নতুন লেখা

সুবহে সাদিক এর পূর্বে পানাহার করা বৈধ

সুবহে সাদিক এর পূর্বে পানাহার করা বৈধ

সুবহে সাদিক এর পূর্বে পানাহার করা বৈধ >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৮. অধ্যায়ঃ সুবহে সাদিক এর পূর্বে পানাহার করা বৈধ, তবে সুবহে সাদিকের সাথে সাথেই সওম আরম্ভ হয়ে যায়, কুরআনে বর্ণিত ফাজ্‌র শব্দের অর্থ হচ্ছে সুব্‌হি সাদিক, এ সময় হইতেই সওম আরম্ভ হয় এবং ফাজ্বরের নামাজের সময় শুরু হয়, সওমের বিধি-বিধানের সাথে সুব্‌হি কাযিবের কোন সম্পর্ক নেই

২৪২৩

আদী ইবনি হাতিম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেন, যখন এ আয়াত [আরবী]

 حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ

“তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ তোমাদের সামনে কালো রেখা থেকে সাদা রেখা সুস্পষ্ট হয়ে না উঠে”- [সুরা আল বাক্বারাহ্‌ ২ : ১৮৭] নাযিল হলো, তখন আদী [রাদি.] বলিলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি আমার বালিশের নীচে একটি কালো ও একটি সাদা রংয়ের রশি রেখে দিয়েছি। এগুলোর দ্বারা আমি রাত ও দিনের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করে থাকি। অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] [হাসি-ঠাট্টাচ্ছলে] বলিলেন, তোমার বালিশ তো খুবই চওড়া। জেনে রাখো, এ-তো রাতের অন্ধকার ও দিনের শুভ্রতা। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৪০০, ইসলামিক সেন্টার- ২৪০০]

২৪২৪

সাহ্‌ল ইবনি সাদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন,

 حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ

“তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ তোমাদের সামনে কালো রেখা থেকে সাদা রেখা সুস্পষ্ট হয়ে না উঠে”- [সূরাহ আল বাক্বারাহ্‌ ২ : ১৮৭] নাযিল হল, তখন লোকেরা একটি কালো এবং একটি সাদা রশি রাখত। তারা উভয় রশি সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত না হওয়া পর্যন্ত খেতে থাকত। এরপর মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তাআলা

 مِنَ الْفَجْرِ

[ফাজরের] কথাটি নাযিল করে বিষয়টির অস্পষ্টতা ও জটিলতা দূরীভূত হলো। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৪০১, ইসলামিক সেন্টার- ২৪০১]

২৪২৫

সাহ্‌ল ইবনি সাদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যখন এ আয়াত-

 وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ‏

“তোমরা সাদা রেখা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত পানাহার কর” অবতীর্ণ হলো- কোন ব্যক্তি সিয়াম পালন করার ইচ্ছা করত এবং নিজের উভয় পায়ে সাদা ও কালো দুটি সূতা বেঁধে নিত। অতঃপর সাদা ও কালো বর্ণ স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত পানাহার করিতে থাকত। অতঃপর আল্লাহ তাআলা

مِنَ الْفَجْرِ

“ফাজ্‌রের” কথাটি অবতীর্ণ করিলেন। তখন তারা সকলেই জানতে পারল যে, সাদা ও কালো রেখার অর্থ হলো রাত [রাতের অন্ধকার] ও দিন [দিনের আলো]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৪০২, ইসলামিক সেন্টার- ২৪০২]

২৪২৬

আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

বর্ণিত। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন: “বিলাল রাত থাকতে আযান দেয়। তাই তোমরা ইবনি মাকতূমের আযান শুনতে না পাওয়া পর্যন্ত পানাহার করিতে থাক”। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৪০৩, ইসলামিক সেন্টার- ২৪০৩]

২৪২৭

আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছি: “বিলাল রাত থাকতে আযান দেয়। তাই তোমরা ইবনি মাকতূমের আযান না শুনা পর্যন্ত পানাহার করিতে থাক”। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৪০৪, ইসলামিক সেন্টার- ২৪০৪]

২৪২৮

ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর দুজন মুয়ায্‌যিন ছিলেন, তারা হলেন, বিলাল [রাদি.] ও উম্মু মাকতূমের অন্ধ ছেলে। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ বিলাল [রাদি.] রাতেই আযান দেয়। অতএব ইবনি উম্মু মাকতূম আযান না দেয়া পর্যন্ত তোমরা পানাহার কর। বর্ণনাকারী বলেনঃ দুজনের আযানের ব্যবধান ছিল যে, একজন আযান দিয়ে নামত অপরজন আযান দিতে আরোহন করত। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৪০৫, ইসলামিক সেন্টার- ২৪০৫]

২৪২৯

আয়িশাহ্ [রাদি.] নবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীতঃ

অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৪০৬, ইসলামিক সেন্টার- ২৪০৬]

২৪৩০

আবু বাকর ইবনি আবু শায়বাহ্, ইসহাক্ব, ইবনিল মুসান্না এরা উবায়দুল্লাহ [রাদি.]-এর বরাত হইতে বর্ণীতঃ

ইবনি নুমায়রের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৪০৭, ইসলামিক সেন্টার- ২৪০৭]

২৪৩১

ইবনি মাসঊদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের কাউকেই যেন বিলালের আযান অবশ্যই তার সাহরী খাওয়া হইতে বিরত না রাখে। কেননা সে রাতেই আযান দেয়, যাতে তোমাদের ক্বিয়ামকারীগণ সাহরী খেতে শুরু করে এবং ঘুমন্ত ব্যক্তি সাহ্‌রী খাওয়ার জন্য জাগে। তিনি তাহাঁর হাতে আঙ্গুল ফাঁকা করে দুজনের আযানের সময়ের ব্যবধান বুঝালেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৪০৮, ইসলামিক সেন্টার- ২৪০৮]

২৪৩২

সুলায়মান আত্ তায়মী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

এ সানাদে হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন, তবে তিনি বলেছেনঃ এটাকে ফজর বলে না- এ বলে তিনি তার আঙ্গুলগুলো একত্র করিলেন অতঃপর তা মাটির [পৃথিবীর] দিকে উল্টালেন। বরং ফজর এটাকে বলে- এ বলে তাসবীহ পাঠের আঙ্গুলের উপর আরেক তাসবীহ পাঠের আঙ্গুল স্থাপন করে তার দুহাত সম্প্রসারণ করিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৪০৯, ইসলামিক সেন্টার- ২৪০৯]

২৪৩৩

আবু বাকর ইবনি শায়বাহ্, ইসহাক্ব ইবনি ইবরাহীম, জারীর ও মুতামির উভয়েই সুলায়মান আত্ তায়মী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর বরাতে অত্র সানাদ হইতে বর্ণীতঃ

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। মুতামির-এর হাদীস এ পর্যন্ত শেষ হয়েছে “তোমাদের ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগিয়ে দেন বরং ক্বিয়ামকারীদেরকে ফিরিয়ে দেন। জারীরের হাদীসে এ কথাও আছে যে, লম্বা রেখাকে ফজর বলে না বরং ফজর বলে প্রশস্ত আলোকে”। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৪১০, ইসলামিক সেন্টার- ২৪১০]

২৪৩৪

সামুরাহ্‌ ইবনি জুনদুব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] এর নিকট শুনেছি, তিনি বলেছেন, বিলালের আহ্বান যেন তোমাদেরকে সাহরী খাওয়া থেকে ধোঁকায় না ফেলে এবং এ শুভ্র রেখাও; যতক্ষণ পর্যন্ত তা বিস্তৃত হয়ে প্রতিভাত হয়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৪১১, ইসলামিক সেন্টার- ২৪১১]

২৪৩৫

সামুরাহ্‌ ইবুন জুনদুব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ বিলালের আযান যেন তোমাদেরকে ধোঁকায় না ফেলে এবং এ শুভ্র রেখা ও যা স্তম্ভের ন্যায় দেখা যায়, যতক্ষণ না তা বিস্তৃত উদ্ভাসিত হইবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৪১২, ইসলামিক সেন্টার- ২৪১২]

২৪৩৬

সামুরাহ্‌ ইবনি জুনদুব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ বিলালের আযান এবং আকাশ প্রান্তে এ লম্বা রেখা যেন তোমাদেরকে সাহরী খাওয়ার ব্যাপারে ধোঁকায় না ফেলে যতক্ষণ পর্যন্ত না এ শুভ্র রেখা পূর্বাকাশে এভাবে বিস্তৃত হয়। হাম্মাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, এ সময় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর উভয় হাত দ্বারা আড়াআড়ি হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৪১৩, ইসলামিক সেন্টার- ২৪১৩]

২৪৩৭

সামুরাহ্‌ ইবনি জুনদুব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেনঃ বিলালের আযান এবং এ শুভ্র রেখা যেন তোমাদেরকে ধোঁকায় না ফেলে যতক্ষণ পর্যন্ত না সুবহে সাদিক সুস্পষ্টরূপে প্রতিভাত হয়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৪১৪, ইসলামিক সেন্টার- ২৪১৪]

২৪৩৮

সামুরাহ্ ইবুন জুনদুব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] অনুরূপ আলোচনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৪১৫, ইসলামিক সেন্টার- ২৪১৪{ক}]

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে”

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে” মহান আল্লাহর …

Leave a Reply

%d bloggers like this: