সুদ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এবং এর কঠিন শাস্তির প্রসঙ্গ

সুদ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এবং এর কঠিন শাস্তির প্রসঙ্গ

 সুদ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এবং এর কঠিন শাস্তির প্রসঙ্গ >> বুলুগুল মারাম এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায়-৩ঃ সুদ

পরিচ্ছেদ ০১. সুদের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এবং এর কঠিন শাস্তির প্রসঙ্গ
পরিচ্ছেদ ০২. সুদী লেনদেনের প্রকার এবং পন্য বিনিময়ের পদ্ধতি
পরিচ্ছেদ ০৩. পরস্পর বিনিময়ে একই জাতীয় পণ্যে অতিরিক্ত গ্রহণ হারাম
পরিচ্ছেদ ০৪. নির্দিষ্ট পরিমাণের বিনিময়ে অনির্দিষ্ট বস্তু লেনদেনের বিধান
পরিচ্ছেদ ০৫. খাদ্যের বিনিময়ে খাদ্য বিক্রির বিধান
পরিচ্ছেদ ০৬. এক পণ্যের সাথে অন্য পণ্য মিলিত থাকাবস্থায় লেনদেনের বিধান
পরিচ্ছেদ ০৭. বাকীতে প্রাণীর বদলে প্রাণী বিক্রির বিধান
পরিচ্ছেদ ০৮. ঈনা ক্রয় বিক্রয়ের বিধান
পরিচ্ছেদ ০৯. কারও জন্য সুপারিশ করার বিনিময়ে হাদিয়া গ্রহণ করার বিধান
পরিচ্ছেদ ১০. ঘুষের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা
পরিচ্ছেদ ১২. মুযাবানাহ নামক ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ
পরিচ্ছেদ ১৩. শুকনো খেজুরের বিনিময়ে তাজা খেজুর বিক্রি করার বিধান
পরিচ্ছেদ ১৪. ঋণের পরিবর্তে ঋণ বিক্রয় করা নিষেধ

পরিচ্ছেদ ০১. সুদের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এবং এর কঠিন শাস্তির প্রসঙ্গ

৮২৯ -জাবির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন- নবী [সাঃআঃ] সুদগ্রহীতা, সুদদাতা, সুদ লেন-দেনের লেখক ও সাক্ষীদ্বয়কে লানত করিয়াছেন। আর তিনি তাহাদের সকলকে সমান [অপরাধী] বলেছেন। {৮৮২}

{৮৮২} মুসলিম ১৫৯৮, আহমাদ ১৩৮৫১। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮৩০ -বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ

বুখারিতেও আবূ জুহাইফাহ থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। {৮৮৩}

{৮৮৩} বুখারি ২০৮৬, ২২৩৮, ৫৩৪৭, ৫৯৪৫, আবূ দাউদ ৩৬৮৩, আহমাদ ১৮২৮১, ১৮২৮৮। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮৩১ – আবদুল্লাহ বিন মাস`ঊদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি নবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি বলেছেন – সুদের সত্তরটি স্তর [প্রকারভেদ] রয়েছে। তার মধ্যে সর্বাপেক্ষা ছোটটি হচ্ছে – কোন ব্যক্তি তার মা বিবাহ করার ন্যায় আর কোন মুসলিম ভাই – এর সম্মান হানী করাও বড় ধরনের সুদের সমতুল্য [পাপ কাজ]। – ইবনু মাযাহ সংক্ষিপ্তভাবে; হাকিম পূর্ণভাবে বর্ণনা করে সহিহ বলেছেন। {৮৮৪}

{৮৮৪} ইবনু মাযাহ ২২৭৫, হাকিম [২/৩৭]। হাদিসের প্রকাশ্য সনদ সহিহ কিন্তু মাতানে ত্রুটি আছে, তাওযিহুল আহকাম ৪/৩৭২ পৃঃ। হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ০২. সুদী লেনদেনের প্রকার এবং পন্য বিনিময়ের পদ্ধতি

৮৩২ -আবূ সাঈদ খুদরী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, সমান পরিমাণ ছাড়া তোমরা সোনার বদলে সোনা বিক্রি করিবে না, একটি অপরটি হইতে কম-বেশি করিবে না। {৮৮৫} সমান ছাড়া তোমরা রূপার বদলে রূপা বিক্রি করিবে না ও একটি অপরটি হইতে কম-বেশি করিবে না। আর নগদ মুদ্রার বিনিময়ে বাকী মুদ্রা বিক্রি করিবে না। {৮৮৬}

{৮৮৫} [আরবী] শব্দের অর্থঃ [আরবী] অর্থাৎ প্রাধান্য না দেওয়া। {৮৮৬} বুখারি ২১৭৬, ২১৭৭, ২১৭৯, মুসলিম ১৫৮৪, ১৫৯৬, তিরমিজি ১১৬২, নাসায়ী ৪৫৬৫, ৪৫৭০, ইবনু মাযাহ ২২৫৭, আহমাদ ১০৬২৩, ১০৬৭৮, ১১০৮৮, মালিক ১৩২৪।ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮৩৩ -উবাদাহ বিন সামিত [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন- সোনার দ্বারা সোনা, রূপার দ্বারা রূপা, গমের বদলে গম, যবের বদলে যব, খেজুরের বদলে খেজুর ও লবণের বদলে লবণ লেনদেন [কম-বেশি না করে] একই রকমে সমপরিমাণে ও হাত বাঁ হাত অর্থাৎ নগদে বিক্রয় চলবে। যখন ঐ বস্তুগুলোর মধ্যে প্রকারভেদ থাকিবে তখন নগদে তোমরা ইচ্ছানুযায়ী বিক্রয় কর। {৮৮৭}

{৮৮৭} মুসলিম ১৫৮৭, তিরমিজি ১১৬১, নাসায়ী ৪৫৬০, ৪৫৬১, ৪৫৬২, আবূ দাউদ ৩৩৪৯, ইবনু মাযাহ ২২৫৪, আহমাদ ২২১৭৫, ২২২১৭, দারেমী ২৫৭৯। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮৩৪ -আবূ হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন- সোনার পরিবর্তে সোনার [লেনদেন] ওজনে সমানে সমানে হইবে আর রূপা, রূপার পরিবর্তে ওজনে বরাবর হইতে হইবে। যে ব্যক্তি এ সবের লেনদেনে বেশি দেবে বা বেশি নেবে তা সুদ বলে গণ্য হইবে। {৮৮৮}

{৮৮৮} মুসলিম ১৫৮৮, নাসায়ী ৪৫৫৯, ৪৫৬৭, ইবনু মাযাহ ২২৫৫, আহমাদ ৭১৩১, ৯৯২০, মুয়াত্তা মালেক ১৩২৩। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৩. পরস্পর বিনিময়ে একই জাতীয় পণ্যে অতিরিক্ত গ্রহণ হারাম

৮৩৫ -আবূ সাঈদ খুদরী [রাঃআঃ] ও আবূ হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ] এক ব্যক্তিকে খায়বারে তহসীলদার নিযুক্ত করেন। সে জানীব নামক [উত্তম] খেজুর নিয়ে উপস্থিত হলে আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ] জিজ্ঞেস করিলেন, খায়বারের সব খেজুর কি এ রকমের? সে বলিল, না, আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রসূল! এরূপ নয়, বরং আমরা দু` সা` এর পরিবর্তে এ ধরনের এক সা` খেজুর নিয়ে থাকি এবং তিন সা` এর পরিবর্তে এক দু` সা`। তখন আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ] বলিলেন, এরূপ করিবে না। বরং মিশ্রিত খেজুর দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করে দিরহাম দিয়ে জানীব খেজুর ক্রয় করিবে এবং তিনি বলিলেন, ওজন করা হয় এমন বস্তুর লেনদেন এরূপভাবে হইবে। মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, এভাবেই এর পরিমাপ করিতে হইবে। {৮৮৯}

{৮৮৯} বুখারি ২২০১, ২২০৩, ৪২৪৭, ৭৩৫১, মুসলিম ১৫৯৩, নাসায়ী ৪৫৫৩, ৪৫৫৯, ইবনু মাযাহ ২২৫৫, ২২৫৬, আহমাদ ১০৬৯১, ১১০২০, মুয়াত্তা মালেক ১৩১৪, ১৩১৫, দারেমী ২৫৭৭। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৪. নির্দিষ্ট পরিমাণের বিনিময়ে অনির্দিষ্ট বস্তু লেনদেনের বিধান

৮৩৬ -জাবির বিন `আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নির্দিষ্ট পরিমাণ খেজুরের বদলে খেজুরের ঐরূপ স্তুপ বিক্রয় করিতে নিষেধ করিয়াছেন যার কোন পরিমাণ জানা নেই। {৮৯০}

{৮৯০} মুসলিমে [আরবী] এর বদলে [আরবী] রয়েছে। মুসলিম ১৫৩০, নাসায়ী ৪৫৪৭। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৫. খাদ্যের বিনিময়ে খাদ্য বিক্রির বিধান

৮৩৭ -মা`মার বিন `আবদিল্লাহ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেনঃ আমি রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] -কে বলিতে শুনিয়াছি, খাদ্য বস্তুর বদলে- বরাবর, সমানে সমান লেনদেন হইবে। সাহাবী বলেছেন- আমাদের তৎকালীন সাধারণ খাদ্য বস্তু ছিল যব। {৮৯১}

{৮৯১} মুসলিম ১৫৯১, নাসাঈ ৪৫৭৩, ৪৫৭৪, আবূ দাঊদ ৩৩৫১, ৩৩৫২, ৩৩৫৩, আহমাদ ২৩৪২১, ২৩৪৪২, ২৩৪৪৮। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৬. এক পণ্যের সাথে অন্য পণ্য মিলিত থাকাবস্থায় লেনদেনের বিধান

৮৩৮ -ফুযালাহ বিন `উবাইদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, খায়বার বিজয়ের [ঐতিহাসিক] দিবসে আমি একখানা হার বারো দিনারের বদলে খরিদ করেছিলাম। তাতে সোনা ও ছোটা দানা বা পুঁতি [মূল্যবান পাথর] ছিল। ঐগুলোকে আমি পৃথক করে খুলে ফেলায় {৮৯২} তাতে আমি বারো দিনারের অধিক [সোনা] পেলাম। এ সংবাদ আমি নবী [সাঃআঃ] -কে দিলাম। তিনি বলিলেন, এটিকে খোলার পূর্বে বিক্রয় করা যাবে না। {৮৯৩}

{৮৯২} অর্থাৎ আমি সোনাকে এক পার্শ্বে এবং নাগিনা [মূল্যবান পাথর] কে এক জায়গায় রাখলাম। {৮৯৩} মুসলিম ১৫৯১, নাসায়ী ৪৫৭৩, ৪৫৭৪, আবূ দাঊদ ৩৩৫১, ৩৩৫২, ৩৩৫৩, আহমাদ ২৩৪২১, ২৩৪২২। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৭. বাকীতে প্রাণীর বদলে প্রাণী বিক্রির বিধান

৮৩৯ -সামুরাহ বিন জুনদুব [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

নবী [সাঃআঃ] প্রাণীর বদলে প্রাণী বাকীতে বিক্রয় করিতে নিষেধ করিয়াছেন। – তিরমিজি ও ইবনু জারূদ একে সহিহ বলেছেন। {৮৯৪}

{৮৯৪} তিরমিজি ১২৩৭, নাসায়ী ৪৬২০, আবূ দাঊদ ৩৩৫৬, ইবনু মাযাহ ২২৭০, আহমাদ ১৯৬৩০, ৬৯৩, দারেমী ২৫৬৪। হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৮৪০ -আবদুল্লাহ বিন `আম্‌র [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

নবী [সাঃআঃ] তাকে একটি সৈন্যদলের প্রস্তুরি জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তখন উট নিঃশেষিত, ফলে তিনি তাকে সাদাকাহর উটের উপর উট সংগ্রহের আদেশ দিলেন। বর্ণনাকারী [সাহাবী] বলছেন, আমি সদাকাহর উট এলে একটি উটের বদলে দু`টি উট দেব বলে উট সংগ্রহ করিতে লাগলাম। – এর রাবীগণ নির্ভরযোগ্য। {৮৯৫

{৮৯৫} হাকিম ২য় খণ্ড ৫৬, ৫৭, বাইহাক্বী ৫ম খণ্ড ২৮৭-২৮৮। হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

পরিচ্ছেদ ০৮. `ঈনা` ক্রয় বিক্রয়ের বিধান

৮৪১ -ইবনু `উমার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন- আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে বলিতে শুনিয়াছি, যখন তোমরা `ঈনা [নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে পুনঃ মূল্য কম দিয়ে ক্রেতার নিকট হইতে ঐ বস্তু ফেরত নিয়ে] কেনা-বেচা করিবে আর গরুর লেজ ধরে নেবে এবং চাষবাসেই তৃপ্ত থাকিবে আর আল্লাহ্‌র পথে জিহাদ [সংগ্রাম] করা বর্জন করিবে তখন আল্লাহ তোমাদেরকে অবমাননার কবলে ফেলবেন আর তোমাদের দ্বীনে প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত তোমাদের উপর থেকে এটা অপসারিত করবেন না।– আবূ দাঊদ নাফি` কর্তৃক বর্ণিত। এর সানাদে ত্রুটি রয়েছে; আহমাদেও তদ্রূপ আতা কর্তৃক বর্ণিত; এর বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য; ইবনু কাত্তান এটিকে সহিহ বলেছেন। {৮৯৭}

{৮৯৭} আবূ দাঊদ ৩৪৬২, আহমাদ ৮৪১০, ৪৯৮৭, ২৭৫৭৩। হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৯. কারও জন্য সুপারিশ করার বিনিময়ে হাদিয়া গ্রহণ করার বিধান

৮৪২ – আবূ উমামাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেছেন, যে ব্যক্তি তার কোন ভায়ের জন্য সুপারিশ করিল, অতঃপর তার জন্য হাদিয়া দিল তারপর সুপারিশকারী তা গ্রহণ করিল, তাহলে সে সুদেরই এক বড় দরজায় উপনীত হল।– এর সানাদটি আলোচনা সাপেক্ষ। {৮৯৮}

{৮৯৮} আবূ দাউদ ৩৫৪১, আহমাদ ২১৭৪৮। বিন বায হাশিয়া বুলুগুল মারাম ৫০৫ গ্রন্থে একে হাসান লিগাইরিহী বলেছেন। ইমাম শওকানী আদ দুরারী আল মাযীয়া ৩০৫, নাইলুল আওত্বার ৯/১৭২ গ্রন্থে বলেন, এর সনদে আশ শামির দুই গোলাম, আল কাসিম বিন আবদুর রহমান আবূ আবদুর রহমান আল আমুবী রয়েছে যারা বিতর্কিত। শাইখ আলবানী সহিহ আবূ দাঊদ ৩৫৪১, সহীহুল জামে ৬৩১৬, গ্রন্থদ্বয়ে একে হাসান বলেছেন। তবে সিলসিলাহ সহীয়াহ ৩৪৬৫ গ্রন্থে একে সহিহ বলেছেন। আত তালীকাতুর রযীয়্যাহ ২/৫৩০ গ্রন্থে বলেন, এর সকল রাবী বিশ্বস্ত ও তাঁরা মুসলিমের বর্ণনাকারী। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ১০. ঘুষের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা

৮৪৩ -আবদুল্লাহ বিন্‌ `আম্‌র বিন্‌ আস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ঘুষ দাতা ও ঘুষ গ্রহীতা উভয়কেই অভিসম্পাত করিয়াছেন। – তিরমিজি একে সহিহ বলেছেন। {৮৯৯}

{৮৯৯} আবূ দাউদ ৩৫৮০, তিরমিজি ১৩৩৭, ইবনু মাযাহ ২৩১৩, আহমাদ ৬৪৯৬, ৬৭৯১। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ১২. `মুযাবানাহ` নামক ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ

৮৪৪ -ইবনু `উমার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ] মুযাবানা নিষেধ করিয়াছেন, আর তা হলো বাগানের ফল বিক্রয় করা। খেজুর হলে মেপে শুকনো খেজুরের বদলে, আঙ্গুর হলে মেপে কিসমিসের বদলে, আর ফসল হলে মেপে খাদ্যের বদলে বিক্রি করা। তিনি এসব বিক্রি নিষেধ করিয়াছেন। {৯০০}

{৯০০} বুখারি ১৪৮৬, ২১৭১, ২১৭৩, ২১৮৪, ২২০৫, মুসলিম ১৫৩৪, ১৫৩৮, ১৫৩৯, তিরমিজি ১২২৬, ১২২৭, নাসায়ী ৩৯২১, ৪৫১৯, ৪৫২০, আবূ দাঊদ ৩৩৬১, ৩৩৬৭, ইবনু মাযাহ ২২১৪, ২২৬৫, ২২৬৮, আহমাদ ৪৪৭৬, ৪৪৭৯, ৪৫১১, মুয়াত্তা মালেক ১৩০৩, ১৩১৭, দারেমী ২৫৫৫। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ১৩. শুকনো খেজুরের বিনিময়ে তাজা খেজুর বিক্রি করার বিধান

৮৪৫ -`দ বিন আবূ আক্কাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন- আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে শুকনা খেজুরের সাথে তাজা খেজুরের বিনিময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিতে শুনিয়াছি। তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ তাজা খেজুর শুকালে কি কমে যায়? লোকজন বলেন, হাঁ। তিনি এ জাতীয় লেনদেন করিতে নিষেধ করেন।

– ইবনু মাদীনী, তিরমিজি, ইবনু হিব্বান ও হাকিম একে সহিহ বলেছেন। {৯০১}, {৯০১} আবূ দাঊদ ৩৩৫৯, তিরমিজি ১২২৫, নাসায়ী ৪৫৪৫, ইবনু মাযাহ ২২৬৪, আহমাদ ১৫১৮, ১৫৪৭, মুয়াত্তা মালেক ১৩১৬। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ১৪. ঋণের পরিবর্তে ঋণ বিক্রয় করা নিষেধ

৮৪৬ -ইবনু `উমার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

নবী [সাঃআঃ] কালয়ী দ্বারা কালায়ী অর্থাৎ ঋণের পরিবর্তে ঋণ বিক্রয় করিতে নিষেধ করিয়াছেন। ইসহাক, বায্‌যার দুর্বল সানাদে [রাঃআঃ]। {৯০২}

{৯০২} বিন বায হাশিয়া বুলুগুল মারাম ৫০৮ বলেন, ইবরাহীম বিন আবূ ইয়াহইয়া থেকে হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে, যিনি জঈফ। মাজমুআ ফাতাওয়া ১৯/৪২ গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন। ইবনু উসাইমীন বুলুগুল মারামের শরাহ ৪/৪৯ গ্রন্থেও একে দুর্বল বলেছেন। ইমাম শওকানী নাইলুল আওত্বার ৫/২৫৪ গ্রন্থ বলেন, মূসা বিন উবাইদাহ আর রাবযী এটি এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। ইমাম আহমাদ বলেন, আমরা তার থেকে হাদিস বর্ণনা বৈধ মনে করি না। শাইখ আলবানী তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ ২৭৯২, ইরওয়াউল গালীল ১৩৮২ গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply