকে এ জন্য হত্যা করেছি যেন আপনার সম্মান বুলন্দ হয়। তিনি বলবেনঃ হ্যাঁ তা আমার জন্য। অপর ব্যক্তি অপর ব্যক্তির হাত ধরে উপস্থিত হইবে এবং বলবেঃ এ ব্যক্তি আমাকে হত্যা করেছে। আল্লাহ তাকে বলবেন কেন হত্যা করেছ? সে বলবেঃ যেন অমুকের সম্মান বুলন্দ হয়। তিনি বলবেনঃ তার জন্য সম্মান নয়, ফলে সে তার পাপ বহন করিবে”। (নাসায়ি) পরবর্তী হাদিসের বিবেচনায় সহিহ।

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী ১৫৪ – ইমরান আল-জাওনি থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি জুনদুবকে বললামঃ আমি তাহাদের নিকট বায়আত হয়েছি, অর্থাৎ আব্দুল্লাহ ইব্‌ন জুবায়ের এর হাতে, তারা চায় আমি তাহাদের সাথে শামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই, তিনি বললেনঃ বিরত থাক। আমি বললামঃ তারা আমাকে পীড়াপীড়ি করে। তিনি বললেনঃ তোমার সম্পদ দিয়ে বিরত থাক। তিনি বলেনঃ আমি বললামঃ আমি তাহাদের সাথে তলোয়ার দ্বারা যুদ্ধ করব এ ছাড়া কিছুতেই তারা রাজি হয় না। অতঃপর জুনদুব বললেনঃ অমুকে আমার নিকট বলেছে যে, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “কিয়ামতের দিন নিহত ব্যক্তি তার হত্যাকারীকে নিয়ে উপস্থিত হইবে, অতঃপর সে বলবেঃ তাকে জিজ্ঞাসা কর কেন আমাকে হত্যা করেছে”। শুবা বলেনঃ আমার মনে হয় তিনি বলেছেনঃ “সে বলবেঃ কিসের ওপর আমাকে হত্যা করেছে? সে বলবেঃ অমুকের নেতৃত্বে আমি তাকে হত্যা করেছি”। তিনি বলেনঃ অতঃপর জুনদুব বলিলঃ সুতরাং তুমি বিরত থাক। (মুসনাদে আহমদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৯৪. অনুচ্ছেদঃ পিপড়া হত্যার নিষেধাজ্ঞা

হাদীসে কুদসী ১৫৫ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)কে বলিতে শুনেছিঃ “একটি পিপড়া কোন এক নবীকে কামড় দেয়, তিনি পিপড়ার গ্রামের নির্দেশ দিলেন ফলে তা জ্বালিয়ে দেয়া হল, আল্লাহ তাকে ওহি করলেনঃ একটি পিপড়া তোমাকে কামড় দিয়েছে, আর তুমি একটি জাতি জ্বালিয়ে দিলে যারা আল্লাহর প্রশংসা করত”! (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ি ওইবনু মাজাহ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৯৫. অনুচ্ছেদঃ তাকদির অনুচ্ছেদ

হাদীসে কুদসী ১৫৬ – ইব্‌ন আব্বাস (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআলা নামান নামক স্থানে (অর্থাৎ আরাফায়) আদমের পিঠে থাকাবস্থায় অঙ্গিকার গ্রহণ করিয়াছেন, তিনি তার পিঠ থেকে প্রত্যেক সন্তান বের করেন যা সে জন্ম দিবে, অতঃপর তাহাদেরকে সামনে অণুর ন্যায় রাখেন, অতঃপর তাহাদের মুখোমুখি হয়ে কথা বলেনঃ তিনি বলেনঃ
﴿ وَإِذۡ أَخَذَ رَبُّكَ مِنۢ بَنِيٓ ءَادَمَ مِن ظُهُورِهِمۡ ذُرِّيَّتَهُمۡ وَأَشۡهَدَهُمۡ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمۡ أَلَسۡتُ بِرَبِّكُمۡۖ قَالُواْ بَلَىٰ شَهِدۡنَآۚ أَن تَقُولُواْ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ إِنَّا كُنَّا عَنۡ هَٰذَا غَٰفِلِينَ ١٧٢ ﴾ (الاعرافঃ ١٧١)
“আর স্মরণ কর, যখন তোমার রব বনী-আদমের ‎পৃষ্ঠদেশ হইতে তাহাদের বংশধরকে বের করিলেন ‎এবং তাহাদেরকে তাহাদের নিজদের উপর সাক্ষী ‎করিলেন যে, আমি কি তোমাদের রব নই’? ‎তারা বলিল, হ্যাঁ, আমরা সাক্ষ্য দিলাম।’ যাতে ‎কিয়ামতের দিন তোমরা বলিতে না পার যে, ‎নিশ্চয় আমরা এ বিষয়ে অনবহিত ছিলাম” (সূরা আরাফঃ১৭১) (মুসনাদে আহমদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী ১৫৭ – আব্দুর রহমান ইব্‌ন কাতাদা আসসুলামি থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেছেনঃ আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)কে বলিতে শুনেছিঃ “নিশ্চয় আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করেন, অতঃপর তার পিঠ থেকে মখলুক বের করেন ও বলেনঃ এরা জান্নাতি আমি কোন পরোয়া করি না, এরা জাহান্নামী আমি কোন পরোয়া করি না। তিনি বলেন এক ব্যক্তি বলিলঃ হে আল্লাহর রাসূল তাহলে কিসের ওপর আমল করব”? তিনি বললেনঃ “তাকদিরে নির্ধারিত স্থানে” । (মুসনাদে আহমদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃহাসান হাদিস

হাদীসে কুদসী ১৫৮ – আবু নাদরাহ থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক সাহাবি যাকে আবু আব্দুল্লাহ বলা হয়, তাকে দেখার জন্য তার সাথীবৃন্দ আসেন, তিনি কাঁদতে ছিলেন, তারা বলিলঃ আপনি কি জন্য কাঁদছেন, আপনাকে কি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেননিঃ “তুমি তোমার মোচ ছাট, অতঃপর তার ওপর স্থির থাক, যতক্ষণ না আমার সাথে সাক্ষাত কর”। তিনি বলেনঃ অবশ্যই, কিন্তু আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)কে বলিতে শুনেছিঃ “আল্লাহ তাআলা তার ডান হাতে এক মুষ্টি ও অপর হাতে অপর মুষ্টি গ্রহণ করেন, অতঃপর বলেনঃ এরা হচ্ছে এর জন্য এবং এরা হচ্ছে এর জন্য, আমি কোন পরোয়া করি না”। আমি জানি না আমি কোন মুষ্টির অন্তর্ভুক্ত। (মুসনাদে আহমদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

হাদীসে কুদসী ১৫৯ – আবু দারদা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তাআলা আদমকে সৃষ্টি করেন যখন সৃষ্টি করিয়াছেন, অতঃপর তার ডান কাঁধে হাত মারেন ও ধবধবে সাদা এক প্রজন্ম বের করেন যেন তারা পতঙ্গ, অতঃপর বাম কাঁধে হাত মারেন ও কালো এক প্রজন্ম বের করেন যেন তারা জ্বলন্ত ছাই। অতঃপর ডান হাতের তালুর দিকে লক্ষ্য করে বলেনঃ এগুলো জান্নাতের জন্য আমি কোন পরোয়া করি না, বাম হাতের তালুর দিকে লক্ষ্য করে বলেনঃ এগুলো জাহান্নামের জন্য আমি কোন পরোয়া করি না”। (মুসনাদে আহমদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৯৬. অনুচ্ছেদঃ মান্নত অনুচ্ছেদ

হাদীসে কুদসী ১৬০ – আবু হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “বনি আদমের নিকট মান্নত কোন জিনিস নিয়ে আসে না যা আমি তার জন্য নির্ধারণ করি নি, কিন্তু তাকদির তাকে পেয়ে বসে , আমি তার জন্য নির্ধারণ করে রেখেছি এর দ্বারা কৃপণ থেকে সম্পদ বের করব”। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৯৭. অনুচ্ছেদঃ কিয়ামতের বড় আলামত

হাদীসে কুদসী ১৬১ – আবু যর (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ আমি একটি গাধার ওপর নবী (সাঃআঃ)ের সাথে ছিলাম। তখন তার উপর একটি পাড়যুক্ত চাদর ছিল। তিনি বলেনঃ এটা ছিল সূর্যাস্তের সময়, তিনি আমাকে বলেনঃ “হে আবু যর তুমি জান এটা কোথায় অস্ত যায়?” তিনি বলেনঃ আমি বললামঃ আল্লাহ এবং তার রাসূল ভাল জানেন। তিনি বলেনঃ সূর্যাস্ত যায় একটি কর্দমাক্ত ঝর্ণায় , সে চলতে থাকে অবশেষে আরশের নিচে তার রবের জন্য সেজদায় লুটিয়ে পড়ে, যখন বের হওয়ার সময় আল্লাহ তাকে অনুমতি দেন, ফলে সে বের হয় ও উদিত হয়। তিনি যখন তাকে যেখানে অস্ত গিয়েছে সেখান থেকে উদিত করার ইচ্ছা করবেন আটকে দিবেন, সে বলবেঃ হে আমার রব আমার পথ তো দীর্ঘ, আল্লাহ বলবেনঃ যেখান থেকে ডুবেছে সেখান থেকেই উদিত হও, এটাই সে সময় যখন ব্যক্তিকে তার ঈমান উপকার করিবে না” । (মুসনাদে আহমদ)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৯৮. অনুচ্ছেদঃ দাজ্জালের ফিতনা

হাদীসে কুদসী ১৬২ – নাওয়াস ইব্‌ন সামআন থেকে বর্ণিতঃ কোন এক সকালে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) দাজ্জালের উল্লেখ করিলেন, তাতে তিনি আওয়াজ নিচু ও উঁচু করছিলেন, এমনকি আমরা তাকে (দাজ্জালকে) প্রতিবেশীর খেজুর বাগানে ধারণা করেছিলাম। অতঃপর তিনি বললেনঃ “আমি তোমাদের ওপর দাজ্জাল ব্যতীত অন্য কিছুর আশঙ্কা করছি, যদি সে বের হয় আর আমি তোমাদের মাঝে থাকি, তাহলে আমিই তাকে মোকাবিলা করব তোমাদের পরিবর্তে। যদি সে বের হয় আর আমি তোমাদের মাঝে না থাকি, তাহলে প্রত্যেকে তার নিজের জিম্মাদার, আর আমার অবর্তমানে আল্লাহ প্রত্যেক মুসলিমের জিম্মাদার। দাজ্জাল কোঁকড়ানো চুল বিশিষ্ট যুবক, তার চোখ ওপরে উঠানো, আমি তার উদাহরণ পেশ করছি আব্দুল উজ্জা ইব্‌ন কুতনকে। তোমাদের থেকে যে তাকে পাবে সে যেন তার ওপর সূরা কাহাফের প্রথম আয়াতগুলো পড়ে, নিশ্চয় সে বের হইবে শাম ও ইরাকের মধ্যবর্তী স্থান থেকে, সে ডানে ও বামে ধ্বংসযজ্ঞ চালাবে, হে আল্লাহর বান্দাগণ তোমরা দৃঢ় থাক”। আমরা বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল, যমীনে তার অবস্থান কি পরিমাণ হইবে? তিনি বললেনঃ “চল্লিশ দিন, একদিন এক বছর সমান, অতঃপর একদিন এক মাসের সমান, অতঃপর একদিন এক জুমার সমান, অতঃপর তার অন্যান্য দিনগুলো তোমাদের দিনের ন্যায়”। আমরা বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল, যে দিনটি এক বছরের ন্যায় সেখানে কি একদিনের সালাত যথেষ্ট? তিনি বললেনঃ “না, তোমরা তার পরিমাণ করিবে”। আমরা বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল যমীনে তার গতি কিরূপ হইবে? তিনি বললেনঃ “মেঘের মত, যাকে বাতাস হাঁকিয়ে নিয়ে যায়, সে এক কওমের নিকট আসবে তাহাদেরকে আহ্বান করিবে, ফলে তারা তার ওপর ঈমান আনবে ও তার ডাকে সাড়া দিবে, অতঃপর সে আসমানকে নির্দেশ করিবে আসমান বৃষ্টিপাত করিবে, যমীনকে নির্দেশ করিবে যমীন শস্য জন্মাবে, এবং তাহাদের জন্তুগুলো সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরবে উঁচু চুটি, দুধে পরিপূর্ণ ও দীর্ঘ দেহ নিয়ে। অতঃপর এক কওমের নিকট আসবে তাহাদেরকে দাওয়াত দিবে, কিন্তু তারা তার দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করিবে, সে তাহাদের থেকে চলে যাবে ফলে তারা দুর্ভিক্ষে পতিত হইবে তাহাদের হাতে তাহাদের সম্পদের কিছুই থাকিবে না। সে ধ্বংস স্তূপের পাশ দিয়ে যাবে অতঃপর তাকে বলবেঃ তোমার সম্পদ তুমি বের কর, ফলে তার সম্পদ তার অনুগামী হইবে মক্ষী রাণীর ন্যায়, অতঃপর সে পূর্ণ এক যুবককে ডাকবে ও তলোয়ারের আঘাতে দু’টুকরো করে ঢিলার দূরত্ব পরিমাণ দুই ধারে নিক্ষেপ করিবে, অতঃপর তাকে ডাকবে সে এগিয়ে আসবে ও হাসিতে তার চেহারা উজ্জ্বল থাকিবে। দাজ্জাল এরূপ করতে থাকিবে, এমতাবস্থায় আল্লাহ মাসিহ ইব্‌ন মারইয়ামকে প্রেরণ করবেন, তিনি দামেস্কের পূর্ব দিকে সাদা মিনারের কাছে অবতরণ করবেন দু’টি কাপড় পরিহিত অবস্থায় ফেরেশতাহাদের ডানার ওপর তার দু’হাত রেখে। যখন তিনি মাথা নিচু করবেন (বৃষ্টির ন্যায়) পানি টপকাবে, যখন তিনি মাথা উঁচু করবেন মুক্তোর ন্যায় শ্বেত পাথর পড়বে, (অর্থাৎ পরিষ্কার পানি)। কোন কাফের এর পক্ষে সম্ভব হইবে না তার শ্বাসের গন্ধ পাবে আর বেচে থাকিবে, তার শ্বাস সেখানে যাবে যেখানে তার দৃষ্টি পৌঁছবে। তিনি তাকে সন্ধান করবেন অবশেষে লুদ্দ’ নামক দরজার নিকট তাকে পাবেন, অতঃপর তাকে হত্যা করবেন। অতঃপর ঈসা আলাইহিস সালাম এক কওমের নিকট আসবেন, যাদেরকে আল্লাহ দাজ্জাল থেকে নিরাপদ রেখেছেন, তিনি তাহাদের চেহারায় হাত ভুলিয়ে দিবেন এবং জান্নাতে তাহাদের মর্তবা সম্পর্কে তাহাদেরকে বলবেন। এমতাবস্থায় আল্লাহ তার নিকট ওহি করবেন, আমি আমার এমন বান্দাদের বের করেছি যাদের সাথে যুদ্ধ করার সাধ্য কারো নেই, অতএব তুমি আমার বান্দাদের নিয়ে তুরে আশ্রয় গ্রহণ কর, আল্লাহ ইয়াজুজ ও মাজুজকে প্রেরণ করবেন, তারা প্রত্যেক উঁচু স্থান থেকে ছুটে আসবে। তাহাদের প্রথমাংশ পানিতে পূর্ণ নদীর পাশ দিয়ে অতিক্রম করিবে, তারা তার পানি পান করে ফেলবে। তাহাদের শেষাংশ অতিক্রম করিবে ও বলবেঃ এখানে কখনো পানি ছিল। আল্লাহর নবী ঈসা ও তার সাথীগণ তুরে আটকা পড়বেন, অবশেষে গরুর একটি মাথা তাহাদের নিকট বর্তমানে তোমাদের একশো দিনার থেকে উত্তম হইবে। অতঃপর আল্লাহর নবী ঈসা ও তার সাথীগণ আল্লাহর নিকট মনোনিবেশ করবেন, ফলে আল্লাহ তাহাদের (ইয়াজুজ-মাজুজের) গ্রীবায় গুটির রোগ সৃষ্টি করবেন, ফলে তারা সবাই এক ব্যক্তির মৃতের ন্যায় মৃত পড়ে থাকিবে। অতঃপর আল্লাহর নবী ঈসা ও তার সাথীগণ যমীনে অবতরণ করবেন, তারা যমীনে এক বিঘত জায়গা পাবে না যেখানে তাহাদের মৃত দেহ ও লাশ নাই। অতঃপর আল্লাহর নবী ঈসা ও তার সাথীগণ আল্লাহর নিকট দোআ করবেন, ফলে তিনি উটের গর্দানের ন্যায় পাখি প্রেরণ করবেন, তারা এদেরকে বহন করে আল্লাহর যেখানে ইচ্ছা নিক্ষেপ করিবে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, কাঁচা-পাকা কোন ঘর অবশিষ্ট থাকিবে না যেখানে সে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করিবে না, যমীন ধৌত করে অবশেষে আয়নার মত করে দিবে। অতঃপর যমীনকে বলা হবেঃ তোমার ফল তুমি জন্মাও, তোমার বরকত তুমি ফেরৎ দাও, ফলে সেদিন এক দল লোক একটি আনার ভক্ষণ করিবে এবং তার ছিলকা দ্বারা ছায়া গ্রহণ করিবে, দুধে বরকত দেয়া হইবে ফলে এক উটের দুধ কয়েক গ্রুপ মানুষের জন্য যথেষ্ট হইবে। এক গরুর দুগ্ধ এক গ্রামের জন্য যথেষ্ট হইবে। এক বকরির দুগ্ধ এক পরিবারের জন্য যথেষ্ট হইবে। তারা এভাবেই জীবন যাপন করিবে, এমতাবস্থায় আল্লাহ পবিত্র বাতাস প্রবাহিত করবেন, যা তাহাদের বগলের নিচ স্পর্শ করিবে, ফলে সে প্রত্যেক মুমিন ও মুসলিমের রূহ কব্জা করিবে, তখন কেবল সবচেয়ে খারাপ লোকগুলো অবশিষ্ট থাকিবে, তারা গাধার ন্যায় (সবার সামনে) যৌনাচারে লিপ্ত হইবে, অতঃপর তাহাদের ওপরই কিয়ামত কায়েম হইবে”। (সহিহ মুসলিম)

হাদিসের মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

৯৯. অনুচ্ছেদঃ আল্লাহর প্রশংসামূলক কতক বাক্যের ফযিলত

হাদীসে কুদসী ১৬৩ – আনাস (রাদিআল্লাহু আঃ) থেকে বর্ণিতঃ এক ব্যক্তি নবী (সাঃআঃ)ের নিকট সালাত অবস্থায় হাজির হয়ে বলিলঃ الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ، নবী (সাঃআঃ) সালাত শেষ করে বললেনঃ তোমাদের মধ্যে কে অমুক বাক্য পাঠকারী? সকলে চুপ রইল। তিনি বলেনঃ তিনি তিনবার তা বলিলেন, অতঃপর এক ব্যক্তি বলিলঃ আমি তা বলেছি, আমি ভাল ব্যতীত অন্য কিছু উদ্দেশ্য করিনি। তিনি বলেনঃ নবী (সাঃআঃ) বললেনঃ “বারোজন ফেরেশতা তাকে গ্রহণ করার জন্য দ্রুত ছুটে এসেছে, তারা বুঝতে পারছিল না কিভাবে তা লিখবে, অবশেষে তাহাদের রবের নিকট জিজ্ঞাসা করে, অতঃপর তিনি বলেনঃ আমার বান্দা যেরূপ বলেছে সেরূপ লিখ”। (মুসনাদে আহমদ)

হাদীসে কুদসী মান নির্ণয়ঃসহিহ হাদিস

By রিয়াদুস সালেহিন

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply