সাহাবীদের জীবনী ও মর্যাদা । খারিজী ও জাহমিয়াহদের বর্ণনা

সাহাবীদের জীবনী ও মর্যাদা । খারিজী ও জাহমিয়াহদের বর্ণনা

সাহাবীদের জীবনী ও মর্যাদা । খারিজী ও জাহমিয়াহদের বর্ণনা >> সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

পর্বঃ ০, অধ্যায় (১১-৩২)= ২২ টি। হাদীস (৯৩-১৬৬) =৭৪ টি

১১. অধ্যায়ঃ আবু বাক্‌র সিদ্দীক [রাঃআ:]- এর সম্মান
১২. অধ্যায়ঃ উমার [রাঃআ:]-এর সম্মান
১৩. অধ্যায়ঃ উসমান [রাঃআ:]-এর সম্মান
১৪. অধ্যায়ঃ আলী বিন আবী তালিব [রাঃআ:]-এর সম্মান
১৫. অধ্যায়ঃ যুবায়র [রাঃআ:]-এর সম্মান
১৬. অধ্যায়ঃ তালহাহ বিন উবাইদুল্লাহ [রাঃআ:]-এর সম্মান
১৭. অধ্যায়ঃ সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস [রাঃআ:]-এর সম্মান
১৮. অধ্যায়ঃ জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবা [রাঃআ:]-দের সম্মান
১৯. অধ্যায়ঃ আবু উবাইদাহ বিন জাররাহ [রাঃআ:]-এর সম্মান
২০. অধ্যায়ঃ আবদুল্লাহ্‌ বিন মাসুদ [রাঃআ:]- এর সম্মান
২১. অধ্যায়ঃ আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিব [রাঃআ:]-এর সম্মান
২২. অধ্যায়ঃ হাসান ও হুসায়ন [রাঃআ:]-এর সম্মান
২৩. অধ্যায়ঃ আম্মার বিন ইয়াসির [রাঃআ:]-এর সম্মান
২৪. অধ্যায়ঃ সালমান, আবু যার ও মিকদাদ [রাঃআ:]-এর সম্মান
২৫. অধ্যায়ঃ বিলাল [রাঃআ:]-এর সম্মান
২৬. অধ্যায়ঃ খাব্‌বাব [রাঃআ:]-এর সম্মান

সুনানে ইবনে মাজাহ  ১১. অধ্যায়ঃ আবু বাক্‌র সিদ্দীক [রাঃআ:]- এর সম্মান

৯৩ -আবদুল্লাহ্‌ [বিন মাসুদ] [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেছেন, জেনে রাখো! আমি প্রত্যেক বন্ধুর বন্ধুত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছি। যদি আমি কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করতাম তবে আবু বাক্‌রকেই অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম। নিশ্চয় তোমাদের এই সাথী আল্লাহ্‌র অন্তরঙ্গ বন্ধু। ওয়াকী’ [রাঃআ:] বলেন, অর্থাৎ তিনি নিজে। {৯১}

{৯১} মুসলিম ২৩৮৩/১-৩, তিরমিজি ৩৬৫৫, আহমদ ৩৫৭০, ৩৬৮১, ৩৮৬৮, ৪১১০, ৪১২৫, ৪১৫০, ৪১৭১, ৪৩৪১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯৪ -আবু হুরাইরা [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেছেন, আবু বাক্‌রের ধন-সম্পদ আমার যতটুকু উপকারে এসেছে অন্য কারো ধন-সম্পদ আমার তত উপকারে আসেনি। রাবী বলেন, এ কথায় আবু বাক্‌র [রাঃআ:] কেঁদে ফেলেন এবং বলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমি ও আমার ধন-সম্পদ আপনারই। {৯২}

{৯২} তিরমিজি ৩৬৬১ তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহীহাহ ২৭১৮।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯৫ -আলী [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেছেন, আবু বাকর ও উমার নবি-রসূলগণ ব্যতীত পূর্বাপর [সর্বকালের] সকল বয়স্ক জান্নাতীর নেতা হইবে। হে আলী! তাহাদের জীবদ্দশায় তুমি তা তাহাদেরকে অবহিত করো না। {৯৩}

{৯৩} তিরমিজি ৩৬৬৫-৬৬, আহমদ ৬০৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহীহাহ ৮২৪। উক্ত হাদিসের রাবী ১. হাসান বিন উমারাহ সম্পর্কে শু’বাহ ইবনিল হাজ্জাজ বলেন, তিনি মিথ্যা কথা বলেন। আহমদ বিন হাম্বল ও আবু হাতীম আর-রাযী এবং মুসলিম ইবনিল হাজ্জাজ বলেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ২. ফিরাস সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন, আহমদ বিন হাম্বল ও ইমাম নাসাঈ বলেন তিনি সিকাহ। ইয়াকুব বিন শায়বাহ বলেন, তিনি সিকাহ কিন্তু তার হাদিসে দুর্বলতা রয়েছে। ইবনি হিব্বান বলেন তিনি মুতকিন। ৩. হারিস [বিন আব্দুল্লাহ] সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আহমদ বিন সালিহ আল মিসরী বলেন, তিনি সিকাহ। ইমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। আলী ইবনিল মাদীনী তাকে মিথ্যুক বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তার হাদীস থেকে দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। আবু হাতীম আর-রাযী বলেন, হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। হাদিসটির শতাধিক শাহিদ হাদিস রয়েছে। তন্মধ্যে তিরমিযিতে ৩ টি, ইবনি মাজাহ ২ টি, আহাদীসুল মুখতার ৫ টি ও বাকীগুলো অন্যান্য কিতাবে রয়েছে। সুতরাং সহিহ শাহিদ এর ভিত্তিতে হাদিসটি সহিহ।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

সুনানে ইবনে মাজাহ নং ৯৬ -আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেছেন, [জান্নাতে] উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদেরকে, তাহাদের তুলনায় নিম্ন মর্যাদার লোকেরা দেখিতে পাবে, যেমন আকাশের দিগন্তে আলোকোজ্জ্বল তারকারাজি দেখা যায়। আবু বাক্‌র ও উমার [রাঃআ:] তাহাদের অন্তর্ভুক্ত, বরং তাহাদের মাঝে অধিক মর্যাদাবান। {৯৪}

{৯৪} তিরমিজি ৩৬৫৮, ৩৬৬২; আবু দাউদ ৩৯২৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: রওম ৯৭০। উক্ত হাদিসের রাবী আতিয়্যাহ বিন সা’দ সম্পর্কে আহমদ বিন হাম্বল বলেন তিনি দুর্বল। আবু যুরআহ বলেন তিনি লায়্যিন। আবু হাতীম আর-রাযী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তার উপর নির্ভর করা যায় না। সুন্নাত ও বিদয়াত হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯৭ -হুযাইফাহ ইবনিল ইয়ামান [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেছেন, আমি জানি না আমি তোমাদের মাঝে আর কতকাল জীবিত থাকবো। অতএব আমার অবর্তমানে তোমরা আমর পরে অবশিষ্ট লোকের অনুসরণ করিবে এবং [এ কথা বলে] তিনি আবু বাক্‌র ও উমার [রাঃআ:]-এর প্রতি ইঙ্গিত করেন। {৯৫}

{৯৫} তিরমিজি ৩৬৬৩, আহমদ ২২৭৩৪, ২২৭৬৫, ২২৮৭৭, ২২৯১০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: মিশকাত ৬০৫২, সহীহাহ ১২৩৩। উক্ত হাদিসের রাবী মুয়াম্মাল [বিন ইসমাঈল] সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও ইসহাক বিন রাহওয়ায় বলেন, তিনি সিকাহ। মুহাম্মাদ বিন সাঈদ বলেন তিনি সিকাহ কিন্তু হাদীস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। ইবনি হিব্বান বলেন তিনি সিকাহ কিন্তু হাদিসের বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। আস-সাজী বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল ও সন্দেহ করেন। ইবনি কানি’ বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। সুন্নাত ও বিদয়াত হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

সুনানে ইবনে মাজাহ নং ৯৮ -[আবদুল্লাহ বিন উবায়দুল্লাহ] বিন আবু মুলায়কাহ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি ইবনি আব্বাস [রাঃআ:]-কে বলিতে শুনেছিঃ উমার [রাঃআ:]-এর লাশ জানাযাহর খাটিয়ায় রাখা হলে উপস্থিত লোকজন, তার চারপাশে ভীড় করে দুআ-কালাম ও সলাত শুরু করে দেয়, তখনো সলাত আদায়ের জন্য লাশ উঠানো হয়নি। আমিও তাহাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। তখন এক ব্যক্তির সাথে আমার ধাক্কা লাগলো এবং তিনি আমার কাঁধ ধরলেন। আমি তাকিয়ে দেখি যে, তিনি আলী বিন আবু তালিব [রাঃআ:]। তিনি উমার [রাঃআ:]-এর প্রতি করুণা প্রকাশ করে আফসোস করিলেন, অতঃপর বলেন, আমার নিকট আপনার চেয়ে অধিক প্রিয় আর কেউ নেই, আপনি যে নেক আমালসহ আল্লাহ্‌র নৈকট্য লাভ করিয়াছেন তার তুলনা নেই। আল্লাহ্‌র শপথ! অবশ্যই আমি বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ্‌ তাআলা আপনাকে আপনার দুজন সাথীর সাথে মিলিত করবেন। কেননা আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআ:]-কে প্রায়ই বলিতে শুনতামঃ আমি, আবু বাকর ও উমার গিয়েছিলাম। আমি আবু বাকর ও উমার প্রবেশ করলাম। আমি, আবু বাকর ও উমার বের হলাম। তাই আমি বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ্‌ আপনাকে আপনার দু মহান বন্ধুর সাথে একত্র করবেন। {৯৬}

{৯৬} বোখারী ৩৬৭৭, মুসলিম ২৩৮৯, আহমদ ৯০০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। সুন্নাত ও বিদয়াত হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস।

সুনানে ইবনে মাজাহ নং ৯৯ -ইবনি উমার [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] আবু বাকর ও উমার [রাঃআ:]-এর মাঝখান দিয়ে বের হয়ে চললেন, অতঃপর বললেনঃ এভাবেই আমরা [কিয়ামাতের দিন] উত্থিত হবো। {৯৭}

{৯৭} তিরমিজি ৩৬৬৯ তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: জঈফ। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: মিশকাত ৬০৫৪, সহীহাহ ৮২৪, তাখরীজুল আহাদীসুল মুখতারাহ ৫১৯-৫২০। উক্ত হাদিসের রাবী সাঈদ বিন মাসলামাহ সম্পর্কে ইবনি হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ কিন্তু হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইমাম বোখারী বলেন মুনকারুল হাদীস। আবু হাতীম আর-রাযী বলেন, তার হাদিসে দুর্বলতা রয়েছে। ইমাম নাসাঈ তাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনি আদী বলেন, তাকে প্রত্যাখ্যান করাও যায়না আবার নির্ভরও করা যায় না।হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১০০- আবু জুহাইফাহ [ওয়াহব বিন আবদুল্লাহ] [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেছেন, আবু বাক্‌র ও উমার নবি-রসূলগণ ব্যতীত পূর্বাপর সকল যুগের বয়স্ক জান্নাতীদের নেতা হইবে। {৯৮}

সহিহ। সুন্নাত ও বিদয়াত হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০১ -আনাস [বিন মালিক] [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

বলা হলো, হে আল্লাহ্‌র রসূল! কোন ব্যক্তি আপনার নিকট অধিক প্রিয়? তিনি বলেন, আয়িশাহ। আবার বলা হলো, পুরুষদের মধ্যে? তিনি বলেন, তার পিতা। {৯৯}

{৯৯} তিরমিজি ৩৮৯০ তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১২. অধ্যায়ঃ উমার [রাঃআ:]-এর সম্মান

সুনানে ইবনে মাজাহ নং ১০২ – আবদুল্লাহ বিন শাকীক হইতে বর্ণিতঃ

আমি আয়িশাহ [রাঃআ:]-কে বললাম, রসুলুল্লাহ [সাঃআ:]-এর নিকট তাহাঁর কোন সাহাবী সর্বাধিক প্রিয় ছিলেন? তিনি বলেন, আবু বাকর [রাঃআ:]। আমি আবার বললাম, তারপর তাহাদের মধ্যে কে? তিনি বলিলেন, উমার [রাঃআ:]। আমি আবার বললাম, অতঃপর তাহাদের মধ্যে কে? তিনি বলেন, আবু উবায়দাহ [রাঃআ:]। {১০০}

{১০০} সহিহ। হাদিসটি ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০৩ – ইবনি আব্বাস [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

উমার [রাঃআ:] ইসলাম গ্রহণ করলে জিবরীল [আ:] অবতরণ করে বলেন, হে মুহাম্মাদ! ‘উমারের ইসলাম কবূল করার সুসংবাদে ঊর্ধ্ব জগতের বাসিন্দারা আনন্দিত হয়েছে। {১০১}

{১০১} হাদীসটি ইমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। খুবই দুর্বল। ইমাম ইবনি মাজাহ হাদিসটি এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। উক্ত হাদিসের রাবী আব্দুল্লাহ বিন খিরাশ হাওশাবী সম্পর্কে ইবনি হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ কিন্তু হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইমাম বোখারী ও আবু যুর’আহ আর-রাযী বলেন, মুনকারুল হাদিস। ইমাম নাসাঈ বলেন তিনি সিকাহ নয়। ইবনি আম্মার বলেন তিনি মিথ্যুক। হাদিসের তাহকিকঃ খুবই দুর্বল

১০৪ – উবাই বিন কাব [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেছেন, মহাসত্যবাদী সত্তা [আল্লাহ্‌] সর্বপ্রথম উমারের সাথে মুসাফাহা করবেন, তাকে সর্বপ্রথম সালাম করবেন এবং তার হাত ধরে সর্বপ্রথম তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। {১০২}

{১০২} মুনকার। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: যঈফাহ ২৪৮৫। উক্ত হাদিসের রাবী দাউদ বিন আতা আল-মাদীনী সম্পর্কে ইমাম বোখারী তাকে মুনকার বলেছেন। আবু হাতীম বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নন। ইমাম নাসাঈ তাকে দুর্বল বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, মুনকারুল হাদিস।হাদিসের তাহকিকঃ মুনকার

১০৫ – আয়িশাহ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেছেন, হে আল্লাহ্‌ বিশেষভাবে উমার ইবনিল খাত্তাবের দ্বারা ইসলামকে সম্মানিত করেন। {১০৩}

তাহকীকঃ খাসসাহ শব্দটি ছাড়া সহিহ।{১০৩} খাস্‌সাহ শব্দটি ছাড়া সহিহ। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: মিশকাত ৬০৩৬। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন উবায়দ আবু উবায়দুল্লাহ আল মাদীনী সম্পর্কে ইবনি হিব্বান বলেন, তিনি হাদীস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। ২. আবদুল মালিক ইবনিল মাজিশুন সম্পর্কে ইবনি হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ। ইমাম যাহাবী বলেন তিনি সত্যবাদী। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তার হাদিসের উপর নির্ভর করা যায় না। আস-সাজী বলেন, তার হাদীস দুর্বল। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

সুনানে ইবনে মাজাহ নং ১০৬ – আবদুল্লাহ বিন সালামাহ [তিনি সত্যবাদী কিন্তু শেষ বয়সে স্মৃতি শক্তি পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল] হইতে বর্ণিতঃ

আমি আলী [রাঃআ:]-কে বলিতে শুনেছিঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআ:]-এর পরে সর্বোৎকৃষ্ট মানুষ হলেন আবু বাক্‌র [রাঃআ:] এবং আবু বাকর [রাঃআ:]-এর পরে উত্তম লোক হলেন উমার [রাঃআ:]। {১০৪}

{১০৪} বোখারী ৩৬৭১, আবু দাউদ ৪৬২৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০৭ – আবু হুরাইরা [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

আমরা নবি [সাঃআ:]-এর দরবারে বসা ছিলাম। তিনি বলেন, একদা আমি স্বপ্নে নিজেকে জান্নাতের মধ্যে দেখলাম। আমি লক্ষ্য করলাম, এক মহিলা একটি প্রাসাদের নিকট বসে উদূ করছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, প্রাসাদটি কার? মহিলা বললো, উমার [রাঃআ:]-এর। তখন উমারের আত্মমর্যাদাবোধের কথা আমার স্মরণ হলো এবং আমি সেখান থেকে পেছনে ফিরে এলাম। আবু হুরাইরা [রাঃআ:] বলেন, [এ কথা শুনে] উমার [রাঃআ:] কেঁদে দিলেন এবং বলিলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক, আমি আপনার উপর কীভাবে আত্মমর্যাদাবোধ প্রকাশ করিতে পারি। {১০৫}

{১০৫} বোখারী ৩২৪২, মুসলিম ৪৩৯৫, আহমদ ৮২৬৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

সুনানে ইবনে মাজাহ নং ১০৮ – আবু যার [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআ:]-কে বলিতে শুনেছিঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তাআলা ‘উমারের মুখে সত্যকে স্থাপন করিয়াছেন এবং সেই সত্যের সাহায্যে সে কথা বলে। {১০৬}

{১০৬} আহমদ ২৯৬২ তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: মিশকাত ৬০৩৪। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন ইসহাক সম্পর্কে ইবনি মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনি নুমায়র তাকে হাসান বলেছেন। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৩. অধ্যায়ঃ উসমান [রাঃআ:]-এর সম্মান

১০৯ – আবু হুরাইরা [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেন, জান্নাতে প্রত্যেক নবির একজন অন্তরঙ্গ বন্ধু থাকিবে। সেখানে আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু হইবে উসমান বিন আফফান। {১০৭}

{১০৭} জঈফ। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: জামি সগীর জঈফ, যঈফা ২২৯২ জঈফ, যিলালিল জান্নাহ ১২৮৯। উক্ত হাদিসের রাবী ১. আবু উসমান বিন খালিদ সম্পর্কে ইমাম বোখারী বলে তিনি দুর্বল। তার অনেক মুনকার হাদিস রয়েছে। আবু হাতীম আর-রাযী বলেন, মুনকারুল হাদিস। ইমাম নাসাঈ বলেন তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আস সাজী বলেন, তার নিকট তার বর্ণিত একাধিক মুনকার হাদিস রয়েছে। ইবনি আদী বলেন তার হাদিস সংরক্ষিত নয়। আল উকাইলী বলেন, হাদিস বর্ণনায় অধিক সন্দেহ করেন। হাকীম আবু আব্দুল্লাহ ও আবু নুয়াইম আল-আসবাহানী বলেন, তিনি মালিক ও অন্যদের সুত্রে বানোয়াট হাদিস বর্ণনা করে থাকেন। ইবনি হিব্বান বলেন তার দ্বারা দলীল গ্রহন করা যাবে না। হাফিয বলেন সে হাদিস বর্ণনায় মাতরুক। ২. আব্দুর রহমান বিন আবু যিনাদ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। আল আজালী বলেন তিনি সিকাহ। আহমদ বিন হাম্বল বলেন, মুদতারাবুল হাদীস।হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১১০ – আবু হুরাইরা [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

নবি [সাঃআ:] মাসজিদের দরজায় উসমান [রাঃআ:]-এর সাক্ষাৎ পেয়ে বলেন, হে উসমান! এই যে, জিবরীল [আ:]। তিনি আমাকে অবহিত করেন যে, আল্লাহ্‌ তাআলা তোমার সাথে উম্মু কুলসুমের বিবাহ দিয়েছেন এবং তার মোহরও রুকাইয়ার মোহরের সমান। {১০৮}

{১০৮} জঈফ। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: তিরমিজি ৩৩৭৯ সহিহ, যঈফাহ ৪৮২৪। উক্ত হাদিসের রাবী ১. আবু উসমান বিন খালীদ সম্পর্কে ইমাম বোখারী বলেন, তিনি দুর্বল, তার অনেক মুনকার হাদিস বর্ণনা আছে। আবু হাতীম আর-রাযী বলেন মুনকারুল হাদীস। ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নন। আস-সাজী বলেন, তার নিকট তার বর্ণিত একাধিক মুনকার হাদিস রয়েছে। ইবনি আদী বলেন, তার হাদিস সংরক্ষিত নয়। আল-উকায়লী বলেন, হাদিস বর্ণনায় অধিক সন্দেহ করেন। হাকীম আবু আব্দুল্লাহ ও আবু নুয়াইম আল-আসবাহানী বলেন, তিনি মালিক ও অন্যদের সুত্রে বানোয়াট হাদিস বর্ণনা করে থাকেন। ইবনি হিব্বান বলেন তার দ্বারা দলীল গ্রহন করা যাবে না। হাফিয বলেন সে হাদিস বর্ণনায় মাতরুক। ২. আব্দুর রহমান বিন আবু যিনাদ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। আল আজালী বলেন তিনি সিকাহ। আহমদ বিন হাম্বল বলেন, মুদতারাবুল হাদীস। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১১১ – কাব বিন উজরাহ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] অচিরেই সংঘটিতব্য একটি বিপর্যয়ের উল্লেখ করেন। ইত্যবসরে এক ব্যক্তি মাথা নিচু করে চলে গেল। রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেন, তখন এ ব্যক্তি সৎপথে প্রতিষ্ঠিত থাকিবে। আমি দ্রুত হেঁটে গিয়ে তার দু কাঁধে হাত রাখতেই দেখলাম যে, তিনি উসমান [রাঃআ:]। অতঃপর আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআ:]-এর নিকট ফিরে এসে বললাম, ইনি কি সেই ব্যক্তি? তিনি বলেন, ইনিই সেই ব্যক্তি। {১০৯}

{১০৯} তিরমিজি ৩৭০৪ তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: মিশকাত ৬০৬৭। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১১২ – আয়িশাহ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেছেন, হে উসমান! তোমাকে আল্লাহ্‌ তাআলা একদিন এক কাজের [খিলাফতের] দায়িত্বশীল করবেন। মুনাফিকরা ষড়যন্ত্র করে আল্লাহ্‌ প্রদত্ত তোমার এই জামা [খিলাফতের দায়িত্ব] তোমার থেকে খুলে ফেলতে চাইবে। তুমি কখনও তা খুলবে না। তিনি এ কথা তিনবার বলেন। নুমান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমি আয়িশাহ [রাঃআ:]-কে জিজ্ঞাস করলাম, [বিদ্রোহ চলাকালে] জনসম্মুখে এ হাদীস বর্ণনা করিতে আপনাকে কিসে বিরত রেখেছে? তিনি বলেন, আমি ভুলে গিয়েছিলাম। {১১০}

{১১০} তিরমিজি ৩৭০৫ তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: মিশকাত ৬০৬৮। উক্ত হাদিসের রাবী ফারাজ বিন ফাদালাহ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, হাদিস বর্ণনায় তিনি দুর্বল। আলী ইবনিল মাদিনী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইমাম বোখারী ও ইমাম মুসলিম বলেন, মুনকারুল হাদীস। আবু হাতীম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১১৩ – আয়িশাহ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] তাহাঁর রোগশয্যায় বললেনঃ আমি আশা করি যে, এ সময় আমার কোন সহাবী আমার নিকট উপস্থিত থাকুক। আমরা বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমরা কি আপনার কাছে আবু বাক্‌রকে ডেকে আনবো? তিনি নীরব থাকলেন। আমরা বললাম, আমরা কি আপনার কাছে উমারকে ডেকে আনবো? তিনি এবারও নীরব থাকলেন। আমরা বললাম, আমরা কি আপনার নিকট উসমানকে ডেকে আনবো? তিনি বলেন, হ্যাঁ। অতঃপর উসমান [রাঃআ:] এলেন। তিনি তার সাথে একান্তে আলাপ-আলোচনা করেন। উসমান [রাঃআ:]-এর চেহারায় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেল। কায়স [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমার নিকট উসমানের মুক্ত দাস আবু সাহলাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বর্ণনা করেন যে, উসমান বিন আফফান [রাঃআ:] নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ থাকাকালে বলিলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] আমার থেকে একটি অঙ্গীকার নিয়েছেন, আমি তাতে ধৈর্য ধারণ করবো। আলী বিন মুহাম্মাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তার বর্ণনায় উল্লেখ করিয়াছেন, উসমান [রাঃআ:] বলেছেন, আমি তাতে ধৈর্য ধারণ করবো। কায়স [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, সহাবীদের মতে, রসুলুল্লাহ [সাঃআ:]-এর সঙ্গে এটাই ছিল তাহাঁর একান্ত আলাপ। {১১১}

{১১১} আহমদ ২৫২৬৯ তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: মিশকাত ৬০৭০। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪. অধ্যায়ঃ আলী বিন আবী তালিব [রাঃআ:]-এর সম্মান

১১৪ -আলী [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

উম্মী নবি [সাঃআ:] আমাকে অবগত করিলেন যে, মু’মিন ব্যক্তিরাই আমাকে ভালবাসবে এবং মুনাফিকরাই আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করিবে। {১১২}

{১১২} মুসলিম ৭৮, তিরমিজি ৩৭৩৬, নাসায়ী ৫০১৮, ৫০২২, আহমদ ৬৪৩, ৭৩৩, ১০৬৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহীহাহ ১৮২০। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১১৫ -সাদ বিন আবু ওয়াক্কাস [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

নবি [সাঃআ:] আলী [রাঃআ:]-কে বলেন, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, আমার নিকট তুমি এরুপ স্থানের অধিকারী মূসা [আ:]-এর নিকট হারুন [আ:]-এর স্থান [মর্যাদা]? {১১৩}

{১১৩} বোখারী ৩৭০৬, মুসলিম ৩৪০৪/১-২, তিরমিজি ৩৭৩১, আহমদ ১৪৬৬, ১৪৯৩, ১৫০৮, ১৫১২, ১৫৩৫, ১৫৫০, ১৫৮৭, ১৬০৩, ১৬১১; ইবনি মাজাহ ১২১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

সুনানে ইবনে মাজাহ নং ১১৬ -আল-বারা বিন আযিব [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

আমরা রসুলুল্লাহ [সাঃআ:]-এর সঙ্গে বিদায় হাজ্জে উপস্থিত ছিলাম। তিনি পথিমধ্যে এক স্থানে অবতরণ করেন, অতঃপর সলাতের জামাআতে একত্র হওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি আলী [রাঃআ:]-এর হাত ধরে বলেন, আমি কি মু’মিনদের নিকট তাহাদের নিজেদের চাইতে অধিক ঘনিষ্টতর নই? তারা বলেন, হাঁ অবশ্যই। তিনি আবার বলেন, আমি কি প্রত্যেক মু’মিনের নিকট তার নিজের চাইতে অধিক ঘনিষ্টতর নই? তারা বলেন, হাঁ অবশ্যই। তিনি বলেন, আমি যার বন্ধু আলীও তার বন্ধু। হে আল্লাহ্‌! যে তাকে ভালোবাসে আপনি তাকে ভালোবাসুন। হে আল্লাহ্‌! যে তার সাথে শত্রুতা করে আপনিও তার সাথে শত্রুতা করুন। {১১৪}

{১১৪} আহমদ ১৮০১১ তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহীহাহ ১৭৫০। উক্ত হাদিসের রাবী আলী বিন যায়দ বিন জুদআন সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান বলেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আহমদ বিন হাম্বল ও ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নন। ইয়াকুব বিন শায়বাহ বলেন, তিনি সিকাহ সালিহ। আল আজালী বলেন, কোন সমস্যা নাই। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১১৭ -আলী [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

আবু লাইলা [রাঃআ:] আলী [রাঃআ:]-এর সাথে নৈশ আলাপ করিতেন। আলী [রাঃআ:] শীতকালে গ্রীস্মকালীন পোশাক এবং গরমকালে শীতকালীন পোশাক পরিধান করিতেন। আমরা বললাম, আপনি যদি তাকে জিজ্ঞেস করিতেন! তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] খায়বারের যুদ্ধ চলাকালে আমাকে ডেকে পাঠান। তখন আমি চক্ষুপীড়ায় আক্রান্ত ছিলাম। আমি বললাম হে আল্লাহর রসূল! আমি চক্ষুপীড়ায় আক্রান্ত। তিনি তাহাঁর মুখের লালা আমার চোখে লাগিয়ে দিয়ে বলিলেন, হে আল্লাহ! তার থেকে গরম ও ঠান্ডা দূরীভূত করে দাও। তিনি বলিলেন, সেদিন থেকে আমি না গরম অনুভব করছি না ঠান্ডা। রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বললেনঃ নিশ্চয় আমি এমন এক ব্যক্তিকে অভিযানে পাঠাবো যে আল্লাহ ও তার রসূলকে ভালোবাসে, আল্লাহ ও তাহাঁর রসূলও তাকে ভালোবাসেন এবং সে পৃষ্ঠপ্রদর্শনকারীও নয়। লোকদের এই মর্যাদা লাভের আকাঙ্ক্ষা হলো। তিনি আলী [রাঃআ:]-কে ডেকে পাঠান এবং তাকেই [সেনাবাহিনীর] পতাকা দান করেন। {১১৫}

{১১৫} আহমদ ৭৮০ তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: হাসান। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবনু আবু লায়লা সম্পর্কে আল আজালী বলেন, তিনি সত্যবাদী। শু’বাহ ইবনিল হাজ্জাজ বলেন, আমি তার চেয়ে অধিক দুর্বল স্মৃতিসম্পন্ন আর কাউকে দেখি নি। ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান তাকে দুর্বল বলেছেন। আহমদ বোন হাম্বল বলেন তার স্মৃতিশক্তি দুর্বল।হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

সুনানে ইবনে মাজাহ নং ১১৮ -ইবনি উমার [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেছেন, হাসান ও হুসায়ন জান্নাতী যুবকদের নেতা এবং তাহাদের পিতা তাহাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হইবে। {১১৬}

{১১৬} সহিহ। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহীহাহ ৯৭৯। উক্ত হাদিসের রাবী মুআল্লা বিন আব্দুর রহমান সম্পর্কে আলী ইবনিল মাদীনী বলেন, তার হাদিস দুর্বল এবং তার ব্যাপারে হাদিস বানিয়ে বর্ণনার অভিযোগ রয়েছে। ইবনি আদী বলেন, আশা করি তেমন কোন সমস্যা নেই। আবু হাতীম আর-রাযী বলেন, তার হাদিস দুর্বল। ইমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি দুর্বল ও মিথ্যুক। উক্ত হাদিস শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১১৯ -আবু ইসাহাক [আমর বিন আবদুল্লাহ] হুবশী বিন জুনাদাহ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআ:]-কে বলিতে শুনিয়াছি আলী আমার থেকে এবং তার থেকে। আলীই আমার পক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করিতে পারে। {১১৭}

{১১৭} তিরমিজি ৩৭১৯ তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: হাসান। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: মিশকাত ৬০৮৩। সহীহাহ ১৭৮০। উক্ত হাদিসের রাবী ইসমাইল বিন মুসা সম্পর্কে আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু শিয়া মতাবলম্বী। আবু হাতীম ও মুতায়্যান তাকে সত্যবাদী বলেছেন। ইমাম নাসাঈ বলেন কোন সমস্যা নেই। ইবনি হিব্বান বলেন তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন।হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

সুনানে ইবনে মাজাহ নং ১২০ -আব্বাদ বিন আবদুল্লাহ হইতে বর্ণিতঃ

আলী [রাঃআ:] বলেছেন, আমি আল্লাহর বান্দা এবং তার রসূল [সাঃআ:]-এর ভাই। আমি পরম সত্যবাদী। আমার পরে কেবল মিথ্যাবাদীই এই [খেতাব] দাবি করে। আমি লোকদের সাত বছর পূর্বেই সালাত আদায় করেছি। {১১৮}

{১১৮} বাতিল। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: যঈফা ৪৯৪৭ মাওযু, যিলাযিল জান্নাহ ১৩২৪। উক্ত হাদিসের রাবী মিনহাল সম্পর্কে ইবনি মাঈন, ইমাম নাসাঈ ও আল আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। ইমাম দারাকুতনী বলেন তিনি সত্যবাদী। জাওযুজানী বলেন, তার স্মৃতিশক্তি দুর্বল। আরেক রাবী আব্বাদ বিন আবদিল্লাহ জঈফ, এটা ইমাম যাহাবী তালখীসে বলেছেন।হাদিসের তাহকিকঃ বাতিল

১২১ -সাদ বিন আবু ওয়াক্কাস [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, মুআবিয়া [রাঃআ:] একবার হাজ্জ করিতে আসেন। সাদ [রাঃআ:] তার নিকটে উপস্থিত হলে লোকেরা আলী [রাঃআ:] সম্পর্কে [অশোভন] উক্তি করে। এতে সাদ [রাঃআ:] অসন্তুষ্ট হন এবং বলেন, তোমরা এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে কটুক্তি করলে যার সম্পর্কে আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআ:]-কে বলিতে শুনেছিঃ আমি যার বন্ধু, আলী তার বন্ধু। আমি নবি [সাঃআ:]-কে আরো বলিতে শুনেছিঃ তুমি আমার কছে ঐরূপ যেরূপ ছিলেন হারূন [আ.] মূসা [আ.]-এর নিকট। তবে আমার পরে কোন নবি নেই। আমি নবি [সাঃআ:]-কে আরো বলিতে শুনেছিঃ আজ [খায়বার যুদ্ধের দিন] আমি অবশ্যই এমন ব্যক্তির হাতে [যুদ্ধের] পতাকা অর্পন করবো, যে আল্লাহ ও তার রসূলকে ভালোবাসে। {১১৯}

{১১৯} বোখারী ৩৭০৬, মুসলিম ৩৪০৪/১-২, তিরমিজি ৩৭৩১, আহমদ ১৪৬৬, ১৪৯৩, ১৫০৮, ১৫১২, ১৫৩৫, ১৫৫০, ১৫৮৭, ১৬০৩, ১৬১১; ইবনি মাজাহ ১১৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহীহাহ ৪/৩৩৫। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫. অধ্যায়ঃ যুবায়র [রাঃআ:]-এর সম্মান

১২২ -জাবির [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, বনূ কুরায়যার যুদ্ধের দিন রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেনঃ কে আমাদের নিকট [কাফির] সম্প্রদায়ের তথ্য সংগ্রহ করে নিয়ে আসবে? যুবয়র [রাঃআ:] বলেন, আমি। তিনি পুনরায় বলেন, কে আমাদের নিকট [কাফির] সম্প্রদায়ের তথ্য সংগ্রহ করে নিয়ে আসবে? যুবয়র [রাঃআ:] বলেন, আমি। এভাবে তিনবার এ কথার পুনরাবৃত্তি হয়। নবি [সাঃআ:] বলেন, প্রত্যেক নবির হাওয়ারী [জানবাজ সহচর] ছিল, আমার হাওয়ারী হলো যুবায়র। {১২০}

{১২০} বোখারী ২৮৪৬, মুসলিম ২৪১৫, তিরমিজি ৩৭৪৫, আহমদ ১৩৮৮৫, ১৩৯৬৫, ১৪২২৩, ১৪৫১৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

সুনানে ইবনে মাজাহ নং ১২৩ -যুবায়র [ইবনিল আওওয়াম] [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] উহূদের যুদ্ধের দিন তাহাঁর পিতামাতাকে আমার জন্য একত্র [উল্লেখ] করেন। {১২১}

{১২১} বোখারী ৩৭২০, মুসলিম ২৪১৬, তিরমিজি ৩৭৪৩, আহমদ ১৪১১, ১৪২৬। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১২৪ -হিসাম বিন উরওয়াহ, তার পিতা [উরওয়াহ ইবনিয-যুবায়র] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আয়িশাহ [রাঃআ:], আমাকে বলিলেন, হে উরওয়াহ! তোমরা দুজন পিতৃপুরুষ সেই লোকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যাদের সম্পর্কে এ আয়াত নাযিল হয়েছে [অনুবাদ]: “যারা ক্ষত-বিক্ষত হওয়ার পরও আল্লাহ ও তার রসূলের ডাকে সাড়া দিয়েছে” [সূরাহ আল ইমরানঃ ১৭২]। আবু বাকর ও যুবায়র [রাঃআ:]। {১২২}

{১২২} বোখারী ৪০৭৭, মুসলিম ২৪১৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। উক্ত হাদিসের রাবী হাদীইয়্যাহ বিন আবদুল ওয়াহহাব সম্পর্কে আবু বাকর বিন আবু আসিম ও ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি সিকাহ তবে ইবনি হিব্বান তাকে সিকাহ বললেও অন্যত্র তিনি তার ব্যাপারে বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৬. অধ্যায়ঃ তালহাহ বিন উবাইদুল্লাহ [রাঃআ:]-এর সম্মান

সুনানে ইবনে মাজাহ নং ১২৫ – জাবির বিন আবদুল্লাহ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

তালহাহ [রাঃআ:] নবি [সাঃআ:]-এর সামনে দিয়ে অতিক্রম করলে তিনি বলেন, একজন শহীদ যমীনের বুকে বিচরন করেছে। {১২৩}

{১২৩} তিরমিজি ৩৭৩৯ তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহীহাহ ১২৬। উক্ত হাদিসের রাবী সালত বিন দীনার সম্পর্কে আহমদ বিন হাম্বল বলেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য এবং মানুষেরা তার হাদিস প্রত্যাখ্যান করিয়াছেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, কোন সমস্যা নেই। ইমাম বোখারী বলেন তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। ইয়া’কুব বিন সুফইয়ান ও আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি দুর্বল। হাদিসটির ৭৪ টি শাহিদ রয়েছে তন্মধ্যে তিরমিযিতে ৫ টি ইবনি মাজায় ৩ টি ও বাকীগুলো অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত রয়েছে। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১২৬ – মুআবিয়াহ বিন আবু সুফাইয়ান [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবি [সাঃআ:] তালহা [রাঃআ:]-এর দিকে তাকিয়ে বলেন, যারা নিজেদের মানৎ পূর্ণ করেছে সে তাহাদের অন্তর্ভুক্ত। {১২৪}

{১২৪} তিরমিজি ৩২০২ তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: হাসান। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহীহাহ ১২৫। উক্ত হাদিসের রাবী ১. আমর বিন উসমান সম্পর্কে আবু হাতীম আর-রাযী বলেন, তার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। ইবনি আদী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায়। ইমাম নাসাঈ বলেন তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আল উকাইলী বলেন, তিনি দুর্বল। আল আযদী বলেন তার হাদিস দুর্বল। ২. ইসহাক বিন ইয়াহইয়া বিন তালহাহ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ বলেন, কোন সমস্যা নেই। আলী ইবনি মাদীনী বলেন মুনকারুল হাদীস ও তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ইমাম বোখারী বলেন তিনি সত্যবাদী কিন্তু তিনি হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। হাদিসটির ৭৪ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে তন্মধ্যে তিরমিযিতে ৫ টি, ইবনি মাজায় ৩ টি ও বাকীগুলো অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত রয়েছে। হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

১২৭ – মূসা বিন তালহা হইতে বর্ণিতঃ

আমরা মুআবিয়া [রাঃআ:]-এর নিকটে উপস্থিত ছিলাম। তখন তিনি বলিলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয় আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআ:]-কে বলিতে শুনিয়াছি যারা নিজেদের মানৎ পূর্ণ করেছে, তালহাহ তাহাদের অন্তর্ভুক্ত। {১২৫}

{১২৫} তিরমিজি ৩২০২ তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী ইসহাক [বিন ইয়াহইয়া] সম্পর্কে আহমদ বিন হাম্বল বলেন, তার থেকে আমরা কেউ হাদিস বর্ণনা করি নি। আলী ইবনি মাদীনী বলেন মুনকারুল হাদীস ও তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য।ইমাম বোখারী বলেন তিনি সত্যবাদী কিন্তু তিনি হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। হাদিসটির ৭৪ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে তন্মধ্যে তিরমিযিতে ৫ টি, ইবনি মাজায় ৩ টি ও বাকীগুলো অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত রয়েছে। হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

১২৮ – কায়স [বিন আবু হাসিম] হইতে বর্ণিতঃ

আমি তালহাহহ [রাঃআ:]-এর কর্তিত হাত দেখেছি, যা দ্বারা তিনি উহূদের যুদ্ধের দিন রসুলুল্লাহ [সাঃআ:]-এর [প্রতি আক্রমন] প্রতিহত করেছিলেন। {১২৬}

{১২৬} বোখারী ৩৭২৪, আহমদ ১৩৮৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৭. অধ্যায়ঃ সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস [রাঃআ:]-এর সম্মান

সুনানে ইবনে মাজাহ নং ১২৯ – আলী [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআ:]-কে সাদ বিন মালিক ব্যতীত অপর কারো জন্য তার পিতা-মাতাকে একত্রে উল্লেখ করিতে দেখিনি। তিনি উহূদের যুদ্ধ চলাকালে তাকে বলিলেন, হে সাদ! তীর নিক্ষেপ করো, আমার পিতা তোমার জন্য উৎসর্গিত হোক। {১২৭}

{১২৭} বোখারী ২৯০৫ মুসলিম ২৪১১, তিরমিজি ২৮২৮-২৯, ২৭৫৩, ৩৭৫৫; আহমদ ৭১১, ১০২০, ১১৫১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৩০ – সাঈদ ইবনিল মুসাইয়্যাব হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি সাদ ইবনিল আবু ওয়াক্কাস [রাঃআ:]-কে বলিতে শুনেছিঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] উহূদের দিন যুদ্ধ চলাকালে আমার জন্য তাহাঁর পিতা-মাতাকে একত্র করিয়াছেন। তিনি বলেন, হে সাদ! তীর নিক্ষেপ করো, আমার পিতা-মাতা তোমার জন্য উৎসর্গিত হোক। {১২৮}

{১২৮} বোখারী ৩৭২৫, মুসলিম ২৪১২, তিরমিজি ২৮৩০, ৩৭৫৪। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। উক্ত হাদিসের রাবী ইসমাঈল বিন আয়্যাশ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, আহলে শাম থেকে হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। আলী ইবনিল মাদীনী, ইবনি আবু শায়বাহ, আমর ইবনিল ফাল্লাস ও দুহায়ম বলেন, শাম শহর থেকে হাদিস বর্ণনায় তিনি সিকাহ কিন্তু অন্য শহর থেকে হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৩১ – কায়স [বিন আবু হাযিম] হইতে বর্ণিতঃ

আমি সাদ বিন আবু ওয়াক্কাস [রাঃআ:] বলিতে শুনেছিঃ আমি আল্লাহর রাস্তার তীর বর্ষণকারী প্রথম আরব। {১২৯}

{১২৯} বোখারী ৩৭২৮, ৬৪৫৩, মুসলিম ২৯৬৬, তিরমিজি ২৩৬৫-৬৬, আহমদ ১৫৭০, ১৬২১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৩২ – সাদ বিন আবু ওয়াক্কাস [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

যেদিন আমি ইসলাম গ্রহণ করি, সেদিন আর কেউ ইসলাম গ্রহণ করেনি। কিন্তু আমি আমার ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি সাত দিন যাবৎ গোপন রাখি। আমি ইসলাম গ্রহণকারী তৃতীয় ব্যক্তি। {১৩০}

{১৩০} বোখারী ৩৭২৬-২৭, ৩৭৫৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৮. অধ্যায়ঃ জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবা [রাঃআ:]-দের সম্মান

১৩৩ – সাঈদ বিন যায়দ বিন আমর বিন নুফাইল [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] দশ ব্যক্তির মধ্যে দশম জন। তিনি বলেন, আবু বাকর জান্নাতী, উমার জান্নাতী, উসমান জান্নাতী, আলী জান্নাতী, তালহাহহ্‌ জান্নাতী, যুবায়র জান্নাতী, সাদ জান্নাতী ও আবদুর রহমান বিন আওফ জান্নাতী। সাঈদ [রাঃআ:]-কে জিজ্ঞেস করা হলো, নবম ব্যক্তি কে? তিনি বলেন, আমি। {১৩১}

{১৩১} তিরমিজি ৩৭৪৮ তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: মিশকাত। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

সুনানে ইবনে মাজাহ নং ১৩৪ – সাঈদ বিন যায়দ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] সম্পর্কে সাক্ষ্য দেই যে, আমি তাঁকে বলিতে শুনেছিঃ হে হেরা [পর্বত]! স্থির হও। কেননা তোমার উপর একজন নবি, একজন পরম সত্যবাদী ও একজন শহীদ রয়েছে। অতঃপর রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] তাহাদের নাম ধরে গণনা করেনঃ আবু বাকর, উমার, উসমান, আলী, তালহাহহ, যুবায়র, সাদ, বিন আওফ ও সাঈদ বিন যায়দ। {১৩২}

{১৩২} তিরমিজি ৩৭৫৭, আবু দাউদ ৪৬৪৮, আহমদ ১৬৩৪। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহীহাহ ৮৭৫। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল্লাহ বিন যালীম সম্পর্কে ইবনি হিব্বান ও আল আজালী বলেন, তিনি সিকাহ ইমাম বোখারী তাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনি আদী ও আল-আকালী তাকে দুর্বল বলেছেন। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৯. অধ্যায়ঃ আবু উবাইদাহ বিন জাররাহ [রাঃআ:]-এর সম্মান

১৩৫ – হুযায়ফাহ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআ:] নাজরানবাসীদের বলেন, আমি অচিরেই তোমাদের সাথে একজন আমানতদার [বিশ্বস্ত] লোক পাঠাচ্ছি, যে সত্যিকারে আমানতদার [বিশ্বস্ত]। [রাবী বলেন], লোকেরা এই মর্যাদা লাভের আকাঙ্ক্ষা করছিল। অতঃপর তিনি আবু উবায়দাহ ইবনিল জাররাহ [রাঃআ:]-কে পাঠান। {১৩৩}

{১৩৩} বোখারী ৩৭৪৫, মুসলিম ২৪২০, তিরমিজি ৩৭৯৬, আহমদ ২২৭৬১, ২২৮৬৮, ২২৮৮৮, ২২৮৯৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৩৬ – আবদুল্লাহ বিন মাসউদ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] আবু উবায়দাহ ইবনিল জাররা [রাঃআ:]-কে বললেনঃ এ ব্যক্তি হলো এ উম্মাতেরর আমানতদার [পরম বিশ্বস্ত ব্যক্তি]। {১৩৪}

{১৩৪} আহমদ ৩৯২০ তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২০. অধ্যায়ঃ আবদুল্লাহ্‌ বিন মাসুদ [রাঃআ:]- এর সম্মান

১৩৭ – আলী [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেছেন, আমি যদি পরামর্শ না করেই কাউকে খলীফা নিযুক্ত করতাম, তাহলে বিন উম্মে আব্‌দকেই খলীফা নিযুক্ত করতাম। {১৩৫}

{১৩৫} তিরমিজি ৩৮০৮, আহমদ ৫৬৭, ৫৪৮, ৫৫৪। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: জঈফ। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: মিশকাত ৬২২২, যঈফাহ ২৩২৭। উক্ত হাদিসের রাবী হারিস [আবদুল্লাহ] সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে সিকাহ বললেও আলী ইবনিল মাদীনী তাকে মিথ্যুক বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তার থেকে দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। আবু হাতীম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

সুনানে ইবনে মাজাহ নং ১৩৮ – আবদুল্লাহ বিন মাসুদ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

আবু বাক্‌র ও উমার [রাঃআ:] তাকে সুসংবাদ দেন যে, রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেছেন, যে ব্যক্তি কুরআন মাজীদ উত্তমরূপে তিলাওয়াত করিতে চায়, যেভাবে তা নাযিল হয়েছে, সে যেন ইবনি উম্মে আবদ-এর পাঠ মোতাবেক তিলাওয়াত করে। {১৩৬}

{১৩৬} আহমদ ৩৬, ১৭৬। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহীহাহ ২৩০১। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৩৯ – আবদুল্লাহ বিন মাসুদ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] আমাকে বললেনঃ তোমার জন্য পর্দা [বাধা] তুলে নেয়া হয়েছে। তাই তুমি আমার নিকট এসে আমার গোপন কথা শুনতে পারো, যাবত না আমি তোমাকে নিষেধ করি। {১৩৭}

{১৩৭} মুসলিম ২১৬৯, আহমদ ৩৬৭৫, ৩৭২৪, ৩৮২৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহীহাহ ১৪২৭। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২১. অধ্যায়ঃ আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিব [রাঃআ:]-এর সম্মান

১৪০ – আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিব [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

আমরা কুরায়শ গোত্রের লোকেদের সমাবেশে তাহাদের পারস্পরিক আলোচনাকালে তাহাদের সাথে সাক্ষাৎ করলে তারা তাহাদের আলোচনা বন্ধ করে দিত। আমরা বিষয়টি রসুলুল্লাহ [সাঃআ:]-এর নিকট উল্লেখ করলে তিনি বলেন, লোকেদের কী হলো যে, তাহাদের পারস্পারিক আলোচনাকালে আমার আহ্‌লে বাইতের কোন লোককে দেখলে তারা তাহাদের কথাবার্তা বন্ধ করে দেয়? আল্লাহ্‌র শপথ! কোন ব্যক্তির অন্তরে ঈমান প্রবেশ করিতে পারে না যতক্ষণ না সে আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য এবং আমার সাথে তাহাদের আত্নীয় সম্পর্কের কারণে তাহাদেরকে ভালোবাসবে। {১৩৮}

{১৩৮} আহমদ ১৭৭৫ তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: জঈফ। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: যঈফা ৪৪৩০ জঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন ফুদায়ল সম্পর্কে ইবনি মাঈন তাকে সিকাহ বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন তিনি সত্যবাদী। ইমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। আহমদ বিন হাম্বাল বলেন, তিনি শিয়া মতাবলম্বী। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১৪১ – আবদুল্লাহ বিন আম্‌র [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেছেন, আল্লাহ্‌ তাআলা আমাকে প্রিয় বন্ধুরূপে গ্রহণ করিয়াছেন, যেমন ইবরাহীম [আ:]-কে তিনি বন্ধুরূপে গ্রহন করেছিলেন। কিয়ামাতের দিন জান্নাতে আমি ও ইবরাহীম [আ:] সামনাসামনি আসনে উপবিষ্ট থাকবো এবং আব্বাস [রাঃআ:] আমাদের দুজনের মাঝে একজন মুমিন হিসাবে অবস্থান করবেন। {১৩৯}

{১৩৯} মউযূ। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: জামি সগীর ১৫৩০, ১৫৩১, ২৪৪৫, ২৭৪৫; যঈফা ১৬০৫, ৩০৩৪। উক্ত হাদিসের রাবী ১. আব্দুল ওয়াহহাব বিন দাহহাক সম্পর্কে ইমাম বোখারী বলেন, তার নিকট আশ্চর্য ধরনের হাদিস সমূহ পাওয়া যায়। আবু যুরআহ বলেন তিনি হাদিস বানিয়ে বর্ণনা করিয়াছেন। সালিহ জাযারাহ বলেন, মুনকারুল হাদিস অন্যত্র বলেন, তিনি মিথ্যুক। ইমাম নাসাঈ বলেন তিনি সিকাহ নন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। মুহাম্মাদ বিন আওফ বলেন তিনি একাধিক হাদিস বানিয়ে বর্ণনা করিয়াছেন। ইবনি আদী বলেন তার কিছু হাদিসের ব্যাপারে অনুসরণ করা যাবে না। ২. ইসমাঈল বিন আয়্যাশ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, আহলে শাম থেকে হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। আলী ইবনিল মাদীনী, ইবনি আবু শায়বাহ, আমর ইবনিল ফাল্লাস ও দুহায়ম বলেন, শাম শহর থেকে হাদিস বর্ণনায় তিনি সিকাহ কিন্তু অন্য শহর থেকে হাদিস বর্ণনায় দুর্বল।হাদিসের তাহকিকঃ জাল হাদিস

২২. অধ্যায়ঃ হাসান ও হুসায়ন [রাঃআ:]-এর সম্মান

সুনানে ইবনে মাজাহ নং ১৪২ – আবু হুরাইরা [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

নবি [সাঃআ:] হাসান [রাঃআ:] সম্পর্কে বলেন, হে আল্লাহ্‌! আমি অবশ্যই হাসানকে ভালোবাসি। অতএব আপনিও তাকে ভালোবাসুন এবং যারা তাকে ভালোবাসে আপনি তাহাদেরও ভালোবাসুন। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি তাকে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে ধরেন। {১৪০}

{১৪০} বোখারী ২১২২, ৫৮৮৪; মুসলিম ২৪২১, আহমদ ৭৩৫০, ৮১৮০, ১০৫১০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহীহাহ ২৮০৭। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৩ – আবু হুরাইরা [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেছেন, যে ব্যাক্তি হাসান ও হুসায়নকে ভালোবাসে, সে আমাকেই ভালোবাসে এবং যে ব্যক্তি তাহাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে সে আমার প্রতিই বিদ্বেষ পোষণ করে। {১৪১}

{১৪১} আহমদ ৭৮১৬, ১০৪৯১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: হাসান। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: আহকামুল জানায়িয ১০১। উক্ত হাদিসের রাবী দাউদ বিন আবু আউফ আবুল জাহহাফ সম্পর্কে আহমদ বিন হাম্বল ও ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে সিকাহ বলেছেন। ইমাম নাসাঈ বলেন কোন সমস্যা নেই। ইবনি হিব্বান বলেন তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন।হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

১৪৪ – ইয়ালা বিন মু্‌র্‌রাহ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

তারা নবি [সাঃআ:] এর সাথে তাঁকে প্রদত্ত এক আহারের দাওয়াতে রওনা হন। তখন হুসায়ন [রাঃআ:] গলির মধ্যে খেলাধূলা করছিলেন। রাবী বলেন, নবি [সাঃআ:] লোকেদের অগ্রভাগে এগিয়ে গেলেন এবং তাহাঁর দু হাত বিস্তার করে দিলেন। বালকটি এদিক ওদিক পালাতে থাকলো এবং নবি [সাঃআ:] তাকে হাসতে হাসতে ধরে ফেলেন। এরপর তিনি তাহাঁর এক হাত ছেলেটির চোয়ালের নিচে রাখলেন এবং অপর হাত তাহাঁর মাথার তালুতে রাখলেন, অতঃপর তাকে চুমা দিলেন এবং বললেনঃ হুসায়ন আমার থেকে এবং আমি হুসায়ন থেকে। যে ব্যক্তি হুসায়নকে ভালোবাসে, আল্লাহ্‌ তাআলা তাকে ভালোবাসেন। হুসায়ন আমার নাতিদের একজন।

১৪৪ [ক]। {{আলী বিন মুহাম্মদ} {ওয়াকী } {সুফইয়ান [রাঃআ:]}} সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। {১৪২} {১৪২} তিরমিজি ৩৭৭৫, আহমদ ১৭১১১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: হাসান। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহীহাহ ১২১৮। উক্ত হাদিসের রাবী ১. আসবাত বিন নাসর সম্পর্কে মুসা বিন হারুন বলেন, তেমন কোন সমস্যা নেই। ইমাম বোখারী বলেন তিনি সত্যবাদী। ২. সুদ্দী সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন সাইদ আল কাত্তান বলেন, কোন সমস্যা নেই। আহমদ বিন হাম্বল ও আল আজালী তাকে সিকাহ বললেও ইবনি আদী বলেন, হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইয়াহইয়া ইবনি মাঈন বলেন তার হাদিস দুর্বল। ৩. সুবায়হ সম্পর্কে অনেকে তাকে অপরিচিত বললেও ইমাম যাহাবী তাকে সমর্থন করিয়াছেন। হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

সুনানে ইবনে মাজাহ নং ১৪৫ – যায়দ বিন আরকাম [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] আলী, ফাতিমাহ, হাসান ও হুসায়ন [রাঃআ:]-কে লক্ষ্য করে বলেন, যারা তোমাদের শান্তি ও স্বস্তিতে রাখবে, আমিও তাহাদের শান্তিতে রাখবো এবং যারা তোমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করিবে, আমিও তাহাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করবো। {১৪৩}

{১৪৩}তিরমিজি ৩৮৭০ তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: দুর্বল। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: মিশকাত ৬১৪৫, যঈফাহ ৬০২৮। উক্ত হাদিসের রাবী ১. আসবাত বিন নাসর সম্পর্কে মুসা বিন হারুন বলেন, তেমন কোন সমস্যা নেই। ইমাম বোখারী বলেন তিনি সত্যবাদী। ২. সুদ্দী সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন সাইদ আল কাত্তান বলেন, কোন সমস্যা নেই। আহমদ বিন হাম্বল ও আল আজালী তাকে সিকাহ বললেও ইবনি আদী বলেন, হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইয়াহইয়া ইবনি মাঈন বলেন তার হাদিস দুর্বল। ৩. সুবায়হ সম্পর্কে অনেকে তাকে অপরিচিত বললেও ইমাম যাহাবী তাকে সমর্থন করিয়াছেন। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৩. অধ্যায়ঃ আম্মার বিন ইয়াসির [রাঃআ:]-এর সম্মান

১৪৬ – আলী বিন আবু তালিব [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

আমি নবি [সাঃআ:]-এর নিকট বসা ছিলাম। আম্মার বিন ইয়াসির [রাঃআ:] প্রবেশানুমতি চাইলেন। নবি [সাঃআ:] বলেন, তাকে অনুমতি দাও। এই পাক ও পবিত্র ব্যক্তিকে স্বাগতম। {১৪৪}

{১৪৪} তিরমিজি ৩৭৯৮, আহমদ ৭৮১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: মিশকাত ৬২২৬, সহীহা ২/৪৬৬। উক্ত হাদিসের রাবী হানী বিন হানী সম্পর্কে ইবনি হিব্বান সিকাহ বললেও ইমাম শাফঈ বলেন তার পরিচয় জানা যায়নি। আলী ইবনিল মাদীনী বলেন, তিনি অপরিচিত। ইমাম নাসাঈ বলেন তার হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৭ -আলী [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

[হানী] বলেন, আম্মার [রাঃআ:] আলী [রাঃআ:] এর নিকট প্রবেশ করলে তিনি বলেন, এই পাক-পবিত্র ব্যক্তিকে স্বাগতম। আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআ:]-কে বলিতে শুনেছিঃ আম্মার এমন একটি পাত্র যার গলা পর্যন্ত ঈমানে ভরপুর। {১৪৫}

{১৪৫} তিরমিজি ৩৭৯৮, আহমদ ৭৮১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহীহা ৮০৭। উক্ত হাদিসের রাবী হানী বিন হানী সম্পর্কে ইবনি হিব্বান সিকাহ বললেও ইমাম শাফঈ বলেন তার পরিচয় জানা যায়নি। আলী ইবনিল মাদীনী বলেন, তিনি অপরিচিত। ইমাম নাসাঈ বলেন তার হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

সুনানে ইবনে মাজাহ নং ১৪৮ – আয়িশাহ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেছেন, আম্মার এমন ব্যক্তি, যাকে দুটি বিষয়ের মধ্যে এখতিয়ায় দেয়া হলে সে অধিকতর হিদায়াতপূর্ণ বিষয়টি গ্রহণ করে। {১৪৬}

{১৪৬} তিরমিজি ৩৭৯৯ তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহীহাহ ৮৩৫, মিশকাত ৬২২৭। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৪. অধ্যায়ঃ সালমান, আবু যার ও মিকদাদ [রাঃআ:]-এর সম্মান

১৪৯ – বুরাইদাহ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেছেন, আল্লাহ্‌ তাআলা চার ব্যক্তিকে ভালোবাসতে আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং আমাকে অবহিত করিয়াছেন যে, তিনিও তাহাদের ভালোবাসেন। বলা হলো, হে আল্লাহ্‌র রসূল! তারা কারা? তিনি বলেন, আলী তাহাদের অন্তর্ভুক্ত। এ কথাটি তিনি তিনবার বলেন। [অপর তিনজন] আবু যার, সালমান ও মিকদাদ। {১৪৭}

{১৪৭} তিরমিজি ৩৭১৮, আহমদ ২২৪৫৯, ২২৫০৫; যঈফাহ ১৫৪৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: দুর্বল। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: জামি সগীর ১৫৬৬, তিরমিজি ৩৭১৮ জঈফ, মিশকাত ৬২৪৯, যঈফা ৪/১৫৪৯, ৭/৩১২৮। উক্ত হাদিসের রাবী ১. ইসমাইল বিন মুসা সম্পর্কে আবু দাউদ আস-সাজিসতানী, আবু হাতীম আর-রাযী ও মুতায়্যান বলেন, তিনি সত্যবাদী। ২. শারীক সম্পর্কে আহমদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন তিনি সত্যবাদী কিন্তু যখন তার হাদিস সিকাহ রাবীর বিপরীত হয় তখন তিনি তার মত পরিবর্তন করে নেন এটা আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি সিকাহ তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। আবু হাতীম আর-রাযী বলেন তিনি সত্যবাদী কিন্তু হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান বলেন, আমি তাকে হাদিসে সংমিশ্রণ করিতে দেখেছি। ৩. আবু রাবীআহ সম্পর্কে ইমাম যাহাবী তাকে দুর্বল হিসেবে উল্লেখ করিয়াছেন। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১৫০ – আবদুল্লাহ বিন মাসুদ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

সর্বপ্রথম সাত ব্যক্তি তাহাদের ইসলাম গ্রহণের কথা প্রকাশ করেন। তারা হলেনঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআ:], আবু বাক্‌র [রাঃআ:], আম্মার [রাঃআ:], তাহাঁর মাতা সুমাইয়্যাহ [রাঃআ:], সুহায়ব [রাঃআ:], বিলাল [রাঃআ:] ও মিকদাদ [রাঃআ:]। অতঃপর আল্লাহ্‌ তাআলা রসুলুল্লাহ [সাঃআ:]-এর চাচা আবু তালিবের মাধ্যমে তাহাঁর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন। আল্লাহ্‌ তাআলা আবু বাকর [রাঃআ:]-এর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন তার স্বগোত্রীয়দের দ্বারা। অবশিষ্ট সকলকে মুশরিকরা আটক করে। তারা তাহাদেরকে লৌহবর্ম পরিধান করিয়ে প্রখর রোদের মাঝে চিৎ করে শুইয়ে দিত। তাহাদের মাঝে এমন কেউ ছিল না, যাকে দিয়ে তারা তাহাদের ইচ্ছানুসারে স্বীকারোক্তি করায়নি। কেবল বিলাল [রাঃআ:] নিজেকে আল্লাহ্‌র রাস্তায় অপমানিত করেন এবং লোকেরাও তাকে অপমানিত করে। তারা তাকে আটক করে বালকদের হাতে তুলে দেয়। তারা তাকে নিয়ে মাক্কাহর অলিতে-গলিতে ঘুরে বেড়াতো এবং তিনি শুধু আহাদ আহাদ [আল্লাহ্‌ এক, আল্লাহ্‌ এক] বলিতেন। {১৪৮}

{১৪৮} আহমদ ৩৮২২ তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী আসিম বিন আবুন নাজদ সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সা’দ বলেন, তিনি সিকাহ তবে অধিক ভুল করেন। ইয়া’কুব বিন সুফইয়ান তাকে সিকাহ বলেছেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, কোন সমস্যা নেই।হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

সুনানে ইবনে মাজাহ নং ১৫১ – আনাস বিন মালিক [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেছেন, অবশ্যই আল্লাহ্‌র পথে আমাকে যতটা নির্যাতন করা হয়েছে, অপর কাউকে সেরূপ নির্যাতন করা হয়নি এবং আমাকে আল্লাহ্‌র পথে যতটা ভীতসন্ত্রস্ত করা হয়েছে, অপর কাউকে সেরূপ ভীতসন্ত্রস্ত করা হয়নি। আমার ও বিলালের উপর দিয়ে তিন তিনটি রাত এমনভাবে অতিবাহিত হয়েছে যে, বিলালের বগলের নিচে দাবিয়ে রাখা সামান্য খাদ্য ছাড়া এমন কোন খাদ্য ছিল না যা কোন প্রাণী খেতে পারে। {১৪৯}

{১৪৯} তিরমিজি ২৪৭২ তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: মিশকাত ৫২৫৩, সহীহাহ ২২২২। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৫. অধ্যায়ঃ বিলাল [রাঃআ:]-এর সম্মান

১৫২ – ইবনি উমার [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

[সালিম] বলেন, জনৈক কবি বিলাল বিন আবদুল্লাহ [রাঃআ:]-এর প্রশংসা করে বলেন, বিলাল বিন আবদুল্লাহ হলেন সর্বোত্তম বিলাল। তখন ইবনি উমার [রাঃআ:] বলেন, তুমি মিথ্যা বলছো। না, বরং রসুলুল্লাহ [সাঃআ:]-এর বিলালই হলেন সর্বোত্তম বিলাল। {১৫০}

নাই তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: দুর্বল। উক্ত হাদিসের রাবী উমার বিন হামযাহ সম্পর্কে ইবনি হিব্বান সিকাহ বললেও অন্যত্র বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। আহমদ বিন হাম্বল বলেন, মুনকারুল হাদিস। ইমাম নাসাঈ তাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনি আদী তার থেকে হাদিস গ্রহন করিয়াছেন। হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৬. অধ্যায়ঃ খাব্‌বাব [রাঃআ:]-এর সম্মান

সুনানে ইবনে মাজাহ নং ১৫৩ – আবু লায়লা আল-কিন্দী [সালামাহ বিন মুআবিয়াহ] হইতে বর্ণিতঃ

খাব্বাব [ইবনিল আরাত [রাঃআ:]] উমার [রাঃআ:]-এর নিকট এলে তিনি বলেন, কাছে এসো। তোমার চেয়ে উপযুক্ত এই মজলিসে যোগদানকারী আর কেউ নেই, আম্মার [রাঃআ:] ব্যতীত। খাব্বাব [রাঃআ:] তাহাঁর পিঠে মুশরিকদের বীভৎস শাস্তির দাগসমূহ তাকে দেখাতে লাগলেন।

সহিহ। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৪ – আনাস বিন মালিক [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেন, আমার উম্মাতের মধ্যে আমার উম্মাতের প্রতি সর্বাপেক্ষা দয়ার্দ্র ব্যক্তি আবু বাক্‌র। তাহাদের মধ্যে আল্লাহ্‌র দ্বীনের ব্যাপারে সর্বাপেক্ষা কঠোর মনোভাবাপন্ন ব্যক্তি উমার। তাহাদের মধ্যে সর্বাধিক সত্যিকার লজ্জাশীল ব্যক্তি উসমান। তাহাদের মধ্যে সর্বাধিক বিচক্ষণ বিচারক আলী বিন আবু তালিব। তাহাদের মধ্যে আল্লাহ্‌র কিতাবের সর্বোত্তম পাঠকারী উবাই বিন কাব। তাহাদের মধ্যে হালাল ও হারাম সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞাত ব্যক্তি মুআয বিন জাবাল। তাহাদের মধ্যে ফারায়িয [দায়ভাগ] সম্পর্কিত বিষয়ে সর্বাধিক জ্ঞানী যায়দ বিন সাবিত। শোন! প্রত্যেক উম্মাতের একজন আমীন [বিশ্বস্ত ব্যক্তি] থাকে। আর এ উম্মাতের আমীন হলো আবু উবায়দাহ ইবনিল জাররাহ। {১৫২}

{১৫২} বোখারী ৩৭৪৪, মুসলিম ২৪১৯, তিরমিজি ৩৭৯০-৯১, আহমদ ১১৮৫২, ১১৯৪৯, ১২০৭২, ১২৩৭৮, ১২৪৯৩, ১২৫৫৪, ১২৮০৫, ১৩১৫১, ১৩৫৭৮, ১৩৬৩৪। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহীহাহ ১২২৪। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৫ – আনাস বিন মালিক [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

তবে এ সূত্রে আরো আছে যে, তিনি যায়দ বিন সাবিত [রাঃআ:] সম্পর্কে বলেন, তাহাদের মধ্যে তিনি ফারায়িদ সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত। {১৫৩}

{১৫৩} বোখারী ৩৭৪৪, মুসলিম ২৪১৯, তিরমিজি ৩৭৯০-৯১, আহমদ ১১৮৫২, ১১৯৪৯, ১২০৭২, ১২৩৭৮, ১২৪৯৩, ১২৫৫৪, ১২৮০৫, ১৩১৫১, ১৩৫৭৮, ১৩৬৩৪। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৭. অধ্যায়ঃ আবু যার [রাঃআ:]-এর সম্মান

সুনানে ইবনে মাজাহ নং ১৫৬ – আবদুল্লাহ বিন আম্‌র [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআ:]-কে বলিতে শুনেছিঃ বাচনিক সত্যবাদিতায় আবু যারের চেয়ে উত্তম কোন ব্যক্তিকে আসমান ছায়াদান করেনি এবং পৃথিবী তার বুকে ধারণ করেনি। {১৫৪}

{১৫৪} তিরমিজি ৩৮০১ তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: মিশকাত ৬২২৯, ৬২৩০, সইহাহ ২৩৪৩। উক্ত হাদিসের রাবী উসমান বিন উমায়র সম্পর্কে ইমাম বোখারী ও আহমদ বিন হাম্বল বলেন, মুনকারুল হাদিস। ইবনি মাহদী তার হাদিস প্রত্যাখ্যান করিয়াছেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার হাদিস দুর্বল। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৮. অধ্যায়ঃ সাদ বিন মুআয [রাঃআ:]-এর সম্মান

১৫৭ – আল-বারা বিন আযিব [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআ:]-কে এক টুকরা সাদা রেশমী কাপড় উপহার দেয়া হল। উপস্থিত লোকজন একের পর এক তা হাতে নিয়ে দেখিতে লাগলো। রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেন, তোমরা কি এটি দেখে অবাক হচ্ছো! তারা তাঁকে বলেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহ্‌র রসূল! তিনি বলেন সেই মহান সত্তার শপথ, যাঁহার হাতে আমার প্রাণ! জান্নাতে সাদ বিন মুআয-এর রুমাল এর চাইতেও উত্তম হইবে। {১৫৫}

{১৫৫} বোখারী ৩২৪৯, মুসলিম ২৪৬৮, তিরমিজি ৩৮৪৭, আহমদ ১৭০৭৩, ১৮১২২, ১৮২১০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৮ – জাবির [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেছেন, সাদ বিন মুআয-এর মৃত্যুতে মহান আল্লাহ্‌র আরশ কেঁপে উঠেছিল। {১৫৬}

{১৫৬} বোখারী ৩৮০৩, মুসলিম ২৪৬৬, তিরমিজি ৩৮৪৮, আহমদ ২৭৫১৯, ১৩৯৯১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: ইরওয়া ৩/১৬৬-১৬৭। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৯. অধ্যায়ঃ জারীর বিন আবদুল্লাহ আল-বাজালী [রাঃআ:]-এর সম্মান

সুনানে ইবনে মাজাহ নং ১৫৯ – জারীর বিন আবদুল্লাহ আল-বাজালী [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

আমি ইসলাম গ্রহণের দিন থেকে রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] তাহাঁর ঘরে প্রবেশে আমাকে কখনো বাধা দেননি এবং তিনি যখনই আমাকে দেখেছেন আমার সামনে হেসে দিয়েছেন। আমি তাহাঁর নিকট অভিযোগ করি যে, আমি ঘোড়ার পিঠে স্থির হয়ে থাকতে পারি না। তিনি তাহাঁর হাত দিয়ে আমার বুকে মৃদু আঘাত করে বলেন, হে আল্লাহ্‌! তাকে [ঘোড়ার পিঠে] স্থির রাখো এবং তাকে হিদায়াতকারী ও হিদায়াতপ্রাপ্ত বানিয়ে দাও। {১৫৭}

{১৫৭} বোখারী ৩০২০, মুসলিম ২৪৭৫/১-২, ২৪৭৬; তিরমিজি ৩৮২০-২১, আহমদ ১৮৬৯২, ১৯৬৯৭, ১৮৭২৬, ১৮৭৬৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩০. অধ্যায়ঃ বাদ্‌র যুদ্ধ অংশগ্রহণকারী

১৬০ – রাফি বিন খাদীজ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

জিবরীল [আ:] অথবা একজন ফেরেশ্‌তা নবি [সাঃআ:]-এর নিকট এসে বলেন, আপনাদের মধ্যে যারা বদর যুদ্ধ অংশগ্রহণ করেছে আপনারা তাহাদের কেমন গণ্য করেন? তাঁরা বলেন, তারা আমাদের মধ্যে উত্তম লোক। ফেরেশ্‌তা বলেন, অনুরূপভাবে তারাও আমাদের মধ্যে উত্তম ফেরেশ্‌তা [যারা বদর যুদ্ধ অংশগ্রহণ করেছিল]। {১৫৮}

{১৫৮} আহমদ ১৫৩৯৩ সহিহ। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৬১ – আবু সাঈদ খুদরী [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেছেন, তোমরা আমার সহাবীদের গালি দিও না। সেই সত্তার শপথ, যাঁহার হাতে আমার প্রাণ! তোমাদের কেউ যদি উহূদ পাহাড় পরিমাণ সোনাও দান-খয়রাত করে তবে তা তাহাদের কারো এক মুদ্দ বা অর্ধ মুদ্দ দান-খয়রাত করার সমান মর্যাদাসম্পন্নও হইবে না। {১৫৯}

{১৫৯} মুসলিম ২৫৪০ তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৬২ – নুসায়র বিন যুলূক হইতে বর্ণিতঃ

ইবনি উমার [রাঃআ:] বলিতেন, তোমরা মুহাম্মাদ [সাঃআ:]-এর সহাবীদের গালি দিও না। অবশ্যই তাহাদের কারো এক মুহূর্তের সৎকাজ তোমাদের কারো সারা জীবনের সৎকাজের চেয়েও উত্তম।

হাসান।হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৩১. অধ্যায়ঃ আনসারদের ফাদীলাত

সুনানে ইবনে মাজাহ নং ১৬৩ – আল-বারা বিন আযিব [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেছেন, যে ব্যক্তি আনসারদের ভালোবাসে, আল্লাহ্‌ তাকে ভালোবাসেন এবং যে ব্যক্তি আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, আল্লাহ্‌ তাআলা তার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেন। শুবাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমি আদী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-কে বললাম, আপনি কি এটি বারা বিন আযিব [রাঃআ:]-এর নিকট শুনেছেন? তিনি বলেন, অবশ্যই তিনি বর্ণনা করিয়াছেন। {১৬১}

{১৬১} বোখারী ৩৭৮৩, মুসলিম ৭৫, তিরমিজি ৩৯০০, আহমদ ১৮০৩০, ১৮১০৪। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহীহাহ ৯৯১, ১৬৭২, ১৯৭৫। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৬৪ – সাহল বিন সাদ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেন, আনসারগণ যেন দেহের আভরণ এবং অন্যরা তার উপরিভাগের [শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন] আভরণ। আনসারগণ যদি কোন গিরি সংকটে বা গিরিখাদে প্রবেশ করে এবং অন্য লোকেরা অন্য গিরিখাদে বা গিরি সংকটে প্রবেশ করে, তবে আমি আনসারদের গিরি সংকটেই যাবো। হিজরতের ঘটনা না ঘটলে আমি আনসারদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। {১৬২}

{১৬২}সহিহ। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহীহাহ ১৭৬৮। উক্ত হাদিসের রাবী আব্দুল মুহায়মিন ইবনি আব্বাস সম্পর্কে ইমাম বোখারী ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, মুনকারুল হাদিস। ইমাম নাসাঈ বলেন তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ইবনিল জুনায়দ বলেন, তার হাদিস দুর্বল। আস-সাজী বলেন তার নিকট তার পিতা ও দাদার সুত্রে একটি নুসখা রয়েছে, যাতে একাধিক মুনকার হাদিস রয়েছে। ইবনিল বুরাকী তাকে দুর্বল বলেছেন। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৬৫ – আম্‌র বিন আওফ [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেছেন, আল্লাহ্‌ তাআলা আনসারদের প্রতি দয়াপরবশ হোন, তাহাদের সন্তানদের প্রতি দয়াপরবশ হোন, তাহাদের সন্তানদের প্রতি দয়াপরবশ হোন এবং তাহাদের সন্তানদের সন্তানগণের প্রতিও দয়াপরবশ হোন। {১৬৩}

তাহকীক আলবানীঃ হাদীসের শব্দগুলো খুব দুর্বল। সহিহ শব্দে আছে [আরবী]

{১৬৩} হাদীসের শব্দগুলো খুব দুর্বল। সহিহ শব্দে আছে اللهم اغفر للأنصار ، ولأبناء الأنصار ، وأبناء أبناء الأنصار। তাখরিজ  নাসিরুদ্দিন আলবানি: জামি সগীর ৩০৯৯, নাসাঈ ৩৬৮৮ হাঃ, মিশকাত ৬২১৪ সহিহ, যঈফা ৮/৩৬৪০, সহীহা ১/৬৩। উক্ত হাদিসের রাবী কাসীর বিন আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আওফ সম্পর্কে ইমাম শাফিঈ বলেন, তিনি মিথ্যুকদের একজন অথবা মিথ্যায় একটি রুকন। আহমদ বিন হাম্বল বলেন, মুনকারুল হাদিস। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন তার হাদিস দুর্বল। আবু যুরআহ আর রাযী বলেন, তার হাদিস নির্ভরযোগ্য নয়। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি মিথ্যুকদের একজন। উক্ত হাদিস শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ।হাদিসের তাহকিকঃ খুবই দুর্বল

৩২. অধ্যায়ঃ ইবনি আব্বাস [রাঃআ:] –এর সম্মান

সুনানে ইবনে মাজাহ নং ১৬৬ – ইবনি আব্বাস [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] আমাকে তাহাঁর বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে বললেনঃ

اللَّهُمَّ عَلِّمْهُ الْحِكْمَةَ وَتَأْوِيلَ الْكِتَابِ

হে আল্লাহ্‌! তাকে প্রজ্ঞা ও কুরআনের তাৎপর্য জ্ঞান দান করুন। {১৬৪}

{১৬৪} বোখারী ৭৫, ১৪৩; মুসলিম ২৪৭৭, তিরমিজি ৩৮২৪, আহমদ ২৩৯৩, ২৪১৮, ২৮৭৪, ৩০১৪, ৩০২৪, ৩০৯২, ৩৩৫৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানি: সহিহ। সাহাবীদের জীবনী- এই হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply