ঋণমুক্তি, বিতর নামাজ, মুখস্থশক্তি, ক্ষমার জন্য হাত তুলে দোয়া করার হাদিস

ঋণমুক্তি, বিতর নামাজ, মুখস্থশক্তি, ক্ষমার জন্য হাত তুলে দোয়া করার হাদিস

ঋণমুক্তি, বিতর নামাজ, মুখস্থশক্তি, ক্ষমার জন্য হাত তুলে দোয়া করার হাদিস >> সুনান তিরমিজি শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায়ঃ ৪৫, অনুচ্ছেদঃ (১০১-১১৯)=১৯টি

অনুচ্ছেদ-১০১ঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর বাণী তাহাঁর নাক ভূলুণ্ঠিত হোক
অনুচ্ছেদ-১০২ঃ নাবী [সাঃআঃ] এর দুয়া
অনুচ্ছেদ-১০৩ঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর একটি দুয়া
অনুচ্ছেদ-১০৪ঃ [একটি দুয়া দশবার পাঠ করার সাওয়াব]
অনুচ্ছেদ-১০৫ঃ [হাত তুলে দুয়া করলে আল্লাহ তাআলা সেই হাত শুন্য ফিরান না]
অনুচ্ছেদ-১০৬ঃ [দুয়া প্রসঙ্গে বিভিন্ন হাদীস]
অনুচ্ছেদ-১০৭ঃ যে ক্ষমা প্রার্থনা করিল সে গুনাহ হইতে মুক্ত হল
অনুচ্ছেদ-১০৮ঃ নতুন পোশাক পরার দুয়া
অনুচ্ছেদ-১০৯ঃ সর্বোত্তম গানীমাত
অনুচ্ছেদ-১১০ঃ মুসাফিরের নিকট দুয়ার আবেদন
অনুচ্ছেদ-১১১ঃ [ঋণমুক্তির দুয়া]
অনুচ্ছেদ-১১২ঃ রোগীকে দেখিতে গিয়ে যে দুয়া পাঠ করিবে
অনুচ্ছেদ-১১৩ঃ বিতর নামাযের দুয়া
অনুচ্ছেদ-১১৪ঃ নাবী [সাঃআঃ] প্রতি নামাযের পর যে দুয়া দ্বারা আশ্রয় প্রার্থণা করিতেন
অনুচ্ছেদ-১১৫ঃ মুখস্থশক্তি বাড়ানোর দুয়া
অনুচ্ছেদ-১১৬ঃ সুখ-স্বাচ্ছন্দ ইত্যাদির জন্য অপেক্ষা করা প্রসঙ্গে
অনুচ্ছেদ-১১৭ঃ [রাতে শোয়ার সময় যে দুয়া পাঠ করিবে]
অনুচ্ছেদ-১১৮ঃ মেহমানের দুয়া করা
অনুচ্ছেদ-১১৯ঃ [দুয়াতে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে মাধ্যমে বানানো]

অনুচ্ছেদ-১০১ঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর বাণী তাহাঁর নাক ভূলুণ্ঠিত হোক

৩৫৪৫ : আবু হুরাইরাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তার নাক ভূলুন্ঠিত হোক যার কাছে আমার নাম উল্লেখিত হল, কিন্ত সে আমার উপর দরূদ পাঠ করেনি। ভুলুন্ঠিত হোক তার নাক যার নিকট রমযান মাস এলো অথচ তার গুনাহ্‌ মাফ হয়ে যাওয়ার পূর্বেই তা পার হয়ে গেল। আর ভূলুন্ঠিত হোক তার নাক যার নিকট তার বাবা-মা বৃদ্ধে উপনিত হলো, কিন্ত তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করায়নি [সে তাহাদের সঙ্গে ভাল আচরণ করে জান্নাত অর্জন করেনি]। আবদুর রহমানের রিওয়াইয়াতে কিংবা যে কোন একজন কথাটুকুও আছে।

হাসান সহীহঃ মিশকাত [৯২৭], তালীকুর রাগীব [২/২৮৩], নাবীর উপর দরূদ পাঠের ফযীলাত [১৬], মুসলিম হাদীসের শেষ অংশ বর্ণনা করিয়াছেন। এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান সহীহ

৩৫৪৬ : আলী ইবনি আবী ত্বালিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কৃপণ সেই লোক যার কাছে আমার আলোচনা করা হয় অথচ সে আমার উপর দরূদ পড়ে না।

সহীহঃ মিশকাত [৯৩৩], সালাতের ফাযীলাত [১৪/৩১-৩৯] তালীকুর রাগীব [২/২৮৪]। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

অনুচ্ছেদ-১০২ঃ নাবী [সাঃআঃ] এর দুয়া

৩৫৪৭ : আবদুল্লাহ ইবনি আবী আওফা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিতেনঃ

اللَّهُمَّ بَرِّدْ قَلْبِي بِالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ وَالْمَاءِ الْبَارِدِ اللَّهُمَّ نَقِّ قَلْبِي مِنَ الْخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَسِ

আল্লাহুম্মা বাররিদ ক্বালবি বিছছালঝি ওয়াল বারাদি ওয়াল মায়িল নার , আল্লাহুম্মা নাক্কি ক্বালবি মিনাল খাত্বাইয়া কামা নাক্কাইতাছ ছাওবাল আবয়িদা মিনাদ দানাসি 

“হে আল্লাহ! তুমি আমার অন্তরকে বরফ, শিশির ও ঠান্ডা পানি দ্বারা শীতল করে দাও। হে আল্লাহ! আমার অন্তরকে গুনাহ হইতে এমনভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে দাও যেরূপে তুমি সাদা কাপড়কে ময়লা হইতে পরিষ্কার করেছ”।

সহীহঃ মুসলিম [২/৭৩]। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫৪৮ : ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যার জন্য দুয়ার দরজা খুলে দেয়া হল, মুলত তার জন্য রাহমাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হল। আল্লাহ্‌ তাআলার নিকটে যা কিছু কামনা করা হয়, তার মধ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করা তাহাঁর নিকট বেশি প্রিয়।

যঈফ, মিশকাত [২২৩৯], তালীকুর রাগীব [২/২৭২] রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আরও বলেনঃ যে বিপদ-আপদ এসেছে আর যা [এখনও] আসেনি তাতে দুয়ায় কল্যাণ হয়। অতএব হে আল্লাহ্‌র বান্দাগণ! তোমরা দুয়াকে আবশ্যিক করে নাও। হাসান, মিশকাত [২৫৩৯], তালীকুর রাগীব [২/২৭২] আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। হাদীসটি আমারা শুধু আবদুর রাহমান ইবনি আবু বাকর আল-কুরাশীর সূত্রেই জেনেছি। তিনি আল-মাক্কী ও আল-মুলাইকী হিসেবেও পরিচিত। তিনি হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল। কতক হাদীসবিদ তাহাঁর স্মরণশক্তির কারণে তাঁকে দুর্বল আখ্যায়িত করিয়াছেন। ইসরাঈল এ হাদীস আবদুর রহমান ইবনি আবু বাকর হইতে তিনি মূসা ইবনি উকবা হইতে তিনি নাফি হইতে তিনি ইবনি উমার [রাদি.] হইতে তিনি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি বলেছেনঃ ………. “আল্লাহ্‌ তাআলার নিকটে যা কিছু চাওয়া হয়, তার মধ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করা তাহাঁর নিকট বেশি প্রিয়”। এটি আমাদের নিকট বর্ণনা করিয়াছেন আল-কাসিম ইবনি দীনার আল-কূফী হইতে তিনি ইসহাক ইবনি মানসূর আল-কূফী হইতে তিনি ইসরাঈল [রঃ] সূত্রে। এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

৩৫৪৯ : বিলাল [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ তোমরা অবশ্যই রাতের ইবাদাত করিবে। কেননা তা তোমাদের পূর্ববর্তী সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের নিত্য আচরণ ও প্রথা। রাতের ইবাদাত আল্লাহ্‌ তাআলার সান্নিধ্য অর্জনের উপায়, পাপকর্মের প্রতিবন্ধক, গুনাহসমূহের কাফফারা এবং দেহের রোগ দূরকারী।

যঈফ, ইরওয়া [৪৫২], তালীকুর গারীব [২/২১৬], মিশকাত [১২২৭], আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান ও গারীব। কেননা এ হাদীস আমরা শুধু বিলাল [রাদি.] হইতে উপরোক্ত সূত্রে জেনেছি। সনদসূত্রের দিক হইতে এটি সহীহ নয়। আমি মুহাম্মাদ ইবনি ইসমাঈল [আল-বুখারী]-কে বলিতে শুনিয়াছি, মুহাম্মদ আল-কুরাশী হলেন মুহাম্মদ ইবনি সাঈদ আশ-শামী। ইবনি আবু কাইস হলেন মুহাম্মাদ ইবনি হাসসান এবং তাহাঁর হাদীস বাদ দেয়া হয়েছে। মুআবিয়া ইবনি সালিহ [রঃ] এ হাদীস রবীআ ইবনি ইয়াযীদ হইতে তিনি আবু ইদরীস আল-খাওলানী হইতে তিনি আবু উমামা [রাদি.] হইতে তিনি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি বলেছেনঃ “তোমরা অবশ্যই রাতের ইবাদাত করিবে। কেননা উহা তোমাদের পূর্ববর্তী সৎ-কর্মপরায়ণগণের অভ্যাস, আল্লাহ্‌র সান্নিধ্য অর্জনের উপায়, গুনাহসমূহের কাফফারা এবং পাপ কর্মের প্রতিবন্ধক” আবু ঈসা বলেন, এই বর্ণনাটি ইদরীসের সূত্রে বিললের বর্ণনা হইতে অধিকতর সহীহ। হাসান, ইরওয়া [৪৫২], তালীকুর রাগীব [২/২১৬], মিশকাত [১২২৭] এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৩৫৫০ : আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আমার উম্মাতের স্বাভাবিক বয়স ষাট হইতে সত্তর বছরের মাঝে হইবে এবং তাহাদের কম সংখ্যকই এই বয়সসীমা পার করিবে।

হাসানঃ ২৩৩১ নং হাদীস পূর্বে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

অনুচ্ছেদ-১০৩ঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর একটি দুয়া

৩৫৫১ : ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] দুয়া করিতেন এবং বলিতেনঃ

رَبِّ أَعِنِّي وَلاَ تُعِنْ عَلَىَّ وَانْصُرْنِي وَلاَ تَنْصُرْ عَلَىَّ وَامْكُرْ لِي وَلاَ تَمْكُرْ عَلَىَّ وَاهْدِنِي وَيَسِّرِ الْهُدَى لِي وَانْصُرْنِي عَلَى مَنْ بَغَى عَلَىَّ رَبِّ اجْعَلْنِي لَكَ شَكَّارًا لَكَ ذَكَّارًا لَكَ رَهَّابًا لَكَ مِطْوَاعًا لَكَ مُخْبِتًا إِلَيْكَ أَوَّاهًا مُنِيبًا رَبِّ تَقَبَّلْ تَوْبَتِي وَاغْسِلْ حَوْبَتِي وَأَجِبْ دَعْوَتِي وَثَبِّتْ حُجَّتِي وَسَدِّدْ لِسَانِي وَاهْدِ قَلْبِي وَاسْلُلْ سَخِيمَةَ صَدْرِي

রব্বা আয়িন্নি ওয়া লা তুয়েনু আলাইয়া ওয়ানসুরনি ওয়ালা তানসুর আলাইয়া ওয়াম কুরলি ওয়া লা তামকুর আলাইয়া ওয়াহ দিনি ওয়া ইসসিরিল হুদা লি ওয়ান সুরনি আলা মান বাগা আলাইয়া রব্বাজ আলনি লাকা সাক্কারান লাকা জাক্কারান লাকা রাহহাবান লাকা মুতিয়ান ইলাইকা মুখইনান ইলাইকা আও ওয়াহান মুনিবান রব্বা তাকাব্বাল তাওবাতি ওয়াগসিল হাওবাতি ওয়া আজিব দাওইয়াতি ওয়া সাব্বিত্ হুজ্জাতি ওয়া সাদ্দিদ লিসাবি ওয়াহদি কালবি ওয়াসলুল সাখিমাতা সাদরি

“হে আল্লাহ! আমাকে সহযোগিতা কর এবং আমার বিরুদ্ধে [কাউকে] সহযোগিতা করো না, আমাকে সাহায্য কর এবং আমার বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্য করো না, আমার জন্য পরিকল্পনা এঁটে দাও এবং আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পনা এঁটো না, আমাকে হিদায়াত দান কর, আমার জন্য হিদায়াতের পথ সহজসাধ্য কর এবং যে লোক আমার উপর যুলম ও সীমালঙ্ঘন করে তার বিরুদ্ধে আমাকে সহযোগিতা কর। হে আল্লাহ! আমাকে তোমার জন্য কৃতজ্ঞ বান্দা কর, তোমার জন্য অধিক যিকরকারী, তোমাকে বেশি ভয়কারী, তোমার অনেক আনুগত্যকারী, তোমার কাছে অনুনয়-বিনয়কারী ও তোমার দিকে প্রত্যাবর্তনকারী কর। হে আমার প্রভু! আমার তাওবাহ কবূল কর, আমার সকল গুনাহ ধুয়ে-মুছে ফেল, আমার দুয়া কবূল কর, আমার সাক্ষ্য-প্রমাণ বহাল কর, আমার যবানকে দৃঢ় কর, আমার অন্তরে হিদায়াত দান কর এবং আমার বুক হইতে সমস্ত হিংসা দূর কর”।

সহীহঃ ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[৩৮৩০] এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫৫২ : আইশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে লোক তার প্রতি অত্যাচারকারীর বিরুদ্ধে দুয়া করিল সে প্রতিশোধ গ্রহণ করিল।

যঈফ, যঈফা [৪৫৯৩], আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু আবু হামযার রিওয়ায়াত হিসেবে এ হাদীস জেনেছি। কিছু বিশেষজ্ঞ আলিম আবু হামযার স্মৃতিশক্তির সমালোচনা করিয়াছেন। তিনি হলেন মাইমূন আল-আওয়ার। কুতাইবা-হুমাইদ ইবনি আবদুর রহমান আর-রুয়াসী হইতে, তিনি আবুল আহওয়াস হইতে, তিনি আবু হামযা [রঃ] হইতে উক্ত সূত্রে একইরকম হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

অনুচ্ছেদ-১০৪ঃ [একটি দুয়া দশবার পাঠ করার সাওয়াব]

৩৫৫৩ : আবু আইউব আল –আনসারী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে লোক দশবার বলে,

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মূলকু ওয়া লাহুল হামদু, ইউহই ওয়া ইয়ামিতু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বাদীর।

“আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবূদ নেই, তিনি এক, তাহাঁর কোন অংশীদার নেই, সার্বভৌমত্ব তাহাঁর, সকল প্রশংসা তাহাঁর। তিনি জীবন দান করেন, তিনি মৃত্যু দেন এবং সমস্ত কিছুর উপর তিনিই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী”,

সে হযরত ইসমাঈল [আঃ] এর বংশের {অর্থাৎ কুরাইশ বংশের} চারজন দাস মুক্ত করার সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে।

সহীহঃ যঈফাহ [৫১২৬] নং হাদীসের অধীনে, বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ “তিনি জীবিত করেন মৃত্যুদান করেন” এই অংশ বাদে। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫৫৪ : উম্মুল মুমিনীন সাফিয়্যা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমার নিকটে এলেন, তখন আমার নিকট চার হাজার খেজুরের বিচি ছিল, যা দিয়ে আমি তাসবীহ পাঠ করে থাকি। তিনি বললেনঃ তুমি কি এগুলো দিয়ে তাসবীহ গণনা করেছ? আমি কি তোমাকে এমন তাসবীহ শিখাব না যা সাওয়াবের দিক হইতে এর চেয়ে বেশি হইবে? আমি বললাম, হ্যাঁ আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ তুমি বল,

سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ خَلْقِهِ 

“আল্লাহ্‌ তা”আলা তাহাঁর সৃষ্টিকুলের সমপরিমাণ পবিত্র”।

মুনকার, আর-রাদ্দু আলাত তাকীবিল হাসীস [৩৫-৩৮] আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। কেননা সাফিয়্যা [রাদি.]-এর এ হাদীস আমরা শুধু হাশিম ইবনি সাঈদ আল-কূফীর সূত্রে জেনেছি। এর সনদ তেমন সুপরিচিত নয়। এ অনুচ্ছেদে ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটির তাহকিকঃ মুনকার

৩৫৫৫ : উম্মুল মুমিনীন জুওয়াইরিয়াহ বিনতুল হারিস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার কাছ দিয়ে অতিক্রম করিলেন, সে সময় তিনি তার [ঘরে] নামাযের জায়গায় ছিলেন। আবার রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] প্রায় দুপুরে তার কাছ দিয়ে গমন করেন এবং তাকে বললেনঃ তুমি কি তখন হইতে এই অবস্থায় আছ? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তিনি বলিলেন, আমি তোমাকে কি কিছু বাক্য শিখিয়ে দিব না যা তুমি বলবে?

“আল্লাহ তাআলা তাহাঁর সৃষ্টিকুলের সমপরিমাণ মহাপবিত্র” [৩ বার], “আল্লাহ তাআলা তাহাঁর সত্তার সন্তোষ মোতাবিক মহাপবিত্র” [৩ বার], “আল্লাহ তাআলা তাহাঁর আরশের ওজনের সমপরিমাণ মহাপবিত্র” [৩ বার], “আল্লাহ তাহাঁর কালামের সমান মহাপবিত্র” [তিন বার]।

সহীহঃ ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[৩৮০৮], মুসলিম . এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

অনুচ্ছেদ-১০৫ঃ [হাত তুলে দুয়া করলে আল্লাহ তাআলা সেই হাত শুন্য ফিরান না]

৩৫৫৬ : সালমান আল ফারিসী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা অত্যধিক লজ্জাশীল ও দাতা। যখন কোন ব্যক্তি তাহাঁর দরবারে তার দুই হাত তুলে [প্রার্থনা করে] তখন তিনি তার হাত দুখানা শুন্য ও বঞ্চিত ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন।

সহীহঃ ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[৩৮৬৫] এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫৫৭ : আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক লোক দুই আঙ্গুলে [ইঙ্গিত করে] দুয়া করছিল। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ একটির মাধ্যমে একটির মাধ্যমে।

হাসান সহীহঃ মিশকাত [৯১৩] এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান সহীহ

অনুচ্ছেদ-১০৬ঃ [দুয়া প্রসঙ্গে বিভিন্ন হাদীস]

৩৫৫৮ : মুআয ইবনি রিফাআহ [রঃ] হইতে তার বাবা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবু বাকর সিদ্দীক [রাদি.] মাসজিদে নাববীর মিম্বারে দাঁড়ালেন, তারপর কেঁদে দিলেন। তিনি বলিলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] গত বছর এ মিম্বারে দাঁড়িয়ে কাঁদেন, তারপর বলেনঃ আল্লাহ তাআলার নিকট তোমরা ক্ষমা, শান্তি ও হিফাযাত প্রার্থণা কর। কেননা ঈমানের পর তোমাদের কাউকে শান্তি ও হিফাযাতের চাইতে বেশি উত্তম আর কিছুই দেয়া হয়নি।

হাসান সহীহঃ ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[৩৮৪৯] এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান সহীহ

অনুচ্ছেদ-১০৭ঃ যে ক্ষমা প্রার্থনা করিল সে গুনাহ হইতে মুক্ত হল

৩৫৫৯ : আবু বাকর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ক্ষমা প্রার্থনা করেছে [গুনাহ হইতে] সে গুনাহর উপর অটল থাকেনি, যদিও সে প্রতিদিন সত্তরবার গুনাহ করে থাকে।

যঈফ, মিশকাত [২৩৪০], যঈফ আবু দাঊদ [২৬৭], আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু আবু নুসাইরার সুত্রেই হাদীসটি জেনেছি। এ হাদীসের সনদসূত্র তেমন মজবুত নয়। এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

অনুচ্ছেদ-১০৮ঃ নতুন পোশাক পরার দুয়া

৩৫৬০ : আবু উমামা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, উমার ইবনিল খাত্তাব [রাদি.] একখানা নতুন পোশাক পরেন এবং বলেন,

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي كَسَانِي مَا أُوَارِي بِهِ عَوْرَتِي وَأَتَجَمَّلُ بِهِ فِي حَيَاتِي

আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি কাসানি মা উয়ারি বিহি আওরাতি ওয়া আতাজাম্মালু বিহি ফি হায়াতি

“সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌ তাআলার জন্য যিনি আমাকে পরিয়েছেন, যা দিয়ে আমি লজ্জাস্থান ঢেকে রেখেছি এবং আমার জীবনকে সুসজ্জিত করেছি।”

তারপর তিনি তাহাঁর পুরাতন কাপড়টি দান করে দিলেন। অতঃপর বলিলেন, আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি নতুন কাপড় [পোশাক] পরে বলে, “সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌ তাআলার যিনি আমাকে পরিয়েছেন, যা দিয়ে আমি আমার লজ্জাস্থান ঢেকে রেখেছি এবং আমার জীবনকে [দৈহিক সৌষ্ঠব] সুসজ্জিত করেছি”, তারপর নিজের পরার পুরানো বস্ত্র দান করে, সে জীবনে ও মরণে আল্লাহ্‌ তাআলার আশ্রয়ে, আল্লাহ্‌ তাআলার হিফাজাতে এবং আল্লাহ্‌ তাআলার সুরক্ষিত প্রাচীরে থাকে।

যঈফ, ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[৩৫৫৭], আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। হাদীসটি ইয়াহ্‌ইয়া ইবনি আইউব [রঃ] উবাইদুল্লাহ ইবনি যাহর হইতে, তিনি আলী ইবনি ইয়াযীদ হইতে, তিনি কাসিম হইতে, তিনি আবু উমামা [রাদি.] হইতে বর্ণনা করছেন। এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

অনুচ্ছেদ-১০৯ঃ সর্বোত্তম গানীমাত

৩৫৬১ : উমার ইবনিল খাত্তাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] নাজদের দিকে এক অভিযানে একটি সেনাদল পাঠান। তারা প্রচুর গানীমাতের সম্পদ অর্জন করে এবং তাড়াতাড়ি ফিরে আসে। তাহাদের সাথে যায়নি এমন এক লোক বলিল, অল্প সময়ের মধ্যে এত পরিমাণে উত্তম গানীমাত নিয়ে এদের চেয়ে তাড়াতাড়ি আর কোন সেনাদলকে আমরা ফিরে আসতে দেখিনি। তখন রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ আমি কি তোমাদেরকে এমন এক দলের কথা বলব না যারা এদের চেয়ে তাড়াতাড়ি উত্তম গানীমাত নিয়ে ফিরে আসে? যারা ফজরের নামাযের জামাআতে হাযির হয়, [নামাজ শেষে] সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে আল্লাহ্‌ তাআলার যিকির করিতে থাকে, তারাই অল্প সময়ের মধ্যে উত্তম গানীমাতসহ প্রত্যাবর্তনকারী।

যঈফ, তালীকুর রাগীব [১/১৬৬], সহীহা [২৫৩১] নং হাদীসের অধীনে, আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসিটি গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সনদসুত্রেই এ হাদীস জেনেছি। আর হাম্মাদ ইবনি আবু হুমাইদ হলেন মুহাম্মদ ইবনি আবু হুমাইদ এবং তিনি হলেন আবু ইবরাহীম আল-আনসারী আল–মাদীনী। তিনি হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল। এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

অনুচ্ছেদ-১১০ঃ মুসাফিরের নিকট দুয়ার আবেদন

৩৫৬২ : উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি উমরা করার লক্ষে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট সম্মতি চান। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ হে স্নেহের ভাই! তোমার দুয়ায় আমাদেরকেও অংশীদার করিবে এবং আমাদেরকে ভুলে যেও না।

যইফ, ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[২৮৯৪], আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

অনুচ্ছেদ-১১১ঃ [ঋণমুক্তির দুয়া]

৩৫৬৩ : আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একটি চুক্তিবদ্ধ গোলাম তার নিকটে এসে বলে, আমার চুক্তির অর্থ পরিশোধ করিতে আমি অপরাগ হয়ে পড়েছি। আমাকে আপনি সহযোগিতা করুন। তিনি বলিলেন, আমি তোমাকে কি এমন একটি বাক্য শিখিয়ে দিব না যা আমাকে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] শিখিয়েছিলেন? যদি তোমার উপর সীর [সাবীর] পর্বত পরিমাণ ঋণও থাকে তবে আল্লাহ তাআলা তোমাকে তা পরিশোধের ব্যবস্থা করে দিবেন। তিনি বলেনঃ তুমি বল,

اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلاَلِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ

আল্লা-হুম্মাকফিনী বিহালা-লিকা ‘আন হারা–মিকা ওয়া আগনিনী বিফাদ্বলিকা ‘আম্মান সিওয়া-ক

“হে আল্লাহ! তোমার হালালের মাধ্যমে আমাকে তোমার হারাম হইতে বিরত রাখ বা দূরে রাখ এবং তোমার দয়ায় তুমি ব্যতীত অন্যের মুখাপেক্ষী হওয়া হইতে আমাকে আত্মনির্ভরশীল কর”।

হাসানঃ তালীকুর রাগীব [২/৪০], আল –কালিমুত তাইয়্যিব [১৪৩/৯৯] এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

অনুচ্ছেদ-১১২ঃ রোগীকে দেখিতে গিয়ে যে দুয়া পাঠ করিবে

৩৫৬৪ : আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি অফসুস্থ [রোগাক্রান্ত] ছিলাম। রাসূলূল্লাহ [সাঃআঃ] আমার নিকটে এলেন এবং তখন আমি বলছিলামঃ

اللَّهُمَّ إِنْ كَانَ أَجَلِي قَدْ حَضَرَ فَأَرِحْنِي وَإِنْ كَانَ مُتَأَخِّرًا فَأَرْفِغْنِي وَإِنْ كَانَ بَلاَءً فَصَبِّرْنِي

আল্লাহুম্মা ইন কানা আজালি কদ হাদারা ফাআরিহনি ওয়া ইন কানা মুতাআক্ষিরান ফারফিগনি ওয়া ইন কানা বালায়া ফাসাব্বেরনি

“হে আল্লাহ! যদি আমার শেষ মুহূর্ত হাযির হয়ে থাকে তবে আমাকে দয়া কর, তাতে যদি দেরী থাকে তবে আমাকে উঠিয়ে দাও [সুস্থ কর], আর যদি বিপদের পরীক্ষায় ফেল তাহলে সবর দান কর”।

রাসূলূল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ তুমি কিভাবে বললে? তিনি তার কথার পুনরাবৃত্তি করে তাঁকে শুনান। রাসূলূল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর পা দিয়ে তাকে আঘাত করেন এবং বলেনঃ

‏ اللَّهُمَّ عَافِهِ أَوِ اشْفِهِ ‏

আল্লাহুম্মা আফিহি আও ইশফিহি

“হে আল্লাহ! তাকে আরোগ্য দান কর, অথবা তাকে নিরাময় দান কর”।

শুবার সন্দেহ [তার ঊর্দ্ধতন রাবী কোনটি বলেছেন]। আলী [রাদি.] বলেনঃ এরপর আমি ব্যথা অনুভব করি নাই।

যঈফ, মিশকাত[৬০৯৮], আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৩৫৬৫ : আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] কোন রোগীকে দেখিতে গেলে বলিতেনঃ

 اللَّهُمَّ أَذْهِبِ الْبَأْسَ رَبَّ النَّاسِ وَاشْفِ فَأَنْتَ الشَّافِي لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا

আল্লাহুম্মা আযহিবিল বাসা রব্বা নাসি ওয়াসফি ফাআন্তাস সাফি লা সিফায়া ইল্লা সিফায়ুকা সিফায়া লা ইউ গাদিরু সাক্কামা 

“হে মানুষের প্রভু! তুমি রোগ দূর কর, তুমি সুস্থতা দান কর, তুমিই সুস্থতা দানকারী। তোমার আরোগ্যদান ব্যতীত কোন আরোগ্য নেই। তুমি এমনভাবে সুস্থতা দান কর যাতে কোন রোগই বাকি না থাকে”।

সহীহঃ বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ আয়িশাহ [রাদি.] হইতে। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

অনুচ্ছেদ-১১৩ঃ বিতর নামাযের দুয়া

৩৫৬৬ : আলী ইবনি আবী ত্বালিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] তাহাঁর বিতরের নামাযে বলিতেনঃ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ وَأَعُوذُ بِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ لاَ أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ

“আল্লাহুম্মা ইন্নী আ‘উযু বিরিদাকা মিন সাখাতিকা ওয়া আ‘উযু বিমু‘আফাতিকা মিন ‘উকুবাতিকা ওয়া আউ‘যুবিকা মিনকা লা উহসী সানা ‘আলাইকা আনতা কামা আসনাইতা ‘আলা ‘নাফসিকা

“হে আল্লাহ! আমি তোমার খুশির জন্য তোমার অখুশি হইতে আশ্রয় প্রার্থণা করি, তোমার ক্ষমা ও অনুকম্পার জন্য তোমার শাস্তি হইতে আশ্রয় প্রার্থণা করি এবং তোমার সত্বা হইতে তোমার কাছেই আশ্রয় প্রার্থণা করি। তোমার প্রশংসা করে আমি শেষ করিতে পারি না, তুমি তেমনি যেমন তুমি নিজের প্রশংসা করেছ।

সহীহঃ ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[১১৭৯] আবু ঈসা বলেন, আলী [রাদি.] এর বর্ণনা হিসেবে এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র হাম্মাদ ইবনি সালামার বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে উপর্যুক্ত সনদে অবগত হয়েছি। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

অনুচ্ছেদ-১১৪ঃ নাবী [সাঃআঃ] প্রতি নামাযের পর যে দুয়া দ্বারা আশ্রয় প্রার্থণা করিতেন

৩৫৬৭ : মুসআব ইবনি সাদ ও আমর ইবনি মাইমূন [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তারা প্রত্যেকে বলেন, সাদ ইবনি আবী ওয়াক্কাস [রাদি.] নিম্নোক্ত বাক্যগুলো তাহাঁর সন্তানদেরকে এমনভাবে শিক্ষা দিতেন, যেমনভাবে মক্তবে শিক্ষক শিশুদেরকে শিক্ষা দেন। তিনি বলিতেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] নামাযের পর এগুলো দ্বারা আল্লাহ তাআলার নিকট আশ্রয় প্রার্থণা করিতেনঃ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبُخْلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَرْذَلِ الْعُمُرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا وَعَذَابِ الْقَبْرِ

আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিনাল জুবনি, ওয়া আঊযুবিকা মিনাল বুখলি, ওয়া আউযুবিকা মিন আরযালিল উমুরি, ওয়া আঊযুবিকা মিন ফিতনাতিদ দুনইয়া-ওয়া আযা-বিল ক্ববরি

“হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমি ভীরুতা হইতে আশ্রয় চাই, তোমার কাছে কৃপণতা হইতে আশ্রয় চাই, তোমার কাছে অতি বার্ধক্যে পৌঁছার বয়স হইতে আশ্রয় চাই এবং তোমার কাছে দুনিয়ার ঝগড়া-বিবাদ ও ক্ববরের শাস্তি হইতে আশ্রয় চাই”।

সহীহঃ বুখারী [২৮২২, ৬৩৬৯] এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫৬৮ : আইশা বিনতু সাদ ইবনি আবু ওয়াক্কাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, তিনি রাসূলূল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে এক মহিলার ঘরে যান, যার সামনে ছিল খেজুরের অনেকগুলো বিচি অথবা নুড়ি পাথর, যার সাহায্যে সে তাস্বীহ পাঠ করত। রাসূলূল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ আমি কি তোমাকে এর চেয়েও সহজ ও উত্তম পথ প্রসঙ্গে জানাবো না?

سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي السَّمَاءِ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي الأَرْضِ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا بَيْنَ ذَلِكَ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا هُوَ خَالِقٌ وَاللَّهُ أَكْبَرُ مِثْلَ ذَلِكَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ مِثْلَ ذَلِكَ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ مِثْلَ ذَلِكَ

সুবহা-নাল্ল-হি আদাদা মা- খলাকা ফিস্ সামা-য়ি, ওয়া সুবহা-নাল্ল-হি আদাদা মা- খলাকা ফিল আরযি, ওয়া সুবহা-নাল্ল-হি আদাদা মা- বায়না যা-লিকা ওয়া সুবহা-নাল্ল-হি আদাদা মা-হুওয়া খ-লিকুন ওয়াল্ল-হু আকবার মিসলা যা-লিকা ওয়াল হামদুলিল্লা-হি মিসলা যা-লিকা, ওয়ালা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হি মিসলা যা-লিকা

“আল্লাহ মহাপবিত্র আকাশে তাহাঁর সৃষ্টি জীবের সমসংখ্যক, আল্লাহ মহাপবিত্র দুনিয়াতে তাহাঁর সৃষ্ট জীবের সমসংখ্যক, আল্লাহ তাআলা মহাপবিত্র এতদুভয়ের মধ্যকার সৃষ্টির সমসংখ্যক, আল্লাহ তাআলা মহাপবিত্র তিনি যেসকল প্রাণী সৃষ্টি করবেন তার সমসংখ্যক, অনুরূপ পরিমাণ আল্লাহ তাআলা মহান, অনুরূপ পরিমাণ আল্লাহ্ তাআলার প্রশংসা, অনুরূপ সংখ্যকবার আল্লাহ তাআলা ছাড়া কল্যাণ করার বা ক্ষতিসাধনের আর কোন শক্তি নেই”।

মুনকার, আর রাদ্দু আলা আত-তাকীবিল হাছীস [২৩-৩২], মিশকাত [২৩১১], যঈফা[৮৩], আল কালিমুত তায়্যিব [১৩/৪], আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান এবং সাদ [রাদি.]-এর হাদীস হিসেবে গারীব। এই হাদীসটির তাহকিকঃ মুনকার

৩৫৬৯ : যুবাইর ইবনিল আওয়াম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ বান্দা প্রতিদিন ভোরে উপনীত হলে একজন ঘোষক ডেকে বলেন,

“সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী ত্রুটিমুক্ত আল্লাহ্ তাআলা মহাপবিত্র ও মহিমাময়”।

যঈফ, যঈফা, আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

অনুচ্ছেদ-১১৫ঃ মুখস্থশক্তি বাড়ানোর দুয়া

৩৫৭০ : ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, কোন এক সময় আমরা রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ছিলাম। তখন আলী ইবনি আবু তালিব [রাদি.] এসে বলেন, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! এই কুরআন আমার হৃদয় হইতে বেরিয়ে যায় [মুখস্থ থাকে না]। আমি তা নিজের মধ্যে ধরে রাখতে সক্ষম নই। রাসূলূল্লাহ [সাঃআঃ] তাকে বলেনঃ হে আবুল হাসান! আমি কি তোমাকে এমন কথা শিখাব না যার দ্বারা আল্লাহ তাআলা তোমাকে উপকৃত করবেন, তুমি যাকে তা শিখাবে তাকেও উপকৃত করবেন এবং যা তুমি শিখবে তাও তোমার হৃদয়ের মধ্যে গেঁথে থাকিবে? তিনি বলেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! তা আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বলেনঃ জুমুআর রাত আসার পর তোমার পক্ষে সম্ভব হলে রাতের শেষ তৃতীয়াংশে [নামাযে] দাঁড়িয়ে যাও। এ সময় আল্লাহ্ তাআলার ফেরেশতা হাযির হয় এবং তখন দুয়া ক্ববূল হয়। আমার ভাই ইয়াকূব [আঃ] তাহাঁর সন্তানদের বলেছিলেনঃ আমি তোমাদের জন্য আমার রবের নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করব। পরিশেষে তিনি জুমুআর রাতেই তাহাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। যদি তুমি [তখন নামাজ আদায় করিতে] সক্ষম না হও তাহলে মধ্য রাতে দাঁড়াও এবং তখনও সম্ভব না হলে রাতের প্রথম তৃতীয়াংশে দাঁড়াও এবং চার রাকআত [নফল] নামাজ আদায় কর। প্রথম রাকআতে সূরা আল-ফাতিহার পর সূরা ইয়াসীন, দ্বিতীয় রাকআতে সূরা আল-ফাতিহার পর সূরা হা-মীম আদ-দুখান, তৃতীয় রাকআতে সূরা আল-ফাতিহার পর সূরা আলিফ-লাম-মীম তানযীলুস সাজদা এবং চতুর্থ রাকআতে সূরা আল-ফাতিহার পর সূরা তাবারাকা আল-মুফাস্সাল [সূরা আল-মূল্ক] পাঠ করিবে। তুমি তাশাহুদ পাঠ শেষ করে আল্লাহ্ তাআলার প্রশংসা করিবে এবং ভালভাবে তাহাঁর গুণকীর্তন করিবে, তারপর আমার উপর দরূদ পাঠ করিবে এবং সকল নাবী-রাসূলের প্রতি ভালভাবে দুরূদ ও সালাম পাঠ করিবে, তারপর সকল মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের জন্য এবং তোমার যে সকল ভাই ঈমানের সাথে অতীতে ইন্তিকাল করেছে তাহাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করিবে। সবশেষে তুমি বলবেঃ

“হে আল্লাহ! পাপাচার ছেড়ে দিতে আমাকে অনুগ্রহ কর যাবত তুমি আমাকে বাঁচিয়ে রাখ, আমার প্রতি দয়া কর যেন আমি নিস্ফল আচরণে জড়িয়ে না পড়ি এবং তোমার পছন্দনীয় বিষয়ে আমাকে ভালভাবে ভাববার তাওফীক দাও। হে আল্লাহ! আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টা, মর্যাদা ও মহত্বের অধিকারী এবং এমন মর্যাদার অধিকারী যার আকাংখা করা যায় না, আমি তোমার নিকটে প্রার্থনা করি, হে আল্লাহ, হে রহমান, তোমার অসীম মহত্ব ও চেহারার নূরের উসীলায় আমি প্রার্থনা করি যে, আমার অন্তরে তোমার কিতাবকে বদ্ধমূল করে দাও যেমন তুমি আমাকে শিখিয়েছ, যে ভাবে পাঠ করলে তুমি সন্তুষ্ট হও সেইভাবে পাঠ করিতে আমাকে তাওফীক দান কর, হে আল্লাহ, আকাশ ও জমীনের সৃষ্টিকর্তা মর্যাদা ও মহত্বের অধিকারী যার আকাংখা করা যায় না। হে দয়াময়, তোমার মহত্ব ও নুরের উসীলায় আমি প্রার্থনা করছি। তুমি তোমার কিতাবের উসীলায় আমার চক্ষুকে উজ্জ্বল করে দাও, তা দিয়ে আমার যবান [জিহ্বা] খুলে দাও এবং তা দিয়ে আমার অন্তরকে উন্মুক্ত কর, আর তা দিয়ে আমার বক্ষকে প্রসারিত, আমার দেহটিকে তা দিয়ে ধুয়ে ফেল। সত্যের উপর তুমি ব্যতীত অন্য কেউই আমার সাহায্য করিতে পারে না এবং তুমি ব্যতীত কেউই আমাকে তা দিতে পারে না। সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহ ছাড়া অনিষ্ট রোধ করার এবং কল্যাণ অর্জনের আর কোন শক্তি নেই। ”

হে আবুল হাসান! তুমি তিন অথবা পাঁচ অথবা সাত জুমুআ পর্যন্ত এ আমল করিতে থাক। আল্লাহ্ তাআলার ইচ্ছায় তোমার দুয়া ক্ববূল হইবে। সেই মহান সত্তার কসম, যিনি আমাকে সত্য সহকারে পাঠিয়েছেন! কোন মুমিনই [এ দুয়া পাঠ করে] কখনও বঞ্চিত হইবে না। ইবনি আব্বাস [রাদি.] বলেন, আল্লাহ্ তাআলার শপথ! আলী [রাদি.] পাঁচ অথবা সাত জুমুআ পর্যন্ত এই আমল করে একদিন এরকম এক আসরে এসে রাসূলূল্লাহ [সাঃআঃ]কে বলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আগে আমি চার আয়াত পাঠ করতাম আর তা আমার হৃদয় হইতে চলে যেত। আর এখন আমি চল্লিশ আয়াত অথবা এরকম পরিমাণ মুখস্থ করে যখন পাঠ করি তখন মনে হয় যেন আল্লাহ্ তাআলার কিতাব আমার চোখের সামনে উন্মুক্ত আছে। একইভাবে আমি হাদীস শুনতাম এবং পরে তা পুনঃপাঠ করিতে গিয়ে দেখতাম যে, তা আমার অন্তর থেকে চলে গেছে। আর এখন আমি হাদীসসমুহ শুনি এবং পরে তা পুনঃপাঠ করি এবং তা হইতে একটি শব্দও বাদ পড়ে না। তখন রাসূলূল্লাহ [সাঃআঃ] তাকে বলেনঃ হে হাসানের পিতা, কাবার প্রভুর কসম! অবশ্যই তুমি একজন মুমিন।

মাওযূ. তালীকুর রাগীব [২/২১৪], যঈফা[৩৩৭৪] আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। ওয়ালিদ ইবনি মুসলিমের রিওয়ায়াত হিসেবেই শুধু আমরা এ হাদীস জেনেছি। এই হাদীসটির তাহকিকঃ জাল হাদীস

অনুচ্ছেদ-১১৬ঃ সুখ-স্বাচ্ছন্দ ইত্যাদির জন্য অপেক্ষা করা প্রসঙ্গে

৩৫৭১ : আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা আল্লাহ্ তাআলার নিকটে তাহাঁর দয়া প্রার্থনা কর। কেননা আল্লাহ তাআলা তাহাঁর নিকট কিছু পাওয়ার প্রার্থনাকে ভালোবাসেন। আর সর্বোত্তম ইবাদাত হল দুয়া ক্ববূল হওয়ার অপেক্ষায় থাকা।

যঈফ, যঈফা [৪৯২], আবু ঈসা বলেনঃ হাম্মাদ ইবনি ও য়াকিদ এভাবেই হাদীসটি বর্ণনা করিয়াছেন, তার রিওয়ায়াতে মতভেদ করা হয়েছে। এই হাম্মাদ ইবনি ওয়াকিদ আস-সাফফার তিনি হাফিজ নন। আমাদের মতে তিনি বাসরার শাইখ। আবু নুয়াইম এই হাদীসটি ইসরাঈল হইতে, তিনি হাকীম ইবনি জুবাইর হইতে, তিনি এক ব্যক্তি হইতে তিনি রাসূলূল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে, মুর্সাল রূপে বর্ণনা করিয়াছেন। আবু নূরাইমের বর্ণনাটি অধিক সহীহ। এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৩৫৭২ : যাইদ ইবনি আরক্বাম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] বলিতেনঃ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَالْعَجْزِ وَالْبُخْلِ

আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিনাল কাসালি, ওয়াল আজরি, ওয়াল বুখলি

“হে আল্লাহ! তোমার নিকট আমি অলসতা, অক্ষমতা ও কৃপণতা হইতে আশ্রয় চাই”।

একই সনদসূত্রে আরও বর্ণিত আছে যে, নাবী [সাঃআঃ] “বার্ধক্য ও ক্ববরের শাস্তি হইতেও” আশ্রয় প্রার্থণা করিতেন।

সহীহঃ মুসলিম [৮/৮১-৮২] এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫৭৩ : উবাদাহ ইবনিস সামিত [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ পৃথিবীর বক্ষে যে মুসলিম লোকই আল্লাহ তাআলার নিকটে কোন কিছুর জন্য দুয়া করে, অবশ্যই আল্লাহ তাআলা তাকে তা দান করেন কিংবা তার হইতে একই রকম পরিমাণ ক্ষতি সরিয়ে দেন, যতক্ষণ না সে পাপে জড়িত হওয়ার জন্য অথবা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার দুয়া করে। সমবেত ব্যক্তিদের একজন বলিল, তাহলে আমরা অত্যধিক দুয়া করিতে পারি। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তাআলা তার চাইতেও বেশী ক্ববূলকারী।

হাসান সহীহঃ তালীকুর রাগীব [২/২৭১-২৭২] এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান সহীহ

অনুচ্ছেদ-১১৭ঃ [রাতে শোয়ার সময় যে দুয়া পাঠ করিবে]

৩৫৭৪ : আল –বারাআ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যখন তুমি শোয়ার জন্য বিছানায় যেতে চাও সে সময় নামাযের উযূর মত উযূ কর, অতঃপর তোমার ডান কাতে শয়ন কর, অতঃপর বলঃ

اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ رَهْبَةً وَرَغْبَةً إِلَيْكَ لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَا مِنْكَ إِلاَّ إِلَيْكَ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ ‏.‏ فَإِنْ مُتَّ فِي لَيْلَتِكَ مُتَّ عَلَى الْفِطْرَةِ

আল্ল-হুম্মা আস্লাম্তু ওয়াজ্হি ইলাইকা ওয়াফাও ওয়ায্তু আম্রী ইলাইকা ওয়া আল জাতু যাহরি ইলাইকা রাগ্বাতান্ ওয়া রাহ্বাতান্ ইলাইকা লা- মাল্জাআ ওয়ালা- মান্জা- মিন্কা ইল্লা ইলাইকা আমানতু বি কিতাবিকাল্লাজি আনজালতা ওয়া বি নাবিয়্যিইয়াকাল্লাজি আরসালতা। ফাইন মুত্তা ফি লায়লাতিকা মুত্তা আলাল ফিত্রাহ্

“হে আল্লাহ! আমার চেহারা আমি তোমার দিকে সোপর্দ করলাম, আমার সমস্ত বিষয় তোমার কাছে সমর্পণ করলাম, আশা ও ভয় নিয়ে তোমার দিকে আমার পিঠ সপে দিলাম, তোমার হইতে [পালিয়ে] আশ্রয় নেয়ার এবং রক্ষা পাওয়ার তুমি ব্যতীত আর কোন জায়গা নেই। আমি ঈমান আনলাম তোমার অবতীর্ণ কিতাবের উপর এবং তোমার পাঠানো নাবীর উপর”।

তারপর যদি ঐ রাতে তুমি মারা যাও, তাহলে দ্বীনের [ইসলামের] উপরই মৃত্যুবরণ করিবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি এ দুয়ার বাক্যগুলো পুণরায় বললাম যাতে তা আমার মুখস্থ হয়ে যায়। আমি তাতে যোগ করলাম, আমি তোমার পাঠানো রাসূলের উপর ঈমান আনলাম। তখন তিনি বললেনঃ তুমি বল, “আমি তোমার পাঠানো নাবীর উপর ঈমান আনলাম”।

সহীহঃ বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ [৩৩৯৪] নং পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫৭৫ : আবদুল্লাহ ইবনি খুবাইব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এক ঘুটঘুটে অন্ধকার ও বৃষ্টিমুখর রাতে আমাদের নামাজ আদায় করানোর জন্য আমরা রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সন্ধানে বের হলাম। আমি তাহাঁর দেখা পেলে তিনি বললেনঃ বল। কিন্তু আমি কিছুই বললাম না। তিনি পুণরায় বললেনঃ বল। এবারও আমি কিছুই বললাম না। তিনি আবার বলিলেন, বল। এবার আমি প্রশ্ন করলাম, আমি কি বলব? তিনি বললেনঃ তুমি প্রতি দিন বিকালে ও সকালে উপনীত হয়ে তিনবার করে

সূরা কুল হুআল্লাহু আহাদ [সূরা আল -ইখলাস] ও আল –মুআওবিযাতাইন [সূরা আল –ফালাক্ব ও সুলা আন -নাস]

পাঠ করিবে, আর তা প্রত্যেকটি ব্যাপারে তোমার জন্য যথেষ্ট হইবে।

হাসানঃ তালীকুর রাগীব [১/২২৪], আল –কালিমুত তাইয়্যিব [১৯/৭] এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

অনুচ্ছেদ-১১৮ঃ মেহমানের দুয়া করা

৩৫৭৬ : আবদুল্লাহ ইবন বুসর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমার বাবার নিকটে এলেন। আমরা তাহাঁর জন্য খাদ্য পরিবেশন করলে তিনি তা আহার করিলেন। তারপর খেজুর আনা হলে তিনি তা খেতে থাকলেন এবং দুই আঙ্গুলের মাধ্যমে খেজুরের বিচি ফেলে দিতে লাগলেন মধ্যমা ও তর্জনী একত্র করে। শুবাহ বলেন, এটা আমার সন্দেহ, ইনশাআল্লাহ এটাই সঠিক। তারপর পানীয় দ্রব্য আনা হলে তিনি তা পান করিলেন, তারপর পানপাত্র তার ডান পাশের ব্যক্তিকে দিলেন। আবদুল্লাহ ইবনি বুসর [রাদি.] বলেন, তারপর আমার বাবা তাহাঁর সওয়ারীর লাগাম ধরে বলিলেন, আমাদের জন্য দুয়া করুন। তিনি বললেনঃ

اللَّهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِيمَا رَزَقْتَهُمْ وَاغْفِرْ لَهُمْ وَارْحَمْهُمْ

আল্লা-হুম্মা বা-রিক লাহুম ফীমা রাযাক্তাহুম ওয়াগফির লাহুম ওয়ারহামহুম

“হে আল্লাহ! তাহাদের যে রিযিক্ব দিয়েছ তাতে বারাকাত দান কর, তাহাদেরকে ক্ষমা কর এবং তাহাদের প্রতি দয়া কর”।

সহীহঃ মুসলিম [৬/১২২] এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫৭৭ : যাইদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি নাবী [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছেনঃ যে লোক বলে,

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الْعَظِيمَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىَّ الْقَيُّومَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

আস্‌তাগফিরুল্লা হাল আজিমাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলায়হি

“মহান আল্লাহ তাআলার নিকট আমি ক্ষমা চাই যিনি ছাড়া কোন মাবূদ নেই, যিনি চিরজীবি, চিরস্থায়ী এবং আমি তাহাঁর কাছে তাওবাহ করি”, তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়, যদিও সে রণক্ষেত্র হইতে পলায়ন করে থাকে।

সহীহঃ তালীকুর রাগীব [২/২৬৯], সহীহ আবু দাঊদ [১৩৫৮] আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র উপর্যুক্ত সনদেই অবগত হয়েছি। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

অনুচ্ছেদ-১১৯ঃ [দুয়াতে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে মাধ্যমে বানানো]

৩৫৭৮ : উসমান ইবনি হুনাইফ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক অন্ধ ব্যক্তি নাবী [সাঃআঃ] এর কাছে এসে বলিলেন, হে আল্লাহর নাবী! আমার জন্য আল্লাহ তাআলার নিকট দুয়া করুন, যেন আমাকে তিনি আরোগ্য দান করেন। তিনি বললেনঃ তুমি কামনা করলে আমি দুয়া করব, আর তুমি চাইলে ধৈর্য্য ধারণ করিতে পার, সেটা হইবে তোমার জন্য উত্তম। সে বলিল, তাহাঁর নিকটে দুয়া করুন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তাকে উত্তমভাবে উযূ করার হুকুম করিলেন এবং এই দুয়া করিতে বলিলেন,

“হে আল্লাহ! তোমার নিকট আমি প্রার্থনা করি এবং তোমার প্রতি মনোনিবেশ করি তোমার নাবী, দয়ার নাবী মুহাম্মদ [সাঃআঃ] এর [দুয়ার] মাধ্যমে। আমি তোমার দিকে ঝুঁকে পড়লাম, আমার প্রয়োজনের জন্য আমার প্রভুর দিকে ধাবিত হলাম, যাতে আমার এ প্রয়োজন পূর্ণ করে দেয়া হয়। হে আল্লাহ! আমার প্রসঙ্গে তুমি তাহাঁর সুপারিশ ক্ববূল কর”।

সহীহঃ ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[১৩৮৫] এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫৭৯ : আবু উমামাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমর ইবনি আবাসাহ [রাদি.] আমার কাছে রিওয়ায়াত করিয়াছেন যে, নাবী [সাঃআঃ] কে তিনি বলিতে শুনেছেনঃ আল্লাহ তাআলা শেষ রাতে তাহাঁর বান্দার সবচেয়ে নিকটবর্তী হন। অতএব যারা এ সময় আল্লাহর যিকর করে [নামাজ পড়ে ও দুয়া করে], তুমি পারলে তাহাদের দলভূক্ত হয়ে যাও।

সহীহঃ তালীকুর রাগীব [২/২৭৬], মিশকাত [১২২৯] আবু ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান গারীব। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৫৮০ : উমারা ইবনি যাকারা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছিঃ আল্লাহ্‌ তাআলা বলেনঃ আমার পূর্ণ বান্দা সেই ব্যক্তি যে তার শত্রুর সাথে যুদ্ধরত অবস্থায় আমাকে মনে করে।

যঈফ, যঈফা [৩১৩৫],আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীস জেনেছি। এর সনদসূত্র তেমন মজবুত নয়। এই হাদীসটি ব্যতীত উমার ইবনি যাকারার কোন হাদীস আমাদের জানা নেই। এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

By ইমাম তিরমিজি

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply