নতুন লেখা

সালাতের সময় সমূহ

সালাতের সময় সমূহ

সালাতের সময় সমূহ >> মিশকাতুল মাসাবীহ এর মুল সুচিপত্র দেখুন

পর্বঃ ৪, অধ্যায়ঃ ১

  • অধ্যায়ঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ
  • অধ্যায়ঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
  • অধ্যায়ঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ

অধ্যায়ঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ

৫৮১. আবদুল্লাহ বিন আমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন: সূর্য ঢলে পড়ার সাথে যুহরের সলাতের ওয়াক্ত শুরু হয় এবং মানুষের ছায়া যখন তার দৈর্ঘ্যের সমান হয়, তখন আস্‌রের সলাতের ওয়াক্ত উপস্থিত হয়। আস্‌রের সলাতের ওয়াক্ত যুহরের সলাতের পর থেকে যে পর্যন্ত সূর্য হলদে রং ধারণ না করে এবং সূর্যাস্তের পর থেকে পশ্চিমাকাশের লালিমা মিশে যাবার আগ পর্যন্ত মাগরিবের সলাতের ওয়াক্ত থাকে। আর ইশার সলাতের ওয়াক্ত মাগরিবের সলাতের পর থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত। ফাজরের সলাতের ওয়াক্ত ফা্‌জর অর্থাৎ সুবহে সাদিকের উদিত হবার পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত। অতঃপর সূর্যোদয় হইতে শুরু করলে সলাত হইতে বিরত থাকিবে। কেননা সূর্যোদয় হয় শায়ত্বনের দুশিং-এর মধ্য দিয়ে। {১}

{১} সহীহ : মুসলিম ৬১২, আহমাদ ৬৯৬৬, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৭১২, সহীহ ইবনি হিব্বান ১৪৭৩। এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

৫৮২. বুরায়দাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এক লোক রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট সলাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিল। তিনি বললেন, আমাদের সাথে এ দু দিন সলাত আদায় কর। প্রথমদিন সূর্য ঢলে পড়লে তিনি বিলাল [রাদি.]-কে হুকুম দিলেন আযান দিতে। বিলাল [রাদি.] আযান দিলেন। এরপর তিনি নির্দেশ দিলে বিলাল [রাদি.] যুহরের সলাতের ইক্বামাত দিলেন। অতঃপর [আস্‌রের সময়] তিনি বিলাল [রাদি.]-কে নির্দেশ দিলে তিনি আস্‌রের সলাতের ইক্বামাত দিলেন। তখনও সূর্য বেশ উঁচুতে ও পরিষ্কার সাদা। অতঃপর তিনি [সাঃআঃ] বিলাল [রাদি.]-কে নির্দেশ দিলে তিনি মাগরিবের ইক্বামাত দিলেন। তখন সূর্য দেখা যাচ্ছে না। এরপর বিলাল [রাদি.]-কে নির্দেশ দিলে তিনি ইশার সলাতের ইক্বামাত দিলেন, যখন মাত্র লালিমা অদৃশ্য হল। তারপর তিনি [সাঃআঃ] বিলাল [রাদি.]-কে নির্দেশ দিলে তিনি ফাজরের সলাতের ইক্বামাত দিলেন। তখন ঊষা [সুবহে সাদিক] দেখা দিয়েছে। যখন দ্বিতীয় দিন এলো তিনি [সাঃআঃ] বিলাল [রাদি.]-কে নির্দেশ দিলেন, যুহরের সলাত ঠান্ডা পড়া পর্যন্ত দেরী করিতে। বিলাল দেরী করিলেন। রোদের তাপ ঠান্ডা হওয়া পর্যন্ত দেরী করিলেন। তারপর আস্‌রের সলাত আদায় করিলেন। সূর্য তখন উঁচুতে অবস্থিত, কিন্তু সলাতে পূর্বের দিনের চেয়ে বেশী দেরী করিলেন। মাগরিবের সলাত আদায় করিলেন লালিমা অদৃশ্য হবার কিছুক্ষণ আগে। আর এ দিন ইশার সলাত আদায় করিলেন রাতের এক তৃতীয়াংশ শেষ হবার পর। অতঃপর ফাজরের সলাত আদায় করিলেন বেশ পরিষ্কার হওয়ার পর। সবশেষে তিনি [সাঃআঃ] বললেন, সলাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসাকারী ব্যক্তি কোথায়? সে বলিল, হে আল্লাহর রসূল! এই যে আমি। তিনি বললেন, তোমাদের জন্য সলাত আদায় করার ওয়াক্ত হল, তোমরা যা [দু সীমা] দেখলে তার মধ্যস্থলে। {১}

{১} সহীহ : মুসলিম ৬১৩, ইবনি মাজাহ ৬৬৭, তিরমিজি ১৫২, সহীহ ইবনি খুযাইমাহ্ ৩২৩, সহীহ ইবনি হিব্বান ১৪৯২, আহমাদ ২২৯৫৫। এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

অধ্যায়ঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫৮৩. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন: জিবরীল আমীন খানায়ে ক্বাবার কাছে দুবার আমার সলাতে ইমামাত করিয়াছেন। [প্রথমবার] তিনি আমাকে যুহরের সলাত আদায় করালেন, সূর্য তখন ঢলে পড়েছিল। আর ছায়া ছিল জুতার দোয়ালির [প্রস্থের] পরিমাণ। আস্‌রের সলাত আদায় করালেন যখন প্রত্যেক জিনিসের ছায়া তার এক গুণ হল। মাগরিবের সলাত আদায় করালেন যখন সিয়াম পালনকারী [রোযাদার] ইফত্বার করে। ইশার সলাত আদায় করালেন যখন শাফাক্ব অস্ত হল। ফাজরের সলাত আদায় করালেন যখন সিয়াম পালনকারীর জন্য পানাহার হারাম হয়। দ্বিতীয় দিন যখন এলো তিনি আমাকে যুহরের সলাত আদায় করালেন, যখন কোন জিনিসের ছায়া তার এক গুণ। আস্‌রের সলাত আদায় করালেন, যখন কোন জিনিসের ছায়া তার দ্বিগুণ। মাগরিবের সলাত আদায় করালেন, সায়িমগণ [রোযাদাররা] যখন ইফত্বার করে। ইশার সলাত আদায় করালেন, তখন রাতের এক-তৃতীয়াংশ পূর্ণ হয়েছে। এরপর তিনি ফাজর আদায় করালেন তখন বেশ ফর্সা। এরপর আমার প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, হে মুহাম্মাদ! এটাই আপনার পূর্বেকার নবীগণের সলাতের ওয়াক্ত। এ দুই সময়ের মধ্যে সলাতের ওয়াক্ত। {১}

{১} সহীহ : আবু দাউদ ৩৯৩, তিরমিজি ১৪৯, সহীহুল জামি ১৪০২। এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

অধ্যায়ঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫৮৪. ইবনি শিহাব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, খলীফা উমার ইবনি আবদুল আযীয [রাহিমাহুল্লাহ] একদিন আস্‌রের সলাত দেরীতে পড়ালেন। উরওয়াহ্‌ [ইবনি যুবায়র] [রাহিমাহুল্লাহ] খলীফাকে বললেন, সাবধান! জিবরীল নাযিল হয়েছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে সলাত আদায় করিয়েছিলেন [ইমামাত করেছিলেন]। উমার ইবনি আবদুল আযীয বললেন, দেখ উরওয়াহ্‌! তুমি কি বলছ? উত্তরে উরওয়াহ্‌ বললেন, আমি বাশীর ইবনি আবী মাসউদ হইতে শুনিয়াছি, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি। জিবরীল [আঃ] অবতীর্ণ হলেন। আমার ইমামাত করিলেন। আমি তাহাঁর সাথে সলাত [যুহর] আদায় করলাম। তারপর তাহাঁর সাথে সলাত আদায় করলাম [আস্‌র] । আবার তাহাঁর সাথে সলাত আদায় করলাম [মাগরিব]। এরপর তাহাঁর সাথে সলাত আদায় করলাম [ইশা]। অতঃপর তাহাঁর সাথে সলাত আদায় করলাম [ফাজর]। এ সময় তিনি [সাঃআঃ] নিজের আঙ্গুল দিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত সলাত হিসাব করছিলেন। {১}

{১} সহীহ : বোখারী ৩২২, মুসলিম ৬১০, নাসায়ী ৪৯৪, ইবনি মাজাহ ৬৬৮। এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

৫৮৫. খলীফাহ্ উমার ইবনুল খাত্ত্বাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি তার শাসনকর্তাদের কাছে লিখলেন, আমার কাছে আপনাদের সকল কাজের মধ্যে সলাতই হল সর্বাধিক তাৎপর্যপূর্ণ। যে এর যথাযথ হিফাযাত করেছে ও তা রক্ষা করেছে, সে তার দীনকে রক্ষা করেছে। আর যে তা বিনষ্ট করেছে সে তা ছাড়া অপরগুলোর পক্ষে আরো বেশী বিনষ্টকারী প্রমাণিত হবে। অতঃপর তিনি লিখলেন, যুহরের সলাত আদায় করিবে ছায়া এক বাহু ঢলে পড়ার পর থেকে শুরু করে ছায়া এক মিসাল হওয়া পর্যন্ত [ছায়া আসলী বাদ দিয়ে]। সূর্য উপরে পরিষ্কার সাদা থাকা অবস্থায় আসরের সলাত আদায় করিবে, যাতে একজন আরোহী সূর্য অদৃশ্য হবার পূর্বেই দু বা তিন ফারসাখ পথ অতিক্রম করে যেতে পারে। মাগরিবের সলাত আদায় করিবে সূর্য অস্ত যাবার পরপর। ইশার সলাত আদায় করিবে শাফাক্ব দূর হয়ে যাবার পর থেকে শুরু করে রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত। তার চোখ না ঘুমাক যে এর আগে ঘুমাবে [তিনবার বললেন]। অতঃপর ফাজরের সলাত আদায় করিবে যখন তারাসমূহ পরিষ্কার হয় ও চকমক করে। {১}

{১} জইফ : মুয়াত্ত্বা মালিক ৬। কারণ রাবী নাফি উমার ইবনুল খাত্ত্বাব [রাদি.]-কে পাননি। তাই এর সানাদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে যা হাদিস দুর্বল হওয়ার একটি অন্যতম কারণ। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

৫৮৬. ইবনি মাস্ঊদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, গরমকালে রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর যুহরের সলাতের [ছায়ার পরিমাণ] ছিল তিন হইতে পাঁচ ক্বদম, আর শীতকালে পাঁচ হইতে সাত ক্বদম। {১}

এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

হজ্জ পর্ব

হজ্জ পর্ব হজ্জ পর্ব >> মিশকাতুল মাসাবীহ এর মুল সুচিপত্র দেখুন পর্ব-১১ হজ্জ পর্বঅধ্যায়বিষয়হাদিস সংখ্যা১১১-১৫হজ্জ পর্ব(২৫০৫-২৭৫৮)=২৫৪১১০হজ্জ ১১১ইহরাম ও …

Leave a Reply

%d bloggers like this: