সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার ও রাতে সকাল সন্ধ্যার দোয়া

সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার ও রাতে সকাল সন্ধ্যার দোয়া

সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার ও রাতে সকাল সন্ধ্যার দোয়া >> সুনান তিরমিজি শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায়ঃ ৪৫, অনুচ্ছেদঃ (১৩-৩৩)=২১টি

অনুচ্ছেদ-১৩ঃ সকাল-সন্ধ্যায় পাঠ করার দুয়া
অনুচ্ছেদ-১৪ঃ [সকালে, সন্ধ্যায় ও শয্যা গ্রহণকালের দুয়া]
অনুচ্ছেদ-১৫ঃ [সাইয়্যিদুল ইসতিগফার]
অনুচ্ছেদ-১৬ঃ বিছানাগত হওয়ার সময়কার দুয়া
অনুচ্ছেদ-১৭ঃ [বিছানাগত হয়ে পড়ার দুয়া]
অনুচ্ছেদ-১৮ঃ বিছানাগত হয়ে পড়ার দুয়া
অনুচ্ছেদ-১৯ঃ [ঋণমুক্ত হওয়ার দুয়া]
অনুচ্ছেদ-২০ঃ [ঘুমাবার পূর্বে করণীয়]
অনুচ্ছেদ-২১ঃ যে লোক শয়নকালে কুরআনের কিছু অংশ পাঠ করে
অনুচ্ছেদ-২২ঃ অনুরূপ প্রসঙ্গ
অনুচ্ছেদ-২৩ঃ কাজে অবিচল থাকার প্রার্থনা
অনুচ্ছেদ-২৪ঃ শোয়ার সময় তাসবীহ, তাকবীর ও তাহমীদ পাঠ করা প্রসঙ্গে
অনুচ্ছেদ-২৫ঃ [দুটি অভ্যাস জান্নাতে যাবার উপায়]
অনুচ্ছেদ-২৬ঃ রাতে ঘুম ভাঙ্গার সময় পাঠ করার দুয়া
অনুচ্ছেদ-২৭ঃ [রাত্রিকালে রাসূল [সাঃআঃ]-এর আমাল]
অনুচ্ছেদ-২৮ঃ [শয়ন করার দুয়া]
অনুচ্ছেদ-২৯ঃ রাতে [তাহাজ্জুদের] নামাজ আদায় করিতে উঠে যে দুয়া পাঠ করিবে
অনুচ্ছেদ-৩০ঃ রাতে নামাজ শেষে পাঠ করার দুয়া
অনুচ্ছেদ-৩১ঃ রাতের তাহাজ্জুদ নামাজ আরম্ভ করার দুয়া
অনুচ্ছেদ-৩২ঃ [রাতের নামাযের বিশেষ দুয়া]
অনুচ্ছেদ-৩৩ঃ কুরআনের সাজদাহর আয়াত তিলাওয়াতের পর সাজদাহইতে যা বলিতে হইবে

অনুচ্ছেদ-১৩ঃ সকাল-সন্ধ্যায় পাঠ করার দুয়া

৩৩৮৮ঃ উসমান ইবনি আফ্‌ফান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন ঃ প্রতিদিন ভোরে ও প্রতি রাতের সন্ধ্যায় যে কোন বান্দা এ দুয়াটি তিনবার পাঠ করিবে কোন কিছুই তার অনিষ্ট করিতে পারবে না ঃ

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ‏ 

“বিসমিল্লা-হিল্লাযী লা ইয়াযুর্‌রু মাআস্‌মিহি শাইয়ূন ফিল আরযি, ওয়ালা ফিস্‌ সামায়ি ওয়া হুয়াস্‌ সামীউল আলীম”।

[অর্থ ঃ “আল্লাহ তাআলার নামে” যাঁর নামের বারাকাতে আকাশ ও মাটির কোন কিছুই কোন অনিষ্ট করিতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।”]

বান [রঃ]-এর শরীরের একাংশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে। [উক্ত হাদীস রিওয়ায়াতকালে] এক লোক [অধঃস্তন বর্ণনাকারী] তার দিকে তাকাতে থাকলে তিনি তাকে বলেন, তুমি কি প্রত্যক্ষ করছো? শোন! আমি তোমার কাছে যে হাদীস রিওয়ায়াত করেছি তা অবিকল বর্ণনা করেছি। তবে আমি যেদিন পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়েছি ঐ দুয়াটি পাঠ করিনি এবং আল্লাহ তাআলা ভাগ্যের লিখন আমার উপর কার্যকর করিয়াছেন।

হাসান সহীহ ঃ ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[হাঃ ৩৮৬৯]। আবু ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান, সহীহ গারীব। এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান সহীহ

৩৩৮৯ঃ সাওবান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সন্ধায় উপনীত হয়ে বলে,

حِينَ يُمْسِي رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ أَنْ يُرْضِيَهُ

আল্লাহ তাআলা আমার রব, ইসলাম আমার দ্বীন এবং রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমার রাসূল হওয়ায় আমি সর্বান্তকরণে পরিতৃপ্ত আছি,

তাকে পরিতৃপ্ত করা আল্লাহ তাআলার করণীয় হয়ে যায়।

যঈফ, নাকদুল কিত্তানী [৩৩/৩৪] আল-কালিমুত-তায়্যিব [২৪], যঈফা [৫০২০], আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান এবং উপরক্ত সূত্রে গারীব। এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৩৩৯০ঃ আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে নাবী [সাঃআঃ] বলিতেন ঃ

“আমরা রাতে উপনীত হলাম এবং আল্লাহ তাআলার বিশ্বজাহানও রাতে উপনীত হল। সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য, আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তাহাঁর কোন শারীক নেই”।

বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা হয় তিনি আরো বলেছেনঃ

 أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ أُرَاهُ قَالَ فِيهَا لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ أَسْأَلُكَ خَيْرَ مَا فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَخَيْرَ مَا بَعْدَهَا وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَشَرِّ مَا بَعْدَهَا وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَسُوءِ الْكِبَرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ النَّارِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ

আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল আজরি ওয়াল কাসালি, ওয়াল হারামি, ওয়াল ওয়া আউজুবিকা মিনাল আজাবিল কাবরি, ওয়া আউজুবিকা মিন ফিতনাতিল মাহইয়া, ওয়াল মামাতি

“রাজত্ব তাহাঁরই এবং সকল প্রশংসাও তাহাঁরই। সর্ববিষয়ে তিনি সর্বশক্তিমান। [হে আল্লাহ] তোমার নিকট আমি এ রাতের মাঝে নিহিত মঙ্গল এবং এ রাতের পরে নিহিত মঙ্গল কামনা করি। আর আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাইছি এ রাতের অমঙ্গল এবং এ রাতের পরে সমস্ত অমঙ্গল হইতে। তোমার কাছে আমি আশ্রয় চাই অলসতা ও বার্ধক্যের অনিষ্ট হইতে। আমি তোমার কাছে আরো আশ্রয় চাই [জাহান্নামের] আগুনের আযাব ও কবরের শাস্তি হইতে।”

তিনি ভোরে উপনীত হয়েও একই দুয়া করিতেন ঃ

أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ الْمُلْكُ لِلَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ

আসবাহনা ওয়া আসবাহাল মুল্কু লিল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি

“আমরা ভোরে উপনীত হলাম এবং আল্লাহ তাআলার বিশ্বজাহানও ভোরে উপনীত হল। সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য……।

সহীহ ঃ মুসলিম [হাঃ ৮/৮২]। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৩৯১ঃ আবু হুরাইরাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর সাহাবীদেরকে শিক্ষা দিয়ে বলিতেন ঃ তোমাদের কেউ যখন ভোরে উপনীত হয় তখন সে যেন বলে,

اللَّهُمَّ بِكَ أَصْبَحْنَا وَبِكَ أَمْسَيْنَا وَبِكَ نَحْيَا وَبِكَ نَمُوتُ وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ

(আল্লাহুম্মা বিকা আসবাহনা ওয়া বিকা আমসাইনা ওয়া বিকা নাহইয়া ওয়া বিকা নামুতু ওয়া ইলাইকাল মাসির)

“হে আল্লাহ! তোমার হুকুমে আমরা ভোরে উপনীত হই এবং তোমার নির্দেশেই সন্ধ্যায় উপনীত হই। তোমার নির্দেশেই আমরা জীবন ধারণ করি এবং তোমার নির্দেশেই মারা যাই। তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল।”

আর যখন সন্ধ্যায় উপনীত হয় তখন যেন বলে ঃ

اللَّهُمَّ بِكَ أَمْسَيْنَا وَبِكَ أَصْبَحْنَا وَبِكَ نَحْيَا وَبِكَ نَمُوتُ وَإِلَيْكَ النُّشُورُ

(আল্লাহুম্মা বিকা আমসাইনা ওয়া বিকা আসবাহনা ওয়া বিকা নাহইয়া ওয়া বিকা নামুতু ওয়া ইলাইহিন নুশুর)

“হে আল্লাহ! আমরা তোমার হুকুমেই সন্ধ্যায় উপনীত হই, তোমার নির্দেশেই সকালে উপনীত হই, তোমার নির্দেশেই জীবন ধারণ করি এবং তোমার নির্দেশেই মারা যাই। আবার তোমার কাছেই পুনরায় জীবিত হয়ে ফিরে যেতে হইবে”।

সহীহ ঃ ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[হাঃ ৩৮৬৮]। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

অনুচ্ছেদ-১৪ঃ [সকালে, সন্ধ্যায় ও শয্যা গ্রহণকালের দুয়া]

৩৩৯২ঃ আবু হুরাইরাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবু বকর [রাদি.] বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন কিছুর হুকুম দিন যা আমি সকালে ও বিকেলে উপনীত হয়ে বলিতে পারি। তিনি বললেনঃ তুমি বল,

اللَّهُمَّ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكَهُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ

(আল্লাহহুম্মা আলিমাল গাইবি ওয়াসসাহাদাতি ফাতিরাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি রব্বা কুল্লি সাইয়িন ওয়া মালিকাহু আসহাদু আন্না লা ইলাহা ইল্লা আন্তা আউজু বিকা ইল্লা আন্তা আউজু বিকা মিন সাররি নাফসি ওয়া মিন সাররি সাইতানি ওয়া সিরকিহি)

“হে আল্লাহ্‌! অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাত, আকাশ ও যামীনের সৃষ্টিকর্তা, প্রতিটি জিনিসের প্রতিপালক ও মালিক, আমি সাক্ষ্য দেই যে, তুমি ছাড়া কোন মাবূদ নেই। আমি আমার শরীরের ক্ষতি হইতে এবং শাইতানের ক্ষতি ও শির্‌কি কার্যকালাপ হইতে তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি।”

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তুমি এই দুয়া সকালে, বিকেলে ও শয্যা গ্রহণকালে পাঠ করিবে।

সহীহ ঃ আল-কালিমুত্‌ তাইয়্যিব [হাঃ ২২], সহীহাহ্‌ [হাঃ ২৭৫৩]। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

অনুচ্ছেদ-১৫ঃ [সাইয়্যিদুল ইসতিগফার]

৩৩৯৩ঃ শাদ্দাদ ইবনি আওস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] তাকে বলেছেনঃ তোমাকে সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার [ক্ষমা প্রার্থনার সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ দুয়া] আমি কি বলে দিব না? তা হল ঃ

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ وَأَبُوءُ إِلَيْكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَىَّ وَأَعْتَرِفُ بِذُنُوبِي فَاغْفِرْ لِي ذُنُوبِي إِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ ‏.‏ لاَ يَقُولُهَا أَحَدُكُمْ حِينَ يُمْسِي فَيَأْتِي عَلَيْهِ قَدَرٌ قَبْلَ أَنْ يُصْبِحَ إِلاَّ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ وَلاَ يَقُولُهَا حِينَ يُصْبِحُ فَيَأْتِي عَلَيْهِ قَدَرٌ قَبْلَ أَنْ يُمْسِيَ إِلاَّ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ

( আল্লাহহুম্মা আন্তা রব্বি লা ইলাহা ইল্লা আন্তা খলাকতানি ওয়া আনা আব্দুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়া দিকা মাস তাতা’তু আউজু বিকা মিন সাররি মা সানা’তু ওয়া আবুউ ইলাইকা বিনি’মাতিকা আলাইইয়া ওয়া আ’তারিফু বিজুনুওবি ফাগফির লি জুনুওবি ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আন্তা )

“হে আল্লাহ! তুমিই আমার প্রভু, তুমি ছাড়া আর কোন ইলাহ্‌ নেই। আমাকে তুমিই সৃষ্টি করেছ এবং আমি তোমার দাস। যথাসাধ্য তোমার ওয়াদা ও অঙ্গীকারে আমি দৃঢ় থাকব। আমি আমার কার্যকলাপের খারাপ পরিণতি হইতে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। আমার প্রতি তোমার নিআমাতের কথা স্বীকার করি। আমি আরও স্বীকার করি আমার গুনাহে্‌র কথা। কাজেই আমার গুনাহগুলো তুমি ক্ষমা কর। কেননা তুমি ছাড়া গুনাহ্‌সমূহ ক্ষমা করার আর কেউ নেই।”

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ তোমাদের কেউ সন্ধ্যাবেলায় এ কথাগুলো বললে, তারপর ভোর হওয়ার পূর্বেই তার মৃত্যু হলে তার জন্য জান্নাত নিশ্চিত হয়ে যায়। একইভাবে তোমাদের কেউ ভোরবেলায় তা বললে, তারপর সন্ধ্যার পূর্বেই তার মৃত্যু হলে তার জন্যও জান্নাত নিশ্চিত হয়ে যায়।

সহীহ ঃ সহীহাহ্‌ [হাঃ ১৭৪৭], বুখারী হাদীসটি “আমি কি তোমাকে বলে দিব না” অংশটুকু ব্যতীত অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

অনুচ্ছেদ-১৬ঃ বিছানাগত হওয়ার সময়কার দুয়া

৩৩৯৪: আল-বারাআ ইবনি আযিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তাকে নাবী [সাঃআঃ] বললেনঃ আমি কি তোমাকে কিছু দুয়া শিখিয়ে দিব না যা তুমি বিছানাগত হওয়ার সময় পাঠ করিবে? তাহলে ঐ রাতে তোমার মৃত্যু হলে ফিত্‌রাতের [ইসলামের] উপরই মৃত্যুবরণ করিবে। আর তুমি [জীবিত থাকলে] ভোরে উপনীত হলে মঙ্গল লাভ করিবে। তুমি বল,

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ وَوَجَّهْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَا مِنْكَ إِلاَّ إِلَيْكَ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ

আল্লাহুম্মা আসলামতু নাফছি ইলাইকা, ওয়া ওয়াজ জাহতু ওয়াজহি ইলাইকা ওয়া ফাওওাদতু আমরি ইলাইকা, রাগবাতান ওয়া রহবাতান ইলাইকা, ওয়া আলজায়তু জাহরি ইলাইকা, লা মালজায়া ওয়া লা মানজায়া মিনকা ইল্লা ইলাইকা, আমানতু বি কিতাবিকাল্লাজি আনজালতা, ওয়া নাবিয়্যিকাল্লাজি আরছালতা

“হে আল্লাহ! নিজেকে আমি তোমার কাছে সমর্পণ করলাম, আমি আমার মুখ তোমার দিকে ফিরিয়ে দিলাম। আমার সকল বিষয় আমি তোমার উপর সমর্পণ করলাম, তোমার রাহমাতের আশা ও তোমার শাস্তির ভয় নিয়ে আমার পিঠ তোমার আশ্রয়ে সমর্পণ করলাম। তোমার হইতে পালিয়ে আশ্রয় নেয়ার এবং নাজাত পাওয়ার তুমি ছাড়া আর কোন আশ্রয়স্থল নেই। যে কিতাব তুমি অবতীর্ণ করেছ এবং যে নাবী প্রেরণ করেছ তার উপর আমি ঈমান এনেছি।”

আল-বারাআ [রাদি.] বলেন, আমি [বিনাবিয়্যিকা-এর স্থলে] বিরাসূলিকাল্লাযী আরসাল্‌তা [তুমি যে রাসূল প্রেরণ করেছ] বললাম। সে সময় রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমার বুকে নিজের হাত দিয়ে খোঁচা মেরে বললেনঃ ওয়াবিনাবিয়্যিকাল্লাযী আর্‌সাল্‌তা বল।

সহীহ ঃ আল-কালিমুত্‌ তাইয়্যিব [হাঃ ৪১/২৬], বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৩৯৫ঃ রাফি ইবনি খাদীজ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন বিছানায় ডান কাতে শুয়ে বলেঃ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ وَوَجَّهْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ لاَ مَلْجَأَ وَلاَ مَنْجَا مِنْكَ إِلاَّ إِلَيْكَ أُومِنُ بِكِتَابِكَ وَبِرُسُلِكَ

আল্লাহুম্মা আসলামতু নাফছি ইলাইকা, ওয়া ওয়াজ জাহতু ওয়াজহি ইলাইকা ওয়া ফাওওাদতু আমরি ইলাইকা, রাগবাতান ওয়া রহবাতান ইলাইকা, ওয়া আলজায়তু জাহরি ইলাইকা, লা মালজায়া ওয়া লা মানজায়া মিনকা ইল্লা ইলাইকা, আমানতু বি কিতাবিকাল্লাজি আনজালতা, ওয়া নাবিয়্যিকাল্লাজি আরছালতা

“হে আল্লাহ! আমি নিজেকে পুরোপুরিভাবে তোমার নিকট সমর্পণ করলাম, আমার মুখমন্ডল তোমার দিকে ফিরিয়ে দিলাম, আমার পিঠ তোমার আশ্রয়ে সমর্পণ করলাম, আমার সকল বিষয় তোমার উপর ছেড়ে দিলাম, তোমার থেকে আশ্রয় নেয়ার স্থান তুমি ছাড়া আর কোথাও নেই, আমি তোমার কিতাব ও তোমার রাসূলের উপর ঈমান আনলাম”,

সে ঐ রাতে মারা গেলে জান্নাতে যাবে।

সনদ দুর্বল। “তোমার রাসূলের প্রতি ঈমান আনলাম” হাদীসে বর্ণিত এই অংশটুকু সহীহ হাদীসের বিরোধী। সহীহ [৩৩৯৪] আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান ইবন রাফি ইবনি খাদীজ [রাদি.]-এর হাদীস হিসাবে উপরোক্ত সূত্রে গারীব। এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

৩৩৯৬ঃ আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন বিছানাগত হইতেন তখন [ঘুমানোর জন্য] বলিতেন ঃ

 الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَكَفَانَا وَآوَانَا وَكَمْ مِمَّنْ لاَ كَافِيَ لَهُ وَلاَ مُؤْوِيَ

(আলহামদুলিল্লাহ হিল্লাজি আত আমানা ওয়া সাক্কানা ওয়া কাফানা ওয়া আ’ওয়ানা ওয়া কাম মিম্মান লা কাফিয়া লাহু ওয়া লা মুওইইয়া)

“সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার যিনি আমাদেরকে আহার করিয়েছেন, পান করিয়েছেন, [সৃষ্টির অনিষ্ট হইতে] আমাদের রক্ষা করিয়াছেন এবং আমাদেরকে আশ্রয় দিয়েছেন [বিছানায়]। কিন্তু অনেক লোক আছে যাদের কোন রক্ষাকারী নেই এবং আশ্রয়স্থলও নেই”।

সহীহ ঃ মুসলিম [হাঃ ৮/৭৯]। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

অনুচ্ছেদ-১৭ঃ [বিছানাগত হয়ে পড়ার দুয়া]

৩৩৯৭ঃ আবু সাঈদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ কোন লোক [শোয়ার জন্য] বিছানাগত হয়ে তিনবার বলেঃ

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الْعَظِيمَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىَّ الْقَيُّومَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

আস্‌তাগফিরুল্লা হাল আজিমাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলায়হি

“আমি আল্লাহ তাআলার নিকট মাফের আবেদন করি, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, যিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী, এবং তাহাঁর নিকট তাওবা করি”,

আল্লাহ তাআলা তার গুনাহসমূহ মাফ করে দেন, যদিও তা সমুদ্রের ফেনারাশির সমতুল্য হয়ে থাকে, যদিও তা গাছের পাতার মত অসংখ্য হয়, যদিও তা টিলার বালিরাশির সমান হয়, যদিও তা দুনিয়ার দিনসমূহের সমসংখ্যক হয়।

যঈফ, আল-কালিমুত-তায়্যিব [৩৯], তালীকুর রাগীব [১/২১১], আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। আমরা শুধু উবায়দুল্লাহ ইবনিল ওয়ালীদ আল-ওয়াসসাফীর রিওয়াত হিসেবে উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীস জেনেছি। এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

অনুচ্ছেদ-১৮ঃ বিছানাগত হয়ে পড়ার দুয়া

৩৩৯৮ঃ হুযইফাহ ইবনিল ইয়ামান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

যখন নাবী [সাঃআঃ] ঘুমানোর ইচ্ছা করিতেন, সে সময় তিনি নিজের [ডান] হাত মাথার নীচে রেখে বলিতেনঃ

 اللَّهُمَّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَجْمَعُ عِبَادَكَ أَوْ تَبْعَثُ عِبَادَكَ

আলাহহুম্মা কিনি আজাবাকা ইয়াওমা তাজমাউ ইবাদাকা আও তাবআসু ইবাদাকা

“হে আল্লাহ! যেদিন তুমি তোমার বান্দাদেরকে একত্রিত করিবে অথবা পুনজীবিত করিবে সেদিন আমাকে তোমার আযাব হইতে হিফাযাতে রেখ।”

সহীহঃ সহীহাহ [হাঃ ২৭৫৪], আল-কালিমুত তাইয়্যিব [হাঃ ৩৭/৩৯]। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৩৯৯ঃ আল-বারাআ ইবনি আযিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, ঘুমানোর সময় রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার ডান হাতের উপর মাথা রাখতেন, তারপর বলিতেনঃ “

رَبِّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ 

রব্বি কিনি আজাবাকা ইয়াওমা তাবআসু ইবাদাকা আও তাবআসু ইবাদাকা

হে আমার প্রভু! যেদিন তুমি তোমার বান্দাদেরকে উত্থিত করিবে, আমাকে সেদিন তোমার শাস্তি হইতে নিরাপদে রেখ।

সহীহঃ সহীহাহ। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

অনুচ্ছেদ-১৯ঃ [ঋণমুক্ত হওয়ার দুয়া]

৩৪০০ঃ আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমাদেরকে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এই মর্মে হুকুম করিতেন যে, আমাদের কেউ ঘুমানোর জন্য যখন বিছানাগত হয় সে সময় সে যেন বলেঃ “

اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ وَرَبَّ الأَرَضِينَ وَرَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَفَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى وَمُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالإِنْجِيلِ وَالْقُرْآنِ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ ذِي شَرٍّ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ أَنْتَ الأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ وَأَنْتَ الآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ وَالظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ وَالْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ اقْضِ عَنِّي الدَّيْنَ وَأَغْنِنِي مِنَ الْفَقْرِ

( আল্লাহুম্মা রব্বাস সামাওয়াতি ওয়া রব্বা আরদিনা ওয়া রব্বানা ওয়া রব্বা কুল্লি সাইয়েন ওয়া ফালিকাল হাব্বি ওয়ান্নাওয়া ওয়া মুঞ্জিলাত তাওরিতি ওয়া ইঞ্জিলি ওয়া কুরআন আ উজু বিকা মিন সাররি কুল্লি জি সাররি আন্তা আখিজু বি নাসিঈয়াতিহি আনতা আওওয়ালু ফালাইসা কবলাকা সাইয়ু ওয়া আনতা আখেরু ফালাইসা বা’দাকা সাইয়ু ওয়াজজাহেরু ফালাইসা ফাওকাকা সাইয়ু ওয়াল বাতিনু  ফালাইসা দুনাকা সাইয়ুকদি আন্নিদ দাইনা ওয়া আগনিনি মিনাল ফাকরি)

হে আল্লাহ! আকাশমণ্ডলীর প্রভু, মাটিসমূহের প্রভু, আমাদের প্রভু, প্রতিটি বস্তুর প্রভু, শস্যবীজ ও আঁটির অংকুরোদ্গমনকারী এবং তাওরাত, ইনজীল ও কুরআন অবতীর্ণকারী! আমি প্রত্যেক অনিষ্টকারীর ক্ষতি হইতে তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি। এগুলো তোমারই আয়ত্তাধীন, তুমিই শুরু, তোমার আগে কিছুই নেই। আর তুমিই শেষ, তোমার পরে কিছুই নেই। তুমিই প্রকাশিত, তোমার উপরে কিছুই নেই। তুমিই লুকায়িত, তোমার হইতে কিছুই গোপন নয়। সুতরাং তুমি আমার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করে দাও এবং দরিদ্রতা হইতে আমাকে সাবলম্বী করে দাও”।

সহীহঃ আল-কালিমুত তাইয়্যিব [হাঃ ৪০], মুসলিম। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

অনুচ্ছেদ-২০ঃ [ঘুমাবার পূর্বে করণীয়]

৩৪০১ : আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের কেউ তার বিছানা হইতে উঠার পর আবার বিছানায় প্রত্যাবর্তন করলে সে যেন তার লুঙ্গীর শেষাংশ দিয়ে বিছানাটি তিনবার পরিষ্কার করে নেয়। কারণ সে জানে না, তার অনুপস্থিতিতে তাতে কি পতিত হয়েছে [ময়লা বা ক্ষতিকর কিছু]। আর যখন সে শুয়ে পড়ে সে সময় যেন বলেঃ

بِاسْمِكَ رَبِّي وَضَعْتُ جَنْبِي وَبِكَ أَرْفَعُهُ فَإِنْ أَمْسَكْتَ نَفْسِي فَارْحَمْهَا وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا بِمَا تَحْفَظُ بِهِ عِبَادَكَ الصَّالِحِينَ

বিসমিকা রাব্বি ওয়াদাতু ঝাম্বি, ওয়া বিকা আরফাউহু, ইন আমসাকতা নাফসি ফারহামহা, ওয়া ইন আরসালতাহা ফাহফাজহা বিমা তাহফাজ বিহি ইবাদাকাস সালিহিন।’

হে আমার প্রতিপালক! তোমার নামে আমার পাশ্বদেশ আমি বিছানায় সোপর্দ করলাম এবং আবার তোমার নামেই তা উঠাব। যদি আমার জান তুমি রেখে দাও [মৃত্যু দান কর] তবে তার প্রতি দয়া কর, আর যদি তাকে ছেড়ে দাও তবে তা সেভাবে প্রতিরক্ষা কর যেভাবে তুমি তোমার সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের প্রতিরক্ষা কর”।

আর ঘুম হইতে জেগে উঠে সে যেন বলেঃ

সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার যিনি আমার দেহকে হিফাযাত করিয়াছেন এবং আমার জান আবার আমাকে ফেরত দিয়েছেন এবং তাকে স্মরণ করারও অনুমতি [তাওকীক] দান করিয়াছেন”।

হাসানঃ আল-কালিমুত তাইয়্যিব [হাঃ ৩৪], বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ “আর ঘুম থেকে জেগে” অংশ বাদে। এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

অনুচ্ছেদ-২১ঃ যে লোক শয়নকালে কুরআনের কিছু অংশ পাঠ করে

৩৪০২: আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] প্রতি রাতে যখন বিছানায় যেতেন, সে সময় “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ”, “কুল আউযু বিরব্বিল ফালাক” ও “কুল আউযু বিরব্বিন নাস” [সূরা তিনটি] পাঠ করে নিজের উভয় হাতের তালু একসাথে করে তাতে ফুঁ দিতেন, তারপর উভয় হাত যথাসম্ভব সারা শরীরে মলতেন। তিনি মাথা, চেহারা ও দেহের সম্মুখের অংশ হইতে আরম্ভ করিতেন। তিনি তিনবার এরূপ করিতেন।

সহীহঃ বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

অনুচ্ছেদ-২২ঃ অনুরূপ প্রসঙ্গ

৩৪০৩ ; ফরওয়াহ ইবনি নাওফাল [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি নাবী [সাঃআঃ] এর কাছে এসে বলিলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমাকে কিছু শিখিয়ে দিন, যা আমি বিছানাগত হওয়াকালে বলিতে পারি। তিনি বললেনঃ তুমি “কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন” সূরাটি তিলাওয়াত কর। কারণ তা শিরক হইতে মুক্তির ঘোষণা।

সহীহঃ তালীকুর রাগীব [হাঃ ১/২০৯]। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৪০৪ : জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] সূরা তানযীলুস সাজদা ও তাবারাকা [আল-মুলক] না পাঠ করা পর্যন্ত ঘুমাতেন না।

সহীহঃ মিশকাত [হাঃ ২১৫৫], সহীহ হাদীস সিরিজ [হাঃ ৫৮৫], রাওযুন নাযীর [হাঃ ২২৭]। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৪০৫ : আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] আয-যুমার ও বানী ইসরাঈল সূরাগুলো পাঠ না করা পর্যন্ত ঘুমাতেন না।

সহীহঃ ২৯২০ নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আবু ঈসা বলেনঃ মুহাম্মাদ ইবনি ইসমাঈল [বুখারী] বলেছেন, আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে আবদুর রহমান ইবনি যিয়াদের মুক্তদাস মারওয়ান [রঃ] শুনেছেন এবং আবু লুবাবাহ-এর নাম হল মারওয়ান তার নিকট হইতে হাম্মাদ ইবনি যাইদ শুনেছেন। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৪০৬ : আল-ইরবায ইবনি সারিয়াহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] মুসাব্বিহাত সূরাগুলো পাঠ না করা পর্যন্ত ঘুমাতেন না। তিনি বলিতেনঃ এমন একটি আয়াত তাতে আছে যা হাজার আয়াত হইতেও শ্রেষ্ঠ।

হাসানঃ ২৯২১ নং হাদীস পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

অনুচ্ছেদ-২৩ঃ কাজে অবিচল থাকার প্রার্থনা

৩৪০৭ : বানী হানযালার কোন এক ব্যক্তি হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেনঃ আমি এক সফরে শাদ্দাদ ইবনি আওস [রাদি.]-এর সাথী হলাম। তখন তিনি বলিলেন, আমি কি তোমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দেব না যা রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে বলিতে শিখাতেন?

“হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করি কাজে অবিচলতা, সৎপথে দৃঢ়তা, তোমার দেয়া নিয়ামাতের কৃতজ্ঞতা ও নিষ্ঠার সাথে তোমার ইবাদাত করার যোগ্যতা। আমি তোমার নিকট আরো প্রার্থনা করি সত্যবাদী জিহ্বা ও বিশুদ্ধ অন্তর। আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই তোমার জানা সকল মন্দ হইতে এবং কামনা করি তোমার জানা সকল কল্যাণ। আমি ক্ষমা চাই তোমার জানা সর্বপ্রকারের অপকর্ম হইতে। অবশ্যই তুমি অদৃশ্য সম্বন্ধে সম্যক জ্ঞাত।”

যঈফ, মিশকাত [৯৫৫], আল-কালিমুত তায়্যিব [১০৪/৬৫] রাবী বলেনঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আরও বলিতেনঃ কোন মুসলিম ব্যক্তি বিছানাগত হওয়ার সময় আল্লাহ তাআলার কিতাবের একটি সূরা পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা তার নিরাপত্তার জন্য একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করেন। ফলে তার ঘুমভঙ্গ হওয়া পর্যন্ত কোন ক্ষতিকর জিনিস তার নিকট পৌঁছাতে পারবে না। যঈফ, মিশকাত [২৪০৫], তালীকুল রাগীব [১/২১০] আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি আমরা শুধু উক্ত সনদসূত্রে জেনেছি। জুরাইরীর নাম সাঈদ ইবনি ইয়াস আবু মাসউদ আল-জুরাইরী। আবুল আলার নাম ইয়াযীদ ইবনি আবদুল্লাহ ইবনিশ শিখখীর। এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

অনুচ্ছেদ-২৪ঃ শোয়ার সময় তাসবীহ, তাকবীর ও তাহমীদ পাঠ করা প্রসঙ্গে

৩৪০৮ : আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার কাছে ফাতিমাহ [রাদি.] অভিযোগ করে যে, গম পেষার চাকতি ঘুরানোর ফলে তার প্রত্যেক হাতে ফোস্কা পড়ে গেছে। আমি বললাম, তুমি তোমার বাবার [রসুলুল্লাহর] কাছে গিয়ে যদি তাহাঁর নিকট একটি খাদিম প্রদানের আবেদন করিতে। [ফাতিমাহ আবেদন জানানোর পর] রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ আমি তোমাদের দুজনকে এমন জিনিস কি বলে দিব না যা তোমাদের জন্য দাসের চেয়ে ভাল? তোমরা শয়নকালে ৩৩ বার “আলহামদু লিল্লাহ”, ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ” এবং ৩৪ বার “আল্লাহু আকবার” বলবে।

সহীহঃ বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ। হাদীসে আরও ঘটনা আছে। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৪০৯ : আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ]-এর কাছে এসে ফাতিমাহ্‌ [রাদি.] তার দুহাতে ফোস্‌কা পড়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন। তাকে রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] সুবহানাল্লাহ, আল্লাহু আকবার ও আলহামদু লিল্লাহ পাঠ করার হুকুম দেন।

সহীহঃ যঈফ আদাবুল মুফরাদ [হাঃ১০০/৬৩৫], বুখারী ও মুসলমি। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

অনুচ্ছেদ-২৫ঃ [দুটি অভ্যাস জান্নাতে যাবার উপায়]

৩৪১০ : আবদুল্লাহ ইবনি আম্‌র [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কোন মুসলমান ব্যক্তি দুইটি অভ্যাসে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হইতে পারলে সে নিশ্চয় জান্নাতে প্রবেশ করিবে। জেনে রাখ! উক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো আয়ত্ত করা সহজ। সে অনুসারে অনেক অল্প সংখ্যক ব্যক্তিই তা আমল করে থাকে। [এক] প্রতি ওয়াক্তের [ফরয] নামাযের পর দশবার সুবহানাল্লাহ, দশবার আল্‌হামদু লিল্লাহ ও দশবার আল্লাহু আক্‌বার বলবে। আবদুল্লাহ [রাদি.] বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে আমি নামাযের পর স্বীয় হস্তে গণনা করিতে দেখেছি। তারপর রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ [পাঁচ ওয়াক্তে] মুখের উচ্চারণে একশত পঞ্চাশবার এবং মীযানে [দাঁড়িপাল্লায়] দেড় হাজার হইবে। [দুই] আর [ঘুমাতে] শয্যা গ্রহণকালে তুমি সুবহানাল্লাহ, আল্লাহু আক্‌বার ও আল্‌হামদু লিল্লাহ একশত বার বলবে, ফলে তা মীযানে এক হাজারে রুপান্তর হইবে। তোমাদের মাঝে কে এক দিন ও এক রাতে দু্ই হাজার পাঁচশত গুনাহে লিপ্ত হয়? [অর্থাৎ এতগুলো পাপও ক্ষমাযোগ্য হইবে]। সাহাবীগণ বলেন, কোন ব্যক্তি সব সময় এরুপ একটি ইবাদাত কেন করিবে না! রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ তোমাদের কেউ নামাযে অবস্থানরত থাকাকালে তার কাছে শাইতান এসে বলিতে থাকে, এটা মনে কর ওটা মনে কর। ফলে সেই নামাযী [শাইতানের ধোঁকাবাজির মাঝেই রত থাকা অবস্থায়] নামায় শেষ করে। আর উক্ত তাস্‌বীহ আমল করার সে সুযোগ পায় না। পুনরায় তোমাদের কেউ শোয়ার জন্য শয্যা গ্রহণ করলে শাইতান তার নিকট এসে তাকে ঘুম পাড়ায় এবং সে তাসবীহ না পাঠ করেই ঘুমিয়ে পড়ে।

সহীহঃ ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[হাঃ ৯২৬]। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৪১১ : আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে আমি গুনে গুনে তাসবীহ পাঠ করিতে দেখেছি।

সহীহঃ প্রাগুক্ত . এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৪১২ : কাব ইবনি উজরাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ নামাযের পরে তিলাওয়াত করার মত এমন কিছু বিষয় আছে যে, যার তিলাওয়াতকারী কখনো বঞ্চিত হয় না। প্রতি ওয়াক্তের নামাযের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আল্‌হামদু লিল্লাহ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আক্‌বার পাঠ করিবে।

সহীহঃ সহীহাহ্‌ [হাঃ ১০২], মুসলিম। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৪১৩ : যাইদ ইবনি সাবিত [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা প্রত্যেক নামাযের পরে ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আল্‌হামদু লিল্লাহ ও ৩৪ বার আল্লাহু আক্‌বার পাঠ করিতে আদিষ্ট হলাম। এক আনসারী ব্যক্তি স্বপ্নে দেখিতে পেলেন যে, কোন এক ব্যক্তি তাকে বলছে তোমাদেরকে রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] কি প্রতি নামাযের পরে ৩৩ বার তাসবীহ, ৩৩ বার তাহমীদ ও ৩৪ বার তাকবীর পাঠ করিতে আদেশ করিয়াছেন? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। তখন তিনি বলিলেন, এগুলো তোমরা ২৫ বার করে পাঠ কর। আর তার সাথে ২৫ বার তাহলীল অর্থাৎ লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ পাঠ কর। লোকটি সকাল বেলা নাবী [সাঃআঃ]–এর কছে গিয়ে তা বর্ণনা করিল। তিনি [সাঃআঃ] বলিলেন, আচ্ছা তাই কর।

সহীহঃ ইবনি খুযাইমাহ্‌ [৭৫২]। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

অনুচ্ছেদ-২৬ঃ রাতে ঘুম ভাঙ্গার সময় পাঠ করার দুয়া

৩৪১৪ : উবাদাহ্ ইবনিস সামিত [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ রাতে জাগ্রত হয়ে যে লোক বলে,

 لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শরিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। ওয়া সুবা হানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।”

আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কোন মাবুদ নেই, তিনি এক, তাহাঁর কোন শারীক নেই, সার্বভৌমত্ব তাহাঁর, সকল প্রশংসা তাহাঁর জন্য এবং সমস্ত কিছুর উপর তিনি সর্বশক্তিমান। আল্লাহ তাআলা সম্পূর্ণ পবিত্র, আল্লাহ তাআলাই সকল প্রশংসার অধিকারী। আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, আল্লাহ আআলা সুমহান। আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ ছাড়া অন্যায় হইতে বিরত থাকার কিংবা ন্যায় কাজ করার শক্তি কারো নেই।”

অতঃপর সে বলবে,

رَبِّ اغْفِرْ لِي

“হে আল্লাহ! আমাকে মাফ করে দাও।”

কিংবা তিনি বলেছেনঃ সে দুয়া করলে তা ক্ববূল করা হয়। আর যদি সে সাহস করে উযূ করে নামায় আদায় করে তবে তার নামাজও ক্ববূল করা হয়।

সহীহঃ ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[হাঃ ৩৮৭৮]। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৪১৫ : মাসলামা ইবনি আমর হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেনঃ উমাইর ইবনি হাণী প্রত্যেকদিন এক হাজার রাকআত নামাজ আদায় করিতেন এবং এক লক্ষবার তাসবীহ পাঠ করিতেন।

সনদ দুর্বল, বিচ্ছিন্ন। এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

অনুচ্ছেদ-২৭ঃ [রাত্রিকালে রাসূল [সাঃআঃ]-এর আমাল]

৩৪১৬ : রাবীআহ্ ইবনি কাব আল-আসলামী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ]-এর ঘরের দ্বারদেশে আমি রাত যাপন করতাম এবং তার উযূর পানি সরবরাহ করতাম। রাতে আমি দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে বলিতে শুনতাম,

سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ

সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্ [যে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করে, তিনি তা শুনেন]।

আমি আরো শুনতে পেলাম যে, দীর্ঘ রাত পর্যন্ত তিনি

الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ 

আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন [সকল প্রশংসা জগতসমুহের প্রতিপালক আল্লাহ তাআলারই]

বলছেন।

সহীহঃ ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[হাঃ ৩৮৭৯], মুসলিম। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

অনুচ্ছেদ-২৮ঃ [শয়ন করার দুয়া]

৩৪১৭ : হুযাইফা্হ ইবনিল ইয়ামান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

যখন রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] নিদ্রা যাওয়ার ইচ্ছা করিতেন তখন বলিতেন ঃ

اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا 

আল্লাহুম্মা বিস্মিকা আমুওতু ওয়া আহইয়া (হে আল্লাহ! আমি তোমার নামেই মৃত্যুবরণ করি ও জীবন লাভ করি )।

তিনি ঘুম হইতে উঠে বলিতেন ঃ

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَا نَفْسِي بَعْدَ مَا أَمَاتَهَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ

আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আহইয়া নাফসি বা’দা মা আমাতাহা ওয়া ইলায়হিন নুসুর

(“সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার, যিনি মৃত্যুদানের পর আমার এ দেহকে পুনরায় জীবিত করিয়াছেন এবং তাহাঁর নিকটই ফিরে যেতে হইবে”।

সহীহ ঃ ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[হাঃ ৩৮৮০], বুখারী। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

অনুচ্ছেদ-২৯ঃ রাতে [তাহাজ্জুদের] নামাজ আদায় করিতে উঠে যে দুয়া পাঠ করিবে

৩৪১৮ ঃ আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন মাঝরাতে বা গভীর রাতে [তাহাজ্জুদের] নামাযে দাঁড়াতেন সে সময় বলিতেনঃ

اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ نُورُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ قَيَّامُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ أَنْتَ الْحَقُّ وَوَعْدُكَ الْحَقُّ وَلِقَاؤُكَ حَقٌّ وَالْجَنَّةُ حَقٌّ وَالنَّارُ حَقٌّ وَالسَّاعَةُ حَقٌّ اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ وَبِكَ خَاصَمْتُ وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ فَاغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ أَنْتَ إِلَهِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ

আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু আংতা নুওরুস সামাওয়অতি ওয়াল আরদি ওয়া লাকালহামদু আংতা কায়্যিমুস সামাওয়অতি ওয়াল আরদি, ওয়া লাকাল হামদু আংতা রব্বুস সামাওয়অতি ওয়াল আরদি ওয়া মান ফিহিন্না আংতাল হাক্কু ওয়া ওয়া’দুকাল হাক্কু, ওয়া লিক্বাউকা হাক্কু। ওয়াল ঝান্নাতু হাক্কু। ওয়ান নারু হাক্কু। ওয়াস সাআতু হাক্কু। আল্লাহুম্মা লাকা আসলামতু। ওয়াবিকা আমাংতু ওয়া আলাইকা তাওয়াক্কালতু। ওয়া ইলাইকা আনাবতু। ওয়া বিকা খাসামতু। ওয়া ইলাইকা হাকামতু। ফাগফিরলি মা কাদ্দামতু ওয়া মা আখ্খারতু। ওয়া মা আসরারতু ওয়া মা আ’লাংতু। আংতা ইলাইহি লা ইলাহা ইল্লা আংতা

” হে প্রভু ! সকল প্রশংসা তোমার জন্য, তুমি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর আলো এবং সকল প্রশংসার অধিকারী তুমিই। তুমিই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছ। সকল প্রশংসা তোমার। তুমি আকাশমণ্ডলী, দুনিয়া এবং উভয়ের মাঝখানের সমস্ত কিছুর প্রতিপালক, তুমি সত্য, তোমার প্রতিশ্রুতি সত্য, [আখিরাতে] তোমার সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভ সত্য, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য এবং ক্বিয়ামাত [সংঘটিত হওয়ার প্রসঙ্গটি] সত্য। হে আল্লাহ! তোমার নিকট আমি আত্মসমর্পণ করেছি, তোমার উপর ঈমান এনেছি, তোমার উপর তাওয়াককুল [নির্ভর] করেছি, তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করি, তোমার জন্যই যুদ্ধ করি এবং তোমাকে বিচারক মানি। সুতরাং আমার পূর্বের-পরের এবং লুকায়িত ও প্রকাশ্য সকল গুনাহ তুমি ক্ষমা করে দাও। তুমিই আমাদের মাবূদ, তুমি ছাড়া আর কোন মাবূদ নেই”।

সহীহ ঃ ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[হাঃ ১৩৫৫], বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

অনুচ্ছেদ-৩০ঃ রাতে নামাজ শেষে পাঠ করার দুয়া

৩৪১৯ ঃ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে রাতে [তাহাজ্জুদের] নামাজ শেষে বলিতে শুনেছিঃ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ رَحْمَةً مِنْ عِنْدِكَ تَهْدِي بِهَا قَلْبِي وَتَجْمَعُ بِهَا أَمْرِي وَتَلُمُّ بِهَا شَعَثِي وَتُصْلِحُ بِهَا غَائِبِي وَتَرْفَعُ بِهَا شَاهِدِي وَتُزَكِّي بِهَا عَمَلِي وَتُلْهِمُنِي بِهَا رَشَدِي وَتَرُدُّ بِهَا أُلْفَتِي وَتَعْصِمُنِي بِهَا مِنْ كُلِّ سُوءٍ اللَّهُمَّ أَعْطِنِي إِيمَانًا وَيَقِينًا لَيْسَ بَعْدَهُ كُفْرٌ وَرَحْمَةً أَنَالُ بِهَا شَرَفَ كَرَامَتِكَ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْفَوْزَ فِي الْعَطَاءِ وَيُرْوَى فِي الْقَضَاءِ وَنُزُلَ الشُّهَدَاءِ وَعَيْشَ السُّعَدَاءِ وَالنَّصْرَ عَلَى الأَعْدَاءِ اللَّهُمَّ إِنِّي أُنْزِلُ بِكَ حَاجَتِي وَإِنْ قَصَّرَ رَأْيِي وَضَعُفَ عَمَلِي افْتَقَرْتُ إِلَى رَحْمَتِكَ فَأَسْأَلُكَ يَا قَاضِيَ الأُمُورِ وَيَا شَافِيَ الصُّدُورِ كَمَا تُجِيرُ بَيْنَ الْبُحُورِ أَنْ تُجِيرَنِي مِنْ عَذَابِ السَّعِيرِ وَمِنْ دَعْوَةِ الثُّبُورِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْقُبُورِ اللَّهُمَّ مَا قَصَّرَ عَنْهُ رَأْيِي وَلَمْ تَبْلُغْهُ نِيَّتِي وَلَمْ تَبْلُغْهُ مَسْأَلَتِي مِنْ خَيْرٍ وَعَدْتَهُ أَحَدًا مِنْ خَلْقِكَ أَوْ خَيْرٍ أَنْتَ مُعْطِيهِ أَحَدًا مِنْ عِبَادِكَ فَإِنِّي أَرْغَبُ إِلَيْكَ فِيهِ وَأَسْأَلُكَهُ بِرَحْمَتِكَ رَبَّ الْعَالَمِينَ اللَّهُمَّ ذَا الْحَبْلِ الشَّدِيدِ وَالأَمْرِ الرَّشِيدِ أَسْأَلُكَ الأَمْنَ يَوْمَ الْوَعِيدِ وَالْجَنَّةَ يَوْمَ الْخُلُودِ مَعَ الْمُقَرَّبِينَ الشُّهُودِ الرُّكَّعِ السُّجُودِ الْمُوفِينَ بِالْعُهُودِ إِنَّكَ رَحِيمٌ وَدُودٌ وَأَنْتَ تَفْعَلُ مَا تُرِيدُ اللَّهُمَّ اجْعَلْنَا هَادِينَ مُهْتَدِينَ غَيْرَ ضَالِّينَ وَلاَ مُضِلِّينَ سِلْمًا لأَوْلِيَائِكَ وَعَدُوًّا لأَعْدَائِكَ نُحِبُّ بِحُبِّكَ مَنْ أَحَبَّكَ وَنُعَادِي بِعَدَاوَتِكَ مَنْ خَالَفَكَ اللَّهُمَّ هَذَا الدُّعَاءُ وَعَلَيْكَ الاِسْتِجَابَةُ وَهَذَا الْجَهْدُ وَعَلَيْكَ التُّكْلاَنُ اللَّهُمَّ اجْعَلْ لِي نُورًا فِي قَبْرِي وَنُورًا فِي قَلْبِي وَنُورًا مِنْ بَيْنِ يَدَىَّ وَنُورًا مِنْ خَلْفِي وَنُورًا عَنْ يَمِينِي وَنُورًا عَنْ شِمَالِي وَنُورًا مِنْ فَوْقِي وَنُورًا مِنْ تَحْتِي وَنُورًا فِي سَمْعِي وَنُورًا فِي بَصَرِي وَنُورًا فِي شَعْرِي وَنُورًا فِي بَشَرِي وَنُورًا فِي لَحْمِي وَنُورًا فِي دَمِي وَنُورًا فِي عِظَامِي اللَّهُمَّ أَعْظِمْ لِي نُورًا وَأَعْطِنِي نُورًا وَاجْعَلْ لِي نُورًا سُبْحَانَ الَّذِي تَعَطَّفَ الْعِزَّ وَقَالَ بِهِ سُبْحَانَ الَّذِي لَبِسَ الْمَجْدَ وَتَكَرَّمَ بِهِ سُبْحَانَ الَّذِي لاَ يَنْبَغِي التَّسْبِيحُ إِلاَّ لَهُ سُبْحَانَ ذِي الْفَضْلِ وَالنِّعَمِ سُبْحَانَ ذِي الْمَجْدِ وَالْكَرَمِ سُبْحَانَ ذِي الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ 

“হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট হইতে রাহমাত ও দয়া আশা করি, এর দ্বারা তুমি আমার মনকে হিদায়াত দান কর, আমার সকল কাজ গুছিয়ে দাও, আমার অগোছাল অবস্থাকে সুশৃঙ্খল করে দাও, আমার অজানা কাজকে সংশোধন করে দাও, আমার উপস্থিতিকে উন্নত কর, আমার কাজকর্ম পরিচ্ছন্ন করে দাও, সরল-সঠিক পথ আমাকে শিখিয়ে দাও, তোমার প্রতি আমার ভালোবাসাকে বাড়িয়ে দাও এবং প্রত্যেক প্রকারের খারাপ হইতে আমাকে নির্বিঘ্ন রাখ। হে আল্লাহ! আমাকে ঈমান ও দৃঢ় প্রত্যয় দান কর, যার পরে আর যেন কুফরী অবশিষ্ট না থাকে। আর তুমি আমাকে রাহমাত দান কর যার দ্বারা দুনিয়া ও আখিরাতে আমি তোমার মহান করুণার অধিকারী হইতে পারি। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট দানের ব্যাপারে সাফল্য চাই, আরো আশা করি শহীদদের মত আতিথেয়তা, সৌভাগ্যবানদের জীবন এবং শত্রুর বিরুদ্ধে সাহায্য। হে আল্লাহ! আমি আমার প্রয়োজন তোমার নিকটেই পেশ করলাম। আমার বুদ্ধিমত্তা অক্ষম ও ত্রুটিপূর্ণ এবং আমার কর্মতৎপরতা দুর্বল হওয়ায় আমি তোমার অনুগ্রহের মুখাপেক্ষী। অতএব আমি তোমার নিকটে আশা করি, হে সকল কাজকর্ম ফায়সালাকারী, বক্ষসমূহের আরোগ্যকারী! আমাকে জাহান্নামের শাস্তি হইতে এমনভাবে দূরে সরিয়ে রাখ যেমন তুমি দুই সমুদ্রের মিলনকে প্রতিরোধ করে রাখ। তুমি আমাকে ধ্বংসকারী আহ্বান হইতে ও কবরের সংকট হইতে বিপদমুক্ত রাখ। হে আল্লাহ! আমার ধারণায় যে কল্যাণের কথা আসেনি, আমার ইচ্ছায় ও প্রার্থনা যে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি, যে কল্যাণ তুমি তোমার কোন সৃষ্টিকে দান করার শপথ করেছ অথবা তোমার কোন বান্দাকে যে কল্যাণ তুমি দান করিবে, হে বিশ্বের রক্ষণাবেক্ষণকারী! তোমার দয়ার উসীলায় আমি সেই কল্যাণ আশা করি। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট মহাভীতির [কিয়ামতের] দিন নিরাপত্তা আশা করি এবং রুকূ-সিজদাকারী, তোমার নৈকট্য লাভকারী ও তোমার সাথে কৃত ওয়াদা পূর্ণকারী বান্দাদের সাথে চিরস্থায়ী জান্নাতে যাওয়ার ইচ্ছা করি। নিশ্চয় তুমি অধিক দয়ালু ও অনুগ্রহপরায়ণ বন্ধু। তুমি যা ইচ্ছা তাই করিতে পার। হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে হিদায়াতকারীদের ও হিদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত কর, যারা বিপথগামীও নয় এবং বিপথগামীকারীও নয়, যারা তোমার প্রিয় বান্দাদের সাথে শান্তি স্থাপনকারী এবং তোমার শত্রুদের সাথে শত্রুতা পোষণকারী। যে তোমায় ভালোবাসে আমরা তোমার মুহাব্বাতে তাকে ভালোবাসি এবং শত্রুতা বশতঃ যে তোমার বিরোধিতা করে, আমরা তার সাথে শত্রুতা রাখি। হে আল্লাহ! এই আমার আরযি এবং এটা ক্ববূল করা তোমার ইচ্ছাধীন। এই আমার প্রচেষ্টা এবং তোমার উপরই আমার আস্থা। হে আল্লাহ! তুমি আমার অন্তরে একটি নূর ঢেলে দাও। আমার কবরে নূর দাও, আমার সম্মুখে নূর, আমার পেছনে নূর, আমার ডানে নূর, আমার বামে নূর, আমার উপরে নূর, আমার নীচে নূর, আমার কানে নূর, আমার চোখে [দৃষ্টিশক্তিতে] নূর, আমার পশমে নূর, আমার চামড়ায় নূর, আমার গোশতে নূর, আমার রক্তে নূর এবং আমার হাড়ে নূর দান কর। হে আল্লাহ! আমার নূরকে বৃদ্ধি কর, আমাকে নূর দান কর এবং আমার জন্য স্থায়ী নূরের ব্যবস্থা কর। তিনিই [আল্লাহ] পবিত্র যিনি সম্মান ও মহত্বের চাদরে আবৃত এবং নিজের জন্য তাকে বিশিষ্ট করে নিয়েছেন। তিনি পবিত্র, যিনি সম্মানের পোশাক পরিহিত এবং মর্যাদার দ্বারা সম্মানিত হয়েছেন। তিনিই পবিত্র, যিনি সমস্ত দানের ও নিয়ামাতের অধিকারী, যিনি সুমহান ও মর্যাদাবান। পবিত্র তিনি যিনি মহিমাময় ও মহাবুভব”।

সনদ দুর্বল, আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। ইবনি আবু লাইলার রিওয়ায়াত হিসেবে আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীস এরকম জেনেছি। শুবা ও সুফিয়ান সাওরী [রঃ] সালামা ইবনি কুহাইল হইতে, তিনি কুরাইব হইতে, তিনি ইবনি আব্বাস হইতে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] সূত্রে উক্ত হাদীসের অংশবিশেষ বর্ণনা করিয়াছেন এবং এত দীর্ঘাকারে বর্ণনা করেননি। এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

অনুচ্ছেদ-৩১ঃ রাতের তাহাজ্জুদ নামাজ আরম্ভ করার দুয়া

৩৪২০ ঃ আবু সালামাহ [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

আয়িশাহ [রাদি.]- কে আমি প্রশ্ন করলাম, নাবী [সাঃআঃ] রাতে যখন [তাহাজ্জুদ] নামাজ আদায় করিতে দন্ডায়মান হইতেন তখন কিসের মাধ্যমে নামাজ শুরু করিতেন [তাকবীরে তাহরীমার পর এবং ফাতিহার আগে কি পাঠ করিতেন]? তিনি বলেন, তিনি রাতে [তাহাজ্জুদ] নামাজ আদায় করিতে দাঁড়িয়ে তা আরম্ভ করে বলিতেনঃ

اللَّهُمَّ رَبَّ جِبْرِيلَ وَمِيكَائِيلَ وَإِسْرَافِيلَ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَعَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ أَنْتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ اهْدِنِي لِمَا اخْتُلِفَ فِيهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِكَ إِنَّكَ تَهْدِي مَنْ تَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ

“আল্ল-হুম্মা রব্বা জিবরীলা ওয়া মীকাঈলা, ওয়া ইস্‌রা-ফীলা, ফাত্বিরাস্ সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরযি, আ-লিমাল গয়বি ওয়াশ্ শাহা-দাতি, আন্‌তা তাহ্‌কুমু বায়না ইবা-দিকা ফীমা কা-নূ ফীহি ইয়াখ্‌তালিফূন, ইহ্‌দিনী লিমাখ্‌তুলিফা ফীহি মিনাল হাক্বক্বি বিইয্‌নিকা, ইন্নাকা তাহ্‌দি মান তাশা-উ ইলা- সিরাত্বিম মুসতাক্বীম।

“হে জিবরীল, মীকাঈল ও ইসরাফীলের রব, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা , প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য জ্ঞাতা! তোমার বান্দাদের মধ্যে তুমিই মীমাংসাকারী যে ব্যাপারে তারা মতবিরোধ করছে। সত্যের ব্যাপারে যে মতবিরোধ করা হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে তুমি তোমার আদেশবলে আমাকে সঠিক পথের হিদায়াত দান কর, তুমিই যাকে ইচ্ছা তাকে হিদায়াত দান করে থাক”।

সহীহঃ ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[হাঃ ১৩৫৭], মুসলিম। আবু ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব । এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

অনুচ্ছেদ-৩২ঃ [রাতের নামাযের বিশেষ দুয়া]

৩৪২১ ঃ আলী ইবনি আবী ত্বালিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন নামাযে দাঁড়াতেন, তখন বলিতেনঃ

“একনিষ্ঠভাবে আমি আমার চেহারা তাহাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করলাম যিনি আকাশমন্ডলী ও দুনিয়া সৃষ্টি করিয়াছেন এবং আমি মুশরিকদের দলভুক্ত নই”- [সূরা আনআম ৭৯]। “আমার নামাজ, আমার ইবাদাত [কুরবানী ও হাজ্জ], আমার প্রান ও আমার মৃত্যু জগতসমূহের পালনকর্তা আল্লাহ তাআলার জন্যই। তাহাঁর কোন শরীক নেই এবং এ [ঘোষণা দেয়ার] জন্যই আমি আদিষ্ট হয়েছি। আমি মুসলমানদের দলভুক্ত”-[সূরা আনআম ১৬২-৬৩]। হে আল্লাহ! তুমি রাজার রাজা, তুমি ব্যতীত কোন মাবূদ নেই, তুমিই আমার প্রতিপালক এবং আমি তোমার দাস। আমার নিজের উপর আমি অত্যাচার করেছি, আমার অপরাধ আমি স্বীকার করছি। অতএব তুমি আমার সকল অপরাধ ক্ষমা করে দাও। কেননা তুমি ছাড়া অপরাধ ক্ষমাকারী আর কেউ নেই। তুমি আমাকে ভালো চরিত্রের পথনির্দেশ কর। তুমি ব্যতীত অন্য কেউ সবচেয়ে ভাল চরিত্রের দিকে পথনির্দেশ করিতে পারেনা। তুমি আমার হইতে মন্দ চরিত্র দূর করে দাও। তুমি ছাড়া অন্য কেউ আমার হইতে তা দূর করিতে পারে না। তোমার উপর আমি ঈমান এনেছি। তুমি কল্যাণময়, সুমহান। তোমার কাছে আমি মাফ চাই এবং তোমার দিকে প্রত্যাবর্তন করছি”। তারপর যখন রুকূ দিতেন তখন বলিতেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার জন্য আমি রুকূ করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম এবং তোমার খুশির জন্যই আত্মসমর্পণ করলাম। আমার কান, আমার চোখ, আমার মস্তিষ্ক, আমার হাঁড় এবং আমার স্নায়ু তোমার জন্যই ঝুঁকে পড়েছে”। তিনি রুকূ হইতে মাথা তুলে বলিতেনঃ “হে আল্লাহ, আমার প্রভু! আকাশ্মন্ডলী ও সম্পূর্ণ জগৎসমুহ এবং উভয়ের মাঝে যা কিছু আছে , সমস্ত কিছু পরিপূর্ণ পরিমাণ তোমার প্রশংসা এবং তুমি যা আকাঙ্ক্ষা কর সেটাও পরিপূর্ণ পরিমাণ তোমার প্রশংসা”। তিনি সাজদাহইতে বলিতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্যই সাজদাহ করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম, তোমার জন্যই ইসলাম ক্ববূল করলাম। আমার মুখমন্ডল তাহাঁর জন্য সাজদাহ্ করিল। যিনি আমার চেহারা সৃষ্টি করিয়াছেন, তারপর তাকে সুন্দর মুখমন্ডল দান করিয়াছেন এবং তা ভেদ করে কান ও চোখ ফুটিয়েছেন। সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ তাআলা কত মহান”। তারপর তাশাহহূদ ও সালামের মাঝখানের সময়ে তিনি বলিতেনঃ “হে আল্লাহ ! আমি পূর্বে ও পরে , লুকায়িত ও প্রকাশ্য এবং আমার প্রসঙ্গে তোমার জানা মতে যা কিছু আমি করেছি, তুমি তা ক্ষমা করে দাও। তুমিই শুরু এবং তুমিই শেষ। তুমি ব্যতীত আর কোন মাবূদ নেই”।

সহীহঃ সিফাতুস নামাজ, সহীহ আবু দাঊদ [হাঃ ৭৩৮], মুসলিম। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৪২২ : আলী ইবনি আবী ত্বালিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

যখন রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] [রাতে তাহাজ্জুদ] নামাযে দন্ডায়মান হইতেন তখন বলিতেনঃ

“একনিষ্ঠভাবে আমি আমার মুখমন্ডল তাহাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করলাম যিনি আকাশমন্ডলী ও দুনিয়া সৃষ্টি করিয়াছেন এবং আমি মুশরিকদের দলভুক্ত নই”- [সূরা আনআম ৭৯]। “আমার নামাজ, আমার ইবাদাত [হাজ্জ ও কুরবানী], আমার প্রান ও আমার মৃত্যু বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহ তাআলার জন্য।তাহাঁর কোন অংশীদার নেই এবং আমি এজন্যই আদিষ্ট হয়েছি। আমি একজন মুসলিম”- [সূরা আনআম ১৬২-১৬৩]। “হে আল্লাহ ! তুমিই বাদশাহ, তুমি ব্যতীত আর কোন মা বূদ নেই , তুমিই আমার প্রভু, আমি তোমার দাস। আমার আত্মার প্রতি আমি যুলম করেছি এবং আমি আমার কৃত অন্যায় স্বীকার করেছি। সুতরাং আমার সকল অন্যায় তুমি ক্ষমা করে দাও। কেননা তুমি ছাড়া অপরাধ ক্ষমা করার আর কেউ নেই। তুমি আমাকে সর্বোত্তম চরিত্রের পথে পরিচালিত কর। কেননা তুমি ব্যতীত অন্য কেউ সর্বোত্তম চরিত্রের রাস্তায় পরিচালিত করিতে পারে না। আমাকে অপরাধ হইতে তুমি ফিরিয়ে রাখ, কেননা তুমি ছাড়া অন্য কেউ আমাকে খারাপ পথ হইতে ফিরিয়ে রাখতে পারে না। তোমার সমীপে আমি উপস্থিত, সকল সৌভাগ্য ও মঙ্গল তোমার আয়ত্তাধীন।আর খারাপের কিছুই তোমার দিকে সম্পর্কিত করা যায় না। আমি তোমার জন্যই এবং তোমার নিকটেই আমার ফিরে আসা।তুমি মঙ্গলময় ও সুমহান। তোমার কাছে আমি মাফ চাই এবং তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করি”। তিনি রুকূতে গিয়ে বলিতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য রুকূ করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম এবং তোমার নিকট আত্মসমর্পণ করলাম সুতরাং আমার কান , আমার চোখ , আমার সকল হাঁড় ও স্নায়ুগুলো তোমার জন্যই অবনমিত”। তিনি [[রুকূ হইতে] মাথা তুলে বলিতেনঃ “হে আল্লাহ, আমাদের প্রভু! তোমার জন্য সকল প্রশংসা-আকাশ-যমীন ও আ দুয়ের মাঝে যা কিছু আছে এবং তুমি যা চাও এ সকল পূর্ণ পরিমাণ”।তিনি সাজদাহইতে গিয়ে বলিতেনঃ “হে আল্লাহ আমি সাজদাহ করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম, আমি তোমার নিকট আত্মসমর্পণ করলাম। আমার চেহারা তাহাঁর উদ্দেশে সাজদাহ করিল, যিনি তা সৃষ্টি করিয়াছেন, তাকে সুন্দর আকৃতি দান করিয়াছেন এবং [তা ভেদ করে] তার কান ও চোখ ফুটিয়েছেন। সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ তাআলা বারাকাতময়”। তারপর তাশাহহুদ ও সালামের মাঝে সবশেষে তিনি বলিতেনঃ “হে আল্লাহ ! আমি পূর্বে ও পরে, লুকায়িত ও প্রকাশ্য যে গুনাহ করেছি, যে উচ্ছৃংখলতা করেছি এবং আমার প্রসঙ্গে তোমার জানা মতে, যা কিছু আমি [অন্যায়-অপরাধ] করেছি সে সব তুমি ক্ষমা করে দাও। তুমিই শুরু এবং তুমিই শেষ। তুমি ব্যতীত কোন মাবূদ নেই।

সহীহঃ প্রাগুক্ত। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৪২৩ : আলী ইবনি আবী তালিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

যখন রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] ফরয নামাযে দাঁড়াতেন তখন তাহাঁর হাত দুইখানি তাহাঁর কাঁধ বরাবর উঠাতেন। যখন তিনি কিরাআত সমাপ্ত করিতেন [রূকুতে যাওয়ার ইচ্ছা করিতেন], তখনও পুনরায় একই রকম করিতেন [দুই হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন], আবার যখন রুকূ হইতে মাথা উঠাতেন তখনও একই রকম করিতেন। কিন্তু বসা অবস্থায় তাহাঁর নামাযে কোথাও তিনি তাহাঁর দুহাত উঠাতেন না। তারপর তিনি দুই সাজদাহ সেরে [দুই রাকআত শেষে] যখন উঠে দাঁড়াতেন তখনও তাকবীর পাঠ করে তাহাঁর দুই হাত তুলতেন। তিনি তাকবীরে তাহরীমার পর নামাজ আরম্ভ হইতেই বলিতেনঃ

“একনিষ্ঠভাবে আমি তাহাঁর দিকে আমার চেহারা প্রত্যাবর্তন করলাম যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করিয়াছেন এবং আমি মুশরিকদের দলভুক্ত নই” –[সূরা আনআম ৭৯]। আমার নামাজ, আমার ইবাদাত , আমার প্রান ও আমার মৃত্যু বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহ তাআলার উদ্দেশে।তাহাঁর কোন শারীক নেই এবং আমি এজন্যই আদিষ্ট হয়েছি। আমি একজন মুসলিম”- [সূরা আনআম ১৬২-১৬৩]।“হে আল্লাহ ! তুমিই রাজার রাজা, তুমি ব্যতীত কোন মাবুদ নেই। তুমি পবিত্র, তুমি আমার মনিব এবং আমি তোমার দাস। আমার সত্তার উপর আমি যুলম করেছি এবং আমার কৃত অন্যায় আমি স্বীকার করেছি। সুতরাং তুমি আমার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দাও। তুমি ছাড়া পাপ ক্ষমাকারী আর কেউ নেই। তুমি আমাকে উত্তম চরিত্রের পথে পরিচালিত কর। তুমি ব্যতীত আর কেউ সেই উত্তম পথে পরিচালিত করিতে পারে না। তুমি আমার হইতে খারাপকে দূরে সরিয়ে দাও। তুমি ছাড়া অন্য কেউ আমার হইতে খারাপকে দূরীভূত করিতে পারে না। আমি তোমার সামনে উপস্থিত আছি। সৌভাগ্য তোমার অধিকারে, তোমার জন্যই আমি এবং তোমার দিকেই আমি ফিরে আসি। তোমার শাস্তি হইতে মুক্তি লাভের সাধ্য কারোর নেই এবং তোমার হইতে পালিয়ে থাকার আশ্রয়ও নেই। আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই এবং তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করি”। তারপর তিনি ক্বিরাআত পাঠ করিতেন। তিনি যখন রুকূতে যেতেন তখন রুকূতে এই কথা বলিতেনঃ হে আল্লাহ ! তোমার উদ্দেশে আমি রুকূ করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম, তোমার নিকট আত্মসমর্পণ করলাম এবং তুমিই আমার প্রভু। আমার কান, আমার চোখ, আমার মস্তিস্ক ও আমার হাঁড় বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহ তাআলার ভয়ে ভীত”। তিনি রুকূ হইতে মাথা তুলে বলিতেনঃ “কেউ আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করলে তিনি তা শুনেন”। এর সঙ্গে তিনি আরো বলিতেনঃ “হে আল্লাহ, আমাদের প্রভু ! সকল আকাশ ও যামীন পরিপূর্ণ এবং এরপরও তোমার ইচ্ছানুসারে পরিপূর্ণ প্রশংসা তোমার জন্য”। তিনি সাজদাহইতে গিয়ে বলিতেনঃ “হে আল্লাহ ! তোমার উদ্দেশে আমি সাজদাহ করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম, তোমার নিকট আত্মসমর্পণ করলাম এবং তুমিই আমার প্রভু। সেই মহান সত্তার জন্য আমার চেহারা সাজদাহ করেছে যিনি তা তৈরী করিয়াছেন এবং তা ভেদ করে তাতে কান ও চোখ ফুটিয়েছেন। সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ তাআলা কত বারাকাতময়” তিনি নামাজ শেষ করে বলিতেনঃ “হে আল্লাহ ! আমাকে ক্ষমা করে দাও আমার পূর্বের ও পরের গুনাহসমূহ এবং আমি যা কিছু লুকায়িত ও প্রকাশ্যে করেছি তাও। তুমিই আমার মাবূদ, তুমি ব্যতীত কোন মাবূদ নেই”।

হাসান সহীহঃ সহীহ আবু দাঊদ [হাঃ ৭২৯]। এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান সহীহ

অনুচ্ছেদ-৩৩ঃ কুরআনের সাজদাহর আয়াত তিলাওয়াতের পর সাজদাহইতে যা বলিতে হইবে

৩৪২৪ : ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] এর কাছে এক লোক এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল ! আজ রাতে আমি ঘুমন্ত অবস্থায় [স্বপ্নে] দেখি যে, আমি যেন একটি গাছের পেছনে নামাজ আদায় করছি। আমি সাজদাহ করলে আমার সাজদাহর মত গাছটিও সাজদাহ করে। ঐ গাছটিকে আমি বলিতে শুনলাম,

“হে আল্লাহ ! এ সাজদাহর বিনিময়ে আমার জন্য তোমার নিকট পুরস্কার লিপিবদ্ধ কর, এর বিনিময়ে আমার একটি গুনাহ অপসারণ কর, আমার জন্য এটাকে পুঁজি হিসেবে জমা রাখ এবং এটাকে আমার পক্ষ হইতে গ্রহণ কর, যেমন তুমি তোমার বান্দা দাঊদ [আঃ] হইতে গ্রহন করেছিলে”।

ইবনি জুরাইজ [রঃ] উবাইদুল্লাহ ইবনি আবু ইয়াযীদকে বলেন, আমাকে তোমার দাদা বলেছেন, ইবনি আব্বাস [রাদি.] বলেছেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] একবার সাজদাহর আয়াত পাঠ করিলেন এবং সাজদাহ করিলেন। ইবনি আব্বাস [রাদি.] বলেন, তাঁকে সেই গাছের একই রকম দুয়া আমি তিলাওয়াত করিতে শুনলাম, যে প্রসঙ্গে আগে লোকটি তাঁকে জানিয়েছিল।

হাসানঃ ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[হাঃ ১০৫৩]। এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

৩৪২৫ : আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাতে নাবী [সাঃআঃ] সাজদাহর আয়াত পাঠ করার পর সাজদাহইতে বলিতেনঃ

سَجَدَ وَجْهِي لِلَّذِي خَلَقَهُ وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ بِحَوْلِهِ وَقُوَّتِهِ 

সাজাদা ওয়াজহি লিল্লাজি খলাকাহু ওয়া সাক্কা সামআহু ওয়া বাসারাহু বি হাওলিহি ওয়া কুওওয়া তিহি

“সেই মহান সত্তার উদ্দেশে আমার মুখমন্ডল সাজদাহ করিল যিনি তাকে তৈরী করিয়াছেন এবং নিজের প্রবল ক্ষমতায় তার মাঝে শোনার শক্তি ও দেখার শক্তি দান করিয়াছেন”।

সহীহঃ মিশকাত [হাঃ ১০৩৫], সহীহ আবু দাঊদ [হাঃ ১২৭৪]। এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

By ইমাম তিরমিজি

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply