চাঁদ দেখে সিয়াম পালন করা, চাঁদ দেখে ইফতার করা

চাঁদ দেখে সিয়াম পালন করা, চাঁদ দেখে ইফতার করা

চাঁদ দেখে সিয়াম পালন করা, চাঁদ দেখে ইফতার করা >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

২. অধ্যায়ঃ চাঁদ দেখে সিয়াম পালন করা, চাঁদ দেখে ইফতার করা এবং মাসের প্রথম বা শেষ দিন মেঘাছন্ন থাকলে ত্রিশ দিনে মাস পুরা করা।

২৩৮৮

আব্দুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] রমজান মাস প্রসঙ্গে আলোচনা করিলেন। তিনি বলিলেন, তোমরা [রমাযানের] চাঁদ না দেখে রোযা শুরু করিবে না এবং চাঁদ [শাও্‌ওয়াল মাসের চাঁদ] না দেখা পর্যন্ত ইফতারও করো না। আর আকাশ মেঘাছন্ন থাকলে ত্রিশদিন পূর্ণ কর। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩৬৫, ইসলামিক সেন্টার- ২৩৬৬]

২৩৮৯

ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] রমজান সম্পর্কে আলোচনা করিলেন। তিনি এক হাতের উপর অন্য হাত মেরে [ইঙ্গিত করে] বলিলেন, মাস এ রকম, এ রকম এবং তৃতীয়বারে বুড়ো আঙ্গুলটি বন্ধ করে হাত মারলেন [অর্থাৎ মাস ঊনত্রিশ দিনে]। তিনি পুনরায় বলিলেন, তোমরা চাঁদ দেখে সিয়াম পালন কর এবং চাঁদ দেখে ইফতার কর [অর্থাৎ ঈদ কর]। আর যদি আকাশ মেঘে ঢাকা থাকে তাহলে মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ কর। {১} [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩৬৬, ইসলামিক সেন্টার- ২৩৬৭]

{১} অর্থাৎ ২৯শে শাবান ঝড় বৃষ্টির কারণে চাঁদ না দেখা যায় তবে শাবান মাস ত্রিশ পূর্ণ করে পরের দিন থেকে সওম পালন শুরু করিবে। অনুরূপভাবে ২৯শে রমাযানে আকাশ মেঘলা থাকার ফলে যদি চন্দ্র দৃষ্টিগোচর না হয় তবে রমজান ৩০ পূর্ণ করে পরের দিন ঈদুল ফিতর উদযাপন করিবে। অধিকাংশ মুহাদ্দিস এ হাদীসের এই অর্থ করিয়াছেন এবং অন্যান্য হাদীস ও বর্ণনা এ অর্থের পৃষ্টপোষকতা করে।

২৩৯০

উবায়দুল্লাহ [রাদি.] থেকে এ সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

আবু উসামাহ্ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এতে আছেঃ মাস এরূপ, এরূপ এবং এরূপ। তিনি আরো বলেন, যদি আকাশ মেঘাচছন্ন থাকে তাহলে ত্রিশদিন পূর্ণ কর। হাদীসটি আবু উসামাহ্ কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩৬৭, ইসলামিক সেন্টার- ২৩৬৮]

২৩৯১

উবায়দুল্লাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] রমজান মাসের কথা আলোচনা করে বলিলেন, মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয়। এ সময় তিনি তাহাঁর হস্তদ্বয়ের আঙ্গুল দ্বারা ইঙ্গিত করে বলিলেন, মাস এতো দিনে হয়, মাস এতো দিনে হয়। তারপর বলিলেন, তোমরা পূর্ণ কর। কিন্ত ত্রিশ দিনের কথা উল্লেখ করেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩৬৮, ইসলামিক সেন্টার- ২৩৬৯]

২৩৯২

উবায়দুল্লাহ [রাদি.] থেকে এ সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] রমজান মাস সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে বলেনঃ মাস [কোন কোন সময়] ঊনত্রিশ দিনেও হয়ে থাকে। মাস এরূপ, এরূপ এবং এরূপ। তিনি পুনরায় বলেন, মাস গণনা কর। কিন্তু তিনি ত্রিশ দিনের কথা বলেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩৬৯, ইসলামিক সেন্টার- ২৩৭০]

২৩৯৩

ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ সাধারণত মাস ঊনত্রিশ দিনে হয়ে থাকে। তাই [রমাযানের] চাঁদ না দেখে সিয়াম পালন করো না এবং ইফতারও করো না। আর আকাশ মেঘে ঢাকা থাকলে মাসের ত্রিশদিন পূর্ণ কর। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩৭০, ইসলামিক সেন্টার- ২৩৭১]

২৩৯৪

ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ মাস ঊনত্রিশ দিনে হয়ে থাকে। তাই তোমরা নতুন চাঁদ দেখে সিয়াম রাখা শুরু করো এবং নতুন চাঁদ [শাও্‌ওয়ালের চাঁদ] দেখে ইফতার কর [ঈদ কর]। আর আকশ মেঘে ঢাকা থাকলে মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ কর”। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩৭১, ইসলামিক সেন্টার- ২৩৭২]

২৩৯৫

আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছি, তোমরা চাঁদ দেখে সিয়াম পালন কর [রাখা শুরু কর] এবং চাঁদ দেখে ইফতার কর। আর যদি আকাশ মেঘাছন্ন থাকে তাহলে ত্রিশ দিনে মাস পূর্ণ কর। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩৭২, ইসলামিক সেন্টার- ২৩৭৩]

২৩৯৬

ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছিঃ এত দিনে, এত দিনে এবং এত দিনে মাস হয়। তৃতীয়বার তিনি তাহাঁর বৃব্ধাঙ্গুলটি বন্ধ করে রাখলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩৭৩, ইসলামিক সেন্টার- ২৩৭৪]

২৩৯৭

ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছি, ঊনত্রিশ দিনেও মাস [পূর্ণ] হয়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩৭৪, ইসলামিক সেন্টার- ২৩৭৫]

২৩৯৮

আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] এর সূত্রে নবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মাস এতো দিনে, এতো দিনে ও এতো দিনে হয়ে থাকে। এ সময় তিনি প্রথমে দশ আঙ্গুলে, দ্বিতীয়বার দশ আঙ্গুলে এবং তৃতীয়বার নয় আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩৭৫, ইসলামিক সেন্টার- ২৩৭৬]

২৩৯৯

ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ এত এত এবং এত দিনেও মাস হয়। তিনি দুবার হাত মেরে তাহাঁর সব আঙ্গুলগুলো খুলে ধরলেন এবং তৃতীয়বার তিনি বাম অথবা ডান হাতের বৃব্ধাঙ্গুলটি বন্ধ করে রাখলেন [অর্থাৎ ইঙ্গিত করে দেখালেন, কোন কোন মাস ঊনত্রিশ দিনে হয়]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩৭৬, ইসলামিক সেন্টার- ২৩৭৭]

২৪০০

উক্কবাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি ইবনি উমর [রাদি.] – কে বলিতে শুনেছি, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ ঊনত্রিশ দিনেও মাস হয়। শুবাহ এ হাদীস বর্ণনা করার সময় তাহাঁর দুহাত তিনবার বন্ধ করে দেখালেন এবং তৃতীয়বার তাহাঁর বুড়ো আঙ্গুলটি বাঁকা [নীচু] করে রাখলেন।

উক্কবাহ্‌ [রাদি.] বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছিলেন, মাস ত্রিশ দিনেও হয় এবং দুহাত তিনবার বন্ধ করেছিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩৭৭, ইসলামিক সেন্টার- ২৩৭৮]

২৪০১

সাঈদ ইবনি আমর ইবনি সাঈদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি ইবনি উমরকে বলিতে শুনেছেন, নবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আমরা উম্মী [নিরক্ষর] জাতি। আমরা লেখিনা এবং হিসাবও করি না। মাসে দিনের সংখ্যা এত, এত এবং এত। তৃতীয়বার তিনি নিজ হাতের বুড়ো আঙ্গুলটি বন্ধ করে দুহাত দিয়ে ইঙ্গিত করিলেন [অর্থাৎ তিনবার ইঙ্গিতে ঊনত্রিশ দিন প্রমাণ করিলেন]। আর কোন কোন মাস এত, এত এবং এত দিনেও হয় [অর্থাৎ পূর্ণ ত্রিশ দিন হয়ে থাকে]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩৭৮,ইসলামিক সেন্টার- ২৩৭৯]

২৪০২

আসওয়াদ ইবনি কায়স থেকে এ সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কিন্ত এ সূত্রে “দ্বিতীয় মাসের ত্রিশদিন” এ কথা উল্লেখ নেই। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩৭৯, ইসলামিক সেন্টার- ২৩৮০]

২৪০৩

সাদ ইবনি উবায়দাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, ইবনি উমর [রাদি.] এক ব্যক্তিকে বলিতে শুনলেন, “আজ রাতে মাসের অর্ধেক হয়ে গেছে”। অতঃপর ইবনি উমর [রাদি.] তাকে জিজ্ঞেস করিলেন, তুমি কবে জানলে আজ রাতে মাসের অর্ধেক হয়ে গেছে? অথচ আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে দশটি আঙ্গুলের মাধ্যমে ইঙ্গিত করে দুবার বলিতে শুনেছিঃ “মাস এত দিনে ও এত দিনে হয়। তিনি দুবার আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করিলেন। তৃতীয়বারও তিনি তাই করিলেন এবং সবগুলো আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করিলেন এবং বুড়ো আঙ্গুলটি বন্ধ রাখলেন অথবা নিচু করে রাখলেন। [অর্থাৎ মাস কখনো ঊনত্রিশ দিনে আবার কখনো ত্রিশ দিনে হয়। কাজেই মাস শেষ না হলে নির্দিষ্ট করে বলা যায় না যে মাসের মধ্যরাত কোন্‌টি]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩৮০, ইসলামিক সেন্টার- ২৩৮১]

২৪০৪

আবু হুরায়রাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলিলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন; যখন তোমরা চাঁদ দেখবে তখন সওম আরম্ভ করিবে এবং যখন চাঁদ দেখবে তখন ইফতার করিবে। যদি আকাশ মেঘাছন্ন থাকে তবে ত্রিশদিন সিয়াম পালন করিবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩৮১, ইসলামিক সেন্টার- ২৩৮২]

২৪০৫

আবু হুরায়রাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা [রমাযানের] চাঁদ দেখে সিয়াম পালন শুরু কর এবং [শাও্‌ওয়ালের] চাঁদ দেখে ইফতার [অর্থাৎ ঈদ] কর। আর যদি [নতুন চাঁদ উদয়ের দিন] আকাশ মেঘাছন্ন থাকে তাহলে ত্রিশ দিন পূর্ণ কর। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩৮২, ২৩৮৩]

২৪০৬

আবু হুরায়রাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা চাঁদ দেখে সিয়াম পালন কর এবং চাঁদ দেখে ইফতার কর। আর আকাশ মেঘাছন্ন থাকলে দিনের সংখ্যা [ত্রিশ দিন] পূর্ণ কর। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩৮৩, ইসলামিক সেন্টার- ২৩৮৪]

২৪০৭

আবু হুরায়রাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ চাঁদ দেখে সিয়াম পালন কর এবং চাঁদ দেখে ইফত্বার কর [অর্থাৎ সিয়াম সমাপ্ত কর]। আর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার কারণে তোমরা যদি মাসের আরম্ভ বা শেষ সম্পর্কে সন্দিহান হও তাহলে ঐ মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ কর। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩৮৪, ইসলামিক সেন্টার- ২৩৮৫]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply