নতুন লেখা

সিজদার তাসবিহ দোয়া ফজিলত ও সাত অঙ্গ দ্বারা সিজদা করা

সিজদার তাসবিহ দোয়া ফজিলত ও সাত অঙ্গ দ্বারা সিজদা করা

সিজদার তাসবিহ দোয়া ফজিলত ও সাত অঙ্গ দ্বারা সিজদা করা >> বুখারী শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

পর্বঃ ১০, আযান, অধ্যায়ঃ (১২৮-১৪৪)=১৭টি

১০/১২৮. অধ্যায়ঃ সিজদায় যাওয়ার সময় তাকবীর বলিতে বলিতে নত হওয়া ।
১০/১২৯. অধ্যায়ঃ সিজদার ফযীলত ।
১০/১৩০. অধ্যায়ঃ সিজদার সময় দুবাহু পার্শ্ব দেশ হইতে পৃথক রাখা ।
১০/১৩১. অধ্যায়ঃ সালাতে উভয় পায়ের আঙ্গুল ক্বিবলাহমুখী রাখা ।
১০/১৩২. অধ্যায়ঃ পূর্ণভাবে সিজদা না করলে ।
১০/১৩৩. অধ্যায়ঃ সাত অঙ্গ দ্বারা সিজদা করা ।
১০/১৩৪. অধ্যায়ঃ নাক দ্বারা সিজদা করা ।
১০/১৩৫. অধ্যায়ঃ নাক দ্বারা কাদামাটির উপর সিজদা করা ।
১০/১৩৬. অধ্যায়ঃ কাপড়ে গিরা লাগানো ও তা বেঁধে নেয়া এবং সতর প্রকাশ হয়ে পড়ার ভয়ে কাপড় জড়িয়ে নেয়া ।
১০/১৩৭. অধ্যায়ঃ সালাতের মধ্যে মাথার চুল একত্র করিবে না ।
১০/১৩৮. অধ্যায়ঃ সালাতের মধ্যে কাপড় টেনে না ধরা ।
১০/১৩৯. অধ্যায়ঃ সিজদায় তাসবীহ ও দুআ পাঠ ।
১০/১৪০. অধ্যায়ঃ দু সিজদার মধ্যে অপেক্ষা করা ।
১০/১৪১. অধ্যায়ঃ সিজদায় কনুই বিছিয়ে না দেয়া ।
১০/১৪২. অধ্যায়ঃ সালাতের বেজোড় রাকআতে সিজদা হইতে উঠে বসার পর দণ্ডায়মান হওয়া ।
১০/১৪৩. অধ্যায়ঃ রাকআত শেষে কীরূপে জমিনে ভর দিয়ে দাঁড়াবে ।
১০/১৪৪. অধ্যায়ঃ দু সিজদার শেষে উঠার সময় তাকবীর বলবে ।

১০/১২৮. অধ্যায়ঃ সিজদায় যাওয়ার সময় তাকবীর বলিতে বলিতে নত হওয়া ।

নাফি(রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, ইবনু উমর (রাদি.) সিজদায় যাওয়ার সময় হাঁটু রাখার পূর্বে হাত রাখতেন । [১]

[১] এ সম্পর্কে যুগ শ্রেষ্ঠ আল্লামাহ ও মুহাদ্দিস নাসিরুদ্দিন আলবানীর সিফাতু সলাতুন্নাবী থেকে তাহাঁর উদ্ধৃতি পেশ করছি। তিনি উক্ত বিষয়ে শিরোনাম দিয়েছেনঃ হস্তদ্বয়ের উপর ভর করে সিজদায় গমন করা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) মাটিতে হাঁটু রাখার পূর্বে হস্তদ্বয় রাখতেন। ইবনু খুযাইমাহ (১/৭৬/১), দারাকুত্বনী, হাকিম এবং তিনি একে সহিহ বলেছেন ও যাহাবী তাতে ঐক্যমত্য পোষণ করিয়াছেন। এর বিপরীতে যে হাদিস এসেছে তা সহিহ নয়। এই মত পোষণ করিয়াছেন ইমাম মালিক। ইমাম আহমেদ থেকেও এমনটি এসেছে। ইবনুল জাওযীর আতত্বাহকীক গ্রন্থে (১০৮/২), মারওয়াযী স্বীয় মাসায়িল গ্রন্থে (১/১৪৭/১) ইমাম আওযায়ী থেকে সহিহ সানাদে বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি বলেন আমি লোকজনকে হাঁটুর পূর্বে হাত রাখার উপর পেয়েছি । তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়ে বলিতেনঃ তোমাদের কেউ যখন সিজদা করে তখন যেন উটের ন্যায় না বসে বরং সে যেন স্বীয় হাঁটুদ্বয়ের পূর্বে হস্তদ্বয় রাখে। আবু দাউদ, তাম্মাম আল ফাওয়াইদ গ্রন্থে (ক্বাফ ১০৮/১) সহীহ সানাদে নাসাঈ, আসসুগরা ও আল-কুবরা (৪৭/১ ফটোকপি) বাদশাহ আবদুল আজিজ ইউনিভার্সিটি, মক্কা) আবদুল হক্ব আল-আহকামুল কুবরাতে (৫৪/১) একে সহিহ বলেছেন এবং “কিতাবুত্তাহাজ্জুদে” (৫৬/১) বলেছেনঃ এটি পূর্বের হাদিস অর্থাৎ তার বিরোধী ওয়াইল এর হাদিস অপেক্ষা উত্তম সনদ বিশিষ্ট বরং এটি যেমন (ওয়াইলের হাদিস) উপরোক্ত সহীহ হাদিস ও তার পূর্বের হাদিস বিরোধী ঠিক তদ্রূপ সানাদের দিক দিয়েও তা সহিহ নয় এবং এ অর্থে যে সব হাদিস এসেছে এগুলোও অনুরূপ। দেখুন আমার আলোচনা আয্‌ যঈফাহ (৯২৯) ও আল ইরওয়া (৩৫৭)। জেনে রাখুন উটের হাঁটুর পূর্বে হাত রাখার বিষয়ে ব্যতিক্রম হওয়ার কারণ হচ্ছে এই যে, সে সর্ব প্রথম হাঁটু রাখে এবং তার হাঁটু হাতের মধ্যে হয়ে থাকে। দেখুন লিসানুল আরব ও অন্যান্য অভিধান গ্রন্থ, ত্বাহাবি মুশকিলুল আ-ছা-র ও শারহু মায়ানিল আ-ছার গ্রন্থে এরূপ কথাই উল্লেখ করছেন। ইমাম ক্বাসিম সরক্বসত্বী রাহিমাহুল্লাহ-ও গরীবুল হাদিছে (২/৭০/১-২) আবু হুরাইরা (রাদি.) থেকে সহিহ সনদে বর্ণনা করিয়াছেন যে, আবু হুরাইরা (রাদি.) বলেছেনঃ “তোমাদের কেউ পলাতক উটের ন্যায় যেন অবতরণ না করে ।” ইমাম ক্বাসিম বলেনঃ এটা সিজদার ব্যাপারে বলা হচ্ছে যে, পূর্ণ ধীরতা ও পরযায়ক্রমতা বজায় না রেখে বিচলিত উটের ন্যায় নিজেকে নিক্ষেপ না করে এবং ধীরস্থিরতার সাথে অবতরণ করে। প্রথমে হস্তদ্বয় রাখবে অতঃপর হাঁটুদ্বয় রাখবে। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা সম্বলিত একটি হাদিছও বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর উপরোল্লিখিত হাদীছ উল্লেখ করেন। ইবনুল কাইয়িম এমন এক মন্তব্য করেছেনঃ যেটা বিবেক সম্মত নয় এবং ভাষাবিদগণও এই ব্যাখ্যার সাথে পরিচিত নন। কিন্তু আমি যেসব প্রমানপঞ্জির দিকে ইঙ্গিত করেছি তা এর প্রতিবাদ করে এবং এছাড়াও আরো অনেক প্রমাণপঞ্জি আছে । (দেখুনঃ নাসিরুদ্দিন আলবানি কৃত নাবী (সাঃআঃ) এর “ছলাত সম্পাদনের পদ্ধতি” বঙ্গানুবাদ ও সম্পাদনায়– আকরামুজ্জামান বিন আবদুস সালাম ও আবু রাশাদ আজমল বিন আবদুন নূর)

৮০৩. আবু বকর ইবনু আবদুর রহমান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ও আবু সালামা ইবনু আবদুর রহমান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরা (রাদি.) রমযান মাসের সালাত বা অন্য কোন সময়ের সালাত ফরয হোক বা অন্য কোন সালাত হোক, দাঁড়িয়ে শুরু করার সময় তাকবীর বলিতেন, আবার রুকুতে যাওয়ার সময় তাকবীর বলিতেন। তারপর (রুকূ থেকে উঠার সময়)

سَمِعَ اللهُ لِمَن حَمِدَه

বলিতেন, সিজ্‌দায় যাওয়ার পূর্বে

رَبَّناَ وَلَكَ الحَمدُ

বলিতেন। অতঃপর সিজদার জন্য অবনত হবার সময় আল্লাহু আকবর বলিতেন। আবার সিজদা হইতে মাথা উঠানোর সময় তাকবীর বলিতেন। অতঃপর (দ্বিতীয়) সিজদায় যাওয়ার সময় তাকবীর বলিতেন এবং সিজদা হইতে মাথা উঠানোর সময় তাকবীর বলিতেন। দু রাকআত আদায় করে দাঁড়ানোর সময় আবার তাকবীর বলিতেন। সালাত শেষ করা পর্যন্ত প্রতি রাকআতে এরূপ করিতেন। সালাত শেষে তিনি বলিতেন, যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ তাহাঁর শপথ! তোমাদের মধ্য হইতে আমার সালাত আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)–এর সালাতের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। দুনিয়া হইতে বিদায় নেয়ার পূর্ব পর্যন্ত নাবী (সাঃআঃ)–এর সালাত এ রকমই ছিল।

৮০৪. আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) যখন রুকূ হইতে মাথা উঠাতেন তখন

سَمِعَ اللهُ لِمَن حَمِدَه رَبَّناَ وَلَكَ الحَمدُ 

বলিতেন। আর কতিপয় লোকের নাম উল্লেখ করে তাঁদের জন্য দুআ করিতেন। দুআয় তিনি বলিতেন,

اللَّهُمَّ اشْدُدْ وَطْأَتَكَ عَلَى مُضَرَ، وَاجْعَلْهَا عَلَيْهِمْ سِنِينَ كَسِنِي يُوسُفَ

হে আল্লাহ! ওয়ালীদ ইবনু ওয়ালীদ, সালামা ইবনু হিশাম, আইয়্যাস ইবনু আবু রাবীআ (রাদি.) এবং অপরাপর দুর্বল মুসলিমদেরকে রক্ষা করুন। হে আল্লাহ! মুদার গোত্রের উপর আপনার পাকড়াও কঠোর করুন, ইউসুফ (আঃ)–এর যুগে যেমন খাদ্য সংকট ছিল তাঁদের জন্যও তেমন খাদ্য সংকট সৃষ্টি করে দিন। (রাবী বলেন) এ যুগে পূর্বাঞ্চলের অধিবাসী মুদার গোত্রের লোকেরা নাবী (সাঃআঃ)–এর বিরোধী ছিল।

৮০৫. আনাস ইবনু মালিক (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একবার আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) ঘোড়া হইতে পড়ে যান। কোন কোন সময় সুফিয়ান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হাদীস বর্ণনা সময় عَن فَرَس শব্দের স্থলে مَن فَرَس শব্দ বলিতেন। ফলে তাহাঁর ডান পাঁজর আহত হয়ে পড়ে। আমরা তাহাঁর শুশ্রুষা করার জন্য সেখানে গেলাম। এ সময় সালাতের ওয়াক্ত হলো। তিনি আমাদের নিয়ে বসে সালাত আদায় করিলেন, আমরাও বসেই আদায় করলাম। সুফিয়ান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আর একবার বলেছেন, আমরা বসে সালাত আদায় করলাম। সালাতের পর নাবী (সাঃআঃ) বললেনঃ ইমাম নির্ধারণ করা হয় তাঁকে ইকতিদা করার জন্য। তিনি যখন তাকবীর বলেন, তখন তোমরাও তাকবীর বলবে, তিনি যখন রুকু করেন তখন তোমরাও রুকু করিবে। তিনি যখন রুকু হইতে উঠেন, তখন তোমরাও উঠবে, তিনি যখন

سَمِعَ اللهُ لِمَن حَمِدَه 

বলেন, তখন তোমরা

رَبَّناَ وَلَكَ الحَمدُ

বলবে। তিনি যখন সিজদা করেন, তখন তোমরাও সিজদা করিবে। সুফিয়ান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, মামারও কি এরূপ বর্ণনা করিয়াছেন? [আলী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন] আমি বললাম হ্যাঁ। সুফিয়ান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, তিনি ঠিকই স্মরণ রেখেছেন, এরূপই যুহরী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) وَلَكَ الحَمدُ বর্ণনা করিয়াছেন। সুফিয়ান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, (যুহরীর কাছ হইতে) ডান পাঁজর জখম হওয়ার কথা মুখস্ত করেছিলাম। কিন্তু যখন তাহাঁর কাছ হইতে বেরিয়ে আসলাম, তখন ইবনু জুরায়জ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলিলেন, আমিও তাহাঁর নিকট ছিলাম। (তিনি বলেছেন) নাবী (সাঃআঃ) এর ডান পায়ের নল যখন হয়েছিল।

১০/১২৯. অধ্যায়ঃ সিজদার ফযীলত ।

৮০৬. আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

সাহাবীগণ নাবী (সাঃআঃ)-কে জিজ্ঞেস করিলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা কি ক্বিয়ামাতের দিন আমাদের রবকে দেখিতে পাবো? তিনি বললেনঃ মেঘমুক্ত পূর্ণিমার রাতের চাঁদকে দেখার ব্যাপারে তোমরা কি সন্দেহ পোষণ করো? তাঁরা বলিলেন, না, হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বলিলেন, মেঘমুক্ত আকাশে সূর্য দেখার ব্যাপারে কি তোমাদের কোন সন্দেহ আছে? সবাই বলিলেন, না। তখন তিনি বললেনঃ নিঃসন্দেহে তোমরাও আল্লাহকে তেমনিভাবে দেখিতে পাবে। কিয়ামতের দিন সকল মানুষকে সমবেত করা হইবে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলবেন, যে যার উপাসনা করিতে সে যেন তার অনুসরণ করে। তাই তাদের কেউ সূর্যের অনুসরণ করিবে, কেউ চন্দ্রের অনুসরণ করিবে, কেউ তাগুতের অনুসরণ করিবে। আর বাকী থাকবে শুধুমাত্র উম্মাহ, তবে তাঁদের সাথে মুনাফিকার থাকবে। তাঁদের মাঝে এই সময় আল্লাহ তাআলা আগমন করবেন এবং বলবেনঃ “

আমি তোমাদের রব।” তখন তারা বলবে, যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের রবের আগমন না হইবে, ততক্ষণ আমরা এখানেই থাকব। আর তার যখন আগমন হইবে তখন আমরা অবশ্যই তাঁকে চিনতে পারব। তখন তাদের মাঝে মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ তাআলা আগমন করবেন এবং বলবেন, “আমি তোমাদের রব।” তাঁরা বলবে, হাঁ, আপনিই আমাদের রব। আল্লাহ তাআলা তাদের ডাকবেন। আর জাহান্নামের উপর একটি সেতু স্থাপন করা হইবে। রাসুলগণের মধ্যে আমিই সবার আগে আমার উম্মাত নিয়ে এ পথ অতিক্রম করব। সেদিন রাসুলগণ ব্যতীত আর কেউ কথা বলবে না। আর রাসুলগণের কথা হবেঃ

اللَّهُمَّ سَلِّم سَلِّم

(আল্লাহুম্মা সাল্লিম সাল্লিম) হে আল্লাহ! রক্ষা করুন, রক্ষা করুন। আর জাহান্নামে বাঁকা লোহার বহু শলাকা থাকবে; সেগুলো হইবে সাদান কাঁটার মতো। তোমরা কি সাদান কাঁটা দেখেছো? তারা বলবে, হাঁ, দেখেছি। তিনি বলবেন, সেগুলো দেখিতে সাদান

[১] কাঁটার মতোই। তবে সেগুলো কত বড় হইবে তা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। সে কাঁটা লোকের আমল অনুযায়ী তাদের তড়িৎ গতিতে ধরবে। তাদের কিছু লোক ধ্বংস হইবে তাদের আমলের কারণে। আর কারোর পায়ে জখম হইবে, কিছু লোক কাঁটায় আক্রান্ত হইবে, অতঃপর নাজাত পেয়ে যাবে। জাহান্নামীদের হইতে যাদের প্রতি আল্লাহ তাআলা রহমত করিতে ইচ্ছা করবেন, তাদের ব্যাপারে মালাইকাকে নির্দেশ দেবেন যে, যারা আল্লাহর ইবাদত করতো, তাদের যেন জাহান্নাম হইতে বের করে আনা হয়। মালাইকা তাদের বের করে আনবেন এবং সিজদার চিহ্ন দেখে তাঁরা তাদের চিনতে পারবেন। কেননা, আল্লাহ তাআলা জাহান্নামের জন্য সিজদার চিহ্নগুলো মিটিয়ে দেয়া হারাম করে দিয়েছেন। ফলে তাদের জাহান্নাম হইতে বের করে আনা হইবে। কাজেই সিজদার চিহ্ন ছাড়া আগুন বানী আদামের সব কিছুই গ্রাস করে ফেলবে। অবশেষে, তাদেরকে অঙ্গারে পরিণত অবস্থায় জাহান্নাম হইতে বের করা হইবে। তাদের উপর আবে-হায়াত ঢেলে দেয়া হইবে ফলে তারা স্রোতে বাহিত ফেনার উপর গজিয়ে উঠা উদ্ভিদের মত সঞ্জীবিত হয়ে উঠবে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা বান্দাদের বিচার কাজ সমাপ্ত করবেন কিন্তু একজন লোক জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে থেকে যাবে। তাহাঁর মুখমণ্ডল তখনো জাহান্নামের দিকে ফেরানো থাকবে। জাহান্নামবাসীদের মধ্যে জান্নাতে প্রবেশকারী সেই শেষ ব্যক্তি। সে তখন নিবেদন করিবে, হে আমার রব! জাহান্নাম হইতে আমার চেহারা ফিরিয়ে দিন। এর দূষিত হাওয়া আমাকে বিষিয়ে তুলছে, এর লেলিহান শিখা আমাকে যন্ত্রণা দিচ্ছে। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, তোমার নিবেদন গ্রহণ করা হলে, তুমি এছাড়া আর কিছু চাইবে না তো? সে বলবে, না, আপনার ইজ্জতের শপথ! সে তার ইচ্ছামত আল্লাহ তাআলাকে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দিবে। কাজেই আল্লাহ তাআলা তার চেহারাকে জাহান্নামের দিক হইতে ফিরিয়ে দিবেন। অতঃপর সে যখন জান্নাতের দিকে মুখ ফিরাবে, তখন সে জান্নাতের অপরূপ সৌন্দর্য দেখিতে পাবে। যতক্ষণ আল্লাহর ইচ্ছা সে চুপ করে থাকবে। অতঃপর সে বলবে, হে আমার রব! আপনি জান্নাতের দরজার নিকট পৌঁছে দিন। তখন আল্লাহ তাআলা তাকে বলবেন, তুমি পূর্বে যা চেয়েছিলে, তা ছাড়া আর কিছু চাইবেনা বলে তুমি কি অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দাওনি? তখন সে বলবে, হে আমার রব! তোমার সৃষ্টির সবচাইতে হতভাগ্য আমি হইতে চাইনা। আল্লাহ তাৎক্ষণিক বলবেন, তোমার এটি পূরণ করা হলে তুমি এছাড়া আর কিছু চাইবে না তো? সে বলবে, না, আপনার ইজ্জতের কসম! এছাড়া আমি আর কিছুই চাইব না। এ ব্যাপারে সে তার ইচ্ছানুযায়ী অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দিবে। সে যখন জান্নাতের দরজায় তখন জান্নাতের অনাবীল সৌন্দর্য ও আভ্যন্তরীণ সুখ শান্তি ও আনন্দঘন পরিবেশ দেখিতে পাবে। যতক্ষণ আল্লাহ তাআলা ইচ্ছা করবেন সে চুপ করে থাকবে। অতঃপর সে বলবে, হে আমার রব! আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দাও। তখন পরাক্রমশালী মহান আল্লাহ বলবেনঃ হে আদম সন্তান, কি আশ্চর্য! তুমি কত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী! তুমি কি আমার সঙ্গে অঙ্গীকার করনি এবং প্রতিশ্রুতি দাওনি যে, তোমাকে যা দেওয়া হয়েছে, তাছাড়া আর কিছু চাইবেনা? তখন সে বলবে, হে আমার রব! আপনার সৃষ্টির মধ্যে আমাকে সবচাইতে হতভাগ্য করবেন না। এতে আল্লাহ হেসে দেবেন। অতঃপর তাকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমুতি দিবেন এবং বলবেন, চাও। সে তখন চাইবে, এমন কি তার চাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ফুরিয়ে যাবে। তখন পরাক্রমশালী মহান আল্লাহ বলবেনঃ এটা চাও, ওটা চাও। এভাবে তার রব তাকে স্মরণ করিয়ে দিতে থাকবেন। অবশেষে যখন তার আকাঙ্ক্ষা শেষ হয়ে যাবে, তখন আল্লাহ তাআলা বলেবেনঃ এ সবই তোমার, এ সাথে আরো সমপরিমাণ (তোমাকে দেয়া হল)। আবু সাঈদ খুদরী (রাদি.) আবু হুরাইরা (রাদি.)-কে বলিলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলেছিলেন যে, আল্লাহ তাআলা বলেবেনঃ এ সবই তোমার, তার সাথে আরও দশগুণ (তোমাকে দেয়া হল)। আবু হুরাইরা (রাদি.) বলিলেন, আমি আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) হইতে শুধু এ কথাটি স্মরণ রেখেছি যে, এ সবই তোমার এবং এর সাথে সমপরিমাণ। আবু সাঈদ (রাদি.) বলিলেন, আমি তাঁকে বলিতে শুনিয়াছি যে, এসব তোমার এবং এর সাথে আরও দশগুণ।

[১] সাদান চতুস্পার্শ্বে কাঁটা বিশিষ্ট এক প্রকার গাছ, মরু অঞ্চলে জন্মে, কাঁটাগুলো বাঁকা থাকে। এগুলো উটের খাদ্য।

১০/১৩০. অধ্যায়ঃ সিজদার সময় দুবাহু পার্শ্ব দেশ হইতে পৃথক রাখা ।

৮০৭. আবদুল্লাহ ইবনু মালিক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) যিনি ইবনু বুহাইনা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) যখন সালাত আদায় করিতেন, তখন উভয় হাত এমন ফাঁক করিতেন যে, তাহাঁর উভয় বগলের শুভ্রতা প্রকাশ হয়ে পড়ত। লায়স (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, জাফার বিন বারীআ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আমার নিকট এ রকম বর্ণনা করিয়াছেন।

১০/১৩১. অধ্যায়ঃ সালাতে উভয় পায়ের আঙ্গুল ক্বিবলাহমুখী রাখা ।

আবু হুমায়দ (রাদি.) নাবী (সাঃআঃ) হইতে এ রকম হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন ।

১০/১৩২. অধ্যায়ঃ পূর্ণভাবে সিজদা না করলে ।

৮০৮. হুযাইফা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি এক ব্যক্তিকে দেখলেন, সে রুকূ ও সিজদা পুর্ণরূপে আদায় করছে না। সে যখন তার সালাত শেষ করে, তখন হুযাইফা (রাদি.) তাকে বলিলেন, তুমি তো সালাত আদায় করনি। আবু ওয়াইল (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আমার মনে হয় তিনি এও বলেছিলেন যে, এভাবে সালাত আদায় করে তুমি যদি মারা যাও, তাহলে মুহাম্মাদ (সাঃআঃ)-এর তরীকা হইতে বিচ্যুত হয়ে মারা যাবে।

১০/১৩৩. অধ্যায়ঃ সাত অঙ্গ দ্বারা সিজদা করা ।

৮০৯. ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) সাতটি অঙ্গের দ্বারা সিজদা করিতে এবং চুল ও কাপড় না গুটাতে নির্দেশিত হয়েছিলেন। (অঙ্গ সাতটি হল) কপাল, দুহাত, দুহাঁটু ও দুপা।

৮১০. ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ আমরা সাতটি অঙ্গের দ্বারা সিজদা করিতে এবং চুল ও কাপড় না গুটাতে নির্দেশিত হয়েছি।

৮১১. বারাআ ইবনু আযিব (রাদি.) যিনি অবশ্যই মিথ্যাবাদী ছিলেন না হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা নাবী (সাঃআঃ)-এর পশ্চাতে সালাত আদায় করতাম। তিনি

سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَه 

বলার পর যতক্ষণ না কপাল মাটিতে স্থাপন করিতেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কেউ সিজদার জন্য পিঠ ঝুঁকাত না।

১০/১৩৪. অধ্যায়ঃ নাক দ্বারা সিজদা করা ।

৮১২. ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) ইরশাদ করেছেনঃ আমি সাতটি অঙ্গের দ্বারা সিজদা করার জন্য নির্দেশিত হয়েছি। কপাল দ্বারা এবং তিনি হাত দিয়ে নাকের প্রতি ইশারা করে এর অন্তর্ভুক্ত করেন, আর দুহাত, দুহাঁটু এবং দুপায়ের আঙ্গুলসমূহ দ্বারা। আর আমরা যেন চুল ও কাপড় গুটিয়ে না নেই।

১০/১৩৫. অধ্যায়ঃ নাক দ্বারা কাদামাটির উপর সিজদা করা ।

৮১৩. আবু সালামা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আবু সাঈদ খুদরী (রাদি.)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, আমার সঙ্গে খেজুর বাগানে চলুন, (হাদীস সংক্রান্ত) আলাপ আলোচনা করব। তিনি বেরিয়ে আসলেন। আবু সালামা (রাদি.) বলেন, আমি তাকে বললাম, লাইলাতুল কাদর সম্পর্কে নাবী (সাঃআঃ) হইতে যা শুনেছেন, তা আমার নিকট বর্ণনা করুন। তিনি বলিলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) রমযানের প্রথম দশ দিন ইতিকাফ করিলেন। আমরাও তাহাঁর সঙ্গে ইতিকাফ করলাম। জিবরীল (আঃ) এসে বলিলেন, আপনি যা তালাশ করছেন, তা আপনার সামনে রয়েছে। অতঃপর তিনি মধ্যবর্তী দশদিন ইতিকাফ করিলেন, আমরাও তাহাঁর সঙ্গে ইতিকাফ করলাম। পুনরায় জিবরীল (আঃ) এসে বলিলেন, আপনি যা তালাশ করছেন, তা আপনার সামনে রয়েছে। অতঃপর রমযানের বিশ তারিখ সকালে নাবী (সাঃআঃ) খুতবা দিতে দাঁড়িয়ে বলিলেন, যারা আল্লাহর নাবীর সঙ্গে ইতিকাফ করিয়াছেন, তারা যেন ফিরে আসেন (আবার ইতিকাফ করেন) কেননা, আমাকে স্বপ্নে লাইলাতুল কাদর অবগত করানো হয়েছে। তবে আমাকে তা (নির্ধারিত তারিখটি) ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। নিঃসন্দেহে তা শেষ দশ দিনের কোন এক বেজোড় তারিখে। স্বপ্নে দেখলাম যেন আমি কাদা ও পানির উপর সিজদা করছি। তখন মসজিদের ছাদ খেজুরের ডাল দ্বারা নির্মিত ছিল। আমরা আকাশে কোন কিছুই (মেঘ) দেখিনি, একখণ্ড হালকা মেঘ আসল এবং আমাদের উপর (বৃষ্টি) বর্ষিত হল। নাবী (সাঃআঃ) আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করিলেন। এমন কি আমি আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-এর কপাল ও নাকের অগ্রভাগে পানি ও কাদার চিহ্ন দেখিতে পেলাম। এভাবেই তাহাঁর স্বপ্ন সত্যে রূপ লাভ করিল।

১০/১৩৬. অধ্যায়ঃ কাপড়ে গিরা লাগানো ও তা বেঁধে নেয়া এবং সতর প্রকাশ হয়ে পড়ার ভয়ে কাপড় জড়িয়ে নেয়া ।

৮১৪. সাহল ইবনু সাদ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, সাহাবীগণ নাবী (সাঃআঃ)-এর সঙ্গে সালাত আদায় করিতেন। কিন্তু ইযার বা লুঙ্গী ছোট হবার কারণে তা গলার সাথে বেঁধে নিতেন। আর নারীদেরকে বলে দেয়া হয়েছিল, তোমরা সিজদা হইতে মাথা উঠাবে না যে পর্যন্ত পুরুষগণ ঠিকমত না বসবে।

১০/১৩৭. অধ্যায়ঃ সালাতের মধ্যে মাথার চুল একত্র করিবে না ।

৮১৫. ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন, নাবী (সাঃআঃ) সাতটি অঙ্গের সাহায্যে সিজদা করিতে এবং সালাতের মধ্যে চুল একত্র না করিতে এবং কাপড় টেনে না ধরতে নির্দেশ প্রাপ্ত হয়েছিলেন।

১০/১৩৮. অধ্যায়ঃ সালাতের মধ্যে কাপড় টেনে না ধরা ।

৮১৬. ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ আমি সাত অঙ্গে সিজদা করিতে, সালাতের মধ্যে চুল একত্র না করিতে এবং কাপড় টেনে না ধরতে নির্দেশিত হয়েছি।

১০/১৩৯. অধ্যায়ঃ সিজদায় তাসবীহ ও দুআ পাঠ ।

৮১৭. আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) তাহাঁর রুকূ ও সিজদায় অধিক পরিমাণে

سُبحانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّناَ وَبِحَمدِكَ اللَّهُمَّ اغفِرلي 

“হে আল্লাহ! হে আমাদের রব! আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আপনি আমাকে ক্ষমা করুন” পাঠ করিতেন। এতে তিনি পবিত্র কুরআনের নির্দেশ পালন করিতেন। [১]

[১] এর দ্বারা সুরা নাসর-এর ৩ নং আয়াত “فَسَبِّح بِحَمدِ رَبِّكَ وَاستَغفِرهُ إِنَّهُ كانَ تَوّاَباً” (আপনি আপনার প্রতিপালকের প্রশংসাসহ তাহাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তিনি তো তাওবাহ কবুলকারী) এর দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে ।

১০/১৪০. অধ্যায়ঃ দু সিজদার মধ্যে অপেক্ষা করা ।

৮১৮. আবু কিলাবা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

মালিক ইবনু হুয়াইরিস (রাদি.) তাহাঁর সাথীদের বলিলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-এর সালাত সম্পর্কে আমি কি তোমাদের অবহিত করব না? (রাবী) আবু কিলাবা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, এ ছিল সালাতের সময় ছাড়া অন্য সময়। অতঃপর তিনি (সালাতে) দাঁড়ালেন, অতঃপর রুকূ করিলেন, এবং তাকবীর বলে মাথা উঠালেন আর কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর সিজদায় গেলেন এবং সিজদা হইতে মাথা উঠিয়ে কিছুক্ষণ বসে পুনরায় সিজদা করিলেন। অতঃপর মাথা উঠিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করিলেন। এভাবে তিনি আমাদের এ শায়খ আমর ইবনু সালিমাহর সালাতের মত সালাত আদায় করিলেন। আইয়ুব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আমর ইবনু সালিমা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এমন কিছু করিতেন যা অন্যদের করিতে দেখিনি। তা হল তিনি তৃতীয় অথবা চতুর্থ রাকআতে বসতেন।

৮১৯. মালিক ইবনু হুয়াইরিস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ)-এর নিকট এসে কিছুদিন অবস্থান করলাম। তিনি আমাদের বলিলেন, তোমরা তোমাদের পরিবার পরিজনদের মধ্যে ফিরে যাবার পর অমুক সালাত অমুক সময়, অমুক সালাত অমুক সময় আদায় করিবে। সময় হলে তোমাদের কেউ আযান দেবে এবং তোমাদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি ইমামাত করিবে।

৮২০. বারাআ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ)-এর সিজদা, রুকূ এবং দু সিজদার মধ্যে বসা প্রায় সমান (সময়ের) হতো।

৮২১. আনাস ইবনু মালিক (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নাবী (সাঃআঃ)-কে যেভাবে আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করিতে দেখেছি, কমবেশি না করে আমি তোমাদের সেভাবেই সালাত আদায় করে দেখাব। সাবিত (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আনাস ইবনু মালিক (রাদি.) এমন কিছু করিতেন যা তোমাদের করিতে দেখিনা। তিনি রুকূ হইতে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে এত বিলম্ব করিতেন যে, কেউ বলত, তিনি (সিজদার কথা) ভুলে গেছেন।

১০/১৪১. অধ্যায়ঃ সিজদায় কনুই বিছিয়ে না দেয়া ।

আবু হুমাইদ (রাদি.) বর্ণনা করেন, নাবী (সাঃআঃ) সিজদা করিয়াছেন এবং তাহাঁর দুহাত রেখেছেন, কিন্তু বিছিয়েও দেননি আর তা গুটিয়েও দেননি ।

৮২২. আনাস ইবনু মালিক (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ সিজদায় (অঙ্গ প্রত্যঙ্গের) সামঞ্জস্য রক্ষা কর এবং তোমাদের মধ্যে কেউ যেন দুহাত বিছিয়ে না দেয়, যেমন কুকুর দেয়।

১০/১৪২. অধ্যায়ঃ সালাতের বেজোড় রাকআতে সিজদা হইতে উঠে বসার পর দণ্ডায়মান হওয়া ।

৮২৩. মালিক ইবনু হুয়াইরিস লাইসী (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি নাবী (সাঃআঃ)-কে সালাত আদায় করিতে দেখেছেন। তিনি তাহাঁর সালাতের বেজোড় রাকআতে (সিজদা হইতে) উঠে না বসে দাঁড়াতেন না। [১]

[১] আমাদের দেশে বেশীর ভাগ মসজিদে এ হাদীসের বিপরীত আমল পরিলক্ষিত হয়। অথচ নাবী (সাঃআঃ) বেজোড় রাকআতগুলতে সিজদা শেষে উঠার পূর্বে জলসায়ে ইস্তিতিরাহাত করিতেন ।

(বুখারী ১ম ১১৩ পৃষ্ঠা। আবু দাউদ ১১১, ১১২ পৃষ্ঠা। নাসাঈ ১৭৩ পৃষ্ঠা। ইবনু মাজাহ ৬৪ পৃষ্ঠা। মেশতাক ৭৫ পৃষ্ঠা, মেশতাক নূর মোহাম্মদ আযমী ও মাদরাসা পাঠ্য ২য় খণ্ড হাদীস নং ৭৩৪, ৭৪০। বুখারী আযীযুল হক ১ম খণ্ড হাদীস নং ৪৭৩, বুখারী আঃপ্রঃ ১ম খণ্ড হাদীস নং ৭৫৮, ৭৭৭, ৭৭৮। বুখারী ইঃফাঃ হাদীস ৭৮৩; মুসলিম ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২য় খণ্ড হাদীস নং ৭৬৯। আবু দাউদ ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১ম খণ্ড হাদীস নং ৮৪২, ৮৪৪। তিরমিযী ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১ম খণ্ড হাদীস নং ২৮। ইসলামিয়াত বি-এ. হাদীস পর্ব ১২৫ পৃষ্ঠা)

১০/১৪৩. অধ্যায়ঃ রাকআত শেষে কীরূপে জমিনে ভর দিয়ে দাঁড়াবে ।

৮২৪. আবু কিলাবা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ইবনু হুয়াইরিস (রাদি.) এসে আমাদের এ মসজিদে আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। তিনি বলিলেন, আমি তোমাদের নিয়ে সালাত আদায় করব। এখন আমার সালাত আদায়ের কোন ইচ্ছা ছিল না, তবে আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-কে যেভাবে সালাত আদায় করিতে দেখেছি তা তোমাদের দেখাতে চাই। আইয়ুব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আমি আবু কিলাবা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তাহাঁর [মালিক ইবনু হুয়াইরিস (রাদি.)-এর] সালাত কীরূপ ছিল? তিনি [আবু কিলাবা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)] বলেন, আমাদের এ শায়খ অর্থাৎ আমর ইবনু সালিমা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর সালাতের মতো। আইয়ুব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলিলেন, শায়খ তাকবীর পূর্ণ বলিতেন এবং যখন দ্বিতীয় সিজদা হইতে মাথা উঠাতেন তখন বসতেন, অতঃপর মাটিতে ভর দিয়ে দাঁড়াতেন।

১০/১৪৪. অধ্যায়ঃ দু সিজদার শেষে উঠার সময় তাকবীর বলবে ।

ইবনু যুবায়র (রাদি.) উঠার সময় তাকবীর পাঠ করিতেন ।

৮২৫. সাঈদ ইবনু হারিস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একবার আবু সাঈদ (রাদি.) সালাতে আমাদের ইমামাত করেন। তিনি প্রথম সিজদা হইতে মাথা উঠানোর সময়, দ্বিতীয় সিজদা করার সময়, দ্বিতীয় সিজদা হইতে মাথা উঠানোর সময় এবং দু রাকআত শেষে (তাশাহহুদের বৈঠকের পর) দাঁড়ানোর সময় সশব্দে তাকবীর বলেন। তিনি বলেন, আমি এভাবেই নাবী (সাঃআঃ)-কে (সালাত আদায় করিতে) দেখেছি।

৮২৬. মুতার্‌রিফ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি ও ইমরান (রাদি.) একবার আলী ইবনু আবু ত্বলিব (রাদি.)-এর পিছনে সালাত আদায় করি। তিনি সিজদা করার সময় তাকবীর বলেছেন। উঠার সময় তাকবীর বলেছেন এবং দুরাকআত শেষে দাঁড়ানোর সময় তাকবির বলেছেন। সালাম ফিরানোর পর ইমরান (রাদি.) আমার হাত ধরে বলিলেন, ইনি তো (আলী) আমাকে মুহাম্মাদ (সাঃআঃ)-এর সালাত স্মরণ করিয়ে দিলেন।

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

চিকিৎসা বিষয়ক হাদিস, মধু, কালজিরা, চন্দন, শিঙং ও ঝাড়ফুঁক

চিকিৎসা বিষয়ক হাদিস, মধু, কালজিরা, চন্দন, শিঙং ও ঝাড়ফুঁক চিকিৎসা বিষয়ক হাদিস, মধু, কালজিরা, চন্দন, …

Leave a Reply

%d bloggers like this: