সাদাকাহ্ প্রদানের উৎসাহ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর পবিত্র বানী

সাঈদ ইব্নু ইয়াসার (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি হালাল উপায়ে অর্জিত মাল থেকে সাদাকাহ্ করে, আল্লাহ্ তা‘আলা শুধুমাত্র হালাল অর্থাৎ পবিত্রকেই কবূল করেন– তা হলে উক্ত সাদাকাহ্ সে আল্লাহ্‌র হাতে দিল। আল্লাহ্ তা‘আলা তাকে এভাবে লালন-পালন করেন, যেভাবে তোমরা ঘোড়ার বাচ্চা কিংবা উটের বাচ্চা লালন-পালন কর। শেষ পর্যন্ত সেই সাদাকাহ্ (বর্ধিত হয়ে) পর্বতসমান হয়ে যায়। (বুখারী ৭৪৩০, ইমাম মুসলিম ইবনু আব্বাস থেকে মুত্তাসিল সনদে বর্ণনা করেন ১০১৪) হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

মদীনার আনসারগণের মধ্যে আবূ তালহা (রাঃ) ছিলেন সর্বাধিক ধনী ব্যক্তি। তাঁর সবচাইতে অধিক খেজুর বৃক্ষ ছিল। সমুদয় বাগানের মধ্যে “বাইরুহা” নামক বাগানটি ছিল তাঁর (আবূ তালহার) অধিক পছন্দনীয়। বাগানটি মসজিদে নববীর সামনেই অবস্থিত ছিল। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেই বাগানে প্রায়ই আসা-যাওয়া করতেন। সেখানকার পানি খুবই উত্তম ছিল, তিনি তা পান করতেন। আনাস (রাঃ) বলেন, যখন এই আয়াত নাযিল হলঃ
لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ
অর্থাৎ যতক্ষণ তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু (আল্লাহ্‌র রাহে) খরচ না করবে, ততক্ষণ তোমরা সওয়াব পাবে না। তখন আবূ তালহা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, যতক্ষণ তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু (আল্লাহ্‌র রাহে) খরচ না করবে, ততক্ষণ তোমরা সওয়াব পাবে না। আর আমার প্রিয় বস্তু হল এই ‘বাইরুহা’। আমি একে আল্লাহর রাস্তায় সাদাকাহ্ করলাম। এর বিনিময়ে আমি নেকীর আশা রাখি এবং ইহা আল্লাহ্‌র নিকট জমা রাখছি। সুতরাং ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আপনি একে যেভাবে ইচ্ছা ব্যায় করুন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, বাহ্বা! এটা অত্যন্ত লাভজনক মাল, এটা অত্যন্ত লাভজনক মাল। তুমি এই বাগান সম্বন্ধে যা কিছু বলেছ আমি উহা শ্রবণ করেছি। আমার মনে হয়, তুমি একে তোমার আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে বিতরণ করে দাও। আবূ তালহা বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমি উহা বিতরণ করে দিব। অতএব আবূ তালহা (রাঃ) তাঁর আত্মীয়-স্বজন ও চাচাত ভাইগণের মধ্যে উহা বণ্টন করে দিলেন। (বুখারী ১৪৬১, মুসলিম ৯৯৮) হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

আ‘মর ইব্নু মুয়াজ আশহালী তাঁর দাদী থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, হে মু‘মিন মহিলাগণ! তোমাদের কেউ যেন স্বীয় প্রতিবেশীকে তুচ্ছ মনে না করে, যদিও সে ছাগলের একটি পোড়া খুর পাঠায় (তাও কবূল কর)। (বুখারী ২৫৬৬, মুসলিম ১০৩০) হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আনসারের কিছু লোক রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে কিছু চাইল। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে কিছু দান করলেন; তারা পুনরায় কিছু চাইল। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবার কিছু দান করলেন। এইভাবে তিনবার দান করলেন ; এমন কি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট যা কিছু ছিল, সব নিঃশেষ হয়ে গেল। অতঃপর তিনি বললেন, আমার কাছে যে পরিমাণ মাল থাকবে, উহা তোমাদের না দিয়ে আমি কখনও জমা করে রাখব না। তবে যে ভিক্ষা চাওয়া হতে বিরত থাকবে, আল্লাহ্ তাকে রক্ষা করেন। যে সবর করে কারো মুখাপেক্ষী নয় বলে কার্যত প্রকাশ করবে, আল্লাহ্ তাকে ধনী করে দিবেন। যে সবর করবে, আল্লাহ্ তা‘আলা তাকে সবরের তাওফীক দান করবেন। মানুষকে যা কিছু দান করা হয়েছে, তন্মধ্যে সবরের চাইতে বড় ও উত্তম আর কিছু নেই। (বুখারী ১৪৬৯, মুসলিম ১০৫৩) হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

আবদুল্লাহ্ ইব্নু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিম্বারের উপর আরোহণ করে বললেন, তিনি তখন সাদাকাহ্ ও ভিক্ষাবৃত্তি হতে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা সম্পর্কে কথা বলছিলেন, নিচের হাতের চাইতে উপরের হাত উত্তম। উপরের হাত হল দাতার হাত এবং নিচের হাত হল ভিক্ষুকের হাত। (বুখারী ১৪২৯, মুসলিম ১০৩৩) হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply