সৃষ্টির প্রতি দয়া বিষয়ক উপদেশ মুলক হাদিস

সৃষ্টির প্রতি দয়া বিষয়ক উপদেশ মুলক হাদিস

সৃষ্টির প্রতি দয়া বিষয়ক উপদেশ মুলক হাদিস , এই অধ্যায়ে মোট (২২৩-২৩৪) ১২টি হাদীস >> উপদেশ হাদিস এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায়-১৬ঃ সৃষ্টির প্রতি দয়া

পরিচ্ছেদঃ সৃষ্টির প্রতি দয়া

২২৩. জারীর ইবনি আব্দুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, আল্লাহ তাআলা সে ব্যক্তির উপর অনুগ্রহ করেন না যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করে না

[বুখারী, মুসলিম, মেশকাত হাদিস/৪৯৪৭]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২২৪. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

একদা এক বেদুঈন রাসূল [সাঃআঃ]-এর খিদমতে আসল [সে দেখল ছাহাবায়ে কেরাম নিজেদের শিশু সন্তানদের চুমু দিয়ে আদর করছেন।] তখন সে বলল, তোমরা কি শিশুদেরকে চুম্বন কর? আমরা তো শিশুদের চুম্বন করি না। তখন রাসূল [সাঃ] বলিলেন, যদি আল্লাহ তাআলা তোমার অন্তর হইতে স্নেহ-মমতা বের করে ফেলেন তবে আমি কি তা বাধা দিতে সক্ষম হব?

[বুখারী, মুসলিম, মেশকাত হাদিস/৪৯৪৮]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২২৫. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

একদা এক মহিলা তার দুটি কন্যা সাথে নিয়ে আমার কাছে আসল। মহিলাটি আমার কাছে কিছু ভিক্ষা চাইল। তখন আমার কাছে একটি খেজুর ছাড়া আর কিছু ছিল না। আমি তা তাকে দিয়ে দিলাম। সে তা দুই ভাগ করে তার দুই কন্যাকে দিলো এবং নিজে তা থেকে কিছু খেল না। তারপর সে উঠে চলে গেলো। এমন সময় নবী [সাঃআঃ] বাড়িতে প্রবেশ করিলেন। আমি ঘটনাটি তাহাঁর কাছে পেশ করলাম। তখন তিনি বলিলেন, যে ব্যক্তি কন্যাদের ব্যাপারে সমস্যার সম্মুখীন হয় এবং তাদের সাথে উত্তম আচরণ করে, তাহলে এই কন্যাগণ তার জন্য জাহান্নামের অন্তরাল হইবে

[বুখারী হাদিস/৫৯৯৫; মুসলিম, মেশকাত হাদিস/৪৯৪৯]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২২৬. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, যে ব্যক্তি দুটি কন্যার লালন-পালন করিবে তাদের পূর্ণ বয়স্কা হওয়া পর্যন্ত, ক্বিয়ামতের দিন সে আমার সাথে এভাবে আসবে। এ বলে তিনি নিজের আঙ্গুলসমূহ একত্রিত করে দেখালেন

[মুসলিম, মেশকাত হাদিস/৪৯৫০]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২২৭. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, বিধবা ও মিসকীনদের সহযোগী আল্লাহর পথে জিহাদকারীর ন্যায় এবং তাহাজ্জুদগুযার ব্যক্তির ন্যায়, যে অলস হয় না এবং এমন ছিয়াম পালনকারীর ন্যায়, যে ইফতার করে না

[বুখারী, মুসলিম, মেশকাত হাদিস/৪৯৫১]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২২৮. সাহল ইবনি সাদ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, আমি ও ইয়াতীম পালনকারী জান্নাতে এভাবে থাকব। তিনি তরজনী ও মধ্যমা আঙ্গুলের মধ্যে সামান্য ফাঁকা রেখে ইশারা করে দেখালেন

[বুখারী, মেশকাত হাদিস/৪৯৫২ শিষ্টাচার অধ্যায়]।এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২২৯. নুমান ইবনি বাশীর [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, তুমি ঈমানদারদেরকে তাদের পারস্পরিক সহানুভূতি, বন্ধুত্ব ও দয়া-অনুগ্রহের ক্ষেত্রে একটি দেহের মত দেখবে। যখন দেহের কোন অঙ্গ অসুস্থ হয় তখন সমস্ত শরীর তার জন্য বিনিদ্র ও জ্বরে আক্রান্ত হয় [বুখারী, মুসলিম, মেশকাত হাদিস/৪৯৫৩]।

এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২৩০. নুমান ইবনি বাশীর [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, সকল মুমিন এক ব্যক্তির মত, যদি তার চক্ষু অসুস্থ হয় তখন তার সর্বাঙ্গ অসুস্থ হয়ে পড়ে। আর যদি তার মাথায় ব্যথা হয় তখন তার সমস্ত শরীরই ব্যথিত হয়

[মুসলিম, মেশকাত হাদিস/৪৯৫৪]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২৩১. আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, একজন মুমিন অপর মুমিনের জন্য এক গৃহের মত, যার একাংশ অপরাংশকে সুদৃঢ় রাখে। অতঃপর তিনি এক হাতের অঙ্গুলীগুলি অপর হাতের অঙ্গুলীর মধ্যে প্রবিষ্ট করিলেন

[বুখারী, মুসলিম, মেশকাত হাদিস/৪৯৫৫]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২৩২. আবু মূসা আশআরী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ]-এর কাছে যখন কোন ভিক্ষুক বা অভাবী আসত তখন তিনি ছাহাবীদেরকে বলিতেন, তোমরা সুপারিশ কর, এতে তোমাদেরকে নেকী দেওয়া হইবে। আল্লাহ তাআলা তাহাঁর রাসূলের মুখ দিয়ে যে ফায়ছালা চান তা জারি করবেন

[বুখারী, মুসলিম, মেশকাত হাদিস/৪৯৫৬]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২৩৩. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, তুমি তোমার [মুসলমান] ভাইকে সাহায্য কর, চাই সে অত্যাচারী হোক বা অত্যাচারিত হোক। তখন এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ]! অত্যাচারিতকে তো সাহায্য করব, কিন্তু অত্যাচারীকে কিভাবে সাহয্য করব? তিনি বলিলেন, তাকে যুলুম করা হইতে বিরত রাখ। এটাই হল তার প্রতি তোমার সাহায্য

[বুখারী, মুসলিম, মেশকাত হাদিস/৪৯৫৭]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২৩৪. আব্দুল্লাহ ইবনি ওমর [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, এক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই, সে তার উপর যুলুম করিবে না এবং তাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিবেন না। যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজনে সাহায্য করিবে, আল্লাহ তার প্রয়োজনে সাহায্য করবেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের দুঃখ-কষ্ট দূর করিবে, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তার বিপদ দূর করবেন। আর যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের দোষ- ত্রুটি ঢেকে রাখবে, আল্লাহ তার দোষ-ত্রুটি ঢেকে রাখবেন

[বুখারী, মুসলিম, মেশকাত হাদিস/৪৯৫৮]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

Leave a Reply