হজ্জে ভাগে কুরবানীর হাদিস । শিশু মহিলা ও মৃতের পক্ষে হজ্জ

হজ্জে ভাগে কুরবানীর হাদিস । শিশু মহিলা ও মৃতের পক্ষে হজ্জ

হজ্জে ভাগে কুরবানীর হাদিস । শিশু মহিলা ও মৃতের পক্ষে হজ্জ >> সুনান তিরমিজি শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায়ঃ ৭, অনুচ্ছেদঃ (৬৬-৮৬)=২১টি

৬৬. অনুচ্ছেদঃ উট ও গরু কুরবানীতে শরীক হওয়া প্রসঙ্গে
৬৭. অনুচ্ছেদঃ [হারাম শারীফ এলাকায় কুরবানীর জন্য পাঠানো] উটে চিহ্ন লাগানো
৬৮. অনুচ্ছেদঃ [কুরবাণীর পশু ক্রয় প্রসঙ্গে]
৬৯. অনুচ্ছেদঃ কুরবানীর পশুর গলাতে মুকীমের জন্য মালা পরানো
৭০. অনুচ্ছেদঃ কুরবানীর মেষ-বকরীর গলায় মালা পরানো
৭১. অনুচ্ছেদঃ কুরবানীর পশু পথ চলতে না পারলে যা করিতে হইবে
৭২. অনুচ্ছেদঃ কুরবানীর উটে আরোহণ করা
৭৩. অনুচ্ছেদঃ মাথার কোন পাশ দিয়ে চুল মুড়ানো শুরু করিবে
৭৪. অনুচ্ছেদঃ চুল কেটে ফেলা অথবা ছেটে ফেলা
৭৫. অনুচ্ছেদঃ মহিলাদের মাথা মুন্ডন করা মাকরূহ
৭৬. অনুচ্ছেদঃ কুরবানীর পূর্বে মাথা মুণ্ডন বা কংকর মারার পূর্বে কুরবানী করে ফেললে
৭৭. অনুচ্ছেদঃ তাওয়াফে যিয়ারাতের পূর্বে ইহরামমুক্ত হওয়ার সময় সুগন্ধি ব্যবহার
৭৮. অনুচ্ছেদঃ কখন হইতে হজ্জে তালবিয়া পাঠ বন্ধ করা হইবে
৭৯. অনুচ্ছেদঃ উমরার ক্ষেত্রে তালবিয়া পাঠ কখন বন্ধ করিতে হইবে
৮০. অনুচ্ছেদঃ রাতের বেলা তাওয়াফে যিয়ারাত করা
৮১. অনুচ্ছেদঃ আবতাহ নামক জায়গায় অবতরণ করা
৮২. অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি আবতাহ নামক জায়গায় অবতরণ করিয়াছেন
৮৩. অনুচ্ছেদঃ শিশুদের হজ্জ
৮৪. অনুচ্ছেদঃ [শিশুদের হাজ্জ]
৮৫. অনুচ্ছেদঃ অতি বৃদ্ধ ও মৃত ব্যক্তির পক্ষে হজ্জ আদায় করা
৮৬. অনুচ্ছেদঃ [মৃত ব্যক্তির পক্ষে হজ্জ আদায় করা]

৬৬. অনুচ্ছেদঃ উট ও গরু কুরবানীতে শরীক হওয়া প্রসঙ্গে

৯০৪. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে হুদাইবিয়ার [সন্ধির] বছর একটি গরু সাতজনের পক্ষ হইতে এবং একটি উটও সাতজনের পক্ষ হইতে কুরবানী করেছি।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [৩১৩২], মুসলিম।ইবনি উমার, আবু হুরাইরা, আইশা ও ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। জাবির [রাদি.] বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণ আমল করিয়াছেন। একটি উট সাতজনের পক্ষ হইতে এবং একটি গুরুও সাতজনের পক্ষ হইতে কুরবানী করাকে তারা জায়িয মনে করেন। এই অভিমত সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ ও আহমাদ [রঃ]-এর। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে ইবনি আব্বাস [রাদি.]-এর বরাতে বর্ণিত আছে যে, একটি গরু সাতজনের পক্ষ হইতে এবং একটি উট দশজনের পক্ষ হইতে কুরবানী করা যায়। এই অভিমত ইসহাক [রঃ]-এর। শুধুমাত্র একটি সূত্রেই আমরা ইবনি আব্বাস [রাদি.] বর্ণিত হাদীসটি জেনেছি।ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৯০৫. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, কোন এক সফরে আমরা রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে ছিলাম। এমতাবস্থায় কুরবানীর ঈদ আসলে আমরা একটি গরুতে সাতজন এবং একটি উটে দশজন করে শরীক হই।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [৩১৩১]।এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। এটি হুসাইন ইবনি ওয়াকিদ [রঃ] বর্ণিত হাদীস।ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৬৭. অনুচ্ছেদঃ [হারাম শারীফ এলাকায় কুরবানীর জন্য পাঠানো] উটে চিহ্ন লাগানো

৯০৬. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

যুল-হুলাইফা নামক জায়গায় রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] কুরবানীর পশুর গলায় একজোড়া জুতা ঝুলিয়ে দিলেন এবং এর কুঁজের ডান দিকে চিরে রক্ত প্রবাহিত করিলেন।

সহীহ, ইবনি মা-জাহ [৩০৯৭], মুসলিম।মিসওয়ার ইবনি মাখরামা [রাদি.] হইতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আবু হাসসান আল-আরাজের নাম মুসলিম। এই হাদীস অনুযায়ী রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাহাবী ও অন্যান্য আলিমগণ আমল করিয়াছেন। কুরবানীর উট বা গরুর কুঁজের ডান বা বাম দিক দিয়ে চিরে দেয়া তাহাদের মতে সুন্নাত। এই অভিমত সাওরী, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক [রঃ]-এর।ইউসুফ ইবনি ঈসা বলেন, এই হাদীস বর্ণনার সময় আমি ওয়াকীকে বলিতে শুনিয়াছি, আহলুর রায়ের কথার প্রতি এই বিষয়ে ভ্রুক্ষেপ করিবে না। কারণ, কুঁজ চিরা হলো সুন্নাত এবং আহলুর রায়ের কথা হলো বিদআত। আমি আবুস সাইবকে বলিতে শুনিয়াছি, আমরা ওয়াকীর নিকট বসা ছিলাম। একজন আহলুর রায়কে লক্ষ্য করে তিনি বলিলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] কুরবানীর পশুর কুঁজ চিরেছেন। আর আবু হানীফা বলেন যে, তা মুসলা বা অঙ্গ বিকৃতকরণ। ঐ ব্যক্তি বলিল, ইবরাহীম নাখঈ বলেছেন, এটা হলো মুসলা। আবুস সাঈব বলেন, আমি দেখিতে পেলাম ওয়াকী ভীষণভাবে রেগে গেলেন এবং বলিলেন, আমি বলছি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, আর তুমি বলছ ইবরাহীম বলেছেন। তোমাকে কারারুদ্ধ করা উচিত। তুমি যে পর্যন্ত না এই বক্তব্য প্রত্যাহার করছ সে পর্যন্ত তোমাকে কারামুক্ত করা অনুচিত।ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৬৮. অনুচ্ছেদঃ [কুরবাণীর পশু ক্রয় প্রসঙ্গে]

৯০৭. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] কুদাইদ নামক জায়গা হইতে তাহাঁর কুরবাণীর পশু কেনেন।

সনদ দুর্বল, ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[৩১০২]। বুখারী বর্ণনা করিয়াছেন মাওকূফভাবে

আবু ঈসা বলেন, এই হাদীসটি গারীব। ইয়াহ্‌ইয়া ইবনিল ইয়ামানের সূত্রেই শুধু উপরোক্ত হাদীস প্রসঙ্গে জানা যায়। নাফি [রঃ] হইতে বর্ণিত আছে যে, ইবনি উমার [রাদি.] কুদাইদ হইতে তা কেনেন। আবু ঈসা বলেন, এই রিওয়াত অনেক বেশি সহিহ।ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৬৯. অনুচ্ছেদঃ কুরবানীর পশুর গলাতে মুকীমের জন্য মালা পরানো

৯০৮. আইশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর হাদয়ির [কুরবানীর পশুর] গলায় মালা পরানোর রশি পাকিয়ে দিয়েছি। এরপরও রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইহরামও বাধেননি এবং সাধারণ জামাকাপড়ও পরিবর্তন করেননি।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [৩০৯৮], বুখারী, মুসলিম৷এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। একদল আলিম বলেন, যদি কোন ব্যক্তি হজ্জের ইচ্ছা করে কুরবানীর পশুর গলায় মালা পরিয়ে দেয় এবং ইহরাম না বাধে তাহলে সেলোকের জন্য যে কোন পোশাক পরা ও সুগন্ধি ব্যবহার হারাম হইবে না। অপর কিছু সংখ্যক আলিমগণ বলেন, ইহরামধারী লোকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধিনিষেধ কুরবানীর পশুর গলায় মালা পরিয়ে দেয়া ব্যক্তির প্রতিও প্রযোজ্য হইবে।ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৭০. অনুচ্ছেদঃ কুরবানীর মেষ-বকরীর গলায় মালা পরানো

৯০৯. আইশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কুরবানীর পশুর গলায় মালা পরানোর রশি পাকিয়ে দিতাম। এগুলোর সবই ছিল মেষ ও বকরী। এরপরও তিনি ইহরাম বাঁধেননি।

-সহীহ, সহীহ আবু দাউদ [১৫৪০], বুখারী, মুসলিম।এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অন্যান্য আলিমগণ আমল করিয়াছেন এবং কুরবানীর মেষ-বকরী ইত্যাদির গলায় মালা পরানো বৈধ বলেছেন।ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৭১. অনুচ্ছেদঃ কুরবানীর পশু পথ চলতে না পারলে যা করিতে হইবে

৯১০. নাজিয়া আল-খুযাঈ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ]! কুরবানীর পশু পথ চলতে না পারলে এবং এর মৃত্যুর আশংকা দেখা দিলে আমি কি করব? তিনি বললেনঃ এটিকে যবাহ কর, এর [গলায় বাঁধা] জুতা তার রক্তে ডুবিয়ে দাও, এরপর মানুষের জন্য তা রেখে দাও যেন তারা তা খেতে পারে।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [৩১০৬]।যুওয়াইব আবু কাবীসা আল-খুযাঈ [রাদি.] হইতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। নাজিয়া [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করার অভিমত দিয়েছেন। তারা বলেন, নফল কুরবানীর ক্ষেত্রে পশুটি চলতে না পারলে [যবাহ করার পর] সে নিজে বা তার সঙ্গীরা এর গোশত খেতে পারবে না, বরং লোকদের জন্য তা ফেলে রাখবে তারা যাতে উহা খেতে পারে। আর তার জন্য কুরবানী হিসাবে এটি যথেষ্ট হইবে। এই অভিমত ঈমাম শাফি, আহমাদ ও ইসহাকের। তারা বলেন, যদি মালিক তা হইতে কিছু খেয়ে থাকে তাহলে যতটুকু খেয়েছে সেই পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিতে হইবে। অপর একদল আলিম বলেন, নফল কুরবানীর পশু হইতে যদি সে কিছু খায় তাহলে তার বিনিময়ে আরেকটি কুরবানী দিতে হইবে।ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৭২. অনুচ্ছেদঃ কুরবানীর উটে আরোহণ করা

৯১১. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক ব্যক্তিকে তার কুরবানীর উট হাকিয়ে নিয়ে যেতে দেখে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তুমি এর পিঠে আরোহণ কর। সে বলিল, হে আল্লাহর রাসূল! এটা তো কুরবানীর উট। তিনি তৃতীয় বা চতুর্থ বারে তাকে বললেনঃ আরে দুর্ভাগা! এতে আরোহণ কর।

-সহীহ, বুখারী, মুসলিম।

আলী, আবু হুরাইরা ও জাবির [রাদি.] হইতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। প্রয়োজনে কুরবানীর উটের উপর আরোহণ করার প্রতি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর একদল সাহাবী ও অন্যান্য আলিমগণ অনুমতি দিয়েছেন। এই অভিমত ঈমাম, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের। কোন কোন আলিম বলেন, একান্ত বাধ্য না হলে কুরবানীর উটে আরোহণ করা উচিত নয়।ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৭৩. অনুচ্ছেদঃ মাথার কোন পাশ দিয়ে চুল মুড়ানো শুরু করিবে

৯১২. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, জামরায় কংকর মারার পর রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] পশু কুরবানী করিলেন, এরপর তার মাথার ডান দিক নাপিতের দিকে বাড়িয়ে দিলেন এবং সে তা মুণ্ডন করিল। আবু তালহা [রাদি.]-কে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এ চুলগুলো দিলেন। এরপর তিনি বাম দিক বাড়িয়ে দিলে সে তা মুণ্ডন করিল। তিনি [আবু তালহাকে] বলেনঃ লোকজনের মাঝে এগুলো বণ্টন করে দাও।

-সহীহ, ইরওয়া, সহীহ আবু দাউদ [১০৮৫, ১৭৩০], মুসলিম।একই রকম হাদীস ইবনি আবী উমার [রঃ]……হিশাম [রঃ] হইতেও বর্ণনা করিয়াছেন। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৭৪. অনুচ্ছেদঃ চুল কেটে ফেলা অথবা ছেটে ফেলা

৯১৩. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] ও তার সাহাবীদের একদল মাথা মুণ্ডন করিলেন এবং কতিপয় সাহাবী চুল খাট করিলেন। ইবনি উমার [রাদি.] বলেনঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ মাথা মুণ্ডনকারীদের উপর আল্লাহ্ তাআলা অনুগ্রহ করুন। একবার কি দুইবার তিনি এ কথাটি বলিলেন, তারপর বললেনঃ চুল ছোট করে কর্তনকারীদের উপরও।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [৩০৪৪], বুখারী, মুসলিম।ইবনি আব্বাস, ইবনি উম্মুল হুসাইন, মারিব, আবু সাঈদ, আবু মারইয়াম, হুবশী ইবনি জুনাদা ও আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। বিশেষজ্ঞ আলিমগণ এই হাদীস অনুযায়ী আমল করিয়াছেন। পুরুষদের মাথা মুণ্ডন করা উত্তম বলে তারা মত দিয়েছেন, তবে চুল ছোট করে ছাটলেও তা যথেষ্ট হইবে। এই অভিমত ঈমাম সাওরী, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের।ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৭৫. অনুচ্ছেদঃ মহিলাদের মাথা মুন্ডন করা মাকরূহ

৯১৪. আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] মহিলাদেরকে তাহাদের মাথা কামিয়ে ফেলতে মানা করিয়াছেন।

যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী [২৬৫৩]। যঈফ [৬৭৮]ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৯১৫. মুহাম্মাদ ইবনি বাশশার আবু দাঊদ হইতে তিনি হাম্মাম হইতে তিনি খিলাস হইতে বর্ণীতঃ

মুহাম্মাদ ইবনি বাশশার আবু দাঊদ হইতে তিনি হাম্মাম হইতে তিনি খিলাস হইতে এই সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের মতই বর্ণিত আছে। কিন্তু এই সূত্রে আলী [রাদি.]- এর নাম উল্লেখ নেই। আবু ঈসা বলেন, আলী [রাদি.] বর্ণিত এই হাদীসটিতে অস্থিরতা আছে। এই হাদীসটি হাম্মাদ হইতে কাতাদার সূত্রে আইশা [রাদি.] হইতে বর্ণিত আছে বিদ্বানগণের মতে মহিলাদের মাথা কামাতে হইবে না তাহাদের মাথার চুল ছাটতে হইবে।

ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৭৬. অনুচ্ছেদঃ কুরবানীর পূর্বে মাথা মুণ্ডন বা কংকর মারার পূর্বে কুরবানী করে ফেললে

৯১৬. আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে এক লোক প্রশ্ন করিল, যবাহ [কুরবানী] করার পূর্বে আমি মাথা মুণ্ডন করে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ যবাহ কর, এতে কোন সমস্যা নেই। অন্য আরেকজন প্রশ্ন করিল, আমি কংকর মারার আগে কুরবানী করেছি। তিনি বললেনঃ কংকর মেরে নাও, এতে কোন সমস্যা নেই।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [৩০৫১],বুখারী, মুসলিম৷।আলী, জাবির, ইবনি আব্বাস, ইবনি উমার ও উসামা ইবনি শরীক [রাদি.] হইতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ আলিমের মতও তাই। অনুরূপ মত দিয়েছেন ঈমাম আহমাদ ও ইসহাক। কিছু সংখ্যক আলিম বলেন, হজ্জের অনুষ্ঠানসমূহের ক্রমিক ধারা নিয়ম-কানুন ভঙ্গ করলে দম [পশু কুরবানী] দিতে হইবে।ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৭৭. অনুচ্ছেদঃ তাওয়াফে যিয়ারাতের পূর্বে ইহরামমুক্ত হওয়ার সময় সুগন্ধি ব্যবহার

৯১৭. আইশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, ইহরাম বাঁধার পূর্বে এবং কুরবানীর দিন বাইতুল্লাহ তাওয়াফের পূর্বে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে আমি কস্তুরী মিশ্রিত সুগন্ধি লাগিয়ে দিয়েছি।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [২৯২৬], বুখারী, মুসলিম।ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত রহিয়াছে। আইশা [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর বেশিরভাগ সাহাবী ও বিশেষজ্ঞ আলিমদের মতে কুরবানীর দিন যখন ইহরামধারী ব্যক্তি জামরা আকাবায় কংকর মারবে, কুরবানী করিবে এবং মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেটে নিবে তখন হইতেই তার জন্য যা [ইহরামের কারণে] হারাম ছিল তা হালাল হয়ে যাবে, তবে স্ত্রীসহবাস হালাল হইবে না। এই অভিমত ঈমাম শাফি, আহমাদ ও ইসহাকের। উমার ইবনিল খাত্তাব [রাদি.] বলেন, স্ত্রীসম্ভোগ ও সুগন্ধি ব্যতীত আর সবকিছু তার জন্য হালাল হয়ে যাবে। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কিছু সংখ্যক সাহাবী ও অপরাপর আলিম এই মত গ্রহণ করিয়াছেন। এই মত কুফাবাসী আলিমদেরও।ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৭৮. অনুচ্ছেদঃ কখন হইতে হজ্জে তালবিয়া পাঠ বন্ধ করা হইবে

৯১৮. ফাযল ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মুযদালিফা হইতে মিনা পর্যন্ত রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে তার বাহনের পিছনে বসিয়ে এনেছেন। জামরা আকাবায় কংকর মারা পর্যন্ত তিনি অনবরত তালবিয়া পাঠ করেন।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [৩০৪০], বুখারী, মুসলিম।আলী, ইবনি মাসউদ ও ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিমদের মতে, হজ্জ পালনকারী জামরা আকাবায় কংকর মারা শেষ না করা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ বন্ধ করিবে না। এই অভিমত ঈমাম শাফি, আহমাদ ও ইসহাকের।ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৭৯. অনুচ্ছেদঃ উমরার ক্ষেত্রে তালবিয়া পাঠ কখন বন্ধ করিতে হইবে

৯১৯. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেন যে, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] উমরার বেলায় হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করা মাত্র তালবিয়া পাঠ বন্ধ করিতেন।

যঈফ, ইরওয়া [১০৯৯], যঈফ আবু দাঊদ [৩১৬]বর্ণনাটি ইবনি আব্বাসের নিজস্ব কথা আর ইহাই সহীহ. এই অনুচ্ছেদে আব্দুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন , ইব্‌নু আব্বাস [রাদি.] বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহিহ। বেশিরভাগ আলিম এই হাদীস অনুসারে বলেছেন, উমরা পালনকারী হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ না করা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ বন্ধ করিবে না। কোন কোন আলিম বলেন, মক্কার জনপদের সীমায় পৌঁছেই তালবিয়া পাঠ বন্ধ করে দিবে। [তিরমিযী বলেন] তবে উক্ত হাদীস অনুযায়ীই আমল করিতে হইবে। সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ, আহ্‌মাদ ও ইসহাকের এই অভিমত।ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৮০. অনুচ্ছেদঃ রাতের বেলা তাওয়াফে যিয়ারাত করা

৯২০. ইবনি আব্বাস ও আইশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] তাওয়াফে যিয়ারাতরাত পর্যন্ত বিলম্ব করিয়াছেন।

শাজ, ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[৩০৫৯]।আবু ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ। একদল বিশেষজ্ঞ আলিম রাত অবধি দেরি করে তাওয়াফে যিয়ারাত করার সম্মতি দিয়েছেন। আরেক দল আলিম কুরবানীর দিন তা করা মুস্তাহাব বলেছেন। অন্য একদল আলিম মিনায় থাকতে শেষ দিন পর্যন্ত তা দেরি করার সম্মতি প্রকাশ করিয়াছেন।ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ শায

৮১. অনুচ্ছেদঃ আবতাহ নামক জায়গায় অবতরণ করা

৯২১. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবতাহ নামক জায়গায় রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এবং আবু বাকর, উমার ও উসমান [রাদি.] অবতরণ করিতেন।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [৩০৬৯], মুসলিম, বুখারী সংক্ষেপে।আইশা, আবু রাফি ও ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ গারীব বলেছেন। আমরা এই হাদীসটি শুধুমাত্র আবদুর রাযযাক হইতে উবাইদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.]-এর সূত্রেই জেনেছি। আবতাহ-এ অবতরণ করাকে একদল বিশেষজ্ঞ আলিম মুস্তাহাব বলেছেন, তবে ওয়াজিব নয়। ঈমাম শাফি [রঃ] বলেন, আবতাহে অবতরণ করা হজ্জের অনুষ্ঠানের কোন অঙ্গ নয়। এটি হল একটি স্থান যেখানে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] অবতরণ করেছিলেন।ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৯২২. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মুহাসসাব নামক জায়গায় অবতরণ কোন [জরুরী] বিষয় নয়। এতো একটি স্থান, যে জায়গায় রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] অবতরণ করেছিলেন।

-সহীহ, বুখারী, মুসলিম।আবু ঈসা বলেন, তাহসীব” অর্থ আবতাহে অবতরণ করা [দুটি একই স্থান]। এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৮২. অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি আবতাহ নামক জায়গায় অবতরণ করিয়াছেন

৯২৩. আইশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এজন্য আবতাহে অবতরণ করেন যে, সেখান হইতে [মাদীনার উদ্দেশ্যে] বেরিয়ে যাওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ ছিল।

-সহীহ, সহীহ আবু দাউদ [১৭৫২], বুখারী, মুসলিম।এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। ইবনি আবী উমার হইতে হিশাম ইবনি উরওয়া [রঃ] এর সূত্রেও এরূপ বর্ণিত আছে।ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৮৩. অনুচ্ছেদঃ শিশুদের হজ্জ

৯২৪. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এক মহিলা রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সামনে তার এক শিশু সন্তানকে উচিয়ে ধরে বলিল, হে আল্লাহর রাসূল! এর জন্য কি হজ্জ আছে? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, আর এর প্রতিদান তোমার।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [২৯১০], মুসলিম।ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। জাবির [রাদি.] বর্ণিত হাদীসটি গারীব।ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৯২৫. সাইব ইবনি ইয়াযীদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, বিদায় হজ্জে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে আমার পিতা আমাকে নিয়ে হজ্জ আদায় করিয়াছেন। তখন আমি সাত বছরের বালক ছিলাম।

-সহীহ, আলহাজ্জুল কাবীর, বুখারী।এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৯২৬. মুহাম্মাদ ইবনিল মুনকাদির হইতে বর্ণীতঃ

কুতাইবা কাযায়া ইবনি সুয়াইদ আল-বাহিলী হইতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনিল মুনকাদির হইতে, তিনি জাবির ইবনি আবদুল্লাহ হইতে, তিনি নাবী [সাঃআঃ] হইতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।

-সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদীসআবু ঈসা বলেন, হাদীসটি মুহাম্মাদ ইবনিল মুনকাদিরের বরাতে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে মুর্সাল রূপেও বর্ণিত আছে।এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আলিমগণ একমত যে, যদি নাবালেগ শিশু হজ্জ আদায় করে তাহলে আবার বালেগ হওয়ার পর [হজ্জ ফরয হলে] তাকে হজ্জ আদায় করিতে হইবে। ফরয হজ্জের জন্য শিশুকালের হজ্জ যথেষ্ট হইবে না। অনুরূপভাবে হজ্জ করার পর যদি কোন দাস আযাদ হয় তাহলে হজ্জের সামর্থ হলে আবার তাকে হজ্জ আদায় করিতে হইবে। তার ফরয হজ্জের জন্য দাস অবস্থার হজ্জ যথেষ্ট হইবে না। এই মত সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের।ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৮৪. অনুচ্ছেদঃ [শিশুদের হাজ্জ]

৯২৭. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর সাথে যখন হাজ্জ করতাম তখন মেয়েদের পক্ষ হইতে তালবিয়া পাঠ করতাম এবং বালকদের পক্ষ হইতে রমী [কঙ্কর নিক্ষেপ] করতাম।

যঈফ, ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[৩০৩৮]।আবু ঈসা বলেন, এই হাদীসটি গারীব। শুধু উপরোক্ত সূত্রেই এটি আমরা জেনেছি। এই প্রসঙ্গে আলিমগণ একমত যে, মেয়েরা নিজেদের তালবিয়া পাঠ করিবে। তাহাদের হয়ে অন্য কেঊ তালবিয়া পাঠ করলে তা হইবে না। তবে তাহাদের উচ্চ কন্ঠে তালবিয়া পাঠ করা মাকরূহ।ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৮৫. অনুচ্ছেদঃ অতি বৃদ্ধ ও মৃত ব্যক্তির পক্ষে হজ্জ আদায় করা

৯২৮. ফাযল ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

খাসআম গোত্রের এক মহিলা বলিল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতার উপর আল্লাহ নির্ধারিত হজ্জ ফরয হয়েছে, কিন্তু তিনি খুবই বৃদ্ধ হয়ে পড়েছেন। উটের পিঠে বসার সামর্থ্যও তার নেই। তিনি বললেনঃ তার পক্ষে তুমি হজ্জ আদায় কর।

-সহীহ, ইবনি মা-জাহ [২৯০৯], বুখারী, মুসলিম।আলী, বুরাইদা, হুসাইন ইবনি আওফ, আবু রামীন আল-উকাইলী, সাওদা বিনতু যামআ ও ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ফাযল ইবনি আব্বাসের হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই বিষয়ে ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে হুসাইন ইবনি আওফ আল-মুযানী [রঃ]-এর এই সনদে নাবী [সাঃআঃ] হইতে হাদীস বর্ণিত আছে। এই বিষয়ে ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে সিনান ইবনি আবদিল্লাহ আল-জুহানী-তার ফুফুর সূত্রেও রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনি আব্বাসের সূত্রেও নাবী [সাঃআঃ] হইতে হাদীস বর্ণিত আছে। এই রিওয়ায়াতগুলি প্রসঙ্গে মুহাম্মাদ আল-বুখারীকে আমি প্রশ্ন করলে তিনি বলিলেন, এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে সহীহ হল ইবনি আব্বাস [রাদি.] কর্তৃক ফাযল ইবনি আব্বাসের সূত্রে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে বর্ণিত রিওয়ায়াতটি। মুহাম্মাদ আল-বুখারী আরো বলেন, হয়ত ফাযল ইবনি আব্বাস এবং অন্যদের সূত্রে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে ইবনি আব্বাস [রাদি.] হাদীসটি শুনেছেন, পরে তা মুরসালরূপে বর্ণনা করিয়াছেন এবং যার নিকট হইতে শুনেছেন তার নাম উল্লেখ করেননি। আবু ঈসা বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে এই বিষয়ে একাধিক সহীহ হাদীস বর্ণিত আছে।এই হাদীস অনুযায়ী রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবা ও অপরাপর আলিমগণ আমল করিয়াছেন। এই মত পোষণ করেন সুফিয়ান সাওরী, ইবনিল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক। মৃত ব্যক্তির পক্ষে হজ্জ আদায় করাকে তারা জায়িয মনে করেন। ঈমাম মালিক বলেন, যদি মৃত ব্যক্তি ওয়াসিয়াত করে যায় তবে তার পক্ষ হইতে হজ্জ আদায় করা যাবে। একদল আলিমের মতে, যদি জীবিত ব্যক্তি বৃদ্ধ হয় এবং হজ্জ আদায়ের [দৈহিক] সামর্থ না থাকে তাহলে তার পক্ষে হজ্জ আদায় করা যাবে। এই মত ইবনিল মুবারাক ও শাফিঈর।ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৮৬. অনুচ্ছেদঃ [মৃত ব্যক্তির পক্ষে হজ্জ আদায় করা]

৯২৯. বুরাইদা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট এক মহিলা এসে বলিল, আমার মা মৃত্যুবরণ করিয়াছেন, কিন্তু তিনি হজ্জ আদায় করেননি। তার পক্ষে কি আমি হজ্জ আদায় করব? তিনি বললেনঃ হ্যা, তার পক্ষে তুমি হজ্জ আদায় কর।

-সহীহ, সহীহ আবু দাউদ [২৫৬১], মুসলিম।এই হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।ওমরাহ হজ – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

By ইমাম তিরমিজি

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply