সুর্যগ্রহণের সলাতে নবী [সাঃআঃ]-এর নিকট জান্নাত ও জাহান্নামের যা কিছু উত্থাপন করা হয়েছে

সুর্যগ্রহণের সলাতে নবী [সাঃআঃ]-এর নিকট জান্নাত ও জাহান্নামের যা কিছু উত্থাপন করা হয়েছে

সুর্যগ্রহণের সলাতে নবী [সাঃআঃ]-এর নিকট জান্নাত ও জাহান্নামের যা কিছু উত্থাপন করা হয়েছে >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৪. অধ্যায়ঃ সুর্যগ্রহণের সলাতে নবী [সাঃআঃ]-এর নিকট জান্নাত ও জাহান্নামের যা কিছু উত্থাপন করা হয়েছে

১৯৮৫

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর যামানায় ভীষণ গরমের দিনে একবার সূর্যগ্রহণ লাগল। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সাহাবীগণকে নিয়ে নামাজ আদায় করিলেন। সলাতে ক্বিয়াম এত দীর্ঘায়িত করিলেন যে, লোকরা পড়ে যেতে লাগল। অতঃপর রুকূ করিলেন এবং তাও খুব লম্বা করিলেন। তারপর মাথা উঠালেন এবং অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন। আবার রুকূতে গেলেন এবং লম্বা রুকূ করিলেন। তারপর মাথা উঠালেন এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর দুটি সাজদাহ্‌ করিলেন। এরপর দাঁড়িয়ে পূর্বের ন্যায় ক্বিয়াম এ রুকূ করিলেন। এতে চারটি রুকূ ও চারটি সাজদাহ্‌ ছিল। অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তোমরা সেসব স্থানে প্রবেশ করিবে যে সব স্থান আমাকে দেখানো হয়েছে। আমার সামনে জান্নাত পেশ করা হয়েছিল। আমি সেখান থেকে একটি আঙ্গুর ধরতে চেয়েছিলাম। অথবা তিনি বলেছেন, একটি শাখা ধরতে চাইলে আমার হাত সে পর্যন্ত পৌঁছতে পারেনি এবং আমার সম্মুখে জাহান্নামও পেশ করা হয়েছিল। সেখানে বানী ইসরাঈলের একটি মহিলাকে দেখিতে পেলাম। তাকে একটা বিড়ালের কারণে শাস্তি দেয়া হয়েছে। সে বিড়ালটিকে বেঁধে রেখেছিল, খানাপানি কিছু দেয়নি। আর ছেড়েও দেয়নি যে তা জমিনের পোকামাড় খেয়ে জীবন ধারণ করত [এভাবে অনাহারে বিড়ালটি মারা গেল]। এছাড়াও জাহান্নামে আবু সুমামাহ্‌ আম্‌র ইবনি মালিককেও দেখলাম, সে তার নাড়িভুঁড়ি টানাটানি করছে। আরবরা বলত যে, চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ কোন মহান ব্যক্তির মৃত্যুর কারণেই সংঘটিত হয়ে থাকে। অথচ এ দুটি আল্লাহ্‌র দুটি নিদর্শন যা আল্লাহ তোমাদেরকে দেখান। অতএব যখন চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ লাগে, তোমরা নামাজ আদায় কর যে পর্যন্ত তা পরিষ্কার না হয়ে যায়।[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৯৬৯, ইসলামিক সেন্টার- ১৯৭৬]

১৯৮৬

হিশাম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে একই সানাদ হইতে বর্ণীতঃ

অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কেবল ব্যতিক্রম এই যে, তিনি বলেন, আমি জাহান্নামের মধ্যে হিম্‌ইয়ারিয়্যাহ্‌ গোত্রের একটি দীর্ঘকায় কালো মেয়েলোককে দেখিতে পেলাম। এতে তিনি বানী ইসরাঈলের কথা উল্লেখ করেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৯৭০, ইসলামিক সেন্টার- ১৯৭৭]

১৯৮৭

জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর যামানায় অর্থাৎ যেদিন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর প্রিয় পুত্র ইব্‌রাহীম মৃত্যুবরণ করেন, সূর্যগ্রহণ লেগেছিল। এতে লোকেরা বলিতে লাগল ইব্‌রাহীমের মৃত্যুর কারণে সূর্যগ্রহণ লেগেছে। নবী [সাঃআঃ] উঠে গিয়ে উপস্থিত লোকদের নিয়ে ছয় রুকূ ও চার সাজদায় নামাজ আদায় করিলেন। সূচনাতে তাকবীর উচ্চারণ করিলেন পরে ক্বিরাআত পাঠ করিলেন এবং ক্বিরাআত বেশ লম্বা করিলেন। অতঃপর রুকূ করিলেন। রুকূতে ক্বিয়ামের সমপরিমাণ সময় অবস্থান করিলেন। অতঃপর রুকূ থেকে মাথা উঠালেন এবং ক্বিয়ামে প্রথম ক্বিরাআত অপেক্ষা কিছু ছোট ক্বিরাআত পাঠ করিলেন। অতঃপর ক্বিয়ামের সমপরিমাণ সময় রুকূতে কাটালেন। তারপর রুকূ থেকে মাথা উঠিয়ে ক্বিরাআত পাঠ করিলেন যা পূর্বের ক্বিরাআত অপেক্ষা ছোট ছিল। অতঃপর রুকূতে গিয়ে ক্বিয়ামের পরিমাণ সময় অতিবাহিত করিলেন। এরপর রুকূ থেকে মাথা উঠিয়ে সাজদায় গেলেন এবং দুটি সাজদাহ করিলেন। তারপর দাঁড়িয়ে আরো তিনটি রুকূ করিলেন যাতে কোন রাকআত ছিল না। শেষের তিন রুকূ এরূপ ছিল যে, প্রত্যেক রুকূ পূর্ববর্তী রুকূ অপেক্ষা ছোট এবং পরবর্তী রুকূ অপেক্ষা দীর্ঘ ছিল। আর প্রতিটি রুকূর সময় সাজদার সমপরিমাণ ছিল। অতঃপর তিনি একটু পিছনে সরে আসলেন আর তাহাঁর পিছনের সারিগুলোও পিছনে সরে গিয়ে আমরা পৌছে গেলাম। আবু বাক্‌র বলেনঃ মহিলাদের কাতার পর্যন্ত পৌছে গেলেন। অতঃপর তিনি সামনে এগিয়ে গেলেন এবং তাহাঁর সাথে সব লোক সামনে এগিয়ে গেল। অবশেষে তিনি [সাঃআঃ] তাহাঁর নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়িয়ে নামাজ শেষ করিলেন। এদিকে সূর্য তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে এল। নামাজ শেষে তিনি [সাঃআঃ] উপস্থিত লোকদেরকে সম্বোধন করে বলিলেন, হে লোক সকল। চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। আর এ দুটি কোন মানুষের মৃত্যুর কারণে গ্রাসপ্রাপ্ত হয় না। আবু বাক্‌র-এর বর্ণনায় [রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন], “কোন মানুষের মৃত্যুর কারণে” [এ দুটি গ্রহণ হয় না]। অতএব, তোমরা যখন এরূপ কিছু ঘটতে দেখ তখন নামাজ আদায় কর যে পর্যন্ত সূর্য স্পষ্ট হয়ে না যায়। তোমাদের কাছে যে সব বিষয় সম্পর্কে ওয়াদা করা হয়েছে তার প্রতিটি আমি আমার নামাজের মধ্যে দেখিতে পেয়েছি। আমার কাছে জাহান্নাম তুলে ধরা হয়েছে। আর এটা তখন যখন তোমরা আমাকে দেখেছ যে, আমি পিছনে সরে এসেছি এর লেলিহান শিখা আমাকে স্পর্শ করার ভয়ে। অবশেষে আমি জাহান্নামের মধ্যে লৌহশলাকাধারীকে [আমর ইবনি মালিক] দেখলাম, সে জাহান্নামের মধ্যে নিজের নাড়ীভূঁড়ি টানছে। এ ব্যক্তি নিজ লাঠি দ্বারা হাজ্জ যাত্রীদের মালপত্র চুরি করত। এরপর যদি ধরা পড়ে যেত তখন বলত আহ ! আমার শলাকার সাথে লেগে গেছে। আর কেউ অসাবধান থাকলে তা নিয়ে যেত। এছাড়া জাহান্নামের মধ্যে ঐ মহিলাকেও দেখিতে পেলাম যে, একটি বিড়ালকে বেঁধে রেখেছিল। এরপর এটাকে আহারও দেয়নি, ছেড়েও দেয়নি, যাতে জমিনের পোকামাকড় খেয়ে জীবন ধারণ করিতে পারত। শেষ পর্যন্ত বিড়ালটি ক্ষুধায় ছটফট করে মারা গেল। অতঃপর আমার সামনে জান্নাত তুলে ধরা হয়েছে। আর এটা তখন দৃষ্ট হয়েছে, যখন তোমরা আমাকে দেখিতে পেয়েছ যে, আমি সামনে এগিয়ে গেছি এবং নিজস্থানে দাঁড়িয়েছি। আমি আমার হাত প্রসারিত করলাম এবং এর ফল তুলে নেবার ইচ্ছা করলাম যাতে তোমরা তা দেখিতে পাও। অতঃপর এরূপ না করাই স্থিরকৃত হলো। যেসব বিষয় তোমাদের জানানো হয়েছিল তার প্রতিটি বিষয় আমি আমার এ সলাতে থাকাকালীন দেখিতে পেয়েছি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৯৭১, ইসলামিক সেন্টার- ১৯৭৮]

১৯৮৮

আসমা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর যামানায় একবার সূর্যগ্রহণ লাগে। তখন আমি আয়েশাহ [রাদি.]-এর নিকট গিয়ে দেখি তিনি নামাজ আদায় করছেন। আমি বললাম কি ব্যাপার! লোকেরা নামাজ আদায় করছে? আয়েশাহ [রাদি.] মাথা নেড়ে আসমানের দিকে ইশারা করিলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, একি বিশেষ কোন ঘটনা? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। এদিকে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এত লম্বা ক্বিয়াম করিলেন যে, আমার মাথার চক্কর এসে গেল। তখন আমি আমার পাশে রাখা পানির মশক নিয়ে আমার মাথায় অথবা চেহারায় পানি ঢালতে আরম্ভ করলাম। আস্‌মা বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নামাজ শেষ করার সাথে সাথে সূর্য উজ্জ্বল হয়ে গেল। এরপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] লোকদের উদ্দেশ্যে খুত্‌বাহ্‌ দিলেন। আল্লাহর হাম্‌দ ও নাত আদায় করার পর তিনি বলিলেন, আম্মাবাদ, যে সব বস্তু আমি ইতিপূর্বে দেখিনি তা আমি আমার এ স্থানে দাঁড়িয়ে দেখিতে পেলাম। এমনকি জান্নাত ও জাহান্নাম দেখলাম। আর এ মুহূর্তে আমার নিকট অবতীর্ণ করা হয়েছে যে, অচিরেই তোমরা ক্ববরে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হইবে। অথবা বলেছেন, মাসীহ দাজ্জালের ফিৎনার ন্যায় ফিৎনায় পতিত হইবে। [রাবী বলেন,] আমার জানা নেই আস্‌মা এর কোন্‌টা বলেছে। এরপর তোমাদের প্রত্যেককে হাজির করে জিজ্ঞেস করা হইবে “এ ব্যক্তি সম্পর্কে তোমরা কি জানা আছে?” এ সময় ঈমানদার ব্যক্তি অথবা বলেছে মুমিন দৃঢ় বিশ্বাসী ব্যক্তি [আমার জানা নেই আস্‌মা এর কোনটা বলেছেন] বলবে, ইনি মুহাম্মাদ [সাঃআঃ], ইনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]। তিনি [সাঃআঃ] সুপষ্ট প্রমাণাদি ও হিদায়াতের বিষয়বস্তু নিয়ে এসেছেন। তাই আমরা তাহাঁর আহবানে সাড়া দিয়েছি এবং তাহাঁর অনুসরণ করেছি। তিনবার সে এ কথা উচ্চারণ করিবে। তখন তাকে বলা হইবে। ঘুমাও, আমরা জানতাম তুমি তাহাঁর প্রতি ঈমান বজায় রেখেছো। ভালরূপে ঘুমাও। কিন্তু মুনাফিক্ব অথবা মুরতাদ [সংশয়বাদী আমার জানা নেই আস্‌মা এর কোনটা বলেছেন] বলবে, আমি তো কিছু জানি না। লোকদের কিছু বলাবলি করিতে শুনেছি আমিও তা-ই বলেছি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৯৭২, ইসলামিক সেন্টার- ১৯৭৯]

১৯৮৯

আসমা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আয়েশাহ [রাদি.] এর নিকট এসে দেখলাম, লোকেরা সলাতে দাঁড়ানো এবং আয়িশা [রাদি.]-ও নামাজ আদায় করছেন। আমি বললাম, লোকদের কি অবস্থা? হাদীসটি হিশাম-এর সূত্রে বর্ণিত। ইবনি নুমায়র–এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৯৭৩, ইসলামিক সেন্টার- ১৯৮০]

১৯৯০

উরওয়াহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, [আরবী] বলবে না, বরং [আরবী] বলো। অর্থ একই সূর্যগ্রহণ লেগেছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৯৭৪, ইসলামিক সেন্টার- ১৯৮১]

১৯৯১

আসমা বিনতু আবু বাক্‌র [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] একদিন অর্থাৎ- যেদিন সূর্যগ্রহণ লেগেছিল, এরূপ আতঙ্কগ্রস্ত হলেন যে, চাদর নিতে গিয়ে ভুলে [মহিলাদের] বড় চাদর উঠিয়ে নিলেন। পরে তাহাঁর চাদরই তাঁকে পৌছে দেয়া হলো। অতঃপর তিনি লোকদের নিয়ে নামাজ শুরু করে দিলেন এবং বেশ লম্বা ক্বিয়াম করিলেন। যদি কোন লোক তাহাঁর কাছে আসত বুঝতে পারত না যে, নবী [সাঃআঃ] রুকূ করিয়াছেন [রুকূর পর] দীর্ঘ ক্বিয়ামের কারণে। যে পর্যন্ত কেউ প্রকাশ না করে দিত যে, তিনি রুকূ করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৯৭৫, ইসলামিক সেন্টার- ১৯৮২]

১৯৯২

ইবনি জুরায়জ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] একই সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। এতে আস্মা [রাদি.] বলেছেন, দীর্ঘ সময় ক্বিয়াম করে পরে রুকূ করিয়াছেন। বর্ণনাকারী এ কথাটুকু বাড়িয়েছেন- “আমি মহিলাদের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, আমার চেয়ে বয়স্কা মহিলাও আছে আর আমার চেয়ে অধিক রুগ্না মহিলাও রয়েছে”। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৯৭৬, ইসলামিক সেন্টার- ১৯৮৩]

১৯৯৩

আসমা বিনতু আবু বাক্‌র [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] এর যামানায় একবার সূর্যগ্রহণ লাগলে তিনি [সাঃআঃ] ঘাবড়ে গেলেন। যে কারণে তিনি ভুল করে নিজের চাদর নিতে গিয়ে [মহিলাদের] বড় চাদর নিয়ে গেলেন। অবশ্য পরে তাহাঁর চাদর পৌছিয়ে দেয়া হলো। আস্‌মা [রাদি.] বলেন, আমি আমার প্রয়োজন সেরে আসলাম এবং এসে মাসজিদে প্রবেশ করলাম। ঢুকে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে দেখলাম দাঁড়িয়ে আছেন। আমিও তাহাঁর সাথে দাঁড়ালাম, তিনি [সাঃআঃ] দীর্ঘ ক্বিয়াম করিলেন। এমনকি আমি মনে মনে ভাবছিলাম বসে পড়ব কিনা, অতঃপর তাকিয়ে দেখলাম একটি দুর্বল মহিলা। তখন মনে মনে বললাম, এ মেয়ে লোকটি তো আমার চেয়েও দুর্বল। অতএব দাঁড়িয়ে থাকলাম। দীর্ঘ সময় পর তিনি রুকূতে গেলেন এবং রুকূও দীর্ঘ করিলেন, অতঃপর তিনি মাথা উঠালেন। রুকূ থেকে উঠেও দীর্ঘ ক্বিয়াম করিলেন। এমনকি কোন ব্যক্তি এসে দেখলে মনে করত তিনি রুকূই করেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৯৭৭, ইসলামিক সেন্টার- ১৯৮৪]

১৯৯৪

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সময় একবার সূর্যগ্রহণ লেগেছিল। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নিজের সাথে লোকদের নিয়ে নামাজ আদায় করিলেন। নামাজ শুরু করে তিনি লম্বা ক্বিয়াম করিলেন প্রায় সুরা আল বাক্বারাহ্‌ পড়ার সমপরিমাণ সময়। অতঃপর রুকূ করিলেন লম্বা রুকূ। অতঃপর [রুকূ থেকে] মাথা উঠালেন। আবার লম্বা ক্বিয়াম করিলেন যা প্রথম ক্বিয়াম অপেক্ষা কিছুটা ছোট। অতঃপর লম্বা রুকূ করিলেন যা প্রথম রুকূ অপেক্ষা কিছু কম। অতঃপর সাজদাহ্‌ করিলেন। সাজদাহ্‌ থেকে উঠে আবার লম্বা ক্বিয়াম করিলেন যা প্রথম ক্বিয়াম অপেক্ষা কম। আবার লম্বা রুকূ করিলেন যা প্রথম রুকূর চেয়ে কিছু কম। অতঃপর সাজদাহ্‌ করিলেন। সাজদাহ্‌ থেকে উঠে আবার লম্বা ক্বিয়াম করিলেন যা প্রথম ক্বিয়াম অপেক্ষা কিছু কম। তারপর মাথা উঠিয়ে দীর্ঘ সময় ক্বিয়াম করিলেন যা প্রথম ক্বিয়াম অপেক্ষা কম। অতঃপর আবার দীর্ঘ রুকূ করিলেন যা প্রথম রুকূ অপেক্ষা সংক্ষিপ্ত। অতঃপর সাজদাহ্‌ করে নামাজ সমাপ্ত করিলেন। এতক্ষণে সূর্য স্পষ্ট হয়ে গেল। এরপর তিনি [সাঃআঃ] বলিলেন, চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর দুটি নিদর্শন। এগুলো কারো জন্ম বা মৃত্যুর কারণে গ্রাসপ্রাপ্ত হয় না। অতএব তোমরা যখন এরূপ কিছু দেখ, তখন আল্লাহকে স্মরণ কর। সাথীগণ বলিলেন, হে আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ]! আমরা আপনাকে দেখলাম, আপনি এ স্থানে দাঁড়িয়ে হাত বাড়িয়ে নিতে যাচ্ছেন। আবার একটু পর দেখলাম হাত ফিরিয়ে নিলেন? রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, আমি জান্নাত দেখিতে পেলাম। অতএব জান্নাত থেকে ফলের একটি ছড়া নিতে যাচ্ছিলাম। যদি তা নিয়ে নিতাম তাহলে তোমরা তা পৃথিবী ক্বিয়াম থাকা পর্যন্ত খেতে পারতে। আমি জাহান্নামও দেখিতে পেলাম এবং আজকের ন্যায় এমন ভয়াবহ দৃশ্য আরি কখনও দেখিনি। আমি জাহান্নামের অধিবাসীদের মধ্যে বেশীর ভাগ দেখলাম মহিলা। সাথীরা জিজ্ঞেস করিলেন, কি কারণ হে আল্লাহ রসূল! রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তাঁদের অকৃতজ্ঞতার কারণে। তিনি বলেন, তারা স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকে এবং অনুগ্রহকে অস্বীকার করে। তুমি যদি তাদের কারো সারাজীবনও উপকার কর, অতঃপর যদি কখনও তোমার থেকে কোন ত্রুটি দেখে তখন বলে ফেলে, আমি তোমার কাছ থেকে কখনও কোন কল্যাণ দেখিতে পাইনি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৯৭৮, ইসলামিক সেন্টার- ১৯৮৫]

১৯৯৫

যায়দ ইবনি আসলাম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে একই সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কেবল ব্যতিক্রম এই যে, তিনি বলেছেনঃ “অতঃপর আপনাকে দেখলাম হাত গুটিয়ে নিলেন”। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৯৭৯, ইসলামিক সেন্টার- ১৯৮৬]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply