তিন গর্তবাসীর ঘটনা এবং সৎকর্মকে ওয়াসীলা করা সংক্রান্ত

তিন গর্তবাসীর ঘটনা এবং সৎকর্মকে ওয়াসীলা করা সংক্রান্ত

তিন গর্তবাসীর ঘটনা এবং সৎকর্মকে ওয়াসীলা করা সংক্রান্ত >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

২৭. অধ্যায়ঃ তিন গর্তবাসীর ঘটনা এবং সৎকর্মকে ওয়াসীলা করা সংক্রান্ত

৬৮৪২ : আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.]-এর সূত্রে রসূলুলাহ [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেন, এক সময় তিন লোক পথে হেঁটে চলতে চলতে ঝড়-বৃষ্টি নেমে গেল। তখন তারা একটি পাহাড়ের গর্তে আশ্রয় নিল। ইতোমধ্যে পাহাড় হইতে একটি পাথর খণ্ড খসে পরে তাদের গর্তে মুখ ঢেকে দিল। ফলে গর্তে মুখ বন্ধ হয়ে গেল। সে মুহুর্তে তারা পরস্পরকে বলিতে লাগল, নিজ নিজ সৎ আমালের প্রতি খেয়াল করো যা তোমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করেছ এবং সে সৎকর্মের ওয়াসীলার মাধ্যমে আল্লাহর নিকট দুআ করিতে থাকো। এমন হইতে পারে, আল্লাহ তাআলা তোমাদের এ মহাবিপদ [পাথরটি সরিয়ে] হইতে নিষ্কৃতি দিবেন। তখন তাদের একজন বলিল, হে আল্লাহ! আমার পিতা-মাতা ছিলেন বয়োবৃদ্ধ। আমার একজন স্ত্রী ও ছোট ছোট সন্তান-সন্ততি ছিল। আমি তাদের [জীবিকার] জন্য মেষ-বকরী মাঠে চরাতাম। [সন্ধ্যায়] ঘরে ফিরে এসে তাদের জন্য আমি সেগুলোকে দুধ দোহন করতাম এবং আমি আমার সন্তানদের পূর্বে প্রথমেই আমার পিতা-মাতাকে দুধ পান করাতাম। একদিন একটি গাছের সন্ধানে অনেক দূরে যেতে হলো, ফলে আমার ঘরে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে গেলো। [ফিরে এসে] আমি তাদের [পিতা-মাতা] দুজনকে ঘুমন্ত অবস্থায় পেলাম। তারপর আমি আগের মতই দুধ দোহন করলাম। তারপর আমি দুধ নিয়ে আমার পিতা-মাতার মাথার নিকট দাঁড়িয়ে থাকলাম এবং তাদের ঘুম ভাঙ্গানো ঠিক মনে করলাম না এবং তাদের পূর্বে সন্তানদেরকে দুধ পান করানোও পছন্দ করলাম না। সে মুহুর্তে [আমার] সন্তানরা ক্ষুধার তাড়নায় আমার দুপায়ের কাছে কাতরাচ্ছিল। তাদের ও আমার এ অবস্থা চলতে থাকলো। এ অবস্থায় শেষে ভোর হয়ে গেলো। যদি তুমি মনে কর যে, আমি এ কাজ তোমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য করেছি, তাহলে আমাদের জন্য কিছুটা ফাঁকা করে দাও, যাদ্বারা আমরা আকাশ দেখিতে পাই। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাতে একটু ফাঁকা করে দিলেন। তা দিয়ে তারা আকাশ দেখিতে পেলেন।

অপর জন বলিল, হে আল্লাহ! আমার ঘটনা এই যে, আমার এক চাচাতো বোন ছিল কোন পুরুষ কোন নারীকে ভালবাসার মতই আমি তাকে অত্যধিক ভালবাসতাম এবং আমি তাকে একান্ত কাছে পেতে চাইলাম [যৌন আবেদন করলাম]। সে তা প্রত্যাখ্যান করিল এবং [অবশেষে] একশ দীনার বিনিময় চাইল। অতঃপর আমি কষ্ট করে একশ দীনার জমা করলাম। তারপর সেগুলো নিয়ে তার নিকট আসলাম। যখন আমি তার দুপায়ের মধ্যখানে বসলাম, সে সময় তিনি বলিলেন, হে আল্লাহর বান্দা! আল্লাহকে ভয় করো। বিবাহ ব্যাতীত সতিত্ব নষ্ট করো না। এ কথা শুনে আমি তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়ালাম। তুমি যদি মনে কর যে, শুধুমাত্র তোমার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই আমি এ কাজ করেছি তবে আমাদের জন্য একটু ফাঁকা করে দাও। তখন তিনি তাদের জন্য আরেকটু ফাঁকা করে দিলেন।

অন্য লোকটি বলিল, হে আল্লাহ! আমি এক ফারাক [প্রায় সাত কিলোগ্রাম] শস্যের বিনিময়ে একজন মজদুর নিযুক্ত করেছিলাম। সে তার কর্ম শেষ করলো এবং বলিল, আমাকে আমার প্রাপ্য দিয়ে দিন। আমি এক ফারাক [শস্য] তার সামনে পেশ করলাম। কিন্তু সে তা না নিয়ে চলে গেল। আমি সে শস্য জমিনে চাষ করিতে থাকলাম। শেষ অবধি তা দিয়ে গরু-বকরী ও রাখাল সংগ্রহ করলাম। পরে সে আমার নিকট আসলো এবং বলিল, আল্লাহকে ভয় করো। আর আমার পাওনা আদায় করিতে আমার উপর অবিচার করো না। আমি বললাম, তুমি এ [সমস্ত] গরু ও রাখাল নিয়ে যাও। সে বলিল, আল্লাহকে ভয় করো, আমার সাথে উপহাস করো না। আমি বললাম, সত্যিই আমি তোমার সাথে উপহাস করছি না। এ গরু ও রাখাল নিয়ে যাও। অতঃপর সে তা নিয়ে চলে গেল। যদি তুমি জান যে, আমি এ কর্মটি তোমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য করেছি তাহলে অবশিষ্টাংশ ফাঁকা করে দাও। তখন আল্লাহ তাআলা গুহার মুখের বাকী অংশটুকু ফাঁকা করে দিলেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৯৮, ইসলামিক সেন্টার- ৬৭৫২]

৬৮৪৩ : ইসহাক্ ইবনি মানসূর ও আবদ ইবনি হুমায়দ, সুওয়াইদ ইবনি সাঈদ, আবু কুরায়ব ও মুহাম্মাদ ইবনি তারীফ আল বাজালী, যুহায়র ইবনি হার্ব, হাসান আল হুলওয়ানী, আবদ ইবনি হুমায়দ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]- এরা সকলেই ইবনি উমর [রাদি.]-এর সানাদে নবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীতঃ

মূসা ইবনি উক্বাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর সানাদে আবু যামরাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর হাদীসের মর্ম অনুযায়ী হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। তাঁরা তাঁদের হাদীসে বর্ধিত বর্ণনা করেছেন, وَخَرَجُوا يَمْشُونَ “তারা পায়ে হেঁটে বের হয়েছিল”। সালিহ্ (রহঃ)-এর হাদীসে يَتَمَاشَوْنَ “তারা পায়ে হেঁটে চলছিল” বর্ণনা রয়েছে। উবাইদুল্লাহ তার হাদীসে خَرَجُوا “তারা বের হলো” বর্ণনা করেছেন।। এরপর তিনি কোন বিষয় বর্ণনা করেননি।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৯৯, ইসলামিক সেন্টার- ৬৭৫৩]

৬৮৪৪ : ঈমাম যুহরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, সালিম ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] আমাকে অবহিত করিয়াছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] বলেছেনঃ আমি রসূল [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছি, আগেকার উম্মাতের মাঝে তিনজন লোক একদিকে যাত্রা শুরু করেন, অবশেষে সন্ধ্যাবেলায় এক পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নিলেন।… তারপর নাফি বর্ণিত হাদীসের একই অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেন। তবে ইবনি উমর বলেন, তাদের মধ্য থেকে একজন বলেন, আমার দুই বৃদ্ধ মাতা-পিতা ছিল। আমি কক্ষনও তাঁদের পূর্বে পরিজনকে সন্ধ্যায় খাবার খাওয়াতাম না এবং তিনি [ইবনি উমর] বলেন, [চাচাতো বোনটি] আমার প্রস্তাবে রাজী হলো না। পরিশেষে সে অভাব-অনটনে আপতিত হলে আমার কাছে আসল। তখন আমি তাকে একশ বিশটি দিনার দিলাম। আর তিনি বলেন, আমি তার পাওনাটা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করলাম। ফলে অনেক ধন-সম্পদ হয়ে গেল, এরপর ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকল এবং তিনি বলেন, অতঃপর তারা গুহা হইতে বের হয়ে চলতে লাগল।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- নেই, ইসলামিক সেন্টার- ৬৭৫৪]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply