রুকু সেজদাহ যা বলিতে হইবে

রুকু সেজদাহ যা বলিতে হইবে

রুকু সেজদাহ যা বলিতে হইবে >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৪২. অধ্যায়ঃ রুকু সেজদাহ যা বলিতে হইবে

৯৭০

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ বান্দার সাজদাহরত অবস্থায়ই তার প্রতিপালকের অনুগ্রহ লাভের সর্বোত্তম অবস্থা [বা মুহুর্ত]। অতএব তোমরা অধিক পরিমানে দুআ পড়ো। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯৬৫, ইসলামিক সেন্টার- ৯৭৬]

৯৭১

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সেজদাহ গিয়ে বলিতেনঃ

 اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي كُلَّهُ دِقَّهُ وَجِلَّهُ وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ وَعَلاَنِيَتَهُ وَسِرَّهُ

“আল্লা-হুম্মাগ্ ফিরলি যামবী কুল্লাহু দিক্কাহু ওয়াজিল্লাহু ওয়া আওওয়ালুহু ওয়া আ-খিরাহু ওয়া আলা-নিয়াতাহু ওয়া সিররাহু”

অর্থাৎ “হে আল্লাহ! আমার সকল প্রকার গুনাহ ক্ষমা করে দিন। কম এবং বেশি, প্রথম এবং শেষ, প্রকাশ্য এবং গোপনীয়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯৬৬, ইসলামিক সেন্টার- ৯৭৭]

৯৭২

আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] রুকু-সেজদাহ এ দুআ অধিক পরিমানে পাঠ করিতেনঃ

 سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي

“সুবহা-নাকা আল্ল-হুম্মা রব্বানা- ওয়াবি হামদিকা আল্ল-হুম্মাগ্ ফিরলী।”অর্থাৎ, “হে আল্লাহ! আমার প্রতিপালক। তোমার প্রশংসার সাথে পবিত্রতা ঘোষনা করছি। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও।“ তিনি কুরআনের উপর আমাল করিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯৬৭, ইসলামিক সেন্টার- ৯৭৮] ১০৫

১০৫- পবিত্র কুরআনে সুরাহ আন্ নাসর এর ৩ নং [আরবী] আয়াতের উপত ;আমাল করে উক্ত দুআ তিনি রুকু ও সাজদাতে পড়তেন।

৯৭৩

আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার ইন্তেকালের পুর্বে এই দুআটি খুব বেশি মাত্রায় পাঠ করিতেনঃ

 سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ

“সুবহা-নাকা ওয়াবি হামদিকা আসতাগফিরুকা ওয়াতুবু ইলায়ক”। অর্থাৎ, “মহান পবিত্র আল্লাহ, সকল প্রশংসা প্রাপ্য একমাত্র তার, আমি তোমার নিকট সকল পাপের ক্ষমা চাচ্ছি ও তাওবাহ করছি।” রাবী বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসুল! আপনাকে এ সব নতুন বাক্য পড়তে দেখছি- এগুলো কি? তিনি বললেনঃ আমার উম্মাতের মধ্যে আমার একটি নিদর্শন বা চিহ্ন রাখা হয়েছে। যখন আমি তা দেখি তখন এগুলো বলিতে থাকি। আমি দেখেছিঃ “ইযা-জা-আ-নাসরুল্ল-হি ওয়াল্ ফাত্হ” সুরার শেষ পর্যন্ত। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯৬৮, ইসলামিক সেন্টার- ৯৭৯]

৯৭৪

আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন,

 إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ

“ইযা-জা-আ নাসরুল্ল-হি ওয়াল্ ফাতহ” [সুরাহ আন্ নাসর] নাযিল হওয়ার পর থেকে আমি নবী [সাঃআঃ] -কে এ দুআ পাঠ করা ব্যতিরেকে কোন নামাজ আদায় করিতে দেখিনি। অথবা তিনি সেখানে [সলাতে] বলিতেনঃ

 سُبْحَانَكَ رَبِّي وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي 

“সুবহা-নাকা রব্বী ওয়াবি হামদিকা আল্ল-হুম্মাগ্ ফিরলী”। অর্থাৎ হে আমার প্রতিপালক আপনার জন্যই সকল পবিত্রতা ও প্রশংসা। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯৬৯, ইসলামিক সেন্টার- ৯৮০]

৯৭৫

আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] অধিক সংখ্যায় এ দুআ পড়তেনঃ

 سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

“সুবহা-নাল্লা-হি ওয়াবি হামদিহী আসতাগফিরুল্ল-হা ওয়াতুবু ইলাইহি”। অর্থাৎ, “মহান পবিত্র আল্লাহ। সমস্ত প্রশংসা তার জন্য। আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি, আমি তার কাছে তাওবাহ করছি, অনুতপ্ত হচ্ছি।” রাবী বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসুল! আমি আপনাকে অধিক সংখ্যায় এ কথা বলিতে দেখেছি “সুবহা-নাল্লা-হি ওয়াবি হামদিহী আসতাগফিরুল্ল-হা ওয়াতুবু ইলাইহি”। রাবী বলেন, তিনি বললেনঃ আমার মহান প্রতিপালক আমাকে সুসংবাদ দিয়েছেন যে, আমি অচিরেই আমার উম্মাতের মধ্যে একটি নিদর্শন দেখিতে পাব। যখন আমি সে আলামত দেখিতে পাই তখন অধিক সংখ্যায় এ দুআ পাঠ করিতে থাকিঃ

 سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

“সুবহা-নাল্লা-হি ওয়াবি হামদিহী আসতাগফিরুল্ল-হা ওয়াতুবু ইলাইহি”। সে নিদর্শন সম্ভবত এই

 إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ‏

“ইযা-জা-আ নাসরুল্ল-হি ওয়াল ফাতহ…”। অর্থাৎ “ যখন আল্লাহর সাহায্য আসবে এবং বিজয় লাভ হইবে [অর্থাৎ-মাক্কাহ্ বিজয়] , তুমি দেখিতে পাবে, দলে দলে লোক আল্লাহর দীনে প্রবেশ করছে; তখন তুমি তোমার প্রভুর প্রশংসা সহকারে তাহাঁর তাসবীহ করো এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিঃসন্দেহে তিনি খুবই তাওবাহ্ গ্রহনকারী। [সুরাহ আন্- নাসর] [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯৭০, ইসলামিক সেন্টার- ৯৮১]

৯৭৬

ইবনি জুরায়য [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আতাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি রুকুতে কি পড়েন? তিনি বলেন,

 سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ 

“সুবহা-নাকা ওয়াবি হামদিকা লা-ইলা-হা ইল্লা- আনতা”। অর্থাৎ, “হে আল্লাহ! আমরা তোমার প্রশংসার সাথে তোমার পবিত্রতা বর্ননা করছি। তুমি ব্যতীত কোন মাবূদ নেই।” কেননা ইবনি আবু মুলাইকাহ্ আমাকে আয়িশার সুত্রে অবহিত করিয়াছেন যে, তিনি {আয়িশাহ্ রাদি.] } বলেছেন, একরাতে আমি ঘুম থেকে জেগে নবী [সাঃআঃ] -কে আমার কাছে পেলাম না। আমি ধারনা করলাম, তিনি হয়ত তাহাঁর অপর কোন স্ত্রীর কাছে গেছেন। আমি তাহাঁর খোঁজে বের হলাম, কিন্তু না পেয়ে ফিরে আসলাম। দেখি, তিনি রুকু অথবা [রাবীর সন্দেহ] সেজদাহ আছেন এবং বলছেন

 سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ 

“সুবহা-নাকা ওয়াবি হামদিকা লা-ইলা-হা ইল্লা- আনতা”। আমি বললাম, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক। আমি কি ধারনায় নিমজ্জিত হয়েছি, আর আপনি কি কাজে মগ্ন আছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯৭১, ইসলামিক সেন্টার- ৯৮২]

৯৭৭

আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি এক রাতে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে বিসানায় পেলাম না। আমি তাঁকে খোঁজ করিতে লাগলাম। হঠাৎ আমার হাত তাহাঁর উভয় পায়ের তালুতে গিয়ে ঠেকল। তিনি সেজদাহ ছিলেন এবং তাহাঁর পা দুটো দাঁড় করানো ছিল। এ অবস্তায় তিনি বলেছেনঃ

اللَّهُمَّ أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ لاَ أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ 

“আল্লাহুম্মা আউযু বিরিযা-কা মিন্‌ সাখাতিকা ওয়াবি মুআ-ফা-তিকা মিন্‌ উকুবাতিকা ওয়া আউযুবিকা মিনকা লা-উহ্‌সি সানা-আন্‌ আলাইকা আন্‌তা কামা- আস্‌নাইতা আল- নাফসিকা”।অর্থাৎ “হে আল্লাহ্‌! আমি তোমার অসন্তুষ্টি থেকে সন্তুষ্টির আশ্রয় চাই। তোমার শাস্তি থেকে তোমার শান্তি ও স্বস্তির আশ্রয় চাই। আমি তোমার নিকট তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি। তোমার প্রশংসার হিসাব করা আমার সম্ভব না। তুমি নিজে তোমার যেরূপ প্রশংসা বর্ণনা করেছ, তুমি ঠিক তদ্রূপ” [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯৭২, ই সে. ৯৮৩]

৯৭৮

আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] রুকু ও সেজদাহ এ দুয়া পড়তেনঃ

‏ سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلاَئِكَةِ وَالرُّوحِ

“সুব্বুহুন কুদ্দূসুন্ রাব্বুল্‌ মালা-ইকাতি ওয়ার্‌ রূহ”। অর্থাৎ “ সমস্ত ফেরেশতা ও জিবরীল [আঃ] –এর প্রতিপালক অত্যন্ত পাক-পবিত্র”। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯৭৩, ইসলামিক সেন্টার-৯৮৪]

৯৭৯

আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯৭৮, ইসলামিক সেন্টার- ৯৮৫]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply