সূর্যগ্রহণের নামাজের জন্য আহবান করা এবং “আস্‌সলা-তু জা-মিআহ্‌”

সূর্যগ্রহণের নামাজের জন্য আহবান করা এবং “আস্‌সলা-তু জা-মিআহ্‌”

সূর্যগ্রহণের নামাজের জন্য আহবান করা এবং “আস্‌সলা-তু জা-মিআহ্‌” >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৬. অধ্যায়ঃ সূর্যগ্রহণের নামাজের জন্য আহবান করা এবং “আস্‌সলা-তু জা-মিআহ্‌” [নামাজের জামাআত] বলা প্রসঙ্গে

১৯৯৮

আবদুল্লাহ ইবনি আম্‌র ইবনিল আস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সময় যখন সূর্যগ্রহণ লাগল, তখন ঘোষণা করা হলো,

الصَّلاَةَ جَامِعَةً

আস্‌সলা-তু জা-মিআহ্‌” [নামাজের জামাআত]

অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] দু রুকূ ও এক সাজদাহ্‌ সহকারে এক রাকআত আদায় করিলেন। অতঃপর সূর্য স্পষ্ট হয়ে গেল। আয়িশা [রাদি.] বলেন, আমি কখনও এর চেয়ে লম্বা রুকূ ও লম্বা সাজদাহ্‌ আদায় করিনি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৯৮২, ইসলামিক সেন্টার- ১৯৮৯]

১৯৯৯

আবু মাসঊদ আল আনসারী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর দুটি নিদর্শন। এগুলো দ্বারা আল্লাহ তাহাঁর বান্দাদের ভীতি প্রদর্শন করেন। আর এ দুটি কোন মানুষের মৃত্যুর জন্য গ্রাসপ্রাপ্ত হয় না। অতএব, তোমরা যখন এরূপ কিছু দেখিতে পাও, তখন তোমরা নামাজ আদায় কর এবং দুআ করিতে থাক যে পর্যন্ত আল্লাহ তোমাদের এ অবস্থা দূর না করেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৯৮৩, ইসলামিক সেন্টার- ১৯৯০]

২০০০

আবু মাসঊদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ অবশ্যই কোন মানুষের মৃত্যুর কারণে সংঘটিত হয় না। বরং এগুলো আল্লাহর দুটি নিদর্শন। অতএব তোমরা যখন তা [গ্রাস] দেখ তখন উঠে গিয়ে নামাজ আদায় কর। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৯৮৪, ইসলামিক সেন্টার- ১৯৯১]

২০০১

আবু বাকর ইবনি আবু শায়বাহ্, ইসহাক্ব ইবনি ইব্রাহীম, ইবনি আবু উমর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ….. সকলেই ইসমাঈল [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তবে সুফ্ইয়ান ও ওয়াকী-এর হাদীসে এভাবে বর্ণিত হয়েছে: যেদিন ইব্রাহীম [ইবনি মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]] ইনতিকাল করেন, সেদিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। তখন লোকেরা বলিতে লাগল, ইব্রাহীম-এর মৃত্যুর কারণে সূর্যগ্রহণ লেগেছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৯৮৫, ইসলামিক সেন্টার- ১৯৯২]

২০০২

আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] এর যামানায় একবার সূর্যগ্রহণ লাগল। তিনি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে দাঁড়ালেন। [রাবীর ধারণা] তিনি ক্বিয়ামাত হওয়ার আশঙ্কা করছিলেন। অবশেষে তিনি মাসজিদে এসে সলাতে দাঁড়ালেন এবং সবচেয়ে লম্বা ক্বিয়াম, লম্বা রুকূ, লম্বা সাজদাহ্‌ সহকারে নামাজ আদায় করিতে লাগলেন। আমি কখনও কোন নামাজ তাঁকে [সাঃআঃ-কে] এত লম্বা করিতে দেখিনি। নামাজ শেষ করে তিনি [সাঃআঃ] বলিলেন, এসব নিদর্শনাবলী যা যা আল্লাহ জগতে পাঠান। কোন ব্যক্তির মৃত্যু বা জীবনের কারণেই অবশ্যই তা হয় না। বরং আল্লাহ এগুলো পাঠিয়ে বান্দাদের সতর্ক করেন। অতএব তোমরা যখন এমন কিছু দেখিতে পাও, তখন তোমরা ভীত হয়ে আল্লাহর যিক্‌র, দুআ ও ইস্‌তিগফারে মশগুল হও।

ইবনি আলা এর বর্ণনায় রয়েছেঃ সূর্যগ্রহণের সময় এবং তিনি বলেন, বান্দাদের সতর্ক করার জন্য। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৯৮৬, ইসলামিক সেন্টার- ১৯৯৩]

২০০৩

আবদুর রহমান ইবনি সামুরাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর জীবদ্দশায় আমি তীর নিক্ষেপ করেছিলাম। এমন সময় সূর্যগ্রহণ লাগল। তখন আমি এগুলো ফেলে রেখে মনে মনে ভাবলাম, আজ সূর্যগ্রহণে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে নতুন কিছু প্রকাশ পায় কিনা তা অবশ্যই দেখব। আমি তাহাঁর কাছে পৌঁছে গেলাম। এ সময়ে তিনি দু হাত উঠিয়ে দুআ করছিলেন এবং তাকবীর

[আল্ল-হু আকবার],

তাহমীদ [আল হাম্‌দুলিল্লা-হ]

ও তাহলীলে [লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ]

মশগুল ছিলেন। অবশেষে সূর্য পরিষ্কার হয়ে গেল। এরপর তিনি দুটি সুরা পাঠ করিলেন এবং দু রাকআত নামাজ আদায় করিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৯৮৭, ইসলামিক সেন্টার- ১৯৯৪]

২০০৪

আবদুর রহমান ইবনি সামুরাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

যিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সহাবীর অন্তর্ভূক্ত ছিলেন। তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সময়ে আমি একবার মাদীনায় তীর নিক্ষেপ করেছিলাম। এমন সময় সূর্যগ্রহণ আরম্ভ হলো। তখন আমি এগুলো ফেলে রেখে মনে মনে বললাম, আল্লাহর কসম! সূর্যগ্রহণকালে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে যা কিছু প্রকাশ পায়, তা অবশ্যই দেখব। আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে দেখি তিনি সলাতে দন্ডায়মান এবং দু হাত উঠিয়ে তাসবীহ [সুবহা-নাল্ল-হ], তাহমীদ [আল্‌ হাম্‌দুলিল্ল-হ], তাহলীল [লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ], তাকবীর [আল্ল-হু আকবার] ও দুআ করছেন, অবশেষে সূর্য গ্রাসমুক্ত হলো এবং তিনি দুটি সুরা পাঠ করিলেন এবং দু রাকআত নামাজ আদায় করিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৯৮৮, ইসলামিক সেন্টার- ১৯৯৫]

২০০৫

আবদুর রহমান ইবনি সামুরাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সময় একবার আমি আমার তীর ছুঁড়ছিলাম, এমন সময় সূর্যগ্রহণ লাগল। অতঃপর পূর্বোক্ত বর্ণনাকারীর মতো বর্ণনা করেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৯৮৯, ইসলামিক সেন্টার- ১৯৯৬]

২০০৬

আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ কারো জীবন ও মৃত্যুর কারণে লাগে না। বরং এ দুটি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। অতএব তোমরা যখন এ দুটি [গ্রহণ লাগতে] দেখ, তখন সলাতে মশগুল হও। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৯৯০, ইসলামিক সেন্টার- ১৯৯৭]

২০০৭

যিয়াদ ইবনি ইলাক্বাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি মুগীরাহ্‌ ইবনি শুবাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-কে বলিতে শুনেছি, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর যামানায় অর্থাৎ যেদিন ইব্‌রাহীম ইবনি মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] ইনতিকাল করেন, সূর্যগ্রহণ লেগেছিল। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর দুটি নিদর্শন। এগুলো কারো জীবন ও মরণের কারণে গ্রাসপ্রাপ্ত হয় না। অতএব যখন তোমরা তা দেখিতে পাও। আল্লাহর কাছে দুআ কর ও নামাজ আদায় করিতে থাক যে পর্যন্ত গ্রাসমুক্ত না হয়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৯৯১, ইসলামিক সেন্টার- ১৯৯৮]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply