সকল প্রকার সৎ কাজই সাদকাহ

সকল প্রকার সৎ কাজই সাদকাহ

সকল প্রকার সৎ কাজই সাদকাহ  >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১৬. অধ্যায়ঃ সকল প্রকার সৎ কাজই সাদকাহ

২২১৮

হুজায়ফাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তবে কুতায়বাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] -এর হাদীসে রয়েছে যে, “তোমাদের নবী [সাঃআঃ] বলেছেন”।” আর ইবনি শাইবাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এর হাদীসে আছে যে, নবী [সাঃআঃ] বলেন, ““প্রতিটি ভাল কাজই সাদকাহ অর্থাৎ দান হিসেবে গণ্য।”” [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২১৯৭, ইসলামিক সেন্টার- ২১৯৯]

২২১৯

আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] -এর কিছু সংখ্যক সাহাবী তার কাছে এসে বলিলেন, হে আল্লাহর রসূল! ধন সম্পদের মালিকরা তো সব সাওয়াব নিয়ে নিচ্ছে। কেননা আমরা যেভাবে সালাত আদায় করি তারাও সেভাবে আদায় করে। আমরা যেভাবে সিয়াম পালন করি তারাও সেভাবে সিয়াম পালন করে। কিন্তু তারা তাদের অতিরিক্ত সম্পদ দান করে সাওয়াব লাভ করছে অথচ আমাদের পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি [সাঃআঃ] বললেনঃ আল্লাহ তাআলা কি তোমাদেরকে এমন কিছু দান করেননি যা সাদকাহ করে তোমরা সাওয়াব পেতে পার? আর তা হলো প্রতেক তাসবীহ [সুবহা-নাল্ল-হ] একটি সাদকাহ, প্রত্যেক তাকবীর [আল্ল-হু-আকবার] একটি সাদকাহ, প্রত্যেক তাহমীদ [আলহামদু লিল্লাহ] বলা একটি সাদকাহ, প্রত্যেক লা-ইলা-হা ইল্লাল্-হ বলা একটি সাদকাহ, প্রত্যেক ভাল কাজের আদেশ দেয়া এবং মন্দ কাজ করিতে দেখলে নিষেধ করা ও বাধা দেয়া একটি সাদকাহ। এমনকি তোমাদের শরীরের অংশে সাদকাহ রয়েছে। অর্থাৎ আপন স্ত্রীর সাথে সহবাস করাও একটি সাদকাহ। সাহাবীগণ বলিলেন, হে আল্লাহর রাসুল [সাঃআঃ]! আমাদের কেউ তার কাম প্রবৃত্তিকে চরিতার্থ করিবে বৈধ পথে আর এতেও কি তার সাওয়াব হইবে? তিনি বলিলেন, তোমরা বল দেখি, যদি তোমাদের কেউ হারাম পথে নিজের চাহিদা মেটাতে বা যিনা করত তাহলে কি তার গুনাহ হত না? অনুরূপভাবে যখন সে হালাল বা বৈধ পথে কামাচার করিবে তাতে তার সাওয়াব হইবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২১৯৮, ইসলামিক সেন্টার- ২২০০]

২২২০

আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক আদাম সন্তানকেই ৩৬০ টি গ্রন্থি বিশিষ্ট করে সৃষ্টি করিয়াছেন। অতএব যে ব্যক্তি ঐ সংখ্যা পরিমাণ আল্ল-হ-আকবার বলবে, আলহামদু লিল্লাহ বলবে, লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ বলবে, সুবহা-নাল্ল-হ বলবে, আস্তাগফিরুল্ল-হ বলবে, মানুষের চলার পথ থেকে একটি পাথর বা একটি কাঁটা বা একটি হাড় সরাবে, সৎ কাজের আদেশ দিবে এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখবে, সে ক্বিয়ামাতের দিন এমনভাবে চলাফেরা করিবে যে, সে নিজেকে ৩৬০ [গ্রন্থি] সংখ্যা পরিমাণ জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে অর্থাৎ বেঁচে থাকিবে। আবু তাওবাহ্ তাহাঁর বর্ণনায় এ কথাও উল্লেখ করিয়াছেন যে, সে এ অবস্থায় সন্ধ্যা করিবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২১৯৯, ইসলামিক সেন্টার- ২২০১]

২২২১

মুআবিয়াহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এ প্রসঙ্গে একটি হাদীস বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমার ভাই যায়দ এ সানাদে উপরের হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। তবে তিনি এখানে ““আও আমারা বিল মারূফ”” [সৎকাজের আদেশ দিবে] এ কথাটি ব্যতীত উল্লেখ করিয়াছেন এবং অন্য সূত্রে তিনি বলেছেন যে, “সে ঐ দিন ঐ অবস্থায় সন্ধ্যা করিবে। ” [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২০০, ইসলামিক সেন্টার- ২২০২]

২২২২

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ প্রতিটি মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে। অতঃপর রাবী যায়দের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। তবে তাহাঁর হাদীসের মধ্যে ““সেদিন সে চলাফেরা করিবে”” কথাটি বর্ণিত হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২০১, ইসলামিক সেন্টার- ২২০৩]

২২২৩

সাঈদ ইবনি আবু বুরদাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তাহাঁর পিতার সূত্রে তাহাঁর দাদা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি নবী [সাঃআঃ] থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী [সাঃআঃ] বলেনঃ প্রত্যেক মুসলিমের উপর সাদকাহ করা ওয়াজিব। প্রশ্ন করা হলো, যদি সাদকাহ করার জন্য কিছু না পায় তবে? তিনি বলিলেন, তবে সে নিজ হাতে উপার্জন করিবে এবং নিজে উপকৃত হইবে ও সাদকাহ করিবে। পুনরায় জিজ্ঞেস করা হল, যদি সে এতেও সক্ষম না হয় তবে কী হইবে? তিনি বলিলেন, তাহলে সে অসহায় আর্ত মানুষের সাহায্য করিবে। রাবী বলেন, আবার জিজ্ঞেস করা হল, যদি সে এতেও সক্ষম না হয়? তিনি বলিলেন, তাহলে সৎ কাজের কিংবা কল্যাণের আদেশ করিবে। আবারো জিজ্ঞেস করা হল, যদি সে তাও না করে? তিনি বলিলেন, তবে মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকিবে। কেননা এটাও সাদকাহ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২০২, ইসলামিক সেন্টার- ২২০৪]

২২২৪

শুবাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২০৩, ইসলামিক সেন্টার- নেই]

২২২৫

হাম্মাদ ইবনি মুনাব্বিহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবু হুরায়রাহ [রাদি.] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করিলেন। এর মধ্যে একটি হলো- রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ প্রত্যেক ব্যক্তির শরীরের প্রত্যেকটি গ্রন্থির উপর প্রতিদিনের সাদকাহ ধার্য রয়েছে। দুব্যক্তির মধ্যে ইনসাফ করে দেয়াও একটি সাদকাহ। কোন ব্যক্তিকে সওয়ারীর উপর আরোহণে সাহায্য করা অথবা তার মালামাল সওয়ারীর উপরে তুলে দেয়াও একটি সাদকাহ। তিনি আরো বলেন, সকল প্রকার ভাল কথাই এক একটি সাদকাহ, সালাত আদায়ের জন্য মাসজিদে যেতে যতটি পদক্ষেপ ফেলা হয় তার প্রতিটিই এক একটি সাদকাহ এবং রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করাও একটি সাদকাহ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২০৪, ইসলামিক সেন্টার- ২২০৫]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply