সূরা মুমতাহিনার তাফসীর । তাফসিরূল কুরান

সূরা মুমতাহিনার তাফসীর । তাফসিরূল কুরান

সূরা মুমতাহিনার তাফসীর । তাফসিরূল কুরান >> তিরমিজি শরিফের তাফসিরুল কোরআন অধ্যায়ের অন্যান্য সুরার তাফসীর পড়ুন >> সুরা মুমতাহিনা আরবি তে পড়ুন বাংলা অনুবাদ সহ

অধ্যায়ঃ ৪৪, অনুচ্ছেদ-৬১ঃ সূরা মুমতাহিনার তাফসীর

৩৩০৫. উবাইদুল্লাহ ইবনি আবু রাফি [রঃ]হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আবু ত্বালিব-এর পুত্র আলী [রাদি.]-কে বলিতে শুনিয়াছি, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে অর্থাৎ আমাকে, যুবাইরকে ও মিক্বদাদ ইবনিল আসওয়াদকে [চিঠি উদ্ধারের জন্য] পাঠিয়ে বললেনঃ তোমরা রাওনা হয়ে রাওযা খাখ” নামক জায়গায় পৌঁছে যাও, সেখানে [মাক্কার লক্ষ্যে] গমনরত এক নারীকে পাওয়া যাবে। তার নিকট একটি পত্র আছে। তোমরা তার নিকট হইতে সেই পত্র উদ্ধার করে তা  আমার নিকট নিয়ে আসবে। অতঃপর আমরা রাওনা হয়ে গেলাম। আমাদেরকে নিয়ে আমাদের ঘোড়া অতীব দ্রুত গতিতে এগিয়ে গেল এবং আমরা সেই রাওযা খাখ নামক জায়গায় গিয়ে পৌঁছলাম। আমরা সেই নারীকে সেখানে পেয়ে গেলাম। আমরা তাকে বললাম, পত্রটি বের করে দাও। সে বলল, আমার সঙ্গে কোন পত্র নেই। আমরা বললাম, অবশ্যই তুমি পত্রটি বের করে দাও, তা না হলে তোমার পরিধেয় পোশাক ত্যাগ কর। আলী [রাদি.] বলেন, সে তার চুলের খোঁপা হইতে অবশেষে পত্রটি বের করে দিল এবং তা নিয়ে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট আমরা হাযির হলাম। দেখা গেল যে, এটি মক্কার কিছু সংখ্যক মুশরিকের লক্ষ্যে লিখিত হাতিব ইবনি আবী বালতাআর পত্র। তিনি এই পত্রের মাধ্যমে তাহাদেরকে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কিছু পদক্ষেপ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন। নাবী [সাঃআঃ] বললেনঃ হে হাতিব! এ কি? হাতিব [রাদি.] বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার সম্পর্কে তাড়াতাড়ি করে কোন পদক্ষেপ নিবেন না। আমি কুরাইশদের সঙ্গে বসবাস করতাম, কিন্তু আমি তাহাদের সম্প্রদায়ের লোক নই। যে সকল মুহাজির আপনার সঙ্গে রয়েছেন মক্কায় তাহাদের আত্বীয়-স্বজন রয়েছে, যাদের সহযোগীতায় তারা তাহাদের মক্কাস্থ পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ করিতে পারে। আমি চিন্তা করলাম, মক্কায় আমার কোন আত্বীয়-স্বজন নেই। যদি আমি তাহাদের প্রতি কোন রকম উপকার করিতে পারি তবে তার বিনিময়ে তারা আমার আত্বীয়-স্বজনকে সাহায্য-সহযোগীতা করিবে। আমি কাফির হয়ে কিংবা আমার ধর্ম ছেড়ে দিয়ে বা কুফরীর প্রতি খুশী হয়ে এ কাজ করিনি। নাবী [সাঃআঃ] বললেনঃ সে সত্য কথা বলেছে। উমার ইবনিল খাত্তাব [রাদি.] বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এ মুনাফিক্বের ঘাড় উড়িয়ে দেই। নাবী [সাঃআঃ] বললেনঃ সে বদ্‌রের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। তুমি কি জান! নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বদ্রের মুজাহিদদের প্রতি উঁকি মেরেছেন এবং বলেছেনঃ “তোমরা যা চাও কর, আমি তোমাদেরকে মাফ করে দিয়েছি”। আলী [রাদি.] বলেন, উক্ত বিষয়েই এই সূরা অবতীর্ণ হয়েছেঃ “হে মুমিনগণ! তোমরা আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধুর মতো করে গ্রহণ করো না। তোমরা তাহাদের নিকট বন্ধুত্বের বার্তা পাঠাও; অথচ তারা তোমাদের নিকট যে সত্য এসেছে তা স্বীকার করেনি……”। আম্‌র [রঃ]বলেন, আমি উবাইদুল্লাহ ইবনি আবী রাফীকে দেখেছি। তিনি আলী [রাদি.]-এর সচিব ছিলেন।

সহীহঃ সহীহ আবু দাঊদ [হাঃ ২৩৮১], বোখারি ও মুসলিম। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ অনুচ্ছেদে উমার ও জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। সুফ্‌ইয়ান ইবনি উয়াইনাহ্‌ হইতেও একাধিক বর্ণনাকারী একই অর্থে হাদীসটি রিওয়ায়াত করিয়াছেন। তাতে এ কথা রয়েছেঃ “তোমাকে পত্র বের করে দিতে হইবে, তা না হলে তোমার বস্ত্র ত্যাগ করিতে হইবে”। এ হাদীসটি আবদুর রাহ্‌মান আস-সুলামীর সূত্রে আলী [রাদি.] হইতে একই রকম বর্ণিত হয়েছে। কেউ কেউ এ কথাগুলো উল্লেখ করেছেনঃ “তোমাকে অবশ্যই পত্রটি বের করে দিতে হইবে, নতুবা তোমাকে আমরা উলঙ্গ করব। সূরা মুমতাহিনার তাফসীর – এই হাদিসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩০৬. আয়িশাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আয়াতটির জন্য লোকদের পরীক্ষা করিতেন [অনুবাদ]ঃ “হে নাবী! মুমিন মহিলারা তোমার নিকট এসে এই মর্মে যদি বাইআত করে যে, তারা আল্লাহ তাআলার সঙ্গে কোন শরীক স্থির করিবে না, চুরি করিবে না, যিনা করিবে না…..”-[সূরা মুমতাহিনাহ্‌ ১২]। মামার [রঃ]বলেন, ইবনি তাঊস তার বাবার সূত্রে আমার কাছে রিওয়ায়াত করিয়াছেন যে, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর হাত নিজস্ব মালিকানাধীন স্ত্রীলোক ব্যতীত অপর কারো হাত স্পর্শ করেনি।

সহীহঃ বোখারি [হাঃ ৪৮৯১], মুসলিম [হাঃ ৬/২৯]। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। সূরা মুমতাহিনার তাফসীর – এই হাদিসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩০৭. উম্মু সালামাহ্ আল-আনসারিয়্যাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

মহিলাদের মধ্য থেকে একজন প্রশ্ন করিল, মারূফ বলিতে কি বুঝায়, যাতে আপনার নাফরমানী করা আমাদের জন্য বৈধ নয়? রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ তোমরা বিলাপ করো না। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! অমুক সম্প্রদায়ের নারীরা আমার চাচার বিলাপে আমাকে সাহায্য করেছে। কাজেই তাহাদের প্রতিদান দেয়া আমারও কর্তব্য। আমার কথায় রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] একমত হলেন না। অতঃপর আমি পর্যায়ক্রমে তার নিকট অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে তাহাদের প্রতিদান দেয়ার অনুমতি দিলেন। আমি তাহাদের বিলাপের প্রতিদান দেয়ার পর ক্বিয়ামাত পর্যন্ত আর কোন দিন বিলাপ করব না। কিন্তু আমি ব্যতীত অপর সব মহিলাই পরবর্তীতে বিলাপ করেছে।

হাসানঃ তালীক আলা ইবনি মাজাহ। আবু ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় উম্মু আতিয়াহ্‌ [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আব্‌দ ইবনি হুমাইদ [রঃ]বলেন, উম্মু সালামাহ্‌ আল-আনসারিয়্যাহ্‌ [রাদি.]-এর নাম আসমা বিনতু ইয়াযীদ ইবনিস সাকান। সূরা মুমতাহিনার তাফসীর –  এই হাদিসটির তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৩৩০৮. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

“তোমাদের নিকট মুমিন নারীরা হিযরাত করে এলে তোমরা তাহাদের পরীক্ষা কর” [ সূরাঃ আল-মুমতাহানাহ-১০] শীর্ষক আল্লাহর বাণী প্রসঙ্গে তিনি বলেনঃ কোন স্ত্রীলোক ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশ্যে রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট হাযির হলে তিনি তাকে আল্লাহ্‌ তাআলার নামে শপথ করাতেনঃ আমি আমার স্বামীর প্রতি বিরাগভাজন হয়ে চলে আসিনি, আমি শুধু আল্লাহ তাআলা ও তাহাঁর রাসূলের প্রতি ভালোবাসায় জাগ্রত হয়েই চলে এসেছি।

জঈফ, বিচ্ছিন্ন , ইতহাফুল খাইরাহ আল মাহরাহ্ [৮/১৭৪] আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। সূরা মুমতাহিনার তাফসীর – এই হাদিসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

By ইমাম তিরমিজি

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply