সুন্নতের ফজিলত

সুন্নতের ফজিলত

সুন্নতের ফজিলত >> মিশকাতুল মাসাবীহ এর মুল সুচিপত্র দেখুন

পর্বঃ ৪, অধ্যায়ঃ ৩০

  • অধ্যায়ঃ ৩০. প্রথম অনুচ্ছেদ
  • অধ্যায়ঃ ৩০. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
  • অধ্যায়ঃ ৩০. তৃতীয় অনুচ্ছেদ

অধ্যায়ঃ ৩০. প্রথম অনুচ্ছেদ

১১৫৯. উম্মু হাবীবাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন : যে লোক দিন রাতে বারো রাক্‌আত সলাত আদায় করিবে তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করা হবে। [সে বারো রাক্‌আত সলাত হলো] চার রাক্‌আত যুহরের ফার্‌যের পূর্বে আর দু রাক্‌আত যুহরের [ফার্‌যের] পরে, দু রাক্‌আত মাগরিবের [ফার্‌য সলাতের] পরে। দু রাক্‌আত ইশার ফার্‌য সলাতের পরে। আর দু রাক্‌আত ফাজ্‌রের [ফার্‌য সলাতের] পূর্বে। [তিরমিজি]

মুসলিমের এক বর্ণনায় শব্দ হলো উম্মু হাবীবাহ্‌ বলেছনে, আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি, যে মুসলিম প্রতিদিন আল্লাহ তাআলার ফার্‌য সলাত ব্যতীত বারো রাক্‌আত সুন্নাত সলাত আদায় করিবে। আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর বানাবেন। অথবা বলেছেনে, জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর বানান হবে।{১}

{১} সহীহ : আত তিরমিজি ৪১৫, মুসলিম ৭২৮, নাসায়ী ১৮০৬, ইবনি মাজাহ ১১৪১, সহীহ আল জামি ৬৩৬২। সুন্নতের ফজিলত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১১৬০. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে যুহরের ফার্‌যের পূর্বে দু রাক্‌আত ও মাগরিবের ফার্‌যের পরে দু রাক্‌আত সলাত তাহাঁর বাড়িতে এবং ইশার সলাতের ফার্‌যের পর দু রাক্‌আত সলাত তাহাঁর বাড়িতে আদায় করেছি। ইবনি উমার আরো বলেছেন, হাফসাহ [রাদি.] [ইবনি উমারের বোন] আমার নিকট বলেছেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হালকা দু রাক্‌আত সলাত ফাজ্‌রের সলাতের সময় আরম্ভ হবার সঙ্গে সঙ্গে আদায় করিতেন। {১}

{১} সহীহ : বোখারী ৬১৮, ১১৮১, মুসলিম ৭২৯। সুন্নতের ফজিলত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১১৬১. আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] জুমুআর সলাতের পর কামরায় পৌছার পূর্বে কোন সলাত আদায় করিতেন না। কামরায় পৌঁছার পর তিনি দু রাক্‌আত সলাত আদায় করিতেন।{১}

{১} সহীহ : বোখারী ৯৩৭, মুসলিম ৮৮২। সুন্নতের ফজিলত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১১৬২. আবদুল্লাহ ইবনি শাক্বীক্ব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নাফ্‌ল সলাতের ব্যাপারে আয়িশাকে প্রশ্ন করেছি। আয়িশাহ্‌ [রাদি.] বলেছেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] প্রথমে আমার ঘরে যুহরের পূর্বে চার রাক্‌আত সলাত আদায় করিতেন। তারপর মাসজিদে যেতেন। সেখানে লোকেদের নিয়ে [জামাআতে যুহরের ফার্‌য] সলাত আদায় করিতেন। তারপর তিনি কামরায় ফিরে আসতেন এবং দু রাক্‌আত সলাত আদায় করিতেন। [ঠিক এভাবে] তিনি লোকদেরকে নিয়ে মাগরিবের সলাত মাসজিদে আদায় করিতেন। তারপরে হুজরায় ফিরে এসে দু রাক্‌আত সলাত আদায় করিতেন। রাতে তিনি [তাহাজ্জুদের] সলাত কখনো নয় রাক্‌আত পড়তেন। এর মাঝে বিত্‌রের সলাতও শামিল ছিল। আর রাতে তিনি দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে ও দীর্ঘ সময় বসে বসে সলাত আদায় করিতেন। যে সময় তিনি দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করিতেন ? দাঁড়ানো থেকেই রুকূ সাজদায় চলে যেতেন। আর যখন বসে বসে সলাত আদায় করিতেন, বসা থেকেই রুকূ ও সাজদায় চলে যেতেন। সুবহে সাদিকের সময় ফাজ্‌রের দু রাক্‌আত সুন্নাত আদায় করে নিতেন। [মুসলিম; আবু দাউদ আরো কিছু বেশী শব্দ নকল করিয়াছেন {অর্থাৎ ফাজ্‌রের দু রাক্‌আত সুন্নাত আদায় করে তিনি মাসজিদে চলে যেতেন। সেখানে লোকজনসহ ফাজ্‌রের ফার্‌য সলাত আদায় করিতেন]] {১}

{১} সহীহ : মুসলিম ৭৩০, আবু দাউদ ১২৫১. সুন্নতের ফজিলত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১১৬৩, আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নাফ্‌ল সলাতের মাঝে ফাজ্‌রের দু রাক্‌আত সুন্নাত সলাতের প্রতি যেমন কঠোর যত্ন নিতেন আর কোন সলাতের উপর এত কঠোর ছিলেন না। {১}

{১} সহীহ : বোখারী ১১৬৩, মুসলিম ৭২৪। সুন্নতের ফজিলত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১১৬৪. উক্ত রাবী {আয়িশাহ্ [রাদি.]] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইরশাদ করিয়াছেন : ফাজ্‌রের দু রাক্‌আত সুন্নাত সলাত দুনিয়া ও দুনিয়ার সকল জিনিসের চেয়ে বেশি উত্তম। {১}

{১} সহীহ : মুসলিম ৭২৫। সুন্নতের ফজিলত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১১৬৫. আবদুল্লাহ ইবনি মুগাফফাল [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, মাগরিবের ফার্‌য সলাতের পূর্বে তোমরা দু রাক্‌আত নাফ্‌ল সলাত আদায় কর। মাগরিবের ফার্‌য সলাতের পূর্বে তোমরা দু রাক্‌আত নাফ্‌ল সলাত আদায় কর। তৃতীয়বার তিনি বলেছেন, “যিনি ইচ্ছা করেন” [তিনি তা পড়বেন]। বর্ণনাকারী বলেন : তৃতীয়বার তিনি এ কথাটি এ আশংকায় বললেন যাতে মানুস একে সুন্নাত না করে ফেলে। {১}

{১} সহীহ : বোখারীর ১১৮৩, আবু দাউদ ১২৮১। সুন্নতের ফজিলত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১১৬৬. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইরশাদ করিয়াছেন : তোমাদের যে লোক জুমুআর [ফার্‌য সলাতের] পর সলাত আদায় করিতে চায় সে যেন চার রাক্‌আত সলাত আদায় করে নেয়। [মুসলিম]

আর মুসলিমেরই অন্য এক সূত্রে আছে, তিনি [সাঃআঃ] বলেছেন : তোমাদের কোন ব্যক্তি যখন জুমুআর [ফার্‌য] সলাত আদায় করিবে সে যেন এরপর চার রাক্‌আত সুন্নাত সলাত আদায় করে নেয়।১}

{১} সহীহ : মুসলিম ৮৮১। সুন্নতের ফজিলত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

অধ্যায়ঃ ৩০. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

১১৬৭. উম্মু হাবীবাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন। আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি, যে লোক যুহরের [ফার্‌য সলাতের] পূর্বে চার রাক্আত, এরপর চার রাক্আত সলাত আদায় করে। আল্লাহ তার ওপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেন। {১}

{১} সহীহ : আবু দাউদ ১২৬৯, আত তিরমিজি ৪২৮, নাসায়ী ১৮১৬, ইবনি মাজাহ ১১৬০, সহীহ আল জামি ৬১৯৫। সুন্নতের ফজিলত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১১৬৮. আবু আইয়ূব আল আনসারী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইরশাদ করিয়াছেন : যুহরের [ফার্‌য] সলাতের পূর্বের চার রাক্আত সলাত, যার মাঝে সালাম ফিরানো হয় না, সলাতের জন্যে [তা আদায়কারীর জন্যে] আসমানের দরজা খুলে দেয়া হয়। {১}

{১} হাসান লিগায়রিহী : আবু দাউদ ১২৭০, সহীহ আত তারগীব ৫৮৫, সহীহ আল জামি ৮৮৫, ইবনি মাজাহ ১১৫৮ নং এ মর্মে রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর কর্ম বর্ণিত হয়েছে। এই হাদিসটির তাহকীকঃ হাসান লিগাইরিহি

১১৬৯. আবদুল্লাহ ইবনি সায়িব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সূর্য হেলে যাওয়ার পর যুহরের সলাতের পূর্বে চার রাক্আত সলাত আদায় করিতেন। তিনি বলিতেন, এটা এমন এক সময় যখন [নেক আমাল উপরের দিয়ে যাওয়ার জন্যে] আকাশের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়। তাই এ মুহূর্তে আমার নেক আমালগুলো উপরের দিকে যাক এটা আমি চাই।{১}

{১} সহীহ : আত তিরমিজি ৪৭৮, সহীহ আত তারগীব ৫৮৭। সুন্নতের ফজিলত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১১৭০. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইরশাদ করিয়াছেন : আল্লাহ তাআলা ঐ লোকের ওপর রহ্‌মাত বর্ষণ করেন, যে লোক আস্‌রের [ফার্‌য সলাতের] পূর্বে চার রাক্আত সলাত আদায় করে।{১}

{১} হাসান : আবু দাউদ ১২৭১, আত তিরমিজি ৪৩০, আহমাদ ৫৯৮০, ইবনি খুযায়মাহ্ ১১৯৩, ইবনি হিব্বান ২৪৫৩, সুনান আল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৪১৬৭, সহীহ আত তারগীব ৫৮৮, সহীহ আল জামি ৩৪৯৩। এই হাদিসটির তাহকীকঃ হাসান হাদিস

১১৭১. আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আস্‌রের সলাতের [ফার্‌যের] পূর্বে চার রাক্আত সলাত আদায় করিতেন। এ চার রাক্আতের মধ্যখানে সালাম ফিরানোর দ্বারা নিকটবর্তী মালাক [ফেরেশ্‌তা] এবং তাদের অনুসারী মুসলিম ও মুমিনীনদের মাঝে পার্থক্য করিতেন। {১}

{১} হাসান : আত তিরমিজি ৪২৯।এই হাদিসটির তাহকীকঃ হাসান হাদিস

১১৭২. আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আসরের পূর্বে দু রাক্আত সলাত আদায় করিতেন। {১}

{১} শায : আর أربع ركعات শব্দে মাহফূয; আবু দাউদ ১২৭২। এই হাদিসটির তাহকীকঃ শায

১১৭৩. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে লোক মাগরিবের সলাতের পর ছয় রাক্আত সলাত আদায় করিবে এবং এর মধ্যখানে কেন অশালীন কথাবার্তা বলবে না। তাহলে এ [ছয়] রাক্আতের সাওয়াব তার জন্যে বারো বছরের ইবাদাতের সাওয়াবের পরিমাণ হয়ে যাবে।

[তিরমিজি; ঈমাম তিরমিজি এ হাদিসটিকে বর্ণনা করিয়াছেন এবং বলেছেন, এ হাদিসটি গরীব। কারণ এ হাদিস উমার ইবনি খাস্আম-এর সূত্র ছাড়া আর কোন সূত্রে জানা যায়নি। আর আমি মুহাম্মাদ ইবনি ইসমাঈল বোখারীকে বলিতে শুনিয়াছি যে, উমার ইবনি খাসআম মুনকারুল হাদিস। তাছাড়াও তিনি হাদিসটিকে যথেষ্ট জইফ বলেছেন।] {১}; {১} খুবই দুর্বল : আত তিরমিজি ৪৩৫, ইবনি মাজাহ ১১৬৭, জইফ আত তারগীব ৩৩১, জইফ আল জামি ৫৬৬১, সিলসিলাহ্ আয্ যঈফাহ্ ৪৩৯। কারণ এর সানাদের রাবী উমার ইবনি আবদুল্লাহ ইবনি আবু খায়সাম-কে ঈমাম বোখারী মুনকারুল হাদিস বলেছেন। ঈমাম যাহাবী [রাহিমাহুল্লাহ] বলেছেন। তার বর্ণিত দুটি মুনকার হাদিস রয়েছে তন্মধ্যে এটি একটি। এই হাদিসটির তাহকীকঃ খুবই দুর্বল

১১৭৪. আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইরশাদ করিয়াছেন : যে লোক মাগরিবের সলাত শেষের পর বিশ রাক্আত সলাত আদায় করিবে। আল্লাহ তাআলা তার জন্যে জান্নাতে একটি বাড়ী বানাবেন। [ {১}

{১} মাওযূ : আত তিরমিজি ৪৩৫, জইফ আত তারগীব ৩৩২, জইফ আল জামি ৫৬৬২, যঈফাহ্ ৪৬৭। কারণ এর সানাদে ইয়াকূব ইবনি ওয়ালীদ সর্বসম্মতক্রমে দুর্বল রাবী। ঈমাম আহমাদ [রাহিমাহুল্লাহ] তাকে বড় মিথ্যুক বলে অবহিত করিয়াছেন। ঈমাম ইবনি মাঈন এবং আবু হাতিম [রাহিমাহুল্লাহ]-ও তাকে মিথ্যুক বলেছেন। এই হাদিসটির তাহকীকঃ জাল হাদিস

১১৭৫. আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যে সময়ই ইশার সলাত আদায় করে আমার নিকট আসতেন, চার অথবা ছয় রাক্আত সুন্নাত সলাত অবশ্যই আদায় করিতেন।{১}

{১} জইফ : আবু দাউদ ১৩০৩, সুনান আল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৪১৮৭। কারণ এর সানাদে মুক্বাতিল ইবনি বাশীর একজন অপরিচিত রাবী। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

১১৭৬. আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলূল্লাহ [সাঃআঃ] ইরশাদ করিয়াছেন : ইদবা-রুন নুজূম, দ্বারা ফাজ্‌রের পূর্বে দু রাক্আত সলাত ও ইদ্‌বারুস সুজূদ দ্বারা মাগরিবের ফার্‌য সলাতের পরের দু রাক্আত সলাত বুঝানো হয়েছে।{১}

{১} জইফ : আত তিরমিজি ৩২৭৫, যঈফাহ্ ২১৭৮, জইফ আল জামি ২৪৮। কারণ এর সানাদে রিশদীন ইবনি কুরায়ব সর্বসম্মতক্রমে একজন দুর্বল রাবী। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

অধ্যায়ঃ ৩০. তৃতীয় অনুচ্ছেদ

১১৭৭. উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে ইরশাদ করিতে শুনিয়াছি, তিনি বলেছেন : যুহরের পূর্বে সূর্য ঢলে যাওয়ার পর চার রাক্আত সলাত, তাহাজ্জুদের চার রাক্আত সলাত আদয় করার সমান। আর এ সময় সকল জিনিস আল্লাহ তাআলার পবিত্রতার ঘোষণা করে। তারপর তিনি [কুরআনের আয়াত] পড়লেন, “সকল জিনিসের ছায়া ডান দিক ও বাম দিক হইতে আল্লাহ তাআলার জন্যে সাজদাহ্ করে ঝুঁকে থাকে। আর এর সবই বিনয়ী”- [সূরাহ্‌ আন্ নাহ্‌ল ১৬ : ৪৮]। {১}

{১} জইফ : আত তিরমিজি ৩১২৮, জইফ আত তারগীব ৩২৬, জইফ আল জামি ৭৫৪। কারণ এর সানাদে আলী ইবনি আসিম তার খারাপ মুখস্থশক্তি এবং ভুলের উপর অটল থাকার কারণে দুর্বল। তার শিক্ষক ইয়াহ্ইয়া আল বাক্কা-ও দুর্বল রাবী। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

১১৭৮. আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমার নিকট [অর্থাৎ হুজরায়] কোন দিন আস্‌রের পরে দু রাক্আত সলাত আদায় করা ছেড়ে দেননি।

বোখারীর এক সানাদের ভাষা হলো, তিনি {আয়িশাহ্ [রাদি.]] বলেছেন : ঐ আল্লাহর শপথ! যিনি রসূলের রূহপাক কবজ করিয়াছেন। তিনি তাহাঁর মৃত্যু পর্যন্ত এ দু রাক্আত সলাত ছেড়ে দেননি।{১}

{১} সহীহ : বোখারী ৫৯১, মুসলিম ৮৩৫, বোখারী ৫৯০। সুন্নতের ফজিলত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১১৭৯. মুখতার ইবনি ফুলফুল [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন। আমি আনাস ইবনি মালিক [রাদি.]-কে প্রশ্ন করেছিলাম, আস্‌রের পর নাফ্‌ল সলাতের ব্যাপারে। তিনি [উত্তরে] বললেন। উমার [রাদি.] আস্‌রের পর নাফ্‌ল সলাত আদায়কারীদের হাতের উপর প্রহার করিতেন। আমারা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর যুগে সূর্য ডুবে যাওয়ার পর মাগরিবের সলাতের [ফার্‌যের] পূর্বে দু রাক্আত সলাত আদায় করতাম। [এ কথা শুনে] আমি আনাসকে প্রশ্ন করলাম। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-ও কি এ দু রাক্আত সলাত আদায় করিতেন? তিনি বললেন। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরক আদায় করিতে দেখিতেন। কিন্তু আদায় করিতে বলিতেন না। আবার বাধাও দিতেন না।১}

{১} সহীহ : মুসলিম ৮৩৬। সুন্নতের ফজিলত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১১৮০. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা মাদীনায় ছিলাম। [এ সময়ে অবস্থা এমন ছিল যে, মুয়ায্‌যিন মাগরিবের আযান দিলে [কোন কোন সহাবা ও তাবিঈ] মাসজিদের খূঁটির দিকে দৌঁড়াতেন আর দু রাক্আত সলাত আদায় করিতে আরম্ভ করিতেন। এমনকি কোন মুসাফির লোক মাসজিদে এসে অনেক লোককে একা একা সলাত আদায় করিতে দেখে মনে করিতেন [ফার্‌য] সলাত বুঝি সমাপ্ত হয়ে গেছে। আর লোকেরা এখন সুন্নাত পড়ছে। {১}

{১} সহীহ : মুসলিম ৮৩৭, বোখারী ৬৮২। সুন্নতের ফজিলত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১১৮১. মারসাদ ইবনি আবদুল্লাহ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি একবার উক্ববাহ্ আল জুহানী [রাদি.] এর নিকট হাযির হয়ে বললাম। আমি কি আপনাকে আবু তামীম আদ্ দারীর [তাবিঈ] একটি বিষ্ময়কর ঘটনা শুনাব না? তিনি [আবু তামীম আদ্ দারী] মাগরিবের সলাতের পূর্বে দু রাক্আত নাফ্‌ল সলাত আদায় করেন। তখন উক্ববাহ্ বললেন, এ সলাত তো আমরা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর যামানায় আদায করতাম। তখন তিনি বললেন, তাহলে এ সলাত এখন আদায় করিতে আপনাদেরকে বাধা দিচ্ছে কে? জবাবে তিনি বললেন [দুনিয়ার] কর্মব্যস্ততায়। {১}

{১} সহীহ : বোখারী ১১৮৪। সুন্নতের ফজিলত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১১৮২. কাব ইবনি উজরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] [আনসার গোত্র] বানী আবদুল আশহাল-এর মাসজিদে আসলেন এবং এখানে মাগরিবের সলাত আদায় করিয়াছেন। সলাত সমাপ্ত করার পর তিনি [সাঃআঃ] কিছু মানুষকে নাফ্‌ল সলাত আদায় করিতে দেখলেন। তিনি বললেন এসব [নাফ্‌ল] সলাত বাড়িতে পরার জন্য। [আবু দাউদ, তিরমিজি ও নাসায়ীর এক সূত্রে পাওয়া যায়, লোকেরা ফারয সলাত আদার করার পর নাফ্‌ল সলাত আদায়ের জন্যে দাঁড়ালে নবী [সাঃআঃ] বললেন, এসব সলাত তোমাদের বাড়ীতে আদায় করা উচিত।] {১}

{১} সহীহ : আবু দাউদ ১৩০০, আত তিরমিজি ৬০৪, নাসায়ী ১৬০০, ইবনি খুযায়মাহ্ ১২০১, সহীহ আল জামি ৭০১০। সুন্নতের ফজিলত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১১৮৩. আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মাগরিবের সলাতের শেষে [সুন্নাতের] দু রাক্আত সলাতে এত বড় ক্বিরাআত পড়তেন যে, লোকেরা তাদের সলাত শেষ করে [বাড়ী] চলে যেতেন। {১}

{১} জইফ : আবু দাউদ ১৩০১, সুনান আল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৩০৪২। কারণ এর সানাদে ইয়াকূব ইবনি আবদুল্লাহ এবং জাফার ইবনি আল মুগীরাহ্ শক্তিশালী রাবী নয়। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

১১৮৪. মাকহূল [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীতঃ

মাকহূল [রাহিমাহুল্লাহ] এ হাদিসটির বর্ণনা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইরশাদ করিয়াছেন : যে লোক মাগরিবের সলাত আদায় করার পর কথাবার্তা বলার আগে দু রাক্আত। আর এক বর্ণনায় আছে, চার রাক্আত সলাত আদায় করিবে, তার সলাত ইল্লীয়্যিনে পৌঁছে দেয়া হয়। [ {১}

{১} জইফ : ইবনি আবী শায়বাহ্ ৫৯৩৫, জইফ আত তারগীব ৩৩৫। কারণ হাদিসটি মুরসাল তথা মুরসালুত্ তাবিঈ। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

১১৮৫. হুযায়ফাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

কিন্তু তাহাঁর বিবরণে এ শব্দগুলোও আছে যে, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইরশাদ করিতেন : তোমরা মাগরিবের পরে দু রাক্আত [সুন্নাত] দ্রুত পড়ে নাও। এজন্য যে, এ দু রাক্আত সলাতও ফার্‌য সলাতের সঙ্গে উপরে [অর্থাৎ ইল্লীয়্যিনে] পৌঁছে দেয়া হয়। এ উভয় হাদিসই রযীন বর্ণনা করিয়াছেন, বায়হাক্বীর শুআবুল ঈমানেও এমনই বর্ণিত আছে। {১}

{১} জইফ জিদ্দান : শুআবুল ঈমান ২৮০৪, জইফ আল জামি ৩৬৮৬। কারণ এর সানাদে আবু সালিহ একজন দুর্বল রাবী। এই হাদিসটির তাহকীকঃ খুবই দুর্বল

১১৮৬. আমর ইবনি আত্বা [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেন, নাফি ইবনি যুবায়র [রাহিমাহুল্লাহ] তাঁকে সায়িব [রাদি.] এর নিকট পাঠিয়েছিলেন। তিনি যেন ঐসব জিনিস তাঁকে প্রশ্ন করেন যেসব জিনিস তাকে সলাতে আদায় করিতে দেখে মুআবিয়াহ্ তা করিতে বারণ করিয়াছেন। {তাই আম্‌র [রাহিমাহুল্লাহ] সায়িব [রাদি.]-এর নিকট গেলেন এবং তার থেকে এসব সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলেন।] তিনি বললেন, হ্যাঁ, একবার আমি আমীরে মুআবিয়ার সঙ্গে মাক্‌সূরায় জুমুআর সলাত আদায় করেছি। ঈমাম সালাম ফিরাবার পর আমি [ফার্‌য পড়ার স্থানেই] দাঁড়িয়ে গেলাম ও সুন্নাত সলাত আদায় করিতে শুরু করলাম। [আমীরে মুআবিয়াহ্ সলাত শেষ করে নিজের বাড়ীতে চলে গেলেন]। যাওয়ার সময় তিনি এক লোককে, আমাকে বলার জন্যে বলে পাঠালেন যে, ঐ সময় [জুমুআহ্ আদায়ের সময়] তুমি যা করেছ ভবিষ্যতে তুমি যেন তা না করো। যখন তুমি জুমুআর সলাত আদায় করিবে তখন ফার্‌য সলাতকে আর কোন সলাতর সঙ্গে মিশিয়ে ফেলবে না, যে পর্যন্ত না তুমি কোন কথাবার্তা বলো অথবা [মাসজিদ থেকে] বের হয়ে যাও। কারণ রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে আদেশ করিয়াছেন, আমরা যেন এক সলাতকে আর সলাতের সঙ্গে মিশিয়ে না ফেলি, যতক্ষণ পর্যন্ত না কথাবার্তা বলি অথবা মাসজিদ থেকে বের হয়ে না যাই। {১}

{১} সহীহ : মুসলিম ৮৬৩।সুন্নতের ফজিলত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

১১৮৭. আত্বা থেকে বর্ণিত হয়েছে হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] যখন মাক্কায় জুমুআর সলাত আদায় করিতেন [তখন জুমুআর ফার্‌য সলাত শেষ হবার পর] একটু সামনে এগিয়ে যেতেন এবং দু রাক্‌আত সলাত আদায় করিতেন। এরপর আবার সামনে এগিয়ে যেতেন ও চার রাক্‌আত সলাত আদায় করিতেন। আর তিনি যখন মাদীনাতে ছিলেন, জুমুআর সলাতের ফার্‌য আদায় করে নিজের বাড়ীতে চলে যেতেন। ঘরে দু রাক্আত সলাত আদায় করিতেন, মাসজিদে [ফার্‌জ সলাত ব্যতীত কোন] সলাত আদায় করিতেন না। এর কারণ সম্পর্কে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এমনই করিতেন।

আবু দাউদ, আর তিরমিজির বর্ণনার ভাষা হলো, আত্বা বললেন, আমি ইবনি উমারকে দেখেছি যে, তিনি জুমুআর পরে দু রাক্‌আত সলাত আদায় করে আবার চার রাক্‌আত আদায় করিতেন।{১}

{১} সহীহ : আবু দাউদ ১১৩০, আত তিরমিজি ৫২৩, সুনান আল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৫৯৪৬। সুন্নতের ফজিলত -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply