এক মুসলিমের প্রতি অপর মুসলিমের হক্‌ সালামের উত্তর দেয়া

এক মুসলিমের প্রতি অপর মুসলিমের হক্‌ সালামের উত্তর দেয়া

এক মুসলিমের প্রতি অপর মুসলিমের হক্‌ সালামের উত্তর দেয়া >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৩. অধ্যায়ঃ এক মুসলিমের প্রতি অপর মুসলিমের হক্‌ সালামের উত্তর দেয়া

৫৫৪৩

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ এক মুসলিমের প্রতি অপর মুসলিমের হক পাঁচটি। অপর বর্ণনায় আব্‌দ ইবনি হুমায়দ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আবু হুরায়রা্‌ [রাদি.] বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ পাঁচটি ব্যাপারে মুসলিমের জন্যে তার ভাইয়ের সম্পর্কে ওয়াজিব। ১. সালামের উত্তর দেয়া, ২. হাঁচিদাতাকে [তার আলহাম্‌দু লিল্লাহ্‌ বলার উত্তরে] ইয়ারহামুকুল্লাহ বলে দুআ করা, ৩. দাওয়াত কবূল করা, ৪. অসুস্থকে দেখিতে যাওয়া এবং ৫. জানাযার সঙ্গে শারীক হওয়া।

[রাবী] আবদুর রায্‌যাক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, মামার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এ হাদীস যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করিতেন, তারপর তিনি ইবনি মুসাইয়্যাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] -এর সানাদে আবু হুরায়রা্‌ [রাদি.] হইতে পূর্ণ সানাদে রিওয়ায়াত করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৬৫, ইসলামিক সেন্টার- ৫৪৮৭]

৫৫৪৪

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ মুসলিমের প্রতি মুসলিমের হক ছয়টি। প্রশ্ন করা হলো- সেগুলো কী, হে আল্লাহর রসূল! তিনি বলিলেন, [সেগুলো হলো-] ১. কারো সাথে তোমার দেখা হলে তাকে সালাম করিবে, ২. তোমাকে দাওয়াত করলে তা তুমি কবূল করিবে, ৩. সে তোমার নিকট ভাল উপদেশ চাইলে, তুমি তাকে ভাল উপদেশ দিবে, ৪. সে হাঁচি দিয়ে আলহাম্‌দু লিল্লাহ বললে, তার জন্যে তুমি [ইয়ারহামুকাল্লাহ্‌ বলে] রহ্‌মাতের দুআ করিবে, ৫. সে পীড়িত হলে তার সেবা-শুশ্রুষা করিবে এবং ৬. সে মৃত্যুবরণ করলে তার [জানাযার] সাথে যাবে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৬৬, ইসলামিক সেন্টার- ৫৪৮৮]

৪. অধ্যায়ঃ আহলে কিতাব [ইয়াহূদী-নাসারা] -কে আগে সালাম করার নিষিদ্ধকরণ এবং তাদের সালামের উত্তর দেয়ার বিবরণ

৫৫৪৫

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আহলে কিতাবের কেউ যদি তোমাদের সালাম করে তোমরা [শুধু এতটুকু] বলবে-

 وَعَلَيْكُمْ

ওয়া আলাইকুম- [তোমাদের প্রতিও]।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৬৭, ইসলামিক সেন্টার- ৫৪৮৯]

৫৫৪৬

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর সাহাবীগন নবী [সাঃআঃ] -কে প্রশ্ন করিলেন, আহলে কিতাবরা তো আমাদের সালাম দিয়ে থাকে, আমরা কেমন করে তাদের উত্তর দিব? তিনি বলিলেন, তোমরা বলবে,

 وَعَلَيْكُمْ

“ওয়া আলাইকুম”।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৬৮, ইসলামিক সেন্টার- ৫৪৯০]

৫৫৪৭

ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ ইয়াহুদীরা যে সময় তোমাদের প্রতি সালাম দেয়, সে সময় তাদের কেউ বলে

السَّامُ عَلَيْكُمْ

“আস্‌সামু আলাইকুম” [তোমাদের মরণ হোক]। তখন তুমি বলবে

 عَلَيْكَ

ওয়া আলাইকা- [তোমারও-হোক]।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৬৯, ইসলামিক সেন্টার- ৫৪৯১]

৫৫৪৮

ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

ইবনি উমর [রাদি.] -এর সানাদে নবী [সাঃআঃ] হইতে অবিকল হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। তাছাড়া তিনি বলেছেন- তখন তোমরা বলবে

وَعَلَيْكَ

“ওয়া আলাইকুম” অর্থাৎ তোমারও [মৃত্যু হোক]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৭০, ইসলামিক সেন্টার- ৫৪৯২]

৫৫৪৯

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা ইয়াহূদী রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর নিকট [দেখা করার জন্যে] অনুমতি চাইল। তারা সে সময় বলিল, [–] তোমাদের মরণ হোক! তখন আয়েশাহ [রাদি.] বলিলেন, [–] “বরং তোমাদের উপরে মরণ ও লানাত হোক। ” তখন রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, হে আয়েশাহ! আল্লাহ্‌ তাআলা সকল বিষয়ে সহনশীলতা পছন্দ করেন। আয়েশাহ [রাদি.] বলিলেন, আপনি কি তাদের কটূক্তি শুনেননি? তিনি বলিলেন, আমিও তো বলে দিয়েছি “ওয়া আলাইকুম” [তোমাদের উপরেও]।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৭১, ইসলামিক সেন্টার- ৫৪৯৩]

৫৫৫০

যুহ্‌রী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

যুহ্‌রী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।

তবে এ দুজনের বর্ণিত হাদীসে আছে যে, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, আমি তো বলেছি- আলাইকুম [তোমাদের উপরে] তারা وَ  অব্যয়টির উল্লেখ করেননি।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৭২, ইসলামিক সেন্টার- ৫৪৯৪]

৫৫৫১

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর নিকট কয়েকজন ইয়াহূদী আসলো। তারা বলিল- [–] হে আবুল কাসিম! তোমার মৃত্যু হোক। তিনি বলিলেন, [–] তোমাদের উপরেও। আয়েশাহ [রাদি.] বলেন, আমি বললাম- [–] বরং তোমাদের মৃত্যু ও অপমান হোক। সে সময় রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, হে আয়েশাহ! তুমি অশ্লীলভাষী হয়ো না। তিনি বলিলেন, তারা কি বলেছে, তা কি আপনি শুনেননি? তিনি বলিলেন, তারা যা বলেছিল, তা-ই কি আমি তাদের ফিরিয়ে দেইনি? আমি যা বলেছি- ওয়া আলাইকুম তোমাদের উপরেও।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৭৩, ইসলামিক সেন্টার- ৫৪৯৫]

৫৫৫২

আমাশ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আমাশ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] উপরোক্ত সূত্রে হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। তাছাড়া তিনি বলেছেন, আয়েশাহ [রাদি.] তাদের চক্রান্ত বুঝে ফেললেন এবং তাদের বকা দিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, চুপ কর, হে আয়েশাহ! কারন আল্লাহ্‌ তাআলা অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা পছন্দ করেন না। তিনি অতিরিক্ত বর্ণনা করিয়াছেন। সে সময় মহামহিমান্বিত আল্লাহ্‌ অবতীর্ণ করিলেন- আর যারা তারা [ইয়াহূদীরা] আপনার নিকট আসে, সে সময় তারা আপনাকে এমন [কতিপয় বাক্য বলে] সম্ভাষণ করে, যেমন [বাক্য দ্বারা] আল্লাহ্‌ আপনাকে সম্ভাষণ করেননি…..

 وَإِذَا جَاءُوكَ حَيَّوْكَ بِمَا لَمْ يُحَيِّكَ بِهِ اللَّهُ

” [সুরা আল-মুজালাদাহ্‌ ৫৮ : ৮] আয়াতের শেষ পর্যন্ত। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৭৪, ইসলামিক সেন্টার- ৫৪৯৬]

৫৫৫৩

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

ইয়াহূদীদের কিছু লোক রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে সালাম দিল। তারা বলিল-

السَّامُ عَلَيْكَ يَا أَبَا الْقَاسِمِ

আস্‌সামু আলাইকা ইয়া আবাল কাসিম। তিনি বলিলেন,

وَعَلَيْكُمْ

“ওয়া আলাইকুম”। তখন আয়েশাহ [রাদি.] বলিলেন, সে সময় তিনি ক্রোধান্বিত হয়েছিলেন- তারা কি বলিল, আপনি কি শোনেননি? তিনি বলিলেন- হ্যাঁ, শুনেছি এবং তাদের উপর তা ফিরিয়ে দিয়েছি। তাদের বিপক্ষে আমাদের [প্রার্থনা] মঞ্জুর করা হয় কিন্তু আমাদের বিপক্ষে তাদের [প্রার্থনা] কবূল করা হয় না।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৭৫, ইসলামিক সেন্টার- ৫৪৯৭]

৫৫৫৪

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ ইয়াহূদী ও নাসারাদের আগে বাড়িয়ে সালাম করো না এবং তাদের কাউকে রাস্তায় দেখলে তাকে রাস্তার পাশে চলতে বাধ্য করো।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৭৬, ইসলামিক সেন্টার- ৫৪৯৮]

৫৫৫৫

ওয়াকী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

ওয়াকী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বর্ণিত হাদীসে আছে- যখন তোমরা ইয়াহূদীদের সাথে সাক্ষাৎ করিবে…। আর শুবাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে গৃহীত ইবনি জাফার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বর্ণিত হাদীসে আছে- তিনি আহলে কিতাব সমন্ধে বলেছেন। … আর জারীর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বর্ণিত হাদীসে আছে- যখন তোমরা তাদের সাথে সাক্ষাৎ করিবে … তিনি মুশরিকদের কোন দলের নাম উল্লেখ করেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৭৭, ইসলামিক সেন্টার- ৫৪৯৯]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply