সাক্ষ্যদান – বাঁদী বিবাদী ও কেমনভাবে শপথ করানো হইবে

সাক্ষ্যদান – বাঁদী বিবাদী ও কেমনভাবে শপথ করানো হইবে

সাক্ষ্যদান – বাঁদী বিবাদী ও কেমনভাবে শপথ করানো হইবে >> বুখারী শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

পর্বঃ ৫২, সাক্ষ্যদান, অধ্যায়ঃ (১-৩০)=৩০টি

৫২/১. অধ্যায়ঃ বাঁদীই প্রমাণ উপস্থাপন করিবে।
৫২/২. অধ্যায়ঃ যখন কেউ কারো চরিত্রের ব্যাপারে প্রত্যয়ন করে যে, তাকে তো ভালো বলেই জানি কিংবা বলে যে, এর সম্পর্কে তো ভালো বৈ কিছু জানি না।
৫২/৩. অধ্যায়ঃ অপ্রকাশিত ব্যক্তির সাক্ষ্যদান। আমর ইবনু হুরায়স (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এ ধরনের সাক্ষ্য বৈধ বলে মত প্রকাশ করিয়াছেন
৫২/৪. অধ্যায়ঃ এক বা একাধিক ব্যক্তি কোন বিষয়ে সাক্ষ্য প্রদান করলে আর অন্যরা এ বিষয়ে অজ্ঞতা প্রকাশ করলে সাক্ষ্যদাতার কথা অনুযায়ী ফায়সালা হইবে।
৫২/৫. অধ্যায়ঃ ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীগণের প্রসঙ্গে-
৫২/৬. অধ্যায়ঃ সততা প্রমাণে কয়জন লাগবে?
৫২/৭. অধ্যায়ঃ বংশধারা, সবার জানা দুধপান ও আগের মৃত্যুর বিষয়ে সাক্ষ্য দান;
৫২/৮. অধ্যায়ঃ ব্যভিচারের অপবাদ দাতা, চোর ও ব্যভিচারীর সাক্ষ্য।
৫২/৯. অধ্যায়ঃ অন্যায়ের পক্ষে সাক্ষী বানানো হলেও সাক্ষ্য দিবে না।
৫২/১০. অধ্যায়ঃ মিথ্যা সাক্ষ্যদান প্রসঙ্গে যা বলা হয়েছে।
৫২/১১. অধ্যায়ঃ অন্ধের সাক্ষ্যদান করা, কোন বিষয়ে তার সিদ্ধান্ত দান করা, তার বিয়ে করা, কাউকে বিয়ে দেয়া, তার ক্রয়-বিক্রয় করা, তার আযান দেয়া ইত্যাদির ব্যাপারে তাকে অনুমোদন করা এবং আওয়াজে পরিচয় করা।
৫২/১২. অধ্যায়ঃ স্ত্রী লোকের সাক্ষ্যদান
৫২/১৩. অধ্যায়ঃ দাস-দাসীর সাক্ষ্যদান
৫২/১৪. অধ্যায়ঃ দুগ্ধদাত্রীর সাক্ষ্যদান
৫২/১৫. অধ্যায়ঃ সততার ব্যাপারে নারীগণের পারস্পরিক সাক্ষ্যদান
৫২/১৬. অধ্যায়ঃ এক ব্যক্তি কারো নির্দোষিতার সাক্ষ্য দিলে তা-ই যথেষ্ট।
৫২/১৭. অধ্যায়ঃ প্রশংসায় আতিশয্য অপছন্দনীয় যা জানা তাই বলিতে হইবে।
৫২/১৮. অধ্যায়ঃ বাচ্চাদের বয়োপ্রাপ্তি ও তাদের সাক্ষ্যদান।
৫২/১৯. অধ্যায়ঃ শপথ পাঠ করানোর পূর্বে বিচারক বাদীকে জিজ্ঞেস করিবে : তোমার কি কোন প্রমান আছে?
৫২/২০. অধ্যায়ঃ মালামাল ও শরীয়াত নির্ধারিত দন্ডের ক্ষেত্রে বিবাদীর শপথ করা।
৫২/২১. অধ্যায়ঃ কেউ কোন দাবী করলে কিংবা মিথ্যারোপ করলে তাকেই প্রমাণ দিতে হইবে এবং প্রমান সন্ধানে বেরোতে হইবে।
৫২/২২. অধ্যায়ঃ আসরের পর শপথ করা।
৫২/২৩. অধ্যায়ঃ যে জায়গায় বিবাদীকে শপথ করানো ওয়াজিব, তাকে সেখানেই শপথ করানো হইবে। একস্থান হইতে অন্যস্থানে নেয়া হইবে না।
৫২/২৪. অধ্যায়ঃ আগে শপথ করা নিয়ে একদল লোকের প্রতিযোগিতা করা।
৫২/২৫. অধ্যায়ঃ আল্লাহ তাআলার বাণী : যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত ওয়াদা এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে পরকালে তাদের কোন অংশ নাই। ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ তাদের সহিত কথা বলবেন না এবং তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন না; তাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রয়েছে। (সুরা আল ইমরান : ৭৭)
৫২/২৬. অধ্যায়ঃ কেমনভাবে শপথ করানো হইবে?
৫২/২৭. অধ্যায়ঃ শপথ করার পর বাদী সাক্ষী হাযির করলে।
৫২/২৮. অধ্যায়ঃ যিনি অঙ্গীকার পূর্ণ করার নির্দেশ দান করিয়াছেন।
৫২/২৯. অধ্যায়ঃ সাক্ষী ইত্যাদির ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হইবে না ।
৫২/৩০. অধ্যায়ঃ জটিল ব্যাপারে কুরআর মাধ্যমে ফয়সালা করা।

৫২/১. অধ্যায়ঃ বাঁদীই প্রমাণ উপস্থাপন করিবে।

আল্লাহ তাআলার বাণী : হে মুমিনগণ! তোমরা যখন একে অন্যের সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের জন্য ঋণের কারবার কর তখন তা লিখে রাখবে; তোমাদের মধ্যে কোন লেখক যে ন্যায্যভাবে লিখে দেয়; লেখক লিখতে অস্বীকার করিবে না। যেমন আল্লাহ তাকে শিক্ষা দিয়েছেন, সুতরাং সে যেন লিখে এবং ঋণগ্রহীতা যেন লেখার বিষয়বস্তু বলে দেয় এবং তার প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করে, আর তার কিছু যেন না কমায়; কিন্তু ঋণ গ্রহীতা যদি নির্বোধ অথবা দুর্বল হয় অথবা লেখার বিষয়বস্তু বলে দিতে না পারে তবে যেন তার অভিভাবক ন্যায্যভাবে লেখার বিষয়বস্তু বলে দেয়। সাক্ষীদের মধ্যে যাদের উপর তোমরা রাযী তাদের মধ্যে দুজন পুরুষ সাক্ষী রাখবে, যদি দুজন পুরুষ না থাকে তবে একজন পুরুষ ও দুজন স্ত্রীলোক; স্ত্রীলোকদের মধ্যে একজন ভুল করলে তাদের একজন অপরজনকে স্মরণ করিয়ে দিবে। সাক্ষীগণকে যখন ডাকা হইবে তখন তারা যেন অস্বীকার না করে। এটা ছোট হোক অথবা বড় হোক, মেয়াদসহ লিখতে তোমরা কোন রূপ বিরক্ত হইও না। আল্লাহর নিকট এটা ন্যায্যতর ও প্রমাণের জন্য দৃঢ়তর এবং তোমাদের মধ্যে সন্দেহ উদ্রেক না হওয়ার নিকটতর; কিন্তু তোমরা পরস্পর যে ব্যবসার নগদ আদান-প্রদান কর তা তোমরা না লিখলে কোন দোষ নাই। তোমরা যখন পরস্পরের মধ্যে বেচাকেনা কর তখন সাক্ষী রাখিও, লেখক এবং সাক্ষী যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। যদি তোমরা ক্ষতিগ্রস্থ কর তবে তা তোমাদের জন্য পাপ। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তিনি তোমাদেরকে শিক্ষা দেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সবিশেষ অবহিত। (সুরা আল-বাকারাহ : ২৮২)

এবং মহান আল্লাহর বাণী : হে মুমিনগণ! তোমরা ন্যায় বিচারে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত থাকবে আল্লাহর সাক্ষীস্বরূপ যদিও তা তোমাদের নিজেদের অথবা পিতামাতা এবং আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে হয়; সে বিত্তবান হোক অথবা বিত্তহীন হোক আল্লাহ উভয়েরই ঘনিষ্টতর। সুতরাং তোমরা ন্যায়বিচার করিতে প্রবৃত্তির অনুগামী হইও না। যদি তোমরা পেঁচালো কথা বল অথবা পাশ কাটিয়ে যাও তবে তোমরা যা কর আল্লাহ তার সম্যক খবর রাখেন। (সুরা আন-নিসা : ১৩৫)

৫২/২. অধ্যায়ঃ যখন কেউ কারো চরিত্রের ব্যাপারে প্রত্যয়ন করে যে, তাকে তো ভালো বলেই জানি কিংবা বলে যে, এর সম্পর্কে তো ভালো বৈ কিছু জানি না।

২৬৩৭

ইবনু শিহাব (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমার নিকট আয়েশা (রাদি.)-এর ঘটনা সম্পর্কে উরওয়াহ, ইবনু মুসায়্যাব, আলক্বামাহ, ইবনু ওয়াক্কাস এবং উবায়দুল্লাহ (রাদি.) বর্ণনা করিয়াছেন, তাদের বর্ণিত হাদীসের এক অংশ অন্য অংশের সত্যতা প্রমাণ করে, যা অপবাদকারীরা আয়েশা (রাদি.) সম্পর্কে রটনা করেছিল। এদিকে ওয়াহী অবতরণ বিলম্বিত হল। তখন আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) আলী ও উসামাহ (রাদি.) -কে স্বীয় স্ত্রীকে পৃথক রাখার ব্যাপারে পরামর্শের জন্য ডেকে পাঠালেন। উসামাহ (রাদি.) তখন বলিলেন, আপনার স্ত্রী সম্পর্কে ভাল ব্যতীত কিছুই আমরা জানি না। আর বারীরা (রাদি.) বলিলেন, তার সম্পর্কে একটি মাত্র কথাই আমি জানি, তা এই যে, অল্প বয়স্কা হবার কারণে পরিবারের লোকদের জন্য আটা খামির করার সময় তিনি ঘুমিয়ে পড়েন সেই ফাঁকে বকরী এসে তা খেয়ে ফেলে। আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) তখন বলিলেন, সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কে আমাকে সাহায্য করিবে, যার জ্বালাতন আমার পরিবার-পরিজন পর্যন্ত পৌঁছেছে? আল্লাহর কসম! আমার স্ত্রী সম্পর্কে আমি ভাল ব্যতীত কিছু জানি না। আর এমন এক ব্যক্তির কথা তারা বলে, যার সম্পর্কে আমি ভাল ব্যতীত কিছু জানি না।

৫২/৩. অধ্যায়ঃ অপ্রকাশিত ব্যক্তির সাক্ষ্যদান। আমর ইবনু হুরায়স (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এ ধরনের সাক্ষ্য বৈধ বলে মত প্রকাশ করিয়াছেন

তিনি বলেন, পাপাচারী মিথ্যুক লোকের বিরুদ্ধে এরূপ সাক্ষ্য গ্রহণ করা যেতে পারে। ইমাম শাবী, ইবনু সীরীন, আতা ও ক্বাতাদাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, শুনতে পেলেই সাক্ষী হওয়া যায়। হাসান বসরী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, (এরূপ ক্ষেত্রে সে বলবে) আমাকে এরা সাক্ষী মানেনি, তবে আমি এ রকম এ রকম শুনিয়াছি।

২৬৩৮

আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) ও উবাই ইবনু কাব আনসারী (রাদি.) সেই খেজুর বাগানের উদ্দেশে রওয়ানা হলেন, যেখানে ইবনু সাইয়াদ থাকত। আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) যখন প্রবেশ করিলেন, তখন তিনি সতর্কতার সঙ্গে খেজুর শাখার আড়ালে চললেন। তিনি চাচ্ছিলেন, ইবনু সাইয়াদ তাঁকে দেখে ফেলার আগেই তিনি তার কোন কথা শুনে নিবেন। ইবনু সাইয়াদ তখন চাদর মুড়ি দিয়ে বিছানায় শুয়ে ছিল। আর গুন গুন বা (রাবী বলেছেন) গুমগুমভাবে কিছু বলছিল। এ সময় ইবনু সাইয়াদের মা নাবী (সাঃআঃ) -কে খেজুর শাখার আড়ালে সতর্কতার সঙ্গে আসতে দেখে ইবনু সাইয়াদকে বলিল, হে সাফ! এই যে মুহাম্মাদ! তখন ইবনু সাইয়াদ চুপ হয়ে গেল। আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলিলেন, সে (তার মা) যদি তাকে নিজের অবস্থায় ছেড়ে দিত, তাহলে প্রকাশ পেয়ে যেত।

২৬৩৯

আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রিফাআ কুরাযীর স্ত্রী নাবী (সাঃআঃ)-এর নিকট এসে বলিল, আমি রিফাআর স্ত্রী ছিলাম। কিন্তু সে আমাকে বায়েন তালাক দিয়ে দিল। পরে আমি আবদুর রহমান ইবনু যুবাইরকে বিয়ে করলাম। কিন্তু তার সঙ্গে রয়েছে কাপড়ের আঁচলের মতো নরম কিছু (অর্থাৎ তার পুরুষত্ব নাই)। তখন নাবী (সাঃআঃ) বলিলেন, তবে কি তুমি রিফাআর নিকট ফিরে যেতে চাও? না, তা হয় না, যতক্ষণ না তুমি তার মধুর স্বাদ গ্রহণ করিবে আর সে তোমার মধুর স্বাদ গ্রহণ করিবে। আবু বক্‌র (রাদি.) তখন তাহাঁর নিকট উপবিষ্ট ছিলেন। আর খালিদ ইবনু সাঈদ ইবনু আস (রাদি.) দ্বারপ্রান্তে প্রবেশের অনুমতির অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি বলিলেন, হে আবু বক্‌র! এই নারী নাবী (সাঃআঃ)-এর দরবারে উচ্চ আওয়াজে যা বলছে, তা কি আপনি শুনতে পাচ্ছেন না?

৫২/৪. অধ্যায়ঃ এক বা একাধিক ব্যক্তি কোন বিষয়ে সাক্ষ্য প্রদান করলে আর অন্যরা এ বিষয়ে অজ্ঞতা প্রকাশ করলে সাক্ষ্যদাতার কথা অনুযায়ী ফায়সালা হইবে।

হুমায়দী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, এটা ঠিক। যেমন বিলাল (রাদি.) খবর দিয়েছিলেন যে, (মক্কা বিজয়ের দিন) নাবী (সাঃআঃ) কাবার অভ্যন্তরে সলাত আদায় করিয়াছেন। পক্ষান্তরে ফযল (রাদি.) বলেছেন, তিনি (কাবা অভ্যন্তরে) সলাত আদায় করেননি। বিলালের সাক্ষ্যকেই লোকেরা গ্রহণ করেছে। তদ্রূপ দুজন সাক্ষী যদি অমুক অমুকের নিকট এক হাজার দিরহাম পাবে বলে সাক্ষ্য দেয় আর অন্য দুজন দেড় হাজার পাবে বলে সাক্ষ্য দেয়, তাহলে অধিক পরিমাণের পক্ষেই ফায়সালা দেয়া হইবে।

২৬৪০

উকবাহ ইবনু হারিস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি আবু ইহাব ইবনু আযীযের কন্যাকে বিবাহ করিলেন। পরে এক মহিলা এসে বলিল, আমি তো উকবাহ এবং যাকে সে বিয়ে করেছে দুজনকেই দুধ পান করিয়েছি। উকবাহ (রাদি.) তাকে বলিলেন, এটা তো আমার জানা নেই যে, আপনি আমাকে দুধ পান করিয়েছেন আর আপনিও এ বিষয়ে আমাকে অবহিত করেননি। অতঃপর আবু ইহাব পরিবারের নিকট লোক পাঠিয়ে তিনি তাদের নিকট জানতে চাইলেন। তারা বলিল, সে আমাদের মেয়েকে দুধ পান করিয়েছে বলে তো আমাদের জানা নেই। তখন তিনি মদীনার উদ্দেশে সাওয়ার হলেন এবং নাবী (সাঃআঃ) কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিলেন। আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলিলেন, যখন এরূপ বলা হয়েছে তখন এ (বিবাহ) কিভাবে সম্ভব? তখন উকবাহ (রাদি.) তাকে ত্যাগ করিলেন। আর সে অন্য জনকে বিয়ে করিল।

৫২/৫. অধ্যায়ঃ ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীগণের প্রসঙ্গে-

আল্লাহ তাআলার বাণী : তোমরা তোমাদের ন্যায়পরায়ণ দুজন ব্যক্তিকে সাক্ষী রাখবে। (সুরা আত্-তালাক্ব : ২)

(আল্লাহর বাণী) সাক্ষীদের মধ্যে যাদের উপর তোমরা রাযী তাদের মধ্যে। (সুরা আল-বাকারাহ : ২৮২)

২৬৪১

উমার ইবনু খাত্তাব (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-এর সময়ে কিছু ব্যক্তিকে ওয়াহীর ভিত্তিতে পাকড়াও করা হত। এখন যেহেতু ওয়াহী বন্ধ হয়ে গেছে, সেহেতু এখন আমাদের সামনে তোমাদের যে ধরনের আমাল প্রকাশ পাবে, সেগুলোর ভিত্তিতেই তোমাদের বিচার করব। কাজেই যে ব্যক্তি আমাদের সামনে ভালো প্রকাশ করিবে তাকে আমরা নিরাপত্তা দান করব এবং নিকটে আনবো, তার অন্তরের বিষয়ে আমাদের কিছু করণীয় নেই। আল্লাহই তার অন্তরের বিষয়ে হিসাব নিবেন। আর যে ব্যক্তি আমাদের সামনে মন্দ আমাল প্রকাশ করিবে, তার প্রতি আমরা তাদের নিরাপত্তা প্রদান করব না এবং সত্যবাদী বলে জানব না; যদিও সে বলে যে, তার অন্তর ভালো।

৫২/৬. অধ্যায়ঃ সততা প্রমাণে কয়জন লাগবে?

২৬৪২

আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ)-এর সম্মুখ দিয়ে এক জানাযা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ব্যক্তিটি সম্পর্কে সবাই প্রশংসা করছিলেন। তিনি বলিলেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে। পরে আরেকটি জানাযা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। লোকেরা তার সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করিল কিংবা বর্ণনাকারী অন্য কোন শব্দ বলেছেন। তিনি বলিলেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে। তখন বলা হল, হে আল্লাহর রাসুল! এ ব্যক্তি সম্পর্কে বলিলেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে আবার ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে বলিলেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে। তিনি বলিলেন, মুমিনগণ হলেন পৃথিবীতে আল্লাহর সাক্ষ্যদাতা যাদের সাক্ষ্য গৃহীত হয়।

২৬৪৩

আবুল আসওয়াদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একবার আমি মদীনায় আসলাম। সেখানে তখন ‎মহামারী দেখা দিয়েছিল। এতে ব্যাপক হারে লোক মারা যাচ্ছিল। আমি উমার (রাদি.)-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। ‎এমন সময় একটি জানাযা অতিক্রম করিল এবং তার সম্পর্কে ভালো ধরনের মন্তব্য করা হল। তা শুনে উমার ‎‎(রাদি.) বলিলেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে। অতঃপর আরেকটি জানাযা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং তার সম্পর্কেও ভালো ‎মন্তব্য করা হল। তা শুনে তিনি বলিলেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে। অতঃপর তৃতীয় জানাযা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং ‎তার সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করা হল। এবারও তিনি বলিলেন, ওয়াজিব হয়ে গেছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কী ‎ওয়াজিব হয়ে গেছে, হে আমীরুল মুমিনীন? তিনি বলিলেন, নাবী (সাঃআঃ) যেমন ‎বলেছিলেন, আমিও তেমন বললাম। কোন মুসলিম সম্পর্কে চারজন ব্যক্তি ভালো সাক্ষ্য দিলে আল্লাহ তাকে জান্নাতে ‎দাখিল করবেন। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, আর তিনজন সাক্ষ্য দিলে? তিনি বলিলেন, তিনজন সাক্ষ্য দিলেও। আমরা ‎জিজ্ঞেস করলাম, দুজন সাক্ষ্য দিলে? তিনি বলিলেন, দুজন সাক্ষ্য দিলেও। অতঃপর আমরা একজনের সাক্ষ্য ‎সম্পর্কে তাঁকে কিছু জিজ্ঞেস করিনি।

৫২/৭. অধ্যায়ঃ বংশধারা, সবার জানা দুধপান ও আগের মৃত্যুর বিষয়ে সাক্ষ্য দান;

নাবী (সাঃআঃ) বলেছেন, সুওয়াইবাহ আমাকে এবং আবু সালামাহকে দুধপান ‎করিয়েছেন এবং এর উপর দৃঢ় থাকা।

২৬৪৪

আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আফলাহ (রাদি.) আমার সাক্ষাতের অনুমতি চাইলেন। আমি অনুমতি না দেয়ায় তিনি বলিলেন, আমি তোমার চাচা, অথচ তুমি আমার সঙ্গে পর্দা করছ? আমি বললাম, তা কিভাবে? তিনি বলিলেন, আমার ভাইয়ের স্ত্রী, আমার ভাইয়ের মিলনজাত দুধ তোমাকে পান করিয়েছে। আয়েশা (রাদি.) বলেন, এ সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) -কে আমি জিজ্ঞেস করলে তিনি বলিলেন, আফলাহ (রাদি.) ঠিক কথাই বলেছে। তাকে অনুমতি দিও।

২৬৪৫

ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) হামযাহর মেয়ে সম্পর্কে বলেছেন, সে আমার জন্য হালাল নয়। কেননা বংশ কারণে যা হারাম হয়, দুধ পানের সম্পর্কের কারণেও তা হারাম হয়, আর সে আমার দুধ ভাইয়ের মেয়ে।

২৬৪৬

আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) তাহাঁর নিকট অবস্থান করছিলেন। এমন সময় তিনি জনৈক ব্যক্তির আওয়াজ শুনতে পেলেন। সে হাফসাহ (রাদি.)-এর ঘরে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করছে। আয়েশা (রাদি.) বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! এই একজন ব্যক্তি আপনার ঘরে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করছে। তিনি বলেন, তখন আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলিলেন, তাকে হাফসার অমুক দুধ চাচা বলে মনে হচ্ছে। তখন আয়েশা (রাদি.) বলিলেন, আচ্ছা আমার অমুক দুধ চাচা যদি জীবিত থাকত তাহলে সে কি আমার ঘরে প্রবেশ করিতে পারত? আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলিলেন, হ্যাঁ, পারত। কেননা, জন্মসূত্রে যা হারাম, দুধপানও তাকে হারাম করে।

২৬৪৭

আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) আমার নিকট আসলেন, তখন আমার নিকট জনৈক ব্যক্তি ছিল। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, হে আয়েশা! এ কে? আমি বললাম, আমার দুধ ভাই। তিনি বলিলেন, হে আয়েশা! কে তোমার সত্যিকার দুধ ভাই তা যাচাই করে দেখে নিও। কেননা, ক্ষুধার কারণে দুধ পানের ফলেই শুধু দুধ সম্পর্ক স্থাপিত হয়। ইবনু মাহদী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) সুফইয়ান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে হাদীস বর্ণনায় মুহাম্মাদ ইবনু কাসীর (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর অনুসরণ করিয়াছেন।

৫২/৮. অধ্যায়ঃ ব্যভিচারের অপবাদ দাতা, চোর ও ব্যভিচারীর সাক্ষ্য।

আল্লাহ তাআলার বাণী : তাদের সাক্ষ্য কখনো গ্রহণ করিবে না। তারাই তো সত্যত্যাগী, তবে যদি অতঃপর তারা তাওবা করে। (সুরা আন-নূর : 8)

উমার, আবু বক্‌র (রাদি.) শিবল ইবনু মাবাদ ও নাফি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) -কে মুগীরাহ (রাদি.)-এর প্রতি অপবাদ আরোপের দোষে বেত্রাঘাত করেছিলেন। পরে তাদের তাওবাহ করিয়ে বলেছিলেন, যারা তাওবা করিবে, তাদের সাক্ষ্য আমি গ্রহণ করব। আব্দুল্লাহ ইবনু উতবাহ, উমার ইবনু আবদুল আযীয, সাঈদ ইবনু যুবায়র, তাউস, মুজাহিদ, শাবী, ইকরিমাহ, যুহরী, মুহারিব ইবনু দিসার, শুরাইহ ও মুআবিয়া ইবনু কুর্‌রা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বৈধ বলে রায় দিয়েছেন। আবু যিনাদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, মদীনায় আমাদের সিদ্ধান্ত যে, অপবাদ আরোপকারী নিজের কথা প্রত্যাহার করে আল্লাহর নিকট ইসতিগফার করলে তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হইবে। শাবী ও ক্বাতাদাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, নিজেকে মিথ্যাচারী বলে স্বীকার করলে তাকে বেত্রাঘাত করা হইবে, তবে তার সাক্ষ্যও গ্রহণ করা হইবে। সাওরী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, (উপরোক্ত অপরাধগুলোর কারণে) কোন গোলামকে বেত্রাঘাতের পর আযাদ করা হলে তার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হইবে। হদ্দ (শরীআহ নির্ধারিত শাস্তি) প্রাপ্ত ব্যক্তিকে বিচারক নিয়োগ করা হলে তার সিদ্ধান্তসমূহ কার্যকর হইবে। তবে কোন ফিকাহ বিশারদের বক্তব্য হল, তাওবা করলেও অপবাদকারীর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হইবে না। অথচ তিনি এ কথাও বলেন যে, দুজন সাক্ষী ব্যতীত বিয়ে বৈধ নয়। তবে দুজন হদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাক্ষীতে বিয়ে হলে তা বৈধ হইবে। কিন্তু দুজন গোলামের সাক্ষীতে বিয়ে করলে তা বৈধ হইবে না। অন্যদিকে রামাযানের চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে হদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি, গোলাম ও বাঁদীর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য বলে রায় দিয়েছেন। তার (হদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তির) তাওবা সম্পর্কে কিভাবে অবহিত হওয়া যাবে। ব্যভিচারীকে নাবী (সাঃআঃ) এক বছরের জন্য দেশান্তর করিয়াছেন এবং নাবী (সাঃআঃ) কাব ইবনু মালিক ও তার সাথীদ্বয়ের সঙ্গে কথা বলার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। এ অবস্থায় পঞ্চাশ রাত অতিবাহিত হয়েছিল।

২৬৪৮

উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

মাক্কাহ বিজয়ের সময় এক মহিলা চুরি করলে তাকে রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর নিকট হাযির করা হল, অতঃপর তিনি তার সম্পর্কে নির্দেশ জারি করলে তার হাত কাটা হল। আয়েশা (রাদি.) বলেন, অতঃপর খাঁটি তাওবা করিল এবং বিয়ে করিল। অতঃপর সে আসলে আমি তার প্রয়োজন রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর সমীপে উপস্থাপন করতাম।

২৬৪৯

যায়দ ইবনু খালিদ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) অবিবাহিত ব্যভিচারী সম্পর্কে একশ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের নির্বাসনের নির্দেশ দিয়েছেন।

৫২/৯. অধ্যায়ঃ অন্যায়ের পক্ষে সাক্ষী বানানো হলেও সাক্ষ্য দিবে না।

২৬৫০

নুমান ইবনু বাশীর (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমার মাতা আমার পিতাকে তার মালের কিছু আমাকে দান করিতে বলিলেন। পরে তা দেয়া ভাল মনে করলে আমাকে তা দান করেন। তিনি (আমার মাতা) তখন বলিলেন, নাবী (সাঃআঃ) -কে সাক্ষী মানা ব্যতীত আমি রাজী নই। অতঃপর তিনি (আমার পিতা) আমার হাত ধরে আমাকে নাবী (সাঃআঃ)-এর নিকট নিয়ে গেলেন, আমি তখন বালক মাত্র। তিনি বলিলেন, এর মা বিন্তে রাওয়াহা একে কিছু দান করার জন্য আমার নিকট আবেদন জানিয়েছে। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, সে ব্যতীত তোমার আর কোন ছেলে আছে? তিন বলিলেন, হ্যাঁ, আছে। নুমান (রাদি.) বলেন, আমার মনে পড়ে, তিনি বলেছিলেন, আমাকে অন্যায় কাজে সাক্ষী করবেন না। আর আবু হারীয (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ইমাম শাবী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন, আমি অন্যায় কাজে সাক্ষী হইতে পারি না।

২৬৫১

ইমরান ইবনু হুসাইন (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) বলেছেন, আমার যুগের লোকেরাই তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম। অতঃপর তাদের নিকটবর্তী যুগের লোকেরা, অতঃপর তাদের নিকটবর্তী যুগের লোকেরা। ইমরান (রাদি.) বলেন, আমি বলিতে পারছি না, নাবী (সাঃআঃ) (তাহাঁর যুগের) পরে দুই যুগের কথা বলেছিলেন, বা তিন যুগের কথা। নাবী (সাঃআঃ) বলেছিলেন, তোমাদের পর এমন লোকেরা আসবে, যারা খিয়ানত করিবে, আমানত রক্ষা করিবে না। সাক্ষ্য দিতে না ডাকলেও তারা সাক্ষ্য দিবে। তারা মান্নত করিবে কিন্তু তা পূর্ণ করিবে না। তাদের মধ্যে মেদওয়ালাদের প্রকাশ ঘটবে।

২৬৫২

আবদুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) (রাদি.) সূত্রে নাবী (সাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমার যুগের লোকেরাই সর্বোত্তম ব্যক্তি, অতঃপর যারা তাদের নিকটবর্তী। অতঃপর যারা তাদের নিকটবর্তী। এরপর এমন সব ব্যক্তি আসবে যারা কসম করার আগেই সাক্ষ্য দিবে, আবার সাক্ষ্য দেয়ার আগে কসম করে বসবে। ইবরাহীম (নাখ্‌ঈ) (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আমাদেরকে সাক্ষ্য দিলে ও অঙ্গিকার করলে মারতেন।

৫২/১০. অধ্যায়ঃ মিথ্যা সাক্ষ্যদান প্রসঙ্গে যা বলা হয়েছে।

আল্লাহ তাআলার বাণী : আর (আল্লাহর খাঁটি বান্দা তারাই) যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না-(সুরা আল-ফুরকান : ৭২) এবং সাক্ষ্য গোপন করা প্রসঙ্গে

আল্লাহ তাআলার বাণী : তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না। যারা তা গোপন করিবে তাদের অন্তর অপরাধী আর তোমরা যা কিছু কর, আল্লাহ তা সব জানেন- (সুরা আল-বাকারাহ : ২৮৩)। তোমরা সাক্ষ্য প্রদানে কথা ঘুরিয়ে বল।

২৬৫৩

আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) -কে কাবীরাহ গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলিলেন, আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, কাউকে হত্যা করা এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া।

গুনদর, আবু আমির, বাহয ও আবদুস সামাদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) শুবা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণনায় ওয়াহাব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর অনুসরণ করিয়াছেন।

২৬৫৪

আবু বক্‌র (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) একদা তিনবার বলিলেন, আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় কবীরা গুনাহগুলো সম্পর্কে অবহিত করব না? সকলে বলিলেন, হে আল্লাহর রাসুল! অবশ্যই বলুন। তিনি বলিলেন, আল্লাহর সঙ্গে শির্‌ক করা এবং পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া। তিনি হেলান দিয়ে বসেছিলেন; এবার সোজা হয়ে বসলেন এবং বলিলেন, শুনে রাখ! মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া, এ কথাটি তিনি বার বার বলিতে থাকলেন। এমনকি আমরা বলিতে লাগলাম, আর যদি তিনি না বলিতেন।

৫২/১১. অধ্যায়ঃ অন্ধের সাক্ষ্যদান করা, কোন বিষয়ে তার সিদ্ধান্ত দান করা, তার বিয়ে করা, কাউকে বিয়ে দেয়া, তার ক্রয়-বিক্রয় করা, তার আযান দেয়া ইত্যাদির ব্যাপারে তাকে অনুমোদন করা এবং আওয়াজে পরিচয় করা।

কাসিম, হাসান, ইবনু সীরীন, যুহরী ও আত্বা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) অন্ধের সাক্ষ্যদান অনুমোদন করিয়াছেন। ইমাম শাবী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, বুদ্ধিমান হলে তার সাক্ষ্যদান বৈধ। হাকাম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, অনেক বিষয় আছে, যেখানে তাদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য। ইমাম যুহরী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, তুমি কি মনে কর যে, ইবনু আব্বাস (রাদি.) কোন বিষয়ে সাক্ষ্য দিলে তা প্রত্যাখ্যান করিতে পারবে? ইবনু আব্বাস (রাদি.) (দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পাওয়ায়) জনৈক ব্যক্তিকে পাঠিয়ে সূর্য ডুবেছে কিনা জেনে নিয়ে ইফতার করিতেন। অনুরূপভাবে ফজরের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিতেন। ফজর হয়েছে বলা হলে তিনি দুরাকাআত সলাত আদায় করিতেন। সুলাইমান ইবনু ইয়াসার (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, একবার আমি আয়েশা (রাদি.)-এর নিকট সাক্ষাতের অনুমতি চাইলাম। তিনি আমার আওয়াজ চিনতে পেরে বলিলেন, সুলাইমান না কি, এসো! তোমার সঙ্গে পর্দার প্রয়োজন নেই। (কেননা) যতক্ষণ (মুকাতাবাতের দেয় অর্থের) সামান্য পরিমাণও বাকি থাকবে ততক্ষণ তুমি গোলাম। সামূরাহ ইবনু জুনদুব (রাদি.) মুখমন্ডল আচ্ছাদিতা নারীর সাক্ষ্যদান অনুমোদন করিয়াছেন।

২৬৫৫

আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) জনৈক ব্যক্তিকে মাসজিদে (কুরআন) পড়তে শুনলেন। তিনি বলিলেন, আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন। সে আমাকে অমুক অমুক আয়াত স্মরণ করে দিয়েছে, যা আমি অমুক অমুক সুরা হইতে ভুলে গিয়েছিলাম। আব্বাদ ইবনু আবদুল্লাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আয়েশা (রাদি.) হইতে এতটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করিয়াছেন যে, নাবী (সাঃআঃ) আমার ঘরে তাহাজ্জুদের সলাত আদায় করিলেন। সে সময় তিনি মসজিদে সলাত রত আব্বাদের আওয়াজ শুনতে পেয়ে জিজ্ঞেস করিলেন, হে আয়েশা! এটা কি আব্বাদের কন্ঠস্বর? আমি বললাম হ্যাঁ। তখন তিনি বলিলেন, আল্লাহ আব্বাদের প্রতি রহম করুন।

২৬৫৬

আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) বলেছেন, বিলাল (রাদি.) রাত থাকতেই আযান দিয়ে থাকে। সুতরাং ইবনু উম্মে মাকতূম (রাদি.) আযান দেয়া পর্যন্ত তোমরা পানাহার করিতে পার। অথবা তিনি বলেন, ইবনু উম্মে মাকতূম (রাদি.)-এর আযান শোনা পর্যন্ত। ইবনু মাকতূম (রাদি.) অন্ধ ছিলেন, সকাল হয়েছে লোকেরা এ কথা তাকে না বলা পর্যন্ত তিনি আযান দিতেন না।

২৬৫৭

মিসওয়ার ইবনু মাখরামা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ)-এর নিকট কাবা (পোশাক) আসল। আমার পিতা মাখরামা (রাদি.) তা শুনে আমাকে বলিলেন, আমাকে তাহাঁর নিকট নিয়ে চল। সেখান থেকে তিনি আমাদের কিছু দিতেও পারেন। আমার পিতা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলিলেন, নাবী (সাঃআঃ) তার আওয়াজ চিনতে পারলেন। নাবী (সাঃআঃ) তখন একটি কাবা সঙ্গে করে বেরিয়ে এলেন, তিনি তার সৌন্দর্য বর্ণনা করছিলেন এবং বলছিলেন, আমি এটা তোমার জন্য যত্ন করে রেখেছিলাম। আমি এটা তোমার জন্য যত্ন করে রেখেছিলাম।

৫২/১২. অধ্যায়ঃ স্ত্রী লোকের সাক্ষ্যদান

আল্লাহ তাআলার বানী : যদি দুজন পুরুষ না থাকে তবে একজন পুরুষ ও দুজন স্ত্রীলোক (স্বাক্ষী হিসেবে নিয়োগ কর)। (সুরা আল-বাকারাহ : ২৮২)

২৬৫৮

আবু সাঈদ খুদরী (রাদি.) সূত্রে নাবী (সাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নারীদের সাক্ষ্য কি পুরুষদের সাক্ষ্যের অর্ধেক নয়? উপস্থিতরা বললো, অবশ্যই অর্ধেক। তিনি বলেন, এটা নারীদের জ্ঞানের ক্রটির কারণেই।

৫২/১৩. অধ্যায়ঃ দাস-দাসীর সাক্ষ্যদান

আনাস (রাদি.) বলেন, গোলাম নির্ভরযোগ্য হলে তার সাক্ষ্য গ্রহনযোগ্য। শুরাইহ ও যুরারা ইবনু আওফাও তা অনুমোদন করিয়াছেন। ইবনু সীরীন (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, গোলামের সাক্ষ্য গ্রহনযোগ্য হইবে, তবে মনিবের ক্ষেত্রে নয়। অপরদিকে হাসান (বসরী) (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ও ইবরাহীম (নাখঈ) (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) সাধারণ বিষয়ে তা অনুমোদন করিয়াছেন, আর শুরাইহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, তোমরা সকলেই (আল্লাহর) দাস ও দাসীরই সন্তান।

২৬৫৯

উকবাহ ইবনু হারিস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি উম্মু ইয়াহইয়া বিনতে আবু ইহাবকে বিবাহ করিলেন। তিনি বলেন, তখন কালো বর্ণের এক দাসী এসে বলিল, আমি তো তোমাদের দুজনকে দুধপান করিয়েছি। সে কথা আমি নাবী (সাঃআঃ) এর নিকট উত্থাপন করলে তিনি আমার দিক হইতে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। আমি সরে গেলাম। বিষয়টি আবার তার নিকট উত্থাপন করলাম। তিনি তখন বলিলেন, এ বিয়ে হয় কী করে? সে তো দাবি করছে যে, তোমাদের দুজনকেই সে দুধ পান করিয়েছে। অতঃপর তিনি তাকে (উকবাহকে) তার (উম্মু ইহাবের) সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ করিতে বলিলেন।

৫২/১৪. অধ্যায়ঃ দুগ্ধদাত্রীর সাক্ষ্যদান

২৬৬০

উকবাহ ইবনু হারিস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক নারীকে আমি বিয়ে করলাম। কিন্তু আরেক নারী এসে বলিল, আমি তো তোমাদের দুজনকে দুগ্ধপান করিয়েছি, তখন আমি নাবী (সাঃআঃ)-এর নিকট গিয়ে বিষয়টি উল্লেখ করলাম। তিনি বলিলেন, এমন কথা বলা হয়েছে তখন বিয়ে কিভাবে সম্ভব? তাকে তুমি ত্যাগ কর। অথবা তিনি সে রকম কিছু বলিলেন।

৫২/১৫. অধ্যায়ঃ সততার ব্যাপারে নারীগণের পারস্পরিক সাক্ষ্যদান

২৬৬১

নাবী (সাঃআঃ)-এর স্ত্রী আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

মিথ্যা অপবাদকারীরা যখন তাহাঁর সম্পর্কে অপবাদ রটনা করিল এবং আল্লাহ তা হইতে তাহাঁর পবিত্রতা ঘোষনা করিলেন। রাবীগণ বলেন, আয়েশা (রাদি.) বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) সফরে বের হবার ইচ্ছা করলে স্বীয় স্ত্রীদের মধ্যে কুরআ ঢালার মাধ্যমে সফর সঙ্গিনী নির্বাচন করিতেন। তাঁদের মধ্যে যার নাম বেরিয়ে আসত তাকেই তিনি নিজের সঙ্গে নিয়ে যেতেন। এক যুদ্ধে যাবার সময় তিনি আমাদের মধ্যে কুরআ ডাললেন, তাতে আমার নাম বেরিয়ে এলো। তাই আমি তাহাঁর সঙ্গে (সফরে) বের হলাম। এটা পর্দার নির্দেশ নাযিল হবার পরের ঘটনা। আমাকে হাওদার ভিতরে সওয়ারীতে উঠানো হত, আবার হাওদায় থাকা অবস্থায় নামানো হত। এভাবেই আমরা সফর করিতে থাকলাম। রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) ঐ যুদ্ধ শেষ করে যখন প্রত্যাবর্তন করিলেন এবং আমরা মদীনার নিকট পৌছে গেলাম তখন এক রাতে তিনি মনযিল ত্যাগ করার ঘোষনা দিলেন। উক্ত ঘোষনা দেয়ার সময় আমি উঠে সেনাদলকে অতিক্রম করে গেলাম এবং নিজের প্রয়োজন সেরে হাওদায় ফিরে এলাম। তখন বুকে হাত দিয়ে দেখি আযফার দেশীয় সাদা কালো পাথরের তৈরী আমার একটা মালা ছিঁড়ে পড়ে গেছে। তখন আমি আমার মালার সন্ধানে ফিরে গেলাম এবং সন্ধান কার্য আমাকে বিলম্বিত করে দিল। ওদিকে যারা আমার হাওদা উঠিয়ে দিত তারা তা উঠিয়ে যে উটে আমি সওয়ার হতাম, তার পিঠে রেখে দিল। তাদের ধারনা ছিল যে, আমি হাওদাতেই আছি। তখনকার মেয়েরা দুবলা পাতলা হত, মোটা সোটা হত না। কেননা খুব সামান্য খাবার তারা খেতে পেত। তাই হাওদা উঠাতে গিয়ে তার ভার তাদের নিকট অস্বাভাবিক বলে মনে হল না। তদুপরি সে সময় আমি অল্প বয়স্কা কিশোরী ছিলাম এবং তখন তারা হাওদা উঠিয়ে উট হাঁকিয়ে রওনা হয়ে গেল। এদিকে সেনাদল চলে যাবার পর আমি আমার মালা পেয়ে গেলাম। কিন্তু তাদের জায়গায় ফিরে এসে দেখি, সেখানে কেউ নেই। তখন আমি আমার জায়গায় এসে বসে থাকাই স্থির করলাম। আমার ধারনা ছিল যে, আমাকে না পেয়ে আবার এখানে তারা ফিরে আসবে। বসে থাকা অবস্থায় আমার দু চোখে ঘুম এলে আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। সাফওয়ান ইবনু মুআত্তাল, যিনি প্রথমে সুলামী এবং পরে যাকওয়ানী হিসাবে পরিচিত ছিলেন, সেনা দলের পিছনে (পরিদর্শক হিসাবে) রয়ে গিয়েছিলেন। সকালের দিকে আমার অবস্থান স্থলের কাছাকাছি এসে পৌছলেন এবং একজন ঘুমন্ত মানুষের শরীর দেখিতে পেয়ে আমার দিকে এগিয়ে এলেন। পর্দার বিধান নাযিলের আগে তিনি আমাকে দেখেছিলেন। যে সময় তিনি উট বসাচ্ছিলেন সে সময় তার ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন শব্দে আমি জেগে গেলাম। তিনি উটের সামনে পা চেপে ধরলে আমি তাতে সওয়ার হলাম। আর তিনি আমাকে নিয়ে সাওয়ারী হাঁকিয়ে চললেন। সেনাদল ঠিক দুপুরে যখন বিশ্রাম করছিল, তখন আমরা সেনাদলে পৌছলাম। সে সময় যারা ধ্বংস হবার, তারা ধ্বংস হল। অপবাদ রটনায় যে নেতৃত্ব দিয়েছিল, সে হলো আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালুল। আমরা মদীনায় উপস্থিত হলাম এবং আমি এসেই একমাস অসুস্থতায় ভুগলাম। এদিকে কতিপয় ব্যক্তি অপবাদ রটনাকারীদের রটনা নিয়ে চর্চা করিতে থাকল। আমার অসুস্থতার সময় এ বিষয়টি আমাকে সন্দিহান করে তুলল যে, নাবী (সাঃআঃ)-এর পক্ষ হইতে সেই স্নেহ আমি অনুভব করছিলাম না, যা আমার অসুস্থার সময় সচরাচর আমি অনুভব করতাম। তিনি শুধু ঘরে প্রবেশ করে সালাম দিয়ে বলিতেন কেমন আছ? আমি সে বিষয়ের কিছুই জানতাম না। শেষ পর্যন্ত খুব দুর্বল হয়ে পড়লাম। (একরাতে) আমি ও উম্মু মিসতাহ প্রয়োজন সারার উদ্দেশে ময়দানে বের হলাম। আমরা রাতেই শুধু সেদিকে যেতাম। এ আমাদের ঘরগুলোর নিকটবর্তী স্থানে পায়খানা বানানোর আগের নিয়ম। জঙ্গলে কিংবা দুরবর্তী স্থানে প্রয়োজন সারার ব্যাপারে আমারদের অবস্থাটা প্রথম যুগের আবরদের মতোই ছিল। যাই হোক, আমি এবং উম্মু মিসতাহ বিনতে আবু রূহম হেঁটে চলছিলাম। ইত্যবসরে সে তার চাদরে পা জড়িয়ে হোঁচট খেল এবং বলিল, মিসতাহ এর জন্য দুর্ভোগ। আমি তাকে বললাম, তুমি খুব খারাপ কথা বলেছ। বদর যুদ্ধে শরীক হয়েছে, এমন এক ব্যক্তিকে তুমি অভিশাপ দিচ্ছ! সে বলিল, হে সরলমনা! যে সব কথা তারা উঠিয়েছে, তা কি তুমি শুনোনি? অতঃপর অপবাদ রটনাকারীদের সব রটনা সম্পর্কে সে আমাকে অবহিত করিল। তখন আমার রোগের উপর তীব্রতা বৃদ্ধি পেল। আমি ঘরে ফিরে আসার পর রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) আমার নিকট এসে জিজ্ঞেস করিলেন, কেমন আছ? আমি বললাম, আমাকে আমার পিতা-মাতার নিকট যাবার অনুমতি দিন। তিনি [আয়েশা (রাদি.)] বলেন, আমি তখন তাদের (পিতা-মাতার) নিকট হইতে এ সম্পর্কে নিশ্চিত হইতে চাচ্ছিলাম। রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) আমাকে অনুমতি দিলেন। আমি আমার পিতা-মাতার নিকট গেলাম। অতঃপর আমি মাকে বললাম, লোকেরা কী বলাবলি করে? তিনি বলিলেন, বেটি! ব্যাপারটাকে নিজের জন্য হালকাভাবেই গ্রহন কর। আল্লাহর শপথ! এমন সুন্দরী রমণী খুব কমই আছে যাকে তার স্বামী ভালোবাসে আর তার একাধিক সতীনও আছে; অথচ ওরা তাকে উত্যক্ত করে না। আমি বললাম, সুবহানাল্লাহ! লোকেরা সত্যি তবে এসব কথা রটিয়েছে? তিনি [আয়েশা (রাদি.)] বলেন, ভোর পর্যন্ত সে রাত আমার এমনভাবে কেটে গেল যে, চোখের পানি আমার বন্ধ হল না এবং ঘুমের একটু পরশও পেলাম না। এভাবে ভোর হল। পরে রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) ওয়াহীর বিলম্ব দেখে আপন স্ত্রীকে পরিত্যাগের ব্যাপারে ইবনু আবু তালিব ও উসামাহ ইবনু যায়দকে ডেকে পাঠালেন। যাই হোক, উসামাহ পরিবারের জন্য তাহাঁর [নাবী (সাঃআঃ) –এর] ভালোবাসার প্রতি লক্ষ্য করে পরামর্শ দিতে গিয়ে বলিলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহর কসম (তারঁ সম্পর্কে) ভালো ব্যতীত অন্য কিছু আমরা জানিনা, আর আলী ইবনু আবু তালিব (রাদি.) বলিলেন, হে আল্লাহর রাসুল! কিছুতেই আল্লাহ আপনার পথ সংকীর্ণ করেননি। তাঁকে ব্যতীত আরো অনেক নারী আছে। আপনি না হয় বাঁদীকে জিজ্ঞেস করুন সে আপনাকে সত্য কথা বলবে। রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) তখন (বাঁদী) বারীরাকে ডেকে জিজ্ঞেস করিলেন, হে বারীরা! তুমি কি তার মধ্যে সন্দেহজনক কিছু দেখিতে পেয়েছ? বারীরা বলিল, আপনাকে যিনি সত্যসহ পাঠিয়েছেন, তাহাঁর কসম করে বলছি, না, তেমন কিছুই দেখিনি, এই একটি অবস্থায়ই দেখেছি যে, তিনি অল্পবয়স্কা কিশোরী। আর তাই আটা খামির করিতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। সেই ফাঁকে বকরী এসে তা খেয়ে ফেলে। সে দিনই রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) ভাষন দিতে দাঁড়িয়ে আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালুলের ষড়যন্ত্র হইতে বাঁচার উপায় জিজ্ঞেস করিলেন। রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলিলেন, আমার পরিবারকে কেন্দ্র করে যে ব্যক্তি আমাকে জ্বালাতন করেছে, তার মুকাবিলায় কে প্রতিকার করিবে? আল্লাহর কসম, আমি তো আমার স্ত্রী সম্পর্কে ভালো ব্যতীত অন্য কিছু জানি না। আর এমন ব্যক্তিকে জড়িয়ে তারা কথা তুলেছে, যার সম্পর্কে ভালো ব্যতীত অন্য কিছু জানি না আর সে তো আমার সঙ্গে ব্যতীত আমার ঘরে কখনও প্রবেশ করত না। তখন সাদ [ইবনু মুআয (রাদি.)] দাঁড়িয়ে বলিলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহর কসম, আমি তার প্রতিকার করব। যদি সে আউস গোত্রের কেউ হয়ে থাকে, তাহলে তার গর্দান উড়িয়ে দিব; আর যদি সে আমাদের খায্‌রাজ গোত্রীয় ভাইদের কেউ হয়, তাহলে আপনি তার ব্যাপারে আমাদের নির্দেশ দিবেন, আমরা আপনার নির্দেশ পালন করব। খায্‌রাজ গোত্রপতি সাদ ইবনু উবাদাহ (রাদি.) তখন দাঁড়িয়ে গেলেন। এর পূর্বে তিনি উত্তম ব্যক্তিই ছিলেন। আসলে গোত্রপ্রীতি তাকে পেয়ে বসেছিল। তিনি বলিলেন, তুমি মিথ্যা বলছ। আল্লাহর কসম! তুমি তাকে হত্যা করিতে পারবে না, সে শক্তি তোমার নেই। তখনি উসায়িদ ইবনুল হুযাইর (রাদি.) দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বলিলেন, তুমিই মিথ্যা বলছ। আল্লাহর কসম! আমরা অবশ্যই তাকে হত্যা করে ছাড়ব। আসলে তুমি একজন মুনাফিক। তাই মুনাফিকদের পক্ষ হয়ে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়েছ। অতঃপর আউস ও খায্‌রাজ উভয় গোত্রই উত্তেজিত হয়ে উঠল। এমনকি রসলুল্লাহ (সাঃআঃ) মিম্বারে থাকা অবস্থায়ই তারা (লড়াইয়ে) উদ্যত হল। তখন তিনি নেমে তাদের চুপ করালেন। সবাই শান্ত হল আর তিনিও নীরবতা অবলম্বন করিলেন। আয়েশা (রাদি.) বলেন, সেদিন সারাক্ষন আমি কাঁদলাম, চোখের পানি আমার শুকাল না এবং ঘুমের সামান্য পরশও পেলাম না। আমার পিতা-মাতা আমার পাশে পাশেই থাকলেন। পুরো রাত দিন আমি কেঁদেই কাটালাম। আমার মনে হল, কান্না বুঝি আমার কলিজা বিদীর্ণ করে দিবে। তিনি [আয়েশা (রাদি.)] বলেন, তারা (পিতা-মাতা) উভয়ে আমার কাছেই উপবিষ্ট ছিলেন, আর আমি কাঁদছিলাম। ইতিমধ্যে এক আনসারী মহিলা ভিতরে আসার অনুমতি চাইল। আমি তাকে অনুমতি দিলাম। সেও আমার সঙ্গে বসে কাঁদতে শুরু করিল। আমরা এ অবস্থায় থাকতেই রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) প্রবেশ করে বসলেন, অথচ যেদিন হইতে আমার সম্পর্কে অপবাদ রটানো হয়েছে সেদিন হইতে তিনি আমার নিকট বসেননি। এর মধ্যে এক মাস কেটে গিয়েছিল। অথচ আমার সম্পর্কে তাহাঁর নিকট কোন ওয়াহী নাযিল হল না। তিনি [আয়েশা (রাদি.)] বলেন, অতঃপর হামদ ও সানা পাঠ করে তিনি বলিলেন, হে আয়েশা! তোমার সম্পর্কে এ ধরনের কথা আমার নিকট পৌছেছে। তুমি নির্দোষ হলে আল্লাহ অবশ্যই তোমার নির্দোষিতা ঘোষনা করবেন। আর যদি তুমি কোন গুনাহে জড়িয়ে গিয়ে থাক, তাহলে আল্লাহর নিকট তাওবা ও ইসতিগফার কর। কেননা, বান্দা নিজের পাপ স্বীকার করে তাওবা করলে আল্লাহ তাওবা কবুল করেন। তিনি যখন তাহাঁর বক্তব্য শেষ করিলেন, তখন আমার অশ্রু বন্ধ হয়ে গেল। এমনকি এক বিন্দু অশ্রুও আমি অনুভব করলাম না। আমার পিতাকে বললাম, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) -কে আমার পক্ষ হইতে জবাব দিন। তিনি বলিলেন, আল্লাহর কসম! আমি বুঝে উঠতে পারি না, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) -কে কি বলব? অতঃপর আমার মা-কে বললাম, আমার পক্ষ হইতে রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) –এর কথার জবাব দিন। তিনিও বলিলেন, আল্লাহর কসম! আমি বুঝে উঠতে পারি না, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) –কে কি বলব? আমি তখন অল্প বয়স্কা কিশোরী। কুরআনও খুব অধিক পড়িনি। তবুও আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমার জানতে বাকী নেই যে, লোকেরা যা রটাচ্ছে, তা আপনারা শুনতে পেয়েছেন এবং আপনাদের মনে তা বসে গেছে, ফলে আপনারা তা বিশ্বাস করে নিয়েছেন। এখন যদি আমি আপনাদের বলি যে, আমি নিষ্পাপ আর আল্লাহ জানেন, আমি অবশ্যই নিষ্পাপ, তবু আপনারা আমার সে কথা বিশ্বাস করবেন না। আর যদি আপনাদের নিকট কোন বিষয় আমি স্বীকার করি, অথচ আল্লাহ জানেন আমি নিষ্পাপ তাহলে অবশ্যই আপনারা আমাকে বিশ্বাস করে নিবেন। আল্লাহর কসম! ইউসুফ (আঃ)-এর পিতার ঘটনা ব্যতীত আমি আপনাদের জন্য কোন দৃষ্টান্ত খুঁজে পাচ্ছি না। যখন তিনি বলেছিলেন, পূর্ণ ধৈর্যধারণই আমার জন্য শ্রেয়। আর তোমরা যা বলছ সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহই আমার সাহায্যকারী। অতঃপর আমি আমার বিছানায় পার্শ্ব পরিবর্তন করে নিলাম। এটা আমি অবশ্যই আশা করছিলাম যে, আল্লাহ আমাকে নির্দোষ ঘোষনা করবেন। কিন্তু আল্লাহর কসম! এ আমি ভাবিনি যে, আমার ব্যাপারে কোন ওয়াহী নাযিল হইবে। কুরআনে আমার ব্যাপারে কোন কথা বলা হইবে, এ বিষয়ে আমি নিজেকে উপযুক্ত মনে করি না। তবে আশা করছিলাম যে, নিদ্রায় আল্লাহর রাসুল এমন কোন স্বপ্ন দেখবেন, যা আমাকে নির্দোষ প্রমান করিবে। কিন্তু আল্লাহর কসম! তিনি তাহাঁর আসন ছেড়ে তখনও উঠে যাননি এবং ঘরের কেউ বেরিয়েও যায়নি, এরই মধ্যে তাহাঁর উপর ওয়াহী নাযিল হওয়া শুরু হয়ে গেল এবং (ওয়াহী নাযিলের সময়) তিনি যে রকম কঠিন অবস্থার সম্মুখীন হইতেন, সে রকম অবস্থার সম্মুখীন হন। এমনকি সে মুহূর্তে শীতের দিনেও তার শরীর হইতে মুক্তার মত ফোঁটা ফোঁটা ঘাম ঝরে পড়ত। যখন রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) হইতে ওয়াহীর সে অবস্থা কেটে গেল, তখন তিনি হাসছিলেন। আর প্রথম যে বাক্যটি তিনি উচ্চারন করিলেন তা ছিল এই যে, আমাকে বলিলেন, হে আয়েশা! আল্লাহর প্রশংসা কর। কেননা, তিনি তোমাকে নির্দোষ ঘোষনা করিয়াছেন। আমার মাতা তখন আমাকে বলিলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর নিকট যাও। (কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর) আমি বললাম, না, আল্লাহর কসম! আমি তাহাঁর নিকট যাব না এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো প্রশংসাও করব না। আল্লাহ তাআলা এ আয়াত নাযিল করেন, —- যখন আমার সাফাই সম্পর্কে নাযিল হল তখন আবু বাকর সিদ্দীক (রাদি.) বলিলেন, আল্লাহর কসম! নিকটত্মীয়তার কারণে মিসতাহ ইবনু উসাসার জন্য তিনি যা খরচ করিতেন, আয়েশা সম্পর্কে এ ধরনের কথা বলার পর মিসতার জন্য আমি আর কখনও খরচ করব না। তখন আল্লাহ তাআলা এ আয়াত নাযিল করিলেন। —- “তোমাদের মধ্যে যারা নিয়ামতপ্রাপ্ত ও সচ্ছল, তারা যেন দান না করার কসম না করে —- আল্লাহ ক্ষমাশীল ও মেহেরবান।” তখন আবু বকর (রাদি.) বলিলেন, আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই চাই আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন। অতঃপর তিনি মিসতাহ-কে যা দিতেন, তা পুনরায় দিতে লাগলেন। রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) যায়নাব বিনতে জাহাশকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনি বলিলেন, হে যায়্‌নাব! তুমি কী জান? তুমি কী দেখেছ? তিনি বলিলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি আমার কান, আমি আমার চোখের হিফাজত করিতে চাই। আল্লাহর কসম! তার সম্পর্কে ভালো ব্যতীত অন্য কিছু আমি জানি না। আয়েশা (রাদি.) বলেন, অথচ তিনিই আমার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিতেন। কিন্তু পরহেযগারীর কারণে আল্লাহ তাহাঁর হিফাযত করিয়াছেন। আবু রাবী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) …… আয়েশা (রাদি.) ও আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাদি.) হইতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। ফুলাইহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) কাসিম ইবনু মুহাম্মদ ইবনু আবু বকর (রাদি.) হইতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।

৫২/১৬. অধ্যায়ঃ এক ব্যক্তি কারো নির্দোষিতার সাক্ষ্য দিলে তা-ই যথেষ্ট।

আবু জামীলাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আমি একটা ছেলে কুড়িয়ে পেলাম। উমার (রাদি.) আমাকে দেখে বলিলেন, ছেলেটির হয়ত অনিষ্ট হইতে পারে। মনে হয় তিনি আমাকে সন্দেহ করছিলেন। আমার এক পরিচিত ব্যক্তি বলিল, তিনি একজন সৎ ব্যক্তি। উমার (রাদি.) বলিলেন, এমনই হয়ে থাকে। নিয়ে যাও এবং এর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব আমার (বায়তুল মাল থেকে)।

২৬৬২

আবু বক্‌র (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ)-এর সামনে এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তির প্রশংসা করিল। তখন রাসুল (সাঃআঃ) বলিলেন, তোমার জন্য আফসোস! তুমি তো তোমার সাথীর গর্দান কেটে ফেললে, তুমি তো তোমার সাথীর গর্দান কেটে ফেললে। তিনি এ কথা কয়েকবার বলিলেন, অতঃপর তিনি বলিলেন, তোমাদের কেউ যদি তার ভাইয়ের প্রশংসা করিতেই চায় তাহলে তার বলা উচিত, অমুককে আমি এরূপ মনে করি, তবে আল্লাহই তার সম্পর্কে অধিক জানেন। আর আল্লাহর প্রতি সোর্পদ না করে আমি কারো সাফাই পেশ করি না। তার সম্পর্কে ভালো কিছু জানা থাকলে বলবে, আমি তাকে এরূপ এরূপ মনে করি।

৫২/১৭. অধ্যায়ঃ প্রশংসায় আতিশয্য অপছন্দনীয় যা জানা তাই বলিতে হইবে।

২৬৬৩

আবু মূসা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) এক ব্যক্তিকে অপর এক ব্যক্তির প্রশংসা করিতে শুনে বলিলেন, তোমরা তাকে ধ্বংস করে দিলে কিংবা (রাবীর সন্দেহ) বলেছেন, তোমরা লোকটির মেরুদন্ড ভেঙ্গে ফেললে।

৫২/১৮. অধ্যায়ঃ বাচ্চাদের বয়োপ্রাপ্তি ও তাদের সাক্ষ্যদান।

আল্লাহ তাআলার বানী : তোমাদের সন্তান-সন্ততি বয়ঃপ্রাপ্ত হলে তারাও যেন অনুমতি চায়-(সুরা আন্-নূর : ৫৯)। মুগীরাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, বারো বছর বয়সে আমি সাবালক হয়েছি। আর মেয়েরা সাবালেগা হয় হায়িয হলে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন : তোমাদের যে সব মেয়েরা ঋতুস্রাবের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গেছে — সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত- (সুরা আত্ তালাক : ৪)। হাসান ইবনু সালিহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আমাদের এক প্রতিবেশীকে একুশ বছর বয়সেই আমি নানী হইতে দেখেছি।

২৬৬৪

ইবনু উমার (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

উহুদ যুদ্ধের দিন রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর নিকট তাকে (ইবনু উমরকে) পেশ করিলেন, তখন তিনি চৌদ্দ বছরের বালক। (ইবনু উমার বলেন) তখন তিনি আমাকে (যুদ্ধে গমনের) অনুমতি দেননি। পরে খন্দকের যুদ্ধে তিনি আমাকে পেশ করিলেন এবং অনুমতি দিলেন। তখন আমি পনের বছরের যুবক। নাফি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আমি খলিফা উমার ইবনু আবদুল আযীযের নিকট গিয়ে এ হাদীস শুনালাম। তিনি বলিলেন, এটাই হচ্ছে প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্ত বয়সের সীমারেখা। অতঃপর তিনি তাহাঁর গর্ভনরদেরকে লিখিত নির্দেশ পাঠালেন যে, (সেনাবাহিনীতে) যাদের বয়স পনের হয়েছে তাদের জন্যে যেন ভাতা নির্দিষ্ট করেন।

২৬৬৫

আবু সাঈদ খুদরী (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেছেন, প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্কদের উপর জুমুআ দিবসের গোসল কর্তব্য।

৫২/১৯. অধ্যায়ঃ শপথ পাঠ করানোর পূর্বে বিচারক বাদীকে জিজ্ঞেস করিবে : তোমার কি কোন প্রমান আছে?

২৬৬৬

আবদুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের সম্পদ আত্মসাতের উদ্দেশে মিথ্যা শপথ করিবে, (কিয়ামতের দিন) সে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করিবে এমন অবস্থায় যে, আল্লাহ তার উপর অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হইবেন। রাবী বলেন, তখন আশআস ইবনু কায়স (রাদি.) বলেন, আল্লাহর কসম! এ বর্ণনা আমার ব্যাপারেই। একখন্ড জমি নিয়ে (এক) ইয়াহুদীর সঙ্গে আমার বিবাদ ছিল। সে আমাকে অস্বীকার করলে আমি তাকে নাবী (সাঃআঃ)-এর নিকট হাযির করলাম। রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) আমাকে বলিলেন, তোমার কি প্রমান আছে? আশআস (রাদি.) বলেন, আমি বললাম, না (কোন প্রমাণ নেই)। তখন তিনি (ইয়াহুদীকে ) বলিলেন, তুমি কসম কর। আশআস (রাদি.) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! তবে তো সে (মিথ্যা) কসম করে আমার সম্পদ আত্মসাৎ করে ফেলবে। আশআস (রাদি.) বলেন, তখন আল্লাহ তাআলা আয়াত নাযিল করেন : যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত ওয়াদা এবং নিজের শপথকে তুচছ মূল্যে বিক্রি করে …… (সুরা আল ইমরান : ৭৭)

২৬৬৭

আবদুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের সম্পদ আত্মসাতের উদ্দেশে মিথ্যা শপথ করিবে, (কিয়ামতের দিন) সে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করিবে এমন অবস্থায় যে, আল্লাহ তার উপর অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হইবেন। রাবী বলেন, তখন আশআস ইবনু কায়স (রাদি.) বলেন, আল্লাহর কসম! এ বর্ণনা আমার ব্যাপারেই। একখন্ড জমি নিয়ে (এক) ইয়াহুদীর সঙ্গে আমার বিবাদ ছিল। সে আমাকে অস্বীকার করলে আমি তাকে নাবী (সাঃআঃ)-এর নিকট হাযির করলাম। রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) আমাকে বলিলেন, তোমার কি প্রমান আছে? আশআস (রাদি.) বলেন, আমি বললাম, না (কোন প্রমাণ নেই)। তখন তিনি (ইয়াহুদীকে ) বলিলেন, তুমি কসম কর। আশআস (রাদি.) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! তবে তো সে (মিথ্যা) কসম করে আমার সম্পদ আত্মসাৎ করে ফেলবে। আশআস (রাদি.) বলেন, তখন আল্লাহ তাআলা আয়াত নাযিল করেন : যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত ওয়াদা এবং নিজের শপথকে তুচছ মূল্যে বিক্রি করে …… (সুরা আল ইমরান : ৭৭)

৫২/২০. অধ্যায়ঃ মালামাল ও শরীয়াত নির্ধারিত দন্ডের ক্ষেত্রে বিবাদীর শপথ করা।

নাবী (সাঃআঃ) বলেছেন, তোমাকে দুজন সাক্ষী পেশ করিতে হইবে কিংবা তার (বিবাদীর) কসম করিতে হইবে। কুতায়বা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, সুফইয়ান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ইবনু শুবরুমা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, আবু যিনাদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং বাদীর কসমের ব্যাপারে আমার সঙ্গে আলোচনা করিলেন। আমি তাকে বললাম, আল্লাহ তাআলা বলেছেন : সাক্ষীদের মধ্যে যাদের উপর তোমরা রাজী, তাদের মধ্যে দুজন পুরুষ সাক্ষী রাখবে, যদি পুরুষ না থাকে তবে একজন পুরুষ ও দুজন স্ত্রী লোক, স্ত্রীলোকদের মধ্যে একজন ভূল করলে তাদের অপরজন স্মরণ করিয়ে দেবে-(সুরা আল-বাকারাহ : ২৮২)। আমি বললাম একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য আর বাদীর কসম যথেষ্ট হলে এক মহিলা অপর মহিলাকে স্মরণ করিয়ে দেয়ার কী প্রয়োজন আছে? এই অপর মহিলাটির স্মরণ করাতে কী কাজ হইবে?

২৬৬৮

ইবনু আবু মুলায়কা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ইবনু আব্বাস (রাদি.) আমাকে লিখে জানিয়েছেন, নাবী (সাঃআঃ) ফায়সালা দিয়েছেন যে, বিবাদীকে কসম করিতে হইবে।

২৬৬৯

আবদুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যে এমন (মিথ্যা) কসম করে, যা দ্বারা মাল প্রাপ্ত হয়। সে (ক্বিয়ামাতের দিন) আল্লাহর সঙ্গে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করিবে যে, আল্লাহ তার উপর অসন্তুষ্ট, অতঃপর আল্লাহ তাআলা উক্ত বর্ণনার সমর্থনে আয়াত নাযিল করেন : যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত ওয়াদা এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করে …….. তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রনাদায়ক আযাব- (সুরা আল ইমরান : ৭৭)। অতঃপর আশআস ইবনু কায়স (রাদি.) আমাদের নিকট বেরিয়ে এসে জিজ্ঞেস করিলেন, আবু আবদুর রহমান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তোমাদের কী হাদীস শুনিয়েছেন? আমরা তাহাঁর বর্ণিত হাদীসটি তাঁকে শুনালাম। তিনি বলিলেন, তিনি (ইবনু মাসউদ) ঠিকই বলেছেন। আমার ব্যাপারেই আয়াতটি নাযিল হয়েছে। কিছু একটা নিয়ে আমার সঙ্গে এক ইয়াহূদী ব্যক্তির বিবাদ ছিল। আমরা উভয়ে নাবী (সাঃআঃ)-এর নিকট আমাদের বিবাদ উত্থাপন করলাম। তখন তিনি বলিলেন, তোমাকে দুজন সাক্ষী পেশ করিতে হইবে অথবা তাকে কসম করিতে হইবে। তখন আমি বললাম, তবে তো সে মিথ্যা কসম করিতে দ্বিধা করিবে না। তখন নাবী (সাঃআঃ) বলিলেন, কেউ যদি এমন কসম করে, যার দ্বারা মাল প্রাপ্ত হয় এবং সে যদি উক্ত ব্যাপারে মিথ্যাচারী হয়, তা হলে (কিয়ামতের দিন) সে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করিবে এমন অবস্থায় যে, আল্লাহ তার উপরে অসন্তুষ্ট থাকবেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা এ বর্ণনার সমর্থনে আয়াত নাযিল করেন। এ কথা বলে তিনি এ আয়াতটি তিলাওয়াত করিলেন।

২৬৭০

আবদুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যে এমন (মিথ্যা) কসম করে, যা দ্বারা মাল প্রাপ্ত হয়। সে (ক্বিয়ামাতের দিন) আল্লাহর সঙ্গে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করিবে যে, আল্লাহ তার উপর অসন্তুষ্ট, অতঃপর আল্লাহ তাআলা উক্ত বর্ণনার সমর্থনে আয়াত নাযিল করেন : যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত ওয়াদা এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করে …….. তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রনাদায়ক আযাব- (সুরা আল ইমরান : ৭৭)। অতঃপর আশআস ইবনু কায়স (রাদি.) আমাদের নিকট বেরিয়ে এসে জিজ্ঞেস করিলেন, আবু আবদুর রহমান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তোমাদের কী হাদীস শুনিয়েছেন? আমরা তাহাঁর বর্ণিত হাদীসটি তাঁকে শুনালাম। তিনি বলিলেন, তিনি (ইবনু মাসউদ) ঠিকই বলেছেন। আমার ব্যাপারেই আয়াতটি নাযিল হয়েছে। কিছু একটা নিয়ে আমার সঙ্গে এক ইয়াহূদী ব্যক্তির বিবাদ ছিল। আমরা উভয়ে নাবী (সাঃআঃ)-এর নিকট আমাদের বিবাদ উত্থাপন করলাম। তখন তিনি বলিলেন, তোমাকে দুজন সাক্ষী পেশ করিতে হইবে অথবা তাকে কসম করিতে হইবে। তখন আমি বললাম, তবে তো সে মিথ্যা কসম করিতে দ্বিধা করিবে না। তখন নাবী (সাঃআঃ) বলিলেন, কেউ যদি এমন কসম করে, যার দ্বারা মাল প্রাপ্ত হয় এবং সে যদি উক্ত ব্যাপারে মিথ্যাচারী হয়, তা হলে (কিয়ামতের দিন) সে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করিবে এমন অবস্থায় যে, আল্লাহ তার উপরে অসন্তুষ্ট থাকবেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা এ বর্ণনার সমর্থনে আয়াত নাযিল করেন। এ কথা বলে তিনি এ আয়াতটি তিলাওয়াত করিলেন।

৫২/২১. অধ্যায়ঃ কেউ কোন দাবী করলে কিংবা মিথ্যারোপ করলে তাকেই প্রমাণ দিতে হইবে এবং প্রমান সন্ধানে বেরোতে হইবে।

২৬৭১

ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

হিলাল ইবনু উমাইয়া নাবী (সাঃআঃ) এর নিকট তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে শারীক ইবনু সাহমা এর সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হবার অভিযোগ করলে নাবী (সাঃআঃ) বলিলেন, হয় তুমি প্রমান পেশ করিবে, নয় তোমার পিঠে দন্ড আপতিত হইবে। সে বলিল, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের কেউ কি আপন স্ত্রীর উপর অপর কোন পুরুষকে দেখে প্রমান সংগ্রহের জন্য ছুটে যাবে? কিন্তু নাবী (সাঃআঃ) একই কথা বলিতে থাকলেন, হয় প্রমান পেশ করিবে, নয় তোমার পিঠে বেত্রাঘাতের দন্ড আপতিত হইবে। তারপর তিনি লিআন …….. সংক্রান্ত হাদীস বর্ণনা করিলেন।

৫২/২২. অধ্যায়ঃ আসরের পর শপথ করা।

২৬৭২

আবু হুরাইরাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন, তিন শ্রেণীর লোকের সাথে ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ তাআলা কথা বলবেন না এবং (করুণার দৃষ্টিতে) তাদের প্রতি তাকাবেন না এবং তাদের পাপ মোচন করবেন না আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। প্রথম শ্রেণীর সে, যার নিকট অতিরিক্ত পানি রয়েছে রাস্তার পাশে, আর সে পানি হইতে মুসাফিরকে বঞ্চিত রাখে। আর এক ব্যক্তি সে, যে কারো আনুগত্যের বায়আত করে এবং একমাত্র দুনিয়ার গরযেই সে তা করে। ফলে চাহিদা মাফিক তাকে দিলে সে অনুগত থাকে, আর না দিলে অনুগত থাকে না। আর এক শ্রেণীর সে, যে আসরের পর কারো সঙ্গে পণ্য নিয়ে দাম দর করে এবং আল্লাহর নামে মিথ্যা হলফ করে বলে যে. সে ক্রয় করিতে এত মূল্য দিয়েছে আর তা শুনে ক্রেতা তা কিনে নেয়।

৫২/২৩. অধ্যায়ঃ যে জায়গায় বিবাদীকে শপথ করানো ওয়াজিব, তাকে সেখানেই শপথ করানো হইবে। একস্থান হইতে অন্যস্থানে নেয়া হইবে না।

মারওয়ান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) যায়দ ইবনু সাবিত (রাদি.) -কে মিম্বারে গিয়ে হলফ করার নির্দেশ দিলে তিনি বলিলেন, আমি আমার জায়গায় থেকেই হলফ করব। অতঃপর তিনি হলফ করিলেন কিন্তু মিম্বারে গিয়ে হলফ করিতে অস্বীকার করিলেন। মারওয়ান তার এ আচরণে বিস্ময়বোধ করিলেন। নাবী (সাঃআঃ) (বাদীকে) বলেছেন তোমাকে দুজন সাক্ষী পেশ করিতে হইবে। নতুবা বিবাদী হলফ করিবে। এক্ষেত্রে কোন জায়গা নির্ধারণ করা হয়নি।

২৬৭৩

ইবনু মাসউদ (রাদি.) সুত্রে নাবী (সাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যে ব্যক্তি সম্পদ আত্মসাৎ করার উদ্দেশে (মিথ্যা) কসম করিবে (ক্বিয়ামাতের দিন) সে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করিবে এমন অবস্থায় যে, আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত থাকবেন।

৫২/২৪. অধ্যায়ঃ আগে শপথ করা নিয়ে একদল লোকের প্রতিযোগিতা করা।

২৬৭৪

আবু হুরাইরাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

একদল লোককে নাবী (সাঃআঃ) হলফ করিতে বলিলেন। তখন (কে আগে হলফ করিবে এ নিয়ে) হুড়াহুড়ি শুরু করে দিল। তখন তিনি কে (আগে) হলফ করিবে, তা নির্ধারণের জন্য তাদের নামে লটারী করার নির্দেশ দিলেন।

৫২/২৫. অধ্যায়ঃ আল্লাহ তাআলার বাণী : যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত ওয়াদা এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে পরকালে তাদের কোন অংশ নাই। ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ তাদের সহিত কথা বলবেন না এবং তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন না; তাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রয়েছে। (সুরা আল ইমরান : ৭৭)

২৬৭৫

আবদুল্লাহ ইবনু আবু আওফা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি তার মালপত্র বাজারে আনল এবং হলফ করে বলিল যে, এগুলোর (খরিদ মূল্য) সে এত দিয়েছে, অথচ সে তত দেয়নি। তখন আয়াত নাযিল হল : যারা নগণ্য মূল্যের বিনিময়ে আল্লাহর সঙ্গে কৃত ওয়াদা এবং নিজের শপথ বিক্রি করে ……। ইবনু আবু আওফা (রাদি.) বলেন, (দাম বৃদ্ধির মতলবে) যে ধোঁকা দেয়, সে মূলত : সুদখোর ও খিয়ানতকারী।

২৬৭৬

আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাদি.) নাবী (সাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি (সাঃআঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি কারো অথবা তার ভাইয়ের অর্থ আত্মসাতের মতলবে মিথ্যা হলফ করিবে, সে (ক্বিয়ামাতে) মহান আল্লাহর দেখা পাবে এমন অবস্থায় যে, তিনি তার উপর অত্যন্ত রাগান্বিত থাকবেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা হাদীসের সমর্থনে কুরআনে এই আয়াত নাযিল করিলেন : যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত ওয়াদা এবং নিজেদের শপথ তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করে, আখিরাতে তাদের কোন অংশ নেই। আর আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না এবং তাদের প্রতি (করুণা ভরে) তাকাবেন না এবং তাদেরকে বিশুদ্ধও করবেননা। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব- (সুরা আল-ইমরান : ৭৭) ৷ পরে আশআস (রাদি.) আমার সঙ্গে দেখা করে জ্বিজ্ঞেস করিলেন, আবদুল্লাহ (রাদি.) আজ তোমাদের কী হাদীস শুনিয়েছেন? আমি বললাম, এই এই (হাদীস)। তিনি বলিলেন, আমার ব্যাপারেই- আয়াতটি নাযিল হয়েছে।

২৬৭৭

আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাদি.) নাবী (সাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি (সাঃআঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি কারো অথবা তার ভাইয়ের অর্থ আত্মসাতের মতলবে মিথ্যা হলফ করিবে, সে (ক্বিয়ামাতে) মহান আল্লাহর দেখা পাবে এমন অবস্থায় যে, তিনি তার উপর অত্যন্ত রাগান্বিত থাকবেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা হাদীসের সমর্থনে কুরআনে এই আয়াত নাযিল করিলেন : যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত ওয়াদা এবং নিজেদের শপথ তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করে, আখিরাতে তাদের কোন অংশ নেই। আর আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না এবং তাদের প্রতি (করুণা ভরে) তাকাবেন না এবং তাদেরকে বিশুদ্ধও করবেননা। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব- (সুরা আল-ইমরান : ৭৭) ৷ পরে আশআস (রাদি.) আমার সঙ্গে দেখা করে জ্বিজ্ঞেস করিলেন, আবদুল্লাহ (রাদি.) আজ তোমাদের কী হাদীস শুনিয়েছেন? আমি বললাম, এই এই (হাদীস)। তিনি বলিলেন, আমার ব্যাপারেই- আয়াতটি নাযিল হয়েছে।

৫২/২৬. অধ্যায়ঃ কেমনভাবে শপথ করানো হইবে?

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা আল্লাহর নামে কসম করে বলবে” অতঃপর তারা আপনার নিকট এসে আল্লাহর নামে শপথ করে বলবে আমরা কল্যাণ এবং সম্প্রীতি ব্যতীত অন্য কিছুই চাই না- (সুরা আন-নিসা : ৬২) । তারা আল্লাহর নামে শপথ করে যে, তারা তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত- (সুরা আত-তাওবাহ : ৫৬)। তারা তোমাদেরকে সন্তুষ্ট করার জন্য তোমাদের নিকট আল্লাহর শপথ করে- (সুরা আত-তাওবাহ : ৬২)।

তারা উভয়ে আল্লাহর নামে শপথ করে বলবে, আমাদের সাক্ষ্য অবশ্যই তাদের সাক্ষ্য হইতে অধিকতর সত্য- (সুরা আল-মায়িদাহ : ১০৭)। কসম করার জন্য ব্যবহৃত হয় বিল্লাহি, তাল্লাহি, ওয়াল্লাহি। নাবী (সাঃআঃ) বলেন, আর যে ব্যক্তি আসরের পর আল্লাহর নামে মিথ্যা শপথ করে। আল্লাহ ব্যতীত আর কারো নামে শপথ করা যাবে না ।

২৬৭৮

ত্বলহা ইবনু উবায়দুল্লাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একলোক রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর নিকট এসে তাঁকে ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিতে লাগল। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলিলেন, দিনে-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সলাত। সে বলিল, আমার উপর আরও কিছু ওয়াজিব আছে? তিনি বলিলেন, না, নেই ৷ তবে নফল হিসাবে পড়তে পার। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলিলেন, আর রমাযান মাসের সিয়াম। সে জিজ্ঞেস করিল, আমার উপর এ ছাড়া আরও কিছু ওয়াজিব আছে? তিনি বলিলেন, না, নেই৷ তবে নফল হিসাবে পালন করিতে পার। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) তাকে যাকাতের কথা বলিলেন; সে জানতে চাইল, আমার উপর এছাড়া আরও কিছু ওয়াজিব আছে? তিনি বলিলেন, না, নেই। তবে নফল হিসাবে করিতে পার। অতঃপর সে ব্যক্তিটি এই বলে প্রস্থান করিল, আল্লাহর কসম! এতে আমি কোন কম-বেশী করব না। রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলিলেন, সত্য বলে থাকলে সে সফল হয়ে গেল।

২৬৭৯

আবদুল্লাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেছেন, কারও হলফ করিতে হলে সে যেন আল্লাহর নামেই হলফ করে, নতুবা চুপ করে থাকে।

৫২/২৭. অধ্যায়ঃ শপথ করার পর বাদী সাক্ষী হাযির করলে।

নাবী (সাঃআঃ) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ হয়ত প্রমাণ উপস্থিত করার ব্যাপারে অপরের চেয়ে অধিক বাকপটু। তাউস, ইবরাহীম ও শুরাইহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, মিথ্যা হলফের চেয়ে সত্য সাক্ষ্য অগ্রাধিকারযোগ্য।

২৬৮০

উম্মু সালামাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন, তোমরা আমার নিকট মামলা-মোকদ্দমা নিয়ে আস। আর তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ হয়ত প্রতিপক্ষের তুলনায় প্রমাণ সাক্ষী পেশ করার ব্যাপারে অধিক বাকপটু। তবে জেনে রেখ, বাকপটুতার কারণে যার পক্ষে আমি তার ভাইয়ের প্রাপ্য হক ফায়সালা করে দেই, তার জন্য আসলে আমি জাহান্নামের অংশ নির্ধারণ করে দেই। কাজেই, সে যেন তা গ্রহণ না করে।

৫২/২৮. অধ্যায়ঃ যিনি অঙ্গীকার পূর্ণ করার নির্দেশ দান করিয়াছেন।

হাসান বসরী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এরূপ করিয়াছেন। আল্লাহ তাআলা ইসমাঈল (আঃ)-এর উল্লেখ করে ইরশাদ করিয়াছেন যে, তিনি ওয়াদা পূরণে একনিষ্ঠ ছিলেন। (কূফার কাযী) ইবনু আশওয়া (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ওয়াদা পূরণের রায় ঘোষণা করিয়াছেন। সামূরাহ ইবনু জুনদুব (রাদি.) থেকেও এরূপ বর্ণিত আছে। মিসওয়ার ইবনু মাখরামা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন, নাবী (সাঃআঃ) –কে তাহাঁর এক জামাতা সম্পর্কে বলিতে শুনিয়াছি, “সে আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রক্ষা করেছে।” আবু আবদূল্লাহ (ইমাম বুখারী) (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, ইসহাক ইবনু ইবরাহীমকে আমি ইবনু আশওয়া (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর হাদীস প্রমাণরূপে পেশ করিতে দেখেছি।

২৬৮১

আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আবু সুফইয়ান (রাদি.) আমাকে খবর দিয়েছেন যে, হিরাক্লিয়াস তাকে বলেছিলেন, তোমাকে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি [নাবী (সাঃআঃ)] তোমাদের কী কী আদেশ করেন? তুমি বললে যে, তিনি তোমাদেরকে সলাতের, সত্যবাদিতার, পবিত্রতার, ওয়াদা পূরণের ও আমানত আদায়ের আদেশ দেন। হিরাক্লিয়াস বলিলেন, এটাই নাবীগণের সিফাত।

২৬৮২

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন, মুনাফিকের আলামত তিনটি- বলিতে গেলে মিথ্যা বলে, আমানত রাখলে খিয়ানত করে, আর ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে।

২৬৮৩

জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ)-এর ওফাতের পর আবু বকর (রাদি.)-এর নিকট [রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর নিযুক্ত বাহরাইনের শাসক] আলা ইবনু হাযরামীর পক্ষ হইতে মালপত্র এসে পৌছল। তখন আবু বকর (রাদি.) ঘোষণা করিলেন, নাবী (সাঃআঃ)-এর নিকট কারো কোন ঋণ থাকলে কিংবা তাহাঁর পক্ষ হইতে কোন ওয়াদা থাকলে সে যেন আমাদের নিকট এসে তা নিয়ে যায়। জাবির (রাদি.) বলেন, আমি বললাম, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) আমাকে এমন এমন এবং এমন দান করার ওয়াদা করেছিলেন। জাবির (রাদি.) তার দুহাত তিনবার ছড়িয়ে দেখালেন। জাবির (রাদি.) বলেন, তখন তিনি [আবু বক্‌র] (রাদি.) আমার দুহাতে গুনে গুনে পাঁচশ দিলেন, আবার পাঁচশ দিলেন, আবার পাচঁশ দিলেন।

২৬৮৪

সাঈদ ইবনু জুবায়র (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক ইয়াহূদী আমাকে প্রশ্ন করিল, দুই মুদ্দতের কোনটি মূসা (আঃ) পূর্ণ করেছিলেন? আমি বললাম, আরবের কোন জ্ঞানীর নিকট গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস না করে আমি বলিতে পারব না। পরে ইবনু আব্বাসের নিকট এসে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলিলেন, মূসা (আঃ) অধিকতর ও উত্তম সময় সীমাই পূর্ণ করেছিলেন। আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) যা বলেন, তা করেন।

৫২/২৯. অধ্যায়ঃ সাক্ষী ইত্যাদির ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হইবে না ।

ইমাম শাবী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, এক ধর্মাবলম্বীর সাক্ষ্য অন্য ধর্মাবলম্বীর বিরুদ্ধে গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তাই আমি তাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ জাগরুক করেছি- (সুরা আল-মায়িদাহ : ১৪)। আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেন, তোমরা আহলে কিতাবদের সত্যবাদীও মনে কর না আবার মিথ্যাচারীও মনে কর না। আল্লাহ তাআলার বাণী : বরং তোমরা বলবে, আমরা আল্লাহইতে ঈমান রাখি এবং যা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। (সুরা আল-বাকারাহ : ৩৬)।

২৬৮৫

আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, হে মুসলিম সমাজ! কী করে তোমরা আহলে কিতাবদের নিকট জিজ্ঞেস কর? অথচ আল্লাহ তাহাঁর নাবীর উপর যে কিতাব অবতীর্ণ করিয়াছেন, তা আল্লাহর সম্পর্কিত নবতর তথ্য সম্বলিত, যা তোমরা তিলাওয়াত করছ এবং যার মধ্যে মিথ্যার কোন সংমিশ্রণ নেই। তদুপরি আল্লাহ তোমাদের জানিয়ে দিয়েছেন যে, আহলে কিতাবরা আল্লাহ যা লিখে দিয়েছিলেন, তা পরিবর্তন করে ফেলেছে এবং নিজ হাতে সেই কিতাবের বিকৃতিসাধন করে তা দিয়ে তুচ্ছ মূল্যের উদ্দেশে প্রচার করেছে যে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকেই অবতীর্ণ ৷ তোমাদেরকে প্রদত্ত মহাজ্ঞান কি তাদের নিকট জিজ্ঞেস করা থেকে তোমাদের বাধা দিয়ে রাখতে পারে না? আল্লাহর কসম! তাদের একজনকেও আমি কখনো তোমাদের উপর যা নাযিল হয়েছে সে বিষয়ে তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করিতে দেখিনি।

৫২/৩০. অধ্যায়ঃ জটিল ব্যাপারে কুরআর মাধ্যমে ফয়সালা করা।

মহান আল্লাহর বাণী : যখন তারা তাদের কলম নিক্ষেপ করছিল মার‍য়ামের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব তাদের মধ্যে কে গ্রহণ করিবে? (সুরা আনআম : ৪৪ ) ইবনু আব্বাস (রাদি.) বলেন, তারা (কলম নিক্ষেপের মাধ্যমে) কুরআর ব্যবস্থা করিল, তখন তাদের সবার কলম স্রোতের সঙ্গে ভেসে গেল। শুধু যাকারিয়ার কলম স্রোতের মুখেও ভেসে রইল। তাই তাকে যাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে রেখে দিলেন। [ইউনুস (আঃ) সম্পর্কে] আল্লাহ তাআলার বাণীঃ — এর অর্থ — কুরআ নিক্ষেপ করিল। (—) — অতঃপর তিনি পরাভূত হলেন- (সুরা আস্‌-সফফাত : ১৪১)। আবু হুরাইরাহ (রাদি.) বলেন, নাবী (সাঃআঃ) একদল লোককে হলফ করার নির্দেশ দিলেন ৷ তারা কে আগে হলফ করিবে তাই নিয়ে হুড়াহুড়ি শুরু করিল। তখন কুরআর মাধ্যমে কে হলফ করিবে তা নির্ধারণের নির্দেশ দিলেন ।

২৬৮৬

নুমান ইবনু বশীর (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) বলেছেন, আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখার ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শনকারী এবং তা লঙ্ঘনকারীর উপমা হল সেই যাত্রীদল, যারা কুরআর মাধ্যমে এক নৌযানে নিজেদের স্থান নির্ধারণ করে নিল। ফলে কারো স্থান হল এর নীচতলায় আর কারও হল উপর তলায়। যারা নীচতলায় ছিল তারা পানি নিয়ে উপর তলার লোকদের নিকট দিয়ে আসত। এতে তারা বিরক্তি প্রকাশ করিল। তখন এক লোক কুড়াল নিয়ে নৌযানের নীচের অংশ ফুটো করিতে লেগে গেল। এ দেখে উপর তলার লোকজন তাকে এসে জিজ্ঞেস করিল তোমার হয়েছে কী? সে বলিল, আমাদের কারণে তোমারা কষ্ট পেয়েছ। অথচ আমারও পানির প্রয়োজন আছে। এ মুহূর্তে তারা যদি এর দুহাত চেপে ধরে তাহলে তাকে যেমন রক্ষা করা হল তেমনি নিজেদেরও রক্ষা হল। আর যদি তাকে ছেড়ে দেয় তবে তাকে ধ্বংস করা হল এবং নিজেদেরও ধ্বংস করা হল।

২৬৮৭

উম্মুল আলা (রাদি.) নাম্নী একজন আনসারী মহিলা যিনি নাবী (সাঃআঃ)-এর কাছে বায়আত হয়েছিলেন হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, মুহাজিরদের বাসস্থান দানের জন্য আনসারগণ যখন কুরআ নিক্ষেপ করিলেন, তখন তাদের ভাগে উসমান ইবনু মাযউনের জন্য বাসস্থান দান নির্ধারিত হল। উম্মুল আলা (রাদি.) বলেন, সেই হইতে উসমান ইবনু মাযউন (রাদি.) আমাদের এখানে বসবাস করিতে থাকেন। অতঃপর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা তার সেবা-শুশ্রূষা করলাম। পরে তিনি যখন মারা গেলেন এবং আমরা তাকে কাফন পরালাম, তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) আমাদের এখানে আসলেন। আমি (উসমান ইবনু মাযউনকে লক্ষ্য করে) বললাম, হে আবু সায়িব! তোমার প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। তোমার সম্পর্কে আমার সাক্ষ্য এই যে, আল্লাহ তোমাকে অবশ্যই মর্যাদা দান করিয়াছেন। নাবী (সাঃআঃ) তাকে বলিলেন, তোমাকে কে জানাল যে, আল্লাহ তাকে মর্যাদা দান করিয়াছেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক l আমি জানি না। রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলিলেন, আল্লাহর কসম! উসমানের নিকট তো মৃত্যু এসে গেছে, আমি তো তার জন্য কল্যাণের আশা করি। আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহর রাসুল হওয়া সত্ত্বেও জানি না তার সঙ্গে কী আচরণ করা হইবে। তিনি [উম্মুল আলা (রাদি.)] বলেন, আল্লাহর কসম! এ কথার পরে কখনো আমি কাউকে পূত-পবিত্র বর্ণনা করি না। সে কথা আমাকে চিন্তায় ফেলে দিল। তিনি বলেন, পরে আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, উসমান (রাদি.)-এর জন্য একটা ঝর্ণা প্রবাহিত হচ্ছে। অতঃপর আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর নিকট এসে সে খবর জানালাম। তিনি বলেন, সেটা হচ্ছে তার নেক আমল।

২৬৮৮

আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) সফরের ইচ্ছা পোষণ করলে তাহাঁর স্ত্রীদের মাঝে কুরআ নিক্ষেপ করিতেন। যার নাম বের হত তাকে সঙ্গে নিয়েই তিনি সফরে বের হইতেন। আর তিনি স্ত্রীদের প্রত্যেকের জন্যই দিন রাত বণ্টন করিতেন। তবে সাওদা বিনতে যামআহ (রাদি.) তাহাঁর অংশের দিন রাত নাবী (সাঃআঃ)-এর স্ত্রী আয়েশা (রাদি.) -কে দান করে দিলেন। তিনি রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তা করেছিলেন।

২৬৮৯

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন, আযান ও প্রথম কাতারের মর্যাদা মানুষ যদি জানত আর কুরআ নিক্ষেপ ব্যতীত সে সুযোগ তারা না পেত, তাহলে কুরআ নিক্ষেপ করত, তেমনি আগে ভাগে জামাআতে শরীক হবার মর্যাদা যদি তারা জানত তাহলে তারা সেদিকে ছুটে যেত। তেমনি ঈশা ও ফাজরের জামাআতে হাযির হবার মর্যাদা যদি তারা জানত তাহলে হামাগুরি দিয়ে হলেও তারা তাতে হাযির হত।

By ইমাম বুখারী

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply