সুরা ইখলাস পাঠের ফাযীলাত [মর্যাদা]

সুরা ইখলাস পাঠের ফাযীলাত [মর্যাদা]

সুরা ইখলাস পাঠের ফাযীলাত [মর্যাদা] >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১৩. অধ্যায়ঃ সুরা ইখলাস পাঠের ফাযীলাত [মর্যাদা]

১৭৭১

আবুদ্‌ দারদা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

[একদিন] নবী [সাঃআঃ] বললেনঃ তোমরা কেউ কি এক রাতে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ পাঠ করিতে সক্ষম? সবাই জিজ্ঞেস করিলেন, এক রাতে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ কীভাবে পড়ব? তিনি বললেনঃ “ কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ” সূরাটি কুরআন মাজীদের এক তৃতীয়াংশের সমান। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৭৫৬, ইসলামিক সেন্টার- ১৭৬৩]

১৭৭২

ক্বাতাদাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করিয়াছেন। তাদের উভয়ের বর্ণিত হাদীসে নবী [সাঃআঃ]-এর কথার এ অংশটুকু উল্লেখ আছে যে, তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা সমগ্র কুরআন মাজীদকে তিনটি অংশে ভাগ করিয়াছেন আর “কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ” [সূরাহ্ আল ইখলাস]-কে একটি অংশ বলে নির্দিষ্ট করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৭৫৭, ইসলামিক সেন্টার- ১৭৬৪]

১৭৭৩

আবু হুরায়রাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, [একদিন] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] [সবাইকে লক্ষ্য করে] বললেনঃ তোমরা এক জায়গায় জমায়েত হও। কারণ আমি কিছুক্ষণের মধ্যেই তোমাদেরকে কুরআন মাজীদের এক তৃতীয়াংশ পড়ে শুনাব। সুতরাং যাদের জমায়েত হওয়ার তারা জমায়েত হলে নবী [সাঃআঃ] তাদের কাছে আসলেন এবং “কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ” সূরাটি পড়লেন। তারপর তিনি গৃহাভ্যন্তরে প্রবেশ করিলেন। তখন আমরা একে অপরকে বলিতে থাকলাম, আমার মনে হয় আসমান থেকে কোন খবর এসেছে আর সে জন্যই তিনি ভিতরে প্রবেশ করিয়াছেন। পরে নবী [সাঃআঃ] বেরিয়ে এসে বললেনঃ আমি তোমাদের বলেছিলাম যে, কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি তোমাদেরকে কুরআন মাজীদের এক তৃতীয়াংশ পাঠ করে শোনাব। জেনে রাখ এটি [সূরা ইখলাস] কুরআন মাজীদের এক তৃতীয়াংশের সমান। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৭৫৮, ইসলামিক সেন্টার- ১৭৬৫]

১৭৭৪

আবু হুরায়রাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে বলিলেন ; আমি তোমাদেরকে এক তৃতীয়াংশ কুরআন পড়ে শুনাচ্ছি। তারপর তিনি “কুল হওয়াল্ল-হু আহাদ, আল্ল-হুস সামাদ” সূরাটি শেষ পর্যন্ত পড়ে শোনালেন। [ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৫৯, ইসলামীক সেন্টার ১৭৬৬]।

১৭৭৫

আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক সময় নবী [সাঃআঃ] কোন এক যুদ্ধে জনৈক ব্যক্তিকে সেনাদলের নেতা করে পাঠালেন। সে নামাজে তার অনুসারীদের ইমামাত করিতে গিয়ে কুরআন পড়ত এবং প্রত্যেক ক্ষেত্রেই “কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ” [সূরাহ্ ইখলাস] পড়ে শেষ করত। সেনাদল ফিরে আসলে তারা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বিষয়টি বলিলেন। তিনি বললেনঃ জিজ্ঞেস কর যে, সে কেন এরূপ করে থাকে। তারা তাকে জিজ্ঞেস করলে সে বলিল, যেহেতু এ সূরাতে মহান দয়ালু আল্লাহর গুণাবলী উল্লেখ আছে, তাই ঐ সূরাটি পাঠ করিতে ভালবাসি। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তাকে জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাকে ভালবাসেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৭৬০, ইসলামিক সেন্টার- ১৭৬৭]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply