স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার। রিয়াদুস সালেহীন হাদীস

স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার। রিয়াদুস সালেহীন হাদীস

স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার। রিয়াদুস সালেহীন হাদীস  >> রিয়াদুস সালেহীন  হাদিস শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে রিয়াদুস সালেহীন হাদিস শরীফ এর একটি পরিচ্ছেদের হাদিস পড়ুন

পরিচ্ছেদ – ৩৫ : স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿ ٱلرِّجَالُ قَوَّٰمُونَ عَلَى ٱلنِّسَآءِ بِمَا فَضَّلَ ٱللَّهُ بَعۡضَهُمۡ عَلَىٰ بَعۡضٖ وَبِمَآ أَنفَقُواْ مِنۡ أَمۡوَٰلِهِمۡۚ فَٱلصَّٰلِحَٰتُ قَٰنِتَٰتٌ حَٰفِظَٰتٞ لِّلۡغَيۡبِ بِمَا حَفِظَ ٱللَّهُۚ ﴾ [النساء: ٣٤] 

অর্থাৎ “পুরুষ নারীর কর্তা। কারণ, আল্লাহ তাহাদের এককে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করিয়াছেন এবং এ জন্য যে পুরুষ [তাহাদের জন্য] ধন ব্যয় করে। সুতরাং পুণ্যময়ী নারীরা অনুগতা এবং পুরুষের অনুপস্থিতিতে লোক-চক্ষুর অন্তরালে [স্বামীর ধন ও নিজেদের ইজ্জত] রক্ষাকারিণী; আল্লার হিফাযতে [আদেশ ও তওফীকে] তারা তা হিফাযত করে।” [সূরা নিসা ৩৪ আয়াত]

হাদীসসমূহ:

১/২৮৬। এ প্রসঙ্গে বহু হাদীস বিদ্যমান রয়েছে; তার মধ্যে পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদে উল্লিখিত ‘আমর ইবনি আহওয়াস রাঃআঃ-এর [২৮১নং] হাদীসটি অন্যতম।

2/287. وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: «إِذَا دَعَا الرَّجُلُ امرَأتَهُ إِلَى فرَاشِهِ فَلَمْ تَأتِهِ، فَبَاتَ غَضْبَانَ عَلَيْهَا، لَعَنَتْهَا المَلائِكَةُ حَتَّى تُصْبحَ». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ

وَفي رِوَايَةٍ لَهُمَا: «إِذَا بَاتَتِ المَرأةُ هَاجِرَةً فِرَاشَ زَوْجِهَا لَعَنَتْهَا المَلاَئِكَةُ حَتَّى تُصْبحَ».

وَفي رِوَايَةٍ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: «والَّذِي نَفْسِي بيَدِهِ مَا مِنْ رَجُلٍ يَدْعُو امْرَأتَهُ إِلَى فِرَاشهِ فَتَأبَى عَلَيهِ إلاَّ كَانَ الَّذِي في السَّمَاء سَاخطاً عَلَيْهَا حَتَّى يَرْضَى عَنها».

২/২৮৭। আবু হুরায়রা রাঃআঃ বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘যদি কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে নিজ বিছানায় ডাকে এবং সে না আসে, অতঃপর সে [স্বামী] তার প্রতি রাগান্বিত অবস্থায় রাত কাটায়, তাহলে ফিরিশ্তাগণ তাকে সকাল অবধি অভিসম্পাত করিতে থাকেন।’’ [বুখারী, মুসলিম]  [1]

অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, ‘‘যখন স্ত্রী নিজ স্বামীর বিছানা ত্যাগ করে [অন্যত্র] রাত্রিযাপন করে, তখন ফিরিশ্তাবর্গ সকাল পর্যন্ত তাকে অভিশাপ দিতে থাকেন।’’

আর এক বর্ণনায় আছে যে, ‘‘সেই আল্লাহর কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে! কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে নিজ বিছানার দিকে আহ্বান করার পর সে আসতে অস্বীকার করলে যিনি আকাশে আছেন তিনি [আল্লাহ] তার প্রতি অসন্তুষ্ট থাকেন, যে পর্যন্ত না স্বামী তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যায়।’’

3/288. وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه أيضاً : أنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ، قَالَ: «لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأةٍ أنْ تَصُومَ وزَوْجُهَا شَاهدٌ إلاَّ بإذْنِهِ، وَلاَ تَأذَنَ في بَيْتِهِ إلاَّ بِإذنِهِ». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ وهذا لفظ البخاري

৩/২৮৮। উক্ত সাহাবী রাঃআঃ থেকেই বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেন, ‘‘স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ছাড়া কোনো নারীর জন্য নফল রোযা রাখা বৈধ নয় এবং স্বামীর সম্মতি ব্যতিরেকে তার ঘরে কাউকে প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়াও তার জন্য বৈধ নয়।’’ [বুখারী ও মুসলিম, শব্দগুলি বুখারীর] [2]

4/289. وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ الله عنهما، عَن النَّبيّ ﷺ، قَالَ: «كُلُّكُم رَاعٍ، وَكُلُّكُمْ مَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ: وَالأمِيرُ رَاعٍ، والرَّجُلُ رَاعٍ عَلَى أهْلِ بَيتِهِ، وَالمَرْأةُ رَاعِيةٌ عَلَى بَيْتِ زَوْجها وَوَلَدهِ، فَكُلُّكُمْ رَاعٍ، وَكُلُّكُمْ مَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ

৪/২৮৯। ইবনি উমার রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, নবী সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘প্রতিটি মানুষই দায়িত্বশীল, সুতরাং প্রত্যেকেই অবশ্যই তার অধীনস্থদের দায়িত্বশীলতা বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। দেশের শাসক জনগণের দায়িত্বশীল, সে তার দায়িত্বশীলতা ব্যাপারে জবাবদিহী করিবে। একজন পুরুষ তার পরিবারের দায়িত্বশীল, অতএব সে তার দায়িত্বশীলতা বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী তার স্বামী ও সন্তানের দায়িত্বশীল, কাজেই সে তার দায়িত্বশীলতা বিষয়ে জিজ্ঞাসিতা হবে। তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। অতএব প্রত্যেকেই নিজ নিজ অধীনস্থের দায়িত্বশীলতা ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।’’[বুখারী ও মুসলিম][3]

5/290. وَعَنْ أَبِي عَلِيِّ طَلْقِ بنِ عَلِيِّ رضي الله عنه : أنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ، قَالَ: «إِذَا دَعَا الرَّجُلُ زَوْجَتهُ لحَاجَتِهِ فَلْتَأتِهِ وَإنْ كَانَتْ عَلَى التَّنُور». رواه الترمذي والنسائي، وَقالَ الترمذي: «حديث حسن صحيح»

৫/২৯০। আবূ আলী ত্বাল্‌ক ইবনি আলী রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেন, ‘‘যখন কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তার প্রয়োজনে আহ্বান করিবে, তখন সে যেন [তৎক্ষণাৎ] তার নিকট যায়। যদিও সে উনানের কাছে [রুটি ইত্যাদি পাকানোর কাজে ব্যস্ত] থাকে।’’ [তিরমিযী হাসান সূত্রে]  [4]

6/291. وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبيِّ ﷺ، قَالَ: «لَوْ كُنْتُ آمِراً أحَداً أنْ يَسْجُدَ لأحَدٍ لأمَرْتُ المَرأةَ أنْ تَسْجُدَ لزَوجِهَا». رواه الترمذي، وَقالَ: «حديث حسن صحيح»

৬/২৯১। আবু হুরায়রা রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, নবী সাঃআঃ বলেন, ‘‘আমি যদি কাউকে কারো জন্য সিজদাহ করার আদেশ করতাম, তাহলে নারীকে আদেশ করতাম, সে যেন তার স্বামীকে সিজদাহ করে।’’ [তিরমিযী হাসান সূত্রে][5]

7/292. وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ: «أَيُّمَا اِمْرأَةٍ مَاتَتْ وَزُوْجُهَا عَنْهَا رَاضٍ دَخَلَتِ الجَنَّةَ»رواه الترمذي وقال  حديث حسن .

৭/২৯২। উম্মু সালামাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহা হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, স্ত্রীর প্রতি তার স্বামী সন্তুষ্ট ও খুশি থাকা অবস্থায় কোনো স্ত্রীলোক মারা গেলে সে জান্নাতে প্রবেশ করিবে। হাদীসটি ইমাম তিরমিযি বর্ণনা করিয়াছেন এবং বলেছেন এটা হাসান হাদীস।[6]

8/293. وَعَن مُعَاذِ بنِ جَبَلٍ رضي الله عنه، عن النَّبيّ ﷺ، قَالَ: «لاَ تُؤْذِي امْرَأةٌ زَوْجَهَا في الدُّنْيَا إلاَّ قَالَتْ زَوْجَتُهُ مِنَ الحُورِ العِينِ لاَ تُؤذِيهِ قَاتَلكِ اللهُ ‍! فَإِنَّمَا هُوَ عِنْدَكِ دَخِيلٌ يُوشِكُ أنْ يُفَارِقَكِ إِلَيْنَا». رواه الترمذي، وَقالَ: «حديث حسن»

৮/২৯৩। মু‘আয ইবন জাবাল কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাঃআঃ বলেন, ‘‘যখনই কোনো মহিলা দুনিয়াতে নিজ স্বামীকে কষ্ট দেয়, তখনই তার সুনয়না হূর [জান্নাতী] স্ত্রী [অদৃশ্যভাবে] ঐ মহিলার উদ্দেশ্যে বলে, ‘আল্লাহ তোকে ধ্বংস করুন। ওকে কষ্ট দিস্ না। ও তো তোর নিকট সাময়িক মেহমান মাত্র। অচিরেই সে তোকে ছেড়ে আমাদের কাছে এসে যাবে।’’ [তিরমিযী] [7]

9/294. وَعَن أُسَامَةَ بنِ زَيدٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، عَنِ النَّبيِّ ﷺ، قَالَ: «مَا تَرَكْتُ بَعْدِي فِتْنَةً هِيَ أضَرُّ عَلَى الرِّجَالِ مِنَ النِّساء». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ

৯/২৯৪। উসামাহ ইবনি যায়েদ রাঃআঃ কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাঃআঃ বলেন, ‘‘আমি আমার পর পুরুষের জন্য নারীর চেয়ে বেশী ক্ষতিকারক অন্য কোন ফিতনা ছাড়লাম না।’’ [বুখারী ও মুসলিম]  [8]


[1] সহীহুল বুখারী ৩২৩৭, ৫১৯৩, ৫১৯৪, মুসলিম ১৪৩৬, আবূ দাউদ ২১৪১, আহমাদ ৭৪২২, ৮৩৭৩, ৮৭৮৬, ৯৭০২, ৯৮৬৫, ১০৫৬৩

[2] সহীহুল বুখারী ৫১৯৫, ২০৬৬, ৫১৯২, ৫৩৬০, মুসলিম ১০২৬, আবূ দাউদ ১৬৮৭, আহমাদ ২৭৪০৫

[3] সহীহুল বুখারী ৮৯৩, ২৪০৯, ২৫৫৪, ২৫৫৮, ২৭৫১, ৫১৮৮, ৫২০০, ৭১৩৮, মুসলিম ১৮২৯, তিরমিযী ১৭০৫, আবূ দাউদ ২৯২৮, আহমাদ ৪৪৮১, ৫১৪৫, ৫৮৩৫, ৫৮৬৭, ৫৯৯০

[4] তিরমিযী ১১৬০

[5] তিরমিযী ১১৫৯

[6] আমি [আলবানী] বলছিঃ এর সনদে দু’জন মাজহূল বর্ণনাকারী রয়েছেন। তাহাদের সম্পর্কে আমি ‘‘সিলসিলাহ্ য‘ঈফা’’ গ্রন্থের   [১৪২৬] নং হাদীসে আলোচনা করেছি। বর্ণনাকারী মুসাবির আলহিমইয়ারী ও তার মা তারা উভয়ে মাজহূল [অপরিচিত]। ইবনুল জাওযী ‘‘আলওয়াহিয়্যাত’’ গ্রন্থে [২/১৪১] উভয়কেই মাজহূল আখ্যা দিয়েছেন। আর ইবনু হাজার ছেলে মুসাবির মাজহূল হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্টভাবেই উল্লেখ করিয়াছেন। আর তার পূর্বে হাফিয যাহাবী ‘‘আলমীযান’’ গ্রন্থে ছেলে মুসাবির সম্পর্কে বলেনঃ তার ব্যাপারে অজ্ঞতা রয়েছে আর এ হাদীসটি মুনকার। আর তার মা সম্পর্কে বলেছেনঃ তার থেকে ছেলে মুসাবির এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। অতএব মাও মাজহূলাহ্। তা সত্ত্বেও হাফিয যাহাবী তার ‘‘আত্তালখীস’’ গ্রন্থে ভুল করে ভিন্ন কথা বলেছেন, যে গ্রন্থের মধ্যে বহু সন্দেহযুক্ত কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

[7] তিরমিযী ১১৭৪, ইবনু মাজাহ ২০১৪

[8] সহীহুল বুখারী ৫০৯৬, মুসলিম ২৭৪০, ২৭৪১, তিরমিযী ২৭৮০, ইবনু মাজাহ ৩৯৯৮, আহমাদ ২১২৩৯, ২১৩২২

By রিয়াদুস সালেহিন

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply