সালাম দেওয়ার পদ্ধতি – রিয়াদুস সালেহীন হাদিস থেকে সংকলিত

সালাম দেওয়ার পদ্ধতি – রিয়াদুস সালেহীন হাদিস থেকে সংকলিত

সালাম দেওয়ার পদ্ধতি – রিয়াদুস সালেহীন হাদিস থেকে সংকলিত >> রিয়াদুস সালেহীন  হাদিস শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে রিয়াদুস সালেহীন হাদিস শরীফ এর একটি পরিচ্ছেদের হাদিস পড়ুন

পরিচ্ছেদ – ১৩২: সালাম দেওয়ার পদ্ধতি

প্রথমে যে সালাম দেবে তার এরূপ বলা [উচিত], ‘আসসালামু আলাইকুম অরাহমাতুল্লাহি অবারাকাতুহ’। এটা মুস্তাহাব। সে বহুবচন সর্বনাম ব্যবহার করিবে; যদিও যাকে সালাম দেওয়া হয় সে একা হোক না কেন। আর সালামের উত্তরদাতা বলবে ‘অআলাইকুমুস সালামু অরহমাতুল্লাহি অবারাকাতুহ, অর্থাৎ সে শুরুতে সংযোজক অব্যয় ‘অ’ বা ‘ওয়া’ শব্দ ব্যবহার করিবে।

1/855 عَن عِمْرَانَ بنِ الحُصَينِ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ، فَقَالَ: السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ، فَرَدَّ عَلَيْهِ ثُمَّ جَلَسَ، فَقَالَ النبيُّ ﷺ: « عَشْرٌ » ثُمَّ جَاءَ آخَرُ، فَقَالَ: السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ، فَرَدَّ عَلَيْهِ فَجَلَسَ، فَقَالَ: « عِشْرُونَ » ثُمَّ جَاءَ آخَرُ، فَقَالَ: السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ الله وَبَركَاتُهُ، فَرَدَّ عَلَيْهِ فَجَلَسَ، فَقَالَ: « ثَلاثُونَ ». رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: «حديث حسن »

১/৮৫৫। ইমরান ইবনি হুসাইন রাঃআঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একটি লোক নবী সাঃআঃ এর নিকট এসে এভাবে সালাম করল ‘আসসালামু আলাইকুম’ আর নবী সাঃআঃ তার জবাব দিলেন। অতঃপর লোকটি বসে গেলে তিনি বলিলেন, ‘‘ওর জন্য দশটি নেকী।’’ তারপর দ্বিতীয় ব্যক্তি এসে ‘আসসালামু আলাইকুম অরহমাতুল্লাহ’ বলে সালাম পেশ করল। নবী সাঃআঃ তার সালামের উত্তর দিলেন এবং লোকটি বসলে তিনি বলিলেন, ‘‘ওর জন্য বিশটি নেকী।’’ তারপর আর একজন এসে ‘আসসালামু আলাইকুম অরাহমাতুল্লাহি অবারাকাতুহ’ বলে সালাম দিল। তিনি তার জবাব দিলেন। অতঃপর সে বসলে তিনি বলিলেন, ‘‘ওর জন্য ত্রিশটি নেকী।’’ [আবূ দাউদ, তিরমিযী হাসান সূত্রে][1]

2/856 وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ: قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ ﷺ: « هَذَا جِبريلُ يَقْرَأُ عَلَيْكِ السَّلاَمَ» قَالَتْ: قُلْتُ: وَعَلَيْهِ السَّلاَمُ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ . متفقٌ عَلَيْهِ

২/৮৫৬। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ আমাকে বলিলেন, ‘‘এই জিব্রীল আলাইহিস সালাম তোমাকে সালাম পেশ করছেন।’’ তিনি বলেন, আমিও উত্তরে বললাম, ‘অআলাইহিস সালামু অরাহ্মাতুল্লাহি অবারাকাতুহ।’ [বুখারী ও মুসলিম] [2]

এই গ্রন্থদ্বয়ের কোন কোন বর্ণনায় ‘অবারাকাতুহ’ শব্দ এসেছে, আবার কোন কোন বর্ণনায় তা আসেনি। তবুও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা গ্রহণীয়।

3/857 وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ إِذَا تَكَلَّمَ بِكَلِمَةٍ أعَادَهَا ثَلاثَاً حَتَّى تُفهَمَ عَنْهُ، وَإِذَا أتَى عَلَى قَوْمٍ فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ سَلَّمَ عَلَيْهِمْ ثَلاَثاً . رواه البخاري . وهذا مَحْمُولٌ عَلَى مَا إِذَا كَانَ الجَمْعُ كَثِيراً.

৩/৮৫৭। আনাস রাঃআঃ হতে বর্ণিত, নবী সাঃআঃ যখন কোন কথা বলিতেন, তখন তা তিনবার বলিতেন; যাতে তাহাঁর কথা বুঝতে পারা যায়। আর যখন কোন গোষ্ঠীর কাছে আসতেন তখনও তিনি তিনবার করে সালাম পেশ করিতেন। [বুখারী] [3]

এ বিধান সেই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে ক্ষেত্রে জনতার সংখ্যা খুব বেশী হবে।

4/858 وَعَنْ المِقْدَادِ رضي الله عنه في حَدِيثهِ الطَّوِيلِ، قَالَ: كُنَّا نَرْفَعُ للنَّبيِّ ﷺ نَصِيبَهُ مِنَ اللَّبَنِ، فَيَجِيءُ مِنَ اللَّيْلِ، فَيُسَلِّمُ تَسْلِيماً لاَ يُوقِظُ نَائِماً، وَيُسْمِعُ اليَقْظَانَ، فَجَاءَ النَّبِيُّ ﷺ فَسَلَّمَ كَمَا كَانَ يُسَلِّمُ . رواه مسلم

৪/৮৫৮। মিক্বদাদ রাঃআঃ হতে বর্ণিত, তিনি স্বীয় দীর্ঘ হাদীসে বলেন, আমরা নবী সাঃআঃ এর জন্য তাহাঁর অংশের দুধ রেখে দিতাম। তিনি রাতের বেলায় আসতেন এবং এমনভাবে সালাম দিতেন যে, তাতে কোন ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগিয়ে দিতেন না এবং জাগ্রত ব্যক্তিদেরকে শুনাতেন। সুতরাং নবী সাঃআঃ [তাহাঁর অভ্যাসমত] এসে সালাম দিলেন, যেমন তিনি সালাম দিতেন। [মুসলিম] [4]

5/859 وَعَن أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ: مَرَّ عَلَيْنَا النَّبِىُّ ﷺ فِى نِسْوَةٍ فَسَلَّمَ عَلَيْنَا. رواه أبوداود

৫/৮৫৯। আসমা বিনতে য়্যাযীদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা নবী সাঃআঃ আমাদের একদল মহিলার নিকট দিয়ে পার হওয়ার সময় আমাদেরকে সালাম দিলেন। [আবূ দাঊদ][5]

[প্রকাশ থাকে যে, নবী -এর হাতের ইশারায় মহিলাদেরকে সালাম দেওয়ার তিরমিযীর হাদীসটি সহীহ নয়।]

6/860 وَعَنْ أَبي أُمَامَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: « إِنَّ أوْلَى النَّاسِ بِاللهِ مَنْ بَدَأَهُمْ بالسَّلاَمِ ». رواه أَبُو داود بإسنادٍ جيدٍ، ورواه الترمذي بنحوه وقال: «حديثٌ حسن » . وَقَدْ ذُكر بعده.

 ৬/৮৬০। আবূ উমামাহ রাঃআঃ হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘আল্লাহর সর্বাধিক নিকটবর্তী মানুষ সেই, যে প্রথমে সালাম করে।’’ [আবূ দাঊদ সহীহ সনদ যোগে, তিরমিযীও অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন ও বলেছেন হাদীসটি হাসান। এটি পরবর্তীতে ৮৬৩ নম্বরে উল্লেখ করা হয়েছে।][6]

7/861 وَعَنْ أَبي جُرَيٍّ الهُجَيْمِيِّ رضي الله عنه، قَالَ: أتيتُ رَسُول اللهِ ﷺ، فَقُلتُ: عَلَيْكَ السَّلامُ يَا رَسُولَ اللهِ! قَالَ: « لاَ تَقُلْ عَلَيْكَ السَّلامُ ؛ فَإِنَّ عَلَيْكَ السَّلاَمُ تَحِيَّةُ المَوتَى ». رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: «حديث حسن صحيح »، وَقَدْ سَبَقَ بِطُولِهِ.

 ৭/৮৬১। আবূ জুরাই হুজাইমী রাঃআঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল সাঃআঃ এর নিকট হাযির হয়ে বললাম, ‘আলাইকাস সালাম’ ইয়া রাসূলুল্লাহ! তিনি বলিলেন, ‘‘আলাইকাস সালাম’ বলো না। কেননা, ‘আলাইকাস সালাম’ হচ্ছে মৃত ব্যক্তিদেরকে জানানো অভিবাদন বাক্য।’’ [আবু দাঊদ,তিরমিযী হাসান সহীহ, ইতোপূর্বে সম্পূর্ণ হাদীসটি ৮০০ নম্বরে গত হয়েছে।] [7] 


[1] তিরমিযী ২৬৮৯, আবূ দাউদ ৫১৯৫, আহমাদ ১৯৪৪৬, দারেমী ২৬৪০

[2] সহীহুল বুখারী ৩১১৭, ৩৭৬৮,৬২০১, ৬২৪৯, ৬২৫৩, মুসলিম ২৪৪৭, তিরমিযী ২৬৯৩, ৩৮৮১, ৩৮৮২, নাসায়ী ৩৯৫২, ৩৯৫৩, ৩৯৫৪, আবূ দাউদ ৫২৩২, ইবনু মাজাহ ৩৬৯৬, আহমাদ ৩২৭৬০, ২৩৯৪১, ২৪০৫৩, ২৫৩৫২।

[3] সহীহুল বুখারী ৯৪, ৯৫, তিরমিযী ২৭২৩, ৩৬৪০, আহমাদ ১২৮০৯, ১২৮৯৫।

[4] মুসলিম ২০৫৫, তিরমিযী ২৭১৯, আহমাদ ২৩৩০০, ২৩৩১০।

[5] তিরমিযী ২৬৯৭, আবূ দাউদ ৫২০৪, ইবনু মাজাহ ৩৭০১, আহমাদ ২৭০১৪, দারেমী ২৬৩৭।

[6] আবূ দাউদ ৫১৯৭, তিরমিযী ২৬৯৪, আহমাদ ২১৬৮৮, ২১৭৭৬, ২১৮১৪

[7] তিরমিযী ২৭২১, ২৭২২, আবূ দাউদ ৫০২৯

By রিয়াদুস সালেহিন

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply