সুনানে নাসাঈ pdf – পর্ব হায়য ও ইস্তিহাযা – নিফাস ঋতু রক্ত বর্ণনা

সুনানে নাসাঈ pdf – পর্ব হায়য ও ইস্তিহাযা

সুনানে নাসাঈ pdf – পর্ব হায়য ও ইস্তিহাযা – নিফাস ঋতু রক্ত বর্ণনা >> সুনানে নাসাই শরিফের মুল সুচিপত্র দেখুন

পর্বঃ ৩, হায়য ও ইস্তিহাযা, হাদীস (৩৪৮ – ৩৯৫)

১.পরিচ্ছেদঃ হায়যের সূচনা এবং হায়যকে নিফাস বলা যায় কিনা
২.পরিচ্ছেদঃ ইস্তিহাযার বর্ণনাঃ রক্ত আরম্ভ হওয়া এবং তা বন্ধ হওয়া
৩.পরিচ্ছেদঃ যে নারীর প্রতি মাসে হায়যের দিন নির্দিষ্ট থাকে
৪.পরিচ্ছেদঃ হায়যের মুদ্দতের বর্ণনা
৫.পরিচ্ছেদঃ ইস্তিহাযাগ্রস্ত নারীর দুটি নামাজ একত্রিত করা আর যখন একত্রিত করিবে তখন তজ্জন্য গোসল করা প্রসঙ্গ
৬.পরিচ্ছেদঃ হায়ায ও ইস্তিহাযার রক্তের পার্থক্য
৭.পরিচ্ছেদঃ হলদে রং এবং মেটে রং
৮.পরিচ্ছেদঃ হায়যগ্রস্ত cনারীর সাথে যা করা বৈধ এবং আল্লাহ্‌ তাআলার নিম্নোক্ত বাণীর ব্যাখ্যা
৯.পরিচ্ছেদঃ আল্লাহ্‌ তাআলার নিষেধাজ্ঞা জানা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি যদি তার স্ত্রীর সাথে হায়য অবস্থায় সহবাস করে তবে তার উপর যে শাস্তি নির্ধারিত, তার বর্ণনা
১০.পরিচ্ছেদঃ হায়যগ্রস্ত নারীর সাথে তার হায়য বস্ত্রে একত্রে শয্যা গ্রহণ
১১.পরিচ্ছেদঃ একই কাপড়ের নিচে রিতুমতি স্ত্রীর সাথে পুরুষের শয্যা গ্রহণ
১২.পরিচ্ছেদঃ ঋতুমতি স্ত্রীর শরীরে শরীর মিলানো
১৩.পরিচ্ছেদঃ যখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর কোন স্ত্রী ঋতুমতি হইতেন তখন তিনি তার সাথে কি করিতেন
১৪.পরিচ্ছেদঃ ঋতুমতির সঙ্গে একত্রে খাদ্যগ্রহণ ও তার উচ্ছিষ্ট হইতে পান করা
১৫.পরিচ্ছেদঃ ঋতুমতি ভুক্তাবশেষ ব্যবহার করা
১৬.পরিচ্ছেদঃ ঋতুমতি স্ত্রীর কোলে মাথা রেখে পুরুষের কুরআন তিলওয়াত করা
১৭.পরিচ্ছেদঃ ঋতুমতি নারীদের নামাজ আদায় থেক অব্যাহতিপ্রাপ্তি
১৮.পরিচ্ছেদঃ ঋতুমতি নারীর খেদমত গ্রহণ
১৯.পরিচ্ছেদঃ ঋতুমতি নারীর মসজিদে চাদর বিছানো
২০.পরিচ্ছেদঃ ঋতুমতি স্ত্রী কর্তৃক মসজিদে ইতিকাফরত স্বামীর মাথা আঁচরানো
২১.পরিচ্ছেদঃ ঋতুমতি স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর মাথা ধুয়ে দেয়া
২২.পরিচ্ছেদঃ ঋতুমতি নারীদের ঈদে ও মুসলমানদের দুআয় উপস্থিত হওয়া
২৩.পরিচ্ছেদঃ যে নারী তাওয়াফে ইফাদার পরে ঋতুমতি হয়
২৪.পরিচ্ছেদঃ নিফাসওয়ালী মহিলা ইহরামের সময় কি করিবে
২৫.পরিচ্ছেদঃ নিফাসওয়ালী মহিলার জানাযার নামাজ
২৬.পরিচ্ছেদঃ ঋতুর রক্ত কাপড়ে লাগলে

১.পরিচ্ছেদঃ হায়যের সূচনা এবং হায়যকে নিফাস বলা যায় কিনা

৩৪৮. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর সঙ্গে বের হলাম, হজ্জ করা ব্যতীত আমাদের আর কোন উদ্দেশ্য ছিল না। যখন আমরা সারিফ নামক স্থানে উপনীত হলাম তখন ঋতুমতি হলাম। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমার নিকট আসলেন তখন আমি কাঁদছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমার কি হলো? তোমার কি নিফাস [হায়য] আরম্ভ হয়েছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ এ এমন একটি বিষয় যা আল্লাহ্‌ তাআলা আদম কন্যাদের জন্য অবধারিত করিয়াছেন। অতএব বায়তুল্লাহ্‌র তওয়াফ ব্যতীত হাজীগন যে সব কাজ করে থাকেন, তুমিও তা কর।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২.পরিচ্ছেদঃ ইস্তিহাযার বর্ণনাঃ রক্ত আরম্ভ হওয়া এবং তা বন্ধ হওয়া

৩৪৯. উরওয়া [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

কুরায়শ বংশের আসাদ গোত্রের ফাতিমা বিনত কায়স [রাঃআঃ] রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলিলেন যে, তার ইস্তিহাযা হয়। তিনি মনে করেন যে, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ এ একটি শিরা [শিরার রক্ত] বিশেষ। অতএব যখন হায়য আরম্ভ হইবে তখন নামাজ ছেড়ে দেবে। আর যখন তা বন্ধ হইবে তখন গোসল করিবে এবং তোমার ঐ রক্ত ধুয়ে ফেলবে। তারপর নামাজ আদায় করিবে।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৫০. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যখন হায়য আসে তখন নামাজ ছেড়ে দেবে, আর যখন তা বন্ধ হয়ে যায়, তখন গোসল করিবে।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৫১. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ উম্মে হাবীবা বিন্‌ত জাহ্‌শ [রাঃআঃ] রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর নিকট ফতওয়া চাইলেন; ইয়া রাসূলাল্লাহ [সাঃআঃ] আমার ইস্তিহাযা হয়। তিনি বলিলেন, এ একটি শিরা [শিরার রক্ত] বিশেষ। অতএব তুমি গোসল কর এবং নামাজ আদায় কর। এরপর তিনি প্রত্যেক নামাজের জন্য গোসল করিতেন।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩.পরিচ্ছেদঃ যে নারীর প্রতি মাসে হায়যের দিন নির্দিষ্ট থাকে

৩৫২. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ উম্মে হাবীবা [রাঃআঃ] রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে রক্ত সম্পর্কে প্রশ্ন করিলেন, তখন আয়িশাহ [রাঃআঃ] বললেনঃ আমি তার গামলাটি রক্তে পরিপূর্ণ দেখেছি। তখন রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাঁকে বললেনঃ যতদিন তোমার হায়য তোমাকে বিরত রাখে, ততদিন তুমি বিরত থাক। তারপর তুমি গোসল করিবে।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৫৩. বর্ণনাকারী হইতে বর্ণীত

অনুবাদ পাওয়া যায়নি

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৩৫৪. উম্মে সালামা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ এক মহিলা রাসূল [সাঃআঃ] -কে প্রশ্ন করলঃ আমার ইস্তিহাযা হয় আর আমি পাক হই না। আমি কি নামাজ ছেড়ে দেব? তিনি বললেনঃ না, বরং যে কয়টি দিবারাত্র তোমার হায়য থাকত, ততদিন তুমি নামাজ ছাড়বে। তারপর তুমি গোসল করিবে এবং পট্টি বাঁধবে, পরে নামাজ আদায় করিবে।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৫৫. উম্মে সালামা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর সময় এক মহিলার অবিরাম রক্তস্রাব হত। তার জন্য উম্মে সালামা [রাঃআঃ] রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর নিকট সমাধান চাইলেন। তখন রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ সে দেখবে ইস্তিহাযায় আক্রান্ত হওয়ার পূর্বে মাসের কত দিন কত রাত তার হায়য আসত। প্রতি মাসের ততদিন সময় সে নামাজ ছেড়ে দেবে। এ পরিমাণ সময় অতিবাহিত হলে সে গোসল করিবে, পরে কাপড় দ্বারা পট্টি বাঁধবে, তারপর নামাজ আদায় করিবে।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৪.পরিচ্ছেদঃ হায়যের মুদ্দতের বর্ণনা

৩৫৬. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আবদুর রহমান ইবনি আউফ [রাঃআঃ] -এর স্ত্রী উম্মে হাবীবা বিন্‌ত জাহশ [রাঃআঃ] ইস্তিহাযায় আক্রান্ত ছিলেন। পবিত্র হইতেন না। তাহাঁর ব্যপারটি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর নিকট বর্ণনা করা হলো। তিনি বললেনঃ তা হায়য নয়, বরং জরায়ুর আঘাতজনিত একটি রোগ। সে লক্ষ্য রাখবে ইতিপূর্বে যতদিন তার হায়য থাকত ততদিন সে নামাজ ছেড়ে দেবে। তারপর তার পরবর্তী অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখবে। পরে সে প্রত্যেক নামাজের সময় গোসল করিবে।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৫৭. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

জাহশের কন্যা সাত বছর ইস্তিহাযায় আক্রান্ত ছিলেন। তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট এ বিষয়ে প্রশ্ন করিলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ এটা হায়য নয়, বরং এটা শিরার রক্ত এবং তাকে নির্দেশ দিলেন যে, তিনি হায়যের সমপরিমাণ সময়ে নামাজ আদায় করবেন না। তারপর তিনি গোসল করবেন এবং নামাজ আদায় করবেন। তিনি প্রত্যেক নামাজের সময় গোসল করিতেন।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৫৮. উরওয়া [রহঃ] হইতে বর্ণীত

ফাতিমা বিনতে আবু হুবায়শ [রাঃআঃ] তাহাঁর নিকট বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট উপস্থিত হয়ে তার রক্ত নির্গত হওয়ার অভিযোগ করিলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাঁকে বললেনঃ এটা শিরার রক্ত মাত্র। তাই তুমি লক্ষ্য রাখবে যখন তোমার ঋতু আরম্ভ হইবে, তখন নামাজ ছেড়ে দেবে। আর যখন সময় অতিবাহিত হইবে, তখন তুমি পবিত্রতা অর্জন করিবে। পরে এক ঋতু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর হইতে আর এক ঋতুর সময় আসা পর্যন্ত নামাজ আদায় করিবে।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৫৯. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ ফাতিমা বিন্‌ত আবু হুরায়শ [রাঃআঃ] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেনঃ আমি ইস্তিহাযায় আক্রান্ত। সে কারণে আমি পবিত্র হই না। এই অবস্থায় আমি নামাজ ছেড়ে দেব কি? রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ না, এটা শিরার রক্ত মাত্র; হায়য নয়। অতএব যখন তোমার ঋতু আরম্ভ হইবে, তখন নামাজ ছেড়ে দেবে। আর যখন ঋতুর সময় অতিবাহিত হইবে, তখন তুমি রক্ত ধৌত করিবে এবং নামাজ আদায় করিবে।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫.পরিচ্ছেদঃ ইস্তিহাযাগ্রস্ত নারীর দুটি নামাজ একত্রিত করা আর যখন একত্রিত করিবে তখন তজ্জন্য গোসল করা প্রসঙ্গ

৩৬০. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সময়ে ইস্তিহাযায় আক্রান্ত কোন মহিলাকে বলা হলঃ এটা একটা অবাধ্য শিরা [যা হইতে ক্রমাগত রক্ত নির্গত হয়]। তাকে আদেশ করা হল, সে যেন যোহরের নামাজ শেষ ওয়াক্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করে এবং আসরের নামাজ প্রথম ওয়াক্তে আদায় করে, আর উভয় নামাজের জন্য একবার গোসল করে। আর মাগরিবের নামাজ বিলম্বে আদায় করে, ইশার নামাজ প্রথম ওয়াক্তে আদায় করে, আর উভয় নামাজের জন্য যেন একবার গোসল করে। আর ফজর নামাজের জন্য একবার গোসল করে।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৬১. যায়নাব বিনত জাহশ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বললাম যে, আমি ইস্তিহাযাগ্রস্ত। তিনি বললেনঃ সে তার হায়যের দিনগুলোতে নামাজ আদায় হইতে বিরত থাকিবে, পরে গোসল করিবে। যোহরের নামাজ দেরীতে এবং আসরের নামাজ প্রথম ওয়াক্তে গোসল করে আদায় করিবে এবং পুনরায় গোসল করে মাগরিবকে পিছিয়ে আর ইশাকে প্রথমভাগে আদায় করিবে এবং ফজরের জন্য একবার গোসল করিবে।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৬.পরিচ্ছেদঃ হায়ায ও ইস্তিহাযার রক্তের পার্থক্য

৩৬২. ফাতিমা বিন আবু হুরায়শ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি ইস্তিহাযাগ্রস্ত হলে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাঁকে বললেনঃ হায়যের রক্ত হয় কালো বর্ণের, যা চেনা যায়। এ সময় নামাজ হইতে বিরত থাকিবে। আর যদি হায়যের রক্ত না হয়, তবে উযূ করে নেবে। কেননা তা হচ্ছে শিরা থেকে নির্গত রক্তবিশেষ।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহীহ

৩৬৩. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

ফাতিমা বিনত আবু হুরায়শ [রাঃআঃ] ইস্তিহাযাগ্রস্ত ছিলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাঁকে বললেনঃ হায়যের রক্ত কালো বর্ণের, যা চেনা যায়। এমতবস্থায় তুমি নামাজ আদায় হইতে বিরত থাকিবে। আর যখন অন্য রক্ত হয় তখন উযূ করিবে এবং নামাজ আদায় করিবে।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহীহ

৩৬৪. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ ফাতিমা বিনত আবু হুরায়শ [রাঃআঃ] ইস্তিহাযাগ্রস্ত হলেন। তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলেনঃ ইয়া রসূলুল্লাহ! আমি ইস্তিহাযাগ্রস্ত। ফলে আমি পাক হই না – এমতাবস্থায় আমি কি নামাজ ছেড়ে দেব? রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ এটা শিরা হইতে নির্গত রক্ত, হায়য নয়। অতএব যখন হায়য দেখা দেবে, তখন নামাজ ছেড়ে দেবে, আর যখন ঐ সময় অতিবাহিত হইবে তখন তোমার শরীর হইতে রক্ত ধুয়ে নেবে এবং উযূ করে নামাজ আদায় করিবে। এটা শিরা হইতে নির্গত রক্ত, হায়য নয়। সনদের জনৈক বর্ণনাকারীকে প্রশ্ন করা হলো তাহলে গোসল? তিনি বললেনঃ এ বিষয়ে কেউ সন্দেহ পোষণ করেন না।

আবু আবদির রহমান [রহঃ] বলেন, হিশাম ইবনি উরওয়া [রহঃ] থেকে এ হাদিসখানা একাধিক বর্ণনাকারী বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু হাম্মাদ [রহঃ] ব্যতীত আর কেউ উযূ করে নামাজ আদায় করিবে এ কথাটি উল্লেখ করেন নি।সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৬৫. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

ফাতিমা বিন্‌ত আবু হুরায়শ [রাঃআঃ] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট এসে বললেনঃ ইয়া রসূলুল্লাহ! আমি ইস্তিহাযায় আক্রান্ত, ফলে আমি পবিত্র হই-না। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ এটা শিরা হইতে নির্গত রক্ত, হায়য নয়। অতএব যখন হায়য আসবে, তখন তুমি নামাজ আদায় হইতে বিরত থাকিবে, আর যখন ঐ সময় অতিবাহিত হইবে, তখন তোমার শরীর হইতে রক্ত ধুয়ে নামাজ আদায় করিবে।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

৩৬৬. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ ফাতিমা বিন্‌ত আবু হুবায়শ [রাঃআঃ] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেনঃ আমি পবিত্র হই না। আমি কি নামাজ আদায় করা ছেড়ে দেব? রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ এটা শিরা থেকে নির্গত রক্ত, হায়য নয়। অতএব যখন হায়য আরম্ভ হয় তখন নামাজ ছেড়ে দিবে, আর যখন তার সমপরিমাণ সময় অতিবাহিত হইবে, তখন তোমার শরীর হইতে রক্ত ধুয়ে নেবে এবং নামাজ আদায় করিবে।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৬৭. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

ফাতিমা বিনত আবু হুবায়শ [রাঃআঃ] বললেনঃ ইয়া রসূলুল্লাহ! আমি পাক হই না, আমি কি নামাজ আদায় ছেড়ে দেব? তিনি বললেনঃ না, এটা শিরা হইতে নির্গত রক্তবিশেষ।

খালিদ বলেনঃ আমি যা তার নিকট পাঠ করেছি, তাতে রয়েছে ঃতা হায়য নয়, যখন হায়য দেখা দেয় তখন তুমি নামাজ ত্যাগ করিবে; আর যখন তা শেষ হয়, তখন তোমার শরীর হইতে রক্ত ধুয়ে নেবে এবং নামাজ আদায় করিবে।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৭.পরিচ্ছেদঃ হলদে রং এবং মেটে রং

৩৬৮. মুহাম্মদ [ইবনি সিরীন] [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ উম্মে আতিয়্যা [রাঃআঃ] বলেছেনঃ আমরা হলদে রং এবং মেটে রংয়ের রক্তকে হায়যের কোন বস্তু বলে মনে করতাম না।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৮.পরিচ্ছেদঃ হায়যগ্রস্ত নারীর সাথে যা করা বৈধ এবং আল্লাহ্‌ তাআলার নিম্নোক্ত বাণীর ব্যাখ্যা

৩৬৯. আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ ইয়াহূদী নারীদের যখন হায়য আসত তখন তারা তাহাদের সাথে একত্রে পানাহার করত না, তাহাদের সাথে ঘরে একত্রে অবস্থানও করত না। সাহাবীগণ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে আল্লাহ্‌ তাআলা [আরবি] আয়াত নাযিল করিলেন। তারপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাদের আদেশ করলেনঃ তারা যেন তাহাদের সাথে একত্রে পানাহার করে এবং তাহাদের সাথে একই ঘরে বসবাস করে, আর যেন তাহাদের সাথে সহবাস ব্যতীত অন্য সব কিছু করে। এরপর ইয়াহূদীরা বলিতে লাগল, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের কোন ব্যাপারেই বিরোধিতা না করে ছাড়বেন না। তখন উসায়দ ইবনি হুযায়র [রাঃআঃ] এবং আব্বাদ ইবনি বিশ্‌র [রাঃআঃ] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে এ সংবাদ দিয়ে বলিলেন, তাহলে আমরা কি স্ত্রীদের সাথে হায়যের সময় সহবাস করব? তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে গেল। এমনকি আমরা ধারণা করলাম, তিনি তাহাদের প্রতি রাগান্বিত হয়েছেন। তখন তাঁরা উঠে চলে গেলেন। ইত্যবসরে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট হাদিয়ার দুধ আসল। তিনি উক্ত দুজনের খোঁজে লোক পাঠালেন। সে উভয়কে ফিরিয়ে আনল। তিনি তাঁদের পান করালেন। তখন বুঝা গেল যে, তিনি তাঁদের উপর রাগান্বিত হননি।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৯.পরিচ্ছেদঃ আল্লাহ্‌ তাআলার নিষেধাজ্ঞা জানা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি যদি তার স্ত্রীর সাথে হায়য অবস্থায় সহবাস করে তবে তার উপর যে শাস্তি নির্ধারিত, তার বর্ণনা

৩৭০. ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] থেকে বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি হায়য অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করে, তার ব্যাপারে হুকুম এই যে, সে এক দীনার অথবা অর্ধ দীনার সদকা করিবে।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০.পরিচ্ছেদঃ হায়যগ্রস্ত নারীর সাথে তার হায়য বস্ত্রে একত্রে শয্যা গ্রহণ

৩৭১. যায়নাব বিনত আবু সালামা [রহঃ] হইতে বর্ণীত

উম্মে সালামা [রাঃআঃ] তাহাঁর নিকট বর্ণনা করিয়াছেন যে, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সঙ্গে শায়িত ছিলাম। এমতাবস্থায় আমার হায়য দেখা দিলে আমি সরে পড়লাম এবং আমার হায়য বস্ত্র পরিধান করলাম। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে বললেনঃ তুমি হায়যগ্রস্ত হয়েছ কি? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি আমাকে ডাকলেন আর আমি তাহাঁর সঙ্গে একই চাদরে শয়ন করলাম।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১১.পরিচ্ছেদঃ একই কাপড়ের নিচে রিতুমতি স্ত্রীর সাথে পুরুষের শয্যা গ্রহণ

৩৭২. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বললেনঃ আমি এবং রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] একই চাদরে রাত্রি যাপন করতাম অথচ আমি ছিলাম ঋতুমতি। আমার কোন কিছু তাহাঁর শরীরে লাগলে তিনি শুধু ঐ স্থান ধুয়ে নিতেন, এর অধিক ধুতেন না। আর তাতেই তিনি নামাজ আদায় করিতেন।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১২.পরিচ্ছেদঃ ঋতুমতি স্ত্রীর শরীরে শরীর মিলানো

৩৭৩. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের কেউ ঋতুমতি হলে তাকে আদেশ করিতেন যেন সে ইযার শক্ত করে বাঁধে। পরে তিনি তার শরীরের সাথে শরীর লাগাতেন।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৭৪. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমাদের কেউ ঋতুমতি হলে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাকে ইযার পরার নির্দেশ দিতেন। তারপর তিনি তার দেহের সাথে দেহ মিলাতেন।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৩.পরিচ্ছেদঃ যখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর কোন স্ত্রী ঋতুমতি হইতেন তখন তিনি তার সাথে কি করিতেন

৩৭৫. জুমায় ইবনি উমায়র [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমি আমার আম্মা ও আমার খালার সাথে আয়িশাহ [রাঃআঃ] এর নিকট উপস্থিত হলাম। তাঁরা উভয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করিলেন, আপনাদের কেউ ঋতুমতি হলে তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কিরূপ করিতেন? তিনি বলিলেন, তখন তিনি আমাদের আদেশ করিতেন আমরা যেন প্রশস্ত ইযার পরিধান করি। তারপর তিনি তার স্তনসহ বক্ষদেশ জড়িয়ে ধরতেন।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ মুনকার

৩৭৬. মায়মুনা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর সহধর্মিণীদের কারো সাথে হায়য অবস্থায় শরীরের সাথে শরীর লাগাতেন, যখন তিনি [ঋতুমতি সহধর্মিণী] ইযার পরিহিত থাকতেন যা তাহাঁর উরু ও হাঁটুদ্বয়ের অর্ধেক পর্যন্ত পৌঁছতো।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৪.পরিচ্ছেদঃ ঋতুমতির সঙ্গে একত্রে খাদ্যগ্রহণ ও তার উচ্ছিষ্ট হইতে পান করা

৩৭৭. শুরায়হ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি আয়িশাহ [রাঃআঃ] কে প্রশ্ন করেন, স্ত্রী কি তার স্বামীর সঙ্গে হায়য অবস্থায় খাদ্যগ্রহণ করিতে পারে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে ডাকতেন, আর আমি তাহাঁর সঙ্গে একত্রে খাদ্যগ্রহণ করতাম, অথচ তখন আমি ঋতুমতি। তিনি একখানা গোস্তযুক্ত হাড় নিতেন আর তা খাওয়ার ব্যাপারে আমাকে বাধ্য করিতেন, আমি তা থেকে গোস্ত কামড়ে নিতাম, পরে তা রেখে দিতাম। তিনি তা হাতে নিয়ে নিজেও কামড়ে খেতেন আর আমি হাড়ের যেখানে আমার মুখ রাখতাম, তিনি সেখানেই তাহাঁর মুখ রাখতেন। আর তিনি পানীয় আনতে বলিতেন এবং তিনি তা হইতে নিজে পান করার পূর্বে আমাকে পান করার জন্য বাধ্য করিতেন। তখন আমি ঐ পাত্র নিয়ে তা থেকে পান করতাম তারপর তা রেখে দিতাম। তিনি তা হাতে নিতেন এবং তা হইতে পান করিতেন। তিনি তাহাঁর মুখ পেয়ালার ঐ স্থানেই রাখতেন যেখানে আমি আমার মুখ রাখতাম।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৭৮. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর মুখ ঐ স্থানে রাখতেন যেস্থান থেকে আমি পান করতাম আর তিনি আমার পান করার পর উদ্বৃত্ত পানি পান করিতেন অথচ তখন আমি ছিলাম ঋতুমতি।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৫.পরিচ্ছেদঃ ঋতুমতি ভুক্তাবশেষ ব্যবহার করা

৩৭৯. শুরায়হ [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমি আয়িশাহ [রাঃআঃ] কে বলিতে শুনিয়াছি, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে পানপাত্র দিতেন তখন আমি তা থেকে পান করতাম, অথচ তখন আমি ছিলাম ঋতুমতি। পরে আমি ঐ পাত্র তাঁকে প্রদান করতাম, তখন তিনি আমার মুখ রাখার স্থানটি তালাশ করে সেখানেই মুখ রাখতেন।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৮০. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমি পানপাত্র থেকে পান করতাম তখন আমি ছিলাম ঋতুমতি। তারপর আমি তা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট প্রদান করতাম, তিনি আমার মুখের স্থানে তাহাঁর মুখ রেখে পান করিতেন এবং ঋতুমতি অবস্থায় আমি গোস্তযুক্ত হাড় হইতে গোস্ত চিবাতাম আর তা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর হাতে প্রদান করতাম। তিনি আমার মুখ রাখার স্থানে নিজের মুখ রাখতেন।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৬.পরিচ্ছেদঃ ঋতুমতি স্ত্রীর কোলে মাথা রেখে পুরুষের কুরআন তিলওয়াত করা

৩৮১. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর মাথা আমাদের কারো কোলে স্থাপিত থাকত অথচ সে ছিল তখন ঋতুমতি। আর এ অবস্থায় তিনি কুরআন তিলাওয়াত করিতেন।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

১৭.পরিচ্ছেদঃ ঋতুমতি নারীদের নামাজ আদায় থেক অব্যাহতিপ্রাপ্তি

৩৮২. মুআযা আদাবিয়্যাহ [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ একজন মহিলা আয়িশাহ [রাঃআঃ] কে জিজ্ঞাসা করলঃ ঋতুমতি নারী কি নামাজ কাযা পড়বে। তিনি বললেনঃ তুমি কি খারিজী মহিলা? আমরা তো রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর উপস্থিতিতে ঋতুমতি হতাম আর তখন আমরা নামাজ আদায় করতাম না এবং আমাদের তা কাযা করিতেও বলা হতো না।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৮.পরিচ্ছেদঃ ঋতুমতি নারীর খেদমত গ্রহণ

৩৮৩. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মসজিদে ছিলেন, হঠাৎ তিনি বলিলেন, হে আয়িশাহ! আমাকে কাপড়খানা দাও। তখন আয়িশাহ [রাঃআঃ] বলিলেন, আমি নামাজ আদায় করছি না। তিনি বলিলেন, হায়য তোমার হাতে নয়। তখন আয়িশাহ [রাঃআঃ] তাঁকে তা প্রদান করিলেন।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৮৪. কাসিম ইবনি মুহাম্মদ [রহঃ] হইতে বর্ণীত

আয়িশাহ [রাঃআঃ] বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে বললেনঃ আমাকে মসজিদ হইতে চাদরখানা এনে দাও। আমি বললাম, আমি তো ঋতুমতি, তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ হায়য তোমার হাতে নয়।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৯.পরিচ্ছেদঃ ঋতুমতি নারীর মসজিদে চাদর বিছানো

৩৮৫. মানবূয [রহঃ] হইতে বর্ণীত

মায়মূনা [রাঃআঃ] বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের কারো কোলে মাথা রেখে কুরআন তিলাওয়াত করিতেন অথচ সে ছিল তখন ঋতুমতি। আর আমাদের মধ্যে কেউ মসজিদে হায়য অবস্থায় তাহাঁর চাদর বিছিয়ে আসত।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

২০.পরিচ্ছেদঃ ঋতুমতি স্ত্রী কর্তৃক মসজিদে ইতিকাফরত স্বামীর মাথা আঁচরানো

৩৮৬. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন যে, তিনি ঋতুমতি অবস্থায় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর মাথায় চিরুণী করিতেন আর তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইতিকাফে থাকতেন। সেখান থেকে তাহাঁর দিকে মাথা বাড়িয়ে দিতেন আর তিনি {আয়িশাহ [রাঃআঃ]} থাকতেন হুজরায়।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২১.পরিচ্ছেদঃ ঋতুমতি স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর মাথা ধুয়ে দেয়া

৩৮৭. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইতিকাফ অবস্থায় আমার দিকে তাহাঁর মাথা বাড়িয়ে দিতেন আর আমিও ঋতুমতি অবস্থায় তা ধুয়ে দিতাম।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৮৮. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইতিকাফ অবস্থায় মসজিদ থেকে আমার দিকে তাহাঁর মাথা বের করে দিতেন আর ঋতুমতি অবস্থায় তা ধুয়ে দিতাম।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৮৯. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমি ঋতুমতি অবস্থায় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর মাথায় চিরুণী করে দিতাম।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২২.পরিচ্ছেদঃ ঋতুমতি নারীদের ঈদে ও মুসলমানদের দুআয় উপস্থিত হওয়া

৩৯০. হাফসা {১} [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ উম্মে আতিয়্যা [রাঃআঃ] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর নাম উচ্চারণ করলেই বলেতেনঃ আমার পিতা উৎসর্গিত হোক। একদা আমি জিজ্ঞাসা করলামঃ আপনি কি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে এরূপ বলিতে শুনেছেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, আমার পিতা উৎসর্গিত হোক। তিনি বলেছেন, বালেগা হওয়ার নিকটবর্তী বয়েসর বালিকা, অন্তঃপুরবাসিনী ও ঋতুমতি মহিলাগণ নেককাজে এবং মুসলমানদের দোয়ার মজলিসে উপস্থিত হইতে পারে, তবে ঋতুমতি মহিলাগণ নামাজের স্থান থেকে দূরে থাকিবে।

{১} হাফসা বিনত সিরীন।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৩.পরিচ্ছেদঃ যে নারী তাওয়াফে ইফাদার পরে ঋতুমতি হয়

৩৯১. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে বললেনঃ সফিয়া বিন্‌ত হুয়াই ঋতুবতী হয়েছেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ হয়তো সে আমাদের আটকে রাখবে, সে কি তোমাদের সঙ্গে কাবা শরীফের তাওয়াফ করেনি? তিনি উত্তর দিলেন হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তাহলে তোমরা বের হয়ে পড়।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৪.পরিচ্ছেদঃ নিফাসওয়ালী মহিলা ইহরামের সময় কি করিবে

৩৯২. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

আসমা বিনত উমায়স নিফাসওয়ালী হলেন, তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আবু বকর [রাঃআঃ] -কে বললেনঃ তাকে বল, সে যেন গোসল করে নেয় এবং ইহরাম বাঁধে।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৫.পরিচ্ছেদঃ নিফাসওয়ালী মহিলার জানাযার নামাজ

৩৯৩. সামুরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর সঙ্গে উম্মে কাবের জানাযার নামাজ আদায় করেছি। তিনি নিফাস অবস্থায় ইনতেকাল করেছিলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নামাজে তাহাঁর লাশের মাঝামাঝি স্থানে দাঁড়িয়েছিলেন।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৬.পরিচ্ছেদঃ ঋতুর রক্ত কাপড়ে লাগলে

৩৯৪. আসমা বিন্‌ত আবু বকর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

জনৈক মহিলা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে ঋতুর রক্ত কাপড়ে লাগলে কি করিতে হইবে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করিল। তিনি বললেনঃ তা খুঁটবে পরে তা আঙ্গুল দ্বারা মলবে। তারপর পানি ঢেলে ধুয়ে নিবে এবং তাতেই নামাজ আদায় করিবে।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৯৫. আদী ইবনি দীনার [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমি শুনিয়াছি, উম্মে কায়স বিন্‌ত মিহসান [রাঃআঃ] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে জিজ্ঞাসা করিলেন, ঋতুর রক্ত কাপড়ে লাগলে কি করবেন? তিনি বললেনঃ কাঠ দ্বারা ঘষে নেবে। তারপর পানি ও কুলপাতা দ্বারা ধুয়ে ফেলবে।

সুনানে নাসাঈ PDF – হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

By ইমাম নাসাঈ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply