হাদিসের দোয়া সমূহ – সহিহ বুখারী সরিফ হতে

হাদিসের দোয়া সমূহ – সহিহ বুখারী সরিফ হতে

হাদিসের দোয়া সমূহ – সহিহ বুখারী সরিফ হতে >> বুখারী শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

পর্বঃ ৮০, দোয়া, অধ্যায়ঃ (১-৬৯)=৬৯টি

৮০/১৭. অধ্যায়ঃ সলাতের ভিতর দুআ পাঠ
৮০/১৮. অধ্যায়ঃ সালাতের পরে দুআ। [২৩]
৮০/১৯. অধ্যায়ঃ আল্লাহ তাআলার বাণীঃ তুমি দুআ করিবে…… (সুরা আত তাওবাহ ৯/১০৩) আর যিনি নিজেকে বাদ দিয়ে কেবল নিজের ভাই-এর জন্য দুআ করেন
৮০/২০. অধ্যায়ঃ দুআর মধ্যে ছন্দযুক্ত শব্দ ব্যবহার অপছন্দ করা হয়েছে ।
৮০/২১. অধ্যায়ঃ কবূল হবার দৃঢ় আশা নিয়ে দুআ করিবে। কারণ কবূল করিতে আল্লাহকে বাধা দানকারী কেউ নেই।
৮০/২২. অধ্যায়ঃ তাড়াহুড়া না করলে বান্দার দুআ কবূল হয়ে থাকে।
৮০/২৩. অধ্যায়ঃ দুআর সময় দুখানা হাত উঠানো। [১] আবু মূসা (রা.) বর্ণনা করেন, নাবী (সাঃ) দুখানা হাত এতটুকু তুলে দুআ করিতেন যে, আমি তাহাঁর বগলের ফর্সা রং দেখেতে পেয়েছি। ইবন উমর (রা.) বলেন, নাবী (সাঃ) দুখানা হাত তুলে দুআ করেছেনঃ ইয়া আল্লাহ! খালিদ যা করেছে আমি তা থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করছি।
৮০/২৪. অধ্যায়ঃ কিবলামুখী না হয়ে দুআ করা।
৮০/২৫. অধ্যায়ঃ কিবলার দিকে মুখ করে দুআ করা।
৮০/২৬. অধ্যায়ঃ আপন খাদিমের দীর্ঘজীবী হওয়া এবং অধিক মালদার হবার জন্য নাবী (সাঃআঃ) -এর দুআ।
৮০/২৭. অধ্যায়ঃ বিপদের সময় দুআ করা।
৮০/২৮. অধ্যায়ঃ ভীষণ বিপদ থেকে আশ্রয় চাওয়া।
৮০/২৯. অধ্যায়ঃ নাবী (সাঃআঃ) -এর দুআ আল্লাহুম্মা রাফীকাল আলা।
৮০/৩০. অধ্যায়ঃ মৃত্যু আর জীবনের জন্য দুআ করা।
৮০/৩১. অধ্যায়ঃ শিশুদের জন্য বারাকাতের দুআ করা এবং তাদের মাথায় হাত বুলানো।
৮০/৩২. অধ্যায় : নাবী এর উপর সালাত পাঠ করা ।
৮০/৩৩. অধ্যায় : নাবী ব্যতীত অন্য কারো উপর দরূদ পড়া যায় কিনা?
৮০/৩৪. অধ্যায় নাবী এর বাণী : হে আল্লাহ! আমি যাকে কষ্ট দিয়েছি, সে কষ্ট তার চিত্তশুদ্ধির উপায় এবং তার জন্য রহমাতে পরিণত করুন ।
৮০/৩৫. অধ্যায় : ফিতনা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা ।
৮০/৩৬. অধ্যায় : মানুষের প্রভাবাধীন হওয়া থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা ।
৮০/৩৭. অধ্যায় : ক্ববরের আযাব হইতে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা ।
৮০/৩৮. অধ্যায় : জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা ।
৮০/৩৯. অধ্যায় : গুনাহ এবং ঋণ হইতে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা ।
৮০/৪০. অধ্যায় : কাপুরুষতা ও অলসতা হইতে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা ।
৮০/৪১. অধ্যায় : কৃপণতা থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা ।
৮০/৪২. অধ্যায় : বার্ধক্যের আতিশয্য থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা ।
৮০/৪৩. অধ্যায় : মহামারি ও রোগ যন্ত্রণা বিদূরিত হবার জন্য দুআ ।
৮০/৪৪. অধ্যায়ঃ বার্ধ্যকের আতিশয্য এবং দুনিয়ার ফিতনা আর জাহান্নামের আগুন থেকে আশ্রয় প্রার্থনা।
৮০/৪৫. অধ্যায় : প্রাচুর্যের ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা ।
৮০/৪৬. অধ্যায়ঃ দারিদ্র্যের সংকট হইতে আশ্রয় প্রার্থনা।
৮০/৪৭. অধ্যায়ঃ বারাকাতসহ মালের প্রবৃদ্ধির জন্য দুআ প্রার্থনা।
৮০/৪৭.২ অধ্যায়ঃ বারাকাতপূর্ণ অধিক সন্তান পাওয়ার জন্য প্রার্থনা।
৮০/৪৮. অধ্যায়ঃ ইস্তিখারার সময়ের দুআ।
৮০/৪৯. অধ্যায়ঃ উযূ করার সময় দুআ করা।
৮০/৫০. অধ্যায়ঃ উঁচু স্থানে আরোহণের সময় দুআ।
৮০/৫১. অধ্যায়ঃ উপত্যকায় অবতরণকালে দুআ।
৮০/৫৩. অধ্যায়ঃ বরের নিমিত্তে দুআ করা।
৮০/৫৪. অধ্যায়ঃ নিজ স্ত্রীর নিকট আসলে যে দুআ বলবে।
৮০/৫৫. অধ্যায়ঃ নাবী (সাঃআঃ) এর দুআঃ হে আমাদের রব্ব! আমাদের এ জগতে কল্যাণ দাও।
৮০/৫৬. অধ্যায়ঃ দুনিয়ার ফিতনা থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করা।
৮০/৫৭. অধ্যায়ঃ বারবার দুআ করা।
৮০/৫৮. অধ্যায়ঃ মুশরিকদের উপর বদ দুআ করা।
৮০/৫৯. অধ্যায় : মুশরিকদের জন্য দুআ।
৮০/৬০. অধ্যায় : নাবী (সাঃআঃ) -এর দুআঃ হে আল্লাহ! আমার আগের ও পরের গুনাহ মাফ করে দিন।
৮০/৬১. অধ্যায় : জুমআহর দিনে দুআ কবুলের সময় দুআ করা।
৮০/৬২ অধ্যায় : নাবী (সাঃআঃ) -এর বাণীঃ ইয়াহুদীদের সম্পর্কে আমাদের বদ দুআ কবূল হইবে। কিন্তু আমাদের সম্পর্কে তাদের বদ দুআ কবূল হইবে না।
৮০/৬৩. অধ্যায় : আমীন বলা।

৮০/১৭. অধ্যায়ঃ সলাতের ভিতর দুআ পাঠ

৬৩২৬. আবু বাক্‌র সিদ্দিক (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

একবার তিনি নাবী (সাঃআঃ) -এর নিকট বলিলেন, আপনি আমাকে এমন একটি দুআ শিখিয়ে দিন, যা দিয়ে আমি সলাতে দুআ করব। তিনি বলিলেন, তুমি সালাতে পড়বেঃ

اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا، وَلاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ، وَارْحَمْنِي، إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ 

“আল্লাহুম্মা ইন্নী জ্বলামতু নাফসী জুলমান কাছীরও ওয়ালা ইয়াগফিরু যুনুবা ইল্লা আন্তা ফাগ ফিরলী মাগফিরাতাম মিন ইন্দিকা ওয়ার হামনী ইন্নকা আন্তাল গফুরুর রাহীম” “হে আল্লাহ! আমি আমার নিজের উপর অনেক অধিক যুল্‌ম করেছি। আপনি ছাড়া আমার গুনাহ মাফ করার আর কেউ নেই। অতএব আপনি আপনার পক্ষ থেকে আমাকে ক্ষমা করে দিন। আর আমার প্রতি দয়া করুন। নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল ও অতি দয়ালু।”

ظَلَمْتُ إِنِّي اللَّهُمَّ
كَثِيرًاظُلْمًا نَفْسِي
الذُّنُوبَ يَغْفِرُ وَلاَ
فَاغْفِرْ أَنْتَإِلاَّ
مِنْ مَغْفِرَةً لِي
عِنْدِكَ

(আঃপ্রঃ- ৫৮৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৭৪)

৬৩২৭. আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

যে, (আল্লাহরবাণী) – “…… সালাতে স্বর উঁচু করিবে না আর অতি ক্ষীণও করিবে না……।”

(সুরা আল-ইসরাঃ ১১০) এ আয়াতটি দুআ সম্পর্কেই অবতীর্ণ করা হয়েছে।(আঃপ্রঃ- ৫৮৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৭৫)

৬৩২৮. আবদুল্লাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আমরা সালাতে বলতামঃ আস্সালামু আলাল্লাহ, আস্সালামু আলা ফুলানিন্। তখন একদিন নাবী সাঃআঃ আমাদের বললেনঃ আল্লাহ তাআলা নিজেই সালাম। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন সালাতে বসবে, তখন সে যেন

التَّحِيَّاتُ للهِ÷ إِلٰى قَوْلِهِ الصَّالِحِينَ

পর্যন্ত পড়ে। সে যখন এতটুকু পড়বে তখন আসমান যমীনের আল্লাহর সব নেক বান্দাদের নিকট তা পৌঁছে যাবে। তারপর বলবে,

أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدٍا عَبْدُه” وَرَسُوْلُه

তারপর হাম্দ সানা যা ,ইচ্ছে পড়তে পারবে।

[৮৩১] আঃপ্রঃ- ৫৮৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৭৬)

৮০/১৮. অধ্যায়ঃ সালাতের পরে দুআ। [২৩]

২৩ ফরয সালাতের পর পঠিতব্য দুআ ও যিকরগুলো একাকী পড়তে হইবে, দলবদ্ধভাবে নয়। কারণ, হাদীসে এ ক্ষেত্রে পঠিতব্য দুআগুলো প্রায়ই সবই এক বচনের শব্দে এসেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ভারত বর্ষের প্রায় সকল মুসলিম জনগণ (আলিম ও সাধারণ) নাবী (সাঃআঃ) কর্তৃক সালাতের পর পঠিতব্য দুআর তালিকাটি আংশিক বা পুরোপুরি বাদ দিয়ে নিজেরাই বিভিন্ন দুআ নির্বাচন ও সংযুক্ত করেছে। এর সাথে আরো যোগ করেছে দলবদ্ধ ও সম্মিলিত রূপ। ফলে সালাতের পরে দুআর নামে সম্মিলিত মুনাজাতের মাধ্যমে অনেকগুলো সুন্নাত উৎখাত হয়েছে। প্রথমতঃ যে সুন্নাতটি উঠেছে সেটা হলো, ফরয সালাতের পর যে নির্দিষ্ট কিছু দুআ ও যিকর রয়েছে এটার জ্ঞানই অধিকাংশ লোকের নেই। যার জন্য ওগুলো কণ্ঠস্থ করার তাদের সুযোগ হয়নি। ঐ সকল দুআ ও যিকর সম্বলিত হাদীসগুলো পড়ার কিংবা ইমাম সাহেবের মাধ্যমে শোনার অবকাশ হয়নি বা নেই। এ সকল দুআ প্রাপ্তির জন্য কয়েকটি রিফারেন্স দেয়া হলোঃ সহীহুল বুখারী, আযান পর্ব, অধ্যায়ঃ যিকর বাদাস সালাত, মুসলিম সালাত পর্ব, অধ্যায়ঃ যিকর বাদাস সালাত, আবু দাউদ, অধ্যায়ঃ মা ইয়াকূলুর রাজুলু ইযা সাল্লামা, ইত্যাদি।

৬৩২৯. আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

গরীব সাহাবীগণ বললেনঃ হে আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)! ধনী লোকেরা তো উচ্চমর্যাদা ও চিরস্থায়ী নিয়ামত নিয়ে আমাদের থেকে এগিয়ে গেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তা কেমন করে? তাঁরা বললেনঃ আমরা যে রকম সলাত আদায় করি, তাঁরাও সে রকম সলাত আদায় করেন। আমরা যেমন জিহাদ করি, তাঁরাও তেমন জিহাদ করেন এবং তাঁরাও তাদের অতিরিক্ত মাল দিয়ে সদাকাহ-খয়রাত করেন; কিন্তু আমাদের কাছে সম্পদ নেই। তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাদের একটি আমাল বাতলে দেব না, যে আমাল দ্বারা তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের মর্যাদা লাভ করিতে পারবে, আর তোমাদের পরবর্তীদের চেয়ে এগিয়ে যেতে পারবে, আর তোমাদের মত আমাল কেউ করিতে পারবে না, কেবলমাত্র যারা তোমাদের মত আমাল করিবে তারা ব্যতীত। সে আমাল হলো তোমরা প্রত্যেক সালাতের পর ১০ বার সুবহানাল্লাহ, ১০ বার আলহামদু লিল্লাহ এবং ১০ বার আল্লাহু আকবার পাঠ করিবে।

(আঃপ্রঃ- ৫৮৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৭৭)

৬৩৩০. মুগীরাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

মুগীরাহ (রাদি.) আবু সুফ্‌ইয়ানের পুত্র মুআবিয়াহ (রাদি.) -এর নিকট এক পত্রে লিখেন যে, নাবী (সাঃআঃ) প্রত্যেক সালাতে সালাম ফিরানোর পর বলিতেনঃ

 لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ، وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهْوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ، اللَّهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ

লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্দাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বাদীর। আল্লাহুম্মা লা মানি‘আ লিমা আ‘ত্বইতা, ওয়ালা মু‘ত্বিয়া লিমা মানা‘তা, ওয়ালা ইয়ানফা‘উ জালজাদ্দি মিনকাল জাদ্দু।

আল্লাহ ব্যতীত আর কোন মাবূদ নেই। তিনি একক। তাহাঁর কোন শরীক নেই। মূলক্‌ তাহাঁরই, প্রশংসা তাহাঁরই। তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান। হে আল্লাহ আপনি কাউকে যা দান করেন তাতে বাধা দেয়ার কেউ নেই। আর আপনি যাকে কোন কিছু দিতে বিরত থাকেন তাকে তা দেয়ার মতো কেউ নেই। ধনীর ধন তাকে তোমা হইতে উপকার দিতে পারে না।

(আঃপ্রঃ- ৫৮৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৭৮)

৮০/১৯. অধ্যায়ঃ আল্লাহ তাআলার বাণীঃ তুমি দুআ করিবে…… (সুরা আত তাওবাহ ৯/১০৩) আর যিনি নিজেকে বাদ দিয়ে কেবল নিজের ভাই-এর জন্য দুআ করেন

আবু মূসা (রাদি.) বলেন, নাবী (সাঃআঃ) দুআ করেন, হে আল্লাহ! আপনি উবায়দ আবু আমিরকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আপনি আবদুল্লাহ ইবনু ক্বায়সের গুনাহ ক্ষমা করে দিন।

৬৩৩১. সালামাহ ইবনু আকওয়া (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ একবার আমরা নাবী (সাঃআঃ) -এর সঙ্গে খায়বার অভিযানে বের হলাম। সেনাবাহিনীর এক ব্যক্তি বললেনঃ ওহে আমির! যদি আপনি আপনার ছোট ছোট কবিতা থেকে কিছুটা আমাদের শুনাতেন? তখন তিনি সওয়ারী থেকে নেমে হুদী গাইতে গাইতে বাহন হাঁকিয়ে নিতে শুরু করিলেন। তাতে উল্লেখ করলেনঃ আল্লাহ তাআলা না হলে আমরা হিদায়াত পেতাম না। (রাবী বলেন) এছাড়া আরও কিছু কবিতা তিনি আবৃত্তি করিলেন, যা আমি স্মরণ রাখতে পারিনি। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) জিজ্ঞেস করলেনঃ এ উট চালক লোকটি কে? সাথীরা বললেনঃ উনি আমির ইবনু আকওয়া। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তার উপর রহম করুন। তখন দলের একজন বললেনঃ হে আল্লাহর রাসুল! আপনি তার দুআয় আমাদেরকেও অন্তর্ভুক্ত করলে ভাল হতো না? এরপর যখন মুজাহিদগণ কাতারবন্দী হয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিলেন, এ সময় আমির (রাদি.) তাহাঁর নিজের তলোয়ারের অগ্রভাগের আঘাতে আহত হলেন এবং এ আঘাতের ফলে তিনি মারা গেলেন। এদিন লোকেরা সন্ধ্যার পর (পাকের জন্য) বিভিন্নভাবে অনেক আগুন জ্বালালেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) জিজ্ঞেস করলেনঃ এ সব আগুন কিসের? এসব আগুন দিয়ে তোমরা কী জ্বাল দিচ্ছ। তারা বললেনঃ আমরা গৃহপালিত গাধার মাংস জ্বাল দিচ্ছি। তখন নাবী (সাঃআঃ) বললেনঃ হাঁড়িতে যা আছে, তা সব ফেলে দাও এবং হাঁড়িগুলোও ভেঙ্গে ফেল। এক ব্যক্তি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসুল! হাঁড়িতে যা আছে তা ফেলে দিলে এবং পাত্রগুলো ধুয়ে নিলে চলবে না? তিনি বললেনঃ তবে তাই কর।

(আঃপ্রঃ- ৫৮৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৭৯)

৬৩৩২. ইবনু আবু আওফা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

ইবনু আবু আওফা (রাদি.) বর্ণনা করিতেন, যখন কেউ কোন সদাকাহ নিয়ে নাবী (সাঃআঃ) -এর নিকট আসতো তখন তিনি দুআ করিতেনঃ

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى آلِ فُلاَنٍ 

আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা আলি ফুলান

হে আল্লাহ! আপনি অমুকের পরিবারের উপর রহম অবতীর্ণ করেন। একবার আমার আব্বা তাহাঁর কাছে কিছু সদাকাহ নিয়ে এলে তিনি বললেনঃ

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى آلِ أَبِي أَوْفَى

আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা আলি আবু আওফা

হে আল্লাহ! আপনি আবু আওফার পরিবারের উপর দয়া করুন।

(আঃপ্রঃ- ৫৮৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৮০)

৬৩৩৩। জারীর (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেনঃ তুমি কি যুল-খালাসাহকে ধ্বংস করে আমাকে চিন্তামুক্ত করিবে? সেটা ছিল এক মূর্তি। লোকেরা এর পূজা করতো। সেটাকে বলা হতো ইয়ামানী কাবা। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসুল! আমি অশ্ব পৃষ্ঠে স্থির থাকতে পারি না। তখন তিনি আমাকে বুকে জোরে একটা থাবা মারলেন এবং বললেনঃ হে আল্লাহ! আপনি তাকে স্থির রাখুন এবং তাকে হিদায়াতকারী ও হিদায়াতপ্রাপ্ত বানিয়ে দিন। তখন আমি আমারই গোত্র আহমাসের পঞ্চাশ জন যোদ্ধাসহ বের হলাম। সুফ্‌ইয়ান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, তিনি কোন কোন সময় বলেছেনঃ আমি তোমার গোত্রের একদল যোদ্ধার মধ্যে গেলাম। তারপর আমি সেই মূর্তিটার কাছে গিয়ে সেটা জ্বালিয়ে ফেললাম। এরপর আমি নাবী (সাঃআঃ) -এর কাছে এসে বললামঃ হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহর কসম! আমি যুল-খালাসাহকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে পাঁচড়াযুক্ত উটের মত করে আপনার কাছে এসেছি। তখন তিনি আহমাস গোত্র ও তার যোদ্ধাদের জন্য দুআ করিলেন।

(আঃপ্রঃ- ৫৮৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৮১)

৬৩৩৪। আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদিন উম্মু সুলায়ম (রাদি.) নাবী (সাঃআঃ) -কে বললেনঃ আনাস তো আপনারই খাদিম। তখন তিনি বললেনঃ

اللَّهُمَّ أَكْثِرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ، وَبَارِكْ لَهُ فِيمَا أَعْطَيْتَهُ

আল্লাহুম্মাকছির মালুহু ওয়া ওয়ালাদুহু ওয়া বারিক লাহু ফিমা আত্বাইতাহু।

হে আল্লাহ! আপনি তার সম্পদ ও সন্তানাদি বাড়িয়ে দিন এবং আপনি তাকে যা কিছু দান করিয়াছেন, তাতে বারাকাত দিন।

(আঃপ্রঃ- ৫৮৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৮২)

৬৩৩৫। আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) এক লোককে মাসজিদে কুরআন তিলাওয়াত করিতে শুনলেন। তখন তিনি বললেনঃ

رَحِمَهُ اللَّهُ

রহিমাল্লাহু

আল্লাহ তার উপর দয়া করুন। সে আমাকে অমুক অমুক আয়াত মনে করিয়ে দিয়েছে, যা আমি অমুক অমুক সুরা থেকে ভুলে গিয়েছিলাম।

(আঃপ্রঃ- ৫৮৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৮৩)

৬৩৩৬। আবদুল্লাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

একদা নাবী (সাঃআঃ) গানীমতের মাল বণ্টন করে দিলে এক লোক মন্তব্য করলেনঃ এটা এমন বণ্টন যার মধ্যে আল্লাহর সন্তুষ্টির খেয়াল রাখা হয়নি। আমি তা নাবী (সাঃআঃ)-কে জানালে তিনি রাগান্বিত হলেন। এমনকি আমি তাহাঁর চেহারার মধ্যে গোস্বার চিহ্ন দেখিতে পেলাম। তিনি বললেনঃ

 يَرْحَمُ اللَّهُ مُوسَى

ইয়ার হামুল্লাহু মুসা

আল্লাহ মুসা (আঃ) -এর প্রতি দয়া করুন, তাঁকে এর চেয়ে বেশী কষ্ট দেয়া হয়েছে, কিন্তু তিনি ধৈর্যধারণ করিয়াছেন।

(আঃপ্রঃ- ৫৮৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৮৪)

৮০/২০. অধ্যায়ঃ দুআর মধ্যে ছন্দযুক্ত শব্দ ব্যবহার অপছন্দ করা হয়েছে ।

৬৩৩৭. ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন যে, তুমি প্রতি জুমুআহয় লোকেদের হাদীস শোনাবে। যদি এতে তুমি ক্লান্ত না হও তবে সপ্তাহে দু বার। আরও অধিক করিতে চাও তবে তিনবার। আরও অধিক নাসীহাত করে এ কুরআনের প্রতি মানুষের মনে বিরক্তি সৃষ্টি করো না। লোকেরা তাদের কথাবার্তায় ব্যস্ত থাকা অবস্থায় তুমি তাদের কাছে এসে তাদের নির্দেশ দেবে- আমি যেন এমন হালাতে তোমাকে না পাই। কারণ এতে তাদের কথায় বিঘ্ন সৃষ্টি হইবে এবং তারা বিরক্ত হইবে। বরং তুমি এ সময় নীরব থাকবে। যদি তারা আগ্রহ নিয়ে তোমাকে নাসীহাত দিতে বলে তাহলে তুমি তাদের নাসীহাত দেবে। আর তুমি দুআর মধ্যে ছন্দযুক্ত কবিতা বর্জন করিবে। কারণ আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) ও তাহাঁর সাহাবীগণকে তা বর্জন করিতে দেখেছি।

(আঃপ্রঃ- ৫৮৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৮৫)

৮০/২১. অধ্যায়ঃ কবূল হবার দৃঢ় আশা নিয়ে দুআ করিবে। কারণ কবূল করিতে আল্লাহকে বাধা দানকারী কেউ নেই।

৬৩৩৮. আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ দুআ করলে দুআর সময় দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে দুআ করিবে এবং এ কথা বলবে না

اللَّهُمَّ إِنْ شِئْتَ فَأَعْطِنِي

আল্লাহুম্মা ইন সি,তা ফা,তিনি

হে আল্লাহ! আপনার ইচ্ছে হলে আমাকে কিছু দিন। কারণ আল্লাহকে বাধ্য করার কেউ নেই।

[৭৪৬৪; মুসলিম ৪৫/৩৭, হাদীস ২৬১৮] আঃপ্রঃ- ৫৮৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৮৬)

৬৩৩৯. আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ কখনো এ কথা বলবে না যে, হে আল্লাহ! আপনার ইচ্ছে হলে আমাকে ক্ষমা করুন।

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي، اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي

আল্লাহুম্মাগ ফিরলি আল্লাহুম্মার হামনি

হে আল্লাহ! আপনার ইচ্ছে হলে আমাকে দয়া করুন। বরং দৃঢ় আশা নিয়ে দুআ করিবে। কারণ আল্লাহকে বাধ্য করার কেউ নেই।

[৭৪৭৭; মুসলিম ৪৮/৩, হাদীস ২৬৭৯, আহমাদ ৯৯৭৫] আঃপ্রঃ- ৫৮৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৮৭)

৮০/২২. অধ্যায়ঃ তাড়াহুড়া না করলে বান্দার দুআ কবূল হয়ে থাকে।

৬৩৪০. আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তির দুআ কবূল হয়ে থাকে। যদি সে তাড়াহুড়া না করে আর বলে যে, আমি দুআ করলাম। কিন্তু আমার দুআ তো কবূল হলো না।

[মুসলিম ৪৮/২৪, হাদীস ২৭৩৫, আহমাদ ১৩০০৭]আঃপ্রঃ- ৫৮৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৮৮)

৮০/২৩. অধ্যায়ঃ দুআর সময় দুখানা হাত উঠানো। [১] আবু মূসা (রা.) বর্ণনা করেন, নাবী (সাঃ) দুখানা হাত এতটুকু তুলে দুআ করিতেন যে, আমি তাহাঁর বগলের ফর্সা রং দেখেতে পেয়েছি। ইবন উমর (রা.) বলেন, নাবী (সাঃ) দুখানা হাত তুলে দুআ করেছেনঃ ইয়া আল্লাহ! খালিদ যা করেছে আমি তা থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করছি।

৬৩৪১. আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

অন্য এক সূত্রে আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিত। নাবী (সাঃআঃ) দু হাত এতটুকু তুলে দুআ করিয়াছেন যে, আমি তার বগলের শুভ্রতা দেখিতে পেয়েছি।

(আঃপ্রঃ- অনুচ্ছেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- অনুচেছদ)

৮০/২৪. অধ্যায়ঃ কিবলামুখী না হয়ে দুআ করা।

৬৩৪২. আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) জুমুআহর দিন খুৎবাহ দিচ্ছিলেন। এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললোঃ হে আল্লাহর রাসুল! আপনি আমাদের উপর বৃষ্টির জন্য দুআ করুন। (তিনি দুআ করলে) তখনই আকাশ মেঘে ছেয়ে গেল এবং এমনি বৃষ্টি হলো যে, মানুষ আপন ঘরে পৌঁছতে পারলো না এবং পরবর্তী জুমুআহ পর্যন্ত এক নাগাড়ে বৃষ্টি হইতে থাকলো। পরবর্তী জুমুআহয় সেই লোক অথবা অন্য এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললোঃ আপনি আল্লাহর নিকট দুআ করুন, তিনি যেন আমাদের উপর মেঘ সরিয়ে নেন। আমরা তো ডুবে গেলাম। তখন তিনি দুআ করলেনঃ

اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلاَ عَلَيْنَا

আল্লাহুম্মা হাওয়াইলানা ওয়া লা আলাইনা

হে আল্লাহ! আপনি আমাদের আশেপাশে বর্ষণ করুন। আমাদের উপর (আর) বর্ষণ করবেন না।

তখন মেঘ বিক্ষিপ্ত হয়ে মাদীনাহর পার্শ্ববর্তী এলাকায় ছড়িয়ে পড়লো। মাদীনাহবাসীর উপর আর বৃষ্টি হলো না।

(আঃপ্রঃ- ৫৮৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৮৯)

৮০/২৫. অধ্যায়ঃ কিবলার দিকে মুখ করে দুআ করা।

৬৩৪৩। আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একবার নাবী (সাঃআঃ) ইস্‌তিস্‌কার (বৃষ্টির) সালাতের জন্য ঈদ্গাহে গমন করিলেন এবং বৃষ্টির জন্য দুআ করিলেন। অতঃপর কিবলার দিকে মুখ করে নিজের চাদরখানা উল্টিয়ে গায়ে দিলেন।

(আঃপ্রঃ- ৫৮৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৯০)

৮০/২৬. অধ্যায়ঃ আপন খাদিমের দীর্ঘজীবী হওয়া এবং অধিক মালদার হবার জন্য নাবী (সাঃআঃ) -এর দুআ।

৬৩৪৪। আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমার মা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসুল! আনাস আপনারই খাদিম। আপনি তার জন্য দুআ করুন। তিনি দুআ করলেনঃ

اللَّهُمَّ أَكْثِرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ وَبَارِكْ لَهُ فِيمَا أَعْطَيْتَهُ

আল্লাহুম্মাকছির মালাহু ওয়া ওয়া লাদাহু, ওয়া বারিকলাহু ফিমা আত্বায়তাহু

হে আল্লাহ! আপনি তার সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধি করে দিন। আর তাকে আপনি যা কিছু দিয়েছেন তাতে বারাকাত দিন।

(আঃপ্রঃ- ,৫৮৯৮ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৯১)

৮০/২৭. অধ্যায়ঃ বিপদের সময় দুআ করা।

৬৩৪৫. ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ নাবী (সাঃআঃ) বিপদের সময় এ দুআ পড়তেনঃ

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ، رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ 

লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হুল আজিমুল হালিম, লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু রব্বুস সামাওয়াতে ওয়াল আরদি রুব্বুল আরসিল আজিম

আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। যিনি মহান ও ধৈর্যশীল। আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। তিনিই আসমান যমীনের প্রতিপালক ও মহান আরশের প্রভু।

[৬৩৪৬, ৭৪২৬, ৭৪৩১; মুসলিম ৪৮/২১, হাদীস ২৭৩০, আহমাদ ৩৩৫৪] আঃপ্রঃ- ৫৮৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৯২)

৬৩৪৬. মুসান্নাদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

বিপদের সময় নাবী (সাঃআঃ) এ দুআ পড়তেনঃ

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ رَبُّ السَّمَوَاتِ، وَرَبُّ الأَرْضِ، وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল আজিমুল হালিম; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুল আরশিল আজিম; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুস সামাওয়াতি ওয়া রাব্বুল আরদি ওয়া রাব্বুল আ’রশিল কারিম

আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, যিনি অতি উচ্চ মর্যাদাপূর্ণ ও অশেষ ধৈর্যশীল, আরশে আযীমের প্রভু। আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবূদ নেই। আসমান যমীনের প্রতিপালক ও সম্মানিত আরশের মালিক। আল্লাহ ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই।

[৬৩৪৫; মুসলিম ৪৮/২১, হাদীস ২৭৩০, আহমাদ ৩৩৫৪] আঃপ্রঃ- ৫৯০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৯৩)

৮০/২৮. অধ্যায়ঃ ভীষণ বিপদ থেকে আশ্রয় চাওয়া।

৬৩৪৭. আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) বালা মুসীবতের কঠোরতা, দুর্ভাগ্যে পতিত হওয়া, ভাগ্যের অশুভ পরিণতি এবং দুশমনের আনন্দিত হওয়া থেকে আশ্রয় চাইলেন। সুফ্‌ইয়ান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর হাদীসে তিনটি বিষয়ের উল্লেখ আছে। একটি আমি বৃদ্ধি করেছি। জানি না তা এগুলোর কোনটি।

[৬৬১৬; মুসলিম ৪৮/১৬, হাদীস ২৭০৭] আঃপ্রঃ- ৫৯০১ ,ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৯৪)

৮০/২৯. অধ্যায়ঃ নাবী (সাঃআঃ) -এর দুআ আল্লাহুম্মা রাফীকাল আলা।

৬৩৪৮. আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) সুস্থাবস্থায় বলিতেনঃ জান্নাতের জায়গা না দেখিয়ে কোন নাবীর জান কবয করা হয় না, যতক্ষণ না তাঁকে তাহাঁর বাসস্থান দেখানো হয় এবং তাঁকে ইখ্‌তিকার দেয়া হয় (দুনিয়া বা আখিরাত গ্রহণ করার)। এরপর যখন তাহাঁর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, তখন তাহাঁর মাথাটা আমার উরুর উপর ছিল। কিছুক্ষণ অজ্ঞান থাকার পর তাহাঁর জ্ঞান ফিরে এলো। তখন তিনি ছাদের দিকে তাকিয়ে বললেনঃ

اللَّهُمَّ الرَّفِيقَ الأَعْلَى

“আল্লাহুম্মা রাফীকাল আলা” হে আল্লাহ! আমি রাফীকে আলা (শ্রেষ্ঠ বন্ধু)-কে গ্রহণ করলাম। আমি বললামঃ এখন থেকে তিনি আর আমাদের পছন্দ করবেন না। আর এটাও বুঝতে পারলাম যে, তিনি সুস্থ অবস্থায় আমাদের নিকট যা বলিতেন এটি তাই। আর তা সঠিক। আয়েশাহ (রাদি.) বলেন, এটি ছিল তাহাঁর সর্বশেষ বাক্য যা তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! আমি শ্রেষ্ঠ বন্ধু গ্রহণ করলাম।

(আঃপ্রঃ- ৫৯০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৯৫)

৮০/৩০. অধ্যায়ঃ মৃত্যু আর জীবনের জন্য দুআ করা।

৬৩৪৯. কায়স (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি খাব্বাব (রাদি.) -এর নিকট আসলাম। তিনি লোহা গরম করে শরীরে সাতবার দাগ দিয়েছিলেন। তিনি বললেনঃ যদি রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) আমাদেরকে মৃত্যুর জন্য দুআ করিতে নিষেধ না করিতেন, তাহলে আমি এজন্য দুআ করতাম।

[৫৬৭২; মুসলিম ৪৮/৪, হাদীস ২৬৮১, আহমাদ ৮১৯৬] আঃপ্রঃ- ৫৯০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৯৬)

৬৩৫০. কায়স (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

কায়স (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আমি খাব্বাব (রাদি.) -এর নিকট গেলাম। তিনি তাহাঁর পেটে সাতবার দাগ দিয়েছিলেন। তখন আমি তাঁকে বলিতে শুনলামঃ নাবী (সাঃআঃ) যদি আমাদের মৃত্যুর জন্য দুআ করিতে নিষেধ না করিতেন, তবে আমি এজন্য দুআ করতাম।

(আঃপ্রঃ- ৫৯০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৯৭)

৬৩৫১. আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ কোন বিপদের কারণে মৃত্যু কামনা করিবে না। আর কেউ যদি এমন অবস্থায় পড়ে যে, তাকে মৃত্যু কামনা করিতেই হয়, তবে সে দুআ করবেঃ

اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِي، وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِي

আল্লাহুম্মা আহইয়ানি মা কানাতিল হায়াতু খইরান লি ওয়া তাওয়াক্কানি ইজা কনাতিল ওয়া ফাতু খয়রান লি

হে আল্লাহ! যতদিন বেঁচে থাকা আমার জন্য কল্যাণকর হয়, ততদিন আমাকে জীবিত রাখো, আর যখন আমার জন্য মৃত্যুই কল্যাণকর হয় তখন আমার মৃত্যু দাও।

[৫৬৭১; মুসলিম ৪৮/৪, হাদীস ২৬৮০, আহমাদ ১১৯৭৯] আঃপ্রঃ- ৫৯০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৯৮)

৮০/৩১. অধ্যায়ঃ শিশুদের জন্য বারাকাতের দুআ করা এবং তাদের মাথায় হাত বুলানো।

আবু মূসা (রাদি.) বলেন, আমার এক ছেলে হলে নাবী তার জন্য বারাকাতের দুআ করিলেন।

৬৩৫২. সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আমার খালা আমাকে নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) -এর নিকটে গেলেন এবং বললেনঃ হে আল্লাহর রাসুল! আমার এ ভাগ্নেটি অসুস্থ। তিনি আমার মাথায় হাত বুলালেন এবং আমার জন্য বারাকাতের দুআ করিলেন। এরপর তিনি অযূ করলে, আমি তার অযূর পানি থেকে কিছুটা পান করলাম। তারপর আমি তাহাঁর পিঠের দিকে দাঁড়ালাম। তখন আমি তাহাঁর দু কাঁধের মাঝে মোহরে নবূওয়াত দেখিতে পেলাম। তা ছিল খাটের চাঁদোয়ার ঝালরের ন্যায়।

(আঃপ্রঃ- ৫৯০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৯৯)

৬৩৫৩. আবু আকীল (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তাহাঁর দাদা আবদুল্লাহ ইবনু হিশাম (রাদি.) তাকে নিয়ে বাজারের দিকে বের হইতেন। সেখানে তিনি খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করিতেন। তখন পথে ইবনু যুবায়র (রাদি.) ও ইবনু উমার (রাদি.) -এর দেখা হলে, তাঁরা তাঁকে বলিতেন যে, এতে আপনি আমাদেরও অংশীদার করে নিন। কারণ নাবী (সাঃআঃ) আপনার জন্য বারাকাতের দুআ করিয়াছেন। তখন তিনি তাঁদের অংশীদার করে নিতেন। তিনি বাহনের পৃষ্ঠে লাভের শস্যাদি পূর্ণরূপে পেতেন, আর তা ঘরে পাঠিয়ে দিতেন।

(আঃপ্রঃ- ৫৯০৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮০০)

৬৩৫৪. ইবনু শিহাব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

মাহমূদ ইবনু রাবী বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনিই ছিলেন সেই লোক, বাল্যাবস্থায় তাঁদেরই কূপ থেকে পানি মুখে নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) যার চেহারার উপর ছিটিয়ে দিয়েছিলেন।

(আঃপ্রঃ- ৫৯০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮০১)

৬৩৫৫. আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) -এর খিদমতে শিশুদের নিয়ে আসা হতো। তিনি তাদের জন্য দুআ করিতেন। একদা একটি শিশুকে আনা হলো। শিশুটি তাহাঁর কাপড়ে পেশাব করে দিল। তিনি কিছু পানি আনালেন এবং তা তিনি কাপড়ের উপর ছিটিয়ে দিলেন আর তা ধুলেন না।

[২২২; মুসলিম ২/৩১, হাদীস ২৮৬, আহমাদ ২৫৮২৯] আঃপ্রঃ- ৫৯০৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮০২)

৬৩৫৬. আব্দুল্লাহ ইবনু সাআলাবাহ ইবনু সুআইর হইতে বর্ণিতঃ

আব্দুল্লাহ ইবনু সাআলাবাহ ইবনু সুআইর, যার মাথায় (শিশুকালে) রাসুলুল্লাহ হাত বুলিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি বর্ণনা করেন যে, তিনি সাদ ইবনু আবু ওয়াক্কাসকে বিতরের সালাত এক রাকআত আদায় করিতে দেখেছেন।

(আঃপ্রঃ- ৫৯১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮০৩)

৮০/৩২. অধ্যায় : নাবী এর উপর সালাত পাঠ করা ।

৬৩৫৭. আবদুর রহমান ইবনু আবু লাইলা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

একবার আমার সঙ্গে কাব ইবনু উজরাহ (রাদি.) এর দেখা হলো। তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাকে একটি হাদিয়া দেবো না। তা হলো এইঃ একদিন নাবী আমাদের নিকট বেরিয়ে আসলেন, তখন আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা আপনাকে কেমন করে সালাম দেব, আমরা আপনার উপর কীভাবে সালাত (দূরুদ) পাঠ করবো? তিনি বললেনঃ তোমরা বলবে,

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ 

আল্লা-হুম্মা সাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদ, ওয়া ‘আলা আ-লি মুহাম্মাদ কামা সাল্লাইতা আলা আ-লি ইব্রাহীমা  ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লা-হুম্মা বারিক ‘আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বা-রাকতা ‘আলা আলি ইব্রাহীম ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ)

হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদের উপর ও তাহাঁর পরিবারবর্গের উপর রাহমাত নাযিল করুন, যেমন আপনি ইবরাহীম (আঃ) এর পরিবারের উপর রাহমাত বর্ষণ করিয়াছেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত, উচ্চ মর্যাদাশীল। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদের উপর ও তাহাঁর পরিবারবর্গের উপর বারাকাত অবতীর্ণ করুন, যেমন আপনি ইবরাহীম (আঃ) এর পরিবারবর্গের উপর বারাকাত অবতীর্ণ করিয়াছেন নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত, উচ্চ মর্যাদাশীল।

(আঃপ্রঃ- ৫৯১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮০৪)

৬৩৫৮। আবু সাঈদ খুদরী (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

একবার আমরা বললাম : হে আল্লাহর রাসুল! এই যে আসসালামু আলাইকা তা তো আমরা জেনে নিয়েছি। তবে আপনার উপর সালাম কীভাবে পাঠ করবো? তিনি বলিলেন, তোমরা পড়বে :

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُولِكَ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَآلِ إِبْرَاهِيمَ

আল্লা-হুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ, আব্দিকা ও রসুলিকা কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহীমা  ওয়া বারিক আলা মুহাম্মদ ওয়া আলা আলি মুহাম্মদ কামা বারিকতা আলা ইব্রাহিম ওয়া আলা ইব্রাহিম

হে আল্লাহ! আপনি আপনার বান্দা ও আপনার রাসুল মুহাম্মাদ (সাঃআঃ) এর উপর রাহমাত বর্ষণ করুন। যেমন করে আপনি ইবরাহীম (আঃ) এর উপর রাহমাত অবতীর্ণ করিয়াছেন। আর আপনি মুহাম্মাদ (সাঃআঃ) ও তাহাঁর পরিবারবর্গের উপর বারাকাত নাযিল করুন, যে রকম আপনি ইবরাহীম (আঃ) -এর উপর এবং ইব্রাহীম (আঃ) -এর পরিবারবর্গের উপর বারাকাত অবতীর্ণ করিয়াছেন।

(আঃপ্রঃ- ৫১২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮০৫)

৮০/৩৩. অধ্যায় : নাবী ব্যতীত অন্য কারো উপর দরূদ পড়া যায় কিনা?

আল্লাহ তাআলার বাণী : আপনি তাদের জন্য দুআ করুন । নিশ্চয়ই আপনার দুআ তাদের জন্য শান্তিদায়ক । (সুরা আত্ তাওবাহ ৯/১০৩)

৬৩৫৯. সুলাইমান ইবনু হারব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

সুলাইমান ইবনু হারব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) থেকে আবু আওফা (রাদি.) বর্ণনা করেন। যখন কেউ নাবী (সাঃআঃ) -এর নিকট তার সদাকাহ নিয়ে আসতেন, তখন তিনি দুআ করিতেন :

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَيْهِ

আল্লাহুম্মা সাল্লি আলাইহে

হে আল্লাহ! আপনি তার উপর রাহমাত নাযিল করুন। আমার পিতা একদিন সদাকাহ নিয়ে তাহাঁর কাছে এলে তিনি দুআ করিলেন :

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى آلِ أَبِي أَوْفَى‏

আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা আলি আবি আওফা

হে আল্লাহ! আপনি আবু আওফার পরিবারবর্গের উপর রাহমাত বর্ষণ করুন।

(আঃপ্রঃ- ৫৯১৩,ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮০৬)

৬৩৬০। আবু হুমায়দ সাঈদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

একবার লোকেরা বলিল : হে আল্লাহর রাসুল! আমরা আপনার উপর কীভাবে সালাত পাঠ করবো? তিনি বললেনঃ তোমরা পড়বে,

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়া আযওয়াঝিহি ওয়া জুররিয়্যাতিহি কামা সাল্লাইতা আলা আলি ইবরাহিম; ওয়া বারিক আলা মুহাম্মাদিঁউ ওয়া আযওয়াঝিহি ওয়া জুররিয়্যাতিহি কামা বারাকতা আলা আলি ইবরাহিম; ইন্নাকা হামিদুম মাঝিদ

হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদের ও তাহাঁর স্ত্রী এবং সন্তান-সন্ততি উপর রাহমাত অবতীর্ণ করুন। যেমন করে আপনি ইবরাহীম (আঃ) -এর পরিবারবর্গের উপর রাহমাত অবতীর্ণ করিয়াছেন। আর আপনি মুহাম্মাদ, তাহাঁর স্ত্রী এবং তাহাঁর সন্তানদের উপর বারাকাত অবতীর্ণ করুন, যেমনিভাবে আপনি ইবরাহীম (আঃ) -এর পরিবারবর্গের উপর বারাকাত অবতীর্ণ করিয়াছেন। আপনি অতি প্রশংসিত, উচ্চ মর্যাদাশীল।আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিঁউ ওয়া আযওয়াঝিহি ওয়া জুররিয়্যাতিহি কামা সাল্লাইতা আলা আলি ইবরাহিম; ওয়া বারিক আলা মুহাম্মাদিঁউ ওয়া আযওয়াঝিহি ওয়া জুররিয়্যাতিহি কামা বারাকতা আলা আলি ইবরাহিম; ইন্নাকা হামিদুম মাঝিদহে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদের ও তাহাঁর স্ত্রী এবং সন্তান-সন্ততি উপর রাহমাত অবতীর্ণ করুন। যেমন করে আপনি ইবরাহীম (আঃ) -এর পরিবারবর্গের উপর রাহমাত অবতীর্ণ করিয়াছেন। আর আপনি মুহাম্মাদ, তাহাঁর স্ত্রী এবং তাহাঁর সন্তানদের উপর বারাকাত অবতীর্ণ করুন, যেমনিভাবে আপনি ইবরাহীম (আঃ) -এর পরিবারবর্গের উপর বারাকাত অবতীর্ণ করিয়াছেন। আপনি অতি প্রশংসিত, উচ্চ মর্যাদাশীল।

(আঃপ্রঃ- ৫৯১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮০৭)

৮০/৩৪. অধ্যায় নাবী এর বাণী : হে আল্লাহ! আমি যাকে কষ্ট দিয়েছি, সে কষ্ট তার চিত্তশুদ্ধির উপায় এবং তার জন্য রহমাতে পরিণত করুন ।

৬৩৬১. আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি নাবী কে এ দুআ করিতে শুনেছেন :

اللَّهُمَّ فَأَيُّمَا مُؤْمِنٍ سَبَبْتُهُ فَاجْعَلْ ذَلِكَ لَهُ قُرْبَةً إِلَيْكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ

আল্লাহুম্মা ফাআইয়্যূমা মু’মিনিন্ সাবাবতুহু ফাজ্‘আল যালিকা লাহু কুরবাতান ইলাইকা ইয়াউমাল ক্বিয়ামাতি

হে আল্লাহ! যদি আমি কোন মুমিন লোককে খারাপ বলে থাকি, তবে আপনি সেটাকে ক্বিয়ামাতের দিন তার জন্য আপনার নৈকট্য অর্জনের উপায় বানিয়ে দিন।

[মুসলিম ৪৫/২৫, হাদীস ২৬০১]আঃপ্রঃ-৫৯১৫ , ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮০৮)

৮০/৩৫. অধ্যায় : ফিতনা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা ।

৬৩৬২. আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

একবার লোকেরা রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) -কে বিভিন্ন প্রশ্ন করিতে লাগল, এমনকি প্রশ্ন করে তাঁকে বিরক্ত করে ফেললো। এতে তিনি রাগান্বিত হলেন এবং মিম্বারে আরোহণ করে বললেনঃ আজ তোমরা যত প্রশ্ন করিবে আমি তোমাদের সকল প্রশ্নেরই ব্যাখ্যা সহকারে জবাব দিব। এ সময় আমি ডানে ও বামে তাকাতে লাগলাম এবং দেখলাম যে, প্রতিটি লোকই নিজের কাপড় দিয়ে মাথা পেচিয়ে কাঁদছেন। এমন সময় একজন লোক, যাকে লোকের সঙ্গে বিবাদের সময় তার বাপের নাম নিয়ে ডাকা হতো না, সে প্রশ্ন করলো : হে আল্লাহর রাসুল! আমার পিতা কে? তিনি বললেনঃ হুযাইফাহ। তখন উমার (রাদি.) বলিতে লাগলেন : আমরা আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ (সাঃআঃ) কে রাসুল হিসেবে গ্রহণ করেই সন্তুষ্ট। আমরা ফিতনা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তখন রাসুলুল্লাহ বললেনঃ আমি ভাল মন্দের যে দৃশ্য আজ দেখলাম, তা আর কখনও দেখিনি। জান্নাত ও জাহান্নামের দৃশ্য আমাকে এত পরিষ্কারভাবে দেখানো হয়েছে যে, যেন এ দুটি এ দেয়ালের পশ্চাতেই অবস্থিত।

রাবী ক্বাতাদাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এ হাদীস উল্লেখ করার সময় এ আয়াতটি পড়তেন- (অর্থ) : হে মুমিনগণ! তোমরা সে সব বিষয়ে প্রশ্ন করো না, যা প্রকাশিত হলে তোমরা দুঃখিত হইবে।

[৯৩; মুসলিম ৪৩/৩৭, হাদীস ২৩৫৯] আঃপ্রঃ- ৫৯১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮০৯)

৮০/৩৬. অধ্যায় : মানুষের প্রভাবাধীন হওয়া থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা ।

৬৩৬৩. আনাস ইবনু মালিক (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) আবু ত্বলহা (রাদি.) কে বললেনঃ তুমি তোমাদের ছেলেদের ভিতর থেকে আমার খিদমাত করার উদ্দেশে একটি ছেলে খুঁজে নিয়ে এসো। আবু ত্বলহা (রাদি.) গিয়ে আমাকে তাহাঁর সাওয়ারীর পিছনে বসিয়ে নিয়ে এলেন। তখন থেকে আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর খিদমাত করে আসছি। যখনই কোন বিপদ দেখা দিত, তখন আমি তাঁকে অধিক করে এ দুআ পড়তে শুনতাম :

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ، وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ

আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাজানি, ওয়াল আজজি, ওয়াল কাসালি, ওয়াল বুখলি, ওয়াল জুবনি, ওয়া দ্দালায়েদ্দাইন, ওয়া গালাবাতির রিজাল। হে আল্লাহ! আমি দুশ্চিন্তা, পেরেশানী, অপারগতা, অলসতা, কৃপণতা, কাপুরুষতা, ঋণের বোঝা এবং মানুষের আধিপত্য থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

আমি সর্বদা তাহাঁর খিদমাত করে আসছি, এমনকি যখন আমরা খাইবার থেকে প্রত্যাবর্তন করছিলাম, তখন তিনি সফীয়্যাহ বিনতু হুয়াইকে সঙ্গে নিয়ে আসলেন। তিনি তাঁকে গনীমতের সম্পদ থেকে নিজের জন্য বেছে নিয়েছিলেন। তখন আমি তাঁকে দেখছিলাম যে, তিনি তাঁকে একখানা চাদর অথবা একখানা কম্বল দিয়ে ঢেকে নিজের পেছনে বসিয়েছিলেন। যখন আমরা সবাই সাহবা নামক স্থানে পৌঁছলাম, তখন আমরা হাইস নামীয় খাবার তৈরী করে একটি চর্মের দস্তরখানে রাখলাম। তিনি আমাকে পাঠালে আমি গিয়ে কয়েকজনকে দাওয়াত করলাম। তাঁরা এসে আহার করে গেলেন। এটি ছিল সফীয়্যাহর সঙ্গে তাহাঁর বাসর যাপন। অতঃপর তিনি রওয়ানা হলে উহুদ পর্বত তাহাঁর সামনে দেখা গেল। তখন তিনি বললেনঃ এ এমন একটি পর্বত যা আমাদের ভালবাসে এবং আমরাও তাকে ভালবাসি। তারপর যখন মাদীনাহর কাছে পৌঁছলেন, তখন তিনি বললেনঃ

اللَّهُمَّ إِنِّي أُحَرِّمُ مَا بَيْنَ جَبَلَيْهَا مِثْلَ مَا حَرَّمَ بِهِ إِبْرَاهِيمُ مَكَّةَ، اللَّهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِي مُدِّهِمْ وَصَاعِهِمْ

আল্লাহুম্মা উহাররেমু মা বাইনা জাবালাইহা মিনকা মা হাররামা বিহি ইবরাহিমু মাক্কাতা, আল্লাহুম্মা বারিক লাহুম ফি মুদ্দিহিম ওয়া সায়েহিম,

হে আল্লাহ! আমি মাদীনাহর দুটি পর্বতের মধ্যবর্তী জায়গাকে হারাম (ঘোষণা) করছি, যে রকম ইবরাহীম (আঃ) মক্কাকে হারাম (ঘোষণা) করেছিলেন। হে আল্লাহ! আপনি তাদের মুদ্দ ও সাতে বারাকাত দান করুন।

(আঃপ্রঃ- ৫৯১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮১০)

৮০/৩৭. অধ্যায় : ক্ববরের আযাব হইতে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা ।

৬৩৬৪. মূসা ইবনু উকবাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

মূসা ইবনু উকবাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বর্ণনা করিয়াছেন। উম্মু খালিদ বিনতু খালিদ (রাদি.) বলেন, আমি নাবী (সাঃআঃ) কে ক্ববরের আযাব হইতে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করিতে শুনিয়াছি। রাবী বলেন যে, এ হাদীস আমি উম্মু খালিদ ছাড়া নাবী (সাঃআঃ) থেকে আর কাউকে বলিতে শুনিনি।

(আঃপ্রঃ- ৫৯১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮১১)

৬৩৬৫. মুসআব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

মুসআব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বর্ণনা করেন, সাদ পাঁচটি জিনিস হইতে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করার নির্দেশ দিতেন এবং তিনি এগুলো নাবী (সাঃআঃ) হইতে উল্লেখ করিতেন। তিনি এগুলো থেকে আল্লাহর আশ্রয় চেয়ে এ দুআ পড়তে নির্দেশ দিতেন :

 اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبُخْلِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أُرَدَّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا يَعْنِي فِتْنَةَ الدَّجَّالِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ

আল্লা-হুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বুখলি ওয়া আউজুবিকা মিনাল জুবনি ওয়া আউজুবিকা মিন্ আন্ উরাদ্দা ইলা আরযালিল ও’মুরি ওয়া আউজুবিকা মিং ফিতনাতিদ দুনইয়া ওয়া ‘আউজুবিকা মিন ‘আজাবিল ক্বাবরি।

হে আল্লাহ! আমি কৃপণতা থেকে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি। আমি কাপুরুষতা হইতে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আমি অবহেলিত বার্ধ্যক্যে উপনীত হওয়া থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আর আমি দুনিয়ার ফিতনা অর্থাৎ দাজ্জালের ফিতনা থেকেও আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং আমি ক্ববরের আযাব হইতেও আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

(আঃপ্রঃ- ৫৯১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮১২)

৬৩৬৬. আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমার কাছে মাদীনাহর দুজন ইয়াহূদী বৃদ্ধা মহিলা আসলেন। তাঁরা আমাকে বলিলেন যে, ক্ববরবাসীদের তাদের ক্ববরে আযাব দেয়া হয়ে থাকে। তখন আমি তাদের এ কথা মিথ্যা বলে জানালাম। আমার বিবেক তাদের কথাটিকে সত্য বলে সায় দিল না। তাঁরা দুজন বেরিয়ে গেলেন। আর নাবী (সাঃআঃ) আমার নিকটে এলেন। আমি তাঁকে বললাম : হে আল্লাহর রাসুল! আমার নিকট দুজন বৃদ্ধা এসেছিলেন। অতঃপর আমি তাঁকে তাদের কথা জানালাম। তখন তিনি বললেনঃ তারা দুজন ঠিকই বলেছে। নিশ্চয়য়ই ক্ববরবাসীদেরকে এমন আযাব দেয়া হয়, যা সকল চতুষ্পদ জীবজন্তু শুনে থাকে। এরপর থেকে আমি তাঁকে সব সময় প্রতি সালাতে ক্ববরের আযাব হইতে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করিতে দেখেছি।

[১০৪৯; মুসলিম ৫/২৪, হাদীস ৫৮৬] আঃপ্রঃ- ৫৯২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮১৩)

৮০/৩৮. অধ্যায় : জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা ।

৬৩৬৭. আনাস ইবনু মালিক (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

যে, নাবী (সাঃআঃ) প্রায়ই বলিতেন :

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْجُبْنِ وَالْهَرَمِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ 

আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল আজরি ওয়াল কাসালি, ওয়াল জুবনি, ওয়াল হারামি, ওয়া আউজুবিকা মিন আজাবিল কাবরি, ওয়া আউজুবিকা মিন ফিতনাতিল মাহইয়া, ওয়াল মামাতি

হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরুষতা এবং অত্যধিক বার্ধক্য থেকে। আরও আশ্রয় প্রার্থনা করছি, ক্ববরের আযাব হইতে। আর আশ্রয় প্রার্থনা করছি জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা হইতে।

(আঃপ্রঃ- ৫৯২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮১৪)

৮০/৩৯. অধ্যায় : গুনাহ এবং ঋণ হইতে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা ।

৬৩৬৮. আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলিতেন :

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَالْهَرَمِ، وَالْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْقَبْرِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ، وَمِنْ فِتْنَةِ النَّارِ وَعَذَابِ النَّارِ، وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْغِنَى، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْفَقْرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ، اللَّهُمَّ اغْسِلْ عَنِّي خَطَايَاىَ بِمَاءِ الثَّلْجِ وَالْبَرَدِ، وَنَقِّ قَلْبِي مِنَ الْخَطَايَا، كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَسِ، وَبَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَاىَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ

আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিনাল কাসালি, ওয়াল হারামি, ওয়াল মা,সামি ওয়াল মাগরামি, ওয়া মিন ফিতনাতিল কবর, ওয়া আজাবিন নার, ওয়া মিন ফিতনাতিন নার, ওয়া আজাবিন নার, ওয়া মিন সাররি ফিতনাতিল গিনা, ওয়া আউযু বিকা মিন ফিতনাতিল ফকর, ওয়া আউযু বিকা মিন ফিতনাতিল মাসিহিজ দাজ্জাল, আল্লাহুম্মাগ সিল আন্নি খতাইয়াইয়া বিমায়িস সালজি ওয়াল বারাদ, ওয়া নাক্কি কল্বি মিনাল খতাইয়া কামা নাক্কাইতাশ সাওবাল আবইয়াদা মিনাদ দানাস ওয়া বায়িদ বাইনি ওয়া বাইনা খতাইয়াইয়া কামা বায়াদতা বাইনাল মাসরিকি ওয়া মাগরিবি

হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার আশ্রয় চাচ্ছি অলসতা, অতিশয় বার্ধক্য, গুনাহ আর ঋণ থেকে, আর ক্ববরের ফিতনা এবং ক্ববরের শাস্তি হইতে। আর জাহান্নামের ফিতনা এবং এর শাস্তি থেকে, আর ধনশালী হবার পরীক্ষার খারাপ পরিণতি থেকে। আমি আরও আশ্রয় চাচ্ছি দারিদ্র্যের অভিশাপ হইতে। আমি আরও আশ্রয় চাচ্ছি মসীহ দাজ্জালের ফিতনা হইতে। হে আল্লাহ! আমার গুনাহ-এর দাগগুলো থেকে আমার অন্তরকে বরফ ও শীতল পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে দিন এবং আমার অন্তরকে সমস্ত গুনাহ এর ময়লা থেকে এমনভাবে পরিষ্কার করে দিন, যেভাবে আপনি শুভ্র বস্ত্রকে ময়লা থেকে পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করে থাকেন। আর আমার ও আমার গুনাহগুলোর মধ্যে এতটা দূরত্ব সৃষ্টি করে দিন, যতটা দূরত্ব আপনি দুনিয়ার পূর্ব ও পশ্চিম দিকের মধ্যে সৃষ্টি করিয়াছেন।

[৯৩২; মুসলিম ৫/২৫, হাদীস ৫৮৯, আহমাদ ২৪৬৩২] আঃপ্রঃ- ৫৯২২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮১৫)

৮০/৪০. অধ্যায় : কাপুরুষতা ও অলসতা হইতে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা ।

৬৩৬৯. আনাস ইবনু মালিক (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলিতেন :

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ، وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ

আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়াল আজরি, ওয়াল কাসালি, ওয়াল জুবনি, ওয়াল বুখলি, ওয়া দ্বালা’য়িদ্দাইনি, ওয়া গালাবাতির রিজাল

হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই- দুশ্চিন্তা, পেরেশানী, অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরুষতা, কৃপণতা, ঋণভার ও মানুষের প্রভাবাধীন হওয়া থেকে।

(আঃপ্রঃ-৫৯২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮১৬)

৮০/৪১. অধ্যায় : কৃপণতা থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা ।

৬৩৭০. সাদ ইবনু আবু ওয়াক্কাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি পাঁচটি কার্য থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করার নির্দেশ দিতেন এবং তিনি তা নাবী (সাঃআঃ) থেকেই বর্ণনা করিতেন। তিনি দুআ করিতেন :

 اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبُخْلِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أُرَدَّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ

আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিনাল বুখলি, ওয়া আউযুবিকা মিনাল জুবজুনি, ওয়া আউযুবিকা আন উরাদ্দা ইলা
আরযালিল্ উমুরি, ওয়া আঊযুবিকা মিন ফিতনাতিদ দুনইয়া ও ওয়া আঊযুবিকা মিন আযাবিল ক্বাবরি

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি কৃপণতা থেকে, আমি আশ্রয় চাচ্ছি কাপুরুষতা থেকে, আমি আশ্রয় চাচ্ছি অবহেলিত বার্ধক্যে উপনীত হওয়া থেকে, আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি দুনিয়ার বড় ফিতনা (দাজ্জালের ফিতনা) থেকে এবং আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি কবরের শাস্তি হইতে।

(আঃপ্রঃ- ৫৯২৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮১৭)

৮০/৪২. অধ্যায় : বার্ধক্যের আতিশয্য থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা ।

৬৩৭১. আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) বলিতেন :

‏ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَرَمِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبُخْلِ 

আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল কাসালি, ওয়া আউজুবিকা মিনাল জুবনি, আউজুবিকা মিনাল হারামি, আউজুবিকা মিনাল বুখলি

হে আল্লাহ! আমি অলসতা থেকে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি এবং আমি আপনার কাছে কাপুরুষতা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। আমি আপনার কাছে আরও আশ্রয় চাচ্ছি বার্ধক্যের আতিশয্য থেকে এবং আমি কৃপণতা থেকে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি।

(আঃপ্রঃ- ৫৯২৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮১৮)

৮০/৪৩. অধ্যায় : মহামারি ও রোগ যন্ত্রণা বিদূরিত হবার জন্য দুআ ।

৬৩৭২. আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) দুআ করিতেন : হে আল্লাহ! আপনি যেভাবে মক্কাকে আমাদের জন্য প্রিয় করে দিয়েছেন, মাদীনাহকেও সেভাবে অথবা এর চেয়েও অধিক আমাদের কাছে প্রিয় করে দিন। আর মাদীনাহর জ্বর জুহফার দিকে সরিয়ে দিন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের মাপের ও ওযনের পাত্রে বারাকাত দান করুন।

(আঃপ্রঃ- ৫৯২৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮১৯)

৬৩৭৩. সাদ ইবনু আবু ওয়াক্কাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

বিদায় হাজ্জের সময় আমি রোগাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুপথযাত্রী হয়ে পড়ছিলাম। নাবী (সাঃআঃ) সে সময় আমাকে দেখিতে এলেন। তখন আমি বললাম : আমি যে রোগাক্রান্ত, তাতো আপনি দেখছেন। আমি একজন বিত্তবান লোক। আমার এক মেয়ে ব্যতীত কোন ওয়ারিস নেই। তাই আমি কি আমার দু তৃতীয়াংশ মাল সদাকাহ করে দিতে পারি? তিনি বললেনঃনা। আমি বললাম: তবে অর্ধেক মাল? তিনি বললেনঃনা। এক তৃতীয়াংশ অনেক। তোমার ওয়ারিশদের মানুষের কাছে ভিক্ষার হাত বাড়ানোর মত অভাবী রেখে যাবার চেয়ে তাদের বিত্তবান রেখে যাওয়া তোমার জন্য অনেক উত্তম। আর তুমি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য যা কিছুই ব্যয় করিবে নিশ্চয়ই তার প্রতিদান দেয়া হইবে। এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যে লুক্‌মাটি তুলে দিয়ে থাকো, তোমাকে এর প্রতিদান দেয়া হইবে। আমি বললাম: তা হলে আমার সঙ্গীগণের পরেও কি আমি বেঁচে থাকবো? তিনি বললেনঃ নিশ্চয়ই তুমি এঁদের পরে বেঁচে থাকলে তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য যা কিছু নেক আমাল করো না কেন, এর বদলে তোমার মর্যাদা ও সম্মান আরও বেড়ে যাবে। আশা করা যায় যে, তুমি আরও কিছু দিন বেঁচে থাকবে। এমনকি তোমার দ্বারা অনেক কাওম উপকৃত হইবে। আর অনেক সম্প্রদায় ক্ষতিগ্রস্ত হইবে। তারপর তিনি দুআ করিলেন :

اللَّهُمَّ أَمْضِ لأَصْحَابِي هِجْرَتَهُمْ، وَلاَ تَرُدَّهُمْ عَلَى أَعْقَابِهِمْ، لَكِنِ الْبَائِسُ سَعْدُ ابْنُ خَوْلَةَ

আল্লাহুম্মা আমদি আসহাবি হিজরাতাহুম, ওয়া লা তারুদ্দাহুম আলা আ,কাবিহিম, লাকিনিল বাদিসু সা,দুবনু খও লাহা

হে আল্লাহ! আপনি আমার সাহাবীগণের হিজরাতকে বহাল রাখুন। আর তাদের পেছনে ফিরে যেতে দেবেন না। কিন্তু সাদ ইবনু খাওলাহ (রাদি.) এর দুর্ভাগ্য (কারণ তিনি বিদায় হাজ্জের সময় মক্কায় মারা যান) সাদ (রাদি.) বলেনঃ মক্কায় তাহাঁর মৃত্যু হওয়ায় রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) তাহাঁর জন্য শোক প্রকাশ করিয়াছেন।

(আঃপ্রঃ- ৫৯২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮২০)

৮০/৪৪. অধ্যায়ঃ বার্ধ্যকের আতিশয্য এবং দুনিয়ার ফিতনা আর জাহান্নামের আগুন থেকে আশ্রয় প্রার্থনা।

৬৩৭৪. সাদ ইবনু আবু ওয়াক্কাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) যে সব বাক্য দিয়ে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করিতেন, সে সব দ্বারা তোমরাও আশ্রয় প্রার্থনা কর। তিনি বলিতেন :

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبُخْلِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أُرَدَّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا، وَعَذَابِ الْقَبْرِ

আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিনাল জুবনি ওয়া আঊযু বিকা মিনাল বুখলি ওয়া আঊযু বিকা মিন্ আন্ উরাদ্দা ইলা আরযালিল ও’মুরি ওয়া আউজুবিকা মিং ফিতনাতিদ দুনইয়া ওয়া ‘আউজুবিকা মিন ‘আজাবিল ক্বাবরি।

হে আল্লাহ! আমি কাপুরুষতা থেকে, আমি কৃপণতা থেকে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি। আমি বার্ধক্যের অসহায়ত্ব থেকে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি। আর আমি দুনিয়ার ফিতনা ও ক্ববরের আযাব থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

(আঃপ্রঃ- ৫৯২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮২১)

৬৩৭৫. আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) দুআ করিতেন :

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَالْهَرَمِ وَالْمَغْرَمِ وَالْمَأْثَمِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ النَّارِ وَفِتْنَةِ النَّارِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ، وَشَرِّ فِتْنَةِ الْغِنَى، وَشَرِّ فِتْنَةِ الْفَقْرِ، وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ، اللَّهُمَّ اغْسِلْ خَطَايَاىَ بِمَاءِ الثَّلْجِ وَالْبَرَدِ، وَنَقِّ قَلْبِي مِنَ الْخَطَايَا، كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ، وَبَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَاىَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ 

আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিনাল কাসালি, ওয়াল হারামি ওয়াল মাগরামি ওয়াল মা,সামি, আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিন আজাবিন নার, ওয়া ফিত্নাতিন নার ওয়া আজাবিল কাবরি, ওয়া সাররি ফিতনাতিল গিনা,
ওয়া সাররি ফিতনাতিল ফাকর, ওয়া মিন সাররি ফিতনাতিল মাসিহিজ দাজ্জাল, আল্লাহুম্মাগ সিল খতাইয়াইয়া বিমায়িস সালজি ওয়াল বারাদ, ওয়া নাক্কি কল্বি মিনাল খতাইয়া , কামা ইউ নাক্কাল সাউবুল আবইয়াদু

মিনাদ দানাস, ওয়া বায়িদ বাইনি ওয়া বাইনা খতাইয়াইয়া কামা বায়াদতা বাইনাল মাসরিকি ওয়া মাগরিবি

হে আল্লাহ! আমি আলস্য, অতি বার্ধক্য, ঋণ আর পাপ থেকে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি। হে আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় চাচ্ছি জাহান্নামের শাস্তি, জাহান্নামের ফিতনা, ক্ববরের শাস্তি, প্রাচুর্যের ফিতনার কুফল, দারিদ্রের ফিতনার কুফল এবং মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে। হে আল্লাহ! আপনি আমার যাবতীয় গুনাহ বরফ ও শীতল পানি দিয়ে ধুয়ে দিন। আমার অন্তর যাবতীয় পাপ থেকে পরিচ্ছন্ন করুন, যেভাবে শুভ্র বস্ত্র ময়লা থেকে পরিচ্ছন্ন করা হয়। আমার ও আমার গুনাহসমূহের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করে দিন যতটা দূরত্ব আপনি পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের মধ্যে করিয়াছেন।

(আঃপ্রঃ- ৫৯২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮২২)

৮০/৪৫. অধ্যায় : প্রাচুর্যের ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা ।

৬৩৭৬. আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) আল্লাহর আশ্রয় চেয়ে বলিতেন :

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ النَّارِ وَمِنْ عَذَابِ النَّارِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْقَبْرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْغِنَى، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْفَقْرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ

আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিন ফিতনাতিন নার, ওয়া মিন আজাবিন নার, ওয়া আউযু বিকা মিন ফিতনাতিল গিনা, ওয়া আউযু বিকা মিন ফিতনাতিল ফকর, ওয়া আউযু বিকা মিন ফিতনাতিল মাসিহিজ দাজ্জাল

হে আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় চাচ্ছি জাহান্নামের ফিতনা, জাহান্নামের শাস্তি হইতে। আমি আরও আশ্রয় চাচ্ছি ক্ববরের ফিতনা হইতে এবং আপনার আশ্রয় চাচ্ছি ক্ববরের আযাব হইতে। আমি আরও আশ্রয় চাচ্ছি প্রাচুর্যের ফিতনা হইতে, আর আমি আশ্রয় চাচ্ছি অভাবের ফিতনা হইতে। আমি আরও আশ্রয় চাচ্ছি মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে।

(আঃপ্রঃ- ৫৯৩০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮২৩)

৮০/৪৬. অধ্যায়ঃ দারিদ্র্যের সংকট হইতে আশ্রয় প্রার্থনা।

৬৩৭৭. আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) এ দুআ পাঠ করিতেনঃ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ النَّارِ وَعَذَابِ النَّارِ، وَفِتْنَةِ الْقَبْرِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ، وَشَرِّ فِتْنَةِ الْغِنَى، وَشَرِّ فِتْنَةِ الْفَقْرِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ، اللَّهُمَّ اغْسِلْ قَلْبِي بِمَاءِ الثَّلْجِ وَالْبَرَدِ، وَنَقِّ قَلْبِي مِنَ الْخَطَايَا، كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَسِ، وَبَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَاىَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَالْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ

আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল ফিত্নাতিন নার ওয়া আজাবিন নার ওয়া ফিতনাতিল কাবরি, ওয়া আজাবিল কাবরি, ওয়া সাররি ফিতনাতিল গিনা, ওয়া সাররি ফিতনাতিল ফাকর, আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন সাররি ফিতনাতিল মাসিহিদ দাজ্জাল, আল্লাহুম্মাগছিল কালবি বিমাইস সালজি ওয়াল বারাদ, ওয়া নাক্কি কালবি মিনাল খাতায়া, কামা নাক্কাইতাস সাওবিল আবয়াদা মিনাদ্দানাস, ওয়া বাঈদ বাইনি ওয়া বাইনা খাতায়ায়া কামা বাআদতা বাইনাল মাশরিকি ওয়াল মাগরিব, আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল কাসলি ওয়াল মাছামে ওয়াল মাগরাম

হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে জাহান্নামের সংকট, জাহান্নামের শাস্তি, ক্ববরের সংকট, ক্ববরের শাস্তি, প্রাচুর্যের ফিতনা ও অভাবের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট মাসীহ দাজ্জালের ফিতনার ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। হে আল্লাহ! আমার অন্তরকে বরফ ও শীতল পানি দিয়ে ধৌত করুন। আর আমার অন্তর গুনাহ থেকে এমনভাবে পরিষ্কার করে দিন, যেভাবে আপনি শুভ্র বস্ত্রের ময়লা পরিষ্কার করে থাকেন এবং আমাকে আমার গুনাহ থেকে এতটা দূরে সরিয়ে রাখুন, পৃথিবীর পূর্ব প্রান্তকে পশ্চিম প্রান্ত থেকে যত দূরে রেখেছেন। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি অলসতা, গুনাহ এবং ঋণ হইতে।

(আঃপ্রঃ- ৫৯৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮২৪)

৮০/৪৭. অধ্যায়ঃ বারাকাতসহ মালের প্রবৃদ্ধির জন্য দুআ প্রার্থনা।

৬৩৭৮. উম্মু সুলায়ম (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসুল! আনাস আপনার খাদিম, আপনি আল্লাহর নিকট তার জন্য দুআ করুন। তিনি দুআ করলেনঃ

 اللَّهُمَّ أَكْثِرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ، وَبَارِكْ لَهُ فِيمَا أَعْطَيْتَهُ

আল্লাহুম্মাকছির মালুহু ওয়া ওয়া লাদুহু ওয়া বারিক লাহু ফিমা আত্বাইতাহু।

হে আল্লাহ! আপনি তার মাল ও সন্তান বৃদ্ধি করে দিন, আর আপনি তাকে যা কিছু দিয়েছেন তাতে বারাকাত দান করুন। হিশাম ইবনু যায়দ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাদি.) -কে এ রকমই বর্ণনা করিতে শুনিয়াছি।

[১৯৮২; মুসলিম ৪৪/৩১, হাদীস ২৪৮০, ২৪৮১, আহমাদ ২৭৪৯৬] আঃপ্রঃ- ৫৯৩২,ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮২৫)

৬৩৭৯. উম্মু সুলায়ম (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসুল! আনাস আপনার খাদিম, আপনি আল্লাহর নিকট তার জন্য দুআ করুন। তিনি দুআ করলেনঃ

اللَّهُمَّ أَكْثِرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ، وَبَارِكْ لَهُ فِيمَا أَعْطَيْتَهُ

আল্লাহুম্মাকছির মালাহু ওয়া ওয়ালাদুহু ওয়া বারিক লাহু ফিমা আত্বাইতাহু।

হে আল্লাহ! আপনি তার মাল ও সন্তান বৃদ্ধি করে দিন, আর আপনি তাকে যা কিছু দিয়েছেন তাতে বারাকাত দান করুন। হিশাম ইবনু যায়দ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাদি.) -কে এ রকমই বর্ণনা করিতে শুনিয়াছি।

[১৯৮২; মুসলিম ৪৪/৩১, হাদীস ২৪৮০, ২৪৮১, আহমাদ ২৭৪৯৬] আঃপ্রঃ- ৫৯৩২,ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮২৫)

৮০/৪৭.২ অধ্যায়ঃ বারাকাতপূর্ণ অধিক সন্তান পাওয়ার জন্য প্রার্থনা।

৬৩৮০. আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, উম্মু সুলায়ম বলেনঃ হে আল্লাহর রাসুল! আনাস আপনার খাদিম। তখন তিনি দুআ করলেনঃ

হে আল্লাহ! আপনি তার মাল ও সন্তান বৃদ্ধি করে দিন এবং আপনি তাকে যা দিয়েছেন তাতে বারাকাত দান করুন।

 اللَّهُمَّ أَكْثِرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ، وَبَارِكْ لَهُ فِيمَا أَعْطَيْتَهُ

আল্লাহুম্মাকছির মালাহু ওয়া ওয়ালাদুহু ওয়া বারিক লাহু ফিমা আত্বাইতাহু।

(আঃপ্রঃ- ৫৯৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮২৬)

৬৩৮১. আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, উম্মু সুলায়ম বলেনঃ হে আল্লাহর রাসুল! আনাস আপনার খাদিম। তখন তিনি দুআ করলেনঃ

اللَّهُمَّ أَكْثِرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ، وَبَارِكْ لَهُ فِيمَا أَعْطَيْتَهُ

আল্লাহুম্মাকছির মালাহু ওয়া ওয়ালাদুহু ওয়া বারিক লাহু ফিমা আত্বাইতাহু।

হে আল্লাহ! আপনি তার মাল ও সন্তান বৃদ্ধি করে দিন এবং আপনি তাকে যা দিয়েছেন তাতে বারাকাত দান করুন।

(আঃপ্রঃ- ৫৯৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮২৬)

৮০/৪৮. অধ্যায়ঃ ইস্তিখারার সময়ের দুআ।

৬৩৮২. মুতাররিফ ইবন আব্দুল্লাহ আবু মুসআব (র.) ……. জাবির (রা.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ৬৩৮২. জাবির (রাদি.) হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) আমাদের সকল কাজের জন্য ইস্তিখারা শিক্ষা দিতেন, যেমনভাবে তিনি কুরআনের সুরা শিক্ষা দিতেন। (বলিতেন) যখন তোমাদের কারো কোন বিশেষ কাজ করার ইচ্ছে হয়, তখন সে যেন দু রাকআত সলাত আদায় করে এরূপ দুআ করে। (অর্থ) : হে আল্লাহ! আমি আপনার জ্ঞানের দ্বারা আমার উদ্দিষ্ট কাজের মঙ্গলামঙ্গল জানতে চাই এবং আপনার ক্ষমতা বলে আমি কাজে সক্ষম হইতে চাই। আর আমি আপনার মহান অনুগ্রহ প্রার্থনা করি। কারণ, আপনি ক্ষমতাবান আর আমার কোন ক্ষমতা নেই এবং আপনি জানেন আর আমি জানি না। আপনিই গায়িব সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন। হে আল্লাহ! যদি আপনার জ্ঞানে এ কাজটিকে আমার দ্বীনের ব্যাপারে, আমার জীবন ধারণে ও পরিণামে- রাবী বলেন, কিংবা তিনি বলেছেন- আমার বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিক দিয়ে মঙ্গলজনক বলে জানেন তাহলে তা আমার জন্য নির্ধারিত করে দিন। আর যদি আমার এ কাজটি আমার দ্বীনের ব্যাপারে, জীবন ধারণে ও পরিণামে- রাবী বলেন, কিংবা তিনি বলেছেন- দুনিয়ায় আমার বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিক দিয়ে আপনি আমার জন্য অমঙ্গলজনক মনে করেন, তবে আপনি তা আমা হইতে ফিরিয়ে নিন। আমাকেও তা হইতে ফিরিয়ে রাখুন। আর যেখানেই হোক, আমার জন্য মঙ্গলজনক কাজ নির্ধারিত করে দিন। তারপর আমাকে আপনার নির্ধারিত কাজের প্রতি তৃপ্ত রাখুন। রাবী বলেন, সে যেন এ সময় তার প্রয়োজনের নির্দিষ্ট বিষয়ের কথা উল্লেখ করে।

(আঃপ্রঃ- ৫৯৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮২৭)

৮০/৪৯. অধ্যায়ঃ উযূ করার সময় দুআ করা।

৬৩৮৩. আবু মূসা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) একবার পানি আনিয়ে অযূ করিলেন। তারপর উভয় হাত তুলে দুআ করলেনঃ

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِعُبَيْدٍ أَبِي عَامِرٍ

আল্লাহুম্মাগফির লি উবাইদ আবি আমির

হে আল্লাহ! আপনি উবায়দ আবু আমরকে মাফ করে দিন। আমি তখন তাহাঁর বগলের শুভ্রতা দেখলাম। আরও দুআ করলেনঃ

اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَوْقَ كَثِيرٍ مِنْ خَلْقِكَ مِنَ النَّاسِ

আল্লাহুম্মাগফির লাহু ইয়াওমাল কিয়ামাতি ফাওকা কাসির মিন খলকিকা মিনান নাস

হে আল্লাহ! আপনি তাকে ক্বিয়ামাতের দিন আপনার সৃষ্ট অধিকাংশ অনেক লোকের উপর স্থান দান করুন।

(আঃপ্রঃ- ৫৯৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮২৮)

৮০/৫০. অধ্যায়ঃ উঁচু স্থানে আরোহণের সময় দুআ।

৬৩৮৪. আবু মূসা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একবার এক সফরে আমরা নাবী (সাঃআঃ) -এর সঙ্গে ছিলাম। যখন আমরা উঁচু স্থানে আরোহণ করতাম তখন উচ্চৈঃস্বরে আল্লাহু আকবার বলতাম। তখন নাবী (সাঃআঃ) বললেনঃ হে লোকেরা! তোমরা নিজেদের জানের উপর দয়া করো। কারণ তোমরা কোন বধির অথবা অনুপস্থিতকে আহ্বান করছ না বরং তোমরা আহ্বান জানাচ্ছ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টাকে। কিছুক্ষণ পর তিনি আমার কাছে এলেন, তখন আমি মনে মনে পড়ছিলামঃ

لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ

লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

আল্লাহ ছাড়া কোন শক্তি নেই

তখন তিনি বলেন, হে আবদুল্লাহ ইবনু কায়স! তুমি পড়বে লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। কারণ এ দুআ হলো জান্নাতের রত্ন ভাণ্ডারগুলোর একটি। অথবা তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাকে এমন একটি কথার সন্ধান দেব না যে কথাটি জান্নাতের রত্ন ভাণ্ডার? তাত্থেকে একটি রত্নভাণ্ডার হলো লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

(আঃপ্রঃ- ৫৯৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮২৯)

৮০/৫১. অধ্যায়ঃ উপত্যকায় অবতরণকালে দুআ।

এ প্রসঙ্গে জাবির (রাদি.)-এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।

৮০/৫২. অধ্যায়ঃ সফরের ইচ্ছা করলে কিংবা সফর থেকে প্রত্যাবর্তন করার সময় দুআ।

৬৩৮৫। আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) যখন যুদ্ধ, হাজ্জ কিংবা উমরাহ থেকে ফিরতেন, তখন প্রত্যেক উঁচু স্থানের উপর তিনবার আল্লাহু আকবার বলিতেন। তারপর বলিতেনঃ “আল্লাহ ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই। তিনি এক, তাহাঁর কোন শরীক নেই। রাজত্ব, হামদও তাহাঁরই জন্য, তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান। আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তাওবাহকারী, ইবাদাতকারী, আপন প্রতিপালকের প্রশংসাকারী, আল্লাহ তাআলা স্বীয় ওয়াদা রক্ষা করিয়াছেন। তিনি তাহাঁর বান্দাকে সাহায্য করিয়াছেন, আর শত্রু দলকে তিনি একাই প্রতিহত করিয়াছেন।

”[১৭৯৭; মুসলিম ১৫/৭৬, হাদীস ১৩৪৪, আহমাদ ৪৯৬০] আঃপ্রঃ- ৫৯৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৩০)

৮০/৫৩. অধ্যায়ঃ বরের নিমিত্তে দুআ করা।

৬৩৮৬। আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) আবদুর রহমান ইবনু আওফের গায়ে হলুদ রং দেখে জিজ্ঞেস করলেনঃ ব্যাপার কী? তিনি বললেনঃ আমি এক নারীকে বিয়ে করেছি এক টুকরো স্বর্ণের বিনিময়ে। তিনি দুআ করলেনঃ

 بَارَكَ اللَّهُ لَكَ أَوْلِمْ وَلَوْ بِشَاةٍ

আল্লাহ তোমাকে বারাকাত দান করুন। একটা ছাগল দ্বারা হলেও তুমি ওয়ালীমা দাও।

(আঃপ্রঃ- ৫৯৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৩১)

৬৩৮৭। জাবির (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

জাবির (রাদি.) বলেন, আমার আব্বা সাত অথবা নয়জন মেয়ে রেখে মারা যান। তারপর আমি এক নারীকে বিয়ে করি। নাবী (সাঃআঃ) বললেনঃ তুমি কি বিয়ে করেছ? আমি বললামঃ হাঁ। নাবী (সাঃআঃ) জিজ্ঞেস করিলেন, সে নারী কুমারী না অকুমারী? আমি বললামঃ অকুমারী। তিনি বলিলেন, তুমি একজন কুমারী বিয়ে করলে না কেন? তা হলে তুমি তার সঙ্গে ক্রীড়া কৌতুক করিতে এবং সেও তোমার সঙ্গে ক্রীড়া কৌতুক করত। আর তুমি তার সঙ্গে এবং সেও তোমার সঙ্গে হাসি-তামাশা করতো। আমি বললামঃ আমার পিতা সাত অথবা নয়জন মেয়ে রেখে মারা গেছেন। কাজেই আমি এটা পছন্দ করলাম না যে, তাদের মত কুমারী বিয়ে করে আনি। এজন্য আমি এমন এক নারীকে বিয়ে করেছি যে তাদের তত্ত্বাবধান করিতে পারবে। তখন তিনি দুআ করলেনঃ

 بَارَكَ اللَّهُ عَلَيْكَ

বারিকাল্লাহু আলাইকা

আল্লাহ! তোমাকে বারাকাত দান করুন। ইবনু উয়াইনাহ ও মুহাম্মাদ বিন মুসলিম, আমর (রাদি.) থেকে আল্লাহ তোমাকে বারাকাত দিন” কথাটি বলেননি।

(আঃপ্রঃ- ৫৯৩৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৩২)

৮০/৫৪. অধ্যায়ঃ নিজ স্ত্রীর নিকট আসলে যে দুআ বলবে।

৬৩৮৮. ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) বলেনঃ তোমাদের কেউ স্ত্রীর সঙ্গে সঙ্গত হইতে চাইলে সে বলবেঃ আল্লাহর নামে,

اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ، وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا، فَإِنَّهُ إِنْ يُقَدَّرْ بَيْنَهُمَا وَلَدٌ فِي ذَلِكَ، لَمْ يَضُرَّهُ شَيْطَانٌ أَبَدًا

আল্লাহুম্মা জান্নিবনাস সাইতানা, ওয়া জান্নিবিস সাইতানা মা রাজাকতানা, ফা ইন্নাহু ইন ইউকদ্দার বাইনাহুম ওয়া লাদ ফি জালিক, লাম ইয়াদুররাহু সাইতানা আবাদান

হে আল্লাহ! আপনি আমাদের শয়তান থেকে দূরে রাখুন এবং আপনি আমাদেরকে যা দান করেন তা থেকে শয়তানকে দূরে রাখুন। তারপর তাদের এ মিলনের মাঝে যদি কোন সন্তান নির্ধারিত থাকে তা হলে শয়তান এ সন্তানকে কক্ষনো ক্ষতি করিতে পারবে না।

(আঃপ্রঃ- ৫৯৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৩৩)

৮০/৫৫. অধ্যায়ঃ নাবী (সাঃআঃ) এর দুআঃ হে আমাদের রব্ব! আমাদের এ জগতে কল্যাণ দাও।

৬৩৮৯. আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) অধিকাংশ সময়ই এ দুআ পড়তেনঃ

اللَّهُمَّ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً، وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

আল্লাহুম্মা রব্বানা আতানা ফিদ দুনইয়া হাসানাতান, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতান ওয়া কিন আজা বান্নার

হে আমাদের রব্ব! আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দাও এবং আখিরাতেও কল্যাণ দাও এবং আমাদেরকে জাহান্নামের অগ্নি থেকে থেকে রক্ষা কর।

(সুরা আল-বাকারাহ ২/২০১) [৪৫২২; মুসলিম ৪৮/৯, হাদীস ২৬৯০, আহমাদ ১৩৯৩৮] আঃপ্রঃ- ৫৯৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৩৪)

৮০/৫৬. অধ্যায়ঃ দুনিয়ার ফিতনা থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করা।

৬৩৯০. সাদ ইবনু আবু ওয়াক্কাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যেভাবে লেখা শিখানো হতো ঠিক তেমনিভাবে আমাদেরকে নাবী (সাঃআঃ) এ দুআ শিখাতেনঃ

 اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبُخْلِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ نُرَدَّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا، وَعَذَابِ الْقَبْرِ

আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বুখলি ওয়া আউজুবিকা মিনাল জুবনি ওয়া আউজুবিকা মিন আন নুরাদ্দা ইলা আরজালিল উমুরি ওয়া আউজুবিকা মিন ফিতনাতিদ দুনিয়া ওয়া আজাবিল কবর

হে আল্লাহ! আমি কৃপণতা থেকে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি। আর আমি ভীরুতা থেকে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি। আর আপনার আশ্রয় চাচ্ছি আমাদেরকে বার্ধক্যের আতিশয্যের দিকে ফিরিয়ে দেয়া থেকে। আর আমি আপনার আশ্রয় চাচ্ছি দুনিয়ার ফিতনা এবং ক্ববরের শাস্তি হইতে।

(আঃপ্রঃ- ৫৯৪২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৩৫)

৮০/৫৭. অধ্যায়ঃ বারবার দুআ করা।

৬৩৯১. আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

একবার রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) –এর উপর যাদু করা হলো। অবস্থা এমন হলো যে, তাহাঁর খেয়াল হতো যে, তিনি একটা কাজ করিয়াছেন, অথচ তিনি তা করেননি। সেজন্যে তিনি আল্লাহর কাছে দুআ করিলেন। এরপর তিনি [আয়েশাহ(রাদি.)-কে বললেনঃ তুমি জেনেছ কি? আমি যে বিষয়টা আল্লাহর নিকট হইতে জানতে চেয়েছিলাম, তা তিনি আমাকে জানিয়ে দিয়েছেন। আয়েশাহ (রাদি.) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসুল! তা কী? তিনি বললেনঃ (স্বপ্নের মধ্যে) আমার নিকট দুজন লোক আসলেন এবং একজন আমার মাথার কাছে, আরেক জন আমার দুপায়ের কাছে বসলেন। তারপর একজন তার সাথীকে জিজ্ঞেস করলেনঃ এ লোকের রোগটা কী? তখন অপরজন বললেনঃ তিনি যাদুগ্রস্ত। আবার তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, তাকে কে যাদু করেছে? অপরজন বললেনঃ লাবীদ ইবনু আসাম। তিনি আবার জিজ্ঞেস করিলেন, তা কিসের মধ্যে করেছ। তিনি বলিলেন, চিরুনী, ছেঁড়া চুল ও কাঁচা খেজুর গাছের খোসার মধ্যে। আবার তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ এটা কোথায়? তিনি বললেনঃ যুরাইক গোত্রের যারওয়ান কূপের মধ্যে। আয়েশাহ (রাদি.) বর্ণনা করেন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) সেখানে গেলেন (তা বের করিয়ে নিয়ে) আয়েশাহর কাছে ফিরে এসে বললেনঃ আল্লাহর কসম! সেই কূপের পানি যেন মেন্দি তলানি পানি এবং এর খেজুর গাছগুলো ঠিক যেন শয়তানের মাথা। আয়েশাহ (রাদি.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) ফিরে এসে তাহাঁর কাছে কূপের বিস্তারিত বর্ণনা দিলেন। তখন আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসুল! আপনি এ বিষয়টি লোকেদের মাঝে প্রকাশ করে দিলেন না কেন? তিনি বললেনঃ আল্লাহ তাআলা তো আমাকে রোগমুক্ত করিয়াছেন। সুতরাং আমি লোকজনের মাঝে উত্তেজনা ছড়ানো পছন্দ করি না। ঈসা ইবনু ইউনুস ও লায়স (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)….. আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী (সাঃআঃ) –কে যাদু করা হলে তিনি বারবার দুআ করিলেন, এভাবে পূর্ণ হাদীস বর্ণিত রয়েছে।

(আঃপ্রঃ- ৫৯৪৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৩৬)

৮০/৫৮. অধ্যায়ঃ মুশরিকদের উপর বদ দুআ করা।

ইবনু মাসঊদ (রাদি.) বর্ণনা করেন, নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ হে আল্লাহ! আপনি আমাকে তাদের মুকাবিলায় সাহায্য করুন যেমন দুর্ভিক্ষের সাত বছর দিয়ে ইউসুফ (আঃ)(আরবী) –কে সাহায্য করিয়াছেন। হে আল্লাহ! আপনি আবু জাহলকে শাস্তি দিন। ইবনু উমার (রাদি.) বলেন, নাবী (সাঃআঃ) সালাতে বদ দুআ করিলেন। হে আল্লাহ! অমুককে লানত করুন ও অমুককে লানাত করুন। তখনই ওহী অবতীর্ণ হলোঃ তিনি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হইবেন অথবা তাদের শাস্তি দিবেন এ বিষয়ে আপনার করণীয় কিছুই নেই। (সুরা আলে ইমরান ৩/১২৮)

৬৩৯২. ইবনু আবু আওফা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) (খন্দকের যুদ্ধে) শ্ত্রু বাহিনীর উপর বদ দুআ করেছেনঃ

اللَّهُمَّ مُنْزِلَ الْكِتَابِ، سَرِيعَ الْحِسَابِ، اهْزِمِ الأَحْزَابَ، اهْزِمْهُمْ وَزَلْزِلْهُمْ

হে আল্লাহ! হে কিতাব নাযিলকারী! হে ত্বরিৎ হিসাব গ্রহণকারী! আপনি শ্ত্রু বাহিনীকে পরাস্ত করুন। তাদের পরাস্ত করুন এবং তাদের প্রকম্পিত করে দিন।

(আঃপ্রঃ- ৫৯৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৩৭)

৬৩৯৩. আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) এশার শেষ রাকআতে যখন سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ বলিতেন তখন কুনূতে (নাযিলা) পড়তেনঃ

اللَّهُمَّ أَنْجِ عَيَّاشَ بْنَ أَبِي رَبِيعَةَ، اللَّهُمَّ أَنْجِ الْوَلِيدَ بْنَ الْوَلِيدِ، اللَّهُمَّ أَنْجِ سَلَمَةَ بْنَ هِشَامٍ، اللَّهُمَّ أَنْجِ الْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ، اللَّهُمَّ اشْدُدْ وَطْأَتَكَ عَلَى مُضَرَ، اللَّهُمَّ اجْعَلْهَا سِنِينَ كَسِنِي يُوسُفَ

হে আল্লাহ! আইয়্যাশ ইবনু আবু রাবীআহকে মুক্তি দিন। হে আল্লাহ! ওয়ালীদ ইবনু ওয়ালীদকে মুক্তি দিন। হে আল্লাহ! সালামাহ ইবনু হিশামকে মুক্তি দিন। হে আল্লাহ! আপনি দুর্বল মুমিনদের মুক্ত করুন। হে আল্লাহ! আপনি মুযার গোত্রকে ভয়াবহ শাস্তি দিন। হে আল্লাহ! আপনি তাদের উপর ইউসুফ (আঃ) -এর সময়ের দুর্ভিক্ষের বছরের মত দুর্ভিক্ষ চাপিয়ে দিন।

(আঃপ্রঃ- ৫৯৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৩৮)

৬৩৯৪. আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) একটা সারীয়্যা (ক্ষুদ্র বাহিনী) প্রেরণ করিলেন। তাদের কুর্‌রা বলা হতো। তাদের হত্যা করা হলো। আমি নাবী (সাঃআঃ) -কে এদের ব্যাপারে যেরূপ রাগান্বিত দেখেছি অন্য কারণে তেমন রাগান্বিত দেখিনি। এজন্য তিনি ফজরের সালাতে এক মাস ধরে কুনূত পড়লেন। তিনি বলিতেনঃ উসায়্যা গোত্র আল্লাহ ও তাহাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করেছে।

[১০০১; মুসলিম ৫/৫৪, হাদীস ৬৭৭, আহমাদ ১২১৫৩] আঃপ্রঃ- ৫৯৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৩৯)

৬৩৯৫. আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ইয়াহূদী সম্প্রদায়ের লোকেরা নাবী (সাঃআঃ) -কে সালাম করার সময় বলতো

السَّامُ عَلَيْكَ

আস্‌সামু আলাইকা (ধ্বংস তোমার প্রতি)। আয়েশাহ (রাদি.) তাদের এ কথার খারাপ উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে বললেনঃ

عَلَيْكُمُ السَّامُ وَاللَّعْنَةُ‏

আলাইকুমুস্‌সাম ওয়াল্‌লানত (ধ্বংস তোমাদের প্রতি ও লানত)। তখন নাবী (সাঃআঃ) বললেনঃ আয়েশাহ থামো! আল্লাহ তাআলা সকল বিষয়েই নম্রতা পছন্দ করেন। আয়েশাহ (রাদি.) বললেনঃ তারা কি বলেছে আপনি কি তা শুনেননি? তিনি বলিলেন, আমি তাদের কথার জওয়াবে ওয়াআলাইকুম বলেছি- তা তুমি শুননি? আমি বলেছি, তোমাদের উপরও।

(আঃপ্রঃ- ৫৯৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৪০)

৬৩৯৬। আলী ইবনু আবু ত্বলিব (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আলী ইবনু আবু ত্বলিব (রাদি.) বলেন, খন্দকের যুদ্ধের দিন আমরা নাবী (সাঃআঃ) -এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি বলিলেন, হে আল্লাহ! তাদের গৃহ এবং ক্ববরকে আগুন দিয়ে ভর্তি করে দিন। কারণ তারা আমাদেরকে সলাতুল উস্তা থেকে বারিত করে রেখেছে। এমনকি সূর্য ডুবে গেল। আর সলাতুল উস্তা হলো আসর সলাত।

(আঃপ্রঃ- ৫৯৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৪১)

৮০/৫৯. অধ্যায় : মুশরিকদের জন্য দুআ।

৬৩৯৭. আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তুফাইল ইবনু আমর (রাদি.) রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) –এর কাছে এসে বললেনঃ দাওস গোত্র বিরুদ্ধাচরণ করেছে ও অবাধ্য হয়েছে এবং ইসলাম গ্রহণ করিতে অস্বীকার করেছে। সুতরাং আপনি তাদের উপর বদদুআ করুন। সাহাবীগণ ভাবলেন যে, তিনি তাদের উপর বদ দুআই করবেন। কিন্তু তিনি (তাদের জন্য) দুআ করলেনঃ

اللَّهُمَّ اهْدِ دَوْسًا وَأْتِ بِهِمْ

হে আল্লাহ! আপনি দাওস গোত্রকে হিদায়াত দান করুন। আর তাদের মুসলিম করে নিয়ে আসুন।

(আঃপ্রঃ- ৫৯৪৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৪২)

৮০/৬০. অধ্যায় : নাবী (সাঃআঃ) -এর দুআঃ হে আল্লাহ! আমার আগের ও পরের গুনাহ মাফ করে দিন।

৬৩৯৮. আবু মূসা (রাদি.) তাহাঁর পিতা হইতে বর্ণিতঃ

যে, নাবী (সাঃআঃ) এরুপ দুআ করিতেনঃ

 رَبِّ اغْفِرْ لِي خَطِيئَتِي وَجَهْلِي وَإِسْرَافِي فِي أَمْرِي كُلِّهِ، وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي خَطَايَاىَ وَعَمْدِي وَجَهْلِي وَهَزْلِي، وَكُلُّ ذَلِكَ عِنْدِي، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ، أَنْتَ الْمُقَدِّمُ، وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ، وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ

রব্বিগ ফিরলি খতিইয়াতি ওয়া জাহলি ওয়া ইসরাফি ফি আমরি কুল্লিহি, ওয়া মা আন্তা আ,লামু বিহি মিন্নি, আল্লাহুম্মাগ ফিরলি খতিইয়াইয়া ওয়া আমদি ওয়া জাহলি ওয়া হজলি ওয়া কুল্লু জালিকা ইনদিয়, আল্লাহুম্মাগ ফিরলি মা কদ্দামতু ওয়া মা আক্ষারতু ওয়া মা আসরারতু, ওয়া মা আ,লানতু, আন্তাল মুকাদ্দিমু ওয়া আন্তাল মুয়াক্ষেরু, ওয়া আন্তা আলা কুল্লি সাইইন কদির

হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমা করে দিন আমার অনিচ্ছাকৃত গুনাহ, আমার অজ্ঞতা, আমার কাজের সকল বাড়াবাড়ি এবং আমার যেসব গুনাহ আপনি আমার চেয়ে অধিক জানেন। হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমা করে দিন আমার ভুল-ত্রুটি, আমার ইচ্ছাকৃত গুনাহ ও আমার অজ্ঞতা এবং আমার উপহাসমূলক গুনাহ আর এ রকম গুনাহ যা আমার মধ্যে আছে। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন যেসব গুনাহ আমি আগে করেছি। আপনিই অগ্রবর্তী করেন, আপনিই পশ্চাদবর্তী করেন এবং আপনিই সব বিষয়োপরি সর্বশক্তিমান।

[৬৩৯৯; মুসলিম ৪৮/১৮, হাদীস ২৭১৯, আহমাদ ১৯৭৫৯] আঃপ্রঃ- ৫৯৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৪৩)

৬৩৯৯. আবু মূসা আশআরী (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) দুআ করিতেনঃ

 اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي خَطِيئَتِي وَجَهْلِي وَإِسْرَافِي فِي أَمْرِي، وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي هَزْلِي وَجِدِّي وَخَطَاىَ وَعَمْدِي، وَكُلُّ ذَلِكَ عِنْدِي 

আল্লাহুম্মাগ ফিরলি খতিইয়াতি ওয়া জাহলি ওয়া ইসরাফি ফি আমরি, ওয়া মা আন্তা আ,লামু বিহি মিন্নি, আল্লাহুম্মাগ ফিরলি হজলি ওয়া জিদ্দি ওয়া খতাইয়া, ওয়া আমদি, ওয়া কুল্লু জালিকা ইনদিয়

হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমা করে দিন আমার ভুল-ত্রুটিজনিত গুনাহ, আমার অজ্ঞতা, আমার বাড়াবাড়ি এবং আর যা আপনি আমার চেয়ে বেশি জানেন। হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমা করে দিন আমার হাসি-ঠাট্টামূলক গুনাহ, আমার প্রকৃত গুনাহ, আমার অনিচ্ছাকৃত গুনাহ এবং ইচ্ছাকৃত গুনাহ, এসব গুনাহ যা আমার মধ্যে আছে।

[৬৩৯৮; মুসলিম ৪৮/১৮, হাদীস ২৭১৯, আহমাদ ১৯৭৫৯] আঃপ্রঃ- ৫৯৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৪৪)

৮০/৬১. অধ্যায় : জুমআহর দিনে দুআ কবুলের সময় দুআ করা।

৬৪০০. আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আবুল কাসিম (সাঃআঃ) বলেন, জুমআহর দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, যদি সে মুহূর্তটিতে কোন মুসলিম দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করে, আল্লাহর কাছে কোন কল্যাণের জন্য দুআ করলে তা আল্লাহ তাকে দান করবেন। তিনি এ হাদীস বর্ণনার সময় আপন হাত দিয়ে ইঙ্গিত করলে আমরা বললাম (বুঝলাম) যে, মুহূর্তটির সময় খুবই স্বল্প।

(আঃপ্রঃ- ৫৯৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৪৫)

৮০/৬২ অধ্যায় : নাবী (সাঃআঃ) -এর বাণীঃ ইয়াহুদীদের সম্পর্কে আমাদের বদ দুআ কবূল হইবে। কিন্তু আমাদের সম্পর্কে তাদের বদ দুআ কবূল হইবে না।

৬৪০১. আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

একবার একদল ইয়াহূদী নাবী (সাঃআঃ) -এর নিকট এসে সালাম দিতে গিয়ে বললোঃ

السَّامُ عَلَيْكَ

আস্‌সামু আলাইকা। তিনি বললেনঃ

وَعَلَيْكُمْ

ওয়াআলাইকুম। কিন্তু আয়েশাহ (রাদি.) বললেনঃ

السَّامُ عَلَيْكُمْ، وَلَعَنَكُمُ اللَّهُ وَغَضِبَ عَلَيْكُمْ‏

আস্‌সামু আলাইকুম ওয়া লায়ানাকুমুল্লাহ ওয়া গাযিবা আলাইকুম (তোমরা ধ্বংস হও, আল্লাহ তোমাদের উপর লানাত করুন, আর তোমাদের উপর গযব অবতীর্ণ করুন)। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেনঃ হে আয়েশাহ তুমি থামো! তুমি নম্রতা অবলম্বন করো, আর তুমি কঠোরতা বর্জন করো। আয়েশাহ (রাদি.) বললেনঃ তারা কী বলেছে আপনি কি শুনেননি? তিনি বললেনঃ আমি যা বলেছি, তা কি তুমি শুননি? আমি তো তাদের কথাটা তাদের উপরই ফিরিয়ে দিলাম। কাজেই তাদের উপর আমার বদ দুআ কবূল হয়ে যাবে। কিন্তু আমার ব্যাপারে তাদের বদ দুআ কবূল হইবে না।

(আঃপ্রঃ- ৫৯৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৪৬)

৮০/৬৩. অধ্যায় : আমীন বলা।

৬৪০২. আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী বলেছেন, যখন ক্বারী أَمَّنَ  আমীন বলবে তখন তোমরাও أَمَّنَ  আমীন বলবে। কারণ এ সময় ফেরেশতা أَمَّنَ  আমীন বলে থাকেন। সুতরাং যার أَمَّنَ  আমীন বলা ফেরেশতার أَمَّنَ  আমীন বলার সঙ্গে মিলে যাবে, তার পূর্বের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হইবে।

(আঃপ্রঃ- ৫৯৫৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৮৪৭)

By ইমাম বুখারী

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply