সুরা ত্বহা তাফসীর

সুরা ত্বহা তাফসীর

সুরা ত্বহা তাফসীর >> বুখারী শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন >> সুরা ত্বা-হা আরবি তে পড়ুন বাংলা অনুবাদ সহ

৬৫/২০/১.অধ্যায়ঃ আল্লাহ তাআলার বাণীঃ আর আমি তোমাকে আমার নিজের জন্য তৈরি করে নিয়েছি। (সুরা ত্বহা ২০/৪১)

সুরা ত্বহা তাফসীর

সুরা (২০) : ত্বাহা

জুবায়র ও যাহ্হাক (রাদি.) বলেন, নাবতী ভাষায় طَه এর অর্থ يَارَجُلُ হে ব্যক্তি! যে সকল ব্যক্তি কোন অক্ষর স্পষ্ট উচ্চারণ করিতে পারে না অথবা তা অথবা ফা উচ্চারণে তোতলামি করে, তাকে عقده বলা হয়। أَزْرِيْ আমার পিঠ। فَيَسْحَتَكُمْ সে তোমাদেরকে ধ্বংস করে দেবে। الْمُثْلٰى এটা الْأَمْثَلِ -এর স্ত্রীলিঙ্গ। বলা হয়, خُذِ الْمُثْلٰى-خُذِ الْأَمْثَلَ উত্তম পন্থা অবলম্বন কর ثُمَّائْتُوْاصَفًّا । এরপর তোমরা সারিবদ্ধ হয়ে উপস্থিত হও। বলা হয়, তুমি কি আজ সারিতে এসেছ? অর্থাৎ সালাতের নির্ধারিত জায়গায় যেখানে সালাত আদায় করা হয়। فَأَوْجَسَ তিনি অন্তরে গোপন করিলেন। خِيْفَةً মূলে خَوْفًا ছিল। অক্ষরটি কাস্রার কারণে وَاوُ টি يَاء দ্বারা পরিবর্তিত হয়েছে। فِيْجُذُوْعِ (খেজুর বৃক্ষের) কান্ডের উপরে। خَطْبُكَ তোমার ব্যাপার। مِسَاسَ স্পর্শ করা, শব্দটি مِسَاسًا-مَاسَّهُ এর মাসদার لَنَنْسِفَنَّهُ অবশ্যই আমি তাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ছড়িয়ে দিব। قَاعًا এমন জায়গা যার ওপর দিয়ে পানি চলে যায়। الصَّفْصَفُ সমতল ভূমি। মুজাহিদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, مِنْزِيْنَةِالْقَوْمِ অর্থাৎ সে সব অলংকার, যা তারা ফিরআউনের বংশধর হইতে ধার করে এনেছিল। فَقَذَفْتُهَا আমি তা নিক্ষেপ করলাম। أَلْقٰى সে তৈরি করিল। فَنَسِيَ অর্থাৎ মূসা (আঃ) ভুলে গিয়েছেন। তারা বলিতে লাগল, তিনি রবকে চিনতে ভুল করিয়াছেন। يَرْجِعُإِلَيْهِمْقَوْلًا অর্থাৎ গো বৎস তাদের কথার জওয়াব দিতে পারে না। هَمْسًا পদধ্বনি। حَشَرْتَنِيْأَعْمٰى আমাকে অন্ধ অবস্থায় উঠালে আমার প্রমাণাদি থেকে كُنْتُبَصِيْرًا আমার তো দুনিয়ায় চক্ষু ছিল।

ইবনু উয়াইনাই বলেন, أَمْثَلُهُمْ (জ্ঞানী ব্যক্তি) অর্থাৎ তাদের মধ্যে ন্যায় বিচারক।

ইবনু আববাস (রাদি.) বলেন, هَضْمًا এর অর্থ অবিচার করা হইবে না যাতে তার পুণ্য বিনষ্ট হয়। عِوَجًا বক্রতা, উপত্যকা أَمْتًا উঁচু ভূমি, টিলা। مِسيرَتَهَا তার অবস্থা। النُّهٰى সংযমী, পরহিজগার। ضَنْعًا দুর্ভাগ্য। هَوَى দুর্ভাগা হওয়া। الْمُقَدَّسِ বারাকাতময় طُوًى একটি উপত্যকার নাম। بِمِلْكِنَا আমাদের নির্দেশে। مَكَانًاسُوًي তাদের মধ্যবর্তী স্থান। يَبَسًا শুষ্ক। عَلٰىقَدَرٍ প্রতিশ্রুতি সময়ে لَاتَنِيَا তোমরা উভয়ে দুর্বল হয়ো না।

৪৭৩৬

আবু হুরাইরাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন, আদাম (আ.) ও মূসা (আ.)-এর সাক্ষাৎ ঘটল। মূসা (আ.) আদাম (আ.)-কে বলিলেন, আপনি তো সে ব্যক্তি, মানব জাতিকে কষ্টের মধ্যে ফেলেছেন এবং তাদের জান্নাত থেকে বের করিয়েছেন? আদাম (আ.) তাঁকে বলিলেন, আপনি তো সে ব্যক্তি, আপনাকে আল্লাহ তাআলা তাহাঁর রিসালাতের জন্য নির্বাচিত করিয়াছেন, এবং বাছাই করিয়াছেন আপনাকে নিজের জন্য এবং আপনার ওপর তাওরাত অবতীর্ণ করিয়াছেন? মূসা (আ.) বলিলেন, হ্যাঁ। আদাম (আ.) বলিলেন, আপনি তাতে অবশ্যই পেয়েছেন যে, আমার সৃষ্টির আগেই আল্লাহ তাআলা তা আমার জন্য লিখে রেখেছেন। মূসা (আ.) বলিলেন, হ্যাঁ। রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেন, এভাবে আদাম (আ.) মূসা (আ.)-এর উপর জয়ী হলেন। اليَمُّ সমুদ্র। [৩৪০৯] (আ.প্র. ৪৩৭৫, ই.ফা. ৪৩৭৭)

৬৫/২০/২.অধ্যায়ঃ আল্লাহ তাআলার বাণীঃ

আমি তো মূসার প্রতি এই মর্মে ওয়াহী প্রেরণ করেছিলাম যে, আমার বান্দাদের নিয়ে রাতারাতি বেরিয়ে যাও এবং তাদের জন্য সমুদ্রের মধ্যে শুষ্ক পথ করে দাও। পেছন থেকে এসে ধরে ফেলার আশঙ্কা করো না। তারপর ফিরাউন তার সেনাবাহিনী নিয়ে তাদের পেছন দিক থেকে অনুসরণ করিল এবং সমুদ্র তাদের সম্পূর্ণরূপে নিমজ্জিত করে ফেলল। আর ফিরাউন তার লোকদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল এবং তাদেরকে সুপথ দেখায়নি। (সুরা ত্বহা ২০/৭৭-৭৯)

৪৭৩৭

ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) যখন মদিনায় এলেন, তখন ইয়াহূদীরা আশুরার দিন সওম পালন করত। তিনি তাদের (সওমের কারণ) জিজ্ঞেস করিলেন। তারা বলিল, এ দিনে মূসা (আ.) ফিরআউনের ওপর জয়ী হয়েছিলেন। তখন নাবী বলিলেন, আমরাই তো তাদের চেয়ে মূসা (আ.)-এর নিকটবর্তী। কাজেই (মুসলিমগণ) তোমরা এ সিয়াম পালন কর। [২০০৪] (আ.প্র. ৪৩৭৬, ই.ফা. ৪৩৭৮)

৬৫/২০/৩.অধ্যায়ঃ আল্লাহ তাআলার বাণীঃ সে যেন তোমাদেরকে কিছুতেই জান্নাত থেকে বের করে না দেয়, তাহলে কষ্টে পতিত হইবে।(সুরা ত্বহা ২০/১১৭)

৪৭৩৮

আবু হুরাইরাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন, মূসা (আ.) আদম (আ.)-এর সঙ্গে যুক্তি দিয়ে বলিলেন, আপনি তো সে ব্যক্তি, আপনার গুনাহের কারণে মানব জাতিকে জান্নাত থেকে বের করিয়াছেন এবং তাদের দুঃখ-কষ্টে ফেলেছেন। রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেন, আদম (আ.) বলিলেন, হে মূসা (আ.)! আপনি তো সে ব্যক্তি, আল্লাহ তাআলা আপনাকে রিসালাতের জন্য এবং তাহাঁর সঙ্গে কথা বলার জন্য বেছে নিয়েছেন। তবুও কি আপনি আমাকে এমন বিষয়ের জন্য নিন্দাবাদ করবেন, যা আল্লাহ আমার সৃষ্টির আগেই আমার সম্পর্কে লিখে রেখেছেন, অথবা বলিলেন, আমার সৃষ্টির পূর্বেই তা আমার ব্যাপারে নির্ধারণ করে রেখেছেন। রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেন, আদাম (আ.) মূসা (আ.)-এর উপর তর্কে বিজয়ী হলেন। [৩৪০৯] (আ.প্র. ৪৩৭৭, ই.ফা. ৪৩৭৯)

By ইমাম বুখারী

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply