সাদকাহ জাহান্নামের অগ্নি থেকে হিফাযাতকারী

সাদকাহ জাহান্নামের অগ্নি থেকে হিফাযাতকারী

সাদকাহ জাহান্নামের অগ্নি থেকে হিফাযাতকারী  >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

২০. অধ্যায়ঃ দানের জন্য উদ্বুদ্ধ করা যদিও তা এক টুকরা খেজুর বা ভালো কথা বলার মাধ্যমে হয়, সাদকাহ জাহান্নামের অগ্নি থেকে হিফাযাতকারী

২২৩৭

আদী ইবনি হাতিম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছিঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জাহান্নামের আগুন থেকে বেঁচে থাকার সামর্থ্য রাখে সে যেন একটা খেজুর দিয়ে হলেও তাই করে। [অর্থাৎ দান যতই ক্ষুদ্র হোক তাঁকে খাটো করে দেখা যাবে না। সামান্য দানও কবূল হলে নাযাতের ওয়াসীলাহ্‌ হইতে পারে]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২১৬, ইসলামিক সেন্টার-২২১৭]

২২৩৮

আদী ইবনি হাতিম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের প্রত্যকেকেই আল্লাহ্‌ তাআলার সাথে কথা বলিতে হইবে তা এমনভাবে যে, আল্লাহ্‌ ও বান্দার মধ্যে কোন দোভাষী থাকিবে না। সে ডান দিকে তাকালে তাহাঁর পৃথিবীতে করা যাবতীয় কাজ দেখিতে পাবে। আর বাম দিকে তাকালেও সে তার কৃতকর্ম [ছাড়া আর কিছু] দেখিতে পাবে না- যা তার মুখের কাছেই থাকিবে। সুতরাং এক টুকরো খেজুর দিয়ে হলেও জাহান্নামের আগুন থেকে নিষ্কৃতি লাভ কর।

ইবনি হুজ্‌র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] … খায়সামাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে অবিকল বর্ণিত হয়েছে। তবে তাহাঁর বর্ণনায় “একটি পবিত্র এবং ভালো কথার মাধ্যমে হলেও” কথাটি বর্ধিত বর্ণনা রয়েছে। ইসহাক্ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আম্‌র ইবনি মুর্‌রাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর সুত্রে খায়সামাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২১৭, ইসলামিক সেন্টার-২২১৮]

২২৩৯

আদী ইবনি হাতিম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] জাহান্নামের শাস্তির কথা উল্লেখ করে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং চরম অস্বস্তির ভাব প্রকাশ করিলেন- “তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে আত্মরক্ষা কর”। তিনি পুনরায় মুখ ফিরিয়ে নিলেন ও এমন ভাব প্রকাশ করিলেন যাতে আমাদের মনে হচ্ছিল যে, তিনি তা দেখেছেন। অতঃপর তিনি বলেন, তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে আত্মরক্ষা কর যদি তা এক টুকরা খেজুরের বিনিময়েও হয়। আর যার এ সামর্থ্যটুকু নেই সে যেন ভাল কথার মাধ্যমে তা করে”।

বর্ণনাকারী আবু কুরায়ব-এর বর্ণনায় [আরবী] যেন শব্দটির উল্লেখ নেই। তিনি বলেন, আবু মুআবিয়াহ্‌ আমার কাছে বলেন এবং আমাশ তার কাছে এ হাদীস বর্ণনা করেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২১৮, ইসলামিক সেন্টার-২২১৯]

২২৪০

আদী ইবনি হাতিম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] জাহান্নামের কথা উল্লেখ করে [আল্লাহ্‌র কাছে] এর থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করিলেন এবং তিনবার মুখ ফিরিয়ে অস্বস্তির ভাব প্রকাশ করিলেন। অতঃপর তিনি বলিলেন, তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে আত্মরক্ষা কর যদি তা এক টুকরো খেজুরের মাধ্যমেও হয়। আর যদি তোমরা এতটুকু দান করিতেও সমর্থ না হও তাহলে ভাল কথার মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে বাঁচো। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২১৯, ইসলামিক সেন্টার-২২২০]

২২৪১

মুনযির ইবনি জারীর থেকে তাহাঁর পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেন, আমরা ভোরের দিকে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। এ সময় তাহাঁর কাছে পাদুকাবিহীন, বস্ত্রহীন, গলার চামড়ার আবা পরিহিত এবং নিজেদের তরবারি ঝুলন্ত অবস্থায় একদল লোক আসল। এদের অধিকাংশ কিংবা সকলেই মুযার গোত্রের লোক ছিল। অভাব অনটনে তাদের এ করুণ অবস্থা দেখে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর মুখমণ্ডল পরিবর্তিত ও বিষন্ন হয়ে গেল। তিনি ভিতরে প্রবেশ করিলেন, অতঃপর বেরিয়ে আসলেন। তিনি বিলাল [রাদি.]-কে আযান দিতে নির্দেশ দিলেন। বিলাল [রাদি.] আযান ও ইক্বামাত দিলেন। নামাজ শেষ করে তিনি উপস্থিত মুসল্লীদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন এবং এ আয়াত পাঠ করলেনঃ “হে মানব জাতি! তোমরা নিজেদের প্রতিপালককে ভয় কর যিনি তোমাদের একটি মাত্র ব্যক্তি থেকে {আদম [আঃ]}! থেকে সৃষ্টি করিয়াছেন। … নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাআলা তোমাদের রক্ষণাবেক্ষণকারী”- [সূরাহ্ আন্ নিসা ৪:১]। অতঃপর তিনি সূরাহ হাশ্রের শেষের দিকের এ আয়াত পাঠ করলেনঃ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। প্রত্যেক ব্যক্তি যেন ভবিষ্যতের জন্য কী সঞ্চয় করেছে সেদিকে লক্ষ্য করে”-[সূরাহ্ আল হাশ্র ৫৯:১৮]। অতঃপর উপস্থিত লোকদের কেউ তার দীনার, কেউ দিরহাম, কেউ কাপড়, কেউ এক সাআটা ও কেউ এক সা খেজুর দান করিল। অবশেষে তিনি বলিলেন, অন্ততঃ এক টুকরা খেজুর হলেও নিয়ে আসো। বর্ণনাকারী বলেন, আনসার সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি একটি বিরাট থলি নিয়ে আসলেন। এর ভারে তার হাত অবসাদ্গ্রস্ত হয়ে যাচ্ছিল কিংবা অবশ হয়ে গেল। রাবী আরো বলেন, অতঃপর লোকেরা সারিবদ্ধভাবে একের পর এক দান করিতে থাকল। ফলে খাদ্য ও কাপড়ের দুটি স্তূপ হয়ে গেল। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর চেহারা মুবারক খাঁটি সোনার ন্যায় উজ্জ্বল হয়ে হাসতে লাগল। অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে কোন উত্তম প্রথা বা কাজের প্রচলন করে সে তার এ কাজের সাওয়াব পাবে এবং তার পরে যারা তার এ কাজ দেখে তা করিবে সে এর বিনিময়েও সাওয়াব পাবে। তবে এতে তাদের সাওয়াব কোন অংশে কমানো হইবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে [ইসলামের পরিপন্থী] কোন খারাপ প্রথা বা কাজের প্রচলন করিবে, তাকে তার এ কাজের বোঝা [গুনাহ এবং শাস্তি] বহন করিতে হইবে। তারপর যারা তাকে অনুসরণ করে এ কাজ করিবে তাদের সমপরিমাণ বোঝাও তাকে বইতে হইবে। তবে এতে তাদের অপরাধ ও শাস্তি কোন অংশেই কমবে না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২২০, ইসলামিক সেন্টার- ২২২১]

২২৪২

মুন্‌যির ইবনি জারীর [রাদি.] থেকে তাহাঁর পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা দিনের প্রথম ভাগে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে ছিলাম … ইবনি জাফারের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। আর মুআয [রাদি.] হইতে বর্ণীত হাদীসে আরো আছে : [আরবী] “অতঃপর তিনি [সাঃআঃ] যুহরের নামাজ আদায় করিলেন এবং ভাষণ দিলেন” উক্তিটি অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২২১, ইসলামিক সেন্টার-২২২২]

২২৪৩

মুন্‌যির ইবনি জারীর [রাদি.] থেকে তাহাঁর পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা নবী [সাঃআঃ]-এর কাছে বসা ছিলাম। এ সময় চামড়ার আবা পরিহিত একদল লোক আসলেন … পূর্বের হাদীসের অনুরূপ। এতে আরো আছে, অতঃপর তিনি যুহরের নামাজ আদায় করিলেন। অতঃপর ছোট একটি মিম্বারে উঠে আল্লাহ্ তাআলার প্রশংসা ও গুণগান করিলেন। অতঃপর বলিলেন, আল্লাহ্ তাআলা তাহাঁর কিতাবে নাযিল করিয়াছেন-

 يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ

“হে মানব গোষ্ঠী! তোমরা তোমাদের প্রভুকে ভয় কর। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২২২, ইসলামিক সেন্টার-২২২৩]

২২৪৪

জারীর ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, পশমী কাপড় পরিহিত অবস্থায় গ্রাম থেকে কয়েক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে আসল। তিনি তাদের দুরবস্থা দেখেন। তারা অভাব অনটনে নিমজ্জিত আছে। হাদীসের অবশিষ্ঠ বর্ণনা পূর্বের হাদীসসমূহের অনুরূপ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২২৩, ইসলামিক সেন্টার-২২২৪]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply